পরীক্ষা আর্কাইভ

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার

পরীক্ষাগুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভারতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন১৬
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৮ বাংলা ব্যাকরণ টপিক: ধ্বনি ও শব্দ, সন্ধি, উপসর্গ, এক কথায় প্রকাশ, সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ। উৎস: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। (ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।) [নম্বর কাভার - ৫]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার · তারিখ অনির্ধারিত · ১৬ প্রশ্ন

.
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী 'ড়' হচ্ছে -
  1. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
  2. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  3. তালব্য ব্যঞ্জন
  4. কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণস্থান অনুযায়ী বিভাজন:
- বাকপ্রত্যঙ্গের ঠিক যে জায়গায় বায়ু বাধা পেয়ে ব্যঞ্জনধ্বনি সৃষ্টি করে সেই জায়গাটি হলাে ঐ ব্যঞ্জনের উচ্চারণস্থান।

→ উচ্চারণস্থান অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়:
- ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন,
- দন্ত্য ব্যঞ্জন,
- দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন,
- মূর্ধন্য ব্যঞ্জন,
- তালব্য ব্যঞ্জন,
- কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন,
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন।

• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন: 
দত্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্যার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• দন্ত্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে। তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ, দন্ত্যধ্বনির উদাহরণ।

• দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দণ্ডমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। নানা, রাত, লাল সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• তাবল্য ব্যঞ্জন: 
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে স্বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে। হাতি শব্দের হ কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ এবং ২০১৯ সংস্করণ)।
.
সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. শুভ + ঈচ্ছা = শুভেচ্ছা
  2. যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট
  3. পরম + ইশ =পরমেশ
  4. মহা + ইশ =মহেশ
সঠিক উত্তর:
যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট
ব্যাখ্যা
• অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়; এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন—
- শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা।
- যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট। 
- পরম + ঈশ =পরমেশ। 
- মহা + ঈশ =মহেশ।

এরূপ –পূর্ণেন্দু, শ্রবণেন্দ্রিয়, স্বেচ্ছা, নরেশ, রমেশ, নরেন্দ্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
.
কোনটি অঘোষ ধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• অঘোষ ধ্বনি: 
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয় না, তাকে বলা হয় অঘোষ ধ্বনি।
যেমন- , খ, চ, ছ ইত্যাদি। 

• ঘোষ ধ্বনি:
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয়, তাকে ঘোষ ধ্বনি বলে।
যেমন- গ, জ, ড, ঘ, ঝ, ধ ইত্যাদি ঘোষ ধ্বনি৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
'তস্কর' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. লস্কর
  2. প্রসারণ
  3. নির্লোভ
  4. সাধু
সঠিক উত্তর:
সাধু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু
ব্যাখ্যা
- 'তস্কর' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ হচ্ছে- সাধু।

• আরো কিছু বিপরীতার্থক শব্দ- 
- 'আকুঞ্চন' শব্দের বিপরীত শব্দ = প্রসারণ।
- 'সংহত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ = বিভক্ত।
- 'প্রসারিত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ = সংকুচিত।
- 'সংযত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ = অসংযত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'সুনজর' শব্দের 'সু' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সম্প্রসারণ
  2. পুরোপুরি
  3. সংকোচন
  4. সম্পূর্ণ
সঠিক উত্তর:
সংকোচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংকোচন
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ:
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
- অজানা (অ+জানা), অভিযোগ (অভি+যোেগ), বেতার (বে+তার) প্রভৃতি শব্দের 'অ', 'অভি', 'বে' হলো উপসর্গ।
- অনেক সময়ে শব্দের শুরুতে একসঙ্গে একাধিক উপসর্গ বসতে পারে।
- যেমন, 'সম্প্রদান' শব্দে 'দান'-এর আগে 'সম্' এবং 'প্র' – এই দুটি উপসর্গ যুক্ত হয়েছে।
- উপসর্গের নিজের অর্থ নেই; কিন্তু নতুন নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরিতে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- এজন্য বলা হয় – উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্তু অর্থের দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে।

• নতুন শব্দ তৈরি করা উপসর্গের কাজ।
- যেমন - সম্+বাদ = সংবাদ, বি+বাদ = বিবাদ।
- 'বাদ' শব্দের সঙ্গে 'সম্' এবং 'বি' উপসর্গ যোগ করে নতুন শব্দ 'সংবাদ' ও 'বিবাদ' তৈরি হলো।
- উপসর্গের আর একটি কাজ শব্দের অর্থ পরিবর্তন করা।

যেমন-
- সু+নজর = সুনজর ( সংকোচন);
- সম্+পূর্ণ = সম্পূর্ণ ( সম্প্রসারণ);
- গর+হাজির = গরহাজির (বিপরীত অর্থ) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
.
সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ কোনটি?
  1. অজ
  2. অনু
  3. আড়
  4. কদ
সঠিক উত্তর:
অনু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনু
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
- খাটি বাংলা উপসর্গ,
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
- বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।

যথা:
-  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- বাংলা উপসর্গ ২১টি।

যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'পাওয়ার ইচ্ছা' এর বাক্য সংকোচন কোনটি?
  1. প্রেপ্সু 
  2. মুমুক্ষা
  3. তিতিক্ষা
  4. ঈপ্সা
সঠিক উত্তর:
ঈপ্সা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈপ্সা
ব্যাখ্যা
•  পাওয়ার ইচ্ছা এর  বাক্য সংকোচন- ঈপ্সা।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ এক কথায় প্রকাশ হলো: 
- মুক্তি লাভের ইচ্ছা এর  বাক্য সংকোচন মুমুক্ষা। 
- 'ভোজন করার ইচ্ছা' এর বাক্য সংকোচন- বুভুক্ষা। 
- 'মুক্তি পেতে ইচ্ছুক' এর  বাক্য সংকোচন- মুমুক্ষু।
- পেতে ইচ্ছুক এর  বাক্য সংকোচন- প্রেপ্সু। 
- 'ক্ষমা করার ইচ্ছা' এর বাক্য সংকোচন - তিতিক্ষা।
- ভোজন করার ইচ্ছা এর বাক্য সংকোচন- বুভুক্ষা।
- 'বাস করার ইচ্ছা' এর বাক্য সংকোচন - বিবৎসা। 
- 'দেখবার ইচ্ছা' এর বাক্য সংকোচন- দিদৃক্ষা। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
.
সূর্য + উদয় = সূর্যোদয় - কোন নিয়মে এ সন্ধি হয়েছে?
  1. আ + উ = ও
  2. অ + উ = ও
  3. ও + উ = ও
  4. অ + উ = অউ
সঠিক উত্তর:
অ + উ = ও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ + উ = ও
ব্যাখ্যা
• সন্ধি: 
- পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- পৃথিবীর বহু ভাষায় পাশাপাশি শব্দের একাধিক ধ্বনি নিয়মিতভাবে সন্ধিবদ্ধ হলেও বাংলা ভাষায় তা বিরল।
- যেমন 'আমি এখন চা আনতে যাই' বাংলা ভাষার এই বাক্যটিকে সন্ধির সূত্র অনুযায়ী 'আম্যেখন চানতে যাই' বলা যায় না।
- তবে বাংলা ভাষায় উপসর্গ-প্রত্যয় দিয়ে এবং সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠনের ক্ষেত্রে সন্ধির সূত্র কাজে লাগে।

• সন্ধি তিন প্রকার:
- স্বরসন্ধি,
- ব্যঞ্জনসন্ধি ও
- বিসর্গসন্ধি।

• অ-কার কিংবা আ-কারের পর উ-কার কিংবা উ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ও-কার হয়; ও-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনে যুক্ত হয়।
যেমন—
- অ + উ = ও - সূর্য + উদয় = সূর্যোদয় ৷
- আ + উ = ও - যথা + উচিত = যথোচিত।
- আ + ঊ = ও - গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি।

এরূপ – নীলোৎপল, চলোর্মি, মহোৎসব, নবোঢ়া, ফলোদয়, যথোপযুক্ত, হিতোপদেশ, পরোপকার, প্রশ্নোত্তর ইত্যাদি।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'স্ত্রী' শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ভার্যা
  2. কনক
  3. দারা
  4. জায়া
সঠিক উত্তর:
কনক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কনক
ব্যাখ্যা
- কনক 'স্ত্রী' শব্দের সমার্থক শব্দ নয়। 
- কনক স্বর্ণের সমার্থক শব্দ। 

• স্ত্রী শব্দের সমার্থক শব্দ:
- পত্নী, ভার্যা, সহধর্মিণী, অর্ধাঙ্গিনী, দারা, জায়া, বধূ, বউ, বিবি, বেগম, গৃহিণী।

• গুরুত্বপূর্ণ কিছু সমার্থক শব্দ:
- 'অর্ক' শব্দের সমার্থক শব্দ- সূর্য, তপন, আদিত্য, দিবাকর, ভাস্কর, ভানু, মার্তণ্ড, রবি, সবিতা ইত্যাদি।
- 'তিমির' শব্দের সমার্থক শব্দ- অন্ধকার, আঁধার, তমসা ইত্যাদি।
- 'অম্বর' শব্দের সমার্থক শব্দ- আকাশ, গগন, নভঃ, ব্যোম ইত্যাদি।
- কুঞ্জর সমার্থক শব্দ- হস্তী- হাতি, গজ, নাগ, মাতঙ্গ, কুঞ্জর, বারণ, দন্তী, দ্বিপ, দ্বিরদ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ এবং ২০১৮ সংস্করণ)।
১০.
মৌলিক শব্দ কোনটি?
  1. কর্তব্য
  2. নাক
  3. দৌহিত্র
  4. মধুর
সঠিক উত্তর:
নাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাক
ব্যাখ্যা
• মৌলিক শব্দ: 
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙ্গে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গোলাপ, নাক, তিল, হাত, ফুল ইত্যাদি।

• অন্যদিকে,
- দৌহিত্র, মধুর, কর্তব্য- শব্দটি একটি যৌগিক শব্দ। 
-------------------------  
• যৌগিক শব্দ:
- যে সব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই, তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
অর্থাৎ, শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যাদের অর্থ পরিবর্তিত হয় না, তাদেরকে যৌগিক শব্দ বলে।

যেমন-
- গায়ক (মূল শব্দ) - গৈ+অক (শব্দ গঠন অর্থ) - যে গান করে (অর্থ)।
- মধুর = মধু + র; অর্থ - মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- কর্তব্য= কৃ + তব্য; অর্থ- যা করা উচিত। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১১.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ নয়?
  1. পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি
  2. গো + পদ = গোস্পদ
  3. ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার
  4. বন + পতি = বনস্পতি
সঠিক উত্তর:
ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার
ব্যাখ্যা
• ‘ধনুষ্টঙ্কার’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ ‘ধনুঃ + টঙ্কার’।
- এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ। 

• সন্ধি:
- সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনের নাম সন্ধি।
- যেমন- আশা + অতীত = আশাতীত। হিম + আলয় = হিমালয়।
- প্রথমটিতে আ + অ = আ (া) এবং দ্বিতীয়টিতে অ + আ = আ (া) হয়েছে।
- আবার, তৎ + মধ্যে =তন্মধ্যে, এখানে ত + ম = ন্ম হয়েছে।

• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ: 
 - বন + পতি = বনস্পতি,
-  আ + চর্য = আশ্চর্য,
-  গো + পদ = গোস্পদ,
-  পর + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক + দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১২.
নিচের কোনটি অনুবর্ণের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ফলা
  2. রেফ
  3. বর্ণসংক্ষেপ
  4. সব কয়টি
সঠিক উত্তর:
সব কয়টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সব কয়টি
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ।
- অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে ফলা, রেফ ও বর্ণসংক্ষেপ।
 
• ফলা:
- ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলােকে ফলা বলে। 
যেমন:
- ন-ফলা, ব-ফলা, ম-ফলা, য-ফলা, র ফলা, ল-ফলা।

• রেফ:
- র-এর একটি অনুবর্ণ রেফ।

• বর্ণসংক্ষেপ:
- যুক্তবর্ণ লিখতে অনেক সময়ে বর্ণকে সংক্ষেপ করার প্রয়ােজন হয়। এগুলাে বর্ণসংক্ষেপ। 
যেমন:
- ৎ বর্ণটি ত-এর একটি বর্ণসংক্ষেপ, যা বাংলা বর্ণমালায় স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে স্বীকৃত। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩.
‘গো + আদি = গবাদি’ কোন সূত্রে সিদ্ধ?
  1. উ/ঊ + অন্য স্বর = ব্‌ + স্বর
  2. এ+ অন্য স্বর = অয়+স্বর
  3. ঔ+ অন্য স্বর = আব্+স্বর
  4. ও + অন্য স্বর = অব্‌ + স্বর
সঠিক উত্তর:
ও + অন্য স্বর = অব্‌ + স্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ও + অন্য স্বর = অব্‌ + স্বর
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধি: 
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।

→ এ+ অন্য স্বর = অয়+স্বর। যেমন- শে+অন = শয়ন, 
→ ঐ+ অন্য স্বর = আয়+স্বর। যেমন- নৈ+অক = নায়ক, 
→ ও+ অন্য স্বর = অব্-স্বর। যেমন- গো+আদি = গবাদি, 
→ ঔ+ অন্য স্বর = আব্+স্বর। যেমন- নৌ+ইক = নাবিক।

- কিছু স্বরসন্ধি সূত্র অনুসরণ করে না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি বলে।
যেমন:
- কুল+অটা = কুলটা (সূত্র অনুসারে কুলাটা হওয়ার কথা)।
- গো+অক্ষ = গবাক্ষ (সূত্র অনুসারে গবক্ষ হওয়ার কথা) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪.
নিচের কোনটি দ্বিস্বরধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• দ্বিস্বরধ্বনি:
পূর্ণস্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।
যেমন - লাউ শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্‌] তৈরি হয়েছে।

দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
[আই্‌]: তাই, নাই।
[এই্‌]: সেই, নেই।
[আও্‌]: যাও, দাও। 
[আএ্‌]: খায়, যায়। 

• বাংলা বর্ণমালায় দুটি দ্বিস্বরধ্বনির জন্য আলাদা বর্ণ নির্ধারিত আছে, যথা: ঐ এবং ঔ।
- ঐ-এর মধ্যে দুটি ধ্বনি আছে, একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [ই্]।
- একইভাবে ঔ-এর মধ্যে রয়েছে একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [উ্]।

উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৫.
'পান্তা' শব্দটি কোন ভাষার শব্দ?
  1. হিন্দি
  2. দেশি
  3. সংস্কৃত
  4. আরবি
সঠিক উত্তর:
দেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশি
ব্যাখ্যা
- 'পান্তা' শব্দটি দেশি শব্দ। 
   
• পান্তা (বিশেষ্য)
- দেশি শব্দ। 

অর্থ: 
- পানিতে ভিজানো বাসি ভাত, 
- পানিভাত, 
- বাসি ভাত। 

• আরোকিছু দেশি শব্দ:
- ডিঙা,
- চোখ, 
- ডাব,
- চুড়ি ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬.
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে কী বলে?
  1. অভিশ্রুতি
  2. সমীভবন
  3. অপিনিহিতি
  4. বিষমীভবন
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা
• অপিনিহিতি (Apenthesis):
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।

যেমন:
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- রাখিয়া » রাইখ্যা,
- বাক্য > বাইক্য,
- সত্য > সইত্য,
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর ইত্যাদি।

• অন্যদিকে: 
• অভিশ্রুতি (Umlaut):
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
- যেমন: করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে ‘কইরিয়া’ কিবা বিপর্যয়ের ফলে ‘কইরা’ থেকে অভিশ্রুতিজাত করে।
- এরূপ – শুনিয়া > শুনে, বলিয়া > বলে, হাটুয়া > হাউটা > হেটো, মাছুয়া > মেছাে ইত্যাদি।

• সমীভবন (Assimilation):
- শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন- জন্ম > জম্ম।

• বিষমীভবন (Dissimilation):
- দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন – শরীর > শরীল, লাল > নাল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম, (২০১৯ সংস্করণ)।