পরীক্ষা আর্কাইভ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়50 minutes
মোট প্রশ্ন৯৮
সিলেবাস
পরীক্ষা - ২১ Full Model Test - 2
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৯৮ প্রশ্ন

.
“Revenge is a wild justice.” The figure of speech used here is -
  1. Simile
  2. Metaphor
  3. Hyperbole
  4. Personification
ব্যাখ্যা

Correct Answer: খ) Metaphor.

• 'Revenge is a wild justice' is an example of - Metaphor.
- এখানে Revenge কে সরাসরি wild justice বলা হয়েছে।
- এটি একটি implicit comparison → অর্থাৎ দুটি ভিন্ন জিনিসের মধ্যে রূপকার্থে তুলনা করা হয়েছে। তাই এটি Metaphor.
 
About Metaphor:
Definition: A metaphor is an implicit comparison between two different things.
বাংলা: যখন কোনো বাক্যে দুটি ভিন্ন বা বিজাতীয় জিনিসের মাঝে পরোক্ষভাবে বা রূপকার্থে তুলনা করা হয় তাকে বলা হয় Metaphor।
Examples:
- Time is money.
- My life is local bus.
- Revenge is a wild justice.
- All the world’s a stage.
- Life is but a walking shadow.

Other options:
ক) Simile (উপমা): A simile is an explicit comparison between two different things using words like as or like.
- যখন দুটি ভিন্ন জিনিসকে as বা like দ্বারা সরাসরি তুলনা করা হয়, তখন তাকে উপমা (Simile) বলে।
Example:
- Life is like a journey.
- Her smile is as bright as the sun.
 
গ) Hyperbole (অতিশয়োক্তি): Hyperbole is an exaggerated statement, not meant to be taken literally.
-  অতিরঞ্জিত বা অত্যুক্তি প্রকাশের অলঙ্কারকে Hyperbole (অতিশয়োক্তি) বলে।
Example:
- I’ve told you a thousand times. (অতিরঞ্জন)
- She cried a river of tears.
 
ঘ) Personification (ব্যক্তিরূপ দান): Personification is a figure of speech in which lifeless objects or abstract ideas are given human qualities.
-  জড় বস্তু বা বিমূর্ত ধারণাকে মানুষের গুণ বা আচরণ দেওয়া হলে তাকে ব্যক্তিরূপ দান (Personification) বলে।
Example:
- Death lays his icy hand on kings.
- The wind whispered through the trees.

Source: An ABC of English Literature by Dr. M Mofizar Rahman.

.
Which of the following is correctly spelt?
  1. Encyclopadea
  2. Encyclopedya
  3. Encyclopaedia
  4. Encyclopeadea
ব্যাখ্যা

• The correctly spelt word is -গ) Encyclopaedia.

• Encyclopaedia (Noun)
- English Meaning: A book or set of books containing many articles arranged in alphabetical order that deal either with the whole of human knowledge or with a particular part of it.
- Bangla Meaning: বিশ্বকোষ; জ্ঞানকোষ; বিদ্যাকোষ; তথ্যকোষ।

• Encyclopedia: American spelling of Encyclopaedia.

Example Sentence:
1. He spent hours reading the encyclopaedia to gather information about world history.
2. An encyclopaedia contains articles on a wide range of subjects.
3. Students often use an encyclopaedia for quick reference. 

Source:
1. English-Bangla Dictionary.
2. Cambridge Dictionary.
3. Merriam-Webster Dictionary.

.
Which linguistic term refers to the study of the form and structure of words?
  1. Syntax
  2. Semantics
  3. Morphology
  4. Etymology
ব্যাখ্যা

Correct Answer: গ) Morphology.

• Morphology (noun): 
English Meaning - The study of the form of words and phrases. 
Bangla Meaning - (ভাষাবিজ্ঞান) ভাষার রূপমূলসমূহ কীভাবে সংযুক্ত হয়ে শব্দ গঠন করে, এতদ্বিষয়ক বিদ্যা; রূপতত্ত্ব।

Other options,
ক) Syntax - (বাক্যরীতি) - The grammatical arrangement of words in a sentence.
খ) Semantics - (বাগর্থবিজ্ঞান) - The study of meanings in a language. 
ঘ) Etymology - (শব্দের উৎপত্তি ও ইতিহাসসংক্রান্ত বিজ্ঞান) - The study of the origin and history of words, or a study of this type relating to one particular word.

Source: 
1. Cambridge Dictionary. 
2. Accessible Dictionary by Bangla Academy. 

.
What does the idiom "Narrow Escape" signify?
  1. Winning a competition easily
  2. Being saved just in time
  3. Getting lucky in business
  4. Escaping from a place secretly 
ব্যাখ্যা

Correct Answer: খ) Being saved just in time.

• Narrow escape (Idiom)
English Meaning: a situation in which an accident or other unfortunate incident is only just avoided.
Bangla Meaning: অল্পের জন্য রক্ষা পাওয়া।

Other Options:
ক) Winning a competition easily → প্রতিযোগিতায় সহজেই জয়লাভ করা।
গ) Getting lucky in business → ব্যবসায়ে ভাগ্যবান হওয়া।
ঘ) Escaping from a place secretly → কোনো জায়গা থেকে গোপনে পালিয়ে যাওয়া।

Example Sentence: We had a narrow escape from a fatal accident.
Bangla Meaning: মারাত্মক একটা দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য বেচে যাওয়া।

Source: Live MCQ Lecture.

.
Choose the correct pronoun to complete the sentence:
"She taught ______ how to play the guitar."
  1. herself
  2. her
  3. she
  4. hers
ব্যাখ্যা

Correct Answer: ক) herself.

তাই সঠিক বাক্য হবে: “She taught herself how to play the guitar.”
Bangla Meaning: সে নিজেকে গিটার বাজানো শিখিয়েছে। 

• Reflexive pronoun তখন ব্যবহৃত হয় যখন Subject এবং Object একই ব্যক্তি হয়।
- এখানে Subject = She এবং Object = herself → একই ব্যক্তি।
- তাই Reflexive pronoun 'herself' ব্যবহার করতে হবে।

• Reflexive Pronoun :
- যে সকল pronoun, personal pronoun - এর সাথে self / selves যোগে গঠিত হয় সেগুলোকে Reflexive pronoun বলে।
- একই ব্যক্তি Subject ও Object হয় এবং Object হিসেবে Reflexive Pronoun ( যেমন – himself, myself, themselves etc. ) বসে।
- কতিপয় reflexive pronoun হচ্ছে - myself, ourselves, yourself, yourselves, himself, itself etc.

Other Options:
খ) her → her হলো Objective pronoun, কিন্তু এখানে Subject নিজেকেই শিখাচ্ছে।
গ) she → she হলো Subject pronoun, Object হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।
ঘ) hers → hers হলো Possessive pronoun (তার জিনিস), এখানে মানানসই নয়।

.
Which sentence is grammatically correct?
  1. Nile is the longest river in the world.
  2. The Nile is longest river in the world.
  3. The Nile is the longest river in the world.
  4. Nile is longest river in the world.
ব্যাখ্যা

Correct Answer: গ) The Nile is the longest river in the world.

Rule: নদীর নামের পূর্বে Definite Article "The" বসানো বাধ্যতামূলক:
- নদীর নাম, মহাসাগর, সাগর, মরুভূমি এবং পর্বতমালার নামের আগে সাধারণত article “the” ব্যবহার করা হয়। যেমন: The Nile, The Padma, The Pacific Ocean, The Sahara, The Himalayas। কিন্তু একক পাহাড় বা পর্বতের নামের আগে সাধারণত article বসে না, যেমন: Mount Everest, Mount Kilimanjaro।
Rule: Superlative Degree-এর পূর্বে Definite Article "The" বসে:
- Superlative adjective (যেমন: longest, tallest, greatest) যখন কোনো বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন তার আগে the বসে। কারণ এটি তুলনায় সর্বোচ্চ স্তর বোঝায় এবং সুনির্দিষ্টকরণ করে।
- উদাহরণ: the longest river, the tallest building, the most beautiful garden.

Other Options:
ক) Nile is the longest river in the world. - এখানে Nile এর আগে article the নেই।
খ) The Nile is longest river in the world. - এখানে longest river এর আগে article the নেই। Superlative adjective (longest) ব্যবহারের সময় সবসময় the বসে।
ঘ) Nile is longest river in the world. এখানে Nile এর আগে article the নেই এবং longest river এর আগে article the নেই।

.
Who said, “Law is the embodiment of the moral sentiment of the people”?
  1. Francis Bacon
  2. William Gladstone
  3. Charles Dickens
  4. William Blackstone
ব্যাখ্যা

Correct Answer: ঘ) William Blackstone.

- উক্তিটি করেছেন William Blackstone (1723–1780)।
- তিনি একজন বিশিষ্ট ইংরেজ আইনবিদ ছিলেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ “Commentaries on the Laws of England” আইনশাস্ত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- তাঁর মতে: Law is the embodiment of the moral sentiment of the people → অর্থাৎ আইন হলো জনগণের নৈতিক অনুভূতির প্রতিফলন।
- একটি সমাজের আইন সেই সমাজের নৈতিক মান ও মূল্যবোধকে প্রতিফলিত করে।

.
Select the correct option:
Neither my parents nor my sister __________ about the surprise party.
  1. know
  2. knowing
  3. knows
  4. have known
ব্যাখ্যা

Correct Answer: গ) knows.

• "Neither...nor" ব্যবহারের নিয়ম:
"Neither...nor" দুটি বিষয় বা ব্যক্তিকে নেতিবাচকভাবে যুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।
Verb-টি nor-এর পরে আসা Subject-এর উপর নির্ভর করে।

• Subject-Verb Agreement:
- Neither A nor B + singular subject হলে → singular verb.
- Neither A nor B + plural subject হলে → plural verb.

উল্লিখিত প্রশ্নে,
সঠিক বাক্য :"Neither my parents nor my sister knows about the surprise party."
বাংলা অর্থ: আমার বাবা-মা কিংবা আমার বোন কেউই চমকপ্রদ পার্টি সম্পর্কে জানে না।
- কারণ Neither…nor এর পরে আসা subject অনুযায়ী verb বসে। প্রশ্নে nor-এর পরে থাকা subject 'my sister' singular, তাই verb হবে singular "knows".

Example Sentence:
1. Neither Ravi nor Priya is attending the meeting.
2. Neither the manager nor his assistants are available.
3. Neither the assistants nor the manager is available.
4. Neither the students nor the teachers were happy with the new rule.

.
Complete the famous line from Tennyson's Ulysses:
"I cannot rest from travel: I will drink / Life to the ____."
  1. little
  2. lees
  3. least
  4. less
ব্যাখ্যা

Correct Answer: খ) lees

- এখানে lees শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।
- Lees অর্থ হলো wine-এর তলানি বা sediment।
- কবিতায় এটি রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে → অর্থাৎ জীবনের শেষ বিন্দু পর্যন্ত উপভোগ করা।
তাই সঠিক বাক্য: “I cannot rest from travel: I will drink / Life to the lees.”

লাইনটি Alfred, Lord Tennyson-এর বিখ্যাত কবিতা “Ulysses” থেকে নেওয়া।
কবিতাটি Blank Verse-এ লেখা এবং এটি একটি Dramatic Monologue।
এখানে Ulysses চরিত্রটি জীবনের শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা ও ভ্রমণ উপভোগ করার সংকল্প প্রকাশ করছে।

"It little profits that an idle king,
By this still hearth, among these barren crags,
Match'd with an aged wife, I mete and dole
Unequal laws unto a savage race,
That hoard, and sleep, and feed, and know not me.
I cannot rest from travel: I will drink
Life to the lees: All times I have enjoy'd.....

এটি Ulysses কবিতাটির একটি অংশ।

--------- Ulysses by Alfred, Lord Tennyson.

• Ulysses (Poem)
- The poem is written in blank verse.
- কবিতাটি ১৮৩৩ সালে লেখা এবং was  published in the two-volume collection Poems (1842).
- হোমারের কাব্য Iliad থেকে অনুপ্রাণিত।
- এটি মূলত: একটি Dramatic Monologue.

• Famous quotes from this poem,
- Made weak by time and fate, but strong in will to strive to seek, to find, and not to yield
- I will never rest from travels, I will drink life to the lees.

• Lord Alfred Tennyson: (1809-1892)
- Alfred Tennyson হলেন Victorian Period এর অন্যতম কবি যাকে এই যুগের Chief Representative হিসাবে ধরা হয়।
- তিনি ১৮৫০ সালে ইংল্যান্ডের Poet Laureate নিযুক্ত হোন। 
- তিনি তাঁর Melodious language এর জন্য অনেক প্রসিদ্ধ এবং তাঁকে Lyric Poet বলা হয়ে থাকে।.
- Tennyson এর "In Memoriam" এই elegy বা শোকগাথাঁ টি তাঁর অত্যন্ত কাছের বন্ধু Arthur Henry Hallam এর মৃত্যু শোকে রচনা করেছিলেন।

• His Famous Poems:
- Oenone,
- Ulysses,
- The Lotos-Eaters,
- Locksley Hall,
- In Memoriam,
- Morte D'Arthur,
- The Princess,
- The Two Voices,
- The Lady of the Shalott, etc.

• উল্লেখ্য যে, "Ulysses" নামক উপন্যাসটি আইরিশ লেখক James Joyce লিখেছেন।

Source: Britannica.

১০.
"The film was the swansong of the director before his retirement." Here 'swansong' refers to-
  1. His experimental or unfinished project
  2. His first internationally acclaimed work
  3. His best achievement in filmmaking
  4. His final work before retirement
ব্যাখ্যা

Correct Answer: ঘ) His final work before retirement.

• Swansong (idiom)
- English Meaning: the final performance or activity of a person's career.
- Bangla Meaning: শেষ কর্ম/ রচনা।

প্রশ্নের Sentence "The film was the swansong of the director before his retirement."
বাংলা অনুবাদ: চলচ্চিত্রটি পরিচালকের অবসর গ্রহণের পূর্বে তার শেষ সৃষ্টিকর্ম ছিল।

Other Options:

ক) His experimental or unfinished project - তার পরীক্ষামূলক বা অসমাপ্ত প্রকল্প।
খ) His first internationally acclaimed work - তার প্রথম আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত কাজ। 
গ) His best achievement in filmmaking - তার চলচ্চিত্র নির্মাণের সর্বোৎকৃষ্ট অর্জন। 

• Example Sentence:
1. This novel is the swansong of the author before he passed away.
- Bangla Meaning: এই উপন্যাসটি লেখকের মৃত্যুর আগে শেষ রচনা ছিল।
2. ‘The Tempest' is known as Shakespeare's Swansong.
- Bangla Meaning: ‘দ্যা টেম্পেস্ট’ কে শেক্সপিয়ারের শেষ কীর্তি / রচনা বলা হয়।

Source:
1. Oxford Dictionary.
2. Merriam-Webster Dictionary.

১১.
‘ভিজে বেড়াল’ বিখ্যাত ছড়া বইটির লেখক কে?
  1. আহসান হাবীব
  2. সুকুমার বড়ুয়া
  3. রোকনুজ্জামান খান
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

‘ভিজে বেড়াল’ বিখ্যাত ছড়া বইটির লেখক- সুকুমার বড়ুয়া।

- সুকুমার বড়ুয়া:
- ১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- ষাটের দশকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন।
- ১৯৬৩ সালে তোপখানা রোডে ছয় টাকায় বেড়ার ঘর ভাড়া করে স্বাধীনভাবে লেখালেখি শুরু করেন।
- কচিকাঁচার আসর, খেলাঘর ও মুকুলের মাহফিলে তার লেখা ছাপা হতে থাকে।
- ১৯৯৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোর কিপার হিসেবে অবসরে যান।
- ছড়া লিখে সুকুমার বড়ুয়া 'ছড়ারাজ', 'ছড়াশিল্পী', 'ছড়াসম্রাট' ইত্যাদি নানা অভিধায় অভিষিক্ত হয়েছেন।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০১৭ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে।

⇒ তাঁর রচিত সাহিত্য:

- পাগলা ঘোড়া
- ভিজে বেড়াল ।
- চন্দনা রঞ্জনার ছড়া।
- এলোপাতাড়ি।
- নানা রঙের দিন।
- চন্দনার পাঠশালা।
- জীবনের ভেতরে বাইরে।

উৎস: দ্যা ডেইলি স্টার বাংলা।

১২.
’দাওয়া’ শব্দের অর্থ কী?
  1. নিমন্ত্রণ
  2. জানালার শিক
  3. আহ্বান
  4. বারান্দা
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
’দাওয়া’ একটি দেশি শব্দ।
শব্দটির অর্থ- বারান্দা, রোয়াক।

এছাড়া ও ,
’দাওয়া’ অর্থ- অধিকার; স্বত্ব; পাওনা।

অন্যদিকে,
- ’নিমন্ত্রণ’ অর্থ- আমন্ত্রণ; ভোজে আহ্বান।
- ’দাওয়াই’ অর্থ-. ওষুধ।
- ’দাওয়াখানা’ অর্থ- ঔষধালয়।
- ’দাওয়াত’ অর্থ- নিমন্ত্রণ, আমন্ত্রণ।
- গরাদ অর্থ- জানালার শিক।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান ।

১৩.
'Custom' শব্দের বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. দায়িত্ব 
  2. শুল্ক
  3. আইন
  4. প্রথা
ব্যাখ্যা

- 'Custom' শব্দের বাংলা পরিভাষা- প্রথা, অভ্যাস, সামাজিক আচার, রীতি, নীতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- Act শব্দের বাংলা পরিভাষা আইন।

- Duty শব্দের বাংলা পরিভাষা শুল্ক, দায়িত্ব ইত্যাদি।
- Customs শব্দের অর্থ আমদানি-রপ্তানি শুল্ক, শুল্ক বিভাগ।

উৎস: প্রসাশসিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।

১৪.
বেগম রোকেয়া রচিত 'অর্ধাঙ্গী' একটি-
  1. প্রবন্ধ
  2. নাটক
  3. কবিতা
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা

অর্ধাঙ্গী
বেগম রোকেয়ার ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে উনিশ শতকের শেষ ও বিশ শতকের গোড়ার ভারতবর্ষে নারী জীবনের কষ্ট ও সীমাবদ্ধতা দেখানো হয়েছে।
⇒ পুরুষের নিদারুণ স্বার্থপরতা ও আধিপত্যকামী মানসিকতার প্রেক্ষাপটে রচিত এ প্রবন্ধ।
⇒ অত্যন্ত ব্যথিত হৃদয়ে বেগম রোকেয়া আবেগধর্মী যুক্তিপ্রধান এই রচনায় নারীসমাজকে জ্ঞানচর্চা ও কর্মব্রত, অধিকার সচেতনতা ও মুক্তি আকাঙ্ক্ষায় আকৃষ্ট করতে সচেষ্ট হয়েছেন।
⇒  তিনি দেখাতে চেয়েছেন, সমাজ যে পূর্ণ ও স্বাভাবিক গতিতে অগ্রসর হতে পারছে না তার কারণ পরিবার ও সমাজজীবনের অপরিহার্য অর্ধেক শক্তি নারীসমাজের দুর্বল ও অবনত অবস্থা। এজন্য পুরুষসমাজের দৃষ্টিভঙ্গির সংকীর্ণতাকে দায়ী করেছেন তিনি।
⇒ এই রচনায় তিনি নারীজাগরণের পক্ষে যে সুচিন্তিত, দৃঢ় ও বলিষ্ঠ মতামত ব্যক্ত করেছেন তাতে তাঁর মন্তব্যে আছে আবেগের গাঢ়তা আর যুক্তিতে আছে তীক্ষ্ণতা। তিনি দেখাতে চেয়েছেন, সমাজজীবনের অগ্রগতি ও কল্যাণসাধনের জন্যে নারীজাগরণ এবং সেই সঙ্গে পুরুষ সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের কোনো বিকল্প নেই।

• রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম  বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক। 
 
- রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),  
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা,
- পদ্মরাগ (উপন্যাস,
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, প্রভৃতি।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫.
’জল’ শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. পয়ঃ
  2. সিন্ধু
  3. বারি
  4. সলিল
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

’জল’ শব্দের সমার্থক শব্দ নয়- সিন্ধু।


⇒ বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
’সিন্ধু’ শব্দের অর্থ- সাগর, সমুদ্র ।

অন্যদিকে,
- জল শব্দের সমার্থক শব্দ- পয়ঃ, বারি, সলিল।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান ।

১৬.
সাত সাগরের মাঝি কাব্যগ্রন্থে মোট কতটি কবিতা রয়েছে?
  1. ১৭
  2. ১২
  3. ১৯
  4. ১৩
ব্যাখ্যা

 • সাত সাগরের মাঝি:
- এটি ফররুখ আহমদের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সালে।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট উনিশটি কবিতা স্থান পেয়েছে।
- এ গ্রন্থের কবিতাগুলি ১৯৪৩-৪৪ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে রচিত।
- মূলত জাগরণের লক্ষ্যে ফররুখ আহমদ কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলি লিখেছেন।
- বাংলা প্রচলিত শব্দ পরিত্যাগ করে এ গ্রন্থে কবি বহু অপ্রচলিত আরবি-ফারসি শব্দ গ্রহণ করেছেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিরূপ সমাজের ছবি কাব্যগ্রন্থটিতে স্থান পেয়েছে।

• এ কাব্যগ্রন্থে ‍উল্লেখযোগ্য কবিতা সমূহ:
- সিন্দবাদ
- পাঞ্জেরি
- লাশ
- আউলাদ
- দরিয়ার
- শেষরাত্রি, ইত্যাদি।

• ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সালে যশোর জেলার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাকে ইসলামি স্বাতন্ত্রবাদী কবি বলা হয়ে থাকে।
- তাঁর কবিতায় পাকিস্তানবাদ, ইসলামি আদর্শ বিশেষত মুসলিম জাগরণ এবং আরব ইরানের ঐতিহ্য উজ্জ্বলভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নৌফেল ও হাতেম।
• তাঁর রচিত সনেট সংকলন:
- মুহূর্তের কবিতা।
• তাঁর রচিত কাহিনিকাব্য:
- হাতেমতায়ী।
• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থের নাম:
- পাখির বাসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৭.
নিচের প্রমিত বানান কোনটি?
  1. ভাগীরথি 
  2. অন্ত্যেষ্টিক্রিয়
  3. আকিঞ্চণ
  4. অন্তঃসার
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
শুদ্ধ বানান- অন্তঃসার।

অন্যদিকে,
'ভাগীরথি' এর শুদ্ধ রূপ- 'ভাগীরথী'।
’অন্ত্যেষ্টিক্রিয়’ শব্দের শুদ্ধরূপ- অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া (মৃতের সৎকার);
’আকিঞ্চণ’ শব্দের শুদ্ধরূপ- আকিঞ্চন (অবিলাষ, কামনা)

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৮.
’চতুর্ভুজ’ কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. অব্যয়ীভাব
  2. বহুব্রীহি
  3. তৎপুরুষ 
  4. দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা

⇒ ’চতুর্ভুজ’ বহুব্রীহি সমাসের দৃষ্টান্ত।

• বহুব্রীহি সমাস:

- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
- যেমন:
বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি, ইত্যাদি।

ক. পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হলে তাকে সমানাধিকার বহুব্রীহি বলে।
 যেমন :
এক গোঁ যার = একগুঁয়ে,
লাল পাড় যে শাড়ির = লালপেড়ে।

খ. পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য (কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য) হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি হয়।
যেমন
গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে।

গ. যে বহুব্রীহি সমাসের ব্যাসবাক্য থেকে এক বা একাধিক পদ লোপ পায়, তাকে পদলোপী বহুব্রীহি বলে।
যেমন –
চিরুনির মতো দাঁত যার = চিরুনদাঁতি,
হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি

ঘ. পারস্পরিক ক্রিয়ায় কোনো অবস্থা তৈরি হলে ব্যতিহার বহুব্রীহি হয়।
 যেমন
হাতে হাতে যে যুদ্ধ =হাতাহাতি,
কানে কানে যে কথা = কানাকানি।

ঙ. যে বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদের পূর্বপদের বিভক্তি অক্ষুণ্ণ থাকে, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে।
 যেমন -
গায়ে এসে পড়ে যে= গায়েপড়া,
কানে খাটো যে = কানেখাটো।

চ.যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক, তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন-
চার ভুজ যে ক্ষেত্রের = চতুর্ভুজ,
সে (তিন) তার যে যন্ত্রের = সেতার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

১৯.
’আমার বুকের ভেতর ধর্মের কল বাতাসে নড়ে ওঠে’- পঙ্‌ক্তিটির লেখক কে?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. আল মাহমুদ
  3. আবুল হোসেন
  4. আরজ আলী মাতুব্বর
ব্যাখ্যা

- ’আমার বুকের ভেতর ধর্মের কল বাতাসে নড়ে ওঠে’- পঙ্‌ক্তিটির লেখক : আল মাহমুদ।
- এটি 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থ:
- আল মাহমুদের কবি-প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করেছিল 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থটি।
- সোনালী কাবিন কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'সোনালী কাবিনে'র কবিতাগুলো রচিত হয় ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে।
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে 'সোনালী কাবিন' নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে চতুর্দশপদী ধারার একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত। এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে। বলা যেতে পারে বীজ কাব্যগ্রন্থ।
- পুরো কাব্যগ্রন্থটিতে বঞ্চিতের ক্ষোভ, শ্রমিকের ঘাম, কৃষকের পরিশ্রম গ্রামীণ আবহে উঠে এসেছে।

• 
আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম- মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

• 
তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২০.
’এ ব্যক্তিটি আমার চেনা লোক’- বাক্যে ’চেনা’ কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. অব্যয়
  3. বিশেষণ
  4. সর্বনাম
ব্যাখ্যা

’এ ব্যক্তিটি আমার চেনা লোক’- বাক্যে ’চেনা’ বিশেষণ পদ।

• বিশেষণ:

⇒ যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন : সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ। 

⇒ বিশেষণ এর বিভিন্ন প্রকার:
১. বর্ণবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা এখানে 'নীল', 'সবুজ' বা 'লাল' হলো বর্ণবাচক বিশেষণ। -
২. গুণবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি এখানে 'চালাক' ও 'ঠান্ডা' হলো গুণবাচক বিশেষণ। -
৩. অবস্থাবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে। যেমন চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।
৪. ক্রমবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে ক্রমসংখ্যা বোঝায়, তাকে ক্রমবাচক বিশেষণ বলে। যেমন এক টাকা, আট দিন এখানে 'এক' ও 'আট' ক্রমবাচক বিশেষণ।
৫. পূরণবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে পূরণসংখ্যা বোঝায়, তাকে পূরণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন তৃতীয় প্রজন্ম, ৩৪তম অনুষ্ঠান এখানে 'তৃতীয়' ও '৩৪তম' পূরণবাচক বিশেষণ।
৬. পরিমাণবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন - আধা কেজি চাল, অনেক লোক এখানে 'আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ।
৭. উপাদানবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে। যেমন-বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি এখানে 'বেলে' ও 'পাথুরে' উপাদানবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

২১.
'ইসলামি বিপ্লব' কত সালে সংঘটিত হয়েছিল? 
  1. ১৯৭৭ সালে
  2. ১৯৭৮ সালে
  3. ১৯৭৯ সালে
  4. ১৯৮৯ সালে
ব্যাখ্যা

• ইরানে ইসলামি বিপ্লব:
- ১৯৭৯ সালে ইরানে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনীর নেতৃত্বে ইসলামী বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- এই বিপ্লবের সূত্রপাত ঘটে ১৯৭৮ সালের জানুয়ারিতে।
- ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ সালে ইরানের তদানীন্তন সরকারের পতনের মাধ্যমে এই বিপ্লব পূর্ণতা লাভ করে।
- এই বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানের তৎকালীন শাসক মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভীর পতন ঘটে।
- ১ এপ্রিল ১৯৭৯ খোমেনী ইরানকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য,
- শেষ ইরানি রাজবংশ ছিল পাহলভী রাজবংশ ছিল।
- ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র হিসেবে দীর্ঘ আটাশ বছর এই রাজবংশ শাসন পরিচালনা করে।
- আর ১৯৫৩ সাল থেকে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লব পর্যন্ত স্বৈরাচারী রাজতন্ত্র হিসেবে ইরান শাসন করে।
- রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে ১৭ জানুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে ইরানের ইসলামী বিপ্লব সংঘটিত হয় ও রেজা শাহ পাহলভী ইরান ছেড়ে পালিয়ে যান।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 

২২.
বর্তমানে বাংলাদেশে ইউনেস্কো স্বীকৃত অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সংখ্যা কত? [জানুয়ারি, ২০২৬]
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা

• ইউনেসকোর 'অপরিমেয়/বিমূর্ত/অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য:
- ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ আর সৃষ্টিশীলতাকে লালন করার প্রত্যয়ে ইউনেস্কো ঘোষিত সংস্কৃতি বিষয়ক বিভিন্ন কনভেনশনের আলোকে বিএনসিইউ’র সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মকান্ড পরিচালিত হয়।
- সম্প্রতি, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫  বাংলাদেশের শতাব্দীপ্রাচীন টাঙ্গাইল শাড়ি বয়নশিল্প ইউনেসকোর 'অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের' (ইনট্যাঞ্জিবল কালচারাল হেরিটেজ) তালিকায় স্থান পেয়েছে। 

উল্লেখ্য,
 - বর্তমানে দেশে ৬টি ইউনেস্কোর বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে।
- এগুলো হলো:
 ১) বাউলগান (২০০৮), 
২) জামদানি বুননশিল্প (২০১৩), 
৩) মঙ্গল শোভাযাত্রা (২০১৬), 
৪) শীতলপাটি বুননশিল্পের (২০১৭) ও 
৫) ঢাকা শহরের ‘রিকশা ও রিকশাচিত্র’ (২০২৩)।
৬) টাঙ্গাইল শাড়ি বয়নশিল্প (২০২৫)

তথ্যসূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। 

২৩.
'জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা' র প্রধান কার্যালয় কোথায় অবস্থিত?  
  1. নিউইয়র্ক
  2. জেনেভা
  3. প্যারিস
  4. লন্ডন
ব্যাখ্যা

• UNHCR:
- পূর্ণ নাম: United Nations High Commissioner for Refugees.
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৯৫০ সালে।
- সদর দপ্তর: জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।
- কার্যক্ষেত্র: ১৩৬টি দেশ।
- UNHCR এর প্রধানকে বলা হয় হাইকমিশনার।
- বর্তমান হাইকমিশনার: বারহাম সালিহ।   [ব্যাখ্যা আপডেট - জানুয়ারি, ২০২৬]
- ১৯৫৪ ও ১৯৮১ সালে UNHCR নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করে। 

• লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- UNHCR-এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্বব্যাপী শরণার্থী, অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি, রাষ্ট্রহীন ব্যক্তি এবং আশ্রয়প্রার্থী জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা ও সহায়তা নিশ্চিত করা।
- এবং তাদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তন, স্থানান্তর অথবা নতুন জীবন শুরু করতে সহায়তা করা।

তথ্যসূত্র: UNHCR ওয়েবসাইট।

২৪.
'বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ, ২০২৬' জারি করা হয় কবে?
  1. ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  2. ১ জানুয়ারি, ২০২৬
  3. ৩ জানুয়ারি, ২০২৬
  4. ৫ জানুয়ারি, ২০২৬
ব্যাখ্যা

• বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ, ২০২৬:
- দীর্ঘদিনের বিচারিক দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে দ্রুততম সময়ে বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সরকার ‘বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে।
- রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ১ জানুয়ারি, ২০২৬ গুরুত্বপূর্ণ এই অধ্যাদেশটি জারি করেন।
- ২ জানুয়ারি, ২০২৫ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়েছে।
- মামলার চূড়ান্ত শুনানি শুরুর ৯০ দিনের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রেখে প্রণীত এই আইনি কাঠামো দেশের ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ বা সহজ ব্যবসা সূচকে আমূল পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: Lawyers Club Bangladesh

২৫.
বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ তেল মজুদধারী দেশ কোনটি? 
  1. ভেনেজুয়েলা 
  2. ইরান 
  3. সংযুক্ত আরব আমিরাত 
  4. সৌদি আরব 
ব্যাখ্যা

• বিশ্বের শীর্ষ তেল মজুতধারী দেশ:
- ভেনেজুয়েলার কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি তেল মজুত রয়েছে, যার পরিমাণ ৩০০ বিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি। 
- সৌদি আরব বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক তেল মজুতধারী দেশ, যেখানে প্রায় ২৬৭ বিলিয়ন ব্যারেল তেল সংরক্ষিত আছে।

- যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল উৎপাদক দেশ এবং একই সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল ভোক্তা। 
- এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে অন্যান্য বহু তেল উৎপাদনকারী দেশ থেকে অতিরিক্ত তেল আমদানি করতে হয়। 

» ২০২৫ সালে বিশ্বের শীর্ষ তেল মজুতধারী দেশসমূহ: 
১) ভেনেজুয়েলা — ৩০৩.২২ বিলিয়ন ব্যারেল
২) সৌদি আরব — ২৬৭.১৯ বিলিয়ন ব্যারেল
৩) ইরান — ২০৮.৬০ বিলিয়ন ব্যারেল
৪) কানাডা — ১৬৩.৬৩ বিলিয়ন ব্যারেল
৫) ইরাক — ১৪৫.০২ বিলিয়ন ব্যারেল
৬) সংযুক্ত আরব আমিরাত — ১১৩.০০ বিলিয়ন ব্যারেল
৭) কুয়েত — ১০১.৫০ বিলিয়ন ব্যারেল
৮) রাশিয়া — ৮০.০০ বিলিয়ন ব্যারেল
৯) যুক্তরাষ্ট্র — ৫৫.২৫ বিলিয়ন ব্যারেল
১০) লিবিয়া — ৪৮.৩৬ বিলিয়ন ব্যারেল



তথ্যসূত্র:
 i) World Population Review. 
ii) OPEC 
iii) Global Fire Power.
iV) Word Atlas.  

২৬.
বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার বাংলাদেশের কততম প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন? [জানুয়ারি, ২০২৬] 
  1. ১২তম
  2. ১৩তম
  3. ১৪তম
  4. ১৫তম
ব্যাখ্যা

• নির্বাচন কমিশন:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আওতায় নির্বাচন কমিশন গঠিত। 
- এটি সাংবিধানিকভাবে গঠিত একটি প্রতিষ্ঠান।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অনধিক চারজন কমিশনারসহ মোট পাঁচজন নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত।
- নির্বাচন কমিশনারগণকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন।
- বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন। 
- জনাব এ, এম, এম, নাসির উদ্দিন ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর তারিখে বাংলাদেশের ১৪ তম প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।
- নির্বাচন কমিশনের সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার সভাপতির কাজ করেন।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারের মেয়াদ তাদের কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে পাঁচ বছর।
- বাংলাদেশে প্রথম নির্বাচন কমিশনার: বিচারপতি এম.ইদ্রিস।

• বর্তমান নির্বাচন কমিশন:
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার: এ এম এম নাসির উদ্দিন
- নির্বাচন কমিশনার: আব্দুর রহমানেল মাছউদ
- নির্বাচন কমিশনার: বেগম তাহমিদা আহমদ
- নির্বাচন কমিশনার: মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম সরকার
- নির্বাচন কমিশনার: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহ (অবসরপ্রাপ্ত)


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি ও নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।

২৭.
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ভেনেজুয়েলায় পরিচালিত অপারেশনের নাম কি? [জানুয়ারি, ২০২৬]
  1. অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ  
  2. অপারেশন অ্যাবসোলিউট ফ্রিডম 
  3. অপারেশন ফ্রিডম স্ট্রাইক 
  4. অপারেশন ন্যাশনাল গার্ড
ব্যাখ্যা

• অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ: 
- কয়েক মাস ধরে উত্তেজনা বাড়তে থাকা এবং কূটনৈতিক চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনিজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেন।
- ৩ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে মার্কিন সেনাবাহিনীর ডেল্টা ফোর্স আটক করেছে।  
- এই অভিযানের নাম ছিল “অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ”। 
- মাদুরো সরকার যুক্তরাষ্ট্রে মাদক ও গ্যাং সদস্য পাঠাচ্ছে বলে ট্রাম্প প্রশাসন বহুদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে ।

তথ্যসূত্র: বিবিসি ও ফক্স ফোর।  

২৮.
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত ‘চরমপত্র’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক কে ছিলেন?  
  1. এম. আর. আখতার মুকুল
  2. আবদুল মান্নান
  3. হারুন অর রশিদ 
  4. সিরাজুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র :
-স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র।
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালু হয় ২৬ মার্চ, ১৯৭১। 
- চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়।
- এই কেন্দ্র থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিল।
-১৯৭১-এর ৩০ মার্চ পাকিস্তান বিমান বাহিনী কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে। ফলে এটি অচল হয়ে যায়।
-২৫ মে তারিখ কেন্দ্রটি কলকাতায় স্থানান্তরিত হয় এবং একই দিনে সেখানে এটি তার কার্যক্রম শুরু করে।
-স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি অনুষ্ঠান ছিল ‘চরমপত্র‘ ও ‘জল্লাদের দরবার’
- জল্লাদের দরবার-এ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে ‘কেল্লা ফতেহ খান’ চরিত্রের মাধ্যমে চিত্রিত করা হয়েছে। 
- চরমপত্র সিরিজটির পরিকল্পনা করেন জাতীয় পরিষদ সদস্য আব্দুল মান্নান। 
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত 'চরমপত্র' পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেন এম আর আখতার মুকুল। 

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।

২৯.
২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক কে? [জানুয়ারি, ২০২৬] 
  1. লিটন কুমার দাস
  2. মেহেদী হাসান মিরাজ
  3. সাইফ হাসান
  4. জাকের আলী অনিক 
ব্যাখ্যা

• দশম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: 
- ২০২৬ আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
 - ১৫ সদস্যের দলটির অধিনায়ক লিটন কুমার দাস, সহ অধিনায়ক সাইফ হাসান।
- বিশ্বকাপ দলটিতে ব্যাটসম্যান রাখা হয়েছে ৭ জন, স্পিনার ৩ জন। বাকি পাঁচজন পেসার।

উল্লেখ্য,
-  ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সালে ২০ দল নিয়ে শুরু হবে দশম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটি হবে যৌথভাবে ভারত ও শ্রীলঙ্কায়। 

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো।

৩০.
৩১তম কপ জলবায়ু সম্মেলন কোন দেশে অনুষ্ঠিত হবে? 
  1. তুরস্ক
  2. অষ্ট্রেলিয়া 
  3. যুক্তরাষ্ট্র 
  4. জার্মানি
ব্যাখ্যা

• COP: 
- COP এর পূর্ণরূপ Conference of the parties. 
- ১৯৯২ সালে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনে (UNFCCC) স্বাক্ষর করে।
- এর উদ্দেশ্য জলবায়ুতে মানুষের সৃষ্টি ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলা। 
- ১৯৯৫ সাল থেকে 'জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (COP)' নামে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।  
- ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩০ এর আয়োজন করেছে ব্রাজিল।
- ২০২৬ সালে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১ আয়োজন করতে যাচ্ছে তুরস্ক।
- তুরস্কের পর্যটননগরী অ্যান্টালিয়া কপ-৩১-এর আয়োজক শহর হবে এবং তুরস্কই আনুষ্ঠানিকভাবে কপ-৩১-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করবে।

তথ্যসূত্র: UN-Habitat অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, বনিক বার্তা ও UNFCCC

৩১.
a + (1/a) = √3 হলে, 8(a2 + 1/a2) এর মান বের করুন।
  1. 8
  2. 8√3
  3. 0
  4. 3
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: a + (1/a) = √3 হলে, 8(a2 + 1/a2) এর মান বের করুন।

সমাধান:
দেওয়া আছে, a + 1/a = √3
আমরা জানি, (a2 + 1/a2) = (a + 1/a)2 - 2a(1/a)

∴ 8(a2 + 1/a2) = 8{(a + 1/a)2 - 2a(1/a)}
= 8{(√3)2 - 2}
= 8(3 - 2)
= 8 × 1
= 8 

৩২.
চতুর্ভুজের চার কোণের অণুপাত ২ : ২ : ৩ : ৫  হলে, চতুর্ভুজটির বৃহত্তম কোণের মান বের করুন?
  1. ৭৫°
  2. ১২০°
  3. ১৫০°
  4. ৩৬০°
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: চতুর্ভুজের চার কোণের অণুপাত ২ : ২ : ৩ : ৫  হলে, চতুর্ভুজটির বৃহত্তম কোণের মান বের করুন?

সমাধান:
আমরা জানি,
চতুর্ভুজের চার কোণের সমষ্টি = ৩৬০°

দেওয়া আছে,
চার কোণের অনুপাত ২ : ২ : ৩ : ৫
∴ অনুপাতগুলোর সমষ্টি = ২ + ২ + ৩ + ৫ = ১২

∴ বৃহত্তম কোণ = (৩৬০ এর ৫/১২)°
= ১৫০°

৩৩.
|2x - 3| < 1 অসমতাটির সমাধান নির্ণয় করুন।
  1. - 1 < x < 3
  2. 1 < x < 2
  3. x ≤ 1 অথবা x ≥ 2
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: |2x - 3| < 1 অসমতাটির সমাধান নির্ণয় করুন।

সমাধান:
দেওয়া আছে,
|2x - 3| < 1
⇒ - 1 < 2x - 3 < 1
⇒ - 1 + 3 < 2x - 3 + 3 < 1 + 3
⇒ 2 < 2x < 4
⇒ 1 < x < 2

৩৪.
7 × 0! এর মান কত?
  1. 0
  2. 1
  3. 7
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 7 × 0! এর মান কত?

সমাধান:
ফ্যাক্টোরিয়াল সূত্র অনুযায়ী,
n! = n × (n - 1)!

এখন, n = 1 হলে,
1! = 1 × (1 - 1)!
 ⇒ 1! = 1 × 0!
⇒ 1 = 0!
∴ 0! = 1

∴ 7 × 0! = 7 × 1 = 7

৩৫.
মাধ্যাকর্ষণ বলের তুলনায় বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল কতগুণ বেশি শক্তিশালী?
  1. ১০০ গুণ
  2. ১০১২ গুণ
  3. ১০২০ গুণ
  4. ১০৩৬ গুণ
ব্যাখ্যা

 মৌলিক বল মাত্র চারটি। সেগুলো হচ্ছে: মহাকর্ষ বল, তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল ও সবল নিউক্লীয় বল।

মহাকর্ষ বল (Gravitational Force):
- এই সৃষ্টিজগতের সকল বস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল।
- এই মহাকর্ষ বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে। - - - - পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, আমরা সেটাকে বলি মাধ্যাকর্ষণ। এই মাধ্যাকর্ষণ বল আমাদেরকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই।
- ভর আছে সেরকম যেকোনো বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে।

তড়িৎ চৌম্বক বল বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল (Electromagnetic Force):
- তড়িৎ বা বিদ্যুৎ এবং চুম্বকের বলকে আলাদা ধরনের বল মনে হয়, আসলে দুটি একই বল শুধু দুভাবে দেখা যায়।
- তড়িৎ চৌম্বক বল বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল হলো প্রকৃতির চারটি মৌলিক বলের একটি, যা বৈদ্যুতিক আধানযুক্ত কণাগুলির মধ্যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বলকে বোঝায়, যেমন দুটি আহিত বস্তুর মধ্যে বল বা চুম্বকীয় মেরুর মধ্যে ক্রিয়াশীল বল, যা বিদ্যুৎ ও চুম্বকত্বের মিথস্ক্রিয়া থেকে উদ্ভূত হয়।
- এই বল পরমাণু ও অণুগুলোকে একত্রে ধরে রাখে এবং আলো, বিদ্যুৎ ও চুম্বকত্বের মতো দৈনন্দিন ঘটনাগুলোর জন্য দায়ী। 
- মাধ্যাকর্ষণ বলের তুলনায় বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল অনেক বেশি শক্তিশালী (১০৩৬ গুণ বা ট্রিলিওন ট্রিলিওন ট্রিলিওন গুণ শক্তিশালী!)। 

দুর্বল নিউক্লীয় বল (Weak Nuclear Force):
- এটাকে দুর্বল নিউক্লিয় বল বলা হয় কারণ এটা তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকে দুর্বল (প্রায় ট্রিলিওন গুণ) কিন্তু মহাকর্ষ বলের মতো এত দুর্বল নয়।
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বকীয় বল যেকোনো দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই বলটা খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৮ m) কাজ করতে পারে।
- তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস থেকে যে বিটা (β) রশ্মি বা ইলেকট্রন বের হয় সেটার কারণ এই দুর্বল নিউক্লীয় বল।

সবল নিউক্লীয় বল (Strong Nuclear Force):
- এটি হচ্ছে সৃষ্টি জগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বক বল থেকেও একশগুণ বেশি শক্তিশালী কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৫m) কাজ করে।
- পরমাণুর কেন্দ্রে যে নিউক্লিয়াস রয়েছে তার ভেতরকার প্রোটন এবং নিউট্রনের নিজেদের মধ্যকার এই প্রচণ্ড শক্তিশালী বলের মাধ্যমে তারা নিজেদের আটকে রাখে। প্রচণ্ড বলে আটকে থাকার কারণে এর মাঝে অনেক শক্তি জমা থাকে তাই বড় নিউক্লিয়াসকে ভেঙে কিংবা ছোট নিউক্লিয়াসকে জোড়া দিয়ে এই বলের কারণে অনেক শক্তি তৈরি করা সম্ভব। নিউক্লিয়ার বোমা সে জন্য এত শক্তিশালী।
- সূর্য থেকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বলের কারণে তৈরি হয়।

উৎস: বিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি

৩৬.
বার্ষিক শতকরা ১০% হারে ১০০০ টাকায় ১ বছর পর সরল ও চক্রবৃদ্ধি মুনাফার পার্থক্য কত?
  1.  ১০ টাকা
  2. ১০০ টাকা
  3. ১০০০ টাকা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: বার্ষিক শতকরা ১০% হারে ১০০০ টাকায় ১ বছর পর সরল ও চক্রবৃদ্ধি মুনাফার পার্থক্য কত?   

সমাধান: 
১ বছরের জন্য সরল মুনাফা এবং চক্রবৃদ্ধি মুনাফার  এর মধ্যে কোনও পার্থক্য থাকে না। কারণ, চক্রবৃদ্ধি মুনাফা প্রথম বছরে মূলধনের উপরই হিসাব করা হয়, ঠিক সরল মুনাফার মতো। পার্থক্য কেবল তখনই তৈরি হয় যখন সময়কাল ১ বছরের বেশি হয় বা সুদের হার বার্ষিকের চেয়ে ছোট সময়কালকে ভিত্তি করে গণনা করা হয়।

এখানে, মূলধন, P = ১০০০ টাকা, r = ১০%, n = ১ বছর
সরল মুনাফার ক্ষেত্রে, I = Pnr
= ১০০০ × ১ × (১০/১০০) টাকা
= ১০০ টাকা

চক্রবৃদ্ধি মুনাফার ক্ষেত্রে,  A = P[১ + (r/১০০)]n
= ১০০০[১ + (১০/১০০)]
= ১০০০ × (১১/১০)
= ১১০০ টাকা

∴ সুদ = (১১০০ - ১০০০) = ১০০ টাকা
∴ সরল ও চক্রবৃদ্ধি মুনাফার পার্থক্য = (১০০ - ১০০) = ০ টাকা।

৩৭.
যদি 214356 দ্বারা person বুঝায় তবে 6531 দ্বারা বুঝাবে-
  1. rope
  2. nose
  3. rose
  4. nope
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: যদি 214356 দ্বারা person বুঝায় তবে 6531 দ্বারা বুঝাবে-

সমাধান:
2 → p
1 → e
4 → r
3 → s
5 → o
6 → n

এখন,
6 → n
5 → o
3 → s
1 → e

৩৮.
একটি লম্বা গাছের পাদদেশ হতে 50 মিটার দূরে ভূমির একটি বিন্দুতে গাছটির শীর্ষবিন্দুর উন্নতি কোণ 60°। গাছটির উচ্চতা নির্ণয় করুন।
  1.  50√3 মিটার
  2. 50 মিটার
  3. 50/√3 মিটার
  4. 150 মিটার
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি লম্বা গাছের পাদদেশ হতে 50 মিটার দূরে ভূমির একটি বিন্দুতে গাছটির শীর্ষবিন্দুর উন্নতি কোণ 60°। গাছটির উচ্চতা নির্ণয় করুন। 
 
সমাধান: 
মনে করি, গাছটির পাদবিন্দু B, ভূমির একটি বিন্দু C এবং শীর্ষবিন্দু A। গাছটির পাদদেশ হতে নির্দিষ্ট স্থানের দূরত্ব BC = 50 মিটার। 
গাছটির শীর্ষবিন্দুর উন্নতি কোণ ∠ACB = 60° এবং গাছটির উচ্চতা AB = h মিটার।


এখন,
tan60° = AB/BC
⇒ √3 = h/50              [∵ tan60° = √3, AB = h এবং BC = 50 মিটার]
⇒ h = 50√3

∴ গাছটির উচ্চতা = 50√3 মিটার

৩৯.
হিন্দু আইনে কোন বিবাহে বরের নিকট থেকে এক বা দুই জোড়া গাভী গ্রহণ করা হতো?
  1. দৈব বিবাহ
  2. আর্য বিবাহ
  3. অসুর বিবাহ
  4. প্রজাপত্য বিবাহ
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু আইনে আর্য বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে এক বা দুই জোড়া গাভী গ্রহণ করতেন। এটি আট প্রকার বিবাহের মধ্যে অনুমোদিত চারটির একটি।

অনুমোদিত ৪ প্রকার:
ব্রাহ্ম: সর্বোত্তম পদ্ধতি, যাতে অলঙ্কারে সজ্জিতা কন্যাকে শিক্ষিত ও চরিত্রবান বরের হাতে তুলে দেয়া হতো; এক্ষেত্রে বরের নিকট থেকে কোন পণ নেয়া হতো না;
দৈব: এ ধরনের বিবাহে যজ্ঞ সম্পাদনকারী পুরোহিতের নিকট কন্যা সম্প্রদান করা হতো;
আর্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে এক বা দুই জোড়া গাভী গ্রহণ করতেন;
প্রজাপত্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে কোন পণ গ্রহণ ছাড়াই কন্যা দান করতেন এবং তাদের আশীর্বাদ করতেন যাতে তারা পারস্পরিক বিশ্বাস ও সুখের সঙ্গে দাম্পত্য জীবন যাপন করতে পারে।

অননুমোদিত ৪ প্রকার:
অসুর: এ বিবাহে বর পিতা অথবা অভিভাবকের নিকট থেকে মূল্য দিয়ে কনেকে ক্রয় করত;
রাক্ষস: এ বিবাহে কন্যার আত্মীয়দের প্রহার করে রোরুদ্যমান কন্যাকে তুলে নেয়া হতো;
গন্ধর্ব: বর ও কনের পরস্পরের পরিচয় ও সম্মতিতে এ বিবাহ অনুষ্ঠিত হতো;
পৈশাচ: নিকৃষ্টতম বিবাহ; এতে কন্যার প্রেমিক (কন্যার সম্মতি ব্যতিরেকে) নিদ্রিত অবস্থায় অথবা মদোম্মত্ত বা উম্মত্ত কন্যার সঙ্গে সঙ্গত হতো।

৪০.
সুন্নি মুসলিম আইনে বিবাহের জন্য নির্ধারিত সংখ্যক সাক্ষী না থাকলে বিবাহটি -
  1. বৈধ বিবাহ
  2. বাতিল বিবাহ
  3. অনিয়মিত বিবাহ
  4. মুত‘আ বিবাহ
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম সুন্নি পারিবারিক আইনে বিবাহের বৈধতা ও অবস্থার উপর ভিত্তি করে বিবাহকে তিনটি প্রধান শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে।
১. বৈধ (সহিহ / Valid)
২. বাতিল (Void)
৩. অনিয়মিত (ফাসিদ / Irregular)

১. বৈধ বিবাহ (সহিহ / Valid)
-  এমন বিবাহ যেখানে সকল শর্ত পূরণ করা হয়েছে (যেমন: স্বাধীন সম্মতি, সাক্ষীর উপস্থিতি, মোহর নির্ধারণ ইত্যাদি)।
- এ ধরনের বিবাহ পূর্ণ আইনগত স্বীকৃতি পায় এবং এর মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক অধিকার ও দায়িত্ব (যেমন দেনমোহর, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার ইত্যাদি) সৃষ্টি হয়।
উদাহরণ: দু’জন মুসলিমের মধ্যে বা একজন মুসলিম পুরুষের সাথে একজন আহলে কিতাব (যেমন ইহুদি বা খ্রিস্টান) নারীর বিবাহ।
২. বাতিল বিবাহ (Void)
- এটি চিরতরে অবৈধ বিবাহ। আইনের মৌলিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করলে বিবাহটি বাতিল হয় (যেমন: রক্তের সম্পর্ক, বৈবাহিক সম্পর্ক বা দুধভাই-বোনের মধ্যে বিবাহ)।
- এই বিবাহ কোনো আইনগত বৈধতা পায় না এবং এটিকে কখনোই সংশোধন করে বৈধ করা যায় না। এর কোনো আইনগত ফলাফল নেই (দেনমোহর, ভরণপোষণ বা উত্তরাধিকারের অধিকার সৃষ্টি হয় না) এবং এর ফলে জন্ম নেওয়া সন্তান অবৈধ বলে গণ্য হয়।
৩. অনিয়মিত বিবাহ (ফাসিদ / Irregular)
- এটি আপাতদৃষ্টিতে অবৈধ কিন্তু সংশোধনযোগ্য বিবাহ। কিছু অস্থায়ী বা প্রক্রিয়াগত ত্রুটি থাকলে (যেমন: প্রয়োজনীয় সংখ্যক সাক্ষীর অভাব, মোহর নির্ধারণ না করা, বিদ্বেষপূর্ণ অসাম্য ইত্যাদি) বিবাহটি অনিয়মিত হয়। ত্রুটি দূর করা গেলে (যেমন: সাক্ষী যোগ করা, মোহর নির্ধারণ করা) বিবাহটি বৈধ হয়ে যায় এবং তখন থেকে সব আইনগত ফলাফল প্রযোজ্য হয়।তবে ত্রুটি না দূর করা পর্যন্ত এটি অবৈধই থাকে।

উল্লেখ্য, মুত‘আ বিবাহ হলো এক ধরনের অস্থায়ী বা সাময়িক বিবাহ, যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মহরের বিনিময়ে নারী-পুরুষ বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করে। সময়সীমা শেষ হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভঙ্গ হয়, তালাকের প্রয়োজন হয় না। সুন্নি ইসলামে মুত‘আ বিবাহ হারাম এবং কবীরা গুনাহ হিসেবে বিবেচিত। শিয়া ইসলামে: বিশেষত ইরানের কিছু অঞ্চলে এখনো চুক্তিভিত্তিক মুত‘আ বিবাহ প্রচলিত আছে।

৪১.
পিতা মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে কোন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত?
  1. Asaba
  2. Zawil Arham
  3. Zawil Furud
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

⇒ পিতা মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud) হিসেবে বিবেচিত হন এবং কোরআনে তার অংশ নির্ধারিত রয়েছে।

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে উত্তরাধিকারীরা মূলত তিন শ্রেণিতে বিভক্ত -
- নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud) → যাদের অংশ কোরআন-হাদিসে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ আছে।
- অবশিষ্টাংশ ভোগী (Asaba) → যারা নির্দিষ্ট অংশের পর অবশিষ্ট সম্পত্তি পায়।
- দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ (Zawil Arham) → যারা নির্দিষ্ট অংশীদার বা আসাবা না হয়ে দূর সম্পর্কের আত্মীয় হিসেবে উত্তরাধিকার পায়।

⇒ পিতা (Father) হলেন একজন প্রাথমিক উত্তরাধিকারী, এবং তার জন্য কোরআনে নির্দিষ্ট অংশ (যেমন ১/৬) বর্ণিত আছে, এজন্য তিনি Zawil Furud শ্রেণিতে পড়েন। তবে পিতা অনেক ক্ষেত্রে Asaba হিসেবেও সম্পত্তি পান (যেমন সন্তান না থাকলে অবশিষ্টাংশ পাওয়া), কিন্তু তার মূল পরিচয় Zawil Furud হিসেবে।
অতএব, পিতা মূলত নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud) শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, যদিও কিছু পরিস্থিতিতে তিনি আসাবা হিসেবেও লাভবান হন।

৪২.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ৬(৫) অনুযায়ী, আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিবাহ করলে সর্বোচ্চ কত টাকা জরিমানা হতে পারে?
  1. ৩,০০০ টাকা
  2. ৫,০০০ টাকা
  3. ১০,০০০ টাকা
  4. ২০,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ৬(৫) অনুসারে, যদি কোনো পুরুষ বিদ্যমান বিবাহ থাকা অবস্থায় আরবিট্রেশন কাউন্সিলের পূর্বানুমতি ছাড়া নতুন বিবাহ করেন, তবে তিনি অনধিক ১ (এক) বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
- এছাড়া, এ ক্ষেত্রে তাকে তার বিদ্যমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের সম্পূর্ণ দেনমোহর (Prompt ও Deferred) অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে।

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ৬(৫) অনুযায়ী জরিমানার সর্বোচ্চ সীমা ১০,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

৪৩.
হিন্দু আইনে কোনো সম্পত্তি দেবোত্তর হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে কী করতে হবে?
  1. মন্দির নির্মাণ করতে হবে 
  2. শেবাইত নিয়োগ করতে হবে
  3. দেবতার পূজা বা ধর্মীয় কাজে স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করতে হবে
  4. আদালতের অনুমতি নিতে হবে 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) দেবতার পূজা বা ধর্মীয় কাজে স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করতে হবে। 

⇒ হিন্দু আইনে কোনো সম্পত্তি 'দেবোত্তর' বা 'দেবত্ত্ব' হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে সেই সম্পত্তি স্পষ্টভাবে কোনো দেবতা (যাকে আইনি ব্যক্তি ধরা হয়) বা ধর্মীয় কাজের জন্য স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করতে হবে। এটি একটি 'endowment' (স্থায়ী দান) যা সম্পত্তির মালিকানা দেবতার নামে ন্যস্ত করে এবং তা শুধুমাত্র ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হবে বলে স্থির করে।

প্রধান বৈশিষ্ট্য:
স্থায়ী উৎসর্গ: সম্পত্তি দেবতার নামে চিরস্থায়ীভাবে দান করতে হবে। এটি আর ব্যক্তিগত সম্পত্তি থাকে না।
ধর্মীয় উদ্দেশ্য: উৎসর্গের একমাত্র উদ্দেশ্য দেবতার পূজা, সেবা বা অন্যান্য ধর্মীয় কাজ হওয়া আবশ্যক।
দলিল বা প্রমাণ: উৎসর্গ সাধারণত একটি 'অর্পণনামা' (Deed of Dedication) বা অন্যান্য লিখিত দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। তবে মৌখিক উৎসর্গও প্রমাণ সাপেক্ষে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
শেবাইত নিয়োগ: শেবাইত নিয়োগ একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনাগত পদক্ষেপ, কিন্তু এটি দেবোত্তর হওয়ার প্রাথমিক শর্ত নয়। উৎসর্গ ছাড়া শুধু শেবাইত নিয়োগ করলে সম্পত্তি দেবোত্তর হয় না।

- অর্থাৎ হিন্দু আইনে (বিশেষ করে দেবত্তর বা debutter property-এর ক্ষেত্রে) একটি সম্পত্তি দেবত্ত্ব/দেবোত্তর হিসেবে গণ্য হওয়ার জন্য প্রধান ও অপরিহার্য শর্ত হলো সম্পত্তিটি দেবতার পূজা, সেবা বা ধর্মীয় উদ্দেশ্যে স্থায়ীভাবে উৎসর্গ (dedication) করা হয়েছে।
- এটি ছাড়া শুধুমাত্র মন্দির নির্মাণ করা বা শেবাইত নিয়োগ করা দিয়ে দেবত্তর সম্পত্তি সৃষ্টি হয় না।

৪৪.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুসারে স্বামী কত বছরের বা তদূর্ধ্ব কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি চাইতে পারেন?
  1. ৫ বছর
  2. ৭ বছর
  3. ১০ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ এর ধারা ২(৩) অনুযায়ী, যদি স্বামী ৭ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তাহলে বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি পাস করা যাবে। 
- এই ধারা অনুযায়ী, স্বামী যদি ৭ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তাহলে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করতে পারেন।
তবে, এই ডিক্রি পাস করার আগে আদালতকে নিশ্চিত হতে হবে যে রায় চূড়ান্ত হয়েছে। অর্থাৎ, রায়ের বিরুদ্ধে কোনো আপিল বা পুনর্বিচারের আবেদন থাকলে, যতক্ষণ না তা নিষ্পত্তি হয়, ততক্ষণ ডিক্রি পাস করা যাবে না।

৪৫.
মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭ এর ধারা ২ অনুযায়ী, ওয়াকফের কোন অংশ শরিয়ত আইনের আওতায় পড়বে না?
  1. ট্রাস্ট ওয়াকফ
  2. ব্যক্তিগত ওয়াকফ
  3. পারিবারিক ওয়াকফ
  4. দাতব্য প্রতিষ্ঠান, দাতব্য ও ধর্মীয় দান
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭ এর ধারা ২-এ ওয়াকফ সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ব্যতিক্রম উল্লেখ করা হয়েছে। ধারার ভাষ্য অনুযায়ী: "ওয়াকফ (দাতব্য প্রতিষ্ঠান, দাতব্য ও ধর্মীয় দান ব্যতীত)"
অর্থাৎ, এই আইনের অধীনে শরিয়ত আইন ওয়াকফের সাধারণ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও দাতব্য প্রতিষ্ঠান (charities), দাতব্য দান (charitable endowments) এবং ধর্মীয় দান (religious endowments) সম্পর্কিত বিষয়গুলো এই আইনের আওতায় আসবে না। এই ধরনের দাতব্য ও ধর্মীয় ওয়াকফ সংশ্লিষ্ট অন্য আইন বা স্থানীয় প্রথা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

⇒ মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭ এর ২ ধারার বিধান মুসলিমদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আইন প্রযোজ্য হওয়া:
কোনো প্রচলিত রীতিনীতি বা প্রথার বিপরীতে, নিম্নলিখিত বিষয়ে (কৃষিজমি সংক্রান্ত বিষয় ব্যতীত) মুসলিমদের মধ্যে সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) হইবে—
- উত্তরাধিকার (ইন্তেকালের পর সম্পত্তির বণ্টন),
- নারীদের বিশেষ সম্পত্তি (যেমন ব্যক্তিগত সম্পত্তি, যা উত্তরাধিকার, চুক্তি, হাদিয়া বা ব্যক্তিগত আইনের অন্য কোনো বিধানের মাধ্যমে অর্জিত),
- বিবাহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ (যেমন তালাক, ইলা, জিহার, লিয়ান, খুলা ও মুবারাত),
- ভরণপোষণ, মোহরানা, অভিভাবকত্ব,
- হাদিয়া (উপহার), ট্রাস্ট ও ট্রাস্ট সম্পত্তি,
- ওয়াকফ (তবে দাতব্য প্রতিষ্ঠান, দাতব্য ও ধর্মীয় দান ব্যতীত)।
------------
⇒ The Muslim Personal Law (Shariat) Application Act, 1937- Section-2: Application of Personal Law to Muslims
- Notwithstanding any custom or usage to the contrary, in all questions (save questions relating to agricultural land) regarding intestate succession, special property of females, including personal property inherited or obtained under contract or gift or any other provision of Personal Law, marriage, dissolution of marriage, including talaq, ila, zihar, lian, khula and mubaraat, maintenance, dower, guardianship, gifts, trusts and trust properties, and waqfs (other than charities and charitable institutions and charitable and religious endowments) the rule of decision in cases where the parties are Muslims shall be the Muslim Personal Law (Shariat).

৪৬.
হিন্দু আইনের নিচের কোনটি মিতাক্ষরা স্কুলের উপ-স্কুল নয়?
  1. মিথিলা স্কুল
  2. বেনারস স্কুল
  3. মহারাষ্ট্র স্কুল
  4. গুজরাট স্কুল 
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু আইনের মিতাক্ষরা স্কুল (Mitakshara School) ভারতের অধিকাংশ অংশে প্রচলিত এবং এটি যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতির উপর বিজ্ঞানেশ্বরের লেখা ভাষ্য। এই স্কুলটি আবার ৫টি উপ-স্কুলে বিভক্ত হয়েছে, যা বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় প্রথা ও ব্যাখ্যার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।
• মিতাক্ষরা স্কুলের ৫টি উপ-স্কুল হলো:
১) বেনারস স্কুল (Benaras School) – উত্তর ভারত, বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশ অঞ্চলে প্রচলিত।
২) মিথিলা স্কুল (Mithila School) – বিহার ও উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু অংশে প্রচলিত।
৩) মহারাষ্ট্র স্কুল (Maharashtra School) বা মায়ুখ স্কুল – মহারাষ্ট্র অঞ্চলে প্রচলিত।
৪) পাঞ্জাব স্কুল (Punjab School) – পাঞ্জাব, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ ইত্যাদিতে প্রচলিত।
৫) দ্রাবিড় বা মাদ্রাজ স্কুল (Dravida or Madras School) – দক্ষিণ ভারত (তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক ইত্যাদি)।
- এই ৫টি উপ-স্কুলের মধ্যে মৌলিক নীতিগুলো একই রকম, কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে (যেমন: দত্তক, উত্তরাধিকার ইত্যাদি) স্থানীয় প্রথার কারণে পার্থক্য রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, এখানে "গুজরাট স্কুল" আলাদা কোনো উপ-স্কুল হিসেবে মিতাক্ষরা স্কুলের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়। গুজরাট অঞ্চলে মূলত মহারাষ্ট্র স্কুলের প্রভাব দেখা যায়। তাই "গুজরাট স্কুল" সঠিক উত্তর।

৪৭.
জারজ সন্তান মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে কী অবস্থায় থাকে?
  1. বৈধ উত্তরাধিকারী 
  2. আংশিক উত্তরাধিকারী
  3. উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত
  4. আদালতের অনুমতির উপর নির্ভর করে 
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন (ফিকহ) অনুযায়ী, জারজ সন্তান বা অবৈধ সম্পর্ক থেকে জন্মগ্রহণকারী সন্তান তার পিতা বা পিতার আত্মীয়দের কাছ থেকে কোন উত্তরাধিকার পায় না। এর প্রধান কারণ হলো:
১. বংশধারা স্বীকৃতি: মুসলিম আইনে বংশধারা কেবল বৈধ বিবাহের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয়। জারজ সন্তানের সাথে তার জৈবিক পিতার কোনো আইনি পিতৃত্বের সম্পর্ক থাকে না।
২. হাদিসের নির্দেশনা: ইসলামি শরিয়তে জারজ সন্তানের উত্তরাধিকার অস্বীকার করা হয়েছে।
৩. মাতার কাছ থেকে উত্তরাধিকার: তবে উল্লেখ্য, কিছু ফিকহি মতে জারজ সন্তান তার মাতা এবং মাতার আত্মীয়দের কাছ থেকে উত্তরাধিকার পেতে পারে, কারণ মাতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় জন্মের মাধ্যমে। কিন্তু পৈতৃক দিক থেকে সে সম্পূর্ণরূপে বঞ্চিত।
৪. শাস্তিমূলক দিক: এই বিধান অবৈধ যৌন সম্পর্ক নিরুৎসাহিত করার একটি আইনি ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত।
- অতএব, প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে "উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত"-ই সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর।

৪৮.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৬(২) এর বিধান অনুসারে, বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি প্রদানের পর আদালত কত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে প্রতিলিপি প্রেরণ করবে?
  1. ৫ দিন
  2. ৭ দিন
  3. ১০ দিন
  4. ২১ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৬(২) এর বিধান অনুসারে, মুসলিম পারিবারিক আইনের অধীন সংঘটিত বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি প্রদানের পর ৭ দিনের মধ্যে আদালত সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা পৌরসভার/সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে ডিক্রির প্রত্যায়িত প্রতিলিপি প্রেরণ করতে বাধ্য। 

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩: ধারা ২৬: মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধানকে প্রভাবিত না করা:
(১) এই আইনের কোনো কিছুই মুসলিম পরিবারিক আইন অথবা তদধীন প্রণীত বিধিমালার কোনো বিধানকে প্রভাবিত করিবে না।
(২) যেক্ষেত্রে কোনো পারিবারিক আদালত মুসলিম আইনের অধীন সংঘটিত কোনো বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য ডিক্রি প্রদান করে, সেইক্ষেত্রে আদালত ডিক্রি প্রদানের ৭(সাত) দিনের মধ্যে মুসলিম পারিবারিক আইনের ধারা ৭ এ উল্লিখিত সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে উক্ত ডিক্রির প্রত্যয়িত প্রতিলিপি প্রেরণ করিবে এবং, চেয়ারম্যান উক্ত প্রতিলিপি প্রাপ্ত হইবার পর, এইরূপ কার্যক্রম গ্রহণ করিবেন যেন তিনি উক্ত আইনের অধীন কোনো তালাকের সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছেন।
(৩) মুসলিম আইন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত কোনো বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য পারিবারিক আদালত কোনো ডিক্রি প্রদান করিলে যে তারিখে চেয়ারম্যান উপধারা (২) এর অধীন উহার প্রতিলিপি গ্রহণ করিয়াছেন সেই তারিখ হইতে ৯০ (নব্বই) দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত উহা কার্যকর হইবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত সময়ের মধ্যে পক্ষগণের মধ্যে মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান অনুসারে কোনো আপোষ মীমাংসা কার্যকর হইলে উক্ত ডিক্রির কোনো কার্যকারিতা থাকিবে না।

৪৯.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'Nemo tenetur seipsum accusare'- এই ল্যাটিন ম্যাক্সিমের প্রতিফলিত হয়েছে?
  1. ৩৫(১)
  2. ৩৫(২)
  3. ৩৫(৩)
  4. ৩৫(৪)
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৫(৪)-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে: "কোন অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাইবে না।"
- এই বিধানটি "Nemo tenetur seipsum accusare" (কেউ নিজেকে অভিযুক্ত করতে বাধ্য নয়) এই লাতিন আইনি নীতির সরাসরি প্রতিফলন। এটি আত্ম-অভিযোগ থেকে মুক্তির অধিকার (Right against self-incrimination) হিসাবে পরিচিত।
- অর্থাৎ বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৫(৪) অনুচ্ছেদে 'Nemo tenetur seipsum accusare' বা 'Doctrine of Self-Incrimination' প্রতিফলিত হয়েছে।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদে বিধান বিচার ও দণ্ড সম্পর্কে রক্ষণ:
(১) অপরাধের দায়যুক্ত কার্যসংঘটনকালে বলবৎ ছিল, এইরূপ আইন ভঙ্গ করিবার অপরাধ ব্যতীত কোন ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে না এবং অপরাধ-সংঘটনকালে বলবৎ সেই আইনবলে যে দণ্ড দেওয়া যাইতে পারিত, তাঁহাকে তাহার অধিক বা তাহা হইতে ভিন্ন দণ্ড দেওয়া যাইবে না। 
(২) এক অপরাধের জন্য কোন ব্যক্তিকে একাধিকবার ফৌজদারীতে সোপর্দ ও দণ্ডিত করা যাইবে না। 
(৩) ফৌজদারি অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালত বা ট্রাইব্যুনালে দ্রুত ও প্রকাশ্য বিচারলাভের অধিকারী হইবেন। 
(৪) কোন অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাইবে না। 
(৫) কোন ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দেওয়া যাইবে না কিংবা নিষ্ঠুর, অমানুষিক বা লাঞ্ছনাকর দণ্ড দেওয়া যাইবে না কিংবা কাহারও সহিত অনুরূপ ব্যবহার করা যাইবে না। 
(৬) প্রচলিত আইনে নির্দিষ্ট কোন দণ্ড বা বিচারপদ্ধতি সম্পর্কিত কোন বিধানের প্রয়োগকে এই অনুচ্ছেদের (৩) বা (৫) দফার কোন কিছুই প্রভাবিত করিবে না।

৫০.
বাংলাদেশের প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান কোনটি? 
  1. বাংলাদেশের অস্থায়ী সংবিধান আদেশ, ১৯৭২
  2. স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র, ১০ এপ্রিল ১৯৭১
  3. বাংলাদেশের সংবিধান, ১৯৭২
  4. প্রজাতন্ত্রের অস্থায়ী সংবিধান
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে দেশের প্রথম আইনি ভিত্তি হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র কাজ করে। এটিকে বাংলাদেশের প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান হিসেবে গণ্য করা হয়।
- ১০ এপ্রিল ১৯৭১ তারিখে মুজিবনগর সরকার (বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার) এই ঘোষণাপত্র জারি করে।
- এই ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি এবং সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়।
- এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করে এবং স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রদান করে।
- তাই, এটিকে বাংলাদেশের প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান বলা হয়।
সুতরাং, বাংলাদেশের প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান হলো স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র, ১০ এপ্রিল ১৯৭১।

৫১.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা বর্ণিত আছে? 
  1. অনুচ্ছেদ ৮০ 
  2. অনুচ্ছেদ ৯৬
  3. অনুচ্ছেদ ৯২
  4. অনুচ্ছেদ ৯৩
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ (অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা) শিরোনামেই স্পষ্টভাবে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা বর্ণিত আছে। এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: রাষ্ট্রপতির নিকট আশু ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে বলিয়া সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে তিনি উক্ত পরিস্থিতিতে যেরূপ প্রয়োজনীয় বলিয়া মনে করিবেন, সেইরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারী করিতে পারিবেন।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদটি রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি করার ক্ষমতা (Ordinance-making power), এর শর্তাবলী, সীমাবদ্ধতা এবং সংসদে উপস্থাপনের প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করে।

- সুতরাং, রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা বর্ণিত আছে অনুচ্ছেদ ৯৩-এ।

৫২.
"নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ" বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে?
  1. অনুচ্ছেদ ২১
  2. অনুচ্ছেদ ২২
  3. অনুচ্ছেদ ২৩
  4. অনুচ্ছেদ ২৪
ব্যাখ্যা

⇒ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২২-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, রাষ্ট্র নির্বাহী অঙ্গসমূহ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ নিশ্চিত করবে। এই বিধানটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যাতে নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপ ছাড়াই বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হতে পারে।

অর্থাৎ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২২-এ নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
সুতরাং, নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ বর্ণিত আছে অনুচ্ছেদ ২২-এ।

৫৩.
সুপ্রীম কোর্ট ব্যতীত অন্যান্য অধস্তন আদালত কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে?
  1. আইনের দ্বারা
  2. রাষ্ট্রপতির আদেশে
  3. সংসদের সিদ্ধান্তে
  4. সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশে
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৪ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে: “আইনের দ্বারা যেরূপ প্রতিষ্ঠিত হইবে, সুপ্রীম কোর্ট ব্যতীত সেইরূপ অন্যান্য অধস্তন আদালত থাকিবে।”
অর্থাৎ, সুপ্রীম কোর্ট ছাড়া বাকি সকল অধস্তন আদালত (যেমন: জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, বিশেষ আদালত ইত্যাদি) সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হবে।
- সুতরাং, অধস্তন আদালতসমূহ আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হবে।

৫৪.
যদি কোনো আইন প্রণীত হওয়ার তারিখে কার্যকর হওয়ার দিন উল্লেখ না থাকে, তবে আইনটি কখন কার্যকর হবে?
  1. আইন পাশ হওয়ার দিন
  2. গেজেটে প্রকাশের দিন
  3. পরবর্তী অর্থবছরের শুরুতে
  4. রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের দিন
ব্যাখ্যা

⇒ জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭ এর ধারা ৫(১) এ স্পষ্টভাবে বলা আছে: যদি কোনো আইন (Act of Parliament)-এ কার্যকর হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ না থাকে, তাহলে আইনটি কার্যকর হবে, রাষ্ট্রপতির সম্মতি (assent) পাওয়ার পর যে দিনে অফিসিয়াল গেজেটে প্রকাশিত হয়, সেই দিন থেকে।

⇒ জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এর ধারা ৫(১) অনুসারে, যদি কোনো আইন প্রণীত হওয়ার তারিখে কার্যকর হওয়ার নির্দিষ্ট দিন উল্লেখ না থাকে, তবে: বাংলাদেশে প্রণীত আইন সাধারণত গেজেটে প্রকাশের দিন থেকে কার্যকর হয়।
ধারা ৫(৩) অনুযায়ী, আইনটি কার্যকর হওয়ার দিনের আগের দিনের শেষ মুহূর্ত (মধ্যরাত) থেকে কার্যকর বলে গণ্য হয়।
অতএব, সঠিক উত্তর খ) গেজেটে প্রকাশের দিন।

⇒ The General Clauses Act, 1897, Section-5. Coming into operation of enactments:
(1) Where any Act of Parliament is not expressed to come into operation on any particular day, then it shall come into operation,
(a) in the case of an Act of Parliament to which this Act was applicable before the 26th day of March, 1971, on the date on which it receives the assent; and 
(b) in the case of any other Act of Parliament, the day on which the assent is first published in the official Gazette;
(3) Unless the contrary is expressed, an Act of Parliament or Regulation shall be construed as coming into operation immediately on the expiration of the day preceding its commencement.

৫৫.
জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এর ধারা ২১-এ কোন নীতির প্রতিফলন ঘটেছে?
  1. Delegation of power
  2. Doctrine of Severability
  3. Doctrine of Locus Poenitentiae
  4. Res Ipsa Loquitur
ব্যাখ্যা

⇒ জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এর ধারা ২১-এ Doctrine of Locus Poenitentiae বা পেনিটেনশিয়ার স্থান আলোচিত হয়েছে, যার অর্থ হল, কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে উক্ত ক্ষমতা প্রয়োগ থেকে সরে আসা বা বাতিল করা।

⇒জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এর ২১ ধারার বিধান: আদেশ, বিধি বা উপ-আইন প্রণয়নের ক্ষমতা, সংযোজন, সংশোধন, পরিবর্তন বা বাতিলের ক্ষমতাকে অন্তর্ভুক্ত করবে-
-যেক্ষেত্রে সংসদের কোন আইন বা প্রবিধি দ্বারা প্রজ্ঞাপন, আদেশ, বিধি বা উপ-বিধি জারীর কোন ক্ষমতা অর্পণ করা হয়, সেই ক্ষেত্রে উক্ত ক্ষমতা একইভাবে প্রয়োগযোগ্য এবং অনুরূপ অনুমোদন ও শর্তাবলি (যদি থাকে), জারীকৃত কোন প্রজ্ঞাপন, আদেশ, বিধি বা উপ-আইনের সংযোজন, সংশোধন, পরিবর্তন বা তা বাতিলের ক্ষমতাকে অন্তর্ভুক্ত করবে।
-------
⇒ The General Clauses Act, 1897, Section 21: Power to make to include power to add to, amend, vary or rescind, orders, rules or bye-laws:
-Where, by any Act of Parliament or Regulation, a power to issue notifications, orders, rules, or bye-laws is conferred, then that power includes a power, exercisable in the like manner and subject to the like sanction and conditions (if any), to add to, amend, vary or rescind any notifications, orders, rules or bye-laws so issued.

৫৬.
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কীভাবে নির্বাচিত হন?
  1. জনগণের সরাসরি ভোটে 
  2. সংসদ-সদস্যদের দ্বারা
  3. প্রধান বিচারপতির দ্বারা
  4. মন্ত্রিসভার সদস্যদের দ্বারা
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে:“বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকিবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হইবেন।”
অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের সদস্যদের (সংসদ সদস্য) দ্বারা নির্বাচিত হন। এটি একটি পরোক্ষ নির্বাচন (indirect election) প্রক্রিয়া।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮ রাষ্ট্রপতি: 
(১) বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকিবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হইবেন। 
(২) রাষ্ট্রপ্রধানরূপে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করিবেন এবং এই সংবিধান ও অন্য কোন আইনের দ্বারা তাঁহাকে প্রদত্ত ও তাঁহার উপর অর্পিত সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কর্তব্য পালন করিবেন। 
(৩) এই সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্টপতি তাঁহার অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করিবেন: 
তবে শর্ত থাকে যে, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে আদৌ কোন পরামর্শদান করিয়াছেন কি না এবং করিয়া থাকিলে কি পরামর্শ দান করিয়াছেন, কোন আদালত সেই সম্পর্কে কোন প্রশ্নের তদন্ত করিতে পারিবেন না।

৫৭.
বাংলাদেশের সংবিধান প্রস্তাবনায় কোনটি নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে?
  1. সামরিক শাসন
  2. বাণিজ্যিক স্বার্থ সংরক্ষণ
  3. মৌলিক মানবাধিকার ও সুবিচার
  4. রাজনৈতিক দলগুলোর আধিপত্য
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনা (Preamble)-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো:
“গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন এক শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা - যেখানে সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হইবে।”
- এখানে সরাসরি মৌলিক মানবাধিকার (fundamental human rights) এবং সুবিচার (justice) নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
- সুতরাং, সঠিক উত্তর গ) মৌলিক মানবাধিকার ও সুবিচার।

৫৮.
"Stare decisis et non quieta movere" ম্যাক্সিমের মূল কথা কী? 
  1. নতুন সিদ্ধান্ত তৈরি করা
  2. পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত বাতিল করা
  3. পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত অনুসরণ করা
  4. আদালতের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করা
ব্যাখ্যা

⇒ “Stare decisis et non quieta movere” একটি ল্যাটিন লিগ্যাল ম্যাক্সিম, যার আক্ষরিক অর্থ হলো — “যা স্থিরীকৃত তা অনুসরণ করো এবং স্থির অবস্থাকে অশান্ত করো না” বা সহজভাবে “পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত অনুসরণ করো এবং স্থির বিষয়গুলোকে অশান্ত করো না”।

- এই ম্যাক্সিমের মূল কথা হলো পূর্ববর্তী আদালতের সিদ্ধান্ত (precedent)-কে সম্মান করা এবং একই ধরনের ঘটনা বা আইনি প্রশ্নে পূর্ববর্তী রায় অনুসরণ করা। এটি আইনের স্থিতিশীলতা (stability), নিশ্চয়তা (certainty) এবং ন্যায়বিচারের ধারাবাহিকতা (consistency) নিশ্চিত করে।
- এটি প্রিসেডেন্ট (নজির) এর আইনী মতবাদের মূল ভিত্তি। এর মাধ্যমে: আদালত পূর্ববর্তী উচ্চতর বা সমপর্যায়ের আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করতে বাধ্য হয়। একই ধরনের মামলায় একই আইনী নীতি প্রয়োগ করা হয়, যা আইনী নিশ্চিততা ও সামঞ্জস্য বজায় রাখে।
আইনী ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা, অনুমানযোগ্যতা ও সুবিচার নিশ্চিত করে।
- নিম্ন আদালত উচ্চতর আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে।একই আদালত তার নিজের পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে (যদি না গুরুতর কারণে তা পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়)। এই নীতির মাধ্যমে আইনী ধারাবাহিকতা ও ন্যায়বিচারের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

৫৯.
শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, জাতীয় শিশুকল্যাণ বোর্ডের সভাপতি কে হন?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. আইনমন্ত্রী
  4. সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
ব্যাখ্যা

⇒ শিশু আইন, ২০১৩ এর ধারা ৭(১) অনুযায়ী, জাতীয় শিশুকল্যাণ বোর্ডের সভাপতি হন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী। বোর্ডটি শিশুদের উন্নয়ন, সুরক্ষা ও কল্যাণ সংক্রান্ত নীতি প্রণয়ন, তদারকি এবং সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছে।

শিশু আইন, ২০১৩ এর ধারা ৭ জাতীয় শিশুকল্যাণ বোর্ড: বোর্ড গঠন:
সভাপতি: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী। 
 মূল সদস্যরা:
- সংসদের মনোনীত ২ জন মহিলা এমপি (সরকার ও বিরোধীদল থেকে)
- পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
- বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগীয় সচিব/যুগ্মসচিব।
- বিভাগীয় কমিশনার (ঢাকা)।
- বিভিন্ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
- সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধি।
- শিশু ও প্রতিবন্ধী সংস্থার প্রতিনিধিরা।
- ২ জন গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং ১টি এনজিও প্রতিনিধি।

৬০.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ অনুযায়ী, "শিশু" বলতে কত বছরের কম বয়সী ব্যক্তিকে বোঝানো হয়?
  1. ১৪ বছর
  2. ১৬ বছর
  3. ১৮ বছর
  4. ২১ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ২(ট)-এ স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত আছে যে, “শিশু” অর্থ ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যক্তি।
এই সংজ্ঞা আইনের অধীনে শিশু-সংক্রান্ত অপরাধসমূহে (যেমন: শিশু ধর্ষণ, শিশু অপহরণ, যৌন পীড়ন ইত্যাদি) প্রযোজ্য।
- উল্লেখ্য যে, শিশু আইন, ২০১৩-এ শিশুর বয়সসীমা ১৮ বছরের কম, কিন্তু নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ক্ষেত্রে এটি ১৬ বছরের কম।

৬১.
আইনগত সহায়তা প্রদান নীতিমালা, ২০১৪ অনুযায়ী, আয়ের সীমা বিবেচনা করা ব্যতীত কোন সকল ব্যক্তি আইনগত সহায়তা পাইবার যোগ্য?
  1. শিশু
  2. ব্যবসায়ী
  3. সরকারি কর্মকর্তা
  4. বৈদেশিক শিক্ষার্থী
ব্যাখ্যা

⇒ আইনগত সহায়তা প্রদান নীতিমালা, ২০১৪-এর অনুচ্ছেদ ২(২) এ আয়ের সীমা বিবেচনা না করে কিছু বিশেষ শ্রেণির ব্যক্তিদের সরাসরি আইনগত সহায়তা পাওয়ার যোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এদের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে "শিশু"।

⇒ আইনগত সহায়তা প্রদান নীতিমালা, ২০১৪-এর অনুচ্ছেদ ২-এর উপ-অনুচ্ছেদ (২)-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, আয়ের সীমা বিবেচনা না করেই (অর্থাৎ আর্থিক অবস্থা যাই হোক না কেন) নিম্নোক্ত ব্যক্তিগণ আইনগত সহায়তা পাওয়ার যোগ্য বলে গণ্য হবেন:
- শিশু
- মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি
- শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশু
- নিরাশ্রয় ব্যক্তি বা ভবঘুরে
- ক্ষুদ্র জাতিসত্তা বা নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত ব্যক্তি
- পারিবারিক সহিংসতার শিকার বা ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি
- বয়স্ক ভাতাভোগী ব্যক্তি
- ভিজিডি কার্ডধারী দুস্থ মাতা
- এসিড দগ্ধ নারী বা শিশু
- অসচ্ছল বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও দুস্থ মহিলা
- প্রতিবন্ধী ব্যক্তি
- আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অধিকার প্রতিষ্ঠায় অক্ষম ব্যক্তি
- বিনা বিচারে আটক ব্যক্তি
- আদালত বা জেল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অসচ্ছল বলে বিবেচিত ব্যক্তি
- সংস্থা কর্তৃক চিহ্নিত অন্যান্য দুর্যোগকবলিত বা অসচ্ছল ব্যক্তি

অপশনগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র “শিশু” এই তালিকায় সরাসরি অন্তর্ভুক্ত। অন্য অপশনসমূহ (ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তা, বৈদেশিক শিক্ষার্থী) আয়ের সীমা বিবেচনা ব্যতীত যোগ্যতার তালিকায় নেই; তাদের ক্ষেত্রে সাধারণত আয়ের সীমা (অথবা অন্যান্য শর্ত) যাচাই করা হয়।


৬২.
বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী মজুতদারি বা কালোবাজারির সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. ৭ বছরের কারাদণ্ড
  3. ১০ বছরের কারাদণ্ড
  4. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর ধারা ২৫ এ মজুতদারি বা কালোবাজারির জন্য শাস্তির বিধান দেওয়া আছে।
- ধারা ২৫(১) অনুসারে: "মজুতদারি বা কালোবাজারির অপরাধে শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, বা ১৪ বছর পর্যন্ত কঠোর কারাদণ্ড এবং জরিমানা।"
- এখানে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড উভয়ই উল্লেখ আছে।
- তবে বিশেষ ক্ষেত্রে: ধারা ২৫(২) অনুসারে, যদি মজুতদারি আর্থিক বা অন্য কোনো সুবিধা লাভের উদ্দেশ্যে না হয়, তবে শাস্তি সর্বোচ্চ ৩ মাস কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে।
- কিন্তু সাধারণভাবে মজুতদারি/কালোবাজারির জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

৬৩.
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর প্রথম তফশিল অনুসারে শিশা (Shisha) কোন শ্রেণির মাদকদ্রব্য?
  1. 'ক' শ্রেণি
  2. 'খ' শ্রেণি
  3. 'গ' শ্রেণি
  4. তফশিলে নেই
ব্যাখ্যা

⇒ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর প্রথম তফশিল-এর ‘খ’ শ্রেণির মাদকদ্রব্য-এর ক্রমিক ৪-এর শেষে স্পষ্টভাবে শিশা (Shisha) উল্লেখ আছে। তফশিলের ব্যাখ্যা অংশে বলা হয়েছে: “শিশা (Shisha)' অর্থ বিভিন্ন ধরনের ভেষজের নির্যাস সহযোগে ০.২%-এর ঊর্ধ্বে নিকোটিন এবং এসেন্স ক্যারামেল মিশ্রিত ফ্রুট স্লাইস সহযোগে তৈরি যে-কোনো পদার্থ।”

অতএব, আইনের তফশিলভুক্ত সংজ্ঞা ও তালিকা অনুযায়ী শিশা = ‘খ’ শ্রেণির মাদকদ্রব্য।

৬৪.
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর অধীনে কমিশনার নিযুক্ত হওয়ার জন্য ন্যূনতম কত বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন?
  1. ১৫ বছর
  2. ২০ বছর
  3. ২৫ বছর
  4. ১০ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ধারা ৮(১) অনুসারে কমিশনার নিযুক্ত হওয়ার জন্য ন্যূনতম ২০ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।
- দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৮(১)-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে: “আইন, আইন প্রণয়ন, শিক্ষা, প্রশাসন, বিচার, হিসাব বা নিরীক্ষা সংক্রান্ত পেশায় বা শৃঙ্খলা বাহিনী বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যথাযথ পর্যায়ে কর্মের বা দুর্নীতি বিরোধী কার্যক্রমে অন্যূন ২০ (বিশ) বৎসরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোনো ব্যক্তি কমিশনার হইবার যোগ্য বলিয়া বিবেচিত হইবেন।”

- অর্থাৎ কমিশনার নিয়োগের জন্য ন্যূনতম ২০ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।

৬৫.
মানিলন্ডারিং আইন, ২০১২ এর ৪ ধারার অধীনে মানিলন্ডারিং অপরাধের সর্বোচ্চ কারাদণ্ড কত বছর?
  1. ৭ বছর
  2. ১০ বছর
  3. ১২ বছর
  4. যাবজ্জীবন
ব্যাখ্যা

⇒ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ধারা ৪(২) অনুযায়ী, মানিলন্ডারিং অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ১২ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। মানিলন্ডারিং অপরাধ, অথবা এর চেষ্টা, সহায়তা, বা ষড়যন্ত্রের জন্য সাজা হলো অন্যূন ৪ বছর এবং অনধিক ১২ বছর কারাদণ্ড। 
⇒ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা-৪ মানিলন্ডারিং অপরাধ ও দণ্ড:
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, মানিলন্ডারিং একটি অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে। 
(২) কোন ব্যক্তি মানিলন্ডারিং অপরাধ করিলে বা মানিলন্ডারিং অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা, সহায়তা বা ষড়যন্ত্র করিলে তিনি অন্যূন ৪ (চার) বৎসর এবং অনধিক ১২ (বার) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির দ্বিগুন মূল্যের সমপরিমাণ বা ১০ (দশ) লক্ষ টাকা পর্যন্ত, যাহা অধিক, অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন: 
তবে শর্ত থাকে যে, আদালত কর্তৃক ধার্যকৃত সময়সীমার মধ্যে অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হইলে আদালত অপরিশোধিত অর্থদণ্ডের পরিমাণ বিবেচনায় অতিরিক্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত করিবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

৬৬.
আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ অনুযায়ী, হাতেনাতে ধরা পড়লে কত দিনের মধ্যে বিচার শেষ করতে হবে?
  1. ৬০ দিন 
  2. ১৫ কার্যদিবস
  3. ৩০ কার্যদিবস
  4. ৬০ কার্যদিবস
ব্যাখ্যা

⇒ আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২-এর ধারা ১০(১) অনুসারে: হাতেনাতে ধরা পড়লে বিচার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ করতে হবে।
এখানে "কার্যদিবস" বলতে আদালত বসে এমন দিন বোঝায়।

⇒ আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২-এর ধারা ১০ - বিচার পদ্ধতি:
(১) আদালত এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের বিচার সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে সম্পন্ন করিবে এবং এতদুদ্দেশ্যে এই আইনে ভিন্নতর কিছু না থাকিলে, ফৌজদারী কার্যবিধির Chapter XXII-তে বর্ণিত পদ্ধতি, যতদূর প্রযোজ্য হয়, অনুসরণ করিবে৷ 
(২) এই আইনের অধীন কোন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি হাতেনাতে পুলিশ কর্তৃক ধৃত হইলে বা অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক ধৃত হইয়া পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হইলে, পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রাথমিক রিপোর্টসহ তাহাকে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করিবে এবং উহার পরবর্তী সাত কার্যদিবসের মধ্যে অপরাধ সম্পর্কে আদালতে রিপোর্ট বা অভিযোগ পেশ করিবে এবং আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ প্রদান করিয়া উক্তরূপ রিপোর্ট বা অভিযোগ প্রাপ্তির তারিখ হইতে ত্রিশ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার কার্য সম্পন্ন করিবে৷ 
(৩) অভিযুক্ত ব্যক্তি উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিতভাবে হাতেনাতে ধৃত না হইলে, অপরাধ সংঘটনের পরবর্তী সাত কার্যদিবসের মধ্যে ধারা ৯(২) এর অধীন রিপোর্ট বা অভিযোগ দাখিল করিতে হইবে এবং উক্ত রিপোর্ট বা অভিযোগ দায়েরের পরবর্তী ষাট কার্যদিবসের মধ্যে, ধারা ১১ এর বিধান সাপেক্ষে, আদালত বিচার কার্য সম্পন্ন করিব৷ 
(৪) উপ-ধারা (২) ও (৩) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন কোন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিতভাবে ধৃত না হইয়া অন্য কোনভাবে ধৃত হইলে বা আদালতে আত্নসমর্পণ করিলে, উক্ত অপরাধের বিষয়ে, যত দ্রুত সম্ভব, ধারা ৯(২) এর অধীন রিপোর্ট বা অভিযোগ দাখিল করিতে হইবে এবং আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আত্নপক্ষ সমর্থনের সুযোগ প্রদান করিয়া উক্তরূপ রির্পোট বা অভিযোগ প্রাপ্তির তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করিবে।

৬৭.
হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইনের ১৩৮(১) ধারা মতে চেক ডিসঅনারের মামলায় আদালত চেকে বর্ণিত টাকার তিনগুণ অর্থদণ্ড প্রদান করলে তার কী পরিমাণ অভিযোগকারী পাবেন?
  1. চেকের দ্বিগুণ টাকা
  2. চেকের তিনগুণ টাকা
  3. অথদণ্ডের অর্ধেক টাকা
  4. চেকের সমপরিমাণ টাকা
ব্যাখ্যা

⇒ হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১-এর ধারা ১৩৮(২)-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে:
- “Where any fine is realized under sub-section (1), any amount up to the face value of the cheque as far as is covered by the fine realized shall be paid to the holder.”
- “উপ-ধারা (১) মোতাবেক যেক্ষেত্রে অর্থদণ্ড আদায় হয় সেক্ষেত্রে আদায়কৃত অর্থদণ্ড হতে চেকে বর্ণিত টাকা যতদূর পর্যন্ত আদায়কৃত অর্থদণ্ড হতে প্রদান করা সম্ভব চেকের ধারককে প্রদান করতে হবে।”

অর্থাৎ আদালত চেকের অর্থের তিনগুণ পর্যন্ত জরিমানা করতে পারলেও (ধারা ১৩৮(১)), আদায়কৃত জরিমানা থেকে অভিযোগকারী বা চেকের ধারক চেকে বর্ণিত মূল অর্থের (face value) সমপরিমাণ টাকা পর্যন্তই পাবেন। বাকি অর্থ (যদি থাকে) রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে।

৬৮.
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর কোন ধারায় সাইবার জুয়ার শাস্তি বর্ণিত আছে?
  1. ধারা ১৯
  2. ধারা ২০
  3. ধারা ২১
  4. ধারা ২২
ব্যাখ্যা

⇒ সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ২০-এ সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার অপরাধ ও দণ্ড বর্ণিত হয়েছে।

⇒ সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ২০-সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার অপরাধ ও দণ্ড:
(১) যদি কোনো ব্যক্তি সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার নিমিত্ত কোনো পোর্টাল বা অ্যাপস বা ডিভাইস তৈরি করেন বা পরিচালনা করেন বা জুয়া খেলায় অংশগ্রহণ করেন বা খেলায় সহায়তা বা উৎসাহ প্রদান করেন বা উৎসাহ প্রদানের জন্য বিজ্ঞাপনে অংশগ্রহণ এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রচার বা বিজ্ঞাপিত করেন তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।
(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১ (এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

৬৯.
The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 এর ধারা ১৪২ অনুযায়ী বকেয়া খাজনা আদায়ের তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৫ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ The State Acquisition and Tenancy Act, 1950–এর ধারা ১৪২ অনুযায়ী, যে বছরের খাজনা বকেয়া পড়ে, সেই বছরের শেষ দিন থেকে গণনা করে বকেয়া খাজনা আদায়ের জন্য তামাদি মেয়াদ হবে ৩ (তিন) বছর।

⇒ The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 এর ১৪২ ধারার বিধান: তামাদি:
- যে বছরের খাজনা বকেয়া পড়ে সেই বকেয়া খাজনা আদায়ের জন্য তামাদি মেয়াদ সেই বছরের শেষ দিন হতে তিন বছর হবে।
-----------
⇒ The State Acquisition and Tenancy Act, 1950- Section 142. Limitation:
- The period of limitation for the recovery of an arrear of rent shall be three years running from the last day of the year in which the arrear fell due.

৭০.
অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৪৯-এর ধারা ৬৬ অনুযায়ী ডেপুটি কমিশনারের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল কোথায় করা যাবে?
  1. হাইকোর্ট বিভাগে
  2. ডিভিশনাল রাজস্ব বোর্ডে
  3. জেলা জজের আদালতে
  4. ডিভিশনাল কমিশনারের নিকট
ব্যাখ্যা

⇒ অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৪৯-এর ধারা ৬৬(২)-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে: "ডেপুটি কমিশনারের প্রদত্ত আদেশের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে জেলা জজের নিকট আপিল করা যাবে। এরূপ আপিলের ক্ষেত্রে জেলা জজের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।"
অর্থাৎ, ডেপুটি কমিশনারের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার একমাত্র ও চূড়ান্ত ক্ষেত্র হল জেলা জজের আদালত।

⇒ অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৪৯ এর ৬৬ ধারার বিধান উন্নয়ন ইত্যাদি করার অধিকারের প্রশ্নে কালেক্টর সিদ্ধান্ত দিবেন:
১) যদি অকৃষি প্রজা ও তার ভূ-স্বত্বাধিকারীর মধ্যে এমন প্রশ্ন উঠে-
ক) উন্নয়ন কাজ করার অধিকার সম্বন্ধে; বা
খ) কোন বিশেষ একটি কাজ উন্নয়নমূলক কি না, 
তখন যে কোন পক্ষের আবেদন অনুযায়ী ডেপুটি কমিশনার সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন।
২) ডেপুটি কমিশনারের প্রদত্ত আদেশের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে জেলা জজের নিকট আপিল করা যাবে।
- এরূপ আপিলের ক্ষেত্রে জেলা জজের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।
--------------
⇒ Non-Agricultural Tenancy Act, 1949- Section 66. Collector to decide question as to right to make improvement, etc. 
(1) If a question arises between the non-agricultural tenant and his landlord- 
(a) as to the right to make an improvement, or 
(b) as to whether a particular work is an improvement, 
the Deputy Commissioner may, on the application of either party, decide the question. 

(2) An appeal, if presented within thirty days from the date of the order appealed against, shall lie to the District Judge from every order passed by the Deputy Commissioner under sub-section (1) and the order passed by the District Judge on such appeal shall be final.

৭১.
The State Acquisition and Tenancy Act 1950 এর ধারা ১৪৫ক(৭ক) অনুযায়ী, চূড়ান্ত শুনানির তারিখ থেকে কত দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করতে হবে?
  1. ৯০ দিন
  2. ১২০ দিন
  3. ১৮০ দিন
  4. ৩৬০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒The State Acquisition and Tenancy Act 1950 এর ধারার ১৪৫ক  উপধারা (৭ক) এর বিধান চূড়ান্ত শুনানির জন্য নির্ধারিত তারিখ থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করতে হবে।
-------------
⇒ The State Acquisition and Tenancy Act 1950 section-145A (7) A suit may be admitted within next one year after the expiry of the period specified in sub-section (6), if the Land Survey Tribunal is satisfied with the reasons for delay shown by the plaintiff.

- (7A) The Land Survey Tribunal shall conclude the trail of a suit within 180 (one hundred and eighty) days from the date fixed for its final hearing.

৭২.
নিবন্ধন আইন, ১৯০৮ এর ধারা ১৭ক অনুসারে স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি নিবন্ধনের তারিখ গণনা করা হয় কোন তারিখ থেকে?
  1. চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ থেকে
  2. চুক্তি সম্পাদনের তারিখ থেকে
  3. সম্পত্তি হস্তান্তরের তারিখ থেকে
  4. আদালতে দাখিলের তারিখ থেকে
ব্যাখ্যা

⇒ নিবন্ধন আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৭ক অনুযায়ী, যে কোনো স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি চুক্তি সম্পাদনের (execution) তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নিবন্ধনের জন্য দাখিল করতে হবে।

⇒ নিবন্ধন আইন, ১৯০৮, ধারা ১৭ক- বিক্রয় চুক্তি, ইত্যাদির নিবন্ধন:
(১) এই আইন বা আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যে কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের চুক্তিপত্র লিখিত হইতে হইবে, তৎসঙ্গে উহা সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ কর্তৃক সম্পাদিত ও নিবন্ধিত হইতে হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত বিক্রয়-চুক্তি, সম্পাদনের তারিখ হইতে ৬০ দিনের মধ্যে নিবন্ধনের জন্য দাখিল করিতে হইবে এবং এইক্ষেত্রে দলিল নিবন্ধনের বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।

⇒The Registration Act, 1908- Section 17A. Registration of contract for sale, etc.
(1) Notwithstanding anything to the contrary contained in this Act or any other law for the time being in force, a contract for sale of any immovable property shall be in writing, executed by the parties thereto and registered. 
(2) A contract for sale referred to in sub-section (1) shall be presented for registration within sixty days from the date of execution of the contract and the provisions regarding registration of instruments shall apply.

৭৩.
নিবন্ধন আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৬ অনুযায়ী রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রার কে নিয়োগ দিতে পারে?
  1. সরকার
  2. জেলা প্রশাসক
  3. হাইকোর্ট বিভাগ
  4. মহাপরিদর্শক নিবন্ধন
ব্যাখ্যা

⇒ নিবন্ধন আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৬ অনুযায়ী রেজিস্ট্রার এবং সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগের ক্ষমতা সরকারের (Government) হাতে থাকে। তারা বিভিন্ন রেজিস্ট্রেশন অফিসে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

⇒ নিবন্ধন আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৬: রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রার:
সরকার, উপযুক্ত মনে করিলে, সরকারি কর্মকর্তা বা অন্য কোন ব্যক্তিকে, পূর্বোল্লিখিত পদ্ধতিতে গঠিত, কতিপয় জেলায় এবং কতিপয় উপ জেলায়, যথাক্রমে রেজিস্ট্রার এবং সাব-রেজিস্ট্রার, হিসাবে নিয়োগ প্রদান করিতে পারিবে। 
------------
⇒The Registration Act, 1908- Section 6. Registrars and Sub-Registrars:
The Government may appoint such persons, whether public officers or not, as it thinks proper, to be Registrars of the several districts, and to be Sub-Registrars of the several sub-districts, formed as aforesaid, respectively.

৭৪.
চুক্তি আইন, ১৮৭২ এর ধারা ২৩ অনুসারে কোন ক্ষেত্রে চুক্তির প্রতিদান বা উদ্দেশ্য বেআইনি গণ্য হবে?
  1. প্রতারণাপূর্ণ হলে
  2. আইন দ্বারা নিষিদ্ধ হলে
  3. আইনের বিধান ব্যর্থ করলে
  4. উপরোক্ত সবগুলো ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা

⇒ চুক্তি আইন, ১৮৭২ এর ধারা ২৩-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চুক্তির প্রতিদান বা উদ্দেশ্য বেআইনি হবে যদি তা:
- আইন দ্বারা নিষিদ্ধ হয় (forbidden by law); অথবা
- আইনের বিধান ব্যর্থ করে (defeat the provisions of any law); অথবা
- প্রতারণাপূর্ণ হয় (fraudulent); অথবা
- অন্য ব্যক্তি বা সম্পত্তির ক্ষতির সাথে জড়িত হয় (injury to person or property); অথবা
- আদালত কর্তৃক অনৈতিক বা জননীতির পরিপন্থী বিবেচিত হয় (immoral or opposed to public policy)।
প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে প্রতারণাপূর্ণ, আইন দ্বারা নিষিদ্ধ এবং আইনের বিধান ব্যর্থ করলে — এই তিনটি ক্ষেত্রই ধারা ২৩-এর অধীনে বেআইনি প্রতিদান বা উদ্দেশ্য হিসেবে গণ্য হবে।
সুতরাং, উপরোক্ত সবগুলো ক্ষেত্রে চুক্তির প্রতিদান বা উদ্দেশ্য বেআইনি হবে।

⇒ চুক্তি আইনের ২৩ ধারার বিধান: কোন কোন প্রতিদানসমূহ এবং উদ্দেশ্যাবলি আইনানুগ এবং কোন কোনটি আইনানুগ নয়:
কোন সম্মতির প্রতিদান বা উদ্দেশ্য আইনানুগ হয় যদি না তা আইন দ্বারা নিষিদ্ধ করা না হয়; বা তা কোন আইনের বিধানাবলি ব্যর্থ করে; বা তা প্রতারণাপূর্ণ হয়; বা তা অন্য ব্যক্তির বা অন্যের সম্পত্তির জন্য ক্ষতিকর পরিগণিত হয়; বা তা আদালত অযৌক্তিক বা জননীতির পরিপন্থি মনে করেন।
এরূপ প্রতিটি ক্ষেত্রে চুক্তির প্রতিদান বা উদ্দেশ্যকে বেআইনি বলা হয়। যে সকল চুক্তির উদ্দেশ্য বা প্রতিদান বেআইনি সেগুলো বাতিল।
-----------------
⇒ The Contract Act, 1872 Section 23. What considerations and objects are lawful and what not:
The consideration or object of an agreement is lawful, unless- it is forbidden by law; or is of such a nature that, if permitted, it would defeat the provisions of any law; or is fraudulent; or involves or implies injury to the person or property of another; or the Court regards it as immoral, or opposed to public policy.
In each of these cases, the consideration or object of an agreement is said to be unlawful. Every agreement of which the object or consideration is unlawful is void.

৭৫.
চুক্তি আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩০ কোন দণ্ডবিধির ধারাকে প্রভাবিত করে না?
  1. দণ্ডবিধি ধারা ২৯৪
  2. দণ্ডবিধি ধারা ২৯৪ক
  3. দণ্ডবিধি ধারা ২৯৫
  4. দণ্ডবিধি ধারা ২৯৬
ব্যাখ্যা

⇒ চুক্তি আইন, ১৮৭২ এর ধারা ৩০-এর শেষ অংশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে: "Nothing in this section shall be deemed to legalize any transaction connected with horse-racing, to which the provisions of section 294A of the Penal Code apply."
(এই ধারার কোনো কিছুই ঘোড়দৌড় সংক্রান্ত কোনো লেনদেনকে বৈধতা দিয়েছে বলে গণ্য হবে না, যার ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির ২৯৪ক ধারা প্রযোজ্য।)
- দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ২৯৪ক-এ জুয়া ও জুয়ার অফিস রাখার অপরাধ ও শাস্তি বর্ণিত আছে। চুক্তি আইনের ধারা ৩০-এ ঘোড়দৌড়ের পুরস্কার সংক্রান্ত ব্যতিক্রম দেওয়া হলেও, তা দণ্ডবিধির ২৯৪ক ধারাকে প্রভাবিত করে না—অর্থাৎ ধারা ২৯৪ক-এর অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ থাকলে তা বহাল থাকে।
- সুতরাং, চুক্তি আইনের ধারা ৩০ দণ্ডবিধির ধারা ২৯৪ক-কে প্রভাবিত করে না।

⇒ চুক্তি আইনের ৩০ ধারার বিধান বাজি সম্পর্কিত সম্মতি বাতিল:
- বাজি সম্পর্কিত সম্মতি বাতিল এবং
- বাজিতে জেতা হয়েছে এমন কিছু উদ্ধার করার জন্য অথবা কোন খেলা বা অনিশ্চিত ঘটনা যার উপর বাজি ধরা হয়েছে তার ফলাফল আনার উদ্দেশ্যে কারো কাছে গচ্ছিত কোন জিনিস আদায় করার জন্য কোন মোকদ্দমা দায়ের করা যাবে না।
- ঘোড় দৌড়ের নির্দিষ্ট পুরস্কারের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম- এ ধারা অনুসারে কোন ঘোড় দৌড়ে জয়লাভকারী বা জয়লাভকারীগণকে পুরস্কার হিসাবে ৫০০ টাকা বা তার বেশি কোন মূল্যের কোন প্লেট, পুরস্কার বা কোন অর্থ, চাঁদা বা কোন কিছু দান করার সম্মতি দেয়া হলে তা অবৈধ বলে গণ্য হবে না।
- দণ্ডবিধির ২৯৪ক ধারা প্রভাবিত হবে না: এ ধারার কোন কিছু ঘোড় দৌড় সম্পর্কিত যে লেনদেনের ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির ২৯৪ক ধারার বিধানাবলি প্রয়োগযোগ্য সে সকল লেনদেনকে বৈধতা প্রদান করেছে বলে গণ্য হবে না।
-----
⇒ The Contract Act, 1872- section 30. Agreements by way of wager void Exceptions in favour of certain prizes for horse-racing. Section 294A of the Penal Code not affected:
 Agreements by way of wager are void; and no suit shall be brought for recovering anything alleged to be own on any wager, or entrusted to any person to abide the result of any game or other uncertain event on which wager is made. 

This section shall not be deemed to render unlawful a subscription, or contribution, or agreement to subscribe or contribute, made or entered into for or toward any plate, prize or sum of money, of the value or amount of five hundred Taka or upwards, to be awarded to the winner or winners of any horse race. 

Nothing in this section shall be deemed to legalize any transaction connected with horse-racing, to which the provisions of section 294A of the Penal Code apply.

৭৬.
চুক্তি আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৪৮ কোন ধরনের চুক্তি সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে?
  1. জিম্মা চুক্তি
  2. দান চুক্তি
  3. ভাড়া চুক্তি
  4. বিক্রয় চুক্তি
ব্যাখ্যা

⇒ চুক্তি আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৪৮-এর শিরোনামই হলো “Bailment”, “bailor”, and “bailee” defined। এই ধারায় জিম্মা চুক্তি (Bailment)-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, যেখানে এক ব্যক্তি (জিম্মাদাতা) নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে অস্থাবর সম্পত্তি (goods) অন্য ব্যক্তির (জিম্মাদার) কাছে প্রদান করে এবং উদ্দেশ্য সাধিত হলে তা ফেরত বা জিম্মাদাতার নির্দেশ অনুসারে বিলি করার চুক্তি বর্ণিত হয়।

⇒ চুক্তি আইনের ১৪৮ ধারার বিধান "জিম্মা", "জিম্মাদাতা" এবং "জিম্মাদার" এদের সংজ্ঞা (Bailment, bailor, and bailee defined):
- জিম্মা- চুক্তির ভিত্তিতে কোন ব্যক্তি কর্তৃক অপর কোন ব্যক্তিকে কোনো উদ্দেশ্যে কোন মালপত্র এরূপভাবে প্রদান করা হয় যে, যখন উদ্দেশ্য সাধিত হয় তখন মাল প্রদানকারীর নির্দেশ অনুসারে তা ফেরত দিতে বা অন্যভাবে এর বিলি ব্যবস্থা করতে হবে।
- জিম্মাদাতা- মালামাল প্রদানকারী ব্যক্তিকে জিম্মাদাতা বলা হয়।
- জিম্মাদার- যে ব্যক্তির নিকট এগুলি প্রদান করা হয় তাকে জিম্মাদার বলা হয়।
- জিম্মা এমন একধরনের চুক্তি যেখানে ২টি পক্ষ থাকে। যেমন: জিম্মাদাতা ও জিম্মাদার।
- এই ধরনের চুক্তি দ্বারা অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করা যায়।
-----------
⇒ The Contract Act, 1872- Section 148. "Bailment", "bailor", and "bailee" defined:
A "bailment" is the delivery of goods by one person to another for some purpose, upon a contract that they shall, when the purpose is accomplished, be returned or otherwise disposed of according to the directions of the person delivering them.
The person delivering the goods is called the "bailor".
The person to whom they are delivered is called the "bailee". 
Explanation – If a person already in possession of the goods of another contracts to hold them as a bailee, he thereby becomes the bailee, and the owner becomes the bailor, of such goods although they may not have been delivered by way of bailment.

৭৭.
সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২-এর ধারা ১০৬ অনুযায়ী লিখিত চুক্তি, স্থানীয় রীতি বা আইনের অবর্তমানে কৃষি কার্যের জন্য ইজারা বাতিল করতে কত দিনের নোটিশ প্রয়োজন?
  1. ১৫ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৩ মাস
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা

⇒ সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২-এর ধারা ১০৬ অনুযায়ী: লিখিত চুক্তি বা স্থানীয় রীতি/আইনের অবর্তমানে, কৃষি কার্য বা শিল্প উৎপাদনের উদ্দেশ্যে স্থাবর সম্পত্তির ইজারা বছর হতে বছরের ইজারা (from year to year) হিসেবে গণ্য হয়।
- এই ইজারা ইজারাদাতা বা গ্রহীতা যে কোনো পক্ষ কর্তৃক ইজারার বছরের শেষ দিন হতে ৬ মাস পূর্বে দেওয়া নোটিশের মাধ্যমে সমাপ্তিযোগ্য।

⇒ সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ১০৬ ধারার বিধান লিখিত চুক্তি বা স্থানীয় রীতির অবর্তমানে কতিপয় ইজারার মেয়াদ:
- কৃষি কার্য বা শিল্প উৎপাদনের জন্য স্থাবর সম্পত্তির ইজারা হলে তা বছর হতে বছরের ইজারা হিসেবে গণ্য করা হবে এবং এই ইজারাদাতা ও গ্রহীতার মধ্যে যে কোন পক্ষ কর্তৃক ইজারার বছরের শেষ দিন হতে ৬ মাস পূর্বে দেওয়া নোটিশ মূলে সমাপ্তিযোগ্য।
- অন্য কোন উদ্দেশ্যে স্থাবর সম্পত্তির ইজারা হলে তা মাস হতে মাসের ইজারা হিসেবে গণ্য হবে এবং তা ইজারাদাতা ও গ্রহীতার মধ্যে যে কোন পক্ষ কর্তৃক ইজারার মাসের শেষ দিন হতে ১৫ দিন পূর্বে দেওয়া নোটিশ মূলে বাতিলযোগ্য।
- এই ধারার আওতায় প্রত্যেকটি নোটিশ অবশ্যই লিখিত এবং নোটিশ দাতা বা তার পক্ষ হতে স্বাক্ষরিত হতে হবে এবং এই নোটিশ ডাকযোগে বা অর্পণের মাধ্যমে বা ব্যক্তিগত ভাবে প্রদান করতে হবে অথবা তার পরিবারের কোন সদস্যকে বা তার বাসভবনের কোন কর্মচারীকে তা প্রদান করতে হবে। অথবা যদি এরূপ সম্ভব না হয় তাহলে সম্পত্তির প্রকাশ্য স্থানে লটকিয়ে দিতে হবে।
---------
⇒ The Transfer of Property Act, 1882 Section 106. Duration of certain leases in absence of written contract or local usage:
- In the absence of a contract or local law or usage to the contrary, a lease of immoveable property for agricultural or manufacturing purposes shall be deemed to be a lease from year to year, terminable, on the part of either lessor or lessee, by six months' notice expiring with the end of a year of the tenancy; and a lease of immoveable property for any other purpose shall be deemed to be a lease from month to month, terminable, on the part of either lessor or lessee, by fifteen days' notice expiring with the end of a month of the tenancy.
- Every notice under this section must be in writing signed by or on behalf of the person giving it, and either be sent by post to the party who is intended to be bound by it or be tendered or delivered personally to such party, or to one of his family or servants at his residence, or (if such tender or delivery is not practicable) affixed to a conspicuous part of the property.

৭৮.
সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২-এর কোন ধারায় প্রতীয়মান মালিক কর্তৃক সম্পত্তির হস্তান্তর সংক্রান্ত বিধান দেয় আছে?
  1. ৪১ ধারায়
  2. ৪৩ ধারায়
  3. ৪৫ ধারায়
  4. ৪৬ ধারায়
ব্যাখ্যা

⇒ সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২-এর ধারা ৪১-এর শিরোনামই হলো "Transfer by ostensible owner" অর্থাৎ "প্রতীয়মান মালিক কর্তৃক হস্তান্তর"। এই ধারায় স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান মালিকের হস্তান্তর সংক্রান্ত বিধান দেওয়া হয়েছে।

⇒ সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৪১ ধারার বিধান: প্রতীয়মান মালিক কর্তৃক হস্তান্তর: যখন কোন ব্যক্তি, স্থাবর সম্পত্তিতে স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্মতিক্রমে, ঐ সম্পত্তির প্রতীয়মান মালিক বলে পরিগণিত হয় এবং মূল্যের বিনিময়ে সে তা হস্তান্তর করে, তখন তার হস্তান্তরের ক্ষমতা নির্ধারণের জন্য গৃহীত যুক্তিসঙ্গত সাবধানতা গ্রহণ করে থাকলে এবং সরল বিশ্বাসে কার্য করে থাকলে, দাতার হস্তান্তরের ক্ষমতা ছিল না, এই যুক্তিতে হস্তান্তর বাতিলযোগ্য হবে না।
---------------- 
⇒ The Transfer of Property Act, 1882 Section 41. Transfer by ostensible owner:
 - Where, with consent, express or implied, of the persons interested in immoveable property, a person is the ostensible owner of such property and transfers the same for consideration, the transfer shall not be voidable on the ground that the transferor was not authorised to make it: provided that the transferee, after taking reasonable care to ascertain that the transferor had power to make the transfer, has acted in good faith.

৭৯.
দেওয়ানি কার্যবিধি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ (২০২৫ সনের ১৮ নং অধ্যাদেশ) কবে থেকে কার্যকর হয়েছে?
  1. ৪ মে, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
  2. ৬ মে, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
  3. ৮ মে, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
  4. ১০ মে, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ (২০২৫ সনের ১৮ নং অধ্যাদেশ) গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে ৮ মে, ২০২৫ তারিখে। অধ্যাদেশের ধারা ১(২)-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, এটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। এটি বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের অধীনে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাবলে জারি করা হয়েছে এবং এর মূল উদ্দেশ্য দেওয়ানি মামলার প্রক্রিয়া দ্রুততর করা, যেমন ডিজিটাল সামনস সার্ভিস, অ্যাফিডেভিটভিত্তিক সাক্ষ্য ইত্যাদি সংশোধনের মাধ্যমে।
⇒ The Code of Civil Procedure (Amendment) Ordinance, 2025 (২০২৫ সনের ১৮ নং অধ্যাদেশ) এর সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন বিষয়ক ধারা ১(১) এবং ১(২)-তে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই অধ্যাদেশটি ৮ মে, ২০২৫ তারিখে জারি হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। এই তারিখটি অধ্যাদেশের প্রকাশনার সাথে সম্পর্কিত এবং এটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদের অধীনে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাবলে প্রণীত ও জারি করা হয়েছে।

- অর্থাৎ, প্রশ্নটি The Code of Civil Procedure (Amendment) Ordinance কার্যকর হওয়ার তারিখ সম্পর্কে। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, The Code of Civil Procedure (Amendment) Ordinance, 2025 এর ধারা ১(২) তে বলা হয়েছে যে এটি ৮ মে, ২০২৫ তারিখে জারি হয়েছে এবং অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।

সুতরাং, সঠিক উত্তর: গ) ৮ মে, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।

- এই অধ্যাদেশটি দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর বিভিন্ন ধারা ও বিধিতে সংশোধনী এনেছে, যার মাধ্যমে মোকদ্দমার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

৮০.
The Code of Civil Procedure, 1908-এর আদেশ ৩৭-এর বিধি-১ অনুসারে এই আদেশ কোন আদালতে প্রযোজ্য?
  1. সব ধরনের দেওয়ানি আদালতে
  2. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
  3. হাইকোর্ট ডিভিশন এবং জেলা আদালতে
  4. যুগ্ম জেলা জজ আদালত ও মুনসেফ আদালতে
ব্যাখ্যা

⇒  The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ৩৭ (ORDER 37) এর বিধি-১ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, হস্তান্তরযোগ্য দলিলের উপর সংক্ষিপ্ত কার্যপদ্ধতি শুধুমাত্র হাইকোর্ট ডিভিশন এবং জেলা আদালতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। অন্য কোনো নিম্ন বা বিশেষ আদালতের জন্য এই বিশেষ পদ্ধতি প্রযোজ্য নয়।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ৩৭: হস্তান্তরযোগ্য দলিলের উপর সংক্ষিপ্ত কর্মপদ্ধতি।
বিধি-১: আদেশের প্রয়োগ। এই আদেশ শুধুমাত্র হাইকোর্ট ডিভিশন এবং জেলা আদালতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
---------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 এর ORDER-37:-SUMMARY PROCEDURE ON NEGOTIABLE INSTRUMENTS:
Rule-1: Application of Order. This Order shall apply only to the High Court Division and to the District Court.

৮১.
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ৮৯গ ধারা কী বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. ডিক্রি বাস্তবায়ন
  2. আরবিট্রেশন
  3. মামলায় মধ্যস্থতা
  4. আপিলে মধ্যস্থতা
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ৮৯গ ধারার শিরোনামই হল "আপিলে মধ্যস্থতা" (Mediation in Appeal)। এই ধারার বিধান অনুযায়ী, আদেশ ৪১-এর অধীনে মূল ডিক্রি থেকে দায়েরকৃত আপিলের বিরোধ যদি একই মূল পক্ষ বা তাদের স্থলাভিষিক্ত পক্ষের মধ্যে থাকে, তাহলে আপিল আদালত সেই বিরোধ মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করবে বা মধ্যস্থতার জন্য প্রেরণ করবে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯গ ধারার বিধান আপিলে মধ্যস্থতা (Mediation in Appeal): যদি আদেশ ৪১ এর অধীনে মূল ডিক্রি হতে কোন আপিল দায়ের হয় এবং যদি একই পক্ষগণের বা মূল পক্ষগণের স্থলাভিষিক্ত পক্ষগণের মধ্যে উক্ত আপিল দায়ের হয়ে থাকে, তাহলে আপিল আদালত উক্ত আপিলের বিরোধ বা বিরোধসমূহ মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করবে অথবা আপিলের বিরোধ বা বিরোধসমূহ মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য প্রেরণ করবে। এরূপ মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে আপিল আদালত প্রয়োজনীয় মনে করলে যতদূর সম্ভব ৮৯ক ধারার বিধানসমূহকে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন (Mutatis Mutandis) সাপেক্ষে অনুসরণ করবে।
----------
⇒The Code of Civil Procedure, 1908, Section 89C- Mediation in Appeal:
(1) An Appellate Court shall mediate in an appeal or refer the appeal for mediation in order to settle the dispute or disputes in that appeal, if the appeal is an appeal from original decree under Order XLI, and is between the same parties who contested in the original suit or the parties who have been substituted for the original contesting parties. 
(2) In mediation under sub-section (1), the provisions of section 89A shall be followed with necessary changes (mutatis mutandis) as may be expedient.

৮২.
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর কোন ধারায় ডিক্রি হস্তান্তর (Transfer of Decree) সংক্রান্ত বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ৫০
  2. ধারা ৪৯
  3. ধারা ৪৮
  4. ধারা ৪৭
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী, ডিক্রি হস্তান্তর (Transfer of Decree) সংক্রান্ত বিধান উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ধারার মূল বক্তব্য হলো, যদি কোনো ডিক্রি হস্তান্তর করা হয়, তাহলে নতুন ডিক্রি-ধারী সেই ডিক্রিটি সেইসব শর্ত ও সীমাবদ্ধতার অধীনে গ্রহণ করবে, যেসব শর্ত বিচার-দেনাদার (Judgment Debtor) মূল ডিক্রি-ধারীর বিরুদ্ধে প্রয়োগ করতে পারত।
অর্থাৎ, নতুন ডিক্রি-ধারী (Transferee) কোনো নতুন সুবিধা দাবি করতে পারবে না এবং পূর্ববর্তী ডিক্রি-ধারীর শর্তেই ডিক্রি কার্যকর করতে পারবে।
⇒ অর্থাৎ ডিক্রি হস্তান্তরের (Transfer of Decree) সুনির্দিষ্ট বিধান দেওয়ানি কার্যবিধির ৪৯ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে।
------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Section- 49. Transferee:
- Every transferee of a decree shall hold the same subject to the equities (if any) which the judgment-debtor might have enforced against the original decree-holder.

৮৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির _______ অনুযায়ী আদালত প্লিডিংসের কোনো অংশ কর্তন করার আদেশ দিতে পারে।
  1. আদেশ ৬, বিধি ৬
  2. আদেশ ৭, বিধি ১১
  3. আদেশ ৬, বিধি ১০
  4. আদেশ ৬, বিধি ১৬
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৬ বিধি ১৬ (Order 6 Rule 16) অনুসারে আদালত মামলার যে কোনো পর্যায়ে প্লিডিংসে (আরজি বা লিখিত জবাবে) উল্লেখিত কোনো অপ্রয়োজনীয় (unnecessary), কুৎসাজনক (scandalous) অথবা সুষ্ঠু বিচারকে ক্ষতিগ্রস্ত, বিভ্রান্ত বা বিলম্বিত করতে পারে এমন বিষয় কর্তন (strike out) বা সংশোধনের আদেশ দিতে পারে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি  আদেশ-৬ বিধি-১৬ আরজি জবাবে কর্তন: মামলার যে কোন পর্যায়ে কোন আরজি জবাবে উল্লেখিত কোন বিষয় অপ্রয়োজনীয় বা কুৎসাজনক হলে অথবা উহার দ্বারা সুষ্ঠু বিচার ক্ষতিগ্রস্ত, বিভ্রান্ত বা বিলম্বিত হওয়ার সম্ভাবনা তাকিলে আদালত তা কর্তন করার বা সংশোধন করার আদেশ দিতে পারেন। 
--------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-6 Rule-16. Striking out pleadings: 
The Court may at any stage of the proceedings order to be struck out or amended any matter in any pleading which may be unnecessary or scandalous or which may tend to prejudice, embarrass or delay the fair trial of the suit.

৮৪.
অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এ মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রধান বিধান কোন ধারায় রয়েছে?
  1. ধারা ২০
  2. ধারা ২২
  3. ধারা ২৪
  4. ধারা ২৫
ব্যাখ্যা

⇒ অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ৫ম পরিচ্ছেদ (বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তি) এর অধীনে ধারা ২২-এ মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রধান ও বিস্তারিত বিধান প্রদান করা হয়েছে। এই ধারার বিভিন্ন উপ-ধারায় নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নির্ধারিত হয়েছে:
- মামলা মধ্যস্থতার জন্য প্রেরণের সময় (লিখিত জবাব দাখিলের পর)
- মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের পদ্ধতি
- মধ্যস্থতার সময়সীমা (৬০ দিন + সর্বোচ্চ ৩০ দিন বর্ধিত)
- গোপনীয়তা রক্ষা
- সফল নিষ্পত্তিতে কোর্ট ফি ফেরত
- নিষ্পত্তির আদেশের চূড়ান্ততা ইত্যাদি।

অন্য অপশনগুলো:
ক) ধারা ২০ → এই ধারায় সাধারণত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি সংক্রান্ত অন্য বিধান রয়েছে (প্রধান মধ্যস্থতার বিধান নয়)।
গ) ধারা ২৪ → আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের মধ্যস্থতায় ক্ষমতা অর্পণ সংক্রান্ত।
ঘ) ধারা ২৫ → ৫ কোটি টাকার অধিক দাবির মধ্যস্থতা প্রতিবেদনের অনুমোদন সংক্রান্ত।

- সুতরাং মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রধান বিধান ধারা ২২-এ রয়েছে।

৮৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ক ধারা অনুযায়ী, চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করার জন্য চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য কখন আদালতে জমা দিতে হবে?
  1. মামলার রায় ঘোষণার পূর্বে
  2. মোকদ্দমা দায়েরের সময়
  3. হস্তান্তর সম্পন্ন হওয়ার পর
  4. আদালতের নির্দেশে যেকোনো সময়
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ২১ক(খ)-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করার মামলায় চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য (balance amount of consideration) মোকদ্দমাটি রুজু/দায়েরের কালে (at the time of filing the suit) আদালতে জমা দিতে হবে। এটি চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যকারিতার জন্য বাধ্যতামূলক শর্ত।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ক ধারার বিধান অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে অকার্যকরযোগ্য: এই আইন কিংবা বিদ্যমান অন্য কোন আইন বিপরীত কোন বিধান থাকলেও কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রিয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য হবে না, যদি না-
(ক) চুক্তিটি লিখিত এবং ১৯০৮ সালের চুক্তি আইনের অধীন রেজিস্ট্রেশন হয়, হস্তান্তর গ্রহীতা ঐ সম্পত্তির কিংবা তার কোন অংশ দখল গ্রহণ করুক বা না করুক; এবং
(খ) চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করার নিমিত্ত চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মোকদ্দমাটি রুজুর কালে আদালতে জমা দেয়া হয়।
---------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 - Section 21A Unregistered contract for sale not specifically enforceable: Notwithstanding anything to the contrary contained in this Act or any other law for the time being in force, no contract for sale of any immovable property can be specifically enforced unless– 
(a) the contract is in writing and registered under the Registration Act, 1908, whether or not the transferee has taken possession of the property or any part thereof; and 
(b) the balance amount of consideration of the contract is deposited in the court at the time of filing the suit for specific performance of the contract.

৮৬.
তামাদি আইন, ১৯০৮-এর কোন অনুচ্ছেদে রিভিউ দায়েরের সময়সীমা নির্ধারিত আছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৭৬
  2. অনুচ্ছেদ ১৭৫
  3. অনুচ্ছেদ ১৭৩
  4. অনুচ্ছেদ ১২৩
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৭৩ (Article 173)-এ রিভিউ (Review) আবেদন দায়েরের সময়সীমা নির্ধারিত আছে। এই অনুচ্ছেদ অনুসারে, যে আদালত ডিক্রি বা আদেশ প্রদান করেছে, সেই আদালতে ডিক্রি বা আদেশ জারির তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন দায়ের করতে হয়।
- অর্থাৎ যে আদালত ডিগ্রি প্রদান করে সেই আদালতে তামাদি আইনের ১৭৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে রিভিউর আবেদন দায়ের করতে হবে। 

৮৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৩৬ কোন বিষয়ে বিধান প্রদান করে?
  1. ভুলের জন্য চুক্তি রদ
  2. ভুলের জন্য চুক্তি সংশোধন
  3. চুক্তির ক্ষতিপূরণ প্রদান
  4. চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যকারিতা
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৩৬ (Section 36)-এর শিরোনাম হলো "Rescission for mistake" বা ভুলের জন্য রদ। এই ধারায় বিধান করা হয়েছে যে, কেবলমাত্র ভুলের (mere mistake) কারণে লিখিত চুক্তি রদ (rescind) করা যাবে না, যদি না বিপক্ষ পক্ষকে উল্লেখযোগ্যভাবে পূর্বের অবস্থায় (substantially the same position) পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়—যেন চুক্তিটি কখনো হয়ইনি।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৬ ধারার বিধান: ভুলের জন্য রদ:
কেবলমাত্র ভুলের জন্য বিচারপূর্বক লিখিত চুক্তি রদ করা যায় না, যদি না যে পক্ষের বিরুদ্ধে রায় প্রদান করা হচ্ছে সে পক্ষকে উল্লেখযোগ্যভাবে একই মর্যাদায় পুনরুদ্ধার করা যায়, যেন কখনও চুক্তিই করা হয় নাই।
----------------------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section- 36. Rescission for mistake:
Rescission of a contract in writing cannot be adjudged for mere mistake, unless the party against whom it is adjudged can be restored to substantially the same position as if the contract had not been made.

৮৮.
মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এর কোন ধারায় "বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি" এর বিধান আছে?
  1. ধারা ১১২
  2. ধারা ১১৫
  3. ধারা ১২০
  4. ধারা ১২৫
ব্যাখ্যা

⇒ মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর সপ্তদশ অধ্যায় (আপীল ও রিভিশন)-এর অধীনে ধারা ১২৫-এ "বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি" (Alternative Dispute Resolution) এর বিস্তারিত বিধান প্রদান করা হয়েছে। এই ধারায় করদাতার বিকল্প উপায়ে (সমঝোতার ভিত্তিতে) বিরোধ নিষ্পত্তির আবেদন, সহায়তাকারী নিয়োগ, সময়সীমা গণনা, গোপনীয়তা, এবং জালিয়াতি বা ফৌজদারি অপরাধ জড়িত বিরোধের বর্জন ইত্যাদি বিষয়ে বিধান রয়েছে।
- অর্থাৎ মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এর সপ্তদশ অধ্যায়-এ আপীল ও রিভিশন সম্পর্কিত বিধান রয়েছে। এই অধ্যায়েরই ধারা ১২৫-এ "বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি" (Alternative Dispute Resolution - ADR) সম্পর্কে বিশেষ বিধান সন্নিবেশিত করা হয়েছে।

৮৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারা অনুযায়ী কমিশন কার্যকরীকরণের জন্য অনুসন্ধান বা বিচার মুলতবি রাখা যায়?
  1. ধারা ৫১০
  2. ধারা ৫০৯
  3. ধারা ৫০৮
  4. ধারা ৫০৭
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫০৮-এর শিরোনামই হলো "অনুসন্ধান বা বিচার মুলতবিকরণ" (Adjournment of inquiry or trial)।
- ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫০৮ (Section 508)-এ স্পষ্টভাবে বিধান করা হয়েছে যে, ধারা ৫০৩ বা ধারা ৫০৬-এর অধীনে কমিশন জারি হলে, কমিশন কার্যকরীকরণ এবং ফেরত দেওয়ার জন্য ন্যায়সঙ্গতভাবে পর্যাপ্ত নির্ধারিত সময়ের জন্য অনুসন্ধান, বিচার বা অন্যান্য কার্যক্রম মুলতবি (adjourned) রাখা যাবে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫০৮- অনুসন্ধান বা বিচার মুলতবিকরণ:
- সে ক্ষেত্রে ৫০৩ বা ৫০৬ ধারার অধীন কমিশন দেয়া হয়েছে সেক্ষেত্রে উহা কার্যকরীকরণ ও ফেরত দেয়ার জন্য ন্যায়সংগতভাবে পর্যাপ্ত কোন নির্ধারিত সময়ের জন্য সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধান, বিচার বা অন্যান্য কার্যক্রম মুলতবি রাখা যাবে।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 508- Adjournment of inquiry or trial:
In every case in which a commission is issued under section 503 or section 506, the inquiry, trial or other proceeding may be adjourned for a specified time reasonably sufficient for the execution and return of the commission.

৯০.
ফৌজদারি কার্যবিধিতে "গ্রেপ্তার স্মারক" (Memorandum of Arrest) ফর্মটি কোন SCHEDULE-এ যুক্ত করা হয়েছে?
  1. SCHEDULE-I
  2. SCHEDULE-II
  3. SCHEDULE -IV
  4. SCHEDULE-V
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮,(Act No. V of 1898)-এর SCHEDULE V-এ নতুন Form IA, যা "গ্রেপ্তার স্মারক" (Memorandum of Arrest) নামে পরিচিত, ধারা ৪৬ক (Section 46A)-এর অধীনে উল্লেখিত হয়েছে। এই ফর্মটি গ্রেপ্তারের সময় এবং স্থানে প্রস্তুত করতে হয় এবং গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির সাথে ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালতে পাঠাতে হয়। ফর্মটির উদ্দেশ্য হলো গ্রেপ্তারের বিস্তারিত তথ্য (যেমন গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম, ঠিকানা, গ্রেপ্তারের কারণ, শারীরিক অবস্থা, পরিবারকে অবহিত করার তথ্য) রেকর্ড করা, যাতে গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ এবং মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮,-এর SCHEDULE V-তে নতুন Form IA সন্নিবেশিত হয়েছে যা "MEMORANDUM OF ARREST" নামে পরিচিত এবং এটি ধারা 46A অনুসারে প্রস্তুত করতে হবে। এই ফর্মে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে:
- গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম, পিতার নাম, স্বামীর নাম (যদি থাকে), ঠিকানা ও বয়স
- গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির NID/পাসপোর্ট/জন্ম নিবন্ধন নম্বর (যদি থাকে)
- গ্রেফতারের স্থান
- গ্রেফতারের তারিখ ও সময়
- গ্রেফতারের কারণ (সম্পর্কিত আইন ও ধারা উল্লেখসহ)
- নিশ্চয়তা প্রদানকারী/অভিযোগকারীর নাম ও ঠিকানা (যদি থাকে)
- মামলা/জিডি নম্বর
- গ্রেফতারের পরিপত্র নম্বর ও তারিখ (যদি প্রযোজ্য হয়)
- গ্রেফতারের সময় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা
- শরীরে কোন আঘাতের কারণ থাকলে তা উল্লেখ
- উপস্থিত নিবন্ধিত চিকিৎসকের নাম ও শংসাপত্র (যদি আঘাতপ্রাপ্ত হয় তাহলে এর একটি কপি সংযুক্ত করতে হবে)
- গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য/আত্মীয়/বন্ধু/প্রতিবেশীকে জানানো হয়েছে কিনা - হ্যাঁ/না
- গ্রেফতারের তথ্য জানানো ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা
- তথ্য প্রাপ্ত ব্যক্তির যোগাযোগ নম্বর
- সেই আদালতের নাম যেখানে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে তোলা হবে
- গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর বা আঙুলের ছাপ (যদি অস্বীকার না করে)
- গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য বা স্থানীয় সম্মানিত ব্যক্তির স্বাক্ষর (যদি না পাওয়া যায় তবে কারণ উল্লেখ করতে হবে)
- গ্রেফতার কর্মকর্তার নাম, পদবী, আইডি নম্বর ও স্বাক্ষরও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

নির্দেশনা:
এই মেমো গ্রেফতারের সময় ও স্থানে প্রস্তুত করা হবে এবং গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির সাথে ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালতে পাঠাতে হবে। আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে চিকিৎসকের শংসাপত্র ও মুক্তির দলিল সংযুক্ত করতে হবে। মেমো এর একটি কপি মামলার ডায়েরিতে সংরক্ষণ করতে হবে ভবিষ্যৎ ব্যবহারের জন্য।

৯১.
একজন মৃত ব্যক্তির উইলে বা পারিবারিক দলিলে লিখিত বক্তব্য সাক্ষ্য আইনের কোন উপ-ধারায় প্রাসঙ্গিক?
  1. ধারা ৩২(৫)
  2. ধারা ৩২(৬)
  3. ধারা ৩২(৭)
  4. ধারা ৩২(৮)
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩২(৬)-এ স্পষ্টভাবে বিধান করা হয়েছে যে, মৃত ব্যক্তির উইল বা পারিবারিক বিষয়ক দলিলে (will or deed relating to family affairs) লিখিত বক্তব্য প্রাসঙ্গিক হিসেবে গৃহীত হবে। এটি পারিবারিক সম্পর্ক, সম্পত্তি বণ্টন বা অনুরূপ বিষয়ে প্রমাণের জন্য ব্যবহৃত হয়।

অন্য অপশনগুলো:
ক) ধারা ৩২(৫) → আত্মীয়তার অস্তিত্ব সম্পর্কিত বক্তব্য (relates to existence of relationship)।
গ) ধারা ৩২(৭) → ধারা ১৩(ক)-এ উল্লিখিত লেনদেন সম্পর্কিত দলিলে বক্তব্য।
ঘ) ধারা ৩২(৮) → একাধিক ব্যক্তির অনুভূতি প্রকাশকারী বক্তব্য।
সুতরাং, মৃত ব্যক্তির উইল বা পারিবারিক দলিলে লিখিত বক্তব্য সরাসরি ধারা ৩২(৬) এর অধীনে প্রাসঙ্গিক।

-The Evidence Act, 1872, Section-32: Cases in which statement of relevant fact by person who is dead or cannot be found, etc., is relevant.
(6) or is made in will or deed relating to family affairs;
When the statement relates to the existence of any relationship by blood, marriage or adoption between persons deceased, and is made in any will or deed relating to the affairs of the family to which any such deceased person belonged, or in any family pedigree or upon any tombstone, family portrait or other thing on which such statements are usually made, and when such statement was made before the question in dispute was raised.
------
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি মৃত, নিখোঁজ বা সাক্ষ্য প্রদানে অযোগ্য হলে অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাজিরা সময় ও ব্যয় সাপেক্ষ হলে, আদালতে উপস্থিতি ছাড়াও তাদের মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি ৮টি ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হয়। যথা-
ⅰ) ৩২(১) ধারার অধীন মৃত্যুর কারণ সংবলিত বিবৃতি অর্থাৎ মৃত্যুকালীন ঘোষণা (dying declaration);
ii) ৩২(২) ধারার অধীন দৈনন্দিন বা স্বাভাবিক কাজ কর্মের বিবৃতি (statement made in course of business);
iii) ৩২(৩) ধারার অধীন আর্থিক অথবা স্বত্ব সম্বন্ধীয় (as to title) স্বার্থের পরিপন্থীমূলক বিবৃতি যা ফৌজদারি বা ক্ষতিপূরণের মামলার উদ্ভব করতে পারে (statement against interest of maker);
iv) সর্বসাধারণের অধিকার বা প্রথা বিষয়ক মতামত (opinion as to public right or custom, or matters of general interest);
v) আত্মীয়তার অস্তিত্ব সম্বন্ধে বিবৃতি (relates to existence of relationship);
vi) পারিবারিক দলিল বা উইল (statement made in will or deed relating to family affairs);
vii) ১৩(ক) ধারায় উল্লিখিত কার্য সংক্রান্ত; অথবা
viii) কয়েকজন কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি (Statement made by several persons, and expresses feelings relevant to matter in question).
-----------
-The Evidence Act, 1872, Section-32: Cases in which statement of relevant fact by person who is dead or cannot be found, etc., is relevant.
- When it relates to cause of death;
or is made in course of business;
or against interest of maker;
or gives opinion as to public right or custom, or matters of general interest;
or relates to existence of relationship;
or is made in will or deed relating to family affairs;
or in document relating to transaction mentioned in section 13, clause (a);
or is made by several persons, and expresses feelings relevant to matter in question

৯২.
দণ্ডবিধির ৪১৩ ধারা অনুযায়ী অভ্যাসগতভাবে চোরাই সম্পত্তির বেচাকেনা করার সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  2. ১০ বছরের কারাদণ্ড
  3. ৭ বছরের কারাদণ্ড
  4. ৩ বছরের কারাদণ্ড 
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৪১৩ অনুসারে, যে ব্যক্তি অভ্যাসগতভাবে (habitually) চোরাই সম্পত্তি জেনে বা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ থাকা সত্ত্বেও ক্রয়-বিক্রয় বা লেনদেন করে, তার শাস্তি হলো যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা ১০ বছর পর্যন্ত যেকোনো প্রকারের (সশ্রম বা বিনাশ্রম) কারাদণ্ড এবং অতিরিক্ত জরিমানা। সুতরাং সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

⇒ দণ্ডবিধির ৪১৩ ধারার বিধান অভ্যাসগতভাবে চোরাই সম্পত্তির বেচাকেনা করা:- কোন ব্যক্তি যদি যে সম্পত্তি চোরাই বলে সে জানে বা তার বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে, অভ্যাসগতভাবে বরাবর সে সম্পত্তির বেচাকেনা করে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।
-------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 413. Habitually dealing in stolen property:- Whoever habitually receives or deals in property which he knows or has reason to believe to be stolen property, shall be punished with imprisonment for life, or with imprison - ment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.

৯৩.
ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ধারা ১৭৩খ অনুসারে, মামলার তদন্ত শেষ করার জন্য তদন্ত কর্মকর্তাকে কত কার্যদিবস সময়সীমা দেওয়া হয়েছে?
  1. ১২০ কার্যদিবস
  2. ৩০ কার্যদিবস
  3. ৯০ কার্যদিবস
  4. ৬০ কার্যদিবস
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির, ১৮৯৮ (Act No. V of 1898)-এর দ্বিতীয় সংশোধনী অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ধারা ১৭৩খ (Section 173B)-এর উপ-ধারা (১) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে, এই অধ্যায়ের অধীনে প্রতিটি তদন্ত অপরাধ সম্পর্কিত তথ্য প্রাপ্তির তারিখ থেকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। যদি যুক্তিসঙ্গত কারণে তদন্ত এই সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব না হয়, তবে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে কারণ রেকর্ড করে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন করতে হবে (ধারা ১৭৩খ(২))।
অর্থাৎ ধারা ১৭৩খ(১) অনুসারে, তদন্ত অপরাধ সম্পর্কিত তথ্য প্রাপ্তির তারিখ থেকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898: Section-173B. Provisions for completion of investigation.-(1) Notwithstanding anything contained in this Code, every investigation under this Chapter shall be completed within sixty working days from the date of receipt of the information relating to the offence.
(2) Where, for reasonable cause, the investigation cannot be completed within the period specified in sub-section (1), the investigating officer shall record the reasons for such delay in the case diary, apply to the Magistrate for extension of time stating the specific grounds and the additional time required, and forward a copy of such application to the superior officer supervising the investigation.
(3) Upon consideration of the application made under sub-section (2), the Magistrate may, by order, extend the time for investigation as may be deemed reasonable, and the investigating officer shall conclude the investigation within the extended time.
(4) Where the investigation is not completed within the time so extended under sub-section (3), the investigating officer shall, upon expiry of such period, report the reasons in writing to the Magistrate and send a copy thereof to the superior officer supervising the investigation.
(5) Upon consideration of the explanation submitted under sub-section (4), or where no such explanation is submitted by the investigating officer, the Magistrate may-
(a) direct that the investigation be conducted by another officer;
(b) treat such delay as incompetence or misconduct on the part of the investigating officer, cause a note thereof to be recorded in the officer's Annual Confidential Report, and direct the appropriate authority to take action in accordance with the relevant service rules.
(6) If, upon submission of the investigation report, the Court is satisfied, having regard to the materials on record, that any person named as an accused ought, in the interest of justice, to be treated as a witness, the Court may pass an order to that effect, and such person shall be treated as a witness in the case.
(7) If, upon conclusion of the trial, the Court finds that the investigating officer either negligently or with intent to protect any person from criminal liability-
(i) failed to collect or consider any admissible evidence;
(ii) treated any person as a witness who ought to have been made an accused; or
(iii) failed to examine a material witness without justification, the Court may record a finding to that effect, treat such act or omission as misconduct or incompetence, and direct the controlling authority to take appropriate legal action against the officer in accordance with law.

৯৪.
দণ্ডবিধির ধারা ৩৪৩ অনুযায়ী, তিন বা ততোধিক দিনের অবৈধ অবরোধের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ১ বছর কারাদণ্ড
  2. ২ বছর কারাদণ্ড
  3. ৩ বছর কারাদণ্ড
  4. ৫ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৩৪৩ অনুসারে, যে ব্যক্তি কাউকে তিন বা ততোধিক দিনের জন্য অবৈধভাবে অবরোধ করে রাখে, তার শাস্তি হলো দুই বছর পর্যন্ত যেকোনো প্রকারের (সশ্রম বা বিনাশ্রম) কারাদণ্ড, অথবা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড। সুতরাং সর্বোচ্চ কারাদণ্ড ২ বছর।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৪৩ ধারা- তিন বা ততোধিক দিনের জন্য অবৈধ অবরোধ:
কোন ব্যক্তি যদি কাউকে তিন বা ততোধিক দিনের জন্য অবৈধভাবে অবরোধ করে রাখে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

⇒ The Penal Code, 1860- Section 343: Wrongful confinement for three or more days:
Whoever wrongfully confines any person for three days or more, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.

৯৫.
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর কোন ধারা দুষ্কর্মে সহযোগীর সাক্ষ্য সম্পর্কিত?
  1. ধারা ১৩১
  2. ধারা ১৩২
  3. ধারা ১৩৩
  4. ধারা ১৩৪
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৩৩ (Section 133)-এ স্পষ্টভাবে বিধান করা হয়েছে যে, দুষ্কর্মের সহযোগী (accomplice) একজন আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য উপযুক্ত সাক্ষী (competent witness) বলে গণ্য হবে। এছাড়া, তার অসমর্থিত (uncorroborated) সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আসামিকে সাজা দেওয়া হলেও কেবলমাত্র এই কারণে সাজা বেআইনি হবে না।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৩৩ ধারার বিধান দুষ্কর্মে সহযোগী: দুষ্কর্মের সহযোগী আসামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি বলিয়া গণ্য হইবেন। দুষ্কর্মের সহযোগীর অসমর্থিত সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আসামিকে সাজা দেওয়া হইলে কেবল সেই কারণেই উক্ত সাজা বেআইনি হইবে না।

⇒ ১৩৩ ধারা অনুযায়ী একজন দুষ্কর্মের সহযোগী অন্যান্য সহযোগী আসামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার যোগ্য এবং এর উপর ভিত্তি করে শাস্তি দেওয়া হলে বেআইনি হবে না।
-----------
⇒ The Evidence Act, 1872- Section-133. Accomplice: An accomplice shall be a competent witness against an accused person, and a conviction is not illegal merely because it proceeds upon the uncorroborated testimony of an accomplice.

৯৬.
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫৪ক কোন বিষয়ে বিধান প্রদান করে?
  1. গ্রেপ্তারের পর জামিনের অধিকার
  2. গ্রেপ্তারের পর শারীরিক পরীক্ষা 
  3. গ্রেপ্তারের পর ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা
  4. ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেপ্তারের সময় গ্রেপ্তারের কারণ অবহিত করা 
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর (Act No. V of 1898) দ্বিতীয় সংশোধনী অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর মাধ্যমে ধারা ৫৪ক (Section 54A) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে, যেকোনো পুলিশ কর্মকর্তা ওয়ারেন্ট ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করার সময় গ্রেপ্তারের সময়ে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের কারণ অবহিত করতে হবে। এটি গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির অধিকার রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান।

- অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫৪ক (Section 54A)-এ স্পষ্টভাবে বিধান করা হয়েছে যে, যেকোনো পুলিশ কর্মকর্তা ওয়ারেন্ট ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করলে গ্রেপ্তারের সময়েই (at the time of making arrest) গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের কারণ (reasons for arrest) অবহিত করতে হবে।

⇒ The Code of Criminal Procedure- Section- 54A. Person arrested to be informed of reason of arrest:
- Every police-officer arresting any person without warrant shall, at the time of making arrest, communicate to him the reasons for which he is arrested.

৯৭.
‘E’ একজন পরিবহনকারী হিসেবে ‘Z’-এর মাল (সম্পত্তি) পরিবহন করার জন্য নিযুক্ত হয়, কিন্তু 'E' সেই মাল (সম্পত্তি) অসাধুভাবে আত্মসাৎ করে। দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুযায়ী, এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি কত?
  1. ৫ বছরের কারাদণ্ড
  2. ৭ বছরের কারাদণ্ড
  3. ১০ বছরের কারাদণ্ড
  4. ৩ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৪০৫ অনুসারে, কোনো ব্যক্তি যিনি সম্পত্তি বা সম্পত্তির উপর নিয়ন্ত্রণের জন্য অর্পিত হয়েছেন, সেই সম্পত্তি অসাধুভাবে আত্মসাৎ করলে বা নিজের ব্যবহারে রূপান্তর করলে তা অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ (Criminal Breach of Trust) হিসেবে গণ্য।
- এখানে, ‘E’ একজন পরিবহনকারী হিসেবে ‘Z’-এর সম্পত্তি বহনের জন্য অর্পিত ছিলেন এবং তা 'E' অসাধুভাবে আত্মসাৎ করেছেন, যা ধারা ৪০৫-এর অধীনে অপরাধ। ধারা ৪০৭ অনুসারে, পরিবহনকারী হিসেবে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের শাস্তি হলো ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা।
সুতরাং, ‘E’-এর অপরাধের জন্য ধারা ৪০৭ অনুসারে অপরাধের নাম অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ এবং সর্বোচ্চ শাস্তি ৭ বছরের কারাদণ্ড।

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৪০৭: পরিবহনকারী, গুদামদার ইত্যাদির দ্বারা বিশ্বাসভঙ্গ-
যে কেউ, যিনি পরিবহনকারী (carrier), ঘাটের মালিক বা তত্ত্বাবধায়ক (wharfinger), অথবা গুদামদার (warehouse-keeper) হিসেবে কোনো সম্পত্তি সংরক্ষণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হন, এবং সেই সম্পত্তি সম্পর্কে বিশ্বাসভঙ্গ করেন, তিনি সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং তার সাথে অর্থদণ্ডও হতে পারে।
---------- 
⇒ The Penal Code, 1860- Section 407- Criminal breach of trust by carrier, etc.
Whoever, being entrusted with property as a carrier, wharfinger or warehouse-keeper, commits criminal breach of trust in respect of such property, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine.

৯৮.
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩ অনুযায়ী, নিম্নলিখিত কোনটি ফরেনসিক সাক্ষ্যের অংশ নয়? 
  1. রক্ত, বীর্য, চুল
  2. ডিজিটাল ভার্সাটাইল ডিস্ক
  3. ডিএনএ, আঙুলের ছাপ
  4. আইরিস ইমপ্রেশন, পায়ের ছাপ
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩ অনুসারে, "ভৌত বা ফরেনসিক সাক্ষ্য" (Physical or Forensic Evidence) বলতে এমন উপাদান বা বস্তু বোঝায় যা রক্ত, বীর্য, চুল, ডিএনএ, আঙুলের ছাপ, পায়ের ছাপ, আইরিস ইমপ্রেশন, শরীরের উপাদান, অঙ্গ বা অঙ্গের অংশ ইত্যাদি, যা কোনো অপরাধের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে বা কোনো তথ্য প্রমাণ বা অপ্রমাণ করে।
- ডিজিটাল ভার্সাটাইল ডিস্ক (ডিভিডি) একটি ডিজিটাল রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হয়, যা ধারা ৩-এর অধীনে "দলিলি সাক্ষ্য" (Documentary Evidence) হিসেবে গণ্য, কিন্তু ভৌত বা ফরেনসিক সাক্ষ্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়।

- অন্য অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
ক) রক্ত, বীর্য, চুল → এগুলো সরাসরি ফরেনসিক সাক্ষ্যের অন্তর্ভুক্ত।
খ) ডিএনএ, আঙুলের ছাপ → এগুলো ফরেনসিক সাক্ষ্যের সুস্পষ্ট উদাহরণ।
ঘ) আইরিস ইমপ্রেশন, পায়ের ছাপ → এগুলোও সরাসরি ফরেনসিক সাক্ষ্যের অংশ।
---------
⇒ The Evidence Act,1872, Section-3(3) all materials or objects relating to blood, semen, hair, all body material, organ or part of organ, Deoxyribo Nucleic Acid (DNA), finger impression, palm impression, iris impression and foot print or any other similar material or object which may- (i) establish that an offence has been committed or establish a link or relation between an offence and its victim or an offence and its offender; and
(ii) prove or disprove a fact:
such materials or objects are called physical or forensic evidence.]

⇒ [“Digital record" or “electronic record” means any record, data or information generated, prepared, sent, received or stored in magnetic or electro-magnetic, optical, computer memory, micro film, computer generated micro fiche including audio, video, Digital Versatile Disc or Digital Video Disc (DVD), records of Closed Circuit Television (CCTV), drone data, records from cell phone, hardware, software or any other digital device as defined in Digital Security Act, 2018 (Act No. 46 of 2018)]