পরীক্ষা আর্কাইভ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

পরীক্ষানৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসনতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৩
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৪ টপিক: রিভিশন (পরীক্ষা ১, ২ ও ৩) [Live Class – 1 to 6]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন · তারিখ অনির্ধারিত · ১৩ প্রশ্ন

.
প্লেটোর ৪টি প্রধান সদগুণের মধ্যে নিম্নের কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ন্যায় (Justice)
  2. সাহস (Courage)
  3. শিক্ষা (Education)
  4. মিতব্যয়িতা (Temperance)
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) শিক্ষা (Education)

প্লেটোর সদগুণ:
- প্লেটো ৪টি প্রধান সদগুণের কথা উল্লেখ করেছেন, যেগুলি হল: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার বা আত্মনিয়ন্ত্রণ, এবং ন্যায়।
- এর মধ্যে, ন্যায়কে তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণ হিসেবে গণ্য করেছেন।
- তবে, ব্যক্তি বা রাষ্ট্রে অন্য তিনটি সদগুণ—প্রজ্ঞা, সাহস এবং মিতাচারের—অস্তিত্ব থাকলেই ন্যায় সদগুণের পূর্ণতা লাভ করে।
- অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'নিকোমেকীয়ান এথিক্স'-এ সদগুণের উদ্ভবের মূল কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, প্লেটোর ৪টি প্রধান সদগুণ হল:
১) ন্যায় (Justice)
২) সাহস (Courage)
৩) মিতব্যয়িতা (Temperance)
৪) প্রজ্ঞা (Wisdom)
কিন্তু শিক্ষা (Education) এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়।

তথ্যসূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
জাতিসংঘ সুশাসনের মধ্যে কতটি উপাদান অন্তর্ভুক্ত করেছে?
  1. ৪টি
  2. ৬টি
  3. ৮টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা
'সুশাসন' ও বিভিন্ন সংস্থার মতে সুশাসনের উপাদান:
→ প্রশাসনের যদি জবাবদিহিতা (Accountability), বৈধতা (Legitimacy), স্বচ্ছতা (Transparency) থাকে, এতে যদি অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত থাকে, বাকস্বাধীনতাসহ সকল রাজনৈতিক স্বাধীনতা সুরক্ষার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন (Rule of law), আইনসভার নিকট শাসন বিভাগের জবাবদিহিতা বা দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর থাকে তাহলে সে শাসনকে 'সুশাসন' (Good Governance) বলে।

জাতিসংঘ সুশাসনের মধ্যে ৮টি উপাদান অন্তর্ভুক্ত করেছে।
এগুলো হলো:
১) অংশগ্রহণ
২) আইনের শাসন
৩) জবাবদিহিতা
৪) ন্যায়বিচার
৫) স্বচ্ছতা
৬) কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন
৭) দায়বদ্ধতা
৮) সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য

অন্যদিকে, বিভিন্ন সংস্থা সুশাসন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উপাদান উল্লেখ করেছে:
→ ইউএনডিপি সুশাসনের ৯টি উপাদান উল্লেখ করেছে।
→ বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ৬টি উপাদান চিহ্নিত করেছে।
→ জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন (UNHCR) সুশাসনের ৫টি উপাদান চিহ্নিত করেছে।
→ আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক (AFDB) সুশাসনের ৫টি উপাদান উল্লেখ করেছে।
→ আইডিএ (International Development Agency) সুশাসনের ৪টি মূল উপাদান উল্লেখ করেছে।
→ এডিবি (Asian Development Bank) সুশাসনের ৪টি মূল উপাদান বলেছে।
→ কৌটিল্য সুশাসনের ৪টি উপাদান উল্লেখ করেছেন।

তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোনটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অধিকার?
  1. ভোটাধিকার
  2. মানবাধিকার
  3. মৌলিক অধিকার
  4. নৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা
মানুষের অধিকার:
- মানবাধিকার হলো ব্যক্তির বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা।
- মানবাধিকার হলো মানুষের জন্মগত অধিকার, যা তাকে পূর্ণভাবে বিকশিত হতে সাহায্য করে।
- মানবাধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, অর্থাৎ স্থান বা আইনের পার্থক্য অনুযায়ী তা পরিবর্তিত হয় না।
- যদিও মানবাধিকার আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠিত, এগুলোর অস্তিত্ব রাষ্ট্রব্যবস্থা শুরু হওয়ার আগেও ছিল।

অন্যদিকে,
- মৌলিক অধিকার হলো মানুষের জীবনের জন্য অপরিহার্য অধিকার, যা সাধারণত সংবিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্র নির্ধারিত করে থাকেন।
- আইনগত অধিকার হলো আইনের দ্বারা নির্ধারিত অধিকার।
- ভোটাধিকার হলো একটি মৌলিক অধিকার, যার মাধ্যমে জনগণ তাদের পছন্দ অনুযায়ী সরকার গঠন বা পরিবর্তন করার জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে।
- ভোটাধিকার স্বীকৃতি সাধারণত রাষ্ট্র বা সরকার দেয়।
- নৈতিক অধিকার হলো মানুষের বিবেক এবং ন্যায়বোধ থেকে উদ্ভূত অধিকার, যার আইনি ভিত্তি নেই।

তথ্যসূত্র:- সিভিক এডুকেশন, বিএসএস প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
.
'Leviathan' গ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?
  1. মন্টেস্কু
  2. রুশো
  3. টমাস হবস
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা
• Leviathan:
- 'Leviathan' গ্রন্থের রচয়িতা হলেন থমাস হবস (Thomas Hobbes)।
- এটি ১৬৫১ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটি রাজনৈতিক দার্শনিকতায় (political philosophy) একটি গুরুত্বপূর্ণ বই হিসেবে বিবেচিত হয়।

- এই গ্রন্থে তিনি সামাজিক চুক্তি মতবাদ বিষয়ে আলোচনা করেন।
- গ্রন্থটির পূর্ণ নাম "লেভিয়াথান; অর, দ্য ম্যাটার, ফর্ম, অ্যান্ড পাওয়ার অফ এ কমনওয়েলথ, ইক্লেসিয়াস্টিক্যাল অ্যান্ড সিভিল"( The Matter, Form, and Power of a Commonwealth, Ecclesiastical and Civil)।
- এটি হবসের আগের কাজ "ডি সিভে" (De Cive)-এর (১৬৪২) ওপর ভিত্তি করে নির্মিত, যেখানে একটি রাজনৈতিক দার্শনিক তত্ত্ব উপস্থাপন করা হয়েছে।
- এই তত্ত্বে বলা হয়, রাজনৈতিক কর্তৃত্বের ভিত্তি একটি কাল্পনিক সামাজিক চুক্তি, যা জনগণ নিজেদের নিরাপত্তা এবং মঙ্গল নিশ্চিত করতে একটি সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের হাতে ক্ষমতা অর্পণ করে।

অন্যদিকে,
- বার্ট্রান্ড রাসেলের বিখ্যাত গ্রন্থের নাম Power: A New Social Analysis.
- ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কুর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থের নাম The Spirit of Laws.
- রুশোর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম The Social Contract.

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
.
সুশাসন সম্পর্কিত "আইনের শাসন সূচক" প্রকাশকারী সংস্থার নাম কী?
  1. Transparency International
  2. World Justice Project
  3. UK Financial Intelligence Unit
  4. International Criminal Court
ব্যাখ্যা
World Justice Project (WJP):
- World Justice Project একটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান।
- এটি বিশ্বব্যাপী আইন ব্যবস্থা এবং সুশাসন নিয়ে কাজ করে।
- WJP আইনের শাসনের সূচক প্রকাশ করে।
- সংস্থাটি ২০০৯ সাল থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন দেশের আইন ব্যবস্থা এবং সুশাসনের অবস্থা পরিমাপ ও মূল্যায়ন করে ‘WJP Rule of Law Index’ শিরোনামে বাষির্ক প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে।

আইনের শাসনের সূচক তৈরির ৮টি বিবেচ্য বিষয়:
১. রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা
২. নিয়ন্ত্রণমূলক ক্ষমতার প্রয়োগ
৩. জননিরাপত্তা
৪. মৌলিক অধিকার
৫. দুর্নীতি
৬. সরকারি তথ্য প্রকাশ
৭. দেওয়ানি বিচার
৮. ফৌজদারি বিচার

সুশাসন সম্পর্কিত সূচক ও প্রকাশকারী সংস্থা:

→ গণতন্ত্র সূচক: যুক্তরাজ্যের ইকোনমিক ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (UK Financial Intelligence Unit)।
→ আইনের শাসন সূচক: The World Justice Project (USA).
→ মানব উন্নয়ন সূচক: UNDP (1990).
→ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচক: Reporters without Borders.
→ সুখ সূচক: Sustainable Development Solution Network.
→ বৈশ্বিক শান্তি সূচক: Institute of Economic and Peace (Australia).
→ দুর্নীতি সূচক: Transparency International.
→  ই-কমার্স সূচক: UNCTAD.

উল্লেখ্য, 
- International Criminal Court (আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত)
- এটি একটি স্থায়ী আন্তর্জাতিক আদালত, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ যেমন মানবতা বিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং গণহত্যার বিচার করে থাকে।

তথ্যসূত্র: The World Justice Project ওয়েবসাইট এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট।
.
"The Conquest of Happiness" বইটি কে লিখেছেন?
  1. বার্ট্রান্ড রাসেল
  2. জন স্টুয়ার্ট মিল
  3. জেরিমি বেনথাম
  4. ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা

• Conquest of Happiness: 
- "The Conquest of Happiness" (১৯৩০) বইটি বার্ট্রান্ড রাসেল এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বই।
- এটি মানব জীবনের সুখ নিয়ে আলোচনা করে।
- রাসেল বলেছিলেন, দুঃখের কারণ হতে পারে আমাদের অভ্যন্তরীণ মানসিকতা ও বহিরাগত সমাজের চাপ।
- তিনি অযৌক্তিক প্রত্যাশা, হিংসা, বোরেডম এবং অতিরিক্ত আকাঙ্ক্ষা এর বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন।
- রাসেল সুখ অর্জনের জন্য আত্মসচেতনতা এবং সামাজিক সম্পর্ক এর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
- তিনি মনে করেন, অর্থপূর্ণ কাজ এবং সন্তুষ্টি এনে সুখ লাভ সম্ভব।
- এই বইটি দার্শনিক চিন্তাভাবনা ও ব্যবহারিক পরামর্শ এর মিশ্রণ।

→ তার রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো:
- The Elements of Ethics,
- Political Ideals,
- Human Society in Ethics and Politics,
- Moral and others,
- Power: A New Social Analysis,
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.
- The Problem of Philosophy
- The Conquest of Happiness
- Religion and Science
- The Principles of Mathematics
- The Analysis of Mind
- Marriage and Morals
- Philosophical Essays
- Power: A New Social Analysis
- Principles of Social Reconstruction
- The Analysis of Matter
- Logic and knowledge.

অন্যদিকে,
→ দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট (Emanuel Kant):
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি।
- যথা:- সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
→ নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.
- The Metaphysics of Morals ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।

.
স্বাধীনতা ও ব্যক্তি অধিকার সম্পর্কিত "On Liberty" বইটি কে লিখেছেন?
  1. টমাস হবস্
  2. জেরেমি বেন্থাম
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. জন স্টুয়ার্ট মিল
ব্যাখ্যা
জন স্টুয়ার্ট মিল:
- জনের স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) ছিলেন ১৯শ শতাব্দীর একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ এবং রাজনীতিবিদ।
- তিনি সুশাসন এবং নৈতিক তত্ত্ব সম্পর্কিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বই লিখেছেন।
- "On Liberty" বইটি জন স্টুয়ার্ট মিলের লেখা, এবং এটি স্বাধীনতা, ব্যক্তি অধিকার, ও সমাজের উপর সরকারি হস্তক্ষেপের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করে।
- বইটি মূলত ব্যক্তি স্বাধীনতার সুরক্ষা এবং রাষ্ট্রের সীমাবদ্ধ ক্ষমতা নিয়ে মতামত প্রকাশ করে।

⇒ তার রচিত গ্রন্থসমূহ:
- A System of Logic,
- Autobiography,
- Considerations on Representative Government,
- Essays on Some Unsettled Questions of Political Economy,
- Examination of Sir William Hamilton’s Philosophy,
- On Liberty,
- Principles of Political Economy,
- The Subjection of Women,
- Utilitarianism.

উল্লেখ্য,
- জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) তার বিখ্যাত 'Eassay on Liberty' গ্রন্থে বলেন, 'মানুষের মৌলিক শক্তির বলিষ্ঠ, অব্যাহত ও বিভিন্নমুখী প্রকাশই স্বাধীনতা।'
- জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্রের পক্ষে ছিলেন, তবে কিছুটা অসন্তুষ্টিও প্রকাশ করেছেন।
- তিনি আমেরিকান গৃহযুদ্ধে উত্তরপক্ষকে সমর্থন করেছিলেন, কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন এটি দাসত্ব বিলোপের জন্য ছিল।
- ১৮৬৫ সালে তিনি নারীদের ভোটাধিকারের পক্ষে একটি Women's Suffrage Society প্রতিষ্ঠা করেন।
- তার বিখ্যাত বই "The Subjection of Women" (১৮৬৯) নারীদের ভোটাধিকারের পক্ষে ছিল।
- মিল ১৮৭৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
.
দার্শনিক প্রবন্ধ "সৃষ্টি রহস্য" গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. গোবিন্দ চন্দ্র দেব
  2. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  3. আরজ আলী মাতুববর
  4. সর্দার ফজলুল করিম
ব্যাখ্যা
→ "সৃষ্টি রহস্য" - আরজ আলী মাতুব্বর এর লেখা একটি জনপ্রিয় দার্শনিক প্রবন্ধ।

আরজ আলী মাতুববর:

- আরজ আলী মাতুববর বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ। 
- আরজ আলী মূলত বস্ত্তবাদী দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন। 
- মানবজীবন, প্রকৃতি-পরিবেশ, জড়জগৎ ও বিশ্ব-সংসার থেকে পাঠ নিয়ে তিনি নিজস্ব মতবাদ গড়ে তোলেন। 
- তিনি দৃঢ় মনোবল ও বিশ্বাস নিয়ে সকল অন্ধতা, অজ্ঞানতা, কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। 
- তাঁর বিশ্বাস ও অভিজ্ঞতার কথা তিনি একাধিক গ্রন্থে প্রকাশ করেন। 
 
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- সত্যের সন্ধান (১৯৭৩), 
- সৃষ্টি রহস্য (১৯৭৭), 
- অনুমান (১৯৮৩), 
- মুক্তমন (১৯৮৮) ইত্যাদি। 
 
তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া। 
.
মানুষের মানবীয় গুণাবলি ও সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ শুরু হয় কোথায়?
  1. বিদ্যালয়ে
  2. পরিবারে
  3. সমাজে
  4. ধর্মীয় সংগঠনে
ব্যাখ্যা

পরিবার ও সামাজিক মুল্যবােধ:
- পরিবার হলো মানুষের সেই প্রতিষ্ঠান যেখানে এক বা একাধিক পুরুষ ও মহিলা তাদের সন্তান, পিতা-মাতা এবং অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে একত্রে বসবাস করেন।
- পরিবার তাদের সদস্যদের পারিবারিক আদর্শ, নৈতিকতা, মূল্যবোধ, সহযোগিতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি শেখায়।
- পরিবার শিশুদের প্রথম শিক্ষা ও সামাজিকীকরণের জায়গা।
- এখানে তারা মানবিক গুণাবলি ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রাথমিক ধারণা পায় এবং পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে আচরণ শেখে।
- অর্থাৎ, একজন মানুষের মানবিক গুণাবলি ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রথম বিকাশ ঘটে পরিবারের মধ্যে।
- পরিবারে শিশুদের নৈতিক চেতনা গড়ে ওঠে, যা পরবর্তীতে বিদ্যালয়, সমাজ, এবং রাষ্ট্রের মাধ্যমে আরও বিকশিত হয়।

অন্যদিকে,
- বিদ্যালয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মূল্যবোধ শিক্ষার আনুষ্ঠানিক/প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যম।
- পরিবার শাশ্বত ও চিরন্তন প্রতিষ্ঠান।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
মূল্যবোধ কোন বিষয়ের উপর নির্ভরশীল হয়?
  1. আচরনের
  2. সহমর্মিতার
  3. নৈতিকতার
  4. সামাজিক রীতিনীতি
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
→ নৈতিক প্রাধান্যমূল্যবোধ বিষয়টি নৈতিকতার উপর নির্ভরশীল
- নীতি-নৈতিকতাহীন ব্যক্তি সাধারণত মূল্যবোধসম্পন্ন হয় না।
→ নির্দিষ্ট ও সাধারণ: কিছু মূল্যবোধ নির্দিষ্ট, যেমন মায়ের প্রতি ভালোবাসা।
- আবার কিছু সাধারণ, যেমন প্রতিবেশীর প্রতি সহযোগিতা।
→ বিভিন্নতা: সংস্কৃতি ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন হতে পারে।
- উদাহরণস্বরূপ, পশ্চিমা সংস্কৃতি এবং বাঙালি সংস্কৃতির মধ্যে খাদ্যাভ্যাস ও পোশাকের পার্থক্য।
→ আপেক্ষিকতা: মূল্যবোধ স্থান, কাল, ও পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
- একই বিষয় এক দেশে গ্রহণযোগ্য, অন্য দেশে নাও হতে পারে।
→ সামাজিক মানদণ্ড: সমাজ বা রাষ্ট্রের পরিবেশ, সংস্কৃতি, ও চিন্তাধারার মান মূল্যবোধের মাধ্যমে বোঝা যায়।
- যেমন, কৃষি নির্ভর সমাজের মূল্যবোধ শিল্পসমৃদ্ধ সমাজ থেকে ভিন্ন।
→ পরিবর্তনশীলতা: দীর্ঘদিন ভিন্ন সংস্কৃতিতে বসবাস করলে একজন ব্যক্তির পুরনো মূল্যবোধে পরিবর্তন আসতে পারে।
→ সম্পর্কের সেতু: একই মূল্যবোধ থাকা অপরিচিত ব্যক্তিদের মধ্যেও সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে।
- যেমন, বিদেশে দুই বাংলাদেশির মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি।
 
তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১১.
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ কীসের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে?
  1. ব্যক্তির পেশাগত কাজ
  2. ব্যক্তির ধর্মীয় অনুশাসন
  3. ব্যক্তির সমাজের রীতিনীতি
  4. ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব ও নীতি-নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
→ মূল্যবোধের ধরণ:
- সামাজিক জীব হিসেবে সাধারণভাবে সমাজ জীবনে মানুষ বিভিন্ন ধরনের মূল্যবোধের মুখোমুখি হয়।
- যথা: ব্যক্তিগত মূল্যবোধ, সামাজিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও পেশাগত মূল্যবোধ।

→ ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার- আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়।
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।

অপরদিকে,
→ পেশাগত মূল্যবোধ:
- পেশাগত মূল্যবোধ হলো, ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি।
- ব্যক্তিত্বের ধরন, আগ্রহ ও কাজ- সম্পর্কিত মূল্যবোধ প্রভৃতি একজন ব্যক্তির পেশাগত মূল্যবোধে প্রভাব বিস্তার করে।
- পেশা বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও এ মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
→ সামাজিক মূল্যবোধ:
- বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।
→ ধর্মীয় মূল্যবোধ:
- ধর্মীয় অনুশীলন এবং নির্দেশনায় গড়ে ওঠা সামগ্রিক বিশ্বাস, আদর্শ, সমাজ ও মানুষের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, দর্শন, রীতি-নীতি ইত্যাদি মিলিয়ে ধর্মীয় মূল্যবোধ তৈরি হয়।

তথ্যসূত্র: সমাজকর্ম ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
একটি জাতির জন্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কী?
  1. জাতীয় সম্পদ
  2. অর্থনৈতিক সম্পদ
  3. রাজনৈতিক সম্পদ
  4. সামাজিক সম্পদ
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ (Democratic Values):
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের গণতান্ত্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড। 

⇒ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম।
- যে সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা যত বেশি উন্নত, সে সমাজ ও রাষ্ট্র তত বেশি উন্নত ও প্রগতিশীল।

→ জাতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তি: 
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হলো একটি জাতির রাজনৈতিক সম্পদ।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর একটি জাতির সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গড়ে ওঠে।

→ জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ জাতি দ্রুত উন্নতি লাভ করে।

→ দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিজের প্রতি, দেশের প্রতি প্রেম-ভালোবাসার সৃষ্টি করে।

→ সামাজিক বন্ধন ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রত্যেকের প্রতি প্রত্যেকের সৌভ্রাতৃত্ববোধ, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি করে।
- এর ফলে সামাজিক বন্ধন এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হয়।

→ নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে এবং পরিপূর্ণতা প্রদান করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৩.
নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশে প্রধান ভূমিকা পালন করে কোনটি?
  1. রাষ্ট্রীয় আইন
  2. ধর্মীয় সংগঠন
  3. সামাজিক রীতি-নীতি
  4. নীতি এবং ঔচিত্যবোধ
ব্যাখ্যা
নৈতিক মূল্যবোধ:
নীতি এবং ঔচিত্যবোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের প্রধান উৎস। যা নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
→ নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সে সব মনোভাব ও আচরণ যা মানুষ সব সময় ভালো, কল্যাণকর এবং অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তি অনুভব করে।
→ নৈতিক মূল্যবোধের অন্যান্য উৎসের মধ্যে পরিবার, ধর্ম ও ধর্মীয় গ্রন্থ অন্যতম।
→ অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।   

এছাড়াও, নৈতিক মূল্যবোধের অন্য উৎস:
- পরিবার: শিশুদের মানবিক গুণাবলি ও নৈতিক শিক্ষার প্রথম স্থান।
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক আচরণ উন্নত করে।
- ধর্ম: ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করে।
- সমাজ: সামাজিক মূল্যবোধ ও আচরণ গড়ে তোলে।
- ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা: জীবনের অভিজ্ঞতায় নৈতিকতা আরও গভীর হয়।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রথমপত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।