ব্যাখ্যা
অব্যয়ের বিশেষণঃ
যে ভাব - বিশেষণ অব্যয় পদ বা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষায়িত করে, তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে।
যেমন, ধিক্ তারে, শত ধিক্ নির্লজ্জ যে জন।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)
১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২৩ প্রশ্ন
অব্যয়ের বিশেষণঃ
যে ভাব - বিশেষণ অব্যয় পদ বা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষায়িত করে, তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে।
যেমন, ধিক্ তারে, শত ধিক্ নির্লজ্জ যে জন।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)
বিশেষণ পদ যখন দুই বা ততোধিক বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের মধ্যে তুলনা বোঝায়, তখন তাকে বিশেষণের অতিশায়ন বলে।
বাংলা ভাষায় খাঁটি বাংলা শব্দের বা তদ্ভব শব্দের একরকম অতিশায়ন প্রচলিত আছে, আবার তৎসম শব্দে সংস্কৃত ভাষার অতিশায়নের নিয়মও প্রচলিত আছে।
বহুর মধ্যে অতিশায়নে বিশেষণের পূর্বে সবচাইতে, সর্বাপেক্ষা, সবথেকে, সবচেয়ে,সর্বাধিক, ইত্যাদি শব্দ ব্যবহৃত হয়। যেমন-
তোমাদের মধ্যে করিম সবচেয়ে বুদ্ধিমান।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)
বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।
সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ১০ ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-
ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচকঃ আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।
আত্মবাচকঃ স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।
সামীপ্যবাচকঃ এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূরত্ববাচকঃ ঐ, ঐসব, সব।
সাকল্যবাচকঃ সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
প্রশ্নবাচকঃ কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে।
অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপকঃ কোন, কেহ, কেউ, কিছু
ব্যতিহারিকঃ আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর
সংযোগজ্ঞাপকঃ যে, যিনি, যাঁরা, যাহারা।
অন্যাদিবাচকঃ অন্য, অপর, পর।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির সন্ধি হলে তাকে বলে স্বরসন্ধি।
‘অ/আ’ এরপরে ‘অ/আ’ থাকলে উভয়ে মিলে ‘আ’ হয় এবং তা প্রথম ‘অ/আ’-র আগের ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
অ+অ = আঃ
নর+অধম = নরাধম।
প্রাণ + আধিক = প্রাণোধিক।
হিম+অচল = হিমাচল।
হস্ত+অন্তর = হস্তান্তর।
হিত+অহিত = হিতাহিত।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)
যে দুইটি ধ্বনির মিলনে সন্ধি হবে, তাদের একটিও যদি ব্যঞ্জনধ্বনি হয়, তাহলেই সেই সন্ধিকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলা হয়।
ব্যঞ্জনসন্ধি ৩ ভাবে হতে পারে-
- স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি।
- ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি
- ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি
স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনিঃ
স্বরধ্বনির পর ‘ছ’ থাকলে তা দ্বিত্ব হয়, অর্থাৎ ‘ছ’-র বদলে ‘চ্ছ’ হয়। যেমন-
ই+ছ = চ্ছ -
পরি+ছদ = পরিচ্ছদ।
বি+ছেদ= বিচ্ছেদ।
বি+ছিন্ন = বিচ্ছিন্ন।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)
কিছু কিছু সন্ধি কিছু বিশেষ নিয়মে হয়। এগুলোকে বিশেষ নিয়মে সাধিত সন্ধি বলে।
বিশেষ নিয়মে সাধিত সন্ধিঃ
সম্+কার = সংস্কার।
সম্+কৃত = সংস্কৃত।
উৎ+স্থান = উত্থান।
উৎ+স্থাপন = উত্থাপন।
পরি+কার = পরিষ্কার।
সম্+কৃতি = সংস্কৃতি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)
যে দুইটি ধ্বনির মিলনে সন্ধি হবে, তাদের একটি যদি বিসর্গ হয়, তবে তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।
বিসর্গ সন্ধি ২ ভাবে সম্পাদিত হয়-
- বিসর্গ + স্বরধ্বনি
- বিসর্গ + ব্যঞ্জনধ্বনি
বিসর্গসন্ধি ও ব্যঞ্জনসন্ধির সম্পর্কঃ
সংস্কৃত নিয়ম অনুযায়ী শব্দ বা পদের শেষে ‘র্’ বা ‘স্’ থাকলে তাদের বদলে ‘ঃ’ বা অঘোষ ‘হ’ উচ্চারিত হয়।
এর উপর ভিত্তি করে বিসর্গকে ২ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
র-জাত বিসর্গঃ ‘র্’ ধ্বনির জায়গায় যে বিসর্গ হয়, তাকে র-জাত বিসর্গ বলে।
যেমন : অন্তর- অন্তঃ, প্রাতর- প্রাতঃ, পুনর- পুনঃ, ইত্যাদি।
স-জাত বিসর্গঃ ‘স্’ ধ্বনির জায়গায় যে বিসর্গ হয়, তাকে স-জাত বিসর্গ বলে।
যেমন : নমস- নমঃ, পুরস- পুরঃ, শিরস- শিরঃ, ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)
বিসর্গসন্ধি ও ব্যঞ্জনসন্ধির সম্পর্কঃ
সংস্কৃত নিয়ম অনুযায়ী শব্দ বা পদের শেষে ‘র্’ বা ‘স্’ থাকলে তাদের বদলে ‘ঃ’ বা অঘোষ ‘হ’ উচ্চারিত হয়।
এর উপর ভিত্তি করে বিসর্গকে ২ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
র-জাত বিসর্গঃ ‘র্’ ধ্বনির জায়গায় যে বিসর্গ হয়, তাকে র-জাত বিসর্গ বলে।
যেমন : অন্তর- অন্তঃ, প্রাতর- প্রাতঃ, পুনর- পুনঃ, ইত্যাদি।
স-জাত বিসর্গঃ ‘স্’ ধ্বনির জায়গায় যে বিসর্গ হয়, তাকে স-জাত বিসর্গ বলে।
যেমন : নমস- নমঃ, পুরস- পুরঃ, শিরস- শিরঃ, ইত্যাদি।
নমঃ + কার = নমস্কার।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)
তালব্য অল্পপ্রাণ ধ্বনির পরে নাসিক্য ধ্বনি আসলে নাসিক্য ধ্বনিটিও তালব্য নাসিক্য ধ্বনি হয়।
অর্থাৎ, ‘চ/জ’ এর পরে ঙ, ঞ, ণ, ন, ম (নাসিক্য ধ্বনি) থাকলে সেগুলো ‘ঞ’ হয়ে যায়।
চ+ন = চ+ঞঃ
যাচ+না = যাচ্ঞা
রাজ+নী = রাজ্ঞী।
জ+ন = জ+ঞঃ
যজ+ন = যজ্ঞ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)
'তা' এবং 'ত্ব' হল বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়।
যা কেবল বিশেষণবাচক শব্দকে বিশেষ্য করে।
তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা 'ত্ব' যুক্ত করলে ভুল হবে।
প্রশ্নের সঠিক শব্দ - স্বতন্ত্রতা/স্বাতন্ত্র্য।
প্রশ্নের অন্যান্য অপশনগুলোর সঠিক উত্তর -
ঐক্য/একতা
পুরুষত্ব/পৌরুষ।
সখ্য।
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
কর্তৃবাচ্যে বিশেষ্য ও করা রূপ থাকলে কর্ম্বাচ্যে বিশেষণ ও হওয়া ক্রিয়ার রূপ হবে।
যুক্তি খন্ডন হয়েছে, তবে মুক্তি মেলে নি।
প্রশ্নের অন্যন্য অপশনগুলির সঠিক রূপ -
অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয় (বিশেষ্য -বিশেষণের ভুল প্রয়োগ)
অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য (যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করার ভুল)
দশচক্রে ঈশ্বর ভূত (দশচক্রে ভগবান ভূত)
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
নীরোগ লোক প্রকৃত অর্থেই সুখী।বাক্যটি সঠিক
প্রশ্নের অন্যন্য অপশনগুলির সঠিক রূপ -
গতকালের সভায় সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী।
তিনি মোকদ্দমায় সাক্ষ্য দিবেন।
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
মহারাজ সভাগৃহে প্রবেশ করিলেন।
বাড়ির মালিক যে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছিল, তা নয়।
সূর্যের উদয় হয়েছে।
বাক্যগুলি সম্পূর্ন সঠিক।
তারা একত্রে গমন করলো। বাক্যটি সঠিক নয়।
শুদ্ধ রূপঃ তারা একত্র গমন করলো।
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
'দুরদৃষ্ট' বানানটি শুদ্ধ।
প্রশ্নের অন্যন্য অপশনগুলির সঠিক রূপ -
গীতাঞ্জলি
ঝরনা
নমস্কার।
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
'সংস্রব' বানানটি শুদ্ধ।
অর্থঃ সম্পর্ক; সম্বন্ধ; ছোঁয়াচ (নেতাদের সংস্রব)।
প্রশ্নের অন্যন্য অপশনগুলির সঠিক রূপ -
শিল্পোদ্যোক্তা
মূর্ছনা
মনঃকষ্ট
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
কারো দৈন্য/দীনতা নিয়ে উপহাস কোরো না। বাক্যটি সম্পূর্ণ সঠিক
প্রশ্নের অন্যান্য বাক্যের সঠিক রূপ-
দশচক্রে ভগবান ভূত।
অশ্রুতে বুক ভেসে গেল।
কথাটি ঠিক নয়।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিশেষ্য পদকে বিশেষণ বা বিশেষণ পদকে বিশেষ্য ভেবে পদ পরিবর্তন করে এ ধরনের ভুল করা হয়।
যেমনঃ সে সম্ভ্রান্তশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
শুদ্ধ রূপঃ সে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
- অপশন ক) তে বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত ভুল রয়েছে।
এর সঠিক রূপঃক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রী এসেছিল।
- অপশন গ) তে হুল্যজনিত অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি রয়েছে।
এর শুদ্ধরূপ হবেঃ শুধু এই কটা টাকা দিলে?
- অপশন ঘ) তে বাচ্যজনিত অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি রয়েছে।
এর শুদ্ধরূপ হবেঃ যুক্তি খন্ডন হয়েছে, তবে মুক্তি মেলে নি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
গুরুচণ্ডালী বলতে বোঝায় তদ্ভব এবং তৎসম শব্দের মিশ্রণ।
এমন হলে বাক্যে অপপ্রয়োগ হয়েছে বলা যায়৷
এদের গুরুচণ্ডালী ভুল গুলো হচ্ছে - গরুর শকট, মড়া দাহ, শব পোড়া, তাপদাহ।
গরুর গাড়ি, মরা পোড়া, শবদাহ, দাবদাহ - এরকম হলে গুরুচণ্ডালী দোষ হবে না।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত ভুল রয়েছে - ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল।
সঠিক রূপঃ ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রী এসেছিল।
গ্রীষ্মের তাপদাহে জীবন অতিষ্ঠ -গুরুচণ্ডালী বলতে বোঝায় তদ্ভব এবং তৎসম শব্দের মিশ্রণ।
সঠিক রূপঃ গ্রীষ্মের দাবদাহে জীবন অতিষ্ঠ।
সঠিক রূপঃ ইহার আবশ্যকতা নাই (বিশেষ্য - বিশেষন জনিত ভুল)
সঠিক রূপঃ ঘটনা বর্ণিত হয়েছে (বাচ্যজনিত)।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
আবশ্যক দ্রব্যাদি সঙ্গে আনবেন।এটি একটি শুদ্ধ বাক্যের উদাহরণ।
প্রশ্নের অন্যান্য বাক্যের শুদ্ধরূপঃ
- উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কঠোর পরিশ্রম প্রয়োজন
- তিনি সভায় উপস্থিত ছিলেন।
- মাদকাসক্তি ভাল নয়।
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
মাঢ়ি বানানটি সঠিক।
অর্থঃ [মাড়ি, মাঢ়ি] (বিশেষ্য) দন্তমূল আবরণকারী কোমল মাংস; gum (মাড়ি ফোলা)।
অন্যগুলোর শুদ্ধ বানানঃ
- ব্যর্থ
- নমস্কার
- নিষ্প্রভ।
[সূত্রঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমী অভিধান]
- প্রদত্ত প্রশ্নের অপশনে শুদ্ধ বানানটি হচ্ছে ভুজ।
-পীপিলীকা শব্দের শুদ্ধ বানান পিপীলিকা।
- অভিজাত্য শব্দের শুদ্ধ বানান আভিজাত্য।
- বানিজ্য শব্দের শুদ্ধ বানান বাণিজ্য।
উৎসঃ;ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷
প্রদত্ত প্রশ্নের অপশনে শুদ্ধ বানানটি হচ্ছে সংবরণ।
- নিরব শব্দের শুদ্ধ বানান নীরব।
- নূন্যতম শব্দের শুদ্ধ বানান ন্যূনতম।
- প্রাতঃরাশ শব্দের শুদ্ধ বানান প্রাতরাশ।
উৎসঃ;ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷