পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন৩৮
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১০ ইসলামে অর্থনৈতিক অবস্থা: ইসলামে আর্থিক অবকাঠামো: যাকাত, খারাজ, উশর, সদকা, বায়তুল মাল, ভোক্তা ও ব্যয়। [উৎস: লেকচার-৭ ও সংশ্লিষ্ট বই]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১]

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১] · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৮ প্রশ্ন

.
বাংলাদেশে যাকাত বোর্ড চালু হয় কত সালে?
  1. ১৯৮৩ সালের ৫ এপ্রিল
  2. ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি       
  3. ১৯৮২ সালের ৫ জুন
  4. ১৯৮৩ সালের ৩ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশে যাকাত বোর্ড ১৯৮২ সালে একটি অধ্যাদেশ বলে গঠিত হয় ১৯৮২ সালের ৫ জুন যা পরবর্তীতে 'যাকাত তহবিল ব্যবস্থাপনা আইন' ২০২৩ দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। এই বোর্ডটি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে পরিচালিত হয়।

.
মধুর উপর যাকাত হলো-
  1. ১/৫  
  2. ১/১০
  3. ১/১৫    
  4. ১/২০
ব্যাখ্যা

- প্রাকৃতিক উপায়ে আহরিত মধুর উপর যাকাতের পরিমাণ হলো ১০% (উশর), আর কৃত্রিম উপায়ে সেচ দেওয়া হলে বা আধুনিক পদ্ধতিতে উৎপাদন করা হলে যাকাতের পরিমাণ ৫% (নিসফ উশর)। উমার (রাঃ) থেকে প্রাপ্ত হাদিস অনুসারে, রাসুল (সাঃ) মধুর উশর (১০%) আদায় করেছেন।

.
ইসলামী রাষ্ট্রে ভূমি কর কী নামে পরিচিত?
  1. খারাজ
  2. যাকাত
  3. ইনফাক
  4. সাদাকাহ
ব্যাখ্যা

- ইসলামী রাষ্ট্রে ভূমি কর মূলত খারাজ নামে পরিচিত, যা কৃষি জমি ও তার উৎপাদিত পণ্যের উপর ধার্য করা হয়। এটি এমন ভূমি থেকে আদায় করা হয় যা একটি ইসলামী রাষ্ট্র কোন অমুসলিমকে ইজারা দিয়েছে। উমরের (রাঃ) শাসনামল থেকেই বিজিত অঞ্চল থেকে খারাজ আদায় করা হত, যা ভূমির উপর আরোপিত এক প্রকার রাজস্ব বা খাজনা।

.
সাদকাতুল ফিতরের পরিমাণ এক সা = কত কেজি?
  1. ২.৫ কেজি
  2. ৪ কেজি
  3. ৩.৩ কেজি
  4. ৫ কেজি
ব্যাখ্যা

- মাঝারি দেহের অধিকারী মানুষের হাতের চার আজলা এক ‘সা’ হয়। (অর্থাৎ দুই হাতের কব্জি একত্র করে চার খাবরিতে যে পরিমাণ খাবার উঠে তাই এক ‘সা’।) আরবিতে صاع ‘সা’ নির্দিষ্ট পরিমাপের একটি পাত্রকে বলা হয়, যার দ্বারা দানা জাতীয় শস্য মাপা হয়। সাধারণভাবে বলা যায় যে, এক সা পরিমাণ= ৩.৩ কেজি।

.
উটের যাকাতের নিসাব এর ন্যূনতম সংখ্যা কত?
  1. ৩–৫
  2. ৫–৯
  3. ১০–১৫ 
  4. ২০–২৫
ব্যাখ্যা

- উটের যাকাতের জন্য ন্যূনতম সংখ্যা হলো পাঁচটি। অর্থাৎ, পাঁচটির কম উটের উপর যাকাত নেই। পাঁচ থেকে নয়টি উট হলে একটি ভেড়া বা ছাগল দিতে হবে।  

.
ব্যবসার পণ্যের যাকাতের নেসাব কত?
  1. ৭.৫ তোলা স্বর্ণের সমপরিমাণ    
  2. ৩০টি গরুর দামের সমপরিমাণ 
  3. ৫২.৫ তোলা রৌপ্যের সমপরিমাণ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

- ব্যবসার পণ্যের যাকাতের নেসাব হলো ব্যবসার সমস্ত পণ্যের বাজার মূল্যের সমান পরিমাণ সম্পদ, যা কমপক্ষে সাড়ে বায়ান্ন তোলা (৫২.৫ তোলা) রূপার মূল্যের সমান। এই পরিমাণ সম্পদ যদি এক বছরকাল পর্যন্ত ব্যবসায়ীর মালিকানায় থাকে, তাহলে ব্যবসার মোট সম্পদের উপর আড়াই শতাংশ (২.৫%) যাকাত দিতে হবে।

.
কোন জনগোষ্ঠীর উপর জিজিয়া কর ধার্য হতো না?
  1. যুদ্ধক্ষম অমুসলিম পুরুষদের উপর 
  2. অমুসলিম নারীদের উপর
  3. খৃষ্টানদের উপর
  4. ইহুদিদের উপর
ব্যাখ্যা

- ইসলামি আইনে জিজিয়া কর সাধারণত প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও সক্ষম অমুসলিম পুরুষদের উপর ধার্য করা হয়, তবে অমুসলিম নারীদের ওপর এই কর ধার্য করা হয় না। জিজিয়া কর হলো ইসলামি রাষ্ট্রে বসবাসকারী অমুসলিমদের (যাদের জিম্মি বলা হয়) উপর ধার্যকৃত একটি বাৎসরিক কর।

.
পরোক্ষ করের উদাহরণ কোনটি?
  1. আয়কর
  2. ভ্যাট
  3. যাকাত
  4. যারাইব
ব্যাখ্যা

- একটি পরোক্ষ কর (যেমন একটি বিক্রয় কর , প্রতি ইউনিট কর , মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), আবগারি কর, ভোগ কর , বা ট্যারিফ ) হল একটি কর যা পণ্য ও পরিষেবার গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর আগে ধার্য করা হয়; যারা শেষ পর্যন্ত কেনা পণ্য বা পরিষেবার বাজার মূল্যের অংশ হিসাবে পরোক্ষ কর প্রদান করে।

.
এডাম স্মিথের কর ধার্যের নীতি কোনটি নয়?
  1. সামর্থ্য বা সমতার নীতি
  2. সুবিধার নীতি
  3. নিশ্চয়তার নীতি
  4. অব্যবস্থাপনার নীতি
ব্যাখ্যা

- এডাম স্মিথের কর ধার্যের নীতির মূলনীতি চারটি: সমতা, অর্থনৈতিকতা (বা নির্দিষ্টতা), সুবিধা এবং দক্ষতা (বা সাশ্রয়)। এই নীতিগুলো বোঝায় যে করকে অবশ্যই জনগণের আয়ের উপর ভিত্তি করে সমানভাবে ধার্য করতে হবে, কর আদায়ের ব্যয় কম রাখতে হবে, করদাতাদের জন্য কর প্রদান সুবিধাজনক করতে হবে এবং কর ব্যবস্থা সরকারের জন্য সম্পদ সংগ্রহে সাহায্য করবে। 

১০.
এডাম স্মিথ কর ধার্যের কয়টি মূলনীতি বর্ণনা করেছেন?
ব্যাখ্যা

- অ্যাডাম স্মিথ কর ধার্যের চারটি মূলনীতি বর্ণনা করেছেন: সমতা, অর্থনীতি, নিশ্চিততা এবং সুবিধা। এই নীতিগুলো কর ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি করে এবং সরকার ও করদাতাদের জন্য কর ব্যবস্থা পরিচালনা করার জন্য একটি কাঠামো সরবরাহ করে। 

১১.
জিযিয়া শব্দের অর্থ কী?
  1. নিরাপত্তা লাভ
  2. চুক্তি
  3. বিধর্মী
  4. বিনিময়
ব্যাখ্যা

- জিজিয়া শব্দের অর্থ হলো- বিনিময়। এটি একটি নিরাপত্তা-কর বা আর্থিক কর, যা ইসলামী রাষ্ট্রে বসবাসকারী অমুসলিম নাগরিকদের (জিম্মিদের) ওপর ধার্য করা হতো। এই কর প্রদানের বিনিময়ে তাদের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া হতো।

১২.
ঘোড়ার যাকাত প্রচলন করেন কে?
  1. মহানবী (সা)
  2. ওমর (রা)
  3. আবু বকর (রা)
  4. ওসমান (রা)
ব্যাখ্যা

- কুরআন ও সুন্নাহতে ঘোড়ার যাকাত সরাসরি বাধ্যতামূলক করা হয়নি। যাকাতের মূল নির্দিষ্ট ক্ষেত্রসমূহ হলো— স্বর্ণ-রূপা, কৃষিজ পণ্য, ব্যবসার পুঁজি, গবাদিপশু (উট, গরু, ছাগল) ইত্যাদি।

- তবে হযরত উমর (রা.) তাঁর খিলাফতের সময় (৬৩৪–৬৪৪ খ্রি.) ঘোড়ার যাকাত প্রবর্তন করেন। এর কারণ ছিল:
যুদ্ধ ও জিহাদে ঘোড়ার গুরুত্ব:
ইসলামের প্রথম যুগে ঘোড়া ছিল যুদ্ধের প্রধান বাহন। শক্তিশালী সেনা গঠনে বিপুল সংখ্যক ঘোড়ার প্রয়োজন হতো। এজন্য ঘোড়ার উপর যাকাত ধার্য করা হয়, যাতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার (বাইতুল মাল) থেকে সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করা যায়।
সমাজের ন্যায্যতা নিশ্চিতকরণ:
ধনীদের হাতে ঘোড়া ছিল যুদ্ধাস্ত্রের মতো। যদি তারা শুধু নিজেদের জন্য ব্যবহার করত, তবে দরিদ্র মুসলমানরা ক্ষতিগ্রস্ত হতো। যাকাতের মাধ্যমে তা থেকে সমাজের অন্যান্য অংশ উপকৃত হতে পারত।
প্রশাসনিক ইজতিহাদ:
- এটি মূলত উমর (রা.)-এর ইজতিহাদ (স্বতন্ত্র সিদ্ধান্ত) ছিল। তিনি মনে করেছিলেন, মুসলিম উম্মাহর স্বার্থে ঘোড়ার যাকাত জরুরি।

১৩.
পবিত্র কুরআনে যাকাতের কথা সরাসরি কতবার বলা হয়েছে?
  1. ৮২ বার
  2. ৬৪ বার
  3. ৬২ বার
  4. ৩২ বার   
ব্যাখ্যা

- পবিত্র কুরআনে "যাকাত" শব্দটি সরাসরি ৩২ বার উল্লেখ করা হয়েছে, যা নামাজের পরেই সবচেয়ে বেশিবার উল্লেখিত শব্দগুলোর মধ্যে অন্যতম। কুরআনের প্রায় ৮২টি আয়াতে নামাজ কায়েম করার পাশাপাশি যাকাত আদায়ের কথাও বলা হয়েছে। 

১৪.
সাড়ে বায়ান্ন তোলা রৌপ্যতে কত গ্রাম হয়?
  1. ৪৮৬ গ্রাম 
  2. ৬১৩ গ্রাম
  3. ৬৮০ গ্রাম 
  4. ৮৯১ গ্রাম
ব্যাখ্যা

- সাড়ে বায়ান্ন তোলা (৫০.৫০) রুপোর ক্ষেত্রে প্রায় ৬১২.৪৫ গ্রাম হয়, কারণ ১ তোলা= প্রায় ১১.৬৬৪ গ্রাম।  
গণনা:  
১ তোলা = ১১.৬৬৪ গ্রাম (প্রায়)
৫২.৫ তোলা = ৫২.৫ × ১১.৬৬৪ গ্রাম
৫২.৫ তোলা = ৬১২.৪৫ গ্রাম বা ৬১৩ গ্রাম।

১৫.
‘রিকায’ শব্দের অর্থ কী? 
  1. স্বর্ণ
  2. সামুদ্রিক খণিজ
  3. ভূগর্ভস্থ সম্পদ
  4. তেল
ব্যাখ্যা

- রিকায' শব্দের অর্থ হলো প্রোথিত বা মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা সম্পদ যা আল্লাহ কর্তৃক সৃষ্ট খনি থেকে প্রাপ্ত বা কোনো গুপ্তধন হিসেবে বিবেচিত হয়। মক্কা-মদিনার ফকীহগণ এর অর্থ করেন গুপ্তধন বা মাটির নিচে পুতে রাখা সম্পদ। এককথায়, এটির অর্থ ভূগর্ভস্থ সম্পদ।

১৬.
খারাজের পরিমাণ শতকরা কত?
  1. ১৫% 
  2. ১৯%
  3. ৫১%
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

- খারাজের পরিমাণ নির্দিষ্ট শতকরা হারে নির্ধারিত থাকে না; এটি জমির ধরন, সেচ ব্যবস্থা এবং উৎপাদন পরিমাণের উপর নির্ভর করে। খারাজের ন্যূনতম পরিমাণ হলো মোট উৎপন্ন ফসলের এক পঞ্চমাংশ বা ২০ ভাগ। আর সর্বোচ্চ পরিমাণ ৫০ ভাগ। অন্য একটি বর্ণনা মতে, খারাজের পরিমাণ ফসলের দশ ভাগের এক ভাগ (উশর) বা বিশ ভাগের এক ভাগ (নিসফ উশর) হতে পারে। অর্থাৎ, প্রাকৃতিক উৎসে সেচকৃত জমির উৎপাদনে উশর (১০%) এবং সেচের মাধ্যমে সেচকৃত জমির উৎপাদনে নিসফ উশর (৫%) প্রযোজ্য হতে পারে। 

১৭.
নিচের কোনটি খারাজ আদায়ের পদ্ধতি নয়?
  1. মুকাতাআ
  2. মুকাসামা
  3. মাসাহা
  4. মুতাহারা
ব্যাখ্যা

- খারাজ আদায়ের পদ্ধতি ৩টি। মাসাহা (জমির আয়তনের উপর ভিত্তি করে), মুকাসামা (উৎপন্ন ফসলের পরিমাণের উপর), মুকাতাআ (প্রদেয় কর এক কিস্তিতে বা নগদে)। সুতরাং মুতাহারা খারাজ আদায়ের কোন পদ্ধতি নয়।

১৮.
ইসলামের দৃষ্টিতে জমি কত প্রকার? 
  1. ২ প্রকার
  2. ৫ প্রকার
  3. ৩ প্রকার
  4. ৭ প্রকার
ব্যাখ্যা

- ইসলামের দৃষ্টিতে জমি প্রধানত দুই প্রকার: উশরি (উশর আদায়যোগ্য) ও খারাজি (খারাজ আদায়যোগ্য)। উশরি জমি হলো যেখান থেকে উৎপাদিত ফসলের উপর উশর বা ফসলের যাকাত আদায় করা হয় এবং এটি সাধারণত মুসলিমদের নিজস্ব ভূমির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। খারাজি জমি হলো সেই ভূমি যার উপর থেকে রাজস্ব বা কর আদায় করা হয় এবং এটি সাধারণত অমুসলিমদের কাছ থেকে আদায় করা হয়।

১৯.
খুলাফায়ে রাশেদার যুগে যাকাত পরিচালনার জন্য কতটি দপ্তর ছিল?
  1. ২টি
  2. ৫টি
  3. ৮টি
  4. ১২টি
ব্যাখ্যা

- খুলাফায়ে রাশেদার যুগে যাকাত পরিচালনার জন্য ৮টি পৃথক দপ্তর ছিল। এ ব্যবস্থাটি খলিফা হযরত উমর (রা) এর সময়ে চালু হয়। সার্বিক তত্ত্বাবধানে যাকাত সংগ্রহ ও বণ্টনের কাজটি পরিচালিত হতো। এক্ষেত্রে কিছু সরাসরি নিযুক্ত কর্মকর্তা বা সাহাবীদের দায়িত্ব দেওয়া হতো, যারা যাকাত আদায় এবং দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণের কাজ করতেন।

২০.
নিচের কোন ব্যক্তি আবশ্যিকভাবে যাকাত প্রদান করবে?
  1. রাষ্ট্রপ্রধান
  2. মুসাফির
  3. প্রাপ্তবয়স্ক নারী 
  4. নেসাবী ঋণগ্রস্ত
ব্যাখ্যা

- যাকাত আবশ্যিকভাবে প্রদান করতে হবে সেইসব মুসলিম ব্যক্তিকে, যাদের মালিকানায় নিসাব পরিমাণ সম্পদ (যেমন নগদ টাকা, সোনা, রুপা, বাণিজ্যিক পণ্য, গবাদিপশু ইত্যাদি) এক বছর পূর্ণ হয়েছে এবং যাদের নিজেদের বা পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর পর অতিরিক্ত সম্পদ রয়েছে। এখন যদি ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত থাকে , তাহলে ঋণ পরিশোধের পরও যদি তার নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তাহলে তিনি হলেন নিসাবি ঋণগ্রস্ত এবং তিনি যাকাত প্রদান করবেন।

২১.
নিচের কোন সম্পদে যাকাত প্রযোজ্য?
  1. যুদ্ধাস্ত্র 
  2. পাট
  3. ফসলি জমি
  4. গৃহপালিত হাঁস-মুরগী
ব্যাখ্যা

- যাকাত প্রযোজ্য সম্পদগুলোর মধ্যে রয়েছে নিসাব পরিমাণ নগদ অর্থ, সোনা-রূপা, ব্যবসার পণ্য, নির্দিষ্ট পরিমাণ পশুসম্পদ (যেমন গরু, ছাগল, উট) এবং জমিন থেকে উৎপাদিত ফসল ও ফলমূল, যখন সেগুলো নিসাবে পৌঁছায় এবং বছর পূর্ণ হয়। সুতরাং পাটের উপর যাকাত (উশর) প্রযোজ্য। আর ফসলি জমির উপর কোন যাকাত নেই। যাকাত ফরজ হবে ফসলের উপর।

২২.
নিসফে উশর কোন ধরনের চাষে প্রদান করতে হয়?
  1. সেচের মাধ্যমে 
  2. প্রাকৃতিক পানির মাধ্যমে
  3. পুকুরের পানির মাধ্যমে 
  4. নদীর পানির মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

- ভূমি রাজস্ব অর্থাৎ উশর (দশ ভাগের এক ভাগ) দিতে হবে যদি প্রাকৃতিক পানি দ্বারা ফসল উৎপাদন হয়, আর নেসফে উশর ( ১/২০ ভাগ ) দিতে হবে যদি সেচের দ্বারা উৎপাদন হয়।

২৩.
আল-ফাই এর অংশীদার কারা কারা?
  1. বায়তুল মাল পাবে ৪/৫ অংশ
  2. মাসারিফুয যাকাত এর ন্যয় বণ্টন হবে
  3. সম্পূর্ণ অংশ বায়তুল মাল পাবে
  4. যোদ্ধারা পাবে ১/৫ অংশ
ব্যাখ্যা

- ফাই বা বিনা যুদ্ধে লব্ধ সম্পদের ক্ষেত্রে মুজাহিদদের মাঝে বন্টন করা যাবে না। কেননা এসব সম্পদ বিনা যুদ্ধেই হাসিল হয়েছে। এটি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে। পবিত্র কুরআনের সুরা আনফালের ১ নং আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন-

یَسۡـَٔلُوۡنَكَ عَنِ الۡاَنۡفَالِ ؕ قُلِ الۡاَنۡفَالُ لِلّٰهِ وَ الرَّسُوۡلِ ۚ

“অর্থাৎ লোকেরা তোমাকে গনীমতের মাল (ফাই) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে; বল, গনীমতের মাল (আল ফাই) আল্লাহ ও রাসুলের জন্য। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং পরস্পরের মধ্যকার অবস্থা সংশোধন করে নাও। আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর, যদি তোমরা মুমিন হও।” 

২৪.
জলজ সম্পদের উপরে কত শতাংশ যাকাত প্রদান করতে হবে?
  1. ১/১০
  2. ২/১০
  3. ১/২০  
  4. ১/১৫
ব্যাখ্যা

- রাসুলে কারিম (সা) ও খুলাফায়ে রাশিদিনের যুগে গণিমতের মাল, সামুদ্রিক সম্পদ, খনিজ সম্পদ ও জলজ সম্পদে খুমুস অর্থাৎ সম্পদের এক পঞ্চমাংশ হিসাবে যাকাত গ্রহন করা হতো। সুতরাং সঠিক উত্তর ২/১০ বা ১/৫।

২৫.
মুসলমানদের কোন জমিতে উশর দিতে হয়?
  1. পতিত জমিতে
  2. যে ভূমির মালিকানা কাফিরদের কাছে বিদ্যমান
  3. ফসল উৎপাদন না করা হলে
  4. বিজয় লাভ করার মাধ্যমে মালিক হলে   
ব্যাখ্যা

- মুসলিম সেনাপতি কোনো কাফের রাষ্ট্র বিজয়ের পর সে এলাকার জমি মুসলমানদের মাঝে বন্টন করে দিলে তা উশরী জমিতে রূপান্তরিত হবে। সুতরাং বিজয় লাভ করার মাধ্যমে মালিক হলে  মুসলিম মালিককে উশর প্রদান করতে হবে।

২৬.
সাদাকাহ প্রধানত কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার 
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা

- সাদাকার প্রকারভেদ: এটি ২ প্রকার-
১। নফল সাদাকাহ (ঐচ্ছিক দান বা অতিরিক্ত দান)
২। ওয়াজিব সাদাকাহ- যেমন মান্নতের সাদকাহ, যাকাতও এ দানের অন্তর্ভুক্ত, সাদাকাতুল ফিতরের সাদকা।

২৭.
‘যারাইব’ কী?
  1. ভূমি ব্যবস্থাপনা কর    
  2. ধনীদের কর
  3. ব্যবসায়ীদের কর
  4. ফসলের যাকাত 
ব্যাখ্যা

- জরুরি কর (যারাইব) অর্থাৎ যুদ্ধ বা দুর্ভিক্ষ অথবা বেকারত্ব দূরীকরণে জাকাত ও সাদকাহ ব্যতিত সরকারের পক্ষ থেকে বিত্তবানদের উপর যে কর আরোপ করা হয় ।

২৮.
সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ সমান কত গ্রাম? 
  1. প্রায় ৮৮ গ্রাম 
  2. প্রায় ৮ গ্রাম
  3. প্রায় ৮ গ্রাম   
  4. প্রায় ১২৩ গ্রাম
ব্যাখ্যা

- সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণের ওজন হবে প্রায় ৮৭.৪৭ গ্রাম, কারণ ১ ভরি = ১১.৬৬৪ গ্রাম, তাই ৭.৫ ভরি × ১১.৬৬৪ গ্রাম/ভরি = ৮৭.৪৭ গ্রাম বা প্রায় ৮৮ গ্রাম।

২৯.
মাসারিফুজ জাকাতের খাতগুলো পবিত্র কুরআনের কোথায় রয়েছে?
  1. সুরা তাওবা, আয়াত ৬০ 
  2. সুরা তাওবা, আয়াত ৬
  3. সুরা মায়িদা, আয়াত ৬০ 
  4. সুরা ইসরা, আয়াত ৪০
ব্যাখ্যা

- মাসারিফে যাকাত বা যাকাত বণ্টনের খাতগুলো পবিত্র কুরআনের সুরা আত-তাওবাহ (৯:৬০) আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই আয়াতে ফকীর, মিসকীন, যাকাত আদায়কারী কর্মচারী, যাদের অন্তরকে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করতে হয়, দাস মুক্তি, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি, আল্লাহর পথে এবং মুসাফিরদের জন্য যাকাত বণ্টনের কথা বলা হয়েছে।

৩০.
নিচের কোন বিধানটি সঠিক?
  1. ইসলামী আইন অনুযায়ী পরিচালিত রাষ্ট্র ছাড়া কোনো রাষ্ট্রে খারাজের বিধান কার্যকর হবে না
  2. ইসলামী আইন অনুযায়ী পরিচালিত রাষ্ট্র ছাড়া কোনো রাষ্ট্রে যাকাতের বিধান কার্যকর হবে না
  3. ইসলামী আইন অনুযায়ী পরিচালিত রাষ্ট্র ছাড়া কোনো রাষ্ট্রে সাদাকাতুল ফিতরের বিধান কার্যকর হবে না
  4. ইসলামী আইন অনুযায়ী পরিচালিত রাষ্ট্র ছাড়া কোনো রাষ্ট্রে উশরের বিধান কার্যকর হবে না
ব্যাখ্যা

- মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে খারাজ উসুল করে দেয়া ওয়াজিব। ইসলামী আইন অনুযায়ী পরিচালিত রাষ্ট্র ছাড়া কোনো রাষ্ট্রে খারাজের বিধান কার্যকর হবে না। কারণ মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধান খারাজ উসুল করে বায়তুল মালে জমা করে। এ কাজ মুসলিম আইনে পরিচালিত রাষ্ট্র ছাড়া সম্ভব নয়। (জাদীদ ফিকহী মাসায়েল ২/৫৫-৫৬)

৩১.
ইমাম আবু হানিফা () এর মতে শর ফরয হবার-
  1. নির্ধারিত নিসাব আছে 
  2. নির্ধারিত কোনো নিসাব নেই
  3. নিসাব রৌপ্যের মতো
  4. নিসাব স্বর্ণের মতো
ব্যাখ্যা

- উশর এর নিসাব আছে কী নেই, এ ব্যাপারে দুটি মত আছে। ইমাম আবু হানিফা (র) এর মতে উশর ফরয হবার জন্য নির্ধারিত কোনো নিসাব নেই। 

দলীল হলো, নবীজী (সা) এর হাদীস ও পবিত্র কুরআনের আয়াতের আম বর্ণনা কোনো পরিমাণ নির্ধারণ করছে না। আর এতে গরীবদের উপকারও রয়েছে। তাই উশর ফরয হবার জন্য কোনো পরিমাণ নেই। যেমনটি বলা হয়েছে হিদায়ায়-

অর্থাৎ, “জমীনে কম বেশি যা-ই উৎপাদিত হবে, তাতে উশর আসবে।” 

তবে, সাহেবাইন ও আইম্মায়ে সালাসার মতে পাঁচ ওয়াসাক থেকে কম পরিমাণ হলে, তার উপরে উশর আসবে না। দলীল হলো, নবীজী (সা) এর হাদীস: 

“নবী (সা) বলেন, পাঁচ ওয়াসাকের নিচে কোনো সদকা (উশর) নেই।” 

৩২.
গণিমতের সম্পদ যোদ্ধাদের মধ্যে বণ্টন করা হয়-
  1. সম্পূর্ণ অংশ 
  2. ১/৫ ভাগ
  3. ৪/৫ ভাগ 
  4. ১/২ ভাগ
ব্যাখ্যা

- গণিমতের সম্পদ যুদ্ধের ময়দানে জয়লাভের পর শত্রুদের কাছ থেকে প্রাপ্ত সম্পদ, যা পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়। এর চার ভাগ যোদ্ধাদের মধ্যে বণ্টন করা হয় এবং এক ভাগ (খুমুস) রাজকোষে জমা হয়, যা পরে ৫ ভাগে ভাগ করে আল্লাহ, তাঁর রাসুল, আত্মীয়স্বজন, এতিম, মিসকিন এবং মুসাফিরের জন্য খরচ করা হয়। 

৩৩.
اِخۡوَانَ الشَّیٰطِیۡنِ كَانُوۡۤا  الۡمُبَذِّرِیۡنَ  اِنَّ  আয়াতটি পবিত্র কুরআনের কোথায় রয়েছে?
  1. সুরা হাদিদ, আয়াত ২১
  2. সুরা গাসিয়াহ, আয়াত ০৫
  3. সুরা আল ইসরা, আয়াত ২৭  
  4. সুরা মুতাফফিফিন, আয়াত ১১  
ব্যাখ্যা

 اِنَّ الۡمُبَذِّرِیۡنَ كَانُوۡۤا اِخۡوَانَ الشَّیٰطِیۡنِ ؕ وَ كَانَ الشَّیۡطٰنُ لِرَبِّهٖ كَفُوۡرًا
“নিশ্চয় অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। আর শয়তান তার রবের প্রতি খুবই অকৃতজ্ঞ।” (সুরা ইসরা, আয়াত ২৭)

৩৪.
ইসলামি অর্থব্যবস্থায় সকলের জন্য প্রধানত যে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে-
  1. সমবণ্টন নীতি   
  2. সর্বজনীন কল্যাণ
  3. দ্রুত অর্থায়ন    
  4. দ্রুত অর্থ সঞ্চালন
ব্যাখ্যা

- ইসলামি অর্থব্যবস্থা শুধু মুসলিমদের জন্য নয়, বরং মানবজাতির সার্বজনীন কল্যাণ নিশ্চিত করে, যেখানে কুরআন ও হাদিসের আলোকে ন্যায়বিচার, সম্পদের সুষম বন্টন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং নৈতিকভাবে ক্ষতিকর বিষয় বর্জন করার মাধ্যমে সামাজিক কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত সম্পদের পাশাপাশি সামাজিক ও সম্মিলিত কল্যাণকেও প্রাধান্য দেওয়া হয় এবং শোষণ, সুদের লেনদেন, মওজুদদারি ও ভেজালকে হারাম করে সমাজের সকলের জন্য একটি ন্যায়সঙ্গত ও সমৃদ্ধ পরিবেশ তৈরি করা হয়। 

৩৫.
সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থাকে বলা হয়-
  1. শোষকের অর্থব্যবস্থা 
  2. শোষণের হাতিয়ার
  3. গরিবের মারণাস্ত্র
  4. শ্রেণিবৈষম্য সৃষ্টিকারী
ব্যাখ্যা

- সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে, পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থাকে 'শোষণের হাতিয়ার' বলা হয় কারণ এটি ব্যক্তিগত মালিকানা ও মুনাফার উপর ভিত্তি করে তৈরি, যেখানে মুনাফা অর্জনের জন্য উৎপাদন হয় এবং এটি সম্পদের অসম বণ্টন ও শ্রমিকদের শোষণের পথ তৈরি করে। 

৩৬.
‘কালালাহ’ কে?
  1. যার মাতা-পিতা নেই
  2. যার সন্তান নেই
  3. যার জাবিল আরহাম নেই   
  4. যার সন্তান ও পিতা নেই
ব্যাখ্যা

- ইসলামী উত্তরাধিকারের পরিভাষায়, কালালাহ বলতে এমন একজন ব্যক্তিকে বোঝানো হয় যার সরাসরি কোনো পূর্বপুরুষ (পিতা) এবং কোনো বংশধর (সন্তান বা নাতি-নাতনি) নেই, কিন্তু নিজস্ব সম্পত্তি রয়েছে। অর্থাৎ, তিনি পিতৃহীন এবং নিঃসন্তান, কিন্তু তার সম্পদ বিদ্যমান থাকে।  
কুরআনে, আন-নিসা সুরা ১৭৬-এ কালালাহ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এই ধরনের ব্যক্তির সম্পত্তি বন্টনের নিয়মগুলো ইসলামী আইনে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে।

৩৭.
সম্পদের প্রতি মানুষের সীমাহীন লোভ ও চাহিদা জন্ম দেয়-
  1. সমাজতন্ত্র
  2. পুঁজিবাদ
  3. রাজতন্ত্র
  4. স্বৈরতন্ত্র
ব্যাখ্যা

পুঁজিবাদ সম্পদের প্রতি মানুষের সীমাহীন লোভ ও চাহিদা জন্ম দেয়। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় মুনাফা অর্জন এবং সম্পদ বৃদ্ধিই মূল চালিকাশক্তি, যা মানুষকে আরও বেশি সম্পদ সঞ্চয় ও ব্যবহারের প্রতি অনুপ্রাণিত করে। এই ক্রমাগত সম্পদ বৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষাই লোভ বা অর্থলিপ্সার জন্ম দেয়, যা পুঁজিবাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচিত হয়। 

৩৮.
ভোক্তা শব্দের অর্থ কী?
  1. ক্রেতা
  2. বিক্রেতা
  3. ব্যবহারকারী
  4. উৎপাদক 
ব্যাখ্যা

ভোক্তা হলেন এমন একজন ব্যক্তি যিনি পণ্য বা পরিষেবার চূড়ান্ত ব্যবহারকারী, অর্থাৎ পণ্য বা সেবা ক্রয় বা গ্রহণ করে নিজ প্রয়োজনে ব্যবহার করেন। সহজ কথায়, যিনি কোনো পণ্য বা সেবার শেষ পর্যন্ত ভোগ করেন, তিনিই ভোক্তা।