পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৭
সিলেবাস
বাংলাবিদ ব্যাকরণ: পরীক্ষা – ১৬ টপিক: শব্দ ও বাক্য [লাইভ ক্লাস – ৩০, ৩১ ও ৩২]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · ১৭ প্রশ্ন

.
নিচের কোনটি জটিল বাক্য?
  1. কর্মরত ব্যক্তিকে বিরক্ত করো না।
  2. যারা নির্বোধ তারাই শুধু এ কাজ করে।
  3. মিথ্যা কথা বলার জন্য তোমার পাপ হবে।
  4. সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
ব্যাখ্যা
• জটিল বা মিশ্র বাক্য (complex sentence):
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
যেমন:
- (আশ্রিত বাক্য) যিনি পরের উপকার করেন, (প্রধান খণ্ডবাক্য) তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে।

এরূপ-
- যারা নির্বোধ তারাই শুধু এ কাজ করে।
- যে ব্যক্তি কর্মরত আছে, তাকে বিরক্ত করো না।
- যেহেতু তুমি মিথ্যা কথা বলেছ, সেহেতু তোমার পাপ হবে।
- যাদের ধন আছে, তারা প্রায়ই কৃপণ হয়।
- আমার যে কলমটি হারিয়েছিল, সেটি ফিরে পেয়েছি
- যদি গাড়িঘোড়া চড়তে চাও, তবে লেখাপড়া কর।

অন্যদিকে, 
- কর্মরত ব্যক্তিকে বিরক্ত করো না।
- মিথ্যা কথা বলার জন্য তোমার পাপ হবে।
- সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
এগুলো সরল বাক্যের উদাহরণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
অস্তিবাচক বাক্য কোনটি?
  1. টাকায় কি না করে?
  2. মন নিচুতে নামতে চায় না।
  3. আপনকার বাণ অল্পপ্রাণ মৃগশাবকের উপর নিক্ষিপ্ত হইবার অযোগ্য।
  4. ভায়ের অনুচিত কাজ হয়নি।
ব্যাখ্যা
• অস্তিবাচক বাক্য থেকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর:
অস্তিবাচক বাক্যকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে-

• সূত্র: 'হ্যাঁ' সূচক বাক্যকে 'না' করতে হলে মূল অর্থ পরিবর্তন না করে বাক্য পরিবর্তন করতে হয়। যেমন:
অস্তিবাচক: 'আপনকার বাণ অল্পপ্রাণ মৃগশাবকের উপর নিক্ষিপ্ত হইবার অযোগ্য।'
নেতিবাচক: 'আপনকার বাণ অল্পপ্রাণ মৃগশাবকের উপর নিক্ষিপ্ত হইবার যোগ্য নহে।'

• সূত্র: বাক্যে ( 'না', 'নয়', 'নি', 'নহে', 'নেই', 'নাহি', 'নাই') ইত্যাদি নঞর্থক অব্যয়যোগে অস্তিবাচক স্বাক্যের বিধেয় ক্রিয়াকে (সমাপিকা ক্রিয়াকে) নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করা হয়।
যেমন:
অস্তিবাচক: মন নিচুতে নামতে অনিচ্ছুক।
নেতিবাচক: মন নিচুতে নামতে চায় না।

অস্তিবাচক: টাকায় সব করে।
নেতিবাচক: টাকায় কি না করে?

• সূত্র: প্রয়োজন মতো বাক্যের অন্য শব্দকে 'না' সূচক প্রয়োগ করতে হয়। যেমন:
অস্তিবাচক: 'তিনি স্বেচ্ছায় যখন সহমরণে যাইতে চাহিতেছেন, তখন সরকারের কি?'
নেতিবাচক: 'তিনি স্বেচ্ছায় যখন সহমরণে যাইতে চাহিতেছেন, তখন সরকারের আপত্তি থাকিতে পারে না।'

• সূত্র: 'না'-বাচক ক্রিয়া ও 'না'-বাচক শব্দ মিলে বাক্যের অস্তিবাচক বা হ্যাঁ-সূচক ভাবটি বজায় রাখতে
হয়।
যেমন:
অস্তিবাচক: ভায়ের উচিত কাজ হয়েছে।
নেতিবাচক: ভায়ের অনুচিত কাজ হয়নি।

• পরিবর্তিত নঞর্থক বাক্যে 'নি', 'উচিত'-এর বিপরীত শব্দ 'অনুচিত' মিলে বাক্যের অত্যর্থক ভাবটি অক্ষুন্ন রেখেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
"কুট কুট" কোন ধরনের দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. পুনরাবৃত্ত
  2. ধ্বন্যাত্মক
  3. অনুকার
  4. বিভক্তিযুক্ত
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি:
কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। এ জাতীয় ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুইবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি। ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি দ্বারা বহুত্ব, আধিক্য ইত্যাদি বোঝায়। ধ্বন্যাত্মক দ্বিরক্ত শব্দ কয়েকটি উপায়ে গঠিত হয়।
যেমন-
১. মানুষের ধ্বনির অনুকার: ভেউ ভেউ- মানুষের উচ্চস্বরে কান্নার ধ্বনি। এরূপ- ট্যা ট্যা, হি হি ইত্যাদি।
২. জীবজন্তুর ধ্বনির অনুকার: ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ধ্বনি)। এরূপ- মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), কুহু কুহু (কোকিলের ডাক), কা কা (কাকের ডাক) ইত্যাদি।
৩. বস্তুর ধ্বনির অনুকার: ঘচাঘচ (ধান কাটার শব্দ)। এরূপ- মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ) ঝমঝম (বৃষ্টি পড়ার শব্দ), হু হু (বাতাস প্রবাহের শব্দ) ইত্যাদি।
৪. অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির অনুকার: ঝিকিমিকি (ঔজ্জ্বল্য)। এরূপ ঠা ঠা (রোদের তীব্রতা), কুট কুট (শরীরে কামড় লাগার মতো অনুভূতি)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
.
জটিল বাক্যের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত যোজক নয় কোনটি?
  1. বরং - তবু
  2. যেমন - তেমন
  3. যেইনা - অমনি
  4. এবং - কিন্তু
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্যের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত যোজক নয় 'এবং - কিন্তু'। 
'এবং ও  কিন্তু' যোজক যৌগিক বাক্যের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় । 

-----------------
• জটিল বাক্য:

যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।

• উল্লেখ্য যে, জটিল বাক্যে সাপেক্ষ সর্বনাম ও নিত্যসম্বন্ধীয় অব্যয় যোগে প্রধান খণ্ডবাক্যের সঙ্গে অপ্রধান খণ্ডবাক্যকে যুক্ত করা হয়।

সাপেক্ষ সর্বনামগুলো হলো:
যে-সে, যা-তা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা ইত্যাদি। নত্যসম্বন্ধীয় যোজক (অব্যয়): যখন-তখন; যেমন-তেমন, বরং- তবু, যেইনা-অমনি, যেহেতু-সেজন্যে/সেহেতু ইত্যাদি।

যেমন:
- তার কাছে যে যা চাইত, সে তাই পেত।
- তুমি যে কথাগুলো বললে তা অসত্য।
- যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র পূজিত হন।
- যে সত্য কথা বলে তাকে সকলেই ভালোবাসে।
- যেমন কর্ম করবে, তেমন ফল পাবে।
- যদি দোষ স্বীকার কর, তবে তোমার কোনো শাস্তি হবে না।
- যখন সূর্য উদিত হয়, তখন পদ্মফুল ফোটে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
অনুজ্ঞাসূচক বাক্য কোনটি?
  1. সদুপায়ে জীবিকা অর্জনের চেষ্টা করো।
  2. গুরুজনদের মান্য করা উচিত।
  3. দেশের সেবা করা কর্তব্য।
  4. বিপদে ধৈর্য ধরা উচিত।
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞাসূচক বাক্য: সদুপায়ে জীবিকা অর্জনের চেষ্টা করো।

অন্যদিকে, 
নির্দেশাত্মক বাক্যের কতিপয় উদাহরণ-
- গুরুজনদের মান্য করা উচিত।
- দেশের সেবা করা কর্তব্য।
- বিপদে ধৈর্য ধরা উচিত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
শব্দের অংশ কোনটি?
  1. বচন
  2. নির্দেশক
  3. উপসর্গ
  4. বলক
ব্যাখ্যা
• শব্দ:
- প্রতিটি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব শব্দভান্ডার থাকে। সাধারণত অভিধানে তা সংকলিত হয়। অভিধানের শব্দগুলো বিচ্ছিন্ন ও পরস্পর সম্পর্কহীন।
-  শব্দের অংশ উপসর্গ ও প্রত্যয়।
- গঠনগতভাবে শব্দ দুই শ্রেণির: মূল শব্দ ও সাধিত শব্দ।
- শব্দ শুধু রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

অন্যদিকে, 
• পদ:
- শব্দ যখন বাক্যে স্থান পায়, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের মধ্যে পদগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
- পদের অংশ বিভক্তি, নির্দেশক, বচন ও বলক।
- গঠনগতভাবে পদ দুই রকমের: অলগ্নক পদ ও সলগ্নক পদ।
- পদ একইসঙ্গে রূপতত্ত্ব ও বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
.
'তার আভাস পেতাম, কিন্তু নাগাল পেতাম না।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. প্রধান খণ্ডবাক্য
  4. মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য (compound sentence):
পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা জটিল বাক্য সংযোজক, সংকোচক, বিয়োজক, ব্যতিরেকাত্মক প্রভৃতি যোজক শব্দ দ্বারা যুক্ত হয়ে যখন একটিমাত্র বাক্য গঠন করে তখন তাকে 'যৌগিক বাক্য' বলে।
যেমন:
- তুমি আস, তবে আমি যাব।(সংযোজক)
- তারা দুজনে আড়ি পেতে ছিল, নইলে চোর ধরা পড়ত না।(ব্যতিরেকাত্মক)
- তার আভাস পেতাম, কিন্তু নাগাল পেতাম না।

• স্মরণ রাখতে হবে-
- যৌগিক বাক্যে কমপক্ষে দুটো খণ্ডবাক্য থাকবে।
- খণ্ডবাক্যগুলো পরস্পর নিরপেক্ষ বা স্বাধীন, একে অপরের ওপর নির্ভরশীল নয়।
-  খণ্ডবাক্যগুলো বিভিন্ন অব্যয়যোগে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।কখনো কখনো এগুলো উহ্যও থাকতে পারে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ কোনটি?
  1. উনিশতম
  2. চতুর্দশ
  3. ষোলো
  4. প্রথম
ব্যাখ্যা
• ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ:
একের পর এক যে সংখ্যাগুলো আসে, সেগুলো ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ। যেমন ১ (এক), ২ (দুই), ৩ (তিন), ৪ (চার), ৫ (পাঁচ), ৬ (ছয়), ৭ (সাত), ৮ (আট), ৯ (নয়), ১০ (দশ), ১১ (এগারো), ১২ (বারো), ১৩ (তেরো), ১৪ (চোদ্দ), ১৫ (পনেরো), ১৬ (ষোলো), ১৭ (সতেরো), ১৮ (আঠারো), ১৯ (উনিশ), ২০ (বিশ) ইত্যাদি।

• ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দের এক বা একাধিক প্রতিশব্দ রয়েছে। এগুলো কখনো স্বতন্ত্রভাবে ব্যবহৃত হয়, কখনো সমাসবদ্ধ শব্দের পূর্বপদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন- 'দুই' সংখ্যাশব্দের প্রতিশব্দ 'দ্বি', 'দু', এবং 'দো'। 'তিন' সংখ্যাশব্দের প্রতিশব্দ 'ত্রি' এবং 'তে'।

অন্যদিকে, 
-------------
সাধারণ পূরণবাচক:
ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে। যেমন- প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ বা এগারোতম ইত্যাদি। সাধারণ পূরণবাচক সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়। যেমন ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম ইত্যাদি।
সংখ্যাবাচক শব্দ

১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত সংখ্যার পূর্ণ পূরণবাচক ও সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক দুই রকম: একাদশ (১১শ) ও এগারোতম (১১তম), দ্বাদশ (১২শ) ও বারোতম (১২তম), ত্রয়োদশ (১৩শ) ও তেরোতম (১৩তম), চতুর্দশ (১৪শ) ও চোদ্দতম (১৪তম), পঞ্চদশ (১৫শ) ও পনেরোতম (১৫তম), ষোড়শ (১৬শ) ও ষোলোতম (১৬তম), সপ্তদশ (১৭শ) ও সতেরোতম (১৭তম), অষ্টাদশ (১৮শ) ও আঠারোতম (১৮তম)।

১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংখ্যার সংক্ষিপ্ত পূরণবাচকে শুধু 'তম' প্রত্যয় যোগ করা হয়। যথা: উনিশতম বা উনবিংশতিতম (১৯তম), বিশতম বা বিংশতিতম (২০তম), একুশতম বা একবিংশতিতম (২১তম), আটাশতম বা অষ্টাবিংশতিতম (২৮তম), উনপঞ্চাশতম বা উনপঞ্চাশত্তম (৪৯তম), আশিতম বা অশীতিতম (৮০তম), নব্বইতম বা নবতিতম (৯০তম), নিরানব্বইতম বা নবনবতিতম (৯৯তম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
.
সরল বাক্য কোনটি?
  1. যে সৎ লোক সে কখনোই মিথ্যার সঙ্গে আপস করে না।
  2. ইন্দ্রের যেমন ঐরাবত আমার তেমনি পদ্মা।
  3. নিয়মমতো পড়লে পরীক্ষায় পাশ করা যায়। 
  4. যারা ছাত্র তাদের অধ্যয়নই তপস্যা।
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য (simple sentence):
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা বা উদ্দেশ্য এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া বা বিধেয় থাকে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- লিপা স্কুলে যায়।
- পাখিরা আকাশে ওড়ে।
- নিয়মমতো পড়লে পরীক্ষায় পাশ করা যায়। 

• লক্ষ কর: সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে বাক্যে এক বা একাধিক কর্মপদ (বিশেষ্য) থাকতে পারে। সমাপিকা ক্রিয়াটা অকর্মক ক্রিয়া হলে কোনো কর্মপদ থাকে না, ক্রিয়া-বিশেষণ থাকতে পারে।
যেমন:
- শিশুটা হাসছে। (অকর্মক ক্রিয়া)
- শিশুটা ধীরে ধীরে হাঁটছে। (ক্রিয়াবিশেষণ + অকর্মক ক্রিয়া)
- সে ভাত খাচ্ছে। (কর্মপদ + সমাপিকা ক্রিয়া)
- সে আমাকে একটা ছবি দেখাবে। (কর্মপদ + কর্মপদ + দ্বিকর্মক ক্রিয়া)

একটা সরল বাক্যে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকতে পারে।
যেমন:
- আমি তাকে দেখতে চাই।
[এখানে 'দেখতে' হলো অসমাপিকা ক্রিয়া। 'চাই' হলো সমাপিকা ক্রিয়া। যেহেতু সমাপিকা ক্রিয়া মাত্র একটা, সেহেতু বাক্যটা সরল।]

-------------
অন্যদিকে, 
- ইন্দ্রের যেমন ঐরাবত আমার তেমনি পদ্মা। 
- যারা ছাত্র তাদের অধ্যয়নই তপস্যা।
- যে সৎ লোক সে কখনোই মিথ্যার সঙ্গে আপস করে না।

[অপশনে প্রদত্ত অন্য বাক্যগুলো জটিল বাক্য।] 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০.
যেসব সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলায় এসেছে তাদের বলে-
  1. অর্ধ-তৎসম শব্দ
  2. দেশি শব্দ
  3. তদ্ভব শব্দ
  4. সংকর শব্দ
ব্যাখ্যা
• অর্ধ-তৎসম শব্দ:
যেসব সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলায় এসেছে সেসব শব্দকে 'অর্ধ-তৎসম শব্দ' বলে। যেমন: গিন্নি, জোছনা, নেমন্তন্ন ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
---------------
• তদ্ভব শব্দ:
যেসব শব্দ সংস্কৃত থেকে প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে বাংলায় এসেছে সেগুলোকে 'তদ্ভব শব্দ' বলে। যেমন: হাত, পা, মাথা, কান ইত্যাদি।

• দেশি শব্দ:
যেসব শব্দ এদেশের আদিম অধিবাসী অনার্যদের ভাষা থেকে বাংলায় স্থান পেয়েছে সেগুলোকে 'দেশি শব্দ' বলা হয়। যেমন: পেট, ঢেঁকি, কুলা ইত্যাদি।

মিশ্র শব্দ (সংকর শব্দ):
বাংলা ভাষায় 'মিশ্র শব্দ' নামে আরেক ধরনের শব্দ আছে। এই শব্দগুলো বিভিন্ন ভাষার বিদেশি শব্দ কিংবা দেশি ও বিদেশি শব্দের মিশ্রণে তৈরি হয়েছে। যেমন: পুলিশ সাহেব ('পুলিশ' শব্দ ইংরেজি), হেডমৌলভি ('হেড' শব্দ ইংরেজি; 'মৌলভি' শব্দ আরবি), পণ্ডিত-স্যার ('পণ্ডিত' শব্দ তৎসম, 'স্যার' শব্দটি ইংরেজি)। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১.
'আমি বহু কষ্টে শিক্ষা লাভ করেছি।' বাক্যের যৌগিকরূপ কোনটি?
  1. যেহেতু আমি বহু কষ্ট করেছি, ফলে শিক্ষা লাভ করেছি।
  2. আমি বহু কষ্ট করেছি, ফলে শিক্ষা লাভ করেছি।
  3. আমি বহু কষ্ট করেছি বলে শিক্ষা লাভ করেছি।
  4. যেহেতু আমি বহু কষ্ট করেছি, সেজন্য শিক্ষা লাভ করেছি।
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
 সরল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে বাক্যের মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে-

• সূত্র: বাক্যের পরিবর্তন হলেও বাক্যের মূল অর্থের পরিবর্তন হয় না।
যেমন:
সরল: সমাজে দয়ার চেয়ে দায়ের জোর বেশি।
যৌগিক: সমাজে দয়ার জোর বেশি নয়, বরং দায়ের জোর বেশি।

সরল: আমি বহু কষ্টে শিক্ষা লাভ করেছি।
যৌগিক: আমি বহু কষ্ট করেছি, ফলে শিক্ষা লাভ করেছি।

• সূত্র: সরল বাক্যের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) দ্বারা স্বনির্ভর খণ্ডবাক্যে পরিণত করতে হয়।
যেমন:
সরল: গুহাটা হইতে বাহির হইয়া আসিয়া ধড়ে প্রাণ আসিল।
যৌগিক: গুহাটা হইতে বাহির হইলাম, তবেই ধড়ে প্রাণ আসিল।

• সূত্র: সরল বাক্যের সমাপিকা ক্রিয়া দ্বারা অন্য একটি স্বনির্ভর খণ্ডবাক্যও গঠিত হয়।
যেমন:
সরল: ঝুরি নেমে গড়ে ওঠা গুঁড়িই এখন রয়েছে।
যৌগিক: ঝুরি নেমে গুঁড়ি গড়ে উঠেছে, আর তা-ই এখন রয়েছে।

• সূত্র: প্রয়োজনে সরল বাক্যের অন্য শব্দসমষ্টির দ্বারা কিংবা বাক্যাংশকে প্রসারিত করে এক বা একাধিক স্বনির্ভর খণ্ডবাক্য গঠিত হতে পারে।
যেমন:
সরল: আমি বর ছিলাম বলে বিবাহ সম্মন্ধে আমার মত যাচাই করা অনাবশ্যক ছিল।
যৌগিক: আমি ছিলাম বর, সুতরাং বিবাহ সম্মন্ধে আমার মত যাচাই করা অনাবশ্যক ছিল।

• সূত্র: খণ্ডবাক্যগুলো ব্যতিরেকাত্মক, প্রাতিপাক্ষিক, সংযোজক, বিয়োজক প্রভৃতি যে কোনো অব্যয় যারা যুক্ত করে যৌগিক বাক্য গঠন করা।
যেমন:
সরল: তুমি চলে গেলে তোমার জিনিসপত্তর দেখবে কে?
যৌগিক: তুমি চলে যাবে, কিন্তু তোমার জিনিসপত্তর দেখবে কে?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২.
তারিখবাচক শব্দ কোনটি?
  1. একুশে
  2. দ্বাদশ
  3. পনেরোতম
  4. ষোড়শ
ব্যাখ্যা
• তারিখ পূরণবাচক শব্দ:
বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।

যথা: পহেলা বা পয়লা (১লা), দোসরা (২রা), তেসরা (৩রা), চৌঠা (৪ঠা), পাঁচই (৫ই), ছয়ই (৬ই), সাতই (৭ই), আটই (৮ই), নয়ই (৯ই), দশই (১০ই), এগারোই (১১ই), বারোই (১২ই), তেরোই (১৩ই), চোদ্দই (১৪ই), পনেরোই (১৫ই), ষোলোই (১৬ই), সতেরোই (১৭ই), আঠারোই (১৮ই), উনিশে (১৯শে), বিশে (২০শে), একুশে (২১শে), বাইশে (২২শে), তেইশে (২৩শে), চব্বিশে (২৪শে), পঁচিশে (২৫শে), ছাব্বিশে (২৬শে), সাতাশে (২৭শে), আটাশে (২৮শে), উনত্রিশে (২৯শে), ত্রিশে (৩০শে), একত্রিশে (৩১শে)।

অন্যদিকে, 
দ্বাদশ, পনেরোতম ও ষোড়শ সাধারণ পূরণবাচক শব্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
১৩.
পদ বিবেচনায় শব্দ কয় প্রকার?
  1. চার
  2. পাঁচ
  3. সাত
  4. আট
ব্যাখ্যা
• পদ বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ। বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করে বর্ণনা করা যায়: ১. বিশেষ্য, ২. সর্বনাম, ৩. বিশেষণ, ৪. ক্রিয়া, ৫. ক্রিয়াবিশেষণ, ৬. অনুসর্গ, ৭. যোজক ও ৮. আবেগ।

বাক্যে প্রয়োগের উপরে শব্দশ্রেণির এই আট রকম বিভাজন চূড়ান্ত হয়ে থাকে। যেমন, যখন বলা হয়: 'লাল থেকে নীল ভালো, তখন 'লাল' এটি বিশেষ্য পদ। কিন্তু যখন বলা হয়: আমি একটি লাল ফুল তুলেছি তখন 'লাল' বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
১৪.
প্রথাগত ব্যাকরণে আদর্শ বাক্যের কয়টি গুণের কথা বলা হয়েছে?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা
• সার্থক বাক্যের বৈশিষ্ট্য বা বাক্যের গুণ:
প্রথাগত ব্যাকরণে একটি সার্থক বা আদর্শ বাক্য গঠনের ক্ষেত্রে তিনটি গুণের কথা বলেছেন:
১. আকাঙ্ক্ষা
২. আসত্তি (অর্থাৎ নৈকট্য) এবং
৩. যোগ্যতা।

১. আকাঙ্ক্ষা (expectancy):
বাক্যের অর্থ ভালোভাবে বোঝার জন্যে যতগুলো পদের প্রয়োজন তার সব কটি যদি বাক্যে না থাকে এবং কোনো এক বা একাধিক পদ অবশিষ্ট থাকে, তবে ওই অবশিষ্ট পদ শোনার ইচ্ছায়ে বাক্যের 'আকাঙ্ক্ষা' বলে।

২. আসত্তি (proximity):
বাক্যে ব্যবহৃত পদসমষ্টি পরস্পর অন্বয়যুক্ত বা সম্পর্ক অনুযায়ী যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট ক সংস্থাপিত হলে তাকে 'আসত্তি' বলে। এককথায়- 'আসত্তি' হলো বাক্যে ব্যবহৃত পদগুলোর ব্যাকরণসম্মত অবস্থান বা বিন্যাস।

৩. যোগ্যতা (propriety):
বাক্যস্থিত পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মিলবন্ধনের নাম 'যোগ্যতা'। ব্যাকরণে বাক্য গঠনের যোগ্যতা বলতে বাক্যের ভাবসত্য প্রকাশ ক্ষমতাকে বোঝায়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫.
নিচের কোনটি তৎসম শব্দ?
  1. পা
  2. মাথা
  3. কান
  4. হস্ত
ব্যাখ্যা
• হস্ত (বিশেষ্য পদ)
- এটি একটি তৎসম শব্দ। 
অর্থ:
- হাত; কর; পাণি।
- বাহু; ভুজ।
-  মণিবন্ধ।

• তৎসম শব্দ:
যেসব শব্দ পরিবর্তন ছাড়াই সংস্কৃত থেকে বাংলায় সরাসরি এসেছে সেগুলোকে 'তৎসম শব্দ' বলে। যেমন: চন্দ্র, সূর্য, হস্ত ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• তদ্ভব শব্দ:

যেসব শব্দ সংস্কৃত থেকে প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে বাংলায় এসেছে সেগুলোকে 'তদ্ভব শব্দ' বলে। যেমন: হাত, পা, মাথা, কান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬.
'উটপাখি আকাশে ওড়ে।' বাক্যে কোন গুনের অভাব পরিলক্ষিত?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. আসত্তি
  3. যোগ্যতা
  4. বাহুল্য
ব্যাখ্যা
• যোগ্যতা:
বাক্যস্থিত পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মিলবন্ধনের নাম 'যোগ্যতা'। ব্যাকরণে বাকা গঠনের যোগ্যতা বলতে বাক্যের ভাবসত্য প্রকাশ ক্ষমতাকে বোঝায়। যেমন:
- সূর্য পূর্ব দিকে উঠছে।
- পাখিরা আকাশে ওড়ে।

কিন্তু যদি বলা হতো- উটপাখি আকাশে ওড়ে।
তাহলে আকাঙ্ক্ষা ও আসত্তি অনুযায়ী পদগুলো ব্যবহৃত হলেও ভাবসত্য বা যুক্তিসঙ্গত অর্থের ওভাবে বক্তার কথা বাস্তবসম্মত ভাব প্রকাশ করে না। কারণ 'উটপাখি' আকাশে উড়তে পারে না। তাই বাক্যের অর্থগত ও ভাবগত মিলনের জন্যে ব্যবহৃত পদের সুষম সমন্বয় তথা যোগ্যতা থাকতে হবে। 

--------------------
প্রথাগত ব্যাকরণে একটি সার্থক বা আদর্শ বাক্য গঠনের ক্ষেত্রে তিনটি গুণের কথা বলেছেন:
১. আকাঙ্ক্ষা,
২. আসত্তি এবং
৩. যোগ্যতা।

• আকাঙ্ক্ষা:
বাক্যের অর্থ ভালোভাবে বোঝার জন্যে যতগুলো পদের প্রয়োজন তার সব কটি যদি বাক্যে না থাকে এবং কোনো এক বা একাধিক পদ অবশিষ্ট থাকে, তবে ওই অবশিষ্ট পদ শোনার ইচ্ছাকে বাক্যের 'আকাঙ্ক্ষা' বলে।
যেমন-
- ঢাকা বাংলাদেশের।
- অর্থই অনর্থের। 

[বলা হলে, তাতে বাক্যের অর্থোপলব্ধি হয় না। মানে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন থেকে যায়- 'ঢাকা বাংলাদেশের কী?' অথবা 'অর্থ অনর্থের কী?' অর্থাৎ আরো কিছু শোনার বাসনা বা আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হলে বাক্যটি সম্পূর্ণ হতো। যেমন প্রথম বাক্যের সঙ্গে 'রাজধানী' (ঢাকা বাংলাদেশে রাজধানী) এবং দ্বিতীয় বাক্যের সঙ্গে 'মূল' (অর্থই অনর্থের মূল) শব্দ যোগ করা হলো, অমনি শোনার আকাঙ্ক্ষা মেটার সঙ্গে সঙ্গে বাক্যের অর্থোপলব্ধির মধ্য দিয়ে বাক্যটি পূর্ণাঙ্গ হলো]  

• আসত্তি:
বাক্যে ব্যবহৃত পদসমষ্টি পরস্পর অন্বয়যুক্ত বা সম্পর্ক অনুযায়ী যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট বা সংস্থাপিত হলে তাকে 'আসত্তি' বলে। এককথায়- 'আসত্তি' হলো বাক্যে ব্যবহৃত পদগুলোর ব্যাকরণসম্মত অবস্থান বা বিন্যাস।
অন্যভাবেও বলা যায়, বাক্যের সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশের জন্যে বাক্যস্থিত পদগুলোকে সঠিকভাবে সাজিয়ে লেখা বা বলার নামই আসত্তি।
যেমন:
- শেরেবাংলা মহান নেতা ছিলেন।

[এখানে যদি বলা হতো- 'শেরেবাংলা মহান ছিলেন নেতা' তাহলে বক্তার মনোভাব সঠিক ও সুষ্ঠুভাবে প্রকাশ পেত না, যদিও দুটি উদাহরণেই বাক্য গঠনের প্রয়োজনীয় সবকটি পদ রয়েছে। তাই বাক্যে ব্যবহৃত পদ বা পদসমষ্টিকে পরস্পর সম্পর্ক অনুযায়ী যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট হতে হবে। কেননা যথাস্থানে পদগুলো সাজালে তবেই অর্থ স্পষ্ট হয় আর এই পরস্পর মিলযুক্ত পদসমূহের সন্নিহিত অবস্থানই 'আসত্তি'। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৭.
'গৈ + অক = গায়ক' গঠন অনুসারে কোন ধরনের শব্দ?
  1. যৌগিক
  2. মিশ্র
  3. রূঢি
  4. যোগরূঢ
ব্যাখ্যা
• যৌগিক শব্দ:
যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও প্রচলিত অর্থের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, অর্থাৎ একই রকম, সেসব শব্দকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
বাংলা 'মিতালি' শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ 'মিতার ভাব, বন্ধুত্ব' ('মিতা' শব্দের পর 'ভাব'-অর্থে তদ্ধিত প্রত্যয় 'আলি'-যোগে 'মিতালি' হয়েছে); শব্দটি এই অর্থেই ভাষায় ব্যবহৃত হয়; অর্থাৎ 'মিতালি' শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই; ফলে 'মিতালি' বাংলাতে যৌগিক শব্দ।

এরকম-
- গায়ক = গৈ + অক; অর্থ হলো গান করে যে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।