পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৩
সিলেবাস
বিষয় - বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিক - বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি [বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত] i) আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ii) ১৯৭০ সালের নির্বাচন। iii) ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ: পটভূমি, স্বাধীনতা ঘোষণা, অস্থায়ী সরকার, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সেক্টর কমান্ডারগণ, বীরশ্রেষ্ঠগণ এবং সংশ্লিষ্ট সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। উৎস: ইতিহাস সংক্রান্ত বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, বাংলাপিডিয়া বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সহ সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট ও যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] ------------------------ [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৩ প্রশ্ন

.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার দাপ্তরিক নাম ছিল -
  1. আগরতলা ষড়যন্ত্র বনাম পাকিস্তান
  2. রাওয়ালপিন্ডি বনাম আগরতলা ষড়যন্ত্র
  3. রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- মামলা দায়ের করা হয়: ১৯৬৮ সালে।
- এই মামলায় বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামি করা হয়।
- মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামি করা হয়।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলার দাপ্তরিক নাম ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য’। তবে এটি ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র’ মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
.
অপারেশন সার্চ লাইটের মূল দায়িত্বে ছিল কে?
  1. জেনারেল টিক্কা খান
  2. জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা
  3. জেনারেল রাও ফরমান আলী
  4. জেনারেল এএকে নিয়াজী
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা:
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে যে গণহত্যামূলক অভিযান চালিয়েছিল তার সাংকেতিক নাম ছিল ‘অপারেশন সার্চ লাইট’।
- পাকিস্তান বাহিনীর ১৪ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং ৫৭ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অপারেশন সার্চলাইট নামে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন।
- ১৭ মার্চ চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন ঢাকা সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
- এই অপারেশন সার্চ লাইট অনুযায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার মূল দায়িত্বে ছিল: জেনারেল রাও ফরমান আলী।
- ঢাকার বাহিরে এ অপারেশনের দায়িত্বে ছিল: জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা।
- অপারেশন সার্চ লাইটের মূল দায়িত্বে ছিল: জেনারেল টিক্কা খান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিবিসি।
.
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে লতিফ মির্জা বাহিনী কোন অঞ্চলে যুদ্ধ করে?
  1. পাবনা
  2. কুমিল্লা
  3. নোয়াখালী
  4. দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
আঞ্চলিক বাহিনী:
- সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে যেসব বাহিনী গড়ে উঠে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে,
• আফসার ব্যাটালিয়ন - ভালুকা, ময়মনসিংহ।
• হেমায়েত বাহিনী - গোপালগঞ্জ, বরিশাল।
• হালিম বাহিনী - মানিকগঞ্জ।
• আকবর বাহিনী - মাগুরা।
• লতিফ মির্জা বাহিনী - বগুড়া, নাটোর, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ।
• কাদেরিয়া বাহিনী - টাঙ্গাইল।
• বাতেন বাহিনী - টাঙ্গাইল।
• জিয়া বাহিনী - সুন্দরবন।
• 'ক্র্যাক প্লাটুন' - ঢাকার গেরিলা।
- ঢাকা শহরের বড় বড় স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ব্যাংক ও টেলিভিশন ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় ঢাকার গেরিলারা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
.
আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য গঠিত বিশেষ ট্রাইবুনালের নেতৃত্বে কে ছিলেন?
  1. বিচারপতি এম.এস চৌধুরী
  2. বিচারপতি কে.এম সোবহান
  3. বিচারপতি এম ইদ্রিস
  4. বিচারপতি এস.এ. রহমান
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলার বিচারকার্য:
- আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়।
- বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়: ২১ এপ্রিল, ১৯৬৮ সালে।
- বিচারপতি এস.এ. রহমানের নেতৃত্বে এই বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
- কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- মামলার শুনানি শুরু হয়: ১৯ জুন, ১৯৬৮ সালে।
- মামলাটি ছিল পাকিস্তান দণ্ডবিধির ১২ ক এবং ১৩১ ধারা অনুসারে।
- এই মামলায় রাজসাক্ষীসহ মোট সাক্ষী ২২৭ জন। রাজসাক্ষী ১১ জন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন, মোঃ মোজাম্মেল হক।
.
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে সর্বমোট কতজন মুক্তিযোদ্ধাকে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়েছিল?
  1. ৬৭১ জন
  2. ৬৭৪ জন
  3. ৬৭৬ জন
  4. ৬৭৯ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
⇒ সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ: ৭জন।
⇒ ২য় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম: ৬৮ জন।
⇒ ৩য় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম: ১৭৫ জন।
⇒ ৪র্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক: ৪২৬জন।

- ৬ জুন ২০২১ তারিখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
⇒ বীরশ্রেষ্ঠ: ৭জন।
⇒ বীর উত্তম: ৬৭ জন।
⇒ বীর বিক্রম: ১৭৪ জন।
⇒ বীর প্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
.
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌ-বাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযানটির সাংকেতিক নাম ছিল -
  1. অপারেশন নোঙর
  2. অপারেশন জ্যাকপট
  3. অপারেশন ঢাকা বোল
  4. অপারেশন ক্যাক্টাস লিলি
ব্যাখ্যা
অপারেশন জ্যাকপট:
- ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌ-বাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- 'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালিত হয় ১৫ই আগস্ট মতান্তরে ১৬ই আগস্ট ১৯৭১ সালে। [অপশনে ১৫ আগস্ট থাকলে ১৫ আগস্ট দাগাতে হবে। অপশনে ১৫ আগস্ট না থাকলে সেই ক্ষেত্রে ১৬ আগস্ট দাগাতে হবে।]
- দেশের দুইটি সমুদ্রবন্দর - চট্টগ্রাম ও মোংলা এবং দুইটি নদী বন্দর - চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে একযোগে একই নামে এই অপারেশন পরিচালিত হয়েছিল।
- অপারেশন জ্যাকপট ছিল একটি আত্মঘাতী অভিযান।
- এই অপারেশনে পাকিস্তান ও আরও কয়েকটি দেশ থেকে আসা অস্ত্র, খাদ্য ও তেলবাহী ২৬টি জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল।
- চট্টগ্রামে বন্দরে অপারেশন চালানোর জন্য বাছাই করা হয়েছিল ৬০ জনের একটি দল।
- ১৯৭১ সালের অগাস্টের ১৫ তারিখ রাতে অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে এর পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল ১৯৭১ সালের মে মাসে।
- অপারেশন জ্যাকপটে চট্টগ্রাম বন্দরের অভিযান রফিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
- তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে এক নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন।
- সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর রফিকুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বীর উত্তম খেতাব অর্জন করেছিলেন।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বিবিসি বাংলা, ১৬ই আগস্ট ২০২১।
.
যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা ব্রিটেনের কোন আইনজীবীকে বিশেষ ট্রাইবুনালে বঙ্গবন্ধুর আইনজীবী হিসেবে প্রেরণ করেন?
  1. রবার্ট হেনরি কেইন
  2. টমাস উইলিয়াম এমপি
  3. উইলয়াম গোল্ডিং লেসিং
  4. ফিলিপ পল অ্যান্ডারসন
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলার বিচারকার্য:
- আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন বেলা এগারটায় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- ১৯৬৮ সালের ২১ এপ্রিল বিচারপতি এস.এ. রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- প্রখ্যাত আইনজীবী আবদুস সালাম খানের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের নিয়ে একটি আত্মপক্ষ সমর্থকদল গঠন করা হয়।
- যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা ব্রিটেনের প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম এমপিকে বিশেষ ট্রাইবুনালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আইনজীবী হিসেবে প্রেরণ করেন।
- তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ।
- পাকিস্তান সরকারের পক্ষে প্রধান কৌসুলী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর কাদের ও অ্যাডভোকেট জেনারেল টি.এইচ.খান।
- ট্রাইবুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস.এ.রহমান।
- অপর দুই বিচারপতি ছিলেন এম.আর.খান ও মকসুমুল হাকিম।
- ২৯ জুলাই ১৯৬৮ মামলার শুনানি শুরু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মোট কয়টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে?
  1. ১১টি
  2. ১৫টি
  3. ২১টি
  4. ২৪টি
ব্যাখ্যা
১৯৭০ এর নির্বাচন:
- প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়: ১৭ ডিসেম্বর, ১৯৭০ সালে।
- অবশ্য ১৯৭০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড়ের ফলে দুর্গত ও উপকূলীয় এলাকায় প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন ১৭ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ১৯৭১ সালের ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
- অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল: ২৪টি।
- নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।
- প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের মোট আসন সংখ্যা - ৩১০টি।
• সাধারণ আসন - ৩০০টি।
• সংরক্ষিত নারী আসন - ১০টি।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, মোজাম্মেল হক ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
.
স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুজিবনগর সরকার গঠিত পরিকল্পনা কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলেন কে?
  1. ড. সরওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী
  2. ড. পারভেজ আলম চৌধুরী
  3. ড. আনোয়ারুল আজীজ চৌধুরী
  4. ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
পরিকল্পনা কমিশন:
- পরিকল্পনা কমিশন গঠন দেশ শত্রুমুক্ত করার পরপরই যেহেতু পুনর্গঠন একটি কাজ হবে এবং সে কাজে সরকারের পক্ষে কোনরূপ কালক্ষেপণ করা যাবে না।
- স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুজিবনগর সরকার ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিকল্পনা কমিশন গঠন করে।

⇒ চেয়ারম্যান: ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী।
• সদস্যবৃন্দ,
• ড. খান সরওয়ার মুর্শেদ।
• ড. মোশাররফ হোসেন।
• ড. এস. আর. বোস।
• ড. আনিসুজ্জামান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
১৯৬৯ সালে ২০ জানুয়ারি পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন কে?
  1. রফিক
  2. আসাদ
  3. মিলন
  4. নূর হোসেন
ব্যাখ্যা
৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান:
- আইয়ুব বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ১৯৬৮ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হয়।
- ১৯৬৯-এর মধ্য জানুয়ারিতে এটি গণআন্দোলনের রূপ নেয়।
- ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ দেশের সকল মৌলিক গণতন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান জানালে অনেকেই সে আহ্বানে সাড়া দেন।
- ছাত্র-শিক্ষকবৃন্দ ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের আন্দোলনের সংগে একাত্মতা ঘোষণা করেন।
- আইয়ুব পুলিশ, ইপিআর ও সেনাবাহিনী দিয়ে ঐ আন্দোলন স্তব্ধ করার চেষ্টা করেন।
- ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের নেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে শহীদ হলে আন্দোলন সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
- আন্দোলন চরম আকার ধারণ করে যখন প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করার সময় ১৮ ফেব্রুয়ারিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা পুলিশের গুলি ও বেয়নেট চার্জের ফলে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে নারীদের জন্য সংরক্ষিত মোট আসন সংখ্যা কয়টি?
  1. ৬টি
  2. ৭টি
  3. ৯টি
  4. ১৩টি
ব্যাখ্যা
১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আসন বন্টন:
- আইনগত কাঠামো আদেশ অনুযায়ী জাতীয় পরিষদের আসন সংখ্যা ৩১৩টি নির্ধারণ করা হয়।
• সাধারণ আসন সংখ্যা ৩০০টি।
• নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা - ১৩টি।


⇒ পূর্ব পাকিস্তানে মোট আসন সংখ্যা - ১৬৯টি।
• সাধারণ আসন সংখ্যা - ১৬২টি।
• নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা - ৭টি।

⇒ পশ্চিম পাকিস্তানে মোট আসন সংখ্যা - ১৪৪টি।
• সাধারণ আসন সংখ্যা - ১৩৮টি।
• নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা - ৬টি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
মুজিবনগর সরকারের স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী ছিলেন -
  1. তাজউদ্দিন আহমেদ
  2. ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী
  3. আবুল হাসনাত মুহাম্মদ কামারুজ্জামান
  4. খন্দকার মোশতাক আহমেদ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার গঠন:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ও মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ করে: ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল।
- ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের জন্য এই দিনটির তাৎপর্য অপরিসীম, কেননা এই দিনেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়।
- স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণের স্থান: কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে।
- ১০ এপ্রিল দেশের 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' নামকরণ করে বঙ্গবন্ধুর অন্যতম সহযোগী আওয়ামী লীগ নেতা তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে মন্ত্রীসভা ঘোষণা করা হয়।
- মুজিবনগর ছিলো স্বাধীন দেশের অস্থায়ী রাজধানী।
- সচিবালয়/সদর দপ্তর ছিলো: ৮ নং থিয়েটার রোড, কলকাতার।

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা:
- রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
- প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দিন আহমেদ,
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী: ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী,
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী: আবুল হাসনাত মুহাম্মদ কামারুজ্জামান,
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী: খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, DMP ও তথ্য অধিদফতর ওয়েবসাইট।
১৩.
১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দকৃত সাধারণ আসন ছিল কয়টি?
  1. ১৬০ টি
  2. ১৬২ টি
  3. ১৬৭ টি
  4. ১৬৯ টি
ব্যাখ্যা
১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচন:
- ১৯৭০ সালের ১ জানুয়ারি সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।
- জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার: বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।
- নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দকৃত ১৬২ টি সাধারণ আসনে একমাত্র আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কোন দলই সবকয়টি আসনে প্রার্থী দাঁড় করাতে পারেনি।

⇒ উক্ত ১৬২টি আসনে অন্যান্য উল্লেখযোগ্য দলের প্রার্থী -
• মুসলিমলীগ - ৯৩।
• মুসলিম লীগ - ৬৫।
• মুসলিম লীগ - ৫০।
• জামায়াতে ইসলামী - ৬৯।
• জমিয়াতুল উলামা ও নেজামে ইসলামী - ৪৫।
• পিডিপি - ৮১।
• ন্যাপ - ৩৬।
• স্বতন্ত্র - ১০৯।
• অন্যান্য ছোট দলসহ সর্বমোট প্রার্থী সংখ্যা ছিল - ৭৬৯ জন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।