পরীক্ষা আর্কাইভ

Science Expert

পরীক্ষাScience Expertতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৪
সিলেবাস
পরীক্ষা – ১৪ টপিক: - অণুজীববিজ্ঞান সম্পর্কে আলোচনা। - ভাইরাস এবং ভাইরাস ঘটিত রোগ নিয়ে আলোচনা। - ব্যাক্টেরিয়া এবং ব্যাক্টেরিয়া ঘটিত রোগ নিয়ে আলোচনা। - বিগত সালের প্রশ্ন। উদ্ভিদের প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা। উদ্ভিদের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা। উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা। বিগত সালের প্রশ্ন। - ফুল এবং ফুলের বিভিন্ন অংশ নিয়ে আলোচনা। - ফল নিয়ে আলোচনা। - উদ্ভিদের শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি নিয়ে আলোচনা। - বিগত সালের প্রশ্ন। [ক্লাস – ২৯,৩০,৩১] (২য় রাউন্ড)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

Science Expert

Science Expert · তারিখ অনির্ধারিত · ১৪ প্রশ্ন

.
নিচের কোনটি নিশ্চিত আণুবীক্ষণিক জীব?
  1. হাইড্রা
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ছত্রাক
  4. শৈবাল
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা

*** ব্যাকটেরিয়া এক ধরনের ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব।

• ব্যাকটেরিয়া:
- গ্রিক শব্দ Bakterion = little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটির উৎপত্তি। ব্যাকটেরিয়া (এক বচনে ব্যাকটেরিয়াম)  এক ধরনের ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব।
- ডাচ বিজ্ঞানী Antony Van Leeuwenhoek ১৬৭৫ সালে তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সরল অণুবীক্ষণযন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

• ছত্রাক:
- ছত্রাক বহুকোষী, অভাস্কুলার, হাইফিসমৃদ্ধ মাইসেলিয়াম দ্বারা গঠিত সুকেন্দ্রিক জীব যারা শোষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য গ্রহণ করে।
- অধিকাংশ ছত্রাকই খালি চোখে দেখা যায়।

• শৈবাল:
- শৈবাল সালোকসংশ্লেষণকারী স্বভোজী অপুষ্পক উদ্ভিদ এবং আলো ছাড়া জন্মাতে পারে না।
- এরা সুকেন্দ্রিক, এককোষী বা বহুকোষী। অধিকাংশ শৈবালই খালি চোখে দেখা যায়।

• হাইড্রা:
- হাইড্রা হচ্ছে নিডারিয়া (Cnidaria) পর্বভুক্ত সরল গড়নের জলজ প্রাণী। হাইড্রা খালি চোখেই দেখা যায়।

উৎস: জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান 

.
ধান কি জাতীয় উদ্ভিদ?
  1. বৃক্ষ
  2. বীরুৎ
  3. গুল্ম
  4. উপগুল্ম
সঠিক উত্তর:
বীরুৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীরুৎ
ব্যাখ্যা

*** ধান হচ্ছে বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ।

• বীরুৎ: 
- বীরুৎ (Herb) ছোট ও নরম কাণ্ডবিশিষ্ট অকাষ্ঠল উদ্ভিদ। যেমন: ধান, গম, দূর্বাঘাস ইত্যাদি।
- বীরুৎ বর্ষজীবী থেকে বহুবর্ষজীবী। 

• বৃক্ষ:
- বৃক্ষ (Tree) হলো বিশাল, কাষ্ঠল এবং সাধারণত একটি প্রধান কাণ্ড বিশিষ্ট উদ্ভিদ, যা ধানের বৈশিষ্ট্যের সাথে মেলে না। যেমন: আম, জাম, কাঁঠাল ইত্যাদি।

• গুল্ম:
- গুল্ম (Shrub) হলো মাঝারি আকারের কাষ্ঠল উদ্ভিদ যার শাখা-প্রশাখা মাটির কাছাকাছি থেকে বের হয়। ধানের কাণ্ড নরম, কাষ্ঠল নয়।
যেমন: জবা, রঙ্গন, গোলাপ ইত্যাদি।

• উপগুল্ম:
- উপগুল্ম (Subshrub) গুল্মের চেয়ে ছোট হয়, তবে এতে কিছুটা কাষ্ঠল ভাব থাকতে পারে, যা ধানে অনুপস্থিত। যেমন: কালকাসুন্দা, দাদমর্দন।

উৎস: জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

.
ভাইরাসের আবিষ্কারক কে?
  1. এডওয়ার্ড জেনার
  2. অ্যাডলফ মায়ার
  3. দিমিত্রি ইভানোভস্কি
  4. মার্টিনাস বেইজেরিঙ্ক
সঠিক উত্তর:
দিমিত্রি ইভানোভস্কি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিমিত্রি ইভানোভস্কি
ব্যাখ্যা

*** ভাইরাসের আবিষ্কারক দিমিত্রি ইভানোভস্কি

- গুটিবসন্ত, পীত জ্বর ইত্যাদি ভাইরাসঘটিত রোগ পৃথিবীতে বহু আগে থেকেই ছিল কিন্তু ভাইরাস সম্পর্কে কোন ধারনাই মানুষের ছিল না।
- বিজ্ঞানী এডওয়ার্ড জেনার ১৭৯৬ সালে প্রথম ভাইরাসঘটিত বসন্ত রোগের কথা উল্লেখ করেন।
- সর্বপ্রথম আবিষ্কৃত উদ্ভিদ ভাইরাস হলো টোবাকো মোজাইক ভাইরাস (TMV)। অ্যাডলফ মায়ার ১৮৮৬ সালে তামাক গাছের পাতার ছোপ ছোপ দাগবিশিষ্ট রোগকে মোজাইক রোগ নিয়ে কাজ করেছেন যা টোবাকো মোজাইক রোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
- ভাইরাস আবিষ্কারের কৃতিত্ব রাশিয়ান বিজ্ঞানী দিমিত্রি ইভানোভস্কি কে দেওয়া হয়। ১৮৯২ সালে তিনি তামাক গাছের রোগ (Tobacco Mosaic Disease) নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে প্রথম ভাইরাসের অস্তিত্ব প্রমাণ করেন।
- দিমিত্রি ইভানোভস্কি বলেন যে, তামাক গাছের মোজাইক রোগজীবাণু ব্যাকটেরিয়া থেকে ক্ষুদ্র এবং এ রোগ-বিষকে ভাইরাস হিসেবে আখ্যায়িত করেন কিন্তু কোন ভাইরাস শনাক্ত করতে পারেননি। তবুও তাঁকেই ভাইরাসের আবিষ্কারক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।   
- পরে মার্টিনাস বেইজেরিঙ্ক ১৮৯৮ সালে এটিকে "ভাইরাস" নামে অভিহিত করেন এবং এর প্রকৃতি ব্যাখ্যা করেন।

উৎস: জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

.
নিচের কোনটি জীবন্ত জীবাশ্ম উদ্ভিদ?
  1. সাইকাস
  2. গর্জন
  3. গরান
  4. বৈলাম
সঠিক উত্তর:
সাইকাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাইকাস
ব্যাখ্যা

*** সাইকাস হচ্ছে জীবন্ত জীবাশ্ম উদ্ভিদ।

• জীবন্ত জীবাশ্ম:
- বর্তমানকালের কোন জীবিত উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য অতীতকালের কোন জীবাশ্ম উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলসম্পন্ন হলে তাকে জীবন্ত জীবাশ্ম বা লিভিং ফসিল বলা হয়।
- জীবন্ত জীবাশ্ম উদ্ভিদের উদাহরণ হচ্ছে জিঙ্কগো বিলোবা, সাইকাস, নিটাম, ইকুইজিটাম, ওল্লেমি পাইন।

• সাইকাসকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলার কারণ: 
- সাইকাস উদ্ভিদ Cycadales বর্গের অন্তর্গত। সাইকাসের উৎপত্তি মেসোজোয়িক যুগে (বিশেষ করে জুরাসিক যুগে)। সে সময়কার জীবাশ্ম সাইকাসের সাথে বর্তমান সাইকাসের গঠনে প্রায় কোনো পার্থক্য নেই।
- সাইকাসের অনেক বৈশিষ্ট্য সেই আদিকালের বিলুপ্ত জীবাশ্ম সাইকাডস-এর বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ।
-কোটি কোটি বছর ধরে সাইকাসের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ গঠন প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। 

- অন্যদিকে বৈলাম, গরান, গর্জন হলো আবৃতবীজী উদ্ভিদ। 

উৎস: ১) জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি) 
২) জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

.
নিচের কোনটি স্পোর সৃষ্টির মাধ্যমে প্রজনন করে?
  1. শৈবাল
  2. ছত্রাক
  3. ফার্ন
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• অযৌন প্রজনন:
- পুং ও স্ত্রীগ্যামেটের মিলন ছাড়া উদ্ভিদের যে প্রজনন ঘটে তাকে অযৌন প্রজনন বলে।
- নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে অযৌন স্পোর সৃষ্টির মাধ্যমে অযৌন জনন হয়ে থাকে এবং আবৃতবীজী উদ্ভিদে সাধারণত দেহ অঙ্গের মাধ্যমে অযৌন জনন হয়ে থাকে।   

• অযৌন স্পোর সৃষ্টির মাধ্যমে প্রজনন:
- নিম্নশ্রেণির বেশকিছু উদ্ভিদে বিভিন্ন ধরনের রেণু বা স্পোর তৈরি হয়। এসব স্পোর অঙ্কুরিত হলে নতুন উদ্ভিদের জন্ম দেয়। যেমন-

ক) শৈবাল - জুওস্পোর, আপ্লানোস্পোর এবং স্থিররেণু বা অ্যাকাইনেটি।
খ) ছত্রাক - কনিডিয়া বা কনিডিয়স্পোর, বেসিডিওস্পোর এবং স্পোরানজিওস্পোর।
গ) ফার্ন -  রেণু বা স্পোর সম-আকৃতির অর্থাৎ হোমোস্পোরাস।

উৎস: জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

.
একটি আদর্শ ফুলের কয়টি স্তবক থাকে?
  1. ৩ টি
  2. ৪ টি
  3. ৫ টি
  4. ৬ টি
সঠিক উত্তর:
৫ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ টি
ব্যাখ্যা

• ফুল:
- প্রজননের রূপান্তরিত বিশেষ ধরনের বিটপ হলো ফুল।
- ফুল উচ্চ শ্রেণির উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ।
- একটি আদর্শ ফুলের ৫ টি স্তবক থাকে। যথা:

১। পুষ্পাক্ষ:

- ফুলের স্তবকগুলো যে অক্ষের উপর সাজানো থাকে তাকে পুষ্পাক্ষ বলে।
- সাধারণত গোলাকার এবং ফুলের বৃন্তশীর্ষে অবস্থান করে।
- পুষ্পাক্ষের উপর বাকি চারটি স্তবক পরপর সাজানো থাকে।

২। বৃতি:

-  ফুলের বাইরের স্তবককে বৃতি বলে।
- এর প্রতিটি খন্ডকে বৃত্যাংশ বলে।
- প্রধান কাজ ফুলের ভেতরের অংশগুলোকে রোদ, বৃষ্টি, এবং পোকার আক্রমন থেকে রক্ষা করা।
- সবুজ বৃতি খাদ্য প্রস্তুত কাজে অংশ নেয়।
- বৃতি যখন রঙ বেরঙের হয় তখন তারা পরাগায়নের মাধ্যম হিসেবে কীটপতঙ্গ, পশু-পাখি ইত্যাদিকে আকর্ষণ করে।

৩। দলমন্ডল:

- বৃতির উপরে পুষ্পাক্ষ সংলগ্ন দ্বিতীয় সহকারী স্তবকটি দলমন্ডল।
- এর প্রতিটি খন্ডকে দলাংশ বা পাপড়ি বলা হয়।
- সাধারণত রঙ্গিন হয়।
- উজ্জ্বল ঝলমলে রঙের দলমন্ডল পোকামাকড় ও পশু-পাখি আকর্ষণ করে এবং পরাগায়নে সহায়তা করে।
- অনেক সময় ফুলের পাপড়ি কোন কোন পোকামাকড়কে বসে মধু খেতে সাহায্য করে।

৪। পুংস্তবক:

- দলমন্ডলের ভেতরে পুষ্পাক্ষ সংলগ্ন পরাগরেণু উৎপাদনকারী স্তবককে পুংস্তবক বলা হয়।
- স্তবকের প্রতিটি অংশকে পুংকেশর বলা হয়।
- একটি পুংস্তবকে এক বা একাধিক পুংকেশর থাকতে পারে।

৫। স্ত্রীস্তবক:

- পুষ্পের কেন্দ্রে অবস্থিত ফ্লাক্স আকৃতির ডিম্বক উৎপাদনকারী স্তবককে স্ত্রীস্তবক বলা হয়।
- এর প্রতিটি অংশকে গর্ভপত্র বলা হয়।
- একটি গর্ভপত্রের তিনটি অংশ । যথা: গর্ভাশয়, গর্ভদন্ড ও গর্ভমুন্ড।

উৎস: ১) জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।
২) জীব বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
নিচের কোনটি মানুষ, কুকুর ও বিড়ালের দেহে জলাতঙ্ক রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী?
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ছত্রাক
  4. শৈবাল
সঠিক উত্তর:
ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাইরাস
ব্যাখ্যা

*** মানুষ, কুকুর ও বিড়ালের দেহে জলাতঙ্ক রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী হচ্ছে ভাইরাস

• ভাইরাস:
- ভাইরাস মানবদেহে, উদ্ভিদ ও পোষা প্রাণীর দেহে বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি করে। যেমন- ইনফ্লুয়েঞ্জা, কোভিড-১৯, SARS, MERS, অ্যাডেনোভাইরাস, পোলিও, জলাতঙ্ক, মেনিনজাইটিস, হেপাটাইটিস (A, B, C), হাম, জলবসন্ত, হার্পিস, HPV, HIV/AIDS, ডেঙ্গু, ইবোলা, জিকা, সিমের মোজাইক রোগ, আলুর লিফরোল, ধানের টুংরো রোগ, গরুর বসন্ত, গরু, ভেড়া, ছাগল, মহিষ ইত্যাদি প্রাণীর খুরারোগ, মানুষ, কুকুর ও বিড়ালের দেহে জলাতঙ্ক রোগ সৃষ্টি করে।

• ব্যাকটেরিয়া:
- ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ মানব, উদ্ভিদ ও প্রাণীর ব্যাপক ক্ষতি করে; মানুষে যক্ষ্মা, কলেরা, টিটেনাস, নিউমোনিয়া, টাইফয়েড, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, লেপ্রসি (কুষ্ঠ রোগ), মেনিনজাইটিস, সিফিলিস এবং পোষা প্রাণীতে সালমোনেলোসিস, এন্থ্রাক্স , আবার উদ্ভিদে ব্যাকটেরিয়াল উইল্ট ( ব্যাকটেরিয়াল মরা), ফায়ার ব্লাইট (আগুন পোড়া), গমের টুন্ড রোগ, ধানের পাতা ধ্বসা ইত্যাদি প্রধান ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ।

• ছত্রাক
- মানবদেহ, উদ্ভিদ ও পোষা প্রাণীর দেহে ছত্রাক বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করে, যেমন মানুষের দাদ (Ringworm), ক্যান্ডিডিয়াসিস এবং উদ্ভিদের আলুর আর্লি ব্লাইট রোগ, পাউডারি মিলডিল, যা টিস্যু ধ্বংস করে এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি করে। পোষা প্রাণীতেও ছত্রাক দাদ, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ঘটায়, যা তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে ফেলে। 

• শৈবাল
- শৈবাল মানবদেহ, উদ্ভিদ ও পোষা প্রাণীর দেহে রোগ সৃষ্টি করতে পারে, যা প্রধানত ক্ষতিকারক শৈবাল ব্লম (HABs) থেকে টক্সিন নিঃসরণের কারণে হয়

উৎস: জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান। 

.
নিচের কোনটি একবীজপত্রী উদ্ভিদের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য?
  1. বীজে বীজপত্র একটি থাকে
  2. পাতার শিরাবিন্যাস সাধারণত সমান্তরাল
  3. পুষ্প ট্রাইমেরাস
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• একবীজপত্রী উদ্ভিদ:
- যেসব আবৃতবীজী উদ্ভিদের বীজে একটিমাত্র বীজপত্র থাকে তাদেরকে একবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে। 
- একবীজপত্রী উদ্ভিদের উদাহরণ হলো ধান, গম, ভুট্টা, আঁখ, পেঁয়াজ ইত্যাদি।

• একবীজপত্রী উদ্ভিদের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য:
- বীজে বীজপত্র একটি থাকে। 
- এদের মূল সাধারণত গুচ্ছ প্রকৃতির হয়।
- পাতার শিরাবিন্যাস সাধারণত সমান্তরাল।
- পুষ্পে পুষ্পপত্রের সংখ্যা ৩ বা এর গুণিতক (৩টি, ৬টি বা ৯টি) অর্থাৎ পুষ্প ট্রাইমেরাস।
- বীজ পত্রের অবস্থান শীর্ষক এবং ভ্রূণমুকুল পার্শ্বীয়।
- গৌণ বৃদ্ধি ঘটে না।

উৎস: জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

.
কোনটি শৈবালের চলনে সহায়তা করে?
  1. অ্যান্টেনা
  2. ফ্লাজেলা
  3.  সিলিয়া
  4. ছদ্মপদ
সঠিক উত্তর:
ফ্লাজেলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্লাজেলা
ব্যাখ্যা

*** শৈবালের চলনে সহায়তা করে ফ্লাজেলা

• শৈবাল:
- শৈবাল হলো ক্লোরোফিলযুক্ত সরল, স্বভোজী জলজ উদ্ভিদ যাদের মূল, কাণ্ড ও পাতা নেই।
- এরা সালোকসংশ্লেষণ করে এবং এককোষী বা বহুকোষী হতে পারে, যেমন: শেওলা।
- এদের দেহ মূলত সেলুলোজ নির্মিত এবং এরা পরিবেশের আর্দ্র স্থানে জন্মে।

• শৈবালের গঠন:
- শৈবালের গঠনকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা: বাহ্যিক গঠন এবং কোষীয় গঠন।
- এরা আণুবীক্ষণিক থেকে অনেক দীর্ঘাকার হয়। বাদামি শৈবাল ৬০ মিটার পর্যন্ত দীর্ঘ বা লম্বা হয়।
- এককোষী শৈবাল যাদের ফ্ল্যাজেলা থাকে তারা সচল, যেমন- Chlamydomonas এবং যাদের ফ্ল্যাজেলা থাকে না তারা নিশ্চল হয়, যেমন- Chlorella।
- অনেক প্রজাতি রয়েছে যারা কলোনি করে থাকে। প্রত্যেক কলোনিতে অনেকগুলো কোষ থাকে, যেমন- Volvox।
- বহু প্রজাতি রয়েছে যাদের দেহ ফিলামেন্টাস। 
- শৈবালের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ গঠনে প্রচুর পার্থক্য বিদ্যমান।

- প্রোটোজোয়া-প্যারামিসিয়ামের চলন অঙ্গ হচ্ছে সিলিয়া।
- অ্যামিবার চলন অঙ্গ হচ্ছে ছদ্মপদ।

উৎস: জীব বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের বেশিষ্ট্য হচ্ছে-
  1. অবীজী উদ্ভিদ
  2. দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে
  3. প্রধান দেহটি স্পোরোফাইটিক এবং অপুষ্পক
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• টেরিডোফাইটা:
- গ্রিক শব্দ Pteron (পক্ষল বা ডানা) এবং Phyton (উদ্ভিদ) হতে Pteridophyta শব্দের উৎপত্তি। এরা হলো ডানাবিশিষ্ট উদ্ভিদ।
- মূল, কান্ড ও পাতা দ্বারা গঠিত এবং পরিবহন টিস্যুবিশিষ্ট অপুষ্পক স্বভোজী উদ্ভিদগুলো টেরিডোফাইটা নামে পরিচিত।
- পৃথিবীতে প্রায় দশ হাজার প্রজাতির টেরিডোফাইট উদ্ভিদ রয়েছে। টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হলো Pteris, Psilotum, Lycopodium, Equisetum ইত্যাদি।

টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের বেশিষ্ট্য:

- এদের প্রধান দেহটি স্পোরোফাইটিক এবং অপুষ্পক।
- এরা অবীজী উদ্ভিদ।
- দেহ মূল, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত।
- এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে।
- জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে।
- গ্যামিটোফাইট থ্যালাস প্রকৃতির এবং মোটামুটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। এ পর্যায়কে প্রোথ্যালাস বলে।
- ভ্রূণ সৃষ্টি হয়।
- অধিকাংশ সদস্যে কান্ড রাইজোমে পরিণত হয়।
- এদের অস্থানিক মূল বিদ্যমান।

উৎস: জীব বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
নিষেকক্রিয়ার পর ফুলের গর্ভাশয় কোনটিতে পরিবর্তিত হয়?
  1. ফল
  2. বীজ
  3. ভ্রূণ
  4. সস্য
সঠিক উত্তর:
ফল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফল
ব্যাখ্যা

- নিষেকক্রিয়ার পর ফুলের গর্ভাশয় ফলে পরিবর্তিত হয়।

• নিষেকক্রিয়া:
 
- আকার, আকৃতি ও প্রকৃতিগত পার্থক্যমন্ডিত একটি পুংগ্যামিট ও স্ত্রীগ্যামিট এর মধ্যকার মিলন প্রক্রিয়াকে নিষেকক্রিয়া বলা হয়।
- একে নিষেক বা গর্ভাধানও বলে।
- সকল আবৃতবীজী উদ্ভিদ, ব্যক্তবীজী উদ্ভিদ, টেরিডোফাইটস্, ব্রায়োফাইটস্, শৈবাল প্রভৃতি উদ্ভিদে নিষেক ক্রিয়া ঘটে।
- নিষেক ক্রিয়ার ফলে ডিপ্লয়েড জাইগোট উৎপন্ন হয়।

• বীজ সৃষ্টি:
- গুপ্তবীজী উদ্ভিদ ও ব্যক্তবীজী উদ্ভিদে বীজ সৃষ্টি হয়। নিষেকক্রিয়ার পর ডিম্বক বিভিন্ন ধরনের বিভাজন ও পরিবর্তনের মাধ্যমে বীজে পরিণত হয়।
- জাইগোট বিভাজন ও পরিস্ফুটনের মাধ্যমে একটি ভূণ গঠন করে। একটি ভ্রূণে থাকে বীজপত্র, ভূণকান্ড, ভূণমূল ও সস্য বা এন্ডোস্পার্ম।

• নিষেকক্রিয়ার পর গর্ভাশয় ও ডিম্বকের বিভিন্ন পরিবর্তন:



উৎস: জীব বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
HMPV (এইচএমপিভি) ভাইরাসের পূর্ণরূপ কী?
  1. Human micropneumoniavirus
  2. Human Multiple Pathogenic Virus
  3. Human Metapneumovirus 
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
Human Metapneumovirus 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Human Metapneumovirus 
ব্যাখ্যা

• HMPV (এইচএমপিভি):

- HMPV (এইচএমপিভি) ভাইরাসের পূর্ণরূপ Human Metapneumovirus। 
- এটি মূলত শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ ঘটায়।
- ছোট শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিরা এর গুরুতর জটিলতায় বেশি আক্রান্ত হন।
- হাঁচি-কাশি বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়।

- অন্যান্য অপশন গুলো সঠিক নয়।

উৎস: WHO

১৩.
নিচের কোনটি ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ?
  1. হাম
  2. জন্ডিস
  3. জলবসন্ত
  4. টাইফয়েড
সঠিক উত্তর:
টাইফয়েড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাইফয়েড
ব্যাখ্যা

*** টাইফয়েড একটি ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ। 

• ব্যাকটেরিয়া:
- গ্রিক শব্দ Bakterion = little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটির উৎপত্তি। ব্যাকটেরিয়া (এক বচনে ব্যাকটেরিয়াম)  এক ধরনের ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব।
- ডাচ বিজ্ঞানী Antony Van Leeuwenhoek ১৬৭৫ সালে তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সরল অণুবীক্ষণযন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
- এরা এক কোষী জীব, তবে একসাথে অনেকগুলো কলোনি করে বা দল বেঁধে থাকতে পারে।
- এদের কোষে জড় কোষ প্রাচীর থাকে। তাই এরা উদ্ভিদের সাথে মিল সম্পন্ন।
- এদের কতক পরজীবী ও রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবী এবং কিছু স্বনির্ভর।

• ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ:
- ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ মানব, উদ্ভিদ ও প্রাণীর ব্যাপক ক্ষতি করে; মানুষে যক্ষ্মা, কলেরা, টিটেনাস, টাইফয়েড, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, লেপ্রসি (কুষ্ঠ রোগ), মেনিনজাইটিস, সিফিলিস এবং পোষা প্রাণীতে সালমোনেলোসিস, এন্থ্রাক্স , আবার উদ্ভিদে ব্যাকটেরিয়াল উইল্ট ( ব্যাকটেরিয়াল মরা), ফায়ার ব্লাইট (আগুন পোড়া), গমের টুন্ড রোগ, ধানের পাতা ধ্বসা ইত্যাদি প্রধান ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ।

• ভাইরাস ঘটিত রোগ:
- ভাইরাস মানবদেহে, উদ্ভিদ ও পোষা প্রাণীর দেহে বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি করে। যেমন- ইনফ্লুয়েঞ্জা, কোভিড-১৯, SARS, MERS, অ্যাডেনোভাইরাস, পোলিও, জলাতঙ্ক, মেনিনজাইটিস, জন্ডিস- হেপাটাইটিস (A, B, C), হাম, জলবসন্ত, হার্পিস, HPV, HIV/AIDS, ডেঙ্গু, ইবোলা, জিকা, সিমের মোজাইক রোগ, আলুর লিফরোল, ধানের টুংরো রোগ, গরুর বসন্ত, গরু, ভেড়া, ছাগল, মহিষ ইত্যাদি প্রাণীর খুরারোগ, মানুষ, কুকুর ও বিড়ালের দেহে জলাতঙ্ক রোগ সৃষ্টি করে।

উৎস: জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান. 

১৪.
নিচের কোন মৌলটি মাইক্রোমৌল?
  1. কার্বন
  2. আয়রন
  3. সালফার
  4. ফসফরাস
সঠিক উত্তর:
আয়রন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়রন
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: নিচের কোন মৌলটি মাইক্রোমৌল?

• উদ্ভিদের অত্যাবশকীয় পুষ্টি উপাদান:
- যে মৌল ছাড়া উদ্ভিদ তার স্বাভাবিক জীবনচক্র সম্পন্ন করতে পারে না এবং উদ্ভিদ গঠন বা মেটাবলিজম সম্ভব নয় তাকে উদ্ভিদের অত্যাবশকীয় পুষ্টি উপাদান বলা হয়। 
- উদ্ভিদের জন্য দুই ধরনের অত্যাবশকীয় পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন। যথা:

• ম্যাক্রোমৌল:
- যে মৌলগুলো অধিক পরিমাণে লাগে সেগুলো ম্যাক্রোমৌল।
- হাইড্রোজেন, কার্বন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস ও সালফার।

• মাইক্রোমৌল:
- যে মৌলগুলো অপেক্ষাকৃত কম পরিমাণে লাগে সেগুলো মাইক্রোমৌল।
- ক্লোরিন, বোরন, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, কপার, নিকেল, মলিবডেনাম।

উৎস: জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।