পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২৫
সিলেবাস
বিষয় - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি অধ্যায়: আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও আন্তরাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সম্পর্ক টপিকসমূহ: i) ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ-বিপ্লব, অপারেশন, সামরিক বিষয়াবলি। ii) সামরিক জোট ও সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা, সীমান্তরক্ষী বাহিনী, গেরিলা সংগঠন, ইত্যাদি। উৎস: বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], ব্রিটানিকা, ওয়ার্ল্ড এটলাস ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট এবং যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] ------------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ২৫ প্রশ্ন

.
কোন চুক্তির মাধ্যমে রাশিয়া প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে সরে আসে?
  1. ভার্সাই চুক্তি
  2. ব্রেস্ট-লিটোভস্ক চুক্তি
  3. টিলসিট চুক্তি
  4. সেভার্স চুক্তি
ব্যাখ্যা

• রাশিয়া ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধ: 
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে রাশিয়া মিত্রশক্তির পক্ষে যুদ্ধ করছিল, কিন্তু ১৯১৭ সালের রাশিয়ান বিপ্লবের পর বলশেভিক সরকার (ভ্লাদিমির লেনিনের নেতৃত্বে) ক্ষমতায় আসে।
- তারা যুদ্ধ থেকে সরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কারণ যুদ্ধ রাশিয়ার অর্থনীতি এবং সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করে দিয়েছিল।
- ১৯১৭ সালের নভেম্বরে সোভিয়েত সরকার শান্তি আলোচনার অনুরোধ করে।

- আলোচনা ১৯১৭ সালের ২২ ডিসেম্বর শুরু হয়।
- সোভিয়েত প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন লিওন ট্রটস্কি (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) ও জার্মান প্রতিনিধি দলে ছিলেন রিচার্ড ভন কুলম্যান (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) এবং জেনারেল ম্যাক্স হফম্যান।
- ট্রটস্কি "নো ওয়ার, নো পিস" নীতি ঘোষণা করেন, অর্থাৎ যুদ্ধ চালিয়ে না যাওয়া কিন্তু চুক্তিও না স্বাক্ষর করা।
- কিন্তু জার্মানরা ১৮ ফেব্রুয়ারি আক্রমণ শুরু করলে রাশিয়া আলোচনা পুনরায় শুরু করে।
- লেনিনের চাপে ট্রটস্কি প্রত্যাহার হয়ে যান এবং গ্রিগরি সোকোলনিকভ নতুন নেতৃত্ব দেন। 

- দীর্ঘ আলোচনার ফলে, রাশিয়া প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে ব্রেস্ট-লিটোভস্ক চুক্তি (Treaty of Brest-Litovsk) এর মাধ্যমে সরে আসে। 
- এটি একটি পৃথক শান্তি চুক্তি যা ১৯১৮ সালের ৩ মার্চ সোভিয়েত রাশিয়া এবং কেন্দ্রীয় শক্তি (জার্মানি, অস্ট্রো-হাঙ্গেরি, অটোম্যান এম্পায়ার এবং বুলগারিয়া) এর মধ্যে বর্তমান বেলারুশে পোল্যান্ড সীমান্তের নিকটবর্তী ব্রেস্ট-লিটভস্ক শহরে স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তিটি রাশিয়ার জন্য অত্যন্ত কঠোর ছিল। রাশিয়া কেন্দ্রীয় শক্তির কাছে অনেক এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়। 
- ১৯১৮ সালের নভেম্বরে জার্মানির পরাজয়ের পর চুক্তি বাতিল হয়। 

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা, হিস্ট্রি ডট কম ও ইন্টারন্যাশনাল এনসাইক্লোপিডিয়া। (Link)

.
হুতিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত মার্কিন সামরিক অভিযানের নাম কী?
  1. অপারেশন রিস্টোর হোপ
  2. অপারেশন থান্ডারবোল্ট
  3. অপারেশন রাফ রাইডার
  4. অপারেশন এন্ডিউরিং ফ্রিডম
ব্যাখ্যা

• ‘অপারেশন রাফ রাইডার’/ Operation Rough Ride: 
- ২০২৫ সালের মার্চ মাসে লোহিত সাগর যুক্তরাষ্ট্র ও ইয়েমেনের হুতিদের মধ্যে একটা উত্তেজনাকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। 
- তথাকথিত প্রতিরোধের অক্ষশক্তির অংশ হিসেবে হুতিরা আন্তর্জাতিক জাহাজে তাদের হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছিল।

- পরিস্থিতি মোকবিলায় হুতিদের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘অপারেশন রাফ রাইডার’ নামে বড় সামরিক অভিযান শুরু করেন।
- এর খরচ হয় এক বিলিয়ন ডলার।
- এই মার্কিন সামরিক অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত, ড্রোন ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া।  
- ফলে হুথিদের আক্রমণ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
- ৬ মে ২০২৫-এ ওমান-মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-হুথি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো ও রয়টার্স। (Link) (Link2)

.
কোন সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ‘Uniting for Peace Resolution’ গৃহীত হয়েছিল?
  1. ভিয়েতনাম যুদ্ধ
  2. কোরীয় যুদ্ধ
  3. পাক-ভারত যুদ্ধ
  4. ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ 
ব্যাখ্যা

• কোরিয়া উপদ্বীপ:
- ১৯৪৫ সালে উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া বিভক্ত হয়।
- ১৯৪৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে দক্সিণ কোরিয়া স্বাধীনতা লাভ করে।
-১৯৪৮ রাশিয়ার কাছ থেকে উত্তর কোরিয়া স্বাধীনতা লাভ করে।
- ৩৮ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখা দুই কোরিয়ার বিভক্তকারী রেখা।
- দুই কোরিয়া ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ পর্যন্ত যুদ্ধ করে।
- বিবাদমান পক্ষসমূহ: সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীনের সমর্থিত - উত্তর কোরিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের সমর্থিত - দক্ষিণ কোরিয়া।

• কোরীয় যুদ্ধের ফলাফল: 
- কোরিয়া সংকটকালীন সময়ে ১৯৫০ সালের ৩ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ শান্তির জন্য ঐক্য” (Uniting for Peace) প্রস্তাব পাশ করে এবং উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চালায়।
- এ যুদ্ধের প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ ৩ নভেম্বর, ১৯৫০ সালে 'Uniting for peace resolution' পাশ করে।
- অবশেষে ২৭ জুলাই, ১৯৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।

তথ্যসূত্র: UN ওয়েবসাইট।

.
‘MI6’ বলতে কোন গোয়েন্দা সংস্থাকে বোঝায়?  
  1. Federal Bureau of Investigation
  2. Secret Intelligence Service
  3. Central Intelligence Agency
  4. National Security Bureau
ব্যাখ্যা

• MI6:
- MI6 'Secret Intelligence Service' নামে পরিচিত।
- এটি যুক্তরাজ্যের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা।
- এটি বিদেশী গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং ব্রিটিশ সরকারের কাছে প্রচারের জন্য দায়িত্বশীল।
- এটি ১৯০৯ সালে সিক্রেট সার্ভিস ব্যুরোর অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সদর দপ্তর: লন্ডন, যুক্তরাজ্য।
- সামরিক গোয়েন্দা (Military Intelligence) বিভাগের ছয় নম্বর সেকশন হিসেবে MI6 নামে পরিচিত।
- জার্মানিতে অ্যাডলফ হিটলারের ক্ষমতায় উত্থানের পর, MI6 ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা এবং এশিয়ার বেশিরভাগ অংশে গুপ্তচরবৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে।

উল্লেখ্য,
- এটি অ্যাডলফ হিটলারের ক্ষমতায় উত্থানের সময় ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ায় গুপ্তচরবৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে ভূমিকা, শীতল যুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা কার্যক্রমের জন্য বিখ্যাত।

তথ্যসূত্র: SIS (Secret Intelligence Service) ওয়েবসাইট।

.
জেসমিন বিপ্লবের সূচনা কোথায় ঘটে? 
  1. মিশর 
  2. লিবিয়া
  3. তিউনিসিয়া
  4. ফ্রান্স
ব্যাখ্যা

• আরব বসন্ত (Arab Spring):
- মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার কয়েকটি দেশে রাজতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্র উচ্ছেদ করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে আন্দোলন ২০১০ সালে শুরু হয়, সেগুলোকে একত্রে আরব বসন্ত বলে ।
- আরব বসন্তের শুরু হয়েছিল আফ্রিকার দেশ তিউনিশিয়ায়। এই কারনে তিউনিশিয়াকে আরব বসন্তের সূতিকাগার বলা হয়।
- মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার কয়েকটি দেশে রাজতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্র উচ্ছেদ করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে আন্দোলন ২০১০ সালে শুরু হয়, সেগুলোকে একত্রে আরব বসন্ত বলে ।
- আরব বসন্তের শুরু হয়েছিল আফ্রিকার দেশ তিউনিশিয়ায়।
- এই কারনে তিউনিশিয়াকে আরব বসন্তের সূতিকাগার বলা হয়।

উল্লেখ্য, 
- তিউনিসিয়ায় জেসমিন বিপ্লব সংগঠিত হয় ২০১১ সালে।
- আরব বসন্ত শুরুর পর এই বিপ্লব হয়।
- তিউনেশিয়ার জাতীয় ফুল হচ্ছে জেসমিন ফুল।
- এ কারণেই এই বিপ্লব জেসমিন বিপ্লব হিসেবে পরিচিতি পায়।

অন্যদিকে -
- অরেঞ্জ বিপ্লব সংঘটিত হয় ইউক্রেনে।
- রুশ বিপ্লব সংঘটিত হয় রাশিয়ায়।
- ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয় ফ্রান্সে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 

.
‘নুরেমবার্গ ট্রায়াল’ কোন ঘটনার সাথে সম্পর্কিত?
  1. ১ম বিশ্বযুদ্ধ 
  2. ২য় বিশ্বযুদ্ধ 
  3. ভিয়েতনাম যুদ্ধ
  4. উপসাগরীয় যুদ্ধ 
ব্যাখ্যা

• নুরেমবার্গ ট্রায়াল:
- 'নুরেমবার্গ ট্রায়াল' যুদ্ধাপরাধ-এর সাথে সংশ্লিষ্ট।
- নুরেমবার্গ ট্রায়াল হচ্ছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৫-৪৬ সালে জার্মানির বাভারিয়া রাজ্যের নুরেমবার্গ শহরে অনুষ্ঠিত বিচার প্রক্রিয়ার নাম।

 ইন্টারন্যাশনাল মিলিটারি ট্রাইব্যুনাল হিটলারের নাৎসি বাহিনীর নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ গঠন করে এবং তাদের বিচার করে।
- তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো ছিল মূলত চার ধরনের যথা:
১. শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ। যেমন: আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘন করে ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের পরিকল্পনা, যুদ্ধের জোগাড় এবং যুদ্ধ শুরু করা।
২. মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। যেমন: মানুষকে সমূলে বিনাশ করা, বাসস্থান থেকে বিতাড়ন করা এবং গণহত্যা।
৩. যুদ্ধাপরাধ তথা যুদ্ধের আইনসমূহ লঙ্ঘন।
৪. উপরিউক্ত তিনটি অপরাধ করার সাধারণ পরিকল্পনা বা ষড়যন্ত্র করা।

⇒ আন্তর্জাতিক এই সামরিক ট্রাইবুনালে বিশিষ্ট ২২ জন নাৎসি কর্মকর্তার বিচার শুরু হয়েছিল।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই নুরেমবার্গের আদালতে শীর্ষ নাৎসি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
- যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের কারণে বিচার হয় তাদের।
- বিচারাধীনদের মধ্যে ছিল সামরিক কর্মকর্তা, রাজনীতিক, অর্থনৈতিক উপদেষ্টা।
- ১৯৪৫ সালের ২০ নভেম্বর শুরু হয় এই বিচার।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 

.
FSB-এর প্রতিষ্ঠাকালীন নাম কী ছিল? 
  1. KGB
  2. CIA
  3. SIS
  4. MSS
ব্যাখ্যা

• FSB (Federal Security Service):
- রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (FSB)।
- FSB এর পূর্ণরুপ: Federal Security Service.
- এর প্রতিষ্ঠাকালীন নাম ছিল KGB.
- রাশিয়ান রাষ্ট্রপতি বরিস ইয়েলৎসিন এই পরিষেবাটির নাম পরিবর্তন করে FSB রাখেন।
- প্রতিষ্ঠা লাভ করে: ১৯৯৪ সালে।
- সদর দপ্তর: মস্কো, রাশিয়া।

অন্যদিকে, 
- CIA হলো Central Intelligence Agency (CIA)। এটি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের আওতাধীন একটি বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা।
- SIS হলো Secret Intelligence Service (SIS)। এটি ব্রিটেনের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা।
- MSS হলো Ministry of State Security। এটি চীনের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 

.
'অপারেশন বারবারোসা'র নেতৃত্বে দেন কে? 
  1. হিটলার 
  2. আইজেনহাওয়ার
  3. স্টালিন 
  4. মুসোলিনি 
ব্যাখ্যা

• অপারেশন বারবারোসার নেতৃত্ব দেন-  হিটলার। 

• অপারেশন বারবারোসা:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় পূর্ব ফ্রন্টের যুদ্ধ বা জার্মানীর রাশিয়া আক্রমণ।
-দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ১৯৪১ সালে ২২ জুন জার্মানীর হিটলার 'অপারেশন বারবারোসা' নামে পরিচিত সোভিয়েত ইউনিয়ন অভিযান শুরু করেছিলেন।
- এই অভিযানে ১৯টি প্যানযার ডিভিশন, ৩ হাজার ট্যাংক, ২৫০০ বিমান এবং ৭০০০ কামান অংশ গ্রহণ করে।
- সর্বমোট ত্রিশ লক্ষ সৈনিক সাথে ৬ লক্ষ মোটরযান এবং ৬-৭ লক্ষ ঘোড়া ব্যবহার হয়েছিল এই অভিযানে।
- সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতা জোসেফ স্ট্যালিনের ইস্পাত-কঠিন নেতৃত্ব নাৎসিদের জয়রথ থামিয়ে অপারেশন বারবারোসাকে ব্যর্থ করে দেয়।
- স্ট্যালিনের নেতৃত্বে মাতৃভূমি রক্ষায় সোভিয়েত জনগণ জার্মানির বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
- জার্মানরা যেসব সোভিয়েত ভূখন্ড দখল করে, সেখানেও সোভিয়েত জনগণ গেরিলা যুদ্ধ চালিয়ে যায়।
- স্ট্যালিন সোভিয়েত জনগণ ও সৈন্যদের দেশরক্ষায় ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করেন।
- মূলত সোভিয়েতদের প্রবল প্রতিরোধের ফলেই অপারেশন বারবারোসা ব্যর্থ হয়। 

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।

.
ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে কোন শাসকের পতন ঘটে?  
  1. আয়াতুল্লাহ খোমেনি  
  2. মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভী
  3. সাদ্দাম হোসেন
  4. মোহাম্মদ মোসাদ্দেক 
ব্যাখ্যা

• ইরানের ইসলামিক বিপ্লব:
- এই বিপ্লবের সূত্রপাত ঘটে ১৯৭৮ সালের জানুয়ারিতে।
- এই বিপ্লব সংঘটিত হয় ১৯৭৯ সালে।
- এই বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানের শাহ রাজতন্ত্রের পতন ঘটে।
- বিপ্লবের মাধ্যমে পাশ্চাত্যের প্রভাবমুক্ত হয়ে একটি ইসলামি প্রজাতন্ত্রে আবির্ভূত হয় ইরান।
- এই বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানের তৎকালীন শাসক মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভীর পতন ঘটে।
- ইরানের বিপ্লবের নায়ক ছিলেন আয়াতোল্লাহ রুহুলুল্লাহ খোমেনি।
- ১ এপ্রিল ১৯৭৯ খোমেনী ইরানকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করেন।
- তিনি দীর্ঘদিন ফ্রান্সে নির্বাসিত ছিলেন।  

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।

১০.
‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স’ কোন দেশের সশস্ত্র গোষ্ঠী?
  1. থাইল্যান্ড
  2. মিয়ানমার
  3. কম্বোডিয়া
  4. মিশর 
ব্যাখ্যা

• থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স:
- ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স’ মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী।
- তিনটি বৃহত্তর বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স’ নামে নতুন একটি জোট গড়ে তুলেছে।
- জোটে রয়েছে মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক আর্মি (এমএনডিএ), তায়াং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) এবং আরাকান আর্মি (এএ)।

অন্যদিকে -
- জাপানের কমিউনিস্ট উগ্রপন্থী সংগঠন হলো রেড আর্মি। 
- ফার্ক (FARC): এটি ল্যাটিন আমেরিকার একটি পুরনো গেরিলা সংগঠন।
- শাইনিং পাথ পেরুর অপর একটি কমিউনিস্ট গেরিলা সংগঠন।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স। 

১১.
'নানকিং চুক্তি' কোন যুদ্ধের সাথে জড়িত?
  1. আফিম যুদ্ধ
  2. কোরীয় যুদ্ধ
  3. ভিয়েতনাম যুদ্ধ
  4. ইন্দো-চীন যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

• আফিম যুদ্ধ:
- আফিমের চোরাচালানকে কেন্দ্র করে চীন ও ব্রিটেনের মধ্যে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, তাই আফিম যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি উনিশ শতকের গোড়া থেকে চীনের সঙ্গে ব্যবসায়ে ঘাটতি মেটাতে বঙ্গদেশ থেকে চীনে আফিম রপ্তানি শুরু করে।
- চীনা শাসকরা ১৮৩৯ সালে আফিম আমদানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
- কিন্তু ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অবৈধ উপায়ে এ ব্যবসা অব্যাহত রাখে।
- কোম্পানির অবৈধ আফিম ব্যবসার কারণে চীন ও ব্রিটেনের মধ্যে যুদ্ধ বাধে। 
- ১ম যুদ্ধে চীনারা পরাজিত হয় এবং চীন ১৮৪২ সালে নানকিং চুক্তি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়।

• নানকিং চুক্তি:
- ব্রিটিশদের হাতে চীনের প্রথম আফিম যুদ্ধের পরাজয়ের পর, দেশটির শাসকগোষ্ঠী ব্রিটিশদের সাথে একটি অপমানজনক 'অসম চুক্তি' স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়।
- এই চুক্তির নাম নানকিং চুক্তি।
- নানকিং চুক্তি প্রথম আফিম যুদ্ধের অবসান ঘটায়।
- এই চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটিশদের হংকংয়ের নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হয়েছিল।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 

১২.
'শাইনিং পাথ’ গেরিলা সংগঠনটি কোন দেশের? 
  1. কলম্বিয়া 
  2. পেরু
  3. ফিলিপাইন
  4. জাপান 
ব্যাখ্যা

• শাইনিং পাথ:
- পেরুর The Communist party of Peru শাইনিং পাথ নামে পরিচিত।
- এটি হচ্ছে পেরুর একটি গেরিলা গোষ্ঠী।
- ১৯৬০-এর দশকে শাইনিং পাথ গেরিলা গোষ্ঠী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- শাইনিং পাথ ল্যাটিন আমেরিকার দেশ পেরুর একটি মার্কসবাদী ও লেনিনবাদী গেরিলা গোষ্ঠী।
- এই গেরিলা গোষ্ঠীটির মূল আদর্শ হচ্ছে কমিউনিজম প্রতিষ্ঠা করা।
- মার্কসবাদ ও লেনিনবাদ তাদের আদর্শ।
- এই গেরিলা গোষ্ঠীটি একটি লক্ষ্যকে সামনে রেখে এদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। তা হল প্রলেতারিয়েতদের একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাদের ভাষায় 'নতুন গণতন্ত্র' প্রতিষ্ঠা করা।
- পেরুতে এ মার্কসবাদী আন্দোলন শুরু হয় ষাট-এর দশকে।
- শাইনিং পাথ গেরিলা গোষ্ঠীর প্রতীক হচ্ছে লাল।
- এই গেরিলা গোষ্ঠীর সাথে নেপালের Communist Party of Nepal (Maoist) আদর্শগত মিল রয়েছে।

তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক রাজনীতিকোষ - তারেক শামসুর রেহমান। 

১৩.
কোন যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ‘ডমিনো তত্ত্ব’ অনুসরণ করেছিল?
  1. উপসাগরীয় যুদ্ধ
  2. কোরীয় যুদ্ধ
  3. ভিয়েতনাম যুদ্ধ
  4. ইরাক যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

• ডমিনো তত্ত্ব:
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার ১৯৫৪ সালের ৭ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে ইন্দোচিনে কমিউনিজমের কথা উল্লেখ করার সময় তত্ত্বটি বর্ণনা করেছিলেন।
- ডমিনো তত্ত্বে বলা হয়েছে, কোনো একটি রাষ্ট্রে যদি সমাজতন্ত্রীরা ক্ষমতাসীন হয়, তাহলে পাশের রাষ্ট্রটিও সমাজতন্ত্রীদের দখলে চলে যাবে।
- ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং স্নায়ুযুদ্ধের সময়ও যুক্তরাষ্ট্র এই ডমিনো তত্ত্ব প্রয়োগ করেছিল।
- তিনি এন্টি-কমিউনিস্ট দক্ষিণ ভিয়েতনাম সরকারকে সহায়তা করেন।
- ডমিনো তত্ত্বটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য প্রযোজ্য ছিল।
- ১৯৫০ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তত্ত্বটি প্রচার করেছিল।


তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক রাজনীতিকোষ, তারেক শামসুর রেহমান।

১৪.
ফকল্যান্ড যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়? 
  1. ১৯৮০ সালে
  2. ১৯৮১ সালে
  3. ১৯৮২ সালে
  4. ১৯৮৫ সালে
ব্যাখ্যা

• ফকল্যান্ড যুদ্ধ:
- ফকল্যান্ড দ্বীপ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও ব্রিটেনের মধ্যে যুদ্ধ হয়।
- যুদ্ধ সংঘটিত হয়- ১৯৮২ সালে।
- পক্ষসমুহ: যুক্তরাজ্য ও আজের্ন্টিনা।
- যুদ্ধ সংঘটরেন স্থান- ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ জর্জিয়া দ্বীপ ও দক্ষিণ স্যান্ডইচ দ্বীপ।
- যুদ্ধের ফলাফল- যুক্তরাজ্য বিজয়ী ও ফকল্যান্ড সহ কয়েকটি দ্বীপাঞ্চলে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও হিস্ট্রি ডট কম। 

১৫.
বোকো হারাম কোন দেশের উগ্রপন্থী সংগঠন? 
  1. ইয়েমেন 
  2. নাইজেরিয়া
  3. সুদান
  4. সোমালিয়া
ব্যাখ্যা

• বোকো হারাম:
- বোকো হারাম নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন।
- বোকো হারাম অর্থ- পশ্চিমা শিক্ষা পাপ। 
- তারা আল-কায়েদার মতোই পশ্চিমা শিক্ষা-সংস্কৃতির বিরুদ্ধে 'জিহাদ' ঘোষণা করেছে সশস্ত্র আক্রমণের মধ্য দিয়ে।
- সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যের কিছু গোষ্ঠী বোকো হারামের তহবিল সংগ্রহ করে থাকে।
- কানাম্মায় দলটির প্রধান কার্যালয় অবস্থিত।
- প্রদেশের রাজধানী মাইদুগুরির নিকটবর্তী শহর দাম্বোয়ায় বোকো হারাম প্রতিষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- বোকো হারামের নামের অর্থ পশ্চিমা শিক্ষা নিষিদ্ধ। 
- পশ্চিমা শিক্ষা-দীক্ষার বিরুদ্ধে তারা বরাবরই আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলে।
- মানুষের তৈরি আইন ও আধুনিক বিজ্ঞানকে সংগঠনটি অস্বীকার করে।
- তাদের ভাষায়, পশ্চিমা শিক্ষা মুসলমানদের দুর্নীতিগ্রস্ত করে তোলে।
- বোকো হারামের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো-শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠিত করা।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও কালের কন্ঠ।

১৬.
চীনে ‘সাংস্কৃতিক বিপ্লব’-এর সমাপ্তি ঘটে কত সালে?
  1. ১৯৭১ সালে
  2. ১৯৭৬ সালে
  3. ১৯৭৮ সালে
  4. ১৯৮০ সালে
ব্যাখ্যা

• চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব:
- কমিউনিস্ট নেতা মাও সেতুং- এর আহ্বানে চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরু হয়।
- বিপ্লব শুরু হয়: ১৯৬৬ সালে
- বিপ্লব সমাপ্ত হয়: ১৯৭৬ সালে।
- স্থায়িত্বকাল: ১০ বছর।
- সমগ্র চীনকে কমিউনিস্ট শাসনের আওতায় আনা, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার ও কমিউনিস্ট বিরোধী ভাবধারা প্রতিহত করার জন্য এই
বিপ্লব শুরু হয়।
- চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ফলে সমগ্র চীন ঐক্যবদ্ধ হয় এবং কমিউনিস্ট পার্টির অবস্থান দৃঢ় হয়।
- ১৯৪৯ সালে মাও সেতুং এর নেতৃত্বে চীনে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং গণপ্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৪৯ সালের ১লা অক্টোবর, এক রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের মাধ্যমে গণচীন প্রতিষ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 

১৭.
Federal Bureau of Investigation (FBI) এর প্রতিষ্ঠাতা  কে?
  1. জোসেফ বোনাপার্ট
  2. জে. এডগার হুভার
  3. রবার্ট মুলার
  4. উইলিয়াম ওয়েবস্টার
ব্যাখ্যা

• FBI:
- FBI এর পুরো নাম - Federal Bureau of Investigation
- এফবিআই প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০৮ সালে। 
- ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।
- এটি মার্কিন আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়।
- সদর দপ্তর- ওয়াশিংটন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
- প্রতিষ্ঠাতা: চার্লস জোসেফ বোনাপার্ট।
- মূল সংস্থা: United States Department of Justice.
- এফবিআই মূলত ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস-এর একটি অংশ হিসেবে কাজ করে এবং আইন ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে।

তথ্যসূত্র: FBI ওয়েবসাইট। 

১৮.
ইউরোপে D-Day কোন তারিখে উদযাপিত হয়? 
  1. ১ জুন
  2. ৪ জুন
  3. ৬ জুন
  4. ৮ জুন
ব্যাখ্যা

• D-Day:
- D-Day দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সাথে সম্পর্কিত।

⇒ নাৎসী বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিতে ১৯৪৪ সালের ৬ জুন প্রায় ১ লক্ষ ৫৬ হাজার যৌথ বাহিনীর সদস্য ফ্রান্সে অবতরণ করেন।
- ফ্রান্স উদ্ধারের জন্য মিত্রবাহিনী স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বয়ে যে অপারেশন পরিচালনা করে তার কোডনাম ছিলো Operation Overlord।
- দিনশেষে প্রায় সাড়ে চার হাজার সৈন্য মারা যান, যা বিশ্বের সেনা ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান।
- ফ্রান্সের নরম্যান্ডির উপকূলে ডি-ডে নামে খ্যাত ওই অভিযানের মধ্যে দিয়ে নাৎসী জার্মানির বিরুদ্ধে মিত্রবাহিনীর বিজয়ের সূচনা হয়।
- ৬ জুন দিনটিকে ডি ডে (D-Day) হিসাবে পালন করা হয়।
- এই লড়াইয়ের এক বছর পর পরাজয় স্বীকার করে জার্মানি।

উল্লেখ্য,
- ডি দিবস (D Day) বা অবতরণ দিবসের দিন ধার্য হয় ১৯৯৪ সালের ১ জুন।
- কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য পিছিয়ে ৬ জুন করা হয়।
- এই সুবিশাল সামরিক অভিযানের নেতা ছিরেন আমেরিকান সেনাপতি আইজেনহাওয়ার।

তথ্যসূত্র: History.com

১৯.
কিউবান বিপ্লবের মাধ্যমে কোন শাসক ক্ষমতাচ্যুত হন?
  1. ফুলগেনসিও বাতিস্তা
  2. অগাস্তো পিনোশে
  3. ফিদেল কাস্ত্রো
  4. রাফায়েল ত্রুহিয়ো
ব্যাখ্যা

• কিউবা বিপ্লব:
- কিউবার বিপ্লবী মহানায়ক ফিদেল কাস্ত্রো।
- কিউবার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বাতিস্তা ও কিউবার ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে বিপ্লবের ময়দানে সক্রিয় হন কাস্ত্রো।
- তার প্রথম পদক্ষেপ ছিল মেক্সিকো থেকে কিউবায় আক্রমণ চালানো।
- ১৯৫৬ সালের ২৫ নভেম্বর তিনি ও তার বিপ্লবী সহযোগীরা কিউবার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন।
- পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই বাতিস্তার সেনাবাহিনীর আক্রমণে নাস্তানাবুদ হন।
- শুরুর দিকেই তাকে কারাবন্দী করে বাতিস্তা সরকার। কিউবার মানুষের মুক্তির জন্য গেরিলা যুদ্ধে নামেন কাস্ত্রো।
- এরই মধ্যে চে গুয়েভারার সঙ্গে ফিদেল কাস্ত্রোর গেরিলা যুদ্ধে পরিকল্পনা আরও বিস্তৃতি পায়।
- ফিদেল কাস্ত্রো তাকে গ্রেনেড তৈরির কারখানা, রুটি বানানোর জন্য চুল্লি প্রস্তুত এবং নিরক্ষর সঙ্গীদের লেখাপড়ার জন্য স্কুল তৈরির দায়িত্ব দেন। আচমকা হামলায় বাতিস্তা সরকার পর্যুদস্ত হয়ে পড়ে।
- সিয়েরা পর্বতমালা, শহর পেরিয়ে তারা হাভানায় ঢুকে পড়লে বাতিস্তা সরকার পালিয়ে যায়।
- বিপ্লবের ধাক্কায় ১৯৫৯ সালে পতন ঘটে কিউবার যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত একনায়ক ফ্লুজেনসিও বাতিস্তার, ১ জানুয়ারি বাতিস্তা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।
- জয়ী হন কাস্ত্রো, জয় হয় বিপ্লবের।
- বিপ্লবের নেতা, ফিদেল কাস্ত্রো, ১৯৫৯ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত কিউবা শাসন করেছিলেন।

উল্লেখ্য,
- কিউবা উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যস্থলে অবস্থিত। কিউবা ৪০০ বছর ধরে স্পেনের একটি উপনিবেশ ছিল।
- কিউবা আশপাশের অনেকগুলো ছোট দ্বীপের সঙ্গে মিলে কিউবা প্রজাতন্ত্র গঠন করেছে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 

২০.
‘Institute for Intelligence and Special Operations’ গোয়েন্দা সংস্থাটি কোন রাষ্ট্রের?
  1. ইসরায়েল
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. যুক্তরাজ্য
  4. ফ্রান্স
ব্যাখ্যা

• মোসাদ:
- মোসাদ ইসরায়েলের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা।
- এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৩ ডিসেম্বর, ১৯৪৯ সালে।
- প্রতিষ্ঠাতা: ডেভিড বেনগুরিয়ন।
- সদরদপ্তর: তেলআবিব, ইসরায়েল।
- হিব্রু ভাষায় ‘মোসাদ’ শব্দের অর্থ ‘ইনস্টিটিউট’ বা প্রতিষ্ঠান।
- আনুষ্ঠানিকভাবে এই বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার নাম ‘দ্য ইনস্টিটিউট ফর ইনটেলিজেন্স অ্যান্ড স্পেশাল অপারেশন্স’ (Institute for Intelligence and Special Operations)। 
- ১৯৪৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর Central Institute of Co-ordination নামে মোসাদের কার্যক্রম শুরু হয়।
- মোসাদ কাজ করে তথ্য সংগ্রহ, গোপন অভিযান ও সন্ত্রাসবাদ দমন নিয়ে।
- এর পরিচালক সরাসরি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কাছে জবাবদিহি করেন।
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম গুপ্তচর সংস্থাগুলোর একটি।
- মোসাদের কার্যক্রম এবং বাজেট কোনো আইন দ্বারা সংজ্ঞায়িত নয়।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা, মোসাদের ওয়েবসাইড ও বাংলাদশ প্রতিদিন।

২১.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত ‘Bay of Pigs Invasion’ অভিযানের লক্ষ্য ছিল কোন শাসককে উৎখাত করা? 
  1. সাদ্দাম হোসেন
  2. হুগো চাভেজ
  3. ফিদেল কাস্ত্রো
  4. হোসনি মোবারক
ব্যাখ্যা

• Bay of Pigs Invasion: 
- Bay of Pigs Invasion হলো ১৯৬১ সালের ১৭-১৯ এপ্রিল কিউবার দক্ষিণ উপকূলে (Bay of Pigs-এ) ঘটে যাওয়া একটি ব্যর্থ সামরিক অভিযান।
- এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের CIA-নেতৃত্বাধীন এবং প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির অনুমোদিত অপারেশন ছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল ফিদেল কাস্ত্রোর কমিউনিস্ট সরকারকে উচ্ছেদ করা।
- ১৯৫৯ সালে ফিদেল কাস্ত্রো ক্ষমতায় আসার পর কিউবা মার্কিন-বিরোধী হয়ে ওঠে।
- কাস্ত্রো মার্কিন কোম্পানির সম্পত্তি জাতীয়করণ করে এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে ঘনিষ্ঠ হয়।
- প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ারের সময় ১৯৬০ সালে CIA অ্যান্টি-কাস্ত্রো অপারেশন শুরু করে।
- কেনেডি ক্ষমতায় আসার পর এটি অনুমোদন করেন। 
- আক্রমণকারী বাহিনী ছিল প্রায় ১,৪০০ জন নির্বাসিত কিউবান নাগরিক, যাদের CIA গুয়াতেমালায় প্রশিক্ষণ দিয়েছিল। 
- তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা প্রশিক্ষিত এবং মার্কিন সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত ছিল।
- আক্রমণকারী বাহিনী কাস্ত্রোর সেনাদের দ্বারা পরাজিত হয়।
- এই ঘটনা অক্টোবর ১৯৬২-এর কিউবা সংকটের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 

২২.
‘ভেলভেট ডিভোর্স’ এর মাধ্যমে কোন দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়?
  1. পোল্যান্ড ও হাঙ্গেরি
  2. চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়া
  3. সার্বিয়া ও ক্রোয়েশিয়া
  4. রোমানিয়া ও বুলগেরিয়া
ব্যাখ্যা

• ভেলভেট ডিভোর্স:
- ভেলভেট ডিভোর্স-এর ফলে চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়ার জন্ম হয়।

• 'ভেলভেট ডিভোর্স' বলতে ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি তৎকালীন চেকোস্লোভাকিয়ার শান্তিপূর্ণ বিভক্তিকে বোঝায়।
- ১৯৯২ সালের নভেম্বরে ফেডারেল আইনসভা চেকোস্লোভাকিয়াকে বিভক্ত করার পক্ষে ভোট দেয়। 
- পৃথক সংবিধান প্রণয়নের পর ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে দুটি স্বাধীন দেশের জন্ম হয়। এগুলো হলো: চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়া।
- এটি ইতিহাসে ভেলভেট নামে পরিচিত কারণ বিচ্ছেদটি সম্পূর্ণ রক্তপাতহীন ও শান্তিপূর্ণ ছিল। এখানে কোনো যুদ্ধ বা সহিংসতা হয়নি।

উল্লেখ্য,
ভেলভেট বিপ্লব:
- 'ভেলভেট বিপ্লব' হলো চেকোস্লোভাকিয়ায় সংঘটিত একটি অহিংস ও শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলন। 
- ১৯৮৯ সালের ১৭ নভেম্বর – ২৯ ডিসেম্বর এই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল।
- এর মাধ্যমে দেশটিতে ৪১ বছরের কমিউনিস্ট শাসনের পতন ঘটে এবং সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। 

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 

২৩.
সোমালিয়া-ভিত্তিক উগ্রপন্থী গোষ্ঠী কোনটি?
  1. আল-শাবাব
  2. বোকো হারাম
  3. আবু সায়েফ
  4. আবু নিদাল
ব্যাখ্যা

• আল-শাবাব:
- আল-শাবাব; পুরো নাম হরকাত আল শাবাব আল মুজাহিদিন।
- সংক্ষেপে আল-শাবাব নামেই পরিচিত।
- এটি সোমালিয়া ভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী।
- এতে অনেক বিদেশি যোদ্ধা আছে বলে ধারণা করা হয়।
- এরা সরাসরি আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ত।
- আল শাবাব এর অর্থ হল তারুণ্য।
- সদর দপ্তর: জিলিব, সোমালিয়া।
- প্রতিষ্ঠাকাল: ২০০৬।

অন্যদিকে: 
- বোকো হারাম নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন।
- আবু সায়েফ ফিলিপাইনের গেরিলা গোষ্ঠী। 
- ১৯৭৪ সালে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আবু নিদাল অর্গানাইজেশন (এএনও) গঠিত হয়।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।

২৪.
ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল কোন ঐতিহাসিক যুদ্ধের সাথে জড়িত? 
  1. স্প্যানিশ গৃহযুদ্ধ
  2. আমেরিকার গৃহযুদ্ধ
  3. ক্রিমিয়ার যুদ্ধ
  4. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
ব্যাখ্যা

- ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল নামটি ক্রিমিয়ার যুদ্ধের সাথে জড়িত।

• ক্রিমিয়ার যুদ্ধ:

- ১৮৫৩ সাল থেকে ১৮৫৬ সাল পর্যন্ত ক্রিমিয়ার যুদ্ধ চলে।
- রাশিয়ার সঙ্গে এই যুদ্ধ চলে তুরস্ক তথা অটোমান সাম্রাজ্যের মিত্রশক্তি ব্রিটেন, ফ্রান্স ও সারডিনিয়ার।
- ১৮৫৩ সালে ইউরোপের তুর্কি এলাকায় রাশিয়া আক্রমণ চালালে এ যুদ্ধের সূচনা হয়।
- রাশিয়া তুরস্কের নিয়ন্ত্রিত দারদানেলিস প্রণালী দিয়ে যুদ্ধ জাহাজ চলাচলের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তুরস্কের খ্রিস্টানদের রক্ষার অজুহাত তুলে এই যুদ্ধ শুরু করে।
- প্যারিস চুক্তি স্বাক্ষরিত হবার পর ১৮৫৬ সালে এই যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে।
- এই যুদ্ধে রাশিয়া পরাজিত হয়।
- যুদ্ধে বিজয়ী হয় ফ্রান্স, ব্রিটেন ও অটোমান সাম্রাজ্য।
- এই যুদ্ধে অপ্রতুল চিকিৎসাসেবা ও সৈন্যদের দুরবস্থার মধ্যে সেবার আলো হাতে নিয়ে পাশে এসে দাঁড়ান ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল।
- তিনি তাদের জন্য যথাযথ হাসপাতাল গড়ে তোলেন।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 

২৫.
ভিয়েতনামকে ১৭° অক্ষরেখা বরাবর উত্তর ও দক্ষিণ অংশে বিভক্ত করা হয় কোন চুক্তির অধীনে? 
  1. ভার্সাই চুক্তি
  2. টোকিও চুক্তি
  3. জেনেভা চুক্তি
  4. হেগ চুক্তি
ব্যাখ্যা

- জেনেভা চুক্তির মাধ্যমে ভিয়েতনামকে ১৭ ডিগ্রি অক্ষরেখা বরাবর বিভক্ত করা হয়।

• জেনেভা চুক্তি (১৯৫৪):
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে বিশ্ব রাজনীতিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হল ভিয়েতনামের মুক্তিযুদ্ধ।
- ভিয়েতনামের মুক্তি সংগ্রামের দুটি পর্ব: প্রথমটি ফরাসি সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রাম এবং দ্বিতীয়টি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রাম।
- বামপন্থী নেতা হো-চি-মিন এর নেতৃত্বে প্রবল সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রাম গড়ে ওঠে।
- হো-চি-মিন এর ভিয়েতমিন বাহিনীর কাছে ফরাসি বাহিনী পরাজিত হয়।
- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে দিয়েন-বিয়েন-ফু এর যুদ্ধে ফরাসি বাহিনী প্রধান জেনারেল গিয়াপ এর চূড়ান্ত পরাজয় এবং আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ভিয়েতনামের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম পর্বের অবসান ঘটে।
- এই প্রেক্ষিতে ২১ জুলাই, ১৯৫৪-এ জেনেভায় আহত এক আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্মেলনে দু'পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরোধী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ১৭⁰ অক্ষরেখা বরাবর ভিয়েতনামকে উত্তর ও দক্ষিণ দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
- উত্তর ভিয়েতনামে থাকবে হো চি মিন এর ভিয়েতমিন বাহিনীর কর্তৃত্ব।
- দক্ষিণ ভিয়েতনামে আপাতত ফরাসি বাহিনী থাকবে।

অন্যদিকে,
- পারিস্য শান্তি চুক্তির উদ্দেশ্য: ভিয়েতনাম ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বন্দ্বের অবসান ঘটানো। এবং এর মাধ্যমে ভিয়েতনাম যুদ্ধের অবসান হয়।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।