পরীক্ষা আর্কাইভ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

পরীক্ষা৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশনতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়27 minutes
মোট প্রশ্ন৪২
সিলেবাস
৪৬তম বি.সি.এস. প্রস্তুতি - সাবজেক্ট ফাইনাল ও রিভিশন [রাউন্ড – ২] বিষয়ের নাম: বাংলা ব্যাকরণ সম্পূর্ণ [৮০ নাম্বার]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন · তারিখ অনির্ধারিত · ৪২ প্রশ্ন

.
অনুসর্গ এর ক্ষেত্রে সত্য?
  1. বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে
  2. কখনো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়
  3. কখনো কখনো স্বাধীনপদরূপে বসে
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ: 
- বাংলায় ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন  পদরূপে,
- আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে। 
- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সাথে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
যেমন:
- সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না।
- এ বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।

অনুসর্গকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- সাধারণ অনুসর্গ,
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
.
'যে বন হিংস্র জন্তুতে পরিপূর্ণ' এর এক কথায় প্রকাশ কী হবে?
  1. স্বাপদসংকুল
  2. অতলস্পর্শী
  3. শ্বাপদসংকুল
  4. অনিকেত
সঠিক উত্তর:
শ্বাপদসংকুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বাপদসংকুল
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'শ্বাপদসংকুল' শব্দের অর্থ - 'যে বন হিংস্র জন্তুতে পরিপূর্ণ'।

• 'যে বন হিংস্র জন্তুতে পরিপূর্ণ' এর এক কথায় প্রকাশ - 'শ্বাপদসংকুল'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
.
‘দশম শ্রেণি’ - এখানে 'দশম' কোন জাতীয় বিশেষণ?
  1. গুণবাচক
  2. পরিমাণবাচক
  3. ক্রমবাচক
  4. পূরণবাচক
সঠিক উত্তর:
পূরণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূরণবাচক
ব্যাখ্যা
• পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ:
- পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ দিয়ে কোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়।
- যেমন: 'এক' সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান 'প্রথম', প্রথমা, পহেলা ইত্যাদি। এগুলোকে পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ বলে।

• প্রকারভেদ:
• তারিখ পূরণবাচক:
- বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
- যথা: পহেলা বা পয়লা (১লা), দোসরা (২রা), তেসরা (৩রা), চৌঠা (৪ঠা), পাঁচই (৫ই), 
- তারিখবাচক শব্দের প্রথম চারটি অর্থাৎ ১ থেকে ৪ পর্যন্ত হিন্দি নিয়মে সাধিত হয়।
- বাকি গুলো বাংলার নিজস্ব নিয়মে গঠিত।

• সাধারণ পূরণবাচক:
- ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে।
- যেমন - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ বা এগারােতম ইত্যাদি।
- সাধারণ পূরণবাচক সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়। যেমন - ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম ইত্যাদি।

• ভগ্নাংশ পুরণবাচক শব্দ:
- কোনো পূর্ণসংখ্যা থেকে খানিকিটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়। 
যেমন: আধ, সাড়ে, সোয়া, পোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
.
যেসকল ব্যঞ্জন ধ্বনি উচ্চারণে ফুসফুস থেকে কম বায়ু নির্গত হয়, সেগুলোকে কী বলে?
  1. মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন
  2. অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন
  3. ঘোষ ব্যঞ্জন
  4. অঘোষ ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, ব, ত, দ, স ,ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।  
-------------------
মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণে সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি সেগুলোকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন- হ, ফ, ভ , থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ।
.
সঠিক বর্ণ বিশ্লেষণ কোনটি?
  1. হ্​+ণ = হ্ন
  2. ক্​+ম = ক্ষ
  3. ষ্​+ণ = ষ্ণ
  4. ষ্​+ঞ = ষ্ণ
সঠিক উত্তর:
ষ্​+ণ = ষ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষ্​+ণ = ষ্ণ
ব্যাখ্যা
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
যেমন: 
- ষ্ + ণ = ষ্ণ।

• 'ষ্ণ' - সহযােগে গঠিত কয়েকটি শব্দ:
- কৃষ্ণ, কৃষ্ণচূড়া, তৃষ্ণা, উষ্ণ ইত্যাদি।

- গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ হলো:
- ঞ্ + জ = ঞ্জ,
- ঞ্‌ + চ = ঞ্চ,
- হ্ + ম = হ্ম,
- ঞ্ + ছ = ঞ্ছ,
- ক্‌ + ষ = ক্ষ,
- ক্ + ষ্ + ম = ক্ষ্ম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
.
কোন বাগধারাটির অর্থ ‘প্রহার’?
  1. অর্ধচন্দ্র
  2. উত্তম-মধ্যম
  3. উড়নচণ্ডী
  4. ছকড়া নকড়া
সঠিক উত্তর:
উত্তম-মধ্যম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তম-মধ্যম
ব্যাখ্যা
•  'উত্তম-মধ্যম' বাগধারাটির অর্থ - 'বেদম প্রহার'।  
বাক্য গঠন: গৃহস্থ চোরটাকে উত্তম মধ্যম দিয়ে ছেড়ে দিল।   

অন্য অপশনে, 
'অর্ধচন্দ্র' বাগধারাটির অর্থ - গলা ধাক্কা। 
উড়নচন্ডী বাগধারাটির অর্থ - অমিতব্যয়ী।
'ছকড় নকড়া' বাগধারাটির অর্থ - 'সস্তা দর'।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
বহুব্রীহি সমাসে কোন পদের অর্থ প্রাধান্য পায়?
  1. পূর্বপদ
  2. পরপদ
  3. উভয়পদ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস: 
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন: 
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত। 
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি। 
- গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে।

এছাড়া: 
• দ্বন্ধ সমাস - পুর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে।
• কর্মধারয় সমাস - পরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে। 
• তৎপুরুষ সমাস - এই সমাসেরও পরপদের প্রাধান্য থাকে।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
.
'কনুই থেকে মুষ্টবদ্ধ হাতের প্রান্ত পর্যন্ত দৈর্ঘ্য' এর এক কথায় কী বলে?
  1. করতল
  2. রত্নি
  3. মণিবন্ধ
  4. পাণি
সঠিক উত্তর:
রত্নি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রত্নি
ব্যাখ্যা
• 'কনুই থেকে মুষ্টবদ্ধ হাতের প্রান্ত পর্যন্ত দৈর্ঘ্য' এর এক কথায় : রত্নি। 

• সঠিক উত্তর - রত্নি।
- ‘রত্নি’ শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- ‘রত্নি’ অর্থ: কনুই থেকে মুষ্টিবদ্ধ হাতের প্রান্ত পর্যন্ত দৈর্ঘ্য।
==================
'হাতের তেলো বা তালু' এর এক কথায় : করতল।
'হাতের কব্জি' এর এক কথায় : মণিবন্ধ। 
'হাতের কব্জি থেকে আঙুলের ডগা পর্যন্ত' এর এক কথায় :পাণি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান,  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)। 
.
'প্রবীণ' এর রূঢ়ি অর্থ কী হবে?
  1. বাদ্যযন্ত্র বিশেষ
  2. প্রকৃষ্টরূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি
  3. বাদ্যযন্ত্র
  4. অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যাক্তি
সঠিক উত্তর:
অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যাক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যাক্তি
ব্যাখ্যা
• রূঢ়ি শব্দ:
- যেসব শব্দ প্রত্যয় ও উপসর্গযোগে মূল শব্দের অনুগামি না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে তাদের রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- বাঁশি, তৈল, সন্দেশ, প্রবীণ, হরিণ, পাঞ্জাবী, হস্তী ইত্যাদি।

প্রবীণ - শব্দটির অর্থ হওয়া ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি 'অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়। 
তাই, 
'প্রবীণ' এর রূঢ়ি 'অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।  

উংস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
১০.
‘কূটযন্ত্র’ শব্দের অর্থ -
  1. সুচিন্তা
  2. ফাঁদ
  3. সুবুদ্ধি
  4. নিষ্কর্মতা
সঠিক উত্তর:
ফাঁদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফাঁদ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
‘কূটযন্ত্র’ শব্দের অর্থ - ফাঁদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১১.
কোনটি নাম ধাতুর উদাহরণ?
  1. নাচ্ + আ
  2. ঘুম + আ
  3. কৃ + আ
  4. খেল + এ
সঠিক উত্তর:
ঘুম + আ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘুম + আ
ব্যাখ্যা
• নাম ধাতুর  উদাহরণ : ঘুম + আ। 

• নাম ধাতু:
বিশেষ্য, বিশেষণ এবং অনুকার অব্যয়ের পরে ‘আ’ প্রত্যয় যোগ করে যে নতুন ধাতুটি গঠিত হয় তা-ই নাম ধাতু। 
যেমন:
- সে ঘুমাচ্ছে। ‘ঘুম’ থেকে নাম ধাতু ‘ঘুমা’।
- আমাকে ধমকিও না। এখানে ‘ধমক্’ থেকে নামধাতু ‘ধমকি’ হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
১২.
‘পকেটমার’ শব্দটি কোন শ্রেণির?
  1. বিদেশি
  2. তৎসম
  3. মিশ্র
  4. দেশি
সঠিক উত্তর:
মিশ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশ্র
ব্যাখ্যা
• ‘পকেটমার’ শব্দটি মিশ্র শব্দ।

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'পকেট' শব্দটি - ইংরেজি।
যার অর্থ : ছোটোখাটো জিনিস সঙ্গে রাখার জন্য পরিধেয় বস্ত্রে সেলাই করে জুড়ে দেওয়া কাপড়ের ছোটো খোপ। 
অন্যদিকে,
'মার' শব্দটি বাংলা।

• এই দুইটি শব্দের মিশ্রণে তৈরি হয়েছে পকেটমার।
পকেটমার (বিশেষ্য) অর্থ : পকেট মারে বা কাটে যে; পকেট থেকে অর্থাদি তুলে আত্মসাৎ করে যে।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান । 
১৩.
সাধু ভাষারীতির ক্ষেত্রে কোন বৈশিষ্ট্য প্রযোজ্য?
  1. গুরুগম্ভীর
  2. দুর্বোধ্য
  3. অবোধ্য
  4. গুরুচণ্ডালী
সঠিক উত্তর:
গুরুগম্ভীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুরুগম্ভীর
ব্যাখ্যা
• সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য হবে গুরুগম্ভীর। 

• সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য: 
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয় ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী, (২০২১ ও ২০১৮ সংস্করণ)। 
২) অষ্টম শ্রেণীর ব্যকরণ বই।
১৪.
'দইয়াল' হলো একটি -
  1. পেশা
  2. পাখি
  3. ভাষা
  4. মিষ্টান্ন
সঠিক উত্তর:
পাখি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাখি
ব্যাখ্যা
তৎসম বা সংস্কৃত 'দধিরাল' থেকে আঞ্চলিক 'দইয়াল' শব্দের উৎপত্তি।
'দইয়াল' শব্দ দ্বারা 'দোয়েল পাখি' কে বুঝায়। 
পাখিটির দুই পাশে দধির মতো সাদা দাগ থাকার জন্য এমন নাম।

উৎস: অভিগম্য অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৫.
'উপশম' শব্দের বিপরীত শব্দ -
  1. স্বাভাবিক
  2. অপকর্ষ
  3. অধম
  4. বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
• 'উপশম' এর বিপরীত শব্দ- 'বৃদ্ধি'। 

অন্য অপশনে,
'স্বাভাবিক' এর বিপরীত শব্দ - 'অস্বাভাবিক'।
'অপকর্ষ' এর বিপরীত শব্দ - 'উৎকর্ষ'।
'উত্তম' এর বিপরীত শব্দ - 'অধম'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
১৬.
'Superstitions' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. সেতুবন্ধন
  2. চেতনাহীন
  3. উপাসনা
  4. কুসংস্কারাচ্ছন্ন
সঠিক উত্তর:
কুসংস্কারাচ্ছন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুসংস্কারাচ্ছন্ন
ব্যাখ্যা
• 'Superstitions' অর্থ - কুসংস্কারাচ্ছন্ন/ কুসংস্কার। 

• কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পারিভাষিক শব্দ:
Constitution শব্দের বাংলা পারিভাষা- সংবিধান, 
Armour শব্দের বাংলা পরিভাষা- বর্ম, 
Manifesto শব্দের বাংলা পারিভাষা- ইশতেহার, 
Manuscript শব্দের বাংলা পারিভাষা- পাণ্ডুলিপি, 
Edition শব্দের বাংলা পারিভাষা- সংস্করণ, 
Memorandum শব্দের বাংলা পরিভাষা– স্মারকলিপি, 
Gazette শব্দের বাংলা পারিভাষা- ঘোষণাপত্ৰ, 
Apprentice শব্দের বাংলা পারিভাষা- শিক্ষানবিশ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।  
১৭.
'মনঃকষ্ট' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মনো+কষ্ট
  2. মনস+কষ্ট
  3. মনঃ + কষ্ট
  4. মন + কষ্ট
সঠিক উত্তর:
মনঃ + কষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনঃ + কষ্ট
ব্যাখ্যা
• 'মনঃকষ্ট' এর সন্ধি বিচ্ছেদ - মনঃ + কষ্ট।

বিসর্গসন্ধি: 
বিসর্গসন্ধিতে বিসর্গের কয়েক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়:
• বিসর্গ বিদ্যমান থাকে: মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট, অধঃ + পতন = অধঃপতন, বয়ঃ + সন্ধি = বয়ঃসন্ধি;
• বিসর্গ ও হয়ে যায়; মনঃ + যােগ = মনােযােগ, তিরঃ + ধান = তিরােধান, তপঃ + বন = তপোবন;
• বিসর্গ র’ হয়ে যায়: নিঃ + আকার = নিরাকার, পুনঃ + মিলন = পুনর্মিলন, আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ;
• বিসর্গ শ/ষ/ হয়: নিঃ + চয় = নিশ্চয়, দুঃ + কর = দুষ্কর, পুরঃ + কার = পুরস্কার;
• কিছু কিছু সন্ধিতে পূর্ববর্তী স্বর দীর্ঘ হয়: নিঃ + রব = নীরব, নিঃ + রস = নীরস, নিঃ + রােগ = নীরােগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৮.
'প্রাণভয়' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. বহুব্রীহি
  3. অব্যয়ীভাব
  4. কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস: 
- যে কর্মধারয় সমাসে মধ্য পদ লোপ পায়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। 

• মধ্য পদলোপী কর্মধারয় সমাসের কিছু উদাহরণ হলো:
- বৌ ভাত = বৌ পরিবেশন করা ভাত, 
- একাদশ = এক অধিক দশ, 
- ভিক্ষান্ন = ভিক্ষা লব্ধ অন্ন, 
- প্রাণভয় = প্রাণ যাওয়ার তরে ভয়।

সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯.
'গৃহ' শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. আলয়
  2. সদন
  3. নিকেতন
  4. ঘরোয়া
সঠিক উত্তর:
ঘরোয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘরোয়া
ব্যাখ্যা
• 'গৃহ' এর সমার্থক শব্দ নয় - ঘরোয়া।

- ঘরোয়া শব্দের অর্থ:  পারিবারিক। গৃহস্থালি-সম্পর্কিত। অনানুষ্ঠানিক।

• 'গৃহ/ঘর' এর সমার্থক শব্দ:
- নিলয়, আলয়, ভবন, নিবাস, নিকেতন, আগার, বাড়ি, আবাস, বাটি, গেহ, নিকেত ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২০.
'বায়ু' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. অভ্র
  2. চপলা
  3. সমীরণ
  4. কানন
সঠিক উত্তর:
সমীরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমীরণ
ব্যাখ্যা
'বাতাস' শব্দের সমার্থক 'সমীরণ'।
----------------
'বাতাস' এর অন্যান্য সমার্থক শব্দ:
- বায়ু, পবন, সমীর, সমীরণ, অনিল, মারুত, বাত, বায়, আশুগ, পবমান, সদাগতি, নভঃশ্বাস, শব্দবহ, অগ্নিসখ, জগতায়ু, জগৎপ্রাণ, মাতরিশ্বা, জগদ্বল, ইত্যাদি। 

'বারিদ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- জলদ, মেঘ, নীরদ, ঘন, অভ্র, পয়োদ, পয়োধর ইত্যাদি। 

• বিদ্যুৎ শব্দের সমার্থক শব্দগুলো হলো:
 বিজলি, তড়িৎ, ক্ষণপ্রভা, সৌদামিনী, চপলা, চঞ্চলা, চিকুর, দামিনী, শম্পা, অচিরপ্রভা।

বন শব্দের সমার্থক শব্দ: 
- জঙ্গল, অটবি, কানন, বিপিন, গহন, কুঞ্জ, কান্তার, উপবন, বনানী ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
২১.
'ষোড়শ' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ষড়্‌ + দশ
  2. ষট্ + ড়শ
  3. ষ + ড়শ
  4. ষট্ + দশ
সঠিক উত্তর:
ষট্ + দশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষট্ + দশ
ব্যাখ্যা
• 'ষোড়শ' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ - ষট্ + দশ। 
এটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদের উদাহরণ।  

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ: 
• বন + পতি = বনস্পতি,
• আ + চর্য = আশ্চর্য,
• গো + পদ = গোস্পদ,
• পর + পর = পরস্পর,
• ষট্ + দশ = ষোড়শ,
• এক + দশ = একাদশ,
• পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২২.
‘মরি তো মরব।’এখানে ‘তো’ কোন ধরনের ক্রিয়া বিশেষণ?
  1. পদাণু
  2. কালবাচক
  3. বহুপদী
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পদাণু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদাণু
ব্যাখ্যা
• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করলেও ‘কি’, ‘যে’, ‘বা’, ‘না’, ‘তো’ প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন :
কি : আমি কি খাব?
যে : খুব যে বলেছিলেন আসবেন!
বা : কখনো বা দেখা হবে।
না : একটু ঘুরে আসুন না, ভালো লাগবে।
তো : মরি তো মরব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৩.
'মাঝিরা নৌকার গুণ টেনে এসেছে।' - এখানে 'গুণ' শব্দটি দ্বারা কী বোঝায়?
  1. ধর্ম
  2. ক্রিয়া
  3. উৎকর্ষ
  4. দড়ি
সঠিক উত্তর:
দড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দড়ি
ব্যাখ্যা
• মাঝিরা নৌকার গুণ টেনে এসেছে'- 'দড়ি' অর্থে 'গুণ' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।  

অন্যদিকে,
• দ্রব্যের গুণ জানতে হয়'- 'ধর্ম' অর্থে 'গুণ' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। 
• ওষুধে গুণ করেছে'- 'ক্রিয়া' অর্থে 'গুণ' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। 
• 'তুমি তো নিজের গুণকীর্তন করছ'- 'উৎকর্ষ' অর্থে 'গুণ' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
২৪.
‘একজন এসে পত্রটা দেয়।’ বাক্যে ‘একজন’ কোন ধরনের সর্বনাম পদ?
  1. পারস্পরিক সর্বনাম
  2. আত্মবাচক সর্বনাম
  3. সাপেক্ষ সর্বনাম
  4. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
অনির্দিষ্ট সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনির্দিষ্ট সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম:
 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।

• অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন ইত্যাদি।
- বাক্য: একজন এসে খবরটা দেয়।
- বাক্য: একজন এসে পত্রটা দেয়।
============== 
অন্যদিকে,
• আত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন: নিজে, স্বয়ং ইত্যাদি।
বাক্য: সে নিজে অঙ্কটা করছে।

• সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন: যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।
বাক্য: যেমন কর্ম তেমন ফল।

• পারস্পরিক সর্বনাম:
দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।
বাক্য: যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
২৫.
নিচের কোন শব্দটি 'ইমন' প্রত্যয়যোগে গঠিত ?
  1. পঙ্কিল
  2. বণিক
  3. নীলিমা
  4. জাগরিত
সঠিক উত্তর:
নীলিমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলিমা
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে। 

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ, নীন, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে । 
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়:
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক,
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন,
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।  
২৬.
নাটক থেকে নাটিকা কী অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. পুরুষবাচক অর্থে
  2. স্ত্রীবাচক অর্থে
  3. বৃহদার্থে
  4. ক্ষুদ্রার্থে
সঠিক উত্তর:
ক্ষুদ্রার্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষুদ্রার্থে
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয়যোগে শব্দ: 
যেমন: 
- নাটক- নাটিকা, 
- মালিক- মালিকা, 
- গীত - গীতিকা, 
- পুস্তক - পুস্তিকা, 
 (এগুলো স্ত্রী প্রত্যয় নয়, ক্ষুদ্রার্থক প্রত্যয়)। 

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯]
২৭.
কোন বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ‘ন’ কখনো ‘ণ’ হয় না?
  1. ত-বর্গ
  2. চ-বর্গ
  3. প-বর্গ
  4. ক-বর্গ
সঠিক উত্তর:
ত-বর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত-বর্গ
ব্যাখ্যা
• ত-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে যুক্ত 'ন' - কখনো 'ণ' হয় না।

• ণ-ত্ব বিধান: 
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ণ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- সেজন্য বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার আছে। তা বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত 'ন' কখনো 'ণ' হয় না, ন হয়। 
যেমন - অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৮.
'পাঠক' শব্দের সঠিক প্রকৃতি -প্রত্যয় কোনটি?
  1. √পাঠ + অক
  2. √পঠ্‌ + অক
  3. √পঠিত + অক
  4. √পাঠক + অ
সঠিক উত্তর:
√পঠ্‌ + অক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√পঠ্‌ + অক
ব্যাখ্যা
• কৃৎ প্রত্যয়:
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়।
যেমন:
√ পঠ্‌ + অক = পাঠক।
√ গৈ + অক = গায়ক। 
-------------------
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ অনুসারে,
• √পাঠ্ + অক = পাঠক, পাঠ ধাতুর সাথে 'অক' কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে।

তবে,
আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি অনুসারে,
পাঠক শব্দের যথার্থ প্রকৃতি-প্রত্যয় = √পাঠি+অক
• পাঠক (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ
অর্থ: পাঠকারী, ছাত্র, কথক, শিক্ষক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
২৯.
'দরিদ্রকে দান করো' - এ বাক্যে ‘দরিদ্র’ কোন পদ?
  1. বিশেষণ
  2. বিশেষ্য
  3. বিশেষণের বিশেষণ
  4. সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
- 'দরিদ্রকে দান করো' বাক্যে 'দরিদ্র' (বিশেষ্য) শব্দ। 

• শব্দের অর্থ:
১. নির্ধনতা; দরিদ্র অবস্থা; দরিদ্রতা।
২. অভাব (চিন্তার দারিদ্র্য)।
৩. দৈন্য; দীনতা।

অর্থাৎ, দারিদ্র এবং দারিদ্র্য দুইটাই অভিধানে আছে এবং দুইটাই শুদ্ধ। তবে, আধুনিক অভিধানে কেবল "দারিদ্র্য" রাখা হয়েছে।
আবার কয়েকজন স্কলারের বইতে "" (য ফলা) ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

দরিদ্র শব্দটি বিশেষণ হলেও এখানে বিশেষ্য হিসেবে বসেছে।
কারণ দরিদ্র কাউকে বিশেষিত করেনি, বরং কর্ম হিসেবে বসেছে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ব্যবহারিক বাংলা ব্যাকরণ।
৩০.
'পদ্ম' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. পদদো
  2. পদ্‌দোঁ
  3. পদমো
  4. পদ্দো
সঠিক উত্তর:
পদ্‌দোঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্‌দোঁ
ব্যাখ্যা
• শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়, যেমন– আত্মীয় [আত্‌তিঁয়ো], পদ্ম [পদ্‌দোঁ]।
• কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্‌-এর উচ্চারণ বজায় থাকে, যেমন– যুগ্ম [জুগ্‌মো], জন্ম [জন্‌মো]। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩১.
'কি' এবং 'কী' যথাক্রমে-
  1. অব্যয় ও সর্বনাম পদ
  2. সর্বনাম ও বিশেষণ পদ
  3. বিশেষ্য ও অব্যয় পদ
  4. সর্বনাম ও বিশেষ্য পদ
সঠিক উত্তর:
অব্যয় ও সর্বনাম পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয় ও সর্বনাম পদ
ব্যাখ্যা
• বাংলা বানানের নিয়মানুসারে 'কি' ও 'কী' এর ব্যবহারের নিয়ম:
১. অব্যয়পদরূপে 'কি' ব্যবহৃত হয়।
বাংলা ভাষায় যেসব প্রশ্নবোধক বাক্যের উত্তর 'হ্যা-না' হয় অথবা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে প্রকাশ করা যায়, সেসব বাক্যে  কি' ব্যবহৃত হবে।
যেমন-
 যদি কামাল জামালকে প্রশ্ন করে- তুমি কি যাবে?
এখানে জামাল হ্যাঁ অথা না দিয়ে উত্তর দিতে পারে অথবা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমেও জানাতে পারে। তাই এ ক্ষেত্রে 'কী' না হয়ে 'কি' হাবে।

২. সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া-বিশেষণ ও যোজক পদরূপে- 'কী' ব্যবহৃত হয়। 
যেসব প্রশ্নের উত্তরে বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া লাগতে পারে সেখানে 'কী' বসবে।
 যেমন-
কী করো?
এটা কী ধরনের রং?

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩২.
'তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন' - বাক্যটি কোন ধরনের?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. অধীন বাক্য
সঠিক উত্তর:
সরল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল বাক্য
ব্যাখ্যা
• গঠনগত দিক থেকে বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন,
- সরল বাক্য,
- জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

• সরল বাক্য:
একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন,
- জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।

• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন-
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যখন তিনি ভাত খাওয়া শেষ করলেন, তখন তিনি ঘুমিয়ে গেলেন।
- যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই একথা বিশ্বাস করবে।

• যৌগিক বাক্য:
এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করে।
যেমন-
- রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ , নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৩.
শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. আমি অপমান হয়েছি।
  2. এ কথা প্রমাণ হয়েছে। 
  3. তিনি সস্ত্রীক রাজশাহী থাকেন।
  4. পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
সঠিক উত্তর:
তিনি সস্ত্রীক রাজশাহী থাকেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনি সস্ত্রীক রাজশাহী থাকেন।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে : তিনি সস্ত্রীক রাজশাহী থাকেন। 
===============
• বাক্যে যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করায় বাক্য গঠনে ভুল হয়। 
যেমন-
⇒ অশুদ্ধ: তিনি স্বস্ত্রীক রাজশাহী থাকেন।
⇒ শুদ্ধ বাক্য: তিনি সস্ত্রীক রাজশাহী থাকেন।
------------------ 
অন্য অপশনে, 
অশুদ্ধ: আমি অপমান হয়েছি।
শুদ্ধ: আমি অপমানিত হয়েছি।

ভুল বাক্য: এ কথা প্রমাণ হয়েছে। 
শুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।  

⇒ অশুদ্ধ: পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
⇒ শুদ্ধ: পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৪.
'পরিভ্রমণ' শব্দটি কোন উপায়ে গঠিত?
  1. উপসর্গ দ্বারা
  2. সমাস এর সাহায্যে
  3. কোনটিই নয়
  4. ক + খ
সঠিক উত্তর:
ক + খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক + খ
ব্যাখ্যা
• 'পরিভ্রমণ' শব্দটি উপসর্গ দ্বারা এবং সমাস এর সাহায্যে গঠিত হয়।  
-------------
• প্রাদি সমাস:
প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয়, তবে তাকে প্রাদি সমাস বলে।
যথা:
প্র (প্রকৃষ্ট ) যে বচন = প্রবচন,
পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ
--------------
• বিভিন্ন অর্থে 'পরি' উপসর্গের ব্যবহার:
- বিশেষ রূপ = পরিপক্ব, পরিপূর্ণ।
- শেষ অর্থে = পরিশেষ।
- সম্যক রূপে = পরিশ্রান্ত, পরীক্ষা।
- চতুর্দিক অর্থে = পরিভ্রমণ, পরিমণ্ডল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৫.
কোন দুটি পদের বচন ভেদ হয়?
  1. ক্রিয়া ও অব্যয়
  2. বিশেষ্য ও সর্বনাম
  3. সর্বনাম ও অব্যয়
  4. বিশেষ্য ও বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য ও সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য ও সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• 'বিশেষ্য ও সর্বনাম' দুটি পদের বচন ভেদ হয়।
------------- 
• বচন: 
- 'বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ। 
- এর অর্থ সংখ্যার ধারনা।
- ব্যাকরণের বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারনা প্রকাশের উপায়কে বচন বলে।
- কেবলমাত্র বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়।

 বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার : একবচন ও বহুবচন ।

• একবচন :
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণি, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
যেমন –
সে এলো। মেয়েটি স্কুলে যায়নি।

• বহুবচন :
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণি, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন :
তারা গেল। মেয়েরা এখনও আসেনি। 
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৬.
'খাওয়ার আশায় বিয়ে বাড়িতে ইদানীং ফেকলু পার্টি হানা দিচ্ছে' - এখানে 'ফেকলু পার্টি' বাগধারাটির অর্থ -
  1. চোর প্রকৃতির লোক
  2. কদরহীন লোক
  3. অতি ধূর্ত লোক
  4. যথেচ্ছাচারী
সঠিক উত্তর:
কদরহীন লোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কদরহীন লোক
ব্যাখ্যা
• 'ফেকলু পার্টি' বাগধারাটির অর্থ - কদরহীন লোক।
বাক্য গঠন : খাওয়ার আশায় বিয়ে বাড়িতে ইদানীং ফেকলু পার্টি হানা দিচ্ছে।  

অন্য অপশনে, 
• 'ধর্মের ষাঁড়' বাগধারাটির অর্থ - 'যথেচ্ছাচারী'। 
• 'বাস্তুঘুঘু' বাগধারাটির অর্থ - অতি ধূর্ত লোক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭.
'মেলা দেখতে ঢাকা যাব'- এখানে অসমাপিকা ক্রিয়াটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ইচ্ছা
  2. সামর্থ্য
  3. উদ্দেশ্য
  4. আবশ্যকতা
সঠিক উত্তর:
উদ্দেশ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদ্দেশ্য
ব্যাখ্যা
 • 'মেলা দেখতে ঢাকা যাব'- বাক্যে উদ্দেশ্য বোঝাতে বা নিমিত্ত অর্থে অসমাপিকা ক্রিয়াটি ব্যবহৃত হয়েছে।  
-------------------------
• সমাপিকা ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন – ভালাে করে পড়াশােনা করবে।

• অসমাপিকা ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন - ভালাে করে পড়াশােনা করলে ভালাে ফল হবে।
----------------------------
অন্যদিকে,
ইতে > তে বিভক্তি যুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহার:  
⇒ বিধি বোঝাতে- বাল্যকালে বিদ্যাভ্যাস করতে হয়।  
⇒ ইচ্ছা প্রকাশে- এখন আমি যেতে চাই। 
⇒ সামর্থ্য বোঝাতে- খোকা এখন পড়তে পারে। 
⇒ আবশ্যকতা বোঝাতে- 'এখন ট্রেন ধরতে হবে'। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।  
৩৮.
'দধীচি' শব্দের অর্থ কী?
  1. প্রভাত
  2. মধুর মত মিষ্টি গুণযুক্ত
  3. শীতল
  4. বিশ্বের কল্যাণে দেহদানকারী মহাপুরুষ
সঠিক উত্তর:
বিশ্বের কল্যাণে দেহদানকারী মহাপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বের কল্যাণে দেহদানকারী মহাপুরুষ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
• 'দধীচ' সংস্কৃত শব্দ। 

• দধীচি (বিশেষ্য) বলতে বোঝায়:
১. পুরাণোক্ত মুনিবিশেষ যাঁর অস্থি দ্বারা বজ্র নির্মাণ করা হয়েছিল।
২. (আলঙ্কারিক) বিশ্বের কল্যাণে দেহদানকারী মহাপুরুষ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।  
৩৯.
‘শিয়ালের যুক্তি’ বাগধারাটির অর্থ কি?
  1. পান্ডিত্যপূর্ণ বক্তব্য
  2. চাতুর্যপূর্ণ যুক্তি
  3. অকেজো যুক্তি
  4. গুরুতর যুক্তি
সঠিক উত্তর:
অকেজো যুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অকেজো যুক্তি
ব্যাখ্যা
'শিয়ালের যুক্তি' বাগধারার অর্থ হচ্ছে 'অকেজো যুক্তি/অসম্ভব যুক্তি'।
বাক্য গঠন: তোমার ওই শিয়ালের যুক্তি রাখো তো, কাজের কথা কিছু বলো।
 
এছাড়া আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা:

খোদার খাসি - ভাবনাচিন্তাহীন।
রাবণের গোষ্ঠী - বড়ো পরিবার।
শাপে বর - অনিষ্টে ইষ্ট লাভ।
গোঁফ-খেজুরে - অত্যন্ত অলস।
চশমখোর - নির্লজ্জ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪০.
নিচের কোন শব্দটি পরোক্ষ উক্তিতে ব্যবহৃত হয়?
  1. তখন
  2. আজ
  3. ওখানে
  4. গতকল্য
সঠিক উত্তর:
তখন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তখন
ব্যাখ্যা
• 'তখন'- পরোক্ষ উক্তির শব্দ। 
- 'এখন' এর পরোক্ষ উক্তি- 'তখন'। 

• প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরােক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।

• উক্তির প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষ রূপ:
প্রত্যক্ষ-------- পরোক্ষ।
এখন - তখন। 
আগামীকাল - পরদিন । 
ইহা - তাহা। 
গতকাল - আগেরদিন।
আজ - সেদিন। 
ওখানে - ঐখানে। 
গতকল্য - পূর্বদিন। 
এখানে - সেখানে।
এ - সে। 
======================== 
⇒ বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরােক্ষ উক্তি।
যেমন:
• প্রত্যক্ষ উক্তি: যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
- যেমন: ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।”- এটি প্রত্যক্ষ উক্তি। 

• পরােক্ষ উক্তি: যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরােক্ষ উক্তি।
- যেমন: ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।- এটি পরােক্ষ উক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি, (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)। 
৪১.
সারাংশ লেখার ক্ষেত্রে নিচের কোনটির প্রয়োজন নেই?
  1. সংক্ষেপণ
  2. সরলতা
  3. প্রাঞ্জলতা
  4. অলঙ্কার
সঠিক উত্তর:
অলঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলঙ্কার
ব্যাখ্যা
• সারাংশ লেখার ক্ষেত্রে অলঙ্কার ব্যবহার করা যাবে না। 
--------------------------
• সারমর্ম বা সারাংশ:  
- কোনো কবিতা পদ্য রচনার মূল ভাব বা বক্তব্যকে অল্প কথায় প্রকাশ করার নাম সারমর্ম বা সারাংশ।
- সারমর্ম এবং সারাংশ যথাসম্ভব সহজ ভাষায় এবং সরল বাক্যে লিখতে হবে।
- বক্তব্যের বর্ণনায় মূল কথার বাইরে কোনো কথা লিখা যাবে না, বক্তব্যে কোনো প্রকার ছন্দ, অলঙ্কার, উপমা, রূপক, উদ্ধৃতির ব্যবহার করা যাবে না।
----------------
• সারাংশ ও সারমর্ম লেখার কিছু নিয়ম:
ক. প্রদত্ত রচনার বিবরণ ও ভাবকে অনুসরণ করে সারাংশ ও সারমর্ম লিখতে হয়।
খ. অনধিক চার বাক্য বা চল্লিশ শব্দের মধ্যে সারাংশ ও সারমর্ম সীমিত রাখা দরকার।
গ. প্রদত্ত রচনার মূল কথা যাতে সারাংশ ও সারমর্মে বাদ না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হয়।
ঘ. সারাংশ বা সারমর্ম লেখার সময়ে উদাহরণ, উদ্ধৃতি, পরিসংখ্যান, তথ্য-উপাত্ত ইত্যাদি পুরোপুরি বাদ দিতে হয়।
ত. সারাংশ ও সারমর্মের ভাষায় কোনো ধরনের কাব্যধর্মিতা রাখা যায় না। ভাষা হতে হয় দ্ব্যর্থহীন ও আবেগবর্জিত।
চ. সারাংশ ও সারমর্মে পুনরাবৃত্তি পুরোপুরি বর্জনীয়।
ছ. সারাংশ বা সারমর্ম লেখার সময়ে নিজস্ব বক্তব্য, মন্তব্য বা মত প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ।
৪২.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. অতিথি
  2. সমিচীন
  3. কৌতূহল
  4. তিরস্কার
সঠিক উত্তর:
সমিচীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমিচীন
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ - সমিচীন। 
• শুদ্ধ - সমীচীন (বিশেষণ),
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: সংগত, উপযুক্ত, উওম, যথার্থ, সত্য, উচিত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।