পরীক্ষা আর্কাইভ

ব্যাংক ডেইলি কুইজ [লং কোর্সের অংশ]

পরীক্ষাব্যাংক ডেইলি কুইজ [লং কোর্সের অংশ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়05 minutes
মোট প্রশ্ন
সিলেবাস
Exam - 42 Bangla: Topic: সন্ধি, উপসর্গ, অনুসর্গ।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ব্যাংক ডেইলি কুইজ [লং কোর্সের অংশ]

ব্যাংক ডেইলি কুইজ [লং কোর্সের অংশ] · তারিখ অনির্ধারিত · প্রশ্ন

.
ইংরেজি 'Prefix' শব্দকে বাংলায় কী বলা হয়?
  1. সমাস
  2. অনুসর্গ
  3. প্রত্যয়
  4. উপসর্গ
সঠিক উত্তর:
উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• ইংরেজি 'Prefix' শব্দকে বাংলায় উপসর্গ বলা হয়।

উপসর্গ (Prefix):
- বাংলা ভাষায় এমন কতগুলো অব্যয়সূচক শব্দাংশ রয়েছে, যা স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না।
- এগুলো অন্য শব্দের আগে বসে।
- এর প্রভাবে নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয় এবং শব্দের অর্থের পূর্ণতা সাধিত হয় কিংবা শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ অথবা সংকোচন ঘটে। 
- ভাষায় ব্যবহৃত এসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশের নাম উপসর্গ।
যেমন - 
→ 'পূর্ণ' (ভরা) শব্দের আগে 'পরি' যোগ করায় 'পরিপূর্ণ' হলো। এটি পূর্ণ শব্দের সম্প্রসারিত রূপ (অর্থে ও আকৃতিতে)।
→ 'হার' শব্দের পূর্বে 'আ' যুক্ত করে 'আহার' (খাওয়া), 'প্র' যুক্ত করে 'প্রহার' (মারা), 'বি' যুক্ত করে 'বিহার' (ভ্রমণ), 'পরি' যোগ করে 'পরিহার' (ত্যাগ), 'উপ' যোগ করে 'উপহার' (পুরস্কার), 'সম' যোগ করে 'সংহার' (বিনাশ) ইত্যাদি বিভিন্ন অর্থে বিভিন্ন শব্দ তৈরি হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'সীমার মাঝে অসীম তুমি।' - বাক্যটিতে 'মাঝে' কী?
  1. অনুসর্গ
  2. অব্যয়
  3. উপসর্গ
  4. প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
• 'সীমার মাঝে অসীম তুমি।' - বাক্যটিতে 'মাঝে' - অনুসর্গ

অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয়:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
যেমন -
→ বিনা: দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? (প্রাতিপদিকের পরে)
→ সনে: ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর। (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
→ দিয়ে: তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। (দ্বিতীয়ার 'কে' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
- বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে।
যেমন -
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক, সঙ্গে, হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে, পাছে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।
- এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক, হইতে (হতে), চেয়ে, অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়। 

অনুসর্গের প্রয়োগ:
মাঝে:
- মধ্যে অর্থে - 'সীমার মাঝে অসীম তুমি।'
- একদেশিক অর্থে - এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।
- ক্ষণকাল অর্থে - নিমেষ মাঝেই সব শেষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
স্বরসন্ধির উদাহরণ কোনটি?
  1. অন্বেষণ
  2. দুর্যোগ
  3. ষড়ানন
  4. সুবন্ত
সঠিক উত্তর:
অন্বেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্বেষণ
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির উদাহরণ - অন্বেষণ (অনু + এষণ)।

অন্যদিকে,
• বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ - দুর্যোগ (দুঃ + যোগ)।
• ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ - ষড়ানন (ষট্‌ + আনন), সুবন্ত (সুপ্‌ + অন্ত)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'তচ্ছবি' ব্যঞ্জনসন্ধিটি কোন নিয়মে গঠিত হয়েছে?
  1. স্বর + স্বর
  2. ব্যঞ্জন + স্বর
  3. স্বর + ব্যঞ্জন
  4. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।
- এদিক থেকে ব্যঞ্জন সন্ধিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
১. ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি,
২. স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি,
৩. ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি।

ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
ত্ ও দ্-এর পর চ্ ও ছ্‌ থাকলে ত্ ও দ্‌ স্থানে চ্ হয়।
যেমন -
- ত্ + চ = চ্চ; সৎ + চিন্তা = সচ্চিন্তা।
- ত্‌ + ছ = চ্ছ; উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ।
- দ্‌ + চ = চ্চ; বিপদ + চয় = বিপচ্চয়।
- দ্‌ + ছ = চ্ছ; বিপদ + ছায়া = বিপচ্ছায়া; তদ্‌ + ছবি = তচ্ছবি
এরূপ – উচ্চারণ, শরচ্চন্দ্র, সচ্চরিত্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'গরমিল' শব্দে ব্যবহৃত 'গর্‌' কোন উপসর্গ?
  1. বাংলা উপসর্গ
  2. সংস্কৃত উপসর্গ
  3. বিদেশি উপসর্গ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিদেশি উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদেশি উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• 'গরমিল' শব্দে ব্যবহৃত 'গর্‌' - বিদেশি উপসর্গ
- এটি আরবি উপসর্গ।

বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি – এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত রয়েছে।
- এর কতগুলো খাঁটি উচ্চারণে আবার কতগুলো বিকৃত উচ্চারণে বাংলায় ব্যবহৃত হয়।
- এ সঙ্গে কতগুলো বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু রয়েছে।
- দীর্ঘকাল ব্যবহারে এগুলো বাংলা ভাষায় বেমালুম মিশে গিয়েছে।
- বেমালুম শব্দটিতে 'মালুম' আরবি শব্দ আর 'বে' ফারসি উপসর্গ।

• আরবি উপসর্গ ৪টি। যথা:
- আম্‌: সাধারণ অর্থে - আমদরবার, আমমোক্তার।
- খাস: বিশেষ অর্থে - খাসমহল, খাসখবর।
- লা: না অর্থে - লাজওয়াব, লাখেরাজ।
- গর্‌: অভাব অর্থে - গরমিল, গররাজি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'অতীত' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অতি + ইত
  2. অতী + ইত
  3. অতি + ঈত
  4. অতী + ঈত
সঠিক উত্তর:
অতি + ইত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতি + ইত
ব্যাখ্যা
• 'অতীত' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ - অতি + ইত

স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।

• ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে দীর্ঘ ঈ-কার হয়। দীর্ঘ ঈ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন -
→ ই + ই = ঈ; অতি + ইত = অতীত
→ ই + ঈ = ঈ; পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা।
→ ঈ + ই = ঈ; সতী + ইন্দ্র = সতীন্দ্র।
→ ঈ + ঈ = ঈ; সতী + ঈশ = সতীশ।
এরূপ - গিরীন্দ্র, ক্ষিতীশ, মহীন্দ্র, শ্রীশ, পৃথ্বীশ, অতীব, প্রতীক্ষা, প্রতীত, রবীন্দ্র, দিল্লীশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. প্রাত + কাল = প্রাতকাল
  2. প্রাতঃ + কাল = প্রাতকাল
  3. প্রাতঃ + কাল = প্রাতঃকাল
  4. প্রাতঃ + কালঃ = প্রাতঃকাল
সঠিক উত্তর:
প্রাতঃ + কাল = প্রাতঃকাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাতঃ + কাল = প্রাতঃকাল
ব্যাখ্যা
বিসর্গ সন্ধি:
- সংস্কৃত সন্ধির নিয়মে পদের অন্তস্থিত র্‌ ও স্‌ অনেক ক্ষেত্রে অঘোষ উষ্মধ্বনি অর্থাৎ হ ধ্বনিরূপে উচ্চারিত হয় এবং তা বিসর্গ (ঃ) রূপে লেখা হয়।
- র্‌ ও স্‌ বিসর্গ ব্যঞ্জনধ্বনিমালার অন্তর্গত। সে কারণে বিসর্গ সন্ধি ব্যঞ্জনসন্ধির অন্তর্গত।
- বস্তুত বিসর্গ র্‌ এবং স্‌ এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
- বিসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
১. র্‌ - জাত বিসর্গ ও 
২. স্‌ - জাত বিসর্গ।
বিসর্গের সাথে অর্থাৎ র্‌ ও স্‌ - এর সাথে স্বরধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।

• কোনো কোনো ক্ষেত্রে সন্ধির বিসর্গ লোপ হয় না।
যেমন -
- প্রাতঃ + কাল = প্রাতঃকাল,
- মনঃ + কষ্ট মনঃকষ্ট,
- শিরঃ + পীড়া = শিরঃপীড়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
নিচের কোনটিতে সাধারণ অনুসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
  2. ভাল করে খেয়ে নাও।
  3. সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।
  4. হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
সঠিক উত্তর:
হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
ব্যাখ্যা
• সাধারণ অনুসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে - হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি

• অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: 
- সাধারণ অনুসর্গ,
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

সাধারণ অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন -
- উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
- কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
- দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
- জন্য: হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।

ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন -
- ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি
- দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
- বলে: সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে
- করে: ভাল করে খেয়ে নাও

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।