পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]

পরীক্ষাবার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়32 minutes
মোট প্রশ্ন৫৫
সিলেবাস
Exam - 45 The Code of Criminal Procedure, 1898: Subject Final Topic: • CrPC-Full Syllabus
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ] · তারিখ অনির্ধারিত · ৫৫ প্রশ্ন

.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯খ ধারা কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. জামিন প্রদান
  2. সাক্ষ্য গ্রহণ
  3. সাক্ষীর হাজিরা নিশ্চিতকরণ
  4. আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচার
সঠিক উত্তর:
আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচার
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ৩৩৯খ ধারা মূলত আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচার (Trial in absentia) সম্পর্কিত।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯খ ধারার বিধান আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচার:
(১) ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৮৭ এবং ধারা ৮৮-তে যা কিছুই থাকুক না কেন, যদি আদালতের বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ থাকে যে কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক অথবা নিজেকে এমনভাবে গোপন করে রেখেছে যাতে তাকে গ্রেফতার করে বিচারার্থে হাজির করা সম্ভব হচ্ছে না এবং তাকে দ্রুত গ্রেফতার করার সম্ভাবনা নেই, তবে অভিযোগের বিষয়ে বিচার গ্রহণকারী আদালত, জাতীয়ভাবে ব্যাপক প্রচারিত দৈনিক বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত এক আদেশের মাধ্যমে, উক্ত ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতে উপস্থিত হতে নির্দেশ দেবে। এবং যদি উক্ত ব্যক্তি ওই নির্দেশ পালন করতে ব্যর্থ হয়, তবে তার অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

শর্তসাপেক্ষে, আদালত প্রয়োজনে আরও নির্দেশ দিতে পারে যে অভিযুক্ত ব্যক্তির হাজিরার আদেশটি জেলা ও দায়রা জজ আদালত, প্রধান বিচারিক হাকিম আদালত, প্রধান মহানগর হাকিম আদালত, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, বাংলাদেশ পুলিশ বা অন্য কোনো সরকারি ওয়েবসাইট—যার জনসাধারণের কাছে ব্যাপক প্রবেশাধিকার রয়েছে—সেখানে প্রকাশ করা হবে।

(২) আসামিকে হাজির করার পর কিংবা আসামি হাজির হবার পর অথবা জামিনে মুক্ত হবার পর যেক্ষেত্রে আসামি পলায়ন করে কিংবা হাজির হতে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে (১) উপধারায় বর্ণিত পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে না এবং নালিশি অপরাধের জন্য এরূপ ব্যক্তির বিচার করতে উপযুক্ত আদালত এরূপ করার কারণ লিপিবদ্ধ করে তার অনুপস্থিতিতেই এরূপ ব্যক্তির বিচার করবেন।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 339B: Trial in absentia:
(1) Notwithstanding anything contained in section 87 and section 88, where the Court has reason to believe that an accused person has absconded or is concealing himself so that he cannot be arrested and produced for trial and there is no immediate prospect of arresting him, the Court taking cognizance of the offence complained of shall, by order published in one national daily Bangla Newspaper having wide circulation, direct such person to appear before it within such period as may be specified in the order, and if such person fails to comply with such direction, he shall be tried in his absence:
Provided that the Court may, in addition, direct that the order for appearance of the accused be published on the official website of the District and Sessions Judge Court, the Chief Judicial Magistrate Court, the Chief Metropolitan Magistrate Court, the office of the Deputy Commissioner, the Bangladesh Police, or any other government website having wide public accessibility.

(2) Where in a case after the production or appearance of an accused before the Court or his release on bail, the accused person absconds or fails to appear, the procedure as laid down in sub-section (1) shall not apply and the Court competent to try such person for the offence complained of shall, recording its decision so to do, try such person in his absence.
.
দায়রা আদালতের বিচারকদের নিয়োগ করা হয় কোন অনুচ্ছেদের অধীনে?
  1. সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ
  2. সংবিধানের ১২৭ অনুচ্ছেদ
  3. সংবিধানের ১৩০ অনুচ্ছেদ
  4. সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৯(৩এ) ধারায় বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের মধ্য থেকে দায়রা আদালতের বিচারক, যেমন দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ এবং যুগ্ম দায়রা জজ নিয়োগ করা হবে। এই নিয়োগ সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী করা হয়।
সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদ বিচার বিভাগের কাঠামো এবং বিচারকদের নিয়োগের নিয়মাবলি নির্ধারণ করে, যার অধীনে সেশনস জজ, অতিরিক্ত সেশনস জজ এবং যুগ্ম সেশনস জজের নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়।
⇒ দায়রা আদালতের শ্রেণীবিভাগ- ফৌজদারি কার্যবিধির ৯ ধারামতে দায়রা আদালতে তিন ধরনের বিচারক থাকে। যথা-
ⅰ) দায়রা জজ (Sessions Judge);
ii) অতিরিক্ত দায়রা জজ (Additional Sessions Judge);
iii) যুগ্ম দায়রা জজ (Joint Sessions Judge)।
ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা-৯(৩ক): দায়রা আদালতের বিচারক নিয়োগ- সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দ্বারা প্রণীত বিধি সাপেক্ষে দায়রা আদালতের বিচারকগণকে অর্থাৎ দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ ও যুগ্ম দায়রা জজকে জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেয়া হয়।
---------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section 9: Court of Sessions:
(1) The Government shall establish a Court of Session for every sessions division, and appoint a judge of such Court ; and the Court of Session for Metropolitan Area shall be called the Metropolitan Court of Session.
(2) The Government may, by general or special order in the official Gazette, direct at what place or places the Court of Session shall hold its sitting; but, until such order is made, the Courts of Session shall hold their sittings as heretofore.
(3) The Government may also appoint Additional Sessions Judges and Assistant Sessions Judges to exercise jurisdiction in one or more such Courts.
(3A) The members of the Bangladesh Judicial Service shall be appointed as Sessions Judge, Additional Sessions Judge and Joint Sessions Judge in accordance with the rules framed by the President under the proviso to Article 133 of the constitution to exercise jurisdiction in one or more of such areas.
(4) A Sessions Judge of one sessions division may be appointed by the Government to be also an Additional Sessions Judge of another division, and in such case he may sit for the disposal of cases at such place or places in either division as the Government may direct.
(5) All Courts of Session existing when this Code comes into force shall be deemed to have been established under this Act.
.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় অনুসন্ধানের আদেশ প্রদানের ক্ষমতা বর্ণিত হয়েছে?
  1. ধারা ৪৩৪
  2. ধারা ৪৩৫
  3. ধারা ৪৩৬
  4. ধারা ৪৩৭
সঠিক উত্তর:
ধারা ৪৩৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ৪৩৬
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৬ অনুযায়ী, হাইকোর্ট বা দায়রা জজ খারিজ হওয়া নালিশ বা অব্যাহতি প্রাপ্ত মামলায় আবার তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন। তবে, তদন্তের আগে অভিযুক্তকে কারণ জানানোর সুযোগ দিতে হবে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৬ ধারার বিধান অনুসন্ধানের আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা:
৪৩৫ ধারা অনুসারে অথবা অন্যভাবে পরীক্ষা করে হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা জজ নির্দেশ দিতে পারবেন যে, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট অথবা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিজে অথবা তার অধস্তন কোন ম্যাজিষ্ট্রেটের দ্বারা ২০৩ ধারা বা ২০৪ ধারার (৩) উপধারা অনুসারে খারিজক্ত যেকোনো নালিশ বা কোন অপরাধে অভিযুক্ত কোন অব্যাহতি প্রাপ্ত ব্যক্তি সম্পর্কে আরও তদন্ত করবেন, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এরূপ তদন্ত করতে পারবেন বা তার অধস্তন কোন ম্যাজিস্ট্রেটকে এরূপ তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবেন।
তবে শর্ত এই যে, কোন আদালত কোন অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি সম্পর্কে এই ধারার অধীন নির্দেশ দিবেন না, যদি না উক্ত ব্যক্তিকে কোন উক্তরূপ আদেশ দেয়া হবে না তার কারণ দর্শানোর সুযোগ দেয়া হয়।
-----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section: 436- Power to order inquiry:
On examining any record under section 435 or otherwise, the High Court Division or the Sessions Judge may direct the Chief Metropolitan Magistrate or Chief Judicial Magistrate by himself or by any of the Magistrates subordinate to him to make, and the Chief Metropolitan Magistrate or Chief Judicial Magistrate may himself make, or direct any Sub-ordinate Magistrate to make, further inquiry into any complaint which has been dismissed under section 203 or sub-section (3) of section 204, or into the case of any person accused of an offence who has been discharged:
Provided that no Court shall make any direction under this section for inquiry into the case of any person who has been discharged unless such person has had an opportunity of showing cause why such direction should not be made.
.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২০ অনুসারে, জেলে থাকা আপিলকারী তার আপিল আবেদন জমা দিতে হবে-
  1. থানার ইনচার্জকে
  2. জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে
  3. সরাসরি হাইকোর্টে
  4. জেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে
সঠিক উত্তর:
জেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২০ অনুসারে, জেলে অবস্থানরত ব্যক্তি তার আপিলের দরখাস্ত এবং রায়ের নকল জেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে দাখিল করবেন, এবং তিনি তা যথাযথ আপিল আদালতে প্রেরণ করবেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২০ ধারার বিধান আপিলকারী জেলে অবস্থান করলে সেক্ষেত্রে পদ্ধতি:
- আপিলকারী জেলে থাকলে আপিলের নকলসহ তার আপিলের দরখাস্ত জেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর দাখিল করতে হবে এবং অতঃপর উক্ত অফিসার উক্ত দরখাস্ত ও নকল যথাযথ আপিল আদালত বরাবর প্রেরণ করবেন।
--------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section 420. Procedure when appellant in jail:
-If the appellant is in jail, he may present his petition of appeal and the copies accompanying the same to the officer in charge of the jail, who shall thereupon forward such petition and copies to the proper Appellate Court.
.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৮ ধারা অনুসারে, কখন ক্ষমা প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া যায়?
  1. রায় ঘোষণার পর
  2. রায় দেয়ার পূর্বে যে কোন সময়
  3. মামলার তদন্ত শুরু হওয়ার আগে
  4. শুধুমাত্র জামিনের আবেদনের সময়
সঠিক উত্তর:
রায় দেয়ার পূর্বে যে কোন সময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রায় দেয়ার পূর্বে যে কোন সময়
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৩৮ অনুযায়ী, রায় দেয়ার পূর্বে যে কোন সময় আদালত অভিযুক্ত বা সাক্ষ্যদাতার সাক্ষ্য গ্রহণের উদ্দেশ্যে শর্তসাপেক্ষ ক্ষমা প্রদর্শনের নির্দেশ দিতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৩৮- ক্ষমা প্রদর্শনের নির্দেশ দানের ক্ষমতা:
রায় দেয়ার পূর্বে যে কোন সময় যে দায়রা আদালত মােকদ্দমার বিচার করছেন সেই আদালত বিচারকালে সংশ্লিষ্ট অপরাধের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরােক্ষভাবে জড়িত বা সেই সম্পর্কে গােপন তথ্যের অধিকারী বলে অনুমতি কোন ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণের উদ্দেশ্যে তাকে এই শর্তে ক্ষমা প্রদর্শন করতে পারবেন বা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে ক্ষমা মঞ্জুর করার আদেশ দিতে পারেন।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 338- Power to direct tender of pardon:
At any time before the judgment is passed, the Court of Session trying the case may, with the view of obtaining on the trial the evidence of any person supposed to have been directly or indirectly concerned in or privy to, any such offence, tender, or order or the Chief Metropolitan Magistrate or the Chief Judicial Magistrate to tender, a pardon on the same condition to such person.
.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৫৪ কোন ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. দেওয়ানি অপরাধ
  2. আমলযোগ্য অপরাধ
  3. অ-আমলযোগ্য অপরাধ
  4. শৃঙ্খলাভঙ্গ সংক্রান্ত অপরাধ
সঠিক উত্তর:
আমলযোগ্য অপরাধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমলযোগ্য অপরাধ
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৫৪ প্রধানত আমলযোগ্য অপরাধ সম্পর্কিত। আমলযোগ্য অপরাধ হলো সেই ধরনের অপরাধ যার তদন্ত ও বিচার শুরু করার জন্য পুলিশ কর্তৃপক্ষের স্বাধীন ক্ষমতা থাকে এবং যেগুলোতে পুলিশ সরাসরি তদন্ত চালাতে পারে।
- এই ধারা অনুযায়ী, কোনো আমলযোগ্য অপরাধের সংবাদ (তথ্য) যদি পুলিশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মৌখিক বা লিখিতভাবে দেওয়া হয়, তাহলে তাকে তা লিপিবদ্ধ করতে হবে, সংবাদদাতাকে পড়ে শুনাতে হবে এবং তার স্বাক্ষর নিতে হবে। এই প্রক্রিয়া অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- অন্যদিকে, অ-আমলযোগ্য অপরাধ (Non-cognizable offences) বা দেওয়ানি অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ সাধারণত তদন্ত শুরু করতে পারে না পুলিশ সুপার বা উচ্চতর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া, তাই ধারা ১৫৪ সরাসরি সেখানে প্রযোজ্য হয় না।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারার বিধান আমলযোগ্য মামলার সংবাদ:
-আমলযোগ্য অপরাধ সম্বন্ধীয় কোনও সংবাদ যদি কোন পুলিশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে দেয়া হলে তিনি বা তাঁর নির্দেশানুসারে অন্য কেউ তা লিপিবদ্ধ করবেন, এবং সংবাদ জ্ঞাপনকারীকে তা পড়ে শুনাবেন, এবং এরূপ প্রতিটি সংবাদ, তা লিখিতভাবে প্রদত্ত হোক বা পরে লিপিবদ্ধ করা হোক, সংবাদ জ্ঞাপনকারী কর্তৃক স্বাক্ষরিত হবে, এবং উহার সারাংশ ঐরূপ অফিসার কর্তৃক সরকার কর্তৃক এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট নিদর্শে রক্ষিত বহিতে লিপিবদ্ধ করে রাখতে হবে।
---------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-154: Information in cognizable cases:
-Every information relating to the commission of a cognizable offence if given orally to an officer in charge of a police-station, shall be reduced to writing by him or under his direction, and be read over to the informant; and every such information, whether given in writing or reduced to writing as aforesaid, shall be signed by the person giving it and the substance thereof shall be entered in a book to be kept by such officer in such form as the Government may prescribe in this behalf.
.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৯৯ অনুযায়ী কাদেরকে সংশোধনাগারে আটক রাখার বিধান রয়েছে? 
  1. ১২ বছরের কম বয়সী অপরাধী
  2. ১৫ বছরের কম বয়সী অপরাধী
  3. ১৮ বছরের কম বয়সী অপরাধী
  4. ২১ বছরের কম বয়সী অপরাধী
সঠিক উত্তর:
১৫ বছরের কম বয়সী অপরাধী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫ বছরের কম বয়সী অপরাধী
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৯৯ ধারার বিধান: কোনো অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির বয়স ১৫ বছরের কম হলে আদালত তাকে ফৌজদারি কারাগারে বন্দী না করে, সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত কোনো সংশোধনমূলক প্রতিষ্ঠানে আটক রাখবার নির্দেশ দিতে পারেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৯৯ ধারার বিধান- তরুণ অপরাধীকে চরিত্র সংশোধনী প্রতিষ্ঠানে আটক রাখা:
(১) যখন কোন ফৌজদারি আদালত পনেরো বৎসরের কম বয়স্ক কোন ব্যক্তিকে কোন অপরাধের জন্য কারাদণ্ড দেন, তখন উক্ত আদালত নির্দেশ দিবেন যে, উক্ত ব্যক্তিকে ফৌজদারি জেলে বন্দী না করে আটকের উপযুক্ত স্থানে সরকার কর্তৃক স্থাপিত সংশোধনাগারে আটক রাখতে হবে যেখানে উপযুক্ত শৃঙ্খলা ও কোন দরকারি শিল্পের কোন শাখায় শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে অথবা তাকে কোন ব্যক্তি কর্তৃক পরিচালিত অনুরূপ প্রতিষ্ঠানে আটক রাখতে হবে, যে ব্যক্তি আটক ব্যক্তিদের শৃঙ্খলা ও শিক্ষার জন্য সরকার কর্তৃক প্রণীত নিয়মাবলী অনুসরণ করতে ইচ্ছুক।
(২) এই ধারার অধীন সকল ব্যক্তির প্রতি উক্তরূপ নির্ধারিত নিয়মাবলী প্রযোজ্য হবে।
-----------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section 399: Confinement of youthful offenders in reformatories:
(1) When any person under the age of fifteen years is sentenced by any Criminal Court to imprisonment for any offence, the Court may direct that such person, instead of being imprisoned in a criminal jail, shall be confined in any reformatory established by the Government as a fit place for confinement, in which there are means of suitable discipline and of training in some branch of useful industry or which is kept by a person willing to obey such rules as the Government prescribes with regard to the discipline and training of persons confined therein. 
(2) All persons confined under this section shall be subject to the rules so prescribed.
.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯১ ধারা মূলত কোন ধরনের ক্ষমতা প্রদান করে?
  1. জামিন প্রদান
  2. তদন্তের অনুমতি
  3. গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি
  4. হেবিয়াস কর্পাস প্রকৃতির নির্দেশ
সঠিক উত্তর:
হেবিয়াস কর্পাস প্রকৃতির নির্দেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেবিয়াস কর্পাস প্রকৃতির নির্দেশ
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯১ ধারা হাইকোর্ট ডিভিশনকে হেবিয়াস কর্পাস সম্পর্কিত নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেয়। এর মানে হলো, যদি কোনো ব্যক্তি বেআইনি বা অযৌক্তিকভাবে আটক থাকে, হাইকোর্ট তাকে মুক্তির আদেশ দিতে পারে বা তাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিতে পারে। এই ধারা আটককৃত ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষায় এবং বেআইনি হেফাজত রোধে ব্যবহৃত হয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯১ ধারার বিধান: হেবিয়াস কর্পাস প্রকৃতির নির্দেশ প্রদানের ক্ষমতা-
(১) হাইকোর্ট ডিভিশন যখনই সঠিক মনে করেন, তখন এ মর্মে নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন যে-
(ক) ইহার ফৌজদারি আপিল এখতিয়ারের সীমার মধ্যে অবস্থানকারী কোন ব্যক্তি সম্পর্কে আইন অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে আদালতে উপস্থিত করা হোক;
(খ) উপরোক্ত সীমার মধ্যে সরকারি বা বেসরকারি হেফাজতে বেআইনি অযৌক্তিকভাবে আটক কোন ব্যক্তিকে মুক্তি দেয়া হোক;
(গ) আদালতের বিবেচনাধীন বা অনুসন্ধানাধীন কোন বিষয়ে সাক্ষী হিসাবে জবানবন্দি নিয়ে উপরোক্ত সীমার মধ্যে অবস্থিত কোন জেলে আটক কোন বন্দিকে আদালতে হাজির করা হোক,
(ঘ) কোন কোর্ট মার্শাল বা কমিশনারের বিবেচনাধীন কোন বিষয় বিচারের জন্য বা সাক্ষী দিবার জন্য উক্তরূপে আটক কোন বন্দিকে যথাক্রমে উক্ত কোর্ট মার্শাল বা কমিশনার বরাবর হাজির করা হোক,
(ঙ) উপরোক্ত সীমার মধ্যে অবস্থানকারী কোন বন্দিকে বিচারের উদ্দেশ্যে এক হেফাজত হতে অন্য হেফাজতে অপসারণ করা হোক; এবং 
(২) মামলার পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সুপ্রিম কোর্ট সময়ে সময়ে এই ধারার অধীন নিয়ম প্রণয়ন করতে পারবেন।
(৩) এই ধারার কোন বিধানই বর্তমান কার্যকর কোন নিবারণমূলক আটক আইনের অধীন আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়
-----------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section- 491.Power to issue directions of the nature of a habeas corpus:
(1) The High Court Division may, whenever it thinks fit, direct:- 
(a) that a person within the limits of its appellate criminal jurisdiction be brought up before the Court to be dealt with according to law; 
(b) that a person illegally or improperly detained in public or private custody with such limits be set at liberty; 
(c) that a prisoner detained in any jail situate within such limits be brought before the Court to be there examined as a witness in any matter pending or to be inquired into in such Court; 
(d) that a prisoner detained as aforesaid be brought before a Court-martial or any Commissioners for trial or to be examined touching any matter pending before such Court-martial or Commissioners respectively; 
(e) that a prisoner within such limits be removed from one custody to another for the purpose of trial ; and 
(2) The Supreme Court may, from time to time, frame rules to regulate the procedure in cases under this section. 
(3) Nothing in this section applies to persons detained under any law for the time being in force providing for preventive detention.
.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৩ অনুযায়ী, নিম্নের কোন ক্ষেত্রে আপিল করা যায় না?
  1. দায়রা আদালত কর্তৃক ২ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হলে
  2. প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ৬০০০ টাকা জরিমানা করা হলে
  3. চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ৪০০০ টাকা জরিমানা করা হলে
  4. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ৩ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হলে
সঠিক উত্তর:
চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ৪০০০ টাকা জরিমানা করা হলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ৪০০০ টাকা জরিমানা করা হলে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১২ থেকে ৪১৪ ধারায় যে সকল ক্ষেত্রে আপিল দায়ের করা যাবে না তা উল্লেখ করা হয়েছে।
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৩ অনুযায়ী দায়রা আদালত যদি সর্বোচ্চ ১ মাস কারাদণ্ড দেয়, অথবা দায়রা আদালত, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট যদি সর্বোচ্চ ৫০০০ টাকা জরিমানা করে, তাহলে সেই দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না।
- এক্ষেত্রে ৪০০০ টাকা জরিমানা ৫০০০ টাকার নিচে, তাই আপিল অযোগ্য।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৩- তুচ্ছ মামলার ক্ষেত্রে [Petty Cases]:
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৩ ধারা অনুসারে কোন দণ্ডিত ব্যক্তি আপিল করতে পারবে না যদি দায়রা আদালত অনধিক ১ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে বা দায়রা আদালত বা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা অন্য কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট অনধিক ৫০০০ টাকার অর্থদণ্ড প্রদান করে।
অন্যদিকে যদি আদালত শুধুমাত্র জরিমানা আরোপ করে এবং উক্ত জরিমানা প্রদানে ব্যর্থতার কারণে, আদালত দণ্ড আরোপ করলে উক্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না।
-------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section: 413. No appeal in petty cases:
Notwithstanding anything hereinbefore contained, there shall be no appeal by a convicted person in cases in which a Court of Session passes a sentence of imprisonment not exceeding one month only, or in which a Court of Session or Chief Judicial Magistrate or Metropolitan Magistrate or other Magistrate of the first class passes a sentence of fine not exceeding five thousand Taka only. 
Explanation:- There is no appeal from a sentence of imprisonment passed by such Court or Magistrate in default of payment of fine when no substantive sentence of imprisonment has also been passed.
১০.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় বিরোধীয় বিষয় ক্রোক করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে?
  1. ধারা ১৪৪
  2. ধারা ১৪৫
  3. ধারা ১৪৬
  4. ধারা ১৪৭
সঠিক উত্তর:
ধারা ১৪৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ১৪৬
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৪৬-এ বিরোধীয় বিষয় ক্রোক করার ক্ষমতার বিধান দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, যখন ম্যাজিস্ট্রেট দেখতে পান যে কোন বিরোধীয় সম্পত্তির দখল কারো কাছে স্পষ্ট নয় অথবা কেউই তখন সেটির দখলকারী নয়, তখন তিনি সেই সম্পত্তি ক্রোক (অর্থাৎ আটক) করতে পারেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি ১৪৬ ধারার বিধান: বিরোধীয় বিষয় ক্রোক করার ক্ষমতা: ম্যাজিস্ট্রেট যদি সিদ্ধান্ত নেন যে, পক্ষবৃন্দের কেউই সে সময়ে বিরোধী বিষয়বস্তুতে দখলকার ছিল না, অথবা তাদের মধ্য থেকে কোন পক্ষ সেই সময়ে উহাতে দখলকার ছিল, সেই সম্পর্কে তিনি নিজে সন্তুষ্ট হতে অপারগ হলে আদালতে পক্ষবৃন্দের অধিকার বা দখল পাওয়ার অধিকারী ব্যক্তি সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি তা ক্রোক করতে পারবেন।
শর্ত থাকে যে, অনুরূপ উপরে বর্ণিত ম্যাজিস্ট্রেট যদি পরিতুষ্ট হন, বিরোধীয় বিষয় সম্পর্কে আর শান্তিভঙ্গের কোনরূপ সম্ভাবনা নেই, সেক্ষেত্রে তিনি যে কোন সময় ক্রোক বাতিল করতে পারেন।
(২) যেক্ষেত্রে কোন ম্যাজিস্ট্রেট বিরোধীয় বস্তু ক্রোক করেন, সেক্ষেত্রে তিনি যদি সঠিক হিসাবে মনে করেন এবং কোন দেওয়ানী আদালত যদি ইতিপূর্বে বিরোধীয় সম্পত্তির কোন তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ না করে থাকেন, সেক্ষেত্রে তিনি উহার জন্য একটি তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করতে পারবেন এবং ম্যাজিস্ট্রেটের নিয়ন্ত্রণ দ্বারা উক্ত তত্ত্বাবধায়কের দেওয়ানী কার্যবিধি অনুযায়ী নিযুক্ত তত্ত্বাবধায়কের যাবতীয় ক্ষমতা থাকবে
শর্ত থাকে যে, কোন দেওয়ানী আদালত যদি পরবর্তী ধাপে উক্ত বিরোধীয় সম্পত্তির কোন তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করেন, সেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক নিযুক্ত তত্ত্বাবধায়ক তাঁর বরাবর দখল অর্পণ করবেন এবং অতঃপর তাকে উক্ত দায়িত্ব থেকে রেহাই দেয়া হবে।
-------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 146. Power to attach subject of dispute:
(1) If the Magistrate decides that none of the parties was then in such possession, or is unable to satisfy himself as to which of them was then in such possession of the subject of dispute, he may attach it until a competent Court has determined the rights of the parties thereto, or the person entitled to possession thereof: 
Provided that such Magistrate]may withdraw the attachment at any time if he is satisfied that there is no longer any likelihood of a breach of the peace in regard to the subject of dispute.
(2) When the Magistrate attaches the subject of dispute, he may, if he thinks fit and if no receiver of the property, the subject of dispute, has been appointed by any Civil Court appoint a receiver thereof, who, subject to the control of the Magistrate, shall have all the powers of a receiver appointed under the Code of Civil Procedure, 1908: 
Provided that, in the event of a receiver of the property, the subject of dispute, being subsequently appointed by any Civil Court, possession shall be made over to him by the receiver appointed by the Magistrate, who shall thereupon be discharged.
১১.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৯ ধারায় "সাধারণ নাগরিক" কী ধরনের অপরাধে কাউকে গ্রেফতার করতে পারবেন?
  1. জামিনযোগ্য ও আমলযোগ্য অপরাধ
  2. জামিন অযোগ্য ও আমলযোগ্য অপরাধ
  3. জামিন অযোগ্য ও আমলঅযোগ্য অপরাধ
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
জামিন অযোগ্য ও আমলযোগ্য অপরাধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জামিন অযোগ্য ও আমলযোগ্য অপরাধ
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ৫৯ ধারা অনুযায়ী, সাধারণ নাগরিক শুধুমাত্র সেই ধরনের অপরাধে কাউকে গ্রেফতার করতে পারবেন যেগুলো জামিন অযোগ্য (অর্থাৎ জামিন পাওয়া যায় না) এবং আমলযোগ্য (অর্থাৎ পুলিশ তদন্তের যোগ্য, মামলা নেওয়ার যোগ্য)।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৯ ধারার বিধান সাধারণ নাগরিক কর্তৃক গ্রেফতার এবং এই ধরনের গ্রেফতারের পরবর্তী কার্যপ্রণালি:
(১) যে কোন সাধারণ নাগরিক তাঁর মতে জামিন অযোগ্য ও আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনকারীকে অথবা অপরাধী মর্মে ঘোষিত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারেন এবং অনাবশ্যক বিলম্ব না করে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে পুলিশ অফিসারের কাছে হস্তান্তর করবেন অথবা পুলিশ অফিসারের অনুপস্থিতিতে তাকে নিকটস্থ থানায় হেফাজতে নিয়ে যাবেন বা নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করবেন।
(২) এই ধরনের ব্যক্তি ৫৪ ধারার বিধানসাপেক্ষ বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকলে একজন পুলিশ অফিসার পুনরায় তাকে গ্রেফতার করবেন।
(৩) সে আমল-অযোগ্য অপরাধ করেছে মর্মে বিশ্বাস করার কারণ থাকলে এবং পুলিশ অফিসারের দাবিকে সে নিজের নাম ও বাসস্থান প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলে অথবা যদি এরূপ নাম ও বাসস্থান দেয় যা উক্ত অফিসারের মিথ্যা রূপে বিশ্বাস করবার কারণ ঘটে, সেক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে ৫৭ ধারার বিধান সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সে কোন অপরাধ করেছে মর্মে বিশ্বাস করবার মত পর্যাপ্ত কারণ না থাকলে তাকে সাথে সাথে ছেড়ে দিতে হবে।
--------------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-59: Arrest by private persons and procedure on such arrest:
(1) Any private person may arrest any person who in his view commits a non-bailable and cognizable offence, or any proclaimed offender, and without unnecessary delay, shall make over any person so arrested to a police-officer, or, in the absence of a police-officer, take such person or cause him to be taken in custody to the nearest police-station. 
(2) If there is reason to believe that such person comes under the provisions of section 54, a police-officer shall re-arrest him. 
(3) If there is reason to believe that he has committed a non-cognizable offence, and he refuses on the demand of a police-officer to give his name and residence, or gives a name or residence which such officer has reason to believe to be false, he shall be dealt with under the provisions of section 57. If there is no sufficient reason to believe that he has committed any offence, he shall be at once released.
১২.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় ময়নাতদন্ত রিপোর্ট সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহারের বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ৫০৯
  2. ধারা ৫০৯ক
  3. ধারা ৫১০
  4. ধারা ৫১০ক
সঠিক উত্তর:
ধারা ৫০৯ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ৫০৯ক
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫০৯ক-এ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহারের বিশেষ বিধান দেওয়া হয়েছে, যেখানে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক যদি মারা যান, সাক্ষ্য দিতে অক্ষম হন বা দেশের বাইরে থাকেন এবং তাকে আদালতে তলব করা অযৌক্তিক হয়, তখন তার রিপোর্টকে তলব ছাড়াই সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা যায়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫০৯ক: ময়নাতদন্তের রিপোর্ট:-
এই কার্যবিধির অধীন যেক্ষেত্রে ইনকোয়ারি, বিচার বা অন্য কার্যক্রমে ময়না তদন্তের রিপোর্ট সাক্ষ্য রূপে ব্যবহৃত হওয়া দরকার এবং ময়না তদন্তকারী সিভিল সার্জন বা অন্য কোন মেডিকেল অফিসার মারা গেলে বা সাক্ষ্য প্রদান করতে অপারগ হন বা বাংলাদেশের সীমার বাহিরে অবস্থান করেন এবং এরূপ বিলম্ব বা অতিরিক্ত ব্যয় ছাড়া বা অসুবিধা ছাড়া তাকে হাজির করা না যায়, যা মামলার অবস্থায় অযৌক্তিক সেক্ষেত্রে সাক্ষী রূপে তাকে তলব না করেই উক্ত রিপোর্ট সাক্ষ্য রূপে ব্যবহার করা যাবে।

⇒ The Code of Criminal Procedure,1898, Section 509A: Report of post-mortem examination:-
Where in any inquiry, trial or other proceeding under this Code the report of a post-mortem examination is required to be used as evidence, and the Civil Surgeon or other medical officer who made the report is dead or is incapable of giving evidence or is beyond the limits of Bangladesh and his attendance cannot be procured without an amount of delay, expense or inconvenience which, under the circumstances of the case, would be unreasonable, such report may be used as evidence.
১৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৮(১) অনুসারে অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণের সময় আদালতকে কী করতে হবে?
  1. আসামির সম্মতি নিতে হবে
  2. কারণ লিপিবদ্ধ করতে হবে
  3. সরকারের অনুমতি নিতে হবে
  4. উল্লিখিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
কারণ লিপিবদ্ধ করতে হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কারণ লিপিবদ্ধ করতে হবে
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৮(১) অনুযায়ী, আপিল আদালত অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণের পূর্বে তার কারণ লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করতে বাধ্য।

⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৮ ধারার বিধান: আপিল আদালত অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করতে বা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন:
(১) এই অধ্যায়ের অধীন কোন আপিল বিবেচনার সময় আপিল আদালত যদি অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ দরকার মর্মে মনে করেন, তাহলে তার কারণ লিপিবদ্ধ করবেন এবং এই সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারবেন, অথবা কোন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক তা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন, অথবা আপিল আদালত যখন হাইকোর্ট ডিভিশন হয়, তখন কোন দায়রা আদালত বা কোন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক তা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন ।
(২) দায়রা আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক যখন অতিরিক্ত সাক্ষ্য গৃহীত হয়, ইহা বা তিনি উক্ত সাক্ষ্য সত্যায়নপূর্বক আপিল আদালতে প্রেরণ করবেন, এবং উক্ত আদালত অতঃপর আপিল নিষ্পত্তির দিকে অগ্রসর হবেন।
(৩) আপিল আদালত ভিন্নরূপ নির্দেশ না দিলে অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণের সময় আসামি বা তাহার কৌসুলী উপস্থিত থাকবেন।
(৪) অধ্যায়-২৫ এর বিধান সাপেক্ষে এই ধারার অধীন এমনভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে, যেন তা একটি অনুসন্ধান।
-----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898-Section 428- Appellate Court may take further evidence or direct it to be taken:
(1) In dealing with any appeal under this Chapter, the Appellate Court, if it thinks additional evidence to be necessary, shall record its reasons, and may either take such evidence itself, or direct it to be taken by a Magistrate, or, when the Appellate Court is High Court Division, by a Court of Session or a Magistrate.
(2) When the additional evidence is taken by the Court of Session or the Magistrate, it or he shall certify such evidence to the Appellate Court, and such Court shall thereupon proceed to dispose of the appeal.
(3) Unless the Appellate Court otherwise directs, the accused or his pleader shall be present when the additional evidence is taken.
(4) The taking of evidence under this section shall be subject to the provisions of Chapter XXV, as if it were an inquiry.

১৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০৫ঘ অনুসারে, যদি একটি নালিশি মামলার তদন্ত বা বিচার চলাকালীন পুলিশি তদন্ত চলছে বলে প্রতীয়মান হয়, তবে ম্যাজিস্ট্রেট কী করবেন?
  1. মামলাটি বাতিল করবেন
  2. নালিশি মামলাটি অগ্রাধিকার দেবেন
  3. পুলিশি তদন্ত বন্ধ করার নির্দেশ দেবেন
  4. তদন্ত বা বিচারকার্য স্থগিত রাখবেন এবং পুলিশ প্রতিবেদন চাইবেন
সঠিক উত্তর:
তদন্ত বা বিচারকার্য স্থগিত রাখবেন এবং পুলিশ প্রতিবেদন চাইবেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তদন্ত বা বিচারকার্য স্থগিত রাখবেন এবং পুলিশ প্রতিবেদন চাইবেন
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০৫ঘ অনুযায়ী, যদি কোনো নালিশি মামলার তদন্ত বা বিচার চলাকালীন একই অপরাধের বিষয়ে পুলিশি তদন্ত চলমান থাকে, তবে ম্যাজিস্ট্রেটকে তার তদন্ত বা বিচারকার্য স্থগিত রাখতে হয় এবং পুলিশ তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদন দাবি করতে হয়। পুলিশের প্রতিবেদন পেলে, যদি সেই প্রতিবেদনে নালিশি মামলার আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ গ্রহণযোগ্য মনে হয়, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট নালিশি মামলা এবং পুলিশি প্রতিবেদনভিত্তিক মামলাকে একসঙ্গে পরিচালনা করবেন। আর যদি পুলিশ প্রতিবেদন নালিশি মামলার আসামিদের সঙ্গে সম্পর্কিত না হয় বা ম্যাজিস্ট্রেট কোনো অপরাধ গ্রহণ না করেন, তাহলে স্থগিত রাখা তদন্ত বা বিচার পুনরায় চালু করবেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৫ঘ ধারার বিধান: একটি অপরাধের বিষয়ে একই সাথে নালিশি মামলা ও পুলিশি তদন্ত চলতে থাকলে অনুসরণীয় পদ্ধতি: (১) পুলিশ প্রতিবেদন ব্যতিরেকে অন্য কোন উপায়ে দায়েরকৃত মামলার (অতঃপর নালিশি মামলা মর্মে বর্ণিত হবে) তদন্ত বা বিচার চলাকালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট তাঁর আদালতে তদন্ত বা বিচারাধীন অপরাধটি সম্পর্কে একটি পুলিশি তদন্ত চলতেছে মর্মে প্রতীয়মান হলে, সেক্ষেত্রে উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট তাঁর দ্বারা পরিচালিত তদন্ত বা বিচারকার্য স্থগিত রাখবেন এবং উক্ত বিষয় সম্পর্কে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত প্রতিবেদন চাবেন।
(২) যেক্ষেত্রে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা ধারা-৭৩ এর বিধানসাপেক্ষে প্রতিবেদন পেশ করেন এবং এরূপ প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ম্যাজিস্ট্রেট যে ব্যক্তি নালিশি মোকদ্দমার আসামি তার বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নেন, সেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট নালিশি মামলা এবং পুলিশ প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে দায়েরকৃত মামলার একই সাথে তদন্ত বা বিচার করতে পারবেন যাতে উভয় মামলাই পুলিশ প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে দায়ের হয়েছে।
(৩) পুলিশ প্রতিবেদনে নালিশি মামলার কোন আসামি জড়িত না হলে, অথবা পুলিশ প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ম্যাজিস্ট্রেট কোন অপরাধ আমলে গ্রহণ না করলে তিনি যে তদন্ত বা বিচার স্থগিত রেখেছিলেন এই কার্যবিধির বিধান অনুসারে সেই তদন্ত বা বিচারকার্যে অগ্রসর হবেন।
--------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898- Section 205D. Procedure to be followed when there is a complaint case and police investigation in respect of the same offence:
(1) When in a case instituted otherwise than on a police report hereinafter referred to as a complaint case, it is made to appear to the Magistrate, during the course of the inquiry or trial held by him, that an investigation by the police is in progress in relation to the offence which is the subject-matter of the inquiry or trial held by him, the Magistrate shall stay the proceedings of such inquiry or trial and call for a report on the matter from the police-officer conducting the investigation.
(2) If a report is made by the investigating police-officer under section 173 and on such report cognizance of any offence is taken by the Magistrate against any person who is an accused in the complaint case, the Magistrate shall inquire into or try together the complaint case and the case arising out of the police report as if both the cases were instituted on a police report.
(3) If the police report does not relate to any accused in the complaint case or if the Magistrate does not take cognizance of any offence on the police report, he shall proceed with the inquiry or trial, which was stayed by him, in accordance with the provisions of this Code.
১৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০২ ধারা কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. মৃত্যুদণ্ড স্থগিতকরণ
  2. সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ
  3. জামিনদারের অব্যাহতি
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
জামিনদারের অব্যাহতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জামিনদারের অব্যাহতি
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০২ ধারা জামিনদারের অব্যাহতির বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে। এই ধারার মাধ্যমে জামিনদার যে মুচলেকা দিয়েছে, সে মুচলেকা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বাতিল করার জন্য জামিনদার ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করতে পারে। আবেদন পাওয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেট জামিনপ্রাপ্ত আসামিকে হাজির করার জন্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করবেন এবং জামিনদারকে অব্যাহতি প্রদান করবেন। এরপর আসামি হাজির হলে তাকে নতুন জামিনদার সংগ্রহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। যদি আসামি নতুন জামিনদার না দিতে পারে, তবে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০২ ধারার বিধান: জামিনদারের অব্যাহতি:
-জামিনদার যেকোনো সময় জামিননামাটি সম্পূর্ণ বা আংশিক বাতিল করার জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট আবেদন করতে পারবেন। এরূপ আবেদন প্রাপ্তির পর ম্যাজিস্ট্রেট মুচলেকাটি বাতিল করবেন এবং জামিনে মুক্ত আসামিকে হাজির করার নির্দেশ দিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করবেন এবং উক্ত জামিনদারকে অব্যাহতি দিবেন। আসামি আদালতে হাজির হলে বা তাকে হাজির করানো হলে আদালত তাকে নতুন জামিনদার সংগ্রহ করতে বলবেন এবং সে যদি জামিনদার সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে তাকে জেলে প্রেরণ করবেন।
---------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898: Section 502: Discharge of sureties-
(1) All or any sureties for the attendance and appearance of a person released on bail may at any time apply to a Magistrate to discharge the bond, either wholly or so far as relates to the applicants.
(2) On such application being made, the Magistrate shall issue his warrant of arrest directing that the person so released be brought before him.
(3) On the appearance of such person pursuant to the warrant, or on his voluntary surrender, the Magistrate shall direct the bond to be discharged either wholly or so far as relates to the applicants, and shall call upon such person to find other sufficient sureties, and, if he fails to do so, may commit him to custody.

১৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫২৫ক অনুসারে কে মামলা বা আপিল স্থানান্তরের নির্দেশ দিতে পারেন?
  1. সরকার
  2. জেলা জজ
  3. দায়রা আদালত
  4. আপিল বিভাগ
সঠিক উত্তর:
আপিল বিভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আপিল বিভাগ
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫২৫ক(১)-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, আপিল বিভাগ (Supreme Court of Bangladesh-এর Appellate Division) ন্যায়বিচার বা পক্ষগণ ও সাক্ষীদের সুবিধার স্বার্থে যে কোনো মামলা বা আপিল:
১) হাইকোর্ট বিভাগের এক স্থায়ী বেঞ্চ থেকে অন্য বেঞ্চে, অথবা
২) এক স্থায়ী বেঞ্চের এখতিয়ারভুক্ত ফৌজদারি আদালত থেকে অন্য বেঞ্চের এখতিয়ারভুক্ত সমতুল্য বা উচ্চতর আদালতে স্থানান্তরের নির্দেশ দিতে পারেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২৫ক ধারার বিধান:- মামলা ও আপিল স্থানান্তরের ক্ষেত্রে আপিল বিভাগের ক্ষমতা:
(১) যেক্ষেত্রে এটা প্রতীয়মান হয় যে, এরূপ স্থানান্তর ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্য বা পক্ষগণ বা সাক্ষীদের সাধারণ সুবিধার উন্নয়ন ঘটাবে সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগ কোন নির্দিষ্ট মামলা বা আপিল হাইকোর্ট বিভাগের এক স্থায়ী বেঞ্চ থেকে উহার অন্য স্থায়ী বেঞ্চে কিংবা হাইকোর্ট বিভাগের কোন স্থায়ী বেঞ্চের এখতিয়ারের মধ্যকার কোন ফৌজদারি আদালত থেকে হাইকোর্ট বিভাগের অন্য কোন স্থায়ী বেঞ্চের মধ্যকার এখতিয়ারের মধ্যকার একই বা উচ্চতর ক্ষমতা সম্পন্ন ফৌজদারি আদালতে স্থানান্তর করতে পারবেন।
(২) যে হাইকোর্ট ডিভিশনের স্থায়ী বেঞ্চ কিংবা ক্ষেত্রমতে আদালতে মামলা বা আপিল স্থানান্তরিত আপিল, সে বেঞ্চ বা আদালত এমনভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন যাতে মূলত সেখানেই উক্ত মামলা বা আপিল আপিল করা বা উপস্থাপিত হয়েছিল।
-----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898: Section 525A- Power of Appellate Division to transfer cases and appeals:
(1) The Appellate Division may direct the transfer of any particular case or appeal from one permanent Bench of the High Court Division to another permanent Bench of the High Court Division, or from any Criminal Court within the jurisdiction of one permanent Bench of the High Court Division to any other Criminal Court of equal or superior jurisdiction within the jurisdiction of another permanent Bench of the High Court Division, whenever it appears to it that such transfer promote the ends of justice, or tend to the general convenience of parties or witnesses.
(2) The permanent Bench of the High Court Division or the Court, as the case may be, to which such case or appeal is transferred shall deal with the same as if it had been originally instituted in, or presented to, such Bench or Court, as the case may be.
১৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮২ ধারা কোন আদালতের ক্ষমতার সাথে সম্পর্কিত?
  1. দায়রা আদালত
  2. হাইকোর্ট ডিভিশন
  3. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত
  4. চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
সঠিক উত্তর:
হাইকোর্ট ডিভিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইকোর্ট ডিভিশন
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৮২ অনুযায়ী, গর্ভবতী স্ত্রীলোকের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত বা দণ্ড হ্রাসের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা হাইকোর্ট ডিভিশনের অধীনে রয়েছে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮২ ধারার অধীন গর্ভবতী স্ত্রী লোকের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা যায়: মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত স্ত্রীলোক গর্ভবতী হলে হাইকোর্ট তার দণ্ডাদেশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দিতে পারবেন অথবা উপযুক্ত মনে করলে দণ্ড হ্রাস করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে পারবেন।
-------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section-382: Postponement of capital sentence on pregnant woman:
-If a woman sentenced to death is found to be pregnant, the High Court Division shall order the execution of the sentence to be postponed, and may, if it thinks fit, commute the sentence to transportation for life. 
১৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলে মোট কতটি কলাম আছে?
  1. ৫ টি
  2. ৬ টি
  3. ৭ টি
  4. ৮ টি
সঠিক উত্তর:
৮ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ টি
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলের ৮টি কলাম নিম্নরূপ:
১. প্রথম কলাম: পেনাল কোডের ধারাসমূহ।
২. দ্বিতীয় কলাম: অপরাধের বিবরণ।
৩. তৃতীয় কলাম: পুলিশ পরোয়ানা ছাড়া গ্রেফতার করতে পারবে কি না (অর্থাৎ, আমলযোগ্য বা আমল-অযোগ্য অপরাধ)।
৪. চতুর্থ কলাম: প্রথমে সমন ইস্যু করা হবে নাকি ওয়ারেন্ট।
৫. পঞ্চম কলাম: অপরাধটি জামিনযোগ্য নাকি জামিন-অযোগ্য।
৬. ষষ্ঠ কলাম: অপরাধটি মীমাংসাযোগ্য (Compoundable) কিনা।
৭. সপ্তম কলাম: দণ্ডবিধির অধীন নির্ধারিত শাস্তি।
৮. অষ্টম কলাম: যে আদালত ওই অপরাধের বিচার করবে।
১৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪১ অনুসারে কারাবাসের স্থান নির্ধারণের ক্ষমতা কার হাতে রয়েছে?
  1. আদালত
  2. সরকার
  3. পাবলিক প্রসিকিউটর
  4. জেল সুপারিন্টেনডেন্ট
সঠিক উত্তর:
সরকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকার
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪১ অনুসারে কারাবাসের স্থান নির্ধারণের ক্ষমতা সরকারের হাতে থাকে। আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট শুধু কারাদণ্ড বা হেফাজতের আদেশ দেয়, কিন্তু কারাগারে কাউকে কোথায় রাখা হবে তা সরকার নির্ধারণ করে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪১ - কারাবাসের স্থান নির্ণয়ের ক্ষমতা:
(১) বর্তমানে বলবৎ কোন আইনে ভিন্নরূপ ব্যবস্থা করা না হলে এই বিধির অধীন কারাদণ্ড বা হাজত বাসের নির্দেশ প্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে কোথায় আটক রাখা হবে সরকার সে সম্পর্কে নির্দেশ দিতে পারবেন।
(২) দেওয়ানী কারাগারে আটক আসামি অথবা দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ফৌজদারি কারাগারে অপসারণ এবং তাদের দেওয়ানী কারাগারে প্রত্যাবর্তন:
এই বিধির অধীনে কারাদণ্ড বা হেফাজতে রাখার আদেশপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি যদি দেওয়ানী জেলে আটক থাকেন, তবে যিনি তার কারাদণ্ড বা হেফাজতের আদেশ দিয়েছেন সেই আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট নির্দেশ দিতে পারেন যে, তাকে ফৌজদারি জেলে স্থানান্তরিত করা হবে।
(৩) কোন ব্যক্তি (২) উপধারার অধীন ফৌজদারি জেলে স্থানান্তরিত হলে তা হতে মুক্ত হবার পর তাকে পুনরায় দেওয়ানী জেলে প্রেরণ করতে হবে, যদি না
ক) ফৌজদারি জেলে স্থানান্তরিত হবার পর তিন বৎসর অতিবাহিত হয়ে থাকে, তিন বৎসর অতিবাহিত হয়ে থাকলে দেওয়ানী কার্যবিধির ৫৮ ধারার অধীন সে দেওয়ানী জেল হতে অব্যাহতি পেয়েছে বলে গণ্য করতে হবে, অথবা
খ) যে আদালত তাকে দেওয়ানী জেলে আটকের আদেশ দিয়া ছিলেন সেই আদালত ফৌজদারি জেলের ভারপ্রাপ্ত অফিসারকে সার্টিফিকেট দেন যে দেওয়ানী কার্যবিধির ৫৮ ধারার অধীন সে অব্যাহতি পাওয়ার অধিকারী।
----------

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section 541.Power to appoint place of imprisonment:
(1) Unless when otherwise provided by any law for the time being in force, the Government may direct in what place any person liable to be imprisoned or committed to custody under this Code shall be confined.
Removal to criminal jail of accused or convicted persons who are in confinement in civil jail, and their return to the civil jail:
(2) If any person liable to be imprisoned or committed to custody under this Code is in confinement in a civil jail, the Court or Magistrate ordering the imprisonment or committal may direct that the person be removed to a criminal jail. 
(3) When a person is removed to a criminal jail under sub-section (2), he shall, on being released therefrom, be sent back to the civil jail, unless either– 
(a) Three years have lapsed since he was removed to the criminal jail, in which case he shall be deemed to have been discharged from the civil jail under section 58 of the Code of Civil Procedure, 1908; or
(b) The Court which ordered his imprisonment in the civil jail has certified to the officer in charge of the criminal jail that he is entitled to be discharged under section 58 of the Code of Civil Procedure, 1908.
২০.
ফৌজদারি কার্যবিধির অনুযায়ী নালিশ (Complaint) কাকে বলা হয়?
  1. সংবাদ মাধ্যমে অভিযোগ
  2. পুলিশের কাছে অভিযোগ
  3. ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ
  4. জনপ্রতিনিধির কাছে অভিযোগ
সঠিক উত্তর:
ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা-৪(জ): নালিশ (Complaint)- "নালিশ" বলতে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট মৌখিক অথবা লিখিতভাবে এই মর্মে অভিযোগ করা যে, জ্ঞাত অথবা অজ্ঞাত কোন ব্যক্তি একটি অপরাধ করেছে।
-অর্থাৎ অপরাধ সম্পর্কে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ নালিশ (Complaint) বলে গণ্য হবে।
- কিন্তু অপরাধ সম্পর্কে পুলিশ অফিসারের নিকট মৌখিক অথবা লিখিত অভিযোগ নালিশ (Complaint) বলে গণ্য হবে না।
--------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-4(h) "complaint" means the allegation made orally or in writing to a Magistrate, with a view to his taking action under this Code, that some person, whether known or unknown, has committed an offence, but it does not include the report of a police officer:
২১.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জরিমানার সর্বোচ্চ সীমা কত?
  1. ৫০,০০০ টাকা
  2. ১,০০,০০০ টাকা
  3. ২,০০,০০০ টাকা
  4. ৩,০০,০০০ টাকা
সঠিক উত্তর:
২,০০,০০০ টাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২,০০,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৩২ (সংশোধিত): ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত সাজা:
(১) ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নিম্নলিখিত সাজা প্রদান করতে পারবেন, যথা:-
(ক) মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত:
- পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, যার মধ্যে আইন দ্বারা অনুমোদিত একাকী কারাবাস অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে;
- পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা।

(খ) দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত:
- তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, যার মধ্যে আইন দ্বারা অনুমোদিত একাকী কারাবাস অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে;
- তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা।

(গ) তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত:
- দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড;
- দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা।

(২) যেকোনো ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আইন দ্বারা অনুমোদিত যেকোনো সাজার সমন্বয়ে একটি বৈধ সাজা প্রদান করতে পারবেন।
২২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪৮ অনুযায়ী নালিশ প্রত্যাহার করতে কার অনুমতি নিতে হয়?
  1. পুলিশ অফিসার
  2. আদালতের রেজিস্ট্রার
  3. সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট
  4. হাইকোর্ট বিভাগ
সঠিক উত্তর:
সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৮ ধারা অনুযায়ী অভিযোগকারী সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতিতে নালিশ প্রত্যাহার করতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪৮ এ অভিযোগকারী কর্তৃক নালিশ প্রত্যাহারের ফলাফল দেয়া হয়েছে-ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে মামলার চূড়ান্ত আদেশ হবার পূর্বে যে কোন সময় অভিযোগকারী নালিশ প্রত্যাহার করতে পারে। অভিযোগকারী নালিশ প্রত্যাহার করলে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে খালাস [Acquittal] দিবে।
---------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 248: Withdrawal of complaint:
If a complainant, at any time before a final order is passed in any case under this Chapter, satisfies the Magistrate that there are sufficient grounds for permitting him to withdraw his complaint, the Magistrate may permit him to withdraw the same, and shall thereupon acquit the accused.
২৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারা অনুযায়ী দোষ স্বীকারের পর দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলের সীমাবদ্ধতা রয়েছে?
  1. ধারা ৪১২
  2. ধারা ৪১৩
  3. ধারা ৪১৪
  4. ধারা ৪১৫
সঠিক উত্তর:
ধারা ৪১২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ৪১২
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১২ থেকে ৪১৪ ধারায় যে সকল ক্ষেত্রে আপিল দায়ের করা যাবে না তা উল্লেখ করা হয়েছে।
- ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১২- দোষ স্বীকারের ক্ষেত্রে [In Case of Guilty Plead]:
অভিযুক্ত দোষ স্বীকার করলে এবং তার উপর ভিত্তি করে অভিযুক্তকে দণ্ড দিলে, সেই দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না। কিন্তু উক্ত দণ্ডাদেশের পরিমাণ বা যৌক্তিকতা (extent or legality) বিষয়ে আপিল দায়ের করা যাবে। যেমন দোষ স্বীকার করার পরও অধিক দণ্ড দিলে, দণ্ডের পরিমাণের (quantum of sentence) বৈধতার বিষয়ে আপিল করা যেতে পারে।
-----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section: 412. No appeal in certain cases when accused pleads guilty:
Notwithstanding anything hereinbefore contained where an accused person has pleaded guilty and has been convicted by a Court of Session or any Metropolitan Magistrate or Magistrate of the first class on such plea, there shall be no appeal except as to the extent or legality of the sentence.
২৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় অপরাধ প্রমাণের অভাবে আসামিকে মুক্তি দেওয়ার বিধান রয়েছে?
  1. ১৫৮ ধারা
  2. ১৬৭ ধারা
  3. ১৬৯ ধারা
  4. ১৭২ ধারা
সঠিক উত্তর:
১৬৯ ধারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬৯ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৯-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, তদন্তে যদি পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাব থাকে, তাহলে পুলিশ: আসামিকে মুক্তি দিতে পারবে (যদি সে হেফাজতে থাকে), মুচলেকা (Bond) নিয়ে তাকে ছেড়ে দিতে পারবে, প্রয়োজনে পরবর্তীতে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির হওয়ার শর্ত আরোপ করতে পারবে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৯ ধারা অনুসারে-
- তদন্তের পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা তদন্তকারী পুলিশ অফিসারের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, আসামিকে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণের মতো পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ নাই তাহলে আসামি হেফাজতে থাকলে একটি মুচলেকা সম্পাদনের পর উক্ত কর্মকর্তা তাকে মুক্তি দিবেন।
- সেই মোতাবেক উক্ত কর্মকর্তা নির্দেশ দিবেন যে, কখনো প্রয়োজন হলে তার বিচারের জন্য বা তাকে বিচারে সোপর্দ করার জন্য অপরাধটি আমলে নিতে ক্ষমতাসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হাজির হতে হবে।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898,- Section:-169: Release of accused when evidence deficient:
- If, upon an investigation under this Chapter, it appears to the officer in charge of the police station or to the police officer making the investigation that there is not sufficient evidence or reasonable ground of suspicion to justify the forwarding of the accused to a Magistrate,
- such officer shall, if such person is in custody, release him on his executing a bond, with or without sureties, as such officer may direct, to appear, if and when so required, before a Magistrate empowered to take cognizance of the offense on a police-report and to try the accused or send him for trial.
২৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৬৩ ধারা কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. সাক্ষ্য গ্রহণ
  2. মামলার তদন্ত
  3. গ্রেফতারের পদ্ধতি
  4. গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির অব্যাহতি
সঠিক উত্তর:
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির অব্যাহতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির অব্যাহতি
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৬৩ ধারা অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে কেবল নিজের মুচলেকা, জামিন, বা ম্যাজিস্ট্রেটের বিশেষ আদেশে অব্যাহতি দেওয়া যায়।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৬৩: গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির অব্যাহতি:-
যে ব্যক্তি কোন পুলিশ অফিসার কর্তৃক গ্রেফতার হয়েছে, তাকে তার নিজের মুচলেকা, অথবা জামিন, অথবা কোন ম্যাজিস্ট্রেটের বিশেষ আদেশ ব্যতীত অব্যাহতি দেয়া যাবে না।
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 63: Discharge of person apprehended-
No person who has been arrested by a police-officer shall be discharged except on his own bond, or on bail, or under the special order of a Magistrate.
২৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় সামরিক বাহিনীর সহায়তায় সমাবেশ ছত্রভঙ্গের বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ১২৮
  2. ধারা ১২৯
  3. ধারা ১৩০
  4. ধারা ১৩১
সঠিক উত্তর:
ধারা ১২৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ১২৯
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১২৯-এ বলা হয়েছে, যখন কোন বেআইনি সমাবেশ অন্য কোনো পদ্ধতিতে ছত্রভঙ্গ করা সম্ভব না হয় এবং জনসুরক্ষার জন্য তা ছত্রভঙ্গ করা প্রয়োজন, তখন সর্বোচ্চ পদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অথবা মহানগর এলাকায় পুলিশ কমিশনার সামরিক বাহিনীর সাহায্যে সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করাতে পারেন। অর্থাৎ, এই ধারা সামরিক বাহিনীর সহায়তায় বেআইনি সমাবেশ ভাঙার ক্ষমতা সরবরাহ করে।
- এ কারণেই সামরিক বাহিনীর সহায়তায় সমাবেশ ছত্রভঙ্গের বিধান ধারা ১২৯-এ রয়েছে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৯ ধারায় দেয়া আছে:
কোন বেআইনি সমাবেশ যদি অন্য কোনোভাবে ছত্রভঙ্গ করা না যায় এবং জন নিরাপত্তার জন্য যদি উহা ছত্রভঙ্গ করা দরকার মর্মে গণ্য হয়, সেক্ষেত্রে উপস্থিত সর্বোচ্চ পদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অথবা মহানগরী এলাকা হলে, সেখানকার পুলিশ কমিশনার সামরিক শক্তির মাধ্যমে উহা ছত্রভঙ্গ করাতে পারবেন।
--------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898: Section 129- Use of military force:
If any such assembly cannot be otherwise dispersed. and if it is necessary for the public security that it should be dispersed, the Executive Magistrate of the highest rank who is present or the Police Commissioner in a Metropolitan Area may cause it to be dispersed by military force.

২৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২১ অনুযায়ী, আপিল আদালত কখন আপিল সংক্ষিপ্তভাবে (summary) খারিজ করতে পারে?
  1. যখন রাষ্ট্রপক্ষ আপিলের বিরোধিতা করে
  2. যখন হস্তক্ষেপের মতো পর্যাপ্ত কারণ না থাকে
  3. যখন আপিলকারী আদালতে অনুপস্থিত থাকে
  4. যখন আপিল দায়েরের সময়সীমা অতিক্রান্ত হয়
সঠিক উত্তর:
যখন হস্তক্ষেপের মতো পর্যাপ্ত কারণ না থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যখন হস্তক্ষেপের মতো পর্যাপ্ত কারণ না থাকে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২১ অনুযায়ী, যদি আপিল আদালত মনে করে যে আপিলে হস্তক্ষেপ করার মতো পর্যাপ্ত কারণ নেই, তবে সে আপিল সংক্ষিপ্তভাবে (summarily) খারিজ করতে পারে। তবে, ধারা ৪১৯ এর অধীনে দাখিলকৃত আপিলে আপিলকারী বা তার উকিলকে শুনানির যৌক্তিক সুযোগ না দিয়ে খারিজ করা যাবে না।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২১ ধারামতে আপিল সংক্ষিপ্তভাবে খারিজ (Summary dismissal of appeal)-
(১) ধারা-৪১৯ বা ৪২০ এর আওতায় দরখাস্ত ও নকল পাওয়ার পর আপিল আদালত উহা পড়বেন, এবং যদি ইহা বিবেচনা করেন যে, হস্তক্ষেপ করার মত পর্যাপ্ত কারণ নেই, সেক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে আপিল খারিজ করতে পারবেন।
শর্ত থাকে যে, ধারা-৪১৯ এর আওতায় দাখিলকৃত আপিলের ক্ষেত্রে আপিলকারী বা তার উকিলকে বক্তব্য পেশ করার যৌক্তিক সুযোগ না দিয়ে আপিল খারিজ করা যাবে না।
(২) এই ধারার আওতায় আপিল খারিজ করার পূর্বে আদালত মামলার নথি তলব করতে পারবেন, কিন্তু আদালত এরূপ তলব করতে বাধ্য হবেন না।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-421: Summary dismissal of appeal:
(1) On receiving the petition and copy under section 419 or section 420, the Appellate Court shall pursue the same, and, if it considers that there is no sufficient ground for interfering, it may dismiss the appeal summarily:
-Provided that no appeal presented under section 419 shall be dismissed unless the appellant or his pleader has had a reasonable opportunity of being heard in support of the same.
(2) Before dismissing an appeal under this section, the Court may call for the record of the case, but shall not be bound to do so.
২৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৬(২) ধারা অনুযায়ী, ডাক বা টেলিগ্রাফ কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো দলিল, পার্সেল বা অন্য কোনো বস্তুর তল্লাশির জন্য পরোয়ানা জারি করার ক্ষমতা কার রয়েছে?
  1. জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের
  2. চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের
  3. চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের
  4. উল্লিখিত সকলের
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সকলের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সকলের
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৬(২) ধারা অনুযায়ী, ডাক বা টেলিগ্রাফ কর্তৃপক্ষের হেফাজতে থাকা কোনো দলিল, পার্সেল বা বস্তু তল্লাশির পরোয়ানা কেবল জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইস্যু করতে পারেন।

⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৬ ধারার বিধান (১) যখন কোন আদালতের বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, যে ব্যক্তির উপর ৯৪ ধারার অধীন কোন সমন অথবা আদেশ অথবা ৯৫ ধারার (১) উপ- ধারার অধীন কোন সমন জারি করা হয়েছে বা হতে পারে, সেই ব্যক্তি সমন বা রিকুইজশনে বর্ণিত দলিল বা বস্তু দাখিল করবে না।
অথবা যখন এরূপ দলিল বা বস্তু কোন ব্যক্তির দখলে আছে বলে আদালতের জানা নাই।
অথবা যখন আদালত মনে করে যে, সাধারণ তল্লাশি বা পরিদর্শন দ্বারা এই কার্যবিধির অধীন পরিচালিত কোন অনুসন্ধান, বিচার বা অন্য কোন প্রসিডিং এর উদ্দেশ্য সাধিত হবে:
তখন ইহা তল্লাশি পরোয়ানা ইস্যু করতে পারবে, এবং যে ব্যক্তির উপর এই পরোয়ানা নির্দেশিত হবে তিনি পরোয়ানা ও অতঃপর বর্ণিত বিধান অনুসারে তল্লাশি বা পরিদর্শন করতে পারবেন।
(২) এই ধারায় বিধৃত কোন কিছু জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ক্ষেত্রবিশেষে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ব্যতীত অপর কোন ম্যাজিস্ট্রেটকে ডাক বা তার কর্তৃপক্ষ নিরাপদ রক্ষণে স্থিত কোন দলিল, পারসেল বা অন্য কোন বস্তু সম্বন্ধে তল্লাশি করার পরোয়ানা মঞ্জুর করবার কর্তৃত্ব দিবেন না।
--------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898-Section-96: When search-warrant may be issued:
-(1) Where any Court has reason to believe that a person to whom a summons or order under section 94 or a requisition under section 95, sub-section (1), has been or might be addressed, will not or would not produce the document or thing as required by such summons or requisition, 
or where such document or thing is not known to the Court to be in the possession of any person, 
or where the Court considers that the purposes of any inquiry, trial or other proceeding under this Code will be served by a general search or inspection, 
it may issue a search-warrant; and the person to whom such warrant is directed, may search or inspect in accordance therewith and the provisions hereinafter contained.
(2) Nothing herein contained shall authorize any Magistrate other than a District Magistrate, Chief Judicial Magistrate, as the case may be or Chief Metropolitan Magistrate to grant a warrant to search for a document, parcel or other thing in the custody of the Postal or Telegraph authorities.
২৯.
হাইকোর্ট বিভাগ-এর Inherent power বা সহজাত ক্ষমতা সংরক্ষণের বিধান ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় আছে? 
  1. ৫৬১
  2. ৫৬১ক
  3. ৫৬৫
  4. ৫৬ক
সঠিক উত্তর:
৫৬১ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫৬১ক
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ক ধারা বিশেষভাবে হাইকোর্ট বিভাগ-এর সহজাত (inherent) ক্ষমতা সংরক্ষণ করে। এই ধারা অনুযায়ী, হাইকোর্ট বিভাগ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, আদালতের আদেশ কার্যকর করা এবং আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার রোধ করার জন্য প্রযোজনীয় আদেশ দিতে পারে। এটি অন্যান্য আদালতের জন্য প্রযোজ্য নয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ক ধারামতে, ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ ৩টি ক্ষেত্রে সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যথা-
i) ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে প্রদত্ত কোন আদেশ কার্যকর করা;
ii) কোন আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার রোধ করা; এবং
iii) ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
--------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-561A: Saving of inherent power of High Court Division:
Nothing in this Code shall be deemed to limit or affect the inherent power of the High Court Division to make such orders as may be necessary to give effect to any order under this Code, or to prevent abuse of the process of any Court or otherwise to secure the ends of justice.

৩০.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত বলে যে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়, তাকে কী বলা হয়?
  1. চার্জশিট
  2. চূড়ান্ত প্রতিবেদন
  3. মিসকেস প্রতিবেদন
  4. খারিজ প্রতিবেদন
সঠিক উত্তর:
চার্জশিট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার্জশিট
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, পুলিশ তদন্ত শেষে যদি দেখে যে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য এবং প্রমাণিত, তাহলে তারা আদালতে অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিল করে। চার্জশিটের মাধ্যমে আদালতকে জানানো হয় যে, অপরাধ সংঘটিত হয়েছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে।

⇒ পুলিশ রিপোর্ট বা প্রতিবেদন: পুলিশ অফিসার বা মামলার তদন্তকারী অফিসার মামলার তদন্ত শেষে আদালতের নিকট যে প্রতিবেদন পেশ করে, তাকেই পুলিশ রিপোর্ট বলে।
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩ এ পুলিশ রিপোর্ট সম্পর্কে বিধান রয়েছে।
- সাধারণত পুলিশ রিপোর্ট ২ প্রকার-
ক) Charge Sheet ( অভিযোগ পত্র): প্রাথমিক তদন্ত শেষে সত্যতা/প্রমাণ খুঁজে পাওয়া গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে যে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়, তাকেই Charge Sheet বলে এবং ম্যাজিস্ট্রেট এর ভিত্তিতে মামলায় অগ্রসর হন।
খ) Final Report (চূড়ান্ত প্রতিবেদন): প্রাথমিক তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা/প্রমাণ খুঁজে পাওয়া না গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে যে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়, তাকেই Final Report বলে এবং এর উপর ভিত্তি করে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি [Discharge] দেন।
৩১.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৫ অনুযায়ী কে অতিরিক্ত অনুসন্ধান বা সাক্ষ্য গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারে?
  1. হাইকোর্ট বিভাগ
  2. দায়রা আদালত
  3. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  4. থানা ইনচার্জ
সঠিক উত্তর:
হাইকোর্ট বিভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইকোর্ট বিভাগ
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৫ অনুযায়ী, হাইকোর্ট বিভাগই অতিরিক্ত অনুসন্ধান বা সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারে অথবা দায়রা আদালতকে তা করার নির্দেশ দিতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা ৩৭৫- অধিকতর অনুসন্ধান ও অতিরিক্ত সাক্ষ্য নেয়ার ক্ষমতা:
হাইকোর্টে কার্যক্রম পেশ হওয়ার পর হাইকোর্ট বিভাগ যদি মনে করেন যে, দণ্ডিত ব্যক্তির দোষ বা নির্দোষিতা সম্পর্কিত বিষয় সম্বন্ধে আরও অনুসন্ধান করা বা অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করা উচিত তাহলে নিজে অনুসন্ধান বা সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারেন, অথবা দায়রা আদালত কর্তৃক অনুসন্ধানের বা সাক্ষ্য গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারেন।
- হাইকোর্ট বিভাগ ভিন্নরূপ নির্দেশ না দিলে উক্ত অনুসন্ধান বা সাক্ষ্য গ্রহণকালে দণ্ডিত ব্যক্তির উপস্থিতি মওকুফ করা যাবে।
 -------------- 
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 375: Power to direct further inquiry to be made or additional evidence to be taken:
(1) If when such proceedings, are submitted the High Court Division thinks that a further inquiry should be made into, or additional evidence taken upon, any point bearing upon the guilt or innocence of the convicted person, it may make such inquiry or take such evidence itself, or direct it to be made or taken by the Court of Session. 
(2) Unless the High Court Division otherwise directs, the presence of the convicted person may be dispensed with when such inquiry is made or such evidence is taken.
(3) When the inquiry and the evidence (if any) are not made and taken by the High Court Division, the result of such inquiry and the evidence shall be certified to such Court.

৩২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৩৮ অনুযায়ী কে অপরাধের সহযোগীকে ক্ষমা প্রদান করতে পারে?
  1. চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
  2. চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  3. দায়রা আদালত
  4. 'ক' বা 'খ' অথবা 'গ'
সঠিক উত্তর:
'ক' বা 'খ' অথবা 'গ'
উত্তর
সঠিক উত্তর:
'ক' বা 'খ' অথবা 'গ'
ব্যাখ্যা
⇒  ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৩৮ (Section 338 of the Code of Criminal Procedure, 1898) অনুযায়ী, দায়রা আদালত, অথবা তার নির্দেশে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, বিচারাধীন মামলায় অপরাধের সহযোগীকে ক্ষমা প্রদান করতে পারে, যদি তারা মনে করে যে তার সাক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে এবং এটি রায় ঘোষণার পূর্বে যেকোনো সময় করা যেতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৮ ধারায়-
-যে দায়রা আদালত মামলার বিচার করছে সেই দায়রা আদালত অপরাধের সহযোগীকে ক্ষমা করতে পারে বা ক্ষমা করার নির্দেশ দিতে পারে; বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধের সহযোগীকে ক্ষমা করতে পারে । এই ধারা অনুসারে অপরাধের সহযোগীকে ক্ষমা করতে পারে রায় প্রদানের পূর্বে যেকোন সময়।
--------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898- Section: 338. Power to direct tender of pardon:
-At any time before the judgment is passed, the Court of Session trying the case may, with the view of obtaining on the trial the evidence of any person supposed to have been directly or indirectly concerned in or privy to, any such offence, tender, or order or the Chief Metropolitan Magistrate or the Chief Judicial Magistrate to tender, a pardon on the same condition to such person.
৩৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৭ অনুযায়ী, পুলিশ হেফাজতে সর্বোচ্চ কত দিন আসামিকে রাখা যেতে পারে?
  1. ৭ দিন
  2. ১০ দিন
  3. ১৫ দিন
  4. ৩০ দিন
সঠিক উত্তর:
১৫ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৭(২) অনুযায়ী, যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত শেষ করা সম্ভব না হয়, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে সময় সময় হেফাজতে রাখার আদেশ দিতে পারেন, তবে পুলিশ হেফাজতের মেয়াদ সর্বমোট ১৫ দিনের বেশি হতে পারবে না
অর্থাৎ, যেকোনো পরিস্থিতিতে পুলিশ হেফাজতে রাখা যাবে সর্বোচ্চ ১৫ দিন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮–এর ধারা ১৬৭(২) অনুযায়ী কোনো আসামিকে পুলিশ হেফাজতে সর্বমোট ১৫ দিনের বেশি রাখা যাবে না।
- এই ১৫ দিন একবারে নাও হতে পারে; তা ভেঙে ভেঙে দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু সব মিলিয়ে ১৫ দিনের সীমা অতিক্রম করা যাবে না।
- ১৫ দিনের পর যদি আরও আটক রাখার প্রয়োজন হয়, তখন পুলিশ হেফাজত নয়, বিচারিক হেফাজত (জেল কাস্টডি) দেওয়া হবে।

৩৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারা অনুযায়ী পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর (UD Case) তদন্ত শুরু করে?
  1. ধারা ১২২
  2. ধারা ১৬৪
  3. ধারা ১৭৪
  4. ধারা ১৯০
সঠিক উত্তর:
ধারা ১৭৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ১৭৪
ব্যাখ্যা
UD Case:
প্রাকৃতিক নিয়মের বাহিরে (যেমন আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা, খুন ইত্যাদি, অথবা এইরূপ পরিস্থিতিতে) মারা গেছে যার ফলে যুক্তিসংগতভাবে সন্দেহ হতে পারে যে অপর কোন ব্যক্তি মৃত্যু ঘটিয়েছে, এ রকম কোন মৃত্যুর জন্য থানায় যে মামলা রুজু করা হয় তাকে অপমৃত্যু মামলা বা Unnatural Death Case বলে।
পুলিশ কর্মকর্তা B.P. Form No. 48-এ তথ্যটি রেকর্ড করেন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির, ১৮৯৮ এর ১৭৪ ধারা এবং পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গল, ১৯৪৩ এর ২৯৯ বিধি অনুযায়ী অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা (UD Case) শুরু করেন।

ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৪ অনুযায়ী, যখন কোনো পুলিশ অফিসার জানতে পারে যে কোনো ব্যক্তি অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে মারা গেছে — যেমন আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা, খুন বা অন্য কোনো সন্দেহজনক মৃত্যু — তখন তাকে অবিলম্বে তদন্ত শুরু করতে হয়।

ফৌজদারি কার্যবিধির, ১৮৯৮ এর ধারা ১৭৪: আত্মহত্যা ইত্যাদি সম্পর্কে পুলিশ কর্তৃক তদন্ত ও প্রতিবেদন:
১. যদি পুলিশ স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো পুলিশ অফিসার জানতে পারেন যে কোনো ব্যক্তি-
(ক) আত্মহত্যা করেছে, অথবা
(খ) অপর কোনো ব্যক্তি, পশু, যন্ত্রপাতি বা দুর্ঘটনার মাধ্যমে নিহত হয়েছে, অথবা
(গ) এমন পরিস্থিতিতে মারা গেছে যা থেকে সন্দেহ হয় যে কেউ অপরাধ করেছে,
তাহলে তিনি অবিলম্বে নিকটবর্তী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করবেন, যিনি ইনকোয়েস্ট (মৃতদেহ পরীক্ষার তদন্ত) পরিচালনায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত।
২. এরপর, যদি সরকারের কোনো নির্দেশ বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কোনো সাধারণ/বিশেষ আদেশ না থাকে, তাহলে তিনি ঘটনাস্থলে যাবেন এবং এলাকার অন্তত দুইজন গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে তদন্ত করবেন এবং মৃত্যুর কারণ সম্পর্কিত একটি রিপোর্ট তৈরি করবেন। রিপোর্টে শরীরে থাকা আঘাত, ক্ষত বা অন্য কোনো চিহ্নের বর্ণনা এবং এগুলো কীভাবে বা কী অস্ত্র দ্বারা সৃষ্ট হয়েছে তা উল্লেখ করা হবে।
বিশেষ নির্দেশ: যদি মৃত্যুর কারণ শত্রুপক্ষের আক্রমণ হয়, তাহলে সরকারের নির্দেশ ছাড়া এই ধরনের তদন্ত ও প্রতিবেদন বাধ্যতামূলক নয়।
৩. প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসার এবং অন্যান্য সাক্ষীদের দ্বারা স্বাক্ষরিত হবে (যারা একমত), এবং তা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট পাঠানো হবে।
৪. যদি মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে সন্দেহ থাকে, বা পুলিশ অফিসার মনে করেন যে ময়নাতদন্ত প্রয়োজন, তবে তিনি নিকটস্থ সিভিল সার্জন বা সরকার কর্তৃক নিযুক্ত যোগ্য চিকিৎসকের কাছে মৃতদেহ পাঠাবেন, যদি আবহাওয়া ও দূরত্বজনিত কারণে মৃতদেহ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে।
৫. ইনকোয়েস্ট করার ক্ষমতা রাখেন:
- জেলা ম্যাজিস্ট্রেট;
- বা সরকার/জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
৩৫.
ক্রোককৃত সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ৮৯ ধারায় উল্লিখিত সময়সীমা কত দিন?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৬ বছর
সঠিক উত্তর:
২ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ ক্রোককৃত সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের সময়সীমা- ৮৯ ধারামতে যার সম্পত্তি ক্রোক হয়েছে সেই ব্যক্তি ক্রোকের তারিখ থেকে ২ বৎসরের মধ্যে ক্রোককৃত সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের আবেদন করতে পারে।
- পলাতক ব্যক্তি হুলিয়াতে নির্দেশিত সময়ের মধ্যে হাজির হলে অথবা সম্পত্তি ক্রোকের দিন থেকে ২ বছরের মধ্যে হাজির হয়ে যদি আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারে যে,
ⅰ) পলাতক ব্যক্তি হুলিয়া বিষয়ে অবগত ছিল না অথবা
ii) সে হুলিয়া এড়ানোর জন্য আত্মগোপনে বা পলাতক ছিল না;
তাহলে আদালত ক্রোককৃত সম্পত্তির বিক্রয়লব্ধ অর্থ থেকে ক্রোক ব্যয় বাদ দিয়ে অবশিষ্ট অর্থ ক্রোককৃত সম্পত্তির মালিককে প্রদানের আদেশ দিতে পারেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৮৯ ধারার বিধান- ক্রোককৃত সম্পত্তি পুনরুদ্ধার :
- যার সম্পত্তি ৮৮ ধারার (৭) উপধারা অনুসারে সরকারের এখতিয়ারভুক্ত রয়েছে বা হয়েছে, সে যদি ক্রোক করার তারিখ থেকে ২ (দুই) বৎসরের মধ্যে যে আদালতের আদেশে সম্পত্তি ক্রোক করা হয়েছিল সেই আদালতের বা সেই আদালত যে আদালতের আওতাধীন সেই আদালতে ইচ্ছাকৃতভাবে হাজির হয় বা তাকে গ্রেফতার করে হাজির করানো হয় এবং এ মর্মে প্রমাণ দ্বারা সে উক্ত আদালতের সন্তুষ্টি উৎপাদনপূর্বক প্রমাণ করে যে, সে পলাতক (ফেরার) ছিল না বা পরোয়ানার নির্বাহ এড়াবার জন্য সে পলায়ন করেনি এবং তিনি হুলিয়া হতে এরূপ জ্ঞানার্জন করেনি যাতে তিনি উহাতে উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে হাজিরা দিতে পারেন, তাহলে ক্রোক সম্পর্কিত সমস্ত খরচ কেটে নিয়ে উক্ত সম্পত্তি বা তা বিক্রয় করা হয়ে থাকলে নিট মূল্য অথবা আংশিকভাবে বিক্রয় করা হয়ে থাকলে নিট মূল্য ও আংশিক সম্পত্তি তাকে অর্পণ করতে হবে।
-----------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section 89: Restoration of attached property:
If, within two years from the date of the attachment any person whose property is or has been at the disposal of the Government, under sub-section (7) of section 88, appears voluntarily or is apprehended and brought before the Court by whose order the property was attached, or the Court to which such Court is subordinate, and proves to the satisfaction of such Court that he did not abscond or conceal himself for the purpose of avoiding execution of the warrant and that he had not such notice of the proclamation as to enable him to attend within the time specified therein, such property, or, if the same has been sold, the net proceeds of the sale, or, if part only thereof has been sold, the net proceeds of the sale and the residue of the property, shall, after satisfying there out all costs incurred in consequence of the attachment, be delivered to him.
৩৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় দায়রা আদালতে আপিল শুনানীর পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে?
  1. ধারা ৪১০
  2. ধারা ৪০৯
  3. ধারা ৪০৮
  4. ধারা ৪০৭
সঠিক উত্তর:
ধারা ৪০৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ৪০৯
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪০৯-এ দায়রা আদালতে আপিল শুনানীর পদ্ধতি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ধারা অনুসারে:
- দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ আপিল শুনানি করবেন
- অতিরিক্ত দায়রা জজ শুধুমাত্র সরকার বা দায়রা জজ কর্তৃক নির্দেশিত আপিলই শুনানি করতে পারবেন

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪০৯- দায়রা আদালতে আপিলের শুনানীর পদ্ধতি:-
দায়রা আদালতে বা দায়রা জজ বরাবর দাখিলকৃত আপিল দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ শ্রবণ করবেন।
শর্ত থাকে যে, অতিরিক্ত দায়রা জজ সেই আপিলই শ্রবণ করবেন, যেগুলোর বিষয়ে সরকার সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা নির্দেশ প্রদান করবেন বা দায়রা জজ যেগুলো তাঁর বরাবর অর্পণ করেন।
-----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section 409- Appeals to Court of Session how heard:
An appeal to the Court of Session or Sessions Judge shall be heard by the Sessions Judge or by an Additional Sessions Judge:
Provided that an Additional Sessions Judge shall hear only such appeals as the Government may by general or special order, direct or as the Sessions Judge of the Division may make over to him.
৩৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৬ক অনুসারে আসামির আত্মীয়কে কত সময়ের মধ্যে গ্রেফতারের তথ্য দিতে হবে?
  1. ৬ ঘণ্টা
  2. ১২ ঘণ্টা
  3. ২৪ ঘণ্টা
  4. ৪৮ ঘণ্টা
সঠিক উত্তর:
১২ ঘণ্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা

ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৬ক অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির আত্মীয়, আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুকে গ্রেফতারের তথ্য ১২ ঘণ্টার মধ্যে জানানোর নির্দেশনা রয়েছে।

ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৬ক (ঘ) অনুসারে, যদি আসামিকে তার বাসস্থান ব্যতীত অন্য কোনো স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়, তবে গ্রেপ্তারকারী পুলিশ কর্মকর্তাকে অবশ্যই গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির মনোনীত পরিবারের সদস্য, আত্মীয় বা বন্ধুকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, তবে গ্রেপ্তারের সময় থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের সময়, স্থান এবং হেফাজতের স্থান সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।

ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৬ক: গ্রেফতারের পদ্ধতি এবং গ্রেফতারকারী অফিসারের কর্তব্য:
গ্রেফতার করার সময়, পুলিশ অফিসার বা অন্য যে ব্যক্তি গ্রেফতার করে, তাকে নিম্নলিখিত কাজগুলো করতে হবে—
১. (ক) তার নাম স্পষ্ট, পরিচিতিযোগ্য এবং সহজে বোঝার মতোভাবে ধারণ করতে হবে, যাতে পরিচয় সহজ হয়।
২. (খ) নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে হবে এবং চাহিদা হলে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে এবং গ্রেফতারের সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের তার পরিচয়পত্র দেখাতে হবে।
৩. (গ) গ্রেফতারের একটি স্মারকলিপি তৈরি করতে হবে, যা—
(i) অন্তত একজন সাক্ষীর সাক্ষরিত থাকবে; ওই সাক্ষী গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য অথবা সংশ্লিষ্ট এলাকার সম্মানিত নাগরিক হতে হবে। যদি এমন কেউ না থাকে, তবে তার কারণ স্মারকলিপিতে উল্লেখ করতে হবে।
(ii) গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর বা অঙ্গুলিমুদ্রা থাকবে, যদি সে প্রত্যাখ্যান না করে।
৪. (ঘ) যদি গ্রেফতার স্থান তার বাসার বাইরে হয়, তবে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির পরিবার, আত্মীয় বা তার নিজ নির্বাচিত বন্ধুকে যত দ্রুত সম্ভব কিন্তু গ্রেফতারের ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের সময়, স্থান এবং হেফাজতের জায়গার খবর দিতে হবে।
৫. (ঙ) যদি গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়, তবে তাকে মেডিকেল অফিসার বা নিবন্ধিত চিকিৎসকের কাছে পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা করাতে হবে, মেডিকেল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হবে এবং আঘাতের কারণ স্মারকলিপিতে উল্লেখ করতে হবে।
৬. (চ) গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি চাইলে, গ্রেফতারের ১২ ঘণ্টার মধ্যে নিজের পছন্দের আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করার অথবা পরিবারের কাছাকাছি কারো সাথে দেখা করার সুযোগ দিতে হবে।

৩৮.
ফৌজদারি কার্যবিধি কোন ধরনের আইন?
  1. Substantive Law
  2. Procedural Law
  3. Administrative Law
  4. Constitutional Law
সঠিক উত্তর:
Procedural Law
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Procedural Law
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি (Code of Criminal Procedure, 1898) একটি পদ্ধতিগত আইন (Procedural Law বা Adjective Law)। এর কাজ হলো  অপরাধ সংঘটনের পর কীভাবে বিচার হবে, কীভাবে গ্রেফতার, তদন্ত, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, বিচার, রায় ও আপিল হবে এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি নির্ধারণ করে দেওয়া।

- যে আইনে কোনো মামলা কীভাবে চলবে, তা ধাপে ধাপে বলা থাকে— যেমন মামলা দায়ের, তদন্ত, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, বিচার, রায়, আপিল ইত্যাদি। অর্থাৎ, একটি মামলা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কীভাবে বিচার হবে, সেই পদ্ধতি বা নিয়ম যেসব আইনে উল্লেখ থাকে, সেগুলোকে বলা হয় পদ্ধতিগত আইন।
উদাহরণস্বরূপ: ফৌজদারি কার্যবিধি, দেওয়ানী কার্যবিধি ও তামাদি আইন।

- অন্যদিকে, মৌলিক বা তত্ত্বগত আইন (Substantive Law) হচ্ছে সেই আইন, যেটা কোনো অধিকার তৈরি করে বা কোনো কাজকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে এবং তার শাস্তি নির্ধারণ করে।
যেমন: দণ্ডবিধিতে বলা আছে কোন কাজ করলে সেটা অপরাধ, এবং সেই অপরাধের শাস্তি কত হতে পারে। তবে দণ্ডবিধিতে বিচার করার নিয়ম বা প্রক্রিয়া বলা নেই।
সেই প্রক্রিয়া ফৌজদারি কার্যবিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই দণ্ডবিধি হলো একটি মৌলিক আইন, আর ফৌজদারি কার্যবিধি হলো একটি পদ্ধতিগত আইন।
৩৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় আপিল ও রিভিশন নিষ্পত্তির সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. ধারা ৪৪২
  2. ধারা ৪৪২ক
  3. ধারা ৪৪৩
  4. ধারা ৪৪৪
সঠিক উত্তর:
ধারা ৪৪২ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ৪৪২ক
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৪২ক ধারার বিধান:- আপিল ও রিভিশন নিষ্পত্তির সময়:
(১) কোন আপিল আদালত ইহার নিকট দায়েরকৃত আপিল রেসপন্ডেন্টের উপর নোটিশ জারি হওয়ার তারিখ হতে ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করবেন।
(২) রিভিশনের ক্ষমতা সম্পন্ন আদালত পক্ষগণের উপর নোটিশ জারি হওয়ার তারিখ হতে ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে রিভিশনের কার্যক্রম নিষ্পত্তি করবেন।
(৩) এই ধারায় সময় নির্ধারণের জন্য কেবল কার্যদিবস গণনা করতে হবে।
---------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 442A- Time for disposal of appeals and Revision: 
(1) An Appellate Court shall dispose of an appeal filed before it within ninety days from the date of service of notice upon respondents.
(2) A Court having power of revision shall dispose of a proceeding in revision within ninety days from the date of service of notice upon the parties.
(3) In this section, in determining the time, only the working days shall be counted.
৪০.
BLAST বনাম বাংলাদেশ (55 DLR 363) মামলায় কোন আইনের অধীনে পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়টি আলোচনা করা হয়?
  1. ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা ৫৪ ও ১৬৭
  2. ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা ১৯০ ও ২১০
  3. ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা ১০০ ও ১২৫
  4. ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা ২২৫ ও ২৩০
সঠিক উত্তর:
ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা ৫৪ ও ১৬৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা ৫৪ ও ১৬৭
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা এবং ১৬৭ ধারার অধীনে পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার সম্পর্কে BLAST VS Bangladesh (55 DLR 363) মামলা বহুল পরিচিত। এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিস্তারিত আলোচনা নিম্নরূপ:

পটভূমি:
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (BLAST) নামক একটি এনজিও কর্তৃক ১৯৯৬ সালে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। এতে অভিযোগ করা হয় যে, পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান অনুসরণ করছে না।

মামলার বিষয়বস্তু:
এই মামলায় BLAST দাবি করে যে পুলিশ অনেক সময় অভিযুক্তদের অবৈধভাবে হেফাজতে রাখে এবং নির্যাতন করে। এটি বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক অধিকার (নিরাপত্তা প্রাপ্তির অধিকার) এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করে।

আদালতের রায়:
হাইকোর্ট বিভাগ ২০০৩ সালে এই মামলার রায় প্রদান করে। হাইকোর্ট বিভাগ মোট ১৫টি নির্দেশনা দিয়েছে এবং ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন করার সুপারিশ করেছেন। হাইকোর্ট বিভাগের ১৫টি নির্দেশনার মধ্যে প্রথম ৮টি নির্দেশনা ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারার অধীনে পুলিশের বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের ক্ষমতা সংক্রান্ত। রায়ে বলা হয়, নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া যাবে। তবে সে ক্ষেত্রে হেফাজতে থাকার সময় ও কারণ লিখিতভাবে রেকর্ড করতে হবে। অভিযুক্তর উপস্থিতিতেই এটি করতে হবে। পরবর্তীতে অভিযুক্তকে কাছাকাছি ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হাজির করতে হবে।
৪১.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় দ্রুত ক্ষয়শীল চোরাই মাল বিক্রির বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ৫২৩
  2. ধারা ৫২৪
  3. ধারা ৫২৫
  4. ধারা ৫২৬
সঠিক উত্তর:
ধারা ৫২৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ৫২৫
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫২৫-এ দ্রুত ক্ষয়শীল বা ধ্বংসশীল চোরাই মাল বিক্রির বিধান রয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, যদি মালিক অনুপস্থিত বা অপরিচিত থাকে এবং মাল দ্রুত ক্ষয়শীল হয় অথবা মাল বিক্রি করলে মালিকের জন্য কল্যাণকর হয়, ম্যাজিস্ট্রেট যে কোনো সময় সেই মাল বিক্রির আদেশ দিতে পারেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২৫ ধারা অনুযায়ী- আটককৃত চোরাই মাল দ্রুত ধ্বংসশীল বা ক্ষয়শীল হলে অথবা উক্ত সম্পত্তি বিক্রয় করা মালিকের জন্য কল্যাণকর হলে অথবা উক্ত সম্পত্তির মূল্য ১০ টাকার কম হলে যে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট আটকের খবর দেয়া হয়েছে, সেই ম্যাজিস্ট্রেট যে কোন সময় উক্ত সম্পত্তি বিক্রির আদেশ দিতে পারেন।
অর্থাৎ এমন সম্পত্তি দখলের অধিকারী ব্যক্তি যদি অপরিচিত বা অনুপস্থিত থাকে এবং সম্পত্তি দ্রুত ও স্বাভাবিকভাবে ক্ষয়শীল হয়, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট যেকোন সময় তা বিক্রয়ের নির্দেশ দিতে পারেন।
-------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 525- Power to sell perishable property:
If the person entitled to the possession of such property is unknown or absent and the property is subject to speedy and natural decay, or if the Magistrate to whom its seizure is reported is of opinion that its sale would be for the benefit of the owner, or that the value of such property is less than ten taka the Magistrate may at any time direct it to be sold; and the provisions of sections 523 and 524 shall, as nearly as may be practicable, apply to the net proceeds of such sale.
৪২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৫ক অনুসারে, যেক্ষেত্রে বিচার চলাকালীন সময়ে হাজতে থাকার মেয়াদ কারাদণ্ডের মেয়াদ থেকে বেশী হয়, সেক্ষেত্রে আদালত-
  1. অর্থদণ্ড মওকুফের আদেশ দিবে
  2. ফরিয়াদিকে জরিমানার আদেশ দিবে
  3. নতুন করে কারাদণ্ড ভোগের আদেশ দিবে
  4. আসামিকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দিবে
সঠিক উত্তর:
অর্থদণ্ড মওকুফের আদেশ দিবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থদণ্ড মওকুফের আদেশ দিবে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫ক ধারায় বিচার চলাকালে আসামীর জেল হাজতে থাকা সময় কীভাবে দণ্ড থেকে বাদ যাবে তা বলা হয়েছে যা নিম্নরূপ:
- ধারা-৩৫ক (১): ফৌজদারি মামলার বিচার চলাকালীন সময়ে অর্থাৎ মামলা শুরু হওয়ার পর দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আসামি যে কয়দিন জেলহাজতে ছিল, তা কারাদণ্ডের মেয়াদ থেকে বাদ যাবে।
 তবে এই বিধানটি আসামি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলে প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ ৩৫ক ধারাটি মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
- ধারা-৩৫ক (২): যদি বিচার চলাকালীন সময়ে হাজতে থাকার মেয়াদ কারাদণ্ডের মেয়াদ থেকে বেশী হয় তাহলে আসামি পুরো কারাদণ্ড ভোগ করেছে বলে গণ্য হবে এবং জেল থেকে মুক্তি পাবে; পাশাপাশি কোন অর্থদণ্ড থাকলে সেই অর্থদণ্ড মওকুফ হয়ে যাবে।
-----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-35A: Deduction of imprisonment in cases where convicts may have been in custody:
(1) Except in the case of an offence punishable only with death, when any court finds an accused guilty of an offence and, upon conviction, sentences such accused to any term of imprisonment, simple or rigorous, it shall deduct from the sentence of imprisonment, the total period the accused may have been in custody in the meantime, in connection with that offence. 
(2) If the total period of custody prior to conviction referred to in sub-section (1) is longer than the period of imprisonment to which the accused is sentenced, the accused shall be deemed to have served out the sentence of imprisonment and shall be released at once, if in custody, unless required to be detained in connection with any other offence; and if the accused is also sentenced to pay any fine in addition to such sentence, the fine shall stand remitted.
৪৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৯০ অনুযায়ী, ম্যাজিস্ট্রেট কয়টি উপায়ে অপরাধ গ্রহণ করতে পারেন?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ২টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
→ ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট ৩টি উপায়ে অপরাধ আমলে নিতে পারেন।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৯০ এ ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অপরাধ আমলে নেয়ার বিধান উল্লেখ রয়েছে।
-কোন কোন ম্যাজিস্ট্রেট,কোন কোন ক্ষেত্রে অপরাধ আমলে নিতে পারে সেই সম্পর্কে বলা হয়েছে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০ ধারা অনুযায়ী,ম্যাজিস্ট্রেটগণ ৩টি উৎসের উপর ভিত্তি করে অপরাধ আমলে নিতে পারেন-
- অভিযোগ [ (ধারা ১৯০(১)(ক) ]
- পুলিশের লিখিত রিপোর্ট [ ধারা ১৯০(১)(খ) ]
- তথ্য,নিজস্ব জ্ঞান বা সন্দেহবশত কোনো তথ্য পেলে [ ধারা ১৯০(১)(গ) ] ।
তবে এই উৎসের উপর ভিত্তি করে ৩য় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধ আমলে নিতে পারবেন না।
-----------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-190: Cognizance of offences by Magistrates:
(1) Except as hereinafter provided, any Chief Metropolitan Magistrate, Metropolitan Magistrate, Chief Judicial Magistrate, Magistrate of the first class, and any other Magistrate specially empowered in this behalf under sub-section (2) or (3)], may take cognizance of any offence-
(a) upon receiving a complaint of facts which constitute such offence;
(b) upon a report in writing of such facts made by any police-officer;
(c) upon information received from any person other than a police-officer, or upon his own knowledge or suspicion, that such offence has been committed.
৪৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৪ ধারার বিধানসমূহ কোন ধারা অনুযায়ী অভিযুক্তের জবানবন্দি গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না?
  1. ধারা ১৬৪
  2. ধারা ২৬১
  3. ধারা ২৬৩
  4. ধারা ৩৬৫
সঠিক উত্তর:
ধারা ২৬৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ২৬৩
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৬৪-এ অভিযুক্তের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার নিয়ম বর্ণিত হলেও, এই ধারা ধারা ২৬৩ অনুযায়ী অভিযুক্তের পরীক্ষায় প্রযোজ্য হবে না।
ধারা ২৬৩ অনুযায়ী, যেখানে আপিলযোগ্য নয় এমন মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট সাক্ষীদের সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করার প্রয়োজন হয় না, সেখানে ধারা ৩৬৪-এর বিধান প্রয়োগ হয় না।
অর্থাৎ, ধারা ২৬৩-এ যা নির্ধারিত হয়েছে, সেটি ধারা ৩৬৪-এর বিধানের থেকে পৃথক এবং স্বতন্ত্র। তাই ধারা ৩৬৪-এর নিয়ম ধারা ২৬৩ অনুযায়ী অভিযুক্তের জবানবন্দি গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
 
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৬৪ অভিযুক্তের জবানবন্দি যেভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে:-
(১) যেক্ষেত্রে কোন ম্যাজিস্ট্রেট বা হাইকোর্ট ডিভিশন ব্যতীত, অন্য কোন আদালত, কোন অভিযুক্তের জবানবন্দি গ্রহণ করেন, সেক্ষেত্রে তাকে জিজ্ঞাসিত প্রত্যেকটি প্রশ্ন ও তাঁর প্রদত্ত প্রত্যেকটি জবাবসহ সমগ্র , যে ভাষায় তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে সে ভাষায় বা তা সম্ভব না হলে আদালতের ভাষায় কিংবা ইংরেজি ভাষায় পূর্ণাঙ্গরূপে লিপিবদ্ধ করতে হবে এবং উক্ত নথি তাকে দেখাতে হবে বা পড়ে শুনাতে হবে অথবা যে ভাষায় তা লেখা হয়েছে ঐ সে বুঝতে না পারলে যে ভাষায় সে বুঝে ঐ ভাষায় তা তাকে বুঝিয়ে দিতে হবে এবং সে তার জবাব ব্যাখ্যা করতে বা তাতে জবাবে নতুন কিছু যোগ করতে পারবে।
(২) সে যখন সমগ্র জবানবন্দি সত্য হিসাবে স্বীকার করে, তখন অভিযুক্ত এবং উক্ত আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট বা জজ তাতে স্বাক্ষর করবেন এবং উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট বা জজ স্বহস্তে সার্টিফাই করবেন যে, জবানবন্দি তাঁর উপস্থিতিতে ও শ্রবণের মধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে এবং নথিতে অভিযুক্তের বিবৃতির একটি পূর্ণাঙ্গ ও সত্য বিবরণ রয়েছে।
(৩) ম্যাজিস্ট্রেট বা জজ স্বয়ং অভিযুক্তের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ না করলে জবানবন্দি চলার সময় তিনি আদালতের ভাষায় বা ইংরেজির সঙ্গে পর্যাপ্তভাবে পরিচিত হলে ইংরেজি ভাষায় তার একটি স্মারক তৈরি করতে থাকবেন এবং এরূপ স্মারক ম্যাজিস্ট্রেট বা জজ কর্তৃক স্বহস্তে লিখিত ও স্বাক্ষরিত হবে এবং নথির সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেট বা জর্জ যদি উক্ত স্মারক তৈরি করতে না পারেন, সেক্ষেত্রে তিনি তাঁর এরূপ অসামর্থ্যের কারণ লিপিবদ্ধ করবেন।
(৪) এই ধারার কোন বিধান ধারা-২৬৩ অনুসারে অভিযুক্তের জবানবন্দি গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে মর্মে পরিগণিত করা যাবে না।
-----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 364. Examination of accused how recorded:
(1) Whenever the accused is examined by any Magistrate, or by any Court other than High Court Division the whole of such examination, including every question put to him and every answer given by him, shall be recorded in full, in the language in which he is examined, or, if that is not practicable, in the language of the Court or in English: and such record shall be shown or read to him, or, if he does not understand the language in which it is written, shall be interpreted to him in a language which he understands, and he shall be at liberty to explain or add to his answers.
(2) When the whole is made conformable to what he declares is the truth, the record shall be signed by the accused and the Magistrate or Judge of such Court, and such Magistrate or Judge shall certify under his own hand that the examination was taken in his presence and hearing and that the record contains a full and true account of the statement made by the accused.
(3) In cases in which the examination of the accused is not recorded by the Magistrate or Judge himself, he shall be bound, as the examination proceeds, to make a memorandum thereof in the language of the Court, or in English, if he is sufficiently acquainted with the latter language; and such memorandum shall be written and signed by the Magistrate or Judge with his own hand, and shall be annexed to the record. If the Magistrate or Judge is unable to make a memorandum as above required, he shall record the reason of such inability.
(4) Nothing in this section shall be deemed to apply to the examination of an accused person under section 263.
৪৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে শান্তি রক্ষার জন্য মুচলেকার আদেশের সর্বোচ্চ মেয়াদ কত হতে পারে?
  1. ছয় মাস
  2. এক বছর
  3. দুই বছর
  4. তিন বছর
সঠিক উত্তর:
তিন বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন বছর
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির বিভিন্ন ধারায় মুচলেকার মেয়াদ ভিন্ন হলেও, শান্তি রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ মুচলেকার মেয়াদ তিন বছর পর্যন্ত হতে পারে। যেমন, ধারা ১০৬ ও ধারা ১১০ অনুযায়ী দণ্ডপ্রাপ্ত বা অভ্যাসগত অপরাধীদের ক্ষেত্রে মুচলেকার মেয়াদ অনধিক তিন বছর ধার্য করা হয়েছে। অন্য ধারাগুলোর মুচলেকার মেয়াদ সাধারণত এক বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। তাই সামগ্রিকভাবে শান্তি রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ মেয়াদ তিন বছর।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির মুচলেকার মেয়াদ:
→ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৬ দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির শান্তি রক্ষা মুচলেকার মেয়াদ অনধিক ৩ বছর।
→ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৭ দণ্ডিত হওয়ার ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে শান্তি রক্ষা মুচলেকার মেয়াদ অনধিক ১ বছর।
→ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৮ রাষ্ট্রদ্রোহীতামূলক বিষয় প্রচারকারীর সদাচরণ মুচলেকার মেয়াদ অনধিক ১ বছর।
→ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৯ ভবঘুরে ও সন্দেহজনক ব্যক্তিবৃন্দের সদাচরণের মুচলেকার মেয়াদ অনধিক ১ বছর।
→ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১১০ অভ্যাসগত অপরাধীদের সদাচরণ মুচলেকার মেয়াদ অনধিক ৩ বছর।
⇒ অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন শান্তি রক্ষার জন্য মুচলেকার আদেশ দিতে পারে সর্বোচ্চ ৩ বছর।
৪৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৫৯ অনুযায়ী, সাধারণত সাক্ষ্য কীভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়?
  1. বিবরণ আকারে
  2. প্রশ্নোত্তর আকারে
  3. সংক্ষিপ্ত টীকা আকারে
  4. অডিও রেকর্ডিং আকারে
সঠিক উত্তর:
বিবরণ আকারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবরণ আকারে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৫৯: সাক্ষ্য লিপিবদ্ধের পদ্ধতি-
(১) ধারা ৩৫৬ বা ৩৫৭ অনুসারে গৃহীত সাক্ষ্য সাধারণত প্রশ্নোত্তর আকারে লিপিবদ্ধ হবে না বরং বিবরণ আকারে লিপিবদ্ধ করতে হবে।
(২) ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়রা জজ ইচ্ছা করলে কোন বিশেষ প্রশ্ন ও উত্তর লিপিবদ্ধ করতে বা করাতে পারবেন।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898: Section 359: Mode of recording evidence-
(1) Evidence taken under section 356 or section 357 shall not ordinarily be taken down in the form of question and answer, but in the form of a narrative.
(2) The Magistrate or Sessions Judge may, in his discretion, take down, or cause to be taken down, any particular question and answer.
৪৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৪ ধারা অনুসারে, সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে কোন শর্তে আপিল করা যাবে না?
  1. ম্যাজিস্ট্রেট ৫০,০০০ টাকার বেশি জরিমানা করলে।
  2. ম্যাজিস্ট্রেট ২০,০০০ টাকার বেশি জরিমানা করলে।
  3. ম্যাজিস্ট্রেট ৫,০০০ টাকা বা তার কম জরিমানা করলে।
  4. ম্যাজিস্ট্রেট ১০,০০০ টাকা বা তার কম জরিমানা করলে।
সঠিক উত্তর:
ম্যাজিস্ট্রেট ৫,০০০ টাকা বা তার কম জরিমানা করলে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাজিস্ট্রেট ৫,০০০ টাকা বা তার কম জরিমানা করলে।
ব্যাখ্যা
 সঠিক উত্তর: গ) ম্যাজিস্ট্রেট ৫,০০০ টাকা বা তার কম জরিমানা করলে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৪ অনুযায়ী, ধারা ২৬০ এর অধীনে সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে কোনো ম্যাজিস্ট্রেট যদি সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা জরিমানা করেন, তবে সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১২ থেকে ৪১৪ ধারায় যে সকল ক্ষেত্রে আপিল দায়ের করা যাবে না তা উল্লেখ করা হয়েছে।

-ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৪- সংক্ষিপ্ত বিচারের কতিপয় দণ্ডের ক্ষেত্রে [Summary Conviction]:
২৬০ ধারার অধীন সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে ম্যাজিস্ট্রেট অনধিক ৫,০০০ টাকা জরিমানা করলে, সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না।
------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section: 414. No appeal from certain summary convictions:
 Notwithstanding anything hereinbefore contained, there shall be no appeal by a convicted person in any case tried summarily in which a Magistrate empowered to act under section 260 passes a sentence of fine not exceeding five thousand Taka only.
৪৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় নারী তল্লাশির বিশেষ বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ৫১
  2. ধারা ৫২
  3. ধারা ৫৩
  4. ধারা ৫৪
সঠিক উত্তর:
ধারা ৫২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ৫২
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২ ধারায় স্ত্রীলোকের দেহ তল্লাশীর বিধান রয়েছে।
- ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫২ অনুযায়ী, নারীর তল্লাশি অন্য একজন নারী দ্বারা করতে হবে এবং শালীনতা বজায় রাখতে হবে। এটি নারীর মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষার জন্য।
- ৫২ ধারা অনুযায়ী কোন স্ত্রীলোকের দেহ তল্লাশী করার প্রয়োজন হলে শালীনতার প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রেখে অন্য একজন স্ত্রীলোক দ্বারা তল্লাশী করাতে হবে।

⇒ The Code of Criminal Procedure- Section 52- Mode of searching women: Whenever it is necessary to cause a woman to be searched, the search shall be made by another woman, with strict regard to decency.
৪৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় আপিলের বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ৪১৭
  2. ধারা ৪১৮
  3. ধারা ৪১৯
  4. ধারা ৪২০
সঠিক উত্তর:
ধারা ৪১৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ৪১৮
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৮-এ আপিলের বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিধান রয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, আপিল হতে পারে ঘটনার প্রশ্ন বা আইনের প্রশ্ন উভয়ের ওপর। এছাড়া, দণ্ডের কঠোরতা আইনের বিষয় হিসেবে গণ্য হবে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৮- কোন কোন বিষয়ে আপিল গ্রহণযোগ্য:
- ঘটনার প্রশ্নে বা আইনের প্রশ্নে আপিল চলতে পারে।
- ব্যাখ্যা: এই ধারার উদ্দেশ্যে পূরণকল্পে কোন দণ্ডের কথিত কঠোরতা আইনের বিষয় মর্মে গণ্য হবে।
-----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898- Section 418- Appeals on what matters admissible:
- An appeal may lie on a matter of fact as well as a matter of law.
- Explanation- The alleged severity of a sentence shall, for the purposes of this section, be deemed to be a matter of law.
৫০.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় জামিনের পরিমাণ হ্রাস করার বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ৪৯৬
  2. ধারা ৪৯৭
  3. ধারা ৪৯৮
  4. ধারা ৪৯৯
সঠিক উত্তর:
ধারা ৪৯৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ৪৯৮
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৮ এ জামিন মঞ্জুর করা এবং জামিনের অর্থের পরিমাণ হ্রাস করার ক্ষমতা সম্পর্কিত বিধান রয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে যে, মামলার পরিস্থিতি অনুযায়ী জামিনের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে এবং তা অত্যধিক হতে হবে না।
- এছাড়া, হাইকোর্ট ডিভিশন বা দায়রা আদালত যে কোন ব্যক্তিকে জামিন মঞ্জুর করতে পারে অথবা পুলিশ অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক নির্ধারিত জামিনের পরিমাণ হ্রাস করার নির্দেশ দিতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারার বিধান- জামিন মঞ্জুর করার এবং অর্থের পরিমাণ হ্রাস করার ক্ষমতা:

(১) এই অধ্যায়ের অধীন সম্পাদিত প্রত্যেকটি বন্ডের অর্থের পরিমাণ মামলার পরিস্থিতি বিবেচনাপূর্বক নির্ধারণ করতে হবে এবং তা অত্যধিক হবে না, এবং দণ্ডের পর আপিল থাকুক আর না থাকুক, হাইকোর্ট ডিভিশন বা দায়রা আদালত যেকোনো ক্ষেত্রে যেকোনো ব্যক্তিকে জামিন মঞ্জুর করার বা পুলিশ অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দাবিকৃত জামিন হ্রাস করার নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন।
(২) কোনো আদালত, আসামিকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার সময়, তার পলায়ন রোধ বা তার সুশৃঙ্খল আচরণ নিশ্চিত করার জন্য যুক্তিসঙ্গত ও ন্যায্য শর্ত আরোপ করতে পারে।
---------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 498: Power to direct admission to bail or reduction of bail:
The amount of every bond executed under this Chapter shall be fixed with due regard to the circumstances of the case, and shall not be excessive; and the High Court Division or Court of Session may, in any case, whether there be an appeal on conviction or not, direct that any person be admitted to bail, or that the bail required by a police-officer or Magistrate be reduced.
(2) Any Court, while releasing the accused on bail, may impose reasonable and fair conditions to prevent his abscondence or to ensure his good behaviour.
৫১.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৯ ধারার অধীনে সদাচরণের জন্য মুচলেকার সময়সীমা কত হতে পারে?
  1. সর্বোচ্চ ছয় মাস
  2. সর্বোচ্চ এক বছর
  3. সর্বোচ্চ দুই বছর
  4. সর্বোচ্চ তিন বছর
সঠিক উত্তর:
সর্বোচ্চ এক বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বোচ্চ এক বছর
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৯ ধারায় বলা হয়েছে, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সন্দেহভাজন বা ভবঘুরে ব্যক্তির কাছ থেকে তার সদাচরণের নিশ্চয়তা হিসেবে একটি মুচলেকা নিতে পারেন। এই মুচলেকার সময়সীমা এক বছরের বেশি হতে পারবে না। অর্থাৎ, ম্যাজিস্ট্রেট যেকোনো মেয়াদ নির্ধারণ করতে পারেন এক বছরের মধ্যে, যা এই ব্যক্তির ভাল আচরণ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োগ করা হয়। তাই, সময়সীমা সর্বোচ্চ এক বছর ধরা হয়েছে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৯ ধারার বিধান: ভবঘুরে ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকে সদাচরণের মুচলেকা: যেক্ষেত্রে কোন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ মর্মে সংবাদ প্রাপ্ত হন যে-
ক) তাঁর স্থানীয় অধিক্ষেত্রের মধ্যে কোন ব্যক্তি তাঁর উপস্থিতি গোপন রাখার নিমিত্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থাসমূহ পরিগ্রহণ করতেছেন এবং এরূপ বিশ্বাস করার হেতু বিদ্যমান যে তিনি কোন অপরাধ সম্পাদনের লক্ষ্যে এরূপ করতেছেন, বা
খ) উক্ত সীমার মধ্যে এরূপ কোন ব্যক্তি রয়েছে যার জীবিকা নির্বাহের কোন প্রকাশ্য পন্থা নেই বা যে ব্যক্তি নিজের সম্পর্কে কোন সন্তোষজনক বিবরণ দিতে পারে না,
সেক্ষেত্রে উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট, অতঃপর উল্লিখিত পদ্ধতিতে, এরূপ ব্যক্তিকে, তিনি যে-রূপ সমীচীন মনে করেন সেই প্রকার অনূর্ধ্ব এক বৎসর সময়সীমার জন্য, তার সদাচরণের জন্য, জামিনদারসহ বা জামিনদার ব্যতিরেকে, একটি মুচলেকা সম্পাদন করে দেওয়ার জন্য কেন তাকে আদেশ দেয়া হবে না তার কারণ দর্শাতে নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।
----------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898- Section 109. Security for good behaviour from vagrants and suspected persons:
Whenever a District Magistrate or an Executive Magistrate receive information- 
(a) that any person is taking precautions to conceal his presence within the local limits of such Magistrate's jurisdiction, and that there is reason to believe that such person is taking such precautions with a view to committing any offence, or 
(b) that there is within such limits a person who has no ostensible means of subsistence, or who cannot give a satisfactory account of himself,
such a Magistrate may, in manner hereinafter provided, require such person to show cause why he should not be ordered to execute a bond, with sureties, for his good behaviour for such period, not exceeding one year, as the Magistrate thinks fit to fix.
৫২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১ক ধারার অধীন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত অব্যাহতির আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার কী?
  1. হাইকোর্টে আপিল
  2. দায়রা আদালতে রিভিশন
  3. দায়রা আদালতে আপিল
  4. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিভিউ
সঠিক উত্তর:
দায়রা আদালতে রিভিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দায়রা আদালতে রিভিশন
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১ থেকে ২৫০ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচার কার্যক্রম সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।
ধারা ২৪১(ক)-ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক আসামির অব্যাহতি [Discharge of Accused by Magistrate):
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে চার্জ গঠনের আগে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে ২৪১ক ধারায় অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিতে পারে। অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট মামলার নথি ও দাখিলকৃত কাগজপত্র আমলে নিবে। পুলিশ কেসের ক্ষেত্রে মামলার এফআইআর, চার্জশিট, পুলিশের নিকট দেয়া বা সংগ্রহকৃত তথ্য বা প্রস্তুতকৃত ডকুমেন্ট, তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট প্রদত্ত জবানবন্দি, মেডিকেল সার্টিফিকেট এবং নালিশি কেসের ক্ষেত্রে মামলার অভিযোগ, বিচারিক অনুসন্ধান ও মেডিকেল সার্টিফিকেট ইত্যাদি কাগজপত্র আমলে নিবেন।

⇒ ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে অব্যাহতি দিলে ফরিয়াদীর প্রতিকার-
২৪১(ক) ধারার অধীন ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে অব্যাহতির আদেশ দিলে, ফরিয়াদী উক্ত অব্যাহতি আদেশের বিরুদ্ধে দায়রা জজ কোর্টে রিভিশন দায়ের করতে পারে।

উল্লেখ্য যে, ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন ৩ ক্ষেত্রে আপিলের বিধান রয়েছে-
- দণ্ডাদেশ (ধারা ৪০৭, ৪০৮ এবং ৪১০);
- অপর্যাপ্ত দণ্ডাদেশ (ধারা ৪১৭ক); এবং
- খালাস আদেশের বিরুদ্ধে (ধারা ৪১৭)।
যেহেতু অব্যাহতির ক্ষেত্রে আপিলের বিধান নেই এবং যেক্ষেত্রে আপিল করা যায় না সেক্ষেত্রে রিভিশনের সুযোগ রয়েছে, সেহেতু উক্ত অব্যাহতির আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন করা যাবে।

---------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-241A: When accused shall be discharged:
- When the accused appears or is brought before the Magistrate, and if the Magistrate, upon consideration of the record of the case and the documents submitted therewith and making such examination, if any, of the accused as the Magistrate thinks necessary and after giving the prosecution and the accused an opportunity of being heard, considers the charge to be groundless, he shall discharge the accused and record his reasons for so doing.
৫৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় কমিশন ফেরত প্রদানের বিধান বর্ণিত হয়েছে?
  1. ধারা ৫০৫
  2. ধারা ৫০৬
  3. ধারা ৫০৭
  4. ধারা ৫০৮
সঠিক উত্তর:
ধারা ৫০৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ৫০৭
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫০৭ অনুযায়ী, ধারা ৫০৩ বা ৫০৬ এর অধীনে প্রদত্ত কমিশন যথাযথভাবে সম্পাদিত হলে তা সাক্ষীর জবানবন্দিসহ আদালতে ফেরত দিতে হবে এবং পক্ষসমূহের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, যা মামলার রেকর্ডের অংশ হবে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫০৭- কমিশন ফেরত প্রদান:
(১) ধারা-৫০৩ বা ৫০৬ এর অধীন প্রদত্ত কোন কমিশন যথাযথভাবে সম্পাদিত হওয়ার পর উক্ত কমিশন অনুসারে গৃহীত সাক্ষীর সাক্ষ্যসহ কমিশনটি যে আদালত হতে প্রদত্ত হয়েছিল, সেই আদালতে ফেরত দিতে হবে এবং কমিশন ইহার বিবরণী এবং সাক্ষ্য সকল যুক্তিসংগত সময়ে পক্ষসমূহের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং সকল সংগত ব্যতিক্রম সাপেক্ষে যে কোন পক্ষের মামলায় সাক্ষ্যে পড়া যাবে এবং তা নথির অংশ হবে।
(২) এভাবে গৃহীত সাক্ষ্য সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা-৩৩ এ নির্ধারিত শর্তাবলি পূরণ করলে তা মামলার কোন পরবর্তী পর্যায়ে অন্য কোন আদালতেরও সাক্ষ্যে গৃহীত হতে পারে।
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898: Section 507- Return of commission:
(1) After any commission issued under section 503 or section 506 has been duly executed, it shall be returned, together with the deposition of the witness examined thereunder, to the Court out of which it issued; and the commission, the return thereto and the deposition shall be open at all reasonable times to inspection of the parties, and may, subject to all just exceptions, be read in evidence in the case by either party, and shall form part of the record.
(2) Any deposition so taken, if it satisfies the conditions prescribed by section 33 of the Evidence Act, 1872, may also be received in evidence at any subsequent stage of the case before another Court.
৫৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় তল্লাশি কার্যক্রমে সাক্ষী উপস্থিতির বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ১০১
  2. ধারা ১০২
  3. ধারা ১০৩
  4. ধারা ১০৪
সঠিক উত্তর:
ধারা ১০৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ১০৩
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৩-এ তল্লাশি কার্যক্রম চালানোর সময় স্থানীয় দুই বা ততোধিক নিরপেক্ষ ও গণ্যমান্য অধিবাসীকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত রাখার বিধান রয়েছে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৩ ধারা- সাক্ষীর উপস্থিতিতে তল্লাশি কার্যক্রম চালাতে হবে:
(১) এই অধ্যায় মোতাবেক তল্লাশি করার পূর্বে যে অফিসার বা ব্যক্তি তা করতে গিয়েছেন, তিনি যে এলাকার মধ্যে, যে স্থান তল্লাশি করতে হবে তা অবস্থিত, সেই এলাকার দুই বা ততোধিক নিরপেক্ষ ও গণ্যমান্য অধিবাসীকে তল্লাশির সাক্ষী হওয়ার জন্য আহ্বান করবেন এবং এরূপ করার জন্য তাদেরকে বা তাদের যে কোন একজনের প্রতি লিখিত আদেশ দিতে পারবেন।
(২) তাদের সমক্ষে তল্লাশি করতে হবে, এবং ঐরূপ অফিসার বা অন্য ব্যক্তি ঐরূপ তল্লাশি করার সময় যে-সব জিনিস বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং যে-সব স্থানে ঐগুলি যথাক্রমে পাওয়া যায় তার একটি তালিকা তৈরি করবেন এবং ঐরূপ সাক্ষীগণ তাতে সহি দিবেন; কিন্তু আদালত বিশেষভাবে সমন না দিলে এই ধারায় সম্পাদিত তল্লাশি দর্শনকারী ব্যক্তিকে আদালতে হাজিরা দিতে হবে না।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898- Section 103- Search to be made in presence of witnesses:
(1) Before making a search under this Chapter, the officer or other person about to make it shall call upon two or more respectable inhabitants of the locality in which the place to be searched is situate to attend and witness the search and may issue an order in writing to them or any of them so to do.
(2) The search shall be made in their presence, and a list of all things seized in the course of such search and of the places in which they are respectively found shall be prepared by such officer or other person and signed by such witnesses; but no person witnessing a search under this section shall be required to attend the Court as a witness of the search unless specially summoned by it.
৫৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৮৭ অনুসারে পলাতক ব্যক্তির জন্য আদালত কর্তৃক জারি করা হুলিয়ায় সময়সীমা সর্বনিম্ন কত দিন হবে?
  1. ১৫ দিন
  2. ২০ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৪৫ দিন
সঠিক উত্তর:
৩০ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৮৭ অনুযায়ী, যখন আদালত মনে করে যে কোনো ব্যক্তি পলাতক হয়েছে বা আত্মগোপন করছে যার কারণে তার বিরুদ্ধে ইস্যু করা পরোয়ানা কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না, তখন সেই ব্যক্তির জন্য একটি হুলিয়া (প্রকৃতির বিজ্ঞপ্তি) জারি করা হয়।
এই হুলিয়ায় তাকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। এই সময়সীমা সর্বনিম্ন ৩০ দিন হতে হবে, যাতে পলাতক ব্যক্তি পর্যাপ্ত সময় পায় হাজির হতে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৮৭ ধারার বিধান (১) যদি কোন আদালতের এরূপ বিশ্বাস করার কারণ থাকে (সাক্ষ্য গ্রহণ করার পরে অথবা পূর্বে) যে, উক্ত আদালত যার বিরুদ্ধে পরোয়ানা প্রদান করেছেন সেই ব্যক্তি পলাতক হয়েছে অথবা পরোয়ানা কার্যকর না হতে পারে সেজন্য আত্মগোপন করছে, তাহলে উক্ত আদালত তাকে একটি নিদিষ্ট স্থানে এবং হুলিয়া জারীর তারিখ হতে ত্রিশ দিনের কম নহে, এমন নির্দিষ্ট সময়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়া একটি লিখিত হুলিয়া জারি করতে পারবেন।
(২) হুলিয়া নিম্নলিখিতভাবে জারি করতে হবে:
ক) উক্ত ব্যক্তি সাধারণত যেখানে বাস করে সেই শহরে অথবা গ্রামের প্রকাশ্য স্থানে উহা প্রকাশ্যভাবে পাঠ করতে হবে;
খ) উক্ত ব্যক্তি সাধারণত যেখানে বাস করে, সেই বাড়ি অথবা বস্তু অথবা শহর অথবা গ্রামের প্রকাশ্য স্থানে উহা লটকায়ে দিতে হবে; এবং
গ) উহার একটি কপি আদালত ভবনের প্রকাশ্য স্থানে লটকায়ে দিতে হবে।
(৩) হুলিয়া প্রদানকারী আদালত যদি এই মর্মে একটি লিখিত বিবৃতি দেন যে, হুলিয়া একটি নির্দিষ্ট দিনে যথাযথভাবে জারি হয়েছে তাহলো উহা চূড়ান্ত সাক্ষ্য হবে যে, এই ধারার নির্দেশ সম্বলিত হিসাবে এবং উক্ত দিনে হুলিয়া প্রকাশিত হয়েছে।
------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section 87. Proclamation for person absconding:
(1) If any Court has reason to believe (whether after taking evidence or not) that any person against whom a warrant has been issued by it has absconded or is concealing himself so that such warrant cannot be executed, such Court may publish a written proclamation requiring him to appear at a specified place and at a specified time not less than thirty days from the date of publishing such proclamation.
(2) The proclamation shall be published as follows:- 
(a) it shall be publicly read in some conspicuous place of the town or village in which such person ordinarily resides; 
(b) it shall be affixed to some conspicuous part of the house or homestead in which such person ordinarily resides or to some conspicuous place of such town or village; and 
(c) a copy thereof shall be affixed to some conspicuous part of the Court-house. 
(3) A statement in writing by the Court issuing the proclamation to the effect that the proclamation was duly published on a specified day shall be conclusive evidence that the requirements of this section have been complied with, and that the proclamation was published on such day.