পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৫
সিলেবাস
বিষয় - বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিক - বাংলাদেশের সংবিধান [সংবিধান প্রণয়ন ইতিহাস, প্রস্তাবনা, অধ্যায় ও অনুচ্ছেদ, সংশোধনীসমূহ এবং তফসিলসমূহ।] ------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আজ বা যেকোন সময় পরীক্ষা শুরু করা হলেও নির্দিষ্ট সময়ে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৫ প্রশ্ন

.
সংবিধানের সপ্তম অধ্যায়ের বিষয়বস্তু কী?
  1. নির্বাচন
  2. বিচার বিভাগ
  3. নির্বাহী বিভাগ
  4. বাংলাদেশের কর্মবিভাগ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:
প্রথম অধ্যায় - প্রজাতন্ত্র;
দ্বিতীয় অধ্যায় - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি;
তৃতীয় অধ্যায় - মৌলিক অধিকার;
চতুর্থ অধ্যায় - নির্বাহী বিভাগ;
পঞ্চম অধ্যায় - আইনসভা;
ষষ্ঠ অধ্যায় - বিচার বিভাগ;
সপ্তম অধ্যায় - নির্বাচন;
অষ্টম অধ্যায় - মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক;
নবম - বাংলাদেশের কর্মবিভাগ;
দশম - সংবিধানের সংশোধন;
একাদশ - বিবিধ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
.
সংবিধানের প্রস্তাবনার প্রথম ভাগে কী উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. মূলনীতি গ্রহণ
  2. শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা
  3. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা
  4. সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা
ব্যাখ্যা
প্রস্তাবনা:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- বাংলাদেশের সংবিধানে ১টি প্রস্তাবনা রয়েছে।

- বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার ৫টি ভাগ রয়েছে।
• ১ম- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
• ২য়- মূলনীতি গ্রহণ (অঙ্গীকার)।
• ৩য়- শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা (অঙ্গীকার)।
• ৪র্থ- সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা (ঘোষণা)।
• ৫ম- গনপরিষদে সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
.
বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানের উল্লেখিত মূলনীতিগুলি কী কী?
  1. সমাজতন্ত্র, সাম্য, মুক্তি, ন্যায়বিচার
  2. জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্ম
  3. সাম্য, স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার
  4. জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় - ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।

• সংবিধানের চারটি মূলনীতি হলো:
- জাতীয়তাবাদ,
- সমাজতন্ত্র,
- গণতন্ত্র ও
- ধর্মনিরপেক্ষতা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান ও বাংলাপিডিয়া।
.
'সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন'- সংবিধানের কত অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে?
  1. ৭(১)
  2. ৭(২)
  3. ৭(ক)
  4. ৭(খ)
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ০৭: সংবিধানের প্রাধান্য:
- ৭(১) নং অনুচ্ছেদে বলা আছে,
প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হবে ৷

- ৭(২) নং অনুচ্ছেদে বলা আছে,
জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসমঞ্জস হয়, তাহলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হবে ।

উল্লেখ্য,
- অনুচ্ছেদ ০৭ক: সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ।
- অনুচ্ছেদ ০৭খ: সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
.
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২১ অনুযায়ী, কোনটি নাগরিকদের কর্তব্য নয়?
  1. শৃঙ্খলা রক্ষা করা
  2. জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা
  3. সংবিধান ও আইন মান্য করা
  4. ব্যক্তিগত সম্পত্তি রক্ষা করা
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২১- নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য:
(১) সংবিধান ও আইন মান্য করা, শৃঙ্খলা রক্ষা করা, নাগরিক দায়িত্ব পালন করা এবং জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য।
(২) সকল সময়ে জনগণের সেবা করিবার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য।

Article 21. Duties of citizens and of public servants:
(1) It is the duty of every citizen to observe the Constitution and the laws, to maintain discipline, to perform public duties and to protect public property.
(2) Every person in the service of the Republic has a duty to strive at all times to serve the people.

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
.
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৮(১) অনুযায়ী, রাষ্ট্র কী কারণে বৈষম্য প্রদর্শন করতে পারবে না?
  1. অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে
  2. শিক্ষাগত যোগ্যতার কারণে
  3. পেশাগত পরিচয়ের কারণে
  4. ধর্ম, বর্ণ, নারী-পুরুষ ভেদাভেদের কারণে
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ২৮- ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য:
(১) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না। 

(২) রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারীপুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন। 

(৩) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোন বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিককে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাইবে না। 

(৪) নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান-প্রণয়ন হইতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
.
পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে কোন সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছিল?
  1. সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা
  2. সামরিক সরকার ব্যবস্থা
  3. তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা
  4. রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
পঞ্চদশ সংশোধনী:
- ২০১১ সালের ৩০ জুন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মূলনীতিগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
- রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়।
- সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল করা হয়, তবে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রাখা হয়।
- এই সংশোধনীর দ্বারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।
- জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়।

উল্লেখ্য,
- সম্প্রতি, পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা প্রশ্নে ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে হাইকোর্ট একটি রুলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলসহ পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করেছেন।
- সেই সাথে সংবিধানে গণভোটের বিধান ফিরিয়ে এনেছেন আদালত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান ও প্রথম আলো নিউজ। [link]
.
বর্তমান সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, কোন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হয়?
  1. ৫ বছর মেয়াদ অতিবাহিত হলে
  2. সংসদ-সদস্য না থাকলে
  3. রাষ্ট্রপতির নিকট পদত্যাগপত্র প্রদান করলে
  4. খ বা গ উভয় ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ: ৫৭ প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ:
(১) প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হইবে, যদি-
(ক) তিনি কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট পদত্যাগপত্র প্রদান করেন; অথবা 
(খ) তিনি সংসদ-সদস্য না থাকেন। 
 
(২) সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন হারালে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন কিংবা সংসদ ভাংগিয়া দিবার জন্য লিখিতভাবে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দান করিবেন এবং তিনি অনুরূপ পরামর্শদান করিলে রাষ্ট্রপতি, অন্য কোন সংসদ-সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন নহেন এই মর্মে সন্তুষ্ট হইলে, সংসদ ভাংগিয়া দিবেন। 

(৩) প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে স্বীয় পদে বহাল থাকিতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই অযোগ্য করিবে না।

• উল্লেখ্য,
- ৫৭ অনুচ্ছেদে প্রধানমন্ত্রীর পদের কোন নির্দিষ্ট মেয়াদ উল্লেখ করা হয়নি। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ ৫ বৎসর বা এটা বলা হয় নি।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
.
অ্যাটর্নি জেনারেলের কোথায় বক্তব্য পেশ করার অধিকার আছে?
  1. সংসদে
  2. শুধুমাত্র হাইকোর্টে
  3. শুধুমাত্র আপিল বিভাগে
  4. বাংলাদেশের সকল আদালতে
ব্যাখ্যা
অ্যাটর্নি জেনারেল:
- রাষ্ট্রের প্রধান আইনজীবীকে অ্যাটর্নি জেনারেল বলা হয়।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৪ নং অনুচ্ছেদে অ্যাটর্নি জেনারেলের কথা উল্লেখ আছে।

অনুচ্ছেদ ৬৪: অ্যাটর্নি জেনারেল:
(১) সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হইবার যোগ্য কোন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ দান করিবেন।
(২) অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত সকল দায়িত্ব পালন করিবেন।
(৩) অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালনের জন্য বাংলাদেশের সকল আদালতে তার বক্তব্য পেশ করিবার অধিকার থাকিবে।
(৪) রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী সময়সীমা পর্যন্ত অ্যাটর্নি-জেনারেল স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্ধারিত পারিশ্রমিক লাভ করবেন।
১০.
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৬ এর অধীন, রাষ্ট্রপতি কার কাছ থেকে উপদেষ্টামূলক মতামত গ্রহণ করতে পারেন?
  1. অ্যাটর্নি-জেনারেল
  2. প্রধান বিচারপতি
  3. সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ
  4. সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ১০৬- সুপ্রীম কোর্টের উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার:
যদি কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হয় যে, আইনের এইরূপ কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হইয়াছে বা উত্থাপনের সম্ভাবনা দেখা দিয়াছে, যাহা এমন ধরনের ও এমন জনগুরুত্বসম্পন্ন যে, সেই সম্পর্কে সুপ্রীম কোর্টের মতামত গ্রহণ করা প্রয়োজন, তাহা হইলে তিনি প্রশ্নটি আপীল বিভাগের বিবেচনার জন্য প্রেরণ করিতে পারিবেন এবং উক্ত বিভাগ স্বীয় বিবেচনায় উপযুক্ত শুনানীর পর প্রশ্নটি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে স্বীয় মতামত জ্ঞাপন করিতে পারিবেন।

⇒ এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,
যদি কোনো সময় রাষ্ট্রপতির মনে হয় যে, এমন কোনো আইনি প্রশ্ন উঠেছে বা উঠতে পারে, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং জনগণের জন্য তা জানা দরকার, তাহলে তিনি সেই প্রশ্নটি সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের কাছে পাঠাতে পারেন।
আপীল বিভাগ তখন সেই প্রশ্নটি নিয়ে বিস্তারিতভাবে শুনানি করবে এবং সবকিছু বিবেচনা করার পর নিজেদের মতামত রাষ্ট্রপতিকে জানাবে।

উল্লেখ্য,
এই মতামতটি পরামর্শমূলক, রাষ্ট্রপতি চাইলে তা মেনে চলতে পারেন, আবার নাও পারেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এটি রাষ্ট্রপতির কাজে আসে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
১১.
সংবিধানের ১২২ অনুচ্ছেদে কোন বিষয় সম্পর্কে বিধান রয়েছে?
  1. নির্বাচন-অনুষ্ঠানের সময়
  2. নির্বাচনী আইন ও নির্বাচনের বৈধতা
  3. ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা
  4. নির্বাচন কমিশনকে নির্বাহী কর্তৃপক্ষের সহায়তাদান
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ - ১২২: ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা:
১. প্রাপ্ত বয়স্কের ভোটাধিকারের-ভিত্তিতে সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
২. কোন ব্যক্তি সংসদের নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত কোন নির্বাচনী এলাকায় ভোটার-তালিকাভুক্ত হবার অধিকারী হবেন, যদি -
(ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হন;
(খ) তাঁর বয়স ১৮ বৎসরের কম না হয়;
(গ) কোন যোগ্য আদালত কর্তৃক তাঁর সম্পর্কে অপ্রকৃতিস্থ হিসেবে ঘোষণা বহাল না থাকে;
(ঘ) তিনি ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বা আইনের দ্বারা ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বিবেচিত হন; এবং
(ঙ) তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত না হইয়া থাকেন।

অন্যদিকে,
অনুচ্ছেদ - ১২৩: নির্বাচন-অনুষ্ঠানের সময়।
অনুচ্ছেদ - ১২৫: নির্বাচনী আইন ও নির্বাচনের বৈধতা।
অনুচ্ছেদ - ১২৬: নির্বাচন কমিশনকে নির্বাহী কর্তৃপক্ষের সহায়তাদান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১২.
সরকারী কর্ম কমিশনের সদস্য হতে হলে ন্যূনতম কত বছর রাষ্ট্রীয় কর্মে নিয়োজিত থাকতে হবে?
  1. ১০ বছর
  2. ১৫ বছর
  3. ২০ বছর
  4. ২৫ বছর
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ১৩৮- সদস্য-নিয়োগ:
(১) প্রত্যেক সরকারী কর্ম কমিশনের সভাপতি ও অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন: 
 
তবে শর্ত থাকে যে, প্রত্যেক কমিশনের যতদূর সম্ভব অর্ধেক (তবে অর্ধেকের কম নহে) সংখ্যক সদস্য এমন ব্যক্তিগণ হইবেন, যাঁহারা কুড়ি বৎসর বা ততোধিককাল বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে যে কোন সময়ে কার্যরত কোন সরকারের কর্মে কোন পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। 
 
(২) সংসদ কর্তৃক প্রণীত যে কোন আইন-সাপেক্ষে কোন সরকারী কর্ম কমিশনের সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যের কর্মের শর্তাবলী রাষ্ট্রপতি আদেশের দ্বারা যেরূপ নির্ধারণ করিবেন, সেইরূপ হইবে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
১৩.
পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের শুরুতে সন্নিবেশিত হয়-
  1. জাতীয় সংগীত
  2. বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
  3. সংবিধানের প্রস্তাবনা
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• পঞ্চম সংশোধনী:
- পঞ্চম সংশোধনী আইন ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদে অনুমোদিত হয়।
- এর মাধ্যমে সংবিধানের চতুর্থ তফসিল সংশোধন করা হয়।
- এ সংশোধনী ১৯৭৫ এর ১৫ অগাস্টে সামরিক শাসন জারির পর থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত ঘোষিত সকল সামরিক বিধি, সংবিধান সংশোধনসহ বিভিন্ন অধ্যাদেশকে বৈধতা প্রদান করা হয়।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ প্রবর্তিত হয়।
- সংবিধানের শুরুতে "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম" সন্নিবেশিত করা হয়।
- পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বাহাত্তরের সংবিধানের মূলনীতি থেকে সরে আসা হয়।
- রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সংশোধন করার কারণে পঞ্চম সংশোধনীকে 'First distortion of Constitution' (সংবিধানের প্রথম বিকৃতি) বলা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১৪.
সংবিধান সংশোধনী বিল রাষ্ট্রপতির নিকট পাঠানোর কত দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি উক্ত বিলে সম্মতি দিবেন?
  1. ৩ দিন
  2. ৫ দিন
  3. ৭ দিন
  4. ১০ দিন
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ১৪২: সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা:
এই সংবিধানে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও-
(ক) সংসদের আইন-দ্বারা এই সংবিধানের কোন বিধান সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন বা রহিতকরণের দ্বারা সংশোধিত হইতে পারিবেঃ তবে শর্ত থাকে যে,

(অ) অনুরূপ সংশোধনীর জন্য আনীত কোন বিলের সম্পূর্ন শিরোনামে এই সংবিধানের কোন বিধান সংশোধন করা হইবে বলিয়া স্পষ্টরূপে উল্লেখ না থাকিলে বিলটি বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা যাইবে না;
(আ) সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত না হইলে অনুরূপ কোন বিলে সম্মতিদানের জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হইবে না;

(খ) উপরি-উক্ত উপায়ে কোন বিল গৃহীত হইবার পর সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট তাহা উপস্থাপিত হইলে উপস্থাপনের সাত দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতি দান করিবেন, এবং তিনি তাহা করিতে অসমর্থ হইলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতি দান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
১৫.
অনুচ্ছেদ ৭০ অনুযায়ী, কোন সংসদ সদস্য তাঁর দলের বিপক্ষে ভোট দিলে ফলাফল কী হবে?
  1. জরিমানা দিতে হবে
  2. তার আসন শূন্য হবে
  3. পুনরায় শপথ নিতে হবে
  4. পরবর্তী নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হবার অযোগ্য হবে
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ৭০: রাজনৈতিক দল হইতে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়া:
কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোন ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-
(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা
(খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন,

তাহা হইলে সংসদে তাঁহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।

⇒ অনুচ্ছেদ ৭০ অনুযায়ী,
যদি কোনো ব্যক্তি একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, তাহলে তিনি সেই দলের প্রতি অনুগত থাকতে হবে। যদি তিনি:
১. দল থেকে পদত্যাগ করেন, অথবা
২. সংসদে নিজের দলের বিপক্ষে ভোট দেন,
তাহলে তাঁর সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হয়ে যাবে (অর্থাৎ, তিনি আর সংসদ সদস্য থাকবেন না)। তবে, তিনি পরবর্তী নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারবেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।