পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৯
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১২: বিষয় - সাধারণ বিজ্ঞান টপিক - ভৌত বিজ্ঞান: পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ক ১. ভৌত রাশি এবং এর পরিমাপ, ভৌত বিজ্ঞানের উন্নয়ন, আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান, পদার্থের চৌম্বকত্ব, তড়িৎ চৌম্বক ও তাড়িত চৌম্বকীয় আবেশ, তরঙ্গ এবং শব্দ, শক্তি। ২. কাজ, শক্তি ও ক্ষমতা; তাপ ও তাপগতি বিদ্যা, পদার্থের গ্যাসীয় ধর্ম, আলোর প্রকৃতি, স্থির এবং চল তড়িৎ, আলোক বিজ্ঞান ও আলোক যন্ত্রপাতি, ট্রান্সফরমার, এক্সরে, তেজস্ক্রিয়তা। ------------------ [এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আজ বা যেকোন সময় পরীক্ষা শুরু করা হলেও নির্দিষ্ট সময়ে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৯ প্রশ্ন

.
তারের কুণ্ডলীতে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলে তার চারপাশে কী তৈরি হয়?
  1. রোধকত্ব
  2. চৌম্বকক্ষেত্র
  3. তড়িৎপ্রবাহ
  4. কিছুই ঘটে না
ব্যাখ্যা
• যখন কোনো তার বা কুণ্ডলীতে (coil) দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ (electric current) চালানো হয়, তখন তার চারপাশে একটি চৌম্বক ক্ষেত্র (Magnetic Field) তৈরি হয়।
-   এটি একটি মৌলিক ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ঘটনা, যা অ্যাম্পিয়ারের নিয়ম (Ampere’s Law) ও অয়েরস্টেড পরীক্ষণ  (Oersted’s Experiment)-এর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়।

আবার, 
• ফারাডের গবেষণা অনুযায়ী, কুণ্ডলীর আশপাশে চৌম্বকক্ষেত্র পরিবর্তন করলে তাতে তড়িৎপ্রবাহ উৎপন্ন হয়।
-  ঠিক উল্টোভাবে, কুণ্ডলীতে বিদ্যুৎ চালালে তার চারপাশে চৌম্বকক্ষেত্র তৈরি হয়।
- যখন কুণ্ডলীর মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, তখন এটি একটি চুম্বকের মতো আচরণ করে। 

• এটি আবার দুইরকম হয়। যেমনঃ

→ একটি সোজা কুণ্ডলীতে বিদ্যুৎ চালালে তার ভেতরে একটি সুষম এবং শক্তিশালী চুম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরি হয়।
→ এর ভেতরে একটি লৌহ দণ্ড (iron core) দিলে এটি একটি শক্তিশালী অস্থায়ী চুম্বকে পরিণত হয়, যাকে বলা হয় ইলেক্ট্রোম্যাগনেট (Electromagnet)।
→  বৈদ্যুতিক মোটর, ট্রান্সফরমার, জেনারেটর ইত্যাদি যন্ত্রে চৌম্বকক্ষেত্র ব্যবহার হয়।


তথ্যসূত্র: 
- ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান।
.
আলোকবিজ্ঞানের স্থপতি হিসেবে বিবেচনা করা হয় কাকে?
  1. জোহান কেপলার
  2. ভাস্কর
  3. ইবনে আল হাইয়াম
  4. আল খোয়ারিজমি
ব্যাখ্যা
•  প্রাচীনকাল থেকে শুরু হওয়া পদার্থবিজ্ঞানের চর্চা  শুরু হয়েছিল জ্যোতির্বিদ্যা, আলোকবিজ্ঞান, গতিবিদ্যা এবং গণিতের গুরুত্বপূর্ণ শাখা জ্যামিতির সমন্বয়ে।  এর মাঝে অনেকে নানাবিধ আবিষ্কারের জন্য বিখ্যাত। 

→ জোহান কেপলার সৌরকেন্দ্রিক মতবাদ ব্যাখ্যা করে তিনটি গানিতিক সূত্র প্রদান করেন।

→ ভাস্কর গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যার অনেক মূল্যবান কাজ করেছেন

→ মুসলিম গণিতবিদ এবং বিজ্ঞানীদের ভেতর খোয়ারিজমির  নাম আলাদাভাবে উল্লেখ করতে হয় । তার লেখা আল জাবির থেকে বর্তমান অ্যালজেবরা নামটি এসেছে। 

অন্যদিকে,
• ইবনে আল হাইয়াম (Ibn al-Haytham), যিনি পশ্চিমা বিশ্বে Alhazen নামে অধিক পরিচিত।  তাঁকে আধুনিক অপটিক্স বা আলোকবিজ্ঞানের স্থপতি হিসেবে গণ্য করা হয়
- তিনি ১০ম শতাব্দীর একজন মুসলিম বিজ্ঞানী ও দার্শনিক, যিনি আলো, প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও দৃষ্টিশক্তি নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেন।
- তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ “Kitab al-Manazir” (The Book of Optics)-এ তিনি প্রথম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আলোর ধর্ম নিয়ে বিশ্লেষণ করেন। এই গ্রন্থটি পরবর্তীতে ইউরোপে ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত হয়ে "De Aspectibus" নামে পরিচিত হয় এবং এটি বহু শতাব্দী ধরে ইউরোপীয় বিজ্ঞানীদের জন্য মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ছিল। 


তথ্যসূত্র:
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি – পদার্থবিজ্ঞান, প্রথম পত্র।
- ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান।
.
আন্তর্জাতিক বা SI এককে সার্বজনীন গ্যাস ধ্রুবকের মান কত?
  1. 22.4 litre
  2. 8.31 JK-1mol-1
  3. 5.43 Nm-2
  4. 8.54 JK-1mol-1
ব্যাখ্যা
• সার্বজনীন গ্যাস ধ্রুবক, যাকে সাধারণত R দ্বারা প্রকাশ করা হয়, এটি একটি মৌলিক ভৌত ধ্রুবক যা আদর্শ গ্যাস সূত্রে (Ideal Gas Law) ব্যবহৃত হয়।

• আদর্শ গ্যাস সূত্র হলো:
PV=nRT

যেখানে,

P = চাপ (Pressure)
V = আয়তন (Volume)
n = মৌলের মোল সংখ্যা (Number of moles)
R = সার্বজনীন গ্যাস ধ্রুবক
T = তাপমাত্রা (Kelvin এককে)

সার্বজনীন গ্যাস ধ্রুবকের মান বিভিন্ন এককে ভিন্ন হতে পারে ( অর্থাৎ সবগুলোই সঠিক), যেমন:

8.314 J mol-1K-1

0.0821L atm mol-1K-1   

1.987cal mol-1K-1


তথ্যসূত্র: 
- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পদার্থবিজ্ঞান,  একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী।
- পদার্থবিজ্ঞান – একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনী, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ।
.
একটি স্বল্প পাল্লার অ্যামিটারকে বেশি পাল্লার অ্যামিটারে পরিণত করতে হলে এর সাথে কী যুক্ত করতে হবে?
  1. ব্যাটারি
  2. তামার তার
  3. রোধ
  4. ক্যাপাসিটর
ব্যাখ্যা
• একটি স্বল্প পাল্লার অ্যামিটার (Low Range Ammeter) কেবলমাত্র সীমিত পরিমাণ বৈদ্যুতিক প্রবাহ (Current) মাপতে পারে।
-  কিন্তু যদি এই অ্যামিটারকে বেশি কারেন্ট মাপার উপযোগী করতে চাই, তবে তাকে বেশি পাল্লার অ্যামিটারে (High Range Ammeter) পরিণত করতে হবে।

•একটি স্বল্প পাল্লার অ্যামিটারকে বেশি পাল্লার অ্যামিটারে পরিণত করতে হলে এর সাথে একটি শাণ্ট রোধ (shunt resistor)  সমান্তরাল সংযোগে যুক্ত করতে হয়।

একটি কম রোধবিশিষ্ট শাণ্ট রোধ সমান্তরালভাবে যুক্ত করা হলে এর ফলে মোট কারেন্টটি দুটি পথে বিভক্ত হয়।
→ বেশিরভাগ কারেন্ট চলে যায় শাণ্ট রোধের মধ্য দিয়ে, আর অ্যামিটারের মধ্য দিয়ে অল্প অংশ যায়।
→ ফলে বেশি রেঞ্জ এ কারেন্ট মাপা যায়।

তথ্যসূত্র: 
- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পদার্থবিজ্ঞান, ১১-১২ শ্রেণী। 
- নবম-দশম শ্রেণি – পদার্থবিজ্ঞান।
.
কোনটি মাধ্যমের কণাগুলোর সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে অগ্রসর হয়?
  1. আলোক তরঙ্গ
  2. বেতার তরঙ্গ
  3. শব্দ তরঙ্গ
  4. পানির তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
• অনুপ্রস্থ তরঙ্গ: যেসব তরঙ্গে কণাগুলোর কম্পনের দিক তরঙ্গ চলার দিকের সঙ্গে লম্বভাবে (সমকোণে) ঘটে, সেগুলোকে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলা হয়।

এর বৈশিষ্ট্য হলো:
→কণাগুলো তরঙ্গ চলার দিকে উপর-নিচে বা ডান-বামে দুলে।
→তরঙ্গে শীর্ষ (crest) ও পাদ (trough) দেখা যায়। 
→এই তরঙ্গগুলো শূন্যস্থানেও চলতে পারে। 

উদাহারনঃ আলোর তরঙ্গ, বেতার তরঙ্গ, পানির তরঙ্গ। 

অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ: যেসব তরঙ্গে কণাগুলোর কম্পনের দিক তরঙ্গ চলার দিকের সাথে সমান্তরাল, সেগুলোকে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলে।কণাগুলো একই সরলরেখা বরাবর সামনের দিকে-পেছনের দিকে দুলে।
- তরঙ্গে সংকোচন (compression) ও প্রসারণ (rarefaction) হয়।
- এগুলো পরিবহনের জন্য সাধারণত মাধ্যম (বায়ু, জল, কঠিন পদার্থ) প্রয়োজন হয়।

উদাহারন: শব্দ তরঙ্গ, স্প্রিংয়ে সৃষ্ট কম্পন, ভূমিকম্পের প্রাথমিক তরঙ্গ 

• শব্দ তরঙ্গ হলো একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ, যা সংকোচন ও প্রসারণ এর মাধ্যমে মাধ্যমের কণাগুলোর কম্পনের ফলে ছড়ায়। এই তরঙ্গ অগ্রসর হতে কোনো না কোনো মাধ্যম (যেমন: বায়ু, জল, কঠিন পদার্থ) প্রয়োজন হয়।

শব্দ যেভাবে ছড়ায়:
-  যখন কোনো উৎস (যেমন: ঘণ্টা, স্পিকার) শব্দ সৃষ্টি করে, তখন তার চারপাশের বায়ুর কণাগুলো কম্পিত হয়।
-  কণাগুলো একে অপরকে ধাক্কা দিয়ে সংকোচন (কণাগুলো কাছাকাছি আসে) এবং প্রসারণ (কণাগুলো দূরে সরে যায়) সৃষ্টি করে।
-  এইভাবে একের পর এক সংকোচন-প্রসারণ তরঙ্গাকারে ছড়িয়ে পড়ে, যাকে আমরা শব্দ হিসেবে শুনি।

অন্যদিকে,
আলোক তরঙ্গ: এটি একটি তড়িৎ-চৌম্বক তরঙ্গ — এটি মাধ্যম ছাড়াই শূন্যে (vacuum) চলতে পারে।

বেতার তরঙ্গ (Radio wave): এটিও তড়িৎ-চৌম্বক তরঙ্গ, মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না।

পানির তরঙ্গ: এটি পৃষ্ঠতরঙ্গ (surface wave) — এটি কণার ওঠানামার মাধ্যমে ছড়ায়, সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে নয়।


তথ্যসূত্র: 
- ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান। 
- নবম-দশম শ্রেণি – পদার্থবিজ্ঞান।
.
নারীদের গলার স্বর তীক্ষ্ণ হওয়ার কারন কি?
  1. বেশি কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি হওয়া
  2. কম কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি হওয়া
  3. ভোকাল কর্ড শক্ত হওয়া
  4. কোন কম্পন সৃষ্টি না হওয়া
ব্যাখ্যা
নারীদের গলার স্বর সাধারণত তীক্ষ্ণ বা উচ্চস্বরে (high-pitched) হয়।
এর মূল কারণ হলো — তারা বেশি কম্পাঙ্কের (higher frequency) শব্দ উৎপন্ন করে। 

• শব্দের তীক্ষ্ণতা নির্ভর করে শব্দতরঙ্গের কম্পাঙ্ক (frequency) এর উপর। কম্পাঙ্ক যত বেশি, শব্দ তত তীক্ষ্ণ; আর কম্পাঙ্ক যত কম, শব্দ তত গম্ভীর।

এর কারন হিসেবে বলা যায়-
- নারীদের স্বরযন্ত্র (larynx) তুলনামূলকভাবে ছোট হয়। এখানে অবস্থিত ভোকাল কর্ড (vocal cords) পুরুষদের তুলনায় ছোট ও পাতলা হয়। 
ফলে, কণ্ঠে  দ্রুত কম্পন ঘটে এবং এতে উচ্চতর ফ্রিকোয়েন্সি (frequency) তৈরি হয়।
-  উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির শব্দই আমাদের কানে তীক্ষ্ণ বা উঁচু স্বর হিসেবে শোনায়।
- নারীদের ভোকাল কর্ড প্রতি সেকেন্ডে গড়ে ২০০-২৫০ বার কম্পিত হয়।
পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি হয় প্রায় ১০০-১৫০ বার/সেকেন্ড।
-অর্থাৎ, বেশি কম্পন = বেশি তীক্ষ্ণতা।

তথ্যসূত্র:  
- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পদার্থবিজ্ঞান, ১১-১২ শ্রেণী। 
- নবম-দশম শ্রেণি – পদার্থবিজ্ঞান। 
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি – পদার্থবিজ্ঞান।
.
আলো এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে যাওয়ার সময় কোনটি ঘটে না?
  1. প্রতিফলন
  2. ব্যাতিচার
  3. শোষণ
  4. প্রতিসরণ
ব্যাখ্যা
আলো এক মাধ্যম থেকে আরেক মাধ্যমে প্রবেশ করলে সাধারণত প্রতিফলন (Reflection), প্রতিসরণ (Refraction) এবং কিছুটা শোষণ (Absorption) ঘটে।
কিন্তু ব্যাতিচার (Interference) এই অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে ঘটে না — এটি আলোর অন্য একটি প্রক্রিয়া যা সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিস্থিতিতে ঘটে।

প্রতিফলন (Reflection):  আলো এক মাধ্যম থেকে অন্যমাধ্যমে যাবার সময় খানিকটা আলো আবার প্রথম মাধ্যমেই ফিরে আসে এই ঘটনার নাম হচ্ছে প্রতিফলন। 
প্রতিসরণ (Refraction):   আলো এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে গেলে তার গতি ও দিক পরিবর্তিত হয়।ফলে খানিকটা আলো দ্বিতীয় মাধ্যমে ঢুকে যেতে পারে। এই ঘটনাটি হচ্ছে প্রতিসরণ।
শোষণ (Absorption):      কোনো মাধ্যম আলোকে আংশিক বা সম্পূর্ণ শোষণ করতে পারে।


অন্যদিকে,
ব্যাতিচার (Diffraction): এটি ঘটে যখন আলো কোনো বাঁধা বা সূক্ষ্ম ফাঁক অতিক্রম করে। এটি মাধ্যম পরিবর্তনের কারণে ঘটে না, বরং আলো বাধা অতিক্রম করে যাওয়ার সময় ঘটে।

 - ব্যাতিচার হলো দুই বা ততোধিক আলোক তরঙ্গ একসাথে মিশে নতুন তরঙ্গ সৃষ্টি করা — কখনো তা শক্তিশালী হয় (গঠনমূলক), কখনো দুর্বল (বিধ্বংসী)।
- এটি ঘটে coherent আলোর উৎস থেকে নির্গত তরঙ্গ একে অপরের সঙ্গে মিলিত হলে।
অর্থাৎ, ব্যাতিচার ঘটতে হলে দুটি তরঙ্গের উৎস থাকতে হয়, যা মাধ্যম পরিবর্তনের সময় ঘটে  না।


তাই ব্যাতিচার আলো এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে যাওয়ার সময় ঘটে না।

তথ্যসূত্র: 

- ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান। 
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি – পদার্থবিজ্ঞান, প্রথম পত্র।
.
কোন বস্তুর অবস্থানের জন্য কোনটি তৈরি হয়?
  1. তড়িৎ শক্তি
  2. গতি শক্তি
  3. যান্ত্রিক শক্তি
  4. স্থিতি শক্তি
ব্যাখ্যা
স্থিতি শক্তি (Potential Energy) হলো সেই শক্তি, যা কোনো বস্তু তার অবস্থানের কারণে ধারণ করে। অর্থাৎ, একটি বস্তুকে যদি আমরা একটি নির্দিষ্ট অবস্থানে রাখি (যেমন: মাটির ওপরে উঁচুতে), তাহলে সে অবস্থানের কারণেই তার মধ্যে এক ধরনের শক্তি জমা থাকে — সেটিই স্থিতি শক্তি।
- যখন একটি পাথর উঁচু স্থানে থাকে, তখন তার ভেতরে মাটিতে থাকার সময়ের তুলনায় বেশি স্থিতি শক্তি জমা থাকে।  
- এটি নিচে পড়লে সেই শক্তি গতিশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।


অন্যদিকে, 
তড়িৎ শক্তি (Electrical Energy):  এটি চার্জের গতি বা বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রের কারণে তৈরি হয়, অবস্থানের কারণে নয়।

গতি শক্তি (Kinetic Energy):  এটি তখন তৈরি হয়, যখন কোনো বস্তু চলন্ত অবস্থায় থাকে।

যান্ত্রিক শক্তি (Mechanical Energy):  এটি একটি সামগ্রিক শক্তি, যা স্থিতি শক্তি ও গতি শক্তি উভয়ের যোগফল — তাই একে সঠিক উত্তর ধরা যায় না, যেহেতু প্রশ্নে নির্দিষ্টভাবে "অবস্থানের জন্য" জিজ্ঞেস করা হয়েছে।


তথ্যসূত্র: 
- ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান। 
- অষ্টম শ্রেণি – সাধারণ বিজ্ঞান, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ।
.
কাঁচা লোহার চৌম্বক প্রবণতা ইস্পাতের তুলনায় কেমন হয়?
  1. কম
  2. বেশি
  3. সমান
  4. চৌম্বক প্রবণতা শূন্য
ব্যাখ্যা
•  চৌম্বক প্রবণতা (Magnetic Susceptibility) হলো একটি পদার্থ কতটা সহজে চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা চুম্বকিত হতে পারে, তার পরিমাপ। এটি পদার্থটির চৌম্বক হওয়ার সক্ষমতা নির্দেশ করে।

কাঁচা লোহা (Soft Iron):
-  কাঁচা লোহার ডোমেইনগুলোকে বহিঃচৌম্বকক্ষেত্রের প্রভাবে সহজে বিন্যস্ত করে চুম্বকে পরিণত করা যায়।  কিন্তু চৌম্বকক্ষেত্রের অপসারণে এরা আবার বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ফিরে যায়।
-  ফলে এদের চুম্বকত্ব নষ্ট হয়ে যায়। এজন্যে কাঁচা লোহাকে কলিংবেলের মতো যেখানে অস্থায়ী চুম্বকের প্রয়োজন হয় সেখানে ব্যবহার করা হয়।

কাঁচা লোহার বৈশিষ্ট্য: 
-  অত্যন্ত উচ্চ চৌম্বক প্রবণতা সম্পন্ন। 
-  দ্রুত চৌম্বকিত হয় ও দ্রুতই চৌম্বকত্ব হারায়। 
-  চুম্বক তৈরির জন্য Temporary Magnet হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

অপরদিকে,
ইস্পাত (Steel):
-  ইস্পাতের ক্ষেত্রে ডোমেইনগুলো সহজে বিন্যস্ত হতে চায় না। এজন্য বেশ শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্রের প্রয়োজন হয় এবং একবার চুম্বকে পরিণত হলে সহজে চুম্বকত্ব হারায় না। এজন্যে ভালো স্থায়ী চুম্বক তৈরি করতে ইস্পাতের প্রয়োজন হয়।

ইস্পাতের বৈশিষ্ট্য: 
-  তুলনামূলকভাবে কম চৌম্বক প্রবণতা সম্পন্ন।
-  ধীরে চৌম্বকিত হয়, কিন্তু একবার চৌম্বক হলে দীর্ঘ সময় ধরে থাকে।
-  ব্যবহৃত হয় Permanent Magnet তৈরিতে। 

অতএব, কাঁচা লোহা ইস্পাতের তুলনায় অনেক বেশি সহজে চৌম্বকিত হয়, অর্থাৎ কাঁচা লোহার চৌম্বক প্রবণতা বেশি।

তথ্যসূত্র: 
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. শাহজাহান তপন। 
- Encyclopaedia Britannica. 
১০.
কোনটিকে ব্যাটারি হিসেবে ব্যবহার সম্ভব?
  1. রোধ
  2. রেগুলেটর
  3. ক্যাপাসিটর
  4. ফিউজ
ব্যাখ্যা
• ব্যাটারি: ব্যাটারি হলো এমন একটি উৎস যা রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে তড়িৎ শক্তি (electrical energy) সরবরাহ করতে পারে।

• ক্যাপাসিটর হলো এমন একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ, যা তড়িৎআধান (electric charge) সঞ্চয় করতে পারে।যদিও এটি সত্যিকার অর্থে ব্যাটারি নয়, কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ব্যাটারির মতো কাজ করতে পারে, বিশেষ করে অস্থায়ী শক্তি সরবরাহে।
- ক্যাপাসিটর বিদ্যুৎ প্রবাহের সময় চার্জ সংরক্ষণ করে রাখে এবং পরে সেটি নির্গত করতে পারে।
-  ক্যাপাসিটরের এই ক্ষমতাকে বলা হয় Capacitive Energy Storage।
-  বিশেষ কিছু সুপারক্যাপাসিটর (Supercapacitor) আছে, যেগুলোকে ছোট আকারের ব্যাটারির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
যেমন: RAM backup, LED flash, Hybrid vehicles ইত্যাদিতে।

অন্যদিকে, 
রোধ (Resistor):  এটি বিদ্যুৎ বাঁধাদান করে, চার্জ সংরক্ষণ করে না। 

রেগুলেটর (Voltage Regulator): এটি নির্দিষ্ট ভোল্টেজ বজায় রাখে, নিজে চার্জ সংরক্ষণ করে না।

ফিউজ (Fuse): এটি বিদ্যুৎ প্রবাহে বেশি কারেন্ট হলে সার্কিট কেটে দেয় — এটি সুরক্ষা যন্ত্র, শক্তি সংরক্ষণ করে না।   


তথ্যসূত্র:
- ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান। 
- একাদশ-দ্বাদশ – পদার্থবিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র।
১১.
ট্রান্সফরমার মূলত কিসের উপর নির্ভর করে কাজ করে?
  1. ধাতু
  2. বায়ু মাধ্যম
  3. কয়েলের পাক
  4. আইসি (IC)
ব্যাখ্যা
• ট্রান্সফরমার (Transformer) হলো একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র, যা একটি এসি (AC) ভোল্টেজকে অন্য একটি এসি ভোল্টেজে রূপান্তর করতে ব্যবহৃত হয় যাতে ভোল্টেজের সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে । এটি দুইটি কুণ্ডলী (Primary ও Secondary Coil) এবং একটি লোহানির্মিত কোর নিয়ে তৈরি
-   এটি মূলত তড়িৎ চৌম্বকীয় আবেশ (Electromagnetic Induction) নীতির উপর কাজ করে এবং এর কার্যক্ষমতা নির্ভর করে কয়েলের পাক সংখ্যা (Number of turns) এর উপর।
-   একটি কুণ্ডলীতে পরিবর্তনশীল তড়িৎপ্রবাহ থাকলে, অন্য কুণ্ডলীতে আবেশিত ভোল্টেজ তৈরি হয়।

Vs / Vp = Ns / Np

যেখানে:
Vp​ = প্রাইমারি ভোল্টেজ
Vs​ = সেকেন্ডারি ভোল্টেজ
Np​ = প্রাইমারি কয়েলের পাক
Ns​ = সেকেন্ডারি কয়েলের পাক
এই সূত্রের মাধ্যমে বোঝা যায়, ট্রান্সফরমারের ভোল্টেজ রূপান্তর সরাসরি কয়েলের পাক সংখ্যার অনুপাতের উপর নির্ভরশীল। 

অন্যদিকে, 
-  ট্রান্সফরমারে ধাতু থাকে কোর হিসেবে, তবে ধাতুর উপর কাজ নির্ভর করে না ।
-  ট্রান্সফরমার বায়ুমাদ্ধমের উপর নির্ভর করে নয়া।
-  ট্রান্সফরমারে আইসি থাকে না, এটি এনালগ যন্ত্র। 

তথ্যসূত্র: 
-  ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান। 
-  Britannica.
১২.
উচ্চ তাপমাত্রা নির্ণয়ের জন্য কোনটি ব্যাবহার করা হয়?
  1. ক্যালরিমিটার
  2. প্লাটিনাম রোধ থার্মোমিটার
  3. পাইরোমিটার
  4. গ্যাস থার্মোমিটার
ব্যাখ্যা
পাইরোমিটার: পাইরোমিটার একটি বিশেষ ধরনের তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র, যা অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা( 700°C - 3000°C পর্যন্ত))  নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। সাধারণ থার্মোমিটার বা গ্যাস থার্মোমিটার এত উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে না।

• পাইরোমিটার দুই ধরনের হতে পারে:

⇒  অপটিক্যাল পাইরোমিটার (Optical Pyrometer:-
→ আলো বা দীপ্তির তীব্রতা নির্ভর করে তাপমাত্রা মাপা হয়।

ইনফ্রারেড পাইরোমিটার (Infrared Pyrometer):-
→   বস্তু থেকে নির্গত ইনফ্রারেড বিকিরণ দ্বারা তাপমাত্রা নির্ধারণ করে।

অন্যদিকে, 
ক্যালরিমিটার: ক্যালরিমিটার তাপমাত্রা নয়,  বস্তুতে তাপ পরিবর্তন পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়, উচ্চ তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য নয়। 

প্লাটিনাম রোধ থার্মোমিটার: এটি নির্ভুল, কিন্তু মাঝারি তাপমাত্রা (≈ -200°C থেকে 650°C) পর্যন্ত পরিমাপ করতে পারে।

গ্যাস থার্মোমিটার: এটি খুব নিচু তাপমাত্রা বা গবেষণাগার তাপমাত্রা পরিমাপে ব্যবহার হয়।


তথ্যসূত্র: 
-  উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পদার্থবিজ্ঞান, ১১-১২ শ্রেণী। 
-  একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি – পদার্থবিজ্ঞান (২য় পত্র)।
-  "Fundamentals of Physics" by Halliday, Resnick & Walker
১৩.
কোন রশ্মি আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানে প্রথম নোবেল দেওয়া হয়?
  1. বেতার রশ্মি
  2. গামা রশ্মি
  3. এক্সরে রশ্মি
  4. বেকরেল রশ্মি
ব্যাখ্যা
• এক্সরে রশ্মি: ১৯০১ সালে বিজ্ঞান শাখায় প্রথম নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় বিজ্ঞানী রন্টজেন-কে, এক্সরে রশ্মি (X-ray) আবিষ্কারের জন্য। 
-  এই রশ্মি আবিষ্কারের মাধ্যমে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়,
যেমন—
- হাড় ভাঙা নির্ণয়
- অভ্যন্তরীণ শরীর পরীক্ষার (Medical Imaging) পদ্ধতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
বেতার রশ্মি: আবিষ্কার করেন হেইনরিখ হার্টজ, আর পরে গুগলিয়েলমো মার্কোনি এর ব্যবহারিক প্রয়োগ করেন; মার্কোনি নোবেল পান ১৯০৯ সালে।

গামা রশ্মি:  গামা রশ্মি আবিষ্কার করেন পল উলরিচ ভিলার্ড।

বেকরেল রশ্মি: হেনরি বেকরেল  তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity) আবিষ্কার করেন। কিন্তু এর জন্য  স্বতন্ত্র কোন নাম ব্যবহার করেন নি।   বেকারেল ১৯০৩ সালে এই কাজের জন্য নোবেল পান, তবে সেটা ছিল পদার্থবিজ্ঞানে তৃতীয় নোবেল।

তথ্যসূত্র:
-  ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান। 
-  Nobel Prize Outreach 2025.NobelPrize.org
১৪.
কোনটির আবিষ্কার আধুনিক ইলেকট্রনিক্স এর সূচনা করে?
  1. রেডিও
  2. ট্রানজিস্টর
  3. ক্যাথোড রশ্মি
  4. তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
• ট্রানজিস্টর একটি আধা-পরিবাহী ডিভাইস যা ইলেকট্রনিক সিগন্যাল বুস্ট (amplify) বা সুইচ (switch) করতে ব্যবহৃত হয়। ট্রানজিস্টরের আবিষ্কারই আধুনিক ইলেকট্রনিক্সের সূচনা করে।
এটি আধুনিক ইলেকট্রনিক্সের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
⇒ ১৯৪৭ সালে আমেরিকার Bell Laboratories-এর বিজ্ঞানী John Bardeen, Walter Brattain এবং William Shockley ট্রানজিস্টর আবিষ্কার করেন। 1956 Physics Nobel Prize দেওয়া হয় Bardeen, Brattain, ও Shockley-কে ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য।
  এর আগে ইলেকট্রনিক ডিভাইসে ব্যবহৃত হত বিশালাকৃতির ভ্যাকুয়াম টিউব, যা ছিল ভারী ও অকার্যকর।

ট্রানজিস্টর এর প্রভাব:
⇒ কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, টিভি, রেডিওসহ প্রায় সব আধুনিক ডিভাইসে ট্রানজিস্টর ব্যবহার হয়।
⇒ এটি দিয়েই ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) এবং মাইক্রোপ্রসেসর তৈরির ভিত্তি স্থাপন হয়।
⇒ Digital Revolution বা তথ্য প্রযুক্তির বিপ্লব সম্ভব হয় ট্রানজিস্টরের জন্যই। 

অন্যদিকে, 
রেডিও: এটি তথ্য পাঠানোর একটি মাধ্যম, তবে ইলেকট্রনিক্সের মূল ভিত্তি নয়।

ক্যাথোড রশ্মি: এটি একটি ইলেকট্রন রশ্মি, যা টিভি স্ক্রিন বা মনিটরে ব্যবহৃত হয়; এটি ইলেকট্রনিক্সের একটি ধাপ হলেও সূচনা নয়।

তরঙ্গ:
এটি যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ইলেকট্রনিক্সের যন্ত্রাংশ বা সার্কিট বোঝাতে তরঙ্গ ব্যাবহার করা হয় না।

তথ্যসূত্র:
-  ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান। 
-  তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি – নবম-দশম শ্রেণি (NCTB)
-  San José State University, California. 
-   NobelPrize.org
১৫.
কোনটি ডিজিটাল ডিভাইস হিসেবে গণ্য হয় না?
  1. ফ্লিপ-ফ্লপ
  2. মাল্টিপ্লেক্সার
  3. কাউন্টার
  4. ট্রানজিস্টর
ব্যাখ্যা
• ট্রানজিস্টর একটি অ্যানালগ বা এনালগ-লেভেল উপাদান  (component)। এটি অ্যাম্পলিফায়ার এবং সুইচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

-  যদিও ট্রানজিস্টর ডিজিটাল ডিভাইসের ভিত্তি (যেমন: গেট, ফ্লিপ-ফ্লপ, কাউন্টার ইত্যাদি) তৈরি করে, তবে একা ট্রানজিস্টর কোনো পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ডিভাইস নয়।
অর্থাৎ ট্রানজিস্টর নিজে ডিজিটাল ডিভাইস নয়, বরং এটি ডিজিটাল ডিভাইস তৈরির মূল উপাদান।

অন্যদিকে,
 ফ্লিপ-ফ্লপ: এটি একটি ডিজিটাল লজিক ডিভাইস যা 1 বিট ডেটা মেমোরি হিসেবে কাজ করে।

 মাল্টিপ্লেক্সার: এটি একাধিক ইনপুট থেকে একটি ইনপুট সিলেক্ট করে। এটি ডিজিটাল লজিক গেট ব্যবহার করে কাজ করে। 

 কাউন্টার: এটি বাইনারি সংখ্যা গণনা করে। এটি দিয়ে সাধারনত ভিন্ন ভিন্ন অবস্থা গননা করা হয়। 

তথ্যসূত্র: 
-  তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি – একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (NCTB)।
-  পদার্থবিজ্ঞান – একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (NCTB)। 
-   Electrical Counting By W.B. Lewis.
১৬.
খুব দূরের কোন কেন্দ্রের অনুষ্ঠান শোনার জন্য কোন ধরনের ফ্রিকোয়েন্সির সাহায্য নিতে হয়?
  1. UHF
  2. VHF
  3. LF
  4. HF
ব্যাখ্যা
LF (Low Frequency) বা নিম্ন ফ্রিকোয়েন্সি তরঙ্গের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো:

⇒এরা ভূপৃষ্ঠের খুব কাছে দিয়ে যেতে পারে (ground wave propagation)।
⇒এই তরঙ্গগুলো দীর্ঘ দূরত্বে ছড়াতে সক্ষম।
⇒ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জ: ৩০ কিলোহার্জ (kHz) থেকে ৩০০ কিলোহার্জ (kHz)।
⇒এই জন্য, খুব দূরের কেন্দ্রের রেডিও অনুষ্ঠান শোনার জন্য LF ফ্রিকোয়েন্সি সবচেয়ে কার্যকরী।

অন্যদিকে, 
 UHF (Ultra High Frequency):
⇒ ৩০০ MHz – ৩ গিগাহার্জ। 
⇒ এটির খুব বেশি দূর যেতে পারে না, মূলত টিভি, মোবাইল, Wi-Fi ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।

 VHF (Very High Frequency):
⇒ ৩০ MHz – ৩০০ MHz
⇒ মাঝারি দূরত্বে অনেক কার্যকর, কিন্তু অনেক বেশি দূরে তেমন কার্যকর নয়।

 HF (High Frequency):
⇒ ৩ MHz – ৩০ MHz
⇒ এটি আকাশ তরঙ্গ (sky wave) হিসেবে অনেক দূরে যেতে পারে, তবে LF-এর তুলনায় কম স্থির ও কম নির্ভরযোগ্য।

তথ্যসূত্র: 
-  HSC পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, ড. শাহজাহান তপন। 
-  তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি – একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (NCTB)।
-  NASA: Radio Communication Basics
১৭.
শুষ্ক অবস্থায় মানুষের দেহের রোধ কত থাকে?
  1. ১০০০০ ওহম
  2. ১০ কিলোওহম
  3. ২০ কিলো ওহম
  4. ৫০ কিলোওহম
ব্যাখ্যা
• রোধ (Resistance) হলো একটি বৈদ্যুতিক ধর্ম, যা কোনো পরিবাহকের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে।
এর একক হলো ওহম (Ω)। 

মানুষের দেহও একধরণের পরিবাহী অর্থাৎ যার ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারে। মানুষের দেহেও স্বাভাবিক রোধ রয়েছে।

মানুষের দেহের বৈদ্যুতিক রোধ (Resistance) নির্ভর করে:
⇒ ত্বক শুকনা না ভেজা,
⇒ শরীরের ভিতরের ও বাইরের অংশে সংযোগ কোথায় হয়েছে,
⇒ ত্বকের পুরুত্ব এবং সংস্পর্শের পৃষ্ঠের আয়তন। 

 শুষ্ক অবস্থায়:
⇒ মানুষের শরীরের বাইরের ত্বকে  রোধ অনেক বেশি থাকে।
⇒ সাধারণভাবে শুষ্ক ত্বকে রোধ হয় প্রায় ৪০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ ওহম পর্যন্ত।
গড় হিসেবে ধরা হয়:  ৫০,০০০ ওহম (৫০ কিলোওহম)

 ভেজা অবস্থায়:
⇒ পানি ত্বকের রোধ অনেক কমিয়ে দেয়।
⇒ রোধ কমে গিয়ে ১,০০০ ওহম বা তারও কম হতে পারে, যা বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

তথ্যসূত্র: 
-  ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান।
-  পদার্থবিজ্ঞান – একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
-  Occupational Safety and Health Guidelines” – OSHA (USA)
১৮.
এক কেজি বস্তুর ভর পৃথিবীতে এবং চাঁদের মধ্যে কোথায় বেশি?
  1. চাঁদে বেশি
  2. পৃথিবীতে বেশি
  3. চাঁদে ভর নেই
  4. সমান
ব্যাখ্যা
• "ভর" (Mass) হলো কোনো বস্তুর বস্তুগত পরিমাণ, যা তার অণু-পরমাণুর সংখ্যার ওপর নির্ভর করে।
-  এটি একটি মৌলিক ভৌত রাশি এবং এটি নির্দিষ্ট স্থানে পরিবর্তিত হয় না। অর্থাৎ, এক কেজি বস্তুর ভর পৃথিবীতে যেমন, চাঁদেও তেমনই থাকবে।

অন্যদিকে,
ওজন (Weight) ভিন্ন একটি রাশি। 

ওজনের সূত্র থেকে আমরা জানি,
W = mg 

এখানে,
W = বস্তুর ওজন
m = বস্তুর ভর
g= অভিকর্ষজ ত্বরণ 
অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে যে বস্তুর ওজন নির্ভর করে বস্তুর ভর ও অভিকর্ষজ ত্বরণের উপর। 
• চাঁদে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ১/৬ হওয়ায়, বস্তুর ওজন চাঁদে কম হবে, কিন্তু ভর অপরিবর্তিত থাকবে কারন ভর মৌলিক রাশি। 

তথ্যসূত্র:

- পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
১৯.
আলোর ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. আলো হচ্ছে বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ।
  2. আলো একটি পর্যাবৃত্ত তরঙ্গ।
  3. আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য আছে।
  4. আলো একটি সরলরৈখিক তরঙ্গ।
ব্যাখ্যা
• আলো হচ্ছে একটি বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ, যা মাধ্যম ছাড়াও যেমন শূন্যস্থানে (vacuum) চলতে পারে। এটি তরঙ্গ ধর্ম (যেমন প্রতিসরণ, প্রতিফলন, ব্যতিচার, অপবর্তন) এবং কণিকাধর্ম—দুটিই প্রদর্শন করে।
⇒ আলো একদিকে পর্যাবৃত্ত তরঙ্গ এবং এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য নির্দিষ্ট আছে । ( যেমন দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ৪০০ থেকে ৭০০ ন্যানোমিটারের মধ্যে পড়ে।
⇒ পুকুরে ঢিল ছুড়ে যেমন ছোট-বড় তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তরঙ্গ তৈরি করা যায়, তেমনি আলোরও নানা তরঙ্গদৈর্ঘ্য থাকতে পারে। 


"আলো একটি সরলরৈখিক তরঙ্গ" — এই ধারণাটি আংশিক সত্য হলেও বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণে এটি পূর্ণ সত্য নয়। কারণ, আলো বিশেষ পরিস্থিতিতে যেমন লেজার বা মুক্ত মাধ্যমে সরলরেখায় চললেও বাস্তবে এটি তরঙ্গ ধর্ম অনুযায়ী বাঁকেও যেতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ, আলো সরু ফাঁক দিয়ে গেলে অপবর্তন ঘটে, দুটি আলোর রশ্মি একত্রিত হলে ব্যতিচার দেখা যায়, এবং বিভিন্ন মাধ্যমের সংযোগস্থলে প্রতিসরণ ঘটে।।
 তাই আলো একটি সরলরৈখিক তরঙ্গ  কথাটি পূর্ণ সত্য নয়। 


তথ্যসূত্র: 
-  ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান।
-  পদার্থবিজ্ঞান – একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।