ব্যাখ্যা
⇒গুজরাটের শাসক তৃতীয় মুজাফফর শাহেব দুর্বলতার সুযোগে আকবর ১৫৭৩ সালে সুরাট দখল করেন।
-গুজরাট জয় করার পর তিনি ফতেপুর সিক্রিতে “বুলন্দ দরওজা” নির্মাণ করেন?
- এর মধ্য দিয়েই মুঘলদের স্থাপত্যের সূচনা হয়।
৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি [১৯১] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪০ প্রশ্ন
⇒গুজরাটের শাসক তৃতীয় মুজাফফর শাহেব দুর্বলতার সুযোগে আকবর ১৫৭৩ সালে সুরাট দখল করেন।
-গুজরাট জয় করার পর তিনি ফতেপুর সিক্রিতে “বুলন্দ দরওজা” নির্মাণ করেন?
- এর মধ্য দিয়েই মুঘলদের স্থাপত্যের সূচনা হয়।
⇒১৫১৯ খ্রি. বাবর এক বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে ভারত অভিযানের উদ্দেশ্যে বাজাউর ও সোয়াতের দিকে অগ্রসর হন এবং ঝিলাম নদীর পশ্চিম তীরে ভিরা নগরীতে উপস্থিত হন।
-এই সময়ে বাবর দিল্লির সুলতান ইব্রাহিম লোদির নিকট এক দূত পাঠিয়ে তৈমুরের উত্তরাধিকারী হিসাবে তৈমুরের বিজিত অঞ্চলগুলো দাবি করেন।
-কিন্তু বাবরের দূতকে পাঞ্জাবের শাসনকর্তা দৌলত খান লোদি আটক করেন।
-পাঁচ মাস পর তাকে শূন্য হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
⇒হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার গোলন্দাজ বাহিনীসহ এক বিশাল সেনাবাহিনী সহকারে শেরশাহের বিরুদ্ধে ১৫৪০ খ্রিস্টাব্দের ১৭ মে কনৌজের নিকটবর্তী বিলগ্রামে মুঘল ও আফগান সৈন্যবাহিনীর মধ্যে এক তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
-দুর্ভাগ্যবশত সম্রাট হুমায়ুন এই যুদ্ধেও আফগানদের হাতে পরাজিত হয়ে চূড়ান্তভাবে সিংহাসন হারান।
⇒শেরখানের শক্তিবৃদ্ধিতে শঙ্কিত হয়ে সম্রাট হুমায়ুন ১৫৩১ খ্রিস্টাব্দে চুনার দুর্গ অবরোধ করেন।
-কিন্তু কূটকৌশলী এবং রাজনীতিতে দূরদর্শী শেরখান মৌখিক আনুগত্যের ফলে ফিরে আসে।
-পরে বক্সারের নিকটবর্তী চৌসা নামক স্থানে শেরখান ও সম্রাট হুমায়ুনের মধ্যে ১৫৩৯ খিস্ট্রাব্দের ২৬ জুন উভয়পক্ষের মধ্যে এক তীব্র যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
⇒দীর্ঘ ১৫ বছর পর শিয়া মতবাদ গ্রহন ও কান্দাহার দেয়ার বিনিময়ে১৫৫৫ খ্রিস্টাব্দে হুমায়ুন পারস্যের শাসকের সহায়তায় মুঘল সিংহাসন পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন।
-কিন্তু দুর্ভাগ্য বশত তিনি ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জানুয়ারি গ্রন্থাগারের সিঁড়ি থেকে পরে আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন।
⇒১৫২৬ খ্রি. জহিরউদ্দিন মুহম্মদ বাবর কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়। মুঘল শব্দটি এসেছে ‘মোঙ্গ’ বা ‘মোঙ্গল’ শব্দ হতে।
-এই বংশের প্রতিষ্ঠাতা বাবর ছিলেন পিতার দিক থেকে তৈমুর লঙ এবং মাতার দিক হতে চেঙ্গিস খানের বংশধর।
⇒বাবর খলিফার ক্ষমতাকে অস্বীকার করে স্বয়ং ‘বাদশাহ’ উপাধি গ্রহণ করেন।
-সে সময় ওয়ালী (প্রাদেশিক গভর্ণর), দিওয়ান (রাজস্ব কমর্কর্তা), সিকদার (সমর কর্মকর্তা) ও কোতয়াল (নগর কর্মকর্তা) প্রমুখ কর্মকর্তাদের দ্বারা প্রশাসন পরিচালিত হতো।
-বাবরের মুদ্রায় আরবি লিপি ব্যবহার হতো।
⇒বাবর ১৪৮৩ খিস্ট্রাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার মধ্য এশিয়ার তুর্কিস্থানের এক ক্ষুদ্র রাজ্য ফারগানায় জন্মগ্রহন করেন।
-বাবরের পিতা উমর শেখ মির্জা ছিলেন দুধর্ষ সমর নেতা তৈমুেরর বংশধর এবং ফারগানা রাজ্যের অধিপতি।
-তাঁর মাতা কুতলুঘ নিগার খানম ছিলেন মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খানের অধস্তন বংশধর ইউনুস খানের কন্যা।
-'বাবর'শব্দের অর্থ সিংহ।
⇒আকবর শেখ মুবারক এবং তাঁর দুই পুত্র আবুল ফজল ও ফৈজীর সুফি মতবাদের প্রভাবে এবং উদারনৈতিক চিন্তায় প্রভাবিত হয়ে ‘আত্মা অবিনশ্বর এবং পরমাত্মার অংশ বিশেষ' এই ধারণার বশবর্তী হয়ে সত্যান্বেষণে অগ্রসর হন।
-এই উদ্দেশ্যে ১৫৭৫ খ্রি. সকল ধর্মের সার আহরণের জন্য ফতেপুর সিক্রীতে ‘ইবাদত খানা' নির্মাণ করেন।
-সেখানে ধর্ম ও দর্শনের মূল বিষয় সম্পর্কে আলোচনার ব্যবস্থা করেন।
⇒শেরশাহ নির্মিত সড়কগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল ‘গ্রান্ডট্রাঙ্ক রোড’।
-এই সড়কটি বতর্মান বাংলাদেশের সোনারগাঁও থেকে আগ্রা হয়ে দিল্লি এবং পাঞ্জাব হয়ে সিন্ধু পর্যন্ত প্রায় ১৫০০ মাইল বিস্তৃত ছিল।
-সড়ক ই আজম ' এর অন্য নাম ছিল "গ্রান্ডট্রাঙ্ক রোড"।
⇒১৫৩৯ খিস্ট্রাব্দের এ যুদ্ধ হুমায়ুন পরাজিত হন এবং তিনি অতি কষ্টে আগ্রা ফিরে যান।
-শেরখান বাংলা, বিহার, জৌনপুরের একচ্ছত্র অধিপতি হন এবং ‘শেরশাহ’ উপাধি ধারণ করেন।
-হুমায়ুন চৌসার যুেদ্ধর গ্লানি ও ব্যর্থতা সহ্য করতে না পেরে পুনরায় কনৌজের পথে অগস্রর হন। ১৫৪০ খিস্ট্রাব্দে কনৌজের অদূরে বিলগ্রামে উভয়ের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধ হুমায়ুন শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন।
-শেরশাহ কনৌজ, দিল্লি ও আগ্রা অধিকার করেন। এভাবে মোগল সাম্রাজ্যের পতন ঘটিয়ে দিল্লির সিংহাসনে শেরশাহের অভ্যুত্থান ঘটে।
⇒১৫২৭ খ্রিস্টাব্দে খানুয়ার যুদ্ধের ফলে ভারতে শক্তিশালী ঐক্যবদ্ধ রাজপুত শক্তির শোচনীয় পরাজয় ঘটে।
-ফলে রানা সংগ্রাম সিংহের হিন্দু রাজ্য প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বিনষ্ট হয়ে যায় এবং রাজপুত শক্তি ক্ষুণ্ন হয়।
-এর পর ক্ষমতার কেন্দ্র কাবুল থেকে হিন্দুস্থানে স্থানান্তর করে‘গাজী’ উপাধি ধারণ করেন।
-তিনি ১৪৮৩ খিস্ট্রাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার মধ্য এশিয়ার তুর্কিস্থানের এক ক্ষুদ্র রাজ্য ফারগানায় জন্মগ্রহণ করেন।
-তার পিতা উমর শেখ মির্জা ১৪৯৪ খ্রিস্টাব্দে আকস্মিক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করে।
-মাত্র ১১ বছর বয়সে তিনি পিতৃ সিংহাসনে উপবেশন করেন।
⇒দীর্ঘ ১৫ বছর পর শিয়া মতবাদ গ্রহন ও কান্দাহার দেয়ার বিনিময়ে ১৫৫৫ খ্রিস্টাব্দে হুমায়ুন পারস্যের শাসকের সহায়তায় মুঘল সিংহাসন পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন।
-কিন্তু দুর্ভাগ্য বশত তিনি ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জানুয়ারি গ্রন্থাগারের সিঁড়ি থেকে পরে আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন।
⇒সম্রাট আকবর শুধুমাত্র ভারতের ইতিহাসে নয় সমগ্র ্বিশ্বের ইতিহাসে ছিলেন একজন স্মরণীর শাসক।
-তিনি একাধারে ছিলেন শ্রেষ্ঠ রাজনীতিবিদ ও সংগঠক।
-শাসনসংস্কার ও সাম্রাজ্য পরিচালনায় তিনি ছিলেন যুগশ্রেষ্ঠ শাসক।
তার সভাকবি আবুল ফজল আকবরনামা রচনা করেন।
⇒১৫৫৫ খ্রি. হুমায়ুন আগ্রার লাইব্রেরির সিড়ি থেকে গড়িয়ে পড়ে মৃত্যুবরণ করেন।
-হুমায়ুনের মৃত্যুর প্রাক্কালে আকবর পাঞ্জাবে বৈরামখানের তত্ত্বাবধানে অবস্থান করছিলেন।
-বৈরাম খান এখানেই আকবরকে পরবর্তী মুঘল সম্রাট হিসেবে ঘোষণা করেন এবং তার রাজ্য অভিষেকের ব্যবস্থা করেন।
⇒আফগান বাহিনীর একটি বিরাট অংশ আফগান নেতা শের খানের নেতৃত্বে বারানসীর দক্ষিণ-পশ্চিমে গঙ্গার তীরে অবস্থিত চুনার দুর্গে আশ্রয় গ্রহণ করেন।
-সম্রাট হুমায়ুন চুনার দুর্গের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
-হুমায়ুন দীর্ঘ ৪ মাস ধরে চুনার দুর্গ অবরোধ করে রাখেন।
-সম্রাট হুমায়ুন শেরখানের মৌখিক আনুগত্যে বিশ্বাস স্থাপন করে বিহার ও চুনার দুর্গ রক্ষনাবেক্ষণের দায়িত্ব অপর্ণ করে আগ্রায় প্রত্যাবর্তন করেন।
⇒কনৌজের যুদ্ধের মর্মান্তিক পরাজয়ের পর সম্রাট হুমায়ুন আশ্রয়ের সন্ধানে দেশ থেকে দেশান্তরে ঘুরে বেড়ান।
-অবশেষে পারস্যের শাসক শাহ তাহমাসপের রাজ দরবারে আশ্রয় লাভ করেন ।
-১৫৪০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৫৫৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সেখানেই ছিলেন।
-জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবর রচিত তুর্কি কবিতার সংকলন ‘দিওয়ান’ নামে পরিচিত।
-তিনি ফার্সি ভাষায় এক প্রকার নতুন ছন্দ আবিষ্কার করেন যা সাধারণত ‘নুবাইয়ান’ নামে সুপরিচিত।
-তাঁর সাহিত্যানুরাগের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন তুর্কি ভাষায় রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ’‘তুযুক-ই-বাবরী’।
⇒সুলতান আলাউদ্দিন খলজির অনুকরণে ‘দাগ’ বা চিহ্নিত করণ ও হুলিয়া’ পদ্ধতি চালু করেন।
-দেওয়ানী ও ফৌজদারী বিচারের ভার কাজী ও মীর আদল উপাধিধারী কমর্চারীদের উপর অপর্ণ করা হয়েছিল।
-কাজী উল কুজ্জাত ছিল বিচার প্রধান।
⇒সকল ধমের্র দ্বন্দ্বকে একপাশে রেখে ভাল দিকগুলো একত্রিত করে একটি নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন।
-এটিই দ্বীন-ই-ইলাহি নামে পরিচিত।
-আকবর নিজে ‘ইমাম-ই-আদিল’ উপাধি গ্রহণ করেন।
-সম্রাটের ধর্মনীতির মূল কথাই ছিল পরধর্ম সহিঞ্চুতা বা “সুলহ-ই-কুল”।
⇒১৫৫৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জালালউদ্দিন মুহাম্মদ আকবর উপাধি নিয়ে মাত্র ১৩ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
-বৈরাম খান আকবরের অভিভাবক নিযুক্ত হন।
-১৫৬০ খ্রি. পর্যন্ত সম্রাট আকবর বৈরাম খানের তত্ত্বাবধানে রাজ্যশাসন করেন।
⇒প্রথম পর্যায়ে (১৫৬০-১৫৭৫ খ্রি.)যথারীতি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন, রোজা রাখতেন এবং সুন্নী মতবাদের একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
-দ্বিতীয় পর্যায়ে (১৫৭৫-১৫৮০ খ্রি.) শেখ মুবারক এবং তাঁর দুই পুত্র আবুল ফজল ও ফৈজীর সুফি মতবাদের প্রভাবে ১৫৭৫ খ্রি. সকল ধর্মের সার আহরণের জন্য ফতেপুর সিক্রীতে ‘ইবাদত খানা' নির্মাণ করেন
-তৃতীয় পর্যায়ে ১৫৮২ খ্রি দ্বীন-ই-ইলাহী নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন।
⇒সাম্রাজ্যকে দৃঢ় ও শক্তিশালী করা ও ভারতের এই যোদ্ধা ও কূটনৈতিক শক্তিকে কাজে লাগানোর জন্য সম্রাট রাজপুতদের সহিত সহনশীল ও মিত্রতার নীতি গ্রহণ করেছিলেন।
-এজন্য ১৫৬২ খ্রি. আকবর আম্বরের রাজা বিহারীমলের কন্যা যোধাবাঈকে বিবাহ করেন।
-১৫৭০ সালে বিকিনীর রাজ কন্যাকেও বিয়ে করেন।
-নিজ পুত্র সেলিমের সাথে ভগবান দাসের কন্যার বিবাহ সম্পন দেন।
-পানিপথ বর্তমান ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তরে হরিয়ানা রাজ্যে অবস্থিত।
-১৫২৬ খ্রিস্টাব্দের ২১ এপ্রিল লোদী বংশের সর্বশেষ সুলতান ইব্রাহিম লোদী ও জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবরের মধ্যে পানিপথের প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
-ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবর সর্বপ্রথম এই যুদ্ধে কামানের ব্যবহার করেন।
⇒মুঘল বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক ও প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সম্রাট আকবর।
-তাঁর রাজসভায় ‘নবরত্ম’ ছিলেন ইতিহাস বিখ্যাত গুণী তানসেন, বীরবল, টোডরমল,মানসিংহ,আবুল ফজল প্রমুখ।
-তাঁর রাজসভায় ‘নবরত্মের বেশির ভাগই ছিল রাজপুতের।
⇒ দাউদকে পশ্চাৎধাবন করে মুনিম খাঁ ও টোডরমল ১৫৭৫ খ্রি. বালেশ্বরের নিকট তুকারয় নামক স্থানে তাঁকে পরাজিত করে বশ্যতা স্বীকারে বাধ্য করেন।
-কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যে দাউদ পুনরায় বিদ্রোহ ঘোষণা করলে মুঘল সেনাবাহিনী ১৫৭৬ খ্রি. রাজমহলের যুদ্ধে দাউদকে পরাজিত করে। যুদ্ধে তিনি নিহত হন।
-ফলে বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।
⇒শৈশবে তাকে আকবরের আতালিক বা অভিভাবক নিযুক্ত করা হয়।
=সে জন্য আকবর তাকে ‘খান বাবা’ বলে ডাকতেন।
-১৫৫৬ সালের আকবর মাত্র ১৩ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
-বৈরাম খান আকবরের অভিভাবক নিযুক্ত হন এবং ১৫৬০ খ্রি. পর্যন্ত সম্রাট আকবর বৈরাম খানের তত্ত্বাবধানে রাজ্যশাসন করেন।
⇒বাবরের মৃত্যুর পর ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দের ৩০ শে ডিসেম্বর মাত্র ২৩ বছর বয়সে পিতৃ মনোনয়ন অনুসারে হুমায়ুন ‘নাসির উদ্দিন মুহম্মদ হুমায়ুন’ নাম ধারণ করে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
-দুর্ভাগ্য বশত তিনি ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জানুয়ারি গ্রন্থাগারের সিঁড়ি থেকে পরে আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন।
-হুমায়ুনের জীবনী রচনা করেন তার বোন গুলবদন বেগম।
⇒তাকে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের জনক বলা হয়।
-মুঘল বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক ও প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সম্রাট আকবর।
-তিনি বেশ কিছু সংস্কার সাধন করেন তার মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ চালু করা।
-বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ চালু করেন খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য।
⇒সকল ধমের্র দ্বন্দ্বকে একপাশে রেখে ভাল দিকগুলো একত্রিত করে ১৫৮২ খ্রি. একটি নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন।
-এটিই দ্বীন-ই-ইলাহি নামে পরিচিত।
-আকবর নিজে ‘ইমাম-ই-আদিল’ উপাধি গ্রহণ করেন।
-প্রতি রবিবার নিজে এই ধর্মের দীক্ষা দিতেন।
-এই ধর্মের অনুসারীদের চারটি জিনিস যথা ধন, জীবন, সম্মান এবং ধর্ম উৎসর্গকরতে হত।
⇒১৫২৬ খ্রিস্টাব্দের ২১ এপ্রিল লোদী বংশের সর্বশেষ সুলতান ইব্রাহিম লোদী ও জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবরের মধ্যে পানিপথের প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
-ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবর সর্বপ্রথম এই যুদ্ধে কামানের ব্যবহার করেন।
-ইব্রাহিম লোদী পরাজিত হলে লোদী বংশের বিশেষ করে সুলতানি শাসনের অবসান ঘটে এবং মুঘল বংশের রাজত্ব শুরু হয়।
⇒১৫২৬ খ্রিস্টাব্দের ২১ এপ্রিল লোদী বংশের সর্বশেষ সুলতান ইব্রাহিম লোদী ও জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবরের মধ্যে পানিপথের প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
-বৈরাম খান মুঘল বাহিনীর নেতৃত্ব দেন এবং ১৫৫৬ সালের ৫ নভেম্বর পানিপথের ২য় যুদ্ধে হিমুকে পরাজিত করেন।
-১৭৬১ সালে পানি পথের প্রান্তরে মারাঠা ও আহমদ শাহ আবদালীর মধ্যে পানিপথের ২য় যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
⇒সকল ধর্মের সমন্বয়/দ্বন্দ্বকে একপাশে রেখে ভাল দিকগুলো একত্রিত করে ১৫৮২ খ্রি একটি নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন।
-এটিই দ্বীন-ই-ইলাহি নামে পরিচিত।
-আকবর নিজে ‘ইমাম-ই-আদিল’ উপাধি গ্রহণ করেন।
-সম্রাটের ধর্মনীতির মূল কথাই ছিল পরধর্ম সহিঞ্চুতা বা “সুলহ-ই-কুল”।
⇒সম্রাট হুমায়ুন সুন্দর কবিতা লিখতেন। ‘দিউয়ান-ই-হুমায়ুন’ তার কাব্য গ্রন্থ।
-পারস্য থেকে প্রত্যাবতর্নের সময় তিনি মীর সৈয়দ আলী এবং খাজা আব্দুস সামাদকে সঙ্গে এনে চিত্র কলার বিকাশ ঘটান।
-তিনি ‘দিনাপানাহ’ নগরী নির্মাণ করেন।
⇒দ্রুত সংবাদ আদান-প্রদানের জন্য ‘ঘোড়ার ডাক’এর প্রচলন করেন।
-সুলতান আলাউদ্দিন খলজির অনুকরণে ‘দাগ’ বা চিহ্নিত করণ ও হুলিয়া’ পদ্ধতি চালু করেন।
-দেওয়ানী ও ফৌজদারী বিচারের ভার কাজী ও মীর আদল উপাধিধারী কমর্চারীদের উপর অপর্ণ করা হয়েছিল।
-কাজী উল কুজ্জাত ছিল বিচার প্রধান।
⇒তিনি সবর্পথ্রম ‘কবুলিয়ত ও পাট্টা’ ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
-তিনি স্বর্ণ মুদ্রা আশরাফী, রূপার তৈরি তঙ্কা’ এবং তামার তৈরি ‘দাম’ নামে এক নব মুদ্রার প্রচলন করেন।
-ব্যবসায়-বাণিজ্যে বিনিময় ব্যবস্থা সহজ করার জন্য আধুলি, সিকি, দু-আনি ও এক-আনি খুচরা মুদ্রার প্রচলন করেন।
⇒তিনি সাম্রাজ্যকে ৪৭ টি সরকারে বিভক্ত করেন।
-সরকারকে ১,১৩,০০০টি পরগণায় বিভক্ত করেন।
-পরগণা প্রধান ছিলেন আমীন।
-সর্বাপেক্ষা ক্ষুদ্রতম শাসন ইউনিট ছিল গ্রাম।
⇒বৈরাম খান তুর্কি বংশোদ্ভুত ও শিয়া মতাবলম্বী। বাদাখশানে জন্মগ্রহন করেন।
-বাবরের সেনাবাইনীতে সৈনিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
-হুমায়ুনের সৎ বোন সলিমা বেগমকে বিয়ে করে আত্মীয় হন।
⇒'মনসব’ শব্দের অর্থ পদ বা পদমর্যাদা।
-এই পদের অধিকারীকে মনসবদার বলা হত।
-১৫৭৭ খ্রিস্টাব্দে এ ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ পর্যায়ের মনসবদাররা দশ হাজারি পদ থেকে শুরু করে সবর্নিম্ন পর্যায়ে দশজন সৈন্য সংরক্ষণের বিধান ছিল।
-সাধারণত রাজপরিবারের সদস্য ও সম্ভ্রান্ত সভাসদগণ দশ হাজারি পদ পেতেন।