পরীক্ষা আর্কাইভ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

পরীক্ষা৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশনতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়35 minutes
মোট প্রশ্ন৩২
সিলেবাস
৪৬তম বি.সি.এস. প্রস্তুতি - সাবজেক্ট ফাইনাল ও রিভিশন বিষয়ের নাম: বাংলা সাহিত্য সম্পূর্ণ [১০০ নাম্বার]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন · তারিখ অনির্ধারিত · ৩২ প্রশ্ন

.
'আট কুঠুরি নয় দরজা' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  2. সমরেশ মজুমদার
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
⇒ 'আট কুঠুরি নয় দরজা':
• সমরেশ মজুমদারের রহস্য-রোমাঞ্চ-উত্তেজনায় ভরপুর গ্রন্থ 'আট কুঠুরি নয় দরজা'।
• সম্পূর্ণ মৌলিক, তবু যে কোনো রুদ্ধশ্বাস বিদেশি থ্রিলারকেও হার মানায় সমরেশ মজুমদারের কীর্তিময় কলমের এই কাহিনি।

• গ্রন্থের কাহিনি সংক্ষেপ:
- এ কাহিনি ভারতবর্ষের কাছাকাছি এক পাহাড়ী রাজ্যের।
- থ্রিলারের একনায়কতন্ত্রী শাসনব্যবস্থাধীন এই রাজ্যের স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে তলে-তলে চলতে থাকে বিপ্লব সংগঠনের প্রয়াস।
- আকাশলাল ছিল এই বিপ্লববাহিনীরই নেতা।
- প্রশাসনিক তৎপরতায় বিদ্রোহ দমিত হল; গা ঢাকা দিল আকাশলাল ও তার প্রধান সঙ্গীরা। পুলিশের জাল কেটে বেরুতে গিয়ে একে-একে নিহত হল আকাশলালের সঙ্গীরা। অবশেষে একদিন আকাশলালও হলো বন্দী।
- পুলিশী হেফাজতে আকস্মিক মৃত্যু ঘটে গেল আকাশলালের। সম্ভাব্য জনরোষ ও উত্তেজনা এড়াতে চুপিচুপি কবর দেওয়া হলো তাকে।
- আশ্চর্য, কীভাবে যেন আবার একদিন ফিরে এল অমর বিপ্লবী আকাশলাল।

===========
⇒ সমরেশ মজুমদার:
- সমরেশ মজুমদারের জন্ম ২৬ ফাল্গুন, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে। শৈশব কেটেছে ডুয়ার্সের চা-বাগানে। জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের ছাত্র। কলকাতায় আসেন ১৯৬০-এ।
-  প্রথমে গ্রুপ থিয়েটার করতেন। তারপর নাটক লিখতে গিয়ে গল্প লেখা। প্রথম গল্প 'দেশ' পত্রিকায়, ১৯৬৭ সালে।
- প্রথম উপন্যাস 'দৌড়'। প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে 'দেশ' পত্রিকায়।
- 'দৌড়' চলচ্চিত্রের কাহিনিকার হিসাবে বি এফ জে এ, দিশারী এবং চলচ্চিত্র প্রসার সমিতির পুরস্কার লাভ করেন।
- এছাড়াও ১৯৮৪ সালে 'কালবেলা' উপন্যাস রচনার জন্য পেয়েছেন সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
- দৌড়,
- এই আমি রেণু,
- উত্তরাধিকার, 
- বন্দীনিবাস,
- বড় পাপ হে,
- উজান গঙ্গা,
- বাসভূমি,
- লক্ষ্মীর পাঁচালি,
- উনিশ বিশ,
- সওয়ার,
- কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: 'আট কুঠুরি নয় দরজা' সমরেশ মজুমদার এবং ‘অনেকেই একা’ সমরেশ মজুমদার।
.
কোনটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয়?
  1. চতুষ্কোণ
  2. সার্বজনীন
  3. তৈলচিত্রের ভূত
  4. আরোগ্য
ব্যাখ্যা
• ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্প
- তৈলচিত্রের ভূত মানিক বেন্দ্যাপাধ্যায় রচিত একটি গল্প।
- গল্পটি মাসিক ‘মৌচাক’ পত্রিকায় ১৯৪১ খ্রিাষ্টাব্দে ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত হয়।
- ডক্তার পরাশর এই গল্পের একটি চরিত্র।

⇒ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
• উপন্যাস:
- জননী, 
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি, 
- পুতুলনাচের ইতিকথা, 
- শহরতলী, 
 - চিহ্ন, 
- চতুষ্কোণ, 
- সার্বজনীন, 
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

• ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প, 
- প্রাগৈতিহাসিক, 
- সরীসৃপ, 
- সমুদ্রের স্বাদ, 
- হলুদ পোড়া, 
- আজ কাল পরশুর গল্প, 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প, 
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
‘চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা’ পঙক্তিটি কার রচনা?
  1. জসীমউদ্দীন
  2. শামসুর রাহমান
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• ‘চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা’ পঙক্তিটি জীবনানন্দ দাশ রচিত ‘বনলতা সেন’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

• ‘বনলতা সেন’ কাব্যগ্রন্থ:

- 'বনলতা সেন' আধুনিক বাংলা সাহিত্যের খ্যাতনাম গ্রন্থগুলির অন্যতম।
- এ কাব্যগ্রন্থের 'বনলতা সেন' কবিতাটি বাংলা সাহিত্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা।
- জীবনানন্দ দাশ তাঁর অশ্রুতপূর্ব উপমা প্রয়োগে বাংলা সাহিত্যে এই অসাধারণ কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন।

------------------------
⇒ জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- মাল্যবান;
- সতীর্থ;
- কল্যাণী।

• জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক, [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
.
‘ভেড়াকান্ত' নামে সাহিত্য রচনা করেছেন-
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
♦ গাজী মিয়াঁর বস্তানী:
- 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' মীর মশাররফ হোসেনের কর্মজীবন নির্ভর আত্মজীবনীমূলক রচনা।
- লেখক ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজের অন্যায়, অনাচার, সামাজিক দুর্নীতি এবং সেই সমাজভুক্ত মানুষগুলাের নৈতিক অধঃপতন, মনুষ্যত্ব ও হৃদয়হীন আচরণ তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
- লেখক নিজেকে ‘ভেড়াকান্ত' নামে উল্লেখ করেছেন।
- তাছাড়া আলকাতরা সান্যাল, কটা পেস্কার, জয়ঢাক, ছিড়িয়া খাতুন, অরাজকপুর, নচ্ছারপুর, জমদ্বারগ্রাম ইত্যাদি নামচয়নের মধ্যেও লেখকের ব্যঙ্গের তীব্রতা লক্ষ করা যায়।

⇒ মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা- মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
'প্রথম আলো' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. সানাউল হক
ব্যাখ্যা
♦ 'প্রথম আলো' উপন্যাস:
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত ঐতিহাসিক উপন্যাস 'প্রথম আলো'। 
- এই উপন্যাসটি ‘দেশ’ পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় এবং এর ইংরেজি অনুবাদ অক্সফোর্ড প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়।
- দীর্ঘ প্রবাহিত এই উপন্যাসটির শুরু হয় ত্রিপুরার এক রাজপরিবারের কাহিনি দিয়ে। তারপরে তা ক্রমে ক্রমে এসে দাড়ায় কলকাতার ঠাকুর পরিবারে এবং তৎকালীন অন্যান্য বিশিষ্ট সব মানুষদের নিয়ে।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলি সবই প্রায় বাস্তব বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক চরিত্র।
- রবীন্দ্রনাথ, নরেন্দ্রনাথ, রামকৃষ্ণ পরমহংস, নটী বিনােদিনী, গিরিশচন্দ্র প্রভৃতি চরিত্রের সান্নিধ্য পাওয়া যায়।
- লেখক প্রথম রবীন্দ্রনাথকে উপন্যাসের চরিত্র হিসাবে ব্যবহার করেছেন।
- এছাড়াও উপন্যাসের মূল চরিত্র হিসেবে রয়েছে দুটি কাল্পনিক চরিত্র “ভরত ও ভূমিসুতা”।
- উপন্যাসটির ঘটনা প্রবাহ আবর্তিত হয়েছে এই দুটি চরিত্রকে কেন্দ্র করেই।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাসসমূহ:
- পূর্ব-পশ্চিম,
- সেই সময়,
- প্রথম আলো,
- একা এবং কয়েকজন।

উৎস: ‘প্রথম আলো’ উপন্যাস, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।
.
‘ইতল বিতল’ শিশুতোষ গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আহসান হাবীব
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. সুফিয়া কামাল
  4. ফররুখ আহমেদ
ব্যাখ্যা
‘ইতল বিতল’ শিশুতোষ গ্রন্থ: 
- সুফিয়া কামালের একগুচ্ছ ছড়া নিয়ে 'ইতল বিতল' প্রথমবার প্রকাশিত হয় ১৯৬৫ সালে।
- চট্টগ্রাম থেকে বইটি প্রকাশ করেন সৈয়দ মোঃ শফি, তাঁর শিশু সাহিত্য বিতানের মাধ্যমে।
- ছড়াগুলোর সাথে ছবি ও প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন তখন তরুণ, আজ প্রখ্যাত শিল্পী হাশেম খান।

⇒ সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’। রচনা হয় ১৯২৩ সালে। গ্রন্থটি বরিশালের ‘তরুণ’ পত্রিকায় প্রকাশ পায়।

• তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী। 
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘ইতল বিতল’ গ্রন্থ।
.
সেলিনা হোসেনের 'যাপিত জীবন' উপন্যাসটি কোন পটভূমিতে রচিত?
  1. নারী জাগরণ
  2. স্বদেশী আন্দোলন
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• 'যাপিত জীবন' উপন্যাস:
- ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে সেলিনা হোসেনের লেখা উপন্যাস 'যাপিত জীবন'।
- উপন্যাসের নায়ক জাফর জীবনের কথা বলে জীবনেরই বিনিময়ে।
- সেলিনা হোসেন জাফরের স্বচ্ছ প্রতীকচিত্রে বাঙালির শেকড় আর অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করে তাঁর 'যাপিত জীবন'-এ ।
- জাফর প্রতিটি অণুমুহূর্তে ঘোষণা করে বেড়ায় তাঁর বাঙালি অস্তিত্ব তাঁর শেকড়। নিজের মৃত্তিকারসে জারিত স্বকীয় বিকাশের সমস্ত প্রয়াস ভর করে বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধি জাফরের মাঝে। জাফর বাঙালি কণ্ঠের বলিষ্ঠ উৎসারণ।

• সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেনের জন্ম ১৪ জুন ১৯৪৭ রাজশাহী শহরে।
- ষাটের দশকের মধ্যভাগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে লেখালেখির সূচনা।
- প্রথম গল্পগ্রন্থ উৎস থেকে নিরন্তর প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে।
- রাজশাহীতে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে পড়ার সময় বিভাগীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় চেম্পিয়নশীপ স্বর্ণপদক পান।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- যাপিত জীবন,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- কালকেতু ও ফুল্লরা।

উৎস: 'যাপিত জীবন' উপন্যাস সেলিনা হোসেন।
.
বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভাজনের তত্ত্ব প্রকাশ কোন গ্রন্থের বিষয়বস্তু?
  1. সেক শুভোদয়া
  2. হানিফা কয়রাপরী
  3. চর্যাপদ
  4. প্রাকৃতপৈঙ্গল
ব্যাখ্যা
⇒ চর্যাপদ:
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাপদ।
• চর্যাপদ হচ্ছে গানের সংকলন।
• চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
• চর্যাপদ রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। সহজিয়াগণ হচেছ বৌদ্ধ সহজযান পন্থি।
• চর্যাপদের পদ সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে। সুকুমার সেনের হিসাবে ৫১টি পদ এবং মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বলেছেন ৫০টি পদ। চর্যাপদ ছিন্নবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় এই মতান্তরের সৃষ্টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
‘নত হও, কুর্নিশ করো’ কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. হাসান আজিজুল হক
  3. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. রফিক আজাদ
ব্যাখ্যা
• ‘নত হও, কুর্নিশ করো’ রফিক আজাদ রচিত কবিতা।

নত হও, কুর্নিশ করো
রফিক আজাদ -সংকলিত (রফিক আজাদ)   

হে কলম, উদ্ধত হ’য়ো না, নত হও, নত হতে শেখো,
তোমার উদ্ধত আচরনে চেয়ে দ্যাখো, কী যে দু:খ
পেয়েছেন ভদ্রমহোদয়গণ,

অতএব, নত হও, বিনীত ভঙিতে করজোড়ে
ক্ষমা চাও, পায়ে পড়ো, বলো: কদ্যপি এমনটি হবে না, স্যার,
বলো: মধ্যবিত্ত হে বাঙালী ভদ্রমহোদয়গণ,
এবারকার মতো ক্ষমা করে দিন…

========
• রফিক আজাদ: 
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল- জীবন।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
- তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর বিখ্যাত কিছু কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে
- সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- হৃদয়ের কি বা দোষ,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০.
"মানুষ আছে তার দুই ভাবকে নিয়ে, একটা তার জীবভাব, আর একটা বিশ্বভাব" - উক্তিটি রবীন্দ্রনাথের কোন প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. মানুষের ধর্ম
  2. কালান্তর
  3. সভ্যতার সংকট
  4. পঞ্চভূত
ব্যাখ্যা

"মানুষ আছে তার দুই ভাবকে নিয়ে, একটা তার জীবভাব, আর একটা বিশ্বভাব" - উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'মানুষের ধর্ম' প্রবন্ধের অন্তর্গত।

প্রবন্ধটির কিছু অংশ -
"মানুষ আছে তার দুই ভাবকে নিয়ে, একটা তার জীবভাব, আর-একটা বিশ্বভাব। জীব আছে আপন উপস্থিতকে আঁকড়ে, জীব চলছে আশু প্রয়োজনের কেন্দ্র প্রদক্ষিণ করে। মানুষের মধ্যে সেই জীবকে পেরিয়ে গেছে যে সত্তা সে আছে আদর্শকে নিয়ে। এই আদর্শ অন্নের মতো নয়, বস্ত্রের মতো নয়। এ আদর্শ একটা আন্তরিক আহ্বান, এ আদর্শ একটা নিগূঢ় নির্দেশ। কোন্ দিকে নির্দেশ? যে দিকে সে বিচ্ছিন্ন নয়, যে দিকে তার পূর্ণতা, যে দিকে ব্যক্তিগত সীমাকে সে ছাড়িয়ে চলেছে, যে দিকে বিশ্বমানব।" 

তাছাড়া এই প্রবন্ধগ্রন্থের ভূমিকায় রবীন্দ্রনাথ মানুষের ধর্ম সম্পর্কে বলেছেন -"যা আমাদের ত্যাগের দিকে তপস্যার দিকে নিয়ে যায় তাকেই বলি মনুষ্যত্ব, মানুষের ধর্ম।"

=================
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ- 
- পঞ্চভূত 
- বিচিত্র প্রবন্ধ
- সাহিত্য
- কালান্তর
- সভ্যতার সংকট

সূত্র: মানুষের ধর্ম প্রবন্ধ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১১.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম কোন উপন্যাস প্রকাশের মাধ্যমে সাহিত্যজগতে খ্যাতি অর্জন করেন?
  1. বড়দিদি
  2. পরিণীতা
  3. পণ্ডিত মশাই
  4. দত্তা
ব্যাখ্যা
♦ বড়দিদি:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭)।
- ‘ভারতী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাহিত্যজগতে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। 
- একজন মানুষের শুধুমাত্র এই বড়দিদি নামটির ওপর কী ধরনের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থাকতে পারে তা খুব স্পষ্টভাবেই অনুভব করতে পারা যায় এই উপন্যাসের দ্বারা।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মাধবী, সুরেন্দ্রনাথ।

♦ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস: 
- দেনাপাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- দত্তা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১২.
"মানুষ বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না।"- উক্তিটি সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন রচনার অন্তর্ভুক্ত?
  1. যাত্রা
  2. পালামৌ
  3. রামেশ্বরের অদৃষ্ট
  4. জলপ্রতাপ চাঁদ
ব্যাখ্যা
⇒ পালামৌ:
- 'পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণামূলক ভ্রমণকাহিনি হচ্ছে 'পালামৌ'।
- এটি প্রথম বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এটি ছোট নাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু এবং মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'- এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য।
- তিনি এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

'পালামৌ' রচনার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বাক্য- 
- “বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।”
- "মানুষ বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না।"
- "যাহার ভাগ্যে কঠিন পাষাণ, পাষাণই তাহার অবলম্বন।"
- "একদিন আপনার অহঙ্কারে আপনি হাসিব"
- "যে হারে, সেই রাগে। "

⇒ সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা,
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' গ্রন্থে সংকলিত পুঁথি নয় কোনটি?
  1. চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
  2. সরোজ-বজ্রের দোহাকোষ
  3. ডাকার্ণব
  4. খনার বচন
ব্যাখ্যা
•'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' গ্রন্থে সংকলিত পুঁথি নয় ‘খনার বচন’।

• মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' গ্রন্থে চারটি পুঁথি সংকলিত হয়েছে।
সেগুলো হলো: 
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়,
- সরোজ-বজ্রের দোহাকোষ,
- কৃষ্ণাচায্যের দোহাকোষ, 
- ডাকার্ণব। 

• এগুলোর মধ্যে চর্যাচর্যবিনিশ্চয় পুঁথিটি বাংলা, অন্য তিনটি বাংলা নয়, অপভ্রংশে রচিত। 
• তবে চর্যাপদের মতই সেগুলোর সংস্কৃত টিকা সংযোজিত আছে। 
• চারটি গ্রন্থ একত্রে ১৯১৬ সালে "হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা" নামে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৪.
‘অতৃপ্ত কামনা’ গল্পটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. রিক্তের বেদন
  2. ব্যথার দান
  3. চোখের চাতক
  4. শিউলিমালা
ব্যাখ্যা
⇒ কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

বিখ্যাত গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- ব্যথার দান, 
- রিক্তের বেদন ও
- শিউলিমালা।

⇒ 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ:
• 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ ছয়টি গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয় ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে।
• এটি নজরুলের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ; প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ তো বটেই।

• 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- ব্যথার দান,
- হেনা,
- অতৃপ্ত কামনা,
- বাদল-বরিষণে,
- ঘুমের ঘোরে,
- রাজবন্দীর চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫.
''যাহা দিলাম তাহা উজাড় করিয়াই দিলাম। এখন ফিরিয়া তাকাইতে গেলে দুঃখ পাইতে হইবে।” উক্তিটি কার রচনা?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ''যাহা দিলাম তাহা উজাড় করিয়াই দিলাম। এখন ফিরিয়া তাকাইতে গেলে দুঃখ পাইতে হইবে।” - উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'হৈমন্তী' ছোটগল্পের অন্তর্ভুক্ত।
- উক্তিটি গল্পে গৌরীশংকর বনমালীবাবুকে উদ্দেশ্য করে বলেন।

⇒ 'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
• ‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প।
- 'হৈমন্তী' গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির। 
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।  

গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি- 
- জ্যৈষ্ঠের খররৌদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূন্য রোদন। 
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
- "অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই"। 
- 'আমি যাহা বুঝি না তাহা শিখাইতে গেলে কেবল কপটতা শেখানো হইবে।'

রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক আরও কিছু ছোটগল্প- 
- দেনাপাওনা,
- অপরিচিতা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ, 
- অনধিকার প্রবেশ ইত্যাদি।

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬.
'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাটির রচয়িতা কে?
  1. জহির রায়হান
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
⇒ 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি রচনা করেন।
- ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।  
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন,
ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'- এই উপন্যাসের সংলাপ।

• এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হলো:
- মুমিন, 
 -আসাদ, 
- রসুল, 
- সালমা।

জহির রায়হান রচিত উপন্যাস: 
- হাজার বছর ধরে,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- তৃষ্ণা,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৭.
পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘তঘমা-ই-ইমতিয়াজ’ নামক জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন কোন নারী সাহিত্যিক?
  1. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  2. জাহানারা ইমাম
  3. সেলিনা হোসেন
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
⇒ সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’। রচনা হয় ১৯২৩ সালে। গ্রন্থটি বরিশালের ‘তরুণ’ পত্রিকায় প্রকাশ পায়।
- ১৯৮৪ সালে রুশ ভাষায় তাঁর সাঁঝের মায়া গ্রন্থটি সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে প্রকাশিত হয়।
- ২০০১ সালে বাংলা একাডেমী তাঁর কিছু কবিতার ইংরেজি অনুবাদ নিয়ে ‘Mother of Pearls and Other Poems’ এবং ২০০২ সালে সুফিয়া কামালের রচনা সমগ্র প্রকাশ করেছে।
- সাহিত্য ক্ষেত্রে বিশিষ্ট অবদানের জন্য সুফিয়া কামাল অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। ১৯৬১ সালে তিনি পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘তঘমা-ই-ইমতিয়াজ’ নামক জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন।

• তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী। 
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৮.
‘বন্ধু বিয়োগ’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
• ‘বন্ধু বিয়োগ’ বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:

- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদামঙ্গল। 

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদামঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৯.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বিরূপ সমাজের ছবি অঙ্কিত হয়েছে ফররুখ আহমদ রচিত কোন কবিতায়?
  1. আউলাদ
  2. সিন্দাবাদ
  3. পাঞ্জেরি
  4. দরিয়ার শেষরাত্রি
ব্যাখ্যা
⇒ ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ: 
- ইসলামি স্বাতন্ত্র‌্যবাদী কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা: সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বিরূপ সমাজের ছবি ‘লাশ’ ও ‘আউলাদ’ কবিতায় পাওয়া যায়।
- তবে মূলত মুসলমানদের জাগরণের লক্ষ্যে তিনি এ গ্রন্থের কবিতাগুলো লিখেছেন।

⇒ ফররুখ আহমদ: 
-  ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে  জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি'
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২০.
প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. আত্মকথা
  2. আমাদের শিক্ষা
  3. সনেট পঞ্চাশৎ
  4. নানাচর্চা
ব্যাখ্যা
• 'সনেট পঞ্চাশৎ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা প্রমথ চৌধুরী।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে। 

⇒ প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২১.
জহির রায়হান পরিচালিত অসমাপ্ত চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. ধ্রুবতারা
  2. লেট দেয়ার বি লাইট
  3. আবার তোরা মানুষ হ
  4. অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী
ব্যাখ্যা
• ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ চলচ্চিত্র:
- ধর্ম, বর্ণ, জাতি ও সংস্কৃতির নামে বিশ্বজুড়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার মানুষের আর্তনাদ তুলে ধরে ১৯৭০ সালে ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ নির্মাণে হাত দেন কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান।
- শুটিংয়ের মাঝখানে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ায় সিনেমার দৃশ্যধারণ আটকে থাকে।
- স্বাধীনতার পর মিরপুরে ভাইকে খুঁজতে গিয়ে তিনি শহীদ হওয়ার পর অসমাপ্ত সিনেমাটি আলোর মুখ দেখে নি।

• জহির রায়হান:

- জহির রায়হান ১৯৩৫ সালে ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- তাঁর প্রকৃত নাম - মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
- তাঁর সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে 'নিগার পুরস্কার' লাভ করে।
- 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর পরিচালিত অন্যান্য চলচ্চিত্র:
- কখনও আসেনি,
- Stop Genocide,
- সোনার কাজল,
- কাঁচের দেয়াল,
- বেহুলা,
- আনোয়ারা,
- সঙ্গম,
- বাহানা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র - ধ্রুবতারা।
• সুভাষ দত্ত পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র - অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী।
• খান আতাউর রহমান পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র - আবার তোরা মানুষ হ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া এবং প্রথমআলো রিপোর্ট ২০ আগস্ট, ২০২২।
২২.
কোনটি শামসুর রাহমান রচিত আত্মস্মৃতি?
  1. এলো সে অবেলায়
  2. কালের ধুলোয় লেখা
  3. নিজ বাসভূমে
  4. প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
ব্যাখ্যা
⇒ 'কালের ধুলোয় লেখা’ আত্মস্মৃতি:
• 'কালের ধুলোয় লেখা' (২০০৪) শামসুর রাহমান রচিত একটি আত্মস্মৃতি।
• 'কালের ধুলোয় লেখা' তাঁর আত্মজীবনীতে রাজনীতি, অর্থনীতি, সাহিত্য-সংস্কৃতি শুধু নয়, বৈশ্বিক পটভূমিতে কাছ থেকে দেখা বাঙালির গণ-সংস্কৃতির ইতিহাস যেমন প্রকাশিত হয়েছে তেমনি প্রতিভাত হয়েছে তার কাব্যসত্তার ভেতর- বাহির।
• এই গ্রন্থে জীবনে ঘটেছে এমন কোনো ঘটনাকে লুকোতে চান নি তিনি। মুখোমুখি হয়েছেন বারবার।
• বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী শামসুর রাহমান অনেক অজানা ইতিহাসকে খোলসা করেছেন স্পষ্টভাবে যার মধ্য দিয়ে বিশুদ্ধ সত্যাশ্রয়ী আত্মজীবনী লেখার একটি সংস্কৃতি চালু করেন।

================
⇒ শামসুর রাহমান:
• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য - "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’ কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- 'বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর: ‘কালের ধুলোয় লেখা’ শামসুর রাহমান।
২৩.
‘রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা’ ছোটগল্পের রচয়িতা কে?
  1. আবু ইসহাক
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
⇒ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- বাংলা ছোট গল্পের জনক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১১৯ টি ছোট গল্প রচনা করেন।
- তার রচিত প্রথম ছোট গল্প ‘ভিখারিনী’।
- ‘ভারতী’ পত্রিকায় ১৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয় - রবীন্দ্রনাথের ভিখারিণী গল্পটি।
- এই গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে মাত্র ষোলো বছর বয়েসেই রবীন্দ্রনাথ ছোট গল্পকার হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৫টি গল্পগ্রন্থ রয়েছে। এগুলো হলো: 
• গল্পগুচ্ছ,
• লিপিকা,
• সে,
• তিন সঙ্গী,
• গল্পসল্প।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প: 
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চারটি অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প: 
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৪.
‘পূর্ববঙ্গ-গীতিকা’ শিরোনামে প্রকাশিত পালাগুলোর সংগ্রাহক কে?
  1. দীনেশচন্দ্র সেন
  2. চন্দ্রকুমার দে
  3. সুকুমার সেন
  4. দক্ষিণারঞ্জন রায় মিত্র
ব্যাখ্যা
• চন্দ্রকুমার দে:
- চন্দ্রকুমার দে (১৮৮৯-১৯৪৬) লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ও লেখক।
- বৃহত্তর ময়মনসিংহের নেত্রকোনা জেলার রাঘবপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- চন্দ্রকুমার আমৃত্যু পল্লীর এ লোকসম্পদ সংগ্রহে নিয়োজিত থেকে বহু সংখ্যক পালা সংগ্রহ করেন।
- সেগুলির অধিকাংশই দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায়  মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) ও  পূর্ববঙ্গ-গীতিকা (১৯২৬) নামে  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয় এবং দেশবিদেশের বহু গুণিজনের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৫.
কোনটি রশীদ হায়দার রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. অন্ধ কথামালা
  2. যাত্রা
  3. এক যুবকের ছায়াপথ
  4. অদ্ভুত আঁধার এক
ব্যাখ্যা
⇒ অন্ধ কথামালা:
রশীদ হায়দার রচিত ‘অন্ধ কথামালা’ (১৯৮২) উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস কাল পর্বের প্রেক্ষাপটে মৃত্যু-মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতীক্ষারত একজন মুক্তিযোদ্ধার দুর্বিসহ স্মৃতিকাতরতাক্রান্ত রুদ্ধশ্বাসের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা ও আবেগের রসায়নে ‘অন্ধ কথামালা’ উপন্যাসকে একটি পরিণততর সৃষ্টি বলা যায়।

রশীদ হায়দার রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অন্য উপন্যাস হলো-
• ‘খাঁচা’ (১৯৭৫) উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্বের অবরুদ্ধ নগর জীবনের আলেখ্য।

অন্যদিকে,
- ‘যাত্রা’ শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- ‘এক যুবকের ছায়াপথ’ সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- ‘অদ্ভুত আঁধার এক’ শামসুর রহমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস: খাঁচায় অন্ধ কথামালা উপন্যাস এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২৬.
'ময়নামতীর গান' কোন ধারার সাহিত্য?
  1. অনুবাদ সাহিত্য
  2. মর্সিয়া সাহিত্য
  3. মৈমনসিংহ গীতিকা
  4. নাথসাহিত্য
ব্যাখ্যা
 ⇒ নাথসাহিত্য:
- নাথসাহিত্য নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনিভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা। 
- এই ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো শেখ ফয়জুল্লাহর গোরক্ষবিজয়।
- রাজা মাণিকচন্দ্রের গান, ময়নামতীর গান বা  গোপীচন্দ্রের গান একই ধারার কাহিনি।
- ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানে গার্হস্থ্য জীবনের আধারে যোগজীবনের নির্দেশিকা স্থান পেয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
২৭.
‘যেখানে চিন্তার, বুদ্ধির ও আত্মপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই সেখানে মুক্তি নেই।’ উক্তিটি কার রচনা?
  1. কাজী মোতাহের হোসেন
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
ব্যাখ্যা
⇒ ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধ:
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি মোতাহের হোসেন চৌধুরীর ‘সংস্কৃতি কথা’ গ্রন্থের ‘মনুষ্যত্ব’ শীর্ষক প্রবন্ধের অংশ বিশেষ। 'সংস্কৃতি কথা' তাঁর প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে লেখক মানুষের জীবনকে দোতলা ঘরের সাথে তুলনা করেছেন।
- প্রবন্ধে বলা হয়েছে - "মানুষের জীবনকে একটি দোতলা ঘরের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। জীবসত্তা সেই ঘরের নিচের তলা, আর মানবসত্তা বা মনুষ্যত্ব উপরের তলা। জীবসত্তার ঘর থেকে মানবসত্তার উঠবার মই হচ্ছে শিক্ষা, শিক্ষাই আমাদের মানবসত্তার ঘরে নিয়ে যেতে পারে।"
- তিনি বলেছেন, যেখানে চিন্তার, বুদ্ধির ও আত্মপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই সেখানে মুক্তি নেই।

⇒ মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে। 
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ: 
- আমাদের দৈন্য
-  আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৮.
'আলোক সারথী' নামকরণ করা হয়েছিল বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের?
  1. অপরাজিত
  2. অশনি সংকেত
  3. দৃষ্টি প্রদীপ
  4. আরণ্যক
ব্যাখ্যা
• 'অপরাজিত' উপন্যাস: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত প্রথম উপন্যাস হলো পথের পাঁচালী (১৯২৯)।
- ‘অপরাজিত’ (১৯৩১) হলো পথের পাঁচালীর দ্বিতীয় খণ্ড।
- উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে মাসিক ‘প্রবাসী’তে প্রথম প্রকাশিত হয়। পুস্তকাকারে উপন্যাসটি দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে।
- উপন্যাসটির প্রথমে নামকরণ করা হয়েছিল 'আলোক সারথী'। 

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো: 
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- বিপিনের সংসার, 
- চাঁদের পাহাড়, 
- দম্পতি ইত্যাদি।

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার, 
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য,
• ‘অপরাজিতা’ নামক কাব্যের রচয়িতা যতীন্দ্রমোহন বাগচী।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'অপরাজিত' উপন্যাস; বাংলাপিডিয়া।
২৯.
'রৈবতক', 'কুরুক্ষেত্র', 'প্রভাস' এই ত্রয়ী মহাকাব্যের রচয়িতা কে?
  1. বিজন ভট্টাচার্য
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. নবীনচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
⇒ নবীনচন্দ্র সেন:
- নবীনচন্দ্র সেন ছিলেন কবি। ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- নবীনচন্দ্র সেন ছাত্রজীবন থেকেই নবীনচন্দ্র কবিতা রচনা শুরু করেন। প্যারীচরণ সরকার সম্পাদিত এডুকেশন গেজেটে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হতো।
- তাঁর প্রথম কাব্যসংকলন অবকাশরঞ্জিনী প্রকাশিত হয় ১৮৭১ সালে।
- ১৮৭৫ সালে তাঁর পলাশীর যুদ্ধ মহাকাব্য প্রকাশিত হলে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন।

• রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস নবীনচন্দ্রের ত্রয়ী কাব্য এবং তাঁর কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ। এগুলির নায়ক  কৃষ্ণ এবং এতে যথাক্রমে কৃষ্ণের আদি, মধ্য ও অন্তলীলা বর্ণিত হয়েছে। নবীনচন্দ্রের এই তিনটি কাব্যও মহাকাব্যের লক্ষণাক্রান্ত। কাহিনির বিশালতা এবং বহুমুখী বৈচিত্র্যের কারণে গ্রন্থত্রয়ের কাব্যবন্ধন অনেকটা শিথিল ও দুর্বল।

• নবীনচন্দ্রের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আমার জীবন,
- খৃস্ট,
- ক্লিওপেট্রা,
- ভানুমতী,
- প্রবাসের পত্র ইত্যাদি।

- তিনি ভগবদগীতা ও চণ্ডীর কাব্যানুবাদ করেন।
- তাঁর আত্মজীবনী আমার জীবন  গ্রন্থখানি উপন্যাসের মতো সুখপাঠ্য এবং সমকালীন সমাজ, রাজনীতি ও প্রশাসন সম্পর্কিত একটি প্রামাণ্য দলিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩০.
'গীতাঞ্জলি'তে সংকলিত প্রথম গান কোনটি?
  1. আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার.......
  2. অন্তর মম বিকশিত করো.......
  3. বিপদে মোরে রক্ষা করো......
  4. আজ ধানের খেতে রৌদ্রছায়ায়......
ব্যাখ্যা
• 'গীতাঞ্জলি' ও  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- গীতাঞ্জলি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) রচিত অন্যতম একটি কাব্যগ্রন্থ (মূলত গানের সংকল)।
- এই গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- বাংলা গীতাঞ্জলি (রচনাকাল, ১৯০৮-১৯০৯) কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদগ্রন্থ The Song Offerings।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল বিজয়ী Gitanjali (গীতাঞ্জলী) কাব্য গ্রন্থের ইংরেজি ভার্সনের ভূমিকা লিখেছিলেন আরেক নোবেল বিজয়ী কবি ডব্লিউ WB Yeats.
- বাংলা গীতাঞ্জলি হলো ১৫৭টি গীতিকবিতার সংকলন আর ইংরেজি গীতাঞ্জলী হলো ১০৩ টি গীতি কবিতার সংকলন।
- বাংলা গীতাঞ্জলী থেকে ইংরেজি গীতাঞ্জলিতে ৫৩টি কবিতা/গানকে স্থান দিয়েছেন। অবশিষ্ট ৫০টি কবিতা/গান নিয়েছেন ৯টি কাব্যগ্রন্থ থেকে, যেমন-গীতিমাল্য থেকে ১৬টি, নৈবেদ্য থেকে ১৫টি, খেয়া থেকে ১১টি, শিশু থেকে ৩টি, কল্পনা থেকে ১টি, চৈতালি থেকে ১টি, উৎসর্গ থেকে ১টি, স্মরণ থেকে ১টি এবং অচলায়তন নাটক থেকে ১টি।

গীতাঞ্জলিতে সংকলিত প্রথম গান হলো -

"আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার
চরণধুলার তলে।

সকল অহংকার হে আমার
ডুবাও চোখের জলে।

নিজেরে করিতে গৌরব দান
নিজেরে কেবলই করি অপমান,
আপনারে শুধু ঘেরিয়া ঘেরিয়া
ঘুরে মরি পলে পলে।

সকল অহংকার হে আমার
ডুবাও চোখের জলে।
-----------
----------"



রবীন্দ্রনাথ ঠকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী,
- সোনার তরী, 
- চিত্রা ,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা। 

সূত্র: গীতাঞ্জলি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩১.
জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. মাল্যবান
  2. রূপসী বাংলা
  3. কল্যাণী
  4. সতীর্থ
ব্যাখ্যা
⇒ ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থ: 
• জীবনানন্দ দাশ রচিত ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় কবির মৃত্যুর পর, ১৯৫৭ সালে।
• গ্রন্থটি উৎসর্গ কারা হয় ‘আবহমান বাংলা, বাঙালী’কে।
• ‘সেইদিন এই মাঠ’ রূপসীয় বাংলা কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা। কবিতার স্তবক-সংখ্যা দুটি। প্রমথটি নয় পঙক্তি বিশিষ্ট দ্বিতীয়টি চার পঙক্তির।

⇒ জীবনানন্দ দাশ:

- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- মাল্যবান;
- সতীর্থ;
- কল্যাণী।

• জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক, [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
৩২.
“আমি কবি, আমি অপ্রকাশ সত্যকে প্রকাশ করার জন্য, অমূর্ত সৃষ্টিকে মূর্তিদানের জন্য ভববান কর্তৃক প্রেরিত।”- উক্তিটি কার রচনা?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

⇒ রাজবন্দীর জবানবন্দী:
- 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' কাজী নজরুল ইসলামের লিখিত একটি প্রবন্ধ।
- এটি চার পৃষ্ঠার বক্তব্য যা তিনি আদালতে লিখিতভাবে উপস্থাপন করে।
- তিনি ১৯২৩ সালে প্রেসিডেন্সি জেলে বসে এই চার পৃষ্ঠার জবানবন্দি রচনা করেন।

• ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ প্রবন্ধটি লেখার কারণবিশেষ:
- কাজী নজরুল ইসলাম ধূমকেতু পত্রিকার ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯২২ সংখ্যায় নজরুলের কবিতা আনন্দময়ীর আগমনে প্রকাশিত হলে, এই পত্রিকার উক্ত সংখ্যাটি নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়।
- একই বছরের ২৩ নভেম্বর তার যুগবাণী প্রবন্ধগ্রন্থ বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং একই দিনে তাকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে কুমিল্লা থেকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। 
- তাকে আটক করে তাঁর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি লিখিতভাবে আদলতে উপস্থাপন করেন মাত্র চার পৃষ্ঠার বক্তব্য।
- যা 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' নামে পরবর্তিতে প্রকাশিত হয়। 
- নজরুল আদালতে লিখিত 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' দিয়ে এবং প্রায় চল্লিশ দিন একটানা অনশন করে ইংরেজ সরকারের জেল-জুলুমের প্রতিবাদ জানিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন।

- ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’র শুরুতে কবি কাজী নজরুল ইসলাম উচ্চকণ্ঠে বলেছেন:
 'আমার উপর অভিযোগ, আমি রাজবিদ্রোহী। তাই আমি আজ কারাগারে বন্দী এবং রাজদ্বারে অভিযুক্ত। একাধারে-রাজার মুকুট; আর ধারে ধূমকেতুর শিখা। একজন রাজা হাতে রাজদণ্ড; অন্যজন সত্য, হাতে ন্যায়দণ্ড। রাজার পক্ষে রাজার নিযুক্ত রাজ বেতনভোগী রাজ-কর্মচারী। আমার পক্ষে সব রাজার রাজা, সব বিচারকের বিচারক, আদি অনন্তকাল ধরে সত্য-জাগ্রত ভগবান।'

তিনি আরো বলেছেন-
'আমি কবি, আমি অপ্রকাশ সত্যকে প্রকাশ করার জন্য, অমূর্ত সৃষ্টিকে মূর্তিদানের জন্য ভগবান কর্তৃক প্রেরিত। কবির কণ্ঠে ভগবান সাড়া দেন। আমার বাণী সত্যের প্রকাশিকা, ভগবানের বাণী। সে বাণী রাজ-বিচারে রাজদ্রোহী হতে পারে, কিন্তু ন্যায়বিচারে সে বাণী ন্যায়-দ্রোহী নয়, সত্যদ্রোহী নয়। সে বাণী রাজদ্বারে দণ্ডিত হতে পারে, কিন্তু ধর্মের আলোকে, ন্যায়ের দুয়ারে তা নিরপরাধ, নিষ্কলুষ, অম্লান, অনির্বাণ, সত্যস্বরূপ।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।