পরীক্ষা আর্কাইভ

ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্স

পরীক্ষাব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্সতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন১৭
সিলেবাস
Bangla - 04: কারক-বিভক্তি, ক্রিয়ার কাল ও ক্রিয়াপদ, বাচ্য, যতিচিহ্ন।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্স

ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্স · তারিখ অনির্ধারিত · ১৭ প্রশ্ন

.
'পূজা ফুল দিয়ে ঘর সাজায়।'- এই বাক্যে ‘ফুল দিয়ে’ কোন কারক?
  1. ক) কর্ম কারক
  2. খ) করণ কারক
  3. গ) অপাদান কারক
  4. ঘ) সম্প্রদান কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক
 
যেমন:
- 'পূজা ফুল দিয়ে ঘর সাজায়।' - পূজা কী দিয়ে ঘর সাজায়? ফুল দিয়ে সুতরাং ‘ফুল’ করণ কারক।
- 'কাঠুরে কুড়াল দ্বারা গাছ কাটে।' – কাঠুরে কী দ্বারা গাছ কাটে? কুড়াল দ্বারা। কুড়াল’ করণ কারক।

করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।
-তবে অন্য বিভক্তিগুলােরও প্রয়ােগ রয়েছে।
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমার লােক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি – রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি – গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি – টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি – তার কথা যেন মধুতে মাখা
- আবার, এ, য়, তে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
ক্রিয়াপদ থেকে ক্রিয়া বিভক্তি বাদ দিলে যা থাকে তা হলো-
  1. ক) প্রত্যয়
  2. খ) শব্দ
  3. গ) ধাতু
  4. ঘ) উক্তি
ব্যাখ্যা
• ধাতু বা ক্রিয়ামূল:
- ক্রিয়াপদকে বিশ্লেষণ করলে দুটো অংশ পাওযা যায়।
- ক্রিয়াপদ এর দুটি অংশ- ধাতু বা ক্রিয়ামূল, ক্রিয়া বিভক্তি।
- ক্রিয়াপদ থেকে ক্রিয়া বিভক্তি বাদ দিলে যা থাকে তাই ধাতু।
- যেমন: ‘করে’ একটি ক্রিয়াপদ। এতে দুটো অংশ রয়েছে : কর্ +এ (এখানে 'কর্' ধাতু এবং ‘এ’ বিভক্তি)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণী।
.
বাংলা ব্যাকরণে বিরামচিহ্ন মোট কয়টি?
  1. ক) ১১
  2. খ) ১৩
  3. গ) ১৫
  4. ঘ) ১৭
ব্যাখ্যা
• মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে যতিচিহ্ন বলে।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয় ।

• বাংলা ভাষায় প্রচলিত যতিচিহ্নগুলো হলো:
- দাঁড়ি (।),
- কমা (,),
- সেমিকোলন (i),
- প্রশ্নচিহ্ন (?),
- বিস্ময় চিহ্ন (!),
- হাইফেন (-),
- ড্যাশ (—),
- কোলন (:),
- বিন্দু (.),
- ত্রিবিন্দু (...),
- উদ্ধারচিহ্ন ('- -"),
- বন্ধনীচিহ্ন ((-)), ({-}), ([-]),
- বিকল্পচিহ্ন (/)।

উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
‘শিশুরা বল খেলে’- বাক্যে 'বল' শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) অপাদানে পঞ্চমী
  2. খ) কর্মে শূণ্য
  3. গ) করণে শূণ্য
  4. ঘ) সম্প্রদানে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

যেমন- ‘শিশুরা বল খেলে’ করণ কারকে শূন্য বিভক্তি।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'আজ যদি রাসেল আসতাে, কেমন মজা হতাে।' - কোন কালের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) পুরাঘটিত অতীত কাল
  2. খ) নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
  3. গ) সাধারণ অতীত কাল
  4. ঘ) ঘটমান অতীত কাল
ব্যাখ্যা
অতীত কাল:
যে সমস্ত সমাপিকা ক্রিয়া দ্বারা পূর্বে শেষ হয়েছে এমন কোনাে কাজকে বােঝায়, তাকে অতীত কাল বলে।
- যেমন- রহমান কাল এসেছিলেন। অতীত কাল ৪ প্রকার।
যথা-
সাধারণ অতীত কাল: বর্তমান কালের আগে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন কালকেই বলে সাধারণ অতীত কাল। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার শেষে লাম, ল, লে, লেন ইত্যাদি যুক্ত হয়।
যেমন- আমি ছবিটি দেখলাম।

ঘটমান অতীত কাল: যে কাজ অতীতে চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, সে সময়ও কাজটি শেষ হয়নি। ক্রিয়া সম্পাদিত হবার এরূপ ভাব বােঝালে তার কালকে ঘটমান অতীত কাল বলে। এক্ষেত্রে ল, লে, লাম, লেন যুক্ত হয়।
যেমন- সেদিন বিরামহীন বৃষ্টি হচ্ছিল।

পুরাঘটিত অতীত কাল: যে ক্রিয়ার কাজ অতীতে বহু আগেই শেষ হয়ে গেছে এবং যার পরে আরাে কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার শেষে ইয়াছিলাম, ইয়াছিলেন, ইয়াছিল ইত্যাদি যুক্ত হয়.
যেমন- গত বছর আমি কলকাতা গিয়েছিলাম।

নিত্যবৃত্ত অতীত কাল: অতীতে প্রায়ই ঘটতাে এরূপ অর্থে ক্রিয়ার যে, কাল হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
- এক্ষেত্রে ক্রিয়ার শেষে ইতাম, ইত, ইতেন, ইতে যুক্ত হয়।
যেমন- প্রতিদিন সকালে সে গান গাইত।
নিত্যবৃত্ত অতীতের বিশিষ্ট ব্যবহার:
• কামনা প্রকাশে: আজ যদি রাসেল আসতাে, কেমন মজা হতাে।
• সম্ভাবনা প্রকাশে: তুমি যদি আসতে, তবে ভালােই হতাে।
• অসম্ভব কল্পনায়: এই বাড়ি হতাে যদি রাজার বাড়ি।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'মাথা ঝিম ঝিম্ করছে' এটি কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) যৌগিক ক্রিয়া
  2. খ) নামধাতুর ক্রিয়া
  3. গ) মিশ্র ক্রিয়া
  4. ঘ) ণিজন্ত ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• মিশ্র ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ঋনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে ক, হ, দে, পা, যা, কাট, গা, ছাড়, ধ, মার প্রভৃতি ধাতুযােগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থে মিশ্র ক্রিয়া গঠন করে। যেমন
বিশেষ্যের পরে:
- আমরা তাজমহল দর্শন করলাম।
- ছেলেটি গােল্লায় গেছে। (এখন গোল্লায় যাও)

বিশেষণের পরে: তােমাকে দেখে বিশেষ প্রীত হলাম।

ধনাত্মক অব্যয়ের পরে:

- মাথা ঝিম ঝিম্ করছে।
- ঝম্ ঝম্ করে বৃষ্টি পড়ছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোন যতিচিহ্নকে অর্ধচ্ছেদ বলে?
  1. ক) সেমিকোলন
  2. খ) কোলন
  3. গ) দাঁড়ি
  4. ঘ) ড্যাস
ব্যাখ্যা
• সেমিকোলন কে বলা হয় - অর্ধচ্ছেদ।

কিছু বিরাম-চিহ্নের বাংলা অর্থ:
দাড়ি - পূর্ণচ্ছেদ।
সেমিকোলন - অর্ধচ্ছেদ। 
কোলন - দৃষ্টান্তচ্ছেদ।
কোলন ড্যাস - ছেদ বাক্যসঙ্গতি চিহ্ন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে বলে -
  1. ক) কর্তাবাচ্য
  2. খ) কর্মবাচ্য
  3. গ) ভাববাচ্য
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বাচ্য তিন প্রকার:

কর্মবাচ্য: যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন,
- পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।
- চিঠিটা পড়া হয়েছে।

কর্তাবাচ্য: যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন-
আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।

ভাববাচ্য: যে বাক্যের ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন-
কোথা থেকে আসা হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
নিচের কোনটিকে প্রান্তিক যতিচিহ্ন বলা হয়?
  1. ক) কোলন
  2. খ) ড্যাশ
  3. গ) কমা
  4. ঘ) দাঁড়ি
ব্যাখ্যা
বিরাম চিহ্ন:
মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে বিরামচিহ্ন বলে। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

• বাক্যের শেষে বসে ৪টি যতিচহ্নি বা বিরামচিহ্ন। এগুলো হলো: দাঁড়ি চিহ্ন, প্রশ্নবোধক চিহ্ন এবং বিস্ময় চিহ্ন, ডাবল দাড়ি। এগুলোকে প্রান্তিক যতিচিহ্ন বা বিরাম চিহ্ন বলে।

যতি বা ছেদ চিহ্নের বিরতি কাল:
- কমা - ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
- সেমিকোলন - ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
- দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ - এক সেকেন্ড।
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
- বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
- কোলন - এক সেকেন্ড।৭. ড্যাস- এক সেকেন্ড।
- কোলন ড্যাস - এক সেকেন্ড।
- হাইফেন - থামার প্রয়োজন নেই।
- ইলেক বা লোপ চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।
- একক উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
- যুগল উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
- ব্র্যাকেট (বন্ধনি চিহ্ন) - থামার প্রয়োজন নেই।


উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০.
কোনটি ভাববাচ্যের উদাহরণ?
  1. ক) রোগী পথ্য সেবন করে।
  2. খ) শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
  3. গ) আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
  4. ঘ) এই পথ দিয়ে সীমান্ত পর্যন্ত যাওয়া যায়।
ব্যাখ্যা
ভাববাচ্য: 
- এই বাচ্যে কোনো কর্ম থাকে না।
- বাক্যের ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয়।
- ভাববাচ্যে ক্রিয়া সর্বদা নাম পুরুষের হয়।
- ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া, তৃতীয়া বিভক্তি হয়ে থাকে।
যেমন: 
- আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) বাড়ি যাওয়া হলো না (নাম পুরুষের ক্রিয়া)। 
- আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) ঢাকা যেতে হবে (নাম পুরুষের ক্রিয়া)। 
- এই পথ দিয়ে সীমান্ত পর্যন্ত যাওয়া যায়। 
- এখানে এই কথা বলা চলে না।

অন্যান্য অপশনগুলো: 
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান = কর্মবাচ্য। 
- আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয় = কর্তৃবাচ্য। 
- রোগী পথ্য সেবন করে = কর্মবাচ্য।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১.
'আমাকে বই পড়তে হয়েছে।' - কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. ক) কর্তৃবাচ্য
  2. খ) কর্মকর্তৃবাচ্য
  3. গ) ভাববাচ্য
  4. ঘ) কর্মবাচ্য
ব্যাখ্যা
• বাক্যটি যদি কর্তৃবাচ্য না হয় আর যেখানে যদি কর্ম থাকে তবে সেটি কর্মবাচ্য কিংবা ভাববাচ্য হতে পারে। তবে বাক্যের ক্রিয়ার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে; যদি ক্রিয়া দ্বারা ভবিষ্যতের কোনো কাজ হবে বোঝায়। অর্থাৎ কামনা, বাসনা, প্রার্থনা বোঝায় তবে সেটি ভাববাচ্য হবে, তা না-হলে কর্মবাচ্য হবে। যেমন :

ভাববাচ্য:
- ডিঙি টেনে বের করতে হবে।
- আমাকে বই পড়তে হবে।

কর্মবাচ্য:
- ডিঙি টেনে বের করা হয়েছে।
- আমাকে বই পড়তে হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১২.
যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) তাড়াতাড়ি বলে ফেল।
  2. খ) বার বার উঁকি মারছে।
  3. গ) মা শিশুকে গোসল করাচ্ছেন।
  4. ঘ) আকাশে চাঁদ উঠেছে।
ব্যাখ্যা
'তাড়াতাড়ি বলে ফেল'- বাক্যে 'বলে ফেলা' যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ। 

গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ প্রকার:
- সরল ক্রিয়া,
- প্রযোজক ক্রিয়া,
- নাম ক্রিয়া,
- সংযোগ ক্রিয়া,
- যৌগিক ক্রিয়া।

যৌগিক ক্রিয়া: অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩.
'জ্ঞানীজন সকলের দ্বারা সম্মানিত হন' এ বাক্যের কর্তৃবাচ্য হবে -
  1. ক) জ্ঞানীজনকে সকলেই সম্মান করে।
  2. খ) জ্ঞানীজনকে সকলেই পছন্দ করে।
  3. গ) জ্ঞানীজনকে দ্বারা সবাই সম্মানিত হন।
  4. ঘ) জ্ঞানীজনকে সম্মান করা হয়।
ব্যাখ্যা
কর্মবাচ্য থেকে কর্তৃবাচ্যে রুপান্তরিত করার নিয়ম: 
- কর্তায় প্রথমা, কর্মে দ্বিতীয়া বা শূন্য বিভক্তি হয়ে থাকে।
- ক্রিয়া কর্তা অনুযায়ী হয়।

যেমন: 
কর্মবাচ্য: জ্ঞানীজন সকলের দ্বারা সম্মানিত হন। 
কর্তৃবাচ্য: জ্ঞানীজনকে সকলেই সম্মান করে।

কর্মবাচ্য: দস্যুদল কর্তৃক গৃহটি লুণ্ঠিত হয়েছে।
কর্তৃবাচ্য: দস্যুদল গৃহটি লুণ্ঠন করেছে।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
'সেদিন রাতে আমি সিনেমা দেখছিলাম'- বাক্যটিতে কোন কালের ক্রিয়া আছে?
  1. ক) সাধারণ অতীত কাল
  2. খ) ঘটমান অতীত কাল
  3. গ) সাধারণ বর্তমান কাল
  4. ঘ) ঘটমান বর্তমান কাল
ব্যাখ্যা
'সেদিন রাতে আমি সিনেমা দেখছিলাম'- বাক্যটিতে ঘটমান অতীত কালের ক্রিয়া আছে।

• ঘটমান অতীত কাল:
- যে ক্রিয়া অতীতে কিছু সময় ধরে চলছিল- এমন বোঝাতে ঘটমান অতীত হয়।
- ঘটমান প্রকারের অতীত কাল ক্রিয়ার সমাপ্তি নির্দেশ করে না।
- বরং যে সময়ের কথা বলা তখনও কাজটি শেষ হয়নি এমনই বোঝায়।
যেমন:
- তুমি কি তখন খাচ্ছিলে?
- বাচ্চারা মাঠে খেলছিলো।
- সেদিন রাতে আমি সিনেমা দেখছিলাম।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
১৫.
প্রান্তিক যতিচিহ্ন কয়টি?
  1. ক) দুইটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) পাঁচটি
ব্যাখ্যা
যতিচিহ্ন:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য বাক্যের মধ্যে বা শেষে নিয়মিত বর্ণের পাশাপাশি সাংকেতিক চিহ্নকে বোঝায়।
- যতিচিহ্ন ছেদ বা বিরাম চিহ্ন নামেও পরিচিত।

বাক্যে অবস্থান বিবেচনায় বিরাম চিহ্নকে ২ প্রকার:
- প্রান্তিক বিরামচিহ্ন ৪টি: দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময়বোধক দুই দাঁড়ি (।।)।
- বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন: কমা, সেমিকোলন, ড্যাস, হাইফেন ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি ।
১৬.
নিচের কোন বাক্যে কর্তৃকারকে পঞ্চমী বিভক্তির উদাহরণ রয়েছে?
  1. ক) রাখাল গরু চড়ায়।
  2. খ) মামাকে ডাকতে হবে।
  3. গ) রহিমকে দিয়ে এ কাজ হবেনা।
  4. ঘ) আমা হতে এমন কিছু আশা করা ঠিক হবেনা।
ব্যাখ্যা
• মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে। 
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

• কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
- ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক। (কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্যের বাক্যে এই নিয়ম খাটবে না। সেক্ষেত্রে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।)

কর্তৃকারকে বিভক্তির প্রয়োগের উদাহরণ-
- রাখাল গরু চড়ায়।- কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি।
- মামাকে ডাকতে হবে।- কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি।
- রহিমকে দিয়ে এ কাজ হবেনা।- কর্তৃকারকে তৃতীয়া বিভক্তি।
- আমা হতে এমন কিছু আশা করা ঠিক হবেনা।-  কর্তৃকারকে পঞ্চমী বিভক্তি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন। 
১৭.
কোনটি অপাদান কারকের উদাহরণ?
  1. ক) গাছ থেকে কাঠ পাই।
  2. খ) শিক্ষককে জানাও।
  3. গ) মা বাড়িতে আছেন।
  4. ঘ) ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
যে কারকে ক্রিয়ার উত্স নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত হতে’, ‘থেকে ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন –
- গাছ থেকে কাঠ পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।

অন্যদিকে, 
শিক্ষককে জানাও = কর্ম কারক।
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না = সম্বন্ধ কারক।
বাবা বাড়িতে আছেন = অধিকরণ কারক।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।