পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (সাহিত্য)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (সাহিত্য)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৪ রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য [Live Class - 7 & 8]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (সাহিত্য)

বাংলাবিদ (সাহিত্য) · তারিখ অনির্ধারিত · প্রশ্ন

.
নাথ সাহিত্য প্রধানত কয় ভাগে বিভক্ত হয়েছে?
  1. ক) দুই ভাগে
  2. খ) তিন ভাগে
  3. গ) চার ভাগে
  4. ঘ) পাঁচ ভাগে
ব্যাখ্যা
⇒ নাথ সাহিত্য:
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য।
নাথ সাহিত্য দুইভাগে বিভক্ত
যথা:
১) মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষ নাথের কাহিনী,
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।

-  এই দুই কাহিনী অবলম্বনেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে। 
- রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস কাহিনী প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় জায়সীর পাদুমাবতে। এ বিষয়ে প্রথম বাংলা গ্রন্থ নেপালে রচিত সপ্তদশ শতাব্দীর নাটক ‘গোপীচন্দ্র নাটক’।

⇒ সুকুর মাহমুদ:
- সুকুর মাহমুদ (১৬৬৫-১৭৩৫) মধ্যযুগের একজন সাধক কবি।
- তিনি রাজশাহী জেলার সিন্দুর কুসুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রকৃত নাম আবদুল শুকুর মাহমুদ।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম- গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস (১৭০৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
কোনটি জাত মহাকাব্য নয়?
  1. ক) রামায়ণ
  2. খ) মহাভারত
  3. গ) ইলিয়াত
  4. ঘ) ওডিসি
ব্যাখ্যা
• জাত মহাকাব্যের একটি হচ্ছে ইলিয়াড। ইলিয়াত নামে কোনো জাত মহাকাব্য নেই।

পৃথিবীতে জাত মহাকাব্য ৪টি।
১. রামায়ণ,
২. মহাভারত,
৩. ইলিয়াড,
৪. ওডিসি।

• রামায়ণ:
- প্রাচীন ভারতীয় সূর্যবংশীয় রাজাদের কাহিনী অবলম্বনে মহর্ষি বাল্মীকি রচিত সংস্কৃত মহাকাব্য।
- কাব্যটি সপ্তখণ্ড সাত খণ্ডে বিভক্ত। চতুর্দশ শতকে  কৃত্তিবাস ওঝা প্রথম সংস্কৃত রামায়ণের বাংলা অনুবাদ করেন, যা কৃত্তিবাসী রামায়ণ নামে পরিচিত। মধুসুদন দত্ত রামায়ণের অংশ-বিশেষ অবলম্বনে তাঁর বিখ্যাত মেঘনাদবধ কাব্য রচনা করেন। সংস্কৃত রামায়ণকে পৃথিবীর আদি মহাকাব্য বলা হয়।

• মহাভারত: 
- কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস রচিত সংস্কৃত মহাকাব্য। প্রথম দিকে মহাভারত ‘জয়’ নামে পরিচিত ছিল। কবীন্দ্র পরমেশ্বর রচিত কবীন্দ্র মহাভারত বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মহাভারত। এজন্য এর আরেক নাম হয় পরাগলী মহাভারত।

• ইলিয়াড এবং ওডিসি:
 প্রাচীন গ্রিক মহাকবি হোমার। ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব ১২০০ থেকে অষ্টম শতকের মাঝামাঝি সময়ে এশিয়া মাইনর উপকূলের কোনো এক জায়গায় তাঁর জন্ম হয়। কেউ কেউ তাঁকে ট্রয় যুদ্ধ (খ্রিস্টপূর্ব ১২০০) সময়ের মানুষ বলেও মনে করেন। তাঁর লেখা মহাকাব্য ইলিয়াড এবং ওডিসির জন্য তিনি বিখ্যাত। ইলিয়াড রচিত হয়েছে ট্রয় যুদ্ধকে কেন্দ্র করে। ওডিসিয়াসের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিয়ে রচিত ওডিসি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং কালের কণ্ঠ।
.
"সুচারু সুরস অতি রাতুল অধর।
লাজে বিম্ব বান্ধুলি গমন বনান্তর।।- কার রূপের বর্ণনায় পঙক্তিদ্বয় রচিত ?
  1. ক) পদ্মাবতীর
  2. খ) মধুবালার
  3. গ) চন্দ্রাবতীর
  4. ঘ) মৃগাবতীর
ব্যাখ্যা
• মহাকবি সৈয়দ আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা পদ্মাবতী কাব্যগ্রন্থ। এটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার অন্তর্ভুক্ত একটি কাব্য।
• তাঁর কাব্য প্রতিভার জন্য তিনি আরাকান অমাত্য সভায় (মন্ত্রিসভা) স্থান পান।
• প্রধান অমাত্য (প্রধানমন্ত্রী) কোরেশী মাগন ঠাকুরের অনুরোধে তিনি ১৬৪৮ সালে , হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সী-এর পদুমাবৎ অবলম্বনে পদ্মাবতী কাব্যটি রচনা করেন।
• কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে। প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে। 

পদ্মাবতীর রূপবর্ণনার কিছু অংশ হলো:

"সুচারু সুরস অতি রাতুল অধর।
লাজে বিম্ব বান্ধুলি গমন বনান্তর।।
মাণিক্য প্রবাল অতি নীরস কর্কশ।
অধরের অমিয় স্রবে এই মহারস।।
রক্ত উৎপল লাজে জলান্তরে বৈসে।
তাম্বুল রাতুল হৈল অধর পরশে।।"
(পদ্মাবতীর রুপবর্ণনা অংশ থেকে)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
বাংলা ‘মধুমালতী’ কাব্য রচিত হয়-
  1. ক) ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দে
  2. খ) ১৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দে
  3. গ) ১৫৫০ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ঘ) ১৫৮৭ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• মধুমালতী কাব্য:
- মুহম্মদ কবির হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্ বা সাধনের মৈনাসত্ কাব্যের অনুসরণে তাঁর বাংলা ‘মধুমালতী’ কাব্য রচনা করেন।
- এর রচনা কাল ১৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দ এবং এ কাহিনি ভারতীয়।
- রাজপুত্র মনোহর ও রাজকন্যা মধুমালতীর রূপকথাসুলভ রোম্যান্টিক প্রেম এতে বর্ণিত হয়েছে।
- মূল কাব্য অধ্যাত্ম রসাত্মক হলেও অনুবাদে তা আদি রসাত্মক কাব্যে পরিণত হয়েছে।
- কাব্যটি তৎকালে এতই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল যে, কবিরের পরবর্তী আরও ছয়জন কবি একই নামে কাব্য রচনা করেন। তবে একমাত্র  সৈয়দ হামজা ব্যতীত অন্য কারও কাব্য শিল্পসফল হয়নি; আবার সৈয়দ হামজার কাব্যও কবিরের কাব্যের মতো সার্থক নয়। 

⇒ মুহম্মদ কবির:
• মুহম্মদ কবির (১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি। 
• প্রণয়োপাখ্যান রচয়িতা হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত। 
• মধুমালতী (১৫৮৮) নামে একখানি রোম্যান্টিক প্রণয়কাব্য তাঁর রচনা। চট্টগ্রামের জোরওয়ারগঞ্জে এর  পুথি পাওয়া গেছে বলে কবিকে ওই অঞ্চলের অধিবাসী মনে করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
সাতজন পরির থেকে শোনা সাতটি গল্পের সংকলিত গ্রন্থ-
  1. ক) নূরনামা
  2. খ) তোহফা
  3. গ) সপ্তপয়কর
  4. ঘ) সিকান্দারনামা
ব্যাখ্যা
⇒ 'সপ্ত পয়কর' কাব্য:
- সপ্তপয়কর নিজামী গঞ্জভীকৃত ফারসি ‘হফত্ পয়কর’ কাব্যের বাংলা অনুবাদ।
- 'সপ্তপয়কর' সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি কোনো এক সময়ের রচনা। 
- আরাকান রাজসভায় সৈয়দ আলাওল কাব্যটি রচনা করেন।
- রাজপুত্র বাহরাম সাতরাত্রি ধরে তাঁর সাতজন পরির কাছে যে সাতটি গল্প শোনেন তাঁর সংকলন হচ্ছে 'সপ্তপয়কর' কাব্যটি। 
- পারসি ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এই গ্রন্থটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 

• সৈয়দ আলাওল রচিত বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম: 
- পদ্মাবতী,
- সপ্তপয়কর,
- সিকান্দারনামা,
- তোহফা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর বইতে সপ্তপয়কর বইটি ‘হপ্তপয়কর’ নামে বর্ণনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।