পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ সংস্কৃত [১৫১]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ সংস্কৃত [১৫১]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন২৯
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৩ টপিক: (ক) সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাস: নাট্যশাস্ত্র, মহাকাব্য, চম্পূকাব্য। উৎস: ১ম ক্লাস ও সংশ্লিষ্ট পাঠ্যবই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ সংস্কৃত [১৫১]

৪৯তম বিসিএস ⎯ সংস্কৃত [১৫১] · তারিখ অনির্ধারিত · ২৯ প্রশ্ন

.
‘কুমারসম্ভব’ -এর রচয়িতা কে? 
  1. বাল্মীকি
  2. কালিদাস
  3. ভাস
  4. বেদব্যাস
সঠিক উত্তর:
কালিদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালিদাস
ব্যাখ্যা

‘কুমারসম্ভব’ একটি বিখ্যাত সংস্কৃত মহাকাব্য, যার রচয়িতা মহাকবি কালিদাস। এখানে শিব ও পার্বতীর বিবাহ এবং তাদের পুত্র কার্তিকেয় (কুমার)-এর জন্মকথা বর্ণিত হয়েছে। কাব্যের সৌন্দর্য, উপমার ব্যবহার এবং অলঙ্কার বৈচিত্র্যের জন্য কালিদাসকে "কবিকুলগুরু" বলা হয়।

.
‘রঘুবংশম’ কত কাণ্ডে বিভক্ত?
  1. ১৫
  2. ১৯
  3. ২৩
  4. ১২
সঠিক উত্তর:
১৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯
ব্যাখ্যা

‘রঘুবংশম’ মহাকবি কালিদাস রচিত একটি প্রসিদ্ধ মহাকাব্য। এতে রঘুবংশীয় রাজাদের বংশপরিচয়, বিশেষত ভগবান রামচন্দ্রের চরিত বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে। কাব্যটি মোট ১৯ কাণ্ডে বিভক্ত। এর মধ্যে প্রথম ৯ কাণ্ডে রঘুবংশীয় রাজাদের ইতিহাস ও রামায়ণকথা এবং পরবর্তী কাণ্ডগুলোতে রামচন্দ্রোত্তর রাজাদের বিবরণ পাওয়া যায়।

.
কালিদাসের ‘অভিজ্ঞানশাকুন্তলম’ কোন ধরনের রচনা? 
  1. নাটক
  2. মহাকাব্য
  3. চম্পূ
  4. গদ্য
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা
কালিদাসের “অভিজ্ঞান শকুন্তলম” একটি নাটক, কারণ এটি মূলত মঞ্চে অভিনয়ের জন্য রচিত। এতে সংলাপ, চরিত্র ও দৃশ্যবিন্যাসের মাধ্যমে কাহিনি প্রকাশিত হয়েছে। নাটকের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে রাজা দुष्यন্ত ও শকুন্তলার প্রেমকাহিনি, যেখানে ভুলে যাওয়া ও পুনর্মিলনের নাটকীয়তা ফুটে উঠেছে। তাই এটি সংস্কৃত সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ নাট্যকীর্তি।
.
কালিদাসের ‘অভিজ্ঞানশাকুন্তলম’-এ কোন দেবী উল্লেখিত? 
  1. সরস্বতী
  2. ইন্দ্রাণী
  3. দেবী শাকুন্তলা
  4. লক্ষ্মী
সঠিক উত্তর:
দেবী শাকুন্তলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেবী শাকুন্তলা
ব্যাখ্যা

কালিদাস রচিত ‘অভিজ্ঞানশাকুন্তলম’ একটি অমর সংস্কৃত নাটক, যেখানে দुष्यন্ত ও শকুন্তলার প্রেমকাহিনি অমর রূপে চিত্রিত হয়েছে। এখানে প্রধান চরিত্র শকুন্তলা দেবী নিজেই কাহিনির কেন্দ্রবিন্দু। তিনি ঋষি কণ্বের আশ্রমে লালিত পালিতা হয়ে রাজা দुष्यন্তের সঙ্গে বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হন। নাটকে শকুন্তলার জীবন, প্রেম, দুঃখ ও পুনর্মিলনকে কেন্দ্র করেই সমগ্র কাহিনি আবর্তিত হয়েছে। তাই ‘অভিজ্ঞানশাকুন্তলম’-এ উল্লেখিত দেবী হলেন শকুন্তলা।

.
কালিদাসের ‘মেঘদূত’-এর প্রধান বিষয় কি? 
  1. বৃষ্টির আভাস
  2. যুদ্ধ
  3. দেবতার কীর্তি
  4. প্রেম ও বিচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
প্রেম ও বিচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেম ও বিচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

কালিদাসের ‘মেঘদূত’ একটি অমর খণ্ডকাব্য বা দূতকাব্য, যেখানে একজন যক্ষকে স্বর্গ থেকে নির্বাসিত করে হিমালয়ের রামগিরি পর্বতে পাঠানো হয়। প্রিয় স্ত্রী থেকে বিচ্ছিন্ন এই যক্ষ মেঘকে দূত রূপে কল্পনা করে তার কাছে বার্তা পাঠায়। এখানে প্রকৃতির বর্ণনা, মেঘের ভ্রমণপথের সৌন্দর্য এবং সর্বোপরি প্রেমিক-প্রেমিকার বিচ্ছেদের বেদনাময় অনুভূতি কাব্যের মূল সুর। তাই ‘মেঘদূত’-এর প্রধান বিষয় হল প্রেম ও বিচ্ছেদ।

.
'মেঘদূত' -এর প্রধান চরিত্র কে?
  1. কুবের
  2. যক্ষরাজ
  3. যক্ষ
  4. যক্ষের পালিত পুত্র
সঠিক উত্তর:
যক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যক্ষ
ব্যাখ্যা

কালিদাসের ‘মেঘদূত’ কাব্যের প্রধান চরিত্র হলেন যক্ষ। তিনি কুবেরের সভার এক যক্ষ, যিনি কর্তব্যে অবহেলার কারণে স্বর্গরাজ কুবেরের অভিশাপে এক বছরের জন্য হিমালয়ের রামগিরি পর্বতে নির্বাসিত হন। প্রিয় স্ত্রী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তিনি গভীর দুঃখভোগ করেন। এই বিচ্ছেদের কষ্টে তিনি মেঘকে দূত রূপে কল্পনা করে তার প্রিয়াকে বার্তা পাঠাতে চান। তাই সমগ্র কাব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন এই যক্ষ এবং তার প্রেমবেদনা।

.
'রঘুবংশম' কোন ধরনের রচনা?
  1. গদ্যকাব্য
  2. দৃশ্যকাব্য
  3. চম্পূকাব্য
  4. মহাকাব্য
সঠিক উত্তর:
মহাকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাকাব্য
ব্যাখ্যা

রঘুবংশম’ কালিদাস রচিত এক মহাকাব্য। এটি কবিতার আকারে রচিত, তাই একে কবিতামূলক মহাকাব্য বলা হয়। এই কাব্যে সূর্যবংশীয় রাজাদের, বিশেষত রঘুকুলের বীরত্ব, আদর্শ ও মহিমা বর্ণিত হয়েছে। এতে রাজাদের বংশধারা থেকে শুরু করে রামচন্দ্র পর্যন্ত বর্ণনা পাওয়া যায়। কাব্যের ভাষা, রূপক ও অলঙ্কারের সমন্বয় একে সংস্কৃত সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ মহাকাব্যগুলির মধ্যে স্থান দিয়েছে।

.
'রঘুবংশম' -এর প্রধান বংশধর কে? 
  1. রাম
  2. কৌশিক
  3. কর্ণ
  4. অর্জুন
সঠিক উত্তর:
রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাম
ব্যাখ্যা

রঘুবংশম’ মহাকাব্যের নাম যেমন সূর্যবংশীয় রাজা রঘুর নামে, তেমনি এর মূল কাহিনির কেন্দ্রীয় বংশধর হলেন শ্রী রামচন্দ্র। সূর্যবংশের বহু রাজাদের বর্ণনা থাকলেও রামই এই বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ নায়ক হিসেবে চিত্রিত। রঘুকুলের আদর্শ, ন্যায়নীতি ও বীরত্ব রামের চরিত্রে সর্বাধিক প্রকাশ পেয়েছে। তাই ‘রঘুবংশম’-এ রামকে প্রধান বংশধর হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

.
‘কুমারসম্ভব’-এর বিষয়বস্তু মূলত কী? 
  1. প্রেম
  2. যুদ্ধ
  3. রাজনীতি
  4. ধর্ম
সঠিক উত্তর:
প্রেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেম
ব্যাখ্যা

কালিদাস রচিত কুমারসম্ভব কাব্যের মূল বিষয় হলো শিব ও পার্বতীর প্রেমকাহিনি ও তাঁদের বিবাহ। এখানে পার্বতীর তপস্যা, শিবের মন জয় এবং তাঁদের মিলনের মধ্য দিয়ে কার্তিকেয় বা কুমারের জন্মের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। তাই এই মহাকাব্য মূলত প্রেম ও দাম্পত্য জীবনের সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে রচিত, যদিও এর মধ্যে দেবীয় শক্তির প্রতিফলনও দেখা যায়।

১০.
কালিদাসের রচনাকাল আনুমানিক কত? 
  1. খ্রিস্টপূর্ব ৫ম-৪র্থ শতক
  2. খ্রিস্টাব্দ ৪শ-৫শ
  3. খ্রিস্টপূর্ব ১ম শতক
  4. খ্রিস্টাব্দ ৮ম শতক
সঠিক উত্তর:
খ্রিস্টাব্দ ৪শ-৫শ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ্রিস্টাব্দ ৪শ-৫শ
ব্যাখ্যা

কালিদাস সংস্কৃত সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ও নাট্যকার। গবেষকদের মতে তিনি গুপ্ত যুগে, বিশেষ করে চন্দ্রগুপ্ত বিক্রমাদিত্য (চন্দ্রগুপ্ত দ্বিতীয়)-এর রাজসভায় কাব্যচর্চা করেন। তার কাব্যে গুপ্তযুগের সাংস্কৃতিক বৈভব, সমৃদ্ধি ও সূক্ষ্ম নান্দনিকতা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। এই কারণে তাঁর রচনাকাল আনুমানিক খ্রিস্টাব্দ ৪শ থেকে ৫শ শতক হিসেবে ধরা হয়।

১১.
নাট্যশাস্ত্রে মোট কত প্রকার নাটকের কথা বর্ণিত?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

নাট্যশাস্ত্রে নাটকের প্রধান শ্রেণী মোট ৪টি বলা হয়েছে— নাটক, প্রকরন, ভান ও প্রহসন।
এই বিভাজন মূলত কাহিনির উৎস, রচনার ধরন, চরিত্র এবং কাহিনির গাম্ভীর্যের উপর নির্ভর করে। নাটক সাধারণত রাজা বা মহৎ বংশীয় চরিত্রকে কেন্দ্র করে, প্রকরন কাহিনি কল্পিত হলেও বাস্তবধর্মী, ভান হাস্যরসাত্মক একাঙ্ক নাটক, আর প্রহসন ব্যঙ্গ-বিদ্রূপমূলক নাট্যরীতি।
এভাবে ভরত নাটকের বৈচিত্র্যকে চারটি প্রধান শ্রেণীতে ভাগ করেছেন।

১২.
নাট্যশাস্ত্রে  নাট্যরস কত প্রকার?
  1. ১০
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

ভারত মুনি রচিত নাট্যশাস্ত্রে নাট্যরসের সংখ্যা প্রথমে ৮টি বলা হয়েছে। এগুলো হলো—
১. শৃঙ্গার (প্রেম)
২. হাস্য (হাস্যরস)
৩. করুণ (বিষাদ)
৪. রৌদ্র (ক্রোধ)
৫. বীর (বীরত্ব)
৬. ভয়ানক (ভয়)
৭. বীভৎস (ঘৃণা)
৮. অদ্ভুত (বিস্ময়)

পরে আনন্দবর্ধন ও আবিনবগুপ্ত নবম রস শান্তরস যোগ করেন। কিন্তু মূল নাট্যশাস্ত্র অনুসারে রসের সংখ্যা ৮।

১৩.
নাট্যশাস্ত্রের কোন নাট্যশিল্পীকে সেরা বলা হয়? 
  1. যিনি নাটক লিখেন
  2. যিনি অভিনয় করেন
  3. যিনি দর্শককে আবেগময় করে তোলেন
  4. যিনি সঙ্গীত পরিবেশন করেন
সঠিক উত্তর:
যিনি দর্শককে আবেগময় করে তোলেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যিনি দর্শককে আবেগময় করে তোলেন
ব্যাখ্যা

নাট্যশাস্ত্র অনুসারে নাটকের মূল উদ্দেশ্য হলো রসাস্বাদন— অর্থাৎ দর্শকের মনে নির্দিষ্ট রস (আবেগ) জাগিয়ে তোলা। তাই কেবল নাটক লেখা, অভিনয় করা বা সঙ্গীত পরিবেশন নয়, বরং দর্শকের হৃদয়ে আবেগ সৃষ্টি করা-ই একজন শিল্পীর শ্রেষ্ঠ গুণ বলে গণ্য। যিনি দর্শককে হাসাতে, কাঁদাতে, বিস্মিত বা আনন্দিত করতে পারেন— তাকেই নাট্যশাস্ত্র শ্রেষ্ঠ শিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

১৪.
‘ভরতের নাট্যশাস্ত্র’-এর উদ্দেশ্য কী?
  1. ধর্ম শিক্ষা
  2. মনোরঞ্জন
  3. যুদ্ধ কৌশল
  4. রাজনীতি
সঠিক উত্তর:
মনোরঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনোরঞ্জন
ব্যাখ্যা

ভরত মুনির নাট্যশাস্ত্র-এর মূল উদ্দেশ্য হলো লোকের মনোরঞ্জন করা। নাটককে তিনি "পঞ্চম বেদ" বলেছেন, যাতে সব শ্রেণীর মানুষ—ব্রাহ্মণ থেকে সাধারণ জনতা পর্যন্ত—শিক্ষা, আনন্দ এবং আবেগের অভিজ্ঞতা পায়। নাটকের মাধ্যমে রসাস্বাদন হয়, যা দর্শককে আনন্দ দেয় এবং জীবনের নানা শিক্ষা গ্রহণেও সহায়ক হয়। তাই নাট্যশাস্ত্র মূলত ধর্ম বা রাজনীতি নয়, বরং মনোরঞ্জন ও শিক্ষা—এই দুই উদ্দেশ্য পূরণ করে।

১৫.
নাট্যশাস্ত্র অনুযায়ী ‘অভিনয়’ কী? 
  1. নাচানাচি করা
  2. সংলাপ বলা
  3. মুখভঙ্গি ও দেহভঙ্গি
  4. বিশেষভাবে কথা বলা
সঠিক উত্তর:
মুখভঙ্গি ও দেহভঙ্গি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুখভঙ্গি ও দেহভঙ্গি
ব্যাখ্যা

নাট্যশাস্ত্র অনুযায়ী অভিনয় হলো চরিত্রের মানসিক অবস্থা, ভাব ও অনুভূতি প্রকাশের প্রক্রিয়া, যা মুখভঙ্গি, দেহভঙ্গি, অঙ্গভঙ্গি এবং হাবভাবের মাধ্যমে দর্শকের কাছে পৌঁছে। এটি কেবল সংলাপ বা কাব্যপাঠ নয়, বরং চরিত্রের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ। সঠিক অভিনয় দর্শকের হৃদয় স্পর্শ করে এবং নাটকের রস অভিজ্ঞতাকে সম্পূর্ণ করে।

১৬.
নাট্যশাস্ত্র অনুযায়ী ‘রস’ কাকে বোঝায়?
  1. সঙ্গীত
  2. নাট্যমানসিক অনুভূতি
  3. নৃত্য
  4. ভঙ্গি
সঠিক উত্তর:
নাট্যমানসিক অনুভূতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাট্যমানসিক অনুভূতি
ব্যাখ্যা

নাট্যশাস্ত্র অনুযায়ী রস হলো দর্শকের মনে যে মানসিক অনুভূতি বা আবেগের স্বাদ জন্মায় তা বোঝায়। নাটক, নৃত্য বা অভিনয়ের মাধ্যমে যে আনন্দ, বিষাদ, ক্রোধ, ভয়, প্রেম ইত্যাদি অনুভূতি প্রকাশিত হয়, সেটি দর্শককে রসাস্বাদন প্রদান করে। তাই রস হলো নাট্যমানসিক অনুভূতি, যা নাটকের মূল সার্থকতা নির্ধারণ করে।

১৭.
নাট্যশাস্ত্রে নাটকের অন্তর্গত চরিত্রবর্গ কত ভাগে বিভক্ত?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

নাট্যশাস্ত্রে নাটকের চরিত্রকে মূলত ৪টি শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে:

নায়ক (পুরুষ নায়ক) – প্রধান পাত্র, যিনি কাহিনির কেন্দ্রীয় চরিত্র।

নায়িকা (নারী নায়িকা) – নায়কের সহচরী বা প্রেমিকা।

সহচর (সঙ্গী বা সহায়ক চরিত্র) – নায়ক-নায়িকার জীবন ও কাহিনীকে সমর্থন করে।

দুষ্ট বা খলনায়ক – কাহিনির প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

এই বিভাজন নাট্যকর্মের গঠন এবং রসের সঠিক প্রকাশে সহায়ক।

১৮.
‘নাট্যশাস্ত্র’-এ কোন রস সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়েছে? 
  1. রোমান্স
  2. হর্ষ
  3. বিষাদ
  4. ক্রোধ
সঠিক উত্তর:
হর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হর্ষ
ব্যাখ্যা

নাট্যশাস্ত্র অনুযায়ী হর্ষ (আনন্দ বা আনন্দিত রস) কে প্রধান ও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ রস বলা হয়েছে। কারণ দর্শককে নাটকের মাধ্যমে আনন্দময় অভিজ্ঞতা প্রদান করাই নাটকের মূল উদ্দেশ্য। অন্যান্য রস যেমন ক্রোধ, বিষাদ বা প্রেমও গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু হর্ষ দর্শককে রসাস্বাদনের প্রাথমিক আনন্দ দেয় এবং নাট্যকর্মকে সম্পূর্ণ করে।

১৯.
নাট্যশাস্ত্রে ‘ভঙ্গিমা’ নির্দেশ করে কী? 
  1. স্থান
  2. লড়াই
  3. সময়
  4. চরিত্রের ভঙ্গি ও ভাব
সঠিক উত্তর:
চরিত্রের ভঙ্গি ও ভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চরিত্রের ভঙ্গি ও ভাব
ব্যাখ্যা

নাট্যশাস্ত্র অনুযায়ী ভঙ্গিমা হলো অভিনেতার চরিত্রের অভ্যন্তরীণ ভাব ও অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ। এটি মুখভঙ্গি, দেহভঙ্গি, অঙ্গভঙ্গি ও হাবভাবের মাধ্যমে প্রদর্শিত হয়। ভঙ্গিমার মাধ্যমে দর্শককে চরিত্রের মানসিক অবস্থা এবং নাটকের রস বোঝানো সম্ভব হয়। তাই নাট্যশাস্ত্রে ভঙ্গিমাকে অভিনয়ের অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

২০.
নাট্যশাস্ত্রে নাটক কোন উদ্দেশ্যে রচিত হয় বলে বলা হয়েছে?
  1. ধর্ম প্রচার
  2. রাজনৈতিক কৌশল
  3. ইতিহাস লিখন
  4. নৈতিক শিক্ষা ও বিনোদন
সঠিক উত্তর:
নৈতিক শিক্ষা ও বিনোদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক শিক্ষা ও বিনোদন
ব্যাখ্যা

নাট্যশাস্ত্রে বলা হয়েছে, নাটকের মূল উদ্দেশ্য হলো দর্শককে বিনোদন প্রদান করা এবং নৈতিক শিক্ষা দেয়া। নাটক কেবল মজা বা আনন্দের জন্য নয়, বরং চরিত্রের কৃত্য ও আচরণের মাধ্যমে দর্শককে ধার্মিক, নৈতিক ও সামাজিক শিক্ষা প্রদান করে। তাই নাট্যশিল্পকে “পঞ্চম বেদ” বলা হয়েছে, যা মনোরঞ্জন ও শিক্ষা—এই দুই লক্ষ্য পূরণ করে।

২১.
চম্পূ কাব্য কী? 
  1. কাব্য + গদ্য
  2. শুধুমাত্র কবিতা
  3. শুধুমাত্র গদ্য
  4. রঙ্গরস
সঠিক উত্তর:
কাব্য + গদ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্য + গদ্য
ব্যাখ্যা

চম্পূ কাব্য হলো একটি বিশেষ ধরনের সাহিত্য রচনা, যেখানে কবিতা এবং গদ্যের সমন্বয় ঘটে। এতে গল্প বা কাহিনী গদ্যরূপে উপস্থাপিত হয়, কিন্তু মাঝে মাঝে কাব্যরূপেও বর্ণনা থাকে, যেমন ছন্দ, অলঙ্কার ও উপমার ব্যবহার। ফলে পাঠককে গদ্য ও কাব্যের সৌন্দর্য একসঙ্গে উপভোগ করার সুযোগ মেলে।

২২.
চম্পূ কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
  1. শুধুমাত্র কাব্যিক
  2. নাট্যভঙ্গি
  3. কাব্য ও গদ্য মিশ্র
  4. গীতিকাব্য
সঠিক উত্তর:
কাব্য ও গদ্য মিশ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্য ও গদ্য মিশ্র
ব্যাখ্যা

চম্পূ কাব্যের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এতে কাব্য ও গদ্য একত্রিত থাকে। কাব্যরূপে ছন্দ, অলঙ্কার ও সৌন্দর্য প্রকাশিত হয়, আর গদ্যরূপে গল্প বা কাহিনী বর্ণিত হয়। ফলে পাঠক একসাথে কাব্যিক রস ও গদ্যর রচনাশৈলী উপভোগ করতে পারে। এটি অন্যান্য কাব্যের থেকে আলাদা এবং বিশেষভাবে চম্পূ কাব্যের জন্য পরিচিত।

২৩.
চম্পূ কাব্যে সাধারণত কি বর্ণনা করা হয়? 
  1. মেডিটেশন
  2. প্রেম
  3. যুদ্ধ
  4. রাজকাহিনী ও বীরত্ব
সঠিক উত্তর:
রাজকাহিনী ও বীরত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজকাহিনী ও বীরত্ব
ব্যাখ্যা

চম্পূ কাব্যে সাধারণত রাজকাহিনী, রাজা ও বীরের সাহস, বীরত্বপূর্ণ কাজ এবং প্রাসঙ্গিক ঘটনাবলি বর্ণনা করা হয়। এতে কাব্য ও গদ্য মিশ্রিত থাকায়, বীরত্ব ও রাজকাহিনীর রোমাঞ্চকর দৃশ্য সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, নাগেন্দ্রপুরাণ বা রামচরিতমানসের চম্পূ অংশ এমন কাহিনীর মধ্য দিয়ে বীরত্ব ও রাজকাহিনীর চিত্রায়ন করে।

২৪.
চম্পূ কাব্যের লক্ষ্য কী? 
  1. দর্শককে আনন্দ দেওয়া
  2. যুদ্ধ কৌশল শেখানো
  3. ধর্ম প্রচার
  4. রাজনৈতিক শিক্ষা
সঠিক উত্তর:
দর্শককে আনন্দ দেওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দর্শককে আনন্দ দেওয়া
ব্যাখ্যা

চম্পূ কাব্যের মূল লক্ষ্য হলো পাঠক বা শ্রোতাকে আনন্দ এবং বিনোদন প্রদান করা। কাব্য ও গদ্যের সমন্বয় এবং গল্পের রোমাঞ্চকর বর্ণনা পাঠকের মনকে আকৃষ্ট করে। এছাড়াও, কাহিনীর মধ্যে নৈতিকতা বা বীরত্বের চিত্র উপস্থাপন হলেও, প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো সাহিত্যিক সৌন্দর্য ও আনন্দ উপভোগ করানো।

২৫.
চম্পূ কাব্য কোন ভাষায় রচিত হয়? 
  1. প্রাকৃত
  2. পালি
  3. সংস্কৃত
  4. অপভ্রংশ
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
ব্যাখ্যা

চম্পূ কাব্য মূলত সংস্কৃত ভাষায় রচিত হয়। এটি প্রাচীন ভারতের একটি বিশেষ সাহিত্যরূপ, যেখানে কাব্য এবং গদ্যের সমন্বয় থাকে। সংস্কৃতের সমৃদ্ধ শব্দভাণ্ডার, অলঙ্কার ও ছন্দচর্চার কারণে চম্পূ কাব্যের রূপ ও সৌন্দর্য অত্যন্ত সুগঠিত ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

২৬.
চম্পূ কাব্যের দৈর্ঘ্য সাধারণত কেমন?
  1. ক্ষুদ্র
  2. দীর্ঘ
  3. নির্দিষ্ট
  4. মাঝারি
সঠিক উত্তর:
মাঝারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাঝারি
ব্যাখ্যা

চম্পূ কাব্য সাধারণত মাঝারি দৈর্ঘ্যের হয়। এটি খুব ছোট নয়, কারণ কাহিনী ও চরিত্রের বিস্তারিত বর্ণনা করতে হয়, তবে মহাকাব্য বা বৃহৎ কাব্যের মতো অত্যন্ত দীর্ঘও নয়। মাঝারি দৈর্ঘ্য কাব্য ও গদ্যের সংমিশ্রণকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে সুবিধাজনক হয়, যা পাঠক বা শ্রোতাকে মনোরঞ্জন ও রসাস্বাদন দুটোই প্রদান করে।

২৭.
চম্পূ কাব্যকে অন্য কাব্য থেকে আলাদা করে কোন বৈশিষ্ট্য? 
  1. শুধুমাত্র রস
  2. কাব্য ও গদ্য সমন্বয়
  3. নাট্যরূপ
  4. একক চরিত্র
সঠিক উত্তর:
কাব্য ও গদ্য সমন্বয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্য ও গদ্য সমন্বয়
ব্যাখ্যা

চম্পূ কাব্যকে অন্যান্য কাব্য থেকে আলাদা করে মূল বৈশিষ্ট্য হলো এতে কাব্য ও গদ্য একত্রিত থাকে। কাব্য অংশে ছন্দ, অলঙ্কার ও রসের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে, আর গদ্য অংশে কাহিনী বা ঘটনা বর্ণিত হয়। এই সমন্বয় পাঠককে গদ্য ও কাব্যের উভয় রস উপভোগ করার সুযোগ দেয়, যা চম্পূ কাব্যকে অন্যান্য কাব্যধারার তুলনায় বিশেষভাবে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ করে।

২৮.
নাট্যশাস্ত্রের রচয়িতা ভরত মুনি কোন যুগে এই গ্রন্থ রচনা করেছিলেন বলে অনুমান করা হয়?
  1. মউর্য যুগ
  2. গুপ্ত যুগ
  3. মেদিনীপুর যুগ
  4. পাল যুগ
সঠিক উত্তর:
গুপ্ত যুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুপ্ত যুগ
ব্যাখ্যা

গবেষকরা মনে করেন ভরত মুনি নাট্যশাস্ত্র রচনা করেছিলেন প্রাচীন গুপ্ত যুগে, যখন নাট্যকলার বিকাশ ও সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি সেরূপে লক্ষ্য করা যায়। নাট্যশাস্ত্রে মঞ্চসজ্জা, অভিনয়, রস ও অলঙ্কার সংক্রান্ত বিশদ বিবরণ পাওয়া যায়, যা সেই সময়ের সাংস্কৃতিক বৈভব নির্দেশ করে।

২৯.
নাট্যশাস্ত্রের মূল বিষয়বস্তু কোনটি?
  1. যুদ্ধ ও কৌশল
  2. রাজনীতি
  3. নৃত্য, অভিনয় ও রসের সৃজন
  4. ধর্মীয় অনুষ্ঠান
সঠিক উত্তর:
নৃত্য, অভিনয় ও রসের সৃজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৃত্য, অভিনয় ও রসের সৃজন
ব্যাখ্যা
ভারতের প্রাচীন নাট্যগ্রন্থ “নাট্যশাস্ত্র”-এর মূল বিষয় হলো নৃত্য, অভিনয় ও রস। এতে বলা হয়েছে, নৃত্য ও অভিনয়ের মাধ্যমে কাহিনি দর্শকের কাছে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। আর রস দর্শকের মনে আনন্দ, করুণা, বীর্য ইত্যাদি নানা অনুভূতির সঞ্চার করে। ফলে নাটক বা অভিনয় পূর্ণতা পায় এই তিন উপাদানের সমন্বয়ে।