পরীক্ষা আর্কাইভ

IBA ফ্যাকাল্টি ভিত্তিক প্রস্তুতি

পরীক্ষাIBA ফ্যাকাল্টি ভিত্তিক প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়08 minutes
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৪৬ বিষয়: সাধারণ জ্ঞান - ৭ টপিক: ১. বাংলাদেশ ও উপমহাদেশের ইতিহাস [ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তানি শাসন - ১৯৭০ এর নির্বাচন পর্যন্ত], ২. সংবিধান।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

IBA ফ্যাকাল্টি ভিত্তিক প্রস্তুতি

IBA ফ্যাকাল্টি ভিত্তিক প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
Under whose presidency was the 'All-Party Central State Language Struggle Council' formed?
  1. M. R. Mahbub
  2. Qamruddin Ahmed
  3. Abdul Hamid Khan Bhashani
  4. Nurul Haque Bhuiyan
  5. Kazi Golam Mahbub
সঠিক উত্তর:
Abdul Hamid Khan Bhashani
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Abdul Hamid Khan Bhashani
ব্যাখ্যা

সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ:
- ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
- কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫২ সালের জানুয়ারিতে খাজা নাজিমুদ্দিন পূর্ব বাংলার প্রধান মন্ত্রীর পদ ছেড়ে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকা সফরে আসেন। ২৭ জানুয়ারি পল্টন ময়দানের জনসভায় তিনিও জিন্নাহর মতো ঘোষণা করেন, 'উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।' এর প্রতিবাদে ভাষা আন্দোলন নতুন করে শুলুহয়ে যায়। এবার প্রতিবাদে ফেটে পড়ে ছাত্র জনতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ৩০ জানুয়ারি সভা ও ছাত্র ধর্মঘট আহ্বান করে। সংগ্রাম পরিষদের আহ্বানে ৪ ফেব্রুয়ারি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র ধর্মঘট আহবান করা হয়। ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়। কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এই সভায় ২১ ফেব্রুয়ারি পূর্ববাংলা ব্যবস্থাপক পরিষদের বাজেট অধিবেশনের দিন দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

উৎস: i) ইতিহাস ২য়, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।

.
Which amendment abolished the post of Vice President in Bangladesh?
  1. 5h Amendment
  2. 10th Amendment
  3. 12th Amendment
  4. 13th Amendment
  5. 15th Amendment
সঠিক উত্তর:
12th Amendment
উত্তর
সঠিক উত্তর:
12th Amendment
ব্যাখ্যা

সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে উপরাষ্ট্রপতির পদ বিলুপ্ত করা হয়।

সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী:

- এই সংশোধনী আইন পাস হয় ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট।
- এ সংশোধনীর মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হল রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন।

• দ্বাদশ সংশোধনী:
(১) সংসদীয় সরকার: দ্বাদশ সংশোধনীর প্রধান দিক হল সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন। এ সংশোধনীর দ্বারা বাংলাদেশের সরকার পদ্ধতি পরিবর্তন করা হয়। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়।
(২) নামমাত্র রাষ্ট্রপতি: এ সংশোধনীর দ্বারা বাংলাদেশে একজন নামমাত্র রাষ্ট্রপতি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। তিনি আইনানুসারে সংসদ সদস্য দ্বারা নির্বাচিত হবেন। তিনি যাবতীয় বিষয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শক্রমে কাজ করবেন।
(৩) রাষ্ট্রপতির মেয়াদ: এ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির মেয়াদ নির্ধারিত হয়। রাষ্ট্রপতি ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন। একাধিক্রমে তিনি ১০ বছরের বেশি মেয়াদে ক্ষমতায় থাকবেন না।
(৪) উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলোপ: উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলোপ দ্বাদ্বশ সংশোধনীর একটি উল্লেখযোগ্য দিক। দ্বাদশ সংশোধনীর দ্বারা উপ-রাষ্ট্রপতির পদটি বিলোপ করা হয়। এ সংশোধনীতে বলা হয়, কোন কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে জাতীয় সংসদের স্পীকার অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
(৫) মন্ত্রিসভা গঠন: মন্ত্রিসভা গঠন পদ্ধতি সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর একটি বিশেষ দিক। এ সংশোধনীতে বলা হয় বাংলাদেশ সরকার ব্যবস্থায় একটি মন্ত্রিসভা থাকবে। রাষ্ট্রপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের আস্থাভাজন ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করবেন। তিনি হবেন এ মন্ত্রিসভার নেতা।
(৬) গণভোট পদ্ধতি: এ সংশোধনীতে গণভোট পদ্ধতির কথা বলা হয়। দ্বাদশ সংশোধনী দ্বারা কেবল প্রস্তাবনা, সংবিধানের প্রস্তাবনা, অনুচ্ছেদ ৮, ৪৮, ৫৬ ও ১৪২ সংক্রান্ত কোন সংশোধনী বিল গণভোট আকারে পেশ করার বিধান রাখা হয়।

উৎস: i) BBC.
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
In which point of the United Front’s 21-point demand was the demand made to declare 21 February as Shaheed Day?
  1. 14th
  2. 16th
  3. 18th
  4. 19th
  5. 21st
সঠিক উত্তর:
18th
উত্তর
সঠিক উত্তর:
18th
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা:
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা ছিল নিম্নরূপ:
১. বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা,
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা,
৩. পাটের ব্যবসা জাতীয়করণ করা,
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা,
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা,
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা,
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা,
৮. পূর্ব পাকিস্তানে শিল্প কারখানা গড়ে তোলা,
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা,
১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা,
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা,
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা,
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা,
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা,
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা,
১৬. বাংলা ভাষা গবেষণার জন্য বর্ধমান হাউজে বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠা করা,
১৭. রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবিতে নিহত শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে মিনার নির্মাণ করা,
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করা,
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন কায়েম করা,
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনভাবেই বৃদ্ধি না করা,
২১. পরিষদের কোন সদস্য পদ খালি হলে তিন মাসের মধ্যে উপ-নির্বাচনের ব্যবস্থা করা,
২১ দফা ছিল আসলে পূর্ববাংলার মানুষের অধিকারের দলিল। সুতরাং এই ২১ দফা ইস্তেহার দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে।


উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
In which Article of the Constitution is it stated that “judicial officers shall be independent in the exercise of their judicial functions”?
  1. Article 104
  2. Article 106
  3. Article 112
  4. Article 116A
  5. Article 122
সঠিক উত্তর:
Article 116A
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Article 116A
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৬ক নং অনুচ্ছেদ: 
- সংবিধানের ১১৬ক নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, বিচারবিভাগীয় কর্মচারীগণ বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন। 
- অনুচ্ছেদ অনুসারে, বিচার-কর্মবিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিগণ এবং ম্যাজিস্ট্রেটগণ বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবেন।

অন্যদিকে,
- ১০৪ নং অনুচ্ছেদ: আপীল বিভাগের পরোয়ানা জারী ও নির্বাহ।
- ১০৬ নং অনুচ্ছেদ: সুপ্রীম কোর্টের উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার। 
- ১১২ নং অনুচ্ছেদ: সুপ্রীম কোর্টের সহায়তা।
- ১২২ নং অনুচ্ছেদ: ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

.
“Collection of rent (tax) from land is contrary to the law of Allah”—whose declaration was this?
  1. Mir Nisar Ali
  2. Fakir Majnu Shah
  3. Dudu Miah
  4. Haji Shariatullah
  5. All of them
সঠিক উত্তর:
Dudu Miah
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Dudu Miah
ব্যাখ্যা

দুদু মিয়া:
- "জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থী"- এটি ফরায়েজী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা দুদু মিয়ার ঘোষণা।

উল্লেখ্য,
- দুদু মিয়া হাজী শরীয়তউল্লাহর একমাত্র পুত্র। তাঁর আসল নাম মুহসীনউদ্দীন।
- ১৮৪০ সালে পিতার মৃত্যুর পর দুদু মিয়া ফরায়েজী আন্দোলন এর নেতৃত্ব লাভ করেন।
- শিক্ষাগ্রহণের জন্য তিনি প্রায় পাঁচ বছর মক্কায় অতিবাহিত করেন এবং পিতার অসুস্থতার কারণে ১৯ বছর বয়সে দেশে ফিরে আসেন। 
- দুদু মিয়াকে ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লব এর পর সরকার বন্দি করে। ১৮৬১ সালে মুক্তির পূর্বপর্যন্ত কলকাতার নিকটবর্তী আলীপুর জেলে তাঁকে আটক রাখা হয়। ১৮৬২ সালে ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।  

• দুদু মিয়ার নেতৃত্বেই ফরায়েজি আন্দোলন অনেক বেশি শক্তিশালী রাজনৈতিক-সামাজিক আন্দোলনের চরিত্র লাভ করে।
- দুদু মিয়া মনে করতেন, বিশ্বের মালিক ও প্রতিপালক একমাত্র আল্লাহ্। সুতরাং ভূসম্পত্তিসহ সকল প্রকার পার্থিব সম্পত্তি ও সম্পদের মালিকও আল্লাহ্। তাই কর বা খাজনা যদি দিতে হয়, তবে তা আল্লাহ্ পথে দিতে হবে, কোন ব্যক্তিকে নয়। তিনি ঘোষণা করেন ‘জমির মালিকানা কৃষকের’।
- সে সময়কার জমিদারেরা রায়তদের ওপর যে সমস্ত খাজনা ও কর আরোপ করেছিল, দুদু মিয়া সেগুলোকে বেআইনি ও নীতি-বিরুদ্ধ বলে ঘোষণা দেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
According to the Constitution of Bangladesh, which one is a Private Bill?
  1. A bill introduced by a minister
  2. A Bill introduced by a Member of Parliament
  3. A bill introduced by members of the opposition party
  4. A bill approved by the Speaker
  5. A bill proclaimed by the President
সঠিক উত্তর:
A Bill introduced by a Member of Parliament
উত্তর
সঠিক উত্তর:
A Bill introduced by a Member of Parliament
ব্যাখ্যা

বিল:
- আইনের প্রাথমিক প্রস্তাবকে সংসদীয় ভাষায় বিল বলা হয়।
- আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে সংসদে আনীত প্রত্যেকটি প্রস্তাব বিল আকারে উত্থাপিত হয়।
- বিল দুই প্রকার। যথা- সরকারি বিল ও বেসরকারি বিল।

• বেসরকারি বিল:
- যে বিল সাধারণ সংসদ সদস্যদের দ্বারা উত্থাপিত হয় তাকে বেসরকারি বিল বলে।
- সংসদের ৭২(১) বিধি অনুসারে মন্ত্রী ব্যতীত সকল সংসদ সদস্য সংসদে বেসরকারি বিল উত্থাপনের নোটিশ দিতে পারে।
- বেসরকারি বিল উত্থাপনের জন্য ১৫ দিনের নোটিশ প্রয়োজন হয়।

অন্যদিকে,
- সরকারি বিল: যে বিল মন্ত্রীদের দ্বারা উত্থাপিত হয় তাকে সরকারি বিল বলে। সরকারি বিল উত্থাপনের জন্য ৭ দিন সময়।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) সংসদ সচিবালয় ওয়েবসাইট।

.
For the attempted assassination of which English official was Khudiram Bose executed?
  1. Douglas Kingsford
  2. William Hudson
  3. Robert Simpson
  4. Lord Hardinge
  5. None of the above
সঠিক উত্তর:
Douglas Kingsford
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Douglas Kingsford
ব্যাখ্যা

ক্ষুদিরাম বসু:
- ব্রিটিশ ম্যাজিস্ট্রেট ডগলাস কিংসফোর্ডকে হত্যার প্রচেষ্টার অভিযোগে বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুকে ফাঁসি দেয়া হয়।
- ১৯০৮ সালের ৩০ এপ্রিল বিহারের মুজাফফরপুরে কিংসফোর্ডের গাড়িতে বোমা নিক্ষেপ করেন তিনি, তবে গাড়িতে কিংসফোর্ড না থাকায় ব্যারিস্টার কেনেডির স্ত্রী ও কন্যা নিহত হন। এই ঘটনার পর ১১ই আগস্ট, ১৯০৮ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে তাঁর ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

• ক্ষুদিরাম বসু বিপ্লবী ও শহীদ।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী ও স্বদেশী আন্দোলন ক্ষুদিরামের মতো স্কুলের ছাত্রদেরও প্রভাবিত করে এবং পরিণামে তিনি পড়াশোনা ছেড়ে সত্যেন বসুর নেতৃত্বে এক গুপ্ত সমিতিতে যোগ দেন। বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে ইংল্যান্ডে উৎপাদিত কাপড় পোড়ানো ও ইংল্যান্ড থেকে আমদানিকৃত লবণে বোঝাই নৌকা ডোবানোর কাজে ক্ষুদিরাম অংশগ্রহণ করেন।
- ১৯০৬ সালের মার্চে মেদিনীপুরের এক কৃষি ও শিল্পমেলায় রাজদ্রোহমূলক ইস্তেহার বণ্টনকালে ক্ষুদিরাম প্রথম পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
- ১৯০৭ সালের ৬ ডিসেম্বর নারায়ণগড় রেল স্টেশনের কাছে বঙ্গের ছোটলাটের বিশেষ রেলগাড়িতে বোমা আক্রমণের ঘটনার সাথে তিনি জড়িত ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- বঙ্গভঙ্গ বিরোধী ও স্বদেশী আন্দোলনের কর্মীদের প্রয়োজনভিত্তিক কঠোর সাজা ও দমননীতির কারণে কলকাতার প্রধান প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ড বাঙালিদের অত্যন্ত ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন।
- ১৯০৮ সালে তাঁকে হত্যার দায়িত্ব পড়ে প্রফুল্ল চাকী ও ক্ষুদিরামের উপর। কিন্তু কিংসফোর্ডের গাড়ির মতো অন্য একটি গাড়িতে ভুলবশত বোমা মারলে গাড়ির ভেতরে একজন ইংরেজ মহিলা ও তাঁর মেয়ে মারা যান।
- এ ঘটনার পর ক্ষুদিরাম বোমা নিক্ষেপের সমস্ত দায়িত্ব নিজের উপর নিয়ে নেন।
- মুজফ্ফরপুর কারাগারে ১৯০৮ সালের ১১ আগস্ট ফাঁসিতে তাঁর মৃত্যৃ হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

.
How many Schedules were there in the original Constitution of 1972 of Bangladesh?
  1. 2
  2. 3
  3. 4
  4. 5
  5. 6
সঠিক উত্তর:
4
উত্তর
সঠিক উত্তর:
4
ব্যাখ্যা

১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের বৈশিষ্ট্য:
- ১৯৭২ সালের মূল সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের একটি মূল দলিল। এ সংবিধানটি উৎকৃষ্ট এবং বিভিন্ন দিক দিয়ে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
১. লিখিত দলিল: মূল সংবিধান একটি সুলিখিত দলিল। এতে ১টি প্রস্তাবনা, ৪টি তফসিল, ১১টি ভাগ এবং ১৫৩টি অনুচ্ছেদ আছে।
২. দুষ্পরিবর্তনীয়: বাংলাদেশের সংবিধান দুষ্পরিবর্তনীয়। তবে সংশোধন পদ্ধতি খুব কঠিন নয়। সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রস্তাব পাস করানো যায়।
৩. রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা-এই চারটি মূলনীতিকে সংবিধানের মূল স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
৪. মৌলিক অধিকার সংবিধানের জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাষ্ট্রের নাগরিকদের ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য সংবিধানে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
৫. এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র সংবিধানে বাংলাদেশকে একটি এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রিয় সরকারই সব ক্ষমতার অধিকারী। কেন্দ্রিয় আইনসভাই সার্বভৌম আইন প্রণয়নকারী সংস্থা।
৬. প্রজাতন্ত্র: বাংলাদেশ একটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র। রাষ্ট্রপতি হবেন রাষ্ট্রপ্রধান এবং তাঁর নামে রাষ্ট্রের শাসন কার্য পরিচালিত হবে। রাষ্ট্রপ্রধান জাতীয় সংসদের সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হবেন।
৭. এক-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা: সংবিধানে দেশের জন্য একটি এক-কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার বিধান করা হয়। ৩০০ জন নির্বাচিত ও ১৫ জন সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ মোট ৩১৫ জন সদস্য নিয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হবে। পরবর্তীতে সংরক্ষিত মহিলা আসন বৃদ্ধি করে ৩০ জন এবং চতুর্দশ সংশোধনীতে বৃদ্ধি করে তা ৪৫ করায় বর্তমানে সংসদ সদস্য সংখ্যা ৩৪৫ জন।
৮. সংসদীয় পদ্ধতির সরকার মূল সংবিধানে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধানকে প্রধানমন্ত্রী করে তার মন্ত্রিপরিষদকে দেশের প্রকৃত শাসক করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সকল কাজের জন্য সংসদের নিকট জবাবদিহি করবে।
৯. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংবিধানে বাংলাদেশের জন্য একটি সর্বোচ্চ আদালত গঠনের ব্যবস্থা করা হয়। সুপ্রীম কোর্ট হবে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত। এই আদালত সংবিধানের প্রাধান্য নিশ্চিত করবে এবং তার স্বাধীনতা সংরক্ষণ করবে।
১০. ন্যায়পাল সরকারি যে কোন কর্তৃপক্ষের কাজের নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সংবিধানে ন্যায়পালের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। ন্যায়পাল যে কোন বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে পারবেন।
১১. সাংবিধানিক প্রাধান্য সংবিধান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং জনগণের পক্ষে ঐসব ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল সংবিধানের অধীনে ও কর্তৃত্বে কার্যকর হবে।

সংবিধানের তফসিল:
- ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে ৪টি তফসিল ছিল।
- সংবিধানের পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম তফসিল যুক্ত করা হয়েছিল ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে। পঞ্চম তফসিলে আছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণ। ষষ্ঠ তফসিলে আছে ১৯৭১ সালের ‘২৫ মার্চ মধ্যরাত শেষে অর্থাৎ ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে’ বঙ্গবন্ধুর দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষণা। আর সপ্তম তফসিলে আছে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের জারি করা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উৎস: i) পৌরনীতি, বাংলাদেশের সংবিধান, এস এস সি প্রোগ্রাম।
ii) প্রথম আলো।

.
Which was the first organization of the Language Movement?
  1. State Language Action Committee
  2. Bangla Language Reform Committee
  3. Cultural Assembly
  4. Pakistan Literary Society
  5. Tamaddun Majlish
সঠিক উত্তর:
Tamaddun Majlish
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Tamaddun Majlish
ব্যাখ্যা

তমদ্দুন মজলিশ:
- তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়। এটিই ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।

• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিস"।
- পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর নতুন বাস্তবতায় তমদ্দুন মজলিস কেবল বাংলা ভাষায়ই নয়, বরং একটা সার্বিক জীবন ব্যবস্থা ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা সম্পর্কে পরিচ্ছন্ন ভাষায় একটা ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছিলো।
- তমদ্দুন মজলিশ ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ শিরোনামে অধ্যাপক আবুল কাশেম সম্পাদিত একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
- তমদ্দুন মজলিসের নেতৃত্বেই ১৯৪৭ সালের পহেলা অক্টোবর প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- ১৯৪৮ সালের দোসরা মার্চ তমদ্দুন মজলিশসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের যৌথসভায় শামসুল আলমকে আহ্বায়ক করে 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্ম পরিষদ' নামে নতুন কমিটি হয়েছিলো।

অন্যদিকে,
- বাংলা ভাষা সংস্কার কমিটি: প্রাদেশিক সরকার ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে বাংলা ভাষা সংস্কারের জন্য একটি ভাষা কমিটি গঠন করে। এর সভাপতি ছিলেন মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ এবং সেক্রেটারি ছিলেন কবি গোলাম মোস্তফা।
- সংস্কৃতি সংসদ: ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'সংস্কৃতি সংসদ' নামে আরেকটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সৃষ্টি হয়। এই সংগঠনটি ক্রমে পূর্ববাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল।
- পাকিস্তান সাহিত্য সংসদ: ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের শেষদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয় 'পাকিস্তান সাহিত্য সংসদ'।

উৎস: i) ইতিহাস, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো

১০.
In which Article of the Constitution is the freedom of the press mentioned?
  1. Article 38
  2. Article 39(1)
  3. Article 39(2)
  4. Article 40
  5. Article 44
সঠিক উত্তর:
Article 39(2)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Article 39(2)
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ (২) নং অনুচ্ছেদে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে।

• সংবিধানের ৩৯ নং অনুচ্ছেদ:
- (১) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হলো।
- (২) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ সংগঠনের প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে
(ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের, এবং
(খ) সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হলো।

অন্যদিকে,
- সংবিধানের ৩৮ নং অনুচ্ছেদ: সংগঠনের স্বাধীনতা।
- সংবিধানের ৪০ নং অনুচ্ছেদ: পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা।
- সংবিধানের ৪৪ নং অনুচ্ছেদ: মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১১.
Who was the leader of the Pakistan Peoples Party in West Pakistan in the 1970 election?
  1. Ayub Khan
  2. Yahya Khan
  3. Zulfikar Ali Bhutto
  4. Liaquat Ali Khan
  5. Pervez Musharraf
সঠিক উত্তর:
Zulfikar Ali Bhutto
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Zulfikar Ali Bhutto
ব্যাখ্যা

১৯৭০ সালের নির্বাচন:
- ১৯৬২ সালে মৌলিক গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জাতীয় পরিষদ গঠন করা হয়।
- ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের জনগণ সর্বপ্রথম দেশের কেন্দ্রীয় আইন পরিষদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ লাভ করে। নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।
- ১৯৭০ সালের ৫ অক্টোবর জাতীয় পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসে পূর্ব পাকিস্তানে বন্যা হয়।
- জাতীয় পরিষদের নির্বাচন হয় ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর এবং প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের তারিখ নির্দিষ্ট হয় ১৯৭০ সালের ১৭ ডিসেম্বর।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে পশ্চিম পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া পাকিস্তান পিপলস পার্টির (PPP) নেতা ছিলেন জুলফিকার আলী ভুট্টো।
- পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত ১৪৪টি আসনের মধ্যে জুলফিকার আলী ভূট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি ন্যাপ ৮৮টি আসন লাভ করে।
- পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের ৩০০টি (১০টি মহিলা সংরক্ষিত আসন ছাড়া) আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৮৮ টি আসনে জয়লাভ করে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

১২.
If there is any inconsistency between the Bangla and English texts of the Constitution of Bangladesh, which one shall prevail?
  1. Bangla text
  2. English text
  3. Opinion of the majority
  4. Through discussion
  5. As determined by the President
সঠিক উত্তর:
Bangla text
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Bangla text
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানের বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধ হলে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাবে।

• সংবিধানের ১৫৩ নং অনুচ্ছেদ: প্রবর্তন, উল্লেখ ও নির্ভরযোগ্য পাঠ
- ১৫৩ (১) এই সংবিধানকে "গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান" বলে উল্লেখ করা হবে এবং ১৯৭২ সালের ডিসেম্বর মাসের ১৬ তারিখে এটি বলবৎ হবে, যাকে এই সংবিধানে "সংবিধান-প্রবর্তন" বলে অভিহিত করা হয়েছে।

 - ১৫৩ (২) বাংলায় এই সংবিধানের একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ ও ইংরাজীতে অনুদিত একটি নির্ভরযোগ্য অনুমোদিত পাঠ থাকবে এবং উভয় পাঠ নির্ভরযোগ্য বলে গণপরিষদের স্পীকার সার্টিফিকেট প্রদান করবেন।

 - ১৫৩ (৩) এই অনুচ্ছেদের (২) দফা-অনুযায়ী সার্টিফিকেটযুক্ত কোন পাঠ এই সংবিধানের বিধানাবলীর চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে;  তবে শর্ত থাকে যে, বাংলা ও ইংরাজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১৩.
Who first initiated the concept of the Two-Nation Theory?
  1. Subhas Chandra Bose
  2. A. K. Fazlul Huq
  3. Muhammad Ali Jinnah
  4. Allama Iqbal
  5. Sir Syed Ahmad Khan
সঠিক উত্তর:
Sir Syed Ahmad Khan
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Sir Syed Ahmad Khan
ব্যাখ্যা

দ্বিজাতি তত্ত্ব:
- দ্বিজাতি তত্ত্ব (Two-Nation Theory) হলো এমন একটি রাজনৈতিক ও আদর্শিক মতবাদ যা ১৯৪৭ সালের ভারত বিভক্তির মূল কারণ।
- এই তত্ত্ব অনুসারে, ভারতীয় উপমহাদেশের হিন্দু ও মুসলমানরা কেবল দুটি ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষই নয়, বরং তারা দুটি আলাদা জাতি। তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, রীতিনীতি এবং জীবনধারা সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ায়, একটি একক রাষ্ট্রে তারা একত্রে বসবাস করতে পারে না।
- এই তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করেই ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত বিভাজিত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

• মুসলমানদের একটি জাতি হিসেবে আত্মপরিচয়ের সন্ধানে উদ্বুদ্ধ করতে স্যার সৈয়দ আহমদ খান (১৮১৭-১৯৮) প্রথম এ ধারণার উন্মেষ ঘটান। তিনি ভারতের মুসলমানদের কংগ্রেস দলের তথাকথিত জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের স্রোতে গা ভাসাতে নিরূৎসাহিত করতেন। তিনি প্রচার করেন যে, ভারতীয় মুসলিম তাদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় একটি জাতি গঠন করবে এবং স্বশাসনের জন্য কংগ্রেস কর্তৃক পরিচালিত আন্দোলনের সঙ্গে মুসলমানদের জোটবদ্ধ হওয়া উচিৎ হবে না। তাঁর এ ধারণা উপনিবেশিক শাসকদের সমর্থন লাভ করে।

⇒ যদিও স্যার সৈয়দ আহমদ খান দ্বিজাতি তত্ত্ব-এর ভিত্তি স্থাপন করেন, তবুও এই তত্ত্বের প্রধান প্রবক্তা ছিলেন নিখিল ভারত মুসলিম লীগের নেতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ। 
- স্যার সৈয়দ আহমদ খান এর প্রাথমিক ধারণা দেন, আল্লামা ইকবাল এটিকে শক্তিশালী করেন এবং মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবে এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪.
By which amendment of the Constitution were the reserved seats for women in the National Parliament increased to 50?
  1. Tenth Amendment
  2. Twelfth Amendment
  3. Thirteenth Amendment
  4. Fourteenth Amendment
  5. Fifteenth Amendment
সঠিক উত্তর:
Fifteenth Amendment
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Fifteenth Amendment
ব্যাখ্যা

পঞ্চদশ সংশোধনী:
- ২০১১ সালের ৩০শে জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস হয় এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন হয় ২০১১ সালের ৩ জুলাই।
- সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল করা হয় এবং রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- এই সংশোধনীর দ্বারা 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল' করা হয়।
- জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়।
- সংবিধানে ৭ অনুচ্ছেদের পরে ৭ (ক) ও ৭ (খ) অনুচ্ছেদ সংযোজন করে সংবিধান বহির্ভূত পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের পথ রুদ্ধ করা হয়।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।

১৫.
Who was forced to step down from power as a result of the Mass Uprising of 1969?
  1. Ayub Khan
  2. Yahya Khan
  3. Mohammad Ali Bogra
  4. Zulfikar Ali Bhutto
  5. Iskander Mirza
সঠিক উত্তর:
Ayub Khan
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Ayub Khan
ব্যাখ্যা

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান:
- ১৯৪৭ সাল থেকে ক্রমাগতভাবে পূর্বপাকিস্তানের প্রতি পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠি যে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে তার বহি:প্রকাশ ঘটে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে।
- পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে এক দুর্বার আন্দোলন গড়ে ওঠে যা ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এসময় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা দাবি ঘোষণা করেন।

• ১৯৬৯ সালের ১৭ জানুয়ারি ছাত্রনেতারা দেশব্যাপী সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘটের ডাক দিলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনেম খান ছাত্র আন্দোলন দমাতে ১৪৪ ধারা জারি করে।
- সরকারি নিপীড়নের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসভা ও প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এ মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (আসাদ) নিহত হলে আন্দোলন আরও তীব্র হয়।
- শহীদ আসাদের আত্মদানের পর ২১, ২২ ও ২৩ জানুয়ারি শোক পালনের মধ্য দিয়ে সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ২৪ জানুয়ারি অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের সৃষ্টি হয়। পাকিস্তানি সামরিক শাসন উৎখাতের লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালের ২৪ জানুয়ারি সংগ্রামী জনতা শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়ন ও সান্ধ্য আইন ভঙ্গ করে মিছিল বের করে।

• ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলে পাকিস্তানের তৎকালীন স্বৈরশাসক ও প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান ক্ষমতাচ্যুত হন। তীব্র গণআন্দোলনের মুখে তিনি ১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং তার পরিবর্তে সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।

১৬.
According to which Article of the Constitution, the Chief Election Commissioner administered the oath to the members of the 13th National Parliament?
  1. Article 146(2)
  2. Article 148(1)
  3. Article 148(2)
  4. Article 148(2A)
  5. Article 146(3)
সঠিক উত্তর:
Article 148(2A)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Article 148(2A)
ব্যাখ্যা

সংসদ সদস্যদের শপথ:
- সংবিধানের  ১৪৮ [২(ক)] নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান।

• সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে সংসদ সদস্যদের স্পিকার কর্তৃক লিখিত ফরমে শপথের বিষয়টি উল্লেখ আছে। কিন্তু গণ–অভ্যুত্থানের পর যেহেতু জাতীয় সংসদের স্পিকার পলাতক রয়েছেন এবং ডেপুটি স্পিকার কারাগারে, সেহেতু কর্তৃক নির্ধারিত কোনো ব্যক্তি যিনি সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন।

⇒ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৮-এ শপথসংক্রান্ত বিধানগুলো নির্ধারিত। 
• অনুচ্ছেদ ১৪৮(১) নং: তৃতীয় তফসিলে উল্লিখিত কোনো পদে নির্বাচিত বা নিযুক্ত ব্যক্তি কার্যভার গ্রহণের আগে শপথ গ্রহণ করবেন।
• অনুচ্ছেদ ১৪৮(২) নং: এই সংবিধানের অধীন নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির শপথ গ্রহণ আবশ্যক হইলে অনুরূপ ব্যক্তি যেরূপ ব্যক্তি ও স্থান নির্ধারণ করিবেন, সেইরূপ ব্যক্তির নিকট সেইরূপ স্থানে শপথ গ্রহণ করা যাইবে।

• অনুচ্ছেদ ১৪৮(২ক) নং: ২০০৪ সনে সংবিধান (চতুর্দশ সংশোধন) আইন দ্বারা সংবিধানে ১৪৮ [২ (ক)] অনুচ্ছেদ সন্নিবেশিত করা হয়েছে। ‘১২৩ অনুচ্ছেদের (৩) দফার অধীন অনুষ্ঠিত সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হইবার তারিখ হইতে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে এই সংবিধানের অধীন এতদুদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা তদুদ্দেশ্যে অনুরূপ ব্যক্তি কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনো ব্যক্তি যেকোনো কারণে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পাঠ পরিচালনা করিতে ব্যর্থ হইলে বা না করিলে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার উহার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে উক্ত শপথ পাঠ পরিচালনা করিবেন, যেন এই সংবিধানের অধীন তিনিই ইহার জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি।’
এই দফা স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে স্পিকার বা তাঁর মনোনীত ব্যক্তি শপথ না করালে পরবর্তী তিন দিনে সিইসিকে এটি করতে হবে।

• অনুচ্ছেদ ১৪৮(৩) নং: এই সংবিধানের অধীন যে ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তির পক্ষে কার্যভার গ্রহণের পূর্বে শপথগ্রহণ আবশ্যক, সেই ক্ষেত্রে শপথগ্রহণের অব্যবহিত পর তিনি কার্যভার গ্রহণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।

উল্লেখ্য,
- সিইসি কর্তৃক শপথ গ্রহণ কোনো সাংবিধানিক ব্যতিক্রম নয়, এটি একটি বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা। অনুচ্ছেদ ১৪৮(২ক) ঠিক এমন পরিস্থিতির জন্য প্রণীত, যেখানে প্রচলিত প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়। এই কাঠামো আইনের শাসনকে সুরক্ষিত করে, শাসনতান্ত্রিক শূন্যতা প্রতিরোধ করে এবং নির্বাচনের মাধ্যমে প্রকাশিত জনইচ্ছাকে সম্মান করে। সিইসির সামনে গৃহীত শপথ সম্পূর্ণ বৈধ হবে, যা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে কোনো আইনি বাধা ছাড়াই কার্যক্রম শুরু করতে সক্ষম করবে।

উৎস: i) প্রথম আলো। 
ii) বাংলাদেশের সংবিধান। 

১৭.
In the Basic Democracies system introduced by Ayub Khan, how many members were there in total?
  1. 40,000
  2. 60,000
  3. 80,000
  4. 100,000
  5. 120,000
সঠিক উত্তর:
80,000
উত্তর
সঠিক উত্তর:
80,000
ব্যাখ্যা

মৌলিক গণতন্ত্র অধ্যাদেশ:
- ১৯৫৯ সালে 'মৌলিক গণতন্ত্র অধ্যাদেশ' ব্যবস্থাটি জারি করেন আইয়ুব খান।
- মৌলিক গণতন্ত্র অধ্যাদেশ-এর উদ্দেশ্য ছিল জনগণের ইচ্ছেকে সরকারের কাছাকাছি এবং সরকারি কর্মকর্তাদেরকে জনগণের কাছাকাছি এনে গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণ-এর ব্যবস্থা করা।
- এটি ছিল চারস্তর বিশিষ্ট স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা। চারটি স্তর:
(১) ইউনিয়ন কাউন্সিল (গ্রাম এলাকায়) এবং টাউন কমিটি (শহর এলাকায়)।
(২) থানা কাউন্সিল (পূর্ব পাকিস্তানে) এবং তহশিল কাউন্সিল (পশ্চিম পাকিস্তানে)।
(৩) জেলা কাউন্সিল।
(৪) বিভাগীয় কাউন্সিল।

উল্লেখ্য,
- উচ্চ বিলাসী আইয়ুব খান সামরিক শাসন যাত্রার ২১ দিনের মাথায় ইস্কান্দর মির্জাকে পদচ্যুত করে নিজে প্রেসিডেন্ট পদ দখল করেন। অতঃপর তিনি রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। ১৯৫৯ সালের অক্টোবর মাসে আইয়ুব খান 'মৌলিক গণতন্ত্র' নামে একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করেন। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের দুই অঞ্চল থেকে ৪০ হাজার করে ৮০ হাজার মৌলিক গণতন্ত্রী সদস্য নির্বাচন করা হয়।
- ১৯৬০ সালে এসব মৌলিক গণতন্ত্রীর আস্থা ভোটে আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

[উল্লেখ্য যে, [শুধুমাত্র সংগ্রামের নোটবুক ও বাংলাপিডিয়া মৌলিক গণতন্ত্রের ৫টি স্তর বলা হয়েছে। কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসন, ইতিহাস, ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খন্ডের মধ্যে মৌলিক গণতন্ত্রের ৪টি স্তরের কথা বলা হয়েছে। তাই অধিক গ্রহনযোগ্য হিসেবে ৪ টি উত্তর নেওয়া হয়েছে।]

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮.
In the Constituent Assembly, who rejected the proposal of Dhirendranath Datta to recognize Bangla as one of the state languages?
  1. Ayub Khan
  2. Liaquat Ali Khan
  3. Muhammad Ali Jinnah
  4. Nurul Amin
  5. Zulfikar Ali Bhutto
সঠিক উত্তর:
Liaquat Ali Khan
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Liaquat Ali Khan
ব্যাখ্যা

সর্বদলীয় রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদ:
- ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি করাচিতে পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে পরিষদ সদস্যদের ইংরেজি অথবা উর্দুতে বক্তৃতা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়।
- এ অবস্থায় পূর্ব-পাকিস্তান কংগ্রেস দলের সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত এর প্রতিবাদ করেন এবং পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মাতৃভাষা বাংলাকে গণপরিষদের অন্যতম ভাষারূপে স্বীকৃতি দানের দাবি জানান।
- কিন্তু প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানসহ মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং বাংলার মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেন।

উল্লেখ্য,
- এ দাবি প্রত্যাখ্যান করার পর পূর্ব বাংলার ছাত্র-শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীমহল প্রতিবাদ মুখর হয়ে পড়ে। মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম পরিচালনার উদ্দেশ্যে ২ মার্চ পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও যুব সংগঠন মিলিতভাবে 'সর্বদলীয় রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করে। সংগ্রাম পরিষদ রাষ্ট্র ভাষার ক্ষেত্রে সরকারি ষড়যন্ত্র রোধ এবং বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্র ভাষা করার দাবিতে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ঢাকায় সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেয়। 'রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই' শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে ঢাকার রাজপথ। এসময় পুলিশী আক্রমণে বহু ছাত্র আহত হয় এবং বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে ১২-১৫ মার্চ ঢাকাসহ সকল জেলায় ধর্মঘট কর্মসূচি পালিত হয়। পরিস্থিতির চাপে বাধ্য হয়ে মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন সংগ্রাম পরিষদের সাথে একটি ৮ দফা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। চুক্তিতে তিনি সংগ্রাম পরিষদের অনেকগুলো শর্ত মেনে নিলেও বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্র ভাষার দাবি মানেন নি।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯.
The Indian Independence Act 1947 was based on which plan?
  1. Wavell Plan
  2. Mountbatten Plan
  3. Cabinet Mission Plan
  4. Cripps Mission
  5. None of these
সঠিক উত্তর:
Mountbatten Plan
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Mountbatten Plan
ব্যাখ্যা

ভারত স্বাধীনতা আইন-১৯৪৭:
- ভারত স্বাধীনতা আইন-১৯৪৭ লর্ড মাউন্টব্যাটেন ঘোষিত মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনার উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে ব্রিটিশ ভারত বিভাজন করে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি ডোমিনিয়ন রাষ্ট্র সৃষ্টির বিধান রাখা হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
- ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবে ভারত বিভক্তির সুপারিশের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
- ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ মন্ত্রী মিশন পরিকল্পনার একটি বড় দিক ছিল এতে অত্যন্ত শিথিল কেন্দ্রীয় কাঠামোর মাধ্যমে মুসলিম লীগের পাকিস্তান দাবির মাধ্যমে স্বীকার করে নিয়ে ভারতের ভৌগোলিক অখন্ডতা বজায় রাখার শেষ চেষ্টা করা হয়েছিল। মুসলিম লীগ তথা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এ প্রস্তাব গ্রহণে সম্মত ছিলেন। কিন্তু ভারতীয় কংগ্রেস এই প্রস্তাবে রাজী ছিল না। যার ফলে ভারতকে আর একত্রে রাখা গেল না। মন্ত্রী মিশন পরিকল্পনায় গৃহীত প্রস্তাব কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ যদি মেনে নিত তাহলে হয়ত ১৯৪৭সালে ভারত বিভক্ত হত না। মন্ত্রী মিশন পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর ভারত বিভাক্তিকে অপরিহার্য করে তোলে। এই অবস্থার প্রেক্ষিতে ভারতের ভাইসরয় লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে সমযোতার ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালের ৩রা জুন ভারত বিভাগ সম্পর্কে পরিকল্পনা পেশ করে। এই প্রস্তাবে বলা হয় ভারতবর্ষকে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দুইটি অংশে বিভক্ত করে দুইটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই প্রস্তাবে পাঞ্চাব ও বাংলাকে ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ করার কথা বলা হয়। সেই পরিকল্পনার ভিত্তিতে ও বাস্তবতার অপরিহার্যতায় ১৯৪৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ দ্বি-জাতি তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় হিন্দু রাষ্ট্র ভারত ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয়।

• ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের বৈশিষ্ট্য:
(১) ভারত স্বাধীনতা আইন ১৯৪৭ ভারতবর্ষকে বিভক্ত করে ভারতীয় ইউনিয়ন ও পাকিস্তান নামে দুইটি নতুন ডোমিনিয়নের সৃষ্টি করা হয়,
(২) ভারত স্বাধীনতা আইনের ফলে ভারতবর্ষের উপর হইতে বিটিশ কৃতিত্বের অবসান ঘটে। কেননা এই আইনে বলা হয় ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগষ্টের পর ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক প্রণীত আইন ভারত ও পাকিস্তানের উপর প্রযোজ্য হবে না,
(৩) এই আইন ভারত ও পাকিস্তান নামক ডোমিনিয়নের গণপরিষদের হাতে আইন প্রনয়নের ক্ষেত্রে পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্পন করে।
(৪) প্রাদেশিক আইন পরিষদের ইচ্ছা অনুযায়ী পাঞ্চাব ও বাংলাকে হিন্দু ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ আঞ্চলে বিভক্ত করা হয়। ফলে পশ্চিম পাঞ্চাব ও পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের অর্ন্তভুক্ত হয়। পশ্চিম বাংলা ও পূর্ব পাঞ্চাব ভারতের অর্ন্তভুক্ত হয়।
(৫) তবে নতুন সংবিধান রচিত না হওয়া পর্যন্ত উভয় ডোমিনিয়নের কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারগুলি ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে বলে বলা হয়।
(৬) দুই ডোমিনিয়ন ইচ্ছে করলে কোন সময় কমনওয়েলথ থেকে বেরিয়ে আসতে এবং ব্রিটিশ রাজ্যেও সাথে যেটুকু নামমাত্র যোগাযোগ রয়েছে তা ছিন্ন করতে পারবে। 

উৎস: পৌরনীতি, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০.
According to the Constitution, what is the maximum proportion of technocrat ministers that can be appointed in Bangladesh?
  1. One-tenth
  2. One-fifth
  3. One-fourth
  4. One-third
  5. Two-thirds
সঠিক উত্তর:
One-tenth
উত্তর
সঠিক উত্তর:
One-tenth
ব্যাখ্যা

টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী:
- টেকনোক্র্যাট (Technocrat) বলতে বুঝায় এমন ব্যক্তিকে যিনি রাজনীতিবিদ না হয়েও নির্দিষ্ট কোনো প্রযুক্তিগত, পেশাগত বা একাডেমিক দক্ষতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা বা নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখেন। অর্থাৎ যারা সরাসরি নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য হননি, কিন্তু বিশেষ দক্ষতা বা যোগ্যতার কারণে মন্ত্রিসভায় স্থান পান, তারাই টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী।

• বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার অনধিক এক-দশমাংশ সদস্যকে সংসদ সদস্য নন এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে নিয়োগ দিতে পারেন। তবে শর্ত থাকে যে, তাদের অবশ্যই সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে।
 - সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীই মন্ত্রিসভার বাকি সদস্যদের মনোনীত করেন। তবে তাকে নির্বাচিত এমপিদের মধ্য থেকে মন্ত্রিসভার ১০ ভাগের ৯ ভাগ সদস্য রাখতেই হবে। বাকি এক ভাগ তিনি চাইলে টেকনোক্র্যাট সদস্য রাখতে পারেন।
- সাধারণত বিশেষজ্ঞ জ্ঞান বা বিশেষ অবদানের ভিত্তিতেই প্রধানমন্ত্রী এই নিয়োগ দিয়ে থাকেন। নিয়মানুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনের আগে বা সংসদ ভেঙে যাওয়ার ৯০ দিন আগে এই টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের পদত্যাগ করতে হয়।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যের বাইরে থেকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগ দেয়া যায় এক-দশমাংশ। অর্থাৎ ১০ শতাংশ সংসদ সদস্যের বাইরে থেকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগ দেয়া যায়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।