পরীক্ষা আর্কাইভ

ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্স

পরীক্ষাব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্সতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২৫
সিলেবাস
Exam - 23 Bangla: Topic: বাংলা সাহিত্য প্রাচীন যুগ ও মধ্যযুগ (গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক ও তাদের সাহিত্যকর্ম), কবি সাহিত্যিকদের ছদ্মনাম ও উপাধী (সকল যুগ), পত্রিকা, ভাষা-আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক সাহিত্য।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্স

ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্স · তারিখ অনির্ধারিত · ২৫ প্রশ্ন

.
'হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী' প্রবাদ বাক্যটি চর্যাপদের কত নং পদ?
  1. ৬নং পদ
  2. ৩২নং পদ
  3. ৩৩নং পদ
  4. ৩৯নং পদ
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের প্রবাদ বাক্য:
- চর্যাপদে প্রবাদ বাক্য রয়েছে ৬টি।
- 'হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী' এটি একটি চর্যাপদের প্রবাদ বাক্য।
- এটি চর্যাপদের ৩৩নং পদ।
- এই পদটির রচয়িতা ঢেণ্ডণপা। 

• অন্যান্য প্রবাদ বাক্যগুলো হলো-
- 'অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী'। যার রচয়িতা ভুসুকুপা। এটি চর্যাপদের ৬নং পদ।
- 'দুহিল দুধু কি বেণ্টে সামায়' - এর রচয়িতা ঢেণ্ডণপা, চর্যাপদের ৩৩নং পদ।
- 'হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন' - এর রচয়িতা সরহপা, চর্যাপদের ৩২নং পদ।
- বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ (সরহপা,৩৯নং পদ)।
- আন চাহন্তে আন বিনধা (কাঙ্কণপা, ৪৪নং পদ)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

.
জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত 'সমাচার দর্পণ' কী ধরনের সংবাদপত্র ছিল?
  1. দৈনিক
  2. সাপ্তাহিক
  3. পাক্ষিক
  4. মাসিক
ব্যাখ্যা

সমাচার দর্পণ:
- জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত 'সমাচার দর্পণ' বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।
- হুগলির শ্রীরামপুর থেকে খ্রিষ্টান মিশনারিরা 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা প্রকাশ করে ১৮১৮ সালের মে মাসে।
- 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা সম্পাদনা করেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান ।
- এই সংবাদপত্রের প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পণ্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।
- ১৮১৮ সালের ২৩ মে সমাচার দর্পণের প্রথম সংখ্যা বের হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

.
ভাষাশহীদদের স্মরণে লেখা 'অমর একুশে' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. আব্দুল গাফফার চৌধুরী
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. আল মাহমুদ
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

'অমর একুশে' কবিতা:
- ভাষাশহীদদের স্মরণে লেখা বিখ্যাত কবিতা 'অমর একুশে'।
- 'অমর একুশে' কবিতার রচয়িতা হাসান হাফিজুর রহমান।
- একুশে ফেব্রুয়ারী ১৯৫৩ সালে এটি প্রকাশিত হয়।

হাসান হাফিজুর রহমান:

- ছাত্রজীবন থেকেই হাসান হাফিজুর রহমানের সাহিত্যচর্চার শুরু।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
- ১৯৪৯ সালে সোনার বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কবিতা।
- এ বছর তিনি 'ঢাকা প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ- এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।
- তাঁর প্রথম রচনা একটি ছোটগল্প 'অশ্রুভেজা পথ চলতে' সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯৪৬ সালে স্কুলে পড়া অবস্থায়।
- ১৯৫৩ সালে তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম সংকলন গ্রন্থ একুশে ফেব্রুয়ারী।

উল্লেখ্য,
- 'একুশের কবিতার' রচয়িতা আল মাহমুদ।
- অমর একুশে ভাস্কর্যটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

.
'দৃষ্টিহীন' কার ছদ্মনাম?
  1. সমরেশ বসু
  2. রাজশেখর বসু
  3. মধুসূদন মজুমদার
  4. বিমল ঘোষ
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার কয়েকজন সাহিত্যিকের ছদ্মনাম:
- 'দৃষ্টিহীন' হলো মধুসূদন মজুমদারের ছদ্মনাম।
- বাংলা সাহিত্যে 'কালকূট' নামে পরিচিত সমরেশ বসু।
- 'পরশুরাম' রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম।
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যাযয়ের ছদ্মনাম ‘বনফুল'।
- সোমেন চন্দ এর ছদ্মনাম 'ইন্দ্রকুমার সোম'।
- 'মৌমাছি' হলো বিমল ঘোষ এর ছদ্মনাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত যে গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে-
  1. বাংলা সাহিত্যের কথা
  2. বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত
  3. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস
  4. Buddhist Mystic Songs
ব্যাখ্যা

'Buddhist Mystic Songs'
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত গ্রন্থ 'Buddhist Mystic Songs'
- এই গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

চর্যাপদ:

- বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন হলো চর্যাপদ।
- চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায় সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খন্ড) গ্রন্থে।
- চর্যাপদের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা। 
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ মতে, চর্যাপদের পদ হচ্ছে ৫০টি।
- তবে সুকুমার সেনের মতে, চর্যাপদের পদ হচ্ছে ৫১টি।
- কাহ্নপা সর্বাপেক্ষা বেশি ১৩টি পদ রচনা করেন।
- ভুসুকুপা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ টি পদ লেখেন।
- চর্যাপদের পদগুলো সন্ধ্যা বা সান্ধ্যাভাষায় রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

.
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন না কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. অক্ষয়কুমার দত্ত
  4. জয়গোপাল তর্কালঙ্কার
ব্যাখ্যা

তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
-  ব্রাহ্মধর্মের প্রচার এবং তত্ত্ববোধিনী সভার সভ্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষাই ছিল এর উদ্দেশ্যে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজনারায়ণ বসু, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ এ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন। 
- তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ১৯৩২ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে।

বিভিন্ন সময়ে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদকবৃন্দ:
- নবীনচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়,
- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর,
- অযোধ্যানাথ পাকড়াশী,
- হেমচন্দ্র বিদ্যারত্ন,
- দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

উল্লেখ্য,
- সমাচার দর্পণ পত্রিকার প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পন্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।
- 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার' 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকায় সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন নাই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

.
'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনাম কার?
  1. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  2. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. কালিকানন্দ
ব্যাখ্যা

কয়েকজন সাহিত্যিকের ছদ্মনাম:
- কালীপ্রসন্ন সিংহ এর ছদ্মনাম 'হুতোম প্যাঁচা'।
- কালিকানন্দ এর ছদ্মনাম 'অবধূত'।
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম 'নীল উপাধ্যায়, নীল লোহিত, সনাতন পাঠক'।
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম 'হাবু শর্মা'।
- বাংলা সাহিত্যে 'কালকূট' নামে পরিচিত সমরেশ বসু।
- 'পরশুরাম' রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম।
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ‘বনফুল'।
- 'দৃষ্টিহীন' হলো মধুসূদন মজুমদারের ছদ্মনাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাটক কোনটি?
  1. কবর
  2. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. অলাতচক্র
ব্যাখ্যা

'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়':
- বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবনমূলক নাটক 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়'।
- এটি সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।

অন্যদিকে,
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে রচিত তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটক।
- 'অলাতচক্র' আহমদ ছফা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের 'স্বভাব কবি' বলা হয় কোন কবিকে?
  1. মানিক দত্তকে
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে
  3. দ্বিজ রামদেবকে
  4. দ্বিজ মাধবকে
ব্যাখ্যা

• দ্বিজ মাধব: 
- মধ্যযুগের বৈষ্ণব কবি ছিলেন দ্বিজ মাধব।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
- তার বিশেষত্ব ভক্তিমূলক ও পদধর্মী কাব্যরচনা।

• চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:

- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রথম / আদি কবি মানিক দত্ত।
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবি৷
- এই কাব্যের উপাখ্যান দুটি।

• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবিরা হলেন:
- দ্বিজ রামদেব,
- মুক্তারাম সেন,
- হরিরাম,
- লালা জয়নারায়ণ সেন,
- ভবানীশঙ্কর দাস,
- অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

উল্লেখ্য,
- মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি কানাহরি দত্ত।
- ধর্মমঙ্গল ধারার শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১০.
মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯১১ সালে
  2. ১৯১৪ সালে
  3. ১৯১৭ সালে
  4. ১৯২৭ সালে
ব্যাখ্যা

'সবুজপত্র' পত্রিকা:
১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সবুজপত্র পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন প্রমথ চৌধুরীর।
- বাংলা সাহিত্যের চলতি রীতির প্রচলণের অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশেও এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতি এই পত্রিকা ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠা করে। 
- এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করেন এবং পরে তা চর্চা করেন।
- 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয় এই পত্রিকা।
- এই পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায় ১৯২৭ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১১.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ?
  1. কি চাহ শঙ্খচিল
  2. যে অরণ্যে আলো নেই
  3. নেকড়ে অরণ্য
  4. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
ব্যাখ্যা

আমি বীরাঙ্গনা বলছি:
- নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'।
- ১৯৯৫ সালে এই গবেষণাগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- এটি যুদ্ধাহত ও নির্যাতিত কয়েকজন বীরাঙ্গনার সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা জীবন ইতিহাস।
- তারা ব্যানার্জি, মেহেরজান, রীনা, শেফা, ময়না, ফাতেমা ও মীনার দুঃখ কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে এই গ্রন্থে।
- তবে লেখকের বর্ণনাতে এই কাহিনি কেবল সাতজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি তা হয়ে উঠেছে দু লক্ষ মা-বোনের প্রতিনিধি।

অন্যদিকে, 
- 'কি চাহ শঙ্খচিল'- মমতাজউদদীন আহমদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
- 'যে অরণ্যে আলো নেই' নীলিমা ইব্রাহীমের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় রচিত একটি নাটক।
- 'নেকড়ে অরণ্য' হলো শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১২.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের খণ্ড সংখ্যা?
  1. ১১
  2. ১৩
  3. ১৪
  4. ১৫
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য:
- এর রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
- এর রচনাকাল সঠিকভাবে নির্ণীত না হলেও প্রাকচৈতন্য যুগের (খ্রিস্টীয় ১৪শ শতক) মনে করা হয়।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- এটি মধ্যযুগের বাংলা ভাষায় রচিত কোনো লেখকের প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ। 
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন ১৩ খণ্ডের কাব্য। 
- মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮ টি পদে এটি বিন্যস্ত। 

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্র-
- রাধা,
- কৃষ্ণ এবং
- বড়ায়ি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৩.
‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো' উক্তিটি ভাষা আন্দোলনভিত্তিক যে সাহিত্যকর্ম থেকে নেওয়া -
  1. নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
  2. জীবন থেকে নেয়া
  3. আরেক ফাল্গুন
  4. জাহান্নম হইতে বিদায়
ব্যাখ্যা

‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো’ এই উক্তিটি জহির রায়হানের ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস ‘আরেক ফাল্গুন’ থেকে নেওয়া হয়েছে।

আরেক ফাল্গুন:

- জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন' ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস।
- এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় লেখা।
- পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে- ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'।
- বাঙালির জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনাকে রূপায়িত করা হয়েছে এই উপন্যাসে।

• এই উপন্যাসের চরিত্র - 
- মুনিম, 
- আসাদ, 
- রসুল, 
- সালমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- জহির রায়হান রচিত ‘জীবন থেকে নেয়া’ ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক চলচ্চিত্র।
- 'নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি' সেলিনা হোসেনের ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক উপন্যাস।
- শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিক্তিক উপন্যাস 'জাহান্নম হইতে বিদায়'।

উৎস:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৪.
'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক -
  1. সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা

সংবাদ প্রভাকর:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক।

- ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- ১৮৩৯ সালে এটি বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি পত্রিকাটিতে সাহিত্যচর্চাও গুরুত্ব পায়।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও দীনবন্ধু মিত্রের প্রাথমিক রচনাসমূহ প্রথম প্রকাশিত হয় সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায়।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন এবং সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে,
- 'বঙ্গদর্শন' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় বিখ্যাত সাহিত্যপত্র।
- রবীন্দ্র- ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায় পত্রিকা- সাধনা।
- দীনবন্ধু মিত্র ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা নাটকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রূপকার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১৫.
'অপরাজেয় কথাশিল্পী' হিসেবে পরিচিত কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' হিসেবে পরিচিত।
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তার প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তার প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'পথের দাবী' হলো রাজনৈতিক উপন্যাস যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - কমলাকান্ত।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এর উপাধি 'ভাষাচার্য'।
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম- সুনন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৬.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প?
  1. চিলেকোঠার সেপাই
  2. রেইনকোট
  3. খোয়াবনামা
  4. দোজখের ওম
ব্যাখ্যা

'রেইনকোট' ছোটগল্প:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প।
- এই গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও এটি মূলত প্রতীকী গল্প ৷
- মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে ৷
- এটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়।
 
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোটিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'চিলেকোঠার সেপাই' (১৯৮৭)।
• তাঁর রচিত ছােটগল্প-
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত ও
- দোজখের ওম।

অন্যদিকে,
- 'চিলেকোঠার সেপাই' (১৯৮৭) উপন্যাসের মূল উপজীব্য ১৯৬৯ - এর গণঅভ্যূত্থান।
- “দোজখের ওম” গল্পে এক দরিদ্র পরিবারের জীবনসংগ্রাম ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু হলো ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ, তেভাগা আন্দোলন, দেশভাগের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১৭.
চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন-
  1. কীর্তিচন্দ্র
  2. মুনিদত্ত
  3. ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 
  4. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন
- বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন হলো চর্যাপদ।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- কাহ্নপা সর্বাপেক্ষা বেশি ১৩টি পদ রচনা করেন।
- ভুসুকু পা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ টি পদ লেখেন।
- চর্যাপদ গ্রন্থে সাড়ে ছেচল্লিশটি পদ পাওয়া গেছে।

অপরদিকে,
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- মুনিদত্ত চর্যাপদের পদগুলি টীকার মাধ্যমে ব্যাখা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৮.
'বাংলার স্কট' কার উপাধি?
  1. হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'বাংলার স্কট' ও 'সাহিত্য সম্রাট' নামেও পরিচিত।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে। 
- পেশাগত কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'রায়বাহাদুর' উপাধি লাভ করেন।

অন্যদিকে,
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি, বাংলাভাষার প্রথম সনেট প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- জীবনানন্দ দাশের উপাধি / অভিধাসমূহ: ধুসরতার কবি, তিমির হননের কবি, রূপসী বাংলার কবি ও নির্জনতার কবি।
- হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়ের উপাধি 'বাংলার মিল্টন'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৯.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. ওঙ্কার
  2. প্রদোষে প্রাকৃতজন
  3. চিলেকোঠার সেপাই
  4. নিষিদ্ধ লোবান
ব্যাখ্যা

‘নিষিদ্ধ লোবান’ উপন্যাস:
- সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস হলো ‘নিষিদ্ধ লোবান’।
- মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক নারী নির্যাতন, লিবিডো ক্রিয়া, লালসা ও রিরংসাবৃত্তির অভীপ্সা অভিব্যঞ্জিত হয়েছে ‘নিষিদ্ধ লোবান' (১৯৮১) উপন্যাসে।
- ‘নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘গেরিলা’।

অন্যদিকে,
- আহমদ ছফার দ্বিতীয় উপন্যাস ‘ওঙ্কার' (১৯৭৫)। এটি '৬৯ এর পাকিস্তান আমলের সমাজচিত্রের ক্যানভাস ও সামাজিক অসংগতি এবং মনস্তাত্ত্বিক খেলা।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- 'প্রদোষে প্রাকৃতজন' (১৯৮৪) শওকত আলী রচিত একটি উপন্যাস। সেন রাজাদের রাজত্বকাল এবং তুর্কি আক্রমণের অব্যবহিত পূর্ব সময়ের পটভূমিতে এই কাহিনি রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২০.
'জননী সাহসিকা' হিসেবে পরিচিত কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2.  জাহানারা ইমাম
  3.  সুফিয়া কামাল
  4. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
ব্যাখ্যা

'জননী সাহসিকা' হিসেবে পরিচিত সুফিয়া কামাল। 

সুফিয়া কামাল: 

- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- তার রচিত প্রথম কবিতা 'বাসন্তী'; এটি সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।

• সুফিয়া কামাল রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• তার উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা,
- একাত্তরের ডায়েরী।

অন্যদিকে,
- বাংলা একাডেমির প্রথম মহিলা পরিচালক সেলিনা হোসেন।
- 'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত জাহানারা ইমাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২১.
‘ক্রান্তি’ পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. রণেশ দাশগুপ্ত
  2. সোমেন চন্দ
  3. সত্যেন সেন
  4. কিরণশঙ্কর সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা

'ক্রান্তি' পত্রিকা:
- ‘ক্রান্তি’র প্রথম সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত, আর প্রকাশক ছিলেন সোমেন চন্দ।
- বাংলাদেশে প্রগতিশীল আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ের পত্রিকা ‘ক্রান্তি’।
- পত্রিকাটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- ঢাকায় ১৯৩৯ সালে গঠিত হয় প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ। ১৯৪০ সালে এই সংঘের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- সংঘের উদ্যোক্তাদের মধ্যে ছিলেন সোমেন চন্দ, রণেশ দাশগুপ্ত, সত্যেন সেন, কিরণশঙ্কর সেনগুপ্ত, সতীশ পাকরাশী প্রমুখ।
- এই সংঘ ছিল মূলত সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, যুদ্ধ, আধিপত্যবাদ বিরোধী এবং মেহনতি মানুষের পক্ষে লেখনী ধারণকারী প্রতিষ্ঠান।
- এই সংঘের মুখপত্র হিসেবে ‘ক্রান্তি’ পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালের শেষ দিকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২২.
মৈমনসিংহ গীতিকায় কতটি গীতিকা স্থান পেয়েছে?
  1. ৮টি
  2. ১০টি 
  3. ১১টি 
  4. ১৩টি 
ব্যাখ্যা

মৈমনসিংহ গীতিকা:
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে। 
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- দীনেশচন্দ্র সেন পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন।
- বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় দীনেশচন্দ্র সেন পালাগানগুলো সংগ্রহ করেন।

• গীতিকাগুলো হলো- 
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ানা মদিনা।

• ভনিতা থেকে কিছু গীত রচয়িতার নাম জানা যায়, যেমন-
- মহুয়া- দ্বিজ কানাই,
- চন্দ্রাবতী- নয়ানচাঁদ ঘোষ,
- কমলা- দ্বিজ ঈশান,
- দস্যু কেনারামের পালা- চন্দ্রাবতী,
- দেওয়ানা মদিনা- মনসুর বয়াতি।

• কঙ্ক ও লীলার রচয়িতা হিসেবে ৪ জনের নাম পাওয়া যায়-
- দামোদর দাস,
- রঘুসুত,
- শ্রীনাথ বিনোদ ও
- নয়ানচাঁদ ঘোষ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া [লিঙ্ক]।

২৩.
‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি যে পত্রিকার প্রতি সংখ্যায় মুদ্রিত থাকতো-
  1. সওগাত
  2. মোহাম্মদী
  3. সমকাল
  4. শিখা
ব্যাখ্যা

'শিখা' পত্রিকা:
- শিখা পত্রিকার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- তারা ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হতো।
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত হয়।
- আর মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত।
- শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- শিখা ছিল সমকালের অন্যান্য সাময়িকপত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের।
- প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। 
- মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সারা বছরের কর্মকান্ডের পরিচয় বহন করত শিখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

২৪.
মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতির উপাধি-
  1. কবিকঙ্কন
  2. মুখোপাধ্যায়
  3. কবিকন্ঠহার
  4. রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা

বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- মিথিলার রাজা বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।

অন্যদিকে,
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল কবিকঙ্কন ।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্র কবি ভারতচন্দ্রকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধী দিয়েছেন।
- কবি ভারতচন্দ্র ছিলেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি।
- কৃত্তিবাসের আসল পদবি ছিল ‘মুখোপাধ্যায়’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি।

২৫.
আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. নিষিদ্ধ লোবান
  2. রাইফেল রোটি আওরাত
  3. জাহান্নম হইতে বিদায়
  4. রেইনকোট
ব্যাখ্যা

রাইফেল রােটি আওরাত:
- আনোয়ার পাশার 'রাইফেল-রোটি-আওরাত' উপন্যাসটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বিভীষিকাময় রাত থেকে শুরু হয়ে ২৮ মার্চ সন্ধ্যা পর্যন্ত উপন্যাসের কাহিনি বিস্তৃত।

আনোয়ার পাশা:

- আনোয়ার পাশা একজন কবি, কথাসাহিত্যিক, সমালােচক ও শিক্ষাবিদ।
- তার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সিনিয়র লেকচারার ছিলেন।
- তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন এবং মুক্তিযুদ্ধের একজন একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন।

অন্যদিকে,
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' - শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- 'নিষিদ্ধ লোবান' মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৈয়দ শামসুল হক রচিত অন্যতম একটি উপন্যাস।
- রেইনকোট - আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।