পরীক্ষা - ৪:
বিষয়ের নাম: বাংলা সাহিত্য - সম্পূর্ণ সিলেবাস [৮০ নম্বর]
উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,
- ষষ্ঠ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সাহিত্য পাঠ বোর্ড বই,
- বাংলাপিডিয়া,
- লাল নীল দীপাবলি,
- যেকোনো গাইড বই ইত্যাদি।
মধ্যযুগের কবি ভারতচন্দ্রকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি প্রদান করেন কে?
ক
রাজা চন্দ্রগুপ্ত
খ
রাজা রঘুনাথ রায়
গ
রাজা সুধর্মা
ঘ
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর(১৭১২-১৭৬০): - মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। - ইন্দ্রনারায়ণ তাঁর বিশিষ্ট বন্ধু নবদ্বীপ-কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সঙ্গে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেন। মহারাজা কবির পাণ্ডিত্য ও ব্যবহারে মুগ্ধ হন এবং তাঁকে ৪০ টাকা মাসোহারা দিয়ে আমত্য বা রাজসভাসদ পদে নিয়োগ দেন। - মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘গুণাকর’ অর্থাৎ ‘সকল গুণের আধার’ উপাধিতে সম্মানিত করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহ: - অন্নদামঙ্গল, - গঙ্গাষ্টক, - রসমঞ্জরী।
উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২.
'মুক্তল হোসেন' কী ধরনের রচনা?
ক
মর্সিয়া সাহিত্য
খ
মহাকাব্য
গ
গীতিকাব্য
ঘ
নাথ সাহিত্য
ব্যাখ্যা
- 'মুক্তল হোসেন' হলো 'মুহম্মদ খান' রচিত পারসি থেকে অনূদিত বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।
⇒ মর্সিয়া সাহিত্য: • কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য। - মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ। - তার গ্রন্থের নাম জয়নাবের চৌতিশা (১৫৭০)। - মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন রাধারমণ গোপ৷ তার গ্রন্থ: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩.
'বিশ্বনবী' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
ক
মীর মশাররফ হোসেন
খ
আবুল ফজল
গ
আবুল হুসেন
ঘ
গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
- 'বিশ্বনবী' গ্রন্থের রচয়িতা গোলাম মোস্তফা। - তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। - এতে তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.) কে ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।
• গোলাম মোস্তফা: - যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে তাঁর জন্ম। - গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। - ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন। - সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।
• গদ্যগ্রন্থ: - বিশ্বনবী, - ইসলাম ও কমিউনিজম, - ইসলাম ও জেহাদ, - আমার চিন্তাধারা, - পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।
উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪.
‘সংবাদ প্রভাকর’ কত সালে দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে?
ক
১৮৩১ সালে
খ
১৮৩৬ সালে
গ
১৮৩৯ সালে
ঘ
১৮৪৫ সালে
ব্যাখ্যা
• সংবাদ প্রভাকর: - 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। - তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। - কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়। - ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। - সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হত। - 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাওগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত। - ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা: ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত ‘রেইনকোট’ ছোটগল্পটি কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
ক
অন্য ঘরে অন্য স্বর
খ
জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল
গ
খোঁয়ারি
ঘ
দুধেভাতে উৎপাত
ব্যাখ্যা
⇒ ‘রেইনকোট’ ছোটগল্প: • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ছোটগল্প। • রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও একটি মূলত প্রতীকী গল্প ৷ • ‘রেইনকোট’ গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়। • মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে৷ • এটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়। • 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থ গুলো হলো: - অন্য ঘরে অন্য স্বর , - খোঁয়ারি, - দুধেভাতে উৎপাত।
উৎস: সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডবই এবং বাংলাপিডিয়া।
৬.
‘সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।’- বিখ্যাত উক্তিটি জীবনানন্দ দাশ রচিত কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
ক
নিরুপম যাত্রা
খ
মাল্যবান
গ
কবিতার কথা
ঘ
সুতীর্থ
ব্যাখ্যা
• কবি জীবনানন্দ দাশের একমাত্র প্রবন্ধ গ্রন্থ ‘কবিতার কথা’। - এই গ্রন্থের বিখ্যাত উক্তি হলো, ‘সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।’
⇒ জীবনানন্দ দাশ: • জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। • জীবনানন্দ দাশকে “ধূসরতার কবি” বলা হয়। ‘ • ধূসর পাণ্ডুলিপি’ (১৯৩৬) নামে একটি কাব্যগ্রন্থ আছে জীবনানন্দ দাশের। কিন্তু শুধু এ কারণেই তাঁকে ‘ধূসরতার কবি’ বলা হয়-তা নয়। তাঁর বহু কবিতায় হতাশা ও বিবর্ণের কথা আছে। তাঁর কবিতার চালচিত্রে আছে ধূসর বর্ণ। তাই জীবনানন্দ দাশকে ধূসরতার কবি বলা হয়। • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।
• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহ: - মাল্যবান, - সুতীর্থ, - নিরুপম যাত্রা, - বিভা, - জলপাইহাটি ইত্যাদি।
• জীবনানন্দের ‘বনলতা সেন’ কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়। এছাড়া জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে। ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭.
‘রাম’ ও ‘বিভীষণ’ মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কোন কাব্যের অন্তর্গত চরিত্র?
ক
ব্রজাঙ্গনা
খ
মেঘনাদবধ
গ
বীরাঙ্গনা
ঘ
তিলোত্তমাসম্ভব
ব্যাখ্যা
⇒ মেঘনাদবধ কাব্য: - মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য। - মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'। - সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনী অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। - ১৮৫৭ সালের সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন। - নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে। - কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি। - কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।
================ • মাইকেল মধুসূদন দত্ত: - বাংলা কাব্যসাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের স্রষ্টা- মাইকেল মধুসূদন দত্ত। - বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব'। কাব্যটি প্রকাশিত হয় ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে। - তবে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ ঘটান তার রচিত 'পদ্মাবতী' নাটকে৷ - তাছাড়া বাংলা ভাষায় প্রথম চতুর্দশপদী কবিতা রচনা করেন তিনি। - তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি বলা হয়ে থাকে।
• তাঁর রচিত কাব্য: - তিলোত্তমাসম্ভব, - মেঘনাদবধ, - ব্রজাঙ্গনা, - বীরাঙ্গনা, - চতুর্দশপদী কবিতাবলী।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮.
রাজা রামমোহন রায়ের সহমরণ প্রথার বিরুদ্ধে রচিত গ্রন্থ-
ক
বেদান্ত চন্দ্রিকা
খ
ভট্টাচার্যের সহিত বিচার
গ
বেদান্তসার
ঘ
গোস্বামীর সহিত বিচার
ব্যাখ্যা
⇒ রাজা রামমোহন রায়: • বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে । • ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান। • রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন। • রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন। • তিনি প্রায় ৩০ টি গ্রন্থ রচনা করেন।
⇒ সহমরণ প্রথার বিরুদ্ধে রচিত গ্রন্থ: উনিশ শতকের যুক্তিবাদী মননশীলতায় রামমোহন সহমরণ প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। নিজস্ব মত প্রচারের জন্য হিন্দু সমাজের গোঁড়া সংস্কারের যুক্তিহীনতা দেখাবার জন্য তিনি দুটি গ্রন্থ রচনা করেন। ১. প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ (১৮১৮-১৯), ২. গোস্বামীর সহিত বিচার (১৮১৮)।
তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো- - বেদান্তগ্রন্থ, - বেদান্তসার, - ভট্টাচার্যের সহিত বিচার, - গোস্বামীর সহিত বিচার, - সহমরন বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ, - গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।
অন্যদিকে, - ‘বেদান্ত চন্দ্রিকা’ মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্করা রচিত গ্রন্থ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯.
শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত উপন্যাস-
ক
অনেক দিনের আশা
খ
পথ জানা নাই
গ
কাশবনের কন্যা
ঘ
দুই হৃদয়ের তীর
ব্যাখ্যা
⇒ কাশবনের কন্যা: - উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ সালে। - শামসুদ্দীন আবুল কালামের 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসে গ্রামকে এমনভাবে তুলে আনা হয়েছে যে, দঃখ দারিদ্র্য থাকলেও গ্রামেই সুখের স্বর্গ, সমস্ত বিশ্বাসের আধার। - উপন্যাসে বরিশাল অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, লোকজীবন, গ্রামীণ দিগন্ত চিত্রায়িত হয়েছে। - এই উপন্যাসের চরিত্র সমূহ: সিকদার, হোসেন, জোবেদা, মেহেরজান ইত্যাদি।
⇒ শামসুদ্দীন আবুল কালাম: - শামসুদ্দীন আবুল কালাম ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। - শামসুদ্দীন বরিশাল জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯৪১), ব্রজমোহন কলেজ থেকে আই.এ (১৯৪৩) এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ (১৯৪৬) পাস করেন।
তাঁর রচনাসমূহ হলো: গল্পগ্রন্থ: - অনেক দিনের আশা, - ঢেউ, - পথ জানা নাই, - দুই হৃদয়ের তীর, - শাহের বানু।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১০.
আহমদ ছফা সম্পাদিত পত্রিকা নয় কোনটি?
ক
স্বদেশ
খ
উত্থানপর্ব
গ
উত্তরণ
ঘ
কল্লোল
ব্যাখ্যা
⇒ আহমদ ছফা: - আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক। - আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। - তিনি মূলত ছিলেন চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক। - তিনি স্বদেশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। - ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে আহমদ ছফার সম্পাদনায় সাহিত্য পত্রিকা ‘স্বদেশ’ প্রকাশিত হয়েছিল। মাত্র তিন সংখ্যা প্রকাশের পর পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। - স্বদেশ, প্রতিরোধ, সম্ভাবনা, উত্তরণ এবং উত্থানপর্বের তিনি ছিলেন সম্পাদক।
• তাঁর প্রকাশিত উপন্যাস গ্রন্থসমূহ হচ্ছে: - সূর্য তুমি সাথী, - ওঙ্কর, - একজন আলী কেনানের উত্থান পতন, - মরণ বিলাস, - গাভি বিত্তান্ত, - অর্ধেক নারী অর্ধেক উশ্বরী, - বিহঙ্গ পুরাণ।
অন্যদিকে, - ‘কল্লোল’ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১.
‘যা কিছু হারায় গিন্নি বলেন, কেষ্টা বেটাই চোর’- পঙক্তিটি কার রচনা?
ক
প্যারীচাঁদ মিত্র
খ
বিহারীলাল চক্রবর্তী
গ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ঘ
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
⇒ ‘যা কিছু হারায় গিন্নি বলেন, কেষ্টা বেটাই চোর’- পঙক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘পুরাতন ভৃত্য’ কবিতার অন্তর্ভুক্ত। - ‘পুরাতন ভৃত্য’ কবিতাটি চিত্রা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা।
⇒ চিত্রা কাব্যগ্রন্থ: - চিত্রা কাব্যগ্রন্থটি ১৩০২ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ১৮৯৬ সালে প্রকাশিত হয়। - এই কাব্যগ্রন্থে মোট ৩৫টি কবিতা রয়েছে। - কবিতাগুলো হচ্ছে: চিত্রা, সুখ, জ্যোৎস্না রাত্রে, প্রেমের অভিষেক, সন্ধ্যা, এবার ফিরাও মোরে, মৃত্যুর পরে, অন্তর্যামী, সাধনা, ব্রাহ্মণ, পুরাতন ভৃত্য, দুই বিঘা জমি, শীতে ও বসন্তে, নগর-সংগীত, পূর্ণিমা, আবেদন, উর্ব্বশী, স্বর্গ হইতে বিদায়, দিনশেষে, সান্ত্বনা, শেষ উপহার, বিজয়িনী, গৃহ-শত্রু, মরিচীকা, উৎসব, প্রস্তর মূর্তি, নারীর দান, জীবন দেবতা, রাত্রে ও প্রভাতে, ১৪০০ সাল, নীরব তন্ত্রী, দুরাকাঙ্ক্ষা, প্রৌঢ়, ধূলি, সিন্ধু পাড়ে।
পুরাতন ভৃত্য কবিতার কিছু অংশ-
পুরাতন ভৃত্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর - ভূতের মতন চেহারা যেমন, নির্বোধ অতি ঘোর- যা-কিছু হারায়, গিন্নি বলেন, “কেষ্টা বেটাই চোর।” উঠিতে বসিতে করি বাপান্ত, শুনেও শোনে না কানে। যত পায় বেত না পায় বেতন, তবু না চেতন মানে। বড়ো প্রয়োজন, ডাকি প্রাণপণ চীৎকার করি “কেষ্টা”— যত করি তাড়া নাহি পাই সাড়া, খুঁজে ফিরি সারা দেশটা।
উৎস: ‘পুরাতন ভৃত্য’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং ‘চিত্রা’ কাব্যগ্রন্থ।
১২.
নিচের কোন লেখক কল্লোল গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন?
ক
বিহারীলাল চক্রবর্তী
খ
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
গ
বিষ্ণু দে
ঘ
অমিয় চক্রবর্তী
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা
[ অপশনে বিষ্ণু দে ও অমিয় চক্রবর্তী দুইটি সঠিক উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হলো।]
⇒ বিষ্ণু দে: • বিষ্ণু দে কল্লোল সাহিত্য গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। - বিষ্ণু দে ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। - তিনি মূলত কবি, প্রাবন্ধিক ও চিত্র সমালোচক।
• কল্লোল যুগের একটি প্রধান বৈশিষ্ট ছিল রবীন্দ্র বিরোধিতা। - যে সময়ে কল্লোলের আবির্ভাব, তখন বাংলা সাহিত্যের সর্বকোণ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রভাবে প্রোজ্জ্বল। - কল্লোল যুগের লেখকদের মূল লক্ষ্য ছিল রবীন্দ্র বৃত্তের বাইরে এসে সাহিত্যর একটি মৃত্তিকাসংলগ্ন জগৎ সৃষ্টি করা। - মূলত বাংলা কবিতায় গদ্যধারার প্রবর্তন শুরু হয় কল্লোল যুগেই।
কবিতার ক্ষেত্রে যাদের নাম কল্লোল যুগের শ্রেষ্ঠ নায়ক বিবেচনায় প্রচারিত তাঁরা হলেন : - কবি জীবনানন্দ দাশ। - বুদ্ধদেব বসু। - বিষ্ণু দে। - কাজী নজরুল ইসলাম। - অমিয় চক্রবর্তী। - অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত। - সুধীন্দ্রনাথ দত্ত। - প্রেমেন্দ্র মিত্র সহ অনেকের ভুমিকা উল্লেখযোগ্য।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; কবিতার ব্লগ এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩.
আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি বলা হয় কাকে?
ক
বিহারীলাল চক্রবর্তী
খ
মাইকেল মধুসূধন দত্ত
গ
মোহিতলাল মজুমদার
ঘ
বালাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী: - বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত। - বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী। - তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি। - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন। - বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’। - তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল।
⇒ ‘বঙ্গসুন্দরী’ গীতিকবিতা: - বিহারীলালের প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ ‘বঙ্গসুন্দরী’ (১৮৭০)। এ কাব্যে কবি বলেছেন: ''সর্বদাই হুহু করে মন, বিশ্ব যেন মরুর মতন, চারদিকে ঝালাপালা, উঃ কি জ্বলন্ত জ্বালা! অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।''
- রবীন্দ্রনাথ এ-প্রসঙ্গে বলেছেন: ‘আধুনিক বঙ্গসাহিত্যে এই প্রথম বোধ হয় কবির নিজের কথা প্রকাশ পাইয়াছে।’ - গ্রন্থটির প্রথম সর্গ উপহার, দ্বিতীয় সর্গ নারীবন্দনা, তৃতীয় সর্গ সুরভালা, চতুর্থ সর্গ চিরপরাধীনা, পঞ্চম সর্গ করুণাসুন্দরী, ষষ্ঠ সর্গ বিষাদিনী, সপ্তম সর্গ প্রিয়সখী, অষ্টম সর্গ বিরহিণী, নবম সর্গ প্রিয়তমা ও দশম সর্গ অভাগিনী নামকরণ করা হয়েছে।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪.
'সোনালি কাবিন' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
ক
আল মাহমুদ
খ
জীবনানন্দ দাশ
গ
আলাউদ্দিন আল আজাদ
ঘ
হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
⇒ 'সোনালি কাবিন' কাব্যগ্রন্থ: - 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচিয়তা আল মাহমুদ। - আল মাহমুদ প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্য গ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' - সোনালী কাবিন কাব্য গ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়। - এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে ‘সোনালি কাবিন’ নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত আছে। এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে।
⇒ আল মাহমুদ: - কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। - আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। - ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন প্রবাসী সরকারের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: - লোক লোকান্তর, - কালের কলস, - মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো , - আরব্য রজনীর রাজহাঁস, - বখতিয়ারের ঘোড়া, - অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না, - দিনযাপন, - দ্বিতীয় ভাঙ্গন, - একটি পাখি লেজ ঝোলা, - পাখির কাছে ফুলের কাছে ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫.
'বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না- ইহা দূরেও ঠেলিয়া ফেলে।'- উক্তিটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের?
ক
পরিণীতা
খ
দেবদাস
গ
শ্রীকান্ত
ঘ
চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা
⇒ 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস: - 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসটি শরৎচন্দ্রের আত্মজৈবনিক উপন্যাস। উপন্যাসটি চারটি খণ্ডে রচিত। - প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭)' শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশিত হয়। - লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রী শ্রীকান্ত শর্মা'। - ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়। - তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়। - 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র হচ্ছে- 'ইন্দ্রনাথ'।
এ উপন্যাসের বিখ্যাত কিছু উক্তি: - 'মধু থাকলেই মৌমাছি এসে জোটে তারা দেশ-বিদেশের বিচার করে না।' - 'বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না- ইহা দূরেও ঠেলিয়া ফেলে।' (শ্রীকান্ত ও বাইজি রাজলক্ষ্মীর বিচ্ছেদের প্রসঙ্গে এই কথাটি বলা হয়েছে।)
=========== ⇒ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। - শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। - তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'। - তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।
তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাসগুলো হলো : - দেনা-পাওনা, - বড়দিদি, - বিরাজবৌ, - পণ্ডিতমশাই, - পরিণীতা, - চন্দ্রনাথ, - দেবদাস, - চরিত্রহীন, - গৃহদাহ, - পথের দাবী, - শেষ প্রশ্ন, - শেষের পরিচয় ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, শরৎচন্দ্র রচনাবলী এবং 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস।
১৬.
নিচের কোন সাল বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ?
ক
১৮৫৭ খ্রি.
খ
১৮৬৫ খ্রি.
গ
১৮৬১ খ্রি.
ঘ
১৯০৫ খ্রি.
ব্যাখ্যা
⇒ ১৮৬১ সন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ, • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর'এর জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (বাংলা ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ)। • বাংলা ভাষার প্রথম সার্থক মহাকাব্য মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য'। - এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে। - মধুসূদনের শ্রেষ্ঠ নাটক কৃষ্ণকুমারী (১৮৬১) বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি।
তাছাড়া, • 'ঢাকা প্রকাশ' ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা। • এটি ১৮৬১ সালের ৭ মার্চ প্রথম প্রকাশিত হয়। • প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭.
সমরেশ বসুর জেলে জীবন নিয়ে রচিত উপন্যাস-
ক
গঙ্গা
খ
পদ্মার পলিদ্বীপ
গ
পদ্মানদীর মাঝি
ঘ
সোজন বাদিয়ার ঘাট
ব্যাখ্যা
⇒ 'গঙ্গা' উপন্যাস: - 'গঙ্গা' উপন্যাসটি সমরেশ বসুর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত। - গঙ্গার পটভূমি একটাই, জল-জাল-জেলে; বিশেষত অবিভক্ত ২৪ পরগনা জেলার মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের (মাছমারা) জীবনসংগ্রামের কাহিনি। - গঙ্গা উপন্যাসের চরিত্রগুলো সামনে অতটা উজ্জ্বল হয়ে ধরা দেয়নি। - সমরেশ বসুর মূল বিষয় চরিত্র চিত্রণ নয়, মূল বিষয় জেলেজীবন। - জেলেজীবনের সংগ্রাম চিত্রণ করতে যা যা প্রয়োজন, তা করেছেন। চরিত্রের ক্ষেত্রেও তাই। - এখানে মোটা দাগে যারা রয়েছে: সাইদার নিবারণ, নিবারণের ছোট ভাই পাঁচু ও ছেলে বিলাস, বশীর, সয়ারাম, পাচী (ছায়া), রসিক, দুলাল; অপরদিকে অমর্তের বউ, দামিনী, হিমি, হিমির সখী আতর, মহাজন ব্রজেন ঠাকুর প্রমুখ। - আপাতদৃষ্টিতে এই উপন্যাসের নায়ক-নায়িকা হলো বিলাস ও হিমি। কিন্তু সব চরিত্র যার ছায়া অবলম্বনে, তিনি হলো নিবারণ। সেদিক থেকে নিবারণ হলো কেন্দ্রীয় চরিত্র।
সমরেশ বসু রচিত অন্যান্য উপন্যাস হলো : - উত্তরঙ্গ, - জগদ্দল, - বিবর, - অমৃত কুম্ভের সন্ধানে, - প্রজাপতি।
অন্যদিকে, - আবু ইসহাকের দীর্ঘ সময়ব্যাপী রচিত উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'। - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' একটি উপন্যাস। - কবি জসীমউদদীনের কাহিনীকাব্য ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, 'গঙ্গা' উপন্যাস ও সাহিত্য সাময়িকী।
১৮.
কোনটি অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিনি?
ক
দেশে বিদেশে
খ
পশ্চিমের যাত্রী
গ
বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন
ঘ
ইউরোপের চিঠি
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায় একজন স্বনামধন্য বাঙালি কবি, লেখক এবং সেই সাথে বিশিষ্ট ছড়াকারও। • তিনি 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন • পথে প্রবাসে ও ইউরোপের চিঠি তাঁর রচিত দুইটি ভ্রমণ কাহিনি।
এছাড়াও তাঁর রচিত উপন্যাস গুলো: - অসমাপিকা প্রথম উপন্যাস, - কঙ্কাবতী, - দুঃখমোচন, - অপসরণ, - অজ্ঞাতবাস ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৯.
কৃষকদের দুঃখ দুর্দশা ও মুক্তির পথ নির্দেশ করে আবুল হুসেন রচিত গ্রন্থ -
ক
বাংলার বলশী
খ
পল্লীসমাজ
গ
বাংলাদেশের কৃষকের সংগ্রাম
ঘ
রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ
ব্যাখ্যা
⇒ আবুল হুসেন: • আবুল হুসেন একজন প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ছিলেন। • আবুল হুসেন মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে লেখনী পরিচালনা করেন। • আবুল হুসেন ছিলেন 'শিখা' পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক।
• তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম: - বাংলার বলশী, মুসলিম কালচার ও বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি। • “বাংলার বলশী” গ্রন্থে তিনি কৃষকদের দুঃখ দুর্দশা চিহ্নিত করে তাদের মুক্তির পথ নির্দেশ করেন। মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে তিনি কৃষক-সমাজের দুঃখ-দুর্দশার মুক্তির পথ নির্দেশ করেন তাঁর 'বাংলার বলশী' গ্রন্থের প্রবন্ধসমূহে। • রুশবিপ্লবের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ‘কৃষকের আর্তনাদ’, ‘কৃষকের দুর্দশা’ ও ‘কৃষি বিপ্লবের সূচনা' নামক প্রবন্ধ রচনা করেন। • ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন হয় তাতে আবুল হুসেনই নেতৃত্ব দেন । • তিনি ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) গঠন এবং এর মুখপত্র শিখা সম্পাদনা ও প্রকাশ করে এ আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।
অন্যদিকে, - ‘পল্লীসমাজ’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। - ‘বাংলাদেশের কৃষকের সংগ্রাম’ ও ‘রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ’ সত্যের সেন রচিত উপন্যাস।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২০.
‘কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও’- কবিতাটি কোন উপন্যাসের সমাপ্তিতে পাওয়া যায়?
ক
শেষের কবিতা
খ
গোরা
গ
যোগাযোগ
ঘ
মালঞ্চ
ব্যাখ্যা
⇒ "শেষের কবিতা" উপন্যাস: • বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া অনুসারে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “শেষের কবিতা” একটি গীতিধর্মী উপন্যাস। তবে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর অনুসারে শেষের কবিতা (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
• “শেষের কবিতা” উপন্যাসটি সমন্বয়সুষমা ও কবিত্বমণ্ডিত বিশ্লেষণশক্তির দিক দিয়ে রবীন্দ্রনাথের পরবর্তী উপন্যাসগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠস্থান দাবি করতে পারে। বিষয়ের ঐক্য ও আলোচনার সমগ্রতায়, অবান্তর বস্তুর প্রায় সম্পূর্ণ বর্জনে অন্যান্য উপন্যাস থেকে ‘শেষের কবিতা’ যথেষ্ট উৎকর্ষ লাভ করেছে।
• কোনো পুরুষ বা নারীর পক্ষে এক সঙ্গে দুজনকে ভালোবাসা সম্ভব এবং সে ভালোবাসা এক পাত্রসম্পর্কিত (স্বামী/স্ত্রী), অপর পাত্র নিঃসম্পর্ক হতে পারে। এটিই শেষের কবিতা উপন্যাসের আখ্যানবস্তুর ভাববীজ। • অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ চরিত্রের মাধ্যমে প্রেমের বিচিত্র বিকাশ দেখানো হয়েছে।
• ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের ভাষা যে কেবল কবিত্বময় তা নয়, উপন্যাসের বক্তব্যকে সুস্পষ্ট করার জন্য অনেক কবিতাও ব্যবহার করেছেন। উপন্যাসের কাঠামোগত এই অভিনবত্ব রবীন্দ্রনাথ খুব সার্থকতা সহকারে এ উপন্যাসে রূপায়িত করে তুলেছেন।
• উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যথা: - ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী। - কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও - এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষের কবিতা উপন্যাসের সমাপ্তি টানেন।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।