পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]

পরীক্ষাপ্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১০ [প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ৩য় ধাপের জন্য] [মোট নম্বর - ৪০] বিষয়: বাংলা টপিক: ১.ব্যাকরণ - উপসর্গ, অনুসর্গ, বাক্য প্রকরণ, বানান ও বাক্য শুদ্ধি, বাক্য রূপান্তর, সমাস, সন্ধি, কারক-বিভক্তি, দ্বিরুক্ত শব্দ, যতিচিহ্ন, শব্দার্থ, এক কথায় প্রকাশ এবং বাগধারা ও প্রবাদ প্রবচন। ২. সাহিত্য - আধুনিক যুগের গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম: মাইকেল মধুসূদন দত্ত, জসীমউদ্দীন, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, বনফুল, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৈয়দ মুজতবা আলী, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, পঞ্চপাণ্ডব, মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের সাহিত্যকর্ম, সমসাময়িক সাহিত্য প্রমুখ।"""
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স] · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
'এ গ্রামে একটি দরগাহ আছে, সেটি পাঠানযুগে নির্মিত হয়েছে।' এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল বাক্য
  2. বিস্ময়বোধক বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. সরল বাক্য
ব্যাখ্যা
• ‘এ গ্রামে একটি দরগাহ আছে, সেটি পাঠানযুগে নির্মিত হয়েছে।’ - যৌগিক বাক্য

যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।
যেমন -
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- বস্ত্র মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।
- এ গ্রামে একটি দরগাহ আছে, সেটি পাঠানযুগে নির্মিত হয়েছে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. দুর্বলবশত অনাথা বসে পড়ল।
  2. দুর্বলবশত অনাথিনী বসে পড়ল।
  3. দুর্বলতাবশত অনাথা বসে পড়ল।
  4. দুর্বলতাবশত অনাথিনী বসে পড়ল।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: দুর্বলতাবশত অনাথা বসে পড়ল

অন্যদিকে,
• অন্যান্য বাক্যগুলোতে 'দুর্বলবশত' এবং 'অনাথিনী' অপপ্রয়োগ।
• 'অনাথা' শব্দটি 'অনাথ' শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাক্যশুদ্ধি:
অশুদ্ধ বাক্য: ইহার আবশ্যক নেই।
শুদ্ধ বাক্য: ইহার আবশ্যকতা নেই।

অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।

অশুদ্ধ বাক্য: বিধি লঙ্ঘন হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
'স্বর্গ-নরক' কোন প্রকার দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
  2. বিরোধাত্মক দ্বন্দ্ব সমাস
  3. মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
  4. সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
• স্বর্গ-নরক - বিরোধাত্মক দ্বন্দ্ব সমাস

 • দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে দুই বা বহুপদ মিলে এক পদ এবং প্রত্যেক পদের অর্থ প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন -
- জায়া ও পতি = জায়াপতি > জম্পতি > দম্পতি।

বিরোধাত্মক দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসের পূর্ব ও পরপদের মধ্যে আপাত বিরোধ আছে বলে মনে হয়, তাকে বিরোধাত্মক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন -
- দা-কুমড়ো,
- অহি-নকুল,
- স্বর্গ-নরক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
কোনটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস?
  1. অপরাজিত
  2. আদর্শ হিন্দু হোটেল
  3. আরণ্যক
  4. পথের পাঁচালী
ব্যাখ্যা
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- তিনি ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ঔপন্যাসিক।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি 'দীপক' (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'পথের পাঁচালী' (১৯২৯)প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। 'অপরাজিত', পথের পাঁচালীরই পরবর্তী অংশ।
- 'ইছামতী' উপন্যাসের জন্য বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার’ (১৯৫১) লাভ করেন। 
- ১৯৫০ সালে ব্যারাকপুরের ঘাটশিলায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান, 
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
'যাচ্ছেতাই' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. যাচ্ছে + তাই
  2. যা + ইচ্ছে + তাই
  3. যাচ্ছা + তাই
  4. যা + ইচ্ছা + তাই
ব্যাখ্যা
• 'যাচ্ছেতাই' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ - যা + ইচ্ছা + তাই

স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনি মিলে যে সন্ধি হয় তাকে স্বরসন্ধি বলে।

• সন্ধিতে দুটি সন্নিহিত স্বরের একটির লোপ হয়।
যেমন -
- অ + এ = এ (অ লোপ); শত + এক = শতেক।
- আ + আ = আ (একটি আ লোপ); শাঁখা + আরি = শাঁখারি। 
- আ + উ = উ (আ লোপ); মিথ্যা + উক = মিথ্যুক।
- ই + এ = ই (এ লোপ); কুড়ি+ এক = কুড়িক।

• কোনো কোনো স্থলে পাশাপাশি দুটি স্বরের শেষেরটি লোপ পায়।
যেমন -
- যা + ইচ্ছা + তাই = যাচ্ছেতাই
এখানে (আ+ই) এর মধ্যে ই লোপ পেয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক সাহিত্যকর্ম নয় -
  1. অলাতচক্র
  2. আর্তনাদ
  3. আরেক ফাল্গুন
  4. কবর
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনভিত্তিক সাহিত্যকর্ম নয় - অলাতচক্র
- এটি আহমদ ছফা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

অন্যদিকে,
• শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস - আর্তনাদ।
• জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস - আরেক ফাল্গুন।
• মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক - কবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, 'আর্তনাদ' উপন্যাস, শওকত ওসমান।
.
'বিন্দু বিসর্গ' গল্পগ্রন্থ রচনা করেন কে?
  1. নীলিমা ইব্রাহিম
  2. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
বিন্দু বিসর্গ:
- এটি বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় রচিত গল্পগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য, 'বিন্দু বিসর্গ' নামে নীলিমা ইব্রাহিমের আত্মজীবনী রয়েছে।

বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৯ জুলাই বিহারের পূর্ণিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, কথাশিল্পী, নাট্যকার, প্রবন্ধকার।
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় কর্মজীবন শুরু করেন কলকাতার একটি বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে নিয়োগ লাভের মধ্য দিয়ে।
- স্কুলে পড়ার সময়ে তিনি ‘বনফুল’ ছদ্মনামে কবিতা রচনা করেন।
- সম্পাদনা করেন 'বিকাশ' (১৯১৫) নামে হাতে-লেখা একটি সাহিত্যপত্রিকা।
- তাঁর কবিতার প্রধান বিষয় নিসর্গ চেতনা, প্রেম ও আত্ম-উপলব্ধি।
- ১৯৭৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- বনফুলের গল্প, 
- বিন্দু বিসর্গ
- অদৃশ্যলোকে,
- তন্বী,  
- অনুগামিনী,
- দূরবীণ,
- মণিহারী, 
- বহুবর্ণ,
- বনফুলের নতুন গল্প ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
'বিস্ময় চিহ্ন' এর ক্ষেত্রে থামার পরিমাণ কোনটি?
  1. ১ বলতে যে সময় লাগে
  2. ১ সেকেন্ড
  3. ১ বলার দ্বিগুণ সময়
  4. থামার প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা
• 'বিস্ময় চিহ্ন' এর ক্ষেত্রে থামার পরিমাণ - ১ সেকেন্ড

বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
কোনটি শুদ্ধ?
  1. নির্জন স্বাক্ষর (কাব্যগ্রন্থ)
  2. সতীর্থ (কাব্যগ্রন্থ)
  3. স্বগত (কাব্যগ্রন্থ)
  4. সাত ভাই চম্পা (কাব্যগ্রন্থ)
ব্যাখ্যা
সাত ভাই চম্পা:
- বিষ্ণু দে রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
নির্জন স্বাক্ষর:
- বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস।
- এটি ১৯৫১ সালে প্রকাশিত হয়।

সতীর্থ:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস।
- এটি ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয়।

স্বগত:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০.
'কুসীদজীবী' শব্দটির অর্থ কোনটি?
  1. ঘুষখোর
  2. মৎসজীবী
  3. সাপুড়ে
  4. সুদখোর
ব্যাখ্যা
কুসীদজীবী:
- শব্দটি বিশেষ্য ও বিশেষণ উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: সুদে টাকা ধার দেওয়া যার পেশা (সুদখোর)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১.
'সাপের খোলস' এর এককথায় প্রকাশ কোনটি?
  1. কঞ্চুক
  2. করভ
  3. কল্লোল
  4. কৃত্তি
ব্যাখ্যা
• 'সাপের খোলস' এর এককথায় প্রকাশ - কঞ্চুক বা নির্মোক।

অন্যদিকে,
• 'হাতির শাবক (বাচ্চা)' এর এককথায় প্রকাশ - করভ।
• 'সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ' এর এককথায় প্রকাশ - কল্লোল।
• 'বাঘের চর্ম' এর এককথায় প্রকাশ - কৃত্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২.
'আমড়া কাঠের ঢেঁকি' বাগ্‌ধারাটির অর্থ কোনটি?
  1. অকেজো লোক
  2. গোমড়ামুখো লোক
  3. নির্বোধ লোক
  4. সামান্য লোক
ব্যাখ্যা
• 'আমড়া কাঠের ঢেঁকি' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - অকেজো লোক

অন্যদিকে,
• 'রামগরুড়ের ছানা' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - গোমড়ামুখো লোক।
• 'বুদ্ধির ঢেঁকি' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - নির্বোধ লোক।
• 'আদাড়ের হাঁড়ি' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - সামান্য লোক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন -
  1. 'অর্কেষ্ট্রা' কাব্যগ্রন্থ
  2. 'কুলায় ও কালপুরুষ' প্রবন্ধগ্রন্থ
  3. 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ
  4. 'প্রতিধ্বনি' অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন - 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ
- উৎসর্গপত্রে লিখেছেন: 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রীচরণে অর্ঘ্য। ঋণশোধের জন্য নয়, ঋণস্বীকারের জন্য।'

উল্লেখ্য, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘আকাশ-প্রদীপ’ কাব্যগ্রন্থটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তকে উৎসর্গ করেন।

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। 
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।
- ১৯৬০ সালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তর ফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

তাঁর দুটি প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।

তাঁর রচিত অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪.
'বাংলাদেশ' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
'বাংলাদেশ' কবিতা:
- কবিতাটির রচয়িতা অমিয় চক্রবর্তী
- এটি তাঁর 'অনিঃশেষ' কাব্যগ্রন্থভুক্ত কবিতা। 
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।

অমিয় চক্রবর্তী:
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)। 
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী' (১৯২৪-২৫)।
- তাঁর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।
- তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।
- তাছাড়া ইংরেজি ভাষায় রচিত তাঁর ৯টি বই রয়েছে।
- কবিতার জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য পুরস্কার: ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমি পুরস্কার।
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৮৬ সালের ১২জুন শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।
 
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; 'অনিঃশেষ' কাব্যগ্রন্থ, অমিয় চক্রবর্তী।
১৫.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. মুমুক্ষু
  2. মুমুক্ষূ
  3. মুমূক্ষু
  4. মুমূক্ষূ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - মুমুক্ষু
- শব্দটি বিশেষণ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: মোক্ষলাভে ইচ্ছুক, মুক্তিকামী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬.
'বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি সহজ হয়।' বাক্যটির নেতিবাচক রূপ -
  1. বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি সহজ হয় না।
  2. বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি কঠিন হয়।
  3. বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি কঠিন হয় না।
  4. বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি কঠিন না হয়ে পারে না।
ব্যাখ্যা
• বিবৃতিমূলক বা  নির্দেশাত্মক বাক্যকে, ক. অস্তিবাচক ও খ. নেতিবাচক - এই দুভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- প্রকৃতপক্ষে, অর্থানুসারে শ্রেণিভুক্ত সাত প্রকারের বাক্যকে সামগ্রিকভাবে দুটি মৌল শ্রেণিতে ভাগ করা যায়; সে দুটি হলো - অস্তিবাচক ও নেতিবাচক বাক্য। কেননা প্রতিটি শ্রেণিতেই আছে বক্তব্যের প্রতিষ্ঠাকে স্বীকৃতির ও অস্বীকৃতির দুটি দিক।

অস্তিবাচক বা অস্ত্যর্থক বা হাঁ-বাচক বাক্য:
যে বাক্যে কোনো ঘটনা, ভাব বা বক্তব্যের অস্তিত্ব বা হাঁ-সূচক অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে অস্তিবাচক বা অস্ত্যর্থক বাক্য বলে।
যেমন - 
- 'হৈমন্তী চুপ করিয়া রহিল।'
- 'আমার বুকের ভেতরটা হু হু করিয়া উঠিল।'
- বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি সহজ হয়

নেতিবাচক বা নাস্ত্যর্থক বা না-বাচক বাক্য:
যে বাক্যে কোনো ঘটনায়, কাজে, বা ভাবে অস্বীকৃতি, অনস্তিত্ব, নিষেধ বা না-সূচক অর্থ বোঝায় তাকে নেতিবাচক বা নাস্ত্যর্থক বাক্য বলে।
যেমন -
- 'হৈমন্তী কোন কথা বলিল না।'
- 'আমার বুকের ভেতরটা হু হু না করিয়া পারিল না।'
- বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি কঠিন হয় না

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৭.
'তস্কর' কোন ধরনের সন্ধির উদাহরণ?
  1. স্বরসন্ধি
  2. বিসর্গ সন্ধি
  3. নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি
ব্যাখ্যা
• তস্কর - নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি

ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।
- এদিক থেকে ব্যঞ্জন সন্ধিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
১. ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি,
২. স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি,
৩. ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি।

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি: 
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ: 
- বন্‌ + পতি = বনস্পতি,
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোস্পদ,
- পর্‌ + পর = পরস্পর,
- বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি,
- তৎ + কর = তস্কর,
- মনস্‌ + ঈষা = মনীষা,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক্‌ + দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮.
'গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল' - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে ৭মী
  2. করণে ৭মী
  3. অপাদানে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• 'গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল।' - নিম্নরেখ শব্দটি অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।

অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। 
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা -
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। 
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।
- অধিকরণ কারক তিন প্রকার। যথা:
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং 
৩. ভাবাধিকরণ।

অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- আমি ঢাকা যাব।
- বাবা বাড়ি নেই।

• তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।

• পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।

সপ্তমী বিভক্তি:
- এ বাড়িতে কেউ নেই।
- গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল।

• অধিকরণে অনুসর্গের ব্যবহার - ঘরের মধ্যে কে রে? তোমার আসন পাতিব হাটের মাঝে।

• ক্রিয়াকে কখন / কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই অধিকরণ কারক।
- 'গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল।' - এখানে 'কোথায় কাঁঠাল?', প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'গাছে'। তাই 'গাছে' অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯.
'ঐক্য' শব্দের অর্থ কী?
  1. আত্যন্তিক
  2. একত্ব
  3. একনিষ্ঠ
  4. দৃঢ়
ব্যাখ্যা
ঐক্য:
- শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: একত্ব, একতা; সাদৃশ্য, সাযুজ্য, সাধর্ম্য, সমতা, মিল।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।   
২০.
'যে অগ্র-পশ্চাৎ চিন্তা না করে কাজ করে' এর সংক্ষেপণ - 
  1. অপরিণামদর্শী
  2. অবিবেচক
  3. অবিমৃশ্যকারী
  4. অবিসংবাদী
ব্যাখ্যা
• 'যে অগ্র-পশ্চাৎ চিন্তা না করে কাজ করে' এর সংক্ষেপণ - অবিমৃশ্যকারী

অন্যদিকে,
• 'যে ভবিষ্যতের চিন্তা করে না বা দেখে না' এর সংক্ষেপণ - অপরিণামদর্শী।
• 'যে বিষয়ে কোনো বিতর্ক নেই' এর সংক্ষেপণ - অবিসংবাদী বা অবিসংবাদিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।