পরীক্ষা আর্কাইভ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

পরীক্ষাভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন
সিলেবাস
"পরীক্ষা – ২ টপিক: সৌরজগৎ, পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহ এবং অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা, পৃথিবীর গতি ও দিন-রাত্রির হ্রাসবৃদ্ধি [Class Lecture – 3 & 4]"
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা · তারিখ অনির্ধারিত · প্রশ্ন

.
গ্রিনিচ মানমন্দির কোথায় অবস্থিত?
  1. রাশিয়া
  2. যুক্তরাজ্য
  3. গ্রিস
  4. যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
• গ্রিনিচ মান:
- গ্রিনিচ মানমন্দির যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে অবস্থিত।
- এর উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা বা শূন্য ডিগ্রী দ্রাঘিমারেখা গিয়েছে।
- ১৮৮৪ সালের ১ নভেম্বর জিএমটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ সময় হিসেবে গৃহিত হয় ৷
- তবে ১৯৭২ সালে GMT এর পরিবর্তে আন্তর্জাতিক প্রমাণ সময় হিসেবে UTC (Coordinated Universal Time) গৃহিত হয়।
- গ্রিনিচ মানমন্দির অফিসিয়াল টাইম জোন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাজ্যের গ্রিনিচ মানমন্দিরের সময়ের পার্থক্য +৬ ঘণ্টা। অর্থাৎ, ৬ ঘণ্টা আগে।
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- সেজন্যে বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘণ্টা।
- গ্রিনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রিনিচের থেকে এগিয়ে থাকে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
.
পৃথিবীর দুই মেরু হতে সমান দূরত্বে (পৃথিবীর মাঝখানে) পূর্ব-পশ্চিমে পৃথিবীকে ঘিরে থাকা কল্পিত বৃত্তকে কী বলা হয়?
  1. কক্ষপথ
  2. বিষুবরেখা
  3. দ্রাঘিমা রেখা
  4. প্রান্তরেখা
ব্যাখ্যা
• বিষুবরেখা/ নিরক্ষরেখা:
- পৃথিবীর দুই মেরু হতে সমান দূরত্বে (পৃথিবীর মাঝখানে) পূর্ব-পশ্চিমে পৃথিবীকে ঘিরে থাকা কল্পিত বৃত্তকে বলা হয় নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বলে।
- বিষুবরেখা বা নিরক্ষরেখাকে বলা হয় মহাবৃত্ত বা গুরুবৃত্ত।
- আহ্নিক গতি নিরক্ষরেখায় সর্বাপেক্ষা বেশি। নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার মান ০°। অর্থাৎ পৃথিবীর মহাবৃত্ত বা গুরুবৃত্ত এর মান ০°।
- তাহলে আমরা বলতে পারি যে, পৃথিবীর ০ ডিগ্রি অক্ষাংশকে মহাবৃত্ত বা গুরুবৃত্ত বলা হয়।
- নিরক্ষরেখার সমান্তরালে উত্তরে ও দক্ষিণে কতকগুলো রেখা কল্পনা করা হয়। এই রেখাগুলোকে অক্ষরেখা বা সমাক্ষরেখা বলে।
- অক্ষরেখাসমূহের দূরত্ব সর্বত্র সমান। নিরক্ষেরেখা থেকে উত্তরে বা দক্ষিণে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বের মানকে ডিগ্রিতে প্রকাশ করলে তাকে অক্ষাংশ বলে।
- নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার মান ০°। নিরক্ষরেখা থেকে ৯০° উত্তর অক্ষাংশকে বলা হয় সুমেরু এবং ৯০° দক্ষিণ অক্ষাংশকে বলা হয় কুমেরু।
- এছাড়া ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশকে বলা হয় যথাক্রামে- কর্কটক্রান্তি এবং ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশে বলা হয় মকরক্রান্তি।
- ৬৬.৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশকে বলা হয় যথাক্রমে সুমেরু বৃত্ত এবং কুমেরু বৃত্ত।
- নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাস সর্বাপেক্ষা বেশি হওয়ায় এই অঞ্চলে পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগও সর্বাপেক্ষা বেশি (ঘন্টা প্রতি ১৭০০ কি.মি. প্রায়)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলাফল নয় কোনটি?
  1. দিবা-রাত্রির সংঘটন
  2. বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি
  3. জীবজগতের সৃষ্টি ও বংশ বিস্তার
  4. দিবা-রাত্রির দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীর আহ্নিক গতি:
- পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষে অনবরত পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে। পৃথিবীর এই আবর্তনকে আহ্নিক গতি বা দৈনিক গতি বলা হয়।
- নিজ অক্ষে একবার ঘুরতে পৃথিবীর মোট ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা ২৪ ঘন্টা সময় প্রয়োজন। এই সময়কে সৌরদিন বলা হয়।
- নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাস সর্বাপেক্ষা বেশি হওয়ায় এই অঞ্চলে পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগও সর্বাপেক্ষা বেশি (ঘন্টা প্রতি ১৭০০ কি.মি. প্রায়)।
- ঢাকায় আহ্নিক গতির বেগ প্রায় ১৬০০ কি.মি./ঘন্টা।

• পৃথিবীতে আহ্নিক গতির ফলাফলসমূহ:
১. দিবা-রাত্রির সংঘটন,
২. জোয়ার-ভাটার সৃষ্টি;
৩. বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি,
৪. তাপমাত্রার তারতম্য সৃষ্টি এবং
৫. জীবজগতের সৃষ্টি ও বংশ বিস্তার।

• পৃথিবীর বার্ষিক গতির ফলে দিবা-রাত্রির দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি ও ঋতু পরিবর্তন সংঘটিত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে কত সময় লাগে?
  1. ৬ মিনিট
  2. ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড
  3. ৭ মিনিট ১৭ সেকেন্ড
  4. ৯ মিনিট
ব্যাখ্যা
• সূর্য:
- সূর্য একটি নক্ষত্র।
- এটি মাঝারি আকারের হলুদ বর্ণের।
- এর ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার।
- পৃথিবী থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার।
- সূর্যের বিকিরণকৃত তাপের মাত্র ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীতে আসে।
- আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড বা ৮.৩২ মিনিট।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
.
দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত সংঘটিত হয় কবে?
  1. ২১ জুন
  2. ২২ ডিসেম্বর
  3. ২১ মার্চ
  4. ২৩ সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা
• উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত - ২২ ডিসেম্বর।
• দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত - ২২ ডিসেম্বর।
• উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত - ২১ জুন।
• দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত - ২১ জুন।
• পৃথিবীর দিনরাত্রি সর্বত্র সমান - ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী।
.
আলোক বর্ষ কোন ভৌত রাশির একক?
  1. আলোর তীব্রতা
  2. দূরত্ব
  3. সময়
  4. দ্রুতি
ব্যাখ্যা
• আলোক বর্ষ:
- Light year বা আলোক বর্ষ হলো একটি দৈর্ঘ্য পরিমাপের একক, যা দিয়ে জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কিত দূরত্ব মাপা হয়।
- এক বছরে আলো যতদূর যায়, তা ই আলোক বর্ষ।
- এক আলোক বর্ষ = ৯.৪৬ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার বা ৫.৮৮ ট্রিলিয়ন মাইল।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট।
.
পৃথিবী থেকে চাঁদের গড় দূরত্ব কত?
  1. ৩,২০,০০০ কিমি
  2. ৪,২০,০০০ কিমি
  3. ৩,৮১,৫০০ কিলোমিটার
  4. ১,৫০,০০০ কিমি
ব্যাখ্যা
• চাঁদ:
- পৃথিবী থেকে চাঁদের গড় দূরত্ব ৩,৮১,৫০০ কিলোমিটার।
- চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে নিজ কক্ষপথে ২৯ দিনে একবার আবর্তন করে।
- চাঁদের ব্যাস ৩.৪৭৫ কিলোমিটার। ১৯৬৯ সালের ২১ শে জুলাই সর্বপ্রথম মানুষ চাঁদে অবতরণ করেন।
- চাঁদে পানি, বায়ু, উদ্ভিদ বা প্রাণী নেই। চাঁদে বহু সমতলভূমি, পাহাড় পর্বত ও বৃহদাকার গর্তের উপরিভাগ দেখা যায়।
- চাঁদের সবচেয়ে বড় গহ্বরটির নাম আইটকেন।
- চাঁদের আকাশ দিনে-রাতে একই রকম কালো।
- চাঁদের নিজস্ব আলো নেই। সূর্যের আলোতে চাদ আলোকিত হয়।
- চাঁদের যে পৃষ্ঠে সূর্যালোক পড়ে সে পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ১০০" সেলসিয়াস এর ওপরে এবং অন্ধকার পৃষ্ঠের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ১৫০ সেলসিয়াসের নীচে।

উৎস:
১. Baylor University Media Release. 
২. বাংলা ট্রিবিউন। [Link]
.
জ্যোতির্বিদ জোহান কেপলার সূর্যের চারপাশে গ্রহগুলোর গতি সম্পর্কিত কতটি মৌলিক সূত্র উপস্থাপন করেন?
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. তিনটি
  4. চারটি
ব্যাখ্যা
• কেপলারের সূত্র:
- ডেনমার্কের জ্যোতির্বিদ জোহান কেপলারের গ্রহ সম্পর্কিত সূত্র সূর্যের চারদিকে গ্রহগুলোর গতি ব্যাখ্যা করে।
- ১৬১৮ সালে কেপলার বলেন, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরাম ঘুরছে।
- এই সম্পর্কে তিনি তিনটি সূত্র প্রদান করেন।
- তার নাম অনুসারে এই তিনটি সূত্রকে কেপলার এর গ্রহ সম্পর্কীয় গতিসূত্র বলা হয়। যথা

• প্রথম সূত্র (উপবৃত্ত সূত্র):
- সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে।
• দ্বিতীয় সূত্র (ক্ষেত্রফল সূত্র):
- প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্র সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে।
• তৃতীয় সূত্র (আবর্তনকালের সূত্র):
- সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের ঘনফলের সমানুপাতিক।

উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং LIVE MCQ লেকচার।
.
পৃথিবী আপন কক্ষপথে কত ডিগ্রি কোণে হেলে আছে?
  1. ২৭.৫°
  2. ৬৯.৫°
  3. ৬৬.৫°
  4. ৭৩.৫°
ব্যাখ্যা
• দিবা-রাত্রির দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি:
- প্রধানত পাঁচটি কারণে পৃথিবীপৃষ্ঠে দিবা-রাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে।
- অর্থাৎ একটি দিবসে দিন ও রাত্রির সময়কাল সকল সময়ে এক হয় না।
- নিম্নোক্ত কারণে এইরূপ হয়ে থাকে।
১. পৃথিবীর আকার অভিগত গোলকের ন্যায়; 
২. সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার পথটি, অর্থাৎ কক্ষপথটি উপবৃত্তাকার (Elliptical);
৩. পৃথিবীর দুইটি গতি যেমন: আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতি;
৪. পৃথিবী আপন কক্ষপথে (Orbit) ৬৬.৫° কোণে হেলে অবস্থানরত এবং
৫. পৃথিবী নিজ অক্ষে (Axis) ২৩.৫° কোণে হেলে অবস্থানরত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।