পরীক্ষা আর্কাইভ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

পরীক্ষাশিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৪০
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৫৫ সাবজেক্ট ফাইনাল - বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪০ প্রশ্ন

.
নামের পরে ডিগ্রিসূচক পরিচয় সংযোজিত হলে সেগুলোর প্রত্যেকটির পরে কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. কোলন
  2. কমা
  3. হাইফেন
  4. সেমিকোলন
সঠিক উত্তর:
কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা
• কমা বা পাদচ্ছেদ চিহ্ন (,):
অল্পক্ষণ বিরামের জন্যে কমার ব্যবহার হয়। এখানে 'এক' উচ্চারণ করার সমান সময় থামতে হয়। অল্প বিরাম বোঝাতে নিম্নলিখিত স্থানে কমা ব্যবহৃত হতে পারে-

১) বাক্য পাঠকালে সুস্পষ্টতা বা অর্থ-বিভাগ দেখানোর জন্য যেখানে স্বল্প বিরতির প্রয়োজন, সেখানে কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে পরিশ্রমে।

২) পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে বসলে শেষ পদটি ছাড়া বাকি সবগুলোর পরই কমা বসবে।
যেমন- সুখ, দুঃখ, আশা, নৈরাশ্য একই মালিকার পুষ্প।

৩) সম্বোধনের পরে কমা বসাতে হয়। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।
৪) জটিল বাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেক খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসবে। যেমন- কাল যে লোকটি এসেছিল, সে আমার পূর্বপরিচিত।
৫) উদ্ধরণ চিহ্নের পূর্বে (খণ্ডবাক্যের শেষে) কমা বসাতে হবে। যেমন- সাহেব বললেন, "ছুটি পাবেন না।”

৬)মাসের তারিখ লিখতে বার ও মাসের পর 'কমা' বসবে। যেমন- ১৬ই পৌষ, বুধবার, ১৩৯৯ সন।
৭) বাড়ি বা রাস্তার নম্বরের পরে কমা বসবে। যেমন- ৬৮, নবাবপুর রোড, ঢাকা-১০০০।

৮) নামের পরে ডিগ্রিসূচক পরিচয় সংযোজিত হলে সেগুলোর প্রত্যেকটির পরে কমা বসবে। যেমন-ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, এম.এ. পি-এইচ.ডি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
.
নিচের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. এটা হচ্ছে ষোড়শ বার্ষিক সাধারণ সভা।
  2. শকুনের দোয়ায় গরু মরে না।
  3. আকণ্ঠ ভোজনে স্বাস্থ্যহানি ঘটে।
  4. এখানে খাঁটি গরুর দুধ পাওয়া যায়।
সঠিক উত্তর:
এখানে খাঁটি গরুর দুধ পাওয়া যায়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এখানে খাঁটি গরুর দুধ পাওয়া যায়।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: এখানে খাঁটি গরুর দুধ পাওয়া যায়।
• শুদ্ধ: এখানে গরুর খাঁটি দুধ পাওয়া যায়।

অন্যদিকে,
শুদ্ধ: এটা হচ্ছে ষোড়শ বার্ষিক সাধারণ সভা।
শুদ্ধ: শকুনের দোয়ায় গরু মরে না।
শুদ্ধ: আকণ্ঠ ভোজনে স্বাস্থ্যহানি ঘটে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'সকলের দ্বারা অনুষ্ঠিত' এক কথায় বলে -
  1. সভ্য
  2. সর্বজনীন
  3. সাম্য
  4. সার্বজন
সঠিক উত্তর:
সর্বজনীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বজনীন
ব্যাখ্যা
• 'সকলের দ্বারা অনুষ্ঠিত' এক কথায় বলে - সর্বজনীন।

অন্যদিকে, 
• সমতার ভাব - সাম্য।
• সভার সদস্য - সভ্য।

• সর্বজনের হিতকর - সর্বজনীন।
• সকলের জন্য প্রযোজ্য - সর্বজনীন।
• সর্বজন সম্মন্ধীয় - সর্বজনীন।
সকলের মধ্যে প্রবীণ - সার্বজনীন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
'মুসলিম মহিলা সমিতি'র প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
  3. বেগম রোকেয়া
  4. নূরজাহান বেগম
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা
• বেগম রোকেয়া ও মুসলিম মহিলা সমিতি:
বাঙালি মুসলমান সমাজে নারীর স্বাতন্ত্র্য ও নারী স্বাধীনতার পক্ষে প্রথম প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর বেগম রোকেয়া। বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি মুসলমানদের নবজাগরণের সূচনালগ্নে নারীশিক্ষা ও নারী জাগরণে তিনিই প্রধান নেতৃত্ব দেন।

বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান। মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।

তাঁর জীবনব্যাপী সাধনার অন্যতম ক্ষেত্র এই মহিলা সমিতি। এ সমিতির ইতিহাসের সঙ্গে রোকেয়ার সংগ্রামী কর্মজীবনের কাহিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মুসলিম মহিলা সমিতি থেকে বহু বিধবা নারী অর্থ সাহায্য পেয়েছে, বহু দরিদ্র মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা হয়েছে, অসংখ্য অভাবী মেয়ে সমিতির অর্থে শিক্ষালাভ করেছে, সমাজ-পরিত্যক্ত অসহায় অনাথ শিশুরা আশ্রয় ও সাহায্য পেয়েছে। শুধু তাই নয়, কলকাতার মুসলমান নারী সমাজের ক্রমোন্নতির ইতিহাসে এই সমিতির উলে­খযোগ্য অবদান ছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৭৪৩ সালে
  2. ১৭৭৮ সালে
  3. ১৮২৬ সালে
  4. ১৮৩৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৪৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৪৩ সালে
ব্যাখ্যা
• ব্যাকরণ ও বাংলা ব্যাকরণ:
ব্যাকরণে ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। ধ্বনি, শব্দ, বাক্য ইত্যাদি বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভাষার মধ্যকার সাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য খুঁজে বের করা ব্যাকরণের কাজ। যে বিদ্যাশাখায় বাংলা ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি বর্ণনা করা হয় তাকে বাংলা ব্যাকরণ বলে।

প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় ১৭৪৩ সালে পর্তুগিজ ভাষায়। এর লেখক ছিলেন মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ। তাঁর বাংলা-পর্তুগিজ অভিধানের ভূমিকা অংশ হিসেবে তিনি এটি রচনা করেন। এই গ্রন্থের একটি অধ্যায়ে বাংলা ব্যাকরণ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল, পুর গ্রন্থটি বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ নয়। 

• এরপর ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয় নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড প্রণীত ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ। বইটির নাম 'এ গ্রামার অব দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ'। এটি বাংলা ভাষার প্রথম ব্যকারণ গ্রন্থ। 

• ১৮০১ সালে উইলিয়াম কেরি এবং ১৮২৬ সালে রামমোহন রায় ইংরেজি ভাষায় আরো দুটি উল্লেখযোগ্য বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।

• ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত রামমোহন রায়ের 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
.
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে স্বীকৃত-
  1. রামায়ণ
  2. মহাভারত
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. শূন্যপুরাণ
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা
• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত। ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।

- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায়নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায়নি।

- কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'বড় চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড় চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়। কবি বাশুলি ভক্ত ছিলেন।

- আবিষ্কর্তা ও সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় প্রাচীন বৈষ্ণব লেখকদের ইঙ্গিত অনুসরণ করে গ্রন্থের নামকরণ করেন 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'। অবশ্য পুথিতে প্রাপ্ত একটি চিরকুটে 'শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ'লেখা থাকায় অনেকে গ্রন্থটিকে 'শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ' নামকরণের পক্ষপাতী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত প্রাথমিক স্তরের শিশুশিক্ষা গ্রন্থ কোনটি?
  1. লিপিমালা
  2. কথামালা
  3. বিশ্বপরিচয়
  4. বর্ণপরিচয়
সঠিক উত্তর:
বর্ণপরিচয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণপরিচয়
ব্যাখ্যা
• 'বর্ণপরিচয়' গ্রন্থ:
'বর্ণপরিচয়' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত প্রাথমিক স্তরের শিশুশিক্ষা গ্রন্থ।
শিশুদের বাংলা ভাষা শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে এটিই প্রথম। ১৮৫৫ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এটি রচনা করেন। সেই সময় থেকে অদ্যাবধি শিশুপাঠ্য গ্রন্থ হিসেবে এটি উভয় বাংলায় সমান গুরুত্বের সঙ্গে ব্যবহূত হয়ে আসছে।

গ্রন্থটির প্রথম ভাগে স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জণবর্ণ, তদ্যোগে বিভিন্ন শব্দ ও বাক্যগঠন এবং অনুচ্ছেদ আকারে রচিত মোট একুশটি পাঠ আছে। দ্বিতীয় ভাগে সংযুক্ত বর্ণের ব্যবহার দ্বারা শব্দ ও বাক্য গঠন, ফলাযোগে নানা শব্দসৃষ্টি, অঙ্কে ও কথায় সংখ্যা গণনা এবং উপদেশধর্মী ছোট ছোট রচনা মিলে মোট দশটি পাঠ আছে।

অন্যদিকে, 
- 'লিপিমালা' গ্রন্থ রচনা করেছেন রামরাম বসু।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ 'বিশ্বপরিচয়'।
- 'কথামালা' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত গল্পের গ্রন্থ। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
রাবিয়া আমাকে বলল, “ভাই, তুমি কবে এখানে আসবে?”– পরোক্ষ উক্তিতে হবে-
  1. রাবিয়া আমাকে ভাই সম্বোধন করে বলল যে আমি কবে এখানে আসব।
  2. রাবিয়া আমাকে বলল, তুমি কবে সেখানে আসবে।
  3. রাবিয়া আমাকে ভাই সম্বোধন করে জানতে চাইল যে আমি কবে সেখানে যাব।
  4. রাবিয়া আমাকে ভাই সম্বোধন করে বলল যে আমি কবে ওখানে যাব।
সঠিক উত্তর:
রাবিয়া আমাকে ভাই সম্বোধন করে জানতে চাইল যে আমি কবে সেখানে যাব।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাবিয়া আমাকে ভাই সম্বোধন করে জানতে চাইল যে আমি কবে সেখানে যাব।
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ থেকে পরোক্ষ উক্তি পরিবর্তনের নিয়ম:
প্রশ্নবোধক, অনুজ্ঞাসূচক ও আবেগসূচক প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করতে হলে প্রধান খণ্ডবাক্যের ক্রিয়াকে ভাব অনুসারে পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন:
প্রশ্নবোধক বাক্য-
• প্রত্যক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন, "তোমরা কি ছুটি চাও?”
• পরোক্ষ উক্তি: আমরা ছুটি চাই কি না, শিক্ষক তা জিজ্ঞাসা করলেন।

• প্রত্যক্ষ উক্তি: বাবা বললেন, "কবে নাগাদ তোমাদের ফল বের হবে?"
• পরোক্ষ উক্তি: আমাদের ফল কবে নাগাদ বের হবে, বাবা তা জানতে চাইলেন।

এরূপ-
• প্রত্যক্ষ উক্তি: রাবিয়া আমাকে বলল, “ভাই, তুমি কবে এখানে আসবে?”
• পরোক্ষ উক্তি: রাবিয়া আমাকে ভাই সম্বোধন করে জানতে চাইল যে আমি কবে সেখানে যাব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
.
'উচ্চ' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. পতন
  2. অস্ত
  3. নীচ
  4. নামা
সঠিক উত্তর:
নীচ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীচ
ব্যাখ্যা
• 'উচ্চ' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - নীচ। 

অন্যদিকে, 
• উত্থান - পতন। 
• উদয় - অস্ত। 
• ওঠা - নামা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০.
'যথেচ্ছাচারী' অর্থে কোন বাগ্‌ধারাটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ধর্মের কল
  2. ধোপদুরস্ত
  3. ধর্মের ষাঁড়
  4. ধামাধরা
সঠিক উত্তর:
ধর্মের ষাঁড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মের ষাঁড়
ব্যাখ্যা
• 'ধর্মের ষাঁড় ' বাগ্‌ধারার অর্থ - যথেচ্ছাচারী। 

অন্যদিকে,  
• 'ধর্মের কল' অর্থ - সত্য।
• 'ধামাধরা' অর্থ - তোষামুদে। 
• 'ধোপদুরস্ত' অর্থ - বাবুয়ানি। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
 
১১.
'অহি' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. চাঁদ
  2. চোখ
  3. সাপ
  4. কিরণ
সঠিক উত্তর:
সাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপ
ব্যাখ্যা
• অহি (বিশেষ্য পদ),
অর্থ:
- সাপ;
- সর্প।

• 'সাপ' এর সমার্থক শব্দ - অহি, আশীবিষ, নাগ, ফণী, ভুজঙ্গ, সর্প।

অন্যদিকে, 
• 'চোখ' এর সমার্থক শব্দ: অক্ষি, চক্ষু, নয়ন, নেত্র, লোচন।
• 'চাঁদ' এর সমার্থক শব্দ: চন্দ্র, নিশাকর, বিধু, শশধর, শশাঙ্ক, সুধাংশু, হিমাংশু।
• 'কিরণ' এর সমার্থক শব্দ: কর, প্রভা, দীপ্তি, জ্যোতি, অংশু, রশ্মি, আলোকচ্ছটা, বিভা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২.
বাংলা ভাষার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে-
  1. সিংহলি ভাষার
  2. হিন্দি ভাষার
  3. পালি ভাষার
  4. নেপালি ভাষার
সঠিক উত্তর:
পালি ভাষার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পালি ভাষার
ব্যাখ্যা
• ভাষা পরিবার ও ভাষা গোষ্ঠী:
পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে।

ইংরেজি, জার্মান, ফরাসি, হিস্পানি, রুশ, পর্তুগিজ, ফারসি, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, সিংহলি প্রভৃতি ভাষার মতো বাংলা ভাষাও ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের সদস্য।

ভাষাতাত্ত্বিক অধ্যাপক অ্যাসকোলি আদি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠী থেকে সৃষ্ট ভাষাগুলোকে দুটো প্রধান ভাগে ভাগ করেছেন - একটি শতম (Satam) ও অন্যটি কেন্তুম (Centum)। ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর শতম শাঁখা থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি।  

বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া। ধ্রুপদি ভাষা সংস্কৃত এবং পালির সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের আদি ভাষা বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় পরিণত হয়েছে। এই বিবর্তনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্তর বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করতে হয়েছে, সেগুলো হলো: ইন্দো-ইউরোপীয় - ইন্দো-ইরানীয় - ভারতীয় আর্য - প্রাকৃত - বাংলা।

আনুমানিক এক হাজার বছর আগে পূর্ব ভারতীয় প্রাকৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে। বাংলা ভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন 'চর্যাপদ'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১৩.
'পরিচ্ছন্ন' শব্দটি কোন সন্ধির নিয়মে গঠিত?
  1. ব্যঞ্জনসন্ধি
  2. স্বরসন্ধি
  3. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
  4. বিসর্গসন্ধি
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জনসন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জনসন্ধি
ব্যাখ্যা
• স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি = ব্যঞ্জনসন্ধি:
পূর্বপদের শেষে যদি স্বরধ্বনি থাকে এবং পরপদের প্রথম ধ্বনি ছু হয় তবে দুয়ের সন্ধিতে ছ-ধ্বনি চ্ছ হয়ে যায়। স্বরধ্বনি চ্ছ-এর সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- প্র + ছদ = প্রচ্ছদ,
- বৃক্ষ + ছায়া = বৃক্ষচ্ছায়া,
- মুখ + ছবি = মুখচ্ছবি,
- এক + ছত্র = একচ্ছত্র।
- আ + ছন্ন = আচ্ছন্ন,
- আ + ছাদন আচ্ছাদন,
- কথা + ছলে = কথাচ্ছলে,
- পরি + ছেদ = পরিচ্ছেদ,
- বি + ছেদ = বিচ্ছেদ।
- পরি + ছন্ন = পরিচ্ছন্ন,
- বি + ছিন্ন = বিচ্ছিন্ন।
- তরু + ছায়া = তরুচ্ছায়া ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪.
বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা ব্যকারণের কোন অংশের আলোচিত বিষয়?
  1. বাক্যতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. ধ্বনিতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
অর্থতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় বিভক্ত হয় অন্তত চারটি ভাগে। যথা: ধ্বনিতত্ত্ব, রূপতত্ত্ব, বাক্যতত্ত্ব ও অর্থতত্ত্ব।

• ধ্বনিতত্ত্ব:
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বিষয়- 
- বাগ্‌যন্ত্র,
- বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া,
- ধ্বনির বিন্যাস,
- স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য,
- ধ্বনিদল প্রভৃতি।

• রূপতত্ত্ব:
রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়। বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।

• বাক্যতত্ত্ব:
বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়। বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়-
- এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর,
- বাক্যের বাচ্য,
- উক্তি,
- কারক বিশ্লেষণ,
- বাক্যের যোগ্যতা
- বাক্যের উপাদান লোপ,
- যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

• অর্থতত্ত্ব:
ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত আলোচ্য বিষয়গুলো হলো-
- বিপরীত শব্দ,
- প্রতিশব্দ,
- শব্দজোড়,
- বাগ্‌ধারা প্রভৃতি বিষয়।

এছাড়া,
 শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১৫.
বাগ্‌যন্ত্রের অংশ নয় কোনটি?
  1. নাসিকা
  2. ফুসফুস
  3. শ্বাসতন্ত্র
  4. দন্তমূল
সঠিক উত্তর:
শ্বাসতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বাসতন্ত্র
ব্যাখ্যা
• বাগ্‌যন্ত্রের অংশ নয়- শ্বাসতন্ত্র। 

• বাগ্‌যন্ত্র:

ধ্বনি উচ্চারণ করতে যেসব প্রত্যঙ্গ কাজে লাগে, সেগুলোকে একত্রে বাগ্‌যন্ত্র বলে। মানবদেহের উপরিভাগে অবস্থিত ফুসফুস থেকে শুরু করে ঠোঁট পর্যন্ত ধ্বনি উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতিটি প্রত্যঙ্গই বাগ্‌যন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত।

বাগ্‌যন্ত্র বিভিন্ন অংশগুলো হলো: 
- ফুসফুস,
- শ্বাসনালি,
- স্বরযন্ত্র,
- জিত,
- আলজিভ,
- তালু,
- দন্তমূল ও দন্ত,
- ওষ্ঠ,
- নাসিকা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১৬.
ভাষার মূল রূপ কোনটি?
  1. লেখ্য ভাষারীতি
  2. কথ্য ভাষারীতি
  3. সাধু ভাষারীতি
  4. কাব্য ভাষারীতি
সঠিক উত্তর:
কথ্য ভাষারীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কথ্য ভাষারীতি
ব্যাখ্যা
• কথ্য ভাষারীতি:
কথ্য ভাষারীতি ভাষার মূল রূপ। কথ্য ভাষা রীতির উপরে ভিত্তি করে লেখ্য ভাষা রীতির রূপ তৈরি হয়। স্থান ও কালভেদে ভাষার যে পরিবর্তন ঘটে তা মূলত কথ্য ভাষা রীতির পরিবর্তন। তাই কথ্য ভাষা রীতির পরিবর্তনের ফলে নতুন নতুন ভাষা ও উপভাষার জন্ম হয়।

অন্যদিকে, 
• দাপ্তরিক কাজ, সাহিত্য রচনা, যোগাযোগ ও জ্ঞানচর্চার প্রয়োজনে লেখ্য বাংলা ভাষায় সাধু রীতির জন্ম হয়।

• সাহিত্যিক ভাষার বাক্যরূপ এবং অর্থ প্রায়ই সাধারণ ভাষা রীতি থেকে আলাদা হয়। কবিতার ভাষায় এ পার্থক্যের পরিমাণ খুবই বেশি। বাংলা কাব্য রীতি আবার দুই ভাগে বিভক্ত: পদ্য কাব্য রীতি ও গদ্য কাব্য রীতি। পদ্য কাব্য রীতি বাংলা ভাষার সবচেয়ে পুরনো রীতি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১৭.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. চোখে সরষেফুল দেখছি।
  2. দশের লাঠি, একের বোঝা।
  3. পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে হর্ণ বাজানো নিষেধ।
  4. সকল ছাত্র উপস্থিত আছে।
সঠিক উত্তর:
পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে হর্ণ বাজানো নিষেধ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে হর্ণ বাজানো নিষেধ।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ: কলেজ / পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে হর্ণ বাজানো নিষেধ।
শুদ্ধ: কলেজ / পরীক্ষা চলাকালে হর্ন বাজানো নিষেধ।

অন্যদিকে, 
শুদ্ধ: চোখে সরষেফুল দেখছি।
শুদ্ধ: দশের লাঠি, একের বোঝা।
শুদ্ধ: সকল ছাত্র উপস্থিত আছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড হায়াৎ মামুদ।
১৮.
দ্বিস্বরধ্বনি বর্ণ কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• দ্বিস্বরধ্বনি:
পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়। যেমন 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্‌] তৈরি হয়েছে। 

• বাংলা বর্ণমালায় দুটি দ্বিস্বরধ্বনির জন্য আলাদা বর্ণ নির্ধারিত আছে, যথা: ঐ এবং ঔ।
- ঐ-এর মধ্যে দুটি ধ্বনি আছে, একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [ই্‌]।
- একইভাবে ঔ-এর মধ্যে রয়েছে একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [উ্‌]।

অন্যদিকে,
'ঞ' ও 'ঝ' ব্যঞ্জনধ্বনি এবং 'উ' স্বরবর্ণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১৯.
স্বভাবতই মূর্ধন্য ব্যবহৃত হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. বাণিজ্য
  2. ব্যাকরণ
  3. ব্রাহ্মণ
  4. কৃপণ
সঠিক উত্তর:
বাণিজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাণিজ্য
ব্যাখ্যা
• ণত্ব বিধান:
তৎসম শব্দের বানানে 'মূর্ধন্য-ণ' এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণত্ব বিধান।

'মূর্ধন্য-ণ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়। যেমন- ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
৩. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য য় বহৎ এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন: কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ), অর্পণ, লক্ষণ। এরূপ-  রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

৪. কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বেণু,  বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, বাণিজ্য, লবণ, মণ, কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্থাণু, গুণ, পুণ্য, বেণী। 

যেসব ক্ষেত্রে 'মূর্ধন্য-ণ' এর ব্যবহারে প্রযোজ্য নয়:
• সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না, এরূপ ক্ষেত্রে ন হয়। যেমন: ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।
• ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো ণ হয় না। যেমন: অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২০.
'ওখানে' কালসূচক শব্দের পরোক্ষরূপ কোনটি?
  1. এখানে
  2. সেখানে
  3. ঐখানে
  4. ক ও গ
সঠিক উত্তর:
ঐখানে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐখানে
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরোক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।
যথা:
প্রত্যক্ষ - পরোক্ষ:
• এই - সেই,
• ইহা - তাহা,
• এ - সে,
• আগামীকাল -  পরদিন,
• গতকাল - আগেরদিন,
• গতকল্য - পূর্বদিন,
• আজ - সেদিন,
• ওখানে - ঐখানে,
• এখানে - সেখানে,
• এখন - তখন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২১.
'নেই আঁকড়া' বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. অস্থায়ী বস্তু
  2. একগুঁয়ে
  3. শ্রমবিমুখ
  4. কপট ব্যক্তি
সঠিক উত্তর:
একগুঁয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একগুঁয়ে
ব্যাখ্যা
• 'নেই আঁকড়া' বাগ্‌ধারার অর্থ - একগুঁয়ে। 

অন্যদিকে, 
• 'ননীর পুতুল' বাগ্‌ধারার অর্থ - শ্রমবিমুখ। 
• 'বর্ণচোরা' বাগ্‌ধারার অর্থ - কপট ব্যক্তি। 
• 'বালির বাঁধ' বাগ্‌ধারার অর্থ - অস্থায়ী বস্তু। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 
২২.
'কুনজর' শব্দটি কোন উপসর্গ যোগে গঠিত?
  1. তৎসম উপসর্গ
  2. ফারসি উপসর্গ
  3. আরবি উপসর্গ
  4. বাংলা উপসর্গ
সঠিক উত্তর:
বাংলা উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার উপসর্গ আছে: বাংলা, তৎসম (সংস্কৃত) এবং বিদেশি উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ:

বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি। এগুলো হলো: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• 'কু' উপসর্গ যোগে কুৎসিত/অপকর্ষ অর্থে গঠিত শব্দ-
- কুঅভ্যাস,
- কুকথা,
- কুনজর,
- কুসঙ্গ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২৩.
ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণ কোনটি?
  1. ডেস্ক > ডেক্স
  2. তুলা > তুলো
  3. সত্য > সত্যি
  4. মাছুয়া > মাউছ্যা
সঠিক উত্তর:
ডেস্ক > ডেক্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডেস্ক > ডেক্স
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি বিপর্যয়:
উচ্চারণের সময় কিছু কিছু শব্দস্থিত ধ্বনির স্থানপরিবর্তন ঘটে। আগের ধ্বনি পরে যায় ও পরের ধ্বনি আগে আসে-এরকম অবস্থানগত বিপর্যয় দেখা যায়। যেমন- পিশাচ > পিচাশ। 'শাচ' ধ্বনি দুটি (শা + চ) স্থান বদলে হয়েছে 'চাশ' (চা+শ)।

উচ্চারণের সময় শব্দস্থিত ধ্বনি স্থান পরিবর্তন করলে, তাকে ধ্বনিবিপর্যয় বা বর্ণবিপর্যয় বলে।
যেমন:
• বাক্স > বাস্ক,
• তলোয়ার > তরোয়াল,
• মগজ > মজগ,
• রিকশা > রিশকা,
• লাফ > ফাল,
• ডেস্ক > ডেক্স ইত্যাদি।

মৌখিক ভাষাতেই সাধারণত উচ্চারণদোষে ধ্বনি-বিপর্যয় ঘটে। এ রীতি অতি প্রাচীন। সংস্কৃতে এরকম দৃষ্টান্ত আছে। যেমন- করেণু > কণেরু।
বিদেশি শব্দের বাংলা উচ্চারণে ধ্বনি-বিপর্যয়ের দৃষ্টান্ত নিতান্ত অল্প নয়।
যেমন:  বাক্স > বাস্ক, ডেস্ক > ডেক্স, সিগন্যাল > সিন্‌গ্যাল > সিংগেল ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• তুলা > তুলো; প্রগত স্বরসঙ্গতির উদাহরণ। 
• সত্য > সত্যি; অন্তস্বরাগমের উদাহরণ। 
• মাছুয়া > মাউছ্যা; অপিনিহিতির উদাহরণ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৪.
কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি?
  1. চুপচাপ
  2. মড়মড়
  3. সুরেসুরে
  4. তাড়াতাড়ি
সঠিক উত্তর:
মড়মড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মড়মড়
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি:
কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। এ জাতীয় ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুইবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি। 

ধ্বন্যাত্মক দ্বিরক্ত শব্দ কয়েকটি উপায়ে গঠিত হয়। যেমন:
• মানুষের ধ্বনির অনুকার: ভেউ ভেউ – মানুষের উচ্চস্বরে কান্নার ধ্বনি। এরূপ-ট্যা ট্যা, হি হি ইত্যাদি।

• জীবজন্তুর ধ্বনির অনুকার: ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ধ্বনি)। এরূপ-মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), কুহু কুহু (কোকিলের ডাক), কা কা (কাকের ডাক) ইত্যাদি।

• বস্তুর ধ্বনির অনুকার: ঘচাঘচ (ধান কাটার শব্দ)। এরূপ- মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ), ঝমঝম (বৃষ্টি পড়ার শব্দ), হু হু (বাতাস প্রবাহের শব্দ) ইত্যাদি।

• অনুভূতিজাত কাল্পনিক: ঝিকিমিকি (ঔজ্জ্বল্য)। এরূপ- ঠা ঠা (রোদের তীব্রতা), কুট কুট (শরীরে কামড় লাগার মতো অনুভূতি)। অনুরূপভাবে- মিন মিন, পিট পিট, ঝি ঝি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• চুপচাপ ও তাড়াতাড়ি অনুকার দ্বিরুক্ত শব্দ। 
• সুরেসুরে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২৫.
কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে রূপান্তরিত করলে ক্রিয়া কোন পুরুষ হয়?
  1. উত্তম পুরুষ
  2. নাম পুরুষ
  3. মধ্যম পুরুষ
  4. দ্বিতীয় পুরুষ
সঠিক উত্তর:
নাম পুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাম পুরুষ
ব্যাখ্যা
• কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্য রূপাতনের নিয়ম:
কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে-  কর্তায় ষষ্ঠী বা দ্বিতীয়া বিভক্তি হয় এবং ক্রিয়া নাম পুরুষের হয়।
যেমন-
• কর্তৃবাচ্য: আমি যাব না।
• ভাববাচ্য: আমার যাওয়া হবে না।

• কর্তৃবাচ্য: তুমিই ঢাকা যাবে।
• ভাববাচ্য: তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে।

• কর্তৃবাচ্য: তোমরা কখন এলে?
• ভাববাচ্য: তোমাদের কখন আসা হলো?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২৬.
ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ কোনটি?
  1. দেড়
  2. পোয়া
  3. আধ
  4. দ্বি
সঠিক উত্তর:
দ্বি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বি
ব্যাখ্যা
• ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ:
- একের পর এক যে সংখ্যাগুলো আসে, সেগুলো ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ। যেমন ১ (এক), ২ (দুই), ৩ (তিন), ৪ (চার), ৫ (পাঁচ), ৬ (ছয়), ৭ (সাত), ৮ (আট), ৯ (নয়), ১০ (দশ) ইত্যাদি।

- ক্রমবাচক সংখ্যাবর্ণের সুবিধা হলো এতে ১ থেকে ৯ এবং ০ দিয়ে অসীম সংখ্যার পূর্ব পর্যন্ত ক্রম তৈরি করা যায়।

- ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দের এক বা একাধিক প্রতিশব্দ রয়েছে। এগুলো কখনো স্বতন্ত্রভাবে ব্যবহৃত হয়, কখনো সমাসবদ্ধ শব্দের পূর্বপদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন 'দুই' সংখ্যাশব্দের প্রতিশব্দ 'দ্বি', 'দু', এবং 'দো'। 'তিন' সংখ্যাশব্দের প্রতিশব্দ 'ত্রি' এবং 'তে'।

অন্যদিকে, 
• ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
কখনো পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
যেমন- আধ, সাড়ে, পোয়া, সোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
২৭.
'যে গাছ কোনো কাজে লাগে না' এক কথায় কী বলে?
  1. উদ্বাস্তু
  2. পরগাছা
  3. বনস্পতি
  4. আগাছা
সঠিক উত্তর:
আগাছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগাছা
ব্যাখ্যা
• 'যে গাছ কোনো কাজে লাগে না' এক কথায় বলে - আগাছা।

অন্যদিকে, 
• যে বাস্তু থেকে উৎখাত হয়েছে - উদ্বাস্তু।
• যে গাছে ফল ধরে, কিন্তু ফুল ধরে না - বনস্পতি।
• যে গাছ অন্য গাছকে আশ্রয় করে বাঁচে - পরগাছা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২৮.
'মৃদু' শব্দের বিপরীত শব্দ-
  1. লঘু
  2. অধিক
  3. মুখ্য
  4. প্রবল
সঠিক উত্তর:
প্রবল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবল
ব্যাখ্যা
• 'মৃদু' শব্দের বিপরীত শব্দ - প্রবল। 

অন্যদিকে, 
• 'গুরু' শব্দের বিপরীত শব্দ - লঘু। 
• 'অল্প' শব্দের বিপরীত শব্দ - অধিক। 
• 'মুখ্য' শব্দের বিপরীত শব্দ - গৌণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২৯.
'তারা সকালে পড়ে।'- বাক্যে 'সকালে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে সপ্তমী
  2. অধিকরণ সপ্তমী
  3. করণে সপ্তমী
  4. কর্মে সপ্তমী
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
যে স্থানে বা যে সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে অধিকরণ কারক বলে।

বাক্যে যে পদে ক্রিয়ার আধারকে বোঝায় তাকে বলে অধিকরণ কারক। ক্রিয়াপদ ধরে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে-এসব প্রশ্ন করলে তার উত্তরে অধিকরণ কারক পাওয়া যায়।
যেমন:
- পড়ুয়ারা ক্লাসে পড়ে। [কোথায় পড়ে? ক্লাসে অর্থাৎ ক্লাসের মধ্যে। তাই ক্লাসে অধিকরণ কারক।]
- তারা সকালে পড়ে। [কখন পড়ে? সকালে। 'সকালে' অধিকরণ কারক সপ্তমী বিভক্তি।]

অধিকরণ কারকে বিভক্তির প্রয়োগ-
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- শফিক চাটগাঁ থাকে।
- তুমি এখন বাড়ি যেতে পার।

• তৃতীয়া বিভক্তি:
- পথ দিয়ে চল।
- বড় রাস্তা দিয়ে যেও।

• পঞ্চমী বিভক্তি:
- বাড়ি থেকে টাকাটা চেয়ে দেখ।

• সপ্তমী বিভক্তি:
- আহারে রুচি নেই।
- এ বাড়িতে কেউ নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩০.
অশুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. প্রাতঃ + আশ = প্রাতরাশ
  2. পুনঃ + উত্থান = পুনরুত্থান
  3. অন্তঃ + রিত = অন্তরিত
  4. পুনঃ + অধিকার = পুনরধিকার
সঠিক উত্তর:
অন্তঃ + রিত = অন্তরিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্তঃ + রিত = অন্তরিত
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ- অন্তঃ + রিত = অন্তরিত। 
- শুদ্ধরূপ- শুদ্ধ- অন্তঃ + ইত = অন্তরিত। 

------------------
• বিসর্গ সন্ধির নিয়ম:

অন্তঃ, পুনঃ, প্রাতঃ (অন্তর্, পুনর্, প্রাতর্) ইত্যাদির পর স্বরধ্বনি থাকলে সন্ধির ফলে বিসর্গ 'র' হয়ে পরবর্তী স্বরধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- অন্তঃ + অঙ্গ = অন্তরঙ্গ। 
- পুনঃ + অধিকার = পুনরধিকার।
- প্রাতঃ + আশ = প্রাতরাশ। 
- অন্তঃ + আত্মা = অন্তরাত্মা।
- অন্তঃ + ইন্দ্রিয় = অন্তরিন্দ্রিয়।
- অন্তঃ + ঈক্ষ = অন্তরীক্ষ,
- অন্তঃ + ঈপ = অন্তরীপ।
- পুনঃ + উত্থান = পুনরুত্থান,
- পুনঃ + উক্তি = পুনরুক্তি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩১.
বাক্যের বিভিন্ন ধরনের প্রকাশভঙ্গিকে বলা হয়-
  1. বচন
  2. উক্তি
  3. বাচ্য
  4. কাল
সঠিক উত্তর:
বাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাচ্য
ব্যাখ্যা
বাক্যের বিভিন্ন ধরনের প্রকাশভঙ্গিকে বলা হয় 'বাচ্য'। বাচ্য প্রধানত তিন প্রকার। যথা:
(১) কর্তৃবাচ্য,
(২) কর্মবাচ্য ও
(৩) ভাববাচ্য।

• কর্তৃবাচ্য: যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রাধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।

• কর্মবাচ্য: যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন- শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।

• ভাববাচ্য: যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে। ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন-
- আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৩২.
'চুল' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. চিকুর
  2. লোচন
  3. সলিল
  4. যামী
সঠিক উত্তর:
চিকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিকুর
ব্যাখ্যা
• চিকুর (বিশেষ্য পদ)
অর্থ:
- চুল; কেশ; কুন্তল।
-  বিজলি; বিদ্যুৎ; তড়িৎ।

• 'চুল' এর সমার্থক শব্দ - অলক, কুন্তল, কেশ, চিকুর।

অন্যদিকে,
• চোখ- অক্ষি, চক্ষু, নয়ন, নেত্র, লোচন।
• জল - অম্বু, জীবন, নীর, পানি, সলিল।
• রাত্রি/রাত-  রাত্তির, রাতি, নিশি, নিশা, নিশীথ, রাত, রজনী, যামবতী, যামী, যামিকা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং অভিগম্য অভিধান।
৩৩.
'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. মাহমুদুল হক
  3. আল মাহমুদ
  4. ফররুখ আহমদ
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থ:
- আল মাহমুদের কবি-প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করেছিল 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩) কাব্যগ্রন্থটি।

- পুরো কাব্যগ্রন্থটিতে বঞ্চিতের ক্ষোভ, শ্রমিকের ঘাম, কৃষকের পরিশ্রম গ্রামীণ আবহে উঠে এসেছে।

- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে 'সোনালী কাবিন' নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত। এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে। বলা যেতে পারে, বীজ কাব্যগ্রন্থ।

অন্য কবিতাগুলো হলো:
- জাতিস্মর,
- পালক ভাঙার প্রতিবাদে,
- ক্যামোফ্লাজ,
- শোণিতে সৌরভ,
- তোমার আড়ালে ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৪.
'কমলে কামিনী' নাটকটি কার রচনা?
  1. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
• 'কমলে কামিনী' নাটকটি (১৮৮৩) দীনবন্ধু মিত্রের শেষ রচনা। রোমান্টিক প্রণয়চিত্র হিসেবে এর গুরুত্ব।

দীনবন্ধু মিত্র রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক ও প্রহসন সমূহ:
• 'নীলদর্পণ' (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।

• 'নবীন তপস্বিনী' (১৮৬৩) দীনবন্ধু মিত্রের দ্বিতীয় নাটক। এতে যে দুটি ভিন্ন কাহিনি স্থান পেয়েছে তা পরিপূর্ণভাবে মিশ্রিত হয় নি।

• 'সধবার একাদশী' (১৮৬৬) নামক প্রহসনে তৎকালীন ইয়ংবেঙ্গল দলের উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারের চিত্র অঙ্কন করা হয়েছে। প্রহসনটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা' অনুসরণে রচিত। এতে গ্রাম্যতা ও রুচিবিকল্পতা থাকলেও তা গুরুত্বপূর্ণ রচনা।

• 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' (১৮৬৬) বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে লিখিত একটি প্রহসন। নামের মাধ্যমেই এর পরিচয় প্রকাশমান। 

• 'জামাই বারিক' (১৮৭২) প্রহসনটি সামাজিক বিষয়াবলম্বনে রচিত। জামাতা পোষণ পদ্ধতি ব্যঙ্গ করে লিখিত এই নাটকে তিনি যথেষ্ট কৃতিত্ব প্রকাশ করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৫.
চর্যার ৪৯ নং পদের রচয়িতা কে?
  1. ভাদেপা
  2. লুইপা
  3. ভুসুকুপা
  4. শবরপা
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের কবি 'ভুসুকুপা':
• ভুসুকুপা চর্যাপদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদের রচয়িতা। তিনি মোট আটটি পদ রচনা করেন।
• চর্যাপদের ২৩ নং পদটি তারই রচনা। চর্যার ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া যায়২৩ নং পদের ৬টি পঙ্‌ক্তি পাওয়া গেছে। বাকি ৪টি পঙ্‌ক্তি পাওয়া যায়নি
• ভুসুকুপা রচিত চর্যার পদগুলো হলো: ৬নং, ২১নং, ২৩নং, ২৭নং, ৩০ নং, ৪১নং, ৪৩ নং, ৪৯নং। 

• তিনি তাঁর রচিত ৪৯নং পদে পদ্মা নদী (পউআঁ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন।

৪৯নং পদ-
বাজ ণাব পাড়ী পউআঁ খালে বাহিউ.
অদঅ বঙ্গাল দেশ লুড়িউ।।
আজি ভুসুকু ভইলী।
নিঅ ঘরিণী চণ্ডালে লেল।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
৩৬.
মীর মশাররফ হোসেন সম্পাদিত পত্রিকা-
  1. সওগাত
  2. মোহাম্মদী
  3. আজীজন নেহার
  4. মোসলেম ভারত
সঠিক উত্তর:
আজীজন নেহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজীজন নেহার
ব্যাখ্যা
• 'আজীজন নেহার' পত্রিকা:
- মীর মশাররফ হোসেন সম্পাদিত মাসিক 'আজীজন নেহার'। এই পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭৪ সালে।

- মুসলমানদের সাহিত্যচর্চার জন্য পত্রিকা প্রকাশ ও সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে পত্রিকাটির যাত্রা শুরু হলেও মুসলমান পরিচালিত পত্রিকার লেখক ও পাঠকের অভাব সহ বিভিন্ন কারণে পত্রিকাটি বেশি দিন চলেনি। মনে করা হয়, মশাররফ হোসেন তাঁর প্রথম স্ত্রীর নামে এই পত্রিকার নামকরণ করেছিলেন।
- এই পত্রিকাটি বিলুপ্ত হলে তিনি 'হিতকরী” (১৮৯০) নামে অন্য একটি স্বল্পায়ু পাক্ষিক পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে, 
• মোহাম্মদী একটি বাংলা মাসিক পত্রিকা। ১৯০৩ সালের আগস্ট মাসে মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
• ১৯২০ সালে কলকাতা থেকে মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় 'মোসলেম ভারত' মাসিক সাহিত্যপত্র হিসেবে প্রকাশিত হয়।
• ১৯১৮ সালে প্রকাশিত হয় 'সওগাত' পত্রিকা। এর সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭.
'রজনী' উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'রজনী' উপন্যাস:
- 'রজনী' (১৮৭৭) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস। 
- উপন্যাসের নায়িকা রজনীর সঙ্গে লর্ড লিটন প্রণীত 'দি লাস্ট ডেজ অফ পম্পেই' নামক উপন্যাসের নিডিয়া চরিত্রের কিছুটা ঐক্য আছে। বিভিন্ন পাত্র-পাত্রীর জবানবন্দিতে এই উপন্যাস রচিত।

- এই রীতিটিও যে বঙ্কিম ইংরেজ ঔপন্যাসিক কার্লিনস অনুসরণে করেছেন তা তিনি ভূমিকায় জানিয়েছেন।

- বাংলা উপন্যাস গড়ে তুলবার জন্য এভাবেই পাশ্চাত্যের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র। বঙ্কিমের অধিকাংশ উপন্যাসের মতোই এখানেও প্রেম ও আদর্শের সংঘাতই কাহিনির মূল উপজীব্য।

- 'রজনী'কে প্রকৃত উপন্যাস না বলে রোমান্স বলা হয়ে থাকে। কারণ এখানে বেশ কল্পদৃশ্যে ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৮.
'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলনটি সম্পাদনা করেন-
  1. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. অতুলপ্রসাদ সেন
  4. কাজী ইমদাদুল হক
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
 'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলন: 
• ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে বাংলা ভাষার জন্য ঢাকায় যে আত্মদান করা হয় তার স্মরণে ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে হাসান হাফিজুর রহমান 'একুশে ফেব্রুয়ারী' নামে একটি সাহিত্য সংকলন সম্পাদনা করেন।

• এর প্রকাশক ছিলেন মোহাম্মদ সুলতান। সম্পাদক ও প্রকাশক উভয়েই বামপন্থি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

• এই সংকলনে কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, গান, নকসহা, ইতিহাস শিরোনামে ৬টি বিভাগে মোট ২২ জন লেখক লিখেছেন। এই সংকলনেই প্রথম প্রকাশিত হয় আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' গানটি। প্রকাশের তিন সপ্তাহের মধ্যে পাকিস্তানের তৎকালীন সরকার সংকলনটি বাজেয়াপ্ত করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৯.
কোনটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস?
  1. বিন্দুর ছেলে
  2. বিলাসী
  3. মেজদিদি
  4. বিরাজ বৌ
সঠিক উত্তর:
বিরাজ বৌ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরাজ বৌ
ব্যাখ্যা
• 'বিরাজ বৌ' উপন্যাস:
- 'বিরাজ বৌ' (১৯১৪) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত জনপ্রিয় এবং পুস্তক অভিশং আকারে দ্বিতীয় প্রকাশিত উপন্যাস।
- 'ভারতবর্ষ' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৩ সালে।
- বাঙালি গৃহস্থ জীবনের বাস্তব ছবি এবং বাঙালি নারীর মমত্ব ও কারুণ্যের রূপায়ণের জন্য এই উপন্যাস ভাবাকুলতা সত্ত্বেও অভিনন্দিত হয়। সুন্দরী বিরাজ বৌয়ের নানা সমস্যা এ উপন্যাসের বিষয়।

অন্যদিকে, 
বিন্দুর ছেলে, বিলাসী ও মেজদিদি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত গল্প। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪০.
সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. হাতেমতায়ী
  2. সাত সাগরের মাঝি
  3. ছাড়পত্র
  4. পাখির বাসা
সঠিক উত্তর:
ছাড়পত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাড়পত্র
ব্যাখ্যা
• 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ:
- 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থটি লিখেছেন কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য। 
- 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ (১৯৪৭) কবির মৃত্যুর তিনমাস পর প্রকাশিত হয়। এটি বাংলা রাজনৈতিক কবিতার ইতিহাসে একটি স্মরণীয় গ্রন্থ।
- এই গ্রন্থের অনেক কবিত বলিষ্ঠ উচ্চারণে এবং মৌলিক চিত্রকল্প সৃষ্টিতে অসামান্য।
- 'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি / নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার'- এই পঙ্‌ক্তিগুলো কাব্যটিকে মহিমান্বিত করেছে। 

অন্যদিকে, 
হাতেমতায়ী, সাত সাগরের মাঝি ও পাখির বাসা ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।