পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন২২
সিলেবাস
বাংলাবিদ ব্যাকরণ: পরীক্ষা – ১২ টপিক: বাংলা ব্যাকরণ (সম্পূর্ণ সিলেবাস) [লাইভ ক্লাস - ১ থেকে ৩৯]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · ২২ প্রশ্ন

.
ভাষার ক্ষুদ্রতম উপাদান হলো-
  1. শব্দ
  2. বাক্য
  3. অর্থ
  4. ধ্বনি
ব্যাখ্যা
• ভাষা হলো বাক্যের সমষ্টি।
- বাক্য গঠিত হয় শব্দ দিয়ে।আবার শব্দ তৈরি হয় ধ্বনি দিয়ে। এদিক থেকে ভাষার ক্ষুদ্রতম উপাদান হলো ধ্বনি।
- এই ধ্বনি, শব্দ, বাক্য প্রত্যেকটি অংশই ব্যাকরণের আলোচ্য।
- এছাড়া শব্দের ও বাক্যের বহু ধরনের অর্থ হয়।
- সেসব অর্থ নিয়েও ব্যাকরণে আলোচনা করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
.
নিচের কোন বানানটি সঠিক?
  1. কিংবদন্তী
  2. চীৎকার
  3. বর্ণালী
  4. সঙ্গী
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- শুদ্ধ বানান- সঙ্গী।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

অর্থ:
- যে সঙ্গে থাকে,
- সহচর;
- বন্ধু।

অন্যদিকে,
- ”কিংবদন্তী” শব্দের শুদ্ধরূপ= কিংবদন্তি।
- ”চীৎকার” শব্দের শুদ্ধরূপ= চিৎকার। 
- ”বর্ণালী” শব্দের শুদ্ধরূপ= বর্ণালি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. উপকারীতা
  2. উপযোগীতা
  3. কুমারীত্ব
  4. অলস্যতা
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- শুদ্ধ বানান- কুমারীত্ব।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

অর্থ:
- অবিবাহিতা অবস্থা।

অন্যদিকে,
- ”উপকারীতা” শব্দের শুদ্ধরূপ= উপকারিতা।
- ”উপযোগীতা” শব্দের শুদ্ধরূপ= উপযোগিতা
- ”অলস্যতা” শব্দের শুদ্ধরূপ= অলসতা।

উল্লেখ্য,
কোন শব্দের শেষে যদি ঈ-কার থাকে, ঐ শব্দের শেষে যদি ”তা” প্রত্যয় যোগ করা হয় তাহলে ঈ-কার পরিবর্তে ই-কার হবে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
নিচের কোন বানানটি সঠিক?
  1. ভুলণ্ঠিত
  2. ভূলুণ্ঠিথ
  3. ভূলুণ্ঠিত
  4. ভূলুন্ঠিত
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- শুদ্ধ বানান- ভূলুণ্ঠিত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

অর্থ:
- মাটি বা ধুলায় পড়ে গড়াগড়ি করছে এমন।

উল্লেখ্য,
- ট- বর্গের ট, ঠ, ড, ঢ- এই চারটি বর্ণের পর যুক্তবর্ণ তৈরিতে সর্বদা মূর্ধন্য ণ হবে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা-শিক্ষা,  ড. হায়াৎ মামুদ।
.
নিচের কোন শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য-ষ হয়?
  1. ভাষ্য
  2. অদৃষ্ট
  3. কৃষ্ণ
  4. বর্ষ
ব্যাখ্যা
• কোন নিয়ম ছাড়াই, স্বভাবতই মূর্ধন্য-ষ হয় = ”ভাষ্য” শব্দে।

অন্যদিকে,
• ট, ঠ - এই দুইটি মূর্ধন্য বর্ণের পূর্বে সর্বদা ”ষ” হবে। (যুক্তাক্ষরের রূপ হবে (ষ্ট/ষ্ঠ)।
যেমন-
- অদৃষ্ট, অনাবৃষ্টি, আকৃষ্ট, অন্তর্দৃষ্ট, ইত্যাদি।

• ঋ বা ঋ - কারের পরে মূর্ধন্য-ষ হবে।
যেমন- কৃষ্ণ।

• রেফ-এর পর মূর্ধন্য-ষ হবে।
যেমন: বর্ষ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা,  ড. হায়াৎ মামুদ।
.
”ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন” ধ্বনির উদাহরণ কোনটি?
ব্যাখ্যা
”ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন” ধ্বনির উদাহরণ= ভ।

উল্লেখ্য,
• ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত।
 যেমন:
- প, ফ, ব, , ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
জ,  তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির  উদাহরণ।
ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
.
”কনকচাঁপা” কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ= কনকচাঁপা।

কর্মধারয় সমাস:
- যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন
- গোলাপ নামের ফুল = গোলাপফুল,
- যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।

উল্লেখ্য.
• কিছু কর্মধারয় সমাসের সমস্যমান পদে 'যে' যোজক থাকে।
যেমন
- খাস যে জমি = খাসজমি,
- চিত যে সাঁতার = চিতসাঁতার
- কনক যে চাঁপা = কনকচাঁপা,
- যে শান্ত সে শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
.
তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. চৌরাস্তা
  2. গ্রামছাড়া
  3. চন্দ্রমুখ
  4. ঝড়বৃষ্টি
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ: গ্রামছাড়া।

•  সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা,
- চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা,
- গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রামছাড়া,
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া।

অন্যদিকে,
• দ্বিগু কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ= চৌরাস্তা।
• উপমিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ= চন্দ্রমুখ।
• দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ= ঝড়বৃষ্টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
.
”পুনরুক্ত” শব্দের সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পূনঃ + উক্ত
  2. পুনঃ + উক্ত
  3. পুনঃ + উক্তি
  4. পুনঃ + ঊক্ত
ব্যাখ্যা
• অ-ধ্বনির সঙ্গে বিসর্গ এবং পরে অ, আ, উ-ধ্বনি থাকলে বিসর্গ ও অ-ধ্বনি মিলের হয়।
যেমন:
পুনঃ + অধিকার= পুনরধিকার
প্রাতঃ আশ = প্রাতরাশ
পুনঃ + আবৃত্তি = পুনরাবৃত্তি
পুনঃ + উক্ত = পুনরুক্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১০.
নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ কোনটি?
  1. সঞ্চয়
  2. পরিচ্ছেদ
  3. গোষ্পদ
  4. দিগন্ত
ব্যাখ্যা
• কিছু ব্যঞ্জনসন্ধি নিয়ম ছাড়া হয়, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।
যেমন
- গো+পদ = গোষ্পদ,
- এক+দশ = একাদশ,
- বৃহৎ+পতি = বৃহস্পতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ব্যঞ্জন ও ব্যঞ্জনে গঠিত শব্দ= সঞ্চয় ( সম্+চয়)।
- স্বর ও ব্যঞ্জনে গঠিত শব্দ= পরিচ্ছেদ (পরি+ছেদ)।
- ব্যঞ্জন ও স্বরে গঠিত শব্দ= দিগন্ত ( দিক্+অন্ত )।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১১.
”পরিশ্রান্ত” শব্দের ”পরি” উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষ
  2. সম্যক
  3. শেষ
  4. চতুর্দিক
ব্যাখ্যা
”পরিশ্রান্ত” শব্দের ”পরি” উপসর্গটি ”সম্যক” অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

এছাড়াও,
”পরি” উপসর্গটি অন্য যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়:

• ”বিশেষ” অর্থে: পরিপক্ক, পরিপূর্ণ, পরিবর্তন।
• ”শেষ” অর্থে: পরিশেষ।
• ”সম্যক” অর্থে: পরিশ্রান্ত, পরীক্ষা, পরিমাণ।
• ”চতুর্দিক” অর্থে: পরিভ্রমণ, পরিমণ্ডল।

উল্লেখ্য,
- ”পরি” একটি তৎসম উপসর্গ।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি, যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ,নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সালের সংস্করণ।
১২.
”শুনানি” শব্দের সঠিক প্রকৃত-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √শুণ + আনি
  2. √শুনা + অনি
  3. √শুন্ + আনি
  4. √শুন্ + আনী
ব্যাখ্যা
• ”আনি” - কৃৎ প্রত্যয় যোগে শব্দ গঠন: 
যেমন-
- √জান্ + আনি  = জানানি,
- √শুন্ + আনি = শুনানি,
- √উড় + আনি = উড়ানি। 

উল্লেখ্য,
- ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি।ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।
যেমন- চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন (বিশেষ্য পদ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।
১৩.
তদ্ধিত প্রত্যয় সধিত শব্দ কোনটি?
  1. ডুবুরী
  2. বাঁদরামি
  3. চিরুনি
  4. আঁটুনি
ব্যাখ্যা
• আমি/আম/আমো/মি- তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে শব্দ গঠন:

- ইতর + আমি = ইতরামি,
- পাগল + আমি = পাগলামি,
- চোর + আমি = চোরামি,
- বাঁদর + আমি = বাঁদরামি,
- ফাজিল + আমো =ফাজলামো।

অন্যদিকে,
• আরি বা আরী বিকল্পে রি/উরি- কৃৎ প্রত্যয় যোগে বাংলা শব্দ গঠন:
যেমন
√ ডুব্‌+আরি/ উরি = ডুবুরী।

• অনি, (বিকল্পে) উনি - কৃৎ প্রত্যয় যোগে বাংলা শব্দ গঠন:
√চির্+অনি = চিরনি >চিরুনি। 
√আঁট+অনি = আঁটনি > আঁটুনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।
১৪.
'অপরাজেয় বাংলা' কোন জাতীয় নাম-বিশেষ্য?
  1. কালনাম
  2. সৃষ্টিনাম
  3. স্থাননাম
  4. ব্যক্তিনাম
ব্যাখ্যা
• নামবাচক-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন
• ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
• স্থাননাম: ঢাকা,বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা, মেঘনা।
• কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
• সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১৫.
”এই দিনে সে এসেছিল” - বাক্যটিতে 'এই' কোন জাতীয় বিশেষণ?
  1. অবস্থাবাচক
  2. নির্দিষ্টতাবাচক
  3. পূরণবাচক
  4. ভাববাচক
ব্যাখ্যা
”এই দিনে সে এসেছিল” - বাক্যটিতে 'এই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।
-------------------------
• নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন -
- এই দিনে, সেই সময় এখানে 'এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।

উল্লেখ্য,
- যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন
সুন্দর ফুল,
বাজে কথা,
পঞ্চাশ টাকা,
হাজার সমস্যা,
তাজা মাছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১৬.
”খুব যে বলেছিলেন আসবেন!” - বাক্যটিতে কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  2. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
  3. ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
বাক্যেরমধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করলেও 'কি', 'যে', 'বা','না', 'তো' প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন
- আমি কি যাব?
- খুব যে বলেছিলেন আসবেন!

উল্লেখ্য,
- যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১৭.
”বিপদ এবং দুঃখ এক সময়ে আসে”- কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. মিশ্র বাক্য
  4. জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, অথবা, বা,কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (_) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- বিপদ এবং দুঃখ এক সময়ে আসে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫, ২০১৯ সালের সংস্করণ।
১৮.
”আমরা কঠোর পরিশ্রম করি” বাক্যটির কর্মবাচ্যরূপ কোনটি?
  1. আমাদের কঠোর পরিশ্রম করা লাগবে।
  2. আমার দ্বারা কঠোর পরিশ্রম হয়।
  3. আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।
  4. কঠোর পরিশ্রম আমাদের কাজ।
ব্যাখ্যা
• কর্তাবাচ্য: আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।
• কর্মবাচ্য: আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।
-----------------------------
• কর্মবাচ্য থেকে কর্তাবাচ্য রূপান্তর:
- কর্মবাচ্যের বাক্যকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে কর্তার সঙ্গে যুক্ত দ্বারা, দিয়ে,কর্তৃক প্রভৃতি অনুসর্গ বাদ দিতে হয় এবং ক্রিয়াকে কর্তার অনুসারী করতে হয়।
যেমন
- কর্মবাচ্য: প্রধানশিক্ষক কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হয়েছে।
- কর্তাবাচ্য: প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১৯.
নিচের কোনটি অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. ঝটাঝট
  2. ফটাফট
  3. ঝাঁকে ঝাঁকে
  4. ঝিকিমিকি
ব্যাখ্যা
অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
- এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায়দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।
- তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।

যেমন: এলোমেলো, ঝিকিমিকি, কচর-মচর, ঝিলমিল।

অন্যদিকে,
• ধ্বন্যাত্মকদ্বিত্ব এর উদাহরণ= ঝটাঝট, ফটাফট।
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব এর উদাহরণ= ,ঝাঁকে ঝাঁকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
২০.
"ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে” বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলো কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে সপ্তমী
  2. কর্মে শূন্য
  3. করণে শূন্য
  4. কর্মে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে” বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলো করণ কারকে সপ্তমী।
--------------------------------
• করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:

• প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি :
- ছাত্ররা বল খেলে।

• তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি:
মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন।

• সপ্তমী বিভক্তি বা এ বিভক্তি:
- ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।

উল্লেখ্য,
করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গযুক্ত হয়।
যেমন
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫, ২০১৯ সালের সংস্করণ।
২১.
”তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।” বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ অতীত
  2. ঘটমান অতীত
  3. পুরাঘটিত অতীত
  4. পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা
সাধারণ অতীত:
- অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বোঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।
যেমন
- তারা সেখানে বেড়াতে গেল।
- তখন বাতিটা জ্বলে উঠল

ঘটমান অতীত:
- যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- তারা মাঠে খেলছিল।

পুরাঘটিত অতীত:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
- খরবটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
২২.
নিচের কোনটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেনি?
  1. গণ্যনীয়
  2. বিবাদমান
  3. ঐক্যমত
  4. ঐকতান
ব্যাখ্যা
- বাংলা একাডেমি. আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
শুদ্ধবানান = ঐকতান।

অন্যদিকে,
• বাকি শব্দগুলো প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ জনিত অশুদ্ধ।

- ”গণ্যনীয়” শব্দের শুদ্ধরূপ = গণনীয়।
- ”বিবাদমান” শব্দের শুদ্ধরূপ = বিবদমান।
- ”ঐক্যমত” শব্দের শুদ্ধরূপ = ঐকমত্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা-শিক্ষা,  ড. হায়াৎ মামুদ।