পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইতিহাস [১৮১]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ ইতিহাস [১৮১]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়25 minutes৩৫ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন৩৬
সিলেবাস
Exam 7 Topic: Part-1 Group-III (Modern) f. Bengal Politics, 1937-1946; Lahore Resolution; Partition of 1947, g. 1952 Language Movement and the Election of 1956, h. Disparity between two Pakistan, i. The demand for autonomy of East Pakistan; Six-Point Programme, Source: Class – 4, relevant books
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইতিহাস [১৮১]

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইতিহাস [১৮১] · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৬ প্রশ্ন

.
When was the first election held in the Indian subcontinent?/ ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় কবে?
  1. 1906/১৯০৬
  2. 1909/১৯০৯
  3. 1919/১৯১৯
  4. 1937/১৯৩৭
সঠিক উত্তর:
1937/১৯৩৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1937/১৯৩৭
ব্যাখ্যা

ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৩৭ সালে, ভারত শাসন আইন ১৯৩৫ এর অধীনে। এই নির্বাচনে প্রাদেশিক আইনসভাগুলো গঠিত হয় এবং কংগ্রেস ও মুসলিম লীগসহ বিভিন্ন দল অংশগ্রহণ করে। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে সর্ব প্রথম সীমিত আকারে ভারতীয় প্রদেশগুলোতে স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন, ভোটাধিকার সম্প্রসারণের কারণে বাংলার মুসলমান নেতাদের মধ্যে নতুন উদ্দিপনা লক্ষ্য করা যায়। 

১৯৩৭ সালের নির্বাচনই ছিল উপমহাদেশের প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচন।

উৎস- ড. আবু মোঃ দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯০৫-১৯৭১)

.
Who became the Chief Minister of Bengal after the 1937 election?/ ১৯৩৭ সালের নির্বাচনের পর বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হন কে?
  1. Huseyn Shaheed Suhrawardy / হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. Fazlul Haq / এ. কে. ফজলুল হক
  3. Khawaja Nazimuddin / খাজা নাজিমুদ্দিন
  4. Subhash Chandra Bose / সুভাষচন্দ্র বসু
সঠিক উত্তর:
Fazlul Haq / এ. কে. ফজলুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Fazlul Haq / এ. কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা

১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচননে একক কোন রাজনৈতিক দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সক্ষম না হওয়ায় একটি কোয়ালিশন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। বাংলার গভর্নর শাসনতন্ত্র অনুযায়ী প্রথমে কংগ্রেসের বাংলার সভাপতি শরৎ বসুকে আহ্বান জানিয়ে সাড়া না পেলে কৃষক প্রজা পার্টির নেতা এ.কে. ফজলুল হক মুসলিম লীগ, কয়েকটি সংখ্যালঘু ও তফসিলি সম্প্রদায়ভুক্ত গোষ্ঠীকে নিয়ে ১১ সদস্যবিশিষ্ঠ মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন। কৃষক প্রজা পার্টি কৃষক ও সাধারণ জনগণের সমর্থন পেয়েছিল।

উৎস- ড. আবু মোঃ দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯০৫-১৯৭১)

.
The Bengal Provincial Elections of 1937 were held under which Act?/ বাংলার প্রাদেশিক নির্বাচন ১৯৩৭ অনুষ্ঠিত হয়েছিল কোন আইনের অধীনে?
  1. Indian Councils Act, 1909/ভারতীয় কাউন্সিল আইন,১৯০৯
  2. Montagu-Chelmsford Reforms, 1919/ মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার,১৯১৯
  3. Government of India Act, 1935/ভারত শাসন আইন,১৯৩৫
  4. Morley-Minto Reforms,1909/মর্লি মিন্টো সংস্কার,১৯০৯
সঠিক উত্তর:
Government of India Act, 1935/ভারত শাসন আইন,১৯৩৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Government of India Act, 1935/ভারত শাসন আইন,১৯৩৫
ব্যাখ্যা

ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৩৭ সালে, ভারত শাসন আইন ১৯৩৫ এর অধীনে। এই নির্বাচনে প্রাদেশিক আইনসভাগুলো গঠিত হয় এবং কংগ্রেস ও মুসলিম লীগসহ বিভিন্ন দল অংশগ্রহণ করে। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে সর্ব প্রথম সীমিত আকারে ভারতীয় প্রদেশগুলোতে স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন, ভোটাধিকার সম্প্রসারণের কারণে বাংলার মুসলমান নেতাদের মধ্যে নতুন উদ্দিপনা লক্ষ্য করা যায়। 

উৎস- ড. আবু মোঃ দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯০৫-১৯৭১)

.
The Great Bengal Famine occurred in which year?/বাংলার মহাদুর্ভিক্ষ কত সালে হয়েছিল?
  1. 1942/১৯৪২
  2. 1943/১৯৪৩
  3. 1944/১৯৪৪
  4. 1945/১৯৪৫
সঠিক উত্তর:
1943/১৯৪৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1943/১৯৪৩
ব্যাখ্যা

মহাদুর্ভিক্ষ  ১৯৪৩ সালে ঘটে। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার অন্যতম মারাত্মক দুর্ভিক্ষ। প্রধান কারণগুলো ছিল:

- বিঘ্নিত ফসল উৎপাদন – ১৯৪২ সালের টর্নেডো এবং বন্যার কারণে ধান উৎপাদনে ক্ষতি।

-  যুদ্ধকালীন খাদ্য নীতি – ব্রিটিশ প্রশাসনের অযোগ্য এবং বঞ্চনামূলক নীতি।

- চলমান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ – জাহাজ ও রেলপথ খাদ্য সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায়।

একটি হিসাব অনুযায়ী দেখা যায় যে, ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৬ সালব্যাপী দুর্ভিক্ষে এবং এর ফলে সৃষ্ট মহামারিতে ৩৫ থেকে ৩৮ লক্ষ লোক মারা যায়। এ মৃত্যুর হার ছিল স্বাভাবিক মৃত্যুর হারের চেয়ে বেশি। প্রকৃত পক্ষে, এ উপমহাদেশের যে কোনো অংশে ১৭৭০ সালের পর যেসব দুর্ভিক্ষ আঘাত হানে তার মধ্যে এটি ছিল চরমতম।

উৎস- বাংলাপিডিয়া

.
Who was the proponent of the Two-Nation Theory?
দ্বি-জাতি তত্ত্ব এর প্রবক্তা কে?
  1. Jawaharlal Nehru/জওহরলাল নেহেরু
  2. Mahatma Gandhi/মাহাত্মা গান্ধী
  3. Muhammad Ali Jinnah/মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  4. Allama Iqbal/আল্লামা ইকবাল
সঠিক উত্তর:
Muhammad Ali Jinnah/মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Muhammad Ali Jinnah/মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা

দ্বিজাতিতত্ত্ব  ভারত ও পাকিস্তান নামে দু’টি স্বাধীন জাতি ও রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে ভারতকে রাজনৈতিকভাবে দ্বিধাবিভক্ত করার নির্ণায়ক ও আদর্শাশ্রয়ী একটি রাজনৈতিক মতবাদ। ভারত থেকে ব্রিটিশ শাসন অবসানের প্রাক্কালে বিশ শতকের চল্লিশের দশকে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ দ্বিজাতি তত্ত্বের এ ধারণার উন্মেষ ঘটান। মতবাদটির একটি নির্বাচন-সংক্রান্ত প্রেক্ষাপট রয়েছে। ১৯০৯, ১৯১৯ ও ১৯৩৫ সালের পর্যায়ক্রমিক সাংবিধানিক সংস্কার আইনের ভিত্তিতে হিন্দু ও মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। পৃথক নির্বাচনী ব্যবস্থায় মুসলমানগণ প্রাদেশিক আইনসভা এবং আইন পরিষদের জন্য ভারতের মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল থেকে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করার অধিকার রাখত। এর ফলে বাংলা ও উত্তর-পশ্চিম প্রদেশসমূহে মুসলিম মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণের পরেই মুসলিম নেতৃবৃন্দের ভাবোদয় হয় যে, পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থার সুফল দ্বারা দুটি পৃথক জাতীয়তাবাদী চিন্তার উদ্রেক সম্ভব যাকে ‘দ্বিজাতিতত্ত্ব’ অভিধায় আখ্যায়িত করা যায়। কারণ, ভারতের মুসলিম জনগোষ্ঠী ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিকভাবেই পৃথক একটি জাতি গঠন করতে । মুসলমানদের একটি জাতি হিসেবে আত্মপরিচয়ের সন্ধানে উদ্বুদ্ধ করতে স্যার সৈয়দ আহমদ খান (১৮১৭-১৯৮) প্রথম এ ধারণা প্রদান করেন। ১৯৩০ সালের ডিসেম্বর মাসে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের অধিবেশনে সভাপতির ভাষণে কবি ও দার্শনিক স্যার মুহাম্মদ ইকবাল দ্বিজাতিতত্ত্বের তাত্ত্বিক কাঠামো উপস্থাপন করেন।

উৎস- বাংলাপিডিয়া

.
Who was the Prime Minister of Bengal at the time of Partition of India (1947)?
ভারত বিভক্তির সময় (১৯৪৭ সালে) বাংলার প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. A.K. Fazlul Huq/এ.কে. ফজলুল হক
  2. Huseyn Shaheed Suhrawardy/হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দি
  3. Khawaja Nazimuddin/ খাজা নাজিমুদ্দিন
  4. C.R. Das/সি.আর. দাস
সঠিক উত্তর:
Huseyn Shaheed Suhrawardy/হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Huseyn Shaheed Suhrawardy/হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দি
ব্যাখ্যা

১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির সময় অবিভক্ত বাংলার শেষ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী ১৯২১ থেকে ১৯৫৮ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভা এবং পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য ছিলেন। তিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থেকেছেন। সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ১৯২৪ সালে কলকাতা কর্পোরেশনের ডেপুটি মেয়র, ১৯৩৭ সালের নির্বাচনোত্তর ফজলুল হক কোয়ালিশন মন্ত্রিসভার শ্রম ও বাণিজ্য মন্ত্রী, ১৯৪৩-১৯৪৫ সালে খাজা নাজিমউদ্দীন মন্ত্রিসভায় বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রী, ১৯৪৬-৪৭ সালে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তান আমলে ১৯৫৪-৫৫ সালে মোহাম্মদ আলীর মন্ত্রিসভায় আইনমন্ত্রী এবং ১৯৫৬-১৯৫৭ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে বাংলায় মুসলিম লীগের বিস্ময়কর বিজয়ের রূপকারও ছিলেন তিনি। সেই নির্বাচনে মুসলিম লীগ ১২১টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে জিতেছিল ১১৪টি আসনে। এ বিজয়কে অনেকেই পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পক্ষে মুসলমানদের রায় বলে মনে করেন, আর এই বিচারে সোহ্‌রাওয়ার্দীও ছিলেন জিন্নাহ্র সঙ্গে পাকিস্তান রাষ্ট্রের অন্যতম  স্রষ্টা।

উৎস- বাংলাপিডিয়া

.
Which proposal aimed to keep Bengal united in 1947?
১৯৪৭ সালে কোন প্রস্তাব বাংলাকে এক রাখার চেষ্টা করেছিল?
  1. Lahore Resolution/লাহোর প্রস্তাব
  2. Cripps Mission/ক্রিপস মিশন
  3. United Bengal Plan/অখন্ড বাংলা পরিকল্পনা
  4. Cabinet Mission Plan/কেবিনেট মিশন
সঠিক উত্তর:
United Bengal Plan/অখন্ড বাংলা পরিকল্পনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
United Bengal Plan/অখন্ড বাংলা পরিকল্পনা
ব্যাখ্যা

অখন্ড বাংলা পরিকল্পনা ১৯৪৭ ছিল বাংলাকে একত্রে রাখার একটি উদ্যোগ। এই পরিকল্পনার প্রধান প্রবক্তা ছিলেন বাংলার প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং কংগ্রেস নেতা শরৎচন্দ্র বসু। এর উদ্দেশ্য ছিল—বাংলাকে স্বাধীন একটি ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে রাখা, যাতে এটি ভারত বা পাকিস্তানের সাথে না যায়। ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন অবসানের প্রাক্কালে সোহ্‌রাওয়ার্দী সমগ্র বাংলা, আসাম ও বিহারের মানভূম, সিংভূম ও সম্ভবত পূণির্য়া জেলা সমন্বয়ে পূর্বভারতে ‘বৃহৎ বাংলা’ নামে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন। একথা সর্ববিদিত যে, ভারত বিভাগের প্রাক্কালে বাংলা প্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সোহ্‌রাওয়ার্দী শরৎচন্দ্র বসু, কিরণ শংকর রায়, সত্যরঞ্জন বক্শি প্রমুখ হিন্দু নেতাদের সহযোগে ভারত ও পাকিস্তানের পাশাপাশি অখন্ড স্বাধীন বাংলা নামে তৃতীয় একটি ডোমিনিয়ন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তৎকালীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সম্পাদক আবুল হাশিম এতে সর্বাত্মক সমর্থন যুগিয়েছিলেন। এ প্রয়াস সফল হয় নি।

কিন্তু কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ উভয়ের বিরোধিতার কারণে এই পরিকল্পনা সফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট বাংলার বিভাজন ঘটে—পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানের অংশ হয় (পরে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ)।

উৎস- বাংলাপিডিয়া

.
The Lahore Resolution was passed in which year?
লাহোর প্রস্তাব কোন সালে গৃহীত হয়?
  1. 1938/১৯৩৮
  2. 1939/১৯৩৯
  3. 1941/১৯৪১
  4. 1940/১৯৪০
সঠিক উত্তর:
1940/১৯৪০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1940/১৯৪০
ব্যাখ্যা

লাহোর প্রস্তাব (২৩ মার্চ ১৯৪০) সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের অধিবেশনে লাহোরের মিন্টো পার্কে (বর্তমানে ইকবাল পার্ক) গৃহীত হয়। মুসলিম লীগ সভাপতি মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে এটি উপস্থাপন করেছিলেন বাংলার প্রধানমন্ত্রী এ. কে. ফজলুল হক।

এই প্রস্তাবে বলা হয়, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে যেখানে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, সেখানে তাদের জন্য একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করতে হবে। পরবর্তীতে এই প্রস্তাবই বিকৃত হয়ে পরিচিত হয় পাকিস্তান প্রস্তাব নামে, যার অনিবার্য পরিণতি ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টি।

উৎস- বাংলাপিডিয়া 

ড. আবু মোঃ দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯০৫-১৯৭১)

.
Six-Point Programme was first published in which newspaper? 
ছয় দফা প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. Ittefaq / ইত্তেফাক
  2. Pakistan Observer / পাকিস্তান অবজারভার
  3. Dawn / ডন
  4. Azad / আজাদ
সঠিক উত্তর:
Ittefaq / ইত্তেফাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Ittefaq / ইত্তেফাক
ব্যাখ্যা

১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এটি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের মূল দাবি, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ভিত্তি হয়ে ওঠে।

ছয় দফা কর্মসূচি প্রথমে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, ইত্তেফাক-এর সম্পাদক, এই কর্মসূচিকে সমর্থন করে ধারাবাহিকভাবে লেখালেখি করেন এবং ব্যাপক প্রচার দেন। এর ফলে এটি জনগণের কাছে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

উৎস- বাংলাপিডিয়া, 

১০.
The Lahore Resolution is also known as:
লাহোর প্রস্তাব আর কী নামে পরিচিত?
  1. Delhi Resolution/দিল্লি প্রস্তাব
  2. Pakistan Resolution/পাকিস্তান প্রস্তাব
  3. Muslim Resolution/মুসলিম প্রস্তাব
  4. Calcutta Resolution/কলকাতা প্রস্তাব
সঠিক উত্তর:
Pakistan Resolution/পাকিস্তান প্রস্তাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Pakistan Resolution/পাকিস্তান প্রস্তাব
ব্যাখ্যা

লাহোর প্রস্তাব (২৩ মার্চ ১৯৪০) সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের অধিবেশনে লাহোরের মিন্টো পার্কে (বর্তমানে ইকবাল পার্ক) গৃহীত হয়। মুসলিম লীগ সভাপতি মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে এটি উপস্থাপন করেছিলেন বাংলার প্রধানমন্ত্রী এ. কে. ফজলুল হক।

এই প্রস্তাবে বলা হয়, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে যেখানে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, সেখানে তাদের জন্য একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করতে হবে। পরবর্তীতে এই প্রস্তাবই বিকৃত হয়ে পরিচিত হয় পাকিস্তান প্রস্তাব নামে, যার অনিবার্য পরিণতি ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টি।

উৎস- বাংলাপিডিয়া                       

ড. আবু মোঃ দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯০৫-১৯৭১)

১১.
The Indian Independence Act was passed on:
ভারত স্বাধীনতা আইন কবে পাস হয়?
  1. 3 June 1947/ জুন ৩, ১৯৪৭
  2. 14 July 1947/জুলাই ১৪, ১৯৪৭
  3. 18 July 1947/ জুলাই ১৮, ১৯৪৭
  4. 15 August 1947/ আগস্ট ১৫, ১৯৪৭
সঠিক উত্তর:
18 July 1947/ জুলাই ১৮, ১৯৪৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
18 July 1947/ জুলাই ১৮, ১৯৪৭
ব্যাখ্যা

ভারত স্বাধীনতা আইন নতুন একটি সমাপ্তি এবং শুরুর সূচনা করে। ১৯৪৭ সালের ৪ জুলাই এ আইন ব্রিটিশ কমন্স সভায় এবং ১৫ জুলাই লর্ড সভায় পাশ হয়। ১৮ জুলাই রাজকীয় সম্মতির মাধ্যমে ভারত স্বাধীনতা বিলটি আইনে পরিণত হয়। এর মাধ্যমে প্রায় ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে এবং ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

উৎস- ড. আবু মোঃ দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯০৫-১৯৭১)

১২.
Who was the first Governor-General of independent India?
স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
  1. Lord Curzon/লর্ড কার্জন
  2. Lord Mountbatten/লন্ড মাউন্টবেটেন
  3. Lord Wavell/লর্ড ওয়েভেল
  4. Lord Linlithgow/লর্ড লিংলিথগো
সঠিক উত্তর:
Lord Mountbatten/লন্ড মাউন্টবেটেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Lord Mountbatten/লন্ড মাউন্টবেটেন
ব্যাখ্যা

১৫ আগস্ট ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়। পরবর্তীতে লর্ড মাউন্টব্যাটেন স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর-জেনারেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন (জুন ১৯৪৮ পর্যন্ত)।

ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় ছিলেন লর্ড লুইস মাউন্টব্যাটেন। তিনি মার্চ ১৯৪৭ থেকে আগস্ট ১৯৪৭ পর্যন্ত ভাইসরয়ের দায়িত্ব পালন করেন এবং ভারতের স্বাধীনতা ও বিভাজনের প্রক্রিয়া তত্ত্বাবধান করেন।

উৎস- ব্রিটানিকা

১৩.
Who was the first Governor-General of Pakistan?
পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
  1. Liaquat Ali Khan/লিয়াকত আলী খান
  2. Khwaja Nazimuddin/খাজা নাজিমুদ্দিন
  3. Muhammad Ali Jinnah/মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  4. Allama Iqbal/আল্লামা ইকবাল
সঠিক উত্তর:
Muhammad Ali Jinnah/মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Muhammad Ali Jinnah/মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা

পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, যিনি পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা ও কায়েদে-আযম  নামে পরিচিত। ১৪ আগস্ট ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর তিনি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে গভর্নর জেনারেলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন লিয়াকত আলী খান । জিন্নাহ ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮ পর্যন্ত এই পদে ছিলেন।

উৎস- ড. আবু মোঃ দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯০৫-১৯৭১)

১৪.
Who first demanded Bengali as a state language in Pakistan Constituent Assembly?
পাকিস্তান গণপরিষদে প্রথম বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি কে করেন?
  1. Liaquat Ali Khan/লিয়াকত আলী খান
  2. Maulana Bhashani/মওলানা ভাসানী
  3. Khwaja Nazimuddin/খাজা নাজিমুদ্দিন
  4. Dhirendranath Dutta/ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
Dhirendranath Dutta/ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Dhirendranath Dutta/ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি করাচিতে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশনে পরিষদ সদস্যদের উর্দু বা ইংরেজিতে বক্তৃতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। পূর্ব পাকিস্তানের কংগ্রেস দলের সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এ প্রস্তাবে সংশোধনী এনে বাংলাকেও পরিষদের অন্যতম ভাষা করার দাবি জানান। তিনি বলেন, পাকিস্তানের ৬ কোটি ৯০ লাখ মানুষের মধ্যে ৪ কোটি ৪০ লাখই পূর্ব পাকিস্তানের, যাদের মাতৃভাষা বাংলা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং পূর্ববাংলার মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন বিরোধিতা করলে এ দাবি বাতিল হয়ে যায়। 

উৎস-বাংলাপিডিয়া
ড. আবু মোঃ দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯০৫-১৯৭১)

১৫.
When did Jinnah declare Urdu as the only state language of Pakistan?
জিন্নাহ কবে ঘোষণা দেন যে উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা?
  1. 1948, Karachi/করাচী, ১৯৪৮
  2. 1948, Dhaka/ ঢাকা,১৯৪৮
  3. 1950, Lahore/ লাহোর, ১৯৫০
  4. 1952, Dhaka/ ঢাকা, ১৯৫২
সঠিক উত্তর:
1948, Dhaka/ ঢাকা,১৯৪৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1948, Dhaka/ ঢাকা,১৯৪৮
ব্যাখ্যা

১৯৪৮ সালের ১৯ মার্চ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল  মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পূর্ব পাকিস্তান সফরে আসেন। তিনি ঢাকার দুটি সভায় বক্তৃতা  দেন এবং দুই জায়গাতেই তিনি বাংলা ভাষার দাবিকে উপেক্ষা করে একমাত্র উর্দুকেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দেন। এ সময় সারা পূর্ব পাকিস্তানেই ভাষা আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল। জিন্নাহর বক্তব্য তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে। ১৯৫০ সালের ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়; এর আহবায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।

উৎস-বাংলাপিডিয়া

ড. আবু মোঃ দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯০৫-১৯৭১)

১৬.
On which date police fired on students in Dhaka during the Language Movement?/ ভাষা আন্দোলনে ঢাকায় ছাত্রদের উপর পুলিশ কবে গুলি চালায়?
  1. 20 February 1952/ ফেব্রুয়ারি ২০, ১৯৫২
  2. 21 February 1952/ ফেব্রুয়ারি ২১, ১৯৫২
  3. 22 February 1952/ ফেব্রুয়ারি ২২, ১৯৫২
  4. 23 February 1952/ ফেব্রুয়ারি ২৩, ১৯৫২
সঠিক উত্তর:
21 February 1952/ ফেব্রুয়ারি ২১, ১৯৫২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
21 February 1952/ ফেব্রুয়ারি ২১, ১৯৫২
ব্যাখ্যা

১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দীন করাচি থেকে ঢাকায় আসেন। তিনি পল্টন ময়দানে এক জনসভায় বলেন যে, প্রদেশের সরকারি কাজকর্মে কোন ভাষা ব্যবহূত হবে তা প্রদেশের জনগণই ঠিক করবে। কিন্তু পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে কেবল উর্দু। সঙ্গে সঙ্গে এর তীব্র প্রতিক্রিয়া হয় এবং ‘রাষ্টভাষা বাংলা চাই’ শ্লোগানে ছাত্ররা বিক্ষোভ শুরু করেন। রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ২১ ফেব্রুয়ারি সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে  হরতাল জনসভা ও বিক্ষোভ মিছিল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়।

এসব কর্মসূচির আয়োজন চলার সময় সরকার ঢাকা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে সমাবেশ-শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ঢাকা শহরের স্কুল-কলেজের হাজার হাজার ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে সমবেত হয়। ছাত্ররা পাঁচ-সাতজন করে ছোট ছোট দলে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ শ্লোগান দিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসলে পুলিশ তাঁদের উপর লাঠিচার্জ করে, ছাত্রীরাও এ আক্রমন থেকে রেহাই পায়নি। ছাত্রছাত্রীরা পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল ছোড়া শুরু করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের সামলাতে ব্যর্থ হয়ে গণপরিষদ ভবনের দিকে অগ্রসররত মিছিলের উপর পুলিশ গুলি চালায়। গুলিতে  রফিক, জব্বার, বরকত (রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ শ্রেণীর ছাত্র) নিহত হয়। বহু আহতকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তাঁদের মধ্যে সেক্রেটারিয়েটের পিয়ন আবদুস সালাম মারা যায়। অহিউল্লাহ্ নামে আট/নয় বছরের এক কিশোরও সেদিন নিহত হয়।

উৎস-বাংলাপিডিয়া

ড. আবু মোঃ দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯০৫-১৯৭১)

১৭.
Who among the following was not a martyr of 21 February 1952?
নিম্নের কে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির শহীদ নন?
  1. Barkat/ বরকত
  2. Rafiq/ রফিক
  3. Jabbar/ জব্বার
  4. All of the above/ উপরের সবাই
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

প্রশ্নে ভাষাগত ত্রুটি থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে। 
প্রশ্নটি হওয়া উচিত ছিল - 
Who among the following was a martyr of 21 February 1952? 
নিম্নের কে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির শহীদ?
তাহলে সঠিক উত্তর হতো - ঘ) All of the above/ উপরের সবাই। 
-------------------------
ব্যাখ্যা: 
ঢাকা শহরের স্কুল-কলেজের হাজার হাজার ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে সমবেত হয়। ছাত্ররা পাঁচ-সাতজন করে ছোট ছোট দলে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ শ্লোগান দিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসলে পুলিশ তাঁদের উপর লাঠিচার্জ করে, ছাত্রীরাও এ আক্রমন থেকে রেহাই পায়নি। ছাত্রছাত্রীরা পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল ছোড়া শুরু করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের সামলাতে ব্যর্থ হয়ে গণপরিষদ ভবনের দিকে অগ্রসররত মিছিলের উপর পুলিশ গুলি চালায়। গুলিতে  রফিক, জব্বার, বরকত (রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ শ্রেণীর ছাত্র) নিহত হয়। বহু আহতকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তাঁদের মধ্যে সেক্রেটারিয়েটের পিয়ন আবদুস সালাম মারা যায়। অহিউল্লাহ্ নামে আট/নয় বছরের এক কিশোরও সেদিন নিহত হয়।

উৎস-বাংলাপিডিয়া।

১৮.
The first Shaheed Minar was built on:
প্রথম শহীদ মিনার কবে নির্মিত হয়?
  1. 21 February 1952/ ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
  2. 22 February 1952/ ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
  3. 23 February 1952/ ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
  4. 26 February 1952/ ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
সঠিক উত্তর:
23 February 1952/ ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
23 February 1952/ ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
ব্যাখ্যা

শহীদ মিনার প্রথম নির্মিত হয় ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। এর পরিকল্পনা, স্থান নির্বাচন ও নির্মাণকাজ সবই ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের উদ্যোগে সম্পন্ন হয়। বর্তমান শহীদ মিনারের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে শহীদদের রক্তভেজা স্থানে সাড়ে ১০ ফুট উঁচু এবং ৬ ফুট চওড়া ভিত্তির ওপর ছোট স্থাপত্যটির নির্মাণকাজ শেষ হলে এর গায়ে ‘শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ লেখা একটি ফলক লাগিয়ে দেওয়া হয়। নির্মাণের পরপরই এটি শহরবাসীর আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে; প্রতিবাদী আন্দোলনের প্রতীকী মর্যাদা লাভ করে। এখানে দলে দলে মানুষ এসে ভিড় জমায়। ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন। ওই দিনই বিকেলে পুলিশ হোস্টেল ঘেরাও করে এটি ভেঙ্গে ফেলে।

উৎস-বাংলাপিডিয়া

১৯.
In which year did the Pakistan Government accept Bengali as a state language?
পাকিস্তান সরকার কবে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়?
  1. 1954/১৯৫৪
  2. 1956/১৯৫৬
  3. 1958/১৯৫৮
  4. 1962/১৯৬২
সঠিক উত্তর:
1956/১৯৫৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1956/১৯৫৬
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলনের দীর্ঘ সংগ্রামের ফলে পাকিস্তান সরকার বাধ্য হয় বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দিতে। ১৯৫২ সালে ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে আন্দোলন তীব্রতর হয় এবং দেশব্যাপী গণদাবি জোরালো হয়।

অবশেষে, ১৯৫৬ সালের পাকিস্তান সংবিধানে (Constitution of Pakistan 1956) বাংলা ও উর্দু — এই দুই ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

এতে বলা হয়:

“The state languages of Pakistan shall be Urdu and Bengali.”

অর্থাৎ বাংলা ভাষা সাংবিধানিক মর্যাদা পায় ১৯৫৬ সালের সংবিধানের মাধ্যমে।

১৯৫৬ সাল পর্যন্ত ভাষা আন্দোলন অব্যাহত ছিল। পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকেও পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অনুমোদনের মাধ্যমে এই আন্দোলন তার লক্ষ্য অর্জন করে। জাতীয় পরিষদে বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের (১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬) এক পর্যায়ে এর সদস্য ফরিদপুরের আদেলউদ্দিন আহমদের (১৯১৩-১৯৮১) দেওয়া সংশোধনী প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলা ও উর্দু উভয় ভাষাই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
হাসান হাফিজুর রহমান (সম্পা.), বাংলা ভাষা আন্দোলন দলিলপত্র

২০.
Which two languages were declared as the state languages of Pakistan in 1956?
১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে কোন দুটি ভাষা ঘোষিত হয়?
  1. Urdu and English/ উর্দু এবং ইংরেজি
  2. Bengali and English/ বাংলা এবং ইংরেজি
  3. Urdu and Punjabi/ উর্দু এবং পাঞ্জাবি
  4. Bengali and Urdu/ বাংলা এবং উর্দু 
সঠিক উত্তর:
Bengali and Urdu/ বাংলা এবং উর্দু 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Bengali and Urdu/ বাংলা এবং উর্দু 
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলনের দীর্ঘ সংগ্রামের ফলে পাকিস্তান সরকার বাধ্য হয় বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দিতে। ১৯৫২ সালে ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে আন্দোলন তীব্রতর হয় এবং দেশব্যাপী গণদাবি জোরালো হয়।

অবশেষে, ১৯৫৬ সালের পাকিস্তান সংবিধানে (Constitution of Pakistan 1956) বাংলা ও উর্দু — এই দুই ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

এতে বলা হয়:

“The state languages of Pakistan shall be Urdu and Bengali.”

অর্থাৎ বাংলা ভাষা সাংবিধানিক মর্যাদা পায় ১৯৫৬ সালের সংবিধানের মাধ্যমে।

১৯৫৬ সাল পর্যন্ত ভাষা আন্দোলন অব্যাহত ছিল। পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকেও পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অনুমোদনের মাধ্যমে এই আন্দোলন তার লক্ষ্য অর্জন করে। জাতীয় পরিষদে বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের (১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬) এক পর্যায়ে এর সদস্য ফরিদপুরের আদেলউদ্দিন আহমদের (১৯১৩-১৯৮১) দেওয়া সংশোধনী প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলা ও উর্দু উভয় ভাষাই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

 
উৎস: বাংলাপিডিয়া
হাসান হাফিজুর রহমান (সম্পা.), বাংলা ভাষা আন্দোলন দলিলপত্র

২১.
Which international body declared 21st  February as International Mother Language Day?
২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে কোন সংস্থা ঘোষণা করে?
  1. UN/ জাতিসংঘ
  2. UNESCO/ইউনেস্কো
  3. UNICEF/ ইউনিসেফ
  4. OIC/ ওআইসি
সঠিক উত্তর:
UNESCO/ইউনেস্কো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
UNESCO/ইউনেস্কো
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ২১ ফেব্রুয়ারি শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বব্যাপীও একদিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

- ১৯৯৯ সালে ২৬ নভেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো (UNESCO) আনুষ্ঠানিকভাবে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।

- এই প্রস্তাবটি আনে বাংলাদেশ সরকার, এবং ইউনেস্কোর সাধারণ সম্মেলনে তা গৃহীত হয়।

- ২০০০ সাল থেকে সারা বিশ্বে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

- এর মূল লক্ষ্য হলো বিশ্ববাসীর মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা জাগানো ও ভাষাগত বৈচিত্র্য রক্ষা করা।
 
উৎস: International Mother Language Day  

২২.
Who was the architect of the Central Shaheed Minar?
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের স্থপতি কে ছিলেন?
  1. Hamidur Rahman/ হামিদুর রহমান
  2. Mazharul Islam/ মাজহারুল ইসলাম
  3. Louis Kahn/ লুই খান
  4. Fazlur Rahman/ফজলুর রহমান
সঠিক উত্তর:
Hamidur Rahman/ হামিদুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Hamidur Rahman/ হামিদুর রহমান
ব্যাখ্যা

ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় নির্মিত হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।

এর নকশা প্রণয়ন করেন চিত্রশিল্পী ও ভাস্কর হামিদুর রহমান।
তিনি ভাস্কর্যের মাধ্যমে শহীদ মিনারে বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতির সংগ্রামের প্রতীক ফুটিয়ে তোলেন।
মূল নকশায় ছিল বৃহৎ মিনার, ভাস্কর্য, দেয়ালচিত্র এবং সবুজ চত্বরসহ একটি পূর্ণাঙ্গ কমপ্লেক্স, যদিও পরবর্তীতে রাজনৈতিক কারণে নকশার কিছু অংশ বাস্তবায়িত হয়নি।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ১৯৬৩ সালে আংশিকভাবে সম্পন্ন হয় এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর নতুনভাবে সংস্কার ও সম্প্রসারিত হয়।
উৎস:

বাংলা একাডেমি, ভাষা আন্দোলন এনসাইক্লোপিডিয়া
বাংলাপিডিয়া

২৩.
Which election reflected the popularity of the autonomy demand in East Pakistan?
পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবির জনপ্রিয়তা কোন নির্বাচনে প্রতিফলিত হয়েছিল?
  1. 1954 election / ১৯৫৪ সালের নির্বাচন
  2. 1965 election / ১৯৬৫ সালের নির্বাচন
  3. 1970 election / ১৯৭০ সালের নির্বাচন
  4. 1962 election / ১৯৬২ সালের নির্বাচন
সঠিক উত্তর:
1970 election / ১৯৭০ সালের নির্বাচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1970 election / ১৯৭০ সালের নির্বাচন
ব্যাখ্যা

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন ছিল পাকিস্তানের প্রথম গণভিত্তিক জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ অংশ নেয় এবং তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের মূল ভিত্তি ছিল ছয় দফা কর্মসূচি—যা পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি প্রতিফলিত করেছিল।

এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানের ১৬২টি আসনের মধ্যে ১৬০টি আসনে জয়লাভ করে এবং মোট জাতীয় পরিষদের ৩০০ আসনের মধ্যে ১৬৭ আসন পায়। অর্থাৎ, এককভাবে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

এতে স্পষ্ট হয়ে যায় যে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ শেখ মুজিবের নেতৃত্বে স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে সর্বাত্মক সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেয়নি এবং ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করে। এর ফলেই পূর্ব পাকিস্তানে রাজনৈতিক সংকট তীব্র হয় এবং শেষ পর্যন্ত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার দিকে গতি পায়।

উৎস: Rounaq Jahan, Pakistan: Failure in National Integration
 ড. আবু মোঃ দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯০৫-১৯৭১)

২৪.
The demand for autonomy of East Pakistan was mainly based on: 
পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবি প্রধানত কিসের উপর ভিত্তি করে ছিল?
  1. Foreign policy / বৈদেশিক নীতি
  2. Military dominance / সামরিক কর্তৃত্ব
  3. Political instability / রাজনৈতিক অস্থিরতা
  4. Economic disparity / অর্থনৈতিক বৈষম্য
সঠিক উত্তর:
Economic disparity / অর্থনৈতিক বৈষম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Economic disparity / অর্থনৈতিক বৈষম্য
ব্যাখ্যা

পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবি প্রধানত অর্থনৈতিক বৈষম্যর উপর ভিত্তি করে ছিল। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেখা যায় যে জাতীয় আয়ের সিংহভাগ পশ্চিম পাকিস্তানে ব্যয় করা হচ্ছে, অথচ আয়ের মূল উৎস ছিল পূর্ব পাকিস্তান (যেমন পাট—jute export থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়)।
- পূর্ব পাকিস্তান পাকিস্তানের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৭০% যোগান দিলেও, সেই আয়ের খুব সামান্য অংশ উন্নয়ন খাতে পূর্ব পাকিস্তানে ব্যয় করা হতো।

- শিল্প, অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে পশ্চিম পাকিস্তান দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু পূর্ব পাকিস্তান বঞ্চিত হচ্ছিল।

- এছাড়া বৈদেশিক সাহায্য, ঋণ এবং উন্নয়ন বাজেটের বণ্টনেও পশ্চিম পাকিস্তান অগ্রাধিকার পেত।

এই বৈষম্যের কারণে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ অনুভব করে যে তাদের অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাই শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা কর্মসূচির মাধ্যমে অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক বাণিজ্য ও রাজস্ব ব্যবস্থার উপর পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ ক্ষমতা দাবি করেন।
অতএব, স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনের মূল ভিত্তি ছিল অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।

উৎস: ড. আবু মোঃ দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯০৫-১৯৭১)
ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ: দলিলপত্র

২৫.
The Six-Point Programme was declared in which year?
ছয় দফা কর্মসূচি কোন সালে ঘোষণা করা হয়?
  1. 1962/১৯৬২
  2. 1964/১৯৬৪
  3. 1966/১৯৬৬
  4. 1969/১৯৬৯
সঠিক উত্তর:
1966/১৯৬৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1966/১৯৬৬
ব্যাখ্যা

ছয়দফা কর্মসূচি  পাকিস্তানের দু অংশের মধ্যকার বৈষম্য এবং পূর্ব বাংলায় পশ্চিম পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ উপনিবেশিক শাসনের অবসানের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ ঘোষিত কর্মসূচি। পশ্চিম পাকিস্তানের বিরোধীদলীয় নেতারা তাসখন্দ-উত্তর রাজনীতির গতিধারা নিরূপণের উদ্দেশ্যে ১৯৬৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে এক জাতীয় সম্মেলন আহবান করেন। আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান সম্মেলনে যোগদানের জন্য ৪ ফেব্রুয়ারি লাহোর পৌঁছেন। পরদিন সাবজেক্ট কমিটির সভায় তিনি পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের দাবি হিসেবে ‘ছয়দফা’ প্রস্তাব পেশ করেন এবং তা সম্মেলনের আলোচ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। কিন্তু সম্মেলনের উদ্যোক্তারা এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং পরদিন পশ্চিম পাকিস্তানি পত্রপত্রিকায় ছয়দফার বিবরণ ছাপিয়ে শেখ মুজিবকে বিচ্ছিন্নতাবাদীরূপে চিত্রিত করা হয়। ফলে শেখ মুজিব ৬ ফেব্রুয়ারির সম্মেলন বর্জন করেন।

১৯৬৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা প্রস্তাব এবং দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনের কর্মসূচি গৃহীত হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাজউদ্দিন আহমদের ভূমিকা সম্বলিত ছয় দফা কর্মসূচির একটি পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়। এরপর ১৮ মার্চ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ‘আমাদের বাঁচার দাবি:   ৬-দফা কর্মসূচি’ শীর্ষক একটি পুস্তিকা প্রচার করা হয়।

ছয় দফায় বিধৃত দাবিসমূহ নিম্নরূপ:

১. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচনা করে পাকিস্তানকে একটি ফেডারেশনে পরিণত করতে হবে, যেখানে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার থাকবে এবং প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ভোটে নির্বাচিত আইন পরিষদ সার্বভৌম হবে;

২. ফেডারেল সরকারের হাতে থাকবে শুধু দুটি বিষয়, প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক সম্পর্ক, এবং অপর সব বিষয় ফেডারেশনে অন্তর্ভুক্ত রাজ্যসমূহের হাতে ন্যস্ত থাকবে;

৩. পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য দুটি পৃথক অথচ সহজে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু করতে হবে। যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে সমগ্র পাকিস্তানের জন্য ফেডারেল সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন একটিই মুদ্রাব্যবস্থা থাকবে, একটি ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ও দুটি আঞ্চলিক রিজার্ভ ব্যাঙ্ক থাকবে। তবে এক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তান থেকে পুঁজি যাতে পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার হতে না পারে তার ব্যবস্থা সম্বলিত সুনির্দিষ্ট বিধি সংবিধানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে;

৪. দুই অঞ্চলের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পৃথক হিসাব থাকবে এবং অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা রাজ্যের হাতে থাকবে। তবে ফেডারেল সরকারের জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা দুই অঞ্চল থেকে সমানভাবে কিংবা উভয়ের স্বীকৃত অন্য কোনো হারে আদায় করা হবে;

৫. দুই অংশের মধ্যে দেশিয় পণ্য বিনিময়ে কোনো শুল্ক ধার্য করা হবে না এবং রাজ্যগুলো যাতে যেকোন বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে সংবিধানে তার বিধান রাখতে হবে।

৬. প্রতিরক্ষায় পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে আধা-সামরিক রক্ষীবাহিনী গঠন, পূর্ব পাকিস্তানে অস্ত্র কারখানা স্থাপন এবং কেন্দ্রীয় নৌবাহিনীর সদর দফতর পূর্ব পাকিস্তানে স্থাপন করতে হবে।

উৎস:  বাংলাপিডিয়া। 
- ড. আবু মোঃ দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯০৫-১৯৭১)। 

২৬.
The Six-Point Programme is known as:
(ছয় দফা কর্মসূচি পরিচিত—) 
  1. Charter of Independence / স্বাধীনতার সনদ
  2. Charter of Economic Freedom / অর্থনৈতিক মুক্তির সনদ
  3. Charter of Freedom / মুক্তির সনদ
  4. National Manifesto / জাতীয় ইশতেহার
সঠিক উত্তর:
Charter of Freedom / মুক্তির সনদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Charter of Freedom / মুক্তির সনদ
ব্যাখ্যা

১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ছয় দফা কর্মসূচি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অধিকার আদায়ের সর্বজনীন দাবি। এ কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের পূর্ণ কাঠামো উপস্থাপন করেন।

পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী একে “পাকিস্তানের ঐক্য ভাঙার ষড়যন্ত্র” বলে প্রচার করলেও পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ ছয় দফাকে তাদের মুক্তির সনদ (Charter of Freedom) হিসেবে গ্রহণ করে।
কারণ এই কর্মসূচির প্রতিটি দফা ছিল পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ, রাজনৈতিক ক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং সমঅধিকারের জন্য প্রয়োজনীয়।
পরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এবং স্বাধীনতার পর ইতিহাসবিদ ও গবেষকেরাও একে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আন্দোলনের ভিত্তি বলে অভিহিত করেছেন।
অতএব, ছয় দফা কর্মসূচি ইতিহাসে খ্যাত “মুক্তির সনদ” হিসেবে।

উৎস: ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ: দলিলপত্র
- ড. আবু মোঃ দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯০৫-১৯৭১)

২৭.
Where was the Six-Point Programme first presented?
ছয় দফা কর্মসূচি প্রথম কোথায় উপস্থাপিত হয়?
  1. Dhaka / ঢাকা
  2. Karachi / করাচি
  3. Lahore / লাহোর
  4. Rawalpindi / রাওয়ালপিন্ডি
সঠিক উত্তর:
Lahore / লাহোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Lahore / লাহোর
ব্যাখ্যা

ছয়দফা কর্মসূচি  পাকিস্তানের দু অংশের মধ্যকার বৈষম্য এবং পূর্ব বাংলায় পশ্চিম পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ উপনিবেশিক শাসনের অবসানের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ ঘোষিত কর্মসূচি। পশ্চিম পাকিস্তানের বিরোধীদলীয় নেতারা তাসখন্দ-উত্তর রাজনীতির গতিধারা নিরূপণের উদ্দেশ্যে ১৯৬৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে এক জাতীয় সম্মেলন আহবান করেন। আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান সম্মেলনে যোগদানের জন্য ৪ ফেব্রুয়ারি লাহোর পৌঁছেন। পরদিন সাবজেক্ট কমিটির সভায় তিনি পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের দাবি হিসেবে ‘ছয়দফা’ প্রস্তাব পেশ করেন এবং তা সম্মেলনের আলোচ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। কিন্তু সম্মেলনের উদ্যোক্তারা এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং পরদিন পশ্চিম পাকিস্তানি পত্রপত্রিকায় ছয়দফার বিবরণ ছাপিয়ে শেখ মুজিবকে বিচ্ছিন্নতাবাদীরূপে চিত্রিত করা হয়। ফলে শেখ মুজিব ৬ ফেব্রুয়ারির সম্মেলন বর্জন করেন।

- ড. আবু মোঃ দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯০৫-১৯৭১)

২৮.
In which conference was the Six-Point Programme presented?
কোন সম্মেলনে ছয় দফা কর্মসূচি উপস্থাপিত হয়?
  1. Lahore Conference of Opposition Parties / লাহোরে বিরোধী দলের সম্মেলন
  2. Dhaka Political Conference / ঢাকা রাজনৈতিক সম্মেলন
  3. Karachi Economic Conference / করাচি অর্থনৈতিক সম্মেলন
  4. Rawalpindi Round Table / রাওয়ালপিন্ডি বৈঠক
সঠিক উত্তর:
Lahore Conference of Opposition Parties / লাহোরে বিরোধী দলের সম্মেলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Lahore Conference of Opposition Parties / লাহোরে বিরোধী দলের সম্মেলন
ব্যাখ্যা

ছয়দফা কর্মসূচি  পাকিস্তানের দু অংশের মধ্যকার বৈষম্য এবং পূর্ব বাংলায় পশ্চিম পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ উপনিবেশিক শাসনের অবসানের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ ঘোষিত কর্মসূচি। পশ্চিম পাকিস্তানের বিরোধীদলীয় নেতারা তাসখন্দ-উত্তর রাজনীতির গতিধারা নিরূপণের উদ্দেশ্যে ১৯৬৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে এক জাতীয় সম্মেলন আহবান করেন। আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান সম্মেলনে যোগদানের জন্য ৪ ফেব্রুয়ারি লাহোর পৌঁছেন। পরদিন সাবজেক্ট কমিটির সভায় তিনি পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের দাবি হিসেবে ‘ছয়দফা’ প্রস্তাব পেশ করেন এবং তা সম্মেলনের আলোচ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। কিন্তু সম্মেলনের উদ্যোক্তারা এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং পরদিন পশ্চিম পাকিস্তানি পত্রপত্রিকায় ছয়দফার বিবরণ ছাপিয়ে শেখ মুজিবকে বিচ্ছিন্নতাবাদীরূপে চিত্রিত করা হয়। ফলে শেখ মুজিব ৬ ফেব্রুয়ারির সম্মেলন বর্জন করেন।

- ড. আবু মোঃ দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯০৫-১৯৭১)

২৯.
Which wing of Pakistan contributed the most to foreign exchange earnings through jute export after 1947?
১৯৪৭ সালের পর পাট রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস ছিল পাকিস্তানের কোন অংশ?
  1. West Pakistan / পশ্চিম পাকিস্তান
  2. East Pakistan / পূর্ব পাকিস্তান
  3. Both equally / উভয় সমানভাবে
  4. None / কেউ নয়
সঠিক উত্তর:
East Pakistan / পূর্ব পাকিস্তান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
East Pakistan / পূর্ব পাকিস্তান
ব্যাখ্যা

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের পর বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস ছিল পাট (jute) এবং সেই পাট উৎপাদন হতো মূলত পূর্ব পাকিস্তানে।

-  পূর্ব পাকিস্তানকে বলা হতো “Golden Fiber of Bengal” (বাংলার সোনালি আঁশ) এর দেশ।

- স্বাধীনতার পর পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রায় ৭০% থেকে ৭৫% আসত পূর্ব পাকিস্তানের পাট ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানি থেকে।

-  অথচ এই বৈদেশিক মুদ্রার বিশাল অংশ পশ্চিম পাকিস্তানে শিল্পায়ন, সামরিক খাত এবং প্রশাসনিক ব্যয়ে ব্যবহার করা হতো।

-  পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ এ বৈষম্যে বঞ্চিত ছিল, যার ফলেই অর্থনৈতিক ক্ষোভ বৃদ্ধি পায় এবং শেষ পর্যন্ত এটি ছয় দফা কর্মসূচি ও মুক্তির আন্দোলনের অন্যতম ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।
অতএব, ১৯৪৭ সালের পর বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস ছিল পূর্ব পাকিস্তান, বিশেষ করে পাট রপ্তানি থেকে।

উৎস: সেলিনা হোসেন ও আনোয়ার পাশা, বাংলাদেশের ইতিহাস
-  উচ্চ মাধ্যমিক বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (পাঠ্যপুস্তক)
- ড. আবু মোঃ দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯০৫-১৯৭১)

৩০.
By 1965, East Pakistan’s share in army officers was less than:
১৯৬৫ সালের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের সেনা অফিসারদের অংশ ছিল—
  1. 10%/১০%
  2. 5%/৫%
  3. 3%/৩%
  4. 1%/১%
সঠিক উত্তর:
5%/৫%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
5%/৫%
ব্যাখ্যা

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই সেনাবাহিনীতে পূর্ব পাকিস্তানের অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত সীমিত। এর মূল কারণ ছিল—

- ব্রিটিশ আমলে সেনাবাহিনী নিয়োগে পাঞ্জাব ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতো, পূর্ব বাংলাকে “অযোদ্ধা জাতি” (non-martial race) হিসেবে দেখা হতো।

- স্বাধীনতার পর পাকিস্তানি সামরিক নীতিতেও সেই বৈষম্য বজায় থাকে।

-  ফলে পূর্ব পাকিস্তানের বিশাল জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও সেনাবাহিনীতে তাদের প্রতিনিধিত্ব ছিল অতি নগণ্য।

- ১৯৬৫ সালের মধ্যে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে অফিসার পর্যায়ে পূর্ব পাকিস্তানের অংশ ছিল ৫% এরও কম।যেখানে পাঞ্জাব-৬০%, পাঠান-৩৫% ছিল।
এটি স্পষ্ট করে যে সামরিক বাহিনীও পশ্চিম পাকিস্তানের (বিশেষত পাঞ্জাবি অফিসারদের) দখলে ছিল।

এই বৈষম্য পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে গভীর ক্ষোভ সৃষ্টি করে এবং শাসন ব্যবস্থার উপর আস্থাহীনতা বাড়ায়। এর ফলশ্রুতিতে রাজনৈতিক আন্দোলন জোরদার হয়, যা শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের দিকে গতি পায়।

উৎস: Rounaq Jahan, Pakistan: Failure in National Integration.
- ড. আবু মোঃ দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯০৫-১৯৭১)

৩১.
During which war was East Pakistan left almost undefended by the central government?
কোন যুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকার পূর্ব পাকিস্তানকে প্রায় রক্ষাহীন অবস্থায় রাখে?
  1. 1948 Kashmir War/ কাশ্মীর যুদ্ধ ,১৯৪৮
  2. 1971 Liberation War/মুক্তিযুদ্ধ,১৯৭১
  3. 1965 Indo-Pak War/ পাক-ভারত যুদ্ধ,১৯৬৫
  4.  None/ কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
1965 Indo-Pak War/ পাক-ভারত যুদ্ধ,১৯৬৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1965 Indo-Pak War/ পাক-ভারত যুদ্ধ,১৯৬৫
ব্যাখ্যা

১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ (যা কাশ্মীর ইস্যু কেন্দ্রিক ছিল) চলাকালে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার তাদের সামরিক শক্তি ও প্রতিরক্ষা সম্পূর্ণভাবে পশ্চিম সীমান্তে কেন্দ্রীভূত করে।
- পূর্ব পাকিস্তান ছিল ভৌগোলিকভাবে ভারতের দ্বারা তিন দিক থেকে বেষ্টিত এবং সামরিকভাবে দুর্বল।
- যুদ্ধ শুরু হলে পূর্ব পাকিস্তানে সেনা, অস্ত্র, বিমান প্রতিরক্ষা—সবকিছুই ছিল অত্যন্ত সীমিত। প্রকৃতপক্ষে পূর্ব পাকিস্তানকে প্রায় রক্ষাহীন অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল।
- কেন্দ্রীয় সরকার ধারণা করেছিল যে, ভারতের প্রধান আক্রমণ হবে কাশ্মীর ও পশ্চিম সীমান্তে, তাই পূর্ব পাকিস্তানে সৈন্য মোতায়েন করা হয়নি।
- এর ফলে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ বুঝতে পারে যে কেন্দ্রীয় সরকার তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্ব দেয় না।
- এই ঘটনার পরে শেখ মুজিবুর রহমানসহ বাঙালি নেতারা স্পষ্টভাবে দাবি করতে থাকেন যে পূর্ব পাকিস্তানের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকতে হবে—যা পরবর্তীতে ছয় দফা কর্মসূচির একটি মূল দাবি হয়ে ওঠে।
সারকথা: ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানকে কার্যত রক্ষাহীন রাখা হয়েছিল, যা বাঙালিদের মধ্যে ক্ষোভ ও অবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়।

উৎস: -  Rounaq Jahan, Pakistan: Failure in National Integration.
-   ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ: প্রেক্ষাপট ও দলিল

৩২.
Which leader declared “Urdu and Urdu alone shall be the state language of Pakistan”?
“উর্দু এবং শুধু উর্দুই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে”— কে এই ঘোষণা দেন?
  1. Liaquat Ali Khan / লিয়াকত আলী খান
  2. Khwaja Nazimuddin / খাজা নাজিমুদ্দিন
  3. Muhammad Ali Jinnah / মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  4. Ayub Khan / আয়ুব খান
সঠিক উত্তর:
Muhammad Ali Jinnah / মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Muhammad Ali Jinnah / মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা

১৯৪৭ সালের পর পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর রাষ্ট্রভাষা নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক শুরু হয়। পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে—পূর্ব পাকিস্তান (বাংলা ভাষাভাষী) এবং পশ্চিম পাকিস্তান (উর্দুভাষী)—ভাষাগত বৈষম্য দেখা দেয়।
- ১৯৪৮ সালের ১৯ মার্চ, করাচিতে এক অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেন:

“Urdu and Urdu alone shall be the state language of Pakistan.”
- এই ঘোষণা বাংলাভাষী জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
- পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি জনগণ মনে করেছিল, তাদের মাতৃভাষা বাংলাকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।
- এর ফলশ্রুতিতে ভাষা আন্দোলন (Bengali Language Movement) শুরু হয়, যা পরে ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালের শহীদ দিবসে শীর্ষবিন্দুতে পৌঁছে।
- ভাষা আন্দোলনের জোরে, ১৯৫৬ সালে বাংলা ভাষাকেও পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
সারকথা: রাষ্ট্রভাষা নির্ধারণের ক্ষেত্রে জিন্নাহর এই ঘোষণা পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি জনগণের প্রতিরোধ ও আন্দোলনের মূল উদ্দীপক হয়ে দাঁড়ায়।

উৎস:- সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশের ইতিহাস: ঔপনিবেশিকতা থেকে মুক্তিযুদ্ধ.
- ড. আবু মোঃ দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯০৫-১৯৭১)

৩৩.
The Six-Point Programme was mainly for:
ছয় দফা কর্মসূচি মূলত কী জন্য ছিল?
  1. Social reform / সামাজিক সংস্কার
  2. Provincial autonomy of East Pakistan / পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
  3. Military power / সামরিক ক্ষমতা
  4. Cultural movement / সাংস্কৃতিক আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
Provincial autonomy of East Pakistan / পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Provincial autonomy of East Pakistan / পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
ব্যাখ্যা

ছয় দফা কর্মসূচি (১৯৬৬) মূলত পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার জন্য ঘোষণা করা হয়েছিল।
- শেখ মুজিবুর রহমান এই কর্মসূচি উপস্থাপন করেন যাতে পূর্ব পাকিস্তান নিজের অর্থনীতি, রাজস্ব, প্রশাসন ও বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
-  ছয় দফার মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ পশ্চিম পাকিস্তান দ্বারা আরোপিত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্য থেকে মুক্তি চাইছিল।
-  এটি কোনো সামাজিক সংস্কার বা সাংস্কৃতিক আন্দোলন নয়, এবং সামরিক ক্ষমতা অর্জনের উদ্দেশ্যও ছিল না।
- এই কর্মসূচি পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

সারকথা: ছয় দফা কর্মসূচি মূলত পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি ছিল, যা বাঙালি জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে তৈরি হয়েছিল।

উৎস: - ড. আবু মোঃ দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯০৫-১৯৭১)।
- বাংলাদেশ ইতিহাস (উচ্চ মাধ্যমিক পাঠ্যপুস্তক)

৩৪.
Which point of Six Points demanded separate currency or economic system?
ছয় দফার কোন দাবিতে পৃথক মুদ্রা বা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চাওয়া হয়?
  1. First point / প্রথম দফা
  2. Third point / তৃতীয় দফা
  3. Fourth point / চতুর্থ দফা
  4. Fifth point / পঞ্চম দফা
সঠিক উত্তর:
Third point / তৃতীয় দফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Third point / তৃতীয় দফা
ব্যাখ্যা

ছয় দফা কর্মসূচির তৃতীয় দফা ছিল- পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য দুটি পৃথক অথচ সহজে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু করতে হবে। যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে সমগ্র পাকিস্তানের জন্য ফেডারেল সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন একটিই মুদ্রাব্যবস্থা থাকবে, একটি ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ও দুটি আঞ্চলিক রিজার্ভ ব্যাঙ্ক থাকবে। তবে এক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তান থেকে পুঁজি যাতে পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার হতে না পারে তার ব্যবস্থা সম্বলিত সুনির্দিষ্ট বিধি সংবিধানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে;
- এর মূল বক্তব্য ছিল—পূর্ব পাকিস্তান নিজস্ব মুদ্রা ব্যবহার করতে পারবে অথবা কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও রাজস্ব ব্যবস্থার উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখবে।
-  কারণ ১৯৪৭–১৯৬৬ পর্যন্ত পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় অর্থনীতি এবং মুদ্রানীতি পুরোপুরি পশ্চিম পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
- পূর্ব পাকিস্তান বৈদেশিক বাণিজ্য ও রাজস্ব আয়ের প্রধান উৎস হলেও, সেই অর্থের সিংহভাগ পশ্চিম পাকিস্তান ব্যবহার করতো।
- দ্বিতীয় দফার মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তান দাবি করেছিল, তারা অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসন পাবে, যাতে তাদের রাজস্ব এবং মুদ্রা তাদের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

উৎস:- ড. আবু মোঃ দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯০৫-১৯৭১)
- বাংলাদেশ ইতিহাস (উচ্চ মাধ্যমিক পাঠ্যপুস্তক)

৩৫.
Which point gave East Pakistan control over foreign trade and aid?
ছয় দফার কোন দফায় পূর্ব পাকিস্তানের হাতে বৈদেশিক বাণিজ্য ও সাহায্যের নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার দাবি করা হয়?
  1. Third point / তৃতীয় দফা
  2. Fourth point / চতুর্থ দফা
  3. Fifth point / পঞ্চম দফা
  4. Sixth point / ষষ্ঠ দফা
সঠিক উত্তর:
Fifth point / পঞ্চম দফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Fifth point / পঞ্চম দফা
ব্যাখ্যা

ছয় দফা কর্মসূচির পঞ্চম দফা ছিল-দুই অংশের মধ্যে দেশিয় পণ্য বিনিময়ে কোনো শুল্ক ধার্য করা হবে না এবং রাজ্যগুলো যাতে যেকোন বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে সংবিধানে তার বিধান রাখতে হবে।

ছয় দফা কর্মসূচির পঞ্চম দফা মূলত পূর্ব পাকিস্তানের বৈদেশিক বাণিজ্য ও সাহায্যের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার দাবিকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছিল।

- পঞ্চম দফার মাধ্যমে বলা হয় যে, পূর্ব পাকিস্তান নিজস্বভাবে সমস্ত রপ্তানি ও আমদানি চুক্তি, বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্য প্রাপ্তি পরিচালনা করবে।

-  এর উদ্দেশ্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা এবং পশ্চিম পাকিস্তানের একপাক্ষিক নিয়ন্ত্রণ ও বৈষম্য থেকে মুক্ত করা।

-  পূর্ব পাকিস্তান বৈদেশিক বাণিজ্য ও সাহায্যের বড় অংশের উৎস হলেও, তা পুরোপুরি পশ্চিম পাকিস্তানের নীতি অনুসারে পরিচালিত হত।

-  এই দফার বাস্তবায়ন পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক শক্তি এবং রাজস্ব স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণীত হয়।

উৎস:  ড. আবু মোঃ দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯০৫-১৯৭১)। 
-  বাংলাদেশ ইতিহাস ( মাধ্যমিক পাঠ্যপুস্তক)। 

৩৬.
Who supported Six-Point Programme through journalism?
কার লেখনীর মাধ্যমে ছয় দফা কর্মসূচি প্রচারিত হয়েছিল?
  1. Maulana Bhashani / মওলানা ভাসানী
  2. Khondaker Mushtaq / খন্দকার মোশতাক
  3. Ataur Rahman Khan / আতাউর রহমান খান
  4. Tofazzal Hossain Manik Mia / তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া
সঠিক উত্তর:
Tofazzal Hossain Manik Mia / তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Tofazzal Hossain Manik Mia / তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া
ব্যাখ্যা

তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া ছিলেন একজন প্রভাবশালী সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ। তিনি দৈনিক “সমকালের” সম্পাদক ছিলেন এবং তাঁর মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফা কর্মসূচি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।

- মানিক মিয়ার সাংবাদিকতা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে ছয় দফার উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

- তিনি সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকার বা পশ্চিম পাকিস্তানিভিত্তিক মিডিয়ার প্রচারের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বাঙালি জনগণকে সচেতন করেন।

- তাঁর লেখনী বাঙালি জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনা বৃদ্ধি করে এবং ছয় দফার প্রতি সমর্থন জাগিয়ে তোলে।

সারকথা: তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া সাংবাদিকতার মাধ্যমে ছয় দফা কর্মসূচি জনগণের কাছে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

উৎস:- Rounaq Jahan, Pakistan: Failure in National Integration
-  সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশের ইতিহাস: ঔপনিবেশিকতা থেকে মুক্তিযুদ্ধ