পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬

পরীক্ষাবার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন৪২
সিলেবাস
Exam - 6 • The Limitation Act, 1908 • Professional Ethics, • Bar Council Order & Rules,
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬ · তারিখ অনির্ধারিত · ৪২ প্রশ্ন

.
বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স এবং বার কাউন্সিল রুলস, ১৯৭২-এর ৬২(২) বিধি অনুযায়ী, বার কাউন্সিলে অ্যাডভোকেট হিসাবে তালিকাভুক্তির পর কোন শর্তে সনদ প্রদান করা হয়?
  1. হাইকোর্ট অনুমোদনের পর
  2. অ্যাডভোকেট শপথ গ্রহণের পর
  3. আইনজীবী সমিতির সদস্য হওয়ার পর
  4. সংশ্লিষ্ট জেলার আদালতের অনুমোদনের পর
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) অ্যাডভোকেট শপথ গ্রহণের পর।
বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স এবং বার কাউন্সিল রুলস, ১৯৭২-এর ৬২(২) বিধি অনুযায়ী, বার কাউন্সিলে অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তির পর সনদ প্রদান করার জন্য একটি শপথ গ্রহণ করতে হয়। অ্যাডভোকেট শপথ গ্রহণের পর বার কাউন্সিল অ্যাডভোকেটকে সনদ প্রদান করে, যা তার পেশাদারী কার্যক্রম শুরুর প্রমাণপত্র। শপথটি আইনের শাসন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সংবিধান সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়।
এই বিধি অনুযায়ী, অ্যাডভোকেটের সনদ পাওয়ার জন্য অন্যান্য প্রক্রিয়া যেমন হাইকোর্ট বা সংশ্লিষ্ট জেলার আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন হয় না।

অ্যাডভোকেটের শপথ:
- অ্যাডভোকেটগণ আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকেন। সামাজিক সুবিচার এবং জনগণের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় তাদের ভূমিকা অসামান্য। সংবিধান ব্যাখ্যা এবং সংবিধান সুরক্ষার দায়িত্বও তাদের উপর বর্তায়। সংবিধানের প্রাধান্য রক্ষা করা অন্যান্যদের মত অ্যাডভোকেটগণের রয়েছে। অ্যাডভোকেটগণ যাতে সংবিধান মেনে চলেন এবং বার কাউন্সিল কর্তৃক প্রণীত শিষ্টাচার সংক্রান্ত বিধি বিধান মেনে চলেন সে জন্য ১৯৯৯ সনের ৩রা জুন তারিখে প্রকাশিত গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল রুলস, ১৯৭২-এর ৬২(২) বিধি প্রতিস্থাপন করে উহাতে নিম্ন লিখিত শপথ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বার কাউন্সিলে অ্যাডভোকেট হিসাবে তালিকাভুক্তির পর সনদ গ্রহণের প্রাক্কালে অ্যাডভোকেটগণ ঐ শপথ গ্রহণ করে থাকেন।
-------------------
⇒ The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Rules, 1972-Rule-62(2) The certificate of enrolment shall then be issued to the advocate on his application to the Bar Council through the Bar Association after his admission as a member thereof in such manner and on fulfillment of such conditions as may be decided by the Bar Council upon taking such oath as prescribed.
.
The Limitation Act, 1908 এর ৬ ধারা কোন অবস্থার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. উন্মাদনা
  2. নাবালকতা
  3. জড়বুদ্ধিতা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ The Limitation Act, 1908 এর ৬ ধারা অনুসারে, তামাদির মেয়াদ গণনার সময় যদি কোনো ব্যক্তি নাবালক (অপ্রাপ্তবয়স্ক), উন্মাদ (মানসিকভাবে অসুস্থ), বা জড়বুদ্ধি (মন্দবুদ্ধি বা মানসিক অক্ষমতা) অবস্থায় থাকে, তাহলে এই অপারগতার কারণে তামাদির মেয়াদ গণনা স্থগিত থাকে। অপারগতা অবসানের পর (যেমন নাবালক প্রাপ্তবয়স্ক হলে, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি ব্যক্তি সুস্থ হলে), সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা তার আইনানুগ প্রতিনিধি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা দায়ের বা ডিক্রি জারির জন্য আবেদন করতে পারবে।

- এই ধারাটি নাবালকতা, উন্মাদনা এবং জড়বুদ্ধিতা—এই তিনটি অবস্থার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
তাই সঠিক উত্তর হলো: ঘ) উপরের সবগুলো।
.
তামাদি আইনে ৩ বছরের মেয়াদে কোন মামলা দায়ের করা যেতে পারে?
  1. বিক্রয় রদের মামলা
  2. দলিল বাতিলের মামলা
  3. সুনির্দিষ্ট চুক্তির প্রবল মামলা
  4. দখল পুনরুদ্ধারের মামলা
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনে বিভিন্ন ধরনের মামলার জন্য আলাদা আলাদা তামাদি মেয়াদ রয়েছে।
- উল্লিখিত প্রশ্নের মধ্যে দলিল বাতিলের মামলা ৩ বছরের তামাদি মেয়াদের মধ্যে দায়ের করতে হয়।


- দলিল বাতিলের মামলা (খ): তামাদি আইনের ৯১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দলিল বাতিলের মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ ৩ বছর।
- এই মেয়াদ দলিল বাতিলের কারণ জানার তারিখ থেকে গণনা শুরু হয়।

অন্যদিকে, 
- বিক্রয় রদের মামলা (ক): এই মামলার তামাদি মেয়াদ ১ বছর।
- সুনির্দিষ্ট চুক্তির প্রবল মামলা (গ): এই মামলার তামাদি মেয়াদ ১ বছর।
- দখল পুনরুদ্ধারের মামলা (ঘ): এই মামলার তামাদি মেয়াদ ৬ মাস (স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে)।

সুতরাং, সঠিক উত্তর খ) দলিল বাতিলের মামলা।
.
বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ অনুযায়ী বার কাউন্সিলের মেয়াদ কত বছর?
  1. ২ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৪ বছর
  4. ৫ বছর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২-এর ধারা ৪ অনুযায়ী, বার কাউন্সিলের মেয়াদ ৩ বছর। এই মেয়াদ বার কাউন্সিলের সাধারণ নির্বাচনের পরবর্তী ১লা জুলাই থেকে শুরু হয়। মেয়াদ শেষ হলে বার কাউন্সিলের সদস্যগণ তাদের পদ হারান এবং নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সদস্য নির্বাচিত হন।

এই বিধানটি বার কাউন্সিলের কার্যক্রমকে সময়ানুগ ও কার্যকর রাখার জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে। বার কাউন্সিলের মেয়াদ ৩ বছর হওয়ায় এটি নিয়মিতভাবে পুনর্গঠিত হয় এবং নতুন সদস্যদের মাধ্যমে আইন পেশার মানোন্নয়ন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখে।
-------
The Bangladesh Legal Practitioner's and Bar Council Order, 1972 (President's Order) Article 4.
- Subject to the provisions of Article 8, the term of the Bar Council be three years beginning on the first day of July following the general elections to the Bar Council; and at the end of each terms the members of the Bar Council shall cease to hold office.
.
তামাদি আইনের ১১ ধারা অনুসারে, বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির ক্ষেত্রে কোন বিধান প্রযোজ্য হবে?
  1. বিদেশের তামাদি আইন সম্পূর্ণভাবে প্রযোজ্য হবে
  2. বিদেশের তামাদি আইন বাংলাদেশে প্রযোজ্য হবে না
  3. বিদেশের তামাদি আইন কেবল উচ্চ আদালতে প্রযোজ্য হবে
  4. বিদেশের তামাদি আইন শুধুমাত্র বাণিজ্যিক চুক্তিতে প্রযোজ্য হবে
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: (খ) বিদেশের তামাদি আইন বাংলাদেশে প্রযোজ্য হবে না।
⇒ তামাদি আইনের ১১ ধারা (Section 11 of the Limitation Act, 1908) অনুযায়ী, যদি কোনো বিদেশি দেশে সম্পাদিত চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশে মামলা দায়ের করা হয়, তাহলে বাংলাদেশের তামাদি আইন প্রযোজ্য হবে, বিদেশের নয়।
 উপধারা (১):
বাংলাদেশে দায়ের করা মামলায় তামাদি আইন, ১৯০৮-এর বিধান প্রযোজ্য হবে, এমনকি যদি চুক্তিটি বিদেশে সম্পাদিত হয়ে থাকে। অর্থাৎ, মামলার স্থান (forum) যদি বাংলাদেশ হয়, তবে বাংলাদেশের তামাদি আইন অনুসারে মামলা গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারিত হবে।
 উপধারা (২):
তবে, যদি কোনো বিদেশি তামাদি আইন চুক্তিটিকে সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত (extinguish) করে ফেলে, এবং উক্ত চুক্তির পক্ষগণ সেই বিদেশি দেশে বসবাস করতেন ও নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে মামলা করেননি, তাহলে সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশেও চুক্তিটি অকার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ, যদি বিদেশের আইন অনুসারে চুক্তি বাতিল হয়ে যায়, তবে বাংলাদেশেও তা মানা হতে পারে।

অর্থাৎ তামাদি আইনের ১১ ধারা অনুসারে, বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির ক্ষেত্রে মামলা বাংলাদেশে দায়ের হলে বিদেশের তামাদি আইন প্রযোজ্য হবে না, বরং বাংলাদেশের তামাদি আইন প্রযোজ্য হবে।
-----------
⇒ The Limitation Act:- Section- 11. Suits on foreign contracts:
(1) Suits instituted in Bangladesh on contracts entered into in a foreign country are subject to the rules of limitation contained in this Act. 
(2) No foreign rule of limitation shall be a defence to a suit instituted in Bangladesh on a contract entered into in a foreign country, unless the rule has extinguished the contract and the parties were domiciled in such country during the period prescribed by such rule.
.
তামাদি আইনের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, 'স্বত্বসহ দখল পুনরুদ্ধারের মামলা' ১২ বছরের তামাদি সময়সীমার মধ্যে থাকতে হবে?
  1. ১৩২ অনুচ্ছেদ
  2. ১৪২ অনুচ্ছেদ
  3. ১৪৪ অনুচ্ছেদ
  4. ১৩৮ অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্বত্বসহ দখল পুনরুদ্ধারের মামলা ১২ বছরের তামাদি সময়সীমার মধ্যে থাকতে হবে।
- এটি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোন ব্যক্তি যদি তার অধিকারসহ স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা করতে চান, তবে তিনি ১২ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে পারবেন। অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ধারায় মামলা দায়ের।

→ তামাদি আইনের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্বত্বসহ দখল পুনরুদ্ধারের মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ ১২ বছর। এই অনুচ্ছেদটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ধারায় স্থাবর সম্পত্তির মামলা দায়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেখানে বাদী তার স্বত্ব (মালিকানা) এবং দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা দায়ের করে।

→ সুতরাং, স্বত্বসহ দখল পুনরুদ্ধারের মামলা-এর তামাদি মেয়াদ ১২ বছর এবং এটি ১৪২ অনুচ্ছেদ দ্বারা নির্ধারিত হয়েছে। তাই সঠিক উত্তর খ) ১৪২ অনুচ্ছেদ।
.
আইনজীবীদের পেশাগত আচরণ ও শিষ্টাচারের নীতিমালা প্রণয়নের উদ্দেশ্য কী?
  1. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
  2. নাগরিকদের অধিকার রক্ষা
  3. আদালতের মর্যাদা রক্ষা
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
উত্তর: ঘ) উপরের সবকটি।

→ আইনজীবীদের পেশাগত আচরণ ও শিষ্টাচারের নীতিমালা প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, নাগরিকদের অধিকার রক্ষা এবং আদালতের মর্যাদা রক্ষা করা। এই নীতিমালা আইনজীবীদের মধ্যে সঠিক ও পেশাগত আচরণ বজায় রাখতে সহায়তা করে, যা আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধি করে এবং বিচার ব্যবস্থার সততা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে।
.
নিচের কোনটি The Limitation Act, 1908-এর ২৮ ধারার মূল বিধান?
  1. আদালত তামাদির সময়সীমা যেকোনো সময় বাড়াতে পারে
  2. তামাদির সময় পার হলেও মালিকানার অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকে
  3. তামাদির মেয়াদ পার হয়ে গেলে সম্পত্তির অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যায়
  4. আদালত ব্যক্তির অধিকারের জন্য নতুন সময় নির্ধারণ করতে পারে
ব্যাখ্যা
উত্তর: (গ) তামাদির মেয়াদ পার হয়ে গেলে সম্পত্তির অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যায়।
⇒ The Limitation Act, 1908-এর ২৮ ধারা অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তি তামাদি আইনে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তার সম্পত্তির অধিকার প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন, তবে তার ঐ সম্পত্তির উপর কোনো অধিকার থাকবে না এবং সেটি সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

 উদাহরণ:
যদি একজন ব্যক্তি তার জমির মালিকানা পুনরুদ্ধারের জন্য ১২ বছর এর মধ্যে মামলা না করেন, তাহলে তামাদি মেয়াদ অতিক্রান্ত হওয়ার পর তিনি আইনি অধিকার হারাবেন এবং জমির বর্তমান দখলদার মালিক হয়ে যাবে।

→ এ কারণেই বলা হয়, "Limitation does not only bar the remedy but also extinguishes the right." অর্থাৎ, তামাদির সময়সীমা পার হয়ে গেলে শুধু মামলা করার অধিকারই হারায় না, বরং সম্পত্তির অধিকারই বিলুপ্ত হয়ে যায়।
-----------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section- 28. Extinguishment of right to property:
At the determination of the period hereby limited to any person for instituting a suit for possession of any property, his right to such property shall be extinguished.
.
বার কাউন্সিলের সদস্য সংখ্যা কত?
  1. ৭ জন
  2. ১০ জন
  3. ১৫ জন
  4. ২০ জন
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২-এর ধারা ৫(১) অনুযায়ী, বার কাউন্সিলের সদস্য সংখ্যা ১৫ জন।
- এই ১৫ জন সদস্যের মধ্যে:
১. একজন অ্যাটর্নি জেনারেল (ex-officio)।
২. সাতজন সদস্য রোলভুক্ত অ্যাডভোকেটদের দ্বারা নির্বাচিত হন।
৩. সাতজন সদস্য স্থানীয় বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হন।

এই সদস্যরা বার কাউন্সিলের বিভিন্ন কার্যক্রম ও নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণ করেন এবং আইন পেশার মানোন্নয়ন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১০.
যদি বিক্রয়ের বিষয়বস্তুতে ক্রেতা প্রত্যক্ষ দখল গ্রহণ না করে, তাহলে অগ্রক্রয়ের (pre-emption) অধিকার কার্যকরের মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ কখন থেকে গণনা করা হয়?
  1. আদালতের নির্দেশনার তারিখ থেকে
  2. বিক্রয় চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ থেকে
  3. ক্রেতার দখল গ্রহণের তারিখ থেকে
  4. বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রিকৃত হওয়ার তারিখ থেকে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর হলো: ঘ) বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রিকৃত হওয়ার তারিখ থেকে।

⇒ তামাদি আইনের প্রথম তফশিলের ১০ অনুচ্ছেদ অনুসারে, অগ্রক্রয়ের (pre-emption) অধিকার কার্যকর করার জন্য মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ ১ বছর।
এই মেয়াদ গণনা শুরু হয়:
→ যদি ক্রেতা সম্পত্তিতে প্রত্যক্ষ দখল গ্রহণ করে, তাহলে দখল গ্রহণের তারিখ থেকে।
→ যদি ক্রেতা প্রত্যক্ষ দখল গ্রহণ না করে, তাহলে বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রিকৃত হওয়ার তারিখ থেকে।

অর্থাৎ, বিক্রয়ের বিষয়বস্তুতে ক্রেতা যদি প্রত্যক্ষ দখল গ্রহণ না করে, তাহলে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রিকৃত হওয়ার তারিখ থেকে। এই তারিখ থেকে ১ বছরের মধ্যে অগ্রক্রয়ের অধিকার কার্যকর করার জন্য মামলা দায়ের করতে হবে।
১১.
বকেয়া সরকারী রাজস্ব আদায়ের জন্য স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক, ইজারা বা হস্তান্তর রদ করার জন্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৫ অনুযায়ী, বকেয়া সরকারী রাজস্ব আদায়ের জন্য স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক, ইজারা বা হস্তান্তর রদ করার জন্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ ১ বছর। এই মেয়াদ ক্রোক, ইজারা বা হস্তান্তর করার তারিখ থেকে গণনা শুরু হয়।
১২.
বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল রুলস, ১৯৭২-এর ৪৬ বিধি অনুযায়ী, অভিযুক্ত অ্যাডভোকেটের জবাব দাখিলের সময়সীমা কত?
  1. শুনানীর ২ দিন আগে
  2. শুনানীর ৫ দিন আগে
  3. শুনানীর ৭ দিন আগে
  4. শুনানীর ১০ দিন আগে
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল রুলস, ১৯৭২-এর ৪৬ বিধি অনুযায়ী, অভিযুক্ত অ্যাডভোকেটকে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের জবাব শুনানীর তারিখের কমপক্ষে ৭ দিন আগে বার কাউন্সিলের সচিব বরাবর দাখিল করতে হবে। এই জবাবের সাথে ২ কপি জমা দিতে হবে, যার একটি কপি অভিযোগকারী এবং অপরটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে সরবরাহ করা হবে।
- এই বিধির উদ্দেশ্য হলো অভিযোগকারী এবং অ্যাটর্নি জেনারেলকে অভিযুক্ত অ্যাডভোকেটের জবাব পর্যালোচনা করার পর্যাপ্ত সময় দেওয়া, যাতে শুনানী সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গতভাবে সম্পন্ন হতে পারে।

বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল রুলস, ১৯৭২-এর ৪৬ বিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের জবাব দিতে পারবেন এবং উহার ২ কপি শুনানীর সময়ের কমপক্ষে ৭ দিন পূর্বে বার কাউন্সিলের সচিব বরাবর দাখিল করবেন। সচিব শুনানীর কমপক্ষে দুই দিন পূর্বে তা অভিযোগকারী এবং অ্যাটর্নি জেনারেলকে সরবরাহ করবেন।
-------------
⇒ The Bangladesh legal practitioners and Bar council Rules, 1972. Rule- 46: The advocate concerned shall be entitled to file a reply to the allegations against him whether or not he has already filed a reply before the Bar Council.
-He shall deliver such reply along with two copies to the Secretary at least seven days before the date of hearing fixed by the Tribunal and the Secretary shall deliver the copies to the Attorney General and the complainant at least two days before such d hearing.
১৩.
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পেশাগত আচরণ ও শিষ্টাচার বিধি, ১৯৬৯ অনুযায়ী, কোনটি পেশাদার আচরণের বিরুদ্ধে হবে?
  1. পেশাদারির মর্যাদা রক্ষা করা
  2. পেশাগত বিজ্ঞাপন দেওয়া
  3. ডিরেক্টরিতে নাম তালিকাভুক্ত করা
  4. পেশাগত যোগ্যতা বা সরকারি পদসমূহের তালিকা প্রকাশ করা
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: (খ) পেশাগত বিজ্ঞাপন দেওয়া।
⇒ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পেশাগত আচরণ ও শিষ্টাচার বিধি, ১৯৬৯-এর প্রথম অধ্যায়ের ২ নম্বর বিধি অনুযায়ী, কোনো আইনজীবী পেশাগত বিজ্ঞাপন বা অন্য কোনো উপায়ে মামলা পাওয়ার জন্য প্রচারণা চালাতে পারবেন না। এটি আইন পেশার মর্যাদা ও শিষ্টাচারের পরিপন্থী।

তবে, এই বিধিতে ব্যতিক্রমও উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে আইনজীবীরা সাধারণ পেশাগত কার্ড, নামপ্লেট বা ডিরেক্টরির তালিকায় নিজের নাম, পেশাগত ও একাডেমিক যোগ্যতা, এবং সরকারি পদবির তথ্য সংযোজন করতে পারবেন, যতক্ষণ না তা ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপনের পর্যায়ে পড়ে।

অতএব, "ডিরেক্টরিতে নাম তালিকাভুক্ত করা" ও "পেশাগত যোগ্যতা বা সরকারি পদসমূহের তালিকা প্রকাশ করা" অনুমোদিত হলেও, "পেশাগত বিজ্ঞাপন দেওয়া" সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
১৪.
তামাদি আইনের ১০ ধারা অনুসারে, হিন্দু, মুসলিম বা বৌদ্ধ ধর্মীয় বা দাতব্য সম্পত্তির ব্যবস্থাপককে কী হিসেবে গণ্য করা হয়?
  1. ট্রাস্টি
  2. মালিক
  3. ঋণগ্রহীতা
  4. প্রশাসক
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ১০ ধারা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ট্রাস্ট হিসেবে থাকা সম্পত্তির মালিক বা ব্যবস্থাপককে ট্রাস্টি হিসেবে গণ্য করা হয়।
- এই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ট্রাস্ট হিসেবে থাকা সম্পত্তির মালিকের বিরুদ্ধে মামলা কোনো সময়সীমার জন্য বন্ধ হবে না। অর্থাৎ, তামাদি আইনের অন্যান্য বিধানের মতো এখানে নির্দিষ্ট সময়সীমার বাধ্যবাধকতা নেই।
- বিশেষত, হিন্দু, মুসলিম বা বৌদ্ধ ধর্মীয় বা দাতব্য সম্পত্তির ব্যবস্থাপককে ট্রাস্টি হিসেবে গণ্য করা হয় এবং এই সম্পত্তি ট্রাস্টি কর্তৃক নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত বলে বিবেচিত হয়।

→ অর্থাৎ তামাদি আইনের ১০ ধারা অনুসারে, হিন্দু, মুসলিম বা বৌদ্ধ ধর্মীয় বা দাতব্য সম্পত্তির ব্যবস্থাপককে ট্রাস্টি হিসেবে গণ্য করা হয়।
---------
⇒ The Limitation Act:- Section- 10. Suits against express trustees and their representatives:
Notwithstanding anything hereinbefore contained, no suit against a person in whom property has become vested in trust for any specific purpose, or against his legal representatives or assigns (not being assigns for valuable consideration), for the purpose of following in his or their hands such property or the proceeds thereof, or for an account of such property or proceeds, shall be barred by any length of time. 
For the purposes of this section any property comprised in a Hindu, Muslim or Buddhist religious or charitable endowment shall be deemed to be property vested in trust for a specific purpose, and the manager of any such property shall be deemed to be the trustee thereof.
১৫.
The Limitation Act, 1908-এর ২২(১) ধারা অনুসারে, নতুন বাদী বা বিবাদী সংযোজনের ক্ষেত্রে মামলা দায়েরের তারিখ কখন গণ্য হবে?
  1. নতুন পক্ষের সম্মতি অনুযায়ী
  2. আদালত যে তারিখ নির্ধারণ করে
  3. মূল মামলা দায়েরের তারিখ থেকে
  4. যখন নতুন পক্ষ সংযোজিত বা প্রতিস্থাপিত হয়
ব্যাখ্যা
⇒ The Limitation Act, 1908-এর ২২(১) ধারা অনুসারে, যদি কোনো মামলায় নতুন বাদী বা বিবাদী সংযোজিত বা প্রতিস্থাপিত হয়, তবে সেই নতুন পক্ষের জন্য মামলাটি ঠিক তখনই দায়ের হয়েছে বলে গণ্য হবে, যখন তাকে মামলার অংশ করা হয়।
এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ তামাদি আইনের মেয়াদ নির্ধারণে এটি প্রভাব ফেলে। যদি নতুন পক্ষ সংযোজিত হওয়ার আগেই তামাদি মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, তাহলে সেই পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা অগ্রহণযোগ্য হতে পারে।

উদাহরণ:
→  মূল মামলা দায়ের: ১ জানুয়ারি ২০১৫।
→ নতুন বিবাদী সংযোজন: ১ মার্চ ২০১৭।
- নতুন বিবাদীর জন্য মামলা দায়েরের তারিখ গণ্য হবে ১ মার্চ ২০১৭, মূল মামলা দায়েরের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০১৫ নয়।

অর্থাৎ The Limitation Act, 1908-এর ২২(১) ধারা অনুযায়ী, নতুন বাদী বা বিবাদী সংযোজনের ক্ষেত্রে তার জন্য মামলাটি সংযোজন বা প্রতিস্থাপনের দিন থেকে দায়ের হয়েছে বলে গণ্য হবে।
১৬.
একজন জুনিয়র অ্যাডভোকেট যদি সিনিয়রের সাথে মামলা পরিচালনা করেন, তাহলে কাকে মামলা পরিচালনার নেতৃত্ব দিতে হবে?
  1. জুনিয়র অ্যাডভোকেট
  2. সিনিয়র অ্যাডভোকেট
  3. মক্কেল যাকে অনুমতি দেয়
  4. আদালত যাকে অনুমতি দেয়
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) সিনিয়র অ্যাডভোকেট।

⇒ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের Canons of Professional Conduct and Etiquette, 1969 অনুযায়ী, যদি কোনো মামলায় একাধিক অ্যাডভোকেট নিযুক্ত থাকেন, তাহলে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মামলার নেতৃত্ব প্রদান করবেন, আর জুনিয়র অ্যাডভোকেট তাকে সহায়তা করবেন।

এটি বার কাউন্সিলের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং আদালতের কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জুনিয়র অ্যাডভোকেটরা সিনিয়রের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে পারেন এবং সময়ের সঙ্গে তারা নিজেরাও সিনিয়র হয়ে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হন।

তাই, মক্কেল বা আদালতের অনুমতির বিষয়টি এখানে প্রযোজ্য নয়; সিনিয়র অ্যাডভোকেটই নেতৃত্ব দেবেন।
১৭.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-১১৬ অনুযায়ী, লিখিত এবং নিবন্ধিত চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা কতদিনের মধ্যে দায়ের করা যাবে?
  1. ১ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১১৬ অনুযায়ী, লিখিত এবং নিবন্ধিত চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ ৬ বছর। এই মেয়াদ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ থেকে গণনা শুরু হয়।
• লিখিত এবং নিবন্ধিত চুক্তি বলতে এমন চুক্তিকে বোঝায় যা লিখিত আকারে তৈরি করা হয়েছে এবং আইনগতভাবে নিবন্ধিত (রেজিস্ট্রি) করা হয়েছে।
• চুক্তিভঙ্গ বলতে চুক্তির শর্তাবলি লঙ্ঘন করা বা চুক্তি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন না করাকে বোঝায়।
এই মামলা দায়ের করার জন্য চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ থেকে ৬ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে।
- যদি এই সময়সীমার মধ্যে মামলা দায়ের না করা হয়, তবে মামলা গ্রহণযোগ্য হবে না।
১৮.
"কোনো নারী শুধুমাত্র তার লিঙ্গের কারণে আইনজীবী হিসেবে প্রবেশের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা যাবে না" – এটি বাংলাদেশ বার কাউন্সিল আদেশ, ১৯৭২ এর কোন অনুচ্ছেদের অংশ?
  1. অনুচ্ছেদ ২৭
  2. অনুচ্ছেদ ২৮
  3. অনুচ্ছেদ ২৯
  4. অনুচ্ছেদ ৩০
ব্যাখ্যা
⇒ "কোনো নারী শুধুমাত্র তার লিঙ্গের কারণে আইনজীবী হিসেবে প্রবেশের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা যাবে না" বিষয়টি বাংলাদেশ বার কাউন্সিল আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ২৮-এ উল্লেখ করা হয়েছে।
- এই অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, নারীদের লিঙ্গের কারণে আইনজীবী হিসেবে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য করা যাবে না।
- অর্থাৎ, শুধুমাত্র নারীর লিঙ্গের কারণে তাকে আইনজীবী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা সৃষ্টি করা হবে না।

অনুচ্ছেদ ২৭, ২৯, এবং ৩০-এ এই বিষয়টি আলোচিত হয়নি, তাই সঠিক উত্তর হলো অনুচ্ছেদ ২৮।

→ The Bangladesh Legal Practitioner's and Bar Council Order, 1972 (President's Order) Article-28.
- No woman shall be disqualified for admission to be an advocate for reason only of her sex.
১৯.
বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স এবং বার কাউন্সিল আদেশ অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে কত দিনের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করতে হবে?
  1. আদেশ প্রাপ্তির দিন থেকে ৩০ দিনের মধ্যে
  2. আদেশ প্রাপ্তির দিন থেকে ৬০ দিনের মধ্যে
  3. আদেশ প্রাপ্তির দিন থেকে ৯০ দিনের মধ্যে
  4. আদেশ প্রাপ্তির দিন থেকে ১২০ দিনের মধ্যে
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স এবং বার কাউন্সিল আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৩৬(১) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি ট্রাইব্যুনালের আদেশ দ্বারা সংক্ষুব্ধ হন, তাহলে তিনি আদেশ প্রাপ্তির দিন থেকে ৯০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের করতে পারবেন। এই সময়সীমা আইন দ্বারা নির্ধারিত এবং এর ব্যতিক্রম করা যায় না।
-------
⇒ The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council order 1972: Article-36.
- (1) Any person aggrieved by an order of a Tribunal under Article 34 may, within ninety days from the date of the communication of the order to him, prefer an appeal to the High Court.
(2) Every such appeal shall be heard by a Division Bench of the High Court which may pass such order thereon as it may deem fit and the order of the High Court shall be final.
২০.
The Limitation Act, 1908-এর ২৩ ধারা অনুসারে অবিরাম চুক্তিভঙ্গ বা অন্যায় সংঘটিত হলে তামাদির গণনা কখন শুরু হয়?
  1. আদালতে মামলা দায়েরের দিন থেকে
  2. ক্ষতিপূরণের দাবি উত্থাপনের দিন থেকে
  3. চুক্তিভঙ্গ বা অন্যায় সংঘটনের প্রথম দিন থেকে
  4. অবিরাম চুক্তিভঙ্গ বা অন্যায় চলাকালীন প্রতিটি মুহূর্তে
ব্যাখ্যা
⇒ The Limitation Act, 1908-এর ২৩ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো অবিরাম চুক্তিভঙ্গ (Continuing Breach of Contract) বা অবিরাম অন্যায় (Continuing Wrong) সংঘটিত হয়, তাহলে তামাদির মেয়াদ প্রতিটি মুহূর্তে নতুন করে শুরু হয়, যতক্ষণ না ওই চুক্তিভঙ্গ বা অন্যায় বন্ধ হয়।

উদাহরণ:
- পরিবেশ দূষণ (Pollution Cases):
যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে কোনো নদী বা বায়ু দূষণ করছে, তবে প্রতিদিনই নতুন করে অন্যায় সংঘটিত হচ্ছে।
ফলে তামাদির গণনা প্রতিদিন নতুন করে শুরু হবে, যতক্ষণ না দূষণ বন্ধ হয়।

অর্থাৎ যতদিন অন্যায় চলতে থাকবে, ততদিন তামাদির গণনা চলবে এবং নতুন করে মামলা দায়েরের সুযোগ থাকবে।

⇒ The Limitation Act, 1908 এর ২৩ ধারার বিধান অবিরাম চুক্তিভঙ্গ বা অন্যায় করা:
- যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি ভঙ্গ করা হয় এবং যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি নিরপেক্ষভাবে অন্যায় করা হয়, সেক্ষেত্রে চুক্তি ভঙ্গ বা অন্যায় চলাকালীন সময়ের প্রতি মুহূর্তেই নূতন করিয়া তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হইতে শুরু করে।
- এমন অনেক চুক্তি রহিয়াছে, যাহা ভঙ্গ হইলে প্রতি মুহূর্তে নালিশের কারণ উদ্ভব হইতে পারে। চুক্তি বহির্ভূত এমন অনেক লোকসান রহিয়াছে, যাহা প্রতিমুহূর্তে নালিশের কারণের উদ্ভব ঘটায়। এইসব ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ প্রতি মুহূর্তে বৃদ্ধি পায়।
----------
⇒ The Limitation Act, 1908: Section-23: Continuing breaches and wrongs:
In the case of a continuing breach of contract and in the case of a continuing wrong independent of contract, a fresh period of limitation begins to run at every moment of the time during which the breach or the wrong, as the case may be, continues.
২১.
একজন অ্যাডভোকেট কখনই পেশাগতভাবে এমন পরামর্শ দেবেন না, যা—
  1. ক্লায়েন্টের স্বার্থ রক্ষা করে
  2. মামলা জেতার সম্ভাবনা বাড়ায়
  3. আইন লঙ্ঘনের পরামর্শ দেয়
  4. আদালতে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করতে সাহায্য করে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) আইন লঙ্ঘনের পরামর্শ দেয়।
⇒ একজন অ্যাডভোকেটের প্রধান দায়িত্ব হলো আইন মেনে ও নৈতিকতা বজায় রেখে তার ক্লায়েন্টকে আইনি পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করা। তিনি কখনোই এমন পরামর্শ দিতে পারেন না, যা আইন লঙ্ঘন করে বা অন্যায় কাজে সহায়তা করে।

→ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পেশাগত আচরণ বিধি, ১৯৬৯-এর Chapter II, Conduct with Regard to Clients-এর ৮ নম্বর নীতি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে:
"An Advocate in his professional capacity shall not advise the violation of any law. This rule shall not apply to advice given in good faith, that a law is invalid."
অর্থাৎ, একজন অ্যাডভোকেট কোনো আইন লঙ্ঘনের পরামর্শ দিতে পারবেন না।
তবে, যদি তিনি ন্যায়সঙ্গত কারণে বিশ্বাস করেন যে কোনো আইন অবৈধ বা অসাংবিধানিক, তাহলে তিনি সেক্ষেত্রে যুক্তি উপস্থাপন করতে পারেন।

⇒ সুতরাং, একজন অ্যাডভোকেটকে অবশ্যই তার ক্লায়েন্টের পক্ষে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দক্ষতার সাথে মামলা পরিচালনা করতে হবে, তবে তিনি কখনোই আইন লঙ্ঘনের পরামর্শ দিতে বা অন্যায় কাজে সহায়তা করতে পারেন না।
২২.
The Limitation Act, 1908-এর ২৪ ধারা অনুসারে, বিশেষ ক্ষতি ছাড়া কোনো কার্য যা মামলার কারণ সৃষ্টি করে না, সেই ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ গণনা করা হয় কখন থেকে?
  1. কার্য সংঘটিত হওয়ার দিন থেকে
  2. ক্ষতি সৃষ্টি হওয়ার দিন থেকে
  3. আদালতের নির্দেশ অনুসারে
  4. মামলা দায়ের করার দিন থেকে
ব্যাখ্যা
উত্তর: (খ) ক্ষতি সৃষ্টি হওয়ার দিন থেকে। 
⇒ The Limitation Act, 1908-এর ২৪ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো কার্য কেবল তখনই মামলার কারণ সৃষ্টি করে যখন তা থেকে প্রকৃত ক্ষতি হয়, তাহলে তামাদির মেয়াদ সেই ক্ষতি সংঘটিত হওয়ার সময় থেকে গণনা করা হবে।

উদাহরণ:
- একজন ব্যক্তি জমির উপরের স্তরের মালিক, আর অন্যজন নিচের স্তরের মালিক। নিচের স্তরের মালিক মাটির নিচ থেকে কয়লা উত্তোলন করলেন, কিন্তু এতে জমির উপরিভাগে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষতি হলো না। পরে একদিন, জমির উপরিভাগ ধসে পড়ল।
- এই ক্ষেত্রে, জমির মালিক যখনই ধসের কারণে প্রকৃত ক্ষতির সম্মুখীন হলেন, তখন থেকেই তামাদির মেয়াদ শুরু হবে।

→ অর্থাৎ কোনো কার্য তাৎক্ষণিকভাবে মামলার কারণ সৃষ্টি না করলে, বরং পরে ক্ষতি হলে, তখন তামাদির গণনা সেই ক্ষতির সময় থেকে শুরু হয়।
২৩.
তামাদি আইনের ৯ ধারা অনুসারে, যদি কোনো ঋণগ্রহীতাকে ঋণদাতার সম্পত্তির প্রশাসক নিযুক্ত করা হয়, তাহলে তামাদির মেয়াদ কী হবে?
  1. তামাদির মেয়াদ স্থগিত হবে
  2. তামাদির মেয়াদ বন্ধ হবে
  3. তামাদির মেয়াদ বাড়বে
  4. তামাদির মেয়াদ প্রভাবিত হবে না
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) তামাদির মেয়াদ স্থগিত হবে।
তামাদি আইনের ৯ ধারায় বলা হয়েছে —
 একবার তামাদির সময় গণনা শুরু হলে, কোনো পরবর্তী অক্ষমতা বা আইনি বাধা সেটি বন্ধ করতে পারবে না।
তবে একটি ব্যতিক্রম রয়েছে:
 যদি কোনো ঋণগ্রহীতাকে ঋণদাতার সম্পত্তির প্রশাসক নিযুক্ত করা হয়, তাহলে তামাদির মেয়াদ স্থগিত থাকবে যতক্ষণ প্রশাসন কার্যক্রম চলবে।

 এই বিধান ঋণদাতা এবং ঋণগ্রহীতার মধ্যে স্বার্থের দ্বন্দ্ব এড়ানোর জন্য রাখা হয়েছে, কারণ একজন ঋণগ্রহীতা যদি একইসঙ্গে ঋণদাতার সম্পত্তির প্রশাসক হন, তাহলে তিনি কার্যত নিজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবেন না। তাই এই অবস্থায় তামাদির সময় গণনা স্থগিত থাকে।

অন্যঅপশন বিশ্লেষণ:
 (খ) তামাদির মেয়াদ বন্ধ হবে – এটি ভুল, কারণ তামাদির মেয়াদ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয় না, বরং সাময়িকভাবে স্থগিত থাকে এবং প্রশাসন শেষ হলে পুনরায় গণনা শুরু হয়।
 (গ) তামাদির মেয়াদ বাড়বে – এটি ভুল, কারণ সময় বৃদ্ধি পায় না, বরং প্রশাসনের সময়সীমা বাদ দিয়ে বাকি সময় গণনা করা হয়।
 (ঘ) তামাদির মেয়াদ প্রভাবিত হবে না – এটি ভুল, কারণ ঋণগ্রহীতার প্রশাসক হওয়ার ফলে তামাদির সময় গণনা স্থগিত থাকে।

 অর্থাৎ তামাদি আইনের ৯ ধারা অনুসারে, যদি কোনো ঋণগ্রহীতাকে ঋণদাতার সম্পত্তির প্রশাসক নিযুক্ত করা হয়, তাহলে তামাদির মেয়াদ প্রশাসন চলাকালীন স্থগিত থাকবে।
------------
⇒ The Limitation Act:- Section- 9. Continuous running of time:
Where once time has begun to run, no subsequent disability or inability to sue stops it: 
Provided that where letters of administration to the estate of a creditor have been granted to his debtor, the running of the time prescribed for a suit to recover the debt shall be suspended while the administration continues.
২৪.
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল আদেশ, ১৯৭২ এর কোন অনুচ্ছেদে ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের বিধান রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৩৪
  2. অনুচ্ছেদ ৩৫
  3. অনুচ্ছেদ ৩৬
  4. অনুচ্ছেদ ৩৭
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৩৬-এ ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার বিধান রয়েছে। এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, যদি কোনো ব্যক্তি ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হন, তাহলে তিনি ৯০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করতে পারেন। এবং এই আপিলটি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি হবে এবং ডিভিশন বেঞ্চের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
-------
⇒ The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council order 1972: Article-36.
- (1) Any person aggrieved by an order of a Tribunal under Article 34 may, within ninety days from the date of the communication of the order to him, prefer an appeal to the High Court.
(2) Every such appeal shall be heard by a Division Bench of the High Court which may pass such order thereon as it may deem fit and the order of the High Court shall be final.
২৫.
যদি কোনো লিখিত দায় স্বীকারে তারিখ উল্লেখ না থাকে, তাহলে তারিখ সম্পর্কে কী প্রমাণ দেওয়া যাবে?
  1. অন্য লিখিত প্রমাণ
  2. মৌখিক প্রমাণ
  3. আদালতের নির্দেশ অনুসারে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
⇒ The Limitation Act, 1908-এর ১৯ ধারা অনুসারে, যদি কোনো লিখিত দায় স্বীকার (acknowledgment) এ তারিখ উল্লেখ না থাকে, তাহলে তারিখ সম্পর্কে মৌখিক প্রমাণ দেওয়া যাবে। অর্থাৎ, স্বাক্ষরকারী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মৌখিকভাবে তারিখ সম্পর্কে সাক্ষ্য দিতে পারবেন।

- এই ধারাটির উদ্দেশ্য হলো, দায় স্বীকারের তারিখ নির্ধারণ করা যাতে তামাদির মেয়াদ সঠিকভাবে গণনা করা যায়। তবে, Evidence Act, 1872-এর বিধান অনুসারে, দায় স্বীকারের বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক প্রমাণ গ্রহণযোগ্য নয়, শুধুমাত্র তারিখ সম্পর্কে মৌখিক প্রমাণ দেওয়া যাবে।

সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো: খ) মৌখিক প্রমাণ।
---------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section- 19. Effect of acknowledgement in writing:
(1) Where, before the expiration of the period prescribed for a suit or application in respect of any property or right, an acknowledgement of liability in respect of such property or right has been made in writing signed by the party against whom such property or right is claimed, or by some person through whom he derives title or liability, a fresh period of limitation shall be computed from the time when the acknowledgement was so signed. 
 
(2) Where the writing containing the acknowledgement is undated, oral evidence may be given of the time when it was signed; but, subject to the provisions of the Evidence Act, 1872, oral evidence of its contents shall not be received. 
 
Explanation I - For the purposes of this section an acknowledgement may be sufficient though it omits to specify the exact nature of the property or right, or avers that the time 
for payment, delivery, performance or enjoyment has not yet come, or is accompanied by a refusal to pay, deliver, perform or permit to enjoy, or is coupled with a claim to a set-off, or is addressed to a person other than the person entitled to the property or right. 
Explanation II - For the purposes of this section, “signed” means signed either personally or by an agent duly authorized in this behalf. 
Explanation III - For the purposes of this section an application for the execution of a decree or order is an application respect of a right.
২৬.
যদি কোনো হিন্দু ব্যক্তি একটি প্রমিসরি নোট তৈরি করে যাতে শুধুমাত্র নেটিভ তারিখ উল্লেখ থাকে, তাহলে তামাদির মেয়াদ গণনা করা হবে-
  1. নেটিভ তারিখ অনুসারে
  2. গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে
  3. বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসারে
  4. হিজরি ক্যালেন্ডার অনুসারে
ব্যাখ্যা
উত্তর: (খ) গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে।
⇒ The Limitation Act, 1908-এর ২৫ ধারা অনুযায়ী, তামাদির মেয়াদ গণনার জন্য সকল দলিল (instrument) গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে বিবেচিত হবে।

উদাহরণ:
- একজন হিন্দু ব্যক্তি একটি প্রমিসরি নোট তৈরি করলেন, যেখানে শুধুমাত্র নেটিভ (দেশীয়) তারিখ উল্লেখ আছে এবং বলা হলো চার মাস পরে পরিশোধ করতে হবে।
- এই ক্ষেত্রে, চার মাসের সময় গণনার জন্য গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী হিসাব করা হবে, নেটিভ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নয়।

অর্থাৎ যদি কোনো দলিল বা চুক্তিপত্রে দেশীয় তারিখ (যেমন বাংলা, হিজরি বা অন্য কোনো স্থানীয় ক্যালেন্ডার) ব্যবহার করা হয়, তবুও তামাদির মেয়াদ নির্ধারণের জন্য শুধুমাত্র গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারই প্রযোজ্য হবে।
----------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section- 25. Computation of time mentioned in instruments:
All instruments shall, for the purposes of this Act, be deemed to be made with reference to the Gregorian calendar. 

Illustrations:

(a) A Hindu makes a promissory note bearing a Native date only, and payable four months after date. The period of limitation applicable to a suit on the note runs from the expiration of four months after date computed according to the Gregorian calendar. 
 
(b) A Hindu makes a bond, bearing a Native date only, for the repayment of money within one year. The period of limitation applicable to a suit on the bond runs from the expiration of one year after date computed according to the Gregorian Calendar.
২৭.
তামাদি আইন অনুসারে, যদি কেউ একাধিক অপারগতায় পতিত হয়, তবে সে কখন মামলা দায়ের করতে পারবে?
  1. আদালতের নির্দেশে
  2. যখনই তার প্রতিনিধি চায়
  3. প্রথম অপারগতা শেষ হওয়ার পর
  4. সব অপারগতার অবসান হওয়ার পর
ব্যাখ্যা
⇒ The Limitation Act, 1908-এর ৬(২) ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি একাধিক অপারগতায় পতিত হয় (যেমন, প্রথমে নাবালক থাকে এবং পরে উন্মাদ হয়ে যায়), তবে সে মামলা বা কার্যধারা দায়ের করতে পারবে তখনই, যখন তার সব অপারগতার অবসান ঘটে এবং সে আইনত সক্ষম হয়।
অর্থাৎ, যদি তামাদি গণনার শুরুর সময় ব্যক্তি নাবালক থাকে এবং এরপর উন্মাদনায় আক্রান্ত হয়, তবে সে তখনই মামলা দায়ের করতে পারবে, যখন সে উভয় অপারগতা থেকে মুক্ত হবে।

উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যক্তি নাবালক এবং উন্মাদ উভয় অবস্থায় থাকে, তাহলে তামাদির মেয়াদ গণনা তখনই শুরু হবে যখন সে নাবালকতা এবং উন্মাদনা উভয় অপারগতা থেকে মুক্ত হবে।

সুতরাং, একাধিক অপারগতার ক্ষেত্রে, মামলা দায়েরের সময় গণনার জন্য সব অপারগতার অবসান হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এজন্য ৬(২) ধারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে ব্যক্তি তখনই মামলা করতে পারবে, যখন তার সব অপারগতা দূর হবে এবং সে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।
২৮.
দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ৩৭ আদেশ অনুযায়ী ঋণ আদায়ের মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ১ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৬৪ক অনুযায়ী, দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ৩৭ আদেশ মোতাবেক ঋণ আদায়ের মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ ৩ বছর। এই মেয়াদ ঋণ পরিশোধযোগ্য হওয়ার তারিখ থেকে গণনা শুরু হয়।
- ৩৭ আদেশ দেওয়ানী কার্যবিধিতে ঋণ আদায়ের মামলার প্রক্রিয়া ও সময়সীমা সম্পর্কে বিধান রয়েছে।
- ঋণ পরিশোধযোগ্য হওয়ার তারিখ বলতে সেই তারিখকে বোঝায় যখন ঋণ পরিশোধের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়।
যদি এই ৩ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের না করা হয়, তবে মামলা গ্রহণযোগ্য হবে না।
২৯.
বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স এবং বার কাউন্সিল রুলস অনুযায়ী, অ্যাডভোকেটগণ শপথ গ্রহণ করেন কখন?
  1. বার কাউন্সিলে আবেদন করার সময়
  2. বার অ্যাসোসিয়েশনে যোগদানের সময়
  3. আদালতে প্রথম মামলা পরিচালনার সময়
  4. বার কাউন্সিলে তালিকাভুক্তির পর সনদ গ্রহণের প্রাক্কালে
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স এবং বার কাউন্সিল রুলস, ১৯৭২ এর বিধি ৬২(২) অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি বার কাউন্সিলে অ্যাডভোকেট হিসাবে তালিকাভুক্তির পর সনদ (সার্টিফিকেট) গ্রহণের পূর্বে শপথ গ্রহণ করেন। এই শপথের মাধ্যমে অ্যাডভোকেটগণ সংবিধান মেনে চলা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং বার কাউন্সিল কর্তৃক প্রণীত শিষ্টাচার সংক্রান্ত বিধি-বিধান মেনে চলার অঙ্গীকার করেন।
→ সুতরাং, বার কাউন্সিলে তালিকাভুক্তির পর সনদ গ্রহণের প্রাক্কালে (বিকল্প ঘ) শপথ গ্রহণ করা হয়, যা সঠিক উত্তর।

অ্যাডভোকেটের শপথ:
- অ্যাডভোকেটগণ আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকেন। সামাজিক সুবিচার এবং জনগণের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় তাদের ভূমিকা অসামান্য। সংবিধান ব্যাখ্যা এবং সংবিধান সুরক্ষার দায়িত্বও তাদের উপর বর্তায়। সংবিধানের প্রাধান্য রক্ষা করা অন্যান্যদের মত অ্যাডভোকেটগণের রয়েছে। অ্যাডভোকেটগণ যাতে সংবিধান মেনে চলেন এবং বার কাউন্সিল কর্তৃক প্রণীত শিষ্টাচার সংক্রান্ত বিধি বিধান মেনে চলেন সে জন্য ১৯৯৯ সনের ৩রা জুন তারিখে প্রকাশিত গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল রুলস, ১৯৭২-এর ৬২(২) বিধি প্রতিস্থাপন করে উহাতে নিম্ন লিখিত শপথ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বার কাউন্সিলে অ্যাডভোকেট হিসাবে তালিকাভুক্তির পর সনদ গ্রহণের প্রাক্কালে অ্যাডভোকেটগণ ঐ শপথ গ্রহণ করে থাকেন।
-------------------
⇒ The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Rules, 1972-Rule-62(2) The certificate of enrolment shall then be issued to the advocate on his application to the Bar Council through the Bar Association after his admission as a member thereof in such manner and on fulfillment of such conditions as may be decided by the Bar Council upon taking such oath as prescribed.
৩০.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৪০ অনুযায়ী, গ্রন্থস্বত্ব বা অন্য কোনো বিশেষ সুবিধা লঙ্ঘনের ক্ষতিপূরণের মামলা কতদিনের মধ্যে দায়ের করা যাবে?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা
⇒  তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৪০ অনুযায়ী, গ্রন্থস্বত্ব (Copyright) বা অন্য কোনো বিশেষ সুবিধা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ ৩ বছর। এই মেয়াদ লঙ্ঘনের তারিখ থেকে গণনা শুরু হয়।
• গ্রন্থস্বত্ব লঙ্ঘন বলতে কোনো লেখা, সংগীত, শিল্পকর্ম বা অন্যান্য মৌলিক সৃষ্টির স্বত্ব (Copyright) লঙ্ঘনকে বোঝায়।
• বিশেষ সুবিধা লঙ্ঘন বলতে পেটেন্ট, ট্রেডমার্ক বা অন্য কোনো আইনগত অধিকার লঙ্ঘনকে বোঝায়।
- এই মামলা দায়ের করার জন্য লঙ্ঘনের তারিখ থেকে ৩ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে।
- যদি এই সময়সীমার মধ্যে মামলা দায়ের না করা হয়, তবে মামলা গ্রহণযোগ্য হবে না।
৩১.
তামাদি আইনের ২৯ ধারা অনুসারে, নিচের কোন মোকদ্দমার ক্ষেত্রে তামাদি আইন প্রযোজ্য নয়?
  1. ঋণ আদায়ের মোকদ্দমা
  2. চুক্তি আইনের অধীনে মোকদ্দমা
  3. ডিভোর্স আইনের অধীনে মোকদ্দমা
  4. সম্পত্তি আইনের অধীনে মোকদ্দমা
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ২৯ ধারা অনুযায়ী, ডিভোর্স আইন (Divorce Act) এর অধীনে দায়ের করা কোনো মোকদ্দমা তামাদি আইনের আওতায় আসে না।
- এই আইন অনুযায়ী, ডিভোর্স সম্পর্কিত মামলাগুলির জন্য আলাদা তামাদি আইন প্রযোজ্য হতে পারে এবং তামাদি আইনের সাধারণ বিধানগুলি এই ধরনের মোকদ্দমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

⇒ তামাদি আইনের ২৯ ধারা সংরক্ষণ:
(১) এই আইনের কোনো বিধান ১৮৭২ সালের চুক্তি আইনের ২৫ ধারাকে প্রভাবিত করবে না।
(২) যেক্ষেত্রে কোনো বিশেষ আইনে কোনো মামলা, আপিল বা দরখাস্তের জন্য এই আইনের প্রথম তফসিলে নির্ধারিত মেয়াদ অপেক্ষা ভিন্নতর মেয়াদের বিধান রয়েছে, সেক্ষেত্রে এই আইনের ৩ ধারার বিধানসমূহ এইরূপভাবে প্রযোজ্য হবে, যেন উক্ত ভিন্নতর মেয়াদ এই আইনের উক্ত তফসিলেই নির্ধারিত হয়েছে এবং কোন বিশেষ আইনের বিধান অনুসারে কোন মামলা, আপিল বা দরখাস্তের তামাদির মেয়াদ গণনার উদ্দেশ্যে-
ক. এই আইনের ৪ ধারা, ৯ হতে ১৮ ধারা ও ২২ ধারার বিধানসমূহ সেই পরিমাণে প্রযোজ্য হবে, যে পরিমাণ তা উক্ত বিশেষ আইনের স্পষ্ট বহির্ভূত নয়; এবং
খ. এই আইনের অবশিষ্ট বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে না।
(৩) এই আইনের কোন বিধান বিবাহ-বিচ্ছেদ আইন, ১৮৬৯ অনুসারে আনীত মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
(৪) যে সকল এলাকায় ১৮৮২ সালের সুখাধিকার আইনের আওতায় আপাতত সম্প্রসারিত করা হবে, সেই সকল এলাকা। হতে উদ্ভূত মামলার ক্ষেত্রে আইনের ২৬ ও ২৭ ধারা এবং ২ ধারায় বর্ণিত 'সুখাধিকার' এবং সংজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।
----------
⇒ The Limitation Act:- Section- 29. Savings:
(1) Nothing in this Act shall affect section 25 of the Contract Act, 1872. 
(2) Where any special law prescribes for any suit, appeal or application a period of limitation different from the period prescribed therefore by the first schedule, the provision of section 3 shall apply, as if such period were prescribed therefor in that schedule, and for the purpose of determining any period of limitation prescribed for any suit, appeal or application by any special law- 
(a) the provisions contained in section 4, sections 9 to 18, and section 22 shall apply only in so far as, and to the extent to which, they are not expressly excluded by such special  law; and 
(b) the remaining provisions of this Act shall not apply. 
(3) Nothing in this Act shall apply to suits under the Divorce Act. 
(4) Sections 26 and 27 and the definition of “easement” in section 2 shall not apply to cases arising in territories to which the Easements Act, 1882, may for the time being extend.
৩২.
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পেশাগত আচরণবিধি ও শিষ্টাচার অনুযায়ী, একজন অ্যাডভোকেট কখন অন্য কোনো পেশা গ্রহণ করতে পারবেন না?
  1. যদি তা শুধুমাত্র বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে হয়
  2. যদি তা আদালতের অনুমোদন ছাড়া হয়
  3. যদি তা আইন পেশার সাথে সাংঘর্ষিক হয়
  4. যদি তা তার ব্যক্তিগত সময় ব্যস্ত করে ফেলে
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পেশাগত আচরণবিধি ও শিষ্টাচার অনুযায়ী, একজন অ্যাডভোকেটের মূল দায়িত্ব হলো আইন পেশা পরিচালনা করা এবং এর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য রাখা। তাই, তিনি এমন কোনো পেশা গ্রহণ করতে পারবেন না যা তার আইন পেশার দায়িত্বের সাথে সাংঘর্ষিক হয় বা তার পেশাগত স্বাধীনতাকে ব্যাহত করে।

→ বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ক্যাননস অব প্রফেশনাল কন্ডাক্ট অ্যান্ড এটিকেট, ১৯৬৯ এর অধ্যায় IV, বিধি ৮ অনুযায়ী, একজন অ্যাডভোকেট সাধারণত অন্য কোনো পেশা বা ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন না, যদি তা আইন পেশার সাথে সাংঘর্ষিক হয়। অ্যাডভোকেটের মূল দায়িত্ব হলো আইন পেশার মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা। অন্য কোনো পেশা বা ব্যবসা যদি এই মূলনীতির সাথে সংঘাত তৈরি করে বা অ্যাডভোকেটের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে তা গ্রহণ করা নিষিদ্ধ।

→ উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো অ্যাডভোকেট এমন কোনো ব্যবসা বা পেশায় জড়িত হন যা আইন পেশার স্বাধীনতা বা নৈতিকতার পরিপন্থী, যেমন—কোনো অবৈধ কার্যকলাপে জড়িত হওয়া বা এমন কোনো পেশা যা আদালতের প্রতি তার আনুগত্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, তাহলে তা গ্রহণ করা যাবে না।

অতএব, সঠিক উত্তর হলো গ) যদি তা আইন পেশার সাথে সাংঘর্ষিক হয়।
৩৩.
অবৈধ ক্রিয়া (Malfeasance), অনুচিত ক্রিয়া (Misfeasance) বা নিষ্ক্রিয়তার (Nonfeasance) ফলে ক্ষতিপূরণের মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৩৬ অনুযায়ী, অবৈধ ক্রিয়া, অনুচিত ক্রিয়া বা নিষ্ক্রিয়তার ফলে ক্ষতিপূরণের মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ ২ বছর।
-
এই মেয়াদ অবৈধ কাজ, অনুচিত কাজ বা নিষ্ক্রিয়তা সংঘটিত হওয়ার তারিখ থেকে গণনা শুরু হয়।
৩৪.
বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স এবং বার কাউন্সিল রুলস, ১৯৭২-এর ২৮ বিধি অনুযায়ী, প্রথম সভা আহ্বান করবেন কে?
  1. বার কাউন্সিলের সভাপতি
  2. বার কাউন্সিলের সম্পাদক
  3. বার কাউন্সিলের ট্রেজারার
  4. বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি
ব্যাখ্যা
→ বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স এবং বার কাউন্সিল রুলস, ১৯৭২ এর ২৮ বিধি অনুযায়ী, বার কাউন্সিলের প্রথম সভা আহ্বানের দায়িত্ব বার কাউন্সিলের সম্পাদক এর উপর বর্তায়। এই বিধিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বার কাউন্সিলের মেয়াদ শুরুর তারিখ থেকে ১ মাসের মধ্যে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত করতে হবে এবং এই সভা আহ্বানের দায়িত্ব সম্পাদকের।
- সুতরাং, বার কাউন্সিলের সম্পাদক প্রথম সভা আহ্বান করেন, যা সঠিক উত্তর।

⇒ The Bangladesh legal practitioners and Bar council rules 1972 এর ২৮ বিধিতে বলা হয়েছে বার কাউন্সিলের মেয়াদ শুরুর তারিখ হতে ১ মাসের মধ্যে প্রথম সভা আয়োজন করতে হবে। বার কাউন্সিলের সম্পাদক প্রথম সভা আহ্বান করবেন।
--------------
⇒ The Bangladesh legal practitioners and Bar council rules 1972: Rules-28. The first meeting of a Bar Council shall be held within a month of the commencement of the term of the Bar Council and the Secretary shall convené such meeting. The meeting will be presided over by a member voted to chair.
৩৫.
মিথ্যা বা অন্যায় কারাদণ্ড (False Imprisonment) ভোগের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ের মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৯ অনুযায়ী, মিথ্যা বা অন্যায় কারাদণ্ড ভোগের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ের মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ ১ বছর।
- এই মেয়াদ কারাদণ্ড শেষ হওয়ার তারিখ থেকে গণনা শুরু হয়।
৩৬.
তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ১৫০ অনুচ্ছেদ অনুসারে, মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলের তামাদি মেয়াদ গণনা করা হয় কখন থেকে?
  1. দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে
  2. মামলা দায়েরের তারিখ থেকে
  3. আপিল দায়েরের তারিখ থেকে
  4. আপিল আদালতের রায় ঘোষণার তারিখ থেকে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ক) দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে।

⇒ তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ১৫০ অনুচ্ছেদ অনুসারে, মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করার জন্য তামাদির মেয়াদ গণনা করা হয় দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে। এই বিধানটি ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করার জন্য ৭ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে।
- এই সময়সীমা দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে গণনা করা হয়, যা আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডাদেশ ঘোষণার তারিখকে নির্দেশ করে।
এই সংক্ষিপ্ত সময়সীমা দেওয়া হয়েছে কারণ মৃত্যুদণ্ড একটি গুরুতর শাস্তি এবং এর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি প্রতিকার পাওয়া জরুরি।

উদাহরণ:
যদি কোনো ব্যক্তিকে দায়রা আদালত বা হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করে, তাহলে সেই ব্যক্তি বা তার আইনগত প্রতিনিধি দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে ৭ দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করতে পারবেন।
৩৭.
"একজন আইনজীবী তার পেশা স্থগিত করতে পারেন" – এটি বার কাউন্সিল আদেশ, ১৯৭২ এর কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ২৮
  2. অনুচ্ছেদ ২৯
  3. অনুচ্ছেদ ৩১
  4. অনুচ্ছেদ ৩৪
ব্যাখ্যা
⇒ "একজন আইনজীবী তার পেশা স্থগিত করতে পারেন" বিষয়টি অনুচ্ছেদ ৩১-এ উল্লেখ করা হয়েছে।
- এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, একজন আইনজীবী তার পেশা স্থগিত করার জন্য একটি নির্ধারিত পদ্ধতিতে তা করতে পারবেন, তবে সেই পদ্ধতি কী হবে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্বারা নির্ধারিত হবে।

অনুচ্ছেদ ২৮ এবং ২৯-এ নারীদের আইনজীবী হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের লিঙ্গের ভিত্তিতে কোনো অযোগ্যতা রাখা যাবে না এবং আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। অনুচ্ছেদ ৩৪ এর সাথে এই প্রসঙ্গ সম্পর্কিত নয়।
এছাড়া, অনুচ্ছেদ ৩১-এ পেশা স্থগিতকরণের বিষয়ে স্পষ্টভাবে নির্দেশনা রয়েছে, যা অন্য অনুচ্ছেদে নেই।
------------------
 → The Bangladesh Legal Practitioner's and Bar Council Order, 1972 (President's Order) Article-31.
- An advocate may suspend his practice in such manner as may be prescribed. 
৩৮.
The Limitation Act, 1908-এর ৮ ধারার অধীনে, যদি একজন ব্যক্তি অপারগ হন, তবে তার অপারগতার অবসানের পর সর্বোচ্চ কত বছর সময় তিনি মামলা দায়ের করতে পারবেন?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৫ বছর
ব্যাখ্যা
→ The Limitation Act, 1908-এর ৮ ধারা অনুসারে, অগ্রক্রয়ের অধিকার সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে যদি কোনো ব্যক্তি অপারগ (যেমন নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি) অবস্থায় থাকে, তাহলে তার অপারগতা অবসানের পর (যেমন নাবালক সাবালক হলে বা উন্মাদ/জড়বুদ্ধি ব্যক্তি সুস্থ হলে) সর্বোচ্চ ৩ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে পারবে।

⇒ The Limitation Act, 1908-এর ৮ ধারা অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তি অপারগ (disability) হন, যেমন—নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি, তবে তার অপারগতার অবসানের পর সর্বোচ্চ ৩ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে।
৮ ধারার মূল বক্তব্য:
- তামাদি আইনের ৬ ও ৭ ধারা সাধারণত অপারগ ব্যক্তিদের জন্য সময়সীমা বাড়ানোর সুবিধা দেয়।
- কিন্তু ৮ ধারা অগ্রক্রয়ের অধিকার সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যতিক্রম হিসেবে কাজ করে।
- এই ধারা অনুযায়ী, অপারগতার অবসানের পর সর্বোচ্চ ৩ বছর সময় পাওয়া যাবে, এর বেশি নয়।
- যদি ব্যক্তির মৃত্যু হয় এবং তার আইনানুগ প্রতিনিধি অপারগ না হয়, তবে প্রতিনিধি মৃত্যুর পর ৩ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে পারবে।

উদাহরণ:
"ক" একজন নাবালক, যিনি অগ্রক্রয়ের অধিকার লাভ করেন।
-  সে ১১ বছর পর সাবালক হয়।
- অপারগতার অবসানের পর (অর্থাৎ সাবালক হওয়ার পর) সে সর্বোচ্চ ৩ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে পারবে।

সুতরাং, The Limitation Act, 1908-এর ৮ ধারা অনুসারে, অপারগতার অবসানের পর সর্বোচ্চ ৩ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে। এই সময়সীমা অগ্রক্রয়ের অধিকার সংক্রান্ত মামলায় ৬ ও ৭ ধারার প্রভাবকে সীমিত করে। ৩ বছরের বেশি সময়সীমা দেওয়া যাবে না, এমনকি ব্যক্তি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অপারগ থাকলেও।
৩৯.
যে ব্যক্তি বার কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হতে পারেন তার জন্য কি শর্তাবলী রয়েছে?
  1. তিনি একজন নাগরিক হতে হবে
  2. তার বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হবে
  3. তিনি অবশ্যই আইন গ্র্যাজুয়েট হতে হবে
  4. উক্ত সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২-এর ধারা ২৭ অনুযায়ী, বার কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার জন্য একজন ব্যক্তির নিম্নলিখিত শর্তাবলী পূরণ করতে হবে:
১. তিনি একজন নাগরিক হতে হবে:
- বাংলাদেশের নাগরিকত্ব থাকা আবশ্যক।
২. তার বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হবে:
- বার কাউন্সিলের সদস্য হওয়ার জন্য ন্যূনতম বয়স ২১ বছর।
৩. তিনি অবশ্যই আইন গ্র্যাজুয়েট হতে হবে:
- বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে ডিগ্রি অর্জন করতে হবে।
- অথবা পাকিস্তান বা ভারতের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে ডিগ্রি অর্জন করতে হবে (নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে)।
- অথবা বার কাউন্সিল কর্তৃক স্বীকৃত কোনো বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে ডিগ্রি অর্জন করতে হবে।
এই শর্তাবলী ছাড়াও বার কাউন্সিলের সদস্য হওয়ার জন্য প্রার্থীকে নির্দিষ্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে এবং বার কাউন্সিলের নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে।

অন্য অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
ক) তিনি একজন নাগরিক হতে হবে: এটি সঠিক, তবে এটি একমাত্র শর্ত নয়।
খ) তার বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হবে: এটি সঠিক, তবে এটি একমাত্র শর্ত নয়।
গ) তিনি অবশ্যই আইন গ্র্যাজুয়েট হতে হবে: এটি সঠিক, তবে এটি একমাত্র শর্ত নয়।
অতএব, সঠিক উত্তর হলো ঘ) উক্ত সবগুলো।
৪০.
What is the primary purpose of Article 41 of the Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972?
  1. To encourage unregistered practitioners
  2. To protect the integrity of the legal profession
  3. To reduce the number of advocates
  4. To allow non-advocates to practice law
ব্যাখ্যা
Answer: b) To protect the integrity of the legal profession.
- Article 41 aims to ensure that only qualified and registered advocates practice law, thereby protecting the integrity and standards of the legal profession.

⇒ The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972, 41. Any person who is not an advocate and practises the profession of law and any person who is not entitled under this Order to practise in the High Court practises before that Court shall be punishable with imprisonment for a term which may extend to six months.

⇒ অনুচ্ছেদ ৪১ এর মূল উদ্দেশ্য হলো আইন পেশার সততা রক্ষা করা এবং যারা আইন পেশায় অবৈধভাবে কাজ করছেন তাদের শাস্তি প্রদান করা। এটি নিশ্চিত করে যে, যারা আইন পেশায় অনুপ্রবেশ করতে চান তাদের আইনজীবী হিসেবে যথাযথ নিবন্ধন থাকতে হবে এবং তারা যদি কোনো আদালতে পেশা পরিচালনা করেন, তবে সেটি বৈধ হতে হবে। এই অনুচ্ছেদে এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে যারা আইন পেশায় অবৈধভাবে কাজ করবেন।

⇒ বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৪১-এর মূল উদ্দেশ্য হলো আইন পেশার সততা, মান এবং পেশাদারিত্ব রক্ষা করা। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি অ্যাডভোকেট না হয়ে আইন পেশা চালান বা হাইকোর্টে অনুশীলনের অধিকার না থাকা সত্ত্বেও হাইকোর্টে অনুশীলন করেন, তাহলে তাকে ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে।
এই বিধানটি নিশ্চিত করে যে শুধুমাত্র যোগ্য এবং নিবন্ধিত অ্যাডভোকেটরাই আইন পেশা অনুশীলন করতে পারবেন। এটি অবৈধভাবে আইন পেশা চালানো রোধ করে এবং আইন পেশার মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখে।

অন্য অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
ক) To encourage unregistered practitioners: এটি সঠিক নয়, কারণ এই বিধানটি অবৈধভাবে আইন পেশা চালানোকে নিরুৎসাহিত করে।
গ) To reduce the number of advocates: এটি সঠিক নয়, কারণ এই বিধানটি অ্যাডভোকেটের সংখ্যা কমানোর জন্য নয়, বরং যোগ্যতা ও নিবন্ধন নিশ্চিত করার জন্য।
ঘ) To allow non-advocates to practice law: এটি সঠিক নয়, কারণ এই বিধানটি অ্যাডভোকেট নয় এমন ব্যক্তিদের আইন পেশা চালানো নিষিদ্ধ করে।
অতএব, সঠিক উত্তর হলো খ) To protect the integrity of the legal profession।
৪১.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-১৮১ অনুযায়ী, যদি কোনো দরখাস্ত দাখিলের তামাদির মেয়াদ তফসিলে উল্লেখ না থাকে, তাহলে সেই দরখাস্ত দাখিলের তামাদির মেয়াদ কত বছর?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-১৮১ অনুযায়ী, যদি কোনো দরখাস্ত দাখিলের তামাদির মেয়াদ তামাদি আইনের তফসিলে উল্লেখ না থাকে, তাহলে সেই দরখাস্ত দাখিলের তামাদির মেয়াদ ৩ বছর ধরা হয়। এই মেয়াদ গণনা শুরু হয় অধিকার উদ্ভবের তারিখ থেকে। অর্থাৎ, যখন থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অধিকার বা দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়, সেই তারিখ থেকে ৩ বছরের মধ্যে দরখাস্ত আদালতে দাখিল করতে হবে।

→ উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যক্তির জমি দখল বা সম্পত্তি সম্পর্কিত অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে সেই তারিখ থেকে ৩ বছরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দরখাস্ত আদালতে দাখিল করতে হবে। যদি এই সময়সীমা অতিক্রম করে যায়, তাহলে দরখাস্তটি তামাদির কারণে বাতিল হয়ে যেতে পারে।

সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো গ) ৩ বছর।
৪২.
বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনারস এবং বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ এর ৩৪(৮) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনাল কোন পরিস্থিতিতে তার পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করতে পারে?
  1. শুধুমাত্র আদালতের নির্দেশে
  2. শুধুমাত্র আইনজীবী সমিতির নির্দেশ
  3. শুধুমাত্র বার কাউন্সিলের আবেদন পেলে
  4. ট্রাইব্যুনাল নিজস্ব উদ্যোগে বা কোনো ব্যক্তির আবেদনের ভিত্তিতে
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: ঘ) ট্রাইব্যুনাল নিজস্ব উদ্যোগে বা কোনো ব্যক্তির আবেদনের ভিত্তিতে।

→ বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনারস এবং বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ এর ৩৪(৮) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনাল তার পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা (রিভিউ), পরিবর্তন (vary) বা বাতিল (rescind) করতে পারে নিজস্ব উদ্যোগে বা কোনো ব্যক্তির আবেদনের ভিত্তিতে। এর মানে হল যে, বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনাল নির্দিষ্ট কোনো পক্ষের প্রয়োজন না হলেও তার সিদ্ধান্ত পুনরায় পর্যালোচনা করার ক্ষমতা রাখে, অথবা যদি কেউ আবেদন করে, তখনও সে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন বা বাতিল করা সম্ভব।

অতএব, এটি আদালত বা আইনজীবী সমিতির নির্দেশনার উপর নির্ভরশীল নয়, বরং ট্রাইব্যুনাল নিজেই এই পদক্ষেপ নিতে পারে।