পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন২৬
সিলেবাস
বিসিএস প্রিলি সিলেবাসের গুরুত্বপূর্ণ টপিকসমূহের উপর বিশেষ পরীক্ষা - ০৭ টপিক-১: বাংলা ব্যাকরণ - পদ, সন্ধি, প্রত্যয় ও সমাস। টপিক-২: বাংলাদেশ বিষয়াবলি - বঙ্গবন্ধু, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ। দ্রষ্টব্য: ৭ নভেম্বর, ২০২১ তারিখ থেকে ৪৪তম বিসিএস প্রস্তুতির নতুন রুটিন শুরু হবে। ডেইলি কুইজ ও নতুনদের বিসিএস বাটনে একযোগে পরীক্ষা চলবে।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২৬ প্রশ্ন

.
নিচের কোনটি কালনাম শ্রেণির নাম-বিশেষ্য?
  1. ক) আষাঢ়
  2. খ) হিমালয়
  3. গ) আকাশ
  4. ঘ) পবন
ব্যাখ্যা
নাম বিশেষ্যঃ ব্যক্তি, স্থান, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম বিশেষ্য বলে
যেমন-
ব্যক্তিনামঃ হাবিব, সজল, লতা, পাতা।
স্থাননামঃ ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনামঃ সোমবার, জানুয়ারি, বৈশাখ, রমজান।
সৃষ্টিনামঃ গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (৯ম - ১০ম শ্রেণী) ২০২১ সালের এডিশন।
 
.
সে লালন গীতি শিখতে কুষ্টিয়া যায়। এখানে 'শিখতে' কোন ধরনের ক্রিয়া?
  1. ক) সমাপিকা ক্রিয়া
  2. খ) ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া
  3. গ) ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়া
  4. ঘ) শর্ত অসমাপিকা ক্রিয়া
.
নিচের কোনটি বিদেশি অব্যয় বাচক শব্দের উদাহরণ?
  1. ক) ও
  2. খ) আপাতত
  3. গ) বরং
  4. ঘ) শাবাশ
ব্যাখ্যা
বাংলা অব্যয় শব্দ - আর, আবার, ও, হ্যাঁ।
তৎসম অব্যয় শব্দ - যদি, যথা, সহসা, আপাতত, বরং।
বিদেশী অব্যয় শব্দ - আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (৯ম - ১০ম শ্রেণী)
.
অ/আ + অ/আ = আ সূত্রের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) উত্তরাধিকার
  2. খ) জনৈক
  3. গ) অতীন্দ্রিয়
  4. ঘ) নাবিক
ব্যাখ্যা
অ/আ + অ/আ = আ, উত্তর + অধিকার = উত্তরাধিকার
অ/আ + এ/ঐ = ঐ, জন + এক = জনৈক
ই/ঈ + ই/ঈ = ঈ , অতি + ইন্দ্রিয় = অতীন্দ্রিয়
ঔ + অন্য স্বর = আব স্বর, নৌ + ইক = নাবিক
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (৯ম - ১০ম শ্রেণী)
.
স্বরের সঙ্গে স্বরের যে সন্ধি হয় তাকে কোন সন্ধি বলে?
  1. ক) স্বর সন্ধি
  2. খ) ব্যঞ্জন সন্ধি
  3. গ) বিসর্গ সন্ধি
  4. ঘ) স্বর-ব্যঞ্জন সন্ধি
ব্যাখ্যা
স্বরধ্বনি এর সাথে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
যেমন -
উত্তর + অধিকার = উত্তরাধিকার
মহা + ঋষি = মহর্ষি
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (৯ম - ১০ম শ্রেণী)
.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি নয়?
  1. ক) গবাক্ষ
  2. খ) কুলটা
  3. গ) শয়ন
  4. ঘ) অন্যান্য
ব্যাখ্যা
কোন স্বরসন্ধি সূত্র অনুসরণ করে না তাদেরকে নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি বলে।
যেমন-
- কুল + অটা = কুলটা,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ়,
- অন্য + অন্য = অন্যান্য ইত্যাদি
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (৯ম - ১০ম শ্রেণী)
.
নিচের কোনটিতে বিসর্গ 'ও' তে রূপান্তরিত হয়েছে?
  1. ক) নীরোগ
  2. খ) আরোগ্য
  3. গ) ভৌগোলিক
  4. ঘ) তিরোধান
ব্যাখ্যা
বিসর্গ 'ও' হয়ে যায় - তিরঃ + ধান = তিরোধান, মনঃ + যোগ = মনোযোগ
কিছু কিছু সন্ধিতে পূর্ববর্তী স্বর দীর্ঘ হয় - নিঃ + রব = নীরব, নিঃ + রোগ = নীরোগ
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (৯ম - ১০ম শ্রেণী)
.
ফারসি প্রত্যয় নয় কোনটি?
  1. ক) গর
  2. খ) দার
  3. গ) বাজ
  4. ঘ) সা
ব্যাখ্যা
- ওয়ালা, ওয়ান, আনা,সা প্রভৃতি হিন্দি প্রত্যয়।
- অন্যদিকে গর, দার, বাজ, বন্দি প্রভৃতি ফারসি প্রত্যয়।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
.
নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) কুলটা
  2. খ) গবাক্ষ
  3. গ) মার্তণ্ড
  4. ঘ) তস্কর
ব্যাখ্যা
কতকগুলো নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি হলো - আশ্চর্য, বৃহস্পতি, মনীষা, গোষ্পদ, তস্কর, ষোড়শ, বনস্পতি, পরস্পর, একাদশ, পতঞ্জলি ইত্যাদি।

এছাড়া কুলটা, গবাক্ষ ও মার্তন্ড নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি।

[সূত্র: ৯ম-১০ম শ্রেণীর বোর্ড বই]
১০.
'তেলে ভাজা = তেলে ভাজা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) সপ্তমী তৎপুরুষ
  2. খ) তৃতীয়া তৎপুরুষ
  3. গ) উপপদ তৎপুরুষ
  4. ঘ) অলুক তৃতীয়া তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
পূর্বপদের তৃতীয়া বিভক্তির দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি লোপ না হলে অলুক তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যেমন : তেলে ভাজা (তেল দিয়ে ভাজা) = তেলেভাজা। এরূপ- কলেছাঁটা, তাঁতেবোনা, হাতেকাটা ইত্যাদি।
[সূত্র: ৯ম-১০ম শ্রেণীর বোর্ড বই]
১১.
কোন বস্তুর সংখ্যা বা পরিমাণ বোঝাতে কোন পদ ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) সংখ্যাবাচক বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) অব্যয়
ব্যাখ্যা
যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়া পদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
১২.
কয়টি সমাসের সাথে ‘অলুক’ কথাটি যুক্ত আছে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৬
ব্যাখ্যা
তিনটি সমাসের সাথে অলুক কথাটি আছে।
১) অলুক দ্বন্দ্বসমাস
২) অলুক তৎপুরুষসমাস
৩) অলুক বহুব্রীহি সমাস
১৩.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে নির্মিতব্য বায়োপিকের চিত্রনাট্যকার হচ্ছেন -
  1. ক) অতুল তিওয়ারি
  2. খ) শ্যাম বেনেগাল
  3. গ) শামা জাইদি
  4. ঘ) ক ও গ উভয়ে
ব্যাখ্যা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হচ্ছে বায়োপিক 'বঙ্গবন্ধু'।
পরিচালক: ভারতের শ্যাম বেনেগাল। সহযোগী পরিচালক দয়াল নিহালানি।
চিত্রনাট্য: অতুল তিওয়ারি এবং শামা জাইদি।
এতে বঙ্গবন্ধু চরিত্রে অভিনয় করবেন আরিফিন শুভ। এছাড়া অন্যান্য চরিত্রে আরও ৪৯ জন বাংলাদেশি তারকা অভিনয় করবেন।
(সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো)

 
১৪.
‘বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিব ইনস্টিটিউট ফর পিস অ্যান্ড লিবার্টি' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ঢাকা
  2. খ) কলকাতা
  3. গ) থিম্পু
  4. ঘ) ফ্রি টাউন
ব্যাখ্যা
মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিব ইনস্টিটিউট ফর পিস অ্যান্ড লিবার্টি’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
গত ১৪ জুন ২০২০ এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর প্রথম পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান অধ্যাপক ড. ফখরুল আলম।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষণার জন্যে এটিই দেশে স্থাপিত প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ।
সূত্র: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার।
১৫.
ভাষা আন্দোলনের ঘটনা পরিক্রমায় গঠিত প্রথম সংগঠন কোনটি?
  1. ক) রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
  2. খ) তমদ্দুন মজলিশ
  3. গ) সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
  4. ঘ) পূর্ব পাকিস্তান ভাষা কমিটি
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ:
তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিলো - বাংলা ভাষার মাধ্যমে সংস্কৃতির সেবা করা। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাংলা ভাষার পক্ষে সংস্থাটির ভূমিকা ছিলো প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
- তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো - সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)। শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর।

১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে বাংলা ভাষার পক্ষে তমদ্দুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা - ৪৯ ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
১৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের বিরোধিতাকারী দেশ নয় কোনটি?
  1. ক) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
  2. খ) ইরান
  3. গ) সোভিয়েত ইউনিয়ন
  4. ঘ) সৌদি আরব
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইরান, সৌদি আরবসহ বেশ কিছু দেশ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।
- এদের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তানকে সাহায্য করতে বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশ্যে টাস্কফোর্স-৭৪ নামে নৌবহর প্রেরণ করে।
- তবে মার্কিন জনগণ, গণমাধ্যম ও কিছু কংগ্রেসম্যান পাকিস্তানী বর্বরতার নিন্দা জানায় এবং বাঙালিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে।

অন্যদিকে,
- ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ইরাকসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নেয়।
- যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা, ইতালিসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সাধারণ জনগণ ও প্রচারমাধ্যমসমূহে পাকিস্তানী বর্বরতার নিন্দা জানানো হয়।
- লন্ডন ছিলো বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের প্রধান প্রচারকেন্দ্র।

তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।

১৭.
কোন সংশ্লিষ্টতার কারণে ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১১ই সেপ্টেম্বর ফরিদপুরে আন্দোলন করার জন্য বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়?
  1. ক) কর্ডন প্রথা বিরোধী আন্দোলন
  2. খ) বাংলা ভাষার পক্ষে প্রচারণা
  3. গ) দাওয়ালদের বিপক্ষে আন্দোলন
  4. ঘ) ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা

১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে দেশ ভাগের পরপরই দেশের অভ্যন্তরে ধান-চাল চলাচলে ‘কর্ডন প্রথা’ চালু করা হয়। ‘কর্ডন প্রথা’ চালু করা হয়েছিল তৎকালীন পূর্ব-বাংলার ১৭টি জেলাতে। যে সমস্ত জেলায় তখন ‘কর্ডন প্রথা’ চালু ছিল সেসব জেলার বাইরে কোনো ধান-চাল বেসরকারিভাবে প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। প্রান্তিক চাষিদের জন্য লড়াই করতে গিয়েই তিনি ১৯৪৮-৪৯ সালে ‘দাওয়াল’ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

এ কর্ডন প্রথার বিরুদ্ধে ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১১ই সেপ্টেম্বর ফরিদপুরে আন্দোলন করার জন্য বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয় এবং  ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দের ২১ শে জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু কারাগার থেকে মুক্তি পান।

অসমাপ্ত আত্মজীবনী থেকে কিছু অংশ উদ্ধৃত করা হল -
এই সময় খাদ্য সমস্যা দেখা দিয়েছিল কয়েকটা জেলায়। বিশেষ করে ফরিদপুর, কুমিল্লা ও ঢাকা জেলার জনসাধারণ এক মহাবিপদের সম্মুখীন হয়েছিল। সরকার কর্ডন প্রথা চালু করেছিল। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় কোনো খাদ্য যেতে দেওয়া হত না। ফরিদপুর ও ঢাকা জেলার লোক, খুলনা ও বরিশাল ধান কাটবার মরশুমে দল বেঁধে দিনমজুর হিসাবে যেত। এরা ধান কেটে ঘরে উঠিয়ে দিত। পরিবর্তে একটা অংশ পেত। এদের ‘দাওয়াল’ বলা হত। হাজার হাজার লোক নৌকা করে যেত। আসবার সময় তাদের অংশের ধান নিজেদের নৌকা করে বাড়িতে নিয়ে আসত। এমনিভাবে কুমিল্লা জেলার দাওয়ালরা সিলেট জেলায় যেত। এরা প্রায় সকলেই গরিব ও দিনমজুর। প্রায় দুই মাসের জন্য ঘরবাড়ি ছেড়ে এদের যেতে হত। যাবার বেলায় মহাজনদের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে সংসার খরচের জন্য দিয়ে যেত। ফিরে এসে ধার শোধ করত। দাওয়ালদের নৌকা খুবই কম ছিল। যাদের কাছ থেকে নৌকা নিত তাদেরও একটা অংশ দিতে হত। যখন এবার দাওয়ালরা ধান কাটতে গেল, কেউ তাদের বাধা দিল না। এরা না গেলে আবার জমির ধান তুলবার উপায় ছিল না। একসাথেই প্রায় সব ধান পেকে যায়, তাই তাড়াতাড়ি কেটে আনতে হয়। স্থানীয়ভাবে এত কৃষাণ একসাথে পাওয়া কষ্টকর ছিল। বহু বৎসর যাবৎ এই পদ্ধতি চলে আসছিল।

ফরিদপুর, ঢাকা ও কুমিল্লা জেলার হাজার হাজার লোক এই ধানের উপর নির্ভর করত। দাওয়ালরা যখন ধান কাটতে যায়, তখন সরকার কোনো বাধা দিল না। যখন তারা দুই মাস পর্যন্ত ধান কেটে তাদের ভাগ নৌকায় তুলে রওয়ানা করল বাড়ির দিকে তাদের বুভুক্ষ মা-বোন, স্ত্রী ও সন্তানদের খাওয়াবার জন্য, যারা পথ চেয়ে আছে, আর কোনো মতে ধার করে সংসার চালাচ্ছে- কখন তাদের, স্বামী, ভাই, বাবা ফিরে আসবে ধান নিয়ে, পেট ভরে কিছুদিন ভাত খাবে, এই আশায়- তখন নৌকায় রওয়ানা করার সাথে সাথে তাদের পথ রোধ করা হল। ‘ধান নিতে পারবে না, সরকারের হুকুম’, ধান জমা দিয়ে যেতে হবে, নতুবা নৌকাসমেত আটক ও বাজেয়াপ্ত করা হবে। সহজে কি ধান দিতে চায়? শেষ পর্যন্ত সমস্ত ধান নামিয়ে রেখে লোকগুলিকে ছেড়ে দেওয়া হল। এ খবর পেয়ে আমার পক্ষে চুপ করে থাকা সম্ভব হল না। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ করলাম। সভা করলাম, সরকারি কর্মচারীদের সাথে সাক্ষাৎ করলাম কিন্ত কোনো ফল হল না। এদিকে খোন্দকার মোশতাক আহমদ এই কর্ডনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা শুরু করেছে বলে আমি খবর পেলাম। অনেক সভা-সমিতি, অনেক প্রস্তাব করলাম কোনো ফল হল না। এই লোকগুলি দিনমজুর। দুই মাস পর্যন্ত যে শ্রম দিল, তার মজুরি তাদের মিলল না। আর মহাজনদের কাছ থেকে যে টাকা ধার করে এনেছিল এই দুই মাসের খরচের জন্য, খালি হাতে ফিরে যাওয়ার পরে দেনার দায়ে ভিটাবাড়িও ছাড়তে হল।
... ... ...

১৮.
জাতীয় স্মৃতিসৌধের ৭টি ফলক কী নির্দেশ করে?
  1. ক) ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠকে
  2. খ) ৭টি বিভাগকে (অতীতের)
  3. গ) ৭ কোটি মানুষকে (মুক্তিযুদ্ধকালীন)
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতিসৌধ সাভারে অবস্থিত। জাতীয় স্মৃতিসৌধের ফলক সাতটি।
স্বাধীনতা আন্দোলনের সাতটি ঐতিহাসিক পর্যায়ের জন্য স্মৃতিসৌধে ফলক সংখ্যা ৭টি রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহাসিক পর্যায় সাতটি।
পর্যায়গুলো হলো-
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন;
- ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন;
- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র আন্দোলন;
- ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন;
- ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন;
- ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং
- ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৯.
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ কমান্ড গঠিত হয় কত তারিখে?
  1. ক) ২৫ নভেম্বর
  2. খ) ৫ ডিসেম্বর
  3. গ) ২১ নভেম্বর
  4. ঘ) ১ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ২১শে নভেম্বর ভারতীয় সশ্বস্ত্রবাহিনী এবং বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ কমান্ড গঠিত হয়।
৩ ডিসেম্বর পাকিস্তান ভারতের পশ্চিমাঞ্চলে বিমান হামলা চালালে ভারতীয় বাহিনী সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী বাহিনী যৌথ কমান্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে।

সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
২০.
বাঙালির ‍মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা-
  1. ক) ছয়দফা আন্দোলন
  2. খ) মুক্তিযুদ্ধ
  3. গ) ভাষা আন্দোলন
  4. ঘ) উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা

বাঙালির ‍মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

অন্যদিকে,
- শিক্ষা আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯৬২ সালে।
- ছয়দফা আন্দোলন আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯৬৬-৬৮ সময়ে।
- মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৭১ সালে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী

২১.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য হিসেবে অন্যগুলোর চেয়ে আলাদা?
  1. ক) আগুনের পরশমণি
  2. খ) ১৯৭১
  3. গ) স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা
  4. ঘ) অনিল বাগচীর একদিন
ব্যাখ্যা

দুইভাবে আলাদা করা যেতে পারে।
১)  'স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা' মমতাজ উদ্দিন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক এবং বাকিগুলো উপন্যাস।
২) গ অপশনটি ছাড়া বাকী তিনটির (উপন্যাস) রচয়িতা হুমায়ূন আহমেদ।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস -
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- ১৯৭১,
- অনীল বাগচীর একদিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২২.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠাকাল-
  1. ক) ১৯৯৭
  2. খ) ১৯৯৯
  3. গ) ২০০১
  4. ঘ) ২০০৯
ব্যাখ্যা

২৩ অক্টোবর, ২০০১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
এই মন্ত্রণালয়ের প্রথম মন্ত্রী ছিলেন রেদোয়ান আহমেদ। বর্তমানে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হলেন আ ক ম মোজাম্মেল হক।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ/সংগঠনসমূহঃ
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, স্বাধীনতা স্তম্ভ কমপ্লেক্স, মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্স, মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ ইত্যাদি।

উৎসঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।

২৩.
মুক্তিযুদ্ধের নৌ সেক্টর কোনটি ছিল?
  1. ক) ১নং
  2. খ) ১০নং
  3. গ) ১১নং
  4. ঘ) ৭নং
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় একমাত্র ব্যতিক্রমধর্মী সেক্টর হল ১০ নং সেক্টর (নৌ সেক্টর)।

একে ৩টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়। এ সেক্টরে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলেন না।
এটি সরাসরি প্রধান সেনাপতির অধীনে ছিল।

উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।

২৪.
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে বীর বিক্রম খেতাব পাওয়া ইউ কে চিং কোন সম্প্রদায়ের?
  1. ক) চাকমা
  2. খ) মারমা
  3. গ) মুরং
  4. ঘ) মণিপুরী
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালে তিনি রংপুর ইপিআর উইংয়ের অধীন লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা বিওপিতে কর্মরত ছিলেন। প্রতিরোধযুদ্ধে অংশ নেওয়ার পর তিনি পাটগ্রাম এলাকায় অবস্থান নেন। পরে ৬ নম্বর সেক্টরের অধীন সাহেবগঞ্জ সাব-সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- বীর বিক্রম খেতাধারী ইউকে চিং মারমা বৃহত্তর রংপুরে যুদ্ধ করেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশারের অধীনে।
- ৮নং হবে না কারণ ৮নং হচ্ছে বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর অঞ্চল নিয়ে।

সূত্র: একাত্তরের বীরযোদ্ধা: খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা, প্রথম খণ্ড, প্রথমা প্রকাশন, ঢাকা ২০১২ এবং বাংলাদেশ গেজেট-এক্সট্রা অর্ডিনারি,মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়।

২৫.
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীর উত্তম’ পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য কতজন?
  1. ক) ৬৭
  2. খ) ৪৮
  3. গ) ৬৮
  4. ঘ) ৫০
ব্যাখ্যা

১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন
- বীর উত্তম - ৬৮ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন
- বীর প্রতীক - ৪২৬ জন

তাদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত চারজন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম) [সেনাবাহিনী]
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)

∴ বর্তমানে (২০২১) মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারীর সংখ্যা - মোট ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৭ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৪ জন
- বীর প্রতীক - ৪২৪ জন

এবার আমাদের প্রশ্নে আসা যাক,
বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীর উত্তম’ পদক প্রাপ্ত -
সেনাবাহিনী - ৪৮ [লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিমকে বাদ দিয়ে]
নৌ বাহিনী - ৮
বিমান বাহিনী - ৬
গণবাহিনী - ৫

এছাড়া, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে শহীদ হন কর্ণেল জামিল। তিনি ২০০৯ সালে বীর উত্তম উপাধি পান।
অর্থাৎ, শুধুমাত্র মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীর উত্তম’ পদকপ্রাপ্ত সেনাবাহিনী থেকে - ৪৮ জন
এবং কর্ণেল জামিলসহ ‘বীর উত্তম’ পদকপ্রাপ্ত সেনাবাহিনী থেকে - ৪৯ জন

তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।

২৬.
কোন নদীকে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে?
  1. ক) হালদা
  2. খ) মধুমতি
  3. গ) পুরাতন কুমার
  4. ঘ) পদ্মা
ব্যাখ্যা

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীকে ‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

সূত্র: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার।