পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৮
সিলেবাস
বাংলাবিদ ব্যাকরণ: পরীক্ষা – ১৬ টপিক: শব্দ ও বাক্য [লাইভ ক্লাস – ৩০, ৩১ ও ৩২]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · ১৮ প্রশ্ন

.
ভাষার অর্থযুক্ত ক্ষুদ্রতম একক কোনটি? 
  1. শব্দ
  2. বর্গ
  3. অক্ষর
  4. রূপমূল
সঠিক উত্তর:
রূপমূল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপমূল
ব্যাখ্যা

শব্দ ও রূপমূল:
শব্দকে আরও ক্ষুদ্রতর অংশে বিভক্ত করলে এমন উপাদান পাওয়া যায় যা অর্থ প্রকাশে অংশগ্রহণ করে। ভাষার এই ক্ষুদ্রতম অর্থযুক্ত একককে বলা হয় রূপমূল। অর্থাৎ, রূপমূল হলো ভাষার ক্ষুদ্রতম উপাদান যাদের সুস্পষ্ট অর্থ থাকবে বা অন্ততপক্ষে অর্থের কোনো যৌক্তিক ইঙ্গিত থাকবে।

আমরা জানি, ভাষার সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম উপাদান হলো ধ্বনিমূল, তবে ধ্বনিমূলের মধ্যে কোনো অর্থ বহন করার ক্ষমতা নেই। অন্যদিকে, রূপমূল সর্বদা কোনো না কোনোভাবে অর্থসংশ্লিষ্ট থাকে।

উদাহরণ:
• শব্দ: অবোধ।
• রূপমূল বিশ্লেষণ: অ + বোধ,

এখানে,
• ‘অ’ → উপসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত, স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে না পারলেও অভাব বোঝায়।
• ‘বোধ’ → স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে পারে।

রূপমূলের শ্রেণীবিন্যাস:
- মুক্ত রূপমূল (Free Morpheme): স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে পারে।
উদাহরণ: বোধ, গান, মাটি।
- বদ্ধ রূপমূল (Bound Morpheme): স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে পারে না, অন্য রূপমূলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অর্থ বোঝায়।
উদাহরণ: ‘অ’ (অবোধে), ‘উৎ’ (উৎক্ষেপণে)।
 
উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
'তিনি কথা বললেন না।'- বাক্যটির অস্তিবাচক রূপ কী হবে?
  1. তিনি নীরব থাকতে চেষ্টা করলেন।
  2. তিনি কথা বলতে চাইলেন না।
  3. তিনি কথা না বলে থাকতে পারলেন না।
  4. তিনি চুপ করে থাকলেন।
সঠিক উত্তর:
তিনি চুপ করে থাকলেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনি চুপ করে থাকলেন।
ব্যাখ্যা

মূল বাক্য: তিনি কথা বললেন না।
- এটি একটি নেতিবাচক বাক্য, যা কথা বলার অস্তিত্ব অস্বীকার করে।
অস্তিবাচক রূপে রূপান্তর করতে হলে:
- নেতিবাচক অর্থকে ইতিবাচক আকারে প্রকাশ করতে হয়।
- কিন্তু মূল অর্থ অপরিবর্তিত থাকে।
- প্রয়োজনমতো নেতিবাচক শব্দের বাক্যাংশকে অস্তিবাচক শব্দদ্বারা অস্তিবাচকে রূপান্তর করতে হয়।
- "তিনি কথা বললেন না।" - এর অস্তিবাচক রূপ হবে: ঘ) তিনি চুপ করে থাকলেন।

অন্য অপশনগুলো:
ক) "তিনি কথা বলতে চাইলেন না":
এখানে "চাইলেন না" নঞর্থক পদ রয়ে গেছে। এটি সম্পূর্ণ অস্তিবাচক হয়নি।

খ) "তিনি কথা না বলে থাকতে পারলেন না":
"পারলেন না" নঞর্থক পদটি অপরিবর্তিত আছে।

গ) "তিনি নীরব থাকতে চেষ্টা করলেন":
এটি মূল অর্থ ("কথা না বলা")-কে প্রচেষ্টা-তে পরিবর্তন করে, যা মূল বাক্যের সরল অর্থ নয়।

সিদ্ধান্ত:
ব্যাকরণের সূত্রানুসারে, "তিনি চুপ করে থাকলেন।" হলো সঠিক ও অর্থসংগত অস্তিবাচক রূপান্তর।


উৎস: ভাষা - শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

.
বাক্যের মধ্যে শব্দ অবস্থান করে কীভাবে?
  1. অর্থ ও ভাব অনুযায়ী
  2. স্বাধীন পদের পরিচয় নিয়ে
  3. কর্তা ও ক্রিয়ার পদবিন্যাস অনুযায়ী
  4. বর্গ বা গুচ্ছ আকারে
সঠিক উত্তর:
কর্তা ও ক্রিয়ার পদবিন্যাস অনুযায়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তা ও ক্রিয়ার পদবিন্যাস অনুযায়ী
ব্যাখ্যা

বাক্য গঠনের নিয়ম:
- বাংলা বাক্যে শব্দের অবস্থান সাধারণত কর্তা-কর্ম-ক্রিয়া (SOV: Subject-Object-Verb) পদবিন্যাস অনুসারে হয়।
- এটি বাংলা ভাষার বাক্য গঠনের মূল বৈশিষ্ট্য।
• উদাহরণস্বরূপ:
- “রানা (কর্তা) বই (কর্ম) পড়ে (ক্রিয়া)।” এই পদবিন্যাস বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করতে এবং ব্যাকরণগতভাবে বাক্যটি সঠিক হতে সাহায্য করে।
- বাংলায় শব্দের অবস্থান নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে, যেখানে কর্তা সাধারণত বাক্যের শুরুতে, কর্ম (যদি থাকে) মাঝে এবং ক্রিয়া শেষে থাকে।

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:
খ) অর্থ ও ভাব অনুযায়ী:
যদিও বাক্যের অর্থ ও ভাব শব্দ নির্বাচন ও বিন্যাসে প্রভাব ফেলে, তবু শব্দের অবস্থান প্রাথমিকভাবে ব্যাকরণগত পদবিন্যাস (কর্তা-কর্ম-ক্রিয়া) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, অর্থ বা ভাব দ্বারা নয়।

গ) বর্গ বা গুচ্ছ আকারে:
বাংলা বাক্যে শব্দগুচ্ছ (যেমন: বিশেষণ-বিশেষ্য) থাকতে পারে, কিন্তু শব্দের অবস্থান সরাসরি বর্গ বা গুচ্ছের উপর নির্ভর করে না; বরং পদবিন্যাসের নিয়ম এটি নির্ধারণ করে।

ঘ) স্বাধীন পদের পরিচয় নিয়ে:
শব্দের স্বাধীন পদের পরিচয় (যেমন: বিশেষ্য, ক্রিয়া) বাক্যে তাদের ভূমিকা নির্ধারণে সাহায্য করে, কিন্তু অবস্থান নির্ধারিত হয় বাক্যের পদবিন্যাসের নিয়ম অনুসারে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ); ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; মাধ্যমিক ব্যাকরণ- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
গঠনগত দিক থেকে শব্দ কত প্রকার?
  1. দুই
  2. তিন
  3. পাঁচ
  4. আট
সঠিক উত্তর:
দুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই
ব্যাখ্যা

গঠনমূলক শ্রেণিবিভাগ:
- গঠনগত দিক থেকে শব্দ - ২ প্রকার।
১. মৌলিক শব্দ।
২. সাধিত শব্দ।  

• মৌলিক শব্দ: যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।যেমন-
- গোলাপ,
- নাক, 
- লাল, 
- তিন ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ: যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা হলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ পাওয়া যায়, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
- সাধারণত একাধিক শব্দের সমাস হয়ে কিংবা প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগ হয়ে সাধিত শব্দ গঠিত হয়ে থাকে। উদাহরণ:
- চাঁদমুখ (চাঁদের মতো মুখ),
- নীলাকাশ (নীল যে আকাশ),
- ডুবুরি (ডুব্‌+উরি),
- চলন্ত (চল্ + অন্ত),
- প্রশাসন (প্র+শাসন),
- গরমিল (গর+মিল) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ - সংস্করণ)।

.
খাঁটি বাংলা শব্দ নয় কোনটি?
  1. হাত
  2. মাথা
  3. পা
  4. পেট
সঠিক উত্তর:
পেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেট
ব্যাখ্যা

 তদ্ভব শব্দ:
- যেসবশব্দের মূল সংস্কৃত ভাষায় পাওয়া যায়, কিন্তু ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তন ধারায় প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে আধুনিক বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, সেসব শব্দকে বলা হয় তদ্ভব শব্দ।
- তদ্ভব একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ, 'তৎ' (তার) থেকে 'ভব' (উৎপন্ন)।
- যেমন – সংস্কৃকৃত-হস্ত, প্রাকৃত-হথ, তদ্ভব-হাত। সংস্কৃত-চর্মকার, প্রাকৃত-চম্মআর, তদ্ভব-চামার ইত্যাদি।
- তদ্ভব শব্দগুলোকে খাঁটি বাংলা শব্দও বলা হয়।
• আরও কিছু উদাহরণ: 
- হাত,
- পা,
- মাথা,
- কান ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- দেশি শব্দ - পেট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
অনুজ্ঞাবাচক বাক্যের উদাহরণ কোনটি?
  1. অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি !
  2. তারা তোমাদের ভোলেনি।
  3. আমাকে একটি কলম দাও।
  4. সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?
সঠিক উত্তর:
আমাকে একটি কলম দাও।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমাকে একটি কলম দাও।
ব্যাখ্যা

অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়। যেমন -
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক।

অন্যদিকে,
• বিবৃতিবাচক বাক্য:
- সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে। বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
- যেমন: আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম। তারা তোমাদের ভোলেনি।

• প্রশ্নবাচক বাক্য:
- বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলো প্রশ্নবাচক বাক্য।
- যেমন: তোমার নাম কী? সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

• আবেগবাচক বাক্য:
- কোনো কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
- যেমন: দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি। অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি !

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

.
'কর্তব্য' কী ধরনের শব্দ?
  1. রূঢ়ি শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. যোগরূঢ় শব্দ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
যৌগিক শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক শব্দ
ব্যাখ্যা

শব্দ:
- শব্দকে অর্থগতভাবে তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
১. যৌগিক শব্দ:
- যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই তাকে যৌগিক শব্দ বলে। যেমন: 
- গায়ক,
- দৌহিত্র,
- কর্তব্য,
- বাবুয়ানা,
- চিকামারা,
- মধুর,
- শয়ন,
- গুণবান।

২. রূঢ়ি শব্দ:
- প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করলে তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে। যেমন: 
- হস্তী,
- বাঁশি,
- তৈল,
- প্রবীণ,
- সন্দেশ।

৩. যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাস নিষ্পন্ন যেসকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে বিশিষ্ট কোন অর্থ গ্রহণ করে তাকে যোগরূঢ় বলে।যেমন:
- পঙ্কজ,
- রাজপুত,
- মহাযাত্রা,
- জলধি,
- আদিত্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

.
যৌগিক বাক্য সম্পর্কে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. খণ্ডবাক্যগুলো পরস্পর নির্ভরশীল
  2. সব খণ্ডবাক্য একত্রে একটি মাত্র ভাব প্রকাশ করে
  3. প্রতিটি খণ্ডবাক্য আলাদাভাবে সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ করতে পারে
  4. একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে
সঠিক উত্তর:
প্রতিটি খণ্ডবাক্য আলাদাভাবে সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ করতে পারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিটি খণ্ডবাক্য আলাদাভাবে সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ করতে পারে
ব্যাখ্যা

যৌগিক বাক্য (compound sentence):
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা জটিল বাক্য সংযোজক, সংকোচক, বিয়োজক, ব্যতিরেকাত্মক প্রভৃতি যোজক শব্দ দ্বারা যুক্ত হয়ে যখন একটিমাত্র বাক্য গঠন করে তখন তাকে 'যৌগিক বাক্য' বলে।
যেমন:
- তুমি আস, তবে আমি যাব।(সংযোজক)
- তারা দুজনে আড়ি পেতে ছিল, নইলে চোর ধরা পড়ত না।(ব্যতিরেকাত্মক)
- তার আভাস পেতাম, কিন্তু নাগাল পেতাম না।

• স্মরণ রাখতে হবে-
- যৌগিক বাক্যে কমপক্ষে দুটো খণ্ডবাক্য থাকবে।
- খণ্ডবাক্যগুলো পরস্পর নিরপেক্ষ বা স্বাধীন, একে অপরের ওপর নির্ভরশীল নয়।
-  খণ্ডবাক্যগুলো বিভিন্ন অব্যয়যোগে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। কখনো কখনো এগুলো উহ্যও থাকতে পারে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
তারিখ পূরণবাচক শব্দ কোনটি?
  1. ষোড়শ
  2. তেরোই
  3. পনেরোতম
  4. দ্বাদশ
সঠিক উত্তর:
তেরোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেরোই
ব্যাখ্যা

তারিখ পূরণবাচক শব্দ:
- বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
- যথা: পহেলা বা পয়লা (১লা), দোসরা (২রা), তেসরা (৩রা), চৌঠা (৪ঠা), পাঁচই (৫ই), ছয়ই (৬ই), সাতই (৭ই), আটই (৮ই), নয়ই (৯ই), দশই (১০ই), এগারোই (১১ই), বারোই (১২ই), তেরোই (১৩ই), চোদ্দই (১৪ই), পনেরোই (১৫ই), ষোলোই (১৬ই), সতেরোই (১৭ই), আঠারোই (১৮ই), উনিশে (১৯শে), বিশে (২০শে), একুশে (২১শে), বাইশে (২২শে), তেইশে (২৩শে), চব্বিশে (২৪শে), পঁচিশে (২৫শে), ছাব্বিশে (২৬শে), সাতাশে (২৭শে), আটাশে (২৮শে), উনত্রিশে (২৯শে), ত্রিশে (৩০শে), একত্রিশে (৩১শে)।

অন্যদিকে, 
- দ্বাদশ,
- পনেরোতম
- ষোড়শ সাধারণ পূরণবাচক শব্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

১০.
সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. দেশি
  2. মাটি
  3. বউটি
  4. গোলাপী
সঠিক উত্তর:
মাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাটি
ব্যাখ্যা

সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায়, এক কথায় তাকেই বলা হয় সাধিত শব্দ।
- অন্যভাবে বলা যায়, মৌলিক শব্দ বা ধাতুর সাথে বিভিন্ন প্রকার প্রত্যয়, বিভক্তি, উপসর্গ যোগ করে যে শব্দ গঠিত হয়, তাকে বলা হয় সাধিত শব্দ। যেমন: 
- দেশি,
- মাটির,
- বোনের,
- হাতগুলো,
- বউটি,
- গোলাপী,
- ভাইয়ে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• মৌলিক শব্দ: যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে। যেমন: 
- গোলাপ,
- নাক,
- লাল,
- তিন,
- ভাই,
- কলা,
- মাটি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ -সংস্করণ) ও বাংলা ২য় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
তৎসম শব্দ নিচের কোনটি? 
  1. পাত্র
  2. হস্ত
  3. চন্দ্র
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা

তৎসম শব্দ:
-যেসব শব্দ পরিবর্তন ছাড়াই সংস্কৃত থেকে বাংলায় সরাসরি এসেছে সেগুলোকে 'তৎসম শব্দ' বলে।
- কিছু তৎসম শব্দ:
- চন্দ্র,
- সূর্য,
- নক্ষত্র,
- হস্ত,
- ভবন,
- ধর্ম,
- পাত্র,
- মনুষ্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১২.
'অযথা সময় নষ্ট করো না' এটা কি ধরনের বাক্য?
  1. বিবৃতিবাচক বাক্য
  2. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  3. প্রশ্নবাচক বাক্য
  4. আবেগবাচক বাক্য
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা

অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়। যেমন -
- আদেশ : এখান থেকে বিদায় হও।
- অনুরোধ : দয়া করে আমার কাজটি করে দাও।
- উপদেশ : অযথা সময় নষ্ট করো না।
- নিষেধ : অনুমতি ছাড়া কখনও তার ঘরে প্রবেশ করো না। 

অন্যদিকে,
• বিবৃতিবাচক বাক্য:
- সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে। বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।যেমন-
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
- তারা তোমাদের ভোলেনি।

• প্রশ্নবাচক বাক্য:
- বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলো প্রশ্নবাচক বাক্য।যেমন -
- তোমার নাম কী?
- সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

• আবেগবাচক বাক্য:
- কোনো কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।যেমন-
- দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
- অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি !

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৩.
'তার বয়স হয়েছে, কিন্তু বুদ্ধি হয়নি' - বাক্যের সরলরূপ কোনটি?
  1. তার বয়স হয়েছে, বুদ্ধি হয়নি।
  2. তার বয়স হলেও বুদ্ধি হয়নি।
  3. তার বয়স হয়েছে, তবে বুদ্ধি হয়নি।
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
তার বয়স হলেও বুদ্ধি হয়নি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তার বয়স হলেও বুদ্ধি হয়নি।
ব্যাখ্যা

যৌগিক বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম:
- বাক্যসমূহের একটি সমাপিকা ক্রিয়াকে অপরিবর্তিত রাখতে হয়।
- অন্যান্য সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় পরিণত করতে হয় ।
- অব্যয় পদ থাকলে তা বর্জন করতে হয়।
- কোনো কোনো স্থলে একটি বাক্যকে হেতুবোধক বাক্যাংশে পরিণত করতে হয়।
যথা:
১. যৌগিক বাক্য: সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি।
    সরল বাক্য: সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
২. যৌগিক বাক্য: তার বয়স হয়েছে, কিন্তু বুদ্ধি হয়নি।
    সরল বাক্য: তার বয়স হলেও বুদ্ধি হয়নি।
৩. যৌগিক বাক্য: মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে।
    সরল বাক্য: মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৪.
পর্তুগিজ ভাষার শব্দ নিচের কোনটি?
  1. খারিজ
  2. তোপ
  3. নক্ষত্র
  4. আলপিন
সঠিক উত্তর:
আলপিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলপিন
ব্যাখ্যা

'আলপিন'
- পর্তুগিজ শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
অর্থ:
- কাগজাদি ফুঁড়ে গেঁথে রাখার জন্য ধাতুর প্রস্তুত সরু কীলক বিশেষ।

• পর্তুগিজ ভাষার শব্দের আরও কিছু উদাহরণ:
- আচার,
- আয়া,
- আলমারি,
- আলকাতরা,
- ইস্পাত,
- গির্জা,
- গুদাম,
- চাবি,
- তোয়ালে,
- ফিতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- তুর্কি শব্দ: চাকু, তোপ ইত্যাদি।
- আরবি শব্দ: আল্লাহ, ইসলাম, খারিজ, দোয়াত ইত্যাদি।
- সংস্কৃত শব্দ: চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র ইদ্যাতি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৫.
কোনটি যৌগিক বাক্যের উদাহরণ?
  1. তিনি আমাকে পাঁচ টাকা দিয়ে যেতে বললেন।
  2. দোষ করেছ অতএব শাস্তি পাবে।
  3. যে সত্যবাদি, তাকে সবাই ভালোবাসে।
  4. সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
সঠিক উত্তর:
দোষ করেছ অতএব শাস্তি পাবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোষ করেছ অতএব শাস্তি পাবে।
ব্যাখ্যা

যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণবাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- জ্ঞাতব্য:
- যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে। যেমন:
- দোষ করেছ অতএব শাস্তি পাবে।
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- বস্ত্ৰ মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।
- তিনি আমকে পাঁচটি টাকা দিলেন এবং বাড়ি যেতে বললেন।

অন্যদিকে,
• সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।যথা:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
- মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে।
- তিনি আমাকে পাঁচ টাকা দিয়ে যেতে বললেন।
- পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য এখন থেকেই তোমার পড়া উচিত।

• মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে। যথা:
- যারা ভালো ছেলে, তারা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।
- যে সত্যবাদি, তাকে সবাই ভালোবাসে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৬.
অর্ধ-তৎসম শব্দ নয় নিচের কোনটি?
  1. গিন্নী
  2. চন্দ্র
  3. বোষ্টম
  4. কুচ্ছিত
সঠিক উত্তর:
চন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্র
ব্যাখ্যা

অর্ধ-তৎসম শব্দ:
- বাংলা ভাষায় কিছু সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত আকারে ব্যবহৃত হয়। এগুলোকে অর্ধ-তৎসম শব্দ বলে।
- তৎসম মানে সংস্কৃত আর অর্ধ-তৎসম মানে আধা সংস্কৃত।
- যেমন- জ্যোছনা, ছেরাদ্দ, গিন্নী, কুচ্ছিত, বোষ্টম শব্দগুলো অর্ধ-তৎসম শব্দ; যা এসেছে যথাক্রমে সংস্কৃত শব্দ জ্যোৎস্না, শ্রাদ্ধ, গৃহিণী, কুৎসিত, বৈষ্ণব থেকে।

অন্যদিকে,
- তৎসম শব্দ: যেসব শব্দ পরিবর্তন ছাড়াই সংস্কৃত থেকে বাংলায় সরাসরি এসেছে সেগুলোকে 'তৎসম শব্দ' বলে।যেমন:
- চন্দ্র,
- সূর্য,
- হস্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৭.
কোনটি জটিল বাক্য?
  1. মিথ্যা কথা বলার জন্য তোমার পাপ হবে।
  2. পড়াশুনা না করলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
  3. যে ব্যক্তি কর্মরত আছে, তাকে বিরক্ত করো না।
  4. মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে।
সঠিক উত্তর:
যে ব্যক্তি কর্মরত আছে, তাকে বিরক্ত করো না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে ব্যক্তি কর্মরত আছে, তাকে বিরক্ত করো না।
ব্যাখ্যা

জটিল বা মিশ্র বাক্য (complex sentence):
- যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে। যেমন:
- (আশ্রিত বাক্য) যিনি পরের উপকার করেন, (প্রধান খণ্ডবাক্য) তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে।
- উল্লেখ্য যে, জটিল বাক্যে সাপেক্ষ সর্বনাম ও নিত্যসম্বন্ধীয় অব্যয় যোগে প্রধান খণ্ডবাক্যের সঙ্গে অপ্রধান খণ্ডবাক্যকে যুক্ত করা হয়।• • সাপেক্ষ সর্বনামগুলো হলো: যে-সে, যা-তা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা ইত্যাদি। নত্যসম্বন্ধীয় যোজক (অব্যয়): যখন-তখন; যেমন-তেমন, বরং- তবু, যেইনা-অমনি, যেহেতু-সেজন্যে/সেহেতু ইত্যাদি। এরূপ-
- যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র পূজিত হন।
- যে সত্য কথা বলে তাকে সকলেই ভালোবাসে।
- যেমন কর্ম করবে, তেমন ফল পাবে।
- যে ব্যক্তি কর্মরত আছে, তাকে বিরক্ত করো না।
- যেহেতু তুমি মিথ্যা কথা বলেছ, সেহেতু তোমার পাপ হবে।
- যাদের ধন আছে, তারা প্রায়ই কৃপণ হয়।
- আমার যে কলমটি হারিয়েছিল, সেটি ফিরে পেয়েছি
- যদি গাড়িঘোড়া চড়তে চাও, তবে লেখাপড়া কর।

অন্যদিকে,
- মিথ্যা কথা বলার জন্য তোমার পাপ হবে।
- পড়াশুনা না করলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
- মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে। এগুলো সরল বাক্যের উদাহরণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৮.
'বর্ষার রোদ্রে প্লাবনের সৃষ্টি হয়।' -বাক্যে যে গুণের অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে?
  1. আসত্তি
  2. আকাঙ্ক্ষা
  3. যোগ্যতা
  4. বাহুল্য
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতা
ব্যাখ্যা

যোগ্যতা:
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।
- বাক্যে ব্যবহৃত পদগুলো অর্থগত ও ভাবগত দিক থেকে মিলে গেলে সে বাক্য যোগ্যতা সম্পন্ন হবে। যেমন- বর্ষাকালে বেশি বৃষ্টি হয়। পাখিরা আকাশে উড়ে। এ বাক্য দুটি যোগ্যতা সম্পন্ন বলে অর্থ প্রকাশে কোনো সমস্যা হয়নি। কারণ বাক্য দুটিতে ভাবগত ও অর্থগত
সমন্বয় রয়েছে।
- কিন্তু যদি বলা হয়, বর্ষার রোদ্রে প্লাবনের সৃষ্টি হয়। তাহলে বাক্যটি যোগ্যতা হারাবে। কারণ বাস্তবতার সঙ্গে বাক্য দুটির কোনো মিল নেই। বাক্যের অর্থ ও বাস্তবতার সাথে মিল থাকতে হবে। অর্থাৎ বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত ও ভাবগত মিলন বন্ধন থাকতে হবে।

অন্যদিকে,
• আসত্তি:
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়।
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি। যেমন:
- কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
- বাক্যটি আসত্তি সম্পন্ন।

• আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
যেমন:
- ‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে’- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে।
- বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায় চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে।
- এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।