পরীক্ষা আর্কাইভ

ইউনিয়ন সমাজকর্মী প্রস্তুতি [Archived]

পরীক্ষাইউনিয়ন সমাজকর্মী প্রস্তুতি [Archived]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১১
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১৫ বাংলা পরীক্ষা - ৪ (ব্যাকরণ) টপিক: ১. সন্ধি, ২. ধ্বনি পরিবর্তন, ৩. সমার্থক শব্দ
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ইউনিয়ন সমাজকর্মী প্রস্তুতি [Archived]

ইউনিয়ন সমাজকর্মী প্রস্তুতি [Archived] · তারিখ অনির্ধারিত · ১১ প্রশ্ন

.
‘নর্তকী’ শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. নৃর্ত + কী
  2. নৃর্তক + ঈ
  3. নর্ত + কী
  4. নর্তক + ঈ
ব্যাখ্যা
• ‘নর্তকী’ শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ- নর্তক + ঈ।

স্বরসন্ধির নিয়মে গঠিত কিছু শব্দ হলো:
• সূত্র: ই + ই = ঈ:
- অতি + ইত = অতীত,
- অভি + ইষ্ট= অভীষ্ট,
- প্রতি + ইতি = প্রতীতি,
- অতি + ইন্দ্র = অতীন্দ্র।

• সূত্র: ই + ঈ = ঈ:
- গিরি + ঈশ = গিরীশ,
- অধি+ ঈশ্বর = অধীশ্বর,
- ক্ষিতি + ঈশ = ক্ষিতীশ,
- অভি + ঈপ্সা = অভীপ্সা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
অন্ত্যস্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ কোনটি?
  1. সাধু > সাউধ
  2. ফাল্গুন > ফাগুন
  3. ধোবা > ধোপা
  4. দিশ্ > দিশা
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি পরিবর্তন:
উচ্চারণের সময় সহজীকরণের প্রবণতায় শব্দের মূল ধ্বনির যেসব পরিবর্তন ঘটে তাকে বলা হয় ধ্বনি পরিবর্তন।

• অন্ত্যস্বরাগম:
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরুপ স্বরাগমকে বলে অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন -
- দিশ্ > দিশা;
- পোখত্ > পোক্ত;
- বেঞ্চ > বেঞ্চি;
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি । অর্থাৎ পদের অন্তর্গত কোনো বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে ।
যেমন:
- শাক > শাগ;
- ধোবা > ধোপা;
- কবাট > কপাট;
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

• অন্তর্হতি:
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন: ফলাহার > ফলার; আলাহিদা > আলাদা; ফাল্গুন > ফাগুন ইত্যাদি।

• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- মারি > মাইর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'নদী' শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. কল্লোলিনী
  2. সরিৎ
  3.  সমুদ্রকান্তা
  4. দরিয়া
ব্যাখ্যা
• 'নদী' শব্দের সমার্থক শব্দ:
নদ, নদনদী, তটিনী, প্রবাহিণী, তরঙ্গিনী, শৈবালিনী, স্রোতস্বিনী, স্রোতস্বতী, নির্ঝরণী, গাঙ, সরিৎ, সমুদ্রকান্তা, সমুদ্রদয়িতা, স্রোতবহা, মন্দাকিনী, স্রোতোবহ, কল্লোলিনী।
 
অন্যদিকে,
• 'সমুদ্র' শব্দের সমার্থক শব্দ:
জলধি, সাগর, সিন্ধু, সায়র, দরিয়া, অকূল, পাথার, বারিধি, রত্নাকর, নীলাম্বু, পয়োধি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
‘পর্বত’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. অখিল
  2. ক্ষিতি
  3.  মহি
  4. অচল
ব্যাখ্যা
• 'পর্বত' শব্দের সমার্থক শব্দ:
মহীধর, পাহাড়, গিরি, অচল, শৈল, ভূধর, অদ্রি, শিখরী, শৃঙ্গী, শৃঙ্গধর, মহীধ্র, ভূভৃৎ, নগ।

অন্যদিকে,
• ‘পৃথিবী’ শব্দের সমার্থক শব্দ: 

ধরা, ধরণি, ধরিত্রী, বসুন্ধরা, বসুধা, ভূ, ভূমণ্ডল, অবনি, ক্ষিতি, মহি, বসুমতী, মেদিনী, জগৎ, মর্ত্যলোক, ব্রহ্মাণ্ড, বিশ্ব, অখিল, ভুবন, ভূমি, পৃথ্বী, দুনিয়া, ভুবন, ভূলোক, উর্বী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
সন্ধির উদ্দেশ্য নয় কোনটি?
  1. সন্ধির মাধ্যমে ধ্বনির মিলন।
  2. শব্দের মাধুর্য সম্পাদন।
  3. স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজ প্রবণতা।
  4.  ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন।
ব্যাখ্যা
• সন্ধির উদ্দেশ্য নয়- শব্দের মাধুর্য সম্পাদন।

------------------
• সন্ধি:
- সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজ প্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন।
- তবে সন্ধির প্রধান সুবিধা হলো উচ্চারণের সুবিধা।

• সন্ধির অন্যান্য কতিপয় উদ্দেশ্য:
- সন্ধির মাধ্যমে ধ্বনির মিলন হয়।
- ধ্বনি-পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সন্ধি বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
- নতুন শব্দ গঠনের জন্য সন্ধির প্রয়োজন রয়েছে।
- উচ্চারণে সহজতা আসে।
- শব্দের আকার ছোট করতেও সন্ধির প্রয়োজন পড়ে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
ব্যঞ্জনসন্ধি কত নিয়মে গঠিত হতে পারে?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।

সাধারণত ব্যঞ্জনসন্ধি  তিন নিয়মে হয়: 
১. স্বর + ব্যঞ্জন;
২. ব্যঞ্জন + স্বর;
৩. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন।

• স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
স্বরধ্বনির পর ‘ছ’ থাকলে তা দ্বিত্ব হয়, অর্থাৎ ‘ছ’-র বদলে ‘চ্ছ’ হয়।
যেমন:
- পরি + ছদ = পরিচ্ছদ।
- বি + ছেদ = বিচ্ছেদ।
- বি + ছিন্ন = বিচ্ছিন্ন।

• ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি:
- ক/চ/ট/ত/প+স্বর = গ/জ/ড(ড়)/দ/ব। 
যেমন:
- দিক্‌ + অন্ত = দিগন্ত;
- সৎ + উপায় = সদুপায়।

[স্বরধ্বনিগুলাে ঘােষবৎ হয়। এখানে ঘােষবৎ স্বরধ্বনির (ক, চ, ট, ত, প) প্রভাবে পূর্ববর্তী অঘােষ ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে ঘােষধ্বনিতে (গ, জ, ড, দ, ব) পরিণত হয়।]

• ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে। যেমন:
• চলৎ + চিত্র = চলচ্চিত্র;  
• বিপদ্ + জনক = বিপজ্জনক;
• বাক্ + দান = বাগ্দান;
• তৎ + মধ্যে = তন্মধ্যে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
.
কোনটি ‘বৃক্ষ’ শব্দের সমার্থক শব্দ?
  1. অরণ্য
  2. শাখী
  3. কানন
  4. বিপিন
ব্যাখ্যা
• ‘বৃক্ষ’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
 গাছ, পাদপ, দ্রুম, তরু, বিটপী, শাখী, পণী, শৃঙ্গী, শিখরী, মহীরুহ ইত্যাদি।

• ‘বন’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
অরণ্য, জঙ্গল, অটবি, কানন, বিপিন, গহন, কুঞ্জ, কান্তার, উপবন, বনানী ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
.
নিচের কোনটিতে ঘোষধ্বনি দ-এর প্রভাবে ‘ক’ হয়েছে গ?
  1. চলচ্চিত্র
  2. তন্মধ্যে
  3. বিপজ্জনক
  4. বাগ্দান
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন:
ব্যঞ্জনসন্ধিতে একটি ধ্বনির প্রভাবে পার্শ্ববর্তী ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে যায়।

যেমন: 
- চলৎ + চিত্র = চলচ্চিত্র (এখানে চ-এর প্রভাবে ত হয়েছে চ)। 
- বিপদ্ + জনক = বিপজ্জনক (এখানে জ-এর প্রভাবে দ হয়েছে জ)। 
- উৎ + লাস = উল্লাস (এখানে ল-এর প্রভাবে ত হয়েছে ল)। 
- বাক্ + দান = বাগ্দান (এখানে ঘোষধ্বনি দ-এর প্রভাবে ক হয়েছে গ)। 
- তৎ + মধ্যে = তন্মধ্যে (এখানে নাসিক্য ধ্বনি ম-এর প্রভাবে ত হয়েছে ন )। 
- শম্ + কা = শঙ্কা (এখানে কণ্ঠ্যধ্বনি ক-এর প্রভাবে ম হয়েছে ঙ)। 
- সম্ + চয় = সঞ্চয় (এখানে তালব্যধ্বনি চ-এর প্রভাবে ম হয়েছে ঞ)। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
.
‘অম্বু’ শব্দের সমার্থক শব্দ-
  1. পানি
  2. বাতাস
  3. সমুদ্র
  4. আকাশ
ব্যাখ্যা
• ‘পানি' শব্দের সমার্থক শব্দ:
অম্বু, জল, নীর, সলিল, প্রাণদ, উদক, তোয়, জীবন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'আকাশ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
গগন, অন্তরিক্ষ, অম্বর, ব্যোম, আসমান, দ্যুলোক, শূন্য, নভঃ, নীলিমা, অনন্ত, সুরপথ, অম্বরতল, খগোল, নক্ষত্রলোক, নভোলোক, নভস্থল ইত্যাদি।

• 'বাতাস' শব্দের সমার্থক শব্দ:
বায়ু, হাওয়া, পবন, সমীর, সমীরণ, অনিল, মরুৎ, প্রভঞ্জন।

• 'সমুদ্র' শব্দের সমার্থক শব্দ:
জলধি, সাগর, সিন্ধু, সায়র, দরিয়া, অকূল, পাথার, বারিধি, রত্নাকর, নীলাম্বু, পয়োধি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০.
নিচের কোনটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ?
  1. পিত্রুপদেশ
  2. দুঃখার্ত
  3. নিশ্চিন্ত
  4. যথোচিত
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ- নিঃ + চিন্ত = নিশ্চিন্ত।

অন্যদিকে,
• ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ হলো:
- যথা + উচিত = যথোচিত;
- দুঃখ + ঋত = দুঃখার্ত;
- পিতৃ + উপদেশ = পিত্রুপদেশ।

-------------------
• বিসর্গ সন্ধি:
- বিসর্গের সাথে অর্থাৎ র্ ও স্-এর সাথে স্বরধ্বনির কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।
- বিসর্গ সন্ধি দুইভাবে সাধিত হয়। যথা:
১. বিসর্গ + স্বর এবং
২. বিসর্গ + ব্যঞ্জন।

• পূর্বপদের শেষে যদি অ/আা ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনির পর বিসর্গ (র-জাত) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি স্বরধ্বনি থাকে তবে সন্ধির ফলে বিসর্গ র্‌ হয়ে যায় এবং পরের স্বরধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন -
- ইঃ + অ = ই + র্‌; নিঃ + অন্ন = নিরন্ন, বহিঃ + অঙ্গ = বহিরঙ্গ।
- ইঃ + আ = ই + রা; নিঃ + আকার = নিরাকার, নিঃ + আশা = নিরাশা।
- উঃ + অ = উ + র; দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা, চতুঃ + অঙ্গ = চতুরঙ্গ।
- উঃ + আ = উ + রা; দুঃ + আত্মা = দুরাত্মা, দুঃ + আশা = দুরাশা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১.
'হাতি' এর সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ভুজগ
  2. কেশরী
  3. নগজ
  4. তুরগ
ব্যাখ্যা
• 'হাতি' এর সমার্থক শব্দ: গজ, দ্বিপ, দ্বিরদ, ঐরাবত হস্তী, করী, দন্তী, দন্তাবল, নগজ ইত্যাদি।

অন্যান্য শব্দগুলোর প্রতিশব্দ বা সমর্থক শব্দ হলো:
• 'সাপ' শব্দের সমার্থক শব্দ: সৰ্প, অহি, ফণী, নাগ, ভুজগ, ভুজঙ্গ, আশীবিষ, উরগ, বিষধর, পন্নগ।
• ‘সিংহ' এর সমার্থক শব্দ: পশুরাজ, কেশরী, মৃগেন্দ্র, পারীন্দ্র, মৃগরাজ।
• ‘ঘোড়া’ এর সমর্থক শব্দ: অশ্ব, বাহ, ঘোটক, তুরঙ্গম, তুরগ, হ্রেষী, বামী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।