পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (সাহিত্য)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (সাহিত্য)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes১৫ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন১৬
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১: টপিক: বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাজন, প্রাচীন যুগ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা, মধ্যযুগ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা, আধুনিক যুগ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা এবং চর্যাপদের ইতিহাস, চর্যাপদের পদকর্তার সংখ্যা, চর্যাপদের ভাষা, চর্যাপদের ছন্দ [লাইভ ক্লাস ⎯ ১ ও ২]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (সাহিত্য)

বাংলাবিদ (সাহিত্য) · তারিখ অনির্ধারিত · ১৬ প্রশ্ন

.
চর্যাপদ কী?
  1. দেবী বন্দনা
  2. উপন্যাস সমগ্র
  3. গানের সংকলন
  4. প্রবন্ধ সংকলন
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
.
প্রাক-চৈতন্য যুগের সময়কাল কত?
  1. ১২০০–১৫০০ খ্রি.
  2. ১২০৩–১৫০০ খ্রি.
  3. ১১০০–১৫০০ খ্রি.
  4. ১১৫০–১৫৫০ খ্রি.
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের বিস্তার চার শতাব্দী ধরে।
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে তিনটি ভাগ যথাক্রমে:
- ১২০১-১৫০০ – প্রাকচৈতন্য যুগ;
- ১৫০১-১৬০০ চৈতন্য যুগ;
- ১৬০১-১৮০০ চৈতন্য পরবর্তী যুগ।

• মধ্যযুগের সাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের বিস্তার ছয় শতাব্দী ধরে।
- চৈতন্যদেবকে (জন্য ১৪৮৬ খ্রি.) মাঝখানে রেখে এই যুগকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়-
প্রাক-চৈতন্য যুগ (১২০৩-১৫০০ খ্রি.) এবং
উত্তর-চৈতন্য যুগ (১৫০০-১৭৬০ খ্রি.)।

প্রাক চৈতন্য যুগ: ১২০৩-১৫০০ খ্রি. উত্তর করতে পারেন। যদি অপশনে ১২০১-১৫০০ থাকতো তবে তা উত্তর করতে হতো।

• প্রাক-চৈতন্য যুগে রচিত কাব্য
- কৃত্তিবাসি এর 'রামায়ণ',
- বড়চন্ডীদাসের 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন',
- মালাধর বসুর 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়',
- বিদ্যাপতি চণ্ডীদাসের বৈষ্ণব পদাবলি এবং
- তিনটি আদি 'মনসামঙ্গলকাব্য'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
.
চর্যার প্রাপ্ত পুঁথিতে মোট কয়টি গান ছিল?
  1. ৫০
  2. ৫১
  3. ৪৬
  4. ৪২
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা
প্রশ্নে ভাষাগত ত্রুটি থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হলো।
-----------------
চর্যাপদের কয়েকটি পাতা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সাড়ে ৪৬ টি পদ আবিষ্কৃত হয়েছে। অর্থাৎ, চর্যাপদে প্রাপ্ত পদের সংখ্যা সাড়ে ৪৬ টি। ২৩ এর অর্ধেক পাওয়া গেছে; আর ২৪,২৫ ও ৪৮ সংখ্যক পদ পাওয়া যায়নি। সুকুমার সেনের মতে চর্যাপদের মোট পদসংখ্যা (গান সংখ্যা) ৫১ টি। কিন্তু শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের পদসংখ্যা ৫০ টি। 

• চর্যাপদের পুঁথি:
- চর্যার প্রাপ্ত পুঁথিতে একান্নটি গান ছিল।
- তার মধ্যে একটি (১১ সংখ্যক) পদ টীকাকার কর্তৃক ব্যাখ্যা হয় নি।
- আবার পুঁথির কয়েকটি পাতা নষ্ট হওয়ায় তিনটি সম্পূর্ণ (২৪, ২৫ ও ৪৮ সংখ্যক) পদ এবং একটি (২৩ সংখ্যক) পদের শেষাংশ পাওয়া যায় নি।
- তাই পুঁথিতে সর্বসমেত্ব সাড়ে ছেচল্লিশটি পদ পাওয়া গেছে।
- চর্যাপদের প্রাপ্ত পুঁথিটির লিপিকাল বার বা চৌদ্দ থেকে ষোল শতকের মধ্যে বলে অনুমান করা হয়।
- তবে ১১৯৯ সালে লিপিকৃত 'পঞ্চাকার' নামের পুঁথির লিপির সঙ্গে চর্যাপদের লিপির সাদৃশ্য বিবেচনা করে কেউ কেউ এর লিপিকাল বার শতক বলে মনে করেন।
- চর্যার পুঁথিটি বাংলা অক্ষরে লিপিকৃত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুল আলম।
.
‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’ - এর প্রথম কবি কে?
  1. শবরপা
  2. ভুসুকুপা
  3. ডোম্বীপা
  4. লুইপা
ব্যাখ্যা
‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’ - এর প্রথম কবি হচ্ছে লুইপা।

• চর্যার কবি লুইপা:
- লুইপা প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের একজন কবি।
- 'লুইপা' রচিত চর্যার পদ সংখ্যা দুইটি। লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন।
- মুহাম্মদ শহীদুল্লার অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত - ছিলেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, লুইপা রাঢ় অঞ্চলের লোক।
- 'চয্যাচর্যবিনিশ্চয়'- এর প্রথম কবি লুইপা। তিব্বতি ঐতিহ্যে প্রাপ্ত চুরাশি জন সিদ্ধাচার্যের নামের তালিকায় লুইয়ের নাম আদিতম। 
- সে সময় ছিল রাজা ধর্মপালের রাজত্বকাল।

লুইপা রচিত চর্যাপদের প্রথম পদ-
'কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।'

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং
২। বাংলাপিডিয়া।
.
কোন সাহিত্যকর্মটি ‘রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান’ নয়?
  1. পদ্মাবতী
  2. গুলে বকাওলী
  3. মধুমালতী
  4. মেঘনাদবধ কাব্য
ব্যাখ্যা
মেঘনাদবধ কাব্য একটি সাহিত্যিক মহাকাব্য।
- এটি বাঙালি কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত লিখেছেন।

• রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:
- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

• এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন-
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর, প্রমুখ।

• 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী,
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী, ইত্যাদি।

উৎস:
১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩। বাংলাপিডিয়া।
.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে চর্যাপদের ভাষা কেমন?
  1. সরল ও বোধগম্য
  2. পূর্ণরূপে অন্ধকার
  3. আলো আঁধারি ভাষা
  4. সর্বজনবোধ্য ভাষা
ব্যাখ্যা
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে চর্যাপদের ভাষা আলো আঁধারি ভাষা যা সন্ধ্যাভাষা বলে।

• সন্ধ্যাভাষা:
- চর্যাপদের ভাষাকে কেউ কেউ সন্ধ্যাভাষা বা সন্ধাভাষা বলেছেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এ ভাষা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, 'আলো আঁধারি ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না। যাঁহারা সাধন-ভজন করেন, তাঁহারাই সে কথা বুঝিবেন, আমাদের বুঝিয়া কাজ নাই।' - এ কারণে চর্যার ভাষা সন্ধ্যাভাষা।
- তবে তত্ত্বজ্ঞানীদের কাছে এ ভাষা অবোধ্য নয় বলে এই অর্থ সমর্থনযোগ্য নয়।
- মুনিদত্ত তাঁর টীকায় সন্ধাভাষ, সন্ধাভাষা, সন্ধ্যাবচন, সন্ধ্যাসংকেত, সন্ধ্যা ও ব্যাজ প্রভৃতি শব্দ চর্যার রূপকাশ্রিত দুর্বোধ্য অংশের বা প্রতীকী শব্দের ভাষ্য ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বারবার প্রয়োগ করেছেন।
- কারও মতে 'সন্ধ্যাদেশ' নামে বিশেষ অঞ্চলের ভাষার সঙ্গে চর্যাপদের ভাষার মিল আছে বলে এ নাম হয়েছে।
- তিব্বতি ভাষায় সন্ধ্যাভাষার অর্থ প্রহেলিকাচ্ছলে উক্ত দুরূহ তত্ত্বের ব্যাখ্যা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুল আলম।
.
মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র কোনটি?
  1. চাঁদ সওদাগর
  2. ভাঁড়দত্ত
  3. ধনপতি
  4. মানসিংহ
ব্যাখ্যা

মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র হচ্ছে চাঁদ সওদাগর।

• মনসামঙ্গল
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'।
- একে 'পদ্মাপুরাণ' বলেও অভিহিত করা হয়।
- রামায়ণ বা রাধাকৃষ্ণ-কাহিনি মূলত সংস্কৃত প্রভাবিত।
- বাংলার প্রাকৃত জীবন, এর লৌকিক জীবনাচার থেকে উদ্ভব ঘটেছে মনসামঙ্গলের।
- চাঁদ সদাগরের প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান।
- এই কাহিনি চৈতন্যপূর্ব যুগ থেকে নদনদী পরিবেষ্টিত গ্রাম বাংলার সর্প ভয়ে ভীত সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়।
- মনসামঙ্গল মূলত পাঁচালি পালা। এর কবির সংখ্যা যেমন শতাধিক, মুদ্রিত ও অমুদ্রিত পুথির সংখ্যাও বহু।
- কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি।
- এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস, ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।

• মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

অন্যদিকে, 
------------------
- ভাঁড়দত্ত, ধনপতি হচ্ছে চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের চরিত্র।
- মানসিংহ হচ্ছে অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
কোন যুগে বাংলা সাহিত্যে গদ্যসাহিত্যের উদ্ভব ঘটে?
  1. মধ্যযুগে
  2. আধুনিক যুগে
  3. প্রাচীন যুগে
  4. চর্যাযুগে
ব্যাখ্যা
আধুনিক যুগে বাংলা সাহিত্যের গদ্যসাহিত্যের উদ্ভব ঘটে।

- বাংলা সাহিত্যে আধুনিক যুগের আগে যে সাহিত্য রচিত হয়েছে তা ছিল মূলত কবিতা বা পদ্য নির্ভর।
- উনবিংশ শতাব্দী থেকে বাংলা সাহিত্যে মূলগত যে বৈশিষ্ট্য পরিদৃষ্ট হয় তা সূত্রাকারে লিপিবদ্ধ করা হলো:
১. গদ্যসাহিত্যের উদ্ভব
২. সাময়িকপত্রের আবির্ভাব
৩. নাট্যসাহিত্যের জন্ম
৪. প্রবন্ধ (চিন্তামূলক) সাহিত্যের সৃষ্টি ইত্যাদি।
- এ সময় প্রথাগত কবিতার বদলে কাব্যক্ষেত্রে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং পাশ্চাত্য প্রভাব অঙ্গীভূত হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুল আলম।
.
‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে’ - উক্তিটি কার?
  1. মালিনী
  2. ভবানন্দ
  3. ঈশ্বরী পাটনী
  4. বিদ্যাসুন্দর
ব্যাখ্যা
• অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি। তাকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়।
- তিনি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবেও মর্যাদার অধিকারী।
- মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি ভারতচন্দ্র বিদ্যাসুন্দর কাহিনিরও শ্রেষ্ঠ কবি রূপে পরিগণিত।
- কবি ভারতচন্দ্রের প্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য।
- 'কালিকামঙ্গল' ও 'বিদ্যাসুন্দর' এই কাব্যের অংশমাত্র।
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'- এটা অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি।

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্র-
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

উৎস:
১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১০.
খনার বচনের মূল বিষয়বস্তু কোনটি?
  1. ইতিহাস
  2. রাজনীতি
  3. ধর্মীয় কাহিনি
  4. কৃষি ও আবহাওয়া
ব্যাখ্যা
খনার বচনের মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে কৃষি ও আবহাওয়া।

• ডাক ও খনার বচন
- ডাক ও খনার বচনকে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সৃষ্টি বলে বিবেচনা করা হয়।
- বিষয় হিসেবে ডাক ও খনার বচন পুরানো এবং ছড়া জাতীয় এসব নমুনাকে লোকসাহিত্যের আদি নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ছড়া জাতীয় এসব রচনায় এদেশের আবহাওয়া ও কৃষি সম্পর্কিত বহু বিচিত্র অভিজ্ঞতার রূপায়ণ ঘটেছে।
- এসবের মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে নীতিকথা ও বহুদর্শী উপদেশ।
- ডাক নামে কোন পণ্ডিত ব্যক্তি ছিলেন কিনা জানা যায় নি।
- সাধারণত প্রাচীন আমলের এক শ্রেণির বৌদ্ধতান্ত্রিক সাধককে ডাক বলা হত।
- প্রাচীন যুগের ফলিত জ্যোতিষ ও কৃষি-বিষয়ক অভিজ্ঞতা এসব বচনের মধ্যে ছড়ার আকারে প্রচলিত হয়েছে এবং যুগ যুগ ধরে মুখে মুখে প্রচলিত হয়ে আসছে।
- উড়িষ্যা অঞ্চলেও কিছু ডাকের বচন রচিত হয়েছিল।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
১১.
প্রহসন বাংলা সাহিত্যের কোন যুগের নাট্যধারা?
  1. আদি যুগ
  2. মধ্যযুগ
  3. আধুনিক যুগ
  4. পাল যুগ
ব্যাখ্যা
প্রহসন বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের নাট্যধারা।

• আধুনিক যুগের সাহিত্য:
- ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ।
- এই কলেজের পাঠ্যপুস্তক রচনার মধ্য দিয়েই বাংলা সাহিত্য প্রবেশ করে আধুনিক যুগে।
- আখ্যানকাব্য, মহাকাব্য, নাটক-প্রহসন, গীতিকাব্য এবং সংবাদপত্র-সাময়িকপত্রের পথ ধরে উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে এসে বাংলা সাহিত্য প্রবেশ করে বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে।
- আধুনিক যুগের সাহিত্যকীর্তির বিস্তৃতির কারণে এ যুগের সামগ্রিক সাহিত্যসৃষ্টির পরিচয় প্রদান প্রায় অসম্ভব।
- উপন্যাস, ছোটগল্প, রম্যরচনা এবং আধুনিক রীতির কবিতা ও নাটকের সম্ভারে আজ বাংলা সাহিত্য বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্য ভাণ্ডার।
- মহাকাব্যের ধারায় মাইকেল মধুসূদন দত্ত, উপন্যাসের ধারায় বঙ্কিমচন্দ্র, শরৎচন্দ্র থেকে হাল আমলের সমরেশ বসু, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, হুমায়ূন আহমেদ, কবিতায় নজরুল, সুকান্ত, জীবনানন্দ দাশ থেকে শামসুর রাহমান, জয় গোস্বামী, নাটকে দ্বিজেন্দ্রলাল থেকে বিজন ভট্টাচার্য, সেলিম আলদীন প্রমুখ অসংখ্য রচনাকারের নামই উল্লেখ করা যায়।
- সর্বযুগের বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিভা রবীন্দনাথও তো এই আধুনিক যুগেরই ফসল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১২.
ধর্মমঙ্গল কাব্যে কোন কাহিনির কথা উল্লেখ আছে?
  1. রামায়ণ কাহিনি
  2. কৃষ্ণলীলার কথা
  3. লাউসেনের কাহিনি
  4. সীতার বনবাস কাহিনি
ব্যাখ্যা
ধর্মমঙ্গল কাব্যে লাউসেনের সংগ্রামী জীবনের কথা উল্লেখ আছে।

• ধর্মমঙ্গল:
- ধর্মমঙ্গলের আদি কবি ময়ূর ভট্ট। কিন্তু তাঁর কাব্যের নিদর্শন পাওয়া যায়নি।
- ধর্মমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী।
- রূপরাম, সীতারাম দাস ধর্মমঙ্গলের উল্লেখযোগ্য কবি।
- ধর্মমঙ্গল কাব্য দুটি পালায় বিভক্ত:
রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনি।
লাউসেনের সংগ্রামী জীবনের কথা।
- ধর্মমঙ্গলের অন্যান্য কবিরা হচ্ছেন- আদি রূপরাম, খেলারাম চক্রবর্তী, মানিকরাম, রূপরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩.
বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূচনা হয় -
  1. ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূচনা হয় ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে।

• আধুনিক যুগের সাহিত্য:
- ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ।
- এই কলেজের পাঠ্যপুস্তক রচনার মধ্য দিয়েই বাংলা সাহিত্য প্রবেশ করে আধুনিক যুগে।
- আখ্যানকাব্য, মহাকাব্য, নাটক-প্রহসন, গীতিকাব্য এবং সংবাদপত্র-সাময়িকপত্রের পথ ধরে উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে এসে বাংলা সাহিত্য প্রবেশ করে বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে।
- আধুনিক যুগের সাহিত্যকীর্তির বিস্তৃতির কারণে এ যুগের সামগ্রিক সাহিত্যসৃষ্টির পরিচয় প্রদান প্রায় অসম্ভব।
- উপন্যাস, ছোটগল্প, রম্যরচনা এবং আধুনিক রীতির কবিতা ও নাটকের সম্ভারে আজ বাংলা সাহিত্য বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্য ভাণ্ডার।
- মহাকাব্যের ধারায় মাইকেল মধুসূদন দত্ত, উপন্যাসের ধারায় বঙ্কিমচন্দ্র, শরৎচন্দ্র থেকে হাল আমলের সমরেশ বসু, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, হুমায়ূন আহমেদ, কবিতায় নজরুল, সুকান্ত, জীবনানন্দ দাশ থেকে শামসুর রাহমান, জয় গোস্বামী, নাটকে দ্বিজেন্দ্রলাল থেকে বিজন ভট্টাচার্য, সেলিম আলদীন প্রমুখ অসংখ্য রচনাকারের নামই উল্লেখ করা যায়।
- সর্বযুগের বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিভা রবীন্দনাথও তো এই আধুনিক যুগেরই ফসল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৪.
রামনিধি গুপ্ত কীসের জন্য বিখ্যাত?
  1. কীর্তন রচনার জন্য
  2. বাংলা নাটকের জনক হিসেবে
  3. বাংলা টপ্পা সংগীতের প্রবর্তক হিসেবে
  4. বাংলা গজল রচনার জন্য
ব্যাখ্যা
রামনিধি গুপ্ত বাংলা টপ্পা সংগীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত।

• রামনিধি গুপ্ত
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত।
- ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের স্থাপরায় গমন এবং হিন্দুস্তানি টল্লা শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ হলো:
নানান দেশের নানান ভাষা
বিনে স্বদেশী ভাষা
পুরে কি আশা?
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম হচ্ছে গীতরত্ন (১৮৩২)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৫.
বাংলায় মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কে?
  1. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  2. কাশীরাম দাস
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
বাংলায় মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক হচ্ছে কাশীরাম দাস।

• মহাভারত:
- মহাভারত সংস্কৃত ভাষায় রচিত ক্লাসিক মহাকাব্য।
- এই কাব্যের মূল রচয়িতা - কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।
- এই গ্রন্থ প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন - কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক - কাশীরাম দাস।
- তিনি পরাগলী খাঁর উৎসাহে প্রথম অনুবাদ করেছিলেন বলে এর নাম - পরাগলী মহাভারত।
- কবীন্দ্র পরমেশ্বর অনুবাদকৃত গ্রন্থটির নাম দিয়েছিলেন-বিজয়পান্ডবকথা অথবা ভারতপাঁচালী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৬.
পদসংখ্যার বিচারে চর্যাপদের কবি গোষ্ঠীর শ্রেষ্ঠ কবি কে?
  1. ভুসুকুপা
  2. ডোম্বীপা
  3. কাহ্নপা
  4. শবরপা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের কবি গোষ্ঠীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ কবি কাহ্নপা।

• কাহ্নপা:
- কাহ্নপা বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা ছিলেন।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহিল পা ইত্যাদি।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবি গোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে (আনু. ৯০০-৫০) তিনি বর্তমান ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক, মোট ১৩টি।
- তাঁর রচিত পদগুলো: ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ৩৬, ৪০, ৪২, ৪৫ নং পদ উদ্ধার হয়েছে।
- কিন্তু ২৪ নং পদ টি পাওয়া যায়নি।
- তাই চর্যাপদে কাহ্নপার প্রাপ্ত পদ সংখ্যা ১২টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।