পরীক্ষা আর্কাইভ

ব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি

পরীক্ষাব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন১৫
সিলেবাস
পরীক্ষা – ২৩ বাংলা টপিক: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্যতীত আধুনিক যুগের সকল সাহিত্যিক। (লেখকদের জীবনী, গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য সম্পর্কে বিস্তারিত পড়তে হবে)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি

ব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ১৫ প্রশ্ন

.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস -
  1. মৌরীফুল
  2. অপরাজিত
  3. নবান্ন
  4. পথের দাবী
ব্যাখ্যা
• 'অপরাজিত' উপন্যাস: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত প্রথম উপন্যাস হলো পথের পাঁচালী (১৯২৯)।
- ‘অপরাজিত’ (১৯৩১) হলো পথের পাঁচালীর দ্বিতীয় খণ্ড।
- উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে মাসিক ‘প্রবাসী’তে প্রথম প্রকাশিত হয়। পুস্তকাকারে উপন্যাসটি দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে।
- উপন্যাসটির প্রথমে নামকরণ করা হয়েছিল 'আলোক সারথী'।

অন্যদিকে,
- মৌরীফুল - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোটগল্প।
- ‘নবান্ন’ হলো বিজন ভট্টাচার্যের লেখা একটি বাংলা নাটক।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো - পথের দাবী।
--------------------------
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
বেগম রোকেয়া রচিত সাহিত্যকর্ম নয় কোনটি?
  1. স্ত্রীজাতির অবনতি
  2. পিপাসা
  3. নিরীহ বাঙালি
  4. পদ্মগোখরা
ব্যাখ্যা
• 'মতিচূর' প্রবন্ধগ্রন্থ :
- 'মতিচূর' রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের উদ্দেশ্যমূলক প্রবন্ধগ্রন্থ।
- ঘৃতপক্ক মিষ্টান্ন বিশেষকে বলা হয় মতিচূর।
- রোকেয়ার গ্রন্থের রচনাগুলোও অনেকটা সুস্বাদু মিষ্টান্নের মতোই।
- 'মতিচূর' গ্রন্থের দুটি খণ্ডে মোট প্রবন্ধের সংখ্যা ১৭টি।

প্রথম খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত ৭টি প্রবন্ধের নাম-
- পিপাসা, স্ত্রীজাতির অবনতি, নিরীহ বাঙালি, অর্ধাঙ্গী, সুগৃহিণী, বোরকা ও গৃহ।
- দ্বিতীয় খণ্ডে ১০ প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।

• অন্যদিকে, 
- 'পদ্মগোখরা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্প।

• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
• নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
২. বাংলাপিডিয়া।
.
‘পালামৌ’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• পালামৌ:
- 'পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণামূলক ভ্রমণকাহিনী হচ্ছে 'পালামৌ'। 
- এটি ছোট নাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু এবং মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে। 
- 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'- এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য। তিনি এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
------------------ 
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন। 
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত। 
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা, (১২৮১-১২৮২) বঙ্গাব্দে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
ক্লিনটন বি সিলি কোন কবিকে নিয়ে গবেষণা গ্রন্থ রচনা করেছেন?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
ক্লিনটন বি সিলি ও জীবনানন্দ গবেষণা:
- ক্লিনটন বি সিলি যুক্তরাষ্ট্রের একজন স্বনামধন্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাহিত্যের অধ্যাপক, বাংলা ভাষা ও ও সাহিত্যের অনুবাদক।
- তার জন্ম ১৯৪১ সালের ২১ জুন। বর্তমানে তিনি শিকাগো ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক।
- তিনি বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে গবেষণা করেছেন।
- জীবনানন্দ দাশের সাহিত্যিক জীবনী গ্রন্থ রচনা করেছেন ক্লিনটন বি সিলি।
- গ্রন্থটির নাম - A Poet Apart যা ১৯৯০ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বইটি বাংলায় অনুবাদ করেন ফারুক মঈনউদ্দীন। বাংলা অনুবাদ গ্রন্থটি 'অনন্য জীবনানন্দ’ নামে ২০১১ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট (প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৪)।
.
'অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা -
  1. বুদ্বদেব বসু
  2. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• 'অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?' - পঙক্তিটির রচয়িতা হলেন - সুধীন্দ্রনাথ দত্ত। 

- 'উটপাখী' কবিতার বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি ‘অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?'
 'উটপাখী' কবিতাটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের 'ক্রন্দসী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। গ্রন্থটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।

কবিতাটির অংশবিশেষ, 

আমি জানি এই ধ্বংসের দায়ভাগে
আমরা দু জনে সমান অংশীদার;
অপরে পাওনা আদায় করেছে আগে,
আমাদের ‘পরে দেনা শোধবার ভার।
তাই অসহ্য লাগে ও-আত্মরতি।
অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?
আমাকে এড়িয়ে বাড়াও নিজেরই ক্ষতি।

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান। তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত আবদুল মান্নান সৈয়দ এর উপন্যাস কোনটি?
  1. স্মৃতির নোটবুক
  2. ক্ষুধা প্রেম আগুন
  3. মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা
  4. নেকড়ে হায়েনা
ব্যাখ্যা
• 'ক্ষুধা প্রেম আগুন' উপন্যাসটি লিখেছেন 'আবদুল মান্নান সৈয়দ'।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত তাঁর একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসের পটভূমিস্থান ঢাকা শহর।
------------- 
আবদুল মান্নান সৈয়দ:
- আবদুল মান্নান সৈয়দ কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।]
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

• আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস:
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী, 
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর, 
- পোড়ামাটির কাজ,
- ক্ষুধা প্রেম আগুন, 

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- সত্যের মতো বদমাশ,
- চলো যাই পরোক্ষে,
- মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা,
- নেকড়ে হায়েনা ইত্যাদি।

'স্মৃতির নোটবুক' আব্দুল মান্নান সৈয়দ রচিত স্মৃতিকথা।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
'জাগো বাহে কোন্‌ঠে সবাই' এই অবিস্মরণীয় আহ্বানটি পাওয়া যায় কোন রচনায়?
  1. নিষিদ্ধ লোবান
  2. বায়ান্ন গলির এক গলি
  3. নূরলদীনের সারা জীবন
  4. বখতিয়ারের ঘোড়া
ব্যাখ্যা
• 'জাগো বাহে কোন্‌ঠে সবাই' বলে অবিস্মরণীয় আহ্বানটি দিয়েছিলো : নূরলদীন।
- সৈয়দ শামসুল হকের 'নূরলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্যে এই উক্তিটি রয়েছে।

• 'নূরলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্য:
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য নূরলদীনের সারা জীবন।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নূরলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
দ্বিজেন্দ্রলালের গানগুলো কী নামে পরিচিতি লাভ করে?
  1. দ্বিজেন্দ্রগীতি
  2. লোকগীতি
  3. দ্বিজুবাবুর গান
  4. ক এবং গ
ব্যাখ্যা
• দ্বিজেন্দ্রলালের সঙ্গীত: 
- উনিশ শতকের শেষদিকে এবং বিশ শতকের প্রথমদিকে বাংলা গানের আধুনিকীকরণে যে পঞ্চ গীতিকবি বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন, দ্বিজেন্দ্রলাল তাঁদের অন্যতম।
- রবীন্দ্রযুগে বাংলা কাব্যসঙ্গীতে বিভিন্ন ধারা প্রয়োগ ও  আধুনিক গান রচনায় তিনি ছিলেন একজন সার্থক রূপকার।
- নাটক রচনা ও পরিচালনায় তাঁর অসামান্য অবদান থাকলেও তিনি সঙ্গীতকার হিসেবেও সুপরিচিত ছিলেন।
- বিভিন্ন বিষয়ে তিনি প্রায় পাঁচশত গান রচনা করেন।
- প্রথমদিকে তাঁর গান ‘দ্বিজুবাবুর গান’ নামে পরিচিতি ছিল; পরবর্তীকালে তা ‘দ্বিজেন্দ্রগীতি’ নামে পরিচিত হয়।
- তাঁর প্রথম গীতসংকলন আর্য্যগাথা (প্রথম ভাগ) ১৮৮২ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
আলাউদ্দিন আল আজাদের কোন উপন্যাসের বিষয়বস্তু অবলম্বনে 'বসুন্ধরা' নামে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে?
  1. কর্ণফুলী
  2. তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
  3. ক্ষুধা ও আশা
  4. স্বপ্নশিলা
ব্যাখ্যা
• 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র উপন্যাসটি আলাউদ্দিন আল আজাদের প্রথম উপন্যাস। 
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (পরিচালক: সুভাষ দত্ত) উপন্যাস অবলম্বনে বসুন্ধরা চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে।
- নির্মিত চলচ্চিত্রটি ১৯৭৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।
----------------------------
• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন  শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি  ১৯৩২ সালের  ৬ মে , নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মসমূহ:

 • উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র, 
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন, 
- কর্ণফুলী, 
- ক্ষুধা ও আশা, 
- খসড়া কাগজ, 
- স্বপ্নশিলা, 
- বিশৃঙ্খলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০.
'নাট্যাচার্য' হিসাবে খ্যাত -
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সেলিম-আল-দীন
  4. মামুনুর রশীদ
ব্যাখ্যা
সেলিম আল দীন:
- তিনি ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা নাটকে নতুন ধারার প্রবর্তক নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন।
- ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ডাকসু নাট্যচক্র তাঁর লেখা 'এক্সপ্লোসিভ ও মূল সমস্যা' মঞ্চস্থ করলে নাট্যকার হিসেবে সেলিম আল দীন সবার পরিচিতি পান।
- ২০০৭ সালে একুশে পদকে ভূষিত করা হয় তাকে।

সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১.
'শাশ্বত বঙ্গ' এর লেখক কে?
  1. কাজী মোতাহার হোসেন
  2. কাজী ইমদাদুল হক
  3. এস ওয়াজেদ আলী
  4. কাজী আবদুল ওদুদ
ব্যাখ্যা
• শাশ্বত বঙ্গ:
- কাজী আবদুল ওদুদ রচিত ‘শাশ্বত বঙ্গ’ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক ইতিহাসের বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য একটি গ্রন্থ।
- একটি কবিতাসহ ৭৫টি প্রবন্ধ নিয়ে সংকলিত হয় এ গ্রন্থ।
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় বাংলা ১৩৫৮ সনে, কলকাতা থেকে।
- কাজী আবদুল ওদুদ রচিত নবর্পয্যায় (১ম ও ২য় খণ্ড), রবীন্দ্রকাব্য পাঠ, সমাজ ও সাহিত্য, হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ, আজকার কথা, নজরুল প্রতিভা, স্বাধীনতা-দিনের উপহার প্রভৃতি গ্রন্থের নির্বাচিত প্রবন্ধ এবং অপ্রকাশিত কিছু প্রবন্ধ নিয়ে গ্রন্থ আকারে ‘শাশ্বত বঙ্গ’ সংকলিত হয়।

--------------------------------
কাজী আবদুল ওদুদ:
- কাজী আবদুল ওদুদ একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৬ এপ্রিল ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ধারায় কাজী আবদুল ওদুদের প্রধান পরিচয় চিন্তাশীল লেখক হিসেবে। তবে তাঁর লেখালেখি শুরু হয় কথাসাহিত্যের মাধ্যমে।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ মীর পরিবার পাঁচটি গল্পের সংকলন।
- এরপর তিনি তিনটি গল্প রচনা করেন যা পরবর্তী সময়ে তরুণ (১৯৪৮) গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হয়।
- নদীবক্ষে ও আজাদ (১৯৪৮) তাঁর দু’টি উপন্যাস।
- নাটকও রচনা করেন দু’টি ‘পথ ও বিপথ’ (১৯৩৯) এবং ‘মানব-বন্ধু’। মানব-বন্ধু পরবর্তীকালে তরুণ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২.
'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থের সর্বশেষে কবিতার নাম কী?
  1. দরিয়ার শেষরাত্রি
  2. সাত সাগরের মাঝি
  3. পাঞ্জেরী
  4. সিন্দাবাদ
ব্যাখ্যা
• ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ: 
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরী, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩.
মুনীর চৌধুরী কোন শহরে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. মুন্সিগঞ্জ
  2. মানিকগঞ্জ
  3. ঢাকা
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- ‘মুনীর অপটিমা’ তাঁর উদ্ভাবিত বাংলা টাইপ-রাইটিং।

• মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- মানুষ,
- দণ্ডকারণ্য।

• অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪.
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য মৃত্যুবরণ করেন -
  1. ১৯২৬ সালে
  2. ১৯৪১ সালে
  3. ১৯৪৭ সালে
  4. ১৯৪৩ সালে
ব্যাখ্যা
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫.
‘তপস্বী ও তরঙ্গিণী’ নাটক এর রচয়িতা কে?
  1. বিষ্ণু দে
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
‘তপস্বী ও তরঙ্গিণী’ নাটক:
• ‘তপস্বী ও তরঙ্গিণী’ চার অঙ্কে বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি নাটক।
• “তপস্বী ও তরঙ্গিণী” 'দেশ' পত্রিকার এপ্রিল, ১৯৬৬-র পাঁচটি সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিলো।
• 'দেশ'-এ প্রকাশের পরে একাধিক পাঠক একটি আপত্তি জানিয়ে চিঠি লিখেছিলেন। তাঁদের মতে ঋষ্যশৃঙ্গের উপাখ্যান ত্রেতা যুগের, আর সত্যবতী, কুন্তী ও দ্রৌপদীর কাল পরবর্তী দ্বাপর যুগ; অতএব অংশুমান ও রাজপুরোহিতের মুখে সত্যবতী ইত্যাদির উল্লেখ বসিয়ে আমি বুদ্ধদেব বসু ভুল করেছেন।

এ বিষয়ে বুদ্ধদেব বসু বলেন-
'ত্রেতা' ও 'দ্বাপর' যুগের ঐতিহাসিক যাথার্থ্য কতখানি, সে-বিষয়ে আলোচনা বাহুল্য; তবে পণ্ডিতমহলে এ-কথা স্বীকৃত যে ঋষ্যশৃঙ্গ-উপাখ্যান ইন্দো-য়োরোপীয় জাতিসমূহের একটি প্রাচীনতম পুরাণ; তাই আমার মানতে বাধে না যে তথ্যের দিক থেকে পূর্বোক্ত পত্রলেখকেরা ভ্রান্ত নন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘তপস্বী ও তরঙ্গিণী’ নাটক।