পরীক্ষা আর্কাইভ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

পরীক্ষাশিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৩৯
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৫৫ সাব্জেক্ট ফাইনাল - বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম] · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৯ প্রশ্ন

.
কোনটি সাধুরীতির শব্দ?
  1. নইলে
  2. আজও
  3. অদ্য
  4. যদিও
ব্যাখ্যা

• সাধুরীতির শব্দ - অদ্য। এবং এর চলিতরূপ - আজ।

অব্যয়পদের রূপের পার্থক্য:
সাধু - চলিত:
→ অদ্যাপি - আজও,
→ কদাচ - কখনো,
→ তথাপি - তবুও,
→ নচেৎ - নইলে,
→ নতুবা - নইলে,
→ যদ্যপি - যদিও

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

.
'Canvass' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. তাঁবু
  2. প্রচার
  3. থলে
  4. ব্যঙ্গচিত্র
ব্যাখ্যা

• 'Canvass' এর বাংলা পরিভাষা - প্রচার

উল্লেখ্য,
'Canvas' শব্দের অর্থ - তাঁবু, থলে।

অন্যদিকে,
Cartoon - ব্যঙ্গচিত্র।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাংলা পরিভাষা:
'Circular' অর্থ- পরিপত্র।
'Manifesto' অর্থ- ইশতেহার।
'Manuscript' অর্থ- পাণ্ডুলিপি।
'Manager' অর্থ- ব্যবস্থাপক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং অভিগম্য অভিধান।

.
চর্যাপদের কবি ভুসুকুপা কয়টি পদ রচনা করেন?
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ১২টি
  4. ১০টি
ব্যাখ্যা

ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়।
- তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮টি পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত চর্যার পদগুলো হলো- ৬নং/ ২১নং/ ২৩নং/ ২৭নং/ ৩০নং/৪১নং/৪৩নং/৪৯নং।
-  মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র মতে তিনি পূর্ব বঙ্গ অঞ্চলের মানুষ ছিলেন।
- তিনি তাঁর রচিত ৪৯নং পদে পদ্মা নদী (পঁউআ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন।
- 'আপনা মাংসে হরিণা বৈরী' (৬নং পদ) পদের রচয়িতা ভুসুকপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
কোনটি বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন?
  1. হাইফেন
  2. দাঁড়ি
  3. বিস্ময়বোধক
  4. প্রশ্নবোধক চিহ্ন
ব্যাখ্যা

যতিচিহ্ন:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য বাক্যের মধ্যে বা শেষে নিয়মিত বর্ণের পাশাপাশি সাংকেতিক চিহ্নকে যতিচিহ্ন বোঝায়।
- যতিচিহ্ন ছেদ বা বিরাম চিহ্ন নামেও পরিচিত।

বাক্যে অবস্থান বিবেচনায় বিরাম চিহ্ন ২ প্রকার:
 - প্রান্তিক বিরামচিহ্ন: দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময়বোধক প্রভৃতি।
 - বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন: কমা, সেমিকোলন, ড্যাস, হাইফেন ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
"বসন্ত রায় এবং উদয়াদিত্য" চরিত্র দুটি কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. চোখের বালি
  2. বউ ঠাকুরানীর হাট
  3. যোগাযোগ
  4. শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা

'বউ ঠাকুরানীর হাট' উপন্যাস:
- এটি ১৮৮১-৮২ খ্রিষ্টাব্দে 'ভারতী' পত্রিকায় প্রথম ছাপা হয়।
- ১৮৮৩ খ্রিষ্টাব্দে তা গ্রন্থাকার প্রকাশিত হলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাসের মর্যাদা লাভ করে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই উপন্যাসের কাহিনি সূত্র পেয়েছিলেন প্রতাপচন্দ্র ঘোষের 'বঙ্গাধিপতি পরাজয়' (১৯৬৯) গ্রন্থের মধ্যে।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলোর নাম ও কিছু ঘটনায় ঐতিহাসিকতার ছোঁয়া থাকলেও এর সঙ্গে ইতিহাসের সরাসরি সম্পর্ক নেই।
- চরিত্রসমূহ যেমন, বসন্ত রায়, উদয়াদিত্য, বিভার সম্পর্ক রবীন্দ্রভাবনা তাড়িত।
- শিশুকালে ভৃত্যলালিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মাতৃবিয়োগ হবার পর জ্যেষ্ঠ ভগ্নী সৌদামিনী দেবীর স্নেহে লালিত-পালিত হন।
- ' বউ ঠাকুরানীর হাটে' সেই স্নেহের সুষমা আছে। গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয় সৌদামিনী দেবীকে।
- এই উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে পরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'প্রায়শ্চিত্ত' (১৯০৯) নামে নাটক রচনা করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

.
কোনটি অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়? 
  1. সর্বনাম
  2. বাগ্‌ধারা
  3. যতিচিহ্ন
  4. শব্দ গঠন
ব্যাখ্যা

অর্থতত্ত্ব:
- মূল আলোচ্য - ব্যকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

অন্যদিকে,
বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় - যতিচিহ্ন।
রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় - সর্বনাম, শব্দ গঠন।
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করে।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

.
কোনটি বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগের নিদর্শন?
  1. সেক শুভোদয়া
  2. প্রাকৃতপৈঙ্গল
  3. নিরঞ্জনের রুম্মা
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়'শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
- প্রাকৃতপৈঙ্গল
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপুরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুম্মা'।
- সেক শুভোদয়া

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. স্বায়ত্তশাসন
  2. অশরীরী
  3. যথোচিত
  4. টানাপোড়ন
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান - টানাপোড়ন
- এর শুদ্ধ বানান - টানাপোড়েন।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- কাপড়ের লম্বালম্বি ও আড়াআড়িভাবে বোনা সুতা।
- উভয়সংকট, দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থা।

অন্যদিকে,
স্বায়ত্তশাসন, অশরীরী এবং যথোচিত - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
"সাম্যের গান গাই
যেখানে আসিয়া সম-বেদনায় সকলে হয়েছি ভাই।" - চরণটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. কুলি মজুর
  2. রাজা-প্রজা
  3. মানুষ
  4. বারাঙ্গনা
ব্যাখ্যা

"সাম্যের গান গাই
যেখানে আসিয়া সম-বেদনায় সকলে হয়েছি ভাই।" - চরণটি কাজী নজরুল ইসলামের "রাজা-প্রজা" কবিতার অন্তর্গত। "রাজা-প্রজা" কবিতাটি 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

রাজা-প্রজা
  কাজী নজরুল ইসলামে

সাম্যের গান গাই
যেখানে আসিয়া সম-বেদনায় সকলে হয়েছি ভাই।
এ প্রশ্ন অতি সোজা,
এক ধরণির সন্তান, কেন কেউ রাজা, কেউ প্রজা?
অদ্ভুত দর্শন –
এই সোজা কথা বলি যদি ভাই, হবে তাহা সিডিশন!
প্রজা হয় শুধু রাজ-বিদ্রোহী, কিন্তু কাহারে কহি,
অন্যায় করে কেন হয় নাকো রাজাও প্রজাদ্রোহী!
প্রজারা সৃজন করেছে রাজায়, রাজা তো সৃজেনি প্রজা,
কৃতজ্ঞ রাজা তাই কি প্রজায় ধরে করে দিল খোজা?

'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ:
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে।
- সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটির উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ,
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী,
- নারী,
- রাজা-প্রজা,
- সাম্য,
- কুলি মজুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

১০.
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জনে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ডাকাত
  2. লাল
  3. কাকা
  4. ঝড়
ব্যাখ্যা

দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক, খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১১.
'ব্যাকরণে পণ্ডিত যিনি' এর এক কথায় প্রকাশ -
  1. বৈয়াকরণ
  2. শাস্ত্রকার
  3. শাস্ত্রজ্ঞ
  4. ব্যাকরণবিদ
ব্যাখ্যা

• 'ব্যাকরণে পণ্ডিত যিনি' এর এক কথায় প্রকাশ - বৈয়াকরণ

অন্যদিকে,
যিনি ব্যাকরণ রচনা করেন - ব্যাকরণবিদ
স্মৃতিশাস্ত্র রচনা করেন যিনি - শাস্ত্রকার।
স্মৃতিশাস্ত্রে পণ্ডিত যিনি - শাস্ত্রজ্ঞ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২.
'ত্বরা’ এর বিপরীতার্থক শব্দ -
  1. অবিলম্বে
  2. নম্র
  3. মুখর
  4. মন্থর
ব্যাখ্যা

• 'ত্বরা’ এর বিপরীতার্থক শব্দ - মন্থর

উল্লেখ্য,
'ত্বরা’ শব্দের অর্থ - শীঘ্র, তাড়া, অবিলম্বে
'ধীর' শব্দের অর্থ - স্থিরচিত্ত, মন্থর, সামান্য, বিনীত।

অন্যদিকে,
• ধৃষ্ট - নম্র।
• মৌন - মুখর।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২) বাংলা একাডেমি ও অভিগম্য অভিধান।

১৩.
কোন দুটি বাংলা উপসর্গ?
  1. কদ, অঘা
  2. প্রতি, অতি
  3. অনু, অব
  4. সু, অপি
ব্যাখ্যা

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৪.
কোনটি সাকুল্যবাচক সর্বনাম?
  1. কোথাও
  2. তাবৎ
  3. ওই
  4. স্বয়ং
ব্যাখ্যা

সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম:
- ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বােঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন:
- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

নির্দেশক সর্বনাম:
- যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন: নিকট, নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

আত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনাে কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বােঝানাের জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন:
- নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১৫.
"দুর্ঘটনার মর্মান্তিক দৃশ্য বর্ণনা করা যায় না।" এখানে "দৃশ্য" শব্দটি কোন ধাতুযোগে গঠিত?
  1. সংস্কৃত
  2. বাংলা
  3. বিদেশি
  4. মিশ্র
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত ধাতু:
- তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতুকে সংস্কৃত ধাতু বলে।

যেমন:
- অক্ + অন = অঙ্কন: ছোটদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিথু প্রথম হয়েছে।
- দৃশ্ + য = দৃশ্য: দুর্ঘটনার মর্মান্তিক দৃশ্য বর্ণনা করা যায় না।
- কৃ + তব্য = কর্তব্য: ছাত্রদের কর্তব্য লেখাপড়া করা।
- হস্ + য = হাস্য: অকারণ হাস্য-পরিহাস ত্যাগ কর।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১৬.
"তুরঙ্গ" শব্দের সমার্থক শব্দ -
  1. ঘোড়া
  2. সাপ
  3. হাতি
  4. হরিণ
ব্যাখ্যা

ঘোড়া’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অশ্ব, ঘোটক, হয়, বাজী, তুরঙ্গ।  

অন্যদিকে,
'হাতি'  শব্দের সমার্থক শব্দ:
- গজ, হস্তী, করী, দ্বিপ, বারণ, মাতঙ্গ, কুঞ্জর, দন্তী, দ্বিরদ, পিল।

'সাপ' শব্দের সমার্থক:
- সৰ্প, অহি, ফণী, নাগ, ভুজগ, ভুজঙ্গ, আশীবিষ, উরগ, বিষধর, পন্নগ ইত্যাদি।

'হরিণ' শব্দের সমার্থক:
- এণ, কুরঙ্গ, মৃগ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৭.
"পৌনঃপুন" অর্থে কোন শব্দটি গঠিত হয়েছে?
  1. অনুগামী
  2. অনুচর
  3. অনুকম্পা
  4. অনুদিন
ব্যাখ্যা

'অনু' উপসর্গ টির ব্যব্যহার:
- পশ্চাত অর্থে = অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুচর, অনুতাপ, অনুকরণ।
- সাদৃশ্য অর্থে = অনুবাদ, অনুরুপ, অনুকার।
- পৌনঃপুন অর্থে = অনুক্ষণ, অনুদিন, অনুশীলন।
- সঙ্গে অর্থে = অনুকূল, অনুকম্পা

তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- যেসব উপসর্গ সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব উপসর্গকে বলা হয় তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ।
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০ টি।
 যেমন:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির, দুর, বি, অধি, সু, উদ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৮.
যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কোন কারক বলে?
  1. করণ
  2. কর্ম
  3. আধিকরণ
  4. কর্তা
ব্যাখ্যা

করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।

যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।
- লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- শিকারী বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

১৯.
কোনটি ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণ?
  1. রিক্সা > রিসকা
  2. বিলাতি > বিলিতি
  3. ফলাহার > ফলার
  4. প্রীতি > পিরীতি
ব্যাখ্যা

ধ্বনি বিপর্যয়:
- যদি শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটে, তখন তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।

যেমন: 
- পিশাচ > পিচাশ,
- বাক্স > বাসক,
- রিক্সা > রিসকা,
- লাফ > ফাল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
স্বরসঙ্গতি - বিলাতি > বিলিতি।
অন্তর্হতি - ফলাহার > ফলার।
স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি - প্রীতি > পিরীতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২০.
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. অর্ধাঙ্গিনী
  2. ঢাকী
  3. মহতী
  4. শ্বশ্রূ
ব্যাখ্যা

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কুলটা,
- সতীন,
- অর্ধাঙ্গিনী,
- বিধবা,
- অসূর্যম্পশ্যা,
- অরক্ষণীয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
- কবিরাজ,
- কৃতদার,
- অকৃতদার,
- ঢাকী,
- সেনাপতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- মহৎ-মহতী,
- শ্বশুর- শ্বশ্রূ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২১.
'বন' শব্দের সমার্থক শব্দ -
  1. পঙ্কজ
  2. অরবিন্দ
  3. বিটপী
  4. কান্তার
ব্যাখ্যা

'বন' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অরণ্য, জঙ্গল, কানন, বনানী, বনবাদাড়, কুঞ্জ, কান্তার, বিপিন, অটবী।
 
অন্যদিকে,
'পদ্ম' শব্দের সমার্থক শব্দ: 
- কমল, উৎপল, পঙ্কজ, কুমুদ, কুবলয়, শতদল, অরবিন্দ, রাজীব, নলিনী, সরোজ।
 
'বৃক্ষ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- গাছ, পাদপ, দ্রুম, বনানী, তরু, বিটপী, শাখী, পণী, শৃঙ্গী, শিখরী, মহীরুহ ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২২.
"হিসাবনিকাশ" অর্থে কোন বাগ্‌ধারাটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. গৌরচন্দ্রিকা
  2. খতিয়ে দেখা
  3. গাছপাথর
  4. কাঠখোট্টা
ব্যাখ্যা

• 'গাছপাথর' বাগ্‌ধারার অর্থ - হিসাবনিকাশ।

অন্যদিকে,
গৌরচন্দ্রিকা - ভূমিকা। 
খতিয়ে দেখা - বিবেচনা করা। 
কাঠখোট্টা - নীরস ও অনমনীয়। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৩.
'সদৈব' - শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সদা + ঐব
  2. সদ + এব
  3. সদা + এব
  4. সদ + ঐব
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর এ-কার কিংবা ঐ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঐ-কার হয়; ঐ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।

যেমন:
- সদা + এব = সদৈব,
- জন + এক = জনৈক,
- মত + ঐক্য = মতৈক্য,
- মহা + ঐশ্বর্য = মহৈশ্বর্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২৪.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ছদ্মনাম কোনটি?
  1. কবিরত্ন
  2. অশীতিপর শর্মা
  3. যুবনাশ্ব
  4. ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা

সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ছদ্মনাম:
- নবকুমার,
- কবিরত্ন,
- অশীতিপর শর্মা,
- ত্রিবিক্রম বর্মণ,
- কলমগীর।

অন্যদিকে,
- মণীশ ঘটক এর ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- ১৯২২ সালের ২৫ জুন তাঁর মৃত্যু হয়।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ: 
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিক,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।
 
 অনুবাদ কাব্য:
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৫.
'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়। বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা।
- সাহিত্য, সমাজ, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন সম্পর্কিত মূল্যবান প্রবন্ধ এবং উপন্যাস এতে প্রকাশিত হতো।
- বঙ্গদর্শনকে তখন শিক্ষিত বাঙালি সমাজের প্রথম মুখপত্র বলা হতো, কেননা বাঙালি জাতির আধুনিক চিন্তা ও মনন এর মাধ্যমেই প্রথম প্রকাশ লাভ করে।
- বঙ্গদর্শনের প্রধান লেখক বঙ্কিমচন্দ্র হলেও গঙ্গাচরণ, রামদাস সেন, অক্ষয় সরকার, চন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ পন্ডিতও এতে নিয়মিত লিখতেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম্’ এই পত্রিকায়ই প্রথম মুদ্রিত হয়।
- বঙ্কিমচন্দ্রের পরে তাঁর ভাই সঞ্জীবচন্দ্র ও শ্রীশচন্দ্র স্বল্প সময় বঙ্গদর্শন সম্পাদনা করেন।
- ২০০০ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটিস্থ বঙ্কিমভবন গবেষণাকেন্দ্র কর্তৃক বঙ্গদর্শন নবরূপে ষাণ্মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৬.
"কু যে আচার = কদাচার" এটি কোন সমাস?
  1. কর্মধারয়
  2. বহুব্রীহি
  3. তৎপুরুষ
  4. প্রাদি
ব্যাখ্যা

কর্মধারয় সমাস:
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।

এছাড়াও কর্মধারয় সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয়:
- দুটি বিশেষণ পদে একটি বিশেষ্যকে বোঝালে। যেমন যে চালাক সেই চতুর চালাক-চতুর।
- দুটি বিশেষ্য পদে একই ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝালে। যেমন যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজ সাহেব।
- পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে কর্মধারয় সমাসে সেটি পুরুষ বাচক হয়। যেমন সুন্দরী যে লতা সুন্দরলতা, মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি।
- বিশেষণবাচক মহান বা মহৎ শব্দ পূর্বপদ হলে, 'মহৎ' ও 'মহান' স্থানে 'মহা' হয়। যেমন মহৎ যে জ্ঞান = মহাজ্ঞান, মহান যে নবি = মহানবি।
- পূর্বপদে 'কু' বিশেষণ থাকলে এবং পরপদের প্রথমে স্বরধ্বনি থাকলে 'কু' স্থানে 'কৎ' হয়। যেমন কু যে অর্থ কদর্থ, কু যে আচার = কদাচার

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২৭.
'ত্রিদিব' শব্দের অর্থ কী?
  1. স্বর্গ
  2. স্বর্ণ
  3. স্বামী
  4. সিংহ
ব্যাখ্যা

• 'ত্রিদিব' শব্দের অর্থ - স্বর্গ, অমরাবতী, দেবলোক, আকাশ।

অন্যদিকে,
'স্বর্ণ' শব্দের অর্থ - সোনা, সুবর্ণ, কাঞ্চন, হেম, হির। 
'স্বামী' শব্দের অর্থ - নাথ, কান্ত, দয়িত, পতি। 
'সিংহ' শব্দের অর্থ - কেশরী, মৃগেন্দ্র, মৃগরাজ, মৃগপতি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৮.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. গড্ডলিকা
  2. গড্ডালিকা
  3. গড্ডলীকা
  4. গড্ডালীকা
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - গড্ডলিকা
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- অগ্রবর্তী ভেড়াকে অনুসরণকারী ভেড়ার পাল।

উৎস: বাংলা একডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৯.
"ছাত্ররা বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।" - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারক? 
  1. করণ
  2. অধিকরণ
  3. কর্ম
  4. অপাদান
ব্যাখ্যা

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: আমার ভাত খাওয়া হলো না।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: আমি তাকে চিনি।
ষষ্ঠী বিভক্তি: ছাত্ররা বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।
সপ্তমী বিভক্তি: জিজ্ঞাসিব জনে জনে

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

৩০.
"আশীবিষ" এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. আশীর রূপ বিষ
  2. আশীর বিষ
  3. বিষেতে আশি যার
  4. আশীতে বিষ যার
ব্যাখ্যা

ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য হলে বা কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।

যেমন:
- গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে,
- কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব,
- আশীতে বিষ যার = আশীবিষ,
- বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

৩১.
"পয়স্বী" শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. পস্বিনী
  2. পয়স্বনী
  3. পয়স্বিনি
  4. পয়স্বিনী
ব্যাখ্যা

• পুরুষবাচক শব্দের সঙ্গে 'ইনী' প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীবাচক করা হয়।
 
যেমন:
- তেজস্বী - তেজস্বিনী,
- যশস্বী - যশস্বিনী,
- পয়স্বী - পয়স্বিনী,
- বিজয়ী - বিজয়িনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।

৩২.
'বন্দুক' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. পর্তুগিজ
  2. আরবি
  3. ফরাসি
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা

• 'বন্দুক' 'আরবি' ভাষা থেকে আগত শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
অর্থ:
- যে আগ্নেয়াস্ত্রের সাহায্যে গুলি ছোড়া যায়।

কিছু আরবি শব্দ:
- আদাব,
- খবর,
- খাজনা,
- খালাস,
- জলসা,
- জেলা,
- দালাল।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩৩.
"জোহরা" উপন্যাসের রচয়িতা -
  1. নজিবুর রহমান
  2. সরদার জয়েনউদ্দীন
  3. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  4. আবুল হোসেন
ব্যাখ্যা

'জোহরা' উপন্যাস:
- জোহরা উপন্যাসের রচয়িতা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
- তিনি তাঁর জোহরা উপন্যাসের মধ্য দিয়ে মুসলমান সমাজের বেদনাঘন চিত্র অঙ্কন করেছেন।
- জোহরা উপন্যাসে সে আমলের মুসলমান সমাজের অন্যায় অনাচার রূপ দিয়েছেন।
-কন্যার মতামত অগ্রাহ্য করে আত্মীয় স্বজনেরা বিয়ে দিতে গিয়ে মেয়েদের জীবনে যে দুর্ভোগের সৃষ্টি করে তা-ই এ উপন্যাসের উপজীব্য।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মুসলিম সমাজের কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস, গোঁড়ামি, পশ্চাৎপদতা ও আত্মবিস্মৃতির বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ ও সংগঠনের মাধ্যমে বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জোহরা,
- দরাফ খান গাজী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৪.
'যার দুবার জন্ম হয়' এর এক কথায় প্রকাশ -
  1. দ্বিরদ
  2. দ্বিজ
  3. ক্ষণজন্মা
  4. জাতিস্মর
ব্যাখ্যা

• 'যার দুবার জন্ম হয়' এর এক কথায় প্রকাশ - দ্বিজ

অন্যদিকে:
যার দুটি মাত্র দাঁত - দ্বিরদ।
শুভক্ষণে জন্ম যার - ক্ষণজন্মা।
যার পূর্বজন্মের কথা স্মরণ আছে - জাতিস্মর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৫.
'বন্ধুর' এর বিপরীতার্থক শব্দ -
  1. পূরণ
  2. বর্জন
  3. মসৃণ
  4. গ্রহণ
ব্যাখ্যা

• 'বন্ধুর' এর বিপরীতার্থক শব্দ - মসৃণ

অন্যদিকে,
হরণ - পূরণ।
গ্রহণ - বর্জন।
অর্পণ - গ্রহণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৬.
সাধারণ নারীবাচক শব্দ কয় ধরনের?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা

সাধারণ নারীবাচক শব্দ দুই ধরনের: 
- পত্নীবাচক,
- অপত্নীবাচক। 

পত্নীবাচক:
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়। 
যেমন:
- পিতা-মাতা, চাচা- চাচি, দাদা- দাদি, জেলে- জেলেনি, গুরু- গুরুপত্নী, নন্দাই - ননদ ইত্যাদি। 

অপত্নীবাচক: 
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়। 
যেমন:
- খোকা- খুকি, ছাত্র- ছাত্রী, শিক্ষক- শিক্ষিকা, নেতা- নেত্রী, পাগল- পাগলি, তেজস্ব- তেজস্বিনী, বালক- বালিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৩৭.
"ফোঁড়াটা টন টন করছে।" এখানে 'টন টন' কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. পৌনঃপুনিকতা
  2. অনুভূতি
  3. ভাবের গভীরতা 
  4. ধ্বনিব্যঞ্জনা
ব্যাখ্যা

অব্যয় পদের কয়েকটি দ্বিরুক্তির উদাহরণ:

যেমন:
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি এত খারাপ!
- পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
- অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।
- বিশেষণ বোঝাতে: পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির
- ধ্বনিব্যঞ্জনা: ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৮.
কোনটি জাতি-বিশেষ্য?
  1. বাংলাদেশ
  2. ফল
  3. হাবিব
  4. সরলতা
ব্যাখ্যা

জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।

যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নাম-বিশেষ্য: - বাংলাদেশ, হাবিব।
গুণ-বিশেষ্য: - সরলতা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৩৯.
'চশমখোর' বাগ্‌ধারার অর্থ -
  1. লজ্জা
  2. অতি মূর্খ
  3. নির্লজ্জ
  4. অযাচিত
ব্যাখ্যা

• 'চশমখোর' বাগ্‌ধারার অর্থ - নির্লজ্জ

অন্যদিকে,
চোখের পর্দা - লজ্জা। 
গোমূর্খ - অতি মূর্খ। 
গায়ে পড়া - অযাচিত।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।