পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived

পরীক্ষা৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archivedতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes
মোট প্রশ্ন৩৫
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১৮: বিষয়: নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন (সম্পূর্ণ সিলেবাস) উৎস: অষ্টম থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বোর্ড বই, অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও যেকোনো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৫ প্রশ্ন

.
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় কোনটি গুরুত্বপূর্ণ নয়?
  1. নির্বাচন কমিশন
  2. দুর্নীতি দমন কমিশন
  3. অ্যাটর্নি জেনারেল
  4. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান 
ব্যাখ্যা

শুদ্ধাচার:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে বোঝায়।
- শুদ্ধাচারের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সমস্যা দূর করা যায়।
- রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হলো নাগরিক। তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে নাগরিকদের শুদ্ধাচারের চর্চা করতে হবে।
- শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা পেলে দুর্নীতি হ্রাস, জনগণ অন্যায় কর্ম থেকে বিরত থাকবে এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রিক অনাচার দূর হবে।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. নির্বাহী বিভাগ ও জনপ্রশাসন, ২. জাতীয় সংসদ, ৩. বিচার বিভাগ, ৪. নির্বাচন কমিশন, ৫. অ্যাটর্নি জেনারেল, ৬. সরকারি কর্ম কমিশন, ৭. মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, ৮. ন্যায়পাল, ৯. দুর্নীতি দমন কমিশন, ১০. স্থানীয় সরকার।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. রাজনৈতিক দল, ২. বেসরকারি খাতের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ৩. এনজিও ও সুশীলসমাজ, ৪. পরিবার, ৫. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৬ গণমাধ্যম।

উল্লেখ্য,
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এ কৌশলের মূল লক্ষ্য হল শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- এ কৌশলে রাষ্ট্র ও সমাজে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা সরকারের সাংবিধানিক ও আইনগত স্থায়ী দায়িত্ব; সুতরাং সরকারকে অব্যাহতভাবে এই লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে মর্মে উল্লেখ আছে।

উৎস: i) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

.
আমলাতন্ত্রে কোন ধরনের মূল্যবোধের ভারসাম্য থাকে?
  1. সামাজিক ও রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. নৈতিক ও পেশাগত মূল্যবোধ
  3. অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  4. নৈতিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, নিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদারী সংগঠন যার দ্বারা সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়।
- আমলাগণ পেশাগত ও নৈতিক মূল্যবোধের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে।
- একজন আমলার সিদ্ধান্ত যেমন ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ধারা প্রভাবিত হয় তেমনি পেশাগত মূল্যবোধ দ্বারা ও প্রভাবিত হয়।
- এই উভয় প্রকার মূল্যবোধের ভারসাম্য কেবলমাত্র আমলাতন্ত্রের মধ্যেই পরিলক্ষিত হয়।

⇒ আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Bureaucracy'।
- আমলাতন্ত্রের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে `Desk government' বা 'দাপ্তরিক সরকার'।
- আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন।
- বাস্তবে আমলারা পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
- আমলাতান্ত্রিক সংগঠন বহুমুখী বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
- সরকারের নীতি ও কর্মসূচি দল নিরপেক্ষভাবে বাস্তবায়ন করাই আমলাদের মূল দায়িত্ব।
- প্রশাসনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে আমলারা জনগণের সার্বিক কল্যাণ সাধন করে থাকেন।

উল্লেখ্য,
- 'লালফিতার দৌরাত্ম্য' (Red tapism) সাধারণত আমলাতন্ত্রে বেশি দেখা যায়।
- লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে কঠোর নিয়মনীতির মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা বোঝায়। এতে ফাইল বা নথি দীর্ঘসময় বন্দী হয়ে পড়ে। জনগণ স্বাভাবিক সময়ে সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয় এবং কাজের গতিশীলতা কমে যায়।
- এমনকি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রয়োজনের মুহুর্তেও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

.
গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য মিলের তিনটি শর্তের মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ব্যক্তিগত অধিকার সংরক্ষণের জন্য সদাসতর্ক
  2. গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা গ্রহণের ইচ্ছা
  3. আর্থিক বৈষম্য দূরীকরণ
  4. জনগণের সচেতন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য মিলের তিনটি শর্তের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়-  আর্থিক বৈষম্য দূরীকরণ।

গণতন্ত্রের সাফল্য:

- বর্তমানকালে আদর্শগতভাবে গণতন্ত্র সর্বোৎকৃষ্ট শাসন ব্যবস্থা হিসাবে বিবেচিত।
- এ শাসন ব্যবস্থা কার্যকর ও টেকসই করা কষ্টকর।
- হেনরী মেইন (Henry Maine) এ প্রসঙ্গে বলেন, "সকল ধরনের সরকারের মধ্যে গণতন্ত্র সবচেয়ে কঠিন”।
- গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা নানা ধরনের অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

• জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য তিনটি শর্তের উল্লেখ করেন। শর্তগুলো হল:
(ক) গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকা প্রয়োজন।
(খ) ব্যক্তিগত অধিকার সংরক্ষেণের জন্য জনগণকে সদাসতর্ক থাকতে হবে।
(গ) নিজ নিজ নাগরিক কর্তব্য পালন এবং অধিকার রক্ষার সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

.
পূর্ণতাবাদে নৈতিকতার মানদণ্ড কী দ্বারা নির্ধারিত হয়?
  1. সম্পদ ও ক্ষমতা
  2. আত্মোপলব্ধি
  3. সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা
  4. রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন
ব্যাখ্যা

পূর্ণতাবাদ:
- পূর্ণতাকে যে নীতি নৈতিকতার মান হিসেবে গ্রহণ করে তাকে পূর্ণতাবাদ বলে।
- পূর্ণতাবাদ বা কল্যাণবাদ অনুসারে পূর্ণতা লাভ বা আত্মোপলব্ধিই মানব জীবনের পরম কল্যাণ।
- অর্থাৎ পূর্ণতা লাভ বা আত্মেপলব্ধিই নৈতিকতার মানদণ্ড।
- এ মতবাদ অনুসারে আত্মোপলব্ধি বলতে মানুষের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশকেই বোঝানো হয়ে থাকে।
- পূর্ণ বিকাশ বলতে বোঝায় মানুষের মধ্যে একপ্রকার অন্তর্নিহিত শক্তি আছে সেই শক্তিসমূহের পূর্ণ বাস্তবায়ন।
- মানুষ বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন জীব হওয়ায় মানুষের পূর্ণতা লাভ বা আত্মোপলব্ধির ক্ষেত্রে ইন্দ্রিয় প্রবৃত্তি ও বিচারবুদ্ধি এই উভয় দিকের বিচার বিবেচনা করতে হয়।
- এ কথা ঘোষণা করার সাথে সাথে পূর্ণতাবাদ, সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।

উল্লেখ্য,
- প্লেটোর মতে, বুদ্ধি বা প্রজ্ঞার দ্বারা কামনা বাসনা জাতীয় প্রবৃত্তিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার ফলেই মানুষের পূর্ণতা বা কল্যাণ আসে।
- এরিস্টটলের মতে, সদগুণ অনুযায়ী মানুষের অন্ত নিহিত শক্তিগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন করার ফলেই পূর্ণতা আসে।
- তিনি মনে করেন, মানব জীবনের উৎকর্ষতা ইন্দ্রিয়জ অনুভূতির পরিবর্তে বুদ্ধির উপর নির্ভর করে।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
নিচের কোনটি ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. সকলের জন্য সমান সুযোগ
  2. পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতা
  3. সকলের জন্য সমান আইনের শাসন
  4. বিশেষ সুবিধা প্রদান
ব্যাখ্যা

ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত নয়- বিশেষ সুবিধা প্রদান।

ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতি হলো:
- পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতার নীতি প্রয়োগ।
- আইনের শাসন।
- অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে সমতার নিশ্চিতকরণ।

⇒ নৈতিক মূল্যবোধ:
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
সামাজিক অবক্ষয় রোধে কোনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে?
  1. শক্তিশালী সেনাবাহিনী
  2. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  3. রাজনৈতিক দল
  4. আইনের শাসন 
ব্যাখ্যা

সামাজিক অবক্ষয়:
- অবক্ষয় শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘ক্ষয়প্রাপ্তি’।
- সামাজিক মূল্যবোধ তথা সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা, ধৈর্য, উদারতা, শিষ্টাচার, সৌজন্যবোধ, নিয়মানুবর্তিতা, অধ্যবসায়, নান্দনিক সৃজনশীলতা, দেশপ্রেম, কল্যাণবোধ, পারস্পরিক মমতাবোধ ও অপরাপর নৈতিক গুণাবলি লোপ পাওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়াকে বলে সামাজিক অবক্ষয়।

⇒ যে কোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং সমাজের অন্যান্য অনুমোদিত আচার-আচরণের সমন্বয়ে সামাজিক মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
- এসব মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- সমাজে আইনের শাসনের দুর্বলতা ও অভাব, মানুষের সহনশীলতার অভাব এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণেও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে।
- ধর্মীয় অপব্যাখ্যাও মানুষকে মূল্যবোধহীন পথে পরিচালিত করতে পারে, যেমন- কোনো বিষয়ে মনগড়া ফতোয়াজারির মাধ্যমে দোররা মারা মূল্যবোধ পরিপন্থি কাজ।
- সুতরাং আইনের শাসন সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।

উল্লেখ্য,
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ। সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

.
‘স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই’-এ উক্তিটি কে করেছেন?
  1. অধ্যাপক সিলি
  2. হার্বার্ট স্পেনসার
  3. বার্কার
  4. অধ্যাপক ডাইসি
ব্যাখ্যা

‘স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই’-এ উক্তিটি করেছেন বার্কার।

আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক:
- স্বাধীনতা হল এমন ধরনের সুযোগ-সুবিধা যা দ্বারা কোন ব্যক্তি তার ব্যক্তিত্বের চরম বিকাশ সাধন করতে সক্ষম হয়। ব্যক্তি তার স্বাভাবিক সুকুমার বৃত্তিগুলোর বিকাশ সাধনে অন্যের দ্বারা বাধাগ্রস্ত না হয়।

• সমাজবিজ্ঞানী হার্বার্ট স্পেনসার বলেন, "স্বাধীনতা বলতে খুশিমত কাজ করাকে বোঝায় যদি উক্ত কাজের দ্বারা অন্যের অনুরূপ কাজে বাধা সৃষ্টি করা না হয়।"
• টি.এইচ. গ্রিন বলেন, "যা উপভোগ করার এবং সম্পন্ন করার যোগ্য, তা উপভোগ ও সম্পাদন করার ক্ষমতাকে স্বাধীনতা বলে।"
• জন স্টুয়ার্ট মিল বলেন, "মানুষের মৌলিক শক্তির বলিষ্ঠ, অব্যাহত ও বিভিন্নমুখী প্রকাশই স্বাধীনতা। স্বাধীনতার অর্থ মানুষ কর্তৃক নিজস্ব উপায়ে কল্যাণ অনুধাবন করা।"
• অধ্যাপক লাস্কি বলেন, "স্বাধীনতা বলতে সেই সব সামাজিক বিধিনিষেধের অপসারণকে বোঝায় যা সভ্য জগতে মানুষের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য অপরিহার্য।" 
• জন লকের মতে, "যেখানে আইন থাকে না, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।
• উইলোবি বলেন, "নিয়ন্ত্রণ আছে বলেই স্বাধীনতা রক্ষা পায়।"
• রিচি বলেন, "আত্মবিকাশের জন্য যে সকল সুযোগ-সুবিধা স্বাধীনতার স্বরূপে প্রকাশিত হয়, সেগুলো আইনের দ্বারা সৃষ্ট।"
• রুশো বলেন, "সুনির্দিষ্ট আইনের প্রতি আনুগত্যই স্বাধীনতা।" 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

.
সাম্য বলতে নিম্নের কোনটি বোঝায়?
  1. যোগ্যতা অনুসারে সমান সুযোগ প্রদান
  2. বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদান
  3. অবাধ স্বাধীনতা প্রদান
  4. পিছিয়ে পরা গোষ্ঠীকে সুযোগ-সুবিধা প্রদান
ব্যাখ্যা

সাম্য:
- সাম্য এর ইংরেজি প্রতিশব্দ Liberty. এর অর্থ সমান।
- সমান বলতে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা লাভ করাকে বুঝায়। কোন বিশেষ জনগোষ্ঠীকে পৃথকভাবে সুযোগ-সুবিধা না দেয়া।
-  অর্থাৎ সাম্য বলতে এমন একটি অবস্থা বা পরিবেশ বুঝায় যেন সকল নাগরিক সমান সুযোগ-সুবিধা লাভ করে যথার্থভাবে নিজেদের বিকাশ ঘটাতে হয়।
- অধ্যাপক লাস্কি বলেন, সকলের সম্মুখে যথার্থ সুযোগ-সুবিধার দ্বার উন্মুক্ত রাখার অর্থ হল সাম্য।

⇒ সাম্যের প্রকারভেদ:
ক) সামাজিক সাম্য
- সমাজের একজন সদস্য হিসেবে সকল সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার সবার রয়েছে। যেমন বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান এ রীতি অনুযায়ী অংশগ্রহণের সুযোগ, গ্রাম্য সালিসে ন্যায় বিচার পাওয়ার সুযোগ ইত্যাদি।
(খ) রাজনৈতিক সাম্য 
- সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর সুবিধা ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে। রাজনৈতিক থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে। প্রাপ্ত বয়স্ক সকল নাগরিকের রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
(গ) অর্থনৈতিক সাম্য
- নিজ নিজ পেশায় নিয়োজিত থাকা, পেশা পরিবর্তনের সুযোগ, যোগ্যতা অনুযায়ী চাকুরি লাজের সমতা ইত্যাদি অর্থনৈতিক সাম্য। অর্থনৈতিক সামা না থাকলে মানুষ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।
(ঘ) আইনগত সাম্য 
- কিছু কিছু আবার আইনের দ্বারা স্বীকৃত। যেমন- চাকুরিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার, সংগঠন ও সমাবেশ করার অধিকার ইত্যাদি ক্ষেত্রে সাম্যের বিষয়টি বাংলাদেশ সংবিধানে উল্লিখিত মৌলিক অধিকার। আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্য আইনের সাম্য থাকা উচিত। 
(ঙ) ব্যক্তিগত সাম্য
 - মত প্রকাশের সাম্য, গোপনীয়তা রক্ষার সামা, বন্ধু নির্বাচনের মতো বিষয়গুলো ব্যক্তিগত সাম্য, অন্যের ক্ষতি না করে নিজের করা বয়নের ব্যক্তিগত সাম্য। আধুনিক সমাজে ব্যক্তিগত সাম্যকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। অর্থাৎ সাম্য বিভিন্ন ধরনের দর্শ নাগরিক হিসেবে জীবন-যাপনের জন্য সব ধরনের সাম্য নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের কর্তব্য। ব্যক্তি পর্যায়ে যেন একজন অন্যজনের নষ্ট না করে তা খেয়াল রাখা নাগরিকের কর্তব্য।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
স্বাধীনতার প্রথম ও প্রাচীন রক্ষাকবচ কোনটি?
  1. সংবিধান 
  2. আইন 
  3. মানবাধিকার
  4. মৌলিক অধিকার
ব্যাখ্যা

আইন:
- ইংরেজি Law শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ আইন। 
- আইন হল রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত ও সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত জনসাধারণের সামগ্রিক কল্যাণের জন্যে অত্যাবশ্যক কতকগুলো বিধি-বিধানের সমষ্টি যা' রাষ্ট্রের সকলের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- স্বাধীনতার প্রথম ও প্রাচীন রক্ষাকবচ হলো আইন।
- আইনের মাধ্যমেই মূলত ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষিত হয়ে থাকে। কোন নাগরিকের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ বা বিপন্ন হলে আইন তা রক্ষা করতে অগ্রসর হয়। স্বাধীনতার উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি আইন দ্বারা আরোপিত শান্তির প্রকৃতি ও অনুপাতের উপর বিশেষভাবে নির্ভর করে। প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রীয় আইনকে স্বাধীনতার পূর্বশর্ত বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে।

উল্লেখ্য,
- রাষ্ট্রের অনুশাসনকে আইন বলে। যে সকল বিধিনিষেধ রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত ও যেগুলো ভঙ্গ করলে শাস্তি ভোগ করতে হয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞানুযায়ী সেগুলোকেই আইন বলে।
- এরিস্টটলের (Aristotle) মতে, "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হল আইন।"
- জন অস্টিনের (Austin) মতে, "আইন হল নিম্নতনের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের আদেশ।"
- অধ্যাপক হেনরী মেইনের (Henry Maine) মতে, পরিবর্তনশীল, ক্রমোন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফলকে আইন বলা হয়।"
- অধ্যাপক হল্যান্ডের (Holland) মতে, "আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের এমন কতকগুলো সাধারণ নিয়ম যা সার্বভৌম শক্তি কর্তৃক প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।"
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন (Wilson)-এর মতে, "আইন হল মানুষের স্থায়ী আচার-আচরণ ও চিন্তাধারার সেই অংশ যা' রাষ্ট্রের দ্বারা স্বীকৃত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যার পশ্চাতে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট সমর্থন রয়েছে।"
 
⇒ আইনের বৈশিষ্ট্য:
- আইন হচ্ছে মানুষের আচার-আচরণ সম্পর্কিত বিধান,
- আইন শুধু মানুষের বাহ্যিক আচরণকেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে,
- সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ হিসেবে সরকার আইন জারি করে থাকে,
- আইন জারির প্রাথমিক উদ্যোগ সরকার স্বয়ং কিংবা সাধারণ জনগণও নিতে পারে,
- আইন অবশ্য পালনীয়। আইন ভংগ বা অমান্য করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

অন্যদিকে,
• সংবিধান: প্রায় সকল দেশের সংবিধান সে দেশের জনগণের স্বাধীনতার রক্ষক হিসেবে কাজ করে। সাধারণত সংবিধান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও কর্তৃত্বকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। 
• মৌলিক অধিকার: গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের মৌলিক অধিকারগুলো স্বীকৃতি লাভ করে। সাধারণত সংবিধানে এসব মৌলিক অধিকার লিপিবদ্ধ থাকে।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
কোন দুটি ব্যবস্থার মাঝামাঝি একটি মধ্যম পথ হিসেবে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র উদ্ভূত হয়?
  1. রাজতন্ত্র ও গণতন্ত্র
  2. গণতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্র 
  3. চরম পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্র
  4. ধর্মতন্ত্র ও নাস্তিকতা
ব্যাখ্যা

কল্যাণমূলক রাষ্ট্র:
- আধুনিক রাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো জনকল্যাণ।
- এজন্য আধুনিক অধিকাংশ রাষ্ট্রকেই 'জনকল্যাণমূকর রাষ্ট্র' বলা হয়।
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলতে সেই রাষ্ট্রকে বুঝায় যার সমুদয় সম্পদ ও শক্তিকে নাগরিকের সার্বিক কল্যাণে নিয়োজিত করা হয়।
- যে রাষ্ট্রে ব্যক্তি ও সমাজের উন্নতি ও মঙ্গলের জন্য কর্মসূচী প্রণয়ণ ও বাস্তবায়ন করে তাঁকে কল্যাণ রাষ্ট্র বলা হয়।
 
⇒ কল্যাণমূলক রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক চাহিদা যেমন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
 - মৌলিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে এই রাষ্ট্র অধিক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, বেকারভাতা প্রদান, বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে।
- এছাড়া বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা, বেকার ভাতা এবং বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে।
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের অপরিহার্য শর্ত সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- রাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিকের সামগ্রিক কল্যাণ সাধন করাই এই রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য।

উল্লেখ্য,
- মূলত সামজতন্ত্রকে প্রতিরোধ করার জন্য পুঁজিবাদী বিশ্ব বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্ম পন্থা গ্রহণ করে। এই ভাবে চরম পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্রের মাঝামাঝি একটি মধ্যম ব্যবস্থা হিসেবে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে। বর্তমান বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কম-বেশী কল্যাণমূলক রাষ্ট্র।
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র মধ্যপন্থা অবলম্বন করে। ব্যক্তিগত মালিকানা ও রাষ্ট্রীয় মালিকানার মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করে মানুষের দুঃখ কষ্টের লাঘব করে থাকে। পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার সমন্বয় ঘটিয়ে সুফল লাভের ব্যবস্থা করে।
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র নাগরিকদের মধ্যে বিরাজমান অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে জীবনযাত্রার ন্যূনতম মান সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে। সমাজের ধনী দরিদ্রের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করে সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা করে।

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
iii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১১.
অবস্তুগত সংস্কৃতিতে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. সাহিত্য
  2. হাতিয়ার
  3. মূল্যবোধ
  4. ধর্ম
ব্যাখ্যা

- অবস্তুগত সংস্কৃতিতে অন্তর্ভুক্ত নয়- হাতিয়ার।
- এটি বস্তুগত সংস্কৃতি।

সংস্কৃতি:

- সংস্কৃতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Culture।
- মানুষ তার জীবন চলার পথে বা জীবন মান বৃদ্ধির জন্য তার চার পাশের পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য যে সমস্ত কার্যাবলি করে থাকে তাকে সংস্কৃতি বলে।
- কোনো কোনো সমাজে যেটা সংস্কৃতি অন্য সমাজে সেটা অপসংস্কৃতি বলে গণ্য হতে পারে।
- সংস্কৃতিতে সর্বজনীন বলে কিছু নেই। পৃথিবীতে রাষ্ট্রভেদে সংস্কৃতি আলাদা।
- তবে সাধারন কিছু উপাদান আছে যা সকল দেশে একই রকম। এগুলো হলো: ভাষা, প্রতীক, আচরণবিধি, হস্তশিল্প, নৈতিকতা, মূল্যবোধ, পরিবর্তিত আচরণবিধি ও বিশ্বাস, আচার-অনুষ্ঠান ইত্যাদি।

⇒ সংস্কৃতি দুই প্রকার। যথা:
• বস্তুগত সংস্কৃতি: 
- সকল বস্তুগত জিনিসপত্র যা মানুষ দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য ব্যবহার করে তাকে বস্তুগত সংস্কৃতি বলে। এসব বস্তুগত জিনিসের মধ্যে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, পোষাক, বাসন বা তৈজসপত্র, হাতিয়ার অন্যতম।

• অবস্তুগত সংস্কৃতি: 
- যেসব বিষয়ের বস্তুগুণ নেই অথচ আমাদের সংস্কৃতির অংশ তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
যেমন-চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা, রীতিনীতি, সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, নীতিবোধ ইত্যাদি।
এক কথায় ভাবগত সংস্কৃতিকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।

এছাড়াও মানুষের ভাষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আইন, আদর্শ, মূল্যবোধ, প্রথা, শিল্পকলা, অভ্যাস, বিশ্বাস, সামর্থ্য ইত্যাদি উপাদানও অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ।

উৎস: i) Britannica.
ii) সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কোনটি অপরিহার্য উপাদান নয়?
  1. সামাজিক ন্যায়বিচার
  2. শৃঙ্খলাবোধ
  3. প্রযুক্তিগত অগ্রগতি
  4. আইনের শাসন
ব্যাখ্যা

সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কোনটি অপরিহার্য উপাদান নয়- প্রযুক্তিগত অগ্রগতি। 

মূল্যবোধ এবং সুশাসনের সম্পর্ক:
• সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ:
- মূল্যবোধ সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ ঘটায়। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও মূল্যবোধ রক্ষা পায়। গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় সামাজিক ন্যায়বিচার ব্যক্তিস্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ। সমাজজীবনে অগ্রগতির প্রধান সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ। শৃঙ্খলাবোধ মানবিক মূল্যবোধগুলোকে সুদৃঢ় করে সমাজজীবনকে উন্নতি ও প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধ সুশাসনের ও বৈশিষ্ট্য এবং প্রয়োজনীয় উপাদান। যে সমাজ বা রাষ্ট্রে মূল্যবোধের এ উপাদান অনুপস্থিত সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।

• সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা:
- মূল্যবোধ সমাজজীবনকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে এবং সমাজজীবনে ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে।

• আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা:
- আইনের শাসন মূল্যবোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তি তার সামাজিক মর্যাদা খুঁজে পাবে এবং অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে নিশ্চিত হবে। আইনের শাসন সুশাসনেরও গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ও আবশ্যকীয় উপাদান। আইনের শাসন না থাকলে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় না।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১৩.
এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (ADB) সুশাসন নিশ্চিতকরণে কয়টি উপাদান উল্লেখ করেছে?
  1. ৪টি
  2. ৬টি
  3. ৫টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা

সুশাসনের উপাদান:
- Asian Development Bank (ADB)-এর মতে, সুশাসন নিশ্চিতকরণে ৪টি উপাদান উল্লেখ করেছে।
- এগুলো 'Sound Development Management' বা সুষম উন্নয়ন ব্যবস্থাপনার ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। উপাদানগুলো হলো:
• জবাবদিহিতা (Accountability),
• অংশগ্রহণ (Participation),
• পূর্বাভাসযোগ্যতা (Predictability) এবং,
• স্বচ্ছতা (Transparency)। 

এছাড়াও,
- ইউএনডিপি এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৯টি।
- জাতিসংঘের মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৮টি।
- বিশ্বব্যাংকের এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৬টি।
- জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন বা UNHCR এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।
- আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক বা AFDB এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।
- International Development Association (IDA) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
- প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।

১৪.
নৈতিকতা ও ঔচিত্যবোধের বিকাশভূমি হিসেবে কোনটিকে বিবেচনা করা হয়?
  1. রাষ্ট্র
  2. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
  3. পরিবার
  4. সমাজ
ব্যাখ্যা

নীতি ও ঔচিত্যবোধ:
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ মূল্যবোধের একটি উপাদান। 
- সমাজ হচ্ছে স্বাভাবিক পরিবেশ, যাকে নৈতিকতা ও ঔচিত্যবোধের বিকাশভূমি বা শিক্ষাক্ষেত্র বলা যেতে পারে।
- নৈতিকতার সাথে তাই মূল্যবোধের সম্বন্ধ অত্যন্ত নিবিড়।
- সমাজে কারো ক্ষতি না করা, কারো মনে কষ্ট না দেওয়া, কটূক্তি না করা প্রভৃতি হচ্ছে নীতি ও ঔচিত্যবোধ।  
- নীতি ও ঔচিত্যবোধের অনুমোদন ব্যক্তি তার নিজের কাছ থেকেই পেয়ে থাকে। ফলে সে ন্যায়-অন্যায়, ভাল-মন্দ, উচিত, অনুচিতের পার্থ্যক্য করে ভালো বা মঙ্গলের চেষ্টা করে।

উল্লেখ্য মূল্যবোধের অন্যান্য উপাদান:
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ, 
- সামাজিক ন্যায়বিচার,
- শৃঙ্খলাবোধ,
-  সহনশীলতা, 
- সহমর্মিতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- আইনের শাসন,
- নাগরিক সচেতনতা,
- কর্তব্যবোধ,
- সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা,
- সরকার ও রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৫.
আইনের শাসনের সূচক প্রকাশ করে কোন সংস্থা?
  1. UNDP
  2. Institute of Economic and Peace
  3. The Economist Intelligence Unit
  4. World Justice Project
ব্যাখ্যা

World Justice Project (WJP):
- আইনের শাসনের সূচক প্রকাশ করে World Justice Project (WJP)।
- ৮টি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আইনের শাসনের এই সূচক তৈরি করা হয়।
- এগুলো হলো: রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা, নিয়ন্ত্রণমূলক ক্ষমতার প্রয়োগ, জননিরাপত্তা, মৌলিক অধিকার, দুর্নীতি, সরকারি তথ্য প্রকাশ, দেওয়ানি বিচার ও ফৌজদারি বিচার।
- ‘WJP Rule of Law Index' শিরোনামে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।
- সংস্থাটি ২০০৯ সাল থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন দেশের আইন ব্যবস্থা এবং সুশাসনের অবস্থা পরিমাপ ও মূল্যায়ন করে বাষির্ক প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে।

উল্লেখ্য,
- World Justice Project একটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান।
- এটি বিশ্বব্যাপী আইন ব্যবস্থা এবং সুশাসন নিয়ে কাজ করে থাকে।

এছাড়াও, বিভিন্ন সূচক:
- ই-কমার্স সূচক প্রকাশ করে: UNCTAD.
- গণতন্ত্র সূচক প্রকাশ করে: The Economist Intelligence Unit.
- মানব উন্নয়ন সূচক প্রকাশ করে: UNDP.
- বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচক প্রকাশ করে: Reporters without Borders.
- সুখ সূচক প্রকাশ করে: Sustainable Development Solution Network (SDSN).
- বৈশ্বিক শান্তি সূচক প্রকাশ করে: Institute of Economic and Peace (IEP).
- দূর্নীতি সূচক প্রকাশ করে: Transparency International.

উৎস: World Justice Project ওয়েবসাইট।

১৬.
কোন স্বাধীনতা ছাড়া অন্য স্বাধীনতাগুলি মূল্যহীন?
  1. ব্যক্তিগত স্বাধীনতা
  2. সামাজিক স্বাধীনতা
  3. জাতীয় স্বাধীনতা
  4. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতা:
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়, অন্যের অধিকার বা কার্যাবলির ওপর হস্তক্ষেপ না করে, স্ব-ইচ্ছানুসারে নিজের কার্য করার অধিকারকে স্বাধীনতা বলে।

⇒ স্বাধীনতার বিভিন্ন রুপ: রাজনৈতিক স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সামাজিক স্বাধীনতা, আইনগত স্বাধীনতা, প্রাকৃতিক স্বাধীনতা, জাতীয় স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা।

• জাতীয় স্বাধীনতা:
- বৈদেশিক শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্তি লাভ করে যখন একটি জাতি সার্বভৌমত্ব অর্জন করে তখন তাকে জাতীয় স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব বলে।
- বর্তমানে অধিকাংশ রাষ্ট্রই জাতি রাষ্ট্র। অর্থাৎ তারা স্বাধীন জাতি হিসেবে রাষ্ট্র গঠন করেছে।
- একটি জাতির নিজস্ব পরিচয় প্রতিষ্ঠার সক্ষমতাই হল জাতীয় স্বাধীনতা। 
- জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ একটি জনসমষ্টি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন ও রাষ্ট্র গড়ে তুলে জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন করে।
- জাতীয় স্বাধীনতা ব্যতীত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন।
- জাতীয় স্বাধীনতা সব স্বাধীনতার মূলভিত্তি।
 - জাতি হিসেবে স্বাধীন থাকা যেমন গর্বের তেমনি তা অর্জন করাও কষ্টসাধ্য। অনেক ক্ষেত্রে তা স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে লক্ষ্য প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়। যেমন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ ৩০ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে কাঙ্খিত স্বাধীনতা অর্জন করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
সুশাসনের ক্ষেত্রে ‘watchdog’ হিসেবে কাজ করে কোনটি?
  1. বিচার বিভাগ
  2. আইনসভা
  3. স্বাধীন প্রচার মাধ্যম
  4. নির্বাহী বিভাগ
ব্যাখ্যা

সুশাসনের ক্ষেত্রে ‘watchdog’:
- সুশাসনের ক্ষেত্রে ‘watchdog’ হিসেবে কাজ করে স্বাধীন প্রচার মাধ্যম।
- গণমাধ্যমের প্রাথমিক দায়িত্ব হলো ‘ওয়াচডগ’ বা প্রহরীর ভূমিকা পালন করা। এই ভূমিকা পালনের মাধ্যমে গণমাধ্যম ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ার প্রবণতা রোধ করে এবং সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।

⇒  সংবাদক্ষেত্রকে বলা হয় দ্য ফোর্থ এস্টেট।
- সংবাদপত্র পরিচালনায় সাংবাদিকদের স্বাধীনতা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি একটা বিষয়।
- সংবাদমাধ্যম আছে গণতন্ত্র ও সুশাসনকে সমর্থন-সহযোগিতা করতে। সরকারেরও দায়িত্ব সেই লক্ষ্যেই কাজ করা।
- সরকারের ভুলত্রুটি, শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক চর্চাসহ বাকি সমস্ত বিষয়ে সংবাদমাধ্যম ওয়াচডগের ভূমিকা পালন করবে। 

উৎস: প্রথম আলো।

১৮.
ওয়াশিংটন কনসেনসাস নামক ধারণার প্রথম প্রবর্তক কে?
  1. জন স্টুয়ার্ট মিল
  2. জন উইলিয়ামসন
  3. অ্যাডাম স্মিথ
  4. জেফ্রি স্যাকস
ব্যাখ্যা

ওয়াশিংটন কনসেনসাস:
- ওয়াশিংটন কনসেনসাস নামক ধারণার প্রথম প্রবর্তক হলেন ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ জন উইলিয়ামসন (John Williamson)।
- তিনি ১৯৮৯ সালে এই ধারণাটি ব্যবহার করেন।
- তিনি ওয়াশিংটন ডিসি ভিত্তিক ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ইকনমিকস এর একজন অর্থনীতিবিদ।
- প্রেক্ষাপট: ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্য এই নীতির সুপারিশ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল রাজস্ব শৃঙ্খলা, বাণিজ্য উদারীকরণ, বেসরকারীকরণ, এবং সরকারি ব্যয় পুনর্বিন্যাস। 

উল্লেখ্য,
- ওয়াশিংটন কনসেনসাস নয়া উদারতাবাদী অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়নের সাথে সম্পৃক্ত।
- এটি মুক্ত-বাজার অর্থনৈতিক নীতির একটি গুচ্ছ বোঝায়।
- মূলত আই এম এফ, বিশ্বব্যাংক, আর যুক্তরাষ্টের ট্রেজারী বিভাগকে পরোক্ষভাবে 'ওয়াশিংটন কনসেনসাস' বলে।
- এই তিনটি প্রতিষ্ঠান কতগুলো সংস্কার প্রস্তাব দিয়ে থাকে যা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রয়োগ করা হয়।

⇒ অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে এই ধারণাগুলো তৈরি করা হয়েছিল।
- নীতিগুলো হচ্ছে: বাণিজ্য উদার করা, অন্তর্মুখী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক-শৃঙ্খলা, দক্ষ সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার, কর সংস্কার, ফিন্যানশিয়াল উদারীকরণ, প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার, বেসরকারি খাতে হস্তান্তরকরণ নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা এবং সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করা।

উৎস: Britannica.

১৯.
স্ট্রাকচারাল অ্যাডজাস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (SAP) কে প্রণোদিত করেছিল?
  1. জাতিসংঘ
  2. ইউরোপীয় কমিশন
  3. আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক
  4. ইউরোপীয় ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা

Structural Adjustment Programs (SAP):
- স্ট্রাকচারাল অ্যাডজাস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (SAP) হলো আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) ও বিশ্বব্যাংক (World Bank)-এর দেওয়া ঋণের শর্ত হিসেবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর চাপানো কিছু অর্থনৈতিক নীতি, যার লক্ষ্য সরকারি ব্যয় কমানো, বেসরকারীকরণ, মুক্তবাজার অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা এবং রপ্তানি বৃদ্ধি করে দেশের অর্থনীতির কাঠামোগোত পরিবর্তন আনা।

⇒ ১৯৮৬ সালে  নাইজেরিয়া এসএপি গ্রহণ করে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল:
- বৈদেশিক মুদ্রার বাজারকে সংস্কার করা।
- বাণিজ্য নীতি পরিবর্তন করা।
- ব্যবসায়িক এবং কৃষি খাতের নিয়ন্ত্রণ পুনর্বিন্যাস করা।
- অর্থনীতির উৎপাদনশীল ভিত্তি পুনর্গঠন এবং বৈচিত্র্য আনা।
- তেল খাতের উপর নির্ভরতা কমানো।
- সরকারের বাজেট ঘাটতি কমানো।

উৎস: World Bank ওয়েবসাইট।

২০.
সুশাসনের ধারণা কোন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রথম উদ্ভাবিত হয়?
  1. বিশ্বব্যাংক 
  2. জাতিসংঘ 
  3. আইএমএফ 
  4. ইউনিসেফ
ব্যাখ্যা

সুশাসনের ধারণা:
- সুশাসনের ধারণাটি প্রথম বিশ্বব্যাংক কর্তৃক উদ্ভাবিত হয়।
- একটি বহুমুখী ধারণা হিসাবে (Multi-dimentional) সুশাসনের উদ্ভব হয় মূলত ১৯৮৯ সালে। বিশ্বব্যাংক প্রথম এই ধারণা উপস্থাপন করে।
- ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক প্রকাশিত “Governance and Development” (শাসন ও উন্নয়ন) শীর্ষক প্রতিবেদনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবর্তন ও পরিচিত করানো হয়েছিল, যা অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য একটি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। 

⇒ সাধারণ অর্থে সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- এটি ৪ ধরণের ধারণা নির্মাণ করে: রাজনৈতিক সুশাসন, সামাজিক সুশাসন, অর্থনৈতিক সুশাসন এবং সাংস্কৃতিক সুশাসন।

⇒ 'সবুজ বিপ্লব' আর 'কাঠামো সমন্বয় কর্মসূচি'র ব্যর্থতার পর বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) উন্নয়নের শর্ত হিসাবে এ ধারণার অবতারণা করে। মোটা দাগে সুশাসনের প্রধান ক্ষেত্রসমূহ হল -
(ক) রাজনৈতিক: গণতন্ত্র ও সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ,
(খ) অর্থনৈতিক: মুক্তবাজার অর্থনীতি ও বেসরকারিকরণ,
(গ) সামাজিক-সাংস্কৃতিক: পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রসার এবং
(ঘ) তথ্য ও প্রযুক্তি: বিশ্বজুড়ে তথ্য-প্রযুক্তির প্রসার।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২১.
নিচের কোনটি বার্ট্রান্ড রাসেলের রচিত গ্রন্থ নয়?
  1. Power: A New Social Analysis
  2. The Elements of Ethics
  3. Principles of Social Reconstruction
  4. Perpetual Peace
ব্যাখ্যা

বার্ট্রান্ড রাসেল:
- বার্ট্রান্ড রাসেল (১৮ মে ১৮৭২-২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭০) ব্রিটিশ দার্শনিক, প্রভূত গ্রন্থ ও প্রবন্ধের রচয়িতা, শান্তিবাদী ‘অ্যাকটিভিস্ট’, গণবক্তা, গণবুদ্ধিজীবী, শিক্ষক ও নোবেল পুরস্কারে ভূষিত সাহিত্যিক হিসেবে বিশ্ব পরিচিত। 
- তিনি ছিলেন বিশ্লেষণী দর্শনের একজন প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর দর্শন, গণিত, যুক্তি, সেট তত্ত্ব, ভাষাতত্ত্ব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জ্ঞানতত্ত্ব ও অধিবিদ্যায় মৌলিক অবদান রেখেছে।
- তিনি সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। 
- তিনি যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ‘বিশ্ব সরকার’ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন।

⇒ বার্ট্রান্ড রাসেল রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো -
- The Elements of Ethics (1910),
- Roads to Freedom (1918),
- Human Society in Ethics and Politics,
- Mortal and others,
- Principles of Social Reconstruction (1916),
- Power: A New Social Analysis,
- Political Ideals,
- The Analysis of mind,
- The Prospects of Industrial Civilization (1923),
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.

অন্যদিকে,
- Perpetual Peace ইমানুয়েল কান্ট রচিত।

উৎস: i) শিক্ষার দার্শনিক ও মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

২২.
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে সুশাসনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বলা হয়েছে কোনটিকে?
  1. নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  2. রাজনৈতিক দলের ক্ষমতায়ন
  3. মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
  4. দারিদ্র বিমোচন
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।
- কারণ মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়।
- অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
- ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

উল্লেখ্য,
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।

⇒ জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে। উপাদানগুলো হলো:
- অংশগ্রহণ;
- মতামতের উপর নির্ভরশীলতা;
- জবাবদিহিতা;
- স্বচ্ছতা;
- দায়বদ্ধতা;
- কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা;
- ন্যাযতা; এবং
- আইনের শাসন।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

২৩.
আধুনিক বিশ্ব কোন ধরনের মূল্যবোধকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়?
  1. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  3. অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
  4. সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
-  ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়। 
- প্রতিটি শিশুই ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় এবং পরিবার থেকেই সে তার মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।
- আধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ওপর।
- এটি ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪.
লর্ড ব্রাইসের মতে, কোন গুণ থাকলে নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে গণ্য হয়?
  1. জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা
  2. প্রজ্ঞা, নিষ্ঠা, ধৈর্য
  3. বুদ্ধি, আত্মসংযম, বিবেক
  4. সাহস, প্রজ্ঞা ও দয়া
ব্যাখ্যা

সুনাগরিক:
- 'সু' শব্দের অর্থ হল ভালো বা আদর্শ। তাহলে সুনাগরিক মানে হল আদর্শ নাগরিক।
- সুনাগরিকই রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করে।
- যেকোন রাষ্ট্রের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য সুনাগরিকের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।

⇒ লর্ড ব্রাইস প্রদত্ত সুনাগরিকের উপাদানগুলোই এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
- কোনো নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে পরিগণিত হবে যদি 'বুদ্ধি, আত্মসংযম ও বিবেক' এই তিনটি গুণ তার মধ্যে থাকে।
- এই গুণগুলো নাগরিককে দায়িত্বশীল, ন্যায়পরায়ণ ও বিচক্ষণ করে তোলে, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সফলতার জন্য অপরিহার্য বলে বিবেচিত হয়।

এছাড়াও,
- অধ্যাপক ই, এম, হোয়াইট এর মতে ’সাধারণ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা এ তিনটি গুন যদি কোন নাগরিকের থাকে তাহলে সে-ই সুনাগরিক।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২৫.
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসনের অনুপস্থিতির প্রভাব কী?
  1. বেকারত্বের হার বৃদ্ধি
  2. অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত
  3. বিদেশি বিনিয়োগ হ্রাস
  4. উপরোক্ত সব
ব্যাখ্যা

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্ব:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হয়।
- রাজনৈতিক দলগুলোর সহিংস আচরণ এবং হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও নীতি অবলম্বনের ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
- উন্নয়ন সহযোগী দাতা সংস্থাগুলো মুখ ফিরিয়ে নেয়, বিদেশি উদ্যোক্তারা এসব দেশে শিল্প-কলকারখানা স্থাপনে বা পুঁজি বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।
- ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায় এবং বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পায়।

উল্লেখ্য,
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব ক্রমশ বেড়েই চলছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২৬.
নিম্নলিখিত কোন মূল্যবোধ অতীতে ছিল কিন্তু এখন নেই?
  1. স্কুল শিক্ষার গুরুত্ব
  2. মানবাধিকারের স্বীকৃতি
  3. সতীদাহ প্রথা
  4. স্বাস্থ্য সচেতনতা
ব্যাখ্যা

আধুনিক মূল্যবোধ:
- আধুনিক মূল্যবোধ বলতে বোঝায় এমনসব নীতি ও মানদণ্ড যা ব্যক্তির স্বাধীনতা, যুক্তি, বিজ্ঞান, সামাজিক ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, সহনশীলতা, ও প্রগতিকে গুরুত্ব দেয়; যা প্রথাগত ধারণার বদলে ব্যক্তি ও সমাজের উন্নয়নকে প্রাধান্য দেয়, যেখানে আইন ও নাগরিক সচেতনতা, শ্রমের মর্যাদা, এবং নৈতিকতা আধুনিক জীবনযাত্রার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। 

উল্লেখ্য,
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল।
- আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেরও পরিবর্তন ঘটে।
- এজন্যই অতীতের অনেক মূল্যবোধই এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
- অতীতে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিল, এখন মানুষ বাল্যবিবাহকে অপছন্দ করে।
- রাষ্ট্র আইন করে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
- অতীতে হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথা, সহমরণ প্রথা প্রচলিত ছিল, বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল।
- এগুলো আজ আর নেই। মূল্যবোধ এজন্যই নৈর্ব্যক্তিক বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ একদিন ভবিষ্যতে হয়তো থাকবে না। গড়ে ওঠবে নতুন মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২৭.
সুশাসনের ধারণায় ‘Win Win Game’-এর অর্থ কী?
  1. শুধুমাত্র সরকার সর্বদা জয়ী
  2. শুধুমাত্র জনগণ সর্বদা জয়ী
  3. সরকার ও জনগণ উভয়ই লাভবান
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসনের ধারণায় 'Win-Win Game' বলতে এমন একটি পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে সরকার ও জনগণ, উভয় পক্ষই পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে এমনভাবে লাভবান হয় যে কারোরই কোনো ক্ষতি হয় না।
- অর্থাৎ, সবাই বিজয়ী হয়, যা একটি ইতিবাচক ও পারস্পরিক উপকারী ফলাফল

⇒ মূলত: ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়।
- এটি বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন নামে পরিচিত।
- আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।
- এতে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও জনগণের ‘Win Win Game’ বলা হয়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ, ndicia24.com।

২৮.
প্লেটোর সমগ্র দর্শন কোন তত্ত্বের উপর প্রতিষ্ঠিত?
  1. নৈতিকতা
  2. ন্যায়বিচার তত্ত্ব
  3. রাজনৈতিক ক্ষমতা
  4. শিক্ষাবাদ
ব্যাখ্যা

প্লেটোর ন্যায়বিচার তত্ত্ব:
- প্লেটোর সমগ্র দর্শন তাঁর ন্যায়বিচার তত্ত্বের উপর প্রতিষ্ঠিত।
- ন্যায়বিচার তত্ত্ব তাঁর 'দি রিপাবলিক' পুস্তকের মূল আলোচ্য বিষয়। এমনকি 'দি রিপাবলিক' গ্রন্থের বিকল্প শিরোনাম হলো 'ন্যায়বিচার বিষয়ক গ্রন্থ' (Concerning Justice)।
- অধ্যাপক স্যাবাইন বলেন, “দি রিপাবলিকের ন্যায়বিচার তত্ত্বের মধ্য দিয়ে প্লেটোর রাষ্ট্রীয় মতবাদ চূড়ান্ত বা সর্বোচ্চ শিখরে দাঁড়িয়েছে।"

⇒ প্লেটোর কাছে ন্যায়বিচার এর সাধারণ অর্থের মত তথা 'ঔচিত্য' বা 'অন-ঔচিত্যবোধক' নয়, বরং তা যোগ্যতা ও শ্রমবিভক্তির ধারণার উপর সুপ্রতিষ্ঠিত।
- প্লেটোর সময় ক্রম:ক্ষয়িষ্ণু এথেন্সের নগররাষ্ট্রে যে সংকট দেখা দিয়েছিল, তিনি সে সংকটকে সাধারণভাবে 'ন্যায়ের সংকট' বলেই মনে করেছিলেন। ন্যায়ের সংকট বলতে তিনি বুঝাতে চেয়েছেন, 'যার যে যোগ্যতা আছে, সে সেখানে না থেকে অন্যত্র অবস্থান করছে। অর্থাৎ যারা শাসন করছেন তারা শাসক হওয়ার উপযুক্ত নন। শাসন একটি শিল্প ও গুণ। এই গুণ যাদের মধ্যে বিরাজমান কেবলমাত্র তারাই হবেন শাসক। তবেই রাষ্ট্রের কাজকর্ম সুষ্ঠু ও ঐক্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। মানুষের জীবনে আসবে স্থায়ী শান্তি।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-২: রাষ্ট্রচিন্তা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯.
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদের কী বিসর্জন দিতে হয়?
  1. জাতীয় স্বার্থ 
  2. শৃঙ্খলাবোধ
  3. অধিকার সচেতনতা
  4. দলীয় স্বার্থ
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ক্ষেত্রে নাগরিকদের ব্যক্তিগত, গোষ্ঠীগত বা দলীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিতে হয় বা পিছনে ফেলে রাখতে হয়, যাতে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থ, জনকল্যাণ এবং সামগ্রিক ন্যায়-ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের গণতান্ত্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড।
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদেরকে অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা জানাতে হয়।
- কেননা সহনশীলতা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদের অন্যতম গুণ।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিককে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠীস্বার্থ ও দলীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিতে হয়।

উল্লেখ্য,
- গঠনমূলক সমালোচনা করার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা ও সংযম গড়ে তুলতে হবে।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মানুষকে পারস্পরিক সুখে-দুঃখে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে।
- সবসময় ভাবতে হবে ‘সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।’
- শৃঙ্খলাবোধে বিশ্বাসী হতে হবে। অধিকার ও কর্তব্য সচেতন হতে হবে। সরকারকে তাদের নীতি ও সিদ্ধান্তের জন্য দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক আচরণ বা মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। নির্বাচনে জয়- পরাজয়কে মেনে নিতে হবে। আইনসভাকে কার্যকর করতে হবে। হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও নয়, বরং আইনসভায় বসে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সব সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩০.
আইন মূলত কোনটি নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. চিন্তা
  2. মনোভাব
  3. ধর্মীয় বিশ্বাস
  4. মানুষের বাহ্যিক আচরণ
ব্যাখ্যা

আইন ও নৈতিক বিধির সম্পর্ক ও পার্থক্য: 
- আইন ও নৈতিক বিধির মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
- আইন ও নৈতিক বিধি উভয়ের বিষয়বস্তু মানুষ এবং উদ্দেশ্য মানুষের কল্যাণসাধন। জনগণের সম্মতি ছাড়া আইন কার্যকর করা দুরূহ। নৈতিকতা বিরুদ্ধ আইন অনেক ক্ষেত্রে জনসম্মতি হারায় বরং জনরোষ সৃষ্টি করতে পারে। আবার নৈতিক বিধি মানুষের আইনগত অধিকার লঙ্ঘনের কারণ হলে রাষ্ট্র সে ক্ষেত্রে আইনের সাহায্যে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
- আইন ও নৈতিক বিধির মধ্যে সম্পর্ক ও নির্ভরশীলতা থাকা সত্ত্বেও দুটোর মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে।
- আইন মানবসমাজের দর্পণস্বরূপ।
- মানুষের দেহ, সম্পত্তি, সুনাম ও মর্যাদা সুরক্ষার উদ্দেশ্যে আইন প্রণীত হয়ে থাকে, যা মেনে চলা রাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য বাধ্যতামূলক। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, অনুমোদন এবং আইন মেনে চলার বাধ্যবাধকতা আইনের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য, যার উপস্থিতি ছাড়া কোনো বিধিনিষেধ আইনে পরিণত হয় না।
- নৈতিক বিধি হলো ধর্ম বা সমাজ আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ, যা মানুষের বিবেকবোধ, নীতিবোধ, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিতের ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।
- আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু নৈতিক বিধি মানুষের চিন্তা ও মনোভাব নিয়ে যে অন্তর্জগৎ, সেটির নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দেয়।

উৎস: প্রথম আলো।

৩১.
অ্যারিস্টটলের মতে, সদগুণ অর্জনের প্রধান উপায় কোনটি?
  1. জন্মগতভাবে
  2. অভ্যাস ও অনুশীলন
  3. জ্ঞানার্জন
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সদ্গুণ:
- ইংরেজিতে যাকে Virtue বলে বাংলায় তাকেই আমরা সদ্গুণ বলি।
- Virtue শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে Excellence বা উৎকর্ষতা।
- এই হিসেবে মানুষের চরিত্রের যে সব লক্ষণগুলো তার চরিত্রের উৎকর্ষতা প্রমাণ করে তাদেরকেই সদ্গুণ বলা হয়।

⇒ অ্যারিস্টটলের মতে এই সদ্গুণগুলো অভ্যাসের মাধ্যমে অর্জিত হয় এবং কম বেশি স্থায়ী মেজাজের রূপ নেয়।
- গ্রীক দার্শনিক এরিস্টটলের (৩৮৪-৩২২ খ্রি.পূ.) মতে আমাদের প্রবৃত্তিসমূহ বিচার-বুদ্ধি দ্বারা পরিচালিত হয়।
- তিনি অভ্যাসের মাধ্যমে প্রবৃত্তিসমূহকে নিয়ন্ত্রণে রেখে কার্য সম্পাদন করার মধ্যক নির্ণয়ের উপায়কে সদগুণ বলেছেন।
- তাঁর মতে, সদগুণ মানুষের মধ্যে সহজাতভাবে থাকে না, এটি অর্জনের বিষয়। মানুষ শিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সদগুণ অর্জন করে। অর্জিত সদগুণকে অধিকতর চর্চার মাধ্যমে মানুষ তার আচরণের উৎকর্ষ ঘটায়। এরিস্টটল সদগুণকে ব্যক্তির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে অভিহিত করেছেন; যে বৈশিষ্ট্য অর্জনে ব্যক্তির যুক্তি-বুদ্ধির ভূমিকা রয়েছে।
- বর্তমান সময়ে মানুষ যেভাবে আত্মকেন্দ্রিক ও ভোগবাদী হয়ে পড়ছে, তাতে এরিস্টটলের সদগুণ সম্পর্কিত নৈতিক মতাদর্শ আমাদের এই আত্মকেন্দ্রিক হবার প্রবণতা থেকে ফিরিয়ে আসার জন্যে সহায়ক হতে পারে।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) নৈতিক আলোচনায় এরিস্টটলের সদগুণ: একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা, মানববিদ্যা গবেষণাপত্র।

৩২.
ইমানুয়েল কান্টকে কোন নৈতিক দর্শনের প্রবর্তক বলা হয়?
  1. ফলমুখী নৈতিকতা
  2. আধ্যাত্মিক নৈতিকতা
  3. কর্তব্যমুখী নৈতিকতা
  4. উপযোগবাদী নৈতিকতা
ব্যাখ্যা

ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

⇒ ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।

উল্লেখ্য,
- ইমানুয়েল কান্টকে Deontological Ethics বা কর্তব্যমূলক নীতিশাস্ত্র-এর প্রবর্তক বলা হয়।
- এটি যুক্তির ওপর ভিত্তি করে Categorical Imperative বা সর্বজনীন নৈতিক আইন-এর ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
- এখানে কোনো কাজের নৈতিকতা তার ফলাফলের ওপর নয় বরং সেই কাজের অন্তর্নিহিত কর্তব্যের ওপর নির্ভর করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

৩৩.
নৈতিক মূল্যবোধের মূল ভিত্তি কোনটি?
  1. রাজনৈতিক চাপ
  2. ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা
  3. সামাজিক রীতি
  4. নৈতিক চেতনা
ব্যাখ্যা

নৈতিক মূল্যবোধ (Moral Values):
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা, অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে।

⇒ অর্থাৎ, নৈতিক মূল্যবোধের মূল ভিত্তি হলো নৈতিক চেতনা। 
- কারণ নৈতিক চেতনা  বা নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ মানুষের আচরণকে সঠিক-ভুল, ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝতে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করতে নির্দেশনা দেয়।
- এটি নৈতিক মূল্যবোধের জন্ম ও বিকাশ ঘটায় এবং একটি সুস্থ সমাজ গঠনে অপরিহার্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩৪.
“সার্বভৌম শক্তির আদেশই আইন”— এ সংজ্ঞাটি কার?
  1. স্যার হেনরি মেইন
  2. জন অস্টিন
  3. এ্যারিস্টটল
  4. উইলসন
ব্যাখ্যা

“সার্বভৌম শক্তির আদেশই আইন”— এ সংজ্ঞাটি জন অস্টিনের। 

আইনের প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
- গ্রিক দার্শনিক এ্যারিস্টটলের মতে, "আইন হল পক্ষপাতহীন যুক্তি।"
- স্যার হেনরি মেইনের মতে, "আইন হল পরিবর্তনশীল, ক্রমাউন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফল।"
- অধ্যাপক হল্যান্ড বলেন, "আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের এমন কতগুলো সাধারণ নিয়ম যা সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃত্ব দ্বারা প্রযুক্ত হয়।"
- আইনের সার্বজনীন ও উৎকৃষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন। তাঁর মতে, "আইন হল সমাজের সে সব সুপ্রতিষ্ঠিত প্রথা ও রীতিনীতি যেগুলো সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যাদের পিছনে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট সমর্থন রয়েছে।"
- অ্যারিস্টটল বলেছেন, ‘সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।’

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।

৩৫.
প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে -
  1. শক্তিশালী সরকারের ওপর
  2. সুষ্ঠু ও সচেতন জনমতের ওপর
  3. রাজনৈতিক দলের ওপর
  4. বিচার বিভাগের ওপর
ব্যাখ্যা

জনমত:
- সাধারণ অর্থে কোন সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মতকে 'জনমত' বলা হয়।
- সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি, নাগরিক জীবন, সরকার পরিচালনা, অর্থনীতি ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে প্রভাবশালী, যুক্তিযুক্ত, সুস্পষ্ট, পরিচ্ছন্ন, সহজবোধ্য এবং কল্যাণকামী মতামতকে জনমত বলা হয়।
- গণতন্ত্রের বিকাশের সাথে জনমতের ধারণা ও বিকাশ লাভ করে।

⇒ জনমত হচ্ছে কল্যাণকামী, বলিষ্ঠ, যুক্তিভিত্তিক, সুস্পষ্ট মতামত, যা সরকার ও জনগণকে প্রভাবিত করতে সক্ষম।
- আধুনিক গণতন্ত্র হল প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।
- প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ হল জনমত।
- সুষ্ঠু ও সচেতন জনমতের ওপর প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে। 

⇒ লর্ড ব্রাইস বলেন, "জনমত হল সম্প্রদায়ের স্বার্থ-সংশিষ্ট বিষয়ে জনগণের অভিমতের সমষ্টি।"
- জিনস্ বার্গ বলেন, "জনমত হল সমাজের বিভিন্ন মতের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার ফল।"
- ই.এম. সেইট বলেন, "জনমত বলতে আমরা এই বুঝি যে, এটি হল জনসমষ্টির মত, জনগণেরই মত।"
- এল. ডবিউ, ডুব বলেন, "একই সামাজিক সংগঠনের সভ্য হিসেবে জনগণের মতামতই জনমত।"
- জন স্টুয়ার্ট মিল বলেন, "কোন সুনির্দিষ্ট জাতীয় সমস্যার উপর জনগণের সংগঠিত অভিমতের নাম জনমত।"

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।