পরীক্ষা আর্কাইভ

GKpedia - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

পরীক্ষাGKpedia - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১২
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৫ টপিকঃ (জাতিসংঘ গঠনের ইতিহাস, জাতিসংঘ সনদ, জাতিসংঘের মহাসচিব, জাতিসংঘের প্রধান অঙ্গসংস্থা, তহবিল ও প্রোগ্রাম, বিশেষায়িত সংস্থা, অন্যান্য অঙ্গ ও স্বত্ত্বা, জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ। ছয়দফা, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা। ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান। সত্তরের নির্বাচন
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

GKpedia - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

GKpedia - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি · তারিখ অনির্ধারিত · ১২ প্রশ্ন

.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুকে অভিযুক্ত করা হয় কখন?
  1. ক) ১৯৬৮ সালের ১৮ জানুয়ারি
  2. খ) ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি
  3. গ) ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন
  4. ঘ) ১৯৬৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
• ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
• বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
• মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য”। তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
• ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন ৩৫ জনকে আসামি করে পাকিস্তান দন্ডবিধির ১২১-ক ধারা এবং ১৩১ ধারায় মামলার শুনানি শুরু হয়।
• মোট ১০০টি অনুচ্ছেদ সম্বলিত মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়। সরকার পক্ষে মামলায় ১১ জন রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন সাক্ষীর তালিকা আদালতে পেশ করা হয়। 
• এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
• গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
.
সানফ্রান্সিসস্কো সম্মেলনে জাতিসংঘের সনদ রচনার উদ্দেশ্যে মিলিত হয়েছিল কতটি দেশের প্রতিনিধি?
  1. ক) ৫১টি
  2. খ) ৫৫টি
  3. গ) ৫২টি
  4. ঘ) ৫০টি
ব্যাখ্যা
▪ ২৫ এপ্রিল, ১৯৪৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোতে বিশ্বের ৫০টি দেশের প্রতিনিধিরা জাতিসংঘের সনদ রচনার উদ্দেশ্যে মিলিত হন।
▪ ২ মাসের প্রচেষ্টায় ১১১টি অনুচ্ছেদ সম্বলিত জাতিসংঘ সনদ (The United Nations Charter)  রচনা করেন। ১৯৪৫ সালের ২৫ জুন এটি ৫০টি দেশের প্রতিনিধিরা সনদটি অনুমোদন করেন।
▪ ২৬ জুন জাতিসংঘের সনদ ৫০ দেশের প্রতিনিধিরা স্বাক্ষর করেন। সানফ্রান্সিসকোতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনটি ‘San Francisco Conference বা The United Nations Conference on International Organization’  নামে পরিচিত।
▪ ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর নিরাপত্তা পরিষদের ৫ স্থায়ী সদস্য দেশসহ বেশিরভাগ স্বাক্ষরকারী দেশ সনদ অনুমোদন করে এবং জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয় অর্থ্যাৎ ২৪ অক্টোবর, ১৯৪৫ সাল থেকে জাতিসংঘ সনদ কার্যকর হয়। ২৪ অক্টোবরকে তাই ‘জাতিসংঘ দিবস’ বলা হয়।
▪ পোল্যান্ড ২৬ জুন সম্মেলনে উপস্থিত না থেকেও পরে জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষর করে এবং প্রতিষ্ঠাকারী ৫১ তম সদস্য দেশ হয়। পোল্যান্ড ৫১তম দেশ হিসেবে ১৯৪৫ সালের ১৫ অক্টোবর জাতিসংঘ সনদে স্বাক্ষর করে।

তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
.
সম্মিলিত বিরোধী জোটের হয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন কে?
  1. ক) আতাউর রহমান
  2. খ) মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  3. গ) এ কে ফজলুল হক
  4. ঘ) ফাতেমা জিন্নাহ
ব্যাখ্যা
সম্মিলিত বিরোধী জোট/Combined Opposition Party (COP)
• রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৯৬৪ সালের ২৬ জুলাই আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক জোট গঠিত হয় যা 'সম্মিলিত বিরোধী জোট' (Combined Opposition Party-COP) নামে পরিচিত। এ জোটের শরিক দলগুলো হলো -

১. পাকিস্তান আওয়ামী লীগ,
২. ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভাসানী),
৩. পাকিস্তান মুসলিম লীগ (কাউন্সিল),
৪. নেজাম-ই-ইসলাম,
৫. জামায়াতে ইসলামী।

• 'সম্মিলিত বিরোধী জোট' আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছোট বোন ফাতেমা জিন্নাহ কে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মনোনয়ন করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।
• এ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসতে থাকে ততই ফাতেমা জিন্নাহর প্রতি জনসমর্থন অতি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে।
• এর মূল কারণ ছিল আইয়ুব খানের স্বেচ্ছাচারী শাসনের ফলে জনগণের মনে সঞ্চিত ক্ষোভ, মৌলিক গণতন্ত্রীদের দুর্নীতি এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানের তোষামোদি ও চাটুকারিতা, বিরোধী জোটের অন্তর্ভুক্ত নেতা-নেত্রীদের জনপ্রিয়তা ইত্যাদি।
• কিন্তু ৮০ হাজার মৌলিক গণতন্ত্রীকে (Basic Democrats) নগদ অর্থ প্রদানসহ বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে প্রেসিডেন্ট জেনারেল আইয়ুব খান পূর্বের মতোই তার সপক্ষে ধরে রাখতে সমর্থ হন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
.
'ডাম্বারটন ওকস' সম্মেলনে কোন প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল?
  1. ক) জাতিসংঘ নামকরণ
  2. খ) সাধারণ পরিষদ গঠন
  3. গ) ভেটো ক্ষমতা নির্ধারন
  4. ঘ) নিরাপত্তা পরিষদ গঠন
ব্যাখ্যা
ডাম্বারটন ওকস সম্মেলন
▪ ২১ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৪ - ৭ অক্টোবর, ১৯৪৪ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের ডাম্বারটন ওকস ভবনে জাতিসংঘ গঠনের এযাবৎকালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় যা “Dumbarton Oaks Conference” নামে পরিচিত। এতে সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, চীন সহ মিত্রবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অনেক দেশ উপস্থিত ছিলো। এ সম্মেলনে কিছু প্রস্তাব গৃহীত হয়। এগুলো হলো- 
▪ জাতিসংঘ গঠনের রূপরেখা, লক্ষ্য ও দায়িত্ব নির্ধারণ
নিরাপত্তা পরিষদ গঠন এবং ৫টি স্থায়ী সদস্যরাষ্ট্র নির্ধারণ   

ইয়াল্টা সম্মেলন
▪ ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৫ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের ক্রিমিয়ার ইয়াল্টাতে এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় যা জাতিসংঘ গঠনের ইতিহাসে “Yalta Conference”  নামে পরিচিত।
▪ এই সম্মেলনে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের “ভেটো ক্ষমতা” (Veto Power) নির্ধারিত হয়।
▪ এটি ক্রিমিয়া সম্মেলন নামেও পরিচিত।

তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট এবং ব্রিটানিকা।
.
শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি প্রদান করেন -
  1. ক) শামসুল হক
  2. খ) আ স ম আব্দুর রব
  3. গ) তোফায়েল আহমেদ
  4. ঘ) শাহজাহান সিরাজ
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
• ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
• ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
• বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
• মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য”। তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
• ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন ৩৫ জনকে আসামি করে পাকিস্তান দন্ডবিধির ১২১-ক ধারা এবং ১৩১ ধারায় মামলার শুনানি শুরু হয়।
• মোট ১০০টি অনুচ্ছেদ সম্বলিত মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়। সরকার পক্ষে মামলায় ১১ জন রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন সাক্ষীর তালিকা আদালতে পেশ করা হয়। 
• এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
• গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।
• ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে তৎকালীন ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেন।
• রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহা (১৮ ফেব্রুয়ারি,১৯৬৯) নিহত হলে আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপান্তরিত হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
.
জাতিসংঘ সনদ এ পর্যন্ত কতবার সংশোধিত হয়েছে?
  1. ক) ৫ বার
  2. খ) ৪ বার
  3. গ) ৩ বার
  4. ঘ) ২ বার
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ সনদ (UN Charter)
▪ জাতিসংঘ সনদের রচয়িতা - আর্চিবাল্ড ম্যাকলিশ (Archibald MacLeish)।
▪ সনদে মোট ১১১টি অনুচ্ছেদ রয়েছে। এসব অনুচ্ছেদে জাতিসংঘের স্থায়ী অঙ্গ সমূহের গঠন, দ্বায়িত্ব, ক্ষমতা, ভোটিং পদ্ধতি ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
▪ জাতিসংঘ সনদ এই পর্যন্ত মোট ৩ বার সংশোধিত হয়েছে। যথা:-     

প্রথম সংশোধন
১৯৬৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সনদের ২৩, ২৭ ও ৬১ নং অনুচ্ছেদগুলো (যথাক্রমে - নিরাপত্তা পরিষদ গঠন, নিরাপত্তা পরিষদের ভোটিং পদ্ধতি ও ECOSOC - এর গঠন) সংশোধন করা হয়। এই সংশোধন কার্যকর করা হয় ৩১ আগস্ট, ১৯৬৫ সাল থেকে। সংশোধন সমূহ নিচে দেওয়া হল -
▪ নিরাপত্তা পরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা ১১ থেকে বাড়িয়ে ১৫ করা হয় যার মধ্যে ৫টি স্থায়ী ও ১০টি ২ বছর মেয়াদে নির্বাচিত সদস্য।
▪ নিরাপত্তা পরিষদের ভোটিং পদ্ধতি সংশোধিত করে, কোন প্রস্তাব পাসের জন্য প্রয়োজনীয় ভোট সাত থেকে বাড়িয়ে নয় ভোট করা হয়।
▪ ECOSOC - এর সদস্য সংখ্যা ১৮ থেকে বাড়িয়ে ২৭ করা হয়। 

দ্বিতীয় সংশোধন
জাতিসংঘ সনদের দ্বিতীয়বার সংশোধন করা হয় - ২০ ডিসেম্বর, ১৯৬৫ এবং এই সংশোধন কার্যকর হয় - ১২ জুন, ১৯৬৮ সাল থেকে। এই সময় সনদের ১০৯ নং অনুচ্ছেদ যা - সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব পাশ, ভোটিং ও সাধারণ পরিষদের রিভিও সেশন সম্পর্কিত।

তৃতীয় সংশোধন
জাতিসংঘ সনদের তৃতীয় সংশোধনী আনা হয় ২০ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে এবং তা কার্যকর হয় ২৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩ সাল থেকে।
▪ এই সময় আবার ৬১ নং অনুচ্ছেদ সংশোধিত করা হয় এবং ECOSOC - সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে ২৭ থেকে ৫৪ করা হয়। বর্তমানে এই কাউন্সিলের সদস্য সংখ্যা ৫৪ এবং মেয়াদ ৩ বছর।  

তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
.
বঙ্গবন্ধু ছয় দফা দাবি পেশ করেন -
  1. ক) করাচিতে
  2. খ) লাহোরে
  3. গ) ঢাকায়
  4. ঘ) পাঞ্জাবে
ব্যাখ্যা
ছয় দফা
• পাক-ভারত যুদ্ধ সমাপ্ত হলে ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে নিখিল পাকিস্তান জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা দাবি পেশ করেন।
• শেখ মুজিবুর রহমান সম্মেলনে যোগদানের জন্য ৪ ফেব্রুয়ারি লাহোর পৌঁছেন।
• এতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীকার আন্দোলনের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মোট ২১ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করেন।

ঐতিহাসিক ছয় দফার দফাসমূহ
• প্রথম দফা (শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি)।
• দ্বিতীয় দফা (কেন্দ্রিয় ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা)
• তৃতীয় দফা (মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক)।
• চতুর্থ দফা (রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক)।
• পঞ্চম দফা (বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য)।
• ষষ্ঠ দফা (প্রতিরক্ষা বিষয়ক)।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করা হয় কবে?
  1. ক) ৫ ফেব্রুয়ারি,১৯৬৬
  2. খ) ৬ ফেব্রুয়ারি,১৯৬৬
  3. গ) ৭ জুন,১৯৬৬
  4. ঘ) ২৩ মার্চ,১৯৬৬
ব্যাখ্যা
ছয় দফা
• ১৯৬৬ সালের ছয় দফা বাঙালি জাতির জীবনে এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। ধর্মগত ঐক্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র তৈরি হলেও, পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে বাঙালিদের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামরিক-বেসামরিক চাকরি, শিক্ষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বাঙালীদের প্রতি ক্রমবর্ধমান বৈষম্য দেখানো হয়।
• শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান ৪ ফেব্রুয়ারি লাহোর পৌঁছেন।
• পরদিন অর্থাৎ ৫ ফেব্রুয়ারি সাবজেক্ট কমিটির সভায় তিনি পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের দাবি হিসেবে ‘ছয়দফা’ প্রস্তাব পেশ করেন এবং তা সম্মেলনের আলোচ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। কিন্তু সম্মেলনের উদ্যোক্তারা এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। 
• পরদিন অর্থাৎ ৬ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম পাকিস্তানি পত্রপত্রিকায় ছয়দফার বিবরণ ছাপিয়ে শেখ মুজিবকে বিচ্ছিন্নতাবাদীরূপে চিত্রিত করা হয়। ফলে শেখ মুজিব ৬ ফেব্রুয়ারির সম্মেলন বর্জন করেন।
• আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করা হয় লাহোর প্রস্তাবের সাথে মিল রেখে ২৩ মার্চ
• ১৯৬৬ সালের ৭ জুন হরতালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আওয়ামী লীগের মনু মিয়া, মজিবুল্লাহ, শফিক, শামসুল হকসহ ১১ জন।
• বর্তমানে ৭ জুন ছয় দফা দিবস হিসেবে পালিত হয়।  

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া, পৌরনীতি, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোন সম্মেলনের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের 'ভেটো ক্ষমতা' (Veto Power) নির্ধারিত হয়?
  1. ক) সানফ্রান্সিসস্কো সম্মেলন
  2. খ) আটলান্টিক সম্মেলন
  3. গ) ডাম্বারটন ওকস সম্মেলন 
  4. ঘ) ইয়াল্টা সম্মেলন
ব্যাখ্যা
ইয়াল্টা সম্মেলন
⇨ ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৫ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের ক্রিমিয়ার ইয়াল্টাতে এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় যা জাতিসংঘ গঠনের ইতিহাসে “Yalta Conference”  নামে পরিচিত।
⇨ এই সম্মেলনে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের “ভেটো ক্ষমতা” (Veto Power) নির্ধারিত হয়।
⇨ এটি ক্রিমিয়া সম্মেলন নামেও পরিচিত। 

ডাম্বারটন ওকস সম্মেলন   
এ সম্মেলনে কিছু প্রস্তাব গৃহীত হয়। এগুলো হলো- 
▪ জাতিসংঘের গঠনের রূপরেখা, লক্ষ্য ও দায়িত্ব নির্ধারণ
▪ নিরাপত্তা পরিষদ গঠন এবং ৫টি স্থায়ী সদস্যরাষ্ট্র নির্ধারণ   

তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট এবং ব্রিটানিকা। 
১০.
জাতিসংঘ সনদের প্রথম সংশোধনী আনা হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৬২
  2. খ) ১৯৬৩
  3. গ) ১৯৬৫
  4. ঘ) ১৯৭১
ব্যাখ্যা
▪ জাতিসংঘ সনদ এই পর্যন্ত মোট ৩ বার সংশোধিত হয়েছে। যথা:-     

প্রথম সংশোধন
১৯৬৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সনদের ২৩, ২৭ ও ৬১ নং অনুচ্ছেদগুলো (যথাক্রমে - নিরাপত্তা পরিষদ গঠন, নিরাপত্তা পরিষদের ভোটিং পদ্ধতি ও ECOSOC - এর গঠন) সংশোধন করা হয়। এই সংশোধন কার্যকর করা হয় ৩১ আগস্ট, ১৯৬৫ সাল থেকে। সংশোধন সমূহ নিচে দেওয়া হল -
▪ নিরাপত্তা পরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা ১১ থেকে বাড়িয়ে ১৫ করা হয় যার মধ্যে ৫টি স্থায়ী ও ১০টি ২ বছর মেয়াদে নির্বাচিত সদস্য।
▪ নিরাপত্তা পরিষদের ভোটিং পদ্ধতি সংশোধিত করে, কোন প্রস্তাব পাসের জন্য প্রয়োজনীয় ভোট সাত থেকে বাড়িয়ে নয় ভোট করা হয়।
▪ ECOSOC - এর সদস্য সংখ্যা ১৮ থেকে বাড়িয়ে ২৭ করা হয়। 

দ্বিতীয় সংশোধন
জাতিসংঘ সনদের দ্বিতীয়বার সংশোধন করা হয় - ২০ ডিসেম্বর, ১৯৬৫ এবং এই সংশোধন কার্যকর হয় - ১২ জুন, ১৯৬৮ সাল থেকে। এই সময় সনদের ১০৯ নং অনুচ্ছেদ যা - সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব পাশ, ভোটিং ও সাধারণ পরিষদের রিভিও সেশন সম্পর্কিত।

তৃতীয় সংশোধন
জাতিসংঘ সনদের তৃতীয় সংশোধনী আনা হয় ২০ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে এবং তা কার্যকর হয় ২৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩ সাল থেকে।
▪ এই সময় আবার ৬১ নং অনুচ্ছেদ সংশোধিত করা হয় এবং ECOSOC - সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে ২৭ থেকে ৫৪ করা হয়। বর্তমানে এই কাউন্সিলের সদস্য সংখ্যা ৫৪ এবং মেয়াদ ৩ বছর।  

তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
১১.
আগরতলার পরিকল্পনা ফাঁসকারী কে ছিলেন?
  1. ক) টি. এইচ. খান
  2. খ) আনিসুর রহমান
  3. গ) আলী রেজা
  4. ঘ) আমির হোসেন
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলা
• আওয়ামী লীগ এবং সামরিক বাহিনীর প্রায় ২৫০ জন সদস্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বাংলাকে স্বাধীন করার পরিকল্পনা করে।
• পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ অনিবার্য। সেই যুদ্ধে ভারতের সামরিক সহায়তা প্রয়োজন।
• এ কারণে ১২-১৫ জুলাই, ১৯৬৭ আগরতলায় আওয়ামী লীগ নেতা আলী রেজা এবং মুজিবুর রহমান বৈঠক করেন ভারতের ব্রিগেডিয়ার মেনন এবং মেজর মিশ্রের সাথে।
• ভারতের সবুজ সংকেত পাওয়ার পূর্বেই অক্টোবর, ১৯৬৭ পরিকল্পনাকারীদের একজন আমির হোসেন ৬৮ পৃষ্ঠায় গোপন তথ্য-উপাত্ত উল্লেখ করে গোয়েন্দা বিভাগে ফাঁস করে দেয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক ও বাংলাপিডিয়া।
১২.
ছয় দফার ৬নং দফার আলোচ্য বিষয়টি কোনটি?
  1. ক) প্রতিরক্ষা বিষয়ক
  2. খ) মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক
  3. গ) রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক
  4. ঘ) বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য
ব্যাখ্যা
ছয় দফা
• পাক-ভারত যুদ্ধ সমাপ্ত হলে ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে নিখিল পাকিস্তান জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা দাবি পেশ করেন।
• শেখ মুজিবুর রহমান সম্মেলনে যোগদানের জন্য ৪ ফেব্রুয়ারি লাহোর পৌঁছেন।
• এতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীকার আন্দোলনের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মোট ২১ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করেন।

ঐতিহাসিক ছয় দফার দফাসমূহ
• প্রথম দফা (শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি)।
• দ্বিতীয় দফা (কেন্দ্রিয় ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা)
• তৃতীয় দফা (মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক)।
• চতুর্থ দফা (রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক)।
• পঞ্চম দফা (বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য)।
ষষ্ঠ দফা (প্রতিরক্ষা বিষয়ক)।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।