পরীক্ষা আর্কাইভ

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি

পরীক্ষাGKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৪ টপিক: বাংলায় ইংরেজ শাসনের সূচনা, ইংরেজ শাসনামলে বাংলায় প্রতিবাদ বিভিন্ন আন্দোলন ও সংস্কার, বাংলার স্বাধিকার আন্দোলন [Live Class - 5, 6 & 7 ক্লাস মেন্টর: নিশাত রায়হান অমনি]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
হুগলিতে ইংরেজদের প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপনের অনুমতি দেন কে?
  1. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  2. সুবেদার শাহ সুজা
  3. রাজা দ্বিতীয় চার্লস
  4. সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা

ইংরেজদের আগমন ও ক্ষমতা বিস্তার
- পর্তুগিজ ও ওলন্দাজ বণিকদের সাফল্য ও ভারতের ধন-সম্পদ ইংরেজদের আগ্রহ বাড়ায়।
- ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি রানী এলিজাবেথের ১৫ বছরের সনদ পেয়ে ভারত এসে বাণিজ্য শুরু করে।
- ১৬১২ খ্রিস্টাব্দে মুম্বাই নিকট সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন।
- সার টমাস রো জাহাঙ্গীরের দরবারে এসে বাণিজ্যের সুবিধা আদায় করে ১৬১৫ খ্রিস্টাব্দে।
- ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দে জলপথে হুগলিতে আগমন, ১৬৫১ সালে সুবেদার শাহ সুজার অনুমতি নিয়ে কুঠি নির্মাণ।
- রাজা দ্বিতীয় চার্লস কোম্পানিকে মুম্বাই ইজারা দেন ১৬৬৮ খ্রিস্টাব্দে।
- ১৬৯০ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা, সূতানটি ও গোবিন্দপুরের জমিদারী স্বত্ব (১২০০ টাকা) ক্রয়।
- ১৭১৭ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট ফররুখশিয়ার অনুমতি দেন- বাংলা, মাদ্রাজ ও মুম্বাইয়ে বিনা শুল্কে বাণিজ্য।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) ইতিহাস ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
দ্বৈত শাসনের সময় রাজস্ব প্রশাসন কার হাতে ছিল?
  1. নবাবের
  2. কোম্পানির
  3. সম্রাটের
  4. স্থানীয় জমিদারের
ব্যাখ্যা

দ্বৈত শাসন ও ছিয়াত্তরের মন্বন্তর:
- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে রবার্ট ক্লাইভ বাংলায় দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
-  দ্বৈত শাসনের মূল ধারা:
• রাজস্ব প্রশাসন ও দেশ রক্ষা: কোম্পানির হাতে।
• প্রশাসন ও বিচার বিভাগ: নবাবের হাতে।
- দ্বৈত শাসনের কারণে জনজীবনে অরাজকতা দেখা দেয়।
- অবাধ লুণ্ঠন ও অতিরিক্ত কর আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়।
- নবাব পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় ব্যর্থ হন।
- সারাদেশে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা শুরু হয়।
- এর ফলে ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ (ছিয়াত্তরের মন্বন্তর) ঘটে।
- দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মারা যায়।
- ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

.
বক্সারের যুদ্ধে কে পরাজিত হন?
  1. মীর জাফর
  2. মীর কাসিম
  3. সিরাজউদ্দৌলা
  4. সুজাউদ্দৌলা
ব্যাখ্যা

বক্সারের যুদ্ধ:
- বক্সারের যুদ্ধে মীর কাসিম পরাজিত হন।
- ১৭৬০ সালের ২০ অক্টোবর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মীর জাফরকে সরিয়ে মীর কাসিমকে নবাব হিসেবে বসায়।
- মীর কাসিম কোম্পানির শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে চেষ্টা করেন।
- ১৭৬৩ সালে নবাব ও ইংরেজদের মধ্যে বড় যুদ্ধ শুরু হয়।
- প্রধান যুদ্ধক্ষেত্র: কাটোয়া, ঘেরিয়া, মুর্শিদাবাদ, সুটি, উদয়নালা, মুঙ্গের।
- নবাব পরাজিত হয়ে পাটনায় পালিয়ে যান।
- পুনরুদ্ধারের চেষ্টা: অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা এবং মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাহায্য।
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সারে সংঘটিত বক্সারের যুদ্ধে নবাব ও সহায় বাহিনী ইংরেজদের কাছে পরাজিত হন। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্ষমতা লাভের পর সর্বপ্রথম কোন বিদ্রোহ সংঘটিত হয়?
  1. নীল বিদ্রোহ
  2. সিপাহী বিদ্রোহ
  3. ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
  4. সাঁওতাল বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা

ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ:
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্ষমতা লাভের পর সর্বপ্রথম সংঘটিত বিদ্রোহ ছিল ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ।
- ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের সময়কাল প্রায় ৪০ বছর (১৭৬০–১৮০০ খ্রিস্টাব্দ)।
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গে ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু হয়।
- বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা প্রথম ইংরেজবিরোধী বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে ফকির মজনু শাহ উত্তর বাংলায় ইংরেজবিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
- ১৭৭৭–১৮০০ খ্রিস্টাব্দে রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
- ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের তীব্রতা ছিল উত্তর বাংলায়।
- বিদ্রোহীরা বহু ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে এবং কোম্পানির বহু কুঠি লুট করে।
- ফকির মজনু শাহ গেরিলা যুদ্ধকৌশল অনুসরণ করতেন।
- ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর মুসা শাহ, সোবান শাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে ফকির–সন্ন্যাসী বিদ্রোহ চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

.
তিতুমীরের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলনের নাম কী?
  1. ফরায়েজি আন্দোলন
  2. সিপাহী বিদ্রোহ
  3. নীল বিদ্রোহ
  4. তাহরিক-ই মুহম্মদীয়া
ব্যাখ্যা

তিতুমীর:
- তিতুমীরের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলনের নাম তাহরিক-ই মুহম্মদীয়া।
- তিতুমীরের প্রকৃত নাম মীর নিসার আলী।
- তিনি চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- উত্তর ভারত ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের বারাসাত অঞ্চলে তিতুমীরের আন্দোলন শক্তিশালী রূপ লাভ করে।
- ওয়াহাবি আন্দোলন সৈয়দ আহমদ শহীদের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত ছিল।
- তিতুমীর হজ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কা শরিফে যান।
- তিনি ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে হজ শেষে দেশে ফিরে আসেন।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তিতুমীর তাঁর প্রধান ঘাঁটি স্থাপন করেন।
- তিনি ইতিহাসখ্যাত বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ সরকার তিতুমীর দমনে এক বিশাল ও সুশিক্ষিত সেনাবাহিনী প্রেরণ করে।
- মেজর স্কটের নেতৃত্বে ইংরেজ বাহিনী নারিকেলবাড়িয়ার বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করে।
এই যুদ্ধে তিতুমীর নিহত হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
‘ইয়াং বেঙ্গল’ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন কে?
  1. রামমোহন রায়
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা

ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট:
- ‘ইয়াং বেঙ্গল’ আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- ডিরোজিও ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ছিলেন পর্তুগিজ এবং মা ছিলেন বাঙালি।
- ডিরোজিও ইংরেজি শিক্ষার স্কুল ডেভিড ড্রামন্ডের ধর্মতলা একাডেমিতে পড়ালেখা শুরু করেন।
- ডেভিড ড্রামন্ডের আদর্শ ডিরোজিওকে শৈশব থেকে মৃত্যু পর্যন্ত গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
- বাঙালি যুব সমাজের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ‘ইয়াং বেঙ্গল’ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন ডিরোজিও।
- অল্প বয়সেই তিনি ইতিহাস, ইংরেজি, সাহিত্য ও দর্শনশাস্ত্রে গভীর জ্ঞানের অধিকারী হন।
- ডিরোজিওর উল্লেখযোগ্য অনুসারীদের মধ্যে ছিলেন রামতনু লাহিড়ী, রাধানাথ সিকদার, প্যারিচাঁদ মিত্র ও কৃষ্ণমোহন ব্যানার্জি।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর সরাসরি ছাত্র না হলেও ডিরোজিওর আদর্শ দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হন।
- ডিরোজিওর অনুসারীদের আন্দোলন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকেও প্রভাবিত করেছিল।
 
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

.
চাকমা বিদ্রোহের প্রধান কারণ কোনটি ছিল?
  1. ভূমি সংস্কার
  2. ধর্মীয় নিপীড়ন
  3. মুদ্রায় রাজস্ব দিতে বাধ্য করা
  4. নীল চাষ
ব্যাখ্যা

চাকমা বিদ্রোহ:
- চাকমা বিদ্রোহ সংঘটিত হয় ১৭৭৬–১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে।
- চাকমা বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন চাকমা রাজা জুয়ান (জোয়ান) বক্স খান।
- চাকমা রাজাকে মুদ্রায় রাজস্ব দিতে বাধ্য করা এই বিদ্রোহের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।
- পার্বত্য চট্টগ্রামে মুদ্রা অর্থনীতি চালু করার উদ্যোগ চাকমা বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটায়।
- ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে চাকমা জনগণ এই বিদ্রোহে অংশগ্রহণ করে।
- সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী জুয়ান বক্স ও রানু খান সম্পূর্ণ পাহাড়ি অঞ্চলকে কিছু সময়ের জন্য ব্রিটিশ শাসনমুক্ত করেন।
- চাকমা বিদ্রোহ পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ আদিবাসী প্রতিরোধ আন্দোলন ছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

.
ঈশ্বরচন্দ্র কত সালে, কোন প্রতিষ্ঠান থেকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি লাভ করেন?
  1. ১৮৩৫, হিন্দু কলেজ
  2. ১৮৩৯, সংস্কৃত কলেজ
  3. ১৮৪৫, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ১৮৫০, প্রেসিডেন্সি কলেজ
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- জন্ম: ২৬ সেপ্টেম্বর ১৮২০, বীরসিংহ গ্রাম, মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ।
- মৃত্যু: ২৯ জুলাই ১৮৯১, কলকাতা।
- পিতার নাম: ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, মাতার নাম: ভগবতী দেবী।
- উপাধি: “বিদ্যাসাগর”, ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ থেকে প্রাপ্ত।
- পেশা: শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারক।

• সমাজ সংস্কার কার্যক্রম:
- বিধবা বিবাহ আইন (১৮৫৬) প্রবর্তনের অন্যতম উদ্যোক্তা।
- বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
- নারী শিক্ষার প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন: নদিয়া, হুগলি, বর্ধমান, মেদিনীপুরে স্কুল স্থাপন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

.
পাঁচসালা বন্দোবস্ত চালু হয় কত সালে?
  1. ১৭৬৫ সালে
  2. ১৭৭২ সালে
  3. ১৭৮৯ সালে
  4. ১৭৯৩ সালে
ব্যাখ্যা

পাঁচসালা বন্দোবস্ত:
- প্রবর্তন: ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দ।
- প্রবর্তক: গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস।
- উদ্দেশ্য: রাজস্ব আদায় ব্যবস্থা সংস্কার।
- মেয়াদ: ৫ বছর।
- জমি ইজারা দেওয়া হতো সর্বোচ্চ দরদাতাকে।
- জমিদাররা কৃষকদের ওপর অতিরিক্ত খাজনা আরোপ করত।
- কৃষি ও জমির উন্নয়নে কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
- ব্যর্থতার ফলে একসালা বন্দোবস্ত চালু হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৭৮৯ সালে কর্নওয়ালিস দশসালা বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- পরবর্তীতে ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কার্যকর হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
সিপাহী বিদ্রোহের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড রিপন
  3. লর্ড কর্নওয়ালিস
  4. লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা

সিপাহী বিদ্রোহ:
- সিপাহী বিদ্রোহ সংঘটিত হয় ১৮৫৭ সালে।
- এটি ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম।
- সংঘটনের সময়: পলাশী যুদ্ধের প্রায় ১০০ বছর পর।
- নেতৃত্ব: প্রধানত সিপাহীরা (উত্তর ও পূর্ব ভারতে বিস্তৃত)।
- ব্যারাকপুরে প্রথম বিদ্রোহ করেন: মঙ্গল পাণ্ডে।
- সিপাহী বিদ্রোহের প্রথম শহীদ: মঙ্গল পাণ্ডে।
- বিদ্রোহকালীন গভর্নর জেনারেল: লর্ড ক্যানিং।
- ফলাফল: ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান।
- কোম্পানি শাসনের অবসান কার্যকর: ১৮৫৮ সালে (ভারত শাসন আইন)।
- স্মৃতিবিজড়িত স্থান: বাহাদুর শাহ পার্ক।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
'জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থি'- ঘোষণা করেন কে?
  1. তিতুমীর
  2. হাজী শরীয়তুল্লাহ
  3. দুদু মিয়া
  4. ফকির মজনু শাহ
ব্যাখ্যা

দুদু মিয়া:
- হাজী শরীয়তুল্লাহর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র দুদু মিয়া ফরায়েজী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।
- তিনি ধর্মীয় সংস্কারমূলক এ আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ দেন।
- “জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থি” ঘোষণা করেন দুদু মিয়া।

উল্লেখ্য,
- হাজী শরীয়তুল্লাহ একটি ইসলামী সংস্কার আন্দোলনের ডাক দেন।
- ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দে মাদারীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন হাজী শরীয়তুল্লাহ।
- ফরায়েজী আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র ছিল ফরিদপুর জেলায় এবং তার নেতৃত্বে এটি শুরু হয়।
- আল্লাহ কর্তৃক নির্দেশিত অবশ্য পালনীয় ধর্মীয় কর্তব্যসমূহকে ফরজ বলা হয়।
- শরীয়তুল্লাহ মুসলমানদের স্থানীয় লোকাচার পালনের বিরোধী ছিলেন।
- ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে।
- অবশ্য পালনীয় ধর্মীয় কর্তব্যসমূহকে কার্যকর করতে হাজী শরিয়তউল্লাহ ফরায়েজি মতাদর্শ প্রতিষ্ঠিত করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রথমপত্র, মো. মোজাম্মেল হক।

১২.
পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিপক্ষে ছিল কে?
  1. মোহনলাল
  2. মীরমদন
  3. জগতশেঠ
  4. সিনফ্রে
ব্যাখ্যা

পলাশীর যুদ্ধ (১৭৫৭):
- সংঘটিত হয়: ২৩ জুন ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দ।
- স্থান: ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগান।
- পক্ষসমূহ: নবাব সিরাজউদ্দৌলা বনাম ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
- ইংরেজ বাহিনীর নেতৃত্ব: রবার্ট ক্লাইভ।
- নবাবের পক্ষে ছিলেন: মীরমদন, মোহনলাল, ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে।
- নবাবের পরাজয়ের প্রধান কারণ: মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা।
- ফলাফল: সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু।
- বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম হয়।
- মীরজাফর বাংলার নবাব নিযুক্ত হন।
- ক্ষমতা থাকে রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
- ইংরেজরা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ লাভ করে।

উল্লেখ্য,
- জগৎ শেঠ বাংলার অত্যন্ত ধনী ব্যাংকার ফতেহ চাঁদকে আঠারো শতকের প্রথমার্ধে ‘জগৎ শেঠ’ বা বিশ্বের ব্যাংকার উপাধি প্রদান করা হয়।
- তিনি ও তার সম্পর্কিত ভাই মহারাজা স্বরূপ চাঁদ নওয়াব আলীবর্দী খান এর সময়ে অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিলেন।
- আলীবর্দীর উত্তরাধিকারী সিরাজউদ্দৌলা এ পরিবারের দুভাইকে বৈরী করে তোলেন।
- ফলে তারা তার বিরুদ্ধে ইংরেজদের সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন এবং পলাশীর যুদ্ধ এর আগে ও পরে তাদেরকে বিপুল অর্থ দিয়ে সাহায্য করেন।
- বাংলার জনগণ বিশ্বাস করে যে, জগৎ শেঠের অর্থ আর ইংরেজদের তলোয়ার মিলে বাংলায় মুসলিম শাসনের পতন ঘটিয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১৩.
যশোর অঞ্চলে নীল বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন কে?
  1. বৈদ্যনাথ ও বিশ্বনাথ সর্দার
  2. নবীন মাধব ও বেণী মাধব
  3. মেঘনা সর্দার
  4. মঙ্গল পাণ্ডে
ব্যাখ্যা

নীল বিদ্রোহ:
- সূচনা: ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দ।
- কারণ: ইংরেজ নীলকরদের সীমাহীন অত্যাচার, শোষণ ও বঞ্চনা।
- নেতৃত্ব: স্থানীয় সাধারণ কৃষকরা।
- যশোর অঞ্চলে নেতৃত্ব: নবীন মাধব ও বেণী মাধব।
- হুগলিতে নেতা: বৈদ্যনাথ সর্দার ও বিশ্বনাথ সর্দার।
- নদীয়ায় নেতা: মেঘনা সর্দার।
- নেতৃত্বের প্রভাব: এতটাই শক্তিশালী যে ইংরেজরা নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়।
- ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে গঠন: ‘ইন্ডিগো কমিশন’ (নীল কমিশন)।
- কমিশনের সুপারিশ: নীলচাষ করা বা না করা কৃষকের ইচ্ছার উপর নির্ভর করবে।
- আইন সংশোধন: ‘ইন্ডিগো কন্ট্রাক্টস অ্যাক্ট’ বাতিল।
- ফলাফল: নীল বিদ্রোহের অবসান। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪.
ভারতবর্ষে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করেন কে?
  1. রামমোহন রায়
  2. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
  3. লর্ড ডালহৌসি
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

সতীদাহ প্রথা: 
- সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করেন: লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক।
- গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন: রামমোহন রায়।
- আইন পাসের বছর: ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দ।
- আইন: "রেগুলেশন XVII"।
- আইনের বিষয়বস্তু: হিন্দু বিধবা নারীদের জীবন্ত দাহ বা সতীদাহ প্রথা বেআইনি ঘোষণা।
- লর্ড বেন্টিঙ্কের দৃষ্টিভঙ্গি: মানবহিতৈষী সংস্কারপন্থী।
- প্রভাব: সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ ও সমাজে সংস্কার।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৫.
নওয়াব আব্দুল লতিফকে প্রথমে কোন উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
  1. নওয়াব
  2. খান বাহাদুর
  3. নওয়াব বাহাদুর
  4. লর্ড
ব্যাখ্যা

নওয়াব আব্দুল লতিফ:
- তিনি ১৮২৮ সালে ফরিদপুর জেলার রাজাপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে তাঁর কৃতিত্বের জন্য সরকার তাঁকে প্রথমে ‘খান বাহাদুর’, পরে ‘নওয়াব’ এবং ‘নওয়াব বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দ: আয়োজন করেন ‘মুসলমান ছাত্রদের পক্ষে ইংরেজি শিক্ষার সুফল’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতা।
- শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান: কোলকাতা মাদরাসায় অ্যাংলো-পার্সিয়ান বিভাগ খোলার প্রচেষ্টা।
- সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদান: ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি বা মুসলিম সাহিত্য সমাজ প্রতিষ্ঠা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১৬.
উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. লর্ড কর্নওয়ালিস
  2. রবার্ট ক্লাইভ
  3. ওয়ারেন হেস্টিংস
  4. লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা

রবার্ট ক্লাইভ:
- রবার্ট ক্লাইভ উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা।
- কর্মজীবন শুরু: তরুণ বয়সে মাদ্রাজে (বর্তমান চেন্নাই) ঈস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে চাকরি গ্রহণ।
- অবদান: স্বীয় প্রচেষ্টায় উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠা।
- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ: এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষর (সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সঙ্গে)।
- চুক্তির ফলাফল: বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ; দ্বৈত শাসন প্রবর্তন।
- চারিত্রিক দোষ থাকা সত্ত্বেও: ইংরেজ শক্তির গোড়াপত্তনে অবদান অপরিসীম।
- পদবী/সম্মান: উপমহাদেশে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্থপতি ও প্রতিষ্ঠাতা।
- কৌশল: প্রথমে দাক্ষিণাত্যে কোম্পানি রক্ষা, দ্বিতীয় পর্যায়ে বাংলা জয়, তৃতীয় পর্যায়ে নবাব ও সম্রাট নিয়ন্ত্রণ।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
অধীনতামূলক মিত্রতানীতি প্রবর্তন করেন কে?
  1. রবার্ট ক্লাইভ
  2. ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. লর্ড কর্নওয়ালিস
  4. লর্ড ওয়েলেসলি
ব্যাখ্যা

লর্ড ওয়েলেসলি:
- গভর্নর হিসেবে কার্যভার গ্রহণ: ১৭৯৮ খ্রিস্টাব্দ।
- প্রবর্তিত নীতি: অধীনতামূলক মিত্রতানীতি।
- শাসন দৃষ্টিভঙ্গি: রাজ্য শাসনের পরিবর্তে রাজ্য বিস্তার ও সাম্রাজ্য সম্প্রসারণে আগ্রহী।
- রাজ্য শাসনে অবদান: নিতান্তই সামান্য।
- সংস্কার: কৃষি ও বিচার ব্যবস্থায় কিছু সংস্কার।
- জমি জরিপের জন্য নিযুক্ত: ড. ফ্রান্সিস বুকানন।
- তথ্য সংগ্রহ: কৃষি সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ।
- শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান: কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে নবাগত ইংরেজ কর্মচারিদের জন্য কলেজ প্রতিষ্ঠা।
- লক্ষ্য: প্রশাসন ও সাম্রাজ্য সম্প্রসারণের সমন্বয়।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮.
দিনেমার কাদের বলা হয়?
  1. ফরাসী অধিবাসীদের
  2. হল্যান্ডের অধিবাসীদের
  3. ডেনমার্কের অধিবাসীদের
  4. পর্তুগালের অধিবাসীদের
ব্যাখ্যা

দিনেমার:
- দিনেমার বলা হয় ডেনমার্কের অধিবাসীদের।
- দিনেমারগণ উপমহাদেশে বাণিজ্য করার জন্য ‘দিনেমার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে ১৬১৬ খ্রিস্টাব্দে।
- তাদের বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে দক্ষিণ ভারতের ত্রিবাঙ্কুরে ও কলকাতার শ্রীরামপুরে।

অন্যদিকে,
- ওলন্দাজ বা ডাচ বলা হয় হল্যান্ডের অধিবাসীদের।
- ওলন্দাজরা জলপথে উপমহাদেশে আসে ১৬০২ খ্রিস্টাব্দে।
- বাণিজ্যে আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে হল্যান্ডের একদল বণিক ‘ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে।
- কালিকট, নাগাপট্টম, বাংলার চুঁচুড়া ও বাঁকুড়ায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করে।

উৎস: ইতিহাস,প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯.
হান্টার কমিশন গঠনের সময় তৎকালীন ভাইসরয় কে ছিলেন?
  1. লর্ড ক্যানিং
  2. লর্ড কর্নওয়ালিস
  3. লর্ড ডালহৌসি
  4. লর্ড রিপন
ব্যাখ্যা

হান্টার কমিশন:
- ১৮৫৪ সালে উডের ডেসপ্যাচে প্রাথমিক ও দেশজ শিক্ষার উন্নতি উল্লেখিত হলেও উচ্চশিক্ষা ও সরকারি স্কুল-কলেজে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- এর ফলে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নতি একেবারেই হয় না।
- তাই সরকার প্রথমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নতি সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করেন।

• হান্টার কমিশন গঠন:
- তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড রিপন ২০ জন সদস্য নিয়ে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেন।
- এটি গঠন করা হয় ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দের ৩রা ফেব্রুয়ারি।
- এটি প্রথম "ভারতীয় শিক্ষা কমিশন” নামে পরিচিত।
- এই কমিশন স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টারের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল বলে একে "হান্টার কমিশন” বলা হয়।
- স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টার ছিলেন এই কমিশনের সভাপতি।
- অন্যান্য সদস্যরা হলেন আনন্দমোহন বসু, কে.টি. তেলাং, ভূদেব মুখোপাধ্যায়, স্যার সৈয়দ আহমদ খান প্রমুখ।
- প্রাথমিক শিক্ষা ও নিরক্ষরতা বিষয়ে এই কমিশনকে বিশেষভাবে বিচার করার কথা বলা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২০.
স্বদেশী আন্দোলনের প্রধান নেতা কে ছিলেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. রজণীকান্ত সেন
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা

স্বদেশী আন্দোলন:
- এটি ছিলো একটি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন।
- ১৯০৫ সালে ব্রিটিশরা বাংলাকে ভেঙ্গে দুটি প্রদেশ তৈরি করে (বঙ্গভঙ্গ)।
- বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতার অংশ হিসেবে স্বদেশী আন্দোলন শুরু হয়।
- এই আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য: বিলেতি পণ্য বর্জন।
- পরবর্তীতে বিলেতি শিক্ষা বর্জনও আন্দোলনের অংশ হয়।
- স্বদেশী আন্দোলনের প্রধান নেতা: সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।
- কংগ্রেস নেতারা গ্রামে-গঞ্জে-শহরে প্রকাশ্য সভায় বিলেতি পণ্য পুড়িয়ে ফেলে।
- বাংলার নিজস্ব শিল্প ও কারখানা গঠন (তাঁত, সাবান, লবণ, চিনি, চামড়ার দ্রব্য)।
- বিলেতি শিক্ষা বর্জনের কারণে নতুন জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।
- এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাংলা ভাষায় বাঙালি জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধকারী শ্রেষ্ঠ দেশাত্মবোধক গানগুলো রচনা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এবং রজণীকান্ত সেন প্রমুখ।
- আমাদের জাতীয় সঙ্গীত 'আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি' গানটি রবীন্দ্রনাথ ঐ সময় রচনা করেন।
- তবে মুসলমানরা বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ছিলো, তাই তারা স্বদেশী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়নি।
- যার কারণে স্বদেশী আন্দোলনের ফলে বাংলার হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কের অবনতি হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।