পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২১
সিলেবাস
[নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২৪০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।] বিষয়: সাধারণ জ্ঞান টপিক: বৈশ্বিক ইতিহাস ও সভ্যতা (গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস, ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গ, যুদ্ধ, বিপ্লবসমূহ)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২১ প্রশ্ন

.
কোন দেশে প্রথম পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করা হয়?
  1. জার্মানি
  2. ইতালি
  3. জাপান
  4. ফ্রান্স
সঠিক উত্তর:
জাপান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাপান
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাপানের হিরোশিমা শহরে প্রথম পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে। 

লিটলবয় ও ফ্যাটম্যান:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ যখন প্রায় শেষের পথে তখন আগস্টের জাপানের হিরোশিমা এবং নাগাসাকি শহরে পরমাণু বোমা ফেলেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
- বিশ্বে প্রথম কোন যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র। মারা গিয়েছিল হাজার হাজার মানুষ।
- জাপানের হিরোশিমা শহরে ৬ আগস্ট, ১৯৪৫ সালে বোমা বর্ষণ করে। নিক্ষিপ্ত বোমাটির নাম ছিলো লিটলবয়।
- ৯ আগস্ট, ১৯৪৫ সালে নাগাসাকি শহরে পারমাণবিক বোমা বর্ষণ করে। নাগাসাকিতে নিক্ষিপ্ত বোমাটির নাম ছিলো ফ্যাটম্যান।
- ৩৩তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান এই পারমাণবিক বোমা বর্ষণের নির্দেশ দেন।

উৎস: History.com.
.
ইতিহাস বিখ্যাত ট্রয় নগরী কোন দেশে অবস্থিত?
  1. স্পেন
  2. ইতালি
  3. গ্রিস
  4. তুরস্ক
সঠিক উত্তর:
তুরস্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুরস্ক
ব্যাখ্যা
ট্রয় নগরী:
- ইতিহাস বিখ্যাত ট্রয় নগরী বর্তমান তুরস্কের হেসারলিক বা আনাতোলিয়া নামক স্থানে অবস্থিত।
- ঐতিহাসিক ট্রয় নগরীর অস্তিত্ব এবং এর ধ্বংসের ইতিহাস প্রাচীন গ্রীক হোমারের মহাকাব্য ইলিয়াড-এ পাওয়া যায়।
- ট্রয় নগরী ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কোর ‘বিশ্ব ঐতিহ্য’ তালিকায় যুক্ত হয়।

⇒ ট্রয়ের যুদ্ধ শুরু খ্রিষ্টপূর্ব ১২৫০ শতকে এবং শেষ খ্রিষ্টপূর্ব ১২৪০ শতকে।
- দীর্ঘ ১০ বছর ধরে চলেছিল যুদ্ধ।
- এই যুদ্ধ ট্রোজান যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- যুদ্ধের কারণ ছিল হেলেন নামের এক সুন্দরী মহিলাকে কেন্দ্র করে, যিনি ট্রয়ের রাজা প্রিয়াম এর পুত্র পারিস দ্বারা অপহৃত হন।
- গ্রীক রাজা মেনেলাউস তার স্ত্রীর ফিরিয়ে আনার জন্য ট্রয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য,
- প্যারিস যখন স্পার্টা থেকে রাতের অন্ধকারে হেলেনকে নিয়ে পালিয়ে এলেন, হেলেনের স্বামী স্পার্টার রাজা মেনেলাউস এবং তার ভাই আগামেমনন ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে নৌবহর নিয়ে ইজিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে এই নগরের পাশে স্কামান্দার নদীর মুখে এসে তাঁবু গেড়েছিলেন।
- তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন গ্রিস বা আচিয়ানদের বন্ধুপ্রতিম সব রাজ্যের রাজা।
- পরবর্তীতে গ্রিকদের দ্বারা ট্রয় নগরী ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

উৎস: i) BBC.
ii) Britannica.
.
১৯১৭ সালের বেলফোর ঘোষণার মূল প্রতিপাদ্য কী ছিল?
  1. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ও শান্তি প্রতিষ্ঠা
  2. আরব জনগণের জন্য প্যালেস্টাইনে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন
  3. অটোমানদের জায়গা দখল করা
  4. প্যালেস্টাইনে ইহুদিদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
প্যালেস্টাইনে ইহুদিদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যালেস্টাইনে ইহুদিদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
বেলফোর ঘোষণা:
- বেলফোর ঘোষণা (Balfour Declaration) ছিল একটি ঐতিহাসিক চিঠি যা ১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার জেমস বেলফোর তাঁর এক পত্রে প্যালেস্টাইনে একটি ইহুদি জাতীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে ব্রিটিশ সরকারের সমর্থন প্রকাশ করেছিলেন।
- ঐ চিঠির উদ্দেশ্য ছিল ইহুদীদের জন্য একটি আবাসভূমি প্রতিষ্ঠা।
- ইতিহাসে এটি বেলফোর ঘোষণা হিসেবে পরিচিত।
- বেলফোর ঘোষণার সাথে আজকের ইহুদী রাষ্ট্র ইসরায়েল প্রতিষ্ঠা সরাসরিভাবে জড়িত।

উল্লেখ্য,
- ১৯২২ সালে জাতিপুঞ্জ (League of Nations) বেলফোর ঘোষণা অনুমোদন করে।
- ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘ প্যালেস্টাইনে দুটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা অনুমোদন করে, যার ফলে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের প্রতিষ্ঠা হয়।
- কিন্তু আরব রাষ্ট্রগুলো ও প্যালেস্টাইনের আরব জনগণ এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চলে আসে এবং ফলস্বরূপ ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল-আরব যুদ্ধের সূত্রপাত হয়।

উৎস: Britannica
.
বিশ্বের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. বেনজির ভুট্টো
  2. মার্গারেট থ্যাচার
  3. সিরিমাভো বন্দরনায়েকে
  4. অ্যাঞ্জেলা মার্কেল
সঠিক উত্তর:
সিরিমাভো বন্দরনায়েকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরিমাভো বন্দরনায়েকে
ব্যাখ্যা
সিরিমাভো বন্দরনায়েকে:
- বিশ্বের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী সিরিমাভো বন্দরনায়েকে।
- তিনি শ্রীলঙ্কার নাগরিক।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৯ সালে নিহত প্রধানমন্ত্রী সলোমন বন্দরনায়েকের স্ত্রী ছিলেন সিরিমাভো বন্দরনায়েকে।
- ১৯৬০ সালের জুলাই নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে জয়লাভ করান।
- ২১ জুলাই ১৯৬০ সিনেটর থেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন সিরিমাভো।
- এর ফলে তিনি বিশ্বের প্রথম নির্বাচিত মহিলা প্রধানমন্ত্রী হন।

অন্যদিকে,
- জার্মানির প্রথম নারী চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল।

উৎস: Britannica.
.
আরব বসন্তের সূচনা হয় কোন দেশে?
  1. লিবিয়া
  2. তিউনিসিয়া
  3. সিরিয়া
  4. লেবানন
সঠিক উত্তর:
তিউনিসিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিউনিসিয়া
ব্যাখ্যা
আরব বসন্ত:
- আরব বসন্ত বলতে আরবের বিভিন্ন দেশের গণজাগরণকে বুঝায়।
- ২০১০ সালের শেষের দিকে শুরু হওয়া আরব রাষ্ট্রগুলোর জনগণের বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ ও আন্দোলন সংগঠিত হয় বলে এটি আরব বসন্ত বা আর রবিউল আরাবি নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিত হয়ে ওটে।
- এই আন্দোলনের মাধ্যমে এই অঞ্চলের বহু দেশেই দীর্ঘকাল ধরে শাসনকারী স্বৈরশাসকরা ক্ষমতা থেকে উৎখাত হন
- এতে মূলত সামাজিক মাধ্যমে আন্দোলনগুলোর প্রসার এবং আঞ্চলিক মিডিয়ার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

⇒ আরব বসন্তের সূচনা হয় তিউনিসিয়ায় জেসমিন বিপ্লবের মাধ্যমে।
- তিউনিসিয়া উত্তর আফ্রিকা মহাদেশের একটি দেশ।
- ২০১০ এবং ২০১১ সালে মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকায় গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভ এবং বিদ্রোহের ঢেউ শুরু হয়েছিল।
- এই বিক্ষোভ পরে মিশর, লিবিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেনসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে যায়।
- প্রথমে মিশরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকের পতন হয়।
- পরে লিবিয়ায় মুয়াম্মর আল-গাদ্দাফি জমানার অবসান হয়।
- এক হিসাবে বলা হয় আরব বসন্তের ফলে মাত্র পৌনে দুই বছরে লিবিয়া, সিরিয়া, মিশর, তিউনিসিয়া, বাহরাইন ও ইয়েমেনের মোট ক্ষতি হয়েছে দুই হাজার ৫৬ কোটি ডলার।


উৎস: i) Britannica.
ii) Al Jazeera.
.
Containment Doctrine–এর প্রস্তাবক কে ছিলেন?
  1. জর্জ সি. মার্শাল
  2. জর্জ এফ কেনান
  3. হ্যারি এস. ট্রুম্যান
  4. ডোয়াইট ডি আইজেনহাওয়ার
সঠিক উত্তর:
জর্জ এফ কেনান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জর্জ এফ কেনান
ব্যাখ্যা
Containment Doctrine:
- Containment Doctrine ছিল যুক্তরাষ্ট্রের স্নায়ুযুদ্ধকালীন একটি গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি।
- এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বজুড়ে কমিউনিজমের বিস্তার রোধ করা, বিশেষত সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাব প্রতিরোধ করা।
- স্নায়ুযুদ্ধকালীন মার্কিন কূটনীতিক জর্জ এফ. কেনান ১৯৪৭ সালে এর প্রস্তাব করেন।
- তিনি Foreign Affairs পত্রিকায় একটি প্রবন্ধ লেখেন, যা "X Article" নামে পরিচিত।

⇒ ১৯৪৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস. ট্রুম্যান ঘোষণা দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিস ও তুরস্ককে অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা প্রদান করবে, যেন তারা কমিউনিস্ট বিদ্রোহ বা প্রভাব থেকে রক্ষা পায়।
- এই ঘোষণা ইতিহাসে Truman Doctrine নামে পরিচিত।
- এটি ছিল Containment Doctrine–এর প্রথম বাস্তব প্রয়োগ।

উৎস: Office of the Historian (.gov)।
.
কোয়ামে নক্রুমা কোন দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের স্থপতি ছিলেন?
  1. ঘানা
  2. নাইজেরিয়া
  3. কেনিয়া
  4. জিম্বাবুয়ে
সঠিক উত্তর:
ঘানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘানা
ব্যাখ্যা
কোয়ামে নক্রুমা:
- আফ্রিকার জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন ড. কোয়ামে নক্রুমা।
- তিনি একাধারার শিক্ষক, লেখক, দার্শনিক, রাজনীতিবিদ, শাসক ছিলেন।
- কোয়ামে নক্রুমা ছিলেন ঘানার স্বাধীনতা আন্দোলনের স্থপতি।
- নক্রুমা ছিলেন ঘানা প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপাতি।
- তিনি ১৯৫৭ সালে ঘানাকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতার দিকে নিয়ে যান এবং দেশটির প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও পরে রাষ্ট্রপতি হন।
- তিনি প্যান-আফ্রিকানিজমেরও একজন প্রধান প্রবক্তা ছিলেন।

উৎস: Britannica.
.
চীনের মহাপ্রাচীরের নির্মাণ প্রধানত কোন রাজবংশের সময় শুরু হয়েছিল?
  1. মিং রাজবংশ
  2. হান রাজবংশ
  3. কিন রাজবংশ
  4. ট্যাং রাজবংশ
সঠিক উত্তর:
কিন রাজবংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিন রাজবংশ
ব্যাখ্যা
চীনের মহাপ্রাচীর:
- চীনের মহাপ্রাচীর পৃথিবীর প্রাচীন সপ্তাশ্চর্যগুলোর মধ্যে একটি।
- এটি চীনের উত্তর সীমান্তের সাথে দীর্ঘ একটি প্রাচীর যা প্রাচীন চীনকে বিদেশি আক্রমণ থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছিল।
- এটি পাথর ও ইট দিয়ে তৈরি দীর্ঘ নিরাপত্তাবেষ্টনী।
- চীনের মহাপ্রাচীরের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল কিন (Qin) রাজবংশের সময়ে, চীনের প্রথম সম্রাট কিন শি হুয়াং নির্মাণ করেছিলেন।
- এর নির্মাণ প্রকল্পটি পরবর্তী বিভিন্ন রাজবংশ, বিশেষত হান (Han), তাং (Tang) এবং মিং (Ming) রাজবংশে আরও সম্প্রসারিত হয়েছিল।
- এটি ১৯৮৭ সালে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
- বর্তমান প্রাচীরটি মিং রাজবংশের শাসনামলে নির্মিত হয়।
- এই প্রাচীরের দৈর্ঘ্য প্রায় ৮৮৫০ কিলোমিটার।
- উচ্চতা ৫ - ৮ মিটার।
- প্রাচীরটি চওড়ায় প্রায় ৯.৭৫ মিটার।
- প্রশস্ত প্রাচীরের ওপর চলাচলের জন্য রাস্তা করা আছে।
- চীনের মহাপ্রাচীর মানুষের হাতে তৈরি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্থাপত্য।

উৎস: i) Britannica.
ii) History.com [link]
.
সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে কয়টি রাষ্ট্রের জন্ম হয়?
  1. ১১টি
  2. ১২টি
  3. ১৩টি
  4. ১৫টি
সঠিক উত্তর:
১৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫টি
ব্যাখ্যা
সোভিয়েত ইউনিয়ন (Union of Soviet Socialist Republics):
- বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়ন।
- ১৯১৭ সালে অক্টোবর বিপ্লবের পর ১৯২২ সালে পৃথিবীর প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠিত হয়।
- ১৯৯১ সালের ২৬ ডিসেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তি ঘটে।
- সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে ১৫টি রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
- মিখাইল গর্বাচেভের পদত্যাগের মাধ্যমে সোভিয়েত ইউনিয়নের কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে সমাপ্ত হয়।

উল্লেখ্য,
- সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যে ১৫টি রাষ্ট্র গঠিত হয়: রাশিয়া, বেলারুশ, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, কিরগিজিস্তান, তাজিকিস্তান, আজারবাইজান, মলদোভা, আর্মেনিয়া, লিথুনিয়া, কাজাকিস্তান, উজবেকিস্তান, জর্জিয়া, ইউক্রেন ও তুর্কমেনিস্তান।

উৎস: i) Britannica.
ii) History.com
১০.
স্নায়ুযুদ্ধের সমাপ্তি কোন ঘটনার মাধ্যমে চিহ্নিত হয়?
  1. সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন
  2. কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র সংকট
  3. ন্যাটো প্রতিষ্ঠা
  4. বার্লিন প্রাচীরের পতন
সঠিক উত্তর:
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন
ব্যাখ্যা
স্নায়ুযুদ্ধের সমাপ্তি চিহ্নিত হয় ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মাধ্যমে।

স্নায়ুযুদ্ধ (Cold War):

- স্নায়ুযুদ্ধ বলতে সরাসরি প্রথাগত যুদ্ধে অবতীর্ণ না হয়ে একে অপরকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক কিংবা ভিন্ন আঙ্গিকে পরাজিত করার কৌশলকে ইঙ্গিত করা হয়।
- ১৯৪৭ - ১৯৯১ অব্দি চলমান এই যুদ্ধ ইতিহাসে স্নায়ু যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ওয়াল্টার লিপম্যান সংবাদপত্রে প্রথম cold war শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- স্নায়ুযুদ্ধের প্রধান দুই শক্তি ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে চলা স্নায়ুযুদ্ধ অবসান হয়েছিলো ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মাধ্যমে।
- সোভিয়েত ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে শেষ পর্যন্ত রাশিয়া শক্ত অবস্থান নিয়েই টিকে আছে আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে।

⇒ দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর অপ্রতিরোধ্য পরাশক্তিতে পরিণত হয়।
- এ সময়ে মার্শাল প্ল্যানের (১৯৪৭) মাধ্যমে ইউরোপ পুনর্গঠনে প্রধান ভূমিকা রাখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
- দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ শেষ হওয়ার মাধ্যমে দুটো বিপরীত বৈশ্বিক শক্তি ও আদর্শের বিকাশ ঘটে।
- পূর্ব ইউরোপে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পশ্চিম ইউরোপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
- এই দুই শিবিরেই গঠিত হয়েছিল দুটি সামরিক জোট।
- একটি নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (ন্যাটো), অন্যটি ওয়ারশ জোট।
- পুরো স্নায়ুযুদ্ধের কালজুড়ে মধ্য ইউরোপের উভয় পক্ষের দেশগুলো পরস্পরের দিকে তাক করে রেখেছিল পারমাণবিক শক্তিসম্পন্ন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।

উৎস: i) Britannica.
ii) BBC.
১১.
কিউবায় ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কে ছিলেন?
  1. হ্যারি এস ট্রুম্যান
  2. জন এফ কেনেডি
  3. রিচার্ড এম নিক্সন
  4. বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন
সঠিক উত্তর:
জন এফ কেনেডি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন এফ কেনেডি
ব্যাখ্যা
কিউবায় ক্ষেপণাস্ত্র সঙ্কটের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন জন এফ. কেনেডি।

কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র সংকট:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত রাশিয়ার মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধের সময় কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র সংকট দেখা দেয়।

⇒ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পারমাণবিক শক্তি, সামরিক ও বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় নামে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।
- ১৯৫৯ সালে ফিদেল কাস্ত্রোর মাধ্যমে বাতিস্তা সরকারের পতন পর, দেশটিতে সমাজতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসে।
- মার্কিন সম্পর্কের অবনতির ফলে কাস্ত্রো সরকারের পতন ঘটানোসহ কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন ও কিউবা আক্রমণের পরিকল্পনাও করে মার্কিন প্রশাসন।
- আর কিউবার আহ্বানে সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট নিকিতা ক্রুশ্চেভ পাঠাতে থাকেন সহায়তা।
- এই পরিস্থিতি 'কিউবা (ক্ষেপণাস্ত্র) সংকট' নামে পরিচিত।

⇒ ইতালি ও তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র বসানোর জবাবে কিউবায় ক্ষেপণাস্ত্র পাঠায় রাশিয়া।
- ফ্লোরিডা উপকূল থেকে মাত্র ৯০ মাইল দূরে রুশ এই হুমকি মেনে নিতে না পেরে, ১৯৬২ সালের ২২ অক্টোবর কিউবায় নৌ অবরোধের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি।
- ক্রুশ্চেভ ও কেনেডির পাল্টা সতর্কতা, সোভিয়েত সীমানায় মার্কিন গুপ্তচর বিমান ভূপাতিত করা আর সোভিয়েত জাহাজের মার্কিন সংকেত অমান্য করার ঘটনায় উত্তেজনা চূড়ান্ত রূপ নেয়।
- যুদ্ধ প্রস্তুতির মধ্যেই জারি করা হয় মার্কিন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক সতর্কতা।
- আলোচনা আর কূটনীতির চালে শেষ পর্যন্ত সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ ক্ষেপণাস্ত্র কিউবা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন, বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র কিউবায় আক্রমণ না করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে ক্যারিবিয়ান সাগরের বুকে কিউবায় ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি নির্মাণকে কেন্দ্র করে সােভিয়েত রাশিয়া ও মার্কিন যুক্বরাষ্ট্রের মধ্যে এক স্বল্পকালীন অথচ প্রবল দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
- ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দের প্রথম দিকে কিউবার রাষ্ট্রপতি ফিদেল কাস্ত্রো সােভিয়েত ইউনিয়ন থেকে মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র গােপনে আমদানি করে কিউবাতে প্রতিস্থাপন করেছিলেন।
- অক্টোবর মাসে আমেরিকা তার গুপ্তচর বিমানের তােলা ছবি থেকে জানতে পারে যে, কিউবায় সােভিয়েত ইউনিয়ন একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি তৈরি করেছে। আমেরিকা কিউবার বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ গড়ে তোলে।
- ফলে সমগ্র ল্যাটিন আমেরিকায় যুদ্ধের পরিমন্ডল তৈরি হয়।
- এই পরিস্থিতি 'কিউবা (ক্ষেপণাস্ত্র) সংকট' নামে পরিচিত।
- এই ঘটনা স্নায়ু যুদ্ধের পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে।

উৎস: History.com
১২.
আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু কোন দেশের বর্ণবাদী শাসনবিরোধী আন্দোলনের নেতা ছিলেন?
  1. কেনিয়া
  2. নাইজেরিয়া
  3. দক্ষিণ আফ্রিকা
  4. ঘানা
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ আফ্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ আফ্রিকা
ব্যাখ্যা
আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু:
- আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী শাসনবিরোধী আন্দোলনের নেতা ছিলেন
- দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার সমসাময়িক ছিলেন তিনি।
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত দেশটিতে যে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন চলেছে, তাতে অন্যতম চালকের আসনে ছিলেন তিনি।
- বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৮৪ সালে শান্তির নোবেল পুরস্কারও পান এই ধর্মযাজক।

⇒ ১৯৬০ সালে ধর্মযাজক হিসেবে স্বীকৃতি পান ডেসমন্ড টুটু।
- ১৯৭৬ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিবেশী দেশ লেসোথোর যাজক (বিশপ) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
- তারপর জোহানেসবার্গে ফিরে আসেন তিনি।
- ১৯৮৫ সালে উচ্চতর যাজক (আর্চবিশপ) পদ লাভ করেন ডেসমন্ড টুটু।
- তিনি ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ আর্চবিশপ।

⇒ ১৯৯৪ সালে নেলসন ম্যান্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর দেশটিতে শেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে সুসম্পর্ক জোরদার করতে যে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠন করেছিলেন, তার প্রধান ছিলেন ডেসমন্ড টুটু।

উৎস: Britannica.
১৩.
চিকিৎসা শাস্ত্রে কারা সর্বপ্রথম ঔষুধের তালিকা প্রণয়নে সক্ষম হয়?
  1. মিশরীয়রা
  2. গ্রীকরা
  3. রোমানরা
  4. ক্যালেডীয়রা
সঠিক উত্তর:
মিশরীয়রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশরীয়রা
ব্যাখ্যা
মিশরীয় সভ্যতা:
- প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার বিস্তৃতিকাল খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০-৫২৫ পর্যন্ত।
- খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ অব্দে মিশরে প্রথম সাম্রাজ্যের উদ্ভব ঘটে যার একটি ছিল উত্তর মিশর (নিম্ন মিশর) অপরটি ছিল দক্ষিণ মিশর (উচ্চ মিশর)।
- খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ থেকে ৩২০০ খ্রিস্টপূর্ব পর্যন্ত সময়ে নীলনদের অববাহিকায় একটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
- এ সময় থেকে মিশর প্রাচীন সভ্যতায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে শুরু করে।
- প্রথম রাজবংশের শাসন আমল শুরু হয় খ্রিস্টপূর্ব ৩২০০ অব্দ থেকে।
- একই সময়ে নিম্ন ও উচ্চ মিশরকে একত্রিত করে 'নারমার' বা 'মেনেস' একাধারে মিশরের প্রথম নরপতি এবং পুরোহিত হন।
- তিনি প্রথম ফারাও-এর মর্যাদাও লাভ করেন।
- এরপর থেকে ফারওদের অধীনে মিশর প্রাচীন বিশ্বসভ্যতার অগ্রগতিতে একের পর এক উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে শুরু করে।

⇒ মিশরীয় সভ্যতা ছিল কৃষিনির্ভর। সে কারণে নীল নদের প্লাবন, নাব্যতা, পানি প্রবাহের মাপ জোয়ারভাটা ইত্যাদি ছাড়াও জমির মাপ তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। এসবের সঙ্গে জ্যোতিষশাস্ত্র ও অংক শাস্ত্রের ছিল গভীর যোগাযোগ। ফলে এ দুটি বিদ্যা তারা আয়ত্ত করেছিল প্রয়োজনের তাগিদে।
- তারা অংক শাস্ত্রের দুটি শাখা- জ্যামিতি এবং পাটিগণিতের প্রচলন করে।
- মিশরীয় সভ্যতার মানুষ যোগ, বিয়োগ ও ভাগের ব্যবহার জানত।
- খ্রিস্টপূর্ব ৪২০০ অব্দে তারা পৃথিবীতে প্রথম সৌর পঞ্জিকা আবিষ্কার করে।
- ৩৬৫ দিনে বছর এ হিসাবের আবিষ্কারকও তারা।
- প্রাচীন মিশরের অধিবাসীরা সময় নির্ধারণের জন্য সূর্য ঘড়ি, ছায়াঘড়ি, জলঘড়ি আবিষ্কার করে।
- ধর্মের কারণে মিশরীয়রা বিজ্ঞানচর্চায় আগ্রহী ছিল । চিকিৎসাশাস্ত্রেও প্রাচীন মিশরীয়রা বিশেষ অগ্রগতি লাভ করেছিল।
- চিকিৎসা শাস্ত্রে মিশরীয়রাই সর্বপ্রথম ‘মেটেরিয়া মেডিকা' বা ঔষুধের তালিকা প্রণয়নে সক্ষম হয়

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইসলামের ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
ওয়াটারলু যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর নেতৃত্ব কে দিয়েছিলেন?
  1. নেপোলিয়ন বোনাপার্ট
  2. ডিউক অফ ওয়েলিংটন
  3. মার্শাল নে
  4. জার্মানির সম্রাট দ্বিতীয় উইলিয়াম
সঠিক উত্তর:
ডিউক অফ ওয়েলিংটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিউক অফ ওয়েলিংটন
ব্যাখ্যা
ওয়াটারলু যুদ্ধ (Battle of Waterloo):
- বিখ্যাত ওয়াটার লু যুদ্ধক্ষেত্র বেলজিয়ামে অবস্থিত।
- ওয়াটারলু যুদ্ধ ১৮১৫ সালের ১৮ জুন বর্তমান বেলজিয়ামের ওয়াটারলুতে সংঘটিত হয়।
- এটি ছিল নেপোলিয়ন বোনাপার্টের নেতৃত্বাধীন ফরাসি সেনাবাহিনী এবং ডিউক অফ ওয়েলিংটনের নেতৃত্বাধীন ব্রিটিশ-মিত্র বাহিনী ও প্রুশিয়ান সেনাবাহিনীর (জেনারেল ব্লুখারের নেতৃত্বে) মধ্যে একটি ঐতিহাসিক যুদ্ধ।
- এই যুদ্ধে নেপোলিয়নের চূড়ান্ত পরাজয় ঘটে।
- ওয়াটারলু যুদ্ধ ইউরোপের রাজনৈতিক ভূগোল এবং ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উল্লেখ্য,
- পরাজয়ের ফলে তাঁকে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসনে দেওয়া হয়েছে।
- তিনি ১৮২১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: Britannica.
১৫.
কোন শতাব্দীতে ইউরোপীয় রেনেসাঁ শুরু হয়?
  1. ত্রয়োদশ
  2. চতুর্দশ
  3. পঞ্চদশ
  4. ষোড়শ
সঠিক উত্তর:
চতুর্দশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্দশ
ব্যাখ্যা
ইউরোপীয় রেনেসাঁ:
- ইংরেজি 'রেনেসাঁ' Renaissance) শব্দের অর্থ নবজাগরণ বা পুনর্জন্ম।
- ধর্মভাবনা নিয়ন্ত্রিত ও সামন্ততান্ত্রিক মধ্যযুগীয় দীর্ঘ বদ্ধ দশা থেকে মুক্ত হয়ে নতুনভাবে জীবনের সবকিছুকে জানার জন্য মানব মনের যে আগ্রহ তারই পরিণতি স্বরূপ যে নবজীবনবাদের সূচনা, তাকেই সাধারণভাবে রেনেসাঁ বা নবজাগরণ নামে আখ্যায়িত করা হয়।

⇒ চতুর্দশ শতাব্দীতে ইউরোপীয় রেনেসাঁ শুরু হয়।
- ইতালির ফ্লোরেন্স শহরে রেনেসাঁস এর গোড়াপত্তন ঘটে।
- ফ্লোরেন্স ছিল ইতালির একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর এবং ১৪শ ও ১৫শ শতাব্দীতে এটি শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান এবং সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। এটি ছিল রেনেসাঁ আন্দোলনের সূচনা এবং বিকাশের জন্য একটি প্রধান স্থান।
- পরবর্তী সময়ে জার্মানিতে রিফরমেশন, ফ্রান্সে ফরাসি বিপ্লব, ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লব এবং সোভিয়েত ইউনিয়নে রুশ বিপ্লব ও চীনে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ঘটে।
- তবে ইতালিতেকেই রেনেসাঁসের প্রথম পর্ব হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।

উৎস: i) আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
১৬.
অ্যাডলফ হিটলার কত সালে জার্মানির চ্যান্সেলর নির্বাচিত হন?
  1. ১৯৩০ সালে
  2. ১৯৩২ সালে
  3. ১৯৩৩ সালে
  4. ১৯৩৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৩৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৩৩ সালে
ব্যাখ্যা
অ্যাডলফ হিটলার:
- অ্যাডলফ হিটলার অস্ট্রীয় বংশোদ্ভূত জার্মান রাজনীতিবিদ।
- অস্ট্রিয়ার ব্রাউনাউ শহরে ১৮৮৯ শহরে জন্মগ্রহণ করেন অ্যাডলফ হিটলার।
- অ্যাডলফ হিটলার ছিলেন নাৎসি পার্টির প্রধান নেতা।
- তিনি ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
- তিনি ১৯৩৩ সালে জার্মানির চ্যান্সেলর নির্বাচিত হন।
- ১৯৪৫ সালের এপ্রিলে আত্মহত্যার পূর্ব পর্যন্ত তিনি জার্মানির চ্যান্সেলর ছিলেন।
- হিটলারের গোপন পুলিশ বাহিনী গেস্টাপো নামে পরিচিত।
- ফুয়েরার বা নেতা/পথ প্রদর্শক হলো হিটলারের উপাধি ।
- হিটলার আত্মহত্যা করেন ৩০ এপ্রিল, ১৯৪৫ সালে।

উল্লেখ্য,
- অ্যাডলফ হিটলার ১৯৩৩ সালের ৩০ জানুয়ারি জার্মানির চ্যান্সেলর হন।
- হিটলারের উত্থানের পেছনে ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর মিত্রশক্তির চাপিয়ে দেওয়া এক অসম ও নিপীড়কমূলক চুক্তি। আর ওই চুক্তিই হিটলারকে জার্মানির চ্যান্সেলর হওয়ার ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ডেকে আনে।

উৎস: Britannica.
১৭.
নেপালের সর্বশেষ রাজা কে ছিলেন?
  1. বীরেন্দ্র বীর বিক্রম শাহ দেব
  2. জ্ঞানেন্দ্র বীর বিক্রম শাহ দেব
  3. দীপেন্দ্র বীর বিক্রম শাহ দেব
  4. ধীরেন্দ্র বীর বিক্রম শাহ দেব
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানেন্দ্র বীর বিক্রম শাহ দেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানেন্দ্র বীর বিক্রম শাহ দেব
ব্যাখ্যা
নেপালের সর্বশেষ রাজা:
- নেপালের সর্বশেষ রাজা ছিলেন জ্ঞানেন্দ্র বীর বিক্রম শাহ দেব।
- তিনি ২০০১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত রাজতন্ত্র বিলুপ্ত না হওয়া পর্যন্ত শাসন করেন। 

উল্লেখ্য,
⇒ নেপাল:
- নেপাল দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশ।
- রাজধানী: কাঠমান্ডু।
- মুদ্রা: নেপালি রুপি।
- ১৭৬৮ সালে পৃথ্বী নারায়ণ শাহ কাঠমান্ডু জয় করেন ও ঐক্যবদ্ধ একটি রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন। ১৭৬৯ সালে নেপালে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- নেপালের ১ম রাজা ছিলেন পৃথ্বী নারায়ণ শাহ।
- ২৮ মে, ২০০৮-এ, নবনির্বাচিত গণপরিষদ নেপালকে একটি ফেডারেল ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক ঘোষণা করে।
- এভাবে ২৪০ বছরের পুরোনো রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করে।

উৎস: Britannica.
১৮.
নিম্নের কোনটি আবিষ্কারের মাধ্যমে প্রথম শিল্প বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল?
  1. বাষ্পীয় ইঞ্জিন
  2. বিদ্যুৎ
  3. টেলিগ্রাফ
  4. স্পিনিং জেনি
সঠিক উত্তর:
বাষ্পীয় ইঞ্জিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাষ্পীয় ইঞ্জিন
ব্যাখ্যা
প্রথম শিল্প বিপ্লব:
- প্রথম শিল্প বিপ্লব সংঘটন কাল: ১৭৬০-১৮৪০ সাল।
- ১৭৬০ সাল থেকে ইউরোপের দেশ ইংল্যান্ডে প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়, তাই ইংল্যান্ডকে শিল্প বিপ্লবের জন্মস্থান বলা হয়।
- ব্রিটিশ অর্থনৈতিক ঐতিহাসিক আর্নল্ড টয়েনবি (Arnold Toynbee) ১৭৬০ সাল থেকে ১৮৪০ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বোঝানোর জন্য ‘শিল্প বিপ্লব' (Industrial Revolution) শব্দটি ব্যবহার করেন।
- ১৭৮৪ সালে পানি ও বাষ্পীয় ইঞ্জিনের নানামুখী ব্যবহারের কৌশল আবিষ্কারের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছিল প্রথম শিল্পবিপ্লব।
- ইংল্যান্ডে শুরু হলেও খুব দ্রুতই ইউরোপের অন্যান্য দেশ বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া সহ অন্যান্য দেশে তা ছড়িয়ে পড়ে।
- ইউরোপের পাশাপাশি ১৭৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শিল্প বিপ্লবের ছোঁয়া লাগে।
- শিল্প বিপ্লবের ফলে পণ্য উৎপাদন, বাজারজাতকরণ, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা খুব দ্রুত পরিবর্তত হতে থাকে।

উৎস: Britannica.
১৯.
'Freedom, Equality, Fraternity' এটি কোন বিপ্লবের স্লোগান?
  1. ফরাসি বিপ্লব
  2. রুশ বিপ্লব
  3. শিল্প বিপ্লব
  4. আমেরিকান বিপ্লব
সঠিক উত্তর:
ফরাসি বিপ্লব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরাসি বিপ্লব
ব্যাখ্যা
'Freedom, Equality, Fraternity' এটি ফরাসি বিপ্লবের স্লোগান।

ফরাসি বিপ্লব:
- ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয় ফ্রান্সে ১৭৮৯ সালে।
- ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই ফ্রান্সের প্যারিসে শ্রমিক ও সাধারণ জনগণ খাদ্যের দাবিতে রাজতন্ত্রের অত্যাচারের প্রতীক বাস্তিল দুর্গ আক্রমণ করে।
- বাস্তিল দুর্গেল পতনের মাধ্যমে সমস্ত বন্দিরাও মুক্তি পায় এবং ফরাসি বিপ্লব শুরু হয়।
- এই বিপ্লব ১০ বছর স্থায়ী হয়েছিল।
- ১৭৯৯ সালে এই বিপ্লব শেষ হয়।
- ফরাসি বিপ্লব আধুনিক ইউরোপের রাজনৈতিক, সামাজিক ও চিন্তার জগতে নতুন দিগন্তের সূচনা করে।
- 'স্বাধীনতা, সাম্য, মৈত্রী (Freedom, Equality, Fraternity)'- ফরাসি বিপ্লবের মূল স্লোগান।

উল্লেখ্য,
- ফরাসি বিপ্লবের সময় ফ্রান্সের রাজা ছিলেন ষোড়শ লুই।
- ফরাসি বিপ্লবের শিশু বলা হয় নেপোলিয়ন বোনাপার্টকে।
- বিখ্যাত দার্শনিক রুশো ও ভলতেয়ার লেখনীর মাধ্যমে ফরাসি বিপ্লবের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিলেন।
- ১৭৯৯ সালে, নেপোলিয়নের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে, বিপ্লবী ধারার শেষ হয় এবং একটি নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা শুরু হয়, যার মধ্যে শাসন ব্যবস্থা বেশ কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে পায়।

উৎস: i) Britannica.
ii) BBC.
২০.
কোন জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান-ইরাক যুদ্ধ সংঘটিত হয়?
  1. শাত-ইল আরব
  2. হরমুজ প্রণালী
  3. সুয়েজ খাল
  4. বসফরাস প্রণালী
সঠিক উত্তর:
শাত-ইল আরব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাত-ইল আরব
ব্যাখ্যা
ইরান-ইরাক যুদ্ধ:
- ইরাক-ইরান যুদ্ধ শুরু হয় ১৯৮০ সালে।
- শাত-ইল আরব জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান-ইরাক যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- যুদ্ধ সংঘটনকাল: ২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৮০ - ২০ আগস্ট, ১৯৮৮ সাল।
- ফলাফল: জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি।

উল্লেখ্য,
- ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন “শাত-ইল-আরব” জলপথের নিয়ন্ত্রণ ও ইরানের তেল সমৃদ্ধ সীমান্তবর্তী অঞ্চল “কোহেস্তান” দখলের জন্য ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৮০ সালে ইরান আক্রমণ করেন।
- দীর্ঘ ৮ বছর যুদ্ধ চলার পর ১৯৮৮ সালের ২০ জুলাই জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করে দুই দেশ।
- ১৯৮৮ সালের ২০ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ সমাপ্ত হয়।

⇒ শাত-ইল আরব জলপথকে কেন্দ্র করে ইরাক ও ইরানের মধ্যে বিরোধ অবসানের উদ্দেশ্যে ১৯৭৫ সালের ১৩ জুন আলজিয়ার্স চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এতে ইরানের পক্ষে রেজা শাহ পাহলভী এবং ইরাকের তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন স্বাক্ষর করেন।
- তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পাঁচ বছরের মাথায় দেশ দুটি শাত-ইল আরবকে কেন্দ্র করে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
- চুক্তির বিষয়বস্তু ছিল শাত-ইল-আরব সহ বিরোধপূর্ণ সীমানা নিয়ে ইরাক ও ইরানের মধ্যে মীমাংসা।
- তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পাঁচ বছরের মাথায় দেশ দুটি শাত-ইল আরবকে কেন্দ্র করে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

উৎস: Britannica.
২১.
১৯৬৭ সালের আরব ইসরাইল যুদ্ধের স্থায়িত্বকাল ছিল -
  1. ৪ দিন
  2. ৬ দিন
  3. ১১ দিন
  4. ১৮ দিন
সঠিক উত্তর:
৬ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ দিন
ব্যাখ্যা
৩য় আরব ইসরাইল যুদ্ধ:
- ৩য় আরব ইসরাইল যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৬৭ সালে।
- এই যুদ্ধের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ৬ দিন।
- এটি ছয় দিনের যুদ্ধ বা জুন যুদ্ধ নামেও পরিচিত।
- ৫ - ১০ জুন পর্যন্ত মাত্র ছয় দিনের এ যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।

⇒ ইসরায়েল মিসরের বিমানবাহিনীর ওপর নিবৃত্তিমূলক হামলা চালালে এই যুদ্ধ শুরু হয়। কারণ, মিসর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তারা গাজা ও সিনাই উপদ্বীপ থেকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী সদস্যদের বিতাড়ন করবে। একই সঙ্গে তারা তিরান প্রণালি দিয়ে ইসরায়েলের জাহাজ চলাচলও বন্ধ করে দিয়েছিল।
- ছয় দিন যুদ্ধের পর ইসরায়েল সিনাই উপদ্বীপ, গাজা উপত্যকা, গোলান উপত্যকা, পশ্চিম তীর ও পুরো জেরুজালেম দখল করে নেয়।

উৎস: Worldatlas.