পরীক্ষা আর্কাইভ

Science Expert

পরীক্ষাScience Expertতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন
সিলেবাস
পরীক্ষা – ১৫: মানবদেহ (রেচনতন্ত্র, পৌষ্টিকতন্ত্র, প্রজননতন্ত্র, মানব দেহে রোগের কারণ ও প্রতিকার, HIV, TV, পোলিও, করোনা ইত্যাদি, রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্নায়ুরোগ, সংক্রামক রোগ)। রোগ জীবাণুর জীবন ধারণ (ভাইরাস, ব্যাকটোরিয়া), খাদ্য ও পুষ্টি, মা শিশুর স্বাস্থ্য, ইম্যুনাইজেশন এবং ভ্যাক্সিনেশন, প্ল্যান্ট টিস্যু, প্লান্ট ডাইভারসিটি, সালোকসংশ্লেষণ, Biological Nomenclature. (Live Interactive Class – 31, 32, 33, 34 & 35)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

Science Expert

Science Expert · তারিখ অনির্ধারিত · প্রশ্ন

.
নিচের কোনটি হার্ট অ্যাটাকের জন্য দায়ী?
  1. ক) ভেন্ট্রিকুলার ফাইব্রিলেশন
  2. খ) উচ্চ রক্তচাপ
  3. গ) রক্তে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
হার্ট অ্যাটাকের জন্য দায়ী ঝুঁকিপূর্ণ কারণগুলো হলো-
ভেন্ট্রিকুলার ফ্রাইব্রিলেশন : হৃদপেশির আঘাতজনিত কারণে হৃদপিণ্ডের স্পন্দন থেমে যায় এমনকি মস্তিষ্ক ও দেহের অন্যান্য অঞ্চলে রক্ত সঞ্চালন অক্ষম হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় ৫ মিনিটের মধ্যে রোগীর মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
রক্তে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি : অতিমাত্রায় কোলেস্টেরল বৃদ্ধির ফলে ধমনির ভেতরের প্রাচীরে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়ে স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয়ে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।
উচ্চ রক্ত চাপ (Hyper blood pressure /hypertension): অতিমাত্রায় উচ্চ রক্ত চাপের কারণে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে হঠাৎ রোগীর মৃত্যু হতে পারে।
তামাক সেবন: তামাক ও তামাক জাতীয় রাসায়নিক উপাদান রক্ত নালির প্রাচীরে আক্রান্ত করে হার্ট অ্যাটাকের ঝুকি বাড়িয়ে তোলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
.
হেনলি-র লুপ এর অবস্থান কোথায়?
  1. ক) পাকস্থলী
  2. খ) অগ্ন্যাশয়
  3. গ) বৃক্ক
  4. ঘ) ফুসফুস
ব্যাখ্যা
নেফ্রন
•বৃক্কের ইউরিনিফেরাস নালিকার ক্ষরণকারী অংশ এবং কাজ করার একককে নেফ্রন বলে।
•মানবদেহের প্রতিটি বৃক্কে প্রায় 10-12 লক্ষ নেফ্রন থাকে।
•প্রতিটি নেফ্রন একটি রেনাল করপাসল (Renal corpuscle) বা মালপিজিয়ান অঙ্গ এবং রেনাল টিউব্যুল (Renal tubule) নিয়ে গঠিত । •প্রতিটি রেনাল করপাসল আবার গ্লোমেরুলাস (Glomerulus) এবং বোম্যান্স ক্যাপসুল— এ দুটি অংশে বিভক্ত।
• বোমলেন্স ক্যাপসুলে অক্ষিয়দেশ থেকে সংগ্রাহী নালি পর্যন্ত বিস্তৃত চওড়া নালিকাটিকে রেনাল টিউব্যুল বলে।
প্রতিটি রেনাল টিউব্যুল ৩ টি অংশে বিভক্ত:
১. গোড়াদেশীয় বা নিকটবর্তী প্যাঁচানো নালিকা (Proximal convoluted tubule)
২. হেনলি-র লুপ (Henle's loop) 
৩. প্রান্তীয় প্যাঁচানো নালিকা (Distal convoluted tubule)


উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
.
প্রোটিনের অভাবে শিশুদের মাঝে কোন রোগ দেখা দেয়?
  1. ক) কোয়াশিওরকর
  2. খ) ম্যারাসমাস
  3. গ) উভয়টিই
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
প্রোটিন ও প্রোটিন-ক্যালরি অভাবজনিত রোগ প্রোটিন ও ক্যালরির অভাবে বিশেষত শিশুদের মধ্যে যে ধরনের অপুষ্টি দেখা যায় তাকে প্রোটিন-শক্তি ঘাটতিজনিত অপুষ্টি বা Protein Energy Malnutrition (PEM) বা PCM (Protein Calorie Malnutrition) বলা হয়।
মারাত্মক মাত্রায় প্রোটিন ও প্রোটিন-ক্যালরির অভাবে শিশুদের মধ্যে কোয়াশিওরকর (গা ফোলা) ও ম্যারাসমাস (হাড্ডিসার) রোগ হয়।

কোয়াশিওরকর (Kwashiorkor): শৈশবে মায়ের দুধ থেকে বঞ্চিত ও পরবর্তীতে খাবারে প্রোটিনের অভাব (Protein Deficiency) ঘটলে কোয়াশিওরকর রোগ হতে পারে। 

ম্যারাসমাস (Marasmus): খাদ্যে প্রোটিনের সাথে সাথে ক্যালরির তীব্র অভাব (Protein - Calorie Deficiency) হলে ম্যারাসমাস বা হাড্ডিসার রোগ হতে পারে। 

উৎস : গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
.
নিচের কোনটি পৌষ্টকনালির অংশ?
  1. ক) মুখ
  2. খ) দাঁত
  3. গ) অন্ননালি
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
পৌষ্টিকনালি
মুখগহ্বর থেকে পায়ুপথ পর্যন্ত বিস্তৃত এই নালিপথ কোথাও সরু আবার কোথাও প্রশস্ত। এর প্রধান অংশগুলো নিম্নরূপ:
• মুখ
• মুখগহ্বর
• দাঁত
• গলবিল
• অন্ননালি
• পাকস্থলী
• অন্ত্র
• পায়ু

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
.
মানবদেহের রাসায়নিক গবেষণাগার কোনটি?
  1. ক) অগ্ন্যাশয়
  2. খ) গ্যাস্টিক গ্রন্থি
  3. গ) লালাগ্রন্থি
  4. ঘ) যকৃৎ
ব্যাখ্যা
পৌষ্টিক গ্রন্থি (Digestive glands): যেসব গ্রন্থির রস খাদ্য পরিপাকে অংশ নেয় তাদেরকে পরিপাকগ্রন্থি বা পৌষ্টিকগ্রন্থি বলে। মানবদেহে পৌষ্টিকগ্রন্থিগুলো হলো:
• লালাগ্রন্থি
• যকৃৎ
• অগ্ন্যাশয়
• গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি
• আন্ত্রিক গ্রন্থি

যকৃৎ (Liver):
• মধ্যচ্ছদার নিচে উদরগহ্বরের উপরে পাকস্থলীর ডান পাশে যকৃৎ অবস্থিত।
• এটি মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি।
• যকৃতের ডান খণ্ডটি বাম খণ্ড থেকে আকারে কিছুটা বড়। প্রকৃতপক্ষে চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে যকৃৎ গঠিত।
• যকৃতে পিত্তরস (bile) তৈরি করে।
• পিত্তরস ক্ষারীয় গুণ সম্পন্ন।
• যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয় ৷

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
.
দেহের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির কত শতাংশ শর্করা জাতীয় খাদ্য থেকে পাওয়া যায়?
  1. ক) ৪০%-৫০%
  2. খ) ৫০%-৬০%
  3. গ) ৬০%-৭০%
  4. ঘ) ৭০%-৮০%
ব্যাখ্যা
•শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যতম প্রধান খাদ্য বা প্রধান পুষ্টি উপাদান। •দেহের শক্তি উৎপাদনকারী খাদ্য উপাদানের মধ্যে শর্করা অপরিহার্য।
•প্রকৃতিতে পাওয়া যায় এমন খাদ্যসমূহের বেশিরভাগই শর্করা জাতীয় খাদ্য।
•আমাদের দেহের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মশক্তি ও তাপশক্তির ৬০%-৭০% শক্তি কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য হতে গ্রহণ করা হয়।
•১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা হতে ৪ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।
•শর্করার শ্রেণিবিভাগ গাঠনিক বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে শর্করাকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১. এক-শর্করা (Monosaccharide),
২. দ্বি- শর্করা (Disaccharide),
৩. বহু-শর্করা (Polysaccharide)

উৎস : গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
.
শুক্রাশয় থেকে কোন হরমোন নি:সৃত হয়?
  1. ক) ইস্ট্রোজেন
  2. খ) প্রোজেস্টেরন
  3. গ) অ্যান্ড্রোজেন
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
আমাদের শরীরে নিম্নলিখিত গ্রন্থিগুলো প্রজনন-সংক্রান্ত হরমোন নিঃসরণ করে:
• পিটুইটারি গ্রন্থি (Pituitary gland)
• থাইরয়েড গ্রন্থি (Thyroid gland)
• অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি (Adrenal gland) (iv) শুক্রাশয়ের অনালগ্রন্থি (Testis)
• ডিম্বাশয়ের অনালগ্রন্থি (Ovary)
• অমরা (Placenta ) 

পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে বিভিন্ন ধরনের বৃদ্ধি উদ্দীপক হরমোন এবং উৎপাদক হরমোন নিঃসৃত হয়। এ হরমোনগুলো জননগ্রন্থির বৃদ্ধি, ক্ষরণ এবং কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, মাতৃদেহে স্তনগ্রন্থির বৃদ্ধি এবং দুগ্ধ ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। 

থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন নিঃসৃত হয়। এ হরমোন দৈহিক এবং মানসিক বৃদ্ধি, যৌনলক্ষণ প্রকাশ এবং বিপাকে সহায়তা করে।

অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত কিছু হরমোন যৌনাঙ্গ বৃদ্ধি ও যৌনলক্ষণ প্রকাশে সহায়তা করে।

শুক্রাশয় থেকে নিঃসৃত টেস্টোস্টেরন ও অ্যান্ড্রোজেন শুক্রাণু উৎপাদন, দাড়ি-গোঁফ গজানো, গলার স্বর পরিবর্তন ইত্যাদি যৌনলক্ষণ প্রকাশে সহায়তা করে।

ডিম্বাশয় থেকে নিঃসৃত ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন মেয়েদের নারীসুলভ লক্ষণগুলো সৃষ্টি, ঋতুচক্র নিয়ন্ত্রণ এবং গর্ভাবস্থায় জরায়ু, ভ্রূণ, অমরা ইত্যাদির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। তাছাড়া ডিম্বাণু উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি 
.
নিচের কোনটি স্নায়বিক বৈকল্যজনিত শারীরিক সমস্যা?
  1. ক) প্যারালাইসিস
  2. খ) এপিলেপসি
  3. গ) পারকিনসন রোগ
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
স্নায়বিক বৈকল্যজনিত শারীরিক সমস্যা:

 প্যারালাইসিস (Paralysis ) : 
 •শরীরের কোনো অংশের ঐচ্ছিক মাংসপেশি ইচ্ছামতো নাড়াতে পারার ক্ষমতা নষ্ট হওয়াকে প্যারালাইসিস বলে।
 •সাধারণত মস্তিষ্কের কোনো অংশের ক্ষতির কারণে ঐ অংশের সংবেদন গ্রহণকারী পেশিগুলো কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে।
•স্নায়ু রোগ, সুষুম্নাকাণ্ডের কিংবা কশেরুকার ক্ষয় রোগও প্যারালাইসিসের কারণ হতে পারে।

এপিলেপসি (Epilepsy ) :
 •এপিলেপসি মস্তিষ্কের একটি রোগ, যাতে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে খিঁচুনি বা কাঁপুনি দিতে থাকে।
•অনেক ক্ষেত্রে রোগী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এই রোগকে মৃগী রোগও বলা হয়। 

পারকিনসন রোগ (Parkinson's disease):
 •পারকিনসন রোগ মস্তিষ্কের এমন এক অবস্থা, যেখানে হাতে ও পায়ের কাঁপুনি হয় এবং আক্রান্ত রোগীর নড়াচড়া, হাঁটাহাঁটি করতে সমস্যা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
.
অবাত শ্বসন কোষের কোন অংশে ঘটে?
  1. ক) রাইবোসোম
  2. খ) মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. গ) নিউক্লিয়াস
  4. ঘ) সাইটোপ্লাজম
ব্যাখ্যা
শ্বসন : যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবদেহের কোষে অবস্থিত জটিল যৌগিক খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়ে সরল দ্রব্যে পরিণত হয় এবং শক্তি উৎপন্ন করে তাকে শ্বসন (respiration) বলে। শ্বসনের সময় খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়। শ্বসন একটি তাপমোচী প্রক্রিয়া।

• শ্বসন প্রতিটি সজীব কোষে, দিন ও রাত্রির সর্বসময়ে, ঘটে।
• কোষের সাইটোপ্লাজম বা সাইটোসল (cytosol) এবং কোষস্থ মাইট্রোকনড্রিয়া নামক অঙ্গানুতে সবাত শ্বসন হয়।
• অবাত শ্বসন হয় সাইটোপ্লাজমে
• সবাত ও অবাত শ্বসনে খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়ে যে রাসায়নিক শক্তি উৎপাদন করে তা কোষের বিভিন্ন কার্য সম্পাদন করার জন্যে প্রধানত ATP হিসাবে তৈরি ও পরবর্তীতে ব্যবহৃত হয়। সেজন্য ATP কে জৈবনিক মুদ্রা বা biological coin বলা হয় ।
• সবাত শ্বসনের এক অণু গ্লুকোজ সম্পূর্ণ জারনের সর্বশেষ ধাপ কোষের মাইটোকনড্রিয়াতে হয় এবং অন্যান্য উচ্চশক্তিসম্পন্ন রাসায়নিক পদার্থ ATP তে রুপান্তরিত হয় এবং সেজন্য মাইটোকনড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বা powerhouse of a cell বলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়