পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes১৯ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৪৪ বিষয় - বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিক - বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি [বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত] i) ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান; ii) বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস; মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল; মুক্তিযুদ্ধে বৃহৎ শক্তিবর্গের ভূমিকা; iii) স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে সমসাময়িক ইতিহাস। iv) জুলাই -২০২৪ গণ অভ্যুত্থান ------------------ [এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আজ বা যেকোন সময় পরীক্ষা শুরু করা হলেও নির্দিষ্ট সময়ে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ] · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানকালীন 'জুলুম প্রতিরোধ দিবস' পালন করা হয়-
  1. ৬ ডিসেম্বর
  2. ৭ ডিসেম্বর
  3. ৯ ডিসেম্বর
  4. ১১ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা

• ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান:
⇒ ১৯৬৮ সালের নভেম্বরে ছাত্র অসন্তোষকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে যে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়, তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে শহর এবং গ্রামের শ্রমিক-কৃষক ও নিম্ন-আয়ের পেশাজীবীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষের মধ্যে, ইতিহাসে তা ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত। 
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ছিল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা-পরবর্তীকালের সর্ববৃহৎ গণজাগরণ।
- আটষট্টির ছাত্র অসন্তোষ গণআন্দোলনে রূপান্তরিত হয় মওলানা  আবদুল হামিদ খান ভাসানী ঘোষিত গভর্নর হাউস ঘেরাও ও পরবর্তী দিনগুলোর কর্মসূচির মাধ্যমে।
- ৬ ডিসেম্বর ‘জুলুম প্রতিরোধ দিবস’ পালনের জন্য মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন  ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), তোয়াহার নেতৃত্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান শ্রমিক ফেডারেশন এবং আবদুল হকের নেতৃত্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান কৃষক সমিতি যৌথ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পল্টন ময়দানে এক জনসভার আয়োজন করে।
- এর সঙ্গে যুক্ত হয় ডাকসু ও চারটি ছাত্র সংগঠনের সাত জন নেতা প্রণিত ১১ দফা কর্মসূচি।
- ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্র নেতৃবৃন্দ ১১ দফা ঘোষণা করেন।
- মূলত ৬ দফার বিস্তারিত রূপই ১১ দফা।
- কেন্দ্রীয় শাসন থেকে বাঙালিদের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাধিকার অর্জনই ছিল ১১ দফা দাবির মূল বক্তব্য।
- এগার দফার আন্দোলনই ঊনসত্তরের গণ আন্দোলনে পর্যবসিত হয়।
- ১১ দফার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফাও অন্তর্ভুক্ত করে আরো ৫টি দাবি সন্নিবেশিত করা হয়।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এগারো দফা দাবির মধ্যে আওয়ামী লীগের ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এগারো দফায় বাঙালি মধ্যবিত্ত ও কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- এগারো দফার আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে এবং আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব ছাত্র-নেতৃবৃন্দের হাতে চলে আসে।
- আইয়ুব সরকারের নিপীড়নের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসভা ও প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। এ মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদউজ্জামান নিহত হলে গণজাগরণ রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানের।
- আসাদউজ্জামান বা শহীদ আসাদ ছিলো ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ।
- ২৪ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে সংগ্রামী জনতা সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে মিছিল বের হরে। সেখানে পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর এবং ছুরিকাঘাতে রুস্তম নিহত হন।
- ১৫ ফেব্রুয়ারি সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি রাবির ড. শামসুজ্জোহা শহীদ হন।
- এর ফলে সৃষ্টি হওয়া তীব্র জনরোষে আইয়ুব সরকার ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে এবং শেখ মুজিবর রহমান সহ সকল আসামিকে মুক্তি বাধ্য হয়।
- এই আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে আইয়ুব সরকারের পতন ঘটে এবং আইয়ুব খান ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

.
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের গণহত্যা কোন নামে পরিচিত?
  1. স্বাধীনতার রাত্রি
  2. কালরাত্রি 
  3. রক্তস্নাত রাত্রি
  4. মুক্তির প্রভাত
ব্যাখ্যা

• ২৫শে মার্চের গণহত্যা এবং মুক্তিযুদ্ধ:

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে বাঙালির তথা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরলতম এবং একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা হয়, যা 'কালরাত্রি' নামে পরিচিত।  সে সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র, নিরীহ, স্বাধীনতাকামী সাধারণ জনগণের ওপর ইতিহাসের নির্মমতম গণহত্যা চালায়।
- পাকিস্তান তাদের এ অভিযানের নাম দেয় 'অপারেশন সার্চলাইট'।
- ১৮ই মার্চটিক্কা খান, রাও ফরমান আলী 'অপারেশন সার্চলাইট' বা বাঙালির উপর হত্যাকাণ্ড পরিচালনার নীলনকশা তৈরি করেন।
- ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় ঢাকা ত্যাগ করেন। 
- ২৫শে মার্চ গণহত্যার জন্য বেছে নেওয়া হয়। মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীকে ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চলাইটের মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়।
- ইয়াহিয়া খানের নির্দেশ মোতাবেক গভর্নর টিক্কা খানের ঘাতক সৈন্যরা ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় গণহত্যার তাণ্ডবলীলা চালায়। 
- এই গণহত্যা চলেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়, পুরনো ঢাকায়, কচুক্ষেত, তেজগাঁও, ইন্দিরা রোড, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ঢাকা বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে, রায়ের বাজার, ধানমন্ডি, কলাবাগান, কাঁঠালবাগানসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে। 
- ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় গণহত্যা শুরু হলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং তা ওয়্যারলেসযোগে চট্টগ্রামে পাঠিয়ে দেন। 
- নৃশংস গণহত্যার সংবাদ যাতে বিদেশে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ২৫ জন বিদেশি সাংবাদিককে আটক করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

.
মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য মুজিবনগর সরকার ১০ই এপ্রিল বাংলাদেশকে কতটি সামরিক জোনে ভাগ করে?
  1. ১১টি
  2. ৪টি
  3. ৭টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা

- ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সামরিক, বেসামরিক জনগণকে নিয়ে একটি মুক্তিযোদ্ধা
বাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
- ১০ই এপ্রিল সরকার ৪টি সামরিক জোনে বাংলাদেশকে ভাগ করে ৪ জন সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করে।
- পরবর্তীতে তা পুনর্গঠিত করে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
- এ ছাড়া বেশকিছু সাব-সেক্টর এবং জেড, কে এবং এস নামে তিনটি ব্রিগেড ফোর্স গঠিত হয়।
- এসব সেক্টরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত বাঙালি সেনা কর্মকর্তা, সেনাসদস্য, পুলিশ, ইপিআর, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যগণ
যোগদান করেন।
- প্রতিটি সেক্টরেইনিয়মিত সেনা,গেরিলা ও সাধারণ যোদ্ধা ছিল। এরা মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিফৌজ নামে পরিচিত ছিল।
- এসব বাহিনীতে দেশের ছাত্র, যুবক, নারী, কৃষক, রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল। 

- মুক্তিযুদ্ধে সরকারের অধীন বিভিন্ন বাহিনী ছাড়াও বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক বাহিনী দেশের অভ্যন্তরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে উঠেছিল।
- এসব সংগঠন স্থানীয়ভাবে পাকিস্তানি বাহিনী এবং রাজাকার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল।
- যেমন: টাঙ্গাইলে কাদেরিয়া বাহিনী, মাগুরার আকবর বাহিনী ইত্যাদির কথা স্মরণীয় হয়ে আছে।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে দেশকে পাকিস্তানিদের দখলমুক্ত করার জন্য রণক্ষেত্রে যুদ্ধ করেছেন, অনেকে আহত হয়েছেন, অনেকে দেশের জন্যে প্রাণ দিয়েছেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী স্বতন্ত্র বাহিনীর অন্তর্ভূক্ত নয়- 
  1. মুজিব বাহিনী
  2. কাদেরিয়া বাহিনী
  3. কে ফোর্স 
  4. আফসার ব্যাটালিয়ন
ব্যাখ্যা

• মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী স্বতন্ত্র বাহিনীর অন্তর্ভূক্ত নয়- কে ফোর্স।
• কে ফোর্স প্রতিরক্ষা বাহিনীর নিয়মিত সদস্য খালেদ মোশারফের অধীনে গঠিত।

• মুক্তিযুদ্ধকালীন নিয়মিত এবং অনিয়মিত বাহিনী :

- প্রতিরক্ষা বাহিনীর নিয়মিত সদস্যদের নিয়ে তিনটি বাহিনী গঠন করা হয়: 
- মেজর জিয়াউর রহমানের অধীনে জেড ফোর্স, খালেদ মোশারফের অধীনে কে ফোর্স এবং কে.এম শফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- সৈনিকদের অধিকাংশই এসেছিল পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস্ এবং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট থেকে। 
- পূর্ব পাকিস্তান রাইফেল্স, পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর  যেসব সদস্যকে এই বাহিনীগুলিতে অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি, তাদের বিভিন্ন সেক্টরে  যুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য কয়েকটি ইউনিট এবং সাব-ইউনিটে বিভক্ত করা হয়।
- যাদের গেরিলা যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য প্রশিক্ষণ দান করা হয়, তারা ছিল অধিকাংশই অনিয়মিত বাহিনীর সদস্য। 

- এছাড়া, কতিপয় স্বতন্ত্র বাহিনীও  বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এবং অনেক এলাকা মুক্ত করে।
- এগুলির মধ্যে ছিল মুজিব বাহিনী, কাদেরিয়া বাহিনী, আফসার ব্যাটালিয়ন এবং হেমায়েত বাহিনী।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

.
বৃহত্তর সিলেট মুক্তিযুদ্ধকালীন কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ২নং সেক্টর
  2. ৩নং সেক্টর
  3. ১নং সেক্টর
  4. ৫নং সেক্টর
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

বৃহত্তর সিলেট ৩, ৪ ও ৫ নং সেক্টরের অধীনে ছিল।
অপশনে একাধিক সঠিক উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে।

• মুক্তিযুদ্ধের ৩ নং সেক্টর:
- উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং পরে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান। দুই ইস্ট বেঙ্গল এবং সিলেট ও ময়মনসিংহের ইপিআর বাহিনী সমন্বয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টরের সদর দফতর ছিল হেজামারা। এই সেক্টরের দশটি সাব-সেক্টর ছিলো।

• মুক্তিযুদ্ধের ৪ নং সেক্টর:
- উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত। সিলেটের ইপিআর বাহিনীর সৈন্যদের সঙ্গে ছাত্র মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব। হেডকোয়ার্টার ছিল প্রথমে করিমগঞ্জ এবং পরে আসামের মাসিমপুরে। 

• মুক্তিযুদ্ধের ৫ নং সেক্টর:
- সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী। হেড কোয়ার্টার ছিল বাঁশতলাতে। আটশত নিয়মিত সৈন্য এবং পাঁচ হাজার গেরিলা সৈন্য সমন্বয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। সুনামগঞ্জ ও ছাতকের অধিকাংশ জলাভূমি ছিল এই সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

.
১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে প্রচারিত ”চরমপত্র” সিরিজটি পরিকল্পনা করেন কে?
  1. এম.আর আখতার মুকুল
  2. গাজী মাজহারুল ইসলাম
  3. আব্দুর রব চৌধুরি
  4. আবদুল মান্নান
ব্যাখ্যা

• স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র :
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র।
- চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়। এই কেন্দ্র থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিল।
- ১৯৭১-এর ৩০ মার্চ পাকিস্তান বিমান বাহিনী কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে। ফলে এটি অচল হয়ে যায়।
- ২৫ মে তারিখ কেন্দ্রটি কলকাতায় স্থানান্তরিত হয় এবং একই দিনে সেখানে এটি তার কার্যক্রম শুরু করে।
- স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি অনুষ্ঠান ছিল ‘চরমপত্র‘ ও ‘জল্লাদের দরবার’
- জল্লাদের দরবার-এ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে তুলে ধরা হতো।
- চরমপত্র সিরিজটি পরিকল্পনা করেন - আবদুল মান্নান ।
- এম.আর আখতার মুকুল, এর উপস্থাপক ছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

.
বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে বিমান বাহিনীর সদস্য ছিলেন কে?
  1. বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল
  2. বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন
  3. বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
  4. বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান
ব্যাখ্যা

• বীরশ্রেষ্ঠ ও তাদের কর্মস্থল:
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : সেনাবাহিনী।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : সেনাবাহিনী।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : বিমান বাহিনী।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : সাবেক ই. পি. আর.।
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : সাবেক ই. পি. আর.।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : সেনাবাহিনী।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন : নৌবাহিনী।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

.
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কতজন মুক্তিযোদ্ধা বীর উত্তম খেতাব পেয়েছিলেন?
  1. ৬৩ জন
  2. ৬৮ জন
  3. ৬৫ জন
  4. ৬৯ জন
ব্যাখ্যা

• বীরত্বসূচক খেতাব;
- বীরত্বসূচক খেতাব  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসম সাহসিকতা প্রদর্শন এবং আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের প্রদত্ত খেতাব।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদানের একটি প্রস্তাব মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি  এম এ জি ওসমানী মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করেন।

- ১৬ মে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বীরত্বসূচক খেতাবের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
- এ পরিকল্পে চার পর্যায়ের খেতাব প্রদানের বিধান ছিল: (ক) সর্বোচ্চ পদ, (খ) উচ্চ পদ, (গ) প্রশংসনীয় পদ, (ঘ) বীরত্বসূচক প্রশংসাপত্র।

• স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সভায় বীরত্বসূচক খেতাবের নতুন নামকরণ হয়:

- সর্বোচ্চ পদমর্যাদার খেতাব →  বীরশ্রেষ্ঠ।
- উচ্চ পদমর্যাদার খেতাব →  বীর উত্তম।
- প্রশংসনীয় পদমর্যাদার খেতাব →  বীর বিক্রম।
- বীরত্বসূচক প্রশংসাপত্রের খেতাব →  বীর প্রতীক।

• ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্বে নির্বাচিত সকল মুক্তিযোদ্ধার নামসহ মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়

• বীরশ্রেষ্ঠ- ৭ জন;
• বীর উত্তম- ৬৮ জন;
• বীর বিক্রম- ১৭৫ জন;
• বীর প্রতীক- ৪২৬ জন;

উল্লেখ্য,
- ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
- যাঁদের খেতাব বাতিল হলো তাঁরা হলেন লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম, গেজেট নং ২৫), লে. কর্নেল এস এইচ এম এইচ এম বি নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম, গেজেট নং ৯০), লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক, গেজেট নং ২৬৭) এবং নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক, গেজেট নং ৩২৯)।
- যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
- বীর উত্তম ৬৭ জন,
- বীর বিক্রম ১৭৪ জন,
- বীর প্রতীক ৪২৪ জন।

উৎস:
ⅰ) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
ii) ৬ জুন, ২০২১, প্রথম আলো।
iii)বাংলাপিডিয়া।

.
কনসার্ট ফর বাংলাদেশের সেতার বাদক কে ছিলেন?
  1. ব্যান্ড বিটলস
  2. জর্জ হ্যারিসন
  3. আল্লা রাখা 
  4. রবি শংকর
ব্যাখ্যা

• ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- পণ্ডিত রবিশঙ্কর মুক্তিযুদ্ধের প্রতি বিশ্বজনমত গড়ে তোলা এবং শরণার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য তাঁর শিষ্য–বন্ধু বিশ্বখ্যাত ব্যান্ড বিটলসের শিল্পী জর্জ হ্যারিসনকে নিয়ে এই কনসার্টের আয়োজন করেছিলেন।
- কনসার্টের প্রথমে অংশ নেন প্রখ্যাত সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশঙ্কর, সরোদবাদক আলী আকবর খান ও তবলাবাদক আল্লারাখার ।
- সেতারে রবি শঙ্কর, তবলায় আল্লা রাখা এবং সরোদ বাজান আলী আকবর খান
- পশ্চিমের তারকাদের মধ্যে জর্জ হ্যারিসন ছাড়া ছিলেন রিঙ্গো স্টার, বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, লিওন রাসেল, বিলি প্রেস্টন প্রমুখ।
- ৪০ থেকে ৫০ হাজার দর্শনার্থীর এ অনুষ্ঠান থেকে সংগৃহীত হয়েছিল ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪১৮ দশমিক ৫০ ডলার।

• রবি শংকর, 
- রবি শংকর, (১৯২০-২০১২) ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতজ্ঞ, সুরকার, কিংবদন্তী সেতারবাদক, যিনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতকে পাশ্চাত্যে সুপরিচিত ও জনপ্রিয় করে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও ভারতে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীদের সমর্থনে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ কনসাটর্’ আয়োজনের তিনি ছিলেন অন্যতম উদ্যোক্তা।
- তাঁকে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশিষ্ট ভূমিকা পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা প্রদান করা হয়।

উৎস: প্রথম আলো এবং বাংলাপিডিয়া।

১০.
তারামন বিবি কোন সেক্টরের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিলেন?
  1. ২নং সেক্টর
  2. ৭নং সেক্টর
  3. ৯নং সেক্টর
  4. ১১নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

 • মুক্তিযুদ্ধে নারী, শিশু ও ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী:
- মুক্তিযুদ্ধে নারীদের বিশেষ অবদানের জন্য দুজন মহিলাকে বীরত্বসূচক 'বীরপ্রতীক' খেতাব প্রদান করা হয়।
- তারা হলেন-ক্যাপ্টেন ডা. সেতারা বেগম (২নং সেক্টর) এবং তারামন বিবি (১১নং সেক্টর)।
- খেতাবহীন বীর মহিলা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সুনামগঞ্জের খাসিয়া সম্প্রদায়ের কাঁকন বিবি পরিচিত, যার আসল নাম ছিল কাঁকাত হেনিনচিতা।
- তিনি 'মুক্তিবেটি' নামেও পরিচিত।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক সেনা বাহিনী কর্তৃক ধর্ষিত হন প্রায় তিন লাখ নারী।
- এই নারীরা মুক্তিযোদ্ধাদের সহযাত্রী হিসেবে ভূমিকা পালন করেন এবং তাদের ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রীয়ভাবে 'বীরাঙ্গনা' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১১.
মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান কে ছিলেন?
  1. মেজর জিয়াউর রহমান
  2. জেনারেল এম এ জি ওসমানী
  3. কর্নেল এম এ রব
  4. কর্নেল আতাউর রহমান
ব্যাখ্যা

- মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- এই সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিব নগরের পূর্বনাম ছিলো - বৈদ্যনাথতলা।

-  শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন - অস্থায়ী সরকারের রাষ্ট্রপতি।
- রাষ্ট্রপতি হওয়ার কারণে পদাধিকারবলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন - শেখ মুজিবুর রহমান।

- প্রবাসী সরকারের উপ-রাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন - সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন - তাজউদ্দীন আহমদ।
- বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন - জেনারেল এম এ জি ওসমানী।
- মুক্তিযুদ্ধে চিফ অব স্টাফ এর দায়িত্ব পালন করেন - কর্নেল এম এ রব।
- এবং মুক্তিযুদ্ধে উপসেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন - এ কে খন্দকার।

উৎস: সংগ্রামের নোটবুক, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া

১২.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ১ দফার ঘোষক কে ছিলেন?
  1. হান্নান মাসুদ
  2. নাহিদ ইসলাম
  3. আসিফ মাহমুদ
  4. হাসনাত আব্দুল্লাহ
ব্যাখ্যা

• ৩ আগস্ট ২০২৪ :
- কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ঘোষণা করেন যে তাদের সরকারের সাথে আলোচনার কোন পরিকল্পনা নেই এবং হাসিনার পদত্যাগ এবং ‘সবার কাছে গ্রহণযোগ্য’ একজন ব্যক্তির নেতৃত্বে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের দাবিতে লংমার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- হাসিনা আলোচনার প্রস্তাব দিলেও ছাত্ররা তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।
- বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে, প্রধান সমন্বয়কদের একজন নাহিদ ইসলাম শহিদ মিনারে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করেন, যেখানে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভার পদত্যাগের জন্য একক দাবি ঘোষণা করে এবং আহ্বান জানায়। 

উল্লেখ্য,
• জুলাই গণঅভ্যুত্থান/ জুলাই বিপ্লব:
-জুলাই গণঅভ্যুত্থান/ জুলাই বিপ্লব নামে পরিচিত ছাত্র-জনতার আন্দোলন হচ্ছে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক গণঅভ্যুত্থান যা ২০২৪ সালের ৫ জুন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অগণিত প্রাণ বিসর্জন দেয়ার মধ্য দিয়ে বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে।
- ঐতিহাসিক এই বিপ্লবের বিজয়ের ধারার সূচনা হয়েছিল সরকারি চাকুরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবির আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
- এটি পরে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে আরো প্রবল হয়ে উঠেছিল যা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চূড়ান্ত রূপ লাভ করে শেখ হাসিনার পদত্যাগের মাধ্যমে।

উৎস: বাসস।

১৩.
বাংলাদেশে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন কোন সালে ঘটে?
  1. ১৯৯১ সালে
  2. ১৯৯০ সালে
  3. ১৯৯৬ সালে
  4. ২০০১ সালে
ব্যাখ্যা

• সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন:
- ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট জাতীয় সংসদে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী গৃহীত হয়। 
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃ প্রবর্তন করা হয়।

- এ লক্ষ্যে ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
- এতে সংশোধনীর পক্ষে রায় পড়লে ১৮ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি সংশোধনী বিলে স্বাক্ষর করেন।

- এর আগে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারী সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, বাংলাদেশ উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।

১৪.
জুলাই ঘোষণাপত্রে মোট কতটি ধারা অন্তর্ভুক্ত আছে?
  1. ২৮টি 
  2. ২৬টি 
  3. ২৫টি 
  4. ২৩টি 
ব্যাখ্যা

• জুলাই ঘোষণাপত্র:
- ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ হলো ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের একটি দলিল যার মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
- অন্যদিকে জুলাই জাতীয় সনদ হলো রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে ঐকমত্যের একটি রাজনৈতিক দলিল।
- অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ৫ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে র ‘৩৬ জুলাই উদ্‌যাপন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেছেন।

⇒ জুলাই ঘোষণাপত্রে ২৮টি ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- জুলাই ঘোষণাপত্রের ২৪ নং ধারায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের 'জাতীয় বীর' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
- ২৪ নং ধারা: সেহেতু বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সকল শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্রজনতাকে প্রয়োজনীয় সকল আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।

উৎস: প্রথম আলো।

১৫.
স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন-
  1. শেখ হাসিনা
  2. জেনারেল এরশাদ 
  3. খন্দকার মুশতাক
  4. বেগম খালেদা জিয়া
ব্যাখ্যা

• ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান:
- স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে ৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হন।

- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল এরশাদ বাংলাদেশের দ্বিতীয়বার সামরিক শাসন শুরু করেন।
- এরশাদের শাসনকালে দেশ আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিকভাবে দুর্যোগপূর্ণ অবস্থার মধ্যে থাকে।
- এরশাদের সামরিক শাসনের অবসানের জন্য দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম চলতে থাকে।
- বহু মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রাণ দেন।
- ১৯৯০ সালের ডিসেম্বর মাসে সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের সফল গণঅভ্যুত্থানে সামরিক শাসন অবসান ঘটে।
- গণঅভ্যুত্থান হঠাৎ ঘটে নি; এরশাদের শাসনের প্রথম থেকেই বিরোধী কার্যক্রম চলতে থাকে।
- ১৯৮২ সালের শেষ থেকে ছাত্র সমাজ সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে।
- শিক্ষানীতি বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বুদ্ধিজীবীরা সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
- ১৯৮৩ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দলীয় জোট ও বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দলীয় জোট গঠিত হয়।
- বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনও আন্দোলনে অংশ নেন।
- ১৯৮৭ সালে সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন প্রবল হলেও এরশাদ ক্ষমতায় থাকেন।
- ১৯৯০ সালের শুরু থেকে রাজনৈতিক দলগুলো মিছিল, মিটিং ও হরতাল চালায়।
- সারাদেশের ছাত্র, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠন আন্দোলনে সক্রিয় থাকে।
- ছাত্র সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য আন্দোলনকে শক্তিশালী করে।
- ১৯ নভেম্বর ১৯৯০ সালে সরকার পতনের লক্ষ্যে ৮, ৭ ও ৫ দলীয় জোট যৌথ ঘোষণা প্রদান করে।
- ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য হন। এরশাদের ক্ষমতা ত্যাগের মধ্যে দিয়ে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, বাংলাদেশ উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।

১৬.
জুলাই আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদ কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. পীরগাছা
  2. বদরগঞ্জ
  3. তারাগঞ্জ
  4. পীরগঞ্জ
ব্যাখ্যা

শহীদ আবু সাঈদ:
- জুলাই আন্দোলনে আবু সাইদ ১৬ জুলাই, ২০২৪ তারিখে শহীদ হয়েছিলেন।
⇒ রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা বাবনপুর গ্রামের মোঃ মকবুল হোসেন এর ঘরে জন্ম নেয় আবু সাঈদ।
- ২৫ বছর বয়সী আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।
- ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে পুলিশ আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে।
- আবু সাঈদ এক হাতে লাঠি নিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেন।
- কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নিরস্ত্র আবু সাঈদের পুলিশ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
- এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোচ্চার হন বহু মানুষ, যাতে আরও গতিশীল হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন।
- ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান হাসিনা।

উৎস: i) বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) দৈনিক ইনকিলাব।

১৭.
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় কোন দেশে ভেটো প্রয়োগ করেছিল?
  1. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
  2. চীন
  3. যুক্তরাজ্য
  4. সোভিয়েত ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের পক্ষে জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়।
- এই প্রস্তাব তিনবার উত্থাপিত হয়।
- কিন্তু প্রতিবারই সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় সেই প্রস্তাবে ভেটো প্রদান করে।
- ফলে পাকিস্তানপন্থী প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ৯ম-১০ম শেণি।

১৮.
’বাংলা ব্লকেড' কর্মসূচি কত তারিখে পালন করা হয়?
  1. ৯ জুলাই ২০২৪ সালে
  2. ৬ জুলাই ২০২৪ সালে
  3. ৮ জুলাই ২০২৪ সালে
  4. ৭ জুলাই ২০২৪ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলা ব্লকেড:
- কোটা সংস্কার ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের জন্য ২০১৮ সালের সরকারি পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
- ৫ জুন, ২০২৪ তারিখে হাইকোর্ট ২০১৮ সালের পরিপত্রের আংশিক অবৈধ ঘোষণা করার পর আবার এই আন্দোলন শুরু হয়।
- এটি বাতিলের দাবিতে ৭ জুলাই, ২০২৪ তারিখে সারা দেশে সড়ক-মহাসড়ক অবরোধের পালন করেন শিক্ষার্থীরা।
- শাহবাগ মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নির্ধারিত হওয়া এই কর্মসূচির নাম দিয়েছেন ‘বাংলা ব্লকেড’।

⇒ সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে সে সময় কোটা পদ্ধতি বাতিল করে সরকার। পরে ২০২১ সালে কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হাইকোর্টে রিট করলে গত ৫ জুন এক রায়ের মাধ্যমে আবারও ফিরে আসে কোটা ব্যবস্থা।
- সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে ১ জুলাই, ২০২৪ থেকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আন্দোলনে নামে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
 
উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) BBC.

১৯.
জনগণের ভোটে প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কত সালে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৮০ সালে
  2. ১৯৭৯ সালে
  3. ১৯৭৮ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা

• রাষ্ট্রপতি নির্বাচন-১৯৭৮: 
- বাংলাদেশে জনগণের সরাসরি ভোটে প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৮ সালে।
- এই নির্বাচনে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
- এর পূর্বে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতেন।
- গণভোটে জয়লাভের এক বছর পরই দেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- সংসদ নির্বাচনের পূর্বেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে জিয়াউর রহমান তাঁর ক্ষমতা শক্তিশালী করতে চেয়েছিলেন।
- ৩ জুন, ১৯৭৮ নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জেনারেল (অবঃ) এম এ জি ওসমানীকে পরাজিত করে জিয়াউর রহমানরাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
- নির্বাচনে জিয়াউর রহমান ১ কোটি ৫৭ লক্ষ ৩৩ হাজার ৬ শত ৭ ভোট এবং ওসমানী ৪৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ২ শত ভোট পায়। 
- ১২ জুন ১৯৭৮ জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, বাংলাদেশ উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।

২০.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান সূত্রপাত হয় কী বিষয়কে কেন্দ্র করে? 
  1. ছাত্রসমাজের অসন্তোষকে
  2. সামরিক বাহিনীর অসন্তোষকে
  3. রাজনৈতিক নেতাদের অসন্তোষকে
  4. সরকারি কর্মকর্তাদের অসন্তোষকে
ব্যাখ্যা

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান:
১৯৬৮ সালের নভেম্বরে ছাত্র অসন্তোষকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে যে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়, তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে শহর এবং গ্রামের শ্রমিক-কৃষক ও নিম্ন-আয়ের পেশাজীবীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষের মধ্যে, ইতিহাসে তা ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত। 
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ছিল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা-পরবর্তীকালের সর্ববৃহৎ গণজাগরণ।
- আটষট্টির ছাত্র অসন্তোষ গণআন্দোলনে রূপান্তরিত হয় মওলানা  আবদুল হামিদ খান ভাসানী ঘোষিত গভর্নর হাউস ঘেরাও ও পরবর্তী দিনগুলোর কর্মসূচির মাধ্যমে।
- ৬ ডিসেম্বর ‘জুলুম প্রতিরোধ দিবস’ পালনের জন্য মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন  ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), তোয়াহার নেতৃত্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান শ্রমিক ফেডারেশন এবং আবদুল হকের নেতৃত্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান কৃষক সমিতি যৌথ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পল্টন ময়দানে এক জনসভার আয়োজন করে।
- এর সঙ্গে যুক্ত হয় ডাকসু ও চারটি ছাত্র সংগঠনের সাত জন নেতা প্রণিত ১১ দফা কর্মসূচি।
- ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্র নেতৃবৃন্দ ১১ দফা ঘোষণা করেন।
- মূলত ৬ দফার বিস্তারিত রূপই ১১ দফা।
- কেন্দ্রীয় শাসন থেকে বাঙালিদের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাধিকার অর্জনই ছিল ১১ দফা দাবির মূল বক্তব্য।
- এগার দফার আন্দোলনই ঊনসত্তরের গণ আন্দোলনে পর্যবসিত হয়।
- ১১ দফার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফাও অন্তর্ভুক্ত করে আরো ৫টি দাবি সন্নিবেশিত করা হয়।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এগারো দফা দাবির মধ্যে আওয়ামী লীগের ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এগারো দফায় বাঙালি মধ্যবিত্ত ও কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- এগারো দফার আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে এবং আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব ছাত্র-নেতৃবৃন্দের হাতে চলে আসে।
- আইয়ুব সরকারের নিপীড়নের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসভা ও প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। এ মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদউজ্জামান নিহত হলে গণজাগরণ রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানের।
- আসাদউজ্জামান বা শহীদ আসাদ ছিলো ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ।
- ২৪ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে সংগ্রামী জনতা সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে মিছিল বের হরে। সেখানে পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর এবং ছুরিকাঘাতে রুস্তম নিহত হন।
- ১৫ ফেব্রুয়ারি সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি রাবির ড. শামসুজ্জোহা শহীদ হন।
- এর ফলে সৃষ্টি হওয়া তীব্র জনরোষে আইয়ুব সরকার ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে এবং শেখ মুজিবর রহমান সহ সকল আসামিকে মুক্তি বাধ্য হয়।
- এই আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে আইয়ুব সরকারের পতন ঘটে এবং আইয়ুব খান ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।