পরীক্ষা আর্কাইভ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes
মোট প্রশ্ন৩৪
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৫১: আইন বিষয়াবলী - ২০ Subject: Hindu Law Topic: Nature and Scope of Hindu Law, Sources and Schools of Hindu Law, Marriage, Maintenance and Adoption, Debts, Gifts, Will, Debutter Property, Stridhana and Women's Property, Inheritance & Related Acts.
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৪ প্রশ্ন

.
কোনটি হিন্দু আইনের একটি আধুনিক উৎস?
  1. স্মৃতি
  2. বিধিবদ্ধ আইন
  3. মিতাক্ষরা মতবাদ
  4. দায়ভাগ মতবাদ
সঠিক উত্তর:
বিধিবদ্ধ আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিধিবদ্ধ আইন
ব্যাখ্যা
হিন্দু আইনের আধুনিক উৎস:
আধুনিক যুগে হিন্দু আইনের বিকাশে কিছু নতুন উৎস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, যেমন—ঃ
- আদালতের সিদ্ধান্ত (Judicial Precedents): বিভিন্ন মামলার বিচারিক সিদ্ধান্ত, যা ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করে।
- বিধিবদ্ধ আইন (Statutory Law): সংসদ কর্তৃক প্রণীত হিন্দু ব্যক্তিগত আইন।
- সুবিচার ও ন্যায়পরায়ণতা (Justice, Equity, and Good Conscience): যেখানে কোনো নির্দিষ্ট বিধান নেই, সেখানে ন্যায়বিচার ও বিবেকবোধের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

⇒ হিন্দু আইনের আধুনিক উৎসগুলোর মধ্যে বিধিবদ্ধ আইন (Statutory Law) অন্যতম।

- আধুনিক সময়ে হিন্দু ব্যক্তিগত আইনের বিভিন্ন দিককে স্পষ্ট ও সুসংগঠিত করার জন্য বিধিবদ্ধ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
-কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধিবদ্ধ আইন হলো—
- Hindu Marriage Act – হিন্দু বিবাহ সম্পর্কিত আইন।
- Hindu Succession Act – হিন্দু উত্তরাধিকার সম্পর্কিত আইন।
- Hindu Adoption and Maintenance Act – দত্তক ও ভরণপোষণ সংক্রান্ত আইন।
- Hindu Minority and Guardianship Act – হিন্দু নাবালক ও অভিভাবকত্ব সম্পর্কিত আইন।

অন্য অপশন গুলোর মধ্যে:
- মিতাক্ষরা মতবাদ ও দায়ভাগ মতবাদ – হিন্দু উত্তরাধিকার আইনের দুটি প্রাচীন মতবাদ। এগুলো আধুনিক উৎস নয়।
- স্মৃতি – এটি হিন্দু আইনের একটি প্রাচীন উৎস, আধুনিক নয়।
.
১৯৪৬ সালের "বিবাহিতা নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ" আইন অনুযায়ী, কোন কারণে বিবাহিতা হিন্দু নারী স্বামী হতে পৃথক থেকেও ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী?
  1. স্বামী যদি নিষ্ঠুর আচরণ করে
  2. স্বামী যদি দুরারোগ্য কুষ্ঠে আক্রান্ত হয়
  3. স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি ব্যতিরেকে তাকে পরিত্যাগ করে
  4. উল্লিখিত সব কারণ
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সব কারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সব কারণ
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর ঘ) উল্লিখিত সব কারণ।

⇒ বিবাহিতা হিন্দু নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ আইনটি ১৯৪৬ সালের।
১৯৪৬ সালের "বিবাহিতা নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ" আইন অনুযায়ী নিম্নলিখিত কারণে বিবাহিতা হিন্দু নারী স্বামী হতে পৃথক থেকেও স্বামীর নিকট হতে ভরণ-পোষণ পাওয়ার অধিকারিণী -
- স্বামী যদি দুরারোগ্য কুষ্ঠ, সিফলিস ইত্যাদি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় এবং এই সমস্ত ব্যাধি যদি স্ত্রীর নিকট হতে সংক্রামিত না হয়,
- স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করে এবং নিষ্ঠুরতা যদি এই প্রকারের হয় যে স্বামীগৃহে তার জীবনাশঙ্কা থাকে;
- স্বামী যদি গৃহে কোন উপ-পত্নী রেখে তার সাথে বসবাস করতে থাকে;
- স্বামী যদি ধর্মান্তর গ্রহণ করে,
- স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি ব্যতিরেকে তাকে পরিত্যাগ করে,
- স্বামী যদি স্ত্রীর বর্তমানে পুনরায় বিবাহ করে,
এই ধরনের অন্যান্য যৌক্তিকতাপূর্ণ কারণে।

তবে নিম্নলিখিত কারণে স্ত্রী স্বামীর নিকট হতে আইনত ভরণপোষণ পেতে পারে না-
- স্ত্রী যদি অসৎ চরিত্রের অথবা অসতী হয়,
- স্ত্রী যদি অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়,
- স্ত্রী যদি আইনসংগত কারণ ব্যতীত স্বামীর সাথে স্ত্রীরূপে বসবাস করতে অনিচ্ছুক হয়।
----------------
The Hindu Married Women's Right to Separate Residence and Maintenance Act, 1946, Section-2. Grounds for claiming separate residence and maintenance
Notwithstanding any custom or law to the contrary a Hindu married woman shall be entitled to separate residence and maintenance from her husband on one or more of the following grounds, namely,- 
(1) if he is suffering from any loathsome disease not contracted from her; 
(2) if he is guilty of such cruelty towards her as renders it unsafe or undesirable for her to live with him; 
(3) if he is guilty of desertion, that is to say, of abandoning her without her consent or against her wish; 
(4) if he marries again; 
(5) if he ceases to be a Hindu by conversion to another religion; 
(6) if he keeps a concubine in the house or habitually resides with a concubine; 
(7) for any other justifiable cause: 
Provided that a Hindu married woman shall not be entitled to separate residence and maintenance from her husband if she is unchaste or ceases to be a Hindu by change to another religion or fails without sufficient cause to comply with a decree of a competent Court for the restitution of conjugal rights.
.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ অনুযায়ী, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসাবে নিয়োগ পাওয়ার জন্য যোগ্যতা কিভাবে নির্ধারিত হবে?
  1. বিধি দ্বারা
  2. আদালত দ্বারা
  3. সরকারি গেজেট দ্বারা
  4. জেলা রেজিস্ট্রার দ্বারা
সঠিক উত্তর:
বিধি দ্বারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিধি দ্বারা
ব্যাখ্যা
⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ধারা ৪(৩) অনুযায়ী, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসাবে নিয়োগ পাওয়ার জন্য যোগ্যতা, অধিক্ষেত্র এবং অন্যান্য বিষয়াদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হবে।
- অর্থাৎ, সরকারের প্রণীত বিধির মাধ্যমে এই যোগ্যতা এবং অন্যান্য শর্তাবলী নির্ধারিত হবে, যা হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক নিয়োগের জন্য প্রযোজ্য।

⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ ধারা ৪ বিবাহ নিবন্ধক নিয়োগ: 
 (১) এই আইনের অধীন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধনের উদ্দেশ্যে, সরকার, সিটি কর্পোরেশন এলাকার ক্ষেত্রে তদ্কর্তৃক সময় সময় নির্ধারিত এলাকা, এবং সিটি কর্পোরেশন বহির্ভূত এলাকার ক্ষেত্রে প্রতিটি উপজেলা এলাকায় একজন ব্যক্তিকে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করিবে। 
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসাবে অভিহিত হইবেন। 
(৩) হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্তির যোগ্যতা, অধিক্ষেত্র, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক কর্তৃক আদায়যোগ্য ফিস এবং তৎসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
.
হিন্দুদের আর্য বিবাহে কনের পিতা বরের কাছ থেকে কী গ্রহণ করতেন?
  1. পণ
  2. জমি
  3. গাভী
  4. অলঙ্কার
সঠিক উত্তর:
গাভী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাভী
ব্যাখ্যা
⇒ আর্য বিবাহের ক্ষেত্রে কনের পিতা বরের কাছ থেকে এক বা দুই জোড়া গাভী গ্রহণ করতেন।
- এই ধরনের বিবাহে পণ হিসেবে গাভী গ্রহণ করা হতো, যা সমাজে একটি সাধারণ ও সম্মানজনক প্রথা ছিল।
- এই বিবাহের মাধ্যমে কনের পিতা কিছু সামান্য পণ হিসেবে গাভী গ্রহণ করতেন, তবে এটি কোনো অত্যধিক মূল্য ছিল না এবং সামাজিকভাবে এটি গ্রহণযোগ্য ছিল।

⇒ দায়ভাগ ও মিতাক্ষরা অনুসারে হিন্দুদের মধ্যে আট প্রকার বিবাহ প্রচলিত ছিল, যার প্রথম চারটি সামাজিকভাবে অনুমোদিত এবং অবশিষ্ট চারটি অননুমোদিত।
আট প্রকার বিবাহ হলো:
অনুমোদিত ৪ প্রকার:
ব্রাহ্ম: সর্বোত্তম পদ্ধতি, যাতে অলঙ্কারে সজ্জিতা কন্যাকে শিক্ষিত ও চরিত্রবান বরের হাতে তুলে দেয়া হতো; এক্ষেত্রে বরের নিকট থেকে কোন পণ নেয়া হতো না;
দৈব: এ ধরনের বিবাহে যজ্ঞ সম্পাদনকারী পুরোহিতের নিকট কন্যা সম্প্রদান করা হতো;
আর্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে এক বা দুই জোড়া গাভী গ্রহণ করতেন;
প্রজাপত্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে কোন পণ গ্রহণ ছাড়াই কন্যা দান করতেন এবং তাদের আশীর্বাদ করতেন যাতে তারা পারস্পরিক বিশ্বাস ও সুখের সঙ্গে দাম্পত্য জীবন যাপন করতে পারে।
অননুমোদিত ৪ প্রকার:
অসুর: এ বিবাহে বর পিতা অথবা অভিভাবকের নিকট থেকে মূল্য দিয়ে কনেকে ক্রয় করত;
রাক্ষস: এ বিবাহে কন্যার আত্মীয়দের প্রহার করে রোরুদ্যমান কন্যাকে তুলে নেয়া হতো;
গন্ধর্ব: বর ও কনের পরস্পরের পরিচয় ও সম্মতিতে এ বিবাহ অনুষ্ঠিত হতো;
পৈশাচ: নিকৃষ্টতম বিবাহ; এতে কন্যার প্রেমিক (কন্যার সম্মতি ব্যতিরেকে) নিদ্রিত অবস্থায় অথবা মদোম্মত্ত বা উম্মত্ত কন্যার সঙ্গে সঙ্গত হতো।
.
হিন্দু আইনের প্রধান কতটি উৎস রয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
⇒ হিন্দু আইনের মূল উৎস চারটি। এগুলো হলো—
১) শ্রুতি (Shruti) – এটি হিন্দু ধর্মের মৌলিক ভিত্তি। বেদসমূহ (ঋগ্বেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ, অথর্ববেদ) শ্রুতি শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত।
২) স্মৃতি (Smriti) – প্রাচীন ঋষিদের লিপিবদ্ধ করা সামাজিক ও ধর্মীয় বিধি-নিষেধ, যেমন মনুস্মৃতি, যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি, নারদ স্মৃতি, পরাশর স্মৃতি ইত্যাদি।
৩) ব্যাখ্যা বা নিবন্ধ (Commentaries and Digests) – বিভিন্ন স্মৃতি ও শাস্ত্রের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ। এর দুটি প্রধান মতবাদ হলো মিতাক্ষরা মতবাদ ও দায়ভাগ মতবাদ।
৪) প্রথা (Custom) – দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রীতিনীতি, যা আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি তিন ধরনের— স্থানীয় প্রথা, শ্রেণি প্রথা ও পারিবারিক প্রথা।

এছাড়া, আধুনিক সময়ে আদালতের রায়, বিধিবদ্ধ আইন ও সুবিচার হিন্দু আইনের নতুন উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়, তবে মূল ঐতিহ্যগত উৎস চারটিই।
.
Factum Valet নীতি প্রয়োগের জন্য কোনটি প্রয়োজন?
  1. সরকারি অনুমোদন
  2. ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন
  3. আদালতের অনুমতি
  4. সামাজিক অনুমোদন
সঠিক উত্তর:
ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন
ব্যাখ্যা
→ Factum Valet নীতি অনুযায়ী, আইন বা শাস্ত্রীয় বিধান ভঙ্গ করা হলেও, তা বৈধ হিসেবে গৃহীত হতে পারে যদি সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় বা প্রয়োজনীয় অনুষ্ঠানাদি যথাযথভাবে পালন করা হয়।
- Factum Valet নীতি অনুযায়ী, কিছু আইন বা বিধি যা অনুসরণ করা আবশ্যক বা নির্দেশনারূপে দেওয়া থাকে, সেগুলি যদি অমান্য করা হয়, তবে সেই কাজটি অদ্বিতীয়ভাবে অবৈধ বা বেআইনি বলে গণ্য করা হয় না। এর পরিবর্তে, কাজটি বৈধ হিসেবে গৃহীত হতে পারে, যদি এটি যথাযথ ধর্মীয় বা প্রয়োজনীয় অনুষ্ঠানাদি অনুসরণ করে সম্পাদিত হয়।

Factum Valet নীতির মূল দৃষ্টিকোণ:
Directory Provision vs. Mandatory Provision: আইনের বিধান দুটি ভাগে বিভক্ত করা যায়—একটি হল নির্দেশাত্মক বিধান (Directory provisions) এবং অন্যটি হল অবশ্য পালনীয় বিধান (Mandatory provisions)।

নির্দেশাত্মক বিধান: এগুলি আইনের সুপারিশমূলক বিধান, যার অমান্য করলেও কাজটি বৈধ হতে পারে। Factum Valet নীতি এই বিধানেই প্রয়োগ হয়।
অবশ্য পালনীয় বিধান: এগুলি আইনের কঠোর বিধান, যার অমান্য করা হলে কাজটি বেআইনি হিসেবে গণ্য হয় এবং তা আর বৈধ করা যায় না।

ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন: Factum Valet নীতির প্রয়োগের জন্য, কাজটি বিধি অনুযায়ী অদ্বিতীয় হলেও, যদি সেই কাজটি সম্পাদন করার জন্য প্রয়োজনীয় ধর্মীয় বা আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানগুলি যথাযথভাবে পালন করা হয়, তাহলে কাজটি বৈধ বলে গণ্য করা হয়।

Factum Valet নীতির শর্ত
এই নীতি প্রয়োগের জন্য কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়:
- প্রয়োজনীয় ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও রীতি পালন করতে হবে।
- কৃতকার্য অবৈধ বা নিষিদ্ধ হওয়া উচিত নয়।
- নির্দেশাত্মক বিধান লঙ্ঘন করে কাজটি করা হলে তা বৈধ হবে, কিন্তু অবশ্য পালনীয় বিধান লঙ্ঘন করলে তা বৈধ হবে না।

Factum Valet নীতির উদাহরণ:
হিন্দু আইনে এই নীতির বেশ কিছু প্রয়োগ দেখা যায়:
বিবাহ সংক্রান্ত:
- হিন্দু ধর্মমতে, অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া বিবাহ হওয়া উচিত নয়। কিন্তু যদি কোনো বিবাহ অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াই হয়ে যায়, তবে Factum Valet নীতি অনুযায়ী সেই বিবাহ বৈধ বলে গণ্য হয়।
দত্তক গ্রহণ সংক্রান্ত:
- হিন্দু শাস্ত্রমতে, কোনো ব্যক্তি তার একমাত্র সন্তানকে দত্তক দিতে পারেন না। কিন্তু যদি কেউ এই বিধান লঙ্ঘন করে একমাত্র পুত্রকে দত্তক দেন, তবে Factum Valet নীতি অনুযায়ী সেই দত্তক বৈধ বলে গণ্য হয়।
বহু বিবাহ সংক্রান্ত:
- হিন্দু আইনে একাধিক স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও যদি কোনো ব্যক্তি পুনরায় বিবাহ করে, তবে Factum Valet নীতি অনুযায়ী সেই বিবাহ বৈধ বলে গণ্য হয়।
.
প্রথাকে আইনের মর্যাদা পেতে হলে কোন শর্তগুলি পূর্ণ করতে হবে?
  1. অবশ্যই সুপ্রাচীন, সুনিশ্চিত, যুক্তিযুক্ত এবং সুপ্রমাণিত হতে হবে
  2. নৈতিকতা বিরোধী অথবা সাধারণ নিয়মের পরিপন্থি হতে পারবে না
  3. আইনসভা কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত হবেনা
  4. সবগুলো উপাদানই থাকতে হবে
সঠিক উত্তর:
সবগুলো উপাদানই থাকতে হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো উপাদানই থাকতে হবে
ব্যাখ্যা
⇒ প্রথাকে আইনের মর্যাদা পেতে হলে তা অবশ্যই সুপ্রাচীন, সুনিশ্চিত, যুক্তিযুক্ত এবং সুপ্রমাণিত হতে হবে, এটি নৈতিকতা বিরোধী অথবা সাধারণ নিয়মের পরিপন্থি হতে পারবে না, এবং এটি আইনসভা কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত হবেনা।
অর্থাৎ সঠিক উত্তর: ঘ) সবগুলো উপাদানই থাকতে হবে।


⇒ প্রথা (Customs):
প্রথা হলো এমন একটি নিয়ম বা রীতি যা একটি বিশেষ পরিবার, শ্রেণী, বা অঞ্চলে অনেক দিন ধরে প্রচলিত এবং আইনের মর্যাদা অর্জন করেছে। প্রথা এবং লিখিত আইনের মধ্যে বিরোধ হলে, প্রথা বেশি শক্তিশালী হতে পারে। একটি বিখ্যাত মামলায় বলা হয়েছে, "প্রথার প্রমাণ আইন থেকে বেশি শক্তিশালী হতে পারে।"
কিছু পণ্ডিত ব্যক্তির মতে, প্রথা একসময় হিন্দু ধর্মশাস্ত্রের অংশ ছিল, কিন্তু পরে লিখিত আকারে স্মৃতিশাস্ত্রে তা রাখা হয়নি, তবে তা সমাজে চালু রয়েছে।

⇒ প্রথা তিন প্রকার:
স্থানীয় প্রথা: যা কোনো নির্দিষ্ট স্থানে বা অঞ্চলে প্রচলিত।
শ্রেণি প্রথা: যা হিন্দু সমাজের কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণি বা সম্প্রদায়ে প্রচলিত।
পারিবারিক প্রথা: যা কোনো বিশেষ পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে চালু রয়েছে।

⇒ আইনের মর্যাদা পেতে প্রথার শর্ত:
সুপ্রাচীন, সুনিশ্চিত, যুক্তিযুক্ত এবং সুপ্রমাণিত হতে হবে: প্রথাটি অনেক পুরনো এবং প্রমাণিত হতে হবে।
নৈতিকতা বিরোধী বা সাধারণ নিয়মের পরিপন্থি না হওয়া: প্রথাটি সমাজের নৈতিকতার বিরুদ্ধে বা আইন বিরোধী হতে পারবে না।
আইনসভা কর্তৃক নিষিদ্ধ না হওয়া: প্রথাটি যদি কোনো আইন দ্বারা নিষিদ্ধ হয়, তবে তা আইনের মর্যাদা পাবে না।
অব্যাহতভাবে চালু থাকতে হবে: প্রথাটি দীর্ঘকাল ধরে চালু থাকতে হবে এবং হঠাৎ বন্ধ হওয়া উচিত নয়।
.
দায়ভাগ স্কুল অনুসারে হিন্দু আইন প্রযোজ্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে, বিধবা কী অধিকার পান?
  1. পুত্রের অর্ধেক অংশ
  2. পুত্রের সমান অংশ
  3. সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ
  4. কোনো অধিকার পান না
সঠিক উত্তর:
পুত্রের সমান অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুত্রের সমান অংশ
ব্যাখ্যা
- দায়ভাগ পদ্ধতি হিন্দু উত্তরাধিকার আইনের একটি বিশেষ শাখা, যা প্রধানত বাংলাদেশ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং আসামে প্রচলিত। এই পদ্ধতি অনুসারে, পিন্ডদান করার অধিকারী ব্যক্তিরাই উত্তরাধিকারী হন, অর্থাৎ পুত্র, পৌত্র ও প্রপৌত্র।
- ১৯৩৭ সালের হিন্দু নারীদের সম্পত্তির অধিকারের আইন (Hindu Women’s Rights to Property Act, 1937) প্রণীত হওয়ার আগে বিধবারা কোনো উত্তরাধিকার পেতেন না, কেবলমাত্র ভরণপোষণের অধিকার ছিল। তবে, এই আইনের মাধ্যমে বিধবা স্ত্রীকে ছেলের সমান অংশ দেওয়া হয়, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

- এই আইনের ৩(১) ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো হিন্দু ব্যক্তি উইল বা অন্য কোনো বৈধ দলিল ছাড়া মারা যান, তাহলে তার বিধবা স্ত্রী তার পুত্রের সমান অংশ পাবেন। যদি একাধিক স্ত্রী থাকেন, তাহলে সবাই মিলে একটি পুত্রের সমান অংশ ভাগ করে নেবেন।

- তবে, বিধবার সম্পত্তির অধিকার স্থায়ী মালিকানা নয়, বরং এটি সীমিত স্বত্ব (Hindu Woman’s Estate)। অর্থাৎ তিনি জীবদ্দশায় সম্পত্তির ভোগদখল করতে পারবেন, প্রয়োজনে বিক্রি করতে পারবেন, কিন্তু নিজের মৃত্যুর পর সেই সম্পত্তি তার স্বামীর উত্তরাধিকারীদের কাছেই ফিরে যাবে।

- অর্থাৎ দায়ভাগ পদ্ধতি অনুসারে, বিধবা স্ত্রী পুত্রের সমান অংশের অধিকারী হন এবং তিনি জীবনস্বত্ব ভিত্তিতে সম্পত্তি ভোগ করতে পারেন। তবে, এটি স্থায়ী মালিকানা নয়, কারণ তিনি মৃত্যুর পর সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারবেন না।
.
বাংলাদেশে স্বাভাবিক পুত্র জন্মালে দত্তকী পুত্র দত্তকী পিতার ত্যাজ্যবিত্তের কত ভাগ পায়?
  1. তিন ভাগের এক ভাগ
  2. পাঁচ ভাগের দুই ভাগ
  3. চার ভাগের এক ভাগ
  4. পাঁচ ভাগের এক ভাগ
সঠিক উত্তর:
তিন ভাগের এক ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন ভাগের এক ভাগ
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশে হিন্দু আইন অনুযায়ী, যদি দত্তকী পুত্রের দত্তক গ্রহণকারী পিতার নিজস্ব (স্বাভাবিক) পুত্র জন্মগ্রহণ করে, তাহলে দত্তকী পুত্র তার দত্তকী পিতার সম্পত্তির তিন ভাগের এক ভাগ (১/৩) পায়।
তবে, যদি দত্তকী পুত্র ছাড়া দত্তকী পিতার কোনো স্বাভাবিক পুত্র না থাকে, তাহলে দত্তকী পুত্রই সম্পত্তির পূর্ণ উত্তরাধিকারী হয়।

⇒ বাংলাদেশে দত্তকী পুত্রের উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিধান হিন্দু আইনের বিভিন্ন মতপন্থার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। সাধারণত, দত্তকী পুত্র দত্তকী পিতার স্বাভাবিক পুত্রের মতো অধিকারের দাবিদার হলেও কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে।
- দত্তকী পুত্র যদি শুদ্র শ্রেণির হয়, তাহলে সে দত্তকী পিতার সম্পত্তির সমান অংশ পায়। কিন্তু অন্যান্য বর্ণের ক্ষেত্রে দত্তকী পুত্র দত্তকী পিতার ত্যাজ্যবিত্তের তিন ভাগের এক ভাগ অংশ পায়। এই নিয়মটি বাংলাদেশের প্রচলিত দত্তক আইনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
যদিও বিভিন্ন মতপন্থায় ভিন্ন ভিন্ন হিসাব দেখা যায়, যেমন—
- বেনারস মতপন্থী মতে, দত্তকী পুত্র চার ভাগের এক ভাগ পায়।
- বোম্বে ও মাদ্রাজ মতপন্থী মতে, সে পাঁচ ভাগের এক ভাগ পায়।
কিন্তু বাংলাদেশের প্রচলিত দত্তক আইন অনুসারে দত্তকী পুত্র দত্তকী পিতার সম্পত্তির তিন ভাগের এক ভাগ উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়ে থাকে।
১০.
হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে কোন পদ্ধতি বাংলাদেশে প্রযোজ্য?
  1. মিতাক্ষরা পদ্ধতি
  2. দায়ভাগ পদ্ধতি
  3. উত্তরাধিকার পদ্ধতি
  4. সম্পত্তি বণ্টন পদ্ধতি
সঠিক উত্তর:
দায়ভাগ পদ্ধতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দায়ভাগ পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন মূলত দায়ভাগ পদ্ধতি (Dayabhaga System) অনুসারে পরিচালিত হয়।
- হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে দুইটি প্রধান পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে:
১) দায়ভাগ পদ্ধতি (Dayabhaga System)
২) মিতাক্ষরা পদ্ধতি (Mitakshara System)

- প্রচলন: দায়ভাগ পদ্ধতি বাংলাদেশ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে অনুসৃত হয়।
- উত্তরাধিকার নীতি: এই পদ্ধতিতে যে ব্যক্তি পিন্ডদান (শেষকৃত্য করার অধিকার) করতে পারেন, তিনিই উত্তরাধিকারী হন।
- বৈধব্য অধিকার: ১৯৩৭ সালের হিন্দু নারীর অধিকার আইন অনুযায়ী, বিধবারা উত্তরাধিকার পেতে শুরু করেন।
- পুত্র ও স্ত্রী উভয়ের অংশ: দায়ভাগ মতে, পুত্র পিতার সম্পত্তির প্রধান উত্তরাধিকারী হলেও বিধবা স্ত্রী এক পুত্রের সমান অংশ পান।
১১.
হিন্দু আইনের কোন উৎসটি "স্মৃতি" হিসেবে পরিচিত?
  1. বেদ
  2. আইন প্রণয়ন
  3. ধর্মীয় শাস্ত্রসমূহ
  4. আদালতের সিদ্ধান্ত
সঠিক উত্তর:
ধর্মীয় শাস্ত্রসমূহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মীয় শাস্ত্রসমূহ
ব্যাখ্যা
⇒ স্মৃতি হলো হিন্দু ধর্মের ধর্মীয় ও সামাজিক বিধানসংবলিত গ্রন্থ, যা প্রাচীন ঋষিরা সংকলন করেছেন।
- এটি মৌখিকভাবে প্রচলিত নিয়ম ও আচার-অনুশাসন লিপিবদ্ধ করার মাধ্যমে গঠিত হয়েছে।
সুতরাং, উল্লিখিত প্রশ্নে স্মৃতি হলো ধর্মীয় শাস্ত্রসমূহ।
- মূল স্মৃতিগুলো হলো:
১) মনুস্মৃতি – প্রাচীনতম ও সর্বাধিক প্রভাবশালী স্মৃতি।
২) যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি – মিতাক্ষরা মতবাদের ভিত্তি।
৩) নারদ স্মৃতি – আইনি ও বিচারসংক্রান্ত বিধান।
৪) পরাশর স্মৃতি – যুগের পরিবর্তন অনুযায়ী বিধানের পরিবর্তন নির্দেশ করে।

অন্য অপশন গুলোর মধ্যে:
- বেদ (Shruti) – এটি হিন্দু ধর্মের মৌলিক ও আদি গ্রন্থ, যা স্মৃতি নয়।
- আইন প্রণয়ন (Statutory Law) – এটি আধুনিক বিধিবদ্ধ আইন, যা স্মৃতি শাস্ত্রের অন্তর্গত নয়।
- আদালতের সিদ্ধান্ত (Judicial Decisions) – এটি হিন্দু আইনের আধুনিক উৎস, কিন্তু স্মৃতি নয়।
১২.
পৈশাচ বিবাহকে কী বলা হয়?
  1. সর্বোত্তম বিবাহ
  2. নিকৃষ্টতম বিবাহ
  3. ধর্মীয়ভাবে পবিত্র বিবাহ
  4. সামাজিকভাবে অনুমোদিত বিবাহ
সঠিক উত্তর:
নিকৃষ্টতম বিবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিকৃষ্টতম বিবাহ
ব্যাখ্যা
→ পৈশাচ বিবাহকে "নিকৃষ্টতম বিবাহ" বলা হয়। এটি একটি অত্যন্ত অশুদ্ধ এবং অমর্যাদাপূর্ণ বিবাহ, যেখানে কন্যার সম্মতি ছাড়া অথবা সে যখন নিদ্রিত, মদোম্মত্ত বা উম্মত্ত অবস্থায় থাকে, তখন তাকে জোরপূর্বক বিয়ে করা হয়। এটি সমাজে এবং ধর্মীয়ভাবে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য এবং নিন্দনীয় বিবাহের একটি ধরন।

⇒ হিন্দু সমাজে দায়ভাগ ও মিতাক্ষরা অনুযায়ী আট প্রকার বিবাহ প্রচলিত ছিল, যার মধ্যে প্রথম চারটি সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং পরবর্তী চারটি অবৈধ বা অননুমোদিত ছিল।
- এই বিবাহের প্রকারভেদ নিম্নরূপ:
অনুমোদিত ৪ প্রকার বিবাহ:
- ব্রাহ্ম বিবাহ: এটি সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বিবাহ পদ্ধতি, যেখানে একটি অলঙ্কৃত, শিক্ষিত এবং চরিত্রবান কন্যাকে কোনও পণ ছাড়াই, ব্রাহ্মণ পুরুষের হাতে তুলে দেয়া হতো।
- দৈব বিবাহ: এই বিবাহে, কন্যাকে যজ্ঞ সম্পাদনকারী পুরোহিতের কাছে প্রদান করা হতো।
- আর্য বিবাহ: এই পদ্ধতিতে, কনের পিতা বরের কাছ থেকে এক বা দুটি গাভী গ্রহণ করতেন, যা পণ হিসেবে ছিল।
- প্রজাপত্য বিবাহ: এখানে, কনের পিতা বরের কাছ থেকে কোনো পণ না নিয়ে কন্যা প্রদান করতেন এবং তাদের আশীর্বাদ দিতেন যাতে তারা সুখী দাম্পত্য জীবন কাটাতে পারেন।
অননুমোদিত ৪ প্রকার বিবাহ:
- অসুর বিবাহ: এই বিবাহে বর কনের পিতা বা অভিভাবকের কাছ থেকে কন্যাকে টাকা দিয়ে ক্রয় করতেন।
- রাক্ষস বিবাহ: এই ধরনের বিবাহে, কন্যার আত্মীয়দের মারধর করে এবং তারা বিরোধী অবস্থায় থাকলেও, বর কন্যাকে জোরপূর্বক নিয়ে আসতেন।
- গন্ধর্ব বিবাহ: এটি একটি সম্মতিপূর্ণ বিবাহ, যেখানে বর এবং কনে পরস্পরের সম্মতি ও অভ্যন্তরীণ ইচ্ছায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতেন।
- পৈশাচ বিবাহ: এটি ছিল সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিবাহ, যেখানে কন্যার সম্মতি ছাড়াই, মদ্যপ বা নিদ্রিত অবস্থায় কন্যার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা হতো।
১৩.
বিধবার সম্পত্তিতে মহিলার কী ধরনের স্বার্থ থাকে?
  1. কোন স্বার্থ থাকে না
  2. একচ্ছত্র মালিকানা
  3. জীবন-স্বত্ব বা সীমিত স্বার্থ
  4. সম্পূর্ণ হস্তান্তরের অধিকার
সঠিক উত্তর:
জীবন-স্বত্ব বা সীমিত স্বার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবন-স্বত্ব বা সীমিত স্বার্থ
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: গ) জীবন-স্বত্ব বা সীমিত স্বার্থ

⇒ বিধবার সম্পত্তিতে মহিলার জীবন-স্বত্ব বা সীমিত স্বার্থ থাকে।
- অর্থাৎ, তিনি সম্পত্তির একচ্ছত্র মালিকানা লাভ করেন না, বরং তার উপর একটি সীমিত অধিকার থাকে।
- এটি হলো জীবনকালীন অধিকার, যার মাধ্যমে তিনি সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারেন, তবে সম্পত্তি বিক্রি বা সম্পূর্ণভাবে হস্তান্তর করতে পারেন না।
- এই অধিকারটি শুধুমাত্র তার জীবনের জন্য এবং সম্পত্তি শেষ হওয়ার পর তা অন্য উত্তরাধিকারীদের কাছে চলে যায়।

অন্যদিকে, একচ্ছত্র মালিকানা বা সম্পূর্ণ হস্তান্তরের অধিকার বিধবার সম্পত্তিতে মহিলার থাকে না, কারণ তিনি শুধু জীবনকালীন ব্যবহার করতে পারেন, সম্পূর্ণ মালিকানা বা হস্তান্তরের অধিকার তার নেই।
১৪.
দত্তক গ্রহণের প্রথা কোন প্রাচীন আইনব্যবস্থায় প্রচলিত ছিল?
  1. গ্রিক আইন
  2. রোমান আইন
  3. মিশরীয় আইন
  4. ব্যাবিলনীয় আইন
সঠিক উত্তর:
রোমান আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান আইন
ব্যাখ্যা
⇒ দত্তক গ্রহণের প্রথা প্রাচীন বিশ্বের বিভিন্ন সমাজে প্রচলিত থাকলেও এটি বিশেষভাবে রোমান আইন-এ স্বীকৃত ছিল।
- রোমান সাম্রাজ্যে দত্তক গ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হতো।
- রোমান আইনে দত্তক নেওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল উত্তরাধিকার নিশ্চিত করা এবং পরিবারে একজন যোগ্য উত্তরসূরির ব্যবস্থা করা।
- এটি কেবল পারিবারিক কাঠামো বজায় রাখার জন্যই নয়, বরং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ সংরক্ষণের জন্যও ব্যবহৃত হতো।

হিন্দু আইনের মতো রোমান আইনের দত্তক গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন ছিল।
রোমান সমাজে যদি কোনো ব্যক্তির প্রকৃত সন্তান না থাকত, তবে তিনি দত্তক নিয়ে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করতে পারতেন।
ফলে, দত্তকপ্রাপ্ত ব্যক্তি দত্তকদাতা পিতার নামে পরিচিত হতেন এবং তার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতেন।

অন্যদিকে, গ্রিক, মিশরীয় বা ব্যাবিলনীয় আইনে দত্তক গ্রহণের তেমন কোনো সুস্পষ্ট বিধান দেখা যায় না।
তাই রোমান আইনই দত্তক প্রথার একটি সুস্পষ্ট ভিত্তি তৈরি করেছে, যা পরবর্তীকালে বিভিন্ন আইনব্যবস্থায় প্রভাব ফেলেছে।
১৫.
Factum Valet মতবাদের অর্থ কী?
  1. যা করা উচিত, তা করা হলে তা বৈধ
  2. যা করা উচিত নয়, তা করা হলে তা অবৈধ
  3. যা করা উচিত নয়, তা করা হলে তা বৈধ
  4. যা করা উচিত, তা করা হলে তা অবৈধ
সঠিক উত্তর:
যা করা উচিত নয়, তা করা হলে তা বৈধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যা করা উচিত নয়, তা করা হলে তা বৈধ
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) যা করা উচিত নয়, তা করা হলে তা বৈধ।
→ Factum Valet একটি আইনি নীতি যা বলে, "যা করা উচিত নয়, তা করা হলে তা বৈধ বলে গণ্য হবে," যদি প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা বা বিধি অনুসরণ করা হয়। অর্থাৎ, কিছু নির্দিষ্ট বিধি বা নির্দেশনাবলী অমান্য করা হলেও, যদি সেই কাজটি যথাযথ ধর্মীয় বা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে করা হয়, তবে সেই কাজটি বৈধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

এই নীতি মূলত নির্দেশাত্মক বিধান (Directory provisions) এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেখানে আইনের সুপারিশ অনুসরণ না করেও, কাজটি একটি শর্তসাপেক্ষে বৈধ হতে পারে।

হিন্দু আইনে Factum Valet মতবাদ: 
- Factum Valet হল হিন্দু দায়ভাগা আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি, যা ল্যাটিন প্রবচন "Quod fieri non debet factum valet"-এর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
- এই প্রবচনের অর্থ হলো, "যা করা উচিত নয়, তা করা হয়ে গেলে তা বৈধ বলে গণ্য হবে।" এই নীতিটি হিন্দু আইনে ব্যাপকভাবে প্রযোজ্য এবং এটি নির্দিষ্ট আইনি বিধান লঙ্ঘন করেও কৃতকার্যকে বৈধতা দেয়।

আইনের বিধানের প্রকারভেদ:
আইনের বিধানগুলিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
নির্দেশাত্মক বিধান (Directory Provision):
- এই বিধানগুলি সুপারিশমূলক বা নির্দেশমূলক। এগুলি মানা বাঞ্ছনীয়, তবে এগুলি লঙ্ঘন করলে কৃতকার্য অবৈধ হয় না।
অবশ্য পালনীয় বিধান (Mandatory Provision):
- এই বিধানগুলি বাধ্যতামূলক। এগুলি লঙ্ঘন করলে কৃতকার্য অবৈধ বলে গণ্য হয় এবং তা বৈধ করা যায় না।
Factum Valet নীতি নির্দেশাত্মক বিধানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ, নির্দেশাত্মক বিধান লঙ্ঘন করে কোনো কাজ করা হলে, তা বৈধ বলে গণ্য হয়।
১৬.
হিন্দু আইনে পিতার মাতা এবং পিতার পিতার মাতা কী হিসেবে গণ্য হন?
  1. ট্রাস্টি
  2. নারী সপিণ্ড
  3. পুরুষ সপিণ্ড
  4. দূর সম্পর্কের আত্মীয়
সঠিক উত্তর:
নারী সপিণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারী সপিণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে হয়ে থাকে। এই মতবাদ অনুযায়ী, উত্তরাধিকার নির্ধারণের সময় মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণের জন্য আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ) অনুসরণ করা হয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বী একজন ব্যক্তি মারা গেলে, তার আত্মার সদ্‌গতি কামনা করে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। শেষকৃত্যের তিনটি প্রধান ধাপ রয়েছে:
১. পিণ্ডদান
২. পিণ্ডলেপ
৩. জলদান

⇒ মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিণ্ডদান করতে পারেন, তাকে ‘সপিণ্ড’ বলা হয়। সপিণ্ডরা মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রধান অধিকারী হিসেবে গণ্য হন। সপিণ্ডের মধ্যে মাতৃকুল ও পিতৃকুলের ঊর্ধ্বতন তিন পুরুষ, পুত্র ও কন্যার অধস্তন তিন পুরুষ এবং ঊর্ধ্বতন মাতৃ ও পিতৃকূলের ছয় পুরুষ—এরা পুরুষ সপিণ্ড হিসেবে পরিচিত। নারী সপিণ্ডের মধ্যে পাঁচটি ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত হন, যাঁরা হলেন:
১. বিধবা স্ত্রী
২. কন্যা
৩. মাতা
৪. পিতার মাতা
৫. পিতার পিতার মাতা।

⇒ পিতার মাতা এবং পিতার পিতার মাতা নারী সপিণ্ড হিসেবে গণ্য হন। সপিণ্ডরা মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধ ও পিণ্ডদান প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে, এবং এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, তারা মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রধান অধিকারীও হয়ে থাকেন। নারী সপিণ্ডের মধ্যে এই দুইজন অন্তর্ভুক্ত হন।
১৭.
কোন প্রক্রিয়া অনুযায়ী উত্তরাধিকারীগণ মৃত ব্যক্তির স্থলবর্তীরূপে সম্পত্তি প্রাপ্ত হন?
  1. উত্তরাধিকারী মনোনয়ন
  2. মাথাপিছু উত্তরাধিকার
  3. অংশপিছু উত্তরাধিকার
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
অংশপিছু উত্তরাধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অংশপিছু উত্তরাধিকার
ব্যাখ্যা
⇒ অংশপিছু উত্তরাধিকার (Succession per stirpes) হল এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে মৃত ব্যক্তির স্থলবর্তীরূপে (বা পরবর্তী প্রজন্মের সদস্যদের মাধ্যমে) উত্তরাধিকারীরা সম্পত্তি প্রাপ্ত হন।
- এর অর্থ হল, যখন কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হয়, তখন তার উত্তরাধিকারীরা মৃত ব্যক্তির স্থান পূর্ণ করে সম্পত্তির অংশ ভাগ করে নেয়।
- এই প্রক্রিয়াতে, মৃত ব্যক্তির পুত্র, পৌত্র বা আরও নিচের প্রজন্ম তার পিতার বা পূর্বসূরীর উত্তরাধিকারী হিসেবে তাদের অংশ লাভ করে, এবং এটি প্রতিটি প্রজন্মের জন্য সমানভাবে ঘটে।
এটি প্রতিনিধিত্ব মতবাদ (Doctrine of representation) এর ভিত্তিতে কাজ করে, যেখানে পরবর্তী প্রজন্ম (যেমন পৌত্র) তাদের পূর্বসূরীদের (যেমন পিতা) স্থল পূর্ণ করে সম্পত্তি লাভ করে। এর ফলে, মৃত ব্যক্তির সন্তান বা পুত্র তাদের পূর্বপুরুষের প্রতিনিধিত্ব করে সম্পত্তির অংশ পায়।
তাহলে, অংশপিছু উত্তরাধিকার এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীগণ তার স্থল বা অবস্থান থেকে অংশ গ্রহণ করে, এবং এটা প্রতিনিধিত্ব মতবাদ এর অধীনে চলে।
১৮.
দেবোত্তর সম্পত্তির আইনি মালিক কে?
  1. দানকারী
  2. সেবায়েত
  3. বিগ্রহ বা দেবমূর্তি
  4. মন্দির কমিটি
সঠিক উত্তর:
বিগ্রহ বা দেবমূর্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিগ্রহ বা দেবমূর্তি
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: গ) বিগ্রহ বা দেবমূর্তি।

- দেবোত্তর সম্পত্তির আইনি মালিক হলো বিগ্রহ বা দেবমূর্তি। এটি আইনের দৃষ্টিতে একটি বৈধ আইনি সত্তা বা জুডিশিয়াল পারসন হিসেবে বিবেচিত হয়।
- অর্থাৎ, দেবতার উদ্দেশ্যে দান করা সম্পত্তির আইনি মালিক সেই দেবতা বা বিগ্রহ।
- যদিও দেবতার পক্ষে সম্পত্তি পরিচালনা করার ক্ষমতা নেই, তাই দেবতার সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্ব সেবায়েত এর উপর থাকে।
- সেবায়েত দেবতার প্রতিনিধির মতো কাজ করেন, তবে তিনি দেবতার আইনি মালিকানা ধারণ করেন না, সেটি বরং বিগ্রহ বা দেবমূর্তি এরই থাকে।
১৯.
হিন্দু ধর্মের প্রাচীনতম উৎস বেদ কত ভাগে বিভক্ত?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. ছয়
সঠিক উত্তর:
চার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার
ব্যাখ্যা
বেদ বা শ্রুতি:
- বেদ হল হিন্দু ধর্মের প্রাচীনতম এবং মৌলিক ধর্মগ্রন্থ।
- এটি ঐশ্বরিক জ্ঞানের উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।
- প্রাচীনকালে দেবতাদের প্রদত্ত জ্ঞান, যা ঋষিগণ শুনেছিলেন এবং পরবর্তীকালে মহর্ষি কৃষ্ণদ্বৈপায়ন সংকলন করেন, তাই বেদ নামে পরিচিত।
- বেদ চার ভাগে বিভক্ত—
১) ঋগ্বেদ
২) যজুর্বেদ
৩) সামবেদ
৪) অথর্ববেদ
- এই চারটি বেদ একত্রে "শ্রুতি শাস্ত্র" নামে পরিচিত এবং এগুলো হিন্দু আইনের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
২০.
একজন হিন্দু ব্যক্তি কতটুকু সম্পত্তি উইল করতে পারেন?
  1. সমুদয় সম্পত্তি
  2. অর্ধেক সম্পত্তি
  3. এক-তৃতীয়াংশ সম্পত্তি
  4. এক-চতুর্থাংশ সম্পত্তি
সঠিক উত্তর:
সমুদয় সম্পত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদয় সম্পত্তি
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: ক) সমুদয় সম্পত্তি

- একজন হিন্দু ব্যক্তি তার সম্পত্তির সমুদয় অংশ উইল করতে পারেন। হিন্দুদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা নেই, যেমন মুসলমানদের ক্ষেত্রে এক-তৃতীয়াংশের বেশি উইল করা নিষিদ্ধ। তাই হিন্দু ব্যক্তি তার সমস্ত সম্পত্তি উইল করতে পারবেন। উইল করার ক্ষেত্রে আদালত থেকে উইল প্রবেট করতে হয়, যা আদালতের মাধ্যমে উইলের বৈধতা নিশ্চিত করা হয়।

উল্লেখ্য, 
- একজন মুসলিম তার সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত উইল করতে পারেন। এর মানে হলো, মৃত্যুর পর তাঁর দাফন-কাফন এবং দেনা পরিশোধের পর, তিনি তার সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের বেশি কাউকে উইল করতে পারবেন না। তবে, যদি অন্য ওয়ারিশদের সম্মতি থাকে, তাহলে সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের বেশি উইল করা সম্ভব। উইল কার্যকর হয় মৃত্যুর পর, তবে নাবালক সন্তানের ক্ষেত্রে, সেই দান সন্তান সাবালক হওয়ার পর হস্তান্তর করতে হবে।
২১.
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী কোন বর্ণের ক্ষেত্রে দত্তকী পুত্র স্বাভাবিক পুত্রের সমান অংশ পায়?
  1. শূদ্র
  2. বৈশ্য
  3. ব্রাহ্মণ
  4. ক্ষত্রিয়
সঠিক উত্তর:
শূদ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূদ্র
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, শূদ্র সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে দত্তকী পুত্র স্বাভাবিক পুত্রের সমান অংশ পায়।
- শূদ্র সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে দত্তকী পুত্রকে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বাভাবিক পুত্রের সমান অধিকার দেয়া হয়।
- অন্যদিকে, ব্রাহ্মণ, বৈশ্য, ও ক্ষত্রিয় সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে দত্তকী পুত্র সাধারণত সম্পত্তির এক ভাগ পায়, যা স্বাভাবিক পুত্রের অংশের তুলনায় কম।

এই বিধান মূলত হিন্দু আইন এবং ঐতিহাসিক সমাজ কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে, যেখানে শূদ্র সম্প্রদায়ের জন্য এই নিয়মের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, যেন তারা তাদের পুত্রকে সমান অধিকার প্রদান করতে পারে।
২২.
স্ত্রীধন এবং বিধবার সম্পত্তি সম্পর্কিত নিচের কোনটি সঠিক?
  1. স্ত্রীধন উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত হয়
  2. বিধবার সম্পত্তি স্ব-উপার্জিত
  3. স্ত্রীধনে মহিলার হস্তান্তরের অধিকার থাকে
  4. বিধবার সম্পত্তিতে মহিলার একচ্ছত্র মালিকানা থাকে
সঠিক উত্তর:
স্ত্রীধনে মহিলার হস্তান্তরের অধিকার থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ত্রীধনে মহিলার হস্তান্তরের অধিকার থাকে
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: গ) স্ত্রীধনে মহিলার হস্তান্তরের অধিকার থাকে।

→ স্ত্রীধন হলো সেই সম্পত্তি যা কোনো হিন্দু স্ত্রী তার পিতামাতার কাছ থেকে বা স্বামীর কাছ থেকে উপহার হিসেবে লাভ করেন, এবং তার উপর মহিলার একচ্ছত্র মালিকানা থাকে। অর্থাৎ, স্ত্রীর কাছে এই সম্পত্তি থাকে এবং তিনি তা ইচ্ছামতো হস্তান্তর বা বিক্রি করতে পারেন। 

→ বিধবার সম্পত্তি হলো সেই সম্পত্তি যা কোনো হিন্দু নারী তার স্বামীর থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পায়, এবং এর উপর সীমিত স্বার্থ থাকে। বিধবার সম্পত্তিতে মহিলার একচ্ছত্র মালিকানা থাকে না, অর্থাৎ তিনি সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারেন না, তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে এটি হস্তান্তর করা যেতে পারে।

→ তাহলে বলা যায়, স্ত্রীধনে মহিলার হস্তান্তরের অধিকার থাকে, কিন্তু বিধবার সম্পত্তিতে তা থাকে না। 
২৩.
সপিণ্ডের মধ্যে নারী সপিণ্ডের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয় কে?
  1. বিধবা স্ত্রী
  2. পিতার মাতা
  3. পিতার বোন
  4. পিতার পিতার মাতা
সঠিক উত্তর:
পিতার বোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিতার বোন
ব্যাখ্যা
⇒ নারী সপিণ্ডের তালিকায় পিতার বোন অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ নারী সপিণ্ডের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু সম্পর্কের ব্যক্তিরাই অন্তর্ভুক্ত হন।
সপিণ্ড বলতে সেই ব্যক্তিদের বোঝানো হয় যারা মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধ এবং শেষকৃত্য প্রক্রিয়ায় পিণ্ডদান করতে সক্ষম।
- নারী সপিণ্ডের মধ্যে ৫টি সম্পর্ক রয়েছে, যেমন:
১) বিধবা স্ত্রী
২) কন্যা
৩) মাতা
৪) পিতার মাতা
৫) পিতার পিতার মাতা
→ পিতার বোন এই তালিকায় নেই, কারণ পিতার বোন পিণ্ডদানকারী হিসেবে বিবেচিত হন না।
- এটি মূলত ঐতিহ্যগত হিন্দু আইনে প্রথাগত নির্ধারণ।
২৪.
হিন্দু আইনে দানের বৈধতা সম্পর্কে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. মৃত্যুর আশঙ্কায় কৃত দান অবৈধ
  2. দানের বিষয়বস্তুর দখল গ্রহীতার কাছে হস্তান্তরিত হতে হবে
  3. দান একবার করা হলে তা প্রত্যাহারযোগ্য
  4. উল্লিখিত সবগুলাই সঠিক
সঠিক উত্তর:
দানের বিষয়বস্তুর দখল গ্রহীতার কাছে হস্তান্তরিত হতে হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দানের বিষয়বস্তুর দখল গ্রহীতার কাছে হস্তান্তরিত হতে হবে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর:খ) দানের বিষয়বস্তুর দখল গ্রহীতার কাছে হস্তান্তরিত হতে হবে। 

→ হিন্দু আইনে, দানের মাধ্যমে সম্পত্তির মালিকানা স্বত্ব গ্রহীতার কাছে হস্তান্তরিত হওয়ার আগে, দানগ্রহীতা সেই সম্পত্তির দখল পেতে হবে। দানের বিষয়বস্তুর দখল দেওয়া ছাড়া দান কার্যকর হয় না।
- হিন্দু আইনে, দান সম্পন্ন হওয়ার জন্য দানগ্রহীতাকে সম্পত্তির দখল নিতে হবে। দান কেবল তখনই কার্যকর হয়, যখন দানগ্রহীতা সেই সম্পত্তির দখল গ্রহণ করেন। দানের মাধ্যমে মালিকানা হস্তান্তর ঘটে, তবে দানের বিষয়বস্তুর দখল নিলে তবেই সেটি আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে পূর্ণ হয়।

বাকি অপশনগুলির ব্যাখ্যা:
ক) মৃত্যুর আশঙ্কায় কৃত দান অবৈধ: এটি সঠিক নয়, কারণ মৃত্যুর আশঙ্কায় করা দান হিন্দু আইনে বৈধ হিসেবে গণ্য হয়।
গ) দান একবার করা হলে তা প্রত্যাহারযোগ্য: এটি সঠিক নয়, কারণ একবার দান করার পর তা প্রত্যাহার করা যায় না।

২৫.
হিন্দু আইনে দত্তক গ্রহণের প্রধান উদ্দেশ্য কয়টি?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
হিন্দু আইনে দত্তক গ্রহণ:
হিন্দু আইনের অধীনে অন্যের পুত্রকে নিজের পুত্র হিসেবে গ্রহণ করার প্রক্রিয়াকে দত্তক গ্রহণ বলা হয়। এটি একটি সুপ্রাচীন প্রথা, যা রোমান আইনেও প্রচলিত ছিল। তবে বর্তমানে হিন্দু আইন ছাড়া অন্যান্য আইনব্যবস্থায় দত্তক গ্রহণের তেমন কোনো বিধান নেই।
→ দত্তক গ্রহণের উদ্দেশ্য:- হিন্দু আইনে দত্তক গ্রহণের দুটি প্রধান উদ্দেশ্য রয়েছে—একটি ধর্মীয় এবং অপরটি পার্থিব।

(১) ধর্মীয় কারণ:
হিন্দু ধর্মশাস্ত্র মতে, পুত্রহীন ব্যক্তি মৃত্যুর পর স্বর্গ লাভ করতে পারে না। মুনি বশিষ্ঠ বলেছেন— "পুত্রহীনদের স্বর্গে কোনো স্থান নাই।"
একজন ব্যক্তি মৃত্যুর পর তার পুত্র, পৌত্র ও প্রপৌত্রের কাছ থেকে পিণ্ড (শ্রাদ্ধের অর্ঘ্য) লাভের অধিকারী হন। যদি কারও এই উত্তরাধিকারী না থাকে, তবে তিনি মৃত্যুর পর এ অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। তাই ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দত্তক গ্রহণের গুরুত্ব অপরিসীম।
(২) পার্থিব কারণ:
মানুষ তার বংশপরম্পরা বজায় রাখতে চায়। দত্তক নেওয়ার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি নিশ্চিত করতে পারেন যে তার নাম ও বংশ পরবর্তী প্রজন্মে বহাল থাকবে। তার মৃত্যুর পর তার দত্তকপুত্র উত্তরাধিকার বহন করবে, যা পার্থিব দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
২৬.
দেবোত্তর সম্পত্তির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কে পালন করেন?
  1. সরকার
  2. দানকারী
  3. সেবায়েত
  4. মন্দির কমিটি
সঠিক উত্তর:
সেবায়েত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেবায়েত
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: গ) সেবায়েত

- দেবোত্তর সম্পত্তির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব হলো সেবায়েতের। সেবায়েত হলেন সেই ব্যক্তি যিনি দেবতার পূজা, সেবা এবং সম্পত্তির যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
- যদিও দেবতা বা বিগ্রহ সম্পত্তির আইনি মালিক, তার পক্ষে নিজে তা পরিচালনা করা সম্ভব নয়, তাই সেবায়েতকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। 
- সেবায়েত, দেবতার প্রতিনিধির মতো কাজ করেন এবং সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ, পূজা-অর্চনা ইত্যাদি দায়িত্ব পালন করেন।
- সেবায়েতের দায়িত্ব, তার নিয়োগ এবং তার উত্তরাধিকার সাধারণত অর্পণনামা বা উৎসর্গপত্রে উল্লেখ থাকে।
২৭.
হিন্দু স্মৃতির মধ্যে কোনটি সবচেয়ে প্রাচীন?
  1. মনুস্মৃতি
  2. যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি
  3. নারদ স্মৃতি
  4. পরাশর স্মৃতি
সঠিক উত্তর:
মনুস্মৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনুস্মৃতি
ব্যাখ্যা
স্মৃতি:
স্মৃতি হল প্রাচীনকালের সামাজিক, নৈতিক ও আইনগত বিধান, যা প্রাথমিকভাবে গুরু-শিষ্য পরম্পরায় মুখে মুখে প্রচারিত হতো এবং পরবর্তীকালে গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ করা হয়।
হিন্দু আইনে উল্লেখযোগ্য স্মৃতিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১) মনুস্মৃতি
২) যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি
৩) নারদ স্মৃতি
৪) পরাশর স্মৃতি
স্মৃতিগুলোর মাধ্যমে হিন্দু সমাজের আচরণবিধি, অপরাধ ও শাস্তির নীতিমালা নির্ধারিত হয়।

⇒ মনুস্মৃতি হিন্দু স্মৃতিগুলোর মধ্যে প্রাচীনতম ও সর্বাধিক প্রভাবশালী।
-এটি মনু ঋষির নামানুসারে রচিত এবং হিন্দু সামাজিক, নৈতিক ও আইনগত বিধানগুলোর প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

বাকি অপশন গুলোর মধ্যে:
- যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি – এটি মনুস্মৃতির পরবর্তী এবং মূলত মিতাক্ষরা মতবাদের ভিত্তি হিসেবে পরিচিত।
- নারদ স্মৃতি – এটি মূলত ধর্ম, শাস্তি ও বিচারব্যবস্থা সংক্রান্ত বিধান নিয়ে লেখা এবং তুলনামূলকভাবে পরে রচিত।
- পরাশর স্মৃতি – এটি প্রধানত কালচক্র অনুযায়ী ধর্মীয় বিধানের পরিবর্তন সম্পর্কিত এবং তুলনামূলকভাবে পরে রচিত।

সুতরাং, হিন্দু স্মৃতির মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন হলো "মনুস্মৃতি"।
২৮.
বিধবার সম্পত্তি হস্তান্তর করা যায় না, তবে কোন ক্ষেত্রে হস্তান্তর করা যায়?
  1. ধর্মীয় উদ্দেশ্যে
  2. যেকোনো প্রয়োজনে
  3. ব্যক্তিগত প্রয়োজনে
  4. পরিবারের অনুমতিতে
সঠিক উত্তর:
ধর্মীয় উদ্দেশ্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মীয় উদ্দেশ্যে
ব্যাখ্যা
→ বিধবার সম্পত্তিতে মহিলার কোনো একচ্ছত্র মালিকানা নেই, এবং তিনি ইচ্ছামতো তা বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারেন না।
- অর্থাৎ বিধবার সম্পত্তি সাধারণত হস্তান্তর করা যায় না, তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে, যেমন ধর্মীয় উদ্দেশ্যে, বিধবার সম্পত্তি হস্তান্তর করা যেতে পারে।
- এছাড়া, আইনগত প্রয়োজনে এবং সম্পত্তির হিতার্থে বা মঙ্গলে তা হস্তান্তর করা সম্ভব।
-তবে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বা পরিবারের অনুমতিতে বিধবার সম্পত্তি হস্তান্তর করা যায় না।
২৯.
প্রথা থেকে কোনটি আইনের মর্যাদা পাওয়ার জন্য উপযুক্ত নয়?
  1. যে প্রথাটি সুপ্রাচীন এবং সুনিশ্চিত
  2. যে প্রথাটি নৈতিকতা বিরোধী
  3. যে প্রথাটি আইনসভা কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়নি
  4. যে প্রথাটি প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু রয়েছে
সঠিক উত্তর:
যে প্রথাটি নৈতিকতা বিরোধী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে প্রথাটি নৈতিকতা বিরোধী
ব্যাখ্যা
⇒ প্রথা আইনের মর্যাদা পেতে হলে, তার মধ্যে কয়েকটি শর্ত থাকতে হবে। একটি প্রথা যদি নৈতিকতা বিরোধী হয় বা সাধারণ সমাজিক নিয়মের পরিপন্থি হয়, তবে সেটি আইনের মর্যাদা পেতে সক্ষম হবে না।
- অর্থাৎ, সমাজের সাধারণ ভালবাসা ও নৈতিকতার বিরুদ্ধে যেসব প্রথা চলে, তা আইনি স্বীকৃতি লাভ করবে না।
- উদাহরণস্বরূপ, সতীদাহ প্রথা, যা এক সময় হিন্দু সমাজে প্রচলিত ছিল, তা আইনে নিষিদ্ধ হয়ে গেছে কারণ এটি সমাজের নৈতিকতার বিরুদ্ধে ছিল।

⇒ প্রথা হলো এমন একটি নিয়ম বা রীতি যা একটি বিশেষ পরিবার, শ্রেণী, বা অঞ্চলে অনেক দিন ধরে প্রচলিত এবং আইনের মর্যাদা অর্জন করেছে। প্রথা এবং লিখিত আইনের মধ্যে বিরোধ হলে, প্রথা বেশি শক্তিশালী হতে পারে।
⇒ আইনের মর্যাদা পেতে প্রথার শর্ত:
- সুপ্রাচীন, সুনিশ্চিত, যুক্তিযুক্ত এবং সুপ্রমাণিত হতে হবে: প্রথাটি অনেক পুরনো এবং প্রমাণিত হতে হবে।
- নৈতিকতা বিরোধী বা সাধারণ নিয়মের পরিপন্থি না হওয়া: প্রথাটি সমাজের নৈতিকতার বিরুদ্ধে বা আইন বিরোধী হতে পারবে না।
- আইনসভা কর্তৃক নিষিদ্ধ না হওয়া: প্রথাটি যদি কোনো আইন দ্বারা নিষিদ্ধ হয়, তবে তা আইনের মর্যাদা পাবে না।
- অব্যাহতভাবে চালু থাকতে হবে: প্রথাটি দীর্ঘকাল ধরে চালু থাকতে হবে এবং হঠাৎ বন্ধ হওয়া উচিত নয়।
৩০.
বিধবার সম্পত্তি বলতে কী বোঝায়?
  1. স্ব-উপার্জিত সম্পত্তি
  2. পিতার কাছ থেকে প্রাপ্ত সম্পত্তি
  3. স্বামীর কাছ থেকে পাওয়া স্ত্রীধন
  4. স্বামীর কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি
সঠিক উত্তর:
স্বামীর কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বামীর কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি
ব্যাখ্যা
বিধবার সম্পত্তি:
যে হিন্দু স্ত্রী তার স্বামীর কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পত্তি লাভ করেন, সেটি বিধবার সম্পত্তি হিসেবে পরিচিত।
- স্ত্রীধন ও বিধবার সম্পত্তি এক নয়। বিধবার সম্পত্তি হলো সেই সম্পত্তি, যা কোনো নারী তার স্বামীর থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পায়; কিন্তু এটি স্ত্রীধনের অন্তর্ভুক্ত নয়।
- স্ত্রীধনতে মহিলার একচ্ছত্র মালিকানা থাকে এবং তিনি ইচ্ছেমতো তা হস্তান্তর করতে পারেন। কিন্তু বিধবার সম্পত্তিতে মহিলার মালিকানা সীমিত, অর্থাৎ তিনি কেবল জীবন-স্বত্ব বা সীমিত স্বার্থ অর্জন করেন।
এর মানে হলো, বিধবার সম্পত্তিতে মহিলার কোনো একচ্ছত্র মালিকানা নেই, এবং তিনি ইচ্ছামতো তা বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারেন না। তবে, কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে বিধবার সম্পত্তি চূড়ান্তভাবে হস্তান্তর করা সম্ভব,যেমন:
১) ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে
২) আইনগত প্রয়োজনে
৩) সম্পত্তির সুষ্ঠু ব্যবহারের জন্য বা মঙ্গলে
৩১.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ অনুযায়ী, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের উপর কোন প্রতিষ্ঠান তত্ত্বাবধান করবে?
  1. পারিবারিক আদালত
  2. জেলা প্রশাসন
  3. জেলা রেজিস্ট্রার
  4. সিটি কর্পোরেশন
সঠিক উত্তর:
জেলা রেজিস্ট্রার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেলা রেজিস্ট্রার
ব্যাখ্যা
⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ধারা ১৩(১) অনুযায়ী, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের উপর জেলা রেজিস্ট্রার তত্ত্বাবধান এবং নিয়ন্ত্রণ করবে। জেলা রেজিস্ট্রার তার দপ্তরের অধীন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের দায়িত্ব এবং কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

⇒  হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ ধারা ১৩ তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ, ইত্যাদি:
(১) প্রত্যেক হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা রেজিস্ট্রারের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে থাকিয়া তাহার দাপ্তরিক ও অর্পিত দায়িত্ব সম্পন্ন করিবেন। 
(২) হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকগণের উপর মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন এর সাধারণ তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা থাকিবে। 
(৩) জেলা রেজিস্ট্রার তাহার স্থানীয় অধিক্ষেত্র এলাকায় যে কোন সময় যে কোন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের কার্যালয় পরিদর্শন করিতে পারিবেন। 

ব্যাখ্যা: এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে “মহাপরিদর্শক” অর্থ Registration Act, 1908 এর অধীন নিযুক্ত মহাপরিদর্শক নিবন্ধন, বা তদকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা।
৩২.
Factum Valet নীতি অনুযায়ী, একমাত্র পুত্রকে দত্তক দেওয়া হলে তা কী হবে?
  1. বৈধ
  2. অবৈধ
  3. শর্তসাপেক্ষে বৈধ
  4. আদালতের অনুমতি প্রয়োজন
সঠিক উত্তর:
বৈধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈধ
ব্যাখ্যা
→ Factum Valet নীতি অনুযায়ী, শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে একমাত্র পুত্রকে দত্তক দেওয়া নিষিদ্ধ, তবে যদি এই বিধান উপেক্ষা করে একমাত্র পুত্রকে দত্তক দেওয়া হয়, তবে তা অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে না। তবে এ ধরনের কাজ করতে হলে প্রয়োজনীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করতে হয়।
অর্থাৎ Factum Valet নীতি অনুযায়ী, একমাত্র পুত্রকে দত্তক দেওয়া হলে তা বৈধ হবে। 

- Factum Valet মতবাদ, হিন্দু আইন অনুসারে, এমন একটি নীতি যা নির্দেশ করে যে, কোনো কার্য বা কাজ আইনত নিষিদ্ধ হলেও তা যদি বাস্তবে সংঘটিত হয়, তবে তা বৈধ বলে গণ্য হতে পারে।
- অর্থাৎ, যে কাজটি আইনত বা শাস্ত্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ বা অশুদ্ধ বলে ধরা হয়, সেটি যদি বাস্তব জীবনে ঘটতে থাকে, তবে তা ওই সময়ের পরিস্থিতি অনুযায়ী বৈধতা লাভ করে।
৩৩.
নিম্নলিখিত কোনটি বেদের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. গীতা
  2. ঋগ্বেদ
  3. যজুর্বেদ
  4. সামবেদ
সঠিক উত্তর:
গীতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গীতা
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর হলো: গীতা।

⇒ বেদ হলো হিন্দু ধর্মের প্রাচীনতম ধর্মগ্রন্থ, যা "শ্রুতি" হিসেবে পরিচিত।
বেদ চারটি —
১) ঋগ্বেদ – দেবতাদের স্তোত্র ও মন্ত্র সংকলন।
২) যজুর্বেদ – যজ্ঞ ও ধর্মীয় আচারবিধি সম্পর্কিত বিধান।
৩) সামবেদ – সঙ্গীত ও স্তোত্রের সংকলন।
৪) অথর্ববেদ – জাদু-টোনা, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন জীবনের অনুশাসন সংক্রান্ত।

⇒ উল্লিখিত প্রশ্নে গীতা (Bhagavad Gita) বেদের অন্তর্ভুক্ত নয়।
- এটি মহাভারতের অংশ এবং হিন্দু দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হলেও এটি "শ্রুতি" নয়, বরং "স্মৃতি" শাস্ত্রের অন্তর্গত।
৩৪.
প্রজাপত্য বিবাহে কনের পিতা বরের কাছ থেকে কী গ্রহণ করতেন?
  1. পণ
  2. গাভী
  3. অলঙ্কার
  4. কিছুই না
সঠিক উত্তর:
কিছুই না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিছুই না
ব্যাখ্যা
উত্তর: ঘ) কিছুই না।
→ প্রজাপত্য বিবাহে কনের পিতা বরের কাছ থেকে কোন পণ গ্রহণ করতেন না।
- এই বিবাহে কনের পিতা কন্যাকে বরের হাতে দান করতেন এবং তাদের আশীর্বাদ দিতেন, যাতে তারা একসঙ্গে সুখী দাম্পত্য জীবন কাটাতে পারেন।
- এটি একটি অত্যন্ত পবিত্র এবং অনুপ্রাণিত বিবাহ ছিল, যেখানে কোনো অর্থনৈতিক বা পার্থিব স্বার্থ ছিল না, শুধুমাত্র বিশ্বাস এবং শুভ কামনা ছিল।

⇒ হিন্দু সমাজে দায়ভাগ ও মিতাক্ষরা অনুযায়ী আট প্রকার বিবাহ প্রচলিত ছিল, যার মধ্যে প্রথম চারটি সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং পরবর্তী চারটি অবৈধ বা অননুমোদিত ছিল।
- এই বিবাহের প্রকারভেদ নিম্নরূপ:
অনুমোদিত ৪ প্রকার বিবাহ:
ব্রাহ্ম বিবাহ: এটি সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বিবাহ পদ্ধতি, যেখানে একটি অলঙ্কৃত, শিক্ষিত এবং চরিত্রবান কন্যাকে কোনও পণ ছাড়াই, ব্রাহ্মণ পুরুষের হাতে তুলে দেয়া হতো।
দৈব বিবাহ: এই বিবাহে, কন্যাকে যজ্ঞ সম্পাদনকারী পুরোহিতের কাছে প্রদান করা হতো।
আর্য বিবাহ: এই পদ্ধতিতে, কনের পিতা বরের কাছ থেকে এক বা দুটি গাভী গ্রহণ করতেন, যা পণ হিসেবে ছিল।
প্রজাপত্য বিবাহ: এখানে, কনের পিতা বরের কাছ থেকে কোনো পণ না নিয়ে কন্যা প্রদান করতেন এবং তাদের আশীর্বাদ দিতেন যাতে তারা সুখী দাম্পত্য জীবন কাটাতে পারেন।
অননুমোদিত ৪ প্রকার বিবাহ:
অসুর বিবাহ: এই বিবাহে বর কনের পিতা বা অভিভাবকের কাছ থেকে কন্যাকে টাকা দিয়ে ক্রয় করতেন।
রাক্ষস বিবাহ: এই ধরনের বিবাহে, কন্যার আত্মীয়দের মারধর করে এবং তারা বিরোধী অবস্থায় থাকলেও, বর কন্যাকে জোরপূর্বক নিয়ে আসতেন।
গন্ধর্ব বিবাহ: এটি একটি সম্মতিপূর্ণ বিবাহ, যেখানে বর এবং কনে পরস্পরের সম্মতি ও অভ্যন্তরীণ ইচ্ছায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতেন।
পৈশাচ বিবাহ: এটি ছিল সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিবাহ, যেখানে কন্যার সম্মতি ছাড়াই, মদ্যপ বা নিদ্রিত অবস্থায় কন্যার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা হতো।