পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

পরীক্ষাপ্রাইমারি ডেইলি কুইজতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়05 minutes
মোট প্রশ্ন১২
সিলেবাস
[এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আজ বা যেকোন সময় পরীক্ষা শুরু করা হলেও নির্দিষ্ট সময়ে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে] প্রাইমারি ডেইলি কুইজ বিষয়: সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ বিষয়াবলি) টপিক: মুক্তিযুদ্ধ ও সমসাময়িক ইতিহাস। উৎস: বাংলাপিডিয়া, জাতীয় তথ্যবাতায়ন, বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ · তারিখ অনির্ধারিত · ১২ প্রশ্ন

.
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালু হয় কবে?
  1. ৩ মার্চ, ১৯৭১
  2. ৭ মার্চ, ১৯৭১
  3. ১৭ মার্চ, ১৯৭১
  4. ২৬ মার্চ, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র:
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রথম স্থাপিত হয়েছিল চট্টগ্রামের কালুরঘাটে।
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালু হয় ২৬ মার্চ, ১৯৭১।
- ১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রটি পাকিস্তান হানাদার বিমান বাহিনীর বোমা বর্ষণের স্বীকার হয়।
- স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি অনুষ্ঠান ছিল ‘চরমপত্র’ ও ‘জল্লাদের দরবার’।
- জল্লাদের দরবার-এ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে ‘কেল্লা ফতেহ খান’ চরিত্রের মাধ্যমে চিত্রিত করা হয়েছে।
- চরমপত্র সিরিজটির পরিকল্পনা করেন জাতীয় পরিষদ সদস্য আব্দুল মান্নান।
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত 'চরমপত্র' পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেন এম আর আখতার মুকুল।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
.
মুক্তিযুদ্ধের সময় তাজউদ্দীন আহমদ কোন পদে দায়িত্ব পালন করেন?
  1. অস্থায়ী সরকারের অর্থমন্ত্রী
  2. মুক্তিবাহিনীর প্রধান
  3. মিত্র বাহিনীর সেনাপ্রধান
  4. অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
তাজউদ্দীন আহমদ:
- তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকারের প্রধান নেতা।
- তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
- তাজউদ্দীন আহমদ ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
- শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে তাজউদ্দীন আহমদ রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালির অধিকার আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

অবদান:
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করলে তাজউদ্দীন আহমদ অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
- ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী সরকার গঠিত হয় এবং তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করেন, মুক্তিবাহিনী গঠনের উদ্যোগ নেন এবং আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন আদায় করেন।
- স্বাধীনতার পর তাজউদ্দীন আহমদ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারে অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর তাজউদ্দীন আহমদসহ অন্যান্য জাতীয় নেতাদের বন্দি করা হয়।
- ৩ নভেম্বর, ১৯৭৫ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে তাকে হত্যা করা হয়, যা জেল হত্যা দিবস হিসেবে পরিচিত।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
.
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয় কবে?
  1. ৭ মার্চ, ১৯৭১
  2. ২৬ মার্চ, ১৯৭১
  3. ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  4. ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র:
- মুজিবনগর সরকারের জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামের একটি ঐতিহাসিক দলিল। 
- ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়।
- এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এ ঘোষণাপত্র প্রবাসী মুজিবনগর সরকার পরিচালনার অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান হিসেবে কার্যকর হয়।
- এ ঘোষণা স্বাধীন বাংলাদেশের নতুন সংবিধান প্রণীত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত, দেশের সংবিধান হিসেবে কার্যকর ছিল।

উল্লেখ্য,
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।
- ঘোষণাপত্রে ২৬ মার্চ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা কার্যকর বলে ঘোষণা করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল অধ্যাপক ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৭ম তফসিলে স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র সংযুক্ত করা হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
.
অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় জেনারেল রাও ফরমান আলী কোন শহরের নেতৃত্ব দেন?
  1. ঢাকা
  2. যশোর
  3. কুমিল্লা
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইট:
- পাকিস্তানী স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী মুক্তিকামী বাঙালিদের কঠোর হস্তে দমনের জন্য ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী যে সশস্ত্র অভিযান পরিচালনা করে, সামরিক কর্তৃপক্ষ একে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে অভিহিত করে।
- অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় ২৫ মার্চ রাত সাড়ে এগারটা থেকে মধ্য মে পর্যন্ত বড় বড় শহরে অভিযান পরিচালিত হয়।
- অপারেশন সার্চলাইট  অভিযান শুরুর সময় নির্ধারিত ছিল ২৬ মার্চ রাত ১টা।
- সিদ্ধান্ত হয়, ২৫ মার্চ রাত ১টায় অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় অভিযানে ঢাকায় নেতৃত্ব দিবেন জেনারেল রাও ফরমান আলী।
- দেশের অন্যান্য অঞ্চলে নেতৃত্ব দিবেন জেনারেল খাদিম হোসেন রেজা।
- অপারেশন সার্চলাইটে সেনাবাহিনী নির্বিচারে গণহত্যা চালায়। এতে হাজার হাজার নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষ নিহত হয়।
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক এলাকা এবং অন্যান্য স্থানগুলোতে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
.
মুক্তিযুদ্ধে প্রধান সেনাপতি ছিলেন কে?
  1. কর্নেল এম এ রব
  2. এ কে খন্দকার
  3. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. কর্নেল এম এ জি ওসমানী
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধে প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন - কর্নেল এম এ জি ওসমানী।

জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় কর্নেল মুহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানী (যিনি এম.এ.জি. ওসমানী নামে পরিচিত) মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৪২ সালে তৎকালীন বৃটিশ সাম্রাজ্যের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ মেজর ছিলেন তিনি।
- দেশবিভাগের পর ১৯৪৭ সালের ৭ অক্টোবর ওসমানী যোগ দেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে।
- ১৯৬৭ সালে সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে অবসর নেন তিনি।
- মুক্তিযুদ্ধের ২৫ মার্চ ঢাকাতেই ছিলেন ওসমানী। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ওসমানী সীমান্ত পার হয়ে ভারতে প্রবেশ করেন।
- ১১ এপ্রিল (১৯৭১) প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে ভাষণ দেন।
- ঐ ভাষণে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবকাঠামো গঠনের কথা উল্লেখ করে এম. এ. জি. ওসমানীকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে ঘোষণা দেন।

উল্লেখ্য যে,
- ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারী ও সরকার গঠন করা হয় এবং পরবর্তীকালে ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরেগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত হয় মুজিবনগর সরকার, ওসমানীকে করা হয় মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি।
- ওসমানী'র নির্দেশনা অনুযায়ী সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।

অন্যদিকে,
- মুক্তিযুদ্ধে চিফ অব স্টাফ এর দায়িত্ব পালন করেন - কর্নেল এম এ রব।
- মুক্তিযুদ্ধে উপসেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন - এ কে খন্দকার।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন- সৈয়দ নজরুল ইসলাম।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা , নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাপিডিয়া।
.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধে নিয়মিত বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. মুজিব বাহিনী
  2. ক্র্যাক প্লাটুন
  3. মুজিব ব্যাটারি
  4. ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট
ব্যাখ্যা
মুক্তিবাহিনী:
- মুক্তিবাহিনী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সংগঠিত সশস্ত্রবাহিনী।
- মুজিবনগর সরকার পরিকল্পিত উপায়ে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করার জন্য সামরিক ও বেসামরিক সকল জনগণকে নিয়ে ১৯৭১ সালের ১১ জুলাই মুক্তিবাহিনী গঠন করে।

• মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল-
১/ নিয়মিত বাহিনী ও
২/ অনিয়মিত বাহিনী।

নিয়মিত বাহিনী:
- নিয়মিত বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত ছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের সৈন্যরা।
- এই বাহিনীর সদস্যরা সশস্ত্রবাহিনীর প্রথাগত যুদ্ধে নিয়োজিত ছিলেন।

অনিয়মিত বাহিনী:
- অনিয়মিত বাহিনী গণবাহিনী নামে পরিচিত ছিল। ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণের পর বিভিন্ন সেক্টরে গণবাহিনীতে নিয়োগ করা হতো।
- গণবাহিনীর সদস্যদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শত্রুর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনার জন্য পাঠানো হয়।

এছাড়া, কতিপয় স্বতন্ত্র বাহিনীও  বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এবং অনেক এলাকা মুক্ত করে। এগুলির মধ্যে ছিল মুজিব বাহিনী, কাদেরিয়া বাহিনী, আফসার ব্যাটালিয়ন এবং হেমায়েত বাহিনী।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযানের নাম কী?
  1. অপারেশন কিলোফাইট
  2. অপারেশন ক্লোজ ডোর
  3. অপারেশন জ্যাকপট
  4. অপারেশন ক্লিন হার্ট
ব্যাখ্যা
অপারেশন জ্যাকপট:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- 'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালিত হয় ১৫ই আগস্ট ১৯৭১ সালে।
- দেশের দুইটি সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম ও মোংলা এবং দুইটি নদী বন্দর - চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে একযোগে একই নামে পরিচালিত অপারেশনগুলো চালানো হয়েছিল।
- অপারেশন জ্যাকপট ছিল একটি আত্মঘাতী অভিযান।
- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রফিকুল ইসলাম ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে এক নম্বর সেক্টরের কমান্ডার।
- অপারেশন জ্যাকপটে চট্টগ্রাম বন্দরের অভিযান তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
- সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর রফিকুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বীর উত্তম খেতাব লাভ করেছিলেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া, বিবিসি বাংলা, ১৬ই আগস্ট ২০২১।
.
মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখার জন্য তারামন বিবিকে কোন খেতাব প্রদান করা হয়?
  1. বীর বিক্রম
  2. বীর প্রতীক
  3. বীর উত্তম
  4. বীর মাতা
ব্যাখ্যা
• তারামন বিবি:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্ত মহিলা ২ জন‌।
- একজন ডা. সেতারা বেগম এবং অপরজন তারামন বিবি।
- তারামন বিবির আসল নাম ছিল তারাবানু।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় নিজ গ্রাম শংকর মাধবপুরে ছিলেন।
- তারামন বিবি ১১ নং সেক্টরে কর্নেল তাহেরের অধীনে যুদ্ধে অংশ নেন এবং পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করেন।
- মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পরে ১৯৭৩ সালে সরকার তাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য বীর প্রতীক উপাধিতে ভূষিত করে।
- মৃত্যুবরণ করেন ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন, দৈনিক প্রথম আলো।
.
কার নেতৃত্বে 'জেড' ফোর্স গঠন করা হয়?
  1. জিয়া আহসান
  2. কে.এম.সফিউল্লাহ
  3. জিয়াউর রহমান
  4. খালেদ মোশারফ
ব্যাখ্যা
ব্রিগেড ফোর্স: 
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনকে ১১টি সেক্টর ও তার অধীন অনেক সাব-সেক্টর ছাড়াও তিনটি ব্রিগেড ফোর্সে বিভক্ত করা হয়।
- ফোর্সের নামকরণ করা হয় ব্রিগেডগুলোর অধিনায়কদের নামের প্রথম অক্ষর দিয়ে।

১: জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে 'জেড' ফোর্স-
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

২: কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে 'এস' ফোর্স-
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।

৩: খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে 'কে' ফোর্স-
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
১০.
গেরিলা দল ‘ক্র্যাক প্লাটুন’ কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ২নং সেক্টর
  2. ৩নং সেক্টর
  3. ৬নং সেক্টর
  4. ৭নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
ক্র্যাক প্লাটুন:
- ক্র্যাক প্লাটুন হলো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ২ নং সেক্টরের অধীনে ঢাকা শহরের তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত একটি গেরিলা সংগঠন।
- ২ নং সেক্টর ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর, যার অধীনে ছিল ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, এবং এর আশেপাশের এলাকাগুলো।
- এই সেক্টরের নেতৃত্বে ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ এবং তার অধীনেই ক্র্যাক প্লাটুন গঠিত হয়।
- এই দলের সদস্যরা ছিলেন অত্যন্ত সাহসী এবং সুসংগঠিত।
- তারা অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে অপারেশন পরিচালনা করত এবং বিভিন্ন স্থানে পাক বাহিনীর উপর অতর্কিত আক্রমণ চালাত।
- বিশেষ করে, এই দলটি ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ওপর আক্রমণ চালিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং মনোবল ধ্বংস করেছিল।
- শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সন্তান শহিদ রুমী ইমাম, শহিদ জুয়েল, শহিদ আলতাফ মাহমুদ, প্রয়াত আযম খান, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ ক্র্যাক প্লাটুনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথমপত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
মুক্তিযুদ্ধকালীন কোন দেশ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে?
  1. চীন
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. ভারত
  4. সোভিয়েত ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা
মিত্র দেশসমূহ:

ভারত:
- ভারত মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশ ছিল।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার পর পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হয়।
- ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তখন বাংলাদেশকে সমর্থন করার জন্য রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, এবং সামরিক সহায়তা প্রদান করেন।
- ভারতীয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, এবং বিমানবাহিনী যৌথভাবে "মুক্তিবাহিনী"র সঙ্গে একযোগে কাজ করে।

সোভিয়েত ইউনিয়ন:
- সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া)ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ছিল, যদিও তার ভূমিকা প্রধানত কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক সমর্থনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
- সেই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে এবং এই ভেটো প্রয়োগের ফলে পাকিস্তানের উপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে থাকে।
- সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড়ে সাহায্য করে এবং মুক্তিযুদ্ধের ন্যায্যতাকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে। 

অন্যদিকে,
- মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানকে সামরিক এবং কূটনৈতিকভাবে সমর্থন দিচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও চীন।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে সামরিক সহায়তা প্রদান করেছিল।
- চীন জাতিসংঘে পাকিস্তানের পক্ষে কথা বলেছিল এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাপিডিয়া।
১২.
কোন নেতা ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর জেলহত্যায় নিহত হন?
  1. মোশতাক আহমদ
  2. ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী
  3. শেখ মুজিবুর রহমান
  4. আব্দুর রব সেরনিয়াবাত
ব্যাখ্যা
জেলহত্যা:
- জেলহত্যা ঘটনাটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়।
- ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী অবস্থায় জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়।
- এই হত্যাকাণ্ড ইতিহাসে 'জেলহত্যা' নামে পরিচিত।

⇒ হত্যাকাণ্ডের শিকার জাতীয় চার নেতা হলেন:
• সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
• তাজউদ্দীন আহমদ,
• ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং
• এ এইচ এম কামারুজ্জামান।

উল্লেখ্য,
- তাদের এই হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি স্মরণার্থে প্রতি বছর ৩রা নভেম্বর 'জেলহত্যা দিবস' পালিত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও বিবিসি বাংলা।