পরীক্ষা আর্কাইভ

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি

পরীক্ষাGKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন
সিলেবাস
বাংলাদেশ বিষয়াবলি পরীক্ষা – ৬ বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলী প্রাচীনকাল হতে সমসাময়িক কালের ইতিহাস – ২ এবং ৩ [Live Class – 11 & 12]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি · তারিখ অনির্ধারিত · প্রশ্ন

.
কত বছর বয়সে সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে বসেন?
  1. ক) ১৩ বছর
  2. খ) ১৫ বছর
  3. গ) ১৭ বছর
  4. ঘ) ২৩ বছর
ব্যাখ্যা
• সিরাজউদ্দৌলা ২৩ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন।

- পলাশী যুদ্ধের কারণ ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলার নবাব আলীবর্দী খানের মৃত্যু হলে তার প্রিয় দৌহিত্র সিরাজউদ্দৌলা ২৩ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন।
- এসময় তাকে নানামুখি ষড়যন্ত্র ও সমস্যার মোকাবেলা করতে হয়। এর মধ্যে একটি পরিবারিক ষড়যন্ত্র।
- যা নবাব কৌশলে দমন করতে সক্ষম হন। কিন্তু পরিবারের বাইরেও ষড়যন্ত্রের আরেক জাল বিস্তৃত হতে থাকে।
- এর সঙ্গে জড়িত হয় দেশি-বিদেশি বণিক শ্রেণি, নবাবের দরবারের প্রভাবশালী রাজন্যবর্গ ও অভিজাত শ্রেণি, নবাবের সেনাপতি মীর জাফরসহ আরো অনেকে। এই ষড়যন্ত্রকারীরা পলাশী যুদ্ধের পটভূমি তৈরি করতে থাকে। 
- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাবের সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের যুদ্ধ হয়।
- এই যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ছিলেন দেশপ্রেমিক মীরমদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিন ফ্রে।
- জেতার সবধরণের সুযোগ সুবিধা এবং এদের প্রাণপাত লড়াইয়ের পরও নবাব পরাজিত হন তার সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
- এ যুদ্ধ পলাশীর যুদ্ধ নামে খ্যাত। 

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (৯ম-১০ম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
লর্ড কর্নওয়ালিস কত সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বা স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন?
  1. ক) ১৭৮৬ সালে
  2. খ) ১৭৯০ সালে
  3. গ) ১৭৯৩ সালে
  4. ঘ) ১৭৯১ সালে
ব্যাখ্যা
• লর্ড কর্নওয়ালিস ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বা স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। 

• চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পটভূমি:
- লর্ড কর্নওয়ালিসকে কোম্পানির শাসন দুর্নীতিমুক্ত ও সুসংগঠিত করতে ১৭৮৬ খ্রিস্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতের গভর্নর জেনারেল ও সেনা প্রধানের দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়।
- তিনি ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বা স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- ঐ বছর ২২ মার্চ নির্দিষ্ট রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর স্থায়ী মালিকানা দান করে যে ভূমি বন্দোবস্ত চালু করা হয় তাকেই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বলা হয়।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের আগে ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস রাজস্ব আদায়ের জন্য পাঁচসালা বন্দোবস্ত চালু করেন।
- জমি বন্দোবস্তের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকায় জমিদাররা অর্থ আদায়ের জন্য কৃষকদের প্রতি চরম নির্যাতন মূলক ব্যবস্থা নিতো। অথচ কৃষকের বা জমির উন্নয়নের প্রতি তাদের কোনো লক্ষ ছিল না। ফলে নির্যাতনের ভয়ে কৃষকরা জমি ছেড়ে পালিয়ে যেতো।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (৯ম-১০ম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
১৭৭০ সালের দুর্ভিক্ষে বাংলায় কত লোকের মৃত্যু ঘটে?
  1. ক) এক-তৃতীয়াংশ
  2. খ) এক-পঞ্চমাংশ
  3. গ) এক-চতুর্থাংশ
  4. ঘ) দুই-তৃতীয়াংশ
ব্যাখ্যা
• ১৭৭০ সালের দুর্ভিক্ষে বাংলায় এক-তৃতীয়াংশ লোকের মৃত্যু ঘটে। 

- ১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দে বক্সারের যুদ্ধে উপমহাদেশের তিন শক্তি দিল্লীর সম্রাট শাহ আলম, অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা, বাংলার নবাব মীর কাশিমের পরাজয় ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্ষমতা দখল এবং অর্থনেতিক শোষণের পথ খুলে দেয়।
- কোম্পানির ক্ষমতা লাভের আগেই এ অঞ্চলের ব্যবসায় বাণিজ্য শিল্পের ক্ষতি করে নিজেদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকে।
- দেশীয় শাসকদের দুর্বলতার সুযোগে কোম্পানির ক্ষমতা দখল, দেওয়ানি লাভ এ অঞ্চলের জনগণের জন্য চরম দুর্ভাগ্যের বার্তা বয়ে নিয়ে আসে।
- এর ফলে যে দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা চালু করা হয় তার ফল ভোগ করতে হয় জনগণকে।
- ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিদেশি কোম্পানির চরম অর্থনৈতিক শোষণে নিঃস্ব হয়ে যায় বাংলার বৃহত্তর জনগোষ্ঠি যারা কৃষি কার্যের সঙ্গে যুক্ত।
- ফলে ভেঙ্গে পড়ে কৃষি ব্যবস্থা, দেখা দেয় সারা বাংলা ব্যাপী ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।
- ইতিহাসে এই দুর্ভিক্ষ ছিয়াত্তরের মন্বান্তর নামে পরিচিত। যাতে মৃত্যুবরণ করে বাংলার একতৃতীয়াংশ মানুষ।
- কোম্পানির শোষণে, কোম্পানির স্বার্থে ধ্বংস করা হয় বাংলার বস্ত্রসহ অন্যান্য শিল্প। 
- কৃষি ব্যবস্থা ধ্বংস হওয়ার ফলে বাংলার অর্থনীতি পরিপূর্ণভাবে ভেঙ্গে পড়ে। 

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (৯ম-১০ম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নিচের কোনটি সমতট জনপদের রাজধানী ছিলো?
  1. ক) ত্রিপুরা
  2. খ) বড় কামতা
  3. গ) তাম্রলিপ্ত
  4. ঘ) পুন্ড্রনগর
ব্যাখ্যা
• বড় কামতা ছিলো সমতট জনপদের রাজধানী। 

• সমতট জনপদ: 
- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার প্রাচীন জনপদের নাম সমতট।
- প্রাচীন বঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্ব অংশের নতুন নামের আর একটি বিশাল রাজ্য।
- মধ্যবাংলার কিছু অংশ এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কিছু অংশ, বাংলাদেশের বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চল সমতট নামে পরিচিত ছিল।
- তবে ত্রিপুরাকে সমতটের প্রধান কেন্দ্র বলা হতো।
- সমতটের রাজধানী ছিল বড়কামতা। 

সূত্র: বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ স্টাডিজ, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।