পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]

পরীক্ষাবার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়50 minutes
মোট প্রশ্ন৮৬
সিলেবাস
Exam - 11 Full Model Test - 01 Topic: Full Syllabus
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ] · তারিখ অনির্ধারিত · ৮৬ প্রশ্ন

.
মোকদ্দমায় নতুন বিবাদী সংযুক্ত করলে সংশোধন করতে হবে-
  1. আরজির ধারা
  2. লিখিত জবাব
  3. আরজি
  4. লিখিত জবাবের নকল
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১ বিধি ১০ (২) আনুযায় আদালত পক্ষসমূহকে বাদ দিতে বা যোগ করতে পারেন (Court may strike out or add parties): যদি সরল বিশ্বাসে ভুলের মাধ্যমে কোন মোকদ্দমা দায়ের করা হয় বা মোকদ্দমার বিরোধের বিষয় নির্ধারণের জন্য প্রয়োজন হয় তাহলে মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে আদালত অন্যায়ভাবে যুক্ত যে কোন পক্ষের নাম কাটতে পারবে এবং অন্য যে ব্যক্তির নাম যুক্ত করা উচিত অথবা মোকদ্দমা নিষ্পত্তি করার জন্য আদালতের সামনে যার উপস্থিতি প্রয়োজন হতে পারে, তাকে যুক্ত করতে আদেশ দিতে পারেন।

♦ আদেশ ১ বিধি ১০(৪) আনুযায় নতুন বিবাদী সংযুক্ত হলে বা বিবাদীর নাম যুক্ত করলে আরজি সংশোধন করতে হবে এবং সংশোধিত আরজি ও সমনের নকল নতুন বিবাদীর নিকট প্রেরণ করতে হবে। (Where defendant added, plant to be amended)

♦ আদেশ ১ বিধি ১০(৫) আনুযায় তামাদি আইন ১৯০৮ এর ধারা ২২ অনুযায়ী যে ব্যক্তিকে বিবাদী হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে সমন প্রাপ্তির তারিখ থেকে আইনগত কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে গণ্য করতে হবে।
.
দেওয়ানি মোকদ্দমাটি তামাদিতে বারিত না এটি প্রমাণের দায়িত্ব কার? 
  1. বিবাদীর
  2. আদালতের
  3. বাদীর
  4. সরকারী আইনজীবীর 
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের ৩ ধারা মতে বাদীকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের পরে মামলা দায়ের করলে আদালত মামলাটি খারিজ করে দিবে।

♦ তামাদি আইনের ধারা ৫ মতে ক্ষেত্র বিশেষে মেয়াদ বৃদ্ধিকরণের বিধান,  বলা আছে যে কোনো আপিল বা রায় পুনর্বিচার বা পুনরীক্ষণের দরখাস্ত বা আপিল করিবার অনুমতি প্রার্থনার দরখাস্ত বা অন্য কোনো দরখাস্ত, যাহার উপর এই ধারা বর্তমানে বলবৎ কোনো আইনের দ্বারা বা অধীনে প্রযোজ্য করা হয়, উহার নির্দিষ্ট তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পর গৃহীত হইতেপারে, যদি আপিলকারী বা দরখাস্তকারী এই মর্মে আদালতের সন্তুষ্টি সাধন করিয়া থাকে যে, নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে আপিল বা দরখাস্তটি দাখিল না করিবার যথেষ্ট কারণ ছিল।

♦ অর্থাৎ বাদীকেই প্রমাণ করতে হবে বা আদালতকে সন্তুষ্টি করাতে হবে যে মামলাটি তামাদিতে বারিত না ।

দেওয়ানি মোকদ্দমা যিনি দায়ের করবেন তাকেই প্রমাণ করতে হবে যে, তিনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মামলা দায়ের করেছেন।
.
যে মামলায় একজন জজ বা ম্যাজিস্ট্রেটের ব্যক্তিগত স্বার্থ থাকে সেই মামলার বিচার করতে হলে কার থেকে অনুমতি গ্রহণ করতে হবে?
  1. রিভিশন আদালতের
  2. হাইকোর্ট  বিভাগের
  3. আপিল আদালতের
  4. আপিল বিভাগের
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৫৬ ধারা অনুসারে যে মামলায় কোন জজ বা ম্যাজিষ্ট্রেট নিজে একজন পক্ষ বা ব্যক্তিগত ভাবে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট, উর্দ্ধতন আপিল আদালতের অনুমতি ছাড়া উক্ত জজ বা ম্যাজিষ্ট্রেট সে মামলার বিচার করবেন না।

♦ কোন জজ বা ম্যাজিষ্ট্রেট তার নিজের প্রদত্ত রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল শ্রবণ করবেন না।

♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৫৬ ধারায় ‘Principles of natural justice' এর দ্বিতীয় নীতি nemo judex in causa sua in propria causa বা nemo debet esse judex in propria causa.

♦ অর্থাৎ নিজের মামলায় নিজেই বিচারক হওয়া যায় না- 'No one shall be judge of his own cause' নীতির প্রতিফলন ঘটেছে।
.
একজন আইনজীবির সহ-আইনজীবির প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য কয়টি?
  1. ৮টি
  2. ১১ টি
  3. ৯ টি
  4. ১৪ টি
ব্যাখ্যা
Canons of Professional Conduct and Etiquette-এর ১ম  অধ্যায়ে একজন আইনজীবির সহ-আইনজীবির প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিষয়ে বর্ণিত আছে। 
♦ একজন আইনজীবির সহ-আইনজীবির প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য ১১টি
১) ব্যক্তিগত ও পেশাগত মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা। [বিধি-১]।
২) পেশাগত প্রচারণার জন্য কোন বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে না তবে প্রকাশনা, পেশাগত কার্ড, নামফলক বা প্রচলিত ডাইরেক্টরী ব্যবহার করা যাবে--[বিধি-২]।
৩) একজন এ্যাডভোকেট অন্য ব্যক্তিকে বা দালালকে আইন পেশা পরিচালনার জন্য অনুমতি বা পারিশ্রমিক দিবেন না--[বিধি-৩]।

৪) প্রতিপক্ষের এডভোকেটের অনুপস্থিতিতে আদালতে মামলার বিষয়বস্তু উপস্থাপনা করবেন না [এক তরফা মামলার (ex- parte) ক্ষেত্র ব্যতীত] [বিধি ৪]।
৫) প্রতিপক্ষ মক্কেলের সাথে মামলার বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করবেন না--[বিধি-৫]।
৬) মক্কেল অতিরিক্ত এ্যাডভোকেট নিয়োগ করতে পারবেন তবে এক্ষেত্রে নিযুক্তিয় এডভোকেটের বকেয়া পরিশোধ না করলে উক্ত মামলায় অতিরিক্ত এডভোকেটের জড়িত হওয়া উচিত হবে না---[এক্ষেত্রে নিযুক্তিয় এ্যাডভোকেট এন.ও.সি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) দিলে ভাল হয়।]----[বিধি-৬]।
৭) কোন মামলার বিচার চলার সময় কোন এ্যাডভোকেট অপরপক্ষের এডভোকেটের ব্যক্তিগত ইতিহাস বা বৈশিষ্ট্যের বিষয়ে কোন বক্তব্য প্রদান করবেন না--[বিধি-৭]।

৮) একজন এ্যাডভোকেট বন্টন নীতিমালাতে যেরূপ আছে ঐ ভাবে আইন সহায়তার জন্য ফিস নিতে পারবে এবং তার ফিস অন্য কোন ব্যক্তির সাথে বন্টিত বা ভাগ বাটোয়ারা হবে না--[বিধি-৮]।

৯) প্রত্যেক আইনজীবী বার কাউন্সিল প্রণীত তালিকাভুক্তির বিধান অনুসারে পদাধিকারের বিধান মেনে চলবে। [বিধি - ৯]।
১০) জুনিয়র এবং নবীন আইনজীবীরা সর্বদা সিনিয়র এবং প্রবীন আইনজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে--[বিধি-১০]। 
১১)কোন মামলায় কোন পক্ষে একাধিক এ্যাডভোকেট নিয়োজিত হলে, সেক্ষেত্রে সিনিয়র এ্যাডভোকেট মামলা পরিচালনা করবেন-- [বিধি-১১]।
.
আপীল আদালত আপীল পুনঃশুনানীর [Re hearing of Appeal] আবেদন প্রত্যাখ্যান করলে, আপীলকারী-
  1. আপীল করতে পারবে
  2. রিভিশন করতে পারবে
  3. রিভিউ করতে পারবে
  4. পুনরায় শুনানী করত
ব্যাখ্যা
♦ আদেশ ৪১ বিধি-১৯ আনুযায় বিধি ১১, ১৫, ১৭ বা ১৮ এর অধীন আপিল খারিজ করা হলে আপিলকারী আপিল আদালতে আপিল পুনঃগ্রহণের জন্য আবেদন করতে পারে; এবং আদালত খরচ সম্পর্কিত শর্ত সাপেক্ষে আপিলটি পুনঃগ্রহণ করবেন।
আপিল পুনঃগ্রহণের আবেদন- নামঞ্জুর বা প্রত্যাখ্যান করা হলে- আপিল করা যাবে এবং মঞ্জুর করা হলে- রিভিশন করা যাবে।

♦ আদেশ ৪১ বিধি-২১ আনুযায় আপিল একতরফাভাবে নিষ্পত্তি করা হলে এবং রায় ঘোষণা করা হলে আপিলটি পুনঃশুনানির জন্য প্রতিবাদী (Respondent) যদি আদালতকে এই মর্মে সন্তুষ্ট করে যে নোটিশটি যথারীতি জারি হয়নি বা যথেষ্ট কারণে উপস্থিত হতে পারেনি তাহলে আদালত আপিলটি পুনরায় শ্রবণ করবেন। আপিল পুনঃশুনানির আবেদন- প্রত্যাখ্যান হলে- আপিল করা যাবে এবং  মঞ্জুর হলে- রিভিশন করা যাবে

♦ আদেশ ৪৩ বিধি অনুযায়ী আপীল পুনঃগ্রহণ বা আপীল পুন:শুনানীর আবেদন প্রত্যাখ্যানের আদেশ আপীলযোগ্য আদেশ এবং ৪৩ বিধি অনুযায়ী এর বিরুদ্ধে আপীল করা যায়। কিন্তু আপীল পুনঃগ্রহণ বা পুন:শুনানীর আবেদন মঞ্জুর করে কোন আদেশ দিলে তার বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে না। 
.
দেওয়ানী মামলায় যুগ্ম জেলা জজ কর্তৃক প্রদত্ত রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ দায়ের করতে হবে রায়ের তারিখ হতে কত দিনের মধ্যে?
  1. ২০ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৭৩ অনুযায়ী দেওয়ানী মামলায় যুগ্ম জেলা জজ কর্তৃক প্রদত্ত রায়ের বিরুদ্ধে ৯০ দিনের মধ্যে রিভিউ দায়ের করতে হবে।
.
মধ্যবর্তী মুনাফা [Mesne Profits] এর ক্ষেত্রে কোনটি অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে ?
  1. বিবাদীর অন্যায়ভাবে দখল
  2. বিবাদীর অন্যায়ভাবে বা বেআইনী দখল এবং স্বাভাবিকভাবে লাভ
  3. বিবাদীর অন্যায় ভাবে দখল এবং লাভ
  4. অন্যায়ভাবে দখল এবং দখলদার কর্তৃক উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২(১২) মতে বেআইনীভাবে দখলকৃত সম্পত্তিতে স্বাভাবিক নিয়মে যে লাভ তৈরি হয় বা বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তিসাধারণ বুদ্ধিমত্তায় যে লাভ করতে পারতো, সুদসহ উক্ত মুনাফা কে মধ্যবর্তী মুনাফা [Mesne profits] বলে।
♦ তবে বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি উক্ত সম্পত্তির কোন উন্নয়ন করলে এবং সেই উন্নয়নের ফলে কোন মুনাফা হলে, উক্ত মুনাফা মধ্যবর্তী মুনাফা [Mesne Profits] বলে গণ্য হবে না।
♦ সুতরাং মধ্যবর্তী মুনাফা [Mesne Profits] এর ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে  বিবাদীর  বেআইনী দখল এবং স্বাভাবিকভাবে লাভ
.
'ক' তার ছেলের মঙ্গলের জন্য একজন সার্জনকে দিয়ে অপারেশন করাতে চায় । সার্জন শিশুটির পিতার নিকট থেকে অনুমতি নিয়ে অপারেশন করে । শিশুটি মারা যায়। সার্জনের অপরাধ কী?
  1. নিন্দনীয় নরহত্যা
  2. ভুলবশত খুন
  3. খুন
  4. কোন অপরাধ হয়নি
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ৮৯ ধারা মতে অভিভাবক দ্বারা বা তার সম্মতিক্রমে শিশু বা অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তির মঙ্গলার্থে সদবিশ্বাসে কৃত কাজ অপরাধ বলে গণ্য হবে না
 
♦ ১২ বছরের কম বয়সী বা অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তির অভিভাবক দ্বারা বা অভিভাবকের অনুমতিক্রমে উল্লেখিত ব্যক্তির মঙ্গলার্থে সরল বিশ্বাসে কোন কাজ করলে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে না।

♦সার্জনের অপরাধ না হবার কারণ হলো শিশুটির অভিভাবকের অনুমতি নিয়ে এবং শিশুর মঙ্গলার্থে সরল বিশ্বাসে কার্যটি করেছে।
.
চুক্তি রদের মামলা করতে হবে ১ বছরের মধ্যে - তামাদি আইনের কোথায় বলা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১১৪
  2. অনুচ্ছেদ ১১৩
  3. অনুচ্ছেদ ১৫
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১১৪ অনুযায়ী যে সকল বিষয় বাদীকে চুক্তি রদ করার অধিকার প্রদান করে সেই বিষয়ে বাদী যে দিন থেকে অবগত হয় সে দিন থেকে ১ বছরের মধ্যে মামলা কতে হবে।
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ ধারায় চুক্তি প্রত্যাহার করার মামলা করা হয়।
১০.
ইয়ামিন স্বেচ্ছায় এবং মিথ্যা ভাবে আলমকে বিশ্বাস করায় যে, ইয়ামিন কোন একটি জমির মালিক এবং সে ভাবে আলমকে উক্ত জমি ক্রয় করতে ও তার মূল্য দিতে প্রলুদ্ধ করে। পরবর্তীতে উক্ত জমি ইয়ামিনের সম্পত্তিতে পরিণত হয়। বিক্রয়ের সময় উক্ত জমিতে তার কোন স্বত্ব ছিল না, এই অজুহাতে ইয়ামিন বিক্রয় নাকচ করার চেষ্টা করে। এই ক্ষেত্রে তার স্বত্বহীনতা অবশ্যই প্রমাণ করতে দেওয়া যাবে না। এটি সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় সমর্থন করা হয়েছে?
  1. ১১৩
  2. ১১৪
  3. ১১৫
  4. কোনটিই নয়।
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১১৫ অনুযায়ী- যখন এক ব্যক্তি তার ঘোষণা, কার্য বা কার্য বিরতির দ্বারা স্বেচ্ছায় অন্য ব্যক্তিকে কিছু সত্য বলে বিশ্বাস করিয়েছেন বা বিশ্বাস করতে দিয়েছেন এবং সেই বিশ্বাসের ভিত্তিতে কাজ করতে দিয়েছেন, তখন তাদের মধ্যে অথবা তাদের প্রতিনিধিদের মধ্যে কোন মামলায় প্রথমোক্ত ব্যক্তি বা তার প্রতিনিধি উক্ত বিষয়ের সত্যতা অস্বীকার করতে পারবে না।
১১.
আদালত মামলার বিবাদীকে দলিল প্রকাশ করতে আদেশ দিয়েছিল। কিন্তু বিবাদী তা প্রকাশ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই ক্ষেত্রে আদালত নিম্নলিখিত কোন আদেশ দিতে পারে?
  1. তার মামলা খারিজ আদেশ
  2. তার আত্মপক্ষ সমর্থন বাতিলের আদেশ
  3. তার আারজি খারিজের আদেশ
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ নং আদেশের ২১ নং বিধিতে উদ্ঘাটন/আবিষ্কার (Discovery), প্রশ্নমালা এবং পরিদর্শন (Inspection) সংক্রান্ত আদালতের আদেশ অমান্যের ফলাফল আলোচনা করা হয়েছে।

♦ যদি মোকদ্দমার কোন পক্ষ মোকদ্দমা সম্পর্কিত প্রশ্নমালার উত্তর প্রদানে ব্যর্থ হয়, বা দলিল প্রকাশে ব্যর্থ হয়, তখন আদালত বাদীর মোকদ্দমা খারিজের আদেশ দিতে পারে বা বিবাদীর ক্ষেত্রে তার আত্মপক্ষ সমর্থনের বাতিলের আদেশ দিতে পারে। এক্ষেত্রে সংক্ষুব্ধ পক্ষ আপিল করতে পারবে। 

♦ সুতরাং আদালত মামলার বিবাদীকে দলিল প্রকাশ করতে আদেশ দিয়েছিল কিন্তু বিবাদী তা প্রকাশ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই ক্ষেত্রে আদালত বিবাদীর আত্মপক্ষ সমর্থন বাতিলের আদেশ দিতে পারে
১২.
দণ্ডবিধির ৩২৬ক ধারায় এসিড জাতীয় পদার্থ দ্বারা মুখ, মাথা বা উভয় চোখে স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর জখম করার সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  2. ১০ বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  3. মৃত্যুদণ্ড
  4. ৭ বৎসর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩২৬ক ধারায় এসিড জাতীয় পদার্থ দ্বারা মুখ, মাথা বা উভয় চোখে স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর জখম করার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
১৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় ফৌজদারি আপিল Abatement এর বিধান আছে?
  1. ৩০২
  2. ৩৪২
  3. ৪৩১
  4. ৪২০
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৪৩১ মতে- ৪১৭ ধারা ও ৪১৭ক ধারা অধীন প্রত্যেকটি আপিলে আসামীর মৃত্যু হলে চূড়ান্তভাবে পণ্ড হয়ে যাবে এবং এই অধ্যায়ের অধীন অন্যান্য প্রত্যেকটি আপিল (জরিমানার বিরুদ্ধে আপিল ব্যতিত) আপিলকারীর মৃত্যু হলে চূড়ান্তভাবে পণ্ড বা আপিল Abatement হয়ে যাবে। 
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৪৩১ মতে- জরিমানার বা অর্থদণ্ডের বিরুদ্ধে আপীল হলে আপীলকারী মারা গেলেও আপীল বতিল হবেনা তখন আপীলকারীর আইনগত প্রতিনিধিরা স্থলভিষিক্ত হবে। 
♦ আসামী  সম্পদ থেকে জরিমানার বা অর্থদণ্ড আদায় হবে ।
১৪.
নিম্নলিখিত কোন ক্ষেত্রে ১২ বছর পরও ডিক্রি জারির জন্য নতুন আবেদন [Fresh application] করা যাবে?
  1. যদি দেনাদার প্রবঞ্চনা কিংবা শক্তি প্রয়োগের দ্বারা ডিক্রি জারিতে বাধা প্রদান করে।
  2. যদি ডিক্রিদার যথেষ্ট কারণে ডিক্রি জারির আবেদন করতে বিলম্ব করে
  3. যদি দেনাদার আদালতের এখতিয়ারের বাইরে অবস্থান করে
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির ৪৮ ধারা অনুযায়ী ডিক্রি জারির নতুন আবেদন [fresh application] দাখিল করার সর্বোচ্চ মেয়াদ ১২ বৎসর। নিয়মটি হলো ডিক্রি প্রদানের পর ৩ বৎসরের মধ্যে ডিক্রি জারির প্রথম দরখাস্ত বা জারি মামলা দায়ের করতে হবে। ৩ বৎসরের মধ্যে জারি মামলা দায়ের করার পর, পরবর্তীতে ১২ বৎসর পর্যন্ত ডিক্রিদার [Decree Holder] যে কোনো সংখ্যক ডিক্রি জারির নতুন আবেদন [fresh application] দায়ের করতে পারে। 

♦  ১২ বছর পরও ডিক্রি জারির নতুন দরখাস্ত [fresh application] দায়ের করা যায় এবং আদালত ডিক্রি জারির আদেশ দিতে পারে যদি দেনাদার  প্রবঞ্চনা [Fraud] কিংবা শক্তি [force] প্রয়োগের দ্বারা ডিক্রি জারিতে বাধা প্রদান করে।

♦  অর্থাৎ যদি দেনাদার প্রবঞ্চনা কিংবা শক্তি প্রয়োগের দ্বারা ডিক্রি জারিতে বাধা প্রদান করে ক্ষেত্রে ১২ বছর পরও ডিক্রি জারির জন্য নতুন আবেদন [Fresh application] করা যাবে।
১৫.
বেআইনী সমাবেশের সদস্যদের কী থাকতে হবে?
  1. সকলের সম্মতি
  2. সাধারণ উদ্দেশ্য
  3. অপরাধের পরিকল্পনা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ১৪১ ধারায় বেআইনী সমাবেশের বিধান রয়েছে। পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি জনসাধারণের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী কোন সমাবেশ করলে তাকে বেআইনী সমাবেশ বা Unlawful Assembly বলে।

♦ দন্ডবিধির ১৪১ ধারামতে ৫ বা ততোধিক ব্যক্তি কর্তৃক সৃষ্ট সমাবেশে নিম্নলিখিত ৫টি সাধারণ উদ্দেশ্য বা common object থাকলে তা বেআইনী সমাবেশ বলে গণ্য হবে। সাধারণ উদ্দেশ্যগুলো (common object) নিম্নরূপ যথা-

১) সরকার, সরকারি কর্মচারী বা আইনসভাকে আইনসম্মত ক্ষমতা প্রয়োগকালে বাধা বা বলপ্রয়োগের হুমকি দান;
২) আইনগত ব্যবস্থা বাস্তবায়নে বাধা ।
৩) অনিষ্ট, অপরাধজনক অনধিকার প্রবেশ বা অপর কোন অপরাধ সংঘটন ।
৪) অপরাধজনক বলপ্রয়োগ পূর্বক সম্পত্তি অর্জন বা কোন ব্যক্তিকে রাস্তা বা পানি ব্যবহার বা দখল থেকে বঞ্চিত; অথবা
৫) কোন ব্যক্তিকে যা করতে বাধ্য নয় তা করাতে ও যা করতে বাধ্য তা থেকে বিরত রাখতে বাধ্য করা।

♦ সাধারণ উদ্দেশ্য বা common object বলতে তদ্রূপ উদ্দেশ্যকে বোঝায় যা পূরণকল্পে সমাবেশের সকল সদস্য সমবেত হয়েছিল এবং সেই উদ্দেশ্য হাসিল করবে বলে তারা সকলে জানত; অর্থাৎ বেআইনী সমাবেশ করার জন্য যে সকল উদ্দেশ্য থাকে সেই সকল উদ্দেশ্য সমূহ হলো সাধারণ উদ্দেশ্য।
♦ বেআইনী সমাবেশ হওয়ার জন্য সর্বনিম্ন ৫ জন ব্যক্তি এবং ১৪১ ধারায় উল্লেখিত ৫ ধরনে সাধারণ উদ্দেশ্যের (common object) রযে কোন একটি উদ্দেশ্য অবশ্যই থাকতে হবে।
১৬.
নিচের কোন চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য?
  1. A, B কে বিবাহ করার চুক্তি।
  2. সাহিত্যকর্ম সম্পন্ন করতে লেখকের সাথে প্রকাশকের চুক্তি
  3. A ১০০০ টাকার বিনিময়ে B-এর ছবি আঁকবে।
  4. নির্দিষ্ট বর্ণনার কিছু সংখ্যক শেয়ার A কর্তৃক B-এর বিক্রয় করার চুক্তি
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ২১ ধারা অনুযায়ী- যদিও শেয়ার অস্থাবর সম্পত্তি, এমন শেয়ার যেহেতু নির্দিষ্ট বর্ণনার এবং এমন শেয়ার যেহেতু সর্বদা বাজারে ক্রয় করার জন্য পাওয়া যায় না এবং এমন শেয়ার যেহেতু সংখ্যায় কম যা অন্যকোন উপায়ে সংগ্রহ করা যায় না, সেহেতু এমন চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য।
♦ বাকী অপশনগুলো ২১ ধারা অনুসারে বলবৎযোগ্য নয়।
১৭.
বাদীর অনুকূলে মামলার ডিক্রি হওয়ার পর আদালতের প্রস্তুতকৃত ডিক্রিতে ভুল থাকলে কি করণীয় -
  1. আপীল আদালতে আপীল করবে।
  2. ডিক্রি প্রদানকারী বিচারিক আদালতে আপীল করবে।
  3. ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে রিভিশান করবে ।
  4. বাদী ১৫২ ধারার অধীনে ডিক্রি সংশোধনের জন্য আবেদন করবে।
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫২ ধারায় কোন দেওয়ানি মোকদ্দমার রায়, ডিক্রি, আদেশ সংশোধন করার বিধান রয়েছে। সাধারণত রায়, ডিক্রি অথবা আদেশ একবার আদালত কর্তৃক স্বাক্ষরিত ও ঘোষিত হওয়ার পর কেবলমাত্র ১৫২ ধারা বা রিভিউ ব্যতীত কোনভাবে সংশোধন করা যাবে না।

♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫২ ধারায় আদালতের রায়, ডিক্রি অথবা আদেশ সংশোধন করার ক্ষমতা রয়েছে। ১৫২ ধারামতে আদালত যে কোন সময় নিজ উদ্যোগে (own motion) বা কোন পক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে করনিক বা গানিতিক ভুল (clerical or arithmetical mistakes), আকস্মিক ভ্রান্তি বা বিচ্যুতির (accidental slip or omission ) কারণে রায়, ডিক্রি অথবা আদেশ সংশোধন করতে পারে।

♦ বাদীর অনুকূলে মামলার ডিক্রি হওয়ার পর আদালতের প্রস্তুতকৃত ডিক্রিতে ভুল থাকলে বাদী ১৫২ ধারার অধীনে ডিক্রি সংশোধনের জন্য আবেদন করতে পারেন।
১৮.
পাবলিক কোম্পানীর পরিচালকগণ কর্তৃক অনুমোদিত প্রস্তাব দ্বারা A কতিপয় শেয়ার বরাদ্ধ পাওয়ার অধিকারী হয়। A উক্ত প্রস্তাবের সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের জন্য ও উক্ত প্রস্তাব প্রতিপালন না করার জন্য সাধিত ক্ষতিপূরণের জন্য মোকদ্দমা দায়ের করে। মোকদ্দমা দায়ের করার পূর্বে সকল শেয়ার বরাদ্ধ করা হয়ে যায়। এই ক্ষেত্রে আদালত-
  1. প্রস্তাবের সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের আদেশ দিতে পারে।
  2. প্রস্তাব প্রতিপালন না করার কারণে ক্ষতিপূরণের আদেশ দিতে পারে।
  3. শেয়ার বরাদ্ধের সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণ  সম্ভব না হলেও ক্ষতিপূরণ দিতে পারে।
  4. যেহেতু চুক্তি প্রতিপালন অসম্ভব হয়েছে সেহেতু A কোন প্রতিকার পাবে না।
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ১৯ ধারায় আদালত কতিপয় ক্ষেত্রে চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণের প্রতিকার দিতে পারে। চুক্তিভঙ্গের জন্য সাধারণত ২ ধরনের প্রতিকার পাওয়া যায়। যথা- ক) ক্ষতিপূরণ এবং খ) চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন

♦ তবে উভয় ধরনের প্রতিকার থাকলেও চুক্তিভঙ্গের জন্য সাধারণত ক্ষতিপূরণের প্রতিকার প্রদান করা হয়। কিন্তু যেক্ষেত্রে চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায় না অথবা যেক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত হয় না, সেই ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের প্রতিকার প্রদান করে থাকে । আদালত সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯, ৩৮ এবং ৪১ ধারায় ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করতে পারে।

♦ চুক্তিভঙ্গের জন্য বাদী কিছু ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ক্ষতিপূরণের মামলা করতে পারে অথবা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯ ধারামতে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের মোকদ্দমা দায়েরের সময় চুক্তিভঙ্গের জন্য বাদী চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের পাশাপাশি অতিরিক্ত বা বিকল্প হিসেবে ক্ষতিপূরণ দাবী করতে পারে।

♦ অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯ ধারামতে বাদী চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের মামলায় ক) চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন ও ক্ষতিপূরণ উভয়, অথবা খ) চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের পরিবর্তে কেবল ক্ষতিপূরণ দাবী করতে পারবে। এক্ষেত্রে আদালত ২ ধরণের প্রতিকার দিতে পারে-

i) ন্যায়বিচার স্বার্থে আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন ও ক্ষতিপূরণ উভয় ধরনের প্রতিকার প্রদান করতে পারে। 
ii) বাদী ও বিবাদীর মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি ভঙ্গের জন্য বিবাদী দায়ী হলে, এবং আদালত চুক্তিটির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন যথাযথ নয় বলে বিবেচনা করলে আদালত বাদীকে কেবল ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে বিবাদীকে বাধ্য করতে পারবে।

♦ যেহেতু শেয়ার বরাদ্ধ হয়ে গেছে, সেহেতু শেয়ার বরাদ্ধ সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য করা অসম্ভব  , এইজন্য  A ক্ষতিপূরণ পাবে।
১৯.
‘ক’, ‘খ’-কে একটি দেওয়ানি মামলা পরিচালনা হতে বিরত করার উদ্দেশ্যে ‘খ'-এর ঘর পুড়িয়ে দেওয়ায় ভয় দেখায়। ‘ক’এর অপরাধ কি
  1. ঘরে আগুন দেয়া
  2. অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন
  3. অনিষ্ট সাধন
  4. ভয় দেখানো
ব্যাখ্যা
দন্ডবিধির ৫০৩ ধারা অনুযায়ী দেহের, সম্পত্তির বা সুনামের ক্ষতি কিংবাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত অন্য কোন ব্যক্তিরদেহের বা সুনামের ক্ষতির ভয় দেখালে তা অরাধজনক ভীতি প্রদর্শন হিসাবে পরিগণিত হবে। 

♦এখানে 'A' দন্ডবিধির ৫০৩ ধারার অধীনে অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের অপরাধ করেছে

♦ দন্ডবিধির ৫০৬
ধারায় অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের শাস্তি রয়েছে যা অনধিক ২ বছর কারাদন্ড বা অর্থদন্ড বা উভয়দন্ড
২০.
৩৫ক ধারায় ক্ষতিপূরণমূলক খরচ প্রদানের আদেশ দেওয়া আদালতের জন্য
  1. বিবেচনামূলক
  2. নিদর্শনামূলক
  3. বাধ্যতামূলক
  4. উপরের কোনটি না
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধি ধারা ৩৫ক মিথ্যা বা বিব্রতকর দাবী কিংবা আত্মপক্ষ সমর্থন সম্পর্কে আদালত ক্ষতিপূরণমূলক খরচ প্রদানের আদেশ দিতে পারে যা আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক
২১.
নির্দিষ্ট বর্ণনার কিছু সংখ্যক রেলওয়ের শেয়ার A বিক্রয় করতে এবং B ক্রয় করতে চুক্তি করেছে। A বিক্রয় করতে অস্বীকার করে। এই ক্ষেত্রে B এর প্রতিকার হতে পারে-
  1. B শুধুমাত্র আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাবে।
  2. B, A-কে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নে বাধ্য করতে পারে
  3. চুক্তিটির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন করা যাবে না
  4. B, A-কে শেয়ার বিক্রয় করতে বাধ্য করতে পারেনা।
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা-১২. ব্যাখ্যা গ  অনুযায়ী, এই চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে পালন করতে A কে বাধ্য করতে পারে। কারণ শেয়ারগুলোর সংখ্যা সীমিত এবং সর্বদা মার্কেটে পাওয়া যায় না এবং শেয়ারগুলোর দখল শেয়ারের মালিকানা নির্ধারণ করে যা অন্যকোনভাবে অর্জন করা সম্ভব না।

♦ সুতরাং যেহেতু শেয়ার দুষ্প্রাপ্য প্রকৃতি, তাই এই চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য, যদিও শেয়ার অস্থাবর সম্পত্তি এবং B, A-কে শেয়ার বিক্রয় করতে বাধ্য করতে পারে।
২২.
দন্ডবিধি অনুযায়ী অর্থদণ্ড আদায়ের তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ১বছর
  2. ৬বছর
  3. ৬মাস
  4. ৩বছর
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ৭০ ধারামতে সাধারনত অর্থদন্ড প্রদানের ৬ বছরের মধ্যে অর্থদন্ড আদায় করতে হবে, কিন্তু যদি অপরাধী ৬ বৎসরের বেশি সময়ের জন্য দণ্ডিত হয়, তাহলে উক্ত দন্ডের মেয়াদ সমাপ্ত হওয়ার পূর্বে যে কোন সময়ে অর্থদন্ড আদায়যোগ্য হবে। অপরাধীর মৃত্যু হলে তার সম্পত্তি থেকে অর্থদন্ড আদায় করা যাবে।

♦ কারাদন্ডের আদেশ হওয়ার ৬ বছরের মধ্যে জরিমানার টাকা আদায় করা না হলে, উক্ত টাকা আর কখনও আদায় করা যাবে না। উহা তামাদি দোষে বারিত হবে।
২৩.
Easement Right বলতে কি বুঝায়?
  1. সুখাধিকার
  2. ঋণ
  3. ফেরত নেওয়া
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
♦ Easement Right মানে হল সুখাধিকার। সুখাধিকার বলতে বোঝায় এমন এক ধরনের অধিকার যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তির সম্পত্তি অন্য ব্যক্তি বিশেষ কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে।

♦ তামাদি আইনের ২৬ ধারায় সুখাধিকার অর্জনের বিধান রয়েছে। ২৬ ধারা অনুযায়ী কোন দালানে আলো-বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার অথবা স্থল ও জল পথের ব্যবহার অথবা পানির ব্যবহার অথবা যে কোন সুখাধিকার অব্যাহতভাবে ২০ বছর (সরকারী সম্পত্তিতে ৬০ বছর) ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করলে উক্ত সুখাধিকার নিরঙ্কুশ ও অলঙ্গনীয় অধিকারে পরিণত হবে।

♦ অর্থাৎ ২৬ ধারামতে কোন দালানে আলো-বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার অথবা স্থল ও জল পথের ব্যবহার অথবা পানির ব্যবহার অব্যাহতভাবে ২০ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করলে সুখাধিকার অর্জন করা যায়।

♦ সুখাধিকারের ক্ষেত্রে ২০ বছর বলতে মামলা দায়েরের তারিখের অব্যবহিত পূর্ববর্তী ২ বছরের মধ্যে সমাপ্ত ২০ বছরকে বুঝায় । তবে সরকারী সম্পত্তির উপর সুখাধিকার অর্জন করতে হলে ৬০ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করতে হবে। ২৬ ধারায় সুখাধিকার বলতে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ধরণের সুখাধিকারকে বোঝায়।

♦ ২৬ ধারা অনুযায়ী সুখাধিকার আলো, বায়ু প্রবেশ ও ব্যবহার, স্থল ও জল পথের ব্যবহার এবং পানির ব্যবহারকে অন্তর্ভুক্ত করে।

♦ সুখাধিকার বা ব্যবহার স্বত্ব (ইজমেন্ট রাইট)- ১৮৮২ সালের ইজমেন্ট রাইট অ্যাক্ট এর ৪ ধারায় সুখাধিকারের (ইজমেন্ট রাইট) সংজ্ঞা রয়েছে। সুখাধিকার বলতে এমন এক সুবিধাভোগী স্বত্বের অধিকারকে বুঝায় যা দ্বারা কোনো জমির মালিক বা দখলকার তার জমির সুবিধাজনক ভোগের জন্য অপর কোনো ব্যক্তির জমির উপর দিয়ে কিছু করতে বা করা অব্যাহত রাখতে, কোনো কিছু নিবৃত্ত করতে বা নিবৃত্ত অব্যাহত রাখতে পারে।
২৪.
দন্ডবিধির কত ধারায় রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের বিশেষাধিকার সংরক্ষণ করা হয়েছে?
  1. ৫৪ ধারায়
  2. ৫৫ ধারায়
  3. ৫৫ক ধারায়
  4. ৫৬ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ সরকার দণ্ডবিধির ৫৪ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড হ্রাস করে এবং ৫৫ ধারা অনুযায়ী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হ্রাস করে যে কোন দণ্ডে রূপান্তর করতে পারে । দণ্ডবিধির ৫৫ক ধারায় বলা হয়েছে, ৫৪ ও ৫৫ ধারার কোন কিছু রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শন, শাস্তি কমানো, লাঘব বা মওকুফের অধিকার ক্ষতিগ্রস্থ করবে না।

♦ সরকার দন্ডবিধির ৫৪ ও ৫৫ ধারামতে দন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির দন্ড হ্রাস বা মওকুফ করতে পারে এবং রাষ্ট্রপতির ৫৫ক ধারামতে  ক্ষমা প্রদর্শন, শাস্তি কমানো, লাঘব বা মওকুফ করতে পারে।

♦ সংবিধানের আওতায় ক্ষমা প্রদর্শন- বাংলাদেশ সংবিধানের ৪৯ নং অনুচ্ছেদমতে রাষ্ট্রপতি কোন দন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির দন্ড হ্রাস বা মওকুফ করতে পারেন।
প্রাণ-ভিক্ষা: মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত অপরাধীরা সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ মতে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ-ভিক্ষা করে থাকেন।
২৫.
"Nothing in this section shall bar any person from suing to establish his title to such property and to recover possession thereof"। বিধানটি The Specific Relief Act, 1877 এর কোথায় আছে?
  1. ৮ ধারা
  2. ৯ ধারা
  3. ১০ ধারা
  4. ১১ ধারা
ব্যাখ্যা
"Nothing in this section shall bar any person from suing to establish his title to such property and to recover possession thereof"। বিধানটি The Specific Relief Act, 1877 এর ৯ ধারায়  আছে।
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ৯ ধারায়
দখল পুনরুদ্ধারের মোকদ্দমায় বাদী পরাজিত হলেও, উক্ত সম্পত্তিতে স্বত্ত্ব প্রমাণ করে ৮ ধারায় দখল পুনরুদ্ধারের মোকদ্দমা দায়ের করতে ৯ ধারা বারিত করবে না
২৬.
দেওয়ানী মামলায় সময়ের প্রার্থনা করে দরখাস্ত করা যায় কোন আইনের কত ধারা অনুযায়ী?
  1. দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৭ বিধি ১
  2. দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৪৮ এবং আদেশ ১৪ বিধি ১
  3. দেওয়ানি কার্যবিধির ৪৪ ধারা
  4. দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৬ বিধি ১৪
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৭ এর বিধি ১ অনুয়ায়ী আদালত সময় মঞ্জুর করিতে এবং শুনানি মুলতবি রাখিতে পারে।

♦ আদালত পক্ষসমূহের আবেদনক্রমে মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে (At any stage of the suit) পক্ষগণের সময় আবেদন মঞ্জুর করতে পারেন এবং শুনানি মুলতুবি রাখতে পারেন।
২৭.
আইন শিক্ষা কমিটির সদস্য কতজন?
  1. ৫ জন
  2. ৬ জন
  3. ৯ জন
  4. ১১ জন
ব্যাখ্যা
♦ The Bangladesh legal practitioners and Bar council orders 1972 অনুচ্ছেদ ১১ অনুযায়ী আইন শিক্ষা কমিটি গঠিত হয় এই কমিটির সদস্য ৯ জন
♦ এই কমিটির সদস্য নয়জনের মধ্যে পাঁচজন বার কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্য, দুইজন কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের শিক্ষক, অপর দুজন বার কাউন্সিলের সদস্য নয় এমন যে কোন ব্যক্তি হতে পারেন।
২৮.
কত বছরের শিশুকে পরিত্যাগ করলে পিতা বা মাতার ৭ বছরের কারাদন্ডহবে-
  1. ১২ বছরের নিম্ন বয়স্ক শিশু
  2. ৯ বছরের নিম্ন বয়স্ক শিশু
  3. ৩ মাসের নিম্ন বয়স্ক শিশু
  4. ১ মাসের নিম্ন বয়স্ক শিশু
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ৩১৭ ধারা অনুযায়ী, পিতা বা মাতা কিংবা শিশুর দায়িত্বেরত কোন ব্যক্তি যদি ১২ বছরের নিম্ন বয়স্ক শিশুকে পরিত্যাগ করে তাহলে তার শাস্তি হতে পারে ৭ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড বা অর্থদন্ড বা উভয়দন্ড।
২৯.
কোন জলপথে Easement Right প্রতিষ্ঠিত করতে হলে - 
  1. শুধুমাত্র ২০ বছর ব্যবহার করতে হয় 
  2. বিচ্ছিন্নভাবে ২০ বছর ব্যবহার করতে হয় 
  3. শান্তিপূর্ণ ২০ বছর ব্যবহার করতে হয় 
  4. নিরবিচ্ছিন্ন, শান্তিপূর্ণ ও অধিকার হিসেবে ২০ বছর ব্যবহার
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের ২৬ (১) ধারা অনুযায়ী কোন জলপথে Easement Right প্রতিষ্ঠিত করতে হলে নিরবিচ্ছিন্ন, শান্তিপূর্ণ ও অধিকার হিসেবে ২০ বছর ব্যবহার করতে হয়।

♦ তামাদি আইনের ২৬ ধারায় সুখাধিকার অর্জনের বিধান রয়েছে। ২৬ ধারা অনুযায়ী কোন দালানে আলো-বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার অথবা স্থল ও জল পথের ব্যবহার অথবা পানির ব্যবহার অথবা যে কোন সুখাধিকার অব্যাহতভাবে ২০ বছর (সরকারী সম্পত্তিতে ৬০ বছর) ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করলে উক্ত সুখাধিকার নিরঙ্কুশ ও অলঙ্গনীয় অধিকারে পরিণত হবে।

♦ অর্থাৎ ২৬ ধারামতে কোন দালানে আলো-বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার অথবা স্থল ও জল পথের ব্যবহার অথবা পানির ব্যবহার অব্যাহতভাবে ২০ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করলে সুখাধিকার অর্জন করা যায়।
৩০.
দেওয়ানী কার্যবিধির ১৬ আদেশের ১০ বিধির অধীন আদালতের কোন আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তির প্রতিকার হতে পারে
  1. আপীল
  2. রিভিউ
  3. রিভিশন
  4. কোনটি না
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৬ আদেশের ১০ বিধির অধীন কোন ব্যক্তিকে  সাক্ষী হিসাবে হাজির হতে আদালত যদি সমন প্রদান করে এবং উক্ত ব্যক্তি সমন অনুযায়ী হাজির হতে ব্যর্থ হয় এবং আদালত উক্ত ব্যক্তির সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ প্রদান কর্বে বা গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করবে।

♦ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৪৩ এর বিধি ১(ছ) তে বলা আছে কোন ব্যক্তিকে  সাক্ষী হিসাবে হাজির হতে আদালত যদি সমন প্রদান করে এবং উক্ত ব্যক্তি সমন অনুযায়ী হাজির হতে ব্যর্থ হয় এবং আদালত উক্ত ব্যক্তির সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ প্রদান করলে বা গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করলে, সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তি ৪৩ আদেশের বিধি ১ এর(ছ) অনুযায়ী আপীল করতে পারে।
৩১.
চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের ক্ষেত্রে বিবাদী নিম্নলিখিত কোন যুক্তিটি আত্মপক্ষ সমর্থনের কারণ হিশেবে  উপস্থাপন করতে পারে?
  1. অপ্রয়োজনীয় এবং ক্ষমতার অতিরিক্ত
  2. অনিশ্চয়তা এবং ক্ষমতার অতিরিক্ত
  3. কঠোরতা এবং অন্যায় সুবিধা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ২২ অনুযায়ী, চুক্তি বলবৎকরণের মোকদ্দমায় যদি বিবাদী দেখাতে পারে যে, বিবাদীর প্রতি বাদীর অন্যায় সুবিধা আছে এবং  যেক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণ বিবাদীর প্রতি কষ্ট বা কঠোরতা hardshipl সৃষ্টি করবে কিন্তু চুক্তি বলবৎ না করলে বাদীকে এমন ধরণের কোন কঠোরতায় জড়াবে না, সেই ক্ষেত্রে আদালত চুক্তি বলবৎকরণের ডিক্রি না দিতে বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে এবং চুক্তি বলবৎকরণের ডিক্রি না দিয়ে বিবাদীকে ক্ষতিপূরণ (solatium) মঞ্জুর করতে পারে।
৩২.
চুরির অপরাধ নিম্নের কোনটির সাথে সম্পর্কিত নয়?
  1. নগদ টাকা
  2. স্বর্ণালংকার
  3. জমি
  4. আসবাবপত্র
ব্যাখ্যা
দন্ডবিধির ৩৭৮ ধারায় চুরির বিধান রয়েছে। ৩৭৮ ধারামতে কোন ব্যক্তির দখল থেকে সম্মতি ব্যতীত কোন অস্থাবর সম্পত্তি (Movable property) অসাধুভাবে গ্রহণের উদ্দেশ্যে স্থানান্তর করলে বা সরানো হলে তা চুরি বলে গণ্য হবে।
♦ অন্যভাবে বলা যায়, যদি কোন ব্যক্তি কোন অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণের উদ্দেশ্যে সম্পত্তির দখলে থাকা ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া উক্ত সম্পত্তি স্থানান্তর করে তবে তা চুরি বলে গণ্য হবে।
♦ দন্ডবিধির ধারা ৩৭৮ অনুযায়ী একমাত্র অস্থাবর সম্পত্তি চুরি করা যায়। স্থাবর সম্পত্তি যেমন জমি চুরি করা যায় না।
৩৩.
সাক্ষ্য আইনের ১০ নং ধারায় নিচের কোনটি সম্পর্কে বলা আছে?
  1. অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র
  2. শনাক্তকরণ প্যারেড
  3. অভিন্ন অভিপ্রায়
  4. ক এবং গ
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ১০ নং ধারায় মতে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি একযোগে কোন অপরাধ বা নালিশ যোগ্য অন্যায় কার্য করার ষড়যন্ত্র করেছে, এরূপ বিশ্বাস করার যদি যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকে; তবে তাদের যেকোন একজনের উক্তি, ষড়যন্ত্রের ইচ্ছা পোষণ করার পর তাদের ঐ সাধারণ ইচ্ছা সম্পর্কে তাদের মধ্যে যেকোন একজনের কোন কথা কার্য বা লেখা ষড়যন্ত্রকারী বলে মনে করা হচ্ছে, এরূপ প্রত্যেক ব্যক্তি সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক ঘটনা, ষড়যন্ত্রের অস্তিত্ব প্রমাণ করার জন্য তা প্রাসঙ্গিক; তেমনি কোন ব্যক্তি যে উক্ত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল তা প্রমাণ করার জন্য তাও প্রাসঙ্গিক।

♦ যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি মিলে কোন অপরাধ সংঘটন করে এবং সেই অভিন্ন অভিপ্রায়ের লক্ষ্যে করা কোন এক জনের কথা, কাজ বা বিবৃতি প্রাসঙ্গিক। অর্থাৎ অভিন্ন অভিপ্রায় প্রসঙ্গে ষড়যন্ত্রকারীর কথা বা কাজ ষড়যন্ত্রের অস্তিত্ব প্রমাণ করার জন্য প্রাসঙ্গিক হবে।

♦ সাক্ষ্য আইনের ১০ ধারায় Criminal Conspiracy (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র) এবং Common Intention(অভিন্ন অভিপ্রায়) সম্পর্কে বলা আছে।
৩৪.
স্বামী বা স্ত্রীর জীবদ্দশায় পুনরায় বিবাহ করার শাস্তি দন্ডবিধির কত ধারায় উল্লেখ আছে?
  1. ৪৯৪ ধারায়
  2. ৪৯৫ ধারায়
  3. ৪৯৭ ধারায়
  4. ৪৯৬ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ ৪৯৪ ধারায় স্বামী বা স্ত্রীর জীবদ্দশায় পুনরায় বিবাহ করলে শাস্তি ৭ বৎসরের কারাদন্ড।

♦ ৪৯৫
ধারা অনুযায়ী পূর্বের বিবাহ গোপন করে বিয়ে করলে শাস্তি ১০ বৎসরের কারাদন্ড

৪৯৬ ধারা অনুযায়ী যে বিবাহ আইন সম্মত নয় সে বিবাহ করলে শাস্তি ৭ বৎসর এবং ৪৯৭ ধারা অনুযায়ী ব্যভিচারের শাস্তি ৫ বৎসর
৩৫.
তামাদি শব্দটি কোন ভাষা থেকে উৎপত্তি?
  1. খাঁটি বাংলা
  2. আরবি
  3. ফারসি
  4. উর্দু
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি শব্দটি আরবি ভাষা হতে উৎপত্তি। তামাদির আভিধানিক অর্থ বিলুপ্ত বা অচল।
৩৬.
যারা মামলায় পক্ষ নয় সাধারণত তাদের বিবৃতি স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য হয় না। সাক্ষ্য আইনের কোন ধারা এই সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম?
  1. ১৭, ১৮
  2. ১৮, ১৯
  3. ১৯, ২০
  4. ২০, ২১
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১৯ মোতাবেক মামলার বিরুদ্ধে পক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠাযোগ্য লোকের বিবৃতি স্বীকৃতি। এই ধারা অনুসারে আগন্তুক বা Stranger এর সাক্ষ্য প্রাসঙ্গিক বলে ঘোষণা করা হয়।

♦আবার সাক্ষ্য আইন এর ২০ ধারায় বলা হয়েছে মামলার কোন পক্ষ কর্তৃক কোন ব্যক্তিকে রেফারেন্স হিসেবে উল্লেখ করা হলে উক্ত ব্যক্তির বিবৃতি প্রাসঙ্গিক।

♦ অর্থাৎ যারা মামলায় পক্ষ নয় সাধারণত তাদের বিবৃতি স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য হয় না। সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ১৯ ধারা ও ২০ ধারা  এই সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম।
৩৭.
মোকদ্দমার প্রথম শুনানীর সময় যদি আদালত মনে করে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে আইন বা ঘটনা সংক্রান্ত কোন বিচার্য বিষয় নেই, তাহলে আদালত রায় ঘোষণা করতে পারে দেওয়ানী কার্যবিধির .... এর অধীন।
  1. আদেশ ১৭ বিধি ১
  2. আদেশ ১৫ বিধি ১
  3. আদেশ ১৪ বিধি ১
  4. আদেশ ১৬ বিধি ১
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির আাদেশ ১৫ এর বিধি ১ অনুযায়ী মোকদ্দমার প্রথম শুনানীর সময় যদি আদালত মনে করে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে আইন বা ঘটনা সংক্রান্ত কোনবিচার্য বিষয় নেই, তাহলে আদালত রায় ঘোষনা করতে পারে।
৩৮.
একজন অ্যাটর্নি 'ক' তার মক্কেল একজন হিন্দু বিধবা "খ' কে 'খ' এর পাওনাদারকে প্রতারণার উদ্দেশ্যে সম্পত্তি তার নামে হস্তান্তর করতে প্ররোচিত করলো। ক এবং খ এর মধ্যে এই মর্মে সম্পাদিত চুক্তিটি  'খ' এর-
  1. রদের অধিকারী হবে
  2. সুনির্দিষ্ট বলবৎ এর অধিকারী
  3. চুক্তিটি সংশোধনের অধিকারী
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা-৩৫, ব্যাখ্যা-খ অনুযায়ী, প্রতারণার উদ্দেশ্যে চুক্তিটি সম্পাদন করায় এটা একটি বাতিলযোগ্য চুক্তি।
♦ তাই আদালত চুক্তিটি রদের আদেশ মঞ্জুর করতে পারে।
৩৯.
বাংলাদেশে সমকামিতা কোন ধারা বলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ?
  1. ৩৭৫ ধারায়
  2. ৩৭৭ ধারায়
  3. ৩৭৬ ধারায়
  4. ৫০৯ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৩৭৭ অনুযায়ী, প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে কোন পুরুষ বা স্ত্রী লোক বা পশুর সহিত যৌনসঙ্গম করলে শাস্তি হতে পারে যাবজ্জীবন বা ১০ বছন পর্যন্ত কারাদণ্ড।
৪০.
বাদীর অনুপস্থিতির, কারণে দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৯ এর ৮ বিধির অধীন মোকদ্দমা খারিজের আদেশ দিলে, উক্ত মোকদ্দমা খারিজ আদেশ সরাসরি বাতিলের [Directly setting aside the order of the dismissal of the suit] আবেদন করা যায়?
  1. আদেশ ৯ এর ৯ বিধি
  2. আদেশ ৯ এট ১০ বিধি
  3. আাদেশ ৯ এর ৯ক বিধি
  4. আদেশ ৯ এর ১৩ বিধি
ব্যাখ্যা
♦ বাদীর অনুপস্থিতির, কারণে দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৯ এর ৮ বিধির অধীন মোকদ্দমা খারিজের আদেশ দিলে, উক্ত মোকদ্দমা খারিজ আদেশ সরাসরি বাতিলের আবেদন করা যায় দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৯ এর ৯ক বিধি অনুসারে এই ক্ষেত্রে আদালত বাদীকে অনধিক ১ হাজার খরচ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারেন।
৪১.
জামাল এর মৃত্যু ঘটানোর ইচ্ছা নিয়ে লাঠি দ্বারা আঘাত করে তাকে খুন করার অপরাধে রাহাত অভিযুক্ত হলো। বিচারকালে কোন বিষয়টি বিচার্য বিষয় হবে না?
  1. রাহাত কর্তৃক জামালকে লাঠি দ্বারা আঘাত।
  2. উক্ত আঘাতের ফলে রাহাত কর্তৃক জামালের মৃত্যু ঘটানো।
  3. রাহাত কর্তৃক জামাল এর মৃত্যু ঘটানোর অভিপ্রায়।
  4. রাহাত এর বন্ধু ও বন্ধুর বড় ভাইয়ের মধ্যকার বিদ্বেষ।
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ৫ মোতাবেক কোন মামলায় বা কার্যক্রমে বিচার্য প্রত্যেক বিষয়ের এবং এই আইনের অতঃপর যে সকল বিষয় প্রাসঙ্গিক বলে ঘোষিত হয়েছে তাদের অস্তিত্ব বা সম্পর্কে সাক্ষ্য দেয়া যেতে পারে। ভিন্ন অন্য কোন বিষয় সম্পর্কে সাক্ষ্য দেয়া যাবে না।

♦ এখানে রাহাত এর বন্ধু ও বন্ধুর বড় ভাইয়ের মধ্যকার বিদ্বেষ এর বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিক তাই এটি বিচার্য বিষয় নয়।
৪২.
পুলিশের নিকট আসামীর স্বীকারোক্তি কোন ক্ষেত্রে সাক্ষ্য হিসেবে আদালতে গ্রহণযোগ্য হবে?
  1. ম্যাজিস্ট্রেট এর উপস্থিতিতে
  2. নিরপেক্ষ সাক্ষীর উপস্থিতিতে
  3. স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আলামত উদ্ধার হলে
  4. স্বীকারোক্তি জোরপূর্বক আদায় করা না হলে।
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ২৭ মোতাবেক, কোন বিষয় সম্পর্ক যদি এরুপ সাক্ষ্য পাওয়া যায় যে, অপরাধে অভিযুক্ত ব্যাক্তি পুলিশ অফিসারের হেফাজতে ছিল এবং তার নিকট হতে প্রাপ্ত খবরের ফলে একটা বিষয় উদঘাটিত হয়েছে, তা হলে খবরের যে অংশ উদঘাটিত বিষয়ের সাথে স্পষ্ট রূপে সংশ্লিষ্ট, তা স্বীকারোক্তী হোক বা না হোক, প্রমাণ করা যেতে পারে।
৪৩.
"Provided that no Court shall make any such declaration where the plaintiff, being able to seek further relief than a mere declaration of title, omits do to so". সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোথায় বলা আছে?
  1. ৪১ ধারা
  2. ৩৯ ধারা
  3. ৪২ ধারা
  4. ৫৪ ধারা
ব্যাখ্যা
♦ "Provided that no Court shall make any such declaration where the plaintiff, being able to seek further relief than a mere declaration of title, omits do to so". সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের  ৪২ ধারায় বলা আছে

♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় বলা হয়েছে
, যেখানে বাদী শুধুমাত্র স্বত্ত্বের ঘোষণা [Mere Declaration of Title ] ছাড়া আরও প্রতিকার [further relief] দাবী করতে পারতো, কিন্তু তা করা হতে বিরত থাকে, সেখানে আদালত তেমন ঘোষণা দিবে না।
৪৪.
বিচারকালীন আসামী যে মেয়াদের কারাবাস ভোগ করেছে তা যদি সে যে দণ্ডে দণ্ডিত হয়েছে তার মেয়াদ অপেক্ষা বেশী হয়, তাহলে আসামী-
  1. অর্থ দণ্ড যদি থাকে মওকুফ হবে
  2. তাকে কারাবাস থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে
  3. নতুন করে কারাবাস শুরু হবে
  4. ক এবং খ উভয়
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৫ ক অনুযায়ী দণ্ডাদেশের পূর্বে যদি জেল হাজতে যে মোট মেয়াদে অপরাধীকে দণ্ডিত করা হয়েছে তদাপেক্ষা অধিক হয়ে থাকে, তাহলে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রদত্ত কারাদণ্ড ভোগ করিয়াছে বলে গণ্য হবে এবং জেল হাজতে থাকলে তৎক্ষণাৎ মুক্তি দিতে হবে এছাড়াও যদি কোন জরিমানা পরিশোধ করার দণ্ডিত করা হয়ে থাকে,তাহলে উক্ত অর্থদণ্ড জরিমানা মওকুফ হয়ে যাবে।
৪৫.
বাংলাদেশের বার কাউন্সিলের একজন সচিব থাকবে এটি কোথায় বলা আছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৬
  2. অনুচ্ছেদ ৬ (১)
  3. অনুচ্ছেদ ৬ (ক)
  4. অনুচ্ছেদ ৭
ব্যাখ্যা
♦ The Bangladesh legal practitioners and Bar council orders 1972 অনুচ্ছেদ ৬ (ক) অনুযায়ী বাংলাদেশের বার কাউন্সিলের একজন সচিব থাকবেন
৪৬.
খায়রুল ও হারুন হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত। হারুন দোষ স্বীকার করে। হারুন এর দোষ স্বীকার খায়রুল এর বিরুদ্ধে প্রযোজ্য হবে-
  1. খায়রুল ও হারুনের যৌথভাবে বিচার হলে।
  2. হারুন নিজের সাথে খায়রুলকে জড়িয়ে দোষ স্বীকার করলে।
  3. হারুন এর দোষ স্বীকার প্রমাণিত হলে।
  4. সবগুলো।
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ ধারা-৩০ অনুযায়ী- যেখানে একই অপরাধে একাধিক ব্যক্তির যৌথভাবে বিচার হচ্ছে এবং তাদের মধ্যে একজনের দোষ স্বীকার, যা দ্বারা সে নিজেকে ও অন্যকে জড়িত করেছে, তা প্রমাণ করা হয়েছে, সেখানে আদালত উক্ত দোষ স্বীকারকারী ও অপর ব্যক্তির বিরুদ্ধে সেই দোষ স্বীকার বিবেচনা করতে পারেন।
৪৭.
আরজি প্রত্যাখ্যানের আবেদন না মঞ্জুর করে আদালত কোন আদেশ দিলে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার কী?
  1. আপীল
  2. রিভিশন
  3. রিভিউ
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ আদেশের ১১ বিধির অধীন মোকদ্দমার বিবাদী পক্ষ আরজি খারিজ করে দেওয়ার জন্য আদালতের নিকট আবেদন করতে পারবে ।

♦বিবাদীর আবেদনক্রমে বা আদালত নিজ উদ্যোগে আরজি প্রত্যাখ্যান করতে পারে। 

♦বিবাদী কর্তৃক আরজি প্রত্যাখ্যানের আবেদন নামঞ্জুর হলে-রিভিশন করা যাবে

♦ অর্থাৎ আরজি প্রত্যাখ্যানের আবেদন না-মঞ্জুর করা হলে  রিভিশন করতে হবে।
৪৮.
নাবালক অপরাধীদের সংশোধনাগারে রাখার বিধান ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় দেওয়া আছে?
  1. ৪০৪ ধারা
  2. ৩৯৫ ধারা
  3. ৩৯৯ ধারা
  4. ৩৮৯ ধারা
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৯৯ ধারা অনুযায়ী যখন আদালত ১৫ বৎসর কম বয়স্ক ব্যক্তিকে কোন অপরাধের জন্য কারাদন্ড দেন, তখন উক্ত আদালত উক্ত ব্যক্তিকে ফৌজদারি জেলে বন্দি না রেখে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিতে পারেন
৪৯.
একই মামলায় প্রদত্ত বিবৃতি পরবর্তী মামলায় প্রাসঙ্গিক হবে যদি উক্ত ব্যক্তি _
  1. মৃত হয়।
  2. নিরুদ্দেশ হয়
  3. সাক্ষ্য দিতে অসমর্থ হলে
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২, ধারা ৩৩ অনুযায়ী- সাক্ষী মামলার বিচারক্রমে বা আইনত সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষমতা সম্পন্ন কোন ব্যাক্তির নিকট যে সাক্ষ্য দেয়, উক্ত সাক্ষীর মৃত্যু হলে, সন্ধান পাওয়া না গেলে, সে সাক্ষ্য দিতে অসমর্থ হয়ে পড়লে, বিরুদ্ধ পক্ষ তাকে সরিয়ে রাখলে অথবা তাকে উপস্থিত করার জন্য সে সময় ও অর্থের প্রয়োজন, মামলার অবস্থা বিবেচনায় আদালত তা অযৌক্তিক বলে মনে করলে, উক্ত সাক্ষীর পুর্বোক্ত সাক্ষ্যে বর্ণিত কোন ঘটনার সত্যতা পরবর্তী কোন মামলায় বা একই মামলায় পরবর্তী পর্যায়ে প্রমাণের জন্য প্রাসঙ্গিক হবে (শর্তসাপেক্ষে)।
৫০.
আরজিতে মামলার কারণ উল্লেখ না থাকলে কি হবে?
  1. আরজি ফেরত
  2. আরজি নাকচ
  3. মামলা খারিজ
  4. মামলা চলবে
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির আাদেশ ৭ এর বিধি ১১ আনুযায়ী নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে আরজি নাকোচ করা হবে।
ক) যেক্ষেত্রে এটি মোকদ্দামার কারণ ব্যক্ত করে নাই;
খ) যেক্ষেত্রে দাবীকৃত প্রতিকারের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশ মত বাদী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উহা সংশোধন করতে ব্যর্থ হয়েছে;
গ) যেক্ষেত্রে দাবীকৃত প্রতিকারের যথার্থই মূল্যায়ন করা হয়েছে; কিন্তু প্রয়োজন অপেক্ষা কম মূল্যের স্ট্যাম্পযুক্ত কাগজে আরজি লেখা হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশত বাদী নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে বিক্রীত স্ট্যাম্প কাগজ সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
ঘ) যেক্ষেত্রে আরজির বিবৃতি অনুযায়ী উক্ত মামলা কোন আইন দ্বারা নিষিদ্ধ বলে প্রতীয়মান হয়; তবে শর্ত থাকে যে, মামলার মূল্যমান বা আবশ্যকীয় স্ট্যাম্প কাগজ দাখিল করার জন্য আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময় কোনক্রমেই একুশ দিনের অধিক হবে না।
৫১.
নিম্নের কোন আদেশটি ডিক্রি হিসাবে গণ্য হবে?
  1. আরজি ফেরত আদেশ
  2. আরজি গ্রহণ আদেশ
  3. আরজি প্রত্যাখ্যান আদেশ
  4. আরজি সংশোধন আদেশ
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ২(২) ধারায় ডিক্রির সংজ্ঞা রয়েছে। ২(২) ধারামতে আদালতের এমন কোন আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত যা মোকদ্দমার তর্কিত/বিরোধীয় বিষয় সম্পর্কে পক্ষসমূহের অধিকার চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে তাকে ডিক্রি (Decree) বলে।

♦দেওয়ানী কার্যবিধির ২(২) ধারামতে নিম্নলিখিত সিদ্ধান্তগুলোও ডিক্রি বলে বলে গণ্য হবে।  

♦ ৭ নং আদেশের ১১ নং বিধির অধীন আরজি প্রত্যাখান বা খারিজের আদেশ (Rejection of plaint)।
♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৪৪ ধারার অধীন প্রত্যর্পন (Restitution) বিষয়ে আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোন সিদ্ধান্ত ডিক্রি বলে বিবেচিত হবে।
৫২.
আপিল আদালত সংক্ষিপ্তভাবে আপিল খারিজ [Summary disposal of appeal] করতে পারে কত ধারায়?
  1. ৪১১ ধারা
  2. ৪১৯ ধারা
  3. ৪২০ ধারা
  4. ৪২১ ধারা
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধি এর ৪২১ ধারা মতে যদি আপিল আদালত মনে করে আপিলের কোন কারণ নেই, তাহলে আপিল আদালত আপিলটি সংক্ষিপ্তভাবে খারিজ করে দিতে পারে। এই ক্ষেত্রে আপিল আদালত নিম্ন আদালতের নথি তলব করতে পারে কিন্তু তলব করতে বাধ্য না।
৫৩.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় প্রবেটের প্রাসঙ্গিকতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
  1. ৪০
  2. ৪১
  3. ৪২
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ৪১ ধারায় (প্রবেট, বিবাহ, অ্যাডমিরালটির ক্ষেত্রে কোন রায়ের প্রাসঙ্গিকতা) প্রবেটের প্রাসঙ্গিকতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এই ধারা মোতাবেক কোন রায় প্রাসঙ্গিক হওয়ার জন্য অন্যান্য বিষয়সমূহ হলো বিবাহ, অ্যাডমিরালটি ও দেউলিয়াত্ব।
৫৪.
‘চ’এর যে রাস্তায় চলাচলের অধিকার আছে সে পথে ‘ক’ বিঘ্ন সৃষ্টি করে। এতে ‘চ’ এর চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় ‘ক'এর কৃত অপরাধ হলো-
  1. অন্যায় আটক
  2. অন্যায় অর্পণ
  3. অবৈধ বাধা
  4. অন্যায় নিয়ন্ত্রণ
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ৩৩৯ ধারায় বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তির যেদিকে যাওয়ার অধিকার আছে তাকে সেইদিকে যেতে ইচ্ছাকৃত ভাবে বাঁধা দেওয়া হলে তাকে অন্যায়ভাবে বাঁধা বা অবৈধ বাঁধা (Wrongful restraint) প্রদান করা হয়েছে বলা হবে।
৫৫.
কোন মামলায় আদালত রায়ের পূর্বে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা ইস্যু করতে পারে?
  1. বাটোয়ারা মামলায়
  2. নিষেধাজ্ঞার মামলায়
  3. ফোর ক্লোজারের মামলায়
  4. অর্থ মামলায়
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৮ আদেশের ১ হতে ৪ বিধিতে রায়ের পূর্বে গ্রেপ্তারের বিধান রয়েছে। অর্থ আদায়ের মোকদ্দমায় আদালত বিবাদীকে রায়ের পূর্বে আটকের আদেশ মঞ্জুর করতে পারেন।

♦ রায়ের পূর্বে আটকের আদেশ কোন স্থাবর সম্পত্তি বা ভূমি সংক্রান্ত মোকদ্দমায়, যেমন- বাটোয়ারা, নিষেধাজ্ঞার মামলা, ফোর ক্লোজার বা বন্ধকী সম্পত্তির জামানত ফেরত পাওয়ার মামলায় মঞ্জুর করা যায় না।
৫৬.
খুনের অপরাধের জন্য ক-এর বিচার করা হলো এবং খালাস দেওয়া হলো। তার বিরুদ্ধে দস্যুতার কোন অভিযোগ ছিল না। তবে ঘটনা হতে প্রতীয়মান হয় যে, খুনের সময় ক দস্যুতা করেছিল। এই ক্ষেত্রে ক এর-
  1. পরবর্তীতে বিচার করা যাবে।
  2. দোবারা সাজা নীতি প্রযোজ্য হওয়ায় দস্যুতার জন্য ক এর বিচার করা যাবে না।
  3. এই ক্ষেত্রে দোবারা সাজার নীতি প্রযোজ্য হবে না।
  4. ক এবং গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৪০৩ মতে আলোচ্য প্রশ্ন অনুযায়ী খুন এবং দস্যুতা দুইটি স্বতন্ত্র অপরাধ। যেহেতু ক-কে খুনের জন্য দণ্ডিত করা হয়েছিল তাই তাকে পুনরায় খুনের জন্য বিচার করা যাবে না। কিন্ত দস্যুতা অপর একটি অপরাধ যার জন্য ক-কে পূর্বে বিচার এবং দণ্ডিত করা হয় নি। তাই তাকে দস্যুতার জন্য পরবর্তীতে বিচার করা যাবে। এই ক্ষেত্রে  Principle of double jeopardy প্রযোজ্য হবে না।
৫৭.
The Code of Criminal Procedure, 1898-এর কোন ধারায় Power to issue directions of the nature of a habeas corpus বর্ণিত হয়েছে?
  1. ৪১৭ ক
  2. ৪৯১
  3. ৪০২
  4. ৪০৩
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯১ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগ হেবিয়াস কর্পাস প্রকৃতির নির্দেশ দিতে পারে।
ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৯১ ধারায় হাইকোর্ট বিভাগ direction of the nature of a habeas corpus ইস্যু করতে পারে। যখন কোন ব্যক্তিকে বেআইনীভাব আটক করা হয়, তখন বন্দী হাজির রিট [ writ of habeas corpus] পিটিশন দায়ের করা যায়। যে কোন ব্যক্তি বন্দী হাজির রিট দায়ের করতে পারবে। বন্দী হাজির অর্থ হলো বন্দীকে আদালতে হাজির করা।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯১ ধারার বিধানঃ (১) হাইকোর্ট বিভাগ যখনই উপযুক্ত মনে করেন, তখন নির্দেশ দিতে পারবেন যে,
ক) ইহার ফৌজদারী আপীল এখতিয়ারের সীমার মধ্যে অবস্থানকারী কোন ব্যক্তি সম্পর্কে আইনানুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে আদালতে হাজির করা হোক;
খ) উপরিউক্ত সীমার মধ্যে সরকারী বা বেসরকারী হেফাজতে বে-আইনীভাবে বা অযৌক্তিকভাবে আটক কোন ব্যক্তিকে মুক্তি দেয়া হোক;
গ) আদালতের বিবেচনাধীন বা অনুসন্ধানাধীন কোন বিষয়ে সাক্ষী হিসাবে জবানবন্দী দিবার জন্য উপরিউক্ত সীমার মধ্যে অবস্থিত কোন জেলে আটক কোন বন্দীকে আদালতে হাজির করা হোক;
ঘ) কোন কোর্ট মার্শাল বা কমিশনারের বিবেচনাধীন কোন বিষয় বিচারের জন্য বা সাক্ষী দিবার জন্য উক্তরূপে আটক কোন বন্দীকে উক্ত কোর্ট মার্শাল বা কমিশনারের নিকট হাজির করা হোক;
ঙ) উপরিউক্ত সীমার মধ্যে অবস্থানকারী কোন বন্দীকে বিচারের উদ্দেশ্যে এক হেফাজত হতে অন্য হেফাজতে অপসারণ করা হোক; এবং
চ) বাদ দেয়া হয়েছে।
(২) মামলার পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সুপ্রীমকোর্ট সময়ে সময়ে এই ধারার অধীন নিয়ম প্রণয়ন করতে পারবেন।
(৩) এই ধারার কোন বিধানই বর্তমান বলবৎ কোন নিবারণমূলক আটক আইনের অধীন আটক ব্যক্তিদের প্রতি প্রযোজ্য নহে।

অর্থাৎ ৪৯১ ধারামতে হাইকোর্ট বিভাগ নিম্নলিখিত হেবিয়াস কর্পাস প্রকৃতির আদেশ প্রদান করতে পারে, যথা
i) আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কোন ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করতে।
ii) বেআইনী বা অযৌক্তিকভাবে সরকারি বা বেসরকারী হেফাজতে আটক ব্যক্তির মুক্তিত
iii) জেলখানা বা কারাগারে আটক কোন ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দী দেয়ার জন্য আদালতে হাজির করতে
iv) কোন কোর্ট মার্শাল বা কমিশনারের নিকট বিচার বা সাক্ষাৎ দেয়ার জন্য হাজির;
v) এক হেফাজত হতে অন্য হেফাজতে বিচারের জন্য কোন বন্দিকে স্থানান্তর।

DIRECTIONS OF THE NATURE OF A Habeas Corpus
Section 491. Power to issue directions of the nature of a habeas corpus
(1) The High Court Division may, whenever it thinks fit, direct:-
(a) that a person within the limits of its appellate criminal jurisdiction be brought up before the Court to be dealt with according to law;
(b) that a person illegally or improperly detained in public or private custody with such limits be set at liberty;
(c) that a prisoner detained in any jail situate within such limits be brought before the Court to be there examined as a witness in any matter pending or to be inquired into in such Court;
(d) that a prisoner detained as aforesaid be brought before a Court-martial or any Commissioners for trial or to be examined touching any matter pending before such Court-martial or Commissioners respectively;
(e) that a prisoner within such limits be removed from one custody to another for the purpose of trial ; and
(2) The [Supreme Court] may, from time to time, frame rules to regulate the procedure in cases under this section.
(3) Nothing in this section applies to persons detained under any law for the time being in force providing for preventive detention.
৫৮.
মাহি, মাহবুব এর বৈধসন্তান কী না, এই প্রশ্নে কোনটি প্রাসঙ্গিক?
  1. আইনজীবীর অভিমত
  2. বন্ধুদের অভিমত
  3. পরিবারের সদস্যদের বিবেচনা
  4. মাহির শিক্ষকের অভিমত
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ ধারা৫০ (আত্মীয়তা সম্পর্কে অভিমত যখন প্রাসঙ্গিক) অনুযায়ী- যখন এক ব্যক্তির সাথে অপর এক ব্যক্তির সম্পর্কের ব্যাপারে আদালতকে অভিমত গ্রহণ করতে হয়, তখন পরিবারের সদস্য হিসাবে অথবা অন্যভাবে এই ব্যাপারে যার জ্ঞান লাভের বিশেষ সুযোগ আছে উক্ত সস্পর্কের অস্তিত্ব সম্পর্কে তার আচরণের মাধ্যেমে যে অভিমত ব্যক্ত হয়, তা প্রাসঙ্গিক বিষয়
৫৯.
'ক' এমন একটি রোগে ভুগছে যে, এক আঘাতেই তার মৃত্যু হবার সম্ভাবনা আছে । 'খ' এই কথা না জেনে 'ক'-কে দৈহিক জখম করার অভিপ্রায়ে এমন আঘাত করে যা একজন সুস্থ ব্যক্তির মৃত্যু ঘটাতে পারে না উক্ত আঘাতের ফলে ‘ক’ মার যায়। ‘খ’ এর অপরাধ কী?
  1. হত্যা
  2. খুন
  3. নিন্দনীয় নরহত্যা
  4. নরহত্যা
ব্যাখ্যা
 'খ' জানতো না যে, ক এমন একটি রোগে ভুগছে যে, এক আঘাতেই তার মৃত্যু হবার সম্ভাবনা আছে, কিন্তু খ ক-কে এমন আঘাত করেছে যা একজন সুস্থ ব্যক্তির মৃত্যু ঘটাতে পারে না। খ এর এই কাজটি হত্যা হবে না কারন খ হত্যার উদ্দশ্য নিয়ে ক কে আঘাত করে নি। তাই খ এর কাজটি নিন্দনীয় নরহত্যা বলে গণ্য হবে।
 
♦ 'খ' নিন্দনীয় নরহত্যার দায়ে অভিযুক্ত হবে।
৬০.
যখন কোন ব্যক্তি বাংলাদেশে নিবন্ধিত কোন জাহাজ বা বিমানে (তা যেখানেই থাকুক না কেন) কোন অপরাধ সংঘটন করে তার বিচার হতে পারে-
  1. হাইকোর্ট বিভাগে
  2. তাকে বাংলাদেশে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানের এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে
  3. দায়রা জজ আদালতে
  4. জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৮৮ অনুসারে যখন কোন ব্যক্তি বাংলাদেশে নিবন্ধিত কোন জাহাজ বা বিমানে (তা যেখানে থাকুক না কেন) কোন অপরাধ সংঘটন করে, তখন বাংলাদেশের যে স্থানেই তাকে পাওয়া যাবে সেই স্থানে অপরাধ সংগঠন করেছে হিসাবে ধরে নিয়ে সেই মোতাবেক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 
৬১.
Judicial Notice প্রমাণের প্রয়োজন হয় না সাক্ষ্য আইনের কোন ধারা মোতাবেক?
  1. ৫৫
  2. ৫৬
  3. ৫৭
  4. ৫৮
ব্যাখ্যা
♦সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ৫৬ অনুসারে- কিছু বিষয় আদালত প্রমাণিত বিবেচনা করেন এগুলো প্রমাণের প্রয়োজন নেই, এই বিষয়গুলিকে বিচারিক অবগতি বা Judicial Notice বলে।

♦অর্থাৎ আদালত যে ঘটনা বিচারিক অবগতিতে নিবেন তা প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই।
৬২.
প্লিডিংসে শুধুমাত্র ঘটনা [facts] উল্লেখ করতে হবে, সাক্ষ্য [ evidence] উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। দেওয়ানি কার্যবিধির কত আদেশের কত বিধিতে উল্লেখ আছে?
  1. আদেশ ৬ এর বিধি ১
  2. আদেশ ৬ এর বিধি ২
  3. আদেশ ৬ এর বিধি ৩
  4. আদেশ ৬ এর বিধি ৪
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৬, বিধি ২ মতে প্লিডিংসে শুধুমাত্র ঘটনা [Material Facts] উল্লেখকরতে হবে, আইন [Law] বা সাক্ষ্য [evidence] উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। প্লিডিংসে শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাদি [Material Facts] উল্লেখ থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাদি [Material Facts] যার উপর ভিত্তি করে আবেদনকারী বা দরখাস্তকারী তার দাবী উত্থাপন করে বা আত্মপক্ষ সমর্থন করে, সে সব তথ্য প্লিডিংসে (আরজি বা লিখিত জবাবে) উল্লেখ করতে হবে। যেমন মোকদ্দমার কারণ।
৬৩.
'ক'  কতিপয় সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখলে আছে। 'খ' দাবী করে যে 'খ' উক্ত সম্পত্তির মালিক এবং এই কারণে 'ক' উক্ত সম্পত্তি খ-কে অর্পণ করা আবশ্যক । এই ক্ষেত্রে 'ক' এর নিম্নলিখিত কোন প্রতিকারটি সঠিক?
  1. ঘোষণামূলক মামলা দায়ের
  2. দখল উদ্ধারের মামলা
  3. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা
  4. চুক্তি বলব এর মামলা
ব্যাখ্যা
♦ 'খ'  দাবী করছে যে সে উক্ত সম্পত্তির মালিক তাই এখানে 'খ' সম্পত্তিতে 'ক' এর মালিকানা অস্বীকার করছে। এই ক্ষেত্রে 'ক' যে উক্ত সম্পত্তির মালিক এমন ঘোষণা চেয়ে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে। এই ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করলে হবে কারণ বাদী ক সম্পত্তির দখলে আছে।

♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক বিধান রয়েছে । কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মামলা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মামলা বা Declaratory Suit বা Suit for Declaration বলে। ~

♦ সুতরাং শুধুমাত্র ২টি ক্ষেত্রে অর্থাৎ আইনগত পরিচয় সম্পত্তিতে স্বত্বের ক্ষেত্রে আইনগত পরিচয় কিংবা কোন সম্পত্তির স্বত্ত্বের অধিকারী কোন ব্যক্তি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে পারে। ঘোষণামূলক মামলায় আদালত ঘোষণা মঞ্জুর করে যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি বা Declaratory Decree বলে।
♦ অর্থাৎ ৪২ ধারায় আদালত যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি (Declaratory Decree ) বলে।
৬৪.
ক জানে যে খ, ম -কে হত্যা করেছে। ক, খ,-কে শাস্তি হতে বাঁচাতে মৃত লাশটি গুম করতে খ কে সহায়তা করেছে। ক এর শাস্তি হতে পারে-
  1. ৭ বৎসর পর্যন্ত যেকোন বর্ণনার কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  2. ১২ বৎসর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা
  3. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  4. মৃত্যুদন্ড
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ধারা ২০১ অনুযায়ী- যেহেতু সংঘটিত অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ এবং খ, কে শাস্তি থেকে বাঁচানোর জন্য ক মৃত দেহটি গোপন করতে খ কে সহায়তা করেছে, তাই ক, ২০১ ধারায় সাক্ষ্য অদৃশ্য করে ফেলার জন্য ৭ বছর পর্যন্ত যেকোন বর্ণনার কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
৬৫.
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৩৪২ এর কার্যক্রমে অভিযুক্তের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়-
  1. চার্জশীটের প্রতি
  2. নির্ধারিত সাজার প্রতি
  3. গঠিত চার্জের প্রতি
  4. প্রাপ্ত সাক্ষ্যের প্রতি
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারার উদ্দেশ্য হলো আসামীর সাক্ষ্য গ্রহণ। আসামীর বিরুদ্ধে যে সকল সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে, আসামী ঐ সকল সাক্ষ্য সম্পর্কে নিজের আবস্থান ব্যাখ্যা করবে। এই ক্ষেত্রে আদালতের গুরুতূপূর্ণ দায়িত্ব হলো সাক্ষ্যে আসামীর বিরুদ্ধে যে সকল বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে সে বিষয় গুলোর প্রতি আসামীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা যেন আসামী সেই সকল বিষয় সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে
৬৬.
নিচের কোনটি প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য?
  1. সাক্ষী যে বিষয়ে সাক্ষ্য দেয় তা সে দেখেনি।
  2. সাক্ষী যে বিষয়ে সাক্ষ্য দেয় তা সে শোনেনি।
  3. সাক্ষী যে বিষয়ে সাক্ষ্য দেয় তা সে নিজে বিশ্বস্ত মাধ্যম মারফত জানতে পেরেছে।
  4. কোনটিই নয়।
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইন, ধারা ৬০ অনুযায়ী- মৌখিক সাক্ষ্য অবশ্যই প্রত্যক্ষ হতে হবে অর্থাৎ সাক্ষী যে বিষয়ে সাক্ষ্য দেয় তা সে নিজে প্রত্যক্ষভাবে দেখতে হবে বা শুনতে হবে বা উপলব্ধি করতে হবে। অন্যের মারফত শোনা ঘটনা এক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হবে না।
৬৭.
হাইকোট বিভাগ কোন মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল করে কোন আদেশ দিলে বা অন্য কোন আদেশ দিলে, উক্ত আদেশের কপি (নকল) পাঠাতে হবে-
  1. জেলা জজের নিকট
  2. জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট
  3. দায়রা জজের নিকট
  4. কারা কর্তৃপক্ষের নিকট
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ধারা ৩৭৯ ধারা মতে হাইকোট বিভাগের নিকট কোন মৃত্যুদণ্ডের আদেশ অনুমোদনের জন্য মামলার কার্যক্রম ৩৭৪ ধারায় দাখিল করা হলে, হাইকোর্ট বিভাগ উক্ত বিষয়ে ৩৭৬ ধারায় মৃত্যুদণ্ডের অনুমোদন/ অন্য কোন আদেশ দিলে, হাইকোর্ট বিভাগের কর্মকর্তা উক্ত আদেশের কপি কোন বিলম্ব ছাড়া দায়রা আদালতের নিকট পাঠাবে।
৬৮.
আপোষ মূলক ডিক্রির বিরুদ্ধে প্রতিকার পাওয়া যায়-
  1. আপীলে
  2. রিভিউ-এ।
  3. রিভিশনে
  4. রেফারেন্সে
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ৯৬ (৩) ধারায় বলা হয়েছে, আদালত পক্ষদ্বয়ের সম্মতিতে আপোষমূলক বা সোলে ডিক্রি [Compromise Decree] দিলে তার বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে না।
♦ অন্যদিকে ১১৫ ধারায় বলা হয়েছে মূল মোকদ্দমায় বা আপীলে প্রদত্ত যে সকল আদেশ বা ডিক্রির বিরুদ্ধে আপীল করা যায় না, সেই সকল ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করা যায়। যেহেতু আপোষমূলক ডিক্রির বিরুদ্ধে আপীল দায়ের করা যায় না তাই এর বিরুদ্ধে ১১৫ ধারায় রিভিশন দায়ের করা যায় ।
৬৯.
আসামীর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন কালে আসামী দোষ স্বীকার (Guilty plead) করায় আদালত আসামীকে দণ্ড প্রদান করলে আসামী-
  1. দন্ডের বিরুদ্ধে আপিল চলবে
  2. দন্ডের বিরুদ্ধে আপিল চলবে না
  3. দন্ডের পরিমাণ বা দণ্ডের বৈধতা বা যৌক্তিকতা বিষয়ে আপিল করতে পারবে।
  4. খ এবং গ উভয়
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮, এর ধারা ৪১২ মতে 

♦Guilty plead অর্থ হলো অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করা। আসামী অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করলে এবং ম্যাজিস্ট্রেট তাকে দণ্ড দিলে সেই দন্ডাদেশের বিরুদ্ধ আপিল চলে না।

♦ Guilty plead বা অভিযোগের সত্যতা স্বীকারের উপরের ভিত্তি করে আসামীকে দণ্ড দেওয়া হলে আসামী উক্ত দন্ডের পরিমাণ এবং বৈধতা বা যৌক্তিকতা বিষয়ে আপিল করতে পারে এবং এমন আপিল চলবে। 
৭০.
সাক্ষ্য আইনের নিচের কোন ধারায় Best Evidence নীতির উল্লেখ রয়েছে?
  1. ৬২
  2. ৬৪
  3. ৬৬
  4. ৬৮
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের নিচের ৬৪ ধারায় (প্রাথমিক সাক্ষ্য দ্বারা দলিল প্রমাণ)  Best Evidence নীতির উল্লেখ রয়েছে। কোন বিষয় প্রাথমিক সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণিত হলে সেখানে মাধ্যমিক সাক্ষ্যের কোন গুরুত্ব থাকে না, সুতরাং প্রাথমিক সাক্ষ্য হলো সর্বোত্তম সাক্ষ্য বা Best Evidence।
৭১.
The Code of Criminal Procedure, 1898-এর ২৪৮ ধারা অনুসারে Complaint প্রত্যাহৃত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি-
  1. মুক্তি পাবে।
  2. অব্যাহতি পাবে।
  3. খালাস পাবে।
  4. ডিসচার্জ পাবে।
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ২৪৮ আনুযায় কোন মামলার চূড়ান্ত আদেশ হবার পূর্বে ফরিয়াদী যদি ম্যাজিষ্ট্রেটকে সম্ভষ্ট করতে পারেন যে, তাকে অভিযোগটি প্রত্যাহারের অনুমতি দেয়ার পর্যাপ্ত কারণ রয়েছে, তাহলে ম্যাজিষ্ট্রেট তাকে তা প্রত্যাহারের অনুমতি দিবেন এবং অতঃপর আসামীকে খালাস দিবেন।
৭২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারায় আদালত কয়টি ক্ষেত্রে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে?
  1. ২ টি
  2. ৩ টি
  3. ৪ টি
  4. ৫ টি
ব্যাখ্যা
♦ সম্পত্তি ভোগদখলের হুমকি প্রতিরোধ করতে আদালত সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারার তৃতীয় অংশ অনুসারে ৫টি ক্ষেত্রে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে। যথা-

১। যেখানে বিবাদী বাদীর জন্য সম্পত্তির জিম্মাদার।
২। যেখানে অধিকার লঙ্ঘনের কারণে সংঘটিত বাস্তব সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণের কোন মানদণ্ড নেই।
৩। যেখানে অধিকার লঙ্ঘন এমন ধরনের যে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত অধিকার পাওয়া যাবে না।
৪। যেখানে এমন সম্ভাবনা থাকে যে অধিকার লঙ্ঘনের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না।
৫। যেখানে বিচার বিভাগীয় কার্যধারায় জটিলতা নিবারণের জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজনীয়।
৭৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় আদালতকে মামলা শুনানীর যেকোন পর্যায়ে সাক্ষীকে তলব করার ক্ষমতা দেওয়া আছে?
  1. ৫৩৭
  2. ৫৪০
  3. ৫৪৩
  4. ৫৪৫
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৫৪০ মতে কোন অনুসন্ধান, বিচার বা অন্য কার্য ধারার কোন পর্যায়ে কোন আদালত যেকোন ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসাবে সমন করতে পারবেন বা সাক্ষী হিসাবে সমন করা না হলে উপস্থিত যেকোন ব্যক্তির জবানবন্দী গ্রহণ করতে পারবেন, বা ইতোমধ্যে যার জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়েছে তাকে পুনরায় তলব করে পুনরায় জবান বন্দী গ্রহণ করতে পারবেন এবং এরূপ কোন ব্যক্তির সাক্ষ্য আদালতের ন্যায় বিচারের জন্য অত্যাবশ্যক বলে প্রতীয়মান হলে আদালত তাকে সমন করে তার জবানবন্দী গ্রহণ করবেন।
৭৪.
নিষেধাজ্ঞা বা আদেশ দেওয়ার কারণে মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকলে সেই সময় তামাদির মেয়াদ থেকে……….
  1. যোগ হবে
  2. বাদ যাবে
  3. কিছুই হবে না
  4. মামলা খারিজ হবে
ব্যাখ্যা
♦ তামাদির আইনের ১৫ ধারা অনুযায়ী আদালতের কোন নিষেধাজ্ঞার কারণে কোন মামলা বা ডিক্রি জারির  জন্য আবেদন করা না গেলে, সেই ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা কালীন সময় মামলা বা ডিক্রি জারির আবেদনের তামাদি সময় বাদ যাবে
৭৫.
আদালত ৮ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগ গঠন করে। কিন্তু মামলার শুনানী শেষে আদালত ৪ জনকে খালাস প্রদান করে। এই ক্ষেত্রে আদালত বাকী ৪ জনকে-
  1. ডাকাতির জন্য দণ্ডিত করতে পারে
  2. দস্যুতার জন্য দণ্ডিত করতে পারে
  3. ডাকাতি বা দস্যুতা উভয়ের জন্য দণ্ডিত করতে পারে
  4. চুরির জন্য দণ্ডিত করতে পারে
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধিরধারা ৩৯০ মতে- ডাকাতির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৫ জনকে দণ্ডিত করতে হয়। যেহেতু ৪ জন দোষী প্রমাণিত হয়েছে। তাই আদালত তাদেরকে ডাকাতির জন্য দণ্ডিত করতে পারে না কিন্তু দস্যুতার জন্য দণ্ডিত পারে।
৭৬.
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ অনুসারে নিম্নের কোন ব্যক্তি জামিন অযোগ্য অপরাধ করেও জামিন পেতে পারেন-
  1. স্ত্রীলোক
  2. ১৬ বছরের কম বয়সের ব্যক্তি
  3. অক্ষম বা পীড়িত ব্যক্তি
  4. সবকটি
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ৪৯৭ ধারা অনুসারে স্ত্রীলোক, ১৬ বছরের কম বয়সের ব্যক্তি, অক্ষর বা পীড়িত ব্যক্তি জামিন অযোগ্য অপরাধ করেও জামিন পেতে পারেন
৭৭.
কবির এই মর্মে আদালতে রায় কামনা করে যে, ফারুক এর দখলভূক্ত কোন একটি জমি সে পাওয়ার অধিকারী। সে এর সমর্থনে কতগুলি বিষয়ের অস্তিত্ব দাবি করে এবং ফারুক এই সকল বিষয়ের অস্তিত্ব অস্বীকার করে। এক্ষেত্রে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. উক্ত সকল বিষয়ের অস্তিত্ব অবশ্যই কবিরকে প্রমাণ করতে হবে।
  2. উক্ত সকল বিষয়ের অস্তিত্ব অবশ্যই ফারুককে প্রমাণ করতে হবে।
  3. উক্ত সকল বিষয়ের অস্তিত্ব অবশ্যই পুলিশকে প্রমাণ করতে হবে।
  4. উক্ত সকল বিষয়ের অস্তিত্ব অবশ্যই ফারুকের আইনজীবীকে প্রমাণ করতে হবে।
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১০১ অনুযায়ী- যিনি কোন বিষয়ের অস্তিত্বের দাবি করে এর উপর নির্ভরশীল কোন আইনগত অধিকার বা দায় সম্পর্কে আদালতের রায় কামনা করেন, তিনি সেই বিষয়ের অস্তিত্ব অবশ্যই প্রমাণ করবেন
৭৮.
রাষ্ট্রদ্রোহিতা অপরাধের শাস্তি কী?
  1. ৩ বছর মেয়াদী কারাদণ্ডের সাথে অর্থদণ্ড
  2. মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ড
  3. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ বছরের জেল
  4. যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাথে অর্থদণ্ড বা ৩ বছর মেয়াদী কারাদণ্ডের সাথে অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ১২৪ক তে বলা হয়েছে- রাষ্ট্রদ্রোহীতার শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাথে অর্থদণ্ড বা ৩ বছর মেয়াদী কারাদণ্ডের সাথে অর্থদণ্ড।
৭৯.
পূর্ববর্তী দণ্ড সম্পর্কে চার্জে উল্লেখ করা প্রয়োজন হলে তা যদি উল্লেখ করা না হয়, তাহলে উক্ত পূর্ববর্তী দণ্ড সম্পর্কে কোন বক্তব্য চার্জে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে-
  1. আদালতের নিজের ইচ্ছায়
  2. ফরিয়াদীর আবেদন অনুসারে
  3. রাষ্ট্র পক্ষের প্রসিকিউটরের আবেদনে
  4. সবকটি
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ২২১(৭) মতে আসামী পূর্বে কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত হওয়ার পরে পরবর্তী অপরাধের ক্ষেত্রে বর্ধিত দণ্ডে বা ভিন্ন প্রকৃতির দণ্ডে দন্ডনীয় হলে এবং পরবর্তী অপরাধের দণ্ড বৃদ্ধি বা প্রকৃতি পরিবর্তনের জন্য পূর্ববর্তী দণ্ড প্রমাণ করার প্রয়োজন হলে পরবর্তী অভিযোগে পূর্ববর্তী দণ্ডের ঘটনা, তারিখ ও স্থান উল্লেখ করতে হবে। এরূপ উল্লেখ করা না হয়ে থাকলে আদালত দণ্ডদানের পূর্বে যে কোন সময় তা যোগ করতে পারবেন।
৮০.
মামলা বাদী / বিবাদীর নতুন পক্ষভুক্ত করার ফলাফল বিষয়ে তামাদি আইনের কোন ধারায় বলা আছে?
  1. ২০ ধারায়
  2. ২১ ধারায়
  3. ২২ ধারায়
  4. ২৩ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের ২২ ধারা মতে নতুন বাদী/ বিবাদী মামলা পক্ষভুক্ত হলে তার জন্য সেই দিন থেকে মামলা করা হয়েছে বলে গণ্য হবে।
♦ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৭৬ অনুযায়ী মৃত বাদীর আইনগত প্রতিনিধি পক্ষভুক্ত করার তামাদির মেয়াদ ৯০ দিন।
৮১.
সাক্ষ্য আইনের ধারাসমূহের মধ্যে সাক্ষ্য এবং সাক্ষীর ক্রম কোনটি?
  1. যথাক্রমে ১৩৮ ও ১৩৫
  2. যথাক্রমে ১৩৭ ও ১৩৫
  3. যথাক্রমে ১৩৮ ও ১৩৬
  4. যথাক্রমে ১৩৭ ও ১৩৪
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ধারা সমূহের মধ্যে ১৩৫ ধারায় সাক্ষীর ক্রম ও ১৩৮ ধারায় সাক্ষ্যের ক্রম সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
৮২.
‘ক’ অজ্ঞাত মালিকের একটি সোনার আংটি পায়। মালিককে খুঁজে বের করার চেষ্টা না করেই ‘ক’ তা বিক্রি করে। 'ক' যে অপরাধ দোষী হবে?
  1. চুরি
  2. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ
  3. অসাধুভাবে আত্মসাৎ
  4. দস্যুতা
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ধারা ৪০৩ মতে- এখানে 'ক’ আংটি ঘটনাক্রমে পেয়েছে। 'ক'সেটার মালিককে আবিষ্কার না করে আংটি বিক্রয় করেছে অর্থাৎ সে অসাধুভাবে আংটিটি নিজ ব্যবহারে পরিণত করেছে। তাই 'ক' অসাধুভাবে আংটিটি আত্মসাৎ করেছে বলে গণ্য হবে। ‘ক’ 'অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের জন্য দোষী হতো যদি সে আংটি অন্যকোন ব্যক্তির নিকট হতে বিশ্বাসভরে গ্রহণ করতো এবং উক্ত ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া বিক্রি করে দিতো।
৮৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারা মতে আদালত মানহানিকর আলামত ধ্বংস করার আদেশ দিতে পারে?
  1. ৫১৭ ধারায়
  2. ৫১৯ ধারায়
  3. ৫২১ ধারায়
  4. ৫২৩ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২১ ধারায় আসামীকে দণ্ড প্রদানের পর আদালত তার হেফাজতে থাকা মানহানিকর সকল কপি এবং খাদ্য, পানীয় ঔষধ বা ঔষধ জাতীয় মিশ্রণ ধ্বংস করে ফেলার আাদেশ দিতে পারেন।
♦ ধারা ৫২১ মানহানিকর অন্যান্য জিনিস ধ্বংসকরণঃ 
♦ ধারাঃ ৫২১ (১) দণ্ডবিধির ২৯২, ২৯৩, ৫০১ বা ৫০২ ধারার অধীন দণ্ডদানের পর যে জিনিস বা সম্পর্কে দণ্ড দেয়া হলে এবং যা আদালতের হেফাজতে বা দণ্ডিত ব্যক্তির দখলে বা ক্ষমতাধীন রয়েছে আদালত তার সমস্ত কপি ধ্বংস করার আদেশ দিতে পারবেন।
♦ ধারাঃ ৫২১ (২) আদালত অনুরূপভাবে দণ্ডবিধির ২৭২, ২৭৩, ২৭৪ বা ২৭৫ ধারার অধীন দণ্ডদানের পর যে খাদ্য পানীয় ঔষধ বা ঔষধ জাতীয় মিশ্রণ সম্পর্কে দণ্ড দেয়া হলো তা ধ্বংস করার আদেশ দিতে পারবেন।
৮৪.
‘ক' ' খ ' কে খুন করার জন্য ‘গ’ -কে প্ররোচিত করে । গ কাজটি করতে অস্বীকার করে। এই ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত কোন বক্তব্যটি সত্য?
  1. যেহেতু খুন সংঘটিত হয়নি, তাই ক প্ররোচনার এর জন্য দোষী হবে না
  2. ক এবং খ উভয় অপরাধজনক ষড়যন্ত্রের জন্য দায়ী হবে
  3. যদিও গ কাজটি অস্বীকার করেছে, তবুও ক প্ররোচনার জন্য দায়ী হবে
  4. ক এবং গ এর সমান শাস্তি হবে
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ ধারা ১০৮, ব্যাখ্যা ২ অনুযায়ী,  যে অপরাধটি সংঘটনের জন্য প্ররোচনা করা হয়েছে তা না হলেও প্ররোচিত করার জন্য প্ররোচনাকারী [Abettor ] দোষী সাব্যস্ত হবে।
♦ তাই গ কাজটি করতে অস্বীকার করলেও ক খুন করার প্ররোচনার জন্য শাস্তি পাবে। যেহেতু গ কাজটি করেনি, তাই সে দায়ী হবে না।
৮৫.
ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন কখন করা যায়?
  1. জবানবন্দি নেয়ার সময়।
  2. পুন:পরীক্ষা করার সময়।
  3. জেরা করার সময়।
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৪১ অনুযায়ী প্রশ্নকারী প্রশ্নের যে উত্তর আশা করেন, প্রশ্নের মধ্যেই তার ইঙ্গিত দেওয়া হলে তাকে ইঙ্গিত বাহী প্রশ্ন বলে।

♦ সাক্ষ্য আইনের ১৪৩ ধারা মোতাবেক জেরাতে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যাবে
৮৬.
'ক' 'খ' এর বিরুদ্ধে দুইটি জমি বিক্রয়ের বায়নাপত্র সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের জন্য ঢাকা যুগ্ম জেলা জজের নিকট মোকদ্দমা দায়ের করে। জমি একটি অংশ নারায়ণগঞ্জে এবং অপর অংশ ঢাকাতে অবস্থিত। 'খ' যদি মোকদ্দমাটি স্থানান্তর করতে চায়, তাহলে 'খ' এর উকিল হিসেবে, আপনি কোথায় মোকদ্দমা স্থানান্তরের আবেদন করবেন?
  1. ঢাকা জেলা জজের নিকট
  2. নারায়ণগঞ্জ জেলা জজের নিকট
  3. হাইকোর্ট ডিভিশনে
  4. ঢাকা যুগ্ম জেলা জজের নিকট
ব্যাখ্যা

♦ দেওয়ানী মামলা বা আপিল স্থানান্তর ও প্রত্যাহার- যে কোন সময় হাইকোর্ট বিভাগ বা জেলা জজ আদালত অধঃস্তন আদালতের কোন মোকদ্দমা, আপিল বা অপর কোন কার্যক্রম স্থানান্তর বা প্রত্যাহার করতে পারেন। দেওয়ানী কার্যবিধির ২২, ২৩ ও ২৪ ধারা এবং The Civil Courts Act, 1887 এর ২২ ধারায় দেওয়ানি মোকদ্দমা ও আপিল স্থানান্তরের বিধান রয়েছে।

♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ২২ ও ২৪ ধারা অনুযায়ী মামলা স্থানান্তরের আবেদন করা যায়। দেওয়ানী কার্যবিধির ২২ ধারা অনুযায়ী শুধুমাত্র বিবাদী মামলা স্থানান্তরের আবেদন করতে পারে যখন কোন মোকদ্দমা দুই বা ততোধিক আদালতে দায়েরযোগ্য বা বিচারযোগ্য। কিন্তু ২৪ ধারার আওতায় মোকদ্দমার যে কোন পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে অথবা আদালত স্বতঃ প্রবৃত্ত হয়ে নিজে (own motion) কোন মামলা বা আপিল স্থানান্তর করতে পারে।

♦সুতরাং বিবাদী হলে ২২ ধারা, অন্যদিকে মামলার যে কোন পক্ষ অথবা আদালত নিজে হলে ২৪ ধারা প্রযোজ্য হবে।

♦ যেহেতু জমির দুইটি অংশ দুইটি জেলায় অবস্থিত তাই যে কোন একটি জেলার দেওয়ানী আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা যাবে। যেহেতু বাদী 'ক' ঢাকাতে মোকদ্দমা দায়ের করেছে এবং ‘খ’ মোকদ্দমাটি স্থানান্তর করে নারায়ণগঞ্জের দেওয়ানী আদালতে নিতে চাই, তাহলে আমাকে হাইকোর্টে আবেদন করতে হবে।