পরীক্ষা আর্কাইভ

ইউনিয়ন সমাজকর্মী প্রস্তুতি [Archived]

পরীক্ষাইউনিয়ন সমাজকর্মী প্রস্তুতি [Archived]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes১০ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন১১
সিলেবাস
পরীক্ষা - ২৪ বাংলা পরীক্ষা - ৬ (ব্যাকরণ) টপিক: ১. সমাস, ২. এক কথায় প্রকাশ, ৩. ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ইউনিয়ন সমাজকর্মী প্রস্তুতি [Archived]

ইউনিয়ন সমাজকর্মী প্রস্তুতি [Archived] · তারিখ অনির্ধারিত · ১১ প্রশ্ন

.
ণত্ব ও ষত্ব বিধান বাংলা ব্যাকরণে কোন অংশের আলোচ্য বিষয়? 
  1. রূপতত্ত্ব
  2. অর্থতত্ত্ব
  3. ধ্বনিতত্ত্ব
  4. বাক্যতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়: 
- প্রত্যেক ভাষারই চারটি মৌলিক অংশ থাকে। 
যেমন- 
১. ধ্বনি (Sound), 
২. শব্দ (Word), 
৩. বাক্য (Sentence) এবং 
৪. অর্থ (Meaning)। 

- সব ভাষারই ব্যাকরণে প্রধানত নিম্নলিখিত চারটি বিষয়ের আলোচনা করা হয়। 
যেমন- 
১. ধ্বনিতত্ত্ব (Phonology), 
২. শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব (Morphology), 
৩. বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রম (Syntax) এবং 
৪. অর্থতত্ত্ব (Semantics)। 
- এ ছাড়া অভিধানতত্ত্ব (Lexicography), ছন্দ ও অলংকার প্রভৃতিও ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়। 

ধ্বনিতত্ত্ব: 
- মানুষের বাক-প্রত্যঙ্গ অর্থাৎ কণ্ঠনালী, মুখবিবর, জিহ্বা, আল-জিহ্বা, কোমল তালু, শক্ত তালু, দাঁত, মাড়ি, চোয়াল, ঠোঁট ইত্যাদির সাহায্যে উচ্চারিত আওয়াজকে ‘ধ্বনি’ বলা হয়। 
- বাক-প্রত্যঙ্গজাত ধ্বনির সূক্ষ্মতম মৌলিক অংশ বা একককে (Unit) ধ্বনিমূল (phoneme) বলা হয়। 

বর্ণ: 
- বাক-প্রত্যঙ্গজাত প্রত্যেকটি ধ্বনি এককের জন্য প্রত্যেক ভাষারই লেখার সময় এক একটি প্রতীক বা চিহ্ন (Symbol) ব্যবহৃত হয়। 
- বাংলায় এ প্রতীক বা চিহ্নকে বলা হয় বর্ণ (Letter)। 
যেমন-বাংলায় ‘বক’ কথাটির প্রথম ধ্বনিটির প্রতীকরূপে ব্যবহার করা হয়েছে ‘ব’, ইংরেজিতে সে ধ্বনির জন্য ব্যবহৃত হয় B বা b (বি), আবার আরবি, ফারসি ও উর্দুতে একই ধ্বনির জন্য ব্যবহৃত হয় (বে)। 
- ধ্বনির উচ্চারণপ্রণালী, উচ্চারণের স্থান, ধ্বনির প্রতীক বা বর্ণের বিন্যাস, ধ্বনিসংযোগ বা সন্ধি, ধ্বনির পরিবর্তন ও লোপ, ণত্ব ও ষত্ব বিধান ইত্যাদি বাংলা ব্যাকরণে ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নিচের কোনটি অলুক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ? 
  1. অহি-নকুল
  2. চা-বিস্কুট
  3. আয়-ব্যয়
  4. জলে-স্থলে
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস: 
- যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে বলা হয় দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন- ছেলে ও মেয়ে = ছেলেমেয়ে, স্বর্গ ও নরক = স্বর্গ-নরক ইত্যাদি। 
- দ্বন্দ্ব মানে জোড়া। 
- এ সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে ও, এবং, আর- এ তিনটি অব্যয়পদ সংযোজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

প্রকারভেদ: 
- দ্বন্দ্ব সমাসকে নিম্নোক্ত কয়েক প্রকার হতে পারে- 
১. মিলনার্থক দ্বন্দ্ব:
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে দুটি পদের পরস্পর মিলন ঘটে এবং এদের অর্থের দিক থেকেও মিল থাকে সে দ্বন্দ্ব সমাসকে বলা হয় মিলনার্থক দ্বন্দ্ব। 
যেমন- ভাই-বোন, মা-বাপ, মাসি-পিসি, চা-বিস্কুট, লতা-পাতা, মাছ-ভাত, পিতা-পুত্র ইত্যাদি। 

২. বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব: 
- অর্থের দিক থেকে যে দ্বন্দ্ব পরস্পরের মধ্যে বিরোধ তৈরি করে তাকে বলা হয় বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব। 
যেমন- ভালো-মন্দ, সাদা-কালো, দা-কুমড়া, অহি-নকুল, স্বর্গ-নরক, দেব-দানব, ধনী-গরিব ইত্যাদি। 

৩. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব: 
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে পরপদটি পূর্বপদের বিরোধী ভাব বা অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে। 
যেমন- ভালোমন্দ, দিনরাত, টকমিষ্টি, দেশেবিদেশে, ছেলেবুড়ো, আয়-ব্যয়, জমা-খরচ, লাভ-লোকসান ইত্যাদি। 

৪. অঙ্গবাচক দ্বন্দ্ব: 
- যে দ্বন্দ্ব সমাসের সাহায্যে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গকে নির্দেশ করা হয় তাকে বলা হয় অঙ্গবাচক দ্বন্দ্বসমাস। 
যেমন- নাক-মুখ, মাথা-মুণ্ডু, বুক-পিঠ, নাক-কান, হাত-পা ইত্যাদি। 

৫. বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব: 
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে দুই বা ততোধিক পদ মিলে দ্বন্দ্ব সমাস হয় তাকে বলা হয় বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব সমাস। 
যেমন- কায়, মনো এবং বাক্যে= কায়মনোবাক্যে, সাহেব, গোলাম এবং বিবি = সাহেব-গোলাম-বিবি, আমি, তুমি এবং সে = আমরা, স্বর্গ, মর্ত এবং পাতাল = স্বর্গ-মর্ত-পাতাল ইত্যাদি। 

৬. সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব: 
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় দ্বারা সংখ্যা বোঝায় তাকে বলা হয় সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব। 
যেমন- সাত-পাঁচ, ছয়-নয়, নয়-ছয়, ঊনিশ-বিশ. সাত-সতের, লক্ষ-কোটি, দশ-বারো ইত্যাদি। 

৭. সমার্থক দ্বন্দ্ব: 
- একই জাতীয় বস্তুর সাহায্যে যে দ্বন্দ্ব বা মিলনবাচক সমাস হয় অর্থাৎ যে দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপর একই অর্থ বহন করে, তাকে সমার্থক দ্বন্দ্ব বলে। 
যেমন- ঘরদুয়ার, ঘরবাড়ি, কলকারখানা, বইপুস্তক, গাছগাছালি, শাকসবজি, কাগজপত্র, চিঠিপত্র, হাটবাজার ইত্যাদি। 

৮. একশেষ দ্বন্দ্ব: 
- যে সমাসে অন্যান্য পদের বিলুপ্তি ঘটিয়ে প্রধান পদটির সঙ্গে শেষপদটির সামঞ্জস্য রচিত হলে তাকে বলা হয় একশেষ দ্বন্দ্ব। 
যেমন- জায়া ও পতি = দম্পতি, তুমি ও সে = তোমরা ইত্যাদি। 

৯. অলুক দ্বন্দ্ব: 
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোনো সমস্যমান পদের বিভক্তির লোপ হয় না তাকে বলা হয় অলুক দ্বন্দ্ব। 
যেমন- দুধে-ভাতে, জলে-স্থলে, মায়ে-ঝিয়ে, ঘরে-বাইরে, আগে-পরে, ধনেজনে, বনে-জঙ্গলে, বুকেপিঠে, হাতেকলমে ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
সমাস ভাষাকে কী করে? 
  1. অর্থপূর্ণ করে
  2. সংক্ষেপ করে
  3. বিস্তৃত করে
  4. অর্থের রূপান্তর ঘটায়
ব্যাখ্যা
সমাস: 
- অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দ একসঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন অর্থবোধক শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে। 
- সমাস অর্থ হল সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ। 
- সমাসের কাজ হলো ভাষাকে সংক্ষপে করা, নতুন অর্থবোধক শব্দ সৃষ্টি করা, শব্দ গঠন প্রভৃতি। 
- সমাস শব্দ বা রূপতত্ত্বে আলেচিত হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
.
ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কোনটি? 
  1. গায়েপড়া
  2. হাতেখড়ি
  3. গোঁফখেজুরে
  4. কানাকানি
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস: 
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। 
যেমন- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত, লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি। 

ক. পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হলে তাকে সমানাধিকার বহুব্রীহি বলে। 
যেমন– এক গোঁ যার = - একগুঁয়ে, লাল পাড় যে শাড়ির = লালপেড়ে ইত্যাদি। 

খ. পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য (কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য) হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি হয়। 
যেমন– গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে। 

গ. যে বহুব্রীহি সমাসের ব্যাসবাক্য থেকে এক বা একাধিক পদ লোপ পায়, তাকে পদলোপী বহুব্রীহি বলে। 
যেমন– চিরুনির মতো দাঁত যার = চিরুনদাঁতি, হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি ইত্যাদি। 

ঘ. পারস্পরিক ক্রিয়ায় কোনো অবস্থা তৈরি হলে ব্যতিহার বহুব্রীহি হয়। 
যেমন- হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি, কানে কানে যে কথা = কানাকানি ইত্যাদি। 

ঙ. যে বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদের পূর্বপদের বিভক্তি অক্ষুণ্ণ থাকে, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে। 
যেমন- গায়ে এসে পড়ে যে = গায়েপড়া, কানে খাটো যে = কানেখাটো ইত্যাদি। 

চ. যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক, তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস বলে। 
যেমন- চার ভুজ যে ক্ষেত্রের = চতুর্ভুজ, সে (তিন) তার যে যন্ত্রের = সেতার ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
'নূপুরের ধ্বনি' এর এক কথায় প্রকাশ কোনটি?
  1. নিক্বণ
  2. শিঞ্জন
  3. টঙ্কার
  4. ঝংকার
ব্যাখ্যা
- নূপুরের ধ্বনি এর এক কথায় প্রকাশ- 'নিক্বণ'। 

এছাড়া, 
- 'ধনুকের ধ্বনি' এর এক কথায় প্রকাশ- টঙ্কার, 
- 'অলঙ্কারের ধ্বনি' এর এক কথায় প্রকাশ- শিঞ্জন, 
- 'বাদ্যযন্ত্রের ধ্বনি' এর এক কথায় প্রকাশ- ঝংকার। 

গুরুত্বপূর্ণ বাক্য সংকোচন: 
- 'গম্ভীর ধ্বনি' এর এক কথায় প্রকাশ- মন্দ্র। 
- হরিণের চামড়া এর এক কথায় প্রকাশ- অজিন। 
- ময়ূরের ডাক এর এক কথায় প্রকাশ- কেকা। 
- ঘোড়ার ডাক এর এক কথায় প্রকাশ- হ্রেষা। 
- পাখির ডাক এর এক কথায় প্রকাশ- কূজন। 
- হাতির গর্জন এর এক কথায় প্রকাশ- বৃংহিত। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
.
ণ-ত্ব বিধান অনুসারে নিচের কোনটি সঠিক? 
  1. ঋন
  2. লবন
  3. লণ্ঠন
  4. কারন
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা
উত্তরপত্রের অপশনে ণ-ত্ব বিধান অনুসারে সঠিক শব্দ নেই। 
অপশনে সঠিক উত্তর না থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হলো। 
==================== 

ণ-ত্ব বিধান: 

- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মকে ণ-ত্ব বিধান বলে। 

ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম: 
১। ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য হয়। 
যেমন- ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি। 

২। ঋ, র, ষ—এর পরে মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। 
যেমন- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, কারণ, ভীষণ ইত্যাদি। 

৩। কতগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। 
যেমন- বাণিজ্য, লবণ, বীণা, কল্যাণ, পুণ্য, নিপুণ, গণনা, পণ্য ইত্যাদি। 

৪। বিদেশি শব্দে ‘ণ’ হয় না। 
যেমন- হর্ন, ইস্টার্ন ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।
.
যে যে পদে সমাস হয় তাদের প্রত্যেকটি পদকে কী বলে? 
  1. সমস্ত পদ
  2. উত্তর পদ
  3. ব্যাসবাক্য
  4. সমস্যমান পদ
ব্যাখ্যা
সমাসের কয়েকটি পরিভাষা: 
ক. সমস্যমান পদ: 
- যে যে পদে সমাস হয় তাদের প্রত্যেককে সমস্যমান পদ বলে। 
যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন। এ বাক্যে সিংহ, চিহ্নিত, আসন এ তিনটি হচ্ছে সমস্যমান পদ। 

খ. সমস্ত পদ: 
- সমস্যমান পদগুলাে মিলিত হয়ে যে একপদে পরিণত হয়, তাকে সমস্ত পদ বলে। 
- একে আবার সমাসবদ্ধ পদও বলা হয়। 
যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন। এখানে সিংহাসন হচ্ছে সমস্ত পদ। 

গ. ব্যাসবাক্য: 
- সমাসবদ্ধ পদটিকে ব্যাখ্যা করার জন্য যে বাক্য তৈরি করা হয় তাকে ব্যাসবাক্য বলে। 
- ব্যাস' শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ। 
- একে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্যও বলা হয়। 
উপরের বাক্যে ‘সিংহ চিহ্নিত আসন' হলাে সিংহাসন শব্দের ব্যাসবাক্য। 

ঘ. পূর্বপদ ও পরপদ: 
- সমাসযুক্ত পদের প্রথম অংশকে বলা হয় পূর্বপদ এবং শেষ অংশকে বলা হয় পরপদ বা উত্তরপদ। 
'সিংহাসন' শব্দের 'সিংহ' হলাে পূর্বপদ, আর 'আসন' হলাে পরপদ বা উত্তরপদ। 

উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
‘যা অধ্যয়ন করা হয়েছে এমন’ এক কথায় প্রকাশ- 
  1. আধীত
  2. অধীত
  3. জ্ঞাত
  4. শ্রুতপূর্ব
ব্যাখ্যা
• ‘যা অধ্যয়ন করা হয়েছে এমন’ এক কথায় প্রকাশ - অধীত। 

গুরুত্বপূর্ণ কিছু এক কথায় প্রকাশ: 
• ‘যা আহুত (ডাকা) হয় নি’ এর এক কথায় প্রকাশ - অনাহুত। 
• ‘যার উপস্থিত বুদ্ধি আছে’ এক কথায বলে - প্রত্যুৎপন্নমতি ৷ 
• ‘যার কোন কিছু থেকেই ভয় নেই’ এক কথায বলে - অকুতোভয় ৷ 
• ‘কথায় প্রকাশ করার অযোগ্য’ এক কথায় প্রকাশ - অবক্তব্য। 
• ‘যা আঘাত পায় নি’ এর এক কথায় প্রকাশ - অনাহত। 
• ’যা পূর্বে শোনা যায় নি এমন’ এক কথায় প্রকাশ - অশ্রুতপূর্ব। 
• ‘যা কখনো নষ্ট হয় না এমন’ এক কথায় প্রকাশ - অবিনশ্বর। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'অবীরা' বলতে কোন নারীকে বোঝায়? 
  1. যে স্বামীর বশীভূত
  2. যার স্বামী ও পুত্র নেই
  3. যার বিয়ে হয়নি
  4. যার পুত্র হয়নি
ব্যাখ্যা
এক কথায় প্রকাশ: 
যে নারীর স্বামী ও পুত্র মৃত - অবীরা। 

অন্যদিকে, 
• যে নারীর বিয়ে হয়না - অনূঢ়া। 
• যে স্বামীর বশীভূত - স্ত্রৈণ। 
• যে নারী প্রিয় কথা বলে - প্রিয়ংবদা। 
• যে নারীর স্বামী বিদেশে থাকে - প্রোষিতভর্তৃকা। 
• সূর্যও যে নারীর মুখ দেখতে পারে না - অসূর্যস্পর্শ্যা। 
• যে নারীর সন্তান বাঁচে না - মৃতবৎসা। 

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান; ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
১০.
ষ-ত্ব বিধানের নিয়মে কোন বানানটি শুদ্ধ? 
  1. সংস্কার
  2. পোষ্ট
  3. পোষাক
  4. মাষ্টার
ব্যাখ্যা
'ষ-ত্ব' বিধান: 
- কেবল তৎসম শব্দেই 'ষ-ত্ব' বিধান প্রযোজ্য। 
- ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুযায়ী শুদ্ধ বানান - সংস্কার। 

অন্যদিকে, 
- বিদেশি শব্দে 'ষ-ত্ব' বিধান প্রযোজ্য নয়। 
- 'পোষ্ট' ও 'মাষ্টার' শব্দটি ইংরেজি এবং 'পোশাক' ফারসি ভাষার শব্দ, তাই এতে 'ষ'-ত্ব বিধান প্রযোজ্য হবে না। 
- সঠিক বানান - পোস্ট, মাস্টার ও পোশাক। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১১.
'নীলপদ্ম' কোন সমাস? 
  1. বহুব্রীহি
  2. তৎপুরুষ
  3. অব্যয়ীভাব
  4. কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস: 
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। 
যেমন- 
• নীল যে অম্বর = নীলাম্বর। 
• নীল যে আকাশ = নীলাকাশ। 
নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম। 
• রক্ত যে কমল = রক্তকমল। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।