পরীক্ষা আর্কাইভ

ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্স

পরীক্ষাব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্সতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন২৭
সিলেবাস
বিষয়ভিত্তিক সম্পূর্ণ সিলেবাস: বাংলা (৫০) [২০২১ সাল ভিত্তিক ০৭টি ব্যাংকে 'অফিসার (ক্যাশ)/অফিসার (টেলর)' পরীক্ষার জন্য]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্স

ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্স · তারিখ অনির্ধারিত · ২৭ প্রশ্ন

.
নিচের কোন শব্দে বিদেশি উপসর্গ রয়েছে?
  1. উপকূল
  2. প্রভাব
  3. নাখোশ
  4. কদবেল
সঠিক উত্তর:
নাখোশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাখোশ
ব্যাখ্যা
• 'নাখোশ'- ফারসি শব্দ।
- 'নাখোশ' শব্দে 'না' উপসর্গটি একটি ফারসি উপসর্গ।
- 'নাখোশ' শব্দটিতে ‘না' উপসর্গটি 'না' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
 
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
 
অন্যদিকে,
উপকূল, প্রভাব - শব্দ দুটির 'উপ' এবং 'প্র' তৎসম উপসর্গ।
কদবেল - শব্দের 'কদ্‌' বাংলা উপসর্গ।

উৎস:
১। ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ। 
২। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
.
'গৃহদাহ' উপন্যাসের প্রধান দুটি চরিত্রের নাম কী?
  1. সুরেশ ও মহিম
  2. মধুসূদন ও কুমুদিনী
  3. মহেন্দ্র, বিনোদিনী
  4. গােবিন্দলাল, রােহিনী
সঠিক উত্তর:
সুরেশ ও মহিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুরেশ ও মহিম
ব্যাখ্যা
• 'সুরেশ, মহিম, অচলা' - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'গৃহদাহ' উপন্যাসের চরিত্র। 
 
• 'গৃহদাহ' উপন্যাস:
- 'মহিম ও সুরেশ' শরৎচন্দ্রের গৃহদাহ উপন্যাসের দুইটি প্রধান চরিত্র।
- ১৯২০ সালে রচিত এই উপন্যাসটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর একটি শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- এটি মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়। 
- উপন্যাসের নায়িকা অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়।
- বিবাহ - বহির্ভূত কথিত অসামাজিক প্রেমের কাহিনিটি নিপুণ ঘটনা সংস্থানে ও বর্ণনার মনস্তাত্ত্বিক সুক্ষ্মতার দ্বারা সমস্যায়িত হয়ে উঠেছে। 
- এই উপন্যাসে শরৎচন্দ্র হিন্দু বিধবা মৃণালকে আদর্শ হিসেবে রূপায়িত করেছেন।
------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কয়েকটি উপন্যাসের চরিত্র: 
গৃহদাহ উপন্যাসের চরিত্র - সুরেশ, মহিম, অচলা।
বিষবৃক্ষ উপন্যাসের চরিত্র - নগেন্দ্রনাথ ও কুন্দনন্দিনী।
কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসের চরিত্র - গােবিন্দলাল, রােহিনী, ভ্রমর।
চরিত্রহীন উপন্যাসের চরিত্র - সতীশ ও কিরণময়ী। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কিছু উপন্যাসের চরিত্র: 
- 'শেষের কবিতা' উপন্যাসটির অন্যতম প্রধান চরিত্র - অমিত ও লাবণ্য।
- ‘চোখের বালি’ উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র - মহেন্দ্র, বিনোদিনী।
- ‘ঘরে বাইরে’ উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র - নিখিলেস ও বিমলা।
- 'দুই বোন' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র - শর্মিলা ও ঊর্মিমালা। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য সাহিত্য ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'প্রদোষে প্রাকৃতজন' গ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. রিজিয়া রহমান
  2. শওকত আলী
  3. শওকত ওসমান
  4. বিষ্ণ দে
সঠিক উত্তর:
শওকত আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শওকত আলী
ব্যাখ্যা
• 'প্রদোষে প্রাকৃতজন' উপন্যাসটির রচয়িতা: শওকত আলী। 

• শওকত আলী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।
 
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ, 
- যাত্রা, 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন, 
- দক্ষিণায়নের দিন, 
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উত্তরের খেপ, 
- হিসাবনিকাশ, 
- দলিল, 
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
.
বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. বিধেয় বিশেষণ
  2. বর্ণবাচক বিশেষণ
  3. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  4. ভাববাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ভাববাচক বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ভাববাচক বিশেষণ:
যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- খুব ভালো খবর। 
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।
[ এসব বাক্যে ‘খুব’ এবং ‘বেশ’ ভাববাচক বিশেষণ।]

---------------------
• বিধেয় বিশেষণ:
বাক্যের বিধেয় অংশে যেসব বিশেষণ বসে, সেসব বিশেষণকে বিধেয় বিশেষণ বলে।
যেমন – ‘লােকটা পাগল’ বা ‘এই পুকুরের পানি ঘােলা’ – বাক্য দুটির ‘পাগল’ ও ‘ঘােলা’ বিধেয় বিশেষণ।

• বর্ণবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ কবা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা – এখানে নীল, সবুজ বা ললি’ হলাে বর্ণবাচক বিশেষণ।

• অবস্থাবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বােঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ – এখানে চলন্ত ও তরল অবস্থাবাচক বিশেষণ। 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
.
‘শ্বশ্রূ’ শব্দের অর্থ কি?
  1. শ্বশুর
  2. দাড়ি
  3. শাশুড়ি
  4. দাঁড়ি
সঠিক উত্তর:
শাশুড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাশুড়ি
ব্যাখ্যা
শ্বশ্রূ (বিশেষ্য):
অর্থ - স্বামী বা স্ত্রীর মা; শ্বশুরের স্ত্রী; শাশুড়ি।
 
অন্যদিকে,
- শ্মশ্রু শব্দের অর্থ দাড়ি
---------------
• উল্লেখযোগ্য আরো কয়েকটি শব্দজোড়:
- ভাষ – কথা।
- ভাস – দীপ্তি। 
 
- মোড়ক – আচ্ছাদনী
- মড়ক – মহামারী।
 
- যুগ – কাল।
- যোগ – মিলন।
 
- লক্ষ – শত সহস্র।
- লক্ষ্য – উদ্দেশ্য।
 
- লন্ঠন – বাতি।
- লুণ্ঠন – লুটতরাজ।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
.
'ইহ' এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. ইষৎ
  2. পরত্র
  3. পশ্চাৎ
  4. অনিষ্ট
সঠিক উত্তর:
পরত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরত্র
ব্যাখ্যা
• 'ইহ' এর বিপরীত শব্দ: 'পরত্র'। 
-------------
অন্যদিকে,
'ইষৎ' এর বিপরীত শব্দ- 'অধিক'।
'অগ্র' এর বিপরীত শব্দ- 'পশ্চাৎ'।
'ইষ্ট' এর বিপরীত শব্দ- 'অনিষ্ট'।

আরো কিছু গুরুতপূর্ণ বিপরীতার্থক শব্দ:
অধমর্ণ- উত্তমর্ণ,
অর্বাচীন- প্রাচীন,
অগ্রজ- অনুজ,
আবির্ভাব- তিরোভাব,
কৃপণ- বদান্য,
চঞ্চল- স্থির,
ঢোসা- হালকা,
তামসিক- রাজসিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
.
'অভিনিবেশ' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. বিশেষভাবে
  2. মনোযোগ
  3. নিষ্পৃহ
  4. অভিরুচি
সঠিক উত্তর:
মনোযোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনোযোগ
ব্যাখ্যা
• 'অভিনিবেশ' শব্দের সমার্থক শব্দ: মনোযোগ।

• 'অভিনিবেশ' শব্দের আর কিছু সমার্থক শব্দ:
- একাগ্রতা,
- প্রণিধান,
- প্রবেশ,
- আগ্রহ,
- আবেশ ইত্যাদি।
----------------
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
'Compost' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. যৌগিক শুল্ক
  2. সংমিশ্র
  3. মিশ্রসার
  4. ব্যাপন
সঠিক উত্তর:
মিশ্রসার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশ্রসার
ব্যাখ্যা
• 'Compost' এর বাংলা পরিভাষা: মিশ্রসার। 

অন্যদিকে,
Compound duty- যৌগিক শুল্ক। 
Composite- সংমিশ্র। 
Irradiation - ব্যাপন, ব্যপ্ত।

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা- বাংলা একাডেমি।
.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয় কত সালে?
  1. ১৮৪১
  2. ১৮৩৯
  3. ১৮৪৩
  4. ১৮৫৯
সঠিক উত্তর:
১৮৪৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৪৩
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক, প্রথম প্রহসন রচয়িতা।
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়। 
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
 
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য (মহাকাব্য),
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী (সনেট)।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০.
অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ কোনটি?
  1. খকখক
  2. টুং টুং
  3. ঝিকিমিকি
  4. খপাখপ
সঠিক উত্তর:
ঝিকিমিকি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝিকিমিকি
ব্যাখ্যা
• 'ঝিকিমিকি'- অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ। 
 
অন্য অপশনে,
খকখক, টুং টুং, খপাখপ, - ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ।
--------------------- 
অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন: মোটাসোটা, আম টাম, এলোমেলো ইত্যাদি। 
 
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন- কুটুস- কুটুস, কুট কুট, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস। 
 
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়, ঘুম ঘুম ইত্যাদি। 
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
১১.
'জমি থেকে ফসল পাই'- বাক্যে 'জমি থেকে' কোন কারকের উদাহরণ?
  1. অধিকরণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. কর্তাকারক
  4. করণ কারক
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• 'জমি থেকে ফসল পাই'-  অপাদান কারকের উদাহরণ।
 
 অপাদান কারক: 
- যে কারকে কোনকিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ ও দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন: 
- জমি থেকে ফসল পাই। 
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১২.
''বেঁচে থাকার মতো সামান্য কয়টা টাকা বেতন পাই।'' - নিম্নরেখ শব্দগুচ্ছ কোন ধরনের বর্গ নির্দেশ করে?
  1. বিশেষ্য বর্গ
  2. বিশেষণ বর্গ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ বর্গ
  4. ক্রিয়া বর্গ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ বর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ বর্গ
ব্যাখ্যা
''বেঁচে থাকার মতো সামান্য কয়টা টাকা বেতন পাই।'' - নিম্নরেখ শব্দগুচ্ছ ক্রিয়া বিশেষণ বর্গ নির্দেশ করে।
-------------------
বাক্যের বর্গ:
বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে।
বর্গ হলো ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত শব্দের গুচ্ছ। 
 
বিশেষ্য বর্গ: 
- বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধপদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বর্গ তৈরি হয়।
যেমন – আমার ভাই পড়তে বসেছে।
 
বিশেষণ বর্গ: 
- বিশেষণজাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা যায় বিশেষণবর্গ।
যেমন –
আমটা দেখতে ভারী সুন্দর
 
ক্রিয়া-বিশেষণ বৰ্গ:
- যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ বলে।
যেমন:
সকাল আটটার সময়ে সে রওনা হলো ।
তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে গিয়ে দাঁড়ালাম ।
বেঁচে থাকার মতো সামান্য কয়টা টাকা বেতন পাই।

ক্রিয়াবৰ্গ: 
- বাক্যের বিধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রিয়াবর্গ তৈরি করে।
যেমন –
অস্ত্রসহ সৈন্যদল এগিয়ে চলেছে।
সে লিখছে আর হাসছে।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
১৩.
কোন বাক্যে নামপুরুষের ব্যবহার রয়েছে?
  1. আমরা যাচ্ছি।
  2. ওরা কী করে?
  3. তোরা যাসনে।
  4. আপনি আসবেন
সঠিক উত্তর:
ওরা কী করে?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওরা কী করে?
ব্যাখ্যা
• ওরা কী করে? - বাক্যে 'ওরা' নামপুরুষ। 
--------------------
উত্তম পুরুষ:
- স্বয়ং বক্তাই উত্তম পুরুষ।
- আমি, আমরা, আমাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ উত্তম পুরুষ।

মধ্যম পুরুষ:
- প্রত্যক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা শ্রোতাই মধ্যম পুরুষ।
- তুমি, তোমরা, তোরা, তোমাদের, আপনি, আপনারা, আপনাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ মধ্যম পুরুষ।

প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ:
- যে সর্বনামের দ্বারা বক্তা বা শ্রোতা ছাড়া অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে বোঝায়, তাকে প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ বলে। 
- আমি ও তুমি এবং এদের দলভুক্ত অন্যান্য সর্বনাম ছাড়া যাবতীয় সর্বনাম পদ  প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ।
- যেমন: সে, তাকে, তাঁর, তিনি, ওরা, ওদের, ইহারা ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।।
১৪.
‘ছেলেরা ক্রিকেট খেলে’-বাক্যে ‘ক্রিকেট’ পদটি -
  1. বলক
  2. সলগ্নক পদ
  3. বচন
  4. অলগ্নক পদ
সঠিক উত্তর:
অলগ্নক পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলগ্নক পদ
ব্যাখ্যা
গঠনগতভাবে পদ দুই রকমের। যথা -
- অলগ্নক পদ,
- সলগ্নক পদ। 
 
সলগ্নক পদ:
• বাক্যের যেসব পদে লগ্নক থাকে সেগুলোকে সলগ্নক পদ বলে। যেমন -
'ছেলেরা ক্রিকেট খেলে'
- এ বাক্যে 'ছেলেরা' ও 'খেলে' সংলগ্নক পদ।
 
অলগ্নক পদ:
• যেসব পদে লগ্নক থাকে না সেগুলোকে অলগ্নক পদ বলে। যেমন -
'ছেলেরা ক্রিকেট খেলে'
- এ বাক্যে 'ক্রিকেট' অলগ্নক পদ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ২০২২ সংস্করণ।
১৫.
'জয়পতাকা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. উপমিত কর্মধারয়
  2. ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  3. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
  4. অলুক দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
• 'জয় সূচক পতাকা = জয়পতাকা' - মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ। 

• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
- ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ পেয়ে যে কর্মধারয় সমাস হয় তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- আয়ের উপর কর = আয়কর।
- মৌ আশ্রিত মাছি = মৌমাছি।
- উর্ণা নির্মিত জাল = উর্ণাজাল।
- জয় সূচক পতাকা = জয়পতাকা।

• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলোকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন - 
আঁখি পদ্মের ন্যায় - পদ্মআঁখি,
পুরুষ সিংহের ন্যায় - সিংহপুরুষ,
মুখ চন্দ্রের ন্যায় - চন্দ্রমুখ।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লােপ পায় তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
- ধানের ক্ষেত = ধানক্ষেত।
- চায়ের বাগান = চাবাগান।
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র।
- খেয়ার ঘাট= খেয়াঘাট।

• অলুক দ্বন্দ সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোনাে সমস্যমান পদের বিভক্তি লােপ হয় না, তাকে অলুক দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন – দুধে-ভাতে, জলে-স্থলে, দেশে-বিদেশে, হাতে-কলমে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬.
'রাজর্ষি' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. রাজ + ঋষি
  2. রাজ + অর্ষি
  3. রাজা + ঋষি
  4. রাজ্‌ + অর্ষ
সঠিক উত্তর:
রাজা + ঋষি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা + ঋষি
ব্যাখ্যা
• 'রাজর্ষি' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: রাজা + ঋষি।

• সন্ধির নিয়ম: 
অ-কার কিংবা আ-কারের পর ঋ-কার থাকলে উভয়ে মিলে 'অর' হয় এবং তা রেফ রূপে পরবর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।
যেমন-
রাজা + ঋষি = রাজর্ষি,
মহা + ঋষি = মহর্ষি,
উত্তম + ঋণ = উত্তমর্ণ,
অধম + ঋণ = অধমর্ণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭.
'নবনবতিতম' কোন সংখ্যার পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ?
  1. ৯১
  2. ৯০
  3. ৯৭
  4. ৯৯
সঠিক উত্তর:
৯৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৯
ব্যাখ্যা
• 'নবনবতিতম' - ৯৯ সংখ্যার পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ। 
-----------------
• ১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংখ্যার সংক্ষিপ্ত পূরণবাচকে শুধু ‘তম’ প্রত্যয় যােগ করা হয়।
যথা:
উনিশতম বা ঊনবিংশতিতম (১৯তম),
বিশতম বা বিংশতিতম (২০তম),
একুশতম বা একবিংশতিতম (২১তম),
আটাশতম বা অষ্টাবিংশতিতম (২৮তম),
উনপঞ্চাশতম বা ঊনপঞ্চাশত্তম (৪৯তম),
সত্তর বা সপ্ততিতম - ৭০, 
সপ্তসপ্ততিতম - ৭৭ 
আশিতম বা অশীতিতম (৮০তম),
নব্বইতম বা নবতিতম (৯০তম),
নিরানব্বইতম বা নবনবতিতম (৯৯তম) ইত্যাদি।
 
উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি) ২০২১ সংস্করণ। 
১৮.
''সমাজে দয়ার চেয়ে দায়ের জোর বেশি'' -বাক্যটির যৌগিক রূপান্তর কী হবে?
  1. সমাজে দয়ার জোর বেশি না হলেও দায়ের জোর বেশি।
  2. সমাজে দয়ার জোর বেশি নয়, বরং দায়ের জোর বেশি।
  3. যেহেতু সমাজে দয়ার জোর বেশি নয়, সেহেতু দায়ের জোর বেশি।
  4. সমাজে দায়ের এবং দয়ার জোর বেশি।
সঠিক উত্তর:
সমাজে দয়ার জোর বেশি নয়, বরং দায়ের জোর বেশি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাজে দয়ার জোর বেশি নয়, বরং দায়ের জোর বেশি।
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
 
সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে: 
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
- এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়। সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
- সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়।

---------------------- 
• সরল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
সরল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে বাক্যের মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবল্মবন করতে হবে হবে-
যেমন,
• বাক্যের পরিবর্তন হলেও বাক্যের মূল অর্থের পরিবর্তন হয় না।
সরল বাক্য: সমাজে দয়ার চেয়ে দায়ের জোর বেশি।
যৌগিক বাক্য: সমাজে দয়ার জোর বেশি নয়, বরং দায়ের জোর বেশি।

• সরল বাক্যের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া দ্বারা স্বনির্ভর খণ্ডবাক্যে পরিণত করতে হয়।
যেমন,
সরল বাক্য: গুহাটা হইতে বাহির হইয়া আসিয়া ধড়ে প্রাণ আসিল।
যৌগিক বাক্য: গুহাটা হইতে বাহির হইলাম, তবেই ধড়ে প্রাণ আসিল। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণি (সংস্করণ -২০১৯)। 
১৯.
বাংলা অভিধানের বর্ণানুক্রমে কোন শব্দটি সবার আগে বসবে?
  1. কোকনদ
  2. কোকেন
  3. কোঁদল
  4. কোঙর
সঠিক উত্তর:
কোঁদল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোঁদল
ব্যাখ্যা
• বর্ণের ক্রম অনুসারে অভিধানে আগে বসবে - 'কোঁদল' শব্দটি।

বাংলা অভিধানের বর্ণগুলোকে নিম্নোক্ত ক্রমে সাজাতে পারি:

অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ,
ং, ঃ, ঁ, 
ক, খ, গ, ঘ, ঙ,
চ, ছ, জ, ঝ, ঞ,
ট, ঠ, ড,  ড়, ঢ, ঢ়, ণ,
ত, ৎ, থ, দ, ধ, ন,
প, ফ, ব, ভ, ম,
য, য়, র, ল,
শ, ষ, স, হ। 
---------------
সে অনুসারে সঠিক শব্দক্রম হবে,
কোঁদল → কোকনদ → কোকেন → কোঙর। 
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২০.
''সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনকে জাগানো।'' - উক্তিটি কার?
  1. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. মোতাহার হোসেন চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• ''সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনকে জাগানো।'' - উক্তিটি করেছেন- প্রমথ চৌধুরী।
- উক্তিটি তিনি তাঁর 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে বলেছেন
- 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধটি 'প্রবন্ধসংগ্রহ' গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। 
 
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ। 
 
• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।
 
তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।
----------------------
• প্রমথ চৌধুরীর বিখ্যাত কিছু উক্তি:
- সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত।
- বাংলা ভাষা আহত হয়েছে সিলেটে আর নিহত হয়েছে চট্টগ্রামে।
- সাহিত্য জাতির দর্পণ স্বরূপ।
- হীরক ও কাঁচ যমজ হলেও সহোদর নয়।
- সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া-কারও মনোরঞ্জন করা নয়।
- কাব্যজগতে যার নাম আনন্দ, তারই নাম বেদনা।
- সাহিত্যে মানবাত্মা খেলা করে এবং সেই খেলার আনন্দ উপভোগ করে। 
- যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়।
- জ্ঞানের প্রদীপ যেখানেই জ্বালো না কেন, তাহার আলোক চারিদিক ছড়াইয়া পড়িবে।
- যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব।
- মনোজগতে বাতি জ্বালানোর জন্য সাহিত্যচর্চার বিশেষ প্রয়োজন।
- ইহা সত্যকে সুন্দর করে নাই, মিথ্যাকে সত্যের মুখোশ পরাইয়াছে।
- মন উঁচুতে উঠতে চায় নীচুতেও নামতে চায়।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২১.
অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে কী বলে?
  1. পুরাঘটিত বর্তমান কাল
  2. সাধারণ অতীত কাল
  3. ঘটমান অতীত কাল
  4. পুরাঘটিত অতীত কাল
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত কাল
ব্যাখ্যা
• পুরাঘটিত অতীত:
অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীতকাল বলে।
যেমন
- খবরটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
-------------------- 
অন্যদিকে, 
• সাধারণ অতীত:
অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বোঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।
যেমন –
- তারা সেখানে বেড়াতে গেল।
- তখন বাতিটা জ্বলে উঠল
 
• ঘটমান অতীত:
যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন -
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- তারা মাঠে খেলছিল।
 
• পুরাঘটিত বর্তমান কাল: 
ক্রিয়া পুর্বে শেষ হলে এবং তার ফল এখনো বর্তমান থাকলে, পুরাঘটিত বর্তমান কাল হয়।
যেমন: এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি, এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি। 
 
উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি , নবম - দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)। 
 
২২.
রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে কোন উপন্যাসটিতে তৎকালীন সামরিক শাসক আয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল?
  1. ক্রীতদাসের হাসি
  2. আর্তনাদ
  3. জাহান্নম হইতে বিদায়
  4. জননী
সঠিক উত্তর:
ক্রীতদাসের হাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রীতদাসের হাসি
ব্যাখ্যা
ক্রীতদাসের হাসি:
- শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।
------------------
শওকত ওসমান: 
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাঙ্গী ইত্যাদি।
-------------
• ‘আর্তনাদ’:
- শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস।
- এটি প্রথম ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৩.
বাংলা বর্ণমালায় নাসিক্য ধ্বনি তৈরি হয় কীভাবে?
  1. ঠোঁটের ফাকা কম বেশি হলে
  2. জিভ মূর্ধা স্পর্শ করলে
  3. কোমল তালুর সঙ্গে আলজিভ নিচে নেমে এলে
  4. কোমল তালু ও জিভমূলের স্পর্শে
সঠিক উত্তর:
কোমল তালুর সঙ্গে আলজিভ নিচে নেমে এলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোমল তালুর সঙ্গে আলজিভ নিচে নেমে এলে
ব্যাখ্যা
• কোমল তালুর সঙ্গে আলজিভ নিচে নেমে- নাসিক্য ধ্বনি তৈরি হয়।
 
• আলজিভ: 
- মুখগহ্বরেরর কোমল তালুর পেছনে ঝুলন্ত মাংসপিন্ডের নাম আলজিভ। 
- ধনির উচ্চারণের সময়ে কোমল তালুর সঙ্গে আলজিভ নিচে নেমে এলে বাতাস মুখ দিয়ে পুরোপুরি বের না হয়ে খানিকটা নাক দিয়ে বের হয়। 
- এর ফলে নাসিক্য ধ্বনি উচ্চারিত হয়। 
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২৪.
‘রক্তে ভেজা একুশ’ গদ্যটির রচয়িতা -
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. সেলিনা হোসেন
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. আবদুল গাফফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
‘রক্তে ভেজা একুশ' গদ্য:
• বাংলাদেশের বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা' (১৯৬৪) উপন্যাসের অংশবিশেষ ‘রক্তে ভেজা একুশ' গদ্যটি।
• আমাদের মহান ভাষা-আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এ কাহিনি রচিত।
• ভাষা-আন্দোলনে ছাত্র-জনতার মিছিলে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী ছাত্র ও পথশিশুর অভিব্যক্তি প্রকাশিত হয়েছে এ গল্পে।
• আন্দোলনে শামিল হয়ে পথশিশু অহি শহিদ হয়েছে এবং সকল মায়ের সন্তান হিসেবে নন্দিত হয়েছে।
 
সেলিনা হোসেন:
• বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
• তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
• তার রচিত উপন্যাস ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। 
 
• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছ্বাস,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- আগষ্টের একরাত,
- খুন ও ভালোবাসা,
- কাঁটাতারের প্রজাপতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- অপেক্ষা,
- গেরিলা ও বীরাঙ্গনা,
- ঘুমকাতুরে ঈশ্বর,
- পূর্ণছবির মগ্নতা,
- ভালোবাসা প্রীতিলতা,
- কালকেতু ও ফুল্লরা ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৫.
'ইচ্ছুক' শব্দটিতে কোন প্রত্যয়টি যুক্ত হয়েছে?
  1. ইক
  2. অক
  3. আক
  4. উক
সঠিক উত্তর:
উক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উক
ব্যাখ্যা
• ‘ইচ্ছুক' শব্দটিতে 'উক' প্রত্যয়টি যুক্ত হয়েছে।
 
• 'ইচ্ছুক' শব্দটিতে 'উক' প্রত্যয়টি কর্মসম্পাদনকারী বা কর্মসম্পাদনের প্রকৃতি বোঝাতে বিশেষণ শব্দ গঠন করে।

এমন আরো কিছু শব্দ:
মিথ্যুক= মিথ্যা+ উক;
পেটুক= পেট+ উক;
মিশুক= মিশ+ উক;
লাজুক= লাজ+ উক ইত্যাদি।
 
উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৬.
কোন শব্দটি বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. আগ্নেয়
  2. লাজুক
  3. উন্নয়ন
  4. চালাক
সঠিক উত্তর:
উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
• 'উন্নয়ন'- শব্দটি বিশেষ্য। 
- উন্নয়ন এর বিশেষণ পদ- উন্নীত।
-----------------
অন্যদিকে, 
আগ্নেয় - বিশেষণ শব্দ।
লাজুক - বিশেষণ শব্দ।
চালাক - বিশেষণ শব্দ।
---------------
• বিশেষ্য পদ:
- যে পদ কোন ব্যক্তি, বস্ত্ত, প্রাণী, সমষ্টি, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম, গুণ ইত্যাদির নাম বোঝায়, তাকে বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন- নীল থেকে সাদা ভালো।
- এখানে 'নীল' এটি বিশেষ্য পদ।
 
• বিশেষণ পদ:
যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ, বৈশিষ্ট্য, ধর্ম ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে বিশেষণ পদ বলে।
যেমন: 
- নিশীথ (বিশেষণ) রাতে বাজছে বাঁশি।
- দশটি (বিশেষণ) বছর।
- এ আমার চেনা (বিশেষণ) লোক।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৭.
'ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কীভাবে?' - বাক্যে দ্বিরুক্ত শব্দটি কী রূপে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষ্য রূপে
  2. ক্রিয়া বিশেষণ রূপে
  3. সর্বনাশ রূপে
  4. বিশেষণ রূপে
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ রূপে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ রূপে
ব্যাখ্যা
• 'ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কীভাবে?' এখানে দ্বিরুক্ত শব্দটি ক্রিয়া বিশেষণ রূপে  ব্যবহৃত হয়েছে।  
 
আরো কিছু দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ: 
• ক্রিয়া বিশেষণ অর্থে দ্বিরুক্ত শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে: 
- ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কীভাবে?
- দেখে দেখে যেও।
 
• স্বল্পকাল স্থায়ী বোঝাতে:
- দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে গেলো।
 
• বিশেষণ রূপে:
- এ দিকে রোগীর তো যায় যায় অবস্থা।
 
• অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে:
- ভয়ে গা ছম ছম করছে। 
 
• পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে, 
- 'ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি'- এখানে দ্বিরুক্ত শব্দ পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। 
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।