পরীক্ষা আর্কাইভ

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ [Archived]

পরীক্ষাউপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ [Archived]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১০ বিষয়: কৃষি (টেকনিক্যাল) টপিক: ১. ফসলের রোগ-পোকামাকড় ও বালাই ব্যবস্থাপনা ২. উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা;
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ [Archived]

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ [Archived] · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
পাতা ঝলসানো রোগ কী দ্বারা সংক্রমণ হয়?
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ছত্রাক
  4. নেমাটোড
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
পাতা পোড়া বা পাতা ঝলসানো রোগ:
⇒ কারণ:
- ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমনে হয়।

⇒ লক্ষণ:
১) চারা অবস্থায় এ রোগ হলে আক্রান্ত গাছের গোড়া পত্রফলক, বাইরের পাতা হলদে হয়ে আস্তে আস্তে শুকিয়ে যায়।
২) বয়স্ক গাছে থোড় অবস্থা থেকে পাতা পোড়া রোগের লক্ষণ দেখা যায়।

⇒ দমন ব্যবস্থা:
১) রোগ প্রতিরোধী জাত ব্যবহার করা। যেমন- বিআর-২, বিআর-৪, ব্রিধান-২৭, ব্রিধান- ২৮, ব্রিধান-২৯, ব্রিধান-৩১ ইত্যাদি।
২) আক্রান্ত গাছ তুলে ফেলা।
৩) সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করা।
৪) আক্রান্ত জমির পানি শুকিয়ে আবার সেচ দেয়া।
৫) ফসল কাটার পর নাড়া পুড়িয়ে ফেলা।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোন পোকা সরিষা ফসলের প্রধান শত্রু?
  1. ড্যামসেল ফ্লাই
  2. কাটুই পোকা
  3. লেডিবার্ড বিটল
  4. জাব পোকা
সঠিক উত্তর:
জাব পোকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাব পোকা
ব্যাখ্যা
সরিষা:
- সরিষা এদেশের বিভিন্ন তৈল জাতীয় ফসলের মধ্যে অন্যতম।
- সরিষার বীজ থেকে তৈল ও খৈল পাওয়া যায়।
- তৈলে ক্ষতিকর ইরোসিক এসিড বিদ্যমান।
- আর খৈল ভালো জৈব সার ও পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- সুনিষ্কাশিত বেলে দো-আঁশ মাটি সরিষা চাষের জন্য উপযুক্ত।
- সরিষা বীজ প্রধানত মধ্য অক্টোবর থেকে নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত বোনা যায়।
- সরিষা ফসলের ক্ষতিকর পোকা হলো জাব পোকা, পরগাছা হলো অরোবাংকি এবং ও রোগ হলো পাতায় দাগ পড়া রোগ।

⇒ রোগ ও পরগাছা দমন:
- সরিষা গাছে পাতায় দাগ পড়া বা অলটারনেরিয়া ব্লাইট রোগ হয়।
- এ রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে পাতায় বাদামী বা গাঢ় বাদামী দাগ পড়ে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে পাতা, কা-, শুঁটি ও বীজেও এই দাগ পড়ে।
- এ রোগ দমনের জন্য ২ গ্রাম ডাইথেন এম-৪৫ বা রোভরাল ডব্লিউপি ১ লিটার পানির সাথে মিশিয়ে ১২ দিন পর পর ৩ বার স্প্রে করতে হবে।
- এছাড়া সরিষা ক্ষেতে অরোবাংকি নামক এক প্রকার পরগাছা জন্মে যা সরিষার মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে।
- অরোবাংকি দেখা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা নিড়ানি দিয়ে জমি থেকে উঠিয়ে ধ্বংস করে ফেলতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'হলদে মোজাইক ভাইরাস' রোগের প্রতিকারের জন্য কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়?
  1. রোগমুক্ত বীজ বপন করতে হবে
  2. শস্য পর্যায় অবলম্বন করতে হবে
  3. ম্যালাথিয়ন স্প্রে করতে হবে
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
হলদে মোজাইক ভাইরাস:
- প্রথমে কচি পাতা আক্রান্ত হয়।
- আক্রান্ত পাতার উপর হলদে সবুজ দাগ পড়ে।
- এতে দূর থেকে আক্রান্ত ফসল হলদে মনে হয়।
- মোজাইক ভাইরাস দ্বারা এ রোগ হয়।
- আক্রান্ত বীজ ও বায়ুর মাধ্যমে এ রোগ বিস্তার লাভ করে।
- সাদা মাছি এ রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে থাকে।

⇒ এ রোগ প্রতিকারের জন্য-
i) রোগমুক্ত বীজ বপন করতে হবে,
ii) আক্রান্ত গাছ তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে,
iii) শস্য পর্যায় অবলম্বন করতে হবে,
iv) রোগ প্রতিরোধী জাতের মাসকালাই চাষ করতে হবে ও,
ⅴ) সাদা মাছি দমনের জন্য ম্যালাথিয়ন স্প্রে করতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোনটি আলুর ভয়াবহ ক্ষতি সাধন করে?
  1. মড়ক রোগ
  2. ঢলে পড়া রোগ
  3. দাঁদ রোগ
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
আলু:
- বাংলাদেশে গমের পরেই আলুর স্থান।
- বীজ আলু উৎপাদনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
- পরিমিত ও সময়মতো সার প্রয়োগ, আন্তঃপরিচর্যা রোগ বালাই দমন ইত্যাদি সঠিকভাবে করলে ভাল আলু বীজ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

⇒ আলুর রোগ:
- আলুর রোগসমূহের মধ্যে মড়ক রোগ, ঢলে পড়া রোগ, দাদ রোগ, কান্ড পচা রোগ ও ভাইরাসজনিত রোগ অন্যতম।
- নিম্নতাপমাত্রা, কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া ও মেঘলা আকাশ আলুর চাষের জন্য ক্ষতিকর।
- এতে আলুর মড়ক রোগের (লেট ব্লাইট) আক্রমণ বেশি দেখা যায়।
- এ অবস্থা থেকে ফসলকে রক্ষা করার জন্য ছত্রাক নাশক প্রয়োগ করতে হবে।

⇒ আলুর পোকা:
- আলুতে আক্রমণকারী পোকার মধ্যে কাটুই পোকা, আলু গাছ কেটে দেয় এবং আলু আক্রমণ করে।
- কাটুই পোকার উপদ্রব বেশি না হলে গাছের আশে পাশের মাটি খুঁড়ে কীড়া খুঁজে মেরে ফেলতে হবে।
- জাব পোকা আলু গাছের রস খায় এবং ভাইরাস রোগ ছড়ায়।
- গাছের পাতা গজানোর ৭-১০ দিন পর কীটনাশক প্রয়োগ করে এ পোকা দমন করা যায়।
- সুতলী পোকা আলুর মধ্যে সুড়ঙ্গ তৈরি করে আলুর ক্ষতি সাধন করে।
- এজন্য বীজ আলুতে সুতলী পোকা আক্রান্ত আলু বেছে আলু বপন করতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
পিঁয়াজের গোড়াপঁচা রোগ দমনে কোন স্প্রে করা হয়?
  1. ম্যালথিয়ন ৫৭ টসি
  2. রোভরাল ৫০ ডব্লিউ পি
  3. ডাইথেন এম ৪৫
  4. সাবান পানি
সঠিক উত্তর:
ডাইথেন এম ৪৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাইথেন এম ৪৫
ব্যাখ্যা
পিঁয়াজ:
- পিঁয়াজ একদিকে একটি মসলা এবং অপরদিকে একটি সবজিও বটে।
- পিঁয়াজের পাতা ও ডাঁটা ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ।
- সাধারণত রবি মৌসুমে পিঁয়াজ চাষ করা হয়।
- এর জন্য উপর্যুক্ত তাপমাত্রা হলো ১৫-২০° সে.।
- পিঁয়াজের ফুল ধারনের জন্য নিম্ন তাপমাত্রা প্রয়োজন।
- পিঁয়াজ বীজ উৎপাদনের জন্য কন্দ বা বাল্ব উৎপাদন করা হয়।
- সাধারণত কন্দ থেকে উৎপাদিত পিঁয়াজ পরবর্তী বছর বীজ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- বর্তমানে বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালেও পিঁয়াজের আবাদ শুরু হয়েছে।

⇒ পিঁয়াজের রোগবালাই দমন:
- পিঁয়াজের রোগের মধ্যে গোড়াপঁচা ও অলটারনারিয়া লিফ ব্লাইট (পার্পল ব্লচ) প্রধান।
- গোড়াপঁচা রোগে গাছের গোড়া পচে যায়।
- এক্ষেত্রে ডাইথেন এম-৪৫ ২০ গ্রাম/১০লিটার প্রতি হেক্টরে স্প্রে করে ভাল ফল পাওয়া যায়।
- অলটারনারিয়া লিফ ব্লাইট হলে পাতায় লালচে রং এর ঠোসা দেখা যায়।
- পরে পাতা কালো হয়ে পুড়ে যায়।
- এ রোগ দমনের জন্য রোভরাল ৫০ ডব্লিউপি (২০ গ্রাম/ ১০ লিটার, প্রতি হেক্টরে) স্প্রে করতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
ডালজাতীয় ফসলের ক্ষেত্রে ইউরিয়া সার কয় ভাগে জমিতে প্রয়োগ করা হয়?
  1. ১ ভাগে
  2. ২ ভাগে
  3. ৩ ভাগে
  4. ৪ ভাগে
সঠিক উত্তর:
৩ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ ভাগে
ব্যাখ্যা
ডালজাতীয় ফসল:
- যে সমস্ত মাঠ ফসল খেলে আমিষজাতীয় খাবারের অভাব দূর হয়, তাদেরকে ডালজাতীয় ফসল বলা হয়।
- যেমন-মসুর, মুগ, মাষকালাই, খেসারী, ছোলা, মটর ইত্যাদি।
- এরা লিগুমিনোসী পরিবারের ফসল বিধায় এদেরকে লিগিউমজাতীয় ফসল বলা হয়।
- রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া বাতাসের মুক্ত নাইট্রোজেন গ্রহণ করে এজাতীয় ফসলের মুলে নডিউল সৃষ্টি করে।
- এতে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।

⇒ মসুর ও মুগের ইংরেজি নাম যথাক্রমে Lentil ও Greengram এবং বৈজ্ঞানিক নাম যথাক্রমে Lens culinaris Vigna radiata মসুর সাধারণত কম তাপমাত্রা ও শুষ্ক জলবায়ু পছন্দ করে।
- এরা খরা সহিষ্ণু এবং বেশি বৃষ্টিপাত সহ্য করতে পারে না।
- বাংলাদেশে বিনা মসুর ১ থেকে ৭ বারি মসুর ১ থেকে ৭, মুকদিয়া ও জামালপুর ২ জাত উল্লেখযোগ্য।
- ফলে হেক্টরপ্রতি ১.৮-২.২ টন হয়ে থাকে।
- অপরদিকে মুগ ২৫-৩০ সে. তাপমাত্রায় ভালো জন্মায়।
- হালকা বৃষ্টিপাত ও উজ্জ্বল সূর্যালোকে মুগ চাষের জন্য বেশ ভালো।
- এদেশে বারিমুগ ১ থেকে ৬, বিনা মুগ ১ থেকে ৮ চাষ হয়ে থাকে।
- বেশির ভাগ জাতই সারা বছর চাষ করা যায়। ফল প্রতি হেক্টরে ০.৯-২.০ টন হয়ে থাকে।

⇒ সার প্রয়োগ:
- মসুর চাষে হেক্টর প্রতি ৪৫ কেজি ইউরিয়া, ৮৫ কেজি টিএসপি বা ডিএপি এবং ৩৫ কেজি এমওপি সার প্রয়োগ করতে হয়।
- জমি তৈরির শেষ চাষের সময় ইউরিয়া ছাড়া সব সার ছিটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হয়।
- ইউরিয়া সার তিনভাগ করে প্রথম ভাগ চারা গজানোর ১৫-২০ দিন পর, দ্বিতীয় ভাগ ৩০-৪০ দিন পর এবং ৩য় ভাগ ৫০-৬০ দিন পর ছিটিয়ে প্রয়োগ করতে হয়।
- তবে পচা গোবর, কম্পোস্ট, খামারজাত সার ও জীবাণু সার এদের যে কোন একটি প্রয়োগ করলে ইউরিয়া সার লাগবে না।
- জীবানু সার প্রয়োগের পূর্বে এক কেজি মসুর বীজের সাথে ৫০ গ্রাম জীবাণু সার ও ৫০ গ্রাম চিটাগুড় মিশাতে হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
ধানের টুংরো ভাইরাস ছড়ায় কোন পোকা?
  1. সবুজ পাতা ফড়িং
  2. মাজরা পোকা
  3. গলমাছি
  4. পামরি পোকা
সঠিক উত্তর:
সবুজ পাতা ফড়িং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজ পাতা ফড়িং
ব্যাখ্যা
সবুজ পাতা ফড়িং (Green leaf hopper):
⇒ ক্ষতির লক্ষণ:
১) পূর্ণবয়স্ক ও বাচ্চা উভয় অবস্থায় এ পোকা ধানের পাতার রস শুষে খায়।
২) গাছের বৃদ্ধি কমে যায় ও গাছ খাটো হয়।
৩) এ পোকা টুংরো ভাইরাস ছড়ায়।

⇒ দমন ব্যবস্থা:
১) আলোক ফাঁদ ব্যবহার করে পোকা সংগ্রহ করে ধ্বংস করা।
২) হাতজাল ব্যবহার করে পোকা সংগ্রহ করে ধ্বংস করা।
৩) প্রতিরোধী জাত যেমন বিআর-১, বিআর-২, বিআর-৫, বিআর-৬, বিআর-১০, বিআর-১২ জাতের ধান চাষ করা।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
সূর্যমূখীর ভাল ফলনের জন্য প্রতি হেক্টর জমিতে সার প্রয়োগ করতে হবে -
  1. ১৮০-২০০ কেজি ইউরিয়া
  2. ১২০-১৫০ কেজি জিপসাম
  3. ৮-১০ কেজি জিংক সালফেট
  4. ক, খ ও গ
সঠিক উত্তর:
ক, খ ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক, খ ও গ
ব্যাখ্যা
সূর্যমূখী চাষ:
- সূর্যমুখী ইংরেজি নাম Sunflower এবং আলো নিরপেক্ষ ফসল হওয়ায় এটা সারা বছর ধরে চাষ করা যায়।
- গাছের বৃদ্ধি পর্যায়ে হালকা বৃষ্টিপাত হলে ভালো ফলন হয়।
- চাষের জন্য দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি অত্যন্ত উপযোগী।
- কিসো ও বারি সূর্যমুখী ২ জাত উল্লেখযোগ্য।
- প্রতি হেক্টর জমিতে চাষ ৮-১০ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়।
- ফলন ১.৫-১.৮ টন/হেক্টর।
- এটা তেল ও ফুল উৎপাদনকারী ফসল হিসেবে চাষ হয়ে থাকে।
- এর বীজে ৪৫-৫০% ভোজ্য তেল থাকে।
- এর তেল সরিষার তেলের চেয়ে অনেক ভালো।

⇒ সার প্রয়োগ:
- সঠিক সময়ে সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগ করলে সূর্যমূখীর ফলন ভালো হয়।
- প্রতি হেক্টর জমিতে ১৮০-২০০ কেজি ইউরিয়া, ১৬০-১৮কেজি টিএসপি, ১২০-১৫০ কেজি এমওপি, ১২০-১৫০ কেজি জিপসাম, ৮-১০ কেজি জিংক সালফেট, ১০-১২ কেজি বরিক এসিড ও ৮০-১০০ কেজি ম্যানেসিয়াম সালফেট প্রয়োগ করতে হয়।
- ইউরিয়া সারের অর্ধেকসহ বাকী সব সার জমি তৈরির শেষ চাষের সময় ছিটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।
- বাকী অর্ধেক ইউরিয়া দু'ভাগ করে ১ম ভাগ চারা গাজনোর ২০-২৫ দিন পর এবং ২য় ভাগ ৪০-৪৫ দিন পর বা ফুল আসার আগে প্রয়োগ করতে হয়।
- প্রতিবার সেচের পর ইউরিয়া সার প্রয়োগ করে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে পারলে সারের সঠিক ব্যবহার হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
তুলার সাদা মাছি পোকার দমনে কোনটি স্প্রে করা হয়?
  1. ফেনডেলারেট ২০
  2. ক্লোরোপাইরিফস ২০
  3. কার্বোসালফান ২০
  4. সাকসেস
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোপাইরিফস ২০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোপাইরিফস ২০
ব্যাখ্যা

তুলার ক্ষতিকর পোকা ও তার দমন ব্যবস্থাপনা:
• জ্যাসিড পোকা:
⇒ ক্ষতির লক্ষণ:
- চারা গজানোর ২-৩ সপ্তাহ পর থেকেই এদের আক্রমণ শুরু হয়।
- নিম্ফ ও পূর্ণবয়স্ক উভয় পোকাই পাতার রস শোষণ করে যায় এবং ফলে পাতা হলদে এবং পরে লালচে হয়ে যায়।
⇒ প্রতিকার:
- সাকসেস ১.৫ গ্রাম/লিটার পানিতে মিশিয়ে আক্রান্ত জমিতে স্প্রে করতে হবে।

• বোল ওয়ার্ম:
⇒ লক্ষণ:
- ৫-৬ সপ্তাহ বয়সী তুলাগাছের এই পোকার লার্ভা গাছের ডগা, কুড়ি, ফুল বা বোলছিদ্র করে দেয়।
- এতে গাছের ডগা ঢলে পড়ে ও শুকিয়ে যায়।
- ফুল, কুড়ি বা কচি বোল মাটিতে ঝরে পড়ে ও ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হয়।
⇒ দমন ব্যবস্থা:
ক) জমি গভীর চাষ দিয়ে রোদে শুকাতে হবে। এতে পোকা, লার্ভা বা শুককীট মরে যায় ও পাখিতে খেয়ে ফেলে।
খ) জমির আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করতে হবে।
গ) ঝরে পড়া কুড়ি, ফুল ও বোল সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
ঘ) আলোর ফাঁদ দিয়ে বোল ওয়ার্ম পোকার মথ ধরতে হবে।
ঙ) ফেনডেলারেট ২০ তরল ২ মিলি/লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

• লাল গান্ধি পোকা:
⇒ ক্ষতির লক্ষণ:
- পূর্ণবয়স্ক পোকা গাছের পাতা, কুড়ি, ফুল ও বল থেকে রস চুষে খায়।
- ফলে বোলের বৃদ্ধি ব্যহত হয়, তুলার আঁশ হলদে হয়ে যায় এবং বীজ নষ্ট হয়।
⇒ প্রতিকার:
ক) ডিমের গাদা ও লার্ভা/ক্রীড়া সংগ্রহ করে মেরে ফেলতে হবে।
খ) পাখি যেন পোকা খেতে পারে তাই জমির পাশে ডাল পুঁতে দিতে হবে।
গ) কার্বোসালফান ২০ তরল ২ মি.লি. ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

• তুলার সাদা মাছি:
⇒ ক্ষতির ধরণ:
- সাদা মাছি পাতার রস শোষণ করে, এরা পাতার উপর এক ধরনর মধুকণা নিঃসরণ করে, ফলে সেখানে সুটি মোল্ড ছত্রাক জন্মায়।
- এর আঠালো পদার্থ তুলার লিন্টের সাথে লেগে লিন্টের গুণগত মান নষ্ট হয়।
⇒ প্রতিকার:
- ক্লোরোপাইরিফস ২০ তরল ২ মিলি/লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
পেয়ারার এ্যানথ্রাকনোজ কী জাতীয় রোগ?
  1. ছত্রাক
  2. ভাইরাস
  3. ব্যাকটেরিয়া
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক
ব্যাখ্যা
পেয়ারা:
- পেয়ারা ভিটামিন সি সমৃদ্ধ একটি সুস্বাদু ফল।
- পেয়ারার জন্য ২৩০-২৮০ সে. তাপমাত্রা উত্তম।
- সুনিষ্কাশিত উঁচু দোআঁশ মাটি উপযোগী।
- পেয়ারা সাধারণত: গুটি কলমের মাধ্যমে চারা তৈরি করা হয়।
- পেয়ারার এ্যানথ্রাকনোজ, ঢলে পড়া, ডাইব্যাক রোগে আক্রান্ত হয়।
- ফলের মাছি পোকা, মিলি বাগ পোকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। ফল হলদে সবুজ রং ধারণ করলে সংগ্রহ করতে হবে।

⇒ রোগ ও পোকা মাকড় দমন:
এনথ্রাকনোজ রোগ:
- ইহা একটি ছত্রাকজনিত রোগ।
- পেয়ারার পাতা, কান্ড, শাখা ও ফল আক্রান্ত হয়।
- প্রথম দিকে পেয়ারার গায়ে ছোট ছোট বাদামি দাগ হয় তা ক্রমান্বয়ে বড় হয়ে ক্ষতের সৃষ্টি করে।
- ফলের শাঁস শক্ত হয় এবং ফল ফেটে যায়।
- গাছের নিচে আক্রান্ত পাতা ও ফল পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
- আক্রমণ বেশি হলে টিল্ট ২৫০ ইসি প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মি.লি. অনুপাতে মিশিয়ে ১৫দিন পর পর স্প্রে করতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
ধানের পামরি পোকা আক্রমণের লক্ষণ -
  1. শীষ আসার সময় হলে 'হোয়াইট হেড' বের হয়
  2. গাছ খাটো হয় 
  3. পাতা শুকিয়ে পুড়ে যাওয়ার মত হয়
  4. আক্রান্ত কুঁশি পিয়াজের মত রং
সঠিক উত্তর:
পাতা শুকিয়ে পুড়ে যাওয়ার মত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাতা শুকিয়ে পুড়ে যাওয়ার মত হয়
ব্যাখ্যা
পামরি পোকা (Rice hispa):
⇒ ক্ষতির লক্ষণ:
১) পামরি পোকা পূর্ণবয়স্ক অবস্থায় ও কীড়া এ দু-অবস্থায় ধান গাছ আক্রমন করে।
২) কীড়া পাতা ছিদ্র করে সবুজ অংশ খায়।
৩) পূর্ণবয়স্ক পোকা ধানের পাতার উপর সমান্তরাল দাগ করে সবুজ অংশ কুরে কুরে খেয়ে ফেলে।
৪) পাতা শুকিয়ে পুড়ে যাওয়ার মত হয়।

⇒ দমন ব্যবস্থা:
১) হাতজাল অথবা মশারিরর কাপড় দিয়ে পূর্ণবয়স্ক পোকা ধরে মেরে ফেলতে হবে।
২) গাছের পাতা ছেঁটে দিয়ে কীড়া মারা যায়।
৩) পাতার ৩৫% ক্ষতি হলে অথবা প্রতি গোছায় ধানগাছে ৪টি পূর্ণবয়স্ক পোকা থাকলে অনুমোদিত কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
বিছাপোকার কোন অবস্থা মাসকালাইয়ের জন্য ক্ষতিকর?
  1. লার্ভা
  2. ডিম
  3. পিউপা
  4. পূর্ণ বয়স্ক অবস্থা
সঠিক উত্তর:
লার্ভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লার্ভা
ব্যাখ্যা

মাসকালাই:
- মাসকালাই একটি গুরুত্বপূর্ণ ডাল ফসল।
- এ ফসল গোখাদ্য ও সবুজ সার ফসল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
- সুনিষ্কাশিত উচ-নিচু সব ধরনের জমিতেই এ ফসল চাষ করা যায়।
- এর উন্নত ও স্থানীয় জাত রয়েছে।
- এ ফসল সারিতে বা ছিটিয়ে চাষ করা হয়।
- এ ফসলে জীবানু সার প্রয়োগ করা হলে ইউরিয়া সার দিতে হয় না।
- সঠিক পন্থায় ও ঠিক সময়ে পোকা ও রোগ দমন করে এ ফসলের ভালো ফলন নিশ্চিত করা যায়।
- জাতভেদে হেক্টরপ্রতি এ ফসলের ফলন ১.৫-২ টন পর্যন্ত হয়ে থাকে।

⇒ বিছা পোকা:
- এ পোকার কীড়া/লার্ভা মাসকালাই ফসলের পাতা খেয়ে জালিকার মত করে ফেলে।
- এতে ফলন মারাত্মকভাবে কমে যায়।
- এ পোকার কীড়াগুলো দলবদ্ধভাবে আক্রমন করে বিধায় হাত দ্বারা সংগ্রহ করে তা মেরে ফেলতে হবে।
- আক্রমনের তীব্রতা বেশি হলে সাইলারমেথ্রিন ইসি এক লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩.
ইউরিয়া সার জমিতে একবারে প্রয়োগ না করে কয়েক বারে প্রয়োগ করা হয় কেন?
  1. গাছ দ্রুত গ্রহন করতে পারে না বলে
  2. মাটিতে সংযোজন হয়ে যায় বলে
  3. চুয়ানির মাধ্যমে নষ্ট হয় বলে
  4. গ্রহনোপযোগী হতে দেরী হয় বলে
সঠিক উত্তর:
চুয়ানির মাধ্যমে নষ্ট হয় বলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চুয়ানির মাধ্যমে নষ্ট হয় বলে
ব্যাখ্যা
ইউরিয়া:
- নাইট্রোজেনজাতীয় সারের মধ্যে ইউরিয়াতেই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে নাইট্রোজেন থাকে।
- ইউরিয়া এক ধরণের সাদা দানাদার পদার্থ।
- এর উল্লেখযোগ্য ধর্ম হচেছ এটি পানি গ্রাহী পদার্থ।
- যদিও এ সার সহজেই পানিতে দ্রবণীয় কিন্তু সাধারণ অবস্থায় এটি জলীয় বাষ্প শোষণ করে না তবে স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ায় দানা গলে যেতে পারে।

⇒ বাজারে সচরাচর প্রাপ্ত ইউরিয়ায় নাইট্রোজেনের পরিমাণ থাকে ৪০-৪৫%, তবে রাসায়নিকভাবে বিশুদ্ধ ইউরিয়ায় নাইট্রোজেনের পরিমাণ থাকে ৪৬-৪৭%।
- কৃত্রিম উপায়ে কল- কারখানায় উৎপাদিত সার ছাড়াও ইউরিয়া জৈব রাসায়নিক যৌগ হিসেবে মাটিতে অবস্থান করে।
- গৃহপালিত পশুর মূত্রে ইউরিয়া থাকে এবং মাটি এ উৎস থেকেও ইউরিয়া পায়।

⇒ এ সার জমিতে প্রয়োগ করলে মাটিতে রাসায়নিক বিক্রিয়া ছাড়া অনেক ফসলই সরাসরি ইউরিয়া হিসেবে এটি পরিশোষণ করতে পারে।
- তাছাড়া গাছে নাইট্রোজেনের অভাজনিত লক্ষণ পরিলক্ষিত হলে ইউরিয়ার দ্রবণ তৈরি করে সিঞ্চন যন্ত্রের সাহায্যে সরাসরি উদ্ভিদের পাতায় প্রয়োগ করলে উদ্ভিদ পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে ইউরিয়া পরিশোষণ করতে পারে।
- ইউরিয়া সার মাটিতে প্রয়োগ করার পর পানির সাথে যুক্ত হয়ে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অ্যামোনিয়াম প্রস্তুত হয়।
- উদ্ভিদ সাধারণত নাইট্রেট ও অ্যামোনিয়াম আকারে ইউরিয়া সার গ্রহণ করে।
- অ্যামোনিয়াম পরিণত হওয়ার সময় কিছু পরিমাণ ইউরিয়ার বায়বীয় অপচয় সংঘটিত হয়ে থাকে।
- এতে ইউরিয়ার শুধু অপচয়ই হয় না উদ্বায়নের সময় বীজের অঙ্কুরোদগম বা চারা গাছের ক্ষতি করে।
- চুনযুক্ত ক্ষারীয় মাটিতে অ্যামোনিয়া গ্যাস উৎপন্ন হয়।
- চুয়ানির মাধ্যমেও ইউরিয়া নষ্ট হয়, ফলে জমিতে ইউরিয়া একবারে ব্যবহার না করে কয়েকবার ব্যবহার করা হয়।
- ইউরিয়া সারের কার্যকারিতা দ্রুত এবং স্থায়ীত্বও কম।
- প্রয়োগের এক সপ্তাহের মধ্যেই গাছ পরিশোষণ শুরু করে।

উৎস: উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
পেঁয়াজের প্রধান রোগ কোনটি?
  1. পার্পল ব্লেচ
  2. লিফ ব্লাইট
  3. অ্যানথ্রাকনোজ
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
পিঁয়াজ:
- একটি দ্বিবর্ষজীবী উদ্ভিদ।
- আমাদের দেশে এর একবর্ষজীবী জাতও দেখা যায়।
- এর বৈজ্ঞানিক নাম Allium cepa.
- পিঁয়াজের রূপান্তরিত কান্ড সংলগ্ন পাতার গোড়ায় খাদ্য জমাটের ফলে স্ফীত হয় এবং কান্ডের সাথে একটির পর একটি সংযোজিত হয়ে শল্ককন্দ উৎপাদন করে।
- এ শল্ককন্দ পিঁয়াজ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- এ থেকে নতুন গাছ জন্মে থাকে।
- পিঁয়াজের ফুল উভলিঙ্গী, ফল ক্যাপসুল জাতীয় এবং বীজের রং কালো।

⇒ রোগবালাই ও পোকামাকড়:
- পেঁয়াজের প্রধান রোগগুলোর মধ্যে পার্পল ব্লেচ, লিফ ব্লাইট, অ্যানথ্রাকনোজ, বালব রট প্রধান।
- পার্পল ব্লেচ রোগ বীজবাহিত।
- সুতরাং বীজ বপনের পূর্বে শোধন করে নিতে হবে।
- পেঁয়াজের ক্ষতিকর পোকামাকড় হচ্ছে থ্রিপস, মাছি ইত্যাদি।
- এক্ষেত্রে ডায়াজিনন স্প্রে করতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
বেলে বুনটের মাটিতে এমপি সার কত কিস্তিতে দিতে হয়?
  1. ২ কিস্তি
  2. ৩ কিস্তি
  3. ৪ কিস্তি
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
২ কিস্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ কিস্তি
ব্যাখ্যা
জমি চাষ:
- জাত ও মৌসুম ছাড়া সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে আরও কিছু কিছু নীতিমালা মেনে চলতে হয়। যেমন:
১। পাহাড়ের পাদভূমির মাটি ও লাল বেলে মাটিতে এমপি সার দেড়গুণ দিতে হয়।
২। গঙ্গাবাহিত পলিমাটি ও সেচ প্রকল্প এলাকার মাটিতে দস্তা সার বেশি পরিমাণে দিতে হয়।
৩। হাওড় এলাকার মাটিতে সার কম পরিমাণে দিতে হয়।
৪। স্থানীয় জাতের ধানে সারের পরিমাণ অর্ধেক দিলেই চলে।
৫। পূর্ববর্তী ফসলে প্রতিটি সার সঠিক পরিমাণে প্রয়োগ হয়ে থাকলে উপস্থিত ফসলে প্রতিটি সারের অর্ধেক পরিমাণ ব্যবহার করলেই চলে।
৬। পূর্ববর্তী ফসলে দস্তা সার ব্যবহার হয়ে থাকলে পরবর্তী ২টি ফসলে আর এ সার ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না।
৭। বেলে মাটিতে এম পি সার ২ কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হয়।
৮। কোন জমিতে সবুজ সার ফসলের চাষ হলে পরবর্তী ফসলে ইউরিয়া সার ৪০-৫০% কমিয়ে ব্যবহার করলেও চলে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬.
কোন সার থেকে উদ্ভিদ নাইট্রোজেন ও ফসফরাস এই দুইটি খাদ্য উপাদান পায়?
  1. টিএসপি
  2. অ্যামোনিয়াম সালফেট 
  3. ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট
  4. হাইপার ফসফেট
সঠিক উত্তর:
ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক সার:
- উদ্ভিদ তার বৃদ্ধি ও টিকে থাকার জন্য মাটি থেকে কমপক্ষে ১৬টি খাদ্য উপাদান গ্রহণ করে।
- মাটিতে এসব উপাদানের ঘাটতি থাকলে বা উদ্ভিদে অভাবজনিত লক্ষণ দেখা দিলে বাইরের উৎস থেকে সারদ্রব্যের আকারে জমিতে প্রয়োগ করা হয়।
- এ সারদ্রব্য কল-কারখানায় রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্রস্তুত করে বাজারজাত করা হয়।
- জমির উর্বরতা বৃদ্ধি ও অধিক ফসল ফলানোর জন্য কল-কারখানায় প্রস্তুত বাজারে প্রাপ্ত সার দ্রব্য জমিতে ব্যবহৃত হয়।

⇒ কতকগুলো সার আছে যেগুলো থেকে উদ্ভিদ একাধিক খাদ্যোপাদান পায়। যেমন: 
- অ্যামোনিয়াম সালফেট: নাইট্রোজেন ও সালফার,
- ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট: নাইট্রোজেন ও ফসফরাস,
- ক্যালসিয়াম নাইট্রেট: ক্যালসিয়াম ও নাইট্রোজেন,
- ট্রিপল সুপার ফসফেট: ফসফরাস ও ক্যালসিয়াম,
- হাইপার ফসফেট: ফসফরাস ও ক্যালসিয়াম,
- পটাশিয়াম সালফেট: পটাশিয়াম ও সালফার,
- পটাশিয়াম নাইট্রেট: পটাশিয়াম ও নাইট্রোজেন,
- জিপসাম: ক্যালসিয়াম ও সালফার,
- জিঙ্ক সালফেট: জিঙ্ক ও সালফার।

উৎস: উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
পাটের মোজাইক রোগের প্রতিকার কোনটি?
  1. সাদা মাছি দমন করতে হবে
  2. রোগমুক্ত সুস্থ বীজ বপন করতে হবে
  3. আক্রান্ত গাছ জমি থেকে উঠিয়ে নষ্ট করে ফেলতে হবে
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
পাট:
- পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল।
- পাট ও পাট জাত পণ্য বিদেশে রপ্তানি ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
- পাট সাধারণত: দেশি পাট ও তোষা পাট প্রজাতির হয়ে থাকে।
- পাটের ক্ষতিকর পোকার মধ্যে বিছাপোকা উল্লেখযোগ্য।
- এছাড়াও উড়চুঙ্গা, পাটের ঘোড়া পোকা, চলে পোকা, মাকড় ইত্যাদি।
- রোগের মধ্যে গোড়াপঁচা রোগ, কান্ড পঁচা রোগ, কালো পট্টি রোগ, ঢলে পড়া রোগ, মোজাইক রোগ প্রধান।
- রিবন রেটিং পদ্ধতি পাটের ছাল পৃথক করা হয় পরে পাত্রের পানির মধ্যে পঁচানো হয়।

⇒ মোজাইক রোগ:
• লক্ষণ:
- ভাইরাসের আক্রমণে পাতার হলদে ছোপ ছোপ দাগ পড়ে।
- পাতার শিরাত হলদে হয়ে যায়।

• প্রতিকার:
ক) আক্রান্ত গাছ জমি থেকে উঠিয়ে নষ্ট করে ফেলতে হবে।
খ) সাদা মাছি এ রোগ ছড়ায়, তাই এই মাছি দমন করতে হবে।
গ) রোগমুক্ত সুস্থ বীজ বপন করতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮.
তুলার অধিক ফলন পেতে হলে হেক্টর প্রতি কী পরিমাণ জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে?
  1. ৫-৬ টন
  2. ২-৩ টন
  3. ৬০০-৭০০ কেজি
  4. ২৫০-৩০০ কেজি
সঠিক উত্তর:
৫-৬ টন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫-৬ টন
ব্যাখ্যা
তুলা:
- তুলা একটি গুরুত্বপূর্ণ আঁশ জাতীয় ফসল।
- উন্নতমানের আঁশ পেতে হলে তুলা সংগ্রহ ও তুলা প্রক্রিয়াজাতকরণ খুবই সতর্কতার সাথে সঠিক পদ্ধতিতে করতে হবে।
- সংগৃহীত তুলা সংরক্ষণও যথাযথভাবে করতে হবে।
- আমাদের বস্ত্রশিল্পের অন্যতম কাঁচামাল এই তুলার বহুবিধ ব্যবহারের জন্য এর উৎপাদন বৃদ্ধি করা আবশ্যক।

⇒ সার প্রয়োগ:
- সার প্রয়োগের অধিক ফলন পেতে হলে এবং উন্নত মানের আঁশ এর জন্য সুষম সার প্রয়োগ করতে হবে। 
- জৈব সার/গোবর/জৈবসার: হেক্টর প্রতি ৫-৬ টন।

⇒ সার প্রয়োগ পদ্ধতি:
- জমিতে শেষ চাষ দেয়ার পর এক-চতুর্থাংশ ইউরিয়া অর্ধেক এমপি সার এবং অন্যন্য সারসমূহ সম্পূর্ণ অংশই জমিতে প্রয়োগ করতে হবে; বাকী ইউরিয়া ও এমপি সার সমান তিনভাগে ভাগ করে তুলাগাছের বয়স ২০-২৫ দিন হলে প্রথম বার, ৪০-৫০ দিন হলে দ্বিতীয় বার এবং ৬০-৭০ দিন হলে তৃতীয় বার পার্শ্ব প্রয়োগ করতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯.
নিচের কোনটি ধানের ব্লাস্ট রোগের কারন?
  1. ভাইরাস
  2. কৃমি
  3. ছত্রাক
  4. ব্যাকটেরিয়া
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক
ব্যাখ্যা
ব্লাস্ট রোগ:
⇒ কারন:
- ছত্রাক সংক্রমনে হয়।

⇒ লক্ষণ:
১) পাতায় ডিম্বাকৃতির দাগ পড়ে।
২) দাগের চারিদিকে গাঢ় বাদামী এবং মাঝের অংশ সাদা ছাই বর্ণের হয়।
৩) কান্ডের গিঁটে, খোল ও পাতার সংযোগস্থান কালো দাগ সৃষ্টি করে।
৪) শিষের গোড়ায় কালো দাগের সৃষ্টি করে এবং গোড়া পচে যায় এতে চিটা ও অপুষ্ট দানা হয়।

⇒ দমন ব্যবস্থা:
১) জমিতে সুষম মাত্রায় সার ব্যবহার করতে হবে।
২) রোগ প্রতিরোধী জাত যেমন- বিআর-৩, বিআর-১৪, বিআর-১৫, বিআর-১৬, বিআর-২৪ ইত্যাদি চাষ করা।
৩) রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার করা ও বীজ শোধন করা।
৪) পটাশ জাতীয় সার উপরি প্রয়োগ করা।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০.
সয়াবিন ফসলে কোন পোকার আক্রমন দেখা যায়?
  1. বিছাপোকা
  2. কাটালে পোকা
  3. লেদা পোকা
  4. গান্ধী পোকা
সঠিক উত্তর:
বিছাপোকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিছাপোকা
ব্যাখ্যা
সয়াবিন ফসল:
⇒ সয়াবিনের ইংরেজি নাম হলো Soybean এবং বৈজ্ঞানিক নাম হলো Glycine max.
- এ ফসল খুব বেশি বা খুব কম তাপমাত্রা কোনটিই সহ্য করতে পারে না।
- দোআঁশ, বেলে দোআঁশ ও এটেল দোআঁশ মাটি সয়াবিন চাষের জন্য উত্তম।
- ব্রাগ, ডেভিস, সোহাগ ইত্যাদি এর অনুমোদিত জাত। 

- সয়াবিন ফসলে বিছাপোকা ও কান্ডের মাছি পোকার আক্রমণ দেখা যায়।
- বিছাপোকার মথের ডিম ফোটার পর প্রথম অবস্থায় শুককীটগুলো দলবদ্ধভাবে পাতার নিচের দিকে অবস্থান করে এবং পাতা খেয়ে ঝাঁঝড়া করে ফেলে।
- এ অবস্থায় আক্রান্ত পাতা সংগ্রহ করে বিছাপোকা মেরে ফেলতে হয়।
- কান্ডের মাছি পোকা কান্ড ছিদ্র করে ভিতরের নরম অংশ খায়।
- সেজন্য আক্রান্ত অংশ বা সম্পূর্ণ গাছ মরে যায়।
- অনুমোদিত কীটনাশক প্রয়োগ করে উভয় পোকাই দমন করা সম্ভব।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।