পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন১৬
সিলেবাস
বাংলা সাহিত্য: টপিকসমূহ: ১. মধ্য-যুগের সাহিত্য ধারা; ২. মধ্যযুগের প্রধান প্রধান লেখক ও তাঁদের সাহিত্য কর্ম; ৩. বাংলা গদ্যের উৎপত্তি ও বিকাশ; ৪. বাংলা নাটকের উৎপত্তি ও বিকাশ; ৫. বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের বিভিন্ন সাহিত্য কর্মের চরিত্র। উৎস: ষষ্ঠ থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যপাঠ বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], যেকোনো একজন ভালো একাডেমিক লেখকের বই; বাংলাপিডিয়া; বাজারে প্রচলিত যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ১৬ প্রশ্ন

.
ড. সুকুমার সেন বাংলার গদ্যরীতির কয়টি স্তর নির্দেশ করেছেন?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
ব্যাখ্যা
• ১৫৫৫ সালে আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়।
• ষোল শতক থেকে গদ্যরীতির সূচনা হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ সময়ে প্রয়োজনের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে।
• পশ্চাতে খ্রিষ্টান পসরা সাজিয়ে আগত পর্তুগিজ পাদ্রিদের হাতেই বাংলা গদ্যের ব্যাপক ব্যবহারের সূত্রপাত হয়।

• ড. সুকুমার সেন বাংলার গদ্যরীতির চারটি স্তর নির্দেশ করেছেন। যথা:
১. সূচনা: ষোল শতক-১৮০০ সালের পুর্ব পর্যন্ত।
২. উন্মেষ: ১৮০০-১৮৪৭ সালের পুর্ব পর্যন্ত।
৩. অভ্যুদয়: ১৮৪৭-১৮৬৫ সালের পুর্ব পর্যন্ত।
৪. পরিণতি ১৮৬৫ থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত।


উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিয়োগান্ত নাটক হচ্ছে-
  1. ক) চারুমুখ চিত্তহারা
  2. খ) কীর্তিবিলাস
  3. গ) ভদ্রার্জুন
  4. ঘ) ভানুমতী চিত্তবিলাস
ব্যাখ্যা
- ১৮৫২ সালে যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্তের ‘কীর্তিবিলাস’ এবং তারাচরণ শিকদারের ‘ভদ্রার্জুন’ নামক দুটি নাটক প্রকাশিত হয়।
-  ‘কীর্তিবিলাস’ হচ্ছে বিয়োগান্ত নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- স্বপত্নীপুত্রের অতি বিমাতার অত্যাচারকাহিনি অবলম্বনে কীর্তিবিলাস নাটকটি রচিত।
- বিভিন্ন চরিত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে ট্র‌্যাজেডির রূপায়ণ এর বৈশিষ্ট্য।
- আর ‘ভদ্রার্জুন’ ইংরেজি ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক মধুরান্তিক বাংলা নাটক।
- ‘ভদ্রার্জুন’ নাটকের কাহিনি অর্জুন কর্তৃক সুভদ্রাহরণ। মহাভারত থেকে কাহিনি সংগ্রহ করা হলেও বাঙালি সমাজের বাস্তব পরিবেশ এতে অঙ্কিত হয়েছে।


উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
কলকাতায় ‘হিন্দু থিয়েটার’ নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ক) প্রসন্নকুমার ঠাকুর
  2. খ) হেরাসিম লেবেডফ
  3. গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঘ) রামনারায়ণ তর্করত্ন
ব্যাখ্যা
- আঠারো শতকের শেষদিকে নেপালে বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয়। কিন্তু বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে এসব একটা কৌতূহল ছাড়া অন্য কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারে নি।
- বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় ১৭৯৫ সালে।
- হেরাসিম লেবেডফ নামে একজন রুশদেশীয় আগন্তুক কলকাতায় প্রথম ‘বেঙ্গল থিয়েটার’ নামে একটি রঙ্গালয় স্থাপন করেন।
- তিনি “The Disguise” এবং “Love is the best Doctor” নামে দুখানা নাটক বাংলা ভাষান্তরিত করে এদেশীয় পাত্রপাত্রীর দ্বারা অভিনয় করান।
- এতে ভারতচন্দ্র রচিত গান সংযোজিত হয়েছিল।
- ১৮৩১ সালে প্রসন্নকুমার ঠাকুর কর্তৃক কলকাতায় ‘হিন্দু থিয়েটার’ নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশের নাট্যরূপ অভিনীত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
কোন নাটকে এদেশে নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে?
  1. ক) বিষবৃক্ষ
  2. খ) লীলাবতি
  3. গ) নীলদর্পণ
  4. ঘ) সধবার একাদশী
ব্যাখ্যা
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম নাটক বেনামীতে মুদ্রিত ‘নীলদর্পণ’ (১৮৬০)।
- এই নাটকে এদেশে নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।
-  নাটকটির নাম ছিল ‘নীলদর্পণম নাঠকম’ এবং বিজ্ঞপ্তিটি ছিল:‘নীলকর-বিষধর-দংশনকাতর-প্রজা নিকর-ক্ষেমঙ্করেণ কেনাচৎ পথিকেনাভি প্রণীতম।’
- নাটকে নাট্যকারের নাম ছিল না।
- অনুমান করা হয় এটি ইংরেজি অনুবাদ করেছিলেন মাইকেল মধুসূদন।
- অনুবাদের প্রকাশক হিসেবে নাম থাকায় পাদ্রী রেভারেন্ড লং রাজদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিল।
- ‘সধবার একাদশী’ (১৮৬৬) নামক প্রহসনটিতে তৎকালীন ইয়ংবেঙ্গল দলের উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারের চিত্র অঙ্কন করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
বাংলা গদ্যে ‘বীরবলী’ ভাষারীতির প্রবর্তক কে?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) রাজা রামমোহন রায়
  4. ঘ) প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• বীরবলী চলিত ভাষা প্রমথ চৌধুরীর একনিষ্ঠ সাধনা ও সৃজনধর্মী মনের আন্তরিক প্রেরণায় উদ্বু্দ্ধ হয়েছে।
• অন্তর্নিহিত প্রাণশক্তি, দৃঢ়প্রকৃতিস্থ ও বহিরবয়ব আঙ্গিক বিন্যাসে সমৃদ্ধ বীরবলী রীতি।
• বাংলা সাহিত্যে বীরবলী গদ্যরীতিই সর্বপ্রথম পূর্ণাঙ্গ সাহিত্যিক চলিত ভাষার মর্যাদা লাভ করেছে।
•  ‘বীরবলেন হালখাতা’ প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রথম চলিত রীতির গদ্য রচনা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
বাংলা গদ্যের প্রথম কথ্যরীতিতে রচিত গ্রন্থ ‘আলালের ঘরের দুলাল’ এর রচয়িতা কে?
  1. ক) প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. খ) অক্ষয়কুমার দত্ত
  3. গ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. ঘ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
- বাংলা গদ্যে প্রথমবারের মত ‘আলালের ঘরের দুলাল’ গ্রন্থের মাধ্যমে প্যারীচাঁদ মিত্র কথ্য বা চলিত ভাষারীতির প্রয়োগ ঘটান।
- তিনি উপলব্ধি করেছিলেন , বাংলা গদ্যের সাধুরীতি কেবল লিখিত রূপেই প্রচলিত এবং বিদ্যালয়ে অধ্যায়নের সুযোগ বঞ্চিত লোকেরা , বিশেষত অন্তঃপুরচারিণীরা এই ভাষারীতি হৃদয়ঙ্গম করতে পারে না।
- এই অসুবিধা দূরীকরণে প্রথমত ‘মাসিক পত্রিকার” মাধ্যমে প্রচেষ্টা চালায় এবং তারই ফলস্বরুপ ‘আলালের ঘরের দুলাল’ এই গ্রন্থটি রচিত।
- এই গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা গদ্যরীতিতে এক অভিনব লঘুভঙ্গি প্রবর্তিত হয় এবং তা  কথ্যরীতির বহুল ব্যবহারের পথ উন্মুক্ত করে।


উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
মনসামঙ্গলের প্রাপ্ত প্রাচীনতম পুঁথি কোনটি?
  1. ক) মনসাবিজয়
  2. খ) পদ্মাবতী
  3. গ) চন্দ্রাবতী
  4. ঘ) পদ্মাপুরাণ
ব্যাখ্যা
• মনসামঙ্গল কাব্যধারার আদি কবি হচ্ছেন কানাহরি দত্ত।
• কানাহরি দত্তের নাম পাওয়া যায় বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরণ বা মনসামঙ্গলে।
তাতে একটি পঙক্তি আছে; ‘হরি দত্তের গীত যত লোপ পাইল কালে। কানাহরি দত্তের রচনা রোপ পাওয়ায় এর উদাহরণ পাওয়া যায় না।
- বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরাণ বর্তমানে মনসামঙ্গলের প্রাপ্ত প্রাচীনতম পুথি।
• কানাহরি দত্তের সময়কাল : আশুতোষ ভট্টাচার্যের মতে বিজয় গুপ্তের সময় শতাব্দী পূর্বে, অর্থাৎ ১৩৯৪ বঙ্গাব্দ।
• মনসাবিজয় রচনা করেন ‘বিপ্রদাস পিপিলাই’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
বাংলা গদ্যে প্রাঞ্জল ভাষারীতি কে ব্যবহার করেন?
  1. ক) হরপ্রসাদ রায়
  2. খ) রাজা রামমোহন রায়
  3. গ) প্রমথ চৌধুরী
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• যে যুগে বাংলা গদ্যে প্রাঞ্জলতা ছিল একান্ত দুর্লভ, তখন রাজা রামমোহন রায় গদ্যে প্রাঞ্জল ভাষারীতি ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
• বাংলা গদ্যরীতিকে পাঠ্যপুস্তকের বাইরে সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন রাজা রামমোহন রায় (১৭৭৪-১৮৩৩)
• তাঁর বলিষ্ঠ হাতে বাংলা গদ্য বিচার-বিশ্লেষণে উচ্চতর চিন্তাধারার প্রকাশের বাহন হিসেবে অপরিসীম গুরুত্ব লাভ করে।
• রাজা রামমোহন রায় বাংলা রচনায় যে গদ্যরীতি ব্যবহার করেছেন তাতে বিশেষ কোন প্রকার রীতির প্রতি তিনি দৃষ্টিপাত করেন নি। তািই বলা যায়, তাঁর গদ্যরীতি সাহিত্যরসমণ্ডিত না হলেও তাতে উপযোগিতা থাকায় অপরিসীম গুরুত্ব লাভ করে।
• কবি ঈশ্বর গুপ্ত তাঁর ভাষারীতির সমালোচনা করতে গিয়ে মন্তব্য করেছেন, ‘দেওয়ানজি জলের ন্যায় সহজ ভাষা লিখিতেন, তাহাতে কোন বিচার ও বিবাদঘটিত বিষয় লেখায় মনের অভিপ্রায় ও ভাব সকল অতি সহজে স্পষ্টরূপে প্রকাশ পাইত, এ জন্যে পাঠকেরা অনায়াসেই হৃদয়ঙ্গম করিতেন, কিন্তু সে লেখায় শব্দের বিশেষ পারিপাট্য ও তাদৃশ মিষ্টতা ছিল না’।


উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
রামনারায়ণ তর্করত্ন ‘নাটুকে নারায়ণ’ নামে খ্যাতি লাভ করে কোন নাটকটি রচনা করে?
  1. ক) শকুন্তলা
  2. খ) মালতীমাধব
  3. গ) কুলীনকুলসর্বস্ব
  4. ঘ) রত্নাবলী
ব্যাখ্যা
- নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভ করে।
- তাঁর ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক তৎকালীন নাট্যসাহিত্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
- সমকালীন সমাজব্যবস্থার কুসংস্কারাচ্ছন্ন দিকগুলো নাটকে রূপায়িত করতে গিয়ে আঙ্গিকগত দিক থেকে তাঁর চূড়ান্ত সার্থকতা লাভ করা সম্ভব হয় নি।
- ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক রচনার জন্য রামনারায়ণ রংপুরের জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী ঘোষিত পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার লাভ করেন।
- এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি ‘নাটুকে নারায়ণ’ নামে খ্যাতি লাভ করেছিল।

• সংস্কৃতে সুপণ্ডিত রামনারায়ণ তর্করত্ন সংস্কৃত থেকে কতিপয় নাটক বাংলায় অনুবাদ করেন:
- শকুন্তলা
- মালতীমাধব
- রত্নাবলী

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১০.
ময়মনসিংহ গীতিকার কোন পালাটি “আলাল-দুলালের” পালা হিসেবে পরিচিত?
  1. ক) মহুয়া
  2. খ) মলুয়া
  3. গ) দেওয়ানা মদিনা
  4. ঘ) কঙ্ক ও লীলা
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানা মদিনা' পালার লেখক মনসুর বয়াতি।
• বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
• বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবনকাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি ‘দেওয়ানা মদিনা' এর মূল বিষয়।
‘দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম ‘আলাল-দুলালের' পালা
• ‘দেওয়ারা মদিনা’র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো: আলাল, দুলাল, মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১.
জয়দেবের ‘গীতগোবিন্দম্‌’ ইংরেজিতে অনুবাদ করেন-
  1. ক) উইলিয়াম কেরি
  2. খ) উইলিয়াম জোনস
  3. গ) জসীমউদ্দীন
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
- উইলিয়াম জোনস ১৭৪৬ সালে ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মূলত বহু ভাষাবিদ এবং এশিয়াটিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা।
- তিনি ১৭৭০ সালে পারসি ভাষায় নাদির শাহের জীবনী অনুবাদ করেন।
- ১৭৮৪ সালে তিনি কলকাতায় এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন।

তিনি কিছু গ্রন্থ সংস্কৃত থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন-
- শকুন্তলা
- হিতোপদেশ
- জয়দেবের ‘গীতগোবিন্দ’

উল্লেখ্য,
নীলদর্পণ নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছিলেন - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২.
শিশির ও বনমালী কোন গল্পের চরিত্র?
  1. ক) হৈমন্তী
  2. খ) বনফুল
  3. গ) মানসী
  4. ঘ) চিত্রা
ব্যাখ্যা
- ‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোট গল্প।
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্প টি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ। 

• গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি-
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন। - আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ। ইত্যাদি।

• রবীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ হলো:
- বনফুল
- মানসী
- চিত্রা


উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১৩.
গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ উপাধি প্রদান করেন-
  1. ক) বিপ্রদাস পিপিলাই
  2. খ) শ্রীজীব গোস্বামী
  3. গ) বিজয় গুপ্ত
  4. ঘ) কানা হরিদত্ত
ব্যাখ্যা
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম ‘সংগীতমাধব’।
- গোবিন্দদাসের আসল পদবি সেন।
- বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস ।
- গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ছিলেন গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ' উপাধি দেন।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ উপাধিও প্রদান করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪.
“টপ্পা” কী?
  1. ক) এক ধরণের গান
  2. খ) বাদ্যযন্ত্র
  3. গ) কাব্যগ্রন্থ
  4. ঘ) নাচের মুদ্রা
ব্যাখ্যা
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধু (বাবু)।
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না। ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্তানি টপ্পা শিক্ষাগ্রহণ করেন। ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।

তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ:
নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা
পুরে কি আশা।

-তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম ‘গীতরত্ন’ (১৮৩২)।


উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫.
'রমা' চরিত্রটি পাওয়া যায় -
  1. ক) জহির রায়হানের উপন্যাসে
  2. খ) রবীন্দ্রনাথের কবিতায়
  3. গ) শরৎচন্দ্রের উপন্যাসে
  4. ঘ) মুনির চৌধুরীর নাটকে
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্রের রচিত ‘পল্লীসমাজ’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হলো:
- রমা
- রমেশ
- বেণী
- বলরাম ইত্যাদি।

- উপন্যাসটি রমা নামে নাট্যায়িত হয়।
১৬.
শেখ ফয়জুল্লাহ রচিত গোরক্ষবিজয় কোন সাহিত্য ধারার অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) মঙ্গলকাব্য
  2. খ) পালাগান
  3. গ) কবিগান
  4. ঘ) নাথ সাহিত্য
ব্যাখ্যা
নাথসাহিত্য নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- গাথা-কাহিনীগুলি অপেক্ষাকৃত পরবর্তীকালের রচনা; পূর্বধারার সঙ্গে এগুলির কালিক ব্যবধান অন্তত দুশতকের। এই ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনী হলো  গোরক্ষবিজয়।
- রাজা মানিকচন্দ্রের গীত, ময়নামতীর গান বা  গোপীচন্দ্রের গান একই ধারার ত্রিমুখী কাহিনী। 
- এছাড়া শেখ ফয়জুল্লাহ রচিত গোরক্ষবিজয় এ ধারার সাহিত্য। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।