পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৭
সিলেবাস
[নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২৪০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।] বিষয়: বাংলা টপিক: (সাহিত্য) পরীক্ষার টপিক: ১. বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ, ২. মধ্যযুগের সাহিত্যধারা ও গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের সাহিত্য কর্ম।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ১৭ প্রশ্ন

.
'শূন্যপুরাণ' গ্রন্থের রচিতা কে?
  1. হলায়ুধ মিত্র
  2. কেতদাস ক্ষমানন্দ
  3. রামাই পণ্ডিত
  4. কানা হরি দত্ত
ব্যাখ্যা
'শূন্যপুরাণ':
- রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বীয় গ্রন্থের নাম 'শূন্যপুরাণ'।
- মূল গ্রন্থে ধর্মপূজার যে বিবরণ আছে তাতে বৌদ্ধধর্মের শূন্যবাদ ও হিন্দু লোকধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে।
- শূন্যপুরাণ বিশেষভাবে ধর্মপূজা পদ্ধতি।
- কাব্যগ্রন্থটি ৫১ টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- শূন্যপুরাণ চম্পুকাব্যের নিদর্শন।
- গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে।
- বিশ্বকোষ প্রণেতা নগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করে।
-  এই কাব্যে ’শূন্যময় দেবতা’ ধর্মঠাকুরের পূজা পদ্ধতির বর্ণনা আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
.
বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রাম থেকে আবিষ্কৃত হয়-
  1. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  2. শূন্যপুরাণ
  3. ডাকার্নব
  4. ধর্মমঙ্গল কাব্য
ব্যাখ্যা
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি।
- আবিষ্কর্তা ও সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় প্রাচীন বৈষ্ণব লেখকদের ইঙ্গিত অনুসরণ করে গ্রন্থের নামকরণ করেন 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখ।
.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় কত খ্রিষ্টাব্দে?
  1. ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
 ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাসের দৌহিত্র শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুথি আবিষ্কার করেন।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থকে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ নামেও অভিহিত করা হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাশ।
- এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
মঙ্গলকাব্যে কতজন কবির সন্ধান পাওয়া যায়?
  1. ৪২ জন
  2. ৬৭ জন
  3. ৪৬ জন
  4. ৬২ জন
ব্যাখ্যা
• মঙ্গকাব্য:
মানুষের বিশ্বাস মতে, দেবদেবীর মাহাত্ম নির্ভর যে কাব্য রচনা, পাঠ ও শ্রবণ করলে নিজের, প্রতিবেশীর ও সমাজের মঙ্গল বা কল্যাণ সাধন হয় তাকে মঙ্গলকাব্য বলে।
পনের থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
•মঙ্গলকাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি, ঘনরাম চক্রবর্তী।
• মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি।
- মনসামঙ্গল,
- চণ্ডীমঙ্গল,
- অন্নদামঙ্গল।

• একটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যে সাধারণত ৫টি অংশ থাকে।
যথা:
- বন্দনা,
- আত্মপরিচয়,
- দেবখণ্ড,
- মর্ত্যখন্ড,
- শ্রুতিফল ।

- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য-
  1. ধর্মকেন্দ্রিকতা
  2. প্রেমকেন্দ্র
  3. রাষ্ট্রকেন্দ্রিকতা
  4. মানুষকেন্দ্র
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা:
- বৈষ্ণব সাহিত্য;
- মঙ্গলকাব্য;
- শাক্তপদ;
- নাথ সাহিত্য;
- অনুবাদ সাহিত্য;
- জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য;
- লোক সাহিত্য।

•  মধ্যযুগের সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য: ধর্মকেন্দ্রিকতা। এখানে মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ।
• মধ্যযুগের বৈষ্ণব সাহিত্য ধারা, পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
’শূন্যপুরাণ’ কাব্যগ্রন্থটির অংশবিশেষ-
  1. চর্যাপদ
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. নিরঞ্জনের উষ্মা
  4. সেক শুভোদয়া
ব্যাখ্যা
’শূন্যপুরাণ’ কাব্যগ্রন্থটির অংশবিশেষ- নিরঞ্জনের উষ্মা।
নিরঞ্জনের উষ্মা সম্পর্কে ভূদেব চৌধুরির অভিমত, এই অংশটুকু তুর্কি আক্রমনের পরবর্তীকালে রচনা।
- নিরঞ্জনের উষ্মা অংশের প্রতিপাদ্য হলো: বর্ণ হিন্দুগণ ধর্মসেবকদের প্রতি নানা অত্যাচার ও অবজ্ঞা করেছেন।
----------------------------------------------
'শূন্যপুরাণ':
- রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বীয় গ্রন্থের নাম 'শূন্যপুরাণ'।
- মূল গ্রন্থে ধর্মপূজার যে বিবরণ আছে তাতে বৌদ্ধধর্মের শূন্যবাদ ও হিন্দু লোকধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে।
- শূন্যপুরাণ বিশেষভাবে ধর্মপূজা পদ্ধতি।
- বিশ্বকোষ প্রণেতা নগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করে।
-  এই কাব্যে ’শূন্যময় দেবতা’ ধর্মঠাকুরের পূজা পদ্ধতির বর্ণনা আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম জীবনীগ্রন্থ কোনটি?
  1. চৈতন্য-মঙ্গল
  2. চৈতন্য-পাদবলি
  3. চৈতন্য-ভাগবত
  4. চৈতন্য-চরিতমৃত
ব্যাখ্যা

পরীক্ষা চলাকালীন অপশনে 'চৈতন্য-ভাগবত' এর পরিবর্তে 'চৈতন্য-ভাগতব' ছিল। 
বিষয়টি নজরে আসায় সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে। 
-------------- 

চৈতন্য-ভাগবত:
- শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়৷
- বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
- নিত্যনন্দ প্রভুর উৎসাহে চৈতন্যদেবের মৃত্যুর পনের বছরের মধ্যেই গ্রন্থটি রচিত বলে পণ্ডিতগণ মনে করেন।
- চৈতন্যদেবের জীবতে অনুচরদের মুখ থেকে তথ্য বৃত্তান্ত সংগ্রহ করে এই জীবনী রচিত হয়েছিলো।

অন্যদিকে,
- শ্রীচৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ হলো লোচন দাসের 'চৈতন্য-মঙ্গল'৷
- সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

.
গৌরচন্দ্রিকার শ্রেষ্ঠ পদকর্তা কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. চণ্ডীদাস
  3. গোবিন্দদাস
  4. লোচন দাস
ব্যাখ্যা
- সাধারণভাবে 'গৌরচন্দ্রিকা' কথাটির অর্থ গৌরাঙ্গদেব বিষয়ক যে কোন আলোচনা।
 - রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পালাগানের ভূমিকা বা মুখবন্ধ রূপে গৌরাঙ্গের জীবনে অনুরূপ ঘটনার অনুবর্তন হয়েছিল।
- তা স্মরণে গৌরাঙ্গ বিষয়ক যে পদ হিসাবে গাওয়া হয়, বৈষ্ণেবেরা তাকেই 'গৌরচন্দ্রিকা' বলেন।

• গৌরচন্দ্রিকার শ্রেষ্ঠ পদকর্তা- গোবিন্দদাস।

-------------------------------------------------
গোবিন্দদাস:
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব পদকর্তা।
- পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলার নিকট তেলিয়াবুধুরি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়-
  1. চণ্ডীদাস
  2. দ্বিজমাধব
  3. কবি জয়দেব
  4. রূপরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলির রচনা করেন চণ্ডীদাস।
----------------------------------------------
জয়দেব:
- তিনি একজন সংস্কৃত কবি।
- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার অজয়নদের তীরবর্তী কেন্দুবিল্ব বা কেঁদুলি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- জয়দেবের বিখ্যাত রচনা গীতগোবিন্দম্।
- এটি একটি  সংস্কৃত গীতিকাব্য।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা এর মুখ্য বিষয়।
- ২৮৬টি শ্লোক এবং ২৪টি গীতের সমন্বয়ে ১২ সর্গে এটি রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০.
’চাঁদ সওদাগর’ কোন কাব্যের চরিত্র?
  1. শীতলামঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. ষষ্ঠীমঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
মনসামঙ্গল:
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'৷
- এক পদ্মপুরাণ বলে অভিহিত করা হয়।
- বাংলার প্রাকৃত জীবন, এবং লৌকিক জীবনাচার থেকে উদ্ভব ঘটেছে, মনসামঙ্গল কাব্যের ।
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।

• মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কোন কবিকে'স্বভাব কবি' বলা হয়?
  1. কবি দ্বিজ রামদেব
  2. কবি মানিক দত্ত
  3. কবি ভবানীশঙ্কর দাস
  4. কবি দ্বিজ মাধব
ব্যাখ্যা
চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

• এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে-
১. একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।
২. দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২.
অন্নদামঙ্গল কাব্যধারার প্রধান কবি কে?
  1. লালা জয়নারায়ণ সেন
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. মুক্তারাম সেন
  4. ঘনরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
অন্নদামঙ্গল:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যধারার প্রধান কবি- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ ‘বিদ্যাসুন্দর'।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

• অন্নদামঙ্গল কাব্য মোট তিন খণ্ডে বিভক্ত।
যেমন:
- শিবনারায়ণ।
- কালিকামঙ্গল।
- মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩.
কবীন্দ্র পরমেশ্বর কার উৎসাহে মহাভারতের অনুবাদ করেছিলেন?
  1. নবাব হুসেন শাহ
  2. লক্ষণসেন
  3. পরাগল খাঁ
  4. গোবিন্দসেন
ব্যাখ্যা
মহাভারত:
- মহাভারত সংস্কৃত ভাষায় রচিত ক্লাসিক মহাকাব্য।
- এর মূল রচয়িতা - কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।
- প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন - কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- তিনি পরাগল খাঁর উৎসাহে প্রথম অনুবাদ করেছিলেন বলে এর নাম - পরাগলী মহাভারত।
- অনুবাদক কবীন্দ্র পরমেশ্বর অনুবাদকৃত গ্রন্থটির নাম দিয়েছিলেন - বিজয়পান্ডবকথা অথবা ভারতপাঁচালী।
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক - কাশীরাম দাস।
- মহাভারতের আদি, সভা, বন, ও বিরাট পর্ব রচনার পর কাশীরাম দাস ইহলোক ত্যাগ করেন।
- কবীন্দ্র পরমেশ্বরের পর শ্রীকর নন্দী মহাভারত অনুবাদ করেন যা ছুটিখাঁনী মহাভারত নামেও পরিচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪.
রোম্যান্টিক প্রনয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি কে?
  1. চন্দ্রবতী
  2. শাহ মুহম্মদ সগীর
  3. আব্দুল কাদির
  4. গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মুসলমান কবিগণের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান এই রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান বা প্রণয়কাহিনি।
- এই শ্রেণির কাব্য মধ্যযুগের সাহিত্যে বিশিষ্ট স্থান জুড়ে আছে।
- এই কাব্যধারা মূলত প্রেম, বিরহ, ঐতিহাসিক ঘটনা এবং কল্পনাপ্রসূত কাহিনিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
- মধ্যযুগে এই ধারা বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষত্ব হিসেবে গড়ে ওঠে এবং পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
----------------------------------------------------------------
• শাহ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্য বা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর।
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম ইউসুফ-জোলেখা।
- এটি একটি রোমান্টিক প্রনয়োপাখ্যান।
- ইউসুফ-জোলেখা কাব্যগ্রন্থের রচনাকাল অনুসারে এটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য এবং শাহ মুহম্মদ সগীর এই ধারার প্রথম কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫.
কোরেশী মাগন ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. পদ্মবতী
  2. মধুমালতী
  3. চন্দ্রবতী
  4. সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী
ব্যাখ্যা
'চন্দ্রাবতী কাব্য'
- আরাকান রাজসভায় অমাত্য কোরেশী মাগন ঠাকুর রচিত কাব্য 'চন্দ্রাবতী'।
- এর একটি খণ্ডিত পুথি পাওয়া গেছে।
- কব্যের রচনাকাল নিয়ে সংশয় আছে।
- এ কাব্যটি সতের শতকের।
- ভদ্রাবতী নগরের রাজপুত্র বীরভান মন্ত্রীপুত্র সুতের সহায়তায় কীভাবে সরন্দ্বীপ রাজকন্যা অপূর্বসুন্দরী চন্দ্রাবতীকে লাভ করেছিলেন তা - ই এ কাব্যে বর্ণিত হয়েছে। আলাওল মাগন ঠাকুরের উৎসাহে 'সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামাল' কাব্য রচনা করেন। '
-----------------------------------------------------
কোরেশী মাগন ঠাকুর:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি।
- চন্দ্রাবতী কাব্যের রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর এবং আরাকানের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দিক বংশজাত মাগন ঠাকুর একই ব্যক্তি ছিলেন এরূপ মনে করে তাঁর জীবনকথা আলোচনা করা হয়। 
- বাংলা, ফারসি, বর্মি ও সংস্কৃত ভাষায় মাগন ঠাকুরের অগাধ পান্ডিত্য ছিল।
- তাঁর রচিত চন্দ্রাবতী কাব্যের একটিমাত্র  পুথি পাওয়া গেছে।
- এটি  লোককাহিনী আশ্রিত রোমান্টিক প্রণয়কাব্য।
- বর্ণনাধর্মী এ কাব্যে সাহিত্যিক গুণের অভাব থাকলেও মধ্যযুগের কাব্য হিসেবে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। 

অন্যদিকে,
’পদ্মবতী’ কাব্যগ্রন্থের লেখক- কবি আলাওল।
’মধুমালতী’ কাব্যগ্রন্থের লেখক- মুহম্মদ কবীর।
’সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী’ কাব্যগ্রন্থের লেখক- কবি দৌলত কাজী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬.
’মৈমনসিংহ গীতিকা’ কোথায় থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়
  2. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. বাংলা একডেমি
  4. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা:
• বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• মৈমনসিংহ অঞ্চল থেকে সংগৃহীত পালা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী ও জয়চন্দ্র,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের ,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭.
‘দেওয়ানা মদিনা’ পালার চরিত্র হলো-
  1. হুমরা বেদে, সাধু
  2. কঙ্ক ও লীলা
  3. আলাল, দুলাল
  4. রতন , মানিক
ব্যাখ্যা
দেওয়ানা মদিনা:
‘দেওয়ানা মদিনা' পালার লেখক মনসুর বয়াতি।
- বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
- বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবনকাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি ‘দেওয়ানা মদিনা' এর মূল বিষয়।
- ‘দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম ‘আলাল-দুলালের' পালা।
- ‘দেওয়ারা মদিনা’র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো: আলাল, দুলাল, মদিনা।

অন্যদিকে,
’মহুয়া পালার’ চরিত্র, হুমরা বেদে, সাধু।
কঙ্কা ও লীলা পালার চরিত্র, কঙ্ক ও লীলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।