পরীক্ষা আর্কাইভ

ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্স

পরীক্ষাব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্সতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন১৭
সিলেবাস
Bangla - 05: বাক্যের শ্রেণি বিভাগ, বাক্য রূপান্তর, প্রত্যয়, উক্তি
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্স

ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্স · তারিখ অনির্ধারিত · ১৭ প্রশ্ন

.
'দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য' বাক্যের জটিল রূপ কোনটি?
  1. ক) তারা দুর্জন বলেই পরিত্যাজ্য।
  2. খ) তারা দুর্জন এবং তারা পরিত্যাজ্য।
  3. গ) যেসব লােক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
বাক্যের মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে সরল, জটিল ও যৌগিক বাক্যের পারস্পরিক রূপান্তর করা সম্ভব।

সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম: 
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন -
সরল বাক্য: দুর্জন লােক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লােক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করােনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
.
কোনটি সার্থক বাক্যের গুণ নয়?
  1. ক) আকাঙ্ক্ষা
  2. খ) আসত্তি
  3. গ) যােগ্যতা
  4. ঘ) সিদ্ধতা
ব্যাখ্যা
সার্থক বাক্যের গুণ বা বৈশিষ্ট্য:
একটি বাক্যকে সার্থক ও শুদ্ধ হতে হলে কতগুলাে গুণ বা বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার।
এগুলাে হচ্ছে- 
- আকাঙ্ক্ষা
- আসত্তি এবং
- যােগ্যতা

আকাক্ষা: ‘আকাক্ষা' শব্দের আভিধানিক অর্থ- ইচ্ছা, বাসনা। বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণরূপে স্পষ্টভাবে বােঝার জন্য একপদের পর অন্য পদ শােনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা। 

আসত্তি : আসত্তি শব্দের অর্থ নৈকট্য। মনােভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলি এমনভাবে পরপর সাজাতে হবে যাতে পরস্পরের মধ্যে সম্পর্ক থাকে এবং ভাষার নিয়ম অনুযায়ী নৈকট্য থাকে।

যােগ্যতা : বাক্যের পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নামই যােগ্যতা। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি।'- বাক্যের সরল রূপ কোনটি?
  1. ক) সত্য কথা বলে বিপদে পরলাম।
  2. খ) সত্য কথা বললাম এবং বিপদে পড়লাম।
  3. গ) যেহেতু আমি সত্য কথা বলিনি তাই আমাকে বিপদে পরতে হলো।
  4. ঘ) সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
ব্যাখ্যা
'সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি।' বাক্যের সরল রূপ- 
'সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।'

যৌগিক বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সূত্র :
১. বাক্য পরিবর্তন হলেও বাক্যের মূল অর্থের পরিবর্তন হয় না।
২. বাক্যটিকে একটি অংশে পরিণত করতে হয়।
৩. প্রধান খণ্ডবাক্যের সমাপিকা ক্রিয়াকে অপরিবর্তিত রাখতে হয়।
৪. আশ্রিত খণ্ডবাক্যের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় পরিণত করতে হয়।
৫. সংযােজক, বিয়ােজক ও ব্যতিরোত্মক ইত্যাদি অব্যয় পদ থাকলে তা বর্জন করতে হয়।

যেমন:
যৌগিক বাক্য: তুমি আসবে এবং আমি যাবাে।
সরল বাক্য: তুমি এলে আমি যাব।
যৌগিক: ছেলেটি গরিব কিন্তু মেধাবী।
সরল: ছেলেটি গরিব হলেও মেধাবী।
যৌগিক: আকাশে মেঘ ছিল না, কিন্তু বজ্রপাত হলাে।
সরল: আকাশে মেঘ না থাকা সত্ত্বেও বজ্রপাত হলাে।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরােক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কোন ধরনের শব্দের পরিবর্তন হয়?
  1. ক) কালবাচক
  2. খ) স্থানবাচক
  3. গ) ভাববাচক
  4. ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরােক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন -
প্রত্যক্ষ উক্তি: লােকটি বললেন, “আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।”
পরােক্ষ উক্তি: লােকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
.
নিম্নের কোনটি গুণের সূত্র?
  1. ক) অ-স্থলে আ
  2. খ) ই/ঈ-স্থলে ঐ
  3. গ) উ/ঊ-স্থলে ও
  4. ঘ) ঋ-স্থলে আর
ব্যাখ্যা
প্রত্যয় নিষ্পন্ন শব্দের গুণ ও বৃদ্ধি:
প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের ধারণা রূপতত্ত্বের বিষয় হলেও কখনও কখনও তা শব্দ গঠনে ধ্বনিতত্ত্বকে সংশ্লিষ্ট করে।
মূলত, সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত শব্দের ক্ষেত্রেই এরূপ দেখা যায়।
কখনও কখনও লক্ষ করা যায় যে, নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে প্রকৃতি অংশের আদিস্বরের পরিবর্তন ঘটে।
এই পরিবর্তন নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে। এই নিয়মদ্বয়কেই যথাক্রমে গুণ ও বৃদ্ধি নামে অভিহিত করা হয়।
নিচে গুণ ও বৃদ্ধি ঘটার সূত্র উল্লেখ করা হলাে :

গুণ
⇒ ই/ঈ-স্থলে এ - √চিন্+আ= চেনা, নী+আ= নেওয়া
⇒ উ/ঊ-স্থলে ও - √ধু+আ= ধােয়া
⇒ ঋ-স্থলে অর্‌ -  √কৃ+তা = কর্‌তা > কর্তা >ক্রেতা   

বৃদ্ধি
⇒ অ-স্থলে আ - √পচ্+ণক(অক) = পাচক 
⇒ ই/ঈ-স্থলে ঐ - √শিশু+ষ্ণ = শৈশব
⇒ উ/ঊ-স্থলে ঔ - √যুব্‌+অন= যৌবন
⇒ ঋ-স্থলে আর - √কৃ+ঘ্যণ(য-ফলা)= কার্য

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোনটি বাক্যের প্রধান অংশ নয়?
  1. ক) কর্তা
  2. খ) কারক
  3. গ) কর্ম
  4. ঘ) ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
সাধারণ বাক্যের প্রধান তিনটি অংশ:
- কর্তা,
- কর্ম ও
- ক্রিয়া।

- বাক্যের ক্রিয়াকে যে চালায়, সে হলাে কর্তা।
- যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে বলে কর্ম।
- আর বাক্যের মধ্যে যে অংশ দিয়ে কোনাে কিছু করা, ঘটা বা হওয়া বােঝায় তাকে বলে ক্রিয়া।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
.
নিম্নের কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. ক) ভাবী
  2. খ) সত্যবাদী
  3. গ) মানব
  4. ঘ) বিনয়
ব্যাখ্যা
শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলােকে প্রত্যয় বলে।
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলােকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
- তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে তদ্ধিতান্ত শব্দ।
অন্যদিকে, ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলােকে কৃৎপ্রত্যয় বলে। 
- কৃপ্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ। 

মানব = মনু + অ = তদ্ধিত প্রত্যয়
ভাবী = √ভূ+ইন্‌ = কৃৎ প্রত্যয়
সত্যবাদী = সত্য+√বদ্‌+ইন্‌ = কৃৎ প্রত্যয়
বিনয় = বি+নী+অ = কৃৎ প্রত্যয়


উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
প্রত্যয় সাধিত শব্দ 'দখিনা' কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) যুক্ত অর্থে
  2. খ) ভাব অর্থে
  3. গ) আগত অর্থে
  4. ঘ) নৈপুণ্য অর্থে
ব্যাখ্যা
প্রত্যয় যোগ করলে শব্দের অর্থ অনেক সময় বদলে যায়- 
'দখিন → দখিনা' প্রত্যয় সাধিত শব্দটি 'আগত অর্থে' ব্যবহৃত হয়েছে।

- যুক্ত অর্থে: টাক  → টেকো।
- ভাব অর্থে: ইতর → ইতরামি।
- নৈপুণ্য অর্থে: না → নেয়ে।
- অবজ্ঞা অর্থে: চোর→চোরা। 
- বৃহৎ অর্থে: ডিঙি → ডিঙা।
- পেশা অর্থে: ডাক্তার → ডাক্তারি।
- মালিক অর্থে: জমিদার → জমিদারি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
.
'তুমি ধনী কিন্তু উদার নও' - বাক্যের জটিল রূপ কোনটি?
  1. ক) ধনী হলেও তুমি উদার নও।
  2. খ) যদিও তুমি ধনী তবুও উদার নও।
  3. গ) ধনী হলেও সকলে উদার হতে পারে না।
  4. ঘ) তুমি ধনী এবং তুমি উদার নও।
ব্যাখ্যা
'তুমি ধনী কিন্তু উদার নও।'- যৌগিক বাক্যের জটিল রূপ 
- 'যদিও তুমি ধনী তবুও উদার নও।'

যৌগিক বাক্যকে জটিল বাক্যে পরিবর্তনের সূত্র:
১. বাক্যটিকে দুটি অংশে বিভক্ত করতে হবে।
২. সংযােজক, বিয়ােজক ও ব্যতিরেকাত্মক অব্যয় পদের বিলুপ্তি ঘটাতে হবে।
৩. নিরপেক্ষ খণ্ডবাক্যগুলাের মধ্যে একটিকে প্রধান রেখে অন্যান্য খণ্ডবাক্যগুলােকে অপ্রধান বা আশ্রিত বাক্যে পরিণত করতে হবে।
৪. নিরপেক্ষ বাক্য দুটির পূর্বে সম্বন্ধসূচক অব্যয় পদ ব্যবহার করতে হয়।

যেমন:
যৌগিক : মনােযােগ দিয়ে পড়াশােনা কর, তবে পাস করতে পারবে।
জটিল : যদি মনােযােগ দিয়ে পড়াশােনা কর, তবে পাস করতে পারবে।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়ার অবস্থানের ভিত্তিতে বাক্যকে কয় ভাগে বিভক্ত করা যায়?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাঁচ
ব্যাখ্যা
বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্যকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়: সক্রিয় বাক্য ও অক্রিয় বাক্য।

- সক্রিয় বাক্য: যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে সেগুলােকে সক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন - আমার মা চাকরি করেন।

- অক্রিয় বাক্য: যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে না, সেগুলােকে অক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন - তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।
তবে অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের প্রয়ােগে এগুলাে সক্রিয় বাক্য হয়ে যায়।
যেমন – 'তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন’ বা ‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন।'

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১১.
'এরা অন্য জাতের মানুষ।' - এ বাক্যের প্রশ্নবাচক রূপ কোনটি?
  1. ক) এরা কোন জাতের মানুষ?
  2. খ) আপনি কি জানেন, এরা কোন জাতের মানুষ?
  3. গ) এরা ভিন্ন গ্রহের মানুষ?
  4. ঘ) এরা কি অন্য জাতের মানুষ নয়?
ব্যাখ্যা
'এরা অন্য জাতের মানুষ।' - বাক্যের প্রশ্নবাচক রূপ-
'এরা কি অন্য জাতের মানুষ নয়?'

অস্তিবাচক বাক্যকে প্রশ্নবাচক বাক্যে রূপান্তরের সূত্র :
১. মৌলিক বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে বাক্য পরিবর্তন করতে হয় ।
২. কর্তার পরে প্রশ্নবাচক অব্যয় ব্যবহার করতে হয়।
৩. ক্রিয়ার পরে নঞর্থক অব্যয় ব্যবহার করতে হয়।
৪. বাক্য শেষে প্রশ্নবােধক জিজ্ঞাসা চিহ্ন (?) ব্যবহার করতে হয়
যেমন: অস্তিবাচক : ফুলকে সকলেই ভালােবাসে।
প্রশ্নবাচক : ফুলকে কি সকলেই ভালােবাসে না?
অস্তিবাচক ; শৈশবে তার বাবা মারা যান।
প্রশ্নবাচক : শৈশবে কি তার বাবা মারা যাননি?
অস্তিবাচক : বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।
প্রশ্নবাচক : বাংলাদেশ কি একটি উন্নয়নশীল দেশ নয়?

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
'কাল যদি বৃষ্টি হয়, তবে স্কুল বন্ধ থাকবে' কোন প্রকার বাক্যের উদাহরণ?
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) সংযুক্ত বাক্য
ব্যাখ্যা
আলোচ্য বাক্যটি জটিল বাক্যের উদাহরণ। 

মিশ্র বা জটিল বাক্য:
কোনাে কোনাে বাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় অর্থাৎ কর্তা ও সমাপিকা ক্রিয়া ছাড়া এক বা একাধিক অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকতে পারে। এই অপ্রধান খণ্ডাংশ মূল বাক্যেরই অংশ।
- এ ধরনের বাক্যকে মিশ্র বাক্য বলে।
যেমন- 'সে যদি আসে তবে আমি খাব।' বাক্যটিতে 'সে যদি আসে’ অপ্রধান খণ্ডবাক্য আর “তবে আমি খাব প্রধান খণ্ডবাক্য।

জটিল বাক্য প্রধানত তিন প্রকার। যথা
ক. আশ্রয়-আশ্রিত জটিল বাক্য
খ. সাপেক্ষ-পদযুক্ত জটিল বাক্য ও
গ. প্রতি-নির্দেশক সর্বনামযুক্ত জটিল বাক্য।

আশ্রয়-আশ্রিত জটিল বাক্য: যে জটিল বাক্যের আশ্রিত খণ্ডবাক্যটি প্রধান খণ্ডবাক্যের আশ্রয়ে থাকে এবং প্রধান খণ্ডবাক্যের সম্পূরক রূপে কাজ করে তাকে আশ্রয়-আশ্রিত জটিল বাক্য বলে।
যেমন- নিপা যে আসবে, তা বলা যায় না।

সাপেক্ষ-পদযুক্ত জটিল বাক্য: যে জটিল বাক্যের আশ্রিত খণ্ডবাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের বিধেয় ক্রিয়া সংগঠনের উপর নির্ভর করে, তাকে সাপেক্ষ-পদযুক্ত জটিল বাক্য বলে।
যেমন- ‘কাল যদি বৃষ্টি হয়, তবে স্কুল বন্ধ থাকবে।'
এ ধরনের জটিল বাক্যের প্রধান খণ্ডবাক্যে সাধারণত সাপেক্ষ অব্যয় ‘যদি’ এবং আশ্রিত খণ্ডবাক্যে ‘তাহলে / তবে / না হয় ইত্যাদি যুক্ত থাকে।

প্রতি-নির্দেশক সর্বনামযুক্ত জটিল বাক্য: যখন-তখন, যা-তা, যাহা-তাহা, যার-তার, যেখানে-সেখানে, যথা-তথা ইত্যাদি প্রতিনির্দেশক সর্বনাম ব্যবহার করে জটিল বাক্য গঠন করলে। তাকে প্রতিনির্দেশক সর্বনাম যুক্ত জটিল বাক্য বলে।
যেমন- ‘যখন রােদ উঠল, তখন আমরা বাড়ি পৌছে গেছি।'

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
পরােক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করতে ভাব অনুযায়ী ক্রিয়ার পরিবর্তন করতে হয় কোন প্রকার বাক্যে?
  1. ক) প্রশ্নসূচক
  2. খ) অনুজ্ঞাসূচক
  3. গ) আবেগসূচক
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন, অনুজ্ঞা ও আবেগসূচক প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরােক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করতে ভাব অনুযায়ী ক্রিয়ার পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন -
প্রত্যক্ষ উক্তি: মা আমাকে বললেন, “তােমাদের স্কুলে গ্রীষ্মের ছুটি হবে কবে?”
পরােক্ষ উক্তি: মা আমার কাছে জানতে চাইলেন কবে আমাদের স্কুলে গ্রীষ্মের ছুটি হবে।
প্রত্যক্ষ উক্তি: লােকটি আমাকে বললেন, 'অনুগ্রহ করে আপনি সামনের আসনে বসুন।'  
পরােক্ষ উক্তি: লােকটি আমাকে সামনের আসনে বসতে অনুরােধ করলেন।
প্রত্যক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলে উঠলাে, 'বাহ! কী সুন্দর বাড়ি।'
পরােক্ষ উক্তি: ছেলেটি আনন্দের সঙ্গে বললাে যে, বাড়িটি খুব সুন্দর।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৪.
'চল, খেলার মাঠে ফুটবল খেলি আসি।' কোন প্রকার বাক্য?
  1. ক) বিস্ময়সূচক
  2. খ) বিবৃতিমূলক
  3. গ) ইচ্ছাসূচক
  4. ঘ) অনুজ্ঞাসূচক
ব্যাখ্যা
আলোচ্য বাক্যটি অনুজ্ঞাসূচক বাক্যের উদাহরণ- 

অনুজ্ঞাসূচক বাক্য:
 
যে বাক্যের সাহায্যে আদেশ, উপদেশ, অনুরােধ, নিষেধ, প্রস্তাব ইত্যাদি প্রকাশিত হয় তাকে বলা হয় অনুজ্ঞাসূচক বাক্য।
যেমন
আদেশ : এখান থেকে বিদায় হও।
অনুরােধ : দয়া করে আমার কাজটি করে দাও।
উপদেশ : অযথা সময় নষ্ট করাে না।
নিষেধ : অনুমতি ছাড়া কখনও তার ঘরে প্রবেশ করাে না।
প্রস্তাব : চল, খেলার মাঠে ফুটবল খেলি আসি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
'সকল সুধীমণ্ডলী উপস্থিত আছেন' বাক্যটি কোন কারনে অশুদ্ধ?
  1. ক) গুরুচণ্ডালী দোষ
  2. খ) বাহুল্য দোষ
  3. গ) উপমার ভুল প্রয়োগ
  4. ঘ) দুর্বোধ্যতা
ব্যাখ্যা
'সকল সুধীমণ্ডলী উপস্থিত আছেন' বাক্যটিতে বাহুল্য দোষ ঘটেছে। 
এর সঠিক রূপ - সুধীমণ্ডলী উপস্থিত আছেন।

বাহুল্য দোষ:
প্রয়ােজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং শব্দ তার যােগ্যতা গুণ হারিয়ে ফেলে।
যেমন- দেশের সব শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।
বাংলা ভাষায় একই বাক্যে দুইবার বহুবচন ব্যবহৃত হয় না।
দুইবার বহুবচন বাচক চিহ্ন বা শব্দ ব্যবহার করলে শব্দ বাহুল্য দোষে দুষ্ট হয়।
বাক্যটি হবে দেশের সব শিক্ষক এখানে উপস্থিত হয়েছেন অথবা দেশের শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬.
'কর্ম' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) কৃ+ম
  2. খ) কৃ+মন্‌
  3. গ) √কৃ+ম
  4. ঘ) √কৃ+মন্‌
ব্যাখ্যা
কর্ম (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ। 
- সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = √কৃ+মন্‌ 
অর্থ: 
- যা করা হয়, কাজ, ক্রিয়া, অনুষ্ঠান।
- সার্থকতা, উপযোগিতা। 
- জীবিকা, বৃত্তি।
- কারকবিশেষ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৭.
গুরুচণ্ডালী দোষ কখন ঘটে?
  1. ক) দেশীয় শব্দের সঙ্গে বিদেশী শব্দের মিলনে
  2. খ) দেশীয় শব্দের সঙ্গে তদ্ভব শব্দের মিলনে
  3. গ) দেশীয় শব্দের সঙ্গে অর্ধতৎসম শব্দের মিলনে
  4. ঘ) দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলনে
ব্যাখ্যা
গুরুচণ্ডালী দোষ:
তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় গুরুচণ্ডালী দোষ।
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ কখনও কখনও গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।
- এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।
যেমন- গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপােড়া প্রভৃতি হলাে তৎসম শব্দ। গঠন ও অর্থের দিক থেকে এসব শব্দের কোনাে সমস্যা নেই। কিন্তু যদি বলা হয় যথাক্রমে গরুর শকট, শবপােড়া, মড়াদাহ; তাহলে দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলন ঘটে এবং তাতে শব্দ গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।